Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ভাগীরথী অমনিবাস – নীহাররঞ্জন গুপ্ত (অসম্পূর্ণ)

    নীহাররঞ্জন গুপ্ত এক পাতা গল্প284 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মধুমতী থেকে ভাগীরথী – ২৬

    ।। ছাব্বিশ ।।

    কথাটা শুনেই অন্নপূর্ণা একেবারে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে—কি বললে, কি করে ওসব ছাইভস্ম ভাবতে পারলে।

    রাধারমণ মল্লিক বললেন, আগে আমার কথাটা ভাল করে শোনই না বড়বৌ।

    ওসব ছাইভস্ম কি শুনব শুনি?

    দ্যাখ বিদ্যাসাগর মশাই শুধু অসাধারণ পণ্ডিতই নন, আজকের সমাজের একজন কেউকেটা, বিশিষ্ট একজন মান্যগণ্য ব্যক্তি। ব্যাপারটা অন্যায় বা ধর্ম-বিরুদ্ধ হলে কি তিনি—তাঁর মত একজন লোক—আইন পাস করাতেন সাহেবদের ধরে এত পরিশ্রম করে?

    মুখে আগুন তোমার অমন লেখাপড়ার, অমন পণ্ডিতের! বিধবার আবার বিয়ে! ছিঃ-ছিঃ-ছিঃ-!

    আমি আজ বিদ্যাসাগর মশাইয়ের ওখানে গিয়েছিলাম। তাঁকে সুহাসের সব কথা বললাম। তিনি বললেন, বিধবা বিবাহের এই তো যোগ্যতম পাত্রী। তাছাড়া—

    থামো, থামো! ওসব কথা শুনলেও পাপ হয়। গঙ্গাস্নান করতে হয়, প্রাচিত্তির করতে হয়।

    সে তুমি যাই বল, আমি কিন্তু স্থির করেছি বড়বৌ, উপযুক্ত পাত্র পেলে আবার সুহাসের বিয়ে দেব।

    আমি তাহলে ঠিক জেনো, হয় গলায় দড়ি দিয়ে না হয় গঙ্গার জলে ডুবে মরব।

    বড়বৌ!

    হ্যাঁ, হ্যাঁ। ওর কপালে নেই স্বামীর ঘর করা। নচেৎ এমনটাই বা হবে কেন? পোড়াকপালী যে কর্ম করে এসেছে, তেমনি ফলভোগ ওকে করতেই হবে।

    কর্ম, কর্মের ফলভোগ, ওসব কতকগুলো কুসংস্কার।

    না, কুসংস্কার নয়। হিন্দুধর্ম মিথ্যা তুমি বলতে চাও?

    মিথ্যা আমি বলি না, তবে সেই ধর্মের নামে যা সব চলেছে দেখছি—

    ছিঃ ছিঃ, বলো না—বলো না ওসব কথা। হ্যাঁগো, তুমি দিন দিন এমন ম্লেচ্ছ হয়ে উঠছ কেন? ওইসব ফিরিঙ্গিগুলোর সঙ্গে মিশেমিশেই তোমার মতিগতি অমন হচ্ছে দিনকে-দিন। এরপর ঠাকুরপুজোও হয়তো করবে না। সন্ধ্যা-আহ্নিকও করবে না।

    বড়বৌ, বাইরের জগতে তো পা দিলে না কোনদিন। যুগ যে পালটেছে এবং প্রতিদিন পালটাচ্ছে, সে খবর তো রাখ না। রাখলে—

    থাক, থাক। তিন কাল গিয়ে আর এক কাল আছে, এখন আর আমার ওসব জানবার প্রয়োজন নেই।

    কূপমণ্ডূক আর কাকে বলে! রাধারমণ মল্লিক হাসতে থাকেন, বিদ্যাসাগর মশাই অধার্মিক নন।

    আমিও তোমাকে বলে রাখছি, এসব ভাল নয়। হিন্দু হয়ে সনাতন হিন্দুধর্ম মানব না, এ পাপ—মহাপাপ।

    রাধারমণ মল্লিক স্ত্রী অন্নপূর্ণাকে তো জানেন। তাই আর বেশী কথা বললেন না। কিন্তু তাই বলে মেয়ের পুনর্বিবাহের কথাটা ভোলেন না, ভুলতে পারেন না। মন থেকে কিছুতেই যেন কথাটা মুছে ফেলতে পারেন না।

    বিদ্যাসাগর মশাইয়ের মত অত বড় পণ্ডিত, যিনি সমস্ত শাস্ত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন—অমন দেবতুল্য চরিত্র, দয়ার সাগর, তিনি কি কখনো অন্যায় বা অযৌক্তিক কথা বলতে পারেন? তাছাড়া তাঁর নিজের ছেলে নারায়ণ তো বিধবা বিবাহ করেছেন। অন্যায় বা অধর্মের ব্যাপার হলে কি বিদ্যাসাগরমশাই সেই বিধবা মেয়েটিকে আপন পুত্রবধূ বলে মেনে নিতে পারতেন? সগর্বে সেকথা উচ্চকণ্ঠে সকলের সামনে বলতে পারতেন? না, অন্যায় অধর্ম বা পাপ কিছুই নেই বিধবার পুনর্বিবাহের মধ্যে। বিশেষ করে তাঁর সুহাসনীর মত বাল-বিধবাদের বিবাহের মধ্যে

    যে যাই বলুক, কারো কথাই তিনি শুনবেন না।

    কিন্তু মনে মনে রাধারমণ মল্লিক যাই ভাবুন না কেন, স্ত্রী অন্নপূর্ণার কথাটাও একেবারে মন থেকে দূর করতে পারেন না। বস্তুত তিনি অন্নপূর্ণাকে যেন কিছুটা ভয়ই করতেন। বিশেষ করে সেই ভয়টা যেন একটু বেশী করেই তাঁকে পেয়ে বসেছিল ইদানীং জলদবালার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হবার পর থেকে।

    জলদবালার মোহপাশ ছিন্ন করবার অনেক চেষ্টা করেছিলেন রাধারমণ মল্লিক, কিন্তু পারেননি।

    শুধু যে পারেননি তা নয়, ক্রমশ যত দিন যাচ্ছিল রাধারমণ যেন ততই বেশী করে জলদবালার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছিলেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধা এলেই যেন দুর্বার এক আকর্ষণ তাঁকে জলদবালার গৃহের দিকে টানতে শুরু করত। তাকে একটিবার দেখবার জন্য মনটা হাঁপিয়ে উঠত।

    মনকে বোঝাবার চেষ্টা করতেন রাধারমণ, এ তাঁর অন্যায়-অন্যায়কে তিনি প্ৰশ্ৰয় দিচ্ছেন। কিন্তু সমস্ত যুক্তি যেন বন্যার জলে কুটোর মতই ভেসে যেত।

    প্রথম প্রথম কেউ যাতে না দেখতে পায়, রাত্রির অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে পায়ে হেঁটে যেতেন জলদবালার গৃহে, কিন্তু ক্রমশ যত দিন যেতে লাগল, তাঁর সমস্ত সংকোচ ও লজ্জা যেন কোথায় চলে যেতে লাগল। সহিস আবদুলকে বলতেন ব্রহাম নিয়ে আসতে। সেই ব্রুহামে চেপেই যেতেন জলদবালার গৃহে। ব্রুহাম দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকত নির্জন পথে—ফিরবার সময় আবার সেই ব্রুহামে আরোহী হয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তন করতেন।

    লোহার গেট দিয়ে রাত একটা সোয়া একটার সময় আরবী ঘোড়া খুরের খটখট শব্দ তুলে গাড়িবারান্দার সামনে এসে দাঁড়াত। রাধারমণ ব্রহাম থেকে অবতরণ করে ভিতরে প্রবেশ করতেন।

    কিন্তু গৃহাভ্যন্তরে পা দিয়েই কেমন যেন থমকে যেতেন। বিরাট মল্লিকবাড়ি তখন সুষুপ্তিমগ্ন। অন্দর ও বহির্মহলের ঘরে ঘরে তখন সকলেই প্রায় নিদ্রার ঘোরে ঢলে পড়েছে। মধ্যরাত্রির স্তব্ধতা চারিদিকে, দূর থেকে ঝিঁঝির ডাক ভেসে আসছে। তা সত্ত্বেও আপনা হতেই কেন জানি রাধারমণের গতি শ্লথ হয়ে আসত। পা টিপে টিপে অন্দরমহলে গিয়ে প্রবেশ করতেন, যেন অনেকটা চোরের মতই।

    মনের মধ্যে ন্যায়-অন্যায়ের দোটানা আবার শুরু হয়ে যেত। অবচেতন মনের মধ্যে জলদবালার ব্যাপারে যে ভয়টা তাঁকে অস্থির করে রাখত সেই ভয়টাই যেন সমস্ত চেতনার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠত।

    ভয় স্ত্রী অন্নপূর্ণাকে।

    যদিও জলদবালার কথাটা স্ত্রী অন্নপূর্ণা যাতে কোনমতে জানতে না পারে সেজন্য অতিমাত্রায় সতর্ক ছিলেন, তথাপি প্রতিরাত্রেই গৃহে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রহাম থেকে নেমে ওই ভয়টা যেন চারিদিক থেকে তাঁকে চেপে ধরত।

    মনে মনে প্রতিজ্ঞা করতে থাকেন রাধারমণ, জলদবালার মোহপাশ তাঁকে ছিন্ন করতে হবে। কিন্তু রাত্রের সেই প্রতিজ্ঞা প্রত্যুষের আলোয় কোথায় যেন বিলীন হয়ে যেত।

    সেরাত্রেও ব্রুহাম থেকে নেমে পা টিপে টিপে বহির্মহল থেকে যখন অন্দরমহলে প্রবেশ করছেন, বুকটার মধ্যে তাঁর একটা কাঁপুনি শুরু হয়েছে—সতর্ক দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকাতে প্রায় নিঃশব্দ পদসঞ্চারের মধ্য দিয়ে যেন নিজেকেই নিজের কাছে গোপন করতে চাইছিলেন। হঠাৎ বহির্মহল অন্দরমহলের সংযোগপথের ঝাপসা আলো- আঁধারের মধ্যে একটা মূর্তি দেখে থমকে দাঁড়ালেন রাধারমণ।

    তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে তাকাতেই বুঝতে পারলেন, বহির্মহল ও অন্দরমহলের সংযোগ- পথের মধ্যে দাঁড়িয়ে এক নারীমূর্তি।

    কে—কে ওখানে?

    আস্তে, চেঁচিও না। আমি। চাপা নারীকণ্ঠে জবাব এল।

    সেই চাপা নারী-কণ্ঠস্বর চিনতে এতটুকুও কষ্ট হয় না রাধারমণের এবং সঙ্গে সঙ্গে যেন রাধারমণ একেবারে পাথর হয়ে যান।

    এসো। নারীকণ্ঠ হতে আবার মৃদু আহ্বান উচ্চারিত হল।

    নিজের অজ্ঞাতেই যেন এক সময় রাধারমণ সেই আহ্বানে সামনের দিকে এগিয়ে যান।

    নিজের শয়নকক্ষে এসে প্রবেশ করলেন রাধারমণ মল্লিক, সেই নারীমূর্তির পিছনে পিছনে তাকে অনুসরণ করে।

    সেই নারী-মূর্তি আর কেউ নয়—স্ত্রী অন্নপূর্ণা।

    ঘরের মধ্যে অনুজ্জ্বল সেজবাতি জ্বলছিল। তারই আলোয় কক্ষ মৃদু আলোকিত।

    রাধারমণ যেন কোনমতেই চোখ তুলে তাকাতে পারছিলেন না তাঁর স্ত্রী অন্নপূর্ণার দিকে। অন্নপূর্ণা সত্যিই মর্মান্তিক আঘাত পেয়েছিলেন তাঁর স্বামীর অন্য নারীতে আসক্তির কথাটা শুনে। সেরাত্রে দীঘির ঘাটে উচ্চকণ্ঠে যে কথাগুলো ভোলানাথ আনন্দকে বলেছিল সে কথাগুলো আনন্দচন্দ্র একেবারে চেপে গেলেও চাপা থাকেনি।

    সংসারে এক ধরনের মানুষ আছে যারা এই ধরনের কেচ্ছা-সংবাদ আর দশজনের কাছে রসালো করে বলে তৃপ্তি পায়। মানুষের দুর্বলতার কথাকে অন্যের কাছে প্রকাশ করে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি পায়।

    মল্লিকবাড়ির আশ্রিতা কাদু ঠাকরুন অর্থাৎ কাদম্বিনী ঠাকরুন, রাধারমণ মল্লিকের দূর সম্পর্কীয়া জ্যাঠতুত বোনের কন্যাটি ছিল সেই প্রকৃতির। সংসারের কোন কাজকর্মই করত না, কেবল ঘরে ঘরে অন্দরমহলে ঘুরে বেড়াত আর তার ছিদ্রান্বেষী দুটি চোখ আর দুটি কান কোথায় কি দেখা যায়, কোথায় কি শোনা যায় তাই দেখে ও শুনে বেড়াত।

    আনন্দচন্দ্র সেরাত্রে ব্যাপারটা চেপে গেলেও, কাদু ঠাকরুনের কর্ণে মোটামুটি সব কথাই প্রবেশ করছিল।

    সন্ধ্যায় নিত্য দীঘির জলে স্নান করা ছিল কাদু ঠাকরুনের একটা অভ্যাস। সেদিন সন্ধ্যারাত্রে ভোলানাথ যখন চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কথাগুলো বলছিল, গায়ে গামছাটা জড়িয়ে অন্ধকারে কাদু ঠাকরুন স্নান করতে ঘাটের দিকে আসছিল।

    ঘাটের কাছাকাছি আসতেই ভোলানাথের উচ্চকণ্ঠ তার কানে আসে। ভোলানাথ স্থান কাল পাত্র ভুলে তখন হিংস্রকণ্ঠে বলে চলেছে সুহাসিনীকে, হ্যাঁগো ঠাকরুন, তোমার বাবা—শহরে যে একেবারে ঢিঢি পড়ে গিয়েছে, জানকী দত্তের রক্ষিতা মাগীটাকে নিয়ে—

    কাদু ঠাকরুন থমকে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল কথাটা তার কানে যেতেই।

    আনন্দচন্দ্র লক্ষ্য করেনি, কারণ তার কান পড়েছিল ভোলানাথ কি বলছে সেই দিকে। নচেৎ তার হাত-পাঁচেক দূরে একটা শ্বেতকরবীর ঝোপের পাশে দাঁড়িয়েছিল কাদম্বিনী।

    তার পরের সব কথাই কাদু ঠাকরুনের কানে এসেছিল।

    কাদু ঠাকরুনের আর স্নান করা হল না, ভুলে গেল সে একটু আগে স্নান করতে গিয়েছিল দীঘির ঘাটে। এমন একটা রসালো সংবাদ শোনার পরও কি আর স্নানের কথা মনে থাকে! কাদু ঠাকরুন ফিরে চলল অন্দরমহলের দিকে।

    অন্দরমহলে পা দিয়েই চারিদিকে তাকাল কাদু ঠাকরুন, কিন্তু অন্নপূর্ণাকে কোথাও দেখতে পেল না। তখন বুঝল কাদু ঠাকরুন, অন্নপূর্ণা মন্দিরেই আছেন। কারণ ইদানীং কর্ত্রীঠাকরুণ ভবতারিণী দেবী সংসারের সব কিছু থেকেই সরে গিয়েছিলেন। তা ছাড়া বাতের ব্যথায় ক্রমশ যেন তিনি পঙ্গু হয়ে যাচ্ছিলেন। কাজেই সংসারের যাবতীয় দায়দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে গৃহদেবতা রাধানাথের সকলপ্রকার পরিচর্যার ভারটাও অন্নপূর্ণার স্কন্ধেই এসে পড়েছিল।

    সন্ধ্যারাত্রিটা অন্নপূর্ণাকে গৃহদেবতার শেতলভোগ, সন্ধ্যারতির ব্যবস্থা প্রভৃতি নিয়েই থাকতে হত।

    ভোলানাথকে যে গৃহ ছেড়ে চলে যাবার কথাটা তার মাতা মঙ্গলাকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটা কাদু ঠাকরুনের অজ্ঞাত ছিল না। কথাটা শোনা অবধি তার মনটা ছট্‌ফট করছিল। এ বাড়ি থেকে ভোলানাথ চলে গেলে কাদম্বিনী বাঁচবে কি করে!

    কেমন করে ভোলানাথহীন এই মল্লিকবাড়িতে সে টিকবে? কিন্তু কাদু ঠাকরুন প্রতিকারের কোন পথই খুঁজে পাচ্ছিল না। অন্নপূর্ণাকে সে ভাল ভাবেই চেনে। একবার যখন সে তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, তাকে আর টলানো যাবে না, কাদু ঠাকরুন জানত।

    ভোলানাথকে মল্লিকবাড়ি ছাড়তেই হবে। ভোলানাথের কথা ভেবে ভেবে কাদু ঠাকরুন যখন কোন দিকে কোন দিশা খুঁজে পাচ্ছে না, ঠিক সেই সময় তার কানে এল কত্তার কেচ্ছার সংবাদটা। কাদু ঠাকরুন স্নানের কথাও ভুলে গেল——ছুটল অন্নপূর্ণার সন্ধানে।

    সন্ধ্যারতি তখন সবে শেষ হয়েছে। পুরোহিত কুলদাচরণ ঠাকুরকে শেতলভোগ দিয়ে মন্দির থেকে বের হয়ে এলেন। অন্নপূর্ণা মন্দিরের অভ্যন্তরে সব কিছু রাত্রির মত গুছিয়ে রাখছিলেন, মন্দিরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল কাদম্বিনী। কাদম্বিনী অন্নপূর্ণাকে বৌঠান বলেই ডাকে।

    ডাকল কাদম্বিনী, মামী!

    কে? সাড়া দিল অন্নপূর্ণা।

    আমি কাদু, মামী।

    অ—কাদু! তা বাইরে কেন, ভিতরে আয় না রে।

    না মামী, এখন আমি মন্দিরের মধ্যে যাব না, এখনো সন্ধ্যার স্নান আমার হয়নি।

    অন্নপূর্ণা জানত কাদম্বিনী প্রত্যহ সন্ধ্যায় স্নান করে।

    তা হ্যাঁ রে, কিছু বলবি?

    হ্যাঁ মামী, একটা কথা আছে।

    দাঁড়া বাসনপত্রগুলো গুছিয়ে আসছি।

    ঠিক আছে, তুমি এসো আমি দাঁড়াচ্ছি। কাদম্বিনী বলল।

    কিছুক্ষণ পরে অন্নপূর্ণা মন্দিরের পুজোর বাসনপত্র সব গুছিয়ে রেখে প্রদীপদানের ওপরে প্রদীপের শিখাটা একটু উস্কে দিয়ে বাইরে এল।

    অন্নপূর্ণার পরনে চওড়া লালপাড় মুর্শিদাবাদের গরদের শাড়ি, মাথার চুল খোলা, বুকের এক পাশ দিয়ে ঘন চুলের গোছা নেমে এসেছে। মাথার উপরে স্বল্প ঘোমটা।

    নাটমন্দিরে তখন কেউ ছিল না। একটি মাত্র আলো নাটমন্দিরের ছাত থেকে ঝুলছে। তারই মৃদু আলোয় একটা মৃদু আলো-আঁধারির সৃষ্টি করেছে যেন নাটমন্দিরে।

    নাটমন্দিরটি বিরাট। ওই নাটমন্দিরেই প্রতি বৎসর দুর্গোৎসব ও কালীপূজা হয়। রাধানাথের মন্দিরে স্থান-সংকুলান হয় না।

    অন্নপূর্ণা কাদম্বিনীর সামনে এসে দাঁড়ান, কি রে?

    একটা কথা আজ কিছুদিন থেকেই শুনছি মামী –

    কাদম্বিনীর ভণিতাতেই কেন না-জানি অন্নপূর্ণার বুকের ভিতরটা কেঁপে ওঠে। ওই স্ত্রীলোকটিকে অন্নপূর্ণা ভাল ভাবেই চেনে। কোন ভাল কথাই ওর মুখ থেকে কখনো আজ পর্যন্ত শোনেনি অন্নপূর্ণা।

    কি হয়েছে কি! অন্নপূর্ণার গলার স্বরটা যেন কেঁপে ওঠে।

    কাদম্বিনী একবার চারিদিকে তাকাল সতর্ক দৃষ্টিতে, তারপর কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বললে, শোনা অবধি কথাটা আমার বুকের মধ্যে যে এ ক’দিন ধরে কি হচ্ছে মামী!

    কথাটা কি?

    বড় দুঃখের—বড় লজ্জার কথা মামী।

    কাদু, কথাটা কি!

    কি করে বলবো তাই ভাবছি মামী। হে ঠাকুর, কথাটা যা শুনেছি তা যেন সত্যি না হয়।

    কাদু, কথাটা কি? অন্নপূর্ণা এবার রীতিমত অধৈর্য কণ্ঠে প্রশ্ন করে, একটু যেন রূঢ়ভাবেই।

    কথাটা মামা সম্পর্কে মামী—

    মামা!

    হ্যাঁ, মামা

    কি কথা?

    না, থাক মামী—বড় নোংরা, বড় লজ্জা, বড় ঘেন্নার কথা। ও ছাইভস্ম শুনে তোমার কাজ নেই। রলে কাদম্বিনী চলে যাবার জন্য পা বাড়ায়।

    কাদু!

    কাদম্বিনী অন্নপূর্ণার সেই কণ্ঠস্বরে ঘুরে দাঁড়ায়।

    কি কথা বল্

    বলব?

    হ্যাঁ, বল্‌।

    কোন্ এক জানকী দত্তমশাই না কে, তার এক রক্ষিতা ছিল—

    বিদ্যুতের একটা তীব্র কশাঘাত যেন অন্নপূর্ণার গায়ে এসে পড়ে। দত্তমশাইয়ের রক্ষিতা—তবে কি কর্তার বন্ধু মৃত জানকী দত্তর রক্ষিতা। অন্নপূর্ণার কণ্ঠ দিয়ে আর শব্দ বের হয় না।

    কাদম্বিনী তখন বলে চলেছে, ছিঃ ছিঃ, কি ঘেন্না—কি লজ্জা! সেই বেবুশ্যে মাগীর কাছে নাকি মামা রোজ রাত্রে যায়। তাকে নিয়ে নাকি সারাটা রাত ধরে—

    অকস্মাৎ তীক্ষ্ণকণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠল অন্নপূর্ণা, হারামজাদী, তোর এত বড় স্পর্ধা! কার নামে কি বলছিস তুই জানিস? বেরো—বেরো তুই আমার সামনে থেকে।

    তা যেতে বলছ যাচ্ছি মামী, আমার মুখ না হয় তুমি বন্ধ করলে, কিন্তু বাইরের সমাজের আর দশজনের মুখ তুমি পারবে বন্ধ করতে? বাইরে যে মামার কেচ্ছা নিয়ে একেবারে ঢি-টিক্কার পড়ে গেছে, কান পাতা যাচ্ছে না।

    এখনো দাঁড়িয়ে আছিস? বেরো—বেরো আমার সামনে থেকে

    কাদম্বিনী আর দাঁড়াতে সাহস পায় না। অন্নপূর্ণার অমন উগ্র রণরঙ্গিনী মূর্তি ইতিপূর্বে আর কখনো সে দেখেনি।

    অন্নপূর্ণা সত্যিই তখন কাঁপছিল থরথর করে।

    কাদম্বিনী চলে যাবার পরও শূন্য নাটমন্দিরে পাথরের মত অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল অন্নপূর্ণা। হে রাধানাথ, এ কি শুনল সে!

    ঝরঝর করে তার দুচোখের কোণ বেয়ে অশ্রুর ধারা নেমে এল। এই—এই জন্যই তার স্বামীর আজকাল গৃহে ফিরতে রাত হয়—একটা দেড়টার আগে ফেরে না এবং এর আগে সামান্য কানাঘুষায় যা তার কানে এসেছে তাও তাহলে সত্যি।

    জানকী দত্তর রক্ষিতা মাগী!

    .

    অন্নপূর্ণা স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে স্বামীর মুখের দিকে।

    কি দেখছো অমন করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে? রাধারমণ শুধালেন।

    দেখছি তোমাকে। শান্ত কণ্ঠে জবাব দেয় অন্নপূর্ণা।

    আমাকে!

    হ্যাঁ, তোমাকে। বড়বৌ!

    তুমিও তাহলে শেষ পর্যন্ত শ্বশুরমশাইয়ের পথই ধরলে? কি বলছ?

    বুঝতে পারছ না কি বলছি?

    বড়বৌ!

    তুমি—তুমি শেষ পর্যন্ত আরেকজনের রক্ষিতাকে নিয়ে-

    রাধারমণ মল্লিকের মুখের ওপর যেন সপাং করে একটা তীক্ষ্ণ চাবুকের আঘাত পড়ল। অন্নপূর্ণা তখনো বলে চলেছে, তাই—তাই তোমার জানকী দত্তর ব্যাপারে এত উৎসাহ!

    শোন বড়বৌ, তুমি ঘরের বৌ—বৌয়ের মতই থাকবে—

    কি বললে?

    হ্যাঁ, আমি বাইরে কি করি না করি তা নিয়ে তোমার মাথাব্যথার কোন প্রয়োজন নেই।

    তুমি ভুল করছ—

    ভুল করছি!

    হ্যাঁ, আমি তোমার মা নই। আমার স্বামী সারারাত-

    থাম। একটা হুংকার দিয়ে উঠলেন অকস্মাৎ রাধারমণ মল্লিক। এতদিন যে লজ্জা ও সংকোচটা জ্ঞানে অহরহ পীড়া দিচ্ছিল, যে কারণে চোরের মত আনাগোনা করতেন তিনি, স্ত্রীর দিকে ভাল করে তাকাতে পারতেন না পর্যন্ত, আজ সেই সংকোচ ও লজ্জার পর্দাটা যখন অকস্মাৎ ছিন্ন করে দিল অন্নপূর্ণাই, রাধারমণ যেন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

    বস্তুত এমনিই বুঝি হয়, লজ্জা বা সংকোচ ততক্ষণই থাকে যতক্ষণ একটা সূক্ষ্ম আবরণ তাকে ঘিরে রাখে। কিন্তু সেই আবরণটা যে মুহূর্তে অপসারিত হয়—সব কিছুই যেন হুড়মুড় করে একেবারে ভেঙে পড়ে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি বীরাঙ্গনা বলছি – নীলিমা ইব্রাহিম
    Next Article অশান্ত ঘূর্ণি (অখণ্ড) – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    Related Articles

    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৪ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }