Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    হরিশংকর জলদাস এক পাতা গল্প291 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একলব্য – ১১

    ১১

    দ্রোণ বলিলেন তুই হোস্‌ নীচ জাতি।
    তোরে শিক্ষা করাইলে হইবে অখ্যাতি।।

    ‘ধনুর্বিদ্যা শিখতে এসেছ তুমি! আমার কাছে!’ বিস্মিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন দ্রোণাচার্য।

    ‘হ্যাঁ গুরুদেব।’ একলব্য আগের মতো জোড়হস্ত।

    ‘আমি কে যে তুমি আমার কাছে অস্ত্রবিদ্যা শিখতে এসেছ?’ আচার্যের কথায় হেঁয়ালি।

    একলব্য বিনয়ে বিগলিত হয়ে বলল, ‘আপনি ভুবনবিখ্যাত। এই ভারতবর্ষে আপনার সুনাম কে না শুনেছেন! আপনি মহর্ষি পরশুরামের কাছে অস্ত্রশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ধনুর্বিদ্যায় আপনি পৃথিবীতে বর্তমানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী।’

    চোখ বড় বড় করে আচার্য বললেন, ‘বাব্বা, আমার সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেই দেখি তুমি এসেছ!’

    গুরুদেবের কথা শুনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকল একলব্য। সমবেত শিষ্যরা নিবিড় চোখে তাঁকে আগাগোড়া পরখ করতে লাগল। তাদের কারও চোখেমুখে কৌতূহল, কারওবা উপহাসের ছটা।

    এই সময় দ্রোণাচার্য বললেন, ‘কিন্তু বাবা, আমি যে রাজপুত্র ছাড়া অন্য কাউকে অস্ত্রশিক্ষা দিই না।’

    কোমল চোখে একলব্য বলল, ‘ক্ষমা করবেন গুরুদেব। আমি একটুক্ষণ আগে বলেছি, নিষাদরাজ হিরণ্যধনুর পুত্র আমি।’

    ‘ও, বলেছ নাকি? খেয়াল করি নি। আচ্ছা, তুমি প্রথম থেকেই আমাকে গুরুদেব গুরুদেব বলে সম্বোধন করছ, কেন? তুমি তো আমার শিষ্য নও।’

    ‘আমি আপনার শিষ্য না হলেও আপনি আমার গুরু।’ বলতে বলতে একলব্যের চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল

    উদ্ভাসিত চোখে সে আবার বলল, ‘আমি যখন নিষাদ রাজপ্রাসাদের শিক্ষকের কাছে অস্ত্রবিষয়ে পাঠ নিতে শুরু করলাম, সেই শিক্ষকের মুখ থেকেই আপনার কথা প্রথমে শুনেছি। সেই থেকে মনে মনে আপনাকে গুরুদেব বলে মানতে শুরু করেছি।’

    দ্রোণাচার্য হালকা চালে যুবকটির সঙ্গে কথোপকথন শুরু করেছিলেন। ভেবেছিলেন—একসময় হতাশ হয়ে পেছন ফিরবে সে। এরকম অনেকে আসে। আচার্যের কঠিন কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে একসময় বিদায় নেয়। কিন্তু একলব্যের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, সে অন্য ধাতুতে গড়া।

    ‘ও, তুমি প্রাথমিক শিক্ষাও গ্রহণ করেছ নাকি?’ প্রশ্ন করলেন আচার্য।

    ‘হ্যাঁ, করেছি। কিছুক্ষণ আগে আয়ুধ বিষয়ে আপনার বক্তব্য শুনে আমার মনে হচ্ছে, আমার শিক্ষার মধ্যে অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে।’

    ‘তুমি আমার কথাগুলো শুনেছ নাকি?’

    ‘বেশ কিছুক্ষণ আগে আমি দরজার কাছে এসে পৌঁছেছি। তখন গুরুগম্ভীর কণ্ঠে নানা অস্ত্রের আকার-প্রকার সম্পর্কে বলছিলেন। আমি একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে গেলাম। তা ছাড়া, আপনার অনুমতি ছাড়া কক্ষে প্রবেশ করা অন্যায় হবে। সেই থেকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস ছিল—একটা না একটা সময়ে আপনার কৃপাদৃষ্টি আমার ওপর পড়বে।’ একটা তৃপ্তির হাসি সারা মুখে ছড়িয়ে শেষে বলল, ‘পড়েছেও।’

    একলব্যের অভিব্যক্তি সাবলীল। প্রতিটি শব্দ আলাদা করে স্পষ্টত সে উচ্চারণ করে গেল। কোনো ভনিতা নেই। তার বিশ্বাসের প্রতিটি কণা পর পর সাজিয়ে বলে গেল একলব্য।

    কিন্তু দ্রোণাচার্য একলব্যের উপস্থাপনায় যতই মুগ্ধ হোন, তাকে শিষ্যত্ব দিতে পারেন না। কুরুরাজার কাছে তাঁর যে হাত-পা বাঁধা। দৃঢ় গলায় আচার্য বললেন, ‘আমার কৃপাদৃষ্টি তোমার ওপর বর্ষিত হবে না।’

    অপার বিস্ময় নিয়ে একলব্য গুরুদেবের দিকে তাকিয়ে থাকল। আচার্যের কথার মর্মোদ্ধার করতে চেষ্টিত হলো।

    দ্রোণাচার্য জিজ্ঞেস করলেন, ‘একলব্য, তুমি বোধহয় আমার কথা বুঝতে পারো নি।’

    একলব্য বলল, ‘আপনার এই পাঠশালায় নানা রাজ্যের রাজপুত্ররা পাঠ গ্রহণ করেন। আমি কেন আপনার কৃপা পাব না, বুঝে উঠতে পারছি না গুরুদেব।’

    একলব্যের এই প্রশ্নের উত্তর দ্রোণাচার্যের জানা। একজন শিক্ষকের দৃষ্টি সূর্যরশ্মির মতো। সকলের ওপর সমভাবে পতিত হয়। আচার্যও তার ব্যতিক্রম নন। কত শত শিষ্য তাঁর এই অস্ত্রপাঠশালায় শিক্ষা গ্রহণ করছে আবার শিক্ষা গ্রহণ সমাপন করে নিজালয়ে চলেও যাচ্ছে। একলব্যেরও অধিকার আছে তাঁর শিক্ষাশ্রমে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু দ্রোণাচার্য নিরুপায়।

    তিনি একলব্যকে কিছুতেই শিষ্য হিসেবে বরণ করতে পারেন না। একলব্য যে নিষাদ, ও যে অনার্য! একজন অনার্য আর্যাধিকারের অস্ত্রবিদ্যা অধিগ্রহণ করবে কীভাবে? তা ছাড়া তাঁর পাঠশালার সবাই সুসংস্কৃত আর্যপরিবারের সন্তান। মার্জিত, শীলিত একদল আর্যসন্তানের সঙ্গে একজন কালোদেহের অনার্য সন্তান পাঠ নিতে পারে না। হঠাৎ করে কেন জানি দ্রোণাচার্যের মধ্যে জাতিবিদ্বেষ টগবগিয়ে উঠল।

    দ্রোণাচার্য ভাবলেন—এই একলব্য একেবারেই পৃথক এক জনগোষ্ঠীর মানুষ। তার আচার-ব্যবহার, তার শুচিবোধ-সদাচার সবটাই আর্যজনজাতি থেকে আলাদা।

    তাকে কৌরব-পাণ্ডবদের সঙ্গে বসিয়ে শিক্ষাদান করা মোটেই যুক্তিগ্রাহ্য নয়। তিনি হস্তিনাপুরের রাজবাড়িতে অস্ত্রশিক্ষার গুরু হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। যতই তাঁর স্বাধীনতা থাকুক, একজন নিষাদপুত্রকে রাজকুমারদের সঙ্গে একত্রে শিক্ষাদানের স্বাধীনতা তাঁর নেই। তিনি যে রাজবাড়ির অর্থপুষ্ট শিক্ষক। ভাবতে ভাবতে তাঁর মধ্যে ব্রাহ্মণ্য অহংকার জেগে উঠল।

    দ্রোণাচার্য ভাবলেন—আর্য সমাজ যে চতুর্বর্ণীয় বিভাজনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, তা অবশ্যই মানবজাতির জন্য কল্যাণকর। এই বিভাজন সমাজকাঠামোকে শৃঙ্খলিত করে রেখেছে। এই শৃঙ্খল রাজ্যশাসন, প্রজাশোষণ ও ধর্মমার্গের পক্ষে বিশেষভাবে অনুকূল।

    ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়-বৈশ্য-শূদ্র শ্রেণিপ্রথা সমাজে বিরাজমান না থাকলে আর্য সমাজব্যবস্থা কবেই ভেঙে পড়ত। ব্ৰাহ্মণ আর ক্ষত্রিয়রা স্বাধীন। ব্রাহ্মণ্যমস্তিষ্ক আর ক্ষত্রিয়-বাহুবলের সম্মিলনে এমন একটা কেন্দ্রশক্তি তৈরি হয়েছে, যা অতিপ্রতিদ্বন্দ্বী, অপ্রতিরোধ্য। ব্রাহ্মণ আর ক্ষত্রিয়ের সমন্বয়কে অব্যাহত রাখতে হলে এসব ছোটোজাতের শূদ্রদের মাথা তুলতে দেওয়া যাবে না।

    ব্যাধ-ডোম-নিষাদদের মস্তিষ্ক বড় উর্বর। এই উর্বর মস্তিষ্কে যদি অস্ত্রবিদ্যা আর রণকৌশল ঢুকে যায় তাহলে পৃথিবীকে ওরা একদিন পদানত করে ছাড়বে। একজন ব্রাহ্মণ হয়ে কী করে তিনি ছোটোজাতের এই নিষাদপুত্রকে প্রশ্রয় দিতে পারেন? তাঁর কি একলব্যকে ছাত্র হিসেবে গ্রহণ করা উচিত? কখনো নয়। এসবই আপন মনে ভাবছিলেন দ্রোণ।

    এ ছাড়া দ্রোণাচার্যের মনে আরেকটি কথা বারবার উঁকি দিচ্ছিল। কৌরব আর পাণ্ডবসন্তানরা বিশেষ এক বাতাবরণে বড় হয়ে উঠছে। তারা সুসংস্কৃত। তারা আর্য। তাদের গায়ের রং গৌর। রুচি উন্নত। একটা বিশেষ পরিমণ্ডলে অস্ত্রশিক্ষা গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে তারা। এই কালাকোলা, মলিন বসন পরিহিত আর্যসমাজে বেমানান চেহারার একলব্যকে ওদের সঙ্গে পাঠাভ্যাসে বসিয়ে দিলে, ওরা ভীষণ অস্বস্তিতে পড়বে।

    এই অস্বস্তির কথা একটা সময়ে তারা পিতামহ ভীষ্মকে বলবে। ভীষ্ম যদি ক্ষেপে গিয়ে তাঁকে চাকরিচ্যুত করেন, তাহলে তাঁর কী গতি হবে? এই সুখ আর স্বাচ্ছন্দ্য, কৃপীর মুখের হাসি আর অশ্বত্থামার বিপুলানন্দ—সবই ভেসে যাবে। আবার পথে এসে দাঁড়াতে হবে তাঁকে। তখন দ্রুপদের ওপর প্রতিশোধের কী হবে? তিনি যে প্রতিজ্ঞা করে এসেছিলেন-দ্রুপদকে সিংহাসন থেকে টেনেহিঁচড়ে নামাবেন। তাঁর চাকরি গেলে এসব কিছুই তো আর হবে না। দরকার নেই একলব্যকে শিষ্যত্ব দেওয়া। যে করেই হোক, তাকে এখান থেকে বিতাড়িত করতে হবে।

    ক্ষুব্ধ গলায় আচার্য একলব্যকে উদ্দেশ করে বলে উঠলেন, ‘হীনবংশে তোমার জন্ম। নীচ জাতি তুমি। অপাঙ্ক্তেয় কোনো জনগোষ্ঠীর সন্তানকে আমি অস্ত্রশিক্ষা দিই না।’

    বহুবাসনার চির-আকাঙ্ক্ষিত গুরু দ্রোণাচার্যের মুখে এ রকম জাতিবিদ্বেষমূলক বর্ণবাদী কথা শুনে নিষাদপুত্র একলব্য একেবারেই স্তম্ভিত হয়ে গেল। তার দেহের সকল শিরা-উপশিরা কিছু সময়ের জন্য অসাড় হয়ে গেল। তার সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে উঠল। কপালে, গণ্ডদেশে, নাকে ফোঁটা ফোঁটা স্বেদবিন্দু। তার চক্ষুদ্বয় পলকহীন।

    কিছুক্ষণ পর তার সংবিৎ ফিরল। আচার্যের দিকে তাকাল একলব্য। দেখল— গুরুদেবের চক্ষু তার ওপর নিবন্ধ। নিষ্পলক। চাহনিতে করুণা বা ভালোবাসার অথবা স্নেহের কোনো চিহ্ন খুঁজে পেল না একলব্য। কী রকম যেন ক্রোধান্বিত চেহারা। ঠিক ক্রোধযুক্ত নয়। যেন আচার্যের চাহনিতে ঘৃণার ছোঁয়া। বর্ষাকালে কালো মাটির ওপর দিয়ে একটা কেঁচোকে এগিয়ে যেতে দেখলে মানুষ যেমন করে ঘৃণা আর অবহেলায় নাকচোখ কুঁচকে কেঁচোটির দিকে তাকায়, দ্রোণাচার্যও সেই দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন একলব্যের দিকে।

    এখন একলব্য কী বলবে গুরুকে উদ্দেশ করে? যে গুরুর চরণ আবাল্য ধ্যান করে এসেছে, যে গুরুর সান্নিধ্য তার বহু আকাঙ্ক্ষিত, যে গুরুর শিক্ষা তাকে উজ্জ্বল আলোর জগতে নিয়ে যাবে বলে তার একান্ত বিশ্বাস, সেই গুরু এ কী বললেন? সে বোধ হয় ভালো করে শোনে নি। যা শুনেছে, আচার্য সেরকম করে বলেন নি। তার শুনতে অবশ্যই ভুল হয়েছে। নিজের অজান্তেই কানের পাশে হাত চলে এল একলব্যের। ভালো করে কান রগড়ে সে আবার উৎকর্ণ হলো।

    এই সময় দ্রোণাচার্য পুনরায় বলে উঠলেন, ‘তুমি বোধ হয় আমার কথার মর্মার্থ হৃদয়ঙ্গম করতে পারো নি। আমি উঁচু জাতের অস্ত্রগুরু। হীন শূদ্রবংশে জন্ম তোমার। ব্রাহ্মণ আমি। ব্রাহ্মণ হয়ে নীচ জাতির নিষাদকে অস্ত্রশিক্ষা দিতে পারি না আমি। তুমি ফিরে যাও।’ বলে সম্মুখে সমবেত শিষ্যদের দিকে মুখ ফেরালেন আচার্য।

    একলব্য আর একটি কথাও বলল না। পূর্বের মতো মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে গুরুদেবকে প্রণাম করল। তারপর ধীর পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে থমকে দাঁড়াল একলব্য। গভীর মগ্নতায় কী যেন ভাবল। তারপর পেছন ফিরল। গুরুর নিকটে গেল। জোড়হাতে বলল, ‘একটা নিবেদন ছিল গুরুদেব।’

    একলব্যের দিকে না তাকিয়ে দ্রোণাচার্য বললেন, ‘বলো।’

    ‘আমার বাসনার মৃত্যুর কথা বলব না। বলব আমার প্রাথমিক অস্ত্রশিক্ষার কথা। অস্ত্রবিদ্যার কিছুটা সাধন আমি করেছি। যাওয়ার আগে তার কিছুটা কৌশল আপনাকে দেখাতে পারলে তৃপ্তি পাব। আপনি অনুমতি দিন গুরুদেব।’

    একলব্যের দিকে ধীরে ধীরে মাথা ঘোরালেন আচার্য। তার চোখেমুখে রাগ না অনুরাগ বোঝা যাচ্ছে না এখন। ‘কী প্রদর্শন করবে তুমি?’ জিজ্ঞেস করলেন দ্রোণাচার্য।

    ‘যা শিখেছি।’ সংক্ষেপে বিনীত কণ্ঠে বলল একলব্য।

    ‘তথাস্তু।’ বলে সমবেত ছাত্রদেরকে অস্ত্রকৌশল প্রদর্শনী মাঠে যাওয়ার ইঙ্গিত করলেন। আসন ছেড়ে নিজেও উঠলেন। একলব্য তাঁকে অনুসরণ করল।

    .

    একলব্য অতি নিপুণতায় তীর নিক্ষেপ করতে লাগল। অন্যান্য শিষ্যের পক্ষে দূরবর্তী যে লক্ষ্যবস্তু ভেদ করা অসম্ভব, অতি সহজেই একলব্য সেই বস্তু ভেদ করল। তার শরচালনার নিপুণতা আর ক্ষিপ্রতা দেখে সবাই উচ্চস্বরে বাহবা দিতে লাগল। কৌরব ভ্রাতারা সবচাইতে বেশি উচ্ছ্বসিত হলো। একজন ছাড়া অন্য পাণ্ডবরা পরিমিত আনন্দ প্রকাশ করল। একজন শুধু কোনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল না। সে অর্জুন।

    বিষবৎ একটা ঈর্ষা অর্জুনের মধ্যে ফেনায়িত হয়ে উঠল। হীনম্মন্যতাজাত ক্রোধ তাকে আবৃত করতে উদ্যত হলো। কিন্তু বুদ্ধিমান সে। মুখে কিছু বলল না। নির্লিপ্ত উদাসীন চোখে একলব্যের শরনিক্ষেপণ দক্ষতা অবলোকন করে গেল শুধু।

    একলব্যের তীরচালনা দক্ষতা দেখে আরেকজন বিশেষভাবে মুগ্ধ হলেন। তিনি অস্ত্রগুরু দ্রোণাচার্য। কী অবলীলায়, কী অপূর্ব দক্ষতায় লক্ষ্যবস্তুতে শরনিক্ষেপ করে গেল একলব্য! তাঁর অস্ত্র পাঠশালার দু’জন ছাত্র, অশ্বত্থামা আর অর্জুনই শুধু সক্ষম এই রকম তীর নিক্ষেপণে।

    কঠোর সংযমে নিজের আবেগকে গলাটিপে হত্যা করলেন দ্রোণাচার্য। ভাবলেন– এই পৃথিবীতে একলব্যের মতো কত প্রতিভার যে অহরহ মৃত্যু হচ্ছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। একজন একলব্যের জন্য আকুলিত হয়ে লাভ কী?

    অস্ত্রকৌশল প্রদর্শনী শেষ করল একলব্য। প্রবল আগ্রহে গুরুদেবের দিকে তাকাল। উদ্দেশ্য—যদি গুরুদেব সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। কিন্তু গুরুদেবের অভিব্যক্তি নির্মোহ। সংক্ষেপে বললেন, ‘ঠিক আছে। তুমি আসো এখন।’ অন্যদিকে মুখ ঘোরালেন দ্রোণাচার্য।

    .

    এক অদ্ভুত ভঙ্গি করে হাসল একলব্য। তীর-ধনুক যথাস্থানে রাখল। তারপর চোখ যেদিকে গেল, সেই দিকে এগিয়ে গেল সে।

    একলব্য এগিয়ে গেল অরণ্যের দিকে। দ্রোণাচার্যের আশ্রমের উত্তর দিকে যে গহিন অরণ্য সেদিকে অগ্রসর হলো একলব্য। একদিন উত্তর দিক থেকে গঙ্গা পেরিয়ে, এই গহিন বনভূমি অতিক্রম করে পুত্র অশ্বত্থামার হাত ধরে সস্ত্রীক কুরু রাজধানী হস্তিনাপুরে এসেছিলেন দ্রোণাচার্য। সেদিন বুকভরা বেদনা নিয়েই এসেছিলেন তিনি। হৃদয় ছিল অপমানে চুরচুর। কিন্তু হস্তিনাপুর, পিতামহ ভীষ্ম তাঁকে সপরিবারে আশ্রয় দিয়েছিলেন। তাঁকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে একটা সচ্ছল স্বস্তির জীবন দান করেছেন। অর্জুনদের পেয়ে তাঁর ভেতরের অপমানের জ্বালা আপাতত প্রশমিত হয়েছে। তাঁর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্থির করে রেখেছেন দ্রোণাচার্য।

    আজ সেই কামনা পূরণের হস্তিনাপুর থেকে একলব্যকে চলে যেতে হচ্ছে শূন্য হাতে। প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষায় যে অরণ্য অতিক্রম করে একদা আচার্য এই হস্তিনাপুরে এসেছিলেন, অপ্রাপ্তির বুকভরা কষ্ট নিয়ে সেই অরণ্যের দিকেই পা বাড়াল একলব্য। কষ্ট ভুলবার জন্য মানুষ জনসান্নিধ্য খোঁজে, কিন্তু একলব্য খুঁজে নিল জনবিচ্ছিন্ন শ্বাপদময় গহিন অরণ্য। একলব্যের কাছে এই জনকোলাহল, এই ঐশ্বর্য, এই বাসনা, এমনকি মাতা-পিতা-পিতামহের মতো নিকটাত্মীয়-সান্নিধ্যও অসহ্য মনে হলো। প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য নিজের মধ্যে প্রবল একটা আকুলতা অনুভব করল সে।

    একলব্য ধীরে ধীরে গভীর থেকে গভীরতর অরণ্যের ভেতরে ঢুকে গেল।

    দ্রোণাচার্য একবারের জন্যও ভাবলেন না, তিনি এই নিষাদজাত যুবাটির সঙ্গে কী অমানবিক আচরণ করেছেন! ব্রাহ্মণ্য অহংকারে উদ্দীপিত হয়ে, কুলগর্বে গর্বিত হয়ে তিনি একলব্যের প্রতি যে হীন আচরণ করলেন, এজন্য তাঁর মধ্যে কোনো অনুশোচনা হলো না। শিষ্যত্বকামী, তীর চালনায় দক্ষ একলব্য লোকালয়ের দিকে না গিয়ে কেন অরণ্যানির দিকে গেল, সে বিষয়ে ভাববার বিন্দুমাত্র আগ্রহ দ্রোণাচার্যের ভেতরে জাগল না। তিনি নিত্যদিনের মতো শিষ্যদের নিয়ে অস্ত্র পাঠদানে মশগুল হয়ে পড়লেন।

    একলব্যের আগমন এবং নির্গমন যেন অতি সাধারণ একটা ঘটনা। একটি বুদ্বুদ জেগে ওঠা আর বিলীন হয়ে যাওয়ার মতো যেন একলব্যের আবির্ভাব এবং তিরোধানের ঘটনাটি।

    বিতাড়নের বেদনা সহ্য করতে না পেরে একলব্য কি প্রাণ বিসর্জন দেবে, না আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে পৃথিবীকে দেখিয়ে দেবে-বর্ণগর্বী গুরু দ্বারা অবহেলিত হলেও একলব্যরা বিলীন হয়ে যায় না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    Related Articles

    হরিশংকর জলদাস

    দুর্যোধন – হরিশংকর জলদাস

    July 27, 2026
    হরিশংকর জলদাস

    কৰ্ণ – হরিশংকর জলদাস

    July 27, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    Our Picks

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }