Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1663 Mins Read0
    ⤷

    ০১. জমিদারের বজরা

    নদীর ওপর দিয়ে ভেসে চলেছে জমিদারের বজরা। আষাঢ় মাসের আকাশে নবীন মেঘ লুকোচুরি খেলে দিনমণির সঙ্গে, কখনও হঠাৎ এক ঝাঁক পাখি উড়ে যাবার মতন এক পশলা বৃষ্টি, কখনও ঝলমলে রোদ। দু পাশের তটভূমি জলরঙে আঁকা। কোথাও জনবসতি, কোথাও নিবিড় গাছপালা, আবার মাঝে মাঝে শুন্য প্রান্তর। নিছক শুন্য প্রান্তর কোনও শিল্পীর তুলিতে ধরা পড়ে না, কিন্তু প্রকৃতির মধ্যে তা-ও ছবি হয়ে যায়। কখনও সূর্যালোক, কখনও মেঘের ছায়ায় ছবিগুলির রং বদলে যায়।

    বজরাটি বিশেষ বড় নয়, দাঁড়ি-মাঝির সংখ্যা ছ’জন। ছাদের ওপর দুজন বন্দুকধারী প্রহরী বসে আছে ছাতা মাথায় দিয়ে। একই হুঁকো-কলকে পরম্পর বদলাবদলি করতে করতে তারা গল্প করছে নিচু গলায়। এ বজরাব মাল্লাদের অকারণে হল্লা করার নিষেধ আছে, খুব প্রয়োজন না হলে তারা কথাই বলে না, পথনির্দেশ হয় হাত তুলে কিংবা চোখের ইঙ্গিতে।

    মূল বজরাটির সঙ্গে আর একটি ছোট নৌকোও বাঁধা আছে। সেখানে রান্নাবান্নার ব্যবস্থা। জেলে ডিঙি থামিয়ে কেনা হয় টাটকা মাছ। কখনও পাশ দিয়ে স্টিমার গেলে নদী উত্তাল হয়ে ওঠে, বজরা ও ছোট নৌকাটি প্রবলভাবে দোলে, ছোট নৌকোটিরই ছটফটানি বেশি, যেন বড় ভাইয়ের হাত ছাড়িয়ে ছুটে যেতে চায় এক দুরন্ত বালক।

    বজরার ভেতরের কক্ষে একজনই যাত্রী, খাটের ওপর তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে অর্ধ শয়ান রয়েছেন এক ভ্রাম্যমাণ জমিদার, জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির কনিষ্ঠ সন্তান রবীন্দ্র। গোষ্ঠীপতি দেবেন্দ্রনাথের এতগুলি সন্তান, তবু বাংলার বিভিন্ন জেলা ও উড়িষ্যায় ছড়ানো তাঁর জমিদারি তালুক প্রত্যক্ষভাবে তদারকি করার জন্য আর কারুকে পাওয়া যায় না। জ্যেষ্ঠ পুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ বিদ্বান ও দার্শনিক, কিন্তু স্বভাবে একেবারে ভোলানাথ, বিষয়কর্মের দিকে তাঁর কোনও ঝোঁক নেই, দ্বিতীয় পুত্র সত্যেন্দ্রনাথ চাকুরি জীবিকা বেছে নিয়েছেন, হেমেন্দ্রনাথ অকাল মৃত। দুটি পুত্র বিকৃত মস্তিষ্ক। সবচেয়ে বেশি ভরসা করা গিয়েছিল যার ওপর, সেই হতাশ করেছে সবচেয়ে বেশি। জাহাজ ব্যবসায়ে ভরাডুবির পর জ্যোতিরিন্দ্রনাথ যেন বর্তিকা শুন্য এক বাতিদান, কোনও কিছুতেই আর উদ্যম নেই, মেজ বউঠানের আঁচলের তলায় নিষ্প্রভ হয়ে রয়েছেন, ভয়ে পিতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান না। পিতাও আঁর এই পুত্রটির মুখদর্শনে আর আগ্রহী নন।

    দ্বিজেন্দ্রনাথের ছেলে দ্বিপেন্দ্রনাথ সাবালক হবার পর থেকেই পারিবারিক অনেক দায়-দায়িত্ব নিয়েছেন, তাঁর যোগ্যতাও আছে, এই নাতিটিকে দেবেন্দ্রনাথেরও বিশেষ পছন্দ। কিন্তু দ্বিপু কলকাতার বিলাসীজীবনে অভ্যস্ত, খাজাঞ্চিখানায় হিসেবপত্র দেখতে তিনি রাজি আছেন, গ্রাম বাংলায় ঘোরাঘুরি করা তাঁর পছন্দ নয়। এ দিকে প্রত্যক্ষ পরিদর্শন না হওয়ায় জমিদারির আয় কমে আসছে। বিলাসব্যসন, পারিবারিক সংস্কৃতিচর্চা ও ব্রাহ্মধর্মের প্রসারের জন্য যুক্ত হতে ব্যয় করা হয়, কিন্তু সেই টাকা যে কোথা থেকে আসে তা যেন ছেলেরা বুঝতে চায় না। অগত্যা দেবেন্দ্রনাথ তাঁর এই কনিষ্ঠ পুত্রটিকেই সব কটি জমিদারি দেখাশুনোর ভার দিয়েছেন। সে কলকাতায় বসে অযথা সময় অতিবাহিত করছে কি না, সে দিকে তাঁর তীক্ষ্ণ নজর আছে। বছর খানেকের মধ্যেই এ কাজে রবীন্দ্র যথেষ্ট কৃতিত্বের পরিচয় দেওয়ায় দেবেন্দ্রনাথ আপাতত এই সন্তানটির প্রতি বেশ প্রসন্ন।

    রবীন্দ্র এখন বত্রিশ বছর বয়স্ক এক পূর্ণ যুবা, তিনটি সন্তানের জনক। স্বাস্থ্য ও রূপে অত্যুজ্জ্বল। শিলাইদহের কুঠিবাড়ির কাজ সম্পন্ন করে সে এখন চলেছে সাজাদপুরে। শিলাইদহ কলকাতা থেকে খুব বেশি দূর নয়, সাজাদপুর বা শাহজাদপুর পাবনা জেলার ইউসুফশাহী পরগনায়। বজরাটি এখন চলেছে গোয়ালন্দ পার হয়ে সেই দিকে।

    প্রত্যেকটি জমিদারিতেই পাকা কুঠিবাড়ি আছে বটে, রবীন্দ্র অনেক সময় বজরাতেই রাত্রিবাস করতে ভালবাসে। নদীপথে যাত্রার সময় কিংবা মধ্য নদীতে নোঙর করে রাত্রিবাসের ইচ্ছে হলে যাতে সুখস্বাচ্ছন্দ্যের কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য সব ব্যবস্থা করা থাকে। প্রতিবার কলকাতা ত্যাগের সময় সঙ্গে দিয়ে দেওয়া হয় কাঁড়িকাড়ি কামিনীভোগ চাল, সোনা মুগ ডাল, বাদাম, কিশমিশ, কলা, কমলালেবু, পেয়ারা, আপেল, ওট মিল, কোয়েকার ওট, ঝুনা নারকোল, পান-সুপারি, সরষের তেল, আমসত্ত্ব, আমচুর, হাঁড়ি ভর্তি মিষ্টি, সুগন্ধ সাবান, হ্যাজলিন ক্রিম, টুথ পাউডার। এ ছাড়া কয়েক কেস ব্র্যান্ডি, শ্যাম্পেইন ও ওয়াইন। শেষোক্ত দ্রব্যগুলির প্রতি অবশ্য রবীন্দ্রের কোনও আসক্তি নেই, সে হিসেবে অনান্য জমিদারতনয়দের তুলনায় রবীন্দ্র এক মূর্তিমান বাতিক্রম! তবু ওগুলো রাখতে হয়, সাহেব সুবোরা কখনও আসে, দেশীয় উচ্চপদস্থ রাজ কর্মচারী কিংবা অন্য জমিদার বন্ধু, আপ্যায়ন করতে হয় তাদের।

    মধ্যাহ্নের নদীতে বজরাটি চলেছে মন্থর গতিতে, ভেতরের কামরায় জমিদার নন্দনটির হাতে নেই সুরার পাত্র কিংবা আলবোলার নল, কোনও গায়িকা বা নর্তকী বা বাঈজী ব সঙ্গিনী হয় না কখনও, সে এখন হিসাবের খাতা খুলেও বসেনি কিংবা দিবানিদ্রাও দিচ্ছে না। সে এখন ব্যাপৃত এক সম্পূর্ণ অ-জমিদারসুলভ কাজে। তার পোশাকও জমিদারের মতন নয়, বহুমূল্য চোগা-চাপকান ঝোলানো রয়েছে দেওয়ালের হুকে, সে পরে আছে শুধু একটা ধুতি, খালি গা। জানলা দিয়ে রোদ এসে পড়েছে তার গৌরবর্ণ শরীরে, বুকে বিন্দু বিন্দু ঘাম, গরমে তার ভুক্ষেপ নেই, তার হাতে স্লেট ও পেন্সিল, সে কবিতা লিখছে। সে এখন জমিদার নয়, বঙ্গ ভাষার অগ্রগণ্য কবি। কবিতা রচনার সময় সে দু এক পঙক্তি লিখেই চোখ বন্ধ করে, সদ্য লিখিত পঙক্তিগুলি গুনগুন করে কয়েকবার, পছন্দ হলে ওষ্ঠ দুটিতে হাসি ফোটে, পরবর্তী পঙক্তি রচনায় মন দেয়। স্লেটে লেখা তার অনেক দিনের অভ্যেস, কাটাকুটি মুছে ফেলার সুবিধে হয়, এক স্লেট লেখা হয়ে গেলে সে একটি বাঁধানো খাতায় কপি করে। কখনও সঙ্গে সঙ্গে অন্য কাগজে দ্বিতীয় একটি কপি করে কোনও প্রিয়জনকে চিঠির সঙ্গে পাঠিয়ে দেয়।

    যারা বলে, কবিরা পাঠকদের মুখ চেয়ে বা মনোরঞ্জনের জন্য লেখে না, তারা ভুল বলে। কোনও কবিই শুধু নিজের জন্য লেখে না, লিখতে লিখতে কোনও একজন বিশেষ পাঠক কিংবা কয়েকজন অন্তরঙ্গ পাঠকের কথা মাঝে মাঝে তার মনে আসেই। সমগ্ৰ কৈশোর জুড়ে ও প্রথম যৌবনে রবীন্দ্রর মনে পড়ত নতুন বউঠানের মুখ। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রের ব রচনার প্রথম পাঠিকা। তাঁর পছন্দ হবে কি না সে বিষয়ে রবীন্দ্রকে সব সময় সচেতন থাকতে হত। কাদম্বরী চলে গেছেন, অভিমানভরে এ পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছেন, সে-ও প্রায় দশ বছর হয়ে গেল। তিনি চলে যাবার পরেও প্রথম প্রথম দু-এক বছর রবীন্দ্র যখন-তখন তাঁর ছায়ামূর্তি দেখতে পেত, টের পেত তাঁর শরীরহীন উপস্থিতি, প্রায় সব রচনাতেই তিনি কোথাও না কোথাও থাকতেন। ক্রমশ সে অনুভূতি ফিকে হয়ে এসেছে। তারপর কয়েকটি বছর লেখার সময় মনে পড়ত প্রিয়নাথ সেন কিংবা অক্ষয় চৌধুরীর মতন বন্ধুদের কথা, এঁদের মতামতের বিশেষ মূল্য আছে রবীন্দ্রের কাছে।

    ইদানীং প্রায় সব সময় মনে পড়ে আর একজনের মুখ। সে এখন কিশোরী থেকে তরুণী হয়েছে। ভাইঝি ইন্দিরা আর রবীন্দ্রের স্ত্রী মৃণালিনী প্রায় একই তো বয়েসী, তবু দুজনের মধ্যে কত তফাত। মৃণালিনীকে শিক্ষিত, সুসংস্কৃত করে তোলার চেষ্টা তো কম হয়নি, তবু কাব্যরুচি জন্মালো না, গানবাজনার দিকেও মন গেল না। একটা কবিতা লিখে কিংবা একটা গান রচনা করে সঙ্গে সঙ্গে তাকে শোনাবার কোনও ইচ্ছেই জাগে না তার স্বামীর। কারণ প্রকৃত রসগ্রহণ করতে পারলে মুখে যে ভাববাল্লাস ফুটে ওঠে, তা যে কোনওদিন দেখতে পাননি রবীন্দ্র। একটু দীর্ঘ কিছু শোনাতে গেলে কখনও কখনও সে ঘুমিয়ে পড়েছে। গৃহিণী বা শয্যাসঙ্গিনী হিসেবে অবশ্য তার ত্রুটি নেই। এই ক’বছরে তিনটি ফুটফুটে ছেলেমেয়ের জন্ম দিয়েছে। মৃণালিনী রবীন্দ্রের সংসারের যোগ্য সঙ্গিনী, কিন্তু সে তার মর্ম কিংবা নর্মসঙ্গিনী হতে পারল না কিছুতেই। যখন বাড়িতে স্ত্রী পুত্রকন্যাদের সঙ্গে থকে রবীন্দ্র, তখন সেও কিছুক্ষণের জন্য সংসারী হয়ে যায়, ছেলেমেয়েদের চায়, আদর করে। যখন বাইরে আসে, একা থাকে, তখনও মাঝেমাঝে ওদের কথা মনে পড়ে ঠিকই, ইচ্ছে করে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যেতে। কিন্তু যখন সে কবিতা রচনা করে, তখন সে তো কাকল স্বামী কিংবা পিতা নয়। সে যেন এক ব্যাকুল বিরহী, কবিতার ছত্রে ছত্রে বিচ্ছেদের বেদনা। কবিরা আসলে কোনও কিছুই পায় না, এমনকী সব কিছু দিলেও যযাতির মতন তাদের অতৃপ্তি থেকে যায়, শুধু ভোগের অতৃপ্তি নয়, কীসের যে অতৃপ্তি, কীসের যে বেদনাবোধ তা ব্যাখ্যা করে বোঝানোও যায় না, সেই বেদনা থেকেই তো উৎসারিত হয় কবিতা। সার্থক বা পরিতৃপ্ত কবি বলতে এ জগতে কিছু নেই।

    এখন যে-কোনও কিছু লিখলেই ইচ্ছে করে ইন্দিরাকে দেখাতে কিংবা সে কথা জানাতে। রূপে সে ঠাকুরবাড়ির অন্য সব কন্যা বা বধূদেরও ছাড়িয়ে গেছে, এবং তার গুণেরও শেষ নেই। সদ্য সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েব পরীক্ষার্থিনীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে ‘পদ্মাবতী স্বর্ণপদক’ পেয়েছে। ইংবিজি, ফরাসি ও বাংলায় তার সমান জ্ঞান, পশ্চিমি ও দেশীয় সঙ্গীত দুটোই খুব ভাল জানে, রবীন্দ্রের গানের স্বরলিপি করে ফেলতে পারে অতি দ্রুত। এত রূপসী ও গুণবতী হলেও সে বিয়ে করতে চায় না। কুড়ি বছর বয়েস হয়ে গেল, এখনও বিবাহে সে অনিচ্ছুক, এ কেমন কথা! কীসের জন্য যে তার আপত্তি, তা সে স্পষ্ট বুঝিয়েও বলতে পারে না কারুকে। তবে কি সে রবিকাকাকে ছেড়ে থাকতে চায় না?

    একেবারে শিশু বয়স থেকেই সে রবিকাকার ন্যাওটা। এখন তাদের সম্পর্কটা এমন একটা নিবিড় ঘনিষ্ঠতা পৌঁছেছে যেন কেউ কারুকে ছেড়ে সত্যিই আর থাকতে পারে না। রবীন্দ্রের মতন এমন পুরুষশ্রেষ্ঠ, এমন প্রতিভাবান, এমন সহৃদয় মানুষকে এত কাছাকাছি পেয়েছে ইন্দিরা, অন্য কোনও পুরুষকে তার পছন্দ হবে কেন? রবীন্দ্র যখন বাইরে কোথাও যায়, তখন ইন্দিরা প্রতিদিন একটি বা দুটি চিঠি লেখে, রবীন্দ্রও লম্বা লম্বা উত্তর দেয়, এমনকী অন্য সব কাজ ফেলেও ইন্দিরাকে আগে চিঠি লেখা চাই-ই। নিজের মনটাকে এমন সম্পূর্ণভাবে আর কারুর কাছে মেলে ধরতে পারে না রবীন্দ্র, তার সে রকম কোনও পুরুষ বন্ধু নেই, পুরুষদের সামনে সে খানিকটা আড়ষ্ট কিংবা কেতাদুরস্তু, মেয়েদের কাছেই সে স্বচ্ছন্দ হতে পারে।

    এর মধ্যে দু-এক বছর আগে রবীন্দ্র আর একবার ইংলন্ডে গিয়েছিল। এবার আর পড়াশুনোর অজুহাতে নয়, নিছকই ভ্রমণের অভিলাষে। বাবামশাইয়ের কাছ থেকে টাকাপয়সা কিছু পাওয়া যায়নি, দেবেন্দ্রনাথ আগেই বলে দিয়েছিলেন, তাঁর কোনও ছেলেকে বিলেত যাবার ব্যাপারে তিনি আর এক পয়সাও দেবেন না। রবীন্দ্র তিন শো টাকা মাসোহারা পায়, তা ছাড়া অন্য উপার্জন নেই, সে টাকা থেকেও কিছু জমে না, বরং বেশি ব্যয় হয়ে যায়। বিলেত যাবার জন্য জাহাজ ভাড়ার টাকা তাকে ধার করত হয়েছিল। সত্যপ্রসাদের কাছ থেকে। সত্য বেশ হিসেবি মানুষ হয়ে উঠেছে, এখন সে মামাদের প্রায়ই টাকা ধার দেয়, সুদও নেয়।

    রবীন্দ্র ভেবেছিল, নির্ভার চিত্তে সে ইংলন্ড ও ইওরোপের কয়েকটি দেশ ঘুরে আসবে, সেসব দেশের শিল্প-সঙ্গীত-নাটক উপভোগ করবে। ওসব দেশে একলা বেড়াতে ভাল লাগে না, সঙ্গে ছিল বন্ধু লোকেন পালিত, তার যেমন তীক্ষ্ণ মেধা, তেমনি রসজ্ঞান। সেজদাদা সত্যেন্দ্রনাথও সেইসময় ছুটি কাটাতে বিলেত যাচ্ছিলেন, সুতরাং রবীন্দ্রকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও নিতে হল না, কিন্তু লন্ডনে পৌঁছবার কয়েকদিন পর থেকেই রবীন্দ্রর মন কেমন করতে লাগল। একেবারে ছেলেমানুষের মতন। সেপ্টেম্বর মাসে লন্ডনের আবহাওয়া অতি চমৎকার, বেড়াবার পক্ষে আদর্শ, কিন্তু রবীন্দ্রর মন ছটফট করে। প্রতিদিন সকালে উঠেই ডাকবাক্সের কাছে ছুটে যায়, চিঠি না থাকলে মনটা বিশাদ হয়ে যায়। চিঠি পেলেও স্বস্তি নেই, ইন্দিরা প্রতি চিঠিতেই লেখে, তুমি আর কতদিন ওখানে থাকবে, আমার একটুও ভাল লাগছে না, আমার কিছুই ভাল লাগে না।

    একটা চিঠিতে ইন্দিরা লিখল যে রবিকাকা যদি এক্ষুনি ফিরে না আসে, তা হলে সে আর চিঠিই লিখবে না। সত্যিই সে আর চিঠি লেখে না। আগে রবীন্দ্র এতটা বুঝতে পারেনি যে ইন্দিরার সঙ্গে তার হৃদয়ের তন্ত্রী, কতখানি জড়িয়ে আছে, সে অভিমান করে চিঠি লিখছে না, এটা যেন রবীন্দ্রের কাছে মৃত্যুযন্ত্রণার মতন। স্ত্রীর চিঠি আসে, তাতে সংসারের খবর থাকে, সে রকম চিঠি পেলে আশ্বস্ত হওয়া যায় কিন্তু মন ভরে না। একদিন সকালে সত্যেন্দ্রনাথ একটা খাম খোলা চিঠি দিলেন, রবীন্দ্রর বারবার অনুরোধপত্রের উত্তরে ইন্দিরা লিখেছে দায়সারা কয়েক লাইন, তাও দিয়েছে বাবাকে লেখা চিঠির খামে। অপমানে রবীন্দ্রর মুখখানা পাংশুবর্ণ হয়ে গেল। ইন্দিরা সব সময় তাকে আলাদা লেফাফায় চিঠি পাঠায়। তা হলে কি সত্যিই সে আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চায় না? এ কথা ভাবতেই রবীন্দ্রর মনে হয় তা হলে তার জীবনটাই শুন্য ও নিষ্ফল হয়ে যাবে।

    সেদিনই সে ঠিক করল ফিরে আসবে। সত্যেন্দ্রনাথ ও লোকেন পালিত দারুণ বিস্মিত। রবীন্দ্র তিন মাসের রিটার্ন টিকিট কেটে এসেছে, এক মাস যেতে না যেতেই সে ফেরার জন্য ব্যস্ত কেন? এখনও অনেক ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে। দেশ থেকে কোনও দুঃসংবাদ আসেনি, সবাই ভাল আছে, তবু রবীন্দ্র কেন এত উতলা হয়ে পড়েছে, তা কেউ বুঝবে না। ওরা ওকে ধরে রাখার অনেক চেষ্টা করলেন, সত্যেন্দ্রনাথ নিজেও ফিরবেন তিন মাস পর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে, সে রকম ঠিক করা আছে। কিন্তু ছোট ভাইটি এখন আর তা মানতে চাইছে না। প্রিয়জনদের জন্য উপহার কেনাকাটি শুরু করে দিল রবীন্দ্র, আর সকলের জন্য কিছু কিছু জিনিসপত্র কেনাও হল, কিন্তু ইন্দিরার জন্য কী নেবে মনস্থির করতে পাবে না। যদিবা একটা সুন্দর টেবল ল্যাম্প পছন্দ হল, সেটা আবার লোকেন নিয়ে নিতে চায়। লোকেন বলল, তোমার ঘরে তো অনেক সুন্দর সুন্দর ল্যাম্প দেখেছি রবি, তা হলে এটা কার জন্য নিচ্ছ? লোকেন যতই ঘনিষ্ঠ বন্ধু হোক, তবু এত ব্যক্তিগত প্রশ্ন পছন্দ করে না রবি।

    থিয়েটার দেখতে গেলে কিংবা কোনও কনসার্ট শোনার সময়ও রবীন্দ্রর মাথায় ঘুরতে থাকে, বাবি আর চিঠি লিখবে না, বাবি আর চিঠি লিখবে না! তা হলে এই প্রবাসের দিনগুলো কী করে কাটবে?

    শেষ পর্যন্ত জোরজার করে নিজেই জাহাজে বুকিং-এর ব্যবস্থা করে ফেলল রবীন্দ্র, দেড় মাসের মাথায় সে আবার সমুদ্রে ভেসে পড়ল। সেই প্রথম রবীন্দ্রর একলা জাহাজ যাত্রা, সহযাত্রীরা সবাই অচেনা। লন্ডনে থাকার সময় সে এক লাইনও কবিতা লিখতে পারেনি। ওখানে সব সময় কোট-প্যান্টালুন পরে থাকতে হয়, বাংলার কাব্যপ্রতিমা তাই বুঝি কাছ ঘেঁষতে চান না। জাহাজের ক্যাবিনের মধ্যে আঁট পোশাক ছেড়ে রাত্রিবাস পরে নেবার পর আবার রবীন্দ্রের কলমে কবিতা এসে গেল।

    …আঁখি দিয়ে যাহা বল সহসা আসিয়া কাছে
    সেই ভাল, থাক তাই, তার বেশি কাঙ্গ নাই–
    কথা দিয়ে বল যদি মোহ ভেঙে যায় পাছে
    এত মৃদু এত আধো অশ্রুজলে বাধে বাধো
    শরমে-সভয়ে-মান এমন কি ভাষা আছে?
    কথায় বল না তাহা আঁখি যাহা বলিয়াছে…

    অল্প বয়েসে প্রথমবার বিদেশে এসে প্রতিনিয়ত মনে পড়ত একজনের কথা। সে সময়কার কবিতার ছত্রে ছত্রে তাঁর মুখচ্ছবি। আর এ বারে মনে পড়ছে আর একজনের মুখ, সে অভিমান করে আছে চিঠি লেখা বন্ধ করে দিল, ফিরে গেলে কি কথাও বলবে না? না, না, তা হতে পারে না। বিলেতের সব প্রলোভন ত্যাগ করে রবি যে এত আগে আগে চলে আসছে, ও কি তার মূল্য দেবে না?

    মুখখানি মনে পড়ে আর রবীন্দ্রের বুক কেঁপে ওঠে। ও যে এখন বড় হয়েছে, পূর্ণ যুবতী, সে কথা ওর মনে থাকে না, যেন আগের মতনই ছেলেমানুষটি রয়েছে। যখন-তখন রবীন্দ্রর কাছে চলে আসে, ঝপাস করে পাশে বসে পড়ে কিংবা পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে আদর করে গালে গাল ঠেকিয়ে। চুলে বিলি কেটে দেয়। এই নিয়ে কেউ কেউ বাঁকা ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে, অনেকেরই যে মন অপরিষ্কার। ইন্দিরা যে বিয়ে করব না বলে, তারও প্রতিক্রিয়া আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে ভাল নয়, কিন্তু ইন্দিরা তা গ্রাহ্য করে না। কিন্তু রবীন্দ্র একটু একটু ভয় পায়। ইন্দিরা তার খুবই প্রিয়, তবু এর পরিণতি কী? একদিন তো ওকে ছেড়ে দিতে হবেই।

    তোমার সাহস আছে, আমার সাহস নাই।
    এই যে শঙ্কিত আলো অন্ধকারে জ্বলে ভালো,
    কে বলিতে পারে বলা যাহা চাও একি তাই!
    তবে ইহা থাক দূরে কল্পনার স্বপ্নপুরে।
    যার যাহা মনে লয় তাই মনে করে যাই–
    এই চির আবরণ খুলে ফেলে কাজ নাই।…

    বম্বে পৌঁছেই পরের দিন ট্রেনে চাপার কথা, টিকিটের ব্যবস্থা করা আছে আগে থেকেই, কিন্তু মাঝরাত্রে হোটেলে পোঁছবার পর রবীন্দ্রর খেয়াল হল টিকিট-টাকাপয়সা সুদ্ধ ব্যাগটি ফেলে এসেছে জাহাজে। দু মাস এগারো দিন কেটেছে জাহাজে, শেষের দিকে দিন যেন আর কাটছিল না, এখন ভারতেব মাটিতে পা দিয়েও বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যাবে? ভোরবেলা আবার জাহাজঘাটায় ছুটতে হল এবং সৌভাগ্যবশত ব্যাগটি পাওয়া গেল। এখন আবার ট্রেনে যেতে লেগে যাবে আরও তিন দিন।

    রবীন্দ্র যে ফিরে আসছে তা তখনও কেউ জানে না। হঠাৎ উপস্থিত হয়ে সে সবাইকে চমকে দেবে। সেই সবাইয়ের তালিকায় প্রথম স্থানটি শুধু একজনই পেতে পারে। হাওড়া স্টেশনে পৌঁছর পর একটা ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করল রবীন্দ্র। তাতে লটবহর চাপিয়ে সে যাত্রা করল, জোড়াসাঁকোর বাড়িতে গেল না, বাবামশাই পার্ক স্ট্রিটের একটা ভাড়া বাড়িতে আছেন, আগে তাঁকে প্রণাম করে আসতে হবে, কিন্তু রবীন্দ্র গাড়িওয়ালাকে পার্ক স্ট্রিট ছাড়িয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিল।

    সেই ঘোড়ার গাড়ি এসে দাঁড়াল বির্জিতলাও-এর বাড়ির সামনে। আকাশে অপরাহ্নের ম্লান আলো। এ অঞ্চলে প্রচুর পাখি। সেন্ট পলের গির্জার মাথার ওপর দিয়ে ঝাঁক ঝাঁক পাখি উড়ে যাচ্ছে। এ বাড়ির সামনের বাগানে এক তরুণী আকাশের দিকে তাকিয়ে পাখি দেখছে। গাড়ির শব্দ শুনে সে মুখ ফেরাল।

    গাড়ি থেকে নামছে এক দীর্ঘকায় পুরুষ। মুখে ভ্রমরকৃষ্ণ দাড়ি, মাথায় কুঞ্চিত ঘন চুলের বাবরি, স্মিত হাস্যময় মুখ। ট্রেনেই বিলেতি পোশাক ছেড়ে ধুতি ও পিরান পরে নিয়েছে রবীন্দ্র। ইন্দিরার চোখে ধন্দ লেগে গেল। এ কি সত্যিই তার রবিকা, না তার দৃষ্টিবিভ্রম! এত বেশি সে একজন মানুষের কথা ভাবছে যে সে তার একটা ছায়ামূর্তিও গড়ে ফেলেছে।

    রবীন্দ্র ডাকল, বাবি–

    কোথায় মিলিয়ে গেল রাগ আর অভিমান। তখনই ইন্দিরা একটি হরিণীর মতন রবীন্দ্রের প্রসারিত দুই বাহুর দিকে ছুটে গেল।

    ইন্দিরা রবীন্দ্রর মন যতখানি অধিকার করে আছে, সরলা ততটা পারেনি। এরা দুজনে সমবয়েসী হলেও দুজনে অনেক তফাত। ইন্দিরা আগাগোড়া ইংরিজি স্কুলে পড়েছে, বাড়িতে পশ্চিমি আদরকায়দায় অভ্যস্ত হলেও রবিকাকার সান্নিধ্যের প্রভাবে সে বাংলা কাব্য-সাহিত্য-সঙ্গীত প্রাণ দিয়ে অনুভব করে। সরলা পড়েছে বাংলা স্কুলে, পড়াশুনোতও সে ভাল ছাত্রী, কিন্তু তার সাহিত্য-শিল্পবোধ তেমন উঁচু তারে বাঁধা নয়। সরলা ভারতী পত্রিকায় প্রায়ই এটা সেটা লেখে, কিন্তু তা এমন কিছু হয় না। ইন্দিরা যেমন তার মন-প্রাণ সবই রবিকাকে দিয়ে দিয়েছে, সরলা তা নয়। সরলা উচ্চাকাঙ্ক্ষিনী। ইন্দিরা নিজেকে আড়াল করে রবীন্দ্রের খ্যাতিতেই মুগ্ধ, সরলা নিজেও খ্যাতি চায়। রবীন্দ্র মুখের ওপর কিছু বলে না, ঢোঁক গিলে তার রচনার প্রশংসা করে। গানটা অবশ্য সে ভালই বোঝে। সরলাও বিয়ে করবে না প্রতিজ্ঞা করেছে, কিন্তু তার কারণটাও স্পষ্ট, সে কুমারী থেকে দেশের সেবা করতে চায়। সরলার জীবনে তার রবিমামা নয়, তার বাবার প্রভাবই বেশি। সরলার বাবা কংগ্রেসের একজন পাণ্ডা। ও বাড়িতে রবীন্দ্রর যাওয়া-আসা ক্রমশই কমে আসছে।

    আর একটি তরুণীর সঙ্গে রবীন্দ্রের মানসিক ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। ব্যারিস্টার আশু চৌধুরীর সঙ্গে বন্ধুত্ব ও কুটুম্বিতার সুত্রে তার এক ভাগিনেয়ী প্রিয়ম্বদার সঙ্গে পরিচয় হয়। এই সুশ্রী, বিদুষী মেয়েটিও কবিতা লেখে এবং সে রবীন্দ্রর একজন মুগ্ধ ভক্ত। রবীন্দ্রর বহু কবিতা সে দাঁড়িকমা, ড্যাশ সমেত মুখস্থ বলতে পারে, আশু চৌধুরীর স্কট লেনের বাড়ির আড্ডায় সে রবীন্দ্রর কবিতা আবৃত্তি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে অনেকবার। রবীন্দ্রও স্বীকার করেছে যে তার কবিতা এমন পুরোপুরি মুখস্থ বলতে সে আর কারুকে দেখেনি।

    প্রিয়ম্বদা নিজের কবিতা অনেকের সামনে পাঠ করতে লজ্জা পায়। সে রবীন্দ্রকে শুনিয়েছে নিরালা কোনও জায়গায় ডেকে নিয়ে গিয়ে, সসঙ্কোচে, মৃদু গলায়। চিঠিতেও কবিতা লিখে পাঠিয়েছে, রবীন্দ্র তাকে উত্তর দিয়েছে নিয়মিত। দুজনের বয়েসের ব্যবধান খুব বেশি নয়, মানসিক দূরত্বও যখন কমে আসছে অনেকখানি, এমন সময় আচম্বিতে প্রিয়ম্বদার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। বিয়ের পরই সে চলে গেল অনেক দূরে, মধ্যপ্রদেশের রায়পুরে, তার সঙ্গে আর দেখা হবারও সম্ভাবনা রইল না। জমিদারি পরিদর্শনের সময় বজরায় থাকতে থাকতে প্রিয়ম্বদার বিবাহের সংবাদের চিঠি পেয়ে রবীন্দ্র বিমনা হয়ে ছিল বেশ কিছুক্ষণ। সম্বন্ধ করা বিয়ে, স্বামীটি এক অচেনা পুরুষ, তার সঙ্গে অতদূরে এক সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে প্রিয়ম্বদার মতন একটি সূক্ষ্ম অনুভূতিসম্পন্ন মেয়ে নিজেকে কেমন করে মানিয়ে নেবে? সেখানে কেমনভাবে প্রথম প্রথম প্রিয়ম্বদার দিন ও রাত কাটবে, রবীন্দ্র ভেবে পায় না। পুরুষ মানুষের পক্ষে এ ব্যাপারটা বোঝা সম্ভবই নয়।

    বজরার একটা সুবিধে, তা ঘোড়ার গাড়ির মতন লম্ফঝম্প করে না। কবিতা রচনা করা, বই পড়া ও চিঠি লেখা বেশ চলতে পারে, কখনও কখনও মৃদু দুলুনিতে তা আসে। সামান্য ঘুমেই বহু স্বপ্ন দেখে রবীন্দ্র, অনেক স্বপ্ন থেকেই সে তার লেখার উপাদান পেয়ে যায়। কোনও কোনও স্বপ্ন আসে গল্পের বেশে। কোনও কোনও স্বপ্নে থাকে কবিতার ইঙ্গিত। ইদানীং সে গল্পের বাঁধুনি দেওয়া কিছু কবিতাও লিখতে শুরু করেছে।

    সন্ধে হয়ে এসেছে, একজন পরিচারক চা দিয়ে গেল। চা পান করতে করতে রবীন্দ্র শুনতে পেল মানুষের কলগুঞ্জন। মাঝি-মাল্লারাও কথাবার্তা শুরু করেছে। বজরা কোনও জনবসতির ধারে তীর ঘেঁষে চলেছে। এই সময় নদীর ঘাটে অনেক মানুষ আসে, নারীরা কাঁখে কলসি নিয়ে জল ভরতে এসে নিজেরাই উচ্ছ্বল হয়ে ওঠে, এই দৃশ্য দেখতে রবীন্দ্রর ভাল লাগে।

    রবীন্দ্র তাড়াতাড়ি বাইরে এসে দাঁড়াল। আকাশে রক্তিম আলোর ছড়াছড়ি, তীরবর্তী গাছপালাগুলিও যেন সেই রং মেখেছে। বজরাটি একটা ঘাটে ভিড়তে চলেছে, ঝুপ করে নোঙর ফেলার শব্দ হল, হালের মাঝি সামাল সামাল হেঁকে উঠল। একটা ভাঙা মন্দিরের সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে বেশ কিছু কৌতূহলী মানুষ, জলে বুক পর্যন্ত ডুবিয়ে কয়েকটি রমণীও স্থির চিত্রের মতন চেয়ে আছে এ দিকে।

    একজন কর্মচারী রবীন্দ্রকে বলল, হুজুর সাজাদপুর এসে গেছে–

    তার কথায় আরও কিছু যেন অবাক্ত রইল। রবীন্দ্র দেখল, অন্য দাঁড়ি-মাঝিরাও সবাই তার দিকে তাকিয়ে নীরবে যেন কিছু বলতে চাইছে।

    একটু পরেই সে বুঝতে পারল। তাড়াতাড়িতে সে খালি গায়েই ওপরে চলে এসেছে। কিন্তু সে তো এখন আর তরুণ কবি রবীন্দ্রবাবু নয়, সে যে এখানকার জমিদার, লোকে বলে রাজাবাবু, তার উপযুক্ত পোশাক গায়ে চড়াতে হবে।

    রবীন্দ্র তাড়াতাড়ি কামরার মধ্যে ফিরে গেল।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article পিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }