Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অমিতার কথা

    বইটা শেষ করে এক পাশে নামিয়ে রাখল অমিতা।

    বুকের মধ্যে দারুণ মোচড়াচ্ছে, গলার কাছে কী যেন আটকে আছে, এইবার চোখ ফেটে জল আসবে। কিন্তু কাঁদতে চায় না অমিতা, বই পড়ে কান্নার কোনো মানে হয়! তবু সে সামলাতে পারল না, আঁচল চাপা দিল চোখে।

    নিস্তব্ধ দুপুর, ছাপ্পান্ন বছর বয়েসি এক মহিলা, উপন্যাসের পাতার কাল্পনিক নায়ক-নায়িকার সমব্যথী হয়ে কাঁদছে। কেউ দেখার নেই।

    দুঃখের বই নয়, যাকে বলে সাধারণ বিয়োগান্ত কাহিনি, তাও নয়, ওসব পড়লে অমিতার কান্না আসে না। উপন্যাসের মধ্যে মৃত্যু বা বিচ্ছেদ তো থাকেই, ঠিকমতন লেখা হলে তাতে অল্প ব্যথার অনুভূতি হয় এবং যদি তা হয় জীবনের সার্থক রূপ, তাতে যে রসের সৃষ্টি হয়, তা আসলে আনন্দই দেয়। সাহিত্যপাঠ তো সেই জন্যই।

    কিন্তু অমিতা ভুল বোঝাবুঝি একেবারে সহ্য করতে পারে না। জীবনটা এত ছোটো, তবু কত সামান্য ভুল বোঝাবুঝির জন্য নষ্ট হয়ে যায় কত সুন্দর সম্পর্ক। লেখক অনিমেষ রায়চৌধুরি এই রকম একটা ভুল বোঝাবুঝির কাহিনিই লিখেছেন বড়ো নিস্পৃহভাবে। লেখকরা এমন নিষ্ঠুর হন কেন?

    একটা বাড়ির কথা প্রায়ই মনে পড়ে অমিতার। এই ধরনের বই পড়লে সেই বাড়িটার দু-ধরনের রূপ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। যাদবপুরের দিকে রাস্তার ধারে ছোটোখাটো একটা পুকুর, সেখানে তৈরি হচ্ছিল একটা বাড়ি। তখন অমিতাকে প্রায়ই যেতে হত যাদবপুরে তার দেওরের বাড়িতে, যাওয়া-আসার পথে চোখে পড়ত, সাধারণ বাক্স-ধরনের বাড়ি নয়, বোঝাই যায় বেশ শখের বাড়ি, নানান ধরনের বারান্দা, বাইরের দিকে দু-তিনখানা সিঁড়ি। এক সময় বাড়িটা সম্পূর্ণ হল, চোখ জুড়ানো রং হল, বাসের যাত্রীরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। অমিতার দেওর দিল্লিতে বদলি হবার পর আর ওদিকে যেতে হয়নি। বছরখানেক পর এক রবিবার সকালে পিকনিক ছিল সোনারপুরে, গাড়িতে যেতে হঠাৎ সেই সুশ্রী বাড়িটার কথা মনে পড়ায় জানালা দিয়ে দেখতে গিয়ে আঁতকে উঠেছিল অমিতা! বাড়িটা সেখানে নেই। একটা নতুন বাড়ির জায়গায় রয়েছে একটা পোড়ো বাড়ি। তবে কি জায়গাটা ভুল হল? না, এই তো সেই পুকুর, আর এক পাশে স্টেট ব্যাংক। একই বাড়ি, আগে ছিল ভোরের আকাশ-নীল, এখন রান্নার হাঁড়ির মতো কালো, এমনভাবে পুড়েছে যে কায়দার সিঁড়ি ও বারান্দাগুলো অদৃশ্য।

    অমিতা পাশ ফিরে তার স্বামীর বাহু চেপে ধরে ব্যাকুলভাবে বলেছিল, ওই দ্যাখো, বাড়িটা পুড়ল কী করে?

    সুবিমল সহসা উত্তেজিত হয় না। তার ধারণা, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই অকারণে বাজে কথা বলতে ভালোবাসে, বিশেষত স্ত্রীজাতি সম্পূর্ণ যুক্তিহীন জীবনযাপন করে।

    সে মৃদু হাস্যে বলল, আমি সবজান্তা নই। কোন বাড়ি কেন পোড়ে তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাবই বা কেন?

    সুবিমলের কাছে সব সময় এ রকমই উত্তর পায়, তবু অমিতার মনে থাকে না, সে তার ব্যাকুলতা বা তীব্র অনুভূতি ভাগ করে নিতে চায় স্বামীর সঙ্গে।

    সারাদিন ওই বাড়িটার কথাই মন জুড়ে ছিল অমিতার, পিকনিকে মন বসাতে পারেনি। স্বামীর অফিসের সহকর্মীদের পিকনিক, তেমন উপভোগ্যও হয় না, কোনোবার এমনিই আসতে হয়।

    অমন স্বপ্ন দিয়ে গড়া বাড়িটা এক বছরের মধ্যে কেন পুড়ে বীভৎস হয়ে গেল? বাড়ি তো নয়, একটা সংসার। কত সংসার ওরকম নষ্ট হয়ে যায় ভুল বোঝাবুঝিতে ইলেকট্রিকের আগুন, গ্যাস স্টোভ ফেটে যাওয়া, বা অন্য কোনো দুর্ঘটনার কথা অমিতার মনে আসে না। সে যেন দেখতে পায় এক অচেনা স্বামী-স্ত্রীকে, তাদের জন্য তার খুব কষ্ট হয়।

    অনিমেষ রায়চৌধুরীর উপন্যাসটা অমিতা আবার তুলে নিল, শেষ কয়েকটা পাতা তার আর একবার পড়তে ইচ্ছে করছে।

    যে বই পড়ে কষ্ট হয়, চোখে জল আসে, সেই বইও মানুষ আবার পড়তে চায় কেন?

    অশোক আর ঊর্মিলা এই কাহিনির নায়ক-নায়িকা, শেষ পরিচ্ছেদে তারা তীব্র অভিমানে পরস্পরকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে, অথচ ভালোবাসা ক্ষয়ে যায়নি, মানুষ হিসেবেও দুজনেই অসৎ নয়। লেখক তো ইচ্ছে করলেই ওদের ভুল ভেঙে দিতে পারতেন। একটা-দুটো বাক্যই যথেষ্ট ছিল। অমিতা যদি কোনোক্রমে এই কাহিনির মধ্যে ঢুকে পড়তে পারত, তা হলে সে বলে দিত, ওরে ঊর্মিলা, ভুল বুঝছিস কেন, অশোক তোকে সত্যিকারের ভালোবাসে, বাকি সব ঘটনা তুচ্ছ!

    বইটা নামিয়ে পাশে রেখে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল অমিতা। দু-চোখ দিয়ে নেমে আসছে কান্নার ধারা। এই সময় দরজার সামনে এসে দাঁড়াল এক যুবা। পঁচিশ-ছাবিবশ বছর বয়েস, সুঠাম স্বাস্থ্য, মাথায় ঝাঁকড়া চুল, গালে অল্প অল্প দাড়ি, জিনস ও হলুদ গেঞ্জি পরা, ঠিক যেন আধুনিকতার ছাঁচে তৈরি।

    যুবকটির ভুরু কুঁচকে গেল, সে বলল, এ কী, কী হয়েছে?

    হাসি ফুটে উঠল অমিতার মুখে, বেশ ঝলমলে হাসি, চোখে জল থাকলেও মানুষ হাসতে পারে, তখন মুখখানা অপরূপ দেখায়।

    সে বলল, এ কী, জোজো, তুই হঠাৎ চলে এলি যে?

    জোজো অর্থাৎ নিপুণ বলল, তুমি কাঁদছ কেন, কোনো খারাপ খবর এসেছে?

    না, না, সেসব কিছু না। তুই আজ ফিরে এলি কী করে?

    কেন, তাতে তোমার আপত্তি আছে? ছেলে বাড়ি ফিরে এলে মা খুশি হয় না?

    সে কথা হচ্ছে না, তুই চলে এলি…দুর্গাপুরে তোর জরুরি কাজ ছিল—

    মনে করো, সাডেনলি আই ফেলট হোমসিক…ওখানে এত বাজে রান্না, আই মিসড ইয়োর আলুপোস্ত।

    এই দুপুরবেলা…কোন ট্রেন?

    কথা বলতে বলতে বাচ্চা মেয়ের মতন, কোনো অপরাধ করে ধরা না পড়ার জন্য আস্তে আস্তে বইটাকে পেছন দিকে সরাবার চেষ্টা করল অমিতা। নিপুণ ঠিক দেখে ফেলেছে। কাছে এসে বলল, বাংলা বই…এই জন্য চোখের জল…বেঙ্গলি বুকস আর লাইক অনিয়ানস।

    বাজে কথা বলিস না। তোরা তো কিছু পড়িস না—

    তোমাকে আগেও বাংলা বই পড়ে কাঁদতে দেখেছি।

    শেকসপিয়রের ওথেলো পড়িসনি? তোর কষ্ট হয়নি?

    হু রিডস শেকসপিয়র দিজ ডেইজ? মা, আই অ্যাম স্টারভিং!

    খেয়ে আসিসনি? এক্ষুনি খাবার গরম করে দিচ্ছি। চান করবি না?

    ছোটো দোতলা বাড়ি, সুবিমলের বাবার আমলের। এক সময় বাড়ি ভরতি লোক ছিল, এখন স্বামী-স্ত্রী দুটি মাত্র প্রাণী। নিপুণ প্রায়ই থাকে না, মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে জার্মানিতে। সেই জন্য কাজের লোক বেশি রাখা হয়নি। একটি ঠিকে মেয়ে দু-বেলা রান্না করে দিয়ে যায়, আর অনেক দিনের পুরোনো লোক রামরতন সরকারি অফিসে চাকরি করে, রাত্তিরে থাকে এখানে। বাড়ি পাহারা দেবার ভার তার ওপর।

    দুপুরবেলা একতলাটা একেবারে ফাঁকা থাকে। তাতে একটাই অসুবিধে, হঠাৎ কেউ এলে অমিতাকে নীচে এসে দরজা খুলতে হয়। বাবা আর ছেলের কাছে চাবি থাকে, অন্য কেউ বেল বাজালে অমিতা দোতলার বারান্দায় এসে দেখে নেয়। ফেরিওয়ালা বা অচেনা কারোকে দেখলে খোলেই না।

    রান্নাঘর একতলায়। ফ্রিজে কিছু-না-কিছু খাবার থাকেই। নিপুণ ভাত খেতে চায় না, পাউরুটি আছে। খানিকটা মাংসও আছে, নিপুণ এর বেশি খাবে না। ফ্রিজে দু-বোতল বিয়ারও আছে ঠান্ডা হয়ে, যদি ওর ইচ্ছে হয় তো নেবে। মাইক্রোওয়েভে মাংসটা গরম করতে দিয়ে অমিতা গোটাচারেক টোস্ট সেঁকে নিল।

    স্নান করেনি নিপুণ, এর মধ্যে কমপিউটার নিয়ে বসে গেছে। ইন্টারনেটের প্রবল নেশা। এক একদিন কমপিউটারের সামনে বসে সারারাত কাটিয়ে দেয়। একটা ইঁদুর দেখিয়ে দেয় সারা পৃথিবী।

    মাংসের বাটিতে টোস্ট চুবিয়ে খেতে খেতে নিপুণ বলল, প্রথমে তোমার চোখে জল দেখে আমার মনে হল, দিম্মার বুঝি কিছু হয়েছে—

    অমিতার মা থাকেন পাটনায়, আশি বছর বয়সে আছাড় খেয়ে পা ভেঙেছিল। শয্যাশায়ী হলেও এতে অবশ্য মৃত্যুভয় নেই।

    হাউ ইজ শি?

    দিম্মা একই রকম আছে। রাত্তিরে ফোন করব।

    সাডেনলি আই রিয়ালাইজড, তোমার চোখে জল থাকলে মুখটা অন্য রকম হয়ে যায়। মেয়েদের সবচেয়ে পিওর দেখায়, যখন তারা কাঁদে।

    সেইজন্যই বুঝি পুরুষজাতটা এতকাল ধরে মেয়েদের কাঁদাচ্ছে।

    আই ডোনট রিপ্রেজেন্ট পুরুষজাত টু ইউ! আই অ্যাম ইয়োর ডিয়ার লিটল সান।

    অন্য মেয়েদের কাঁদাসনি যেন। সুপর্ণার কী খবর রে? অনেকদিন আসে না।

    ওসব কথা বলার এখন সময় নেই। গেট লস্ট। আমার অনেক কাজ আছে। রাত্তিরে আলুপোস্ত রান্না কোরো।

    অমিতা চলে এল নিজের ঘরে। ঠিক মাঝখানটায় দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। একেবারে স্থির হয়ে।

    বিয়ের পর এই বাড়িতেই কেটে গেল তিরিশ বছর। সে গৃহকর্ত্রী, কোণের ঘরটায় বসে আছে তার একমাত্র ছেলে, তার স্বামী ফিরে আসবে সন্ধের সময়, কয়েক মুহূর্তের জন্য এই সব বোধই কেমন যেন হালকা হয়ে গেল, যেন অস্পষ্ট জলরঙে আঁকা। এর তুলনায় অশোক আর ঊর্মিলা নামে দুজন নারী-পুরুষ অনেক বেশি বাস্তব। অন্য রাস্তায়, অন্য একটা বাড়ির সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কথা বলছে অশোক আর ঊর্মিলা।

    সুবিমল বলেছিল, সারাদিন তুমি একা থাক, মেয়েটার বিয়ে হলে গেল, জোজো তো বাড়িতে থাকবেই না। তুমি সময় কাটাবে কী করে? লেখাপড়া শিখেছ, কিছু একটা কাজ নাও, স্কুলে-টুলে পড়াবার দরকার নেই, একটা ছোটোখাটো ব্যাবসা করে দিতে পারি।

    অমিতা রাজি হয়নি। ব্যাবসা সম্পর্কে তার ভয় আছে। একবার জয়ন্তী আর শ্রীলেখার সঙ্গে মিলে শখ করে শাড়ির ব্যাবসা শুরু করেছিল। মাঝপথে বন্ধ হয়ে অনেক টাকা দণ্ড গেছে। তার স্বামীরই তো টাকা।

    তা ছাড়া ব্যাবসা-ট্যাবসা লোকে করে টাকা উপার্জনের জন্য। টাকা দিয়ে কী হবে? কোনো অভাব তো নেই। যারা টাকার অভাবে সংসার চালাতে পারে না, তারা ওসব করুক।

    সময় কাটাবার জন্য বই পড়া যায়, গান শোনা যায়, মাঝে মাঝে থিয়েটার দেখা…এসব তো মানুষেরই জন্য। ছোটোবেলা থেকেই বই অমিতার প্রিয় সঙ্গী। বিয়ের পর কাছাকাছি সময়ের মধ্যে মেয়ে আর ছেলে জন্মাল, তাদের মানুষ করে তোলা, সুবিমল সব সময় ব্যস্ত, তাই মেয়ে আর ছেলের স্কুল কলেজের দায়িত্ব তাকেই নিতে হয়েছে, নিজে বই পড়ার সময় পায়নি। এখন তো সে ঝাড়া হাত-পা। মাঝখানের বছরগুলির না-পড়া বইগুলি সে পড়ে নিতে পারে।

    নতুন করে বই পড়া শুরু করে অমিতা। একসময় বুঝতে পারল, বই পড়ারও সঙ্গী লাগে, একা একা হয় না।

    অল্প বয়েসে ভালো কিছু একটা পড়লেই বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে ইচ্ছে হত। ভালো কোনো খাবার ভাগ করে নেবার মতন। বন্ধুদের মধ্যে কাড়াকাড়ি হত এক একখানা বই নিয়ে। রাত জেগে কোনো একটা বই শেষ করেই তক্ষুনি ফোন করতে ইচ্ছে হত কোনো বন্ধুকে। মায়ের কাছে এজন্য অমিতা বকুনি খেয়েছে কতবার!

    ছেলেবন্ধুরা সবাই হারিয়ে গেছে। শুধু একজন, অসিত, বিয়ের পরও সম্পর্ক রাখতে চেয়েছিল। দুপুরবেলা ফোন করত, অমিতাই কাটিয়ে দিয়েছে তাকে। বান্ধবীদের মধ্যে জয়ন্তী আর শ্রীলেখার সঙ্গেই যোগাযোগ আছে এখনও, কিন্তু ওদের সংসারযন্ত্র বোধহয় বেশি ঘোরালো-প্যাঁচালো, বই পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছে ওরা। কয়েকবার সদ্য পড়া কোনো বই সম্পর্কে জয়ন্তীর সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে দেখেছে, একটু পরেই জয়ন্তী অন্য প্রসঙ্গে চলে যায়। আর শ্রীলেখা চাল মেরে বলে, আমি ভাই আজকাল গল্প-উপন্যাস পড়ি না, যা সব রদ্দি লেখা হচ্ছে, মাঝে মাঝে শুধু কবিতা পড়ি। অমিতা জানে, এ কথাটাও সত্যি নয়, শ্রীলেখার মুখে একটাও কবিতার লাইন সে কখনও শোনেনি।

    নিপুণ যখন ছোট্ট ছিল, অতি দুরন্ত, তাকে ঘুম পাড়াবার সময় গল্প বলতে হত। তারপর এমনই তার গল্পের নেশা হয়ে গেল যে সবসময় জ্বালাতন করত, গল্প বলো, মা, গল্প বলো। তখন কত গল্প বানাতে হয়েছে অমিতাকে। একটু বড়ো হতেই সে গল্পের নেশা কোথায় মিলিয়ে গেল। এখন বাংলা দূরের কথা, ইংরেজি গল্পের বইও পড়ে না।

    কোলের কাছে শুইয়ে বাচ্চা-নিপুণকে ঘুম পাড়াবার জন্য থাবড়াতে থাবড়াতে গল্প বলার কথা এখনও হঠাৎ মনে পড়ে। সেই ছেলে এখন মাকে বলে গেট লস্ট। অবশ্য ইয়ার্কি করেই বলে।

    ছেলে আর মেয়ে দুজনকেই পড়ানো হয়েছে মিশনারি স্কুলে। সেটাই তো এখনকার রীতি। এই ধরনের পরিবারের সব ছেলেমেয়েরাই তো ওই সব স্কুলে পড়ে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোতে যে মাতৃভাষা যত্ন করে শেখানো হয় না, দেশের সরকারেরও তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই, তা তো অমিতা জানত না। বুঝতে বুঝতে এতটাই সময় কেটে গেল যে, তখন আর কিছু করার উপায় নেই। ক্লাস সেভেন-এইটের ছেলেমেয়েকে স্কুল ছাড়িয়ে অন্য স্কুলে ভরতি করার প্রশ্নই ওঠে না। অমিতা সে-রকম প্রস্তাব দিলে তাকে সবাই পাগল বলত। ছেলেবেলায় সে-রকম ক্ষীণ ইচ্ছে হয়েছিল অমিতার, কিন্তু তখন নিপুণকে মিশনারি স্কুল ছাড়িয়ে বাংলা স্কুলে পড়ালে সে কি এমন কমপিউটার এক্সপার্ট হতে পারত? এই বয়েসেই বিভিন্ন কোম্পানি তাকে ডাকাডাকি করে। নিপুণ চাকরি নেবে না, কনসালটেন্ট হিসেবে তার ভালো উপার্জন।

    মেয়ে বাসবীর বিয়ের সময় কয়েকখানি বই উপহার পেয়েছিল। আজকাল বিয়েতে বই দেওয়ার রেওয়াজ উঠেই গেছে। বিশাল আয়োজন হয়েছিল সেই বিয়ের, কেউ বাদ থাকেনি, বোধহয় গরিব আত্মীয়স্বজনরা দিয়েছে ওই বইগুলো। বিয়ের পরই জার্মানি যাওয়া, অত উপহারসামগ্রীর অনেক কিছুই রেখে যেতে হবে। অমিতা বলেছিল, বইগুলো নিয়ে যাবি না খুকি? বাংলা যে একেবারে ভুলেই যাবি। তবু সময় পেলে একটু-আধটু পড়বি, লোকে তো সেইজন্যই দিয়েছে।

    বাসবী খানিকটা অভিমানের সুরে বলেছিল, আমাকে কি ভালো করে বাংলা শিখিয়েছ তোমরা? স্কুলে এলেবেলে বাংলা, অন্য কত পড়ার চাপ, তোমরা সব সময় বলতে ফার্স্ট হ, ফার্স্ট হতে হবে! বাংলা পড়ব কখন? কলেজে বাংলা সাবজেক্টই ছিল না। অভ্যেস নেই, এখন বাংলা বই দু-তিন পাতার বেশি পড়তে গেলে হাঁপিয়ে যাই, অনেক কথার মানে বুঝতে পারি না। ডিকশনারি দেখে দেখে গল্পের বই পড়া যায়? তা ছাড়া বইয়ের কত ওজন হয় জান না?

    বাসবীর স্বামী অভিরূপ দিল্লির ছেলে, অতি ভালো ও ভদ্র, সে বাংলায় বেশ কথা বলতে পারে, কিন্তু এক বর্ণও পড়তে পারে না। অক্ষরজ্ঞানই হয়নি। সুতরাং, প্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিয়ে গুচ্ছের বাংলা বই জার্মানিতে নিয়ে যাবে কেন?

    ঝনঝন করে টেলিফোনে বেজে উঠল।

    টেলিফোনের সঙ্গে ফ্যাক্স মেশিন জোড়া আছে, ধরতে দেরি করলে সেই মেশিন চালু হয়ে যায়। অমিতা দৌড়ে গেল।

    হ্যালো, কে, অমিতা? আমায় চিনতে পারছ?

    ঠিক ধরতে পারছি না।

    আগে গলা শুনেই চিনতে পারতে।

    আপনার কী দরকার বলুন।

    আমি অসিত!

    ও, অসিত। কী খবর? তুমি তো বাইরে ছিলে…কোথা থেকে বলছ?

    কলকাতা থেকে। গত সপ্তাহে এসেছি। এখন কিছুদিন থাকব। তুমি ভালো আছ? অবশ্য জয়ন্তীর কাছ থেকে তোমার খবর মাঝে মাঝে পাই, একদিন তোমার সঙ্গে দেখা হতে পারে?

    তোমার স্ত্রী, কী যেন নাম? কেয়া, সে আসেনি।

    হ্যাঁ এসেছে, ছেলেমেয়েরাও।

    তোমার স্ত্রী-ছেলেমেদেদের নিয়ে একদিন বাড়িতে এসো।

    কেয়ার শরীরটা ঠিক ভালো নেই, আমি একা যদি কোনোদিন, তোমার বাড়িতে না হোক, অন্য কোথাও, তোমার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে…

    কেয়ার শরীর ভালো হোক, তারপর ওকে নিয়ে একদিন বাড়িতেই এসো।

    ফোন রেখে দিল অমিতা। অসিত, অতীতের প্রেত। বিয়ের আগে প্রায় রোজই দেখা হত, অসিতের মধ্যে প্রেম প্রেম ভাব ছিল, হাত জড়িয়ে ধরত প্রায়ই, কিন্তু অমিতা কখনও প্রশ্রয় দেয়নি। মানুষ হিসেবে অসিতকে সে কখনও ঠিক পছন্দ করতে পারেনি, চরিত্রে গভীরতা নেই, সব কথাই যেন কথার কথা। অমিতার সামনে যেসব স্তুতিবাক্য উচ্চারণ করত, ঠিক সেই কথাগুলোই আবার আড়ালে বলত জয়ন্তীকে। এই নিয়ে জয়ন্তী আর অমিতা যে কত হাসাহাসি করেছে, তা অসিত জানে না।

    জয়ন্তীর সঙ্গে যে অসিতের এখনও যোগাযোগ আছে, তাও অবশ্য জানত না অমিতা। জয়ন্তী আগে সব কথা বলত তাকে, এখন গোপন করে যায়। করুক! সেই অসিত তার সঙ্গে দেখা করতে চায়। একা। কোনও প্রশ্ন ওঠে না।

    বিয়ে হয়েছে সম্বন্ধ করে সুবিমলের সঙ্গে, অমিতা মানিয়ে নিয়েছে। সুবিমলের সঙ্গে তার ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ সে দেয়নি কখনও। আসেনি কোনো তৃতীয় ব্যক্তি। একবারই একটা উপক্রম ঘটেছিল, তাও অমিতার অজ্ঞাতসারে। বিয়ের সময় ভরতি বাড়ি, অমিতার দেওর চন্দনের একগাদা বন্ধুবান্ধব আড্ডা দিতে আসত প্রায়ই। চন্দনের এক বন্ধু রজত গান গাইত বেশ ভালো, এখন গায়ক হিসেবে মাঝারি ধরনের খ্যাতিও হয়েছে। সেই রজত খুবই বউদি বউদি করত, অমিতাকে দিয়ে গান গাওয়াবার চেষ্টা করত, অনেকটা ন্যাওটা ধরনের হয়ে গিয়েছিল। ওই রজতকে যে সুবিমল পছন্দ করে না, তা বেশ কিছুদিন বুঝতে পারেনি অমিতা। সুবিমল অনেকটা উদাসীন ধরনের, আড্ডা দিতে ভালোবাসে না, বাড়িতে কী হচ্ছে, কারা আসছে, তা নিয়ে যেন মাথা ঘামাবারও সময় নেই। একদিন শুধু রজতের প্রসঙ্গে সুবিমল বলেছিল, ওই রাস্কেলটা আবার এসেছে, যাও, তোমাকে গান শোনাবার জন্য ডাকছে! ওই একটি শব্দ শুনেই সজাগ হয়ে গিয়েছিল অমিতা, সঙ্গে সঙ্গে রজতকে বাদ দিয়ে দিয়েছে নিজের জীবন থেকে।

    তৃতীয় ব্যক্তি! না, রক্তমাংসের কেউ নেই।

    কলেজ জীবনে প্রথমে ‘ওথেলো’ পড়ে খুব কষ্ট হয়েছিল অমিতার। তারপর অরসন ওয়েলসের ফিলম, সেটা দেখেও সে চোখের জল সামলাতে পারেনি। সেও তো ভুল বোঝাবুঝির কাহিনি। ওথেলো আর ডেসডিমোনা, দুজনেই সরল নিষ্পাপ, ভালোবাসায় স্বাদ ছিল না, শুধু ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুজনেরই জীবন নষ্ট হয়ে গেল। ওই কাহিনিতে অবশ্য একটা খলচরিত্র ছিল, ইয়াগো, সে-ই নানান কুচক্র আর দুজনের মধ্যে চরম অবিশ্বাস এনে দিয়েছে।

    একালে আর ওইরকম খলচরিত্র বা তৃতীয় ব্যক্তির দরকার হয় না। মানুষ এমনই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে যে, অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতেই চায় না কিছুতে। ইয়াগোর বদলে স্থান নিয়েছে ইগো। সেই ইগোই যখন তখন সংঘর্ষ বাধায়।

    সুবিমলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়নি অমিতার। কিন্তু কোনো বোঝাবুঝিই কি হয়েছে? এতগুলো বছর একসঙ্গে কেটে গেল, তবু কতটুকু চেনে পরস্পরকে? অমিতার মনের খবর কিছুই রাখে না সুবিমল। অমিতাও কি সুবিমলকে বোঝবার চেষ্টা করেছে? নিজের ব্যাবসা নিয়ে সদা ব্যস্ত সুবিমল, ব্যাবসাই তার ধ্যান-জ্ঞান, তাতে অনেক রকম ওঠা-পড়া থাকে, কখনো কখনো নিশ্চয়ই সে দারুণ মানসিক যন্ত্রণায় থাকে, কিন্তু অমিতা তার ভাগ নিতে পারে না।

    বইয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই সুবিমলের, সকালে অন্য পত্রিকায় সামান্য চোখ বুলিয়ে মন দিয়ে পড়ে বিজনেস জার্নাল। তবে, অমিতার বই পড়ায় কখনও বাধা দেয়নি সে। শুধু একদিন তার একটা মন্তব্যে অমিতা যেন আঁতে ঘা খেয়েছিল। রাত্তিরবেলা বই হাতে অমিতাকে দেখে সুবিমল বলেছিল, আজ আবার ওটা কী পড়ছ, কবিতা নাকি? অ্যাঁ?

    কথার সুরে এমনই অবজ্ঞার ভাব ছিল যে, তা একেবারেই পছন্দ করেনি অমিতা।

    আহতভাবে সে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন, কবিতা পড়াটা কি দোষের?

    সুবিমল বলেছিল, ওসব তো কলেজের ছোকরা-ছুকরিরা পড়ে। তোমার বয়েস হয়ে গেছে, টের পাও না? এখনও ওইসব ন্যাকা ন্যাকা কথা ভালো লাগে?

    মুখে মুখে তর্ক করা স্বভাব নয় অমিতার। চুপ করে গিয়ে সে মনে মনে গুমরেছিল। বয়েস হয়ে গেলে কবিতা পড়তে নেই? তাহলে বয়েস হয়ে গেলেও কবিরা কবিতা লেখে কেন? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে আশি বছর বয়েস পর্যন্ত কবিতা লিখে গেলেন, সবই কি অল্পবয়সিদের জন্য? সবই ন্যাকা ন্যাকা কথা?

    প্রথম প্রথম অবশ্য সুবিমলকে দলে টানার চেষ্টা করেছে অমিতা। কবিতা শুনে বুঝবে না, কিন্তু গল্প শুনে তো ভালো লাগতে পারে। রাত্তিরে আলো নিবিয়ে শুয়ে পড়ার পর অমিতা বলছিল, তুমি তো বই টই পড় না। আজ একটা উপন্যাস পড়ে আমার খুব ভালো লাগল, এত সুন্দর লেখা, তুমি গল্পটা শুনবে?

    মেজাজ বেশ প্রসন্ন ছিল সুবিমলের। সে বলেছিল, হ্যাঁ, হ্যাঁ, শোনাও না গল্প।

    তিন থেকে চার মিনিট, তার পরেই নাক ডাকতে শুরু করে তার। অমিতা আদর করে ঠেলা দিয়ে বলে, এই, এই, তার পর শোনো। সুবিমল জড়ানো গলায় বলে, বাকিটা কাল শুনব প্লিজ…

    বাড়ি ফিরে প্রতিদিন ঠিক তিন পেগ হুইস্কি পান করার অভ্যাস সুবিমলের। সেই জন্য খাওয়ার পর শোওয়া মাত্র ঘুম। এক বিছানায় পাশাপাশি দুজন। ইদানীং শরীরের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই। স্বামী-স্ত্রী মানে একসঙ্গে থাকা, ছেলেমেয়ের মা-বাবা হওয়া তো ঠিকঠাক হয়েই গেছে, সামাজিকতা করার জন্য স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়, অফিসের পার্টিতে সকলেই স্ত্রী আনে, আর বাড়িতে ঠিক সময়ে ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়া…। ন-মাসে ছ-মাসে হঠাৎ যেন মনে পড়ে, শরীর বলে একটা ব্যাপার আছে। ষাট পেরিয়ে গেলেও যে পৌরুষ একেবারে ক্ষয়ে যায়নি, এটা প্রমাণ করার জন্যই যেন সুবিমল দাপাদাপি শুরু করে বিছানায়, আত্মসমর্পণে একটুও কুণ্ঠা প্রকাশ করে না অমিতা , তবু কিছুই যেন আগেকার মতন ঠিক সুরে বাজে না। রতিকর্মটি সেরে ঘুমিয়ে পড়ে সুবিমল, তার স্ত্রীর তৃপ্তি হল কি না, কিছু অসমাপ্ত রইল কি না, সে প্রশ্নই মাথায় আসে না তার।

    সুবিমলের তুলনায় অমিতার ঘুম অনেক কম। আলো জ্বেলে বই পড়লে স্বামীর ঘুমের ব্যাঘাত হবে, তাই প্রায়ই রাতে সে নিঃশব্দে বিছানা ছেড়ে উঠে পা টিপে টিপে চলে যায় পাশের ঘরে, বই খুলে বসে। দিনের বেলা অর্ধেক পড়া বই শেষ করার জন্য এক এক রাতে ছটফট করে সে। সব সময় নতুন বই পাবে কোথায়, তাই পুরোনো ক্লাসিক বইগুলিও পড়ে বারবার। শুধু বাংলা নয়, কলেজ জীবন থেকেই সে ইংরেজি সাহিত্য ভালোবাসে, ইংরেজি গোয়েন্দা গল্পও তার প্রিয়, আগাথা ক্রিস্টি মোট আশিখানা বই লিখেছেন, সবই তার পড়া। বেলজিয়ান লেখক জর্জ সিমেনোর বইগুলির ইংরেজি অনুবাদ তার খুব পছন্দ।

    বই পড়া শেষ করে বিছানায় ফিরে এসেও কোনো কোনোদিন তার ঘুম আসে না। ছটফট করে। হঠাৎ হঠাৎ এক একজন পুরুষমানুষের কথা মনে পড়ে। হ্যাঁ, স্বামীর পাশে শুয়েও যে সে পরপুরুষের কথা চিন্তা করে, এটা সত্যি। সেইসব পুরুষদের কারো নাম হ্যামলেট, কারো নাম গোরা, কারো নাম শশী, হাল আমলের কয়েকটি নামও আছে। রক্তমাংসের জীবন্ত পুরুষের কথাও যে চিন্তা করে না তা নয়। কয়েক মাস ধরে অনিমেষ রায়চৌধুরী তার রাত্রির শয্যাসঙ্গী, লেখকরা এখন আর অলীক নয়, বই ও পত্রপত্রিকায় প্রায়ই তাদের ছবি ছাপা হয়, টিভিতে দেখা যায়, চেহারা চেনা যায়। অমিতা যে এই লেখকটির খুব ভক্ত তা নয়, তবে পরপর কয়েকটি বই পড়ে প্রায়ই ওঁর সঙ্গে মনে মনে কথা বলে। চাঁচাছোলা ভাষায় ইনি যেভাবে মানুষের জীবনের কথা লিখে যান, তাতে যেন অন্য রকম একটা জীবনদর্শন ফুটে ওঠে। প্রেমের কাহিনিই বেশি লেখেন ইনি, কিন্তু সেই প্রেমে চিরন্তনতা নেই, এটা কিছুতেই মানতে পারে না অমিতা। খানিকটা তির্যকভাবে এই লেখক যেন বলতে চান, হোক না দুবছর বা পাঁচ বছর, তার মধ্যেই ভালোবাসা সার্থক করে নাও। মানুষের জীবনকে ইনি ছোটো করে আনেন। একজন মানুষ আশি বছর বাঁচলেও তার আসল আয়ু যেন বড়ো জোর দশ বছর।

    লেখকের সঙ্গে তো ইচ্ছে করলে দেখা করাও যায়। বইমেলায় অনেক লেখককে সই দিতে দেখেছে অমিতা। অনিমেষ রায়চৌধুরিকেও একদিন দেখেছিল নন্দন চত্বরে। ঠিকানা বা টেলিফোন নম্বর জোগাড় করা শক্ত কিছু নয়। কিন্তু পাঠক পাঠিকারা ফোন করলে কি লেখকরা বিরক্ত হন? বাড়িতে গিয়ে দেখা করতে চাইলে কি দরজা বন্ধ করে দেন মুখের ওপরে? খ্যাতির সঙ্গে কি দাম্ভিক হয়ে যান এঁরা? অবশ্য এঁদের সময়ের দাম আছে, সবাই যদি বাড়িতে গিয়ে জ্বালাতন করে…

    সংকোচ কাটিয়ে একদিন ফোন করেছিল অমিতা। অনিমেষ রায়চৌধুরি নিজেই ধরেছিলেন। অমিতার ধারণা ছিল, বিখ্যাত বা ব্যস্ত লোকদের সেক্রেটারি থাকে, তারা আগে ফোন ধরে জিজ্ঞেস করে, কে কথা বলছেন, কী চাই ইত্যাদি। প্রথমেই লেখকের গলা শুনে অমিতা একটু ঘাবড়ে গেল, সে বলল, আপনি আমাকে চিনবেন না, আমি একজন সাধারণ পাঠিকা, কয়েকটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিল— কিন্তু তাকে মাঝপথে থামিয়ে লেখকটি খানিকটা কৌতুকের সুরে বললেন, কিন্তু কীভাবে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না তো? এরকম তো হয়ই, প্রথম আলাপেই কি গড়গড় করে সব কথা বলা যায়? আমারও তো এরকম হয়, অচেনা কারও সঙ্গে ভালো করে কথা বলতে পারি না। আপনার নাম কী।

    লেখকটির সাবলীল ভঙ্গিতে অনেকটা জড়তা কেটে গেল অমিতার। এরপর কিছুক্ষণ টুকটাক কথা হল। অমিতা জিজ্ঞেস করল, আমি কি একদিন আপনার বাড়ি গিয়ে দেখা করতে পারি? অনিমেষ রায়চৌধুরি সঙ্গে সঙ্গে বললেন, হ্যাঁ, আসতে পারেন, যে-কোনো রবিবার সকালে। অমিতা তবু জিজ্ঞেস করল, আপনার অসুবিধে হবে না? মানে আপনার যদি সময় নষ্ট হয়…। লেখক বললেন, না, না, রবিবার আমি লিখি না, চলে আসবেন, কোনো অসুবিধে নেই। আমার বাড়ি চেনেন?

    সুবিমল ট্যুরে গেছে ছেলেও দুর্গাপুরে, সেই রকম এক রবিবার সকালে অমিতা যাবার জন্য তৈরি হল। স্বামীকে বা ছেলেকে কিছু বলেনি, জানলে ওরা হাসাহাসি, ঠাট্টা-ইয়ার্কি করত নিশ্চিত। বাংলা বাইয়ের লেখক ওদের কাছে অকিঞ্চিৎকর প্রাণী! না জানানোটা কি দোষের? লেখকের বাড়িতে বউ-ছেলেমেয়ে আছে, রবিবার সকালে দেখা করতে যাওয়াটা মোটেই অস্বাভাবিক কিছু নয়।

    কোনো বড়ো মানুষের কাছে প্রথমবার গেলে কিছু না কিছু হাতে করে নিয়ে যাওয়া উচিত। কী নেবে! একটা শার্ট পিস কিংবা পাঞ্জাবি? সেটা বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে না? কলম? ওঁদের নিশ্চয়ই অনেক কলম থাকে। শেষ পর্যন্ত পাড়ার দোকান থেকে এক বাক্স সন্দেশ নিয়ে গেল অমিতা।

    মাঝপথে এসে অমিতার মনে একটা প্রশ্ন দেখা দিল। টেলিফোনে আলাপ শুধু গলার আওয়াজ শুনেছেন, লোকটি ভেবে বসেননি তো যে অমিতা একটি তরুণী? ওঁরা তো কমবয়সিদেরই পছন্দ করেন। ওঁদের নায়িকারা সবাই তরুণী। এক প্রৌঢ়াকে দেখে নিরাশ হবেন না তো? হলে তো হবেন, কী আর করা যাবে। পাঠিকাদের সবাইকে সুন্দরী আর তরুণী হতে হবে নাকি? লেখক নিজেই কি কন্দর্পকান্তি? বয়েসও তো কম হল না।

    অমিতার অবশ্য এ কথাও মনে হল, এই বয়েসেও তার শরীরের গড়ন অন্য অনেকের চেয়ে ভালো। সাজলে গুজলে এখনও…। জোজোটা মাঝে মাঝে ইয়ার্কি করে বলে মা, ইউ আর গেটিং ইয়ংগার এভরি ডে!

    বেল দেবার পর দরজা খুললেন লেখক স্বয়ং। অমিতা আস্তে আস্তে নিজের নাম জানিয়ে বলল, আমি টেলিফোন করেছিলাম, আপনি আসতে বলেছিলেন…

    অনিমেষ রায়চৌধুরি আন্তরিক ভদ্রতার সঙ্গে বললেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ আমার মনে আছে, আসুন, আসুন!

    মিষ্টির প্যাকেটটা নিয়ে বললেন, এসব আবার কেন আনলেন? কে খাবে?

    রেখে দিলেন টেবিলের ওপরে।

    চেহারায় তেমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই এই লেখকের, মধ্য বয়েস পেরিয়ে যাচ্ছেন বোঝা যায়। সাজপোশাকের কোনও চেষ্টাও নেই, পাজামার ওপর একটা শার্ট। শার্টের বদলে অন্তত একটা পাঞ্জাবি পরা উচিত ছিল, দাড়ি কামানো হয়নি, কাঁচা-পাকা চুলে চিরুনিও পড়েনি মনে হয়।

    পাজামার ওপর শার্ট পরা পছন্দ করেন না অমিতা, কিন্তু মানুষটি যে বিখ্যাত-বিখ্যাত ভাব করে নেই, সেটা তার ভালো লাগল।

    বসবার ঘরে এসে সে অবশ্য দমে গেল। বিভিন্ন বয়েসের পাঁচজন নারী-পুরুষ বসে আছে সেখানে। লেখকটি তার সঙ্গে নিরিবিলিতে একলা দেখা করবেন, সেরকম তো কথা দেননি, তবু নিরাশ হয়ে গেল অমিতা। এত লোকের মধ্যে সে কী করে কথা বলবে? আড়ষ্টভাবে বসে পড়ল এককোণে। অন্যদের কথা শুনে সে বুঝতে পারছে, তারা কেউ তরুণ লেখক, কেউ এসেছে সভাসমিতিতে আমন্ত্রণ জানাতে, কেউ প্রকাশক। সকলের সঙ্গেই কথা বলছেন লেখক সরল সাদাসিধে ভাষা, সভা-সমিতির আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানও করছেন নম্রভাবে। একজন কিছু টাকা দিল, তিনি অবহেলার সঙ্গে রেখে দিলেন বুকপকেটে।

    এর মধ্যে সকলের জন্য চা এল। লেখকের স্ত্রী একবার একটুক্ষণের জন্য এসে দাঁড়ালেন, দেখলেই বোঝা যায় বিদুষী মহিলা, চেহারাও সুশ্রী, তবে কিছুটা ব্যস্ত ব্যস্ত ভাব। সকালবেলা বাড়িতে এত লোক এলে তো গৃহকর্ত্রীকে ব্যস্ত থাকতেই হয়, মাঝে মাঝেই টেলিফোন বাজছে।

    দু-তিনজন লোক উঠে গেল, আরও দু-তিনজন এল। অমিতা ভাবতে লাগল, একজন সাধারণ মানুষ আর একজন লেখকের মধ্যে তফাত কী? কিছুই তফাত নেই, এখানে এসে মনে হচ্ছে। অথচ এই লেখকই তাঁর বইগুলিতে যেন এক অন্য পরিচয়ে উপস্থিত। ধারালো ভাষা, মানুষের মনের গভীরে উঁকি মারার ক্ষমতা, মানুষে মানুষে সম্পর্কের জটিলতার উন্মোচন, জীবন ও মৃত্যুর নতুন ব্যাখ্যা, এইসব যেভাবে পাঠক-পাঠিকার মন আন্দোলিত করে, তার কিছুই এখন টের পাওয়া যাচ্ছে না। অমিতা এই সিদ্ধান্ত নিল যে, লেখকদের সামনাসামনি এসে তাঁদের লেখা নিয়ে আলোচনা করে লাভ নেই।

    তাহলে আর এখানে এসে লাভ কী? অল্পবয়সি মেয়েরা লেখকের প্রতি ভক্তিতে গদগদ হতে পারে। প্রেমেও পড়ে যেতে পারে, কিন্তু অমিতার তো সে অবস্থা নয়।

    শুধু একটা ব্যাপার অমিতা লক্ষ করল, সকলের সঙ্গেই কথা বলে যাচ্ছেন লেখক, তবু একটু যেন আলগা আলগা ভাব। যেন ভেতরে ভেতরে মানুষটা উদাসীন। অমিতা যে কিছু না বলে চুপ করে বসে আছে, সেজন্যও কোনও প্রশ্ন করলেন না। শুধু দু-একবার অমিতার সঙ্গে চোখাচোখি হতে তাঁর চোখে যেন একটু কৌতুকের ঝিলিক ফুটে উঠল। যেন তিনি অমিতার অস্বস্তিটা উপভোগ করছেন।

    ঘন্টাখানেক পরে উঠে পড়ল অমিতা। লেখক তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এসে মৃদু কণ্ঠে বললেন, আবার আসবেন।

    অমিতা ঠিকই করে ফেলেছে, আর আসবে না। একটা কোনও আকর্ষণীয় লেখা পড়লে কারও সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা করতে খুব ইচ্ছে করে! কিন্তু আর যার সঙ্গেই হোক, লেখকের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না সে-বিষয়ে। ওখানে একজন লোক ওই লেখকের একটা গল্প নিয়ে টিভি সিরিয়াল বানাবে বলে দু-একটি চরিত্র নিয়ে কথা বলছিল। গল্পটা অমিতার পড়া, বেশ মনে দাগ কেটেছিল, কিন্তু স্বয়ং লেখক লাজুক হেসে বললেন, অনেকদিন আগে লেখা তো, গল্পটা আমার ভালো মনে নেই!

    অমিতার এই ক্ষুদ্র ও ব্যর্থ অ্যাডভেঞ্চারটার কথা বাড়ির কেউ জানল না। অমিতা ভাবল, ওই লেখকটিকে সামনাসামনি গিয়ে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখার পরও কি তাঁর লেখা পড়তে ভালো লাগবে? পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ওঁর একটা নতুন বই কিনে আনল অমিতা। কিছুটা পড়ার পর লেখকের কথা আর মনে রইল না, কাহিনির চরিত্রগুলি তার কাছে জীবন্ত ও বাস্তব, বিশেষত প্রধান মহিলা চরিত্রটি যেন অমিতারই মনের কথা বলে যাচ্ছে, অমিতা তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গল্পের পুরুষটির সঙ্গে বোঝাপড়া করতে পারে।

    অনেকদিন পর সুপর্ণা এসেছে, জোজো বাড়িতে নেই, অমিতার সঙ্গেই গল্প করে গেল কিছুক্ষণ। মাথার চুল ছোটো করে ছাঁটা, জিনস ও টি শার্ট পরা। আজকাল একে বলে ইউনিসেক্স পোশাক। এতে অমিতার কোনো আপত্তি নেই। শাড়ি-ব্লাউজ পরতে সময়ও লাগে বেশি, ট্রামে বাসে ঘোরাঘুরি করারও অসুবিধে। অমিতার ঠাকুমা-দিদিমারা ব্লাউজের বদলে শেমিজ পরতেন। তারও আগে মহিলারা শাড়ির নীচে শায়া-শেমিজ কিছুই পরতেন না। মেয়েদের পোশাক অনবরত বদলায়। দিল্লিতে বয়স্কা মহিলারাও শালোয়ার-কামিজ পরে।

    একটা ইংরেজি কাগজে কাজ করে সুপর্ণা। ওর সঙ্গে ইংরেজি বই নিয়ে কথা হয়। বাংলা বেশ ভালো বলে সুপর্ণা। কিন্তু বাংলা বই পড়ে না। সুপর্ণা বেন ওকরি-র লেখা ‘দা ফ্যামিশড রোড’ নামে একটা উপন্যাস নিয়ে কথা বলেছিল, অমিতার মাথার মধ্যে সদ্য শেষ করা বাংলা উপন্যাসটা গজগজ করছে, সে প্রায় মরিয়া হয়ে সুপর্ণার সঙ্গেই ওই উপন্যাসটার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাইল। বইটা নিয়ে এসে সে বলল, তুমি অনিমেষ রায়চৌধুরির লেখা পড়েছ?

    বইটা হাতেও নিল না, একবার মাত্র চোখ বুলিয়ে সে বলল, না আন্টি, বাংলা বই আমার পড়া হয়ে ওঠে না।

    অমিতা জিজ্ঞেস করল, কেন পড়ো না? তুমি তো ভালোই বাংলা জানো। ইংরেজি কাগজে কাজ করলে বুঝি বাংলা পড়তে নেই!

    সুপর্ণা হেসে বলল, সে রকম কোনো নিয়ম নেই। আমার কলিগরা তো কেউ কেউ পড়ে, আমি পড়ি না। মানে, বাংলা লেখার ঠিক কোনো স্ট্যান্ডার্ড নেই।

    অমিতা এবার খানিকটা উগ্রভাবে বলল, কী করে জানলে? যদি তুমি না পড়ো? আচ্ছা, এখানকার লেখার কথা না হয় বাদ দিচ্ছি, তুমি সুকুমার রায়ের কবিতা পড়েছ? একটাও মুখস্থ বলতে পার? সতীনাথ ভাদুড়ির ‘ঢোঁড়াই চরিতমানস’-এর নাম শুনেছ? সেই লেখার চেয়ে ‘দা ফ্যামিশড রোড’-কে কেউ বেশি ভালো বললে আমি মনে করি সে পাগল!

    সুপর্ণা কৌতুকের সঙ্গে কয়েক মুহূর্ত চেয়ে রইল অমিতার দিকে। তারপর দু-কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, হতে পারে। আমি ট্রাই করে দেখব। কী নাম বললেন বইটার?

    এতখানি উত্তেজিত হওয়া অমিতাকে মানায় না। সে লজ্জা পেয়ে গেল। প্রসঙ্গ বদলে অনেক ভালো ভালো কথা বলল সুপর্ণার সঙ্গে। জোর করে নতুন গুড়ের সন্দেশ খাওয়াল।

    সুপর্ণা হয়তো তার পুত্রবধূ হবে। খুব ভালো মানাবে। ওরা দুজনেই বাংলা পড়বে না। অমিতার নাতি-নাতনিরাও বাংলা পড়বে না কেউ। ওরা বাংলা থেকে হারিয়ে যাবে। সেটা কী বাংলার ক্ষতি না ওদের ক্ষতি? বাংলা হারিয়ে তার বদলে কী পাবে ওরা? সে যাই হোক, যে কটা দিন ওদের সঙ্গে থাকবে অমিতা, সেই সময়টায় সে তার ভালো লাগার অনুভূতি বিনিময় করতে পারবে না এদের সঙ্গে। দুঃখ সেটাই এবং সে দুঃখ তার নিজস্ব।

    আজ একটু বেশি রাত করে ফিরেছে সুবিমল। খাওয়ার আগে হুইস্কি নিয়ে বসেও সে অফিসের কাগজপত্র দেখে। আজ আচমকা অমিতাকে ডেকে জিজ্ঞেস করল, তুমি অসিত দাশগুপ্ত নামে কারুকে চেনো?

    অমিতা বলল, অসিত, হ্যাঁ, আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত।

    কাগজ থেকে চোখ না তুলে সুবিমল বলল, খুব ভাবটাব ছিল তোমার সঙ্গে?

    না, সে রকম কিছু নয়। এমনি কফি হাউসে আড্ডা দিতাম।

    কদিন ধরে আসছে আমার অফিসে। তোমার কথা বলছে, এমন একটা ভাব দেখাচ্ছে, যেন তোমার সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠতা ছিল। বিয়েটিয়ে করতে চেয়েছিল নাকি তোমাকে?

    যাঃ, কী যে বলো! চাইলেই বা কে পাত্তা দিত ওকে? সেরকম কিছুই হয়নি।

    অনেকদিন বম্বেতে ছিল। এখন কলকাতায় চলে এসেছে, তা জানো?

    জানি। এর মধ্যে টেলিফোন করেছিল একদিন।

    এখন একটা অর্ডার সাপ্লাই কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, আমাদের অফিসের কনট্রাক্ট চায়। তোমার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে এসেছে আমার কাছে। তুমি কী বলো?

    আমি কী বলব?

    খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি। ওর অবস্থা বিশেষ সুবিধের নয়। বম্বেতে কিছু একটা গোলমাল করে এসেছে। একটু শেডি ক্যারেক্টার। আমাদের অফিসের কাজটা না পেলে ও খুবই মুশকিলে পড়বে। তাই তোমাকে জিজ্ঞেস করছি।

    তোমার অফিসের ব্যাপারে আমি কোনোদিন মতামত দিয়েছি?

    তোমার সঙ্গে ভাব ছিল, এখনও যদি কোনো দুর্বলতা থাকে?

    দুর্বলতা আবার কী?

    তোমাকে এর মধ্যে ফোন করেছিল, আমায় বলনি তো?

    বলিনি, মানে এরকম কতই তো ফোন আসে, সব কি তোমায় বলি? নাকি তোমার শোনবার সময় আছে?

    ফোন করেছিল, তার মানে এখনও তোমার সঙ্গে সম্পর্ক আছে। সেটাও কি আমার জানবার কথা নয়?

    কিচ্ছু সম্পর্ক নেই। তবু কেউ যদি নিজে থেকে ফোন করে—

    তুমি বললে আমি ওকে কাজটা দিতে পারি। আমার পার্টনার তাতে আপত্তি করবে না। যদিও কিছুটা বেনিয়ম করতে হবে।

    তা করবে কেন? তুমি যা ভালো বুঝবে, আমি কিছুই বলব না।

    এবারে কাগজ থেকে চোখ তুলে অমিতার দিকে কয়েক মুহূর্ত বিচিত্রভাবে চেয়ে থেকে সুবিমল বলল, জোর দিয়ে না-ও বলতে পারছ না! ওলড ক্লেম।

    অমিতা আহতভাবে বলল, তুমি আমার কথা বিশ্বাস করছ না?

    উঠে দাঁড়িয়ে সুবিমল খানিকটা ঝাঁজালো গলায় বলল, খাবারের ব্যবস্থা করো। অফিসে এসে একজন আমার স্ত্রীর নাম করে…আই ডিটেস্ট ইট!

    তারপর আর কোনো কথাই শুনল না সুবিমল। বিছানায় শুয়ে একটাও কথা বলল না, ঠিক চার মিনিট পরে শুরু হল নাক ডাকা।

    ঠায় চোখ মেলে জেগে রইল অমিতা। বুকটা ধড়াস ধড়াস করছে। এ কী হল? এইভাবেই ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়। কোন অতীত থেকে উঠে এসেছে অসিত, তার প্রতি অমিতার বিন্দুমাত্র দুর্বলতা নেই, তবু কিছু একটা সন্দেহ করছে তার স্বামী। অমিতাও ঠিক মতন বোঝাতে পারেনি, তার ভাষা ঠিক হয়নি, প্রথম থেকেই হাসতে হাসতে উড়িয়ে দেওয়া উচিত ছিল। অসিত ফোন করেছিল, তার উত্তরে অমিতা কী বলেছিল, তা তো জানে না সুবিমল, জানলেও কি ভুল বুঝত? অমিতা উত্তরটা সুবিমলকে বলেনি, হঠাৎ তার মনে লেগেছিল, তার কাছে কোনো ফোন এলে তার জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে?

    এতদিন পরে কি সুবিমলের ঈর্ষা হয়েছে? এটা হাসিরও ব্যাপার। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো রকম শারীরিক সম্পর্ক নেই, সারা দিনে কথাই বা কটা হয়, তার মধ্যেও ঈর্ষা? তাও অসিতের মতো তুচ্ছ একজনকে নিয়ে?

    সকালবেলাতেও সুবিমল গম্ভীর। অমিতা কোনো দোষ করেনি বলেই তার মনের মধ্যে অভিমান জমছে, সেও সহজ হতে পারছে না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে শেষ পর্যন্ত একজনকে ক্ষমা চাইতে হয়। ঝগড়া তো হয়নি, ক্ষমা চাইবে কে? সুবিমলের উৎকট গাম্ভীর্য দেখে মনে হয়, শুধু অসিতের প্রসঙ্গই নয়, আরও যেন কিছু ব্যাপার আছে। সেই আরও কিছুকে আড়াল করার জন্যই যেন কাল হঠাৎ অসিতের কথা তুলল সুবিমল। আর কী হতে পারে? সে কথা বলছে না কেন সুবিমল?

    দুপুরবেলা অফিস থেকে সুবিমলের সেক্রেটারি ফোন করে জানিয়ে দিল, বিশেষ কাজে সন্ধের ফ্লাইটেই সাহেবকে দিল্লি যেতে হবে। বাড়ি ফেরার সময় হবে না, একটু পরে ড্রাইভার এসে জামাকাপড়ের সুটকেসটা নিয়ে যাবে।

    হঠাৎ হঠাৎ দিল্লি-মুম্বাই যাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু সুবিমল সেটা নিজে জানাতে পারল না অমিতাকে? সে এতই ব্যস্ত? কিংবা সে অমিতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে না?

    অমিতার চোখ জ্বালা করে এল। এসব কী হচ্ছে? ক্রমশ ফাটল বাড়বে? কোন কাঁটা ঢুকেছে সুবিমলের মনের মধ্যে? সুবিমল যে এতবার বাইরে যায়, সবই কি অফিসের কাজে? অমিতার মনে মাঝে মাঝে এ প্রশ্ন জাগে, কিন্তু মুখ ফুটে জিজ্ঞেস করতে পারে না।

    জোজো বাড়িতে নেই, অমিতা একা, এক সময় সে একেবারে অধীর হয়ে পড়ল। ফোন করল স্বামীর অফিসে। সেক্রেটারি জানাল, সাহেব নেই, তাঁকে যেতে হয়েছে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। কিন্তু এক্ষুনি যে একবার সুবিমলের সঙ্গে তার দেখা করা দরকার। কী করে তা হবে?

    ঝোঁকের মাথায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটা ট্যাক্সি ধরল অমিতা। স্বামীর অফিসে সে কোনোদিন যায়নি, একটা অনুচ্চারিত নিষেধও যেন আছে। অমিতা যাদবপুরের দিকে চলে এল, সেই পোড়ো বাড়িটার কাছে এসে ছেড়ে দিল ট্যাক্সি।

    একটা বাজ-পড়া মরা গাছের মতন দাঁড়িয়ে আছে বাড়িটা। এটা ভেঙে ফেলে আবার কেউ একটা নতুন বাড়ি বানাতেও চায় না? এ রকম অবস্থাতেই থাকবে?

    এই বাড়িটা ছিল অশোক আর ঊর্মিলার। ভুল বোঝাবুঝি আর প্রচণ্ড অভিমান নিয়ে ওরা দূরে সরে গেছে। অহং-এর সংঘর্ষে পুড়ে গেছে এই সংসার। অথচ ভালোবাসা ছিল। কোথায় গেল সেই ভালোবাসা?

    অশোক আর ঊর্মিলা, তোমরা কোথায়?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    স্বর্ণলতা

    March 27, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    স্বপ্নের নেশা

    March 27, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনার কাঠির স্পর্শ

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }