Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শয়তানের সন্তান – সৈকত মুখোপাধ্যায়

    সৈকত মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প226 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শয়তানের সন্তান – ৬

    ছয়

    কাপালিদের আদি নিবাস ছিল বাঁকুড়ার জটাকেশী গ্রামে। সেখানে তাঁদের বংশগত কবিরাজি চিকিৎসার ব্যবসা ছিল। ভেষজ-চিকিৎসায় খুব নামডাক ছিল তাঁদের। বংশের উজ্জ্বলতম সন্তান ছিলেন সোমেশ্বর কাপালি, যিনি ছিলেন আমার পিতামহ। সোমেশ্বরের যখন মাত্র বাইশবছর বয়স তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে, তাঁর যা প্রতিভা তাতে বাঁকুড়ার এক অজ পাড়াগাঁয় পড়ে থাকা তাঁকে মানায় না।

    সোমেশ্বরের পিতৃদেব, মানে আমার প্রপিতামহ সবেমাত্র তার আগের বছরেই দেহ রেখেছিলেন। মা মারা গিয়েছিলেন শৈশবেই। কাজেই তাঁর কোনো পিছুটান ছিল না। আরো খ্যাতি এবং আরো অর্থের স্বপ্ন চোখে নিয়ে সোমেশ্বর জটাকেশী গ্রামের বাড়ি-জমি সব বিক্রি করে দিয়ে কলকাতায় চলে এলেন। সেটা ছিল ইংরিজি উনিশশো-একুশ সাল। কলকাতায় এসে সোমেশ্বর, মানে আমার দাদু, সার্পেন্টাইন লেনে ছ-কাঠা জমি কিনে এই বাড়িটা বানালেন এবং সেই বাড়িরই একতলায় খুলে বসলেন তাঁর কবিরাজি চিকিৎসালয়।

    বছর দশেকের মধ্যেই তিনি কবিরাজি চিকিৎসায় অঢেল অর্থ উপার্জন করলেন। না, ভুল বললাম। সোমেশ্বর কাপালি চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রথম পাঁচবছর। তারপরে উনি শুরু করেন পেটেন্ট-মেডিসিনের ব্যাবসা আর তাতেই লক্ষ্মীলাভ করেন।

    আমি জিগ্যেস করলাম, পেটেন্ট-মেডিসিন মানে?

    কাপালি স্যার বললেন, একেকরকম জটিল-রোগের জন্যে একেকরকম ওষুধ, যেগুলো ডাক্তার না দেখিয়েই খাওয়া যায়। মনে রেখো, সেটা টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরির প্রথমদিক। এখনকার মতন চারিদিকে তখন এত অ্যালোপ্যাথি ওষুধের দোকান ছিল না। এত ডাক্তারও ছিল না। শহরে তবু যা দু-চারজন ছিলেন, গ্রাম-মফসসলে তো বদ্যি আর হোমিওপ্যাথই ছিল ভরসা।

    কাজেই সোমেশ্বর কাপালির গোপন ফর্মুলায় তৈরি অর্শের মলম অর্শমেধ, বাত-বেদনার মালিশ অশ্বিনী-তৈল কিম্বা স্ত্রীরোগের মহৌষধ অশোকা-বড়ি ভালোই বিক্রি হত। পাড়ার মুদিখানা থেকে লোকাল ট্রেনের কামরা, গ্রামের মেলা থেকে ট্রামের গুমটি সবখানে পাওয়া যেত জটাকেশী ফার্মেসির প্রোডাক্ট। তবে তাঁকে সত্যিকারের লাখোপতি করে দিয়েছিল তাঁরই আবিষ্কৃত ম্যালেরিয়ার মিক্সচার ম্যালাহারি।

    জটাকেশী-ফার্মেসি!

    হ্যাঁ, ওটাই ছিল আমার পিতামহের ব্যবসার ট্রেডনেম। খারাপ নয়, বলো। জটাকেশী নামটার মধ্যে শুধু তো তাঁর ছেড়ে-আসা ভিটের স্মৃতি ছিল না; একটা দৈবক্ষমতার গন্ধও ছিল। অসুস্থ মানুষের মনে ওটা চিরকালই বাড়তি ভরসা নিয়ে আসে।

    যাইহোক, এইভাবেই কলকাতায় তাঁর পনেরোটা বছর কেটে গেল। এল উনিশশো ছত্রিশ সাল। উনিশশো ছত্রিশ বললে তোমার কি কিছু মনে পড়ে, রুদ্র?

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা বলছেন কি?

    গুড। হ্যাঁ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। শুরু হল সেই যুদ্ধ। হিসেবমতন সোমেশ্বরের বয়স তখন সাঁইত্রিশ। বিবাহিত। চারটি সন্তানের জনক। প্রথম তিনটি কন্যা। কনিষ্ঠ পুত্র বিশ্বনাথ কাপালি, অর্থাৎ আমার বাবার বয়স তখন মাত্র ছ’বছর।

    তুমি নিশ্চয়ই জানো, যুদ্ধের বাজারে সবকিছুরই দাম হয়েছিল আকাশছোঁয়া। সেই সুযোগে বহু ব্যবসায়ী ধুলোমুঠিকে সোনামুঠি করে ফেলেছিল। কিন্তু সেই বাজারেও মার খেয়ে গেলেন আমার দাদু। কেন বলো তো? যে আটবছর যুদ্ধ চলেছিল তার মধ্যেই সারা দেশে হু-হু করে অ্যালোপ্যাথি-ডাক্তারখানা আর হাসপাতাল গজিয়ে উঠেছিল।

    প্রথমে সৈনিকদের প্রয়োজনেই সেসব তৈরি হয়েছিল। তবে দেখতে-দেখতে সেসব সুবিধে সাধারণ মানুষদের নাগালেও পৌঁছিয়ে গেল। তার অনেক আগেই ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে কুইনাইন এসে গিয়েছিল বাজারে। ফলে দাদুর লক্ষ্মী সেই ম্যালাহারি মিক্সচারের বিক্রিও তলানিতে নেমে গিয়েছিল।

    উনিশশো-সাতচল্লিশে জটাকেশী ফার্মেসির ঘাড়ে নিয়তির শেষ কোপটা পড়ল। দাদুর তৈরি ওইসব পেটেন্ট-মেডিসিনের বারোআনাই বিক্রি হত পূর্ববঙ্গের গ্রামগঞ্জে, যে-কারণে কলকাতার মতনই ঢাকাতেও কোম্পানির ফ্যাক্টরি এবং অফিস ছিল। দেশভাগের ফলে সেটা হয়ে গেল পূর্ব পাকিস্তান। দাদু হারালেন তাঁর আসল বাজার।

    ডায়েরিগুলো পড়েছি বলেই বলতে পারছি, সেইসময়ে দাদুর অবস্থা হয়ে গিয়েছিল পাগলের মতন।

    তখনো ছোটপিসির বিয়ে দেওয়া বাকি। ওদিকে আমার বাবা তখনো নাবালক। কলকাতার কারখানায় পনেরোজন কারিগর ছাড়াও অন্তত পঞ্চাশজন মাইনে-করা ক্যানভাসার ছিল, যারা স্টেশনে-বাজারে জটাকেশীর ওষুধ বিক্রি করে বেড়াত। এতগুলো মানুষের বেতন দেবেন কোথা থেকে সেই চিন্তাতেই দাদুর তখন রাতে ঘুম হত না।

    তোমাকে বলা হয়নি, ওই যে ব্যাভেরিয়া পোর্সেলিন ইন্ডাস্ট্রি, ওইটেই তখন ছিল জটাকেশীর ওষুধের কারখানা।

    ওইসময়েই, মানে উনিশশো-আটচল্লিশ সালে একদিন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল।

    তখন সন্ধে সাতটা কি আটটা হবে। কারখানার কর্মচারীরা তার অনেক আগেই বেরিয়ে গেছে। কিছু কাঁচামাল আসার কথা ছিল। সেগুলো আসতে দেরি হচ্ছিল বলে দাদু আর দাদুর কোম্পানির ম্যানেজার রমেনবাবু কারখানা ছাড়তে পারছিলেন না। শেষ অবধি সেই জড়িবুটি চালান এসে পৌঁছল সন্ধে সাতটায়। দাদু কারখানার দরজায় তালা দিয়ে বেলেঘাটা রোডের দিকে হাঁটা দিলেন। রমেনবাবুর বাড়ি উল্টোদিকে। তিনি সেদিকে চলে গেলেন।

    কারখানার গেট ছেড়ে দাদু বোধহয় দশ-পাও এগোননি, বেলেঘাটার দিক থেকেই একটা ট্যাক্সি এসে দাদুর গা ঘেঁষে থামল। দরজা খুলে নেমে এলেন এক সাহেব আর মেমসাহেব। দাদুর সামনে দাঁড়িয়ে সাহেব প্রশ্ন করলেন, মিস্টার কাপালি?

    ইয়েস।

    আপনার সঙ্গে একটু ব্যবসা সংক্রান্ত কথা ছিল।

    দাদু তো আকাশ থেকে পড়লেন। চূড়ান্ত অবাক হয়ে বললেন, ব্যবসা! সাদা চামড়ার লোকেরা তো এখন ইন্ডিয়া থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে ব্রিটেনে ফিরে যাচ্ছে। আপনারা নতুন করে কোন ব্যবসার কথা ভাবছেন শুনি?

    সাহেব বললেন, বলছি সব। আগে একটু ভেতরে গিয়ে বসি, চলুন।

    অগত্যা দাদু আবার কারখানার দরজার তালা খুলে সাহেব এবং মেমকে নিয়ে নিজের অফিসঘরে গিয়ে বসলেন। অফিসঘরের আলো জ্বালার পরে এতক্ষণে তিনি দুই আগন্তুককেই ভালো করে দেখতে পেলেন।

    সাহেবটির চেহারা অদ্ভুত। একেকজন লোক থাকে যাদের দেখলেই মনটা বিরক্তিতে ভরে ওঠে—এ ঠিক সেইরকমের লোক। শ্বেতাঙ্গ ঠিকই, কিন্তু দেখলেই বোঝা যায় বহুদিন ধরে রোদে পুড়েছেন। তার ফলে গায়ের চামড়াতেই যে শুধু বাদামি রঙ ধরেছে তাই নয়, সারা মুখেও অজস্র আঁকিবুঁকি দাগ পড়েছে। টিয়াপাখির মতন বাঁকানো নাক। কুতকুতে দুটো চোখের মণির রঙ ঘোলাটে। সর্বোপরি ঝুলে-পড়া ঠোঁট আর হাতের আঙুলের কাঁপুনি দেখে একজন চিকিৎসক হিসেবে সোমেশ্বর কাপালির বুঝতে বাকি রইল না যে, বৃদ্ধটি চূড়ান্ত মদ্যপ।

    হ্যাঁ, বৃদ্ধ। সাহেবটির বয়স তখনই সত্তরের কম ছিল না।

    দাদুর চোখে তার পোশাক-আশাকও অদ্ভুত ঠেকেছিল। নোংরা একটা সাদা আলখাল্লা পরেছিলেন তিনি। মাথায় গোল বাটির মতন ক্যাপ। সব মিলিয়ে যাজকের পোশাক। গলার সঙ্গে চেনে বাঁধা একটা ধাতুর ক্রুশ তাঁর বুকের ওপরে ঝুলছিল, কিন্তু ঝুলছিল উলটো-মুখে—অর্থাৎ মাঝের ডাঁটিটার ছোট দিকটার মুখ নীচের দিকে ছিল। এর অর্থ দাদু সেদিন বোঝেননি।

    ডেভিল-ওয়রশিপার? আমি জিগ্যেস করলাম।

    একদম। শয়তানের উপাসক। স্টিফেন মেয়ার ছিলেন তাই। স্টিফেন মেয়ার ছিল তাঁর নাম। যাজক স্টিফেন মেয়ার। জানা গেল, তিনি দীর্ঘকাল মেঘালয়ের উপজাতিদের মধ্যে ধর্মপ্রচারের কাজ করেছেন; কিন্তু ইদানিং আদিবাসীদের মধ্যেও হানাহানি বড্ড বেড়ে গেছে। স্টিফেন আর আগের মতন শান্তিতে কাজ করতে পারছেন না। তাই যাজকের বৃত্তি ত্যাগ করে ব্যবসায় নামবেন বলে ঠিক করেছেন।

    মেয়ার-সাহেবের রোদে-পোড়া চামড়ার কারণ বোঝা গেল। মেঘালয়ের পাহাড়ি রোদ।

    এবার দাদু তাকালেন মেমসাহেবের দিকে। তিনি যুবতী এবং পরমা সুন্দরী। সোনালি চুল, নীল চোখ এবং দীর্ঘাঙ্গী। নাম বললেন ইভা স্টাইনবেক।

    মেমসাহেবের নামটা শুনেই দাদুর খটকা লাগল। জিগ্যেস করলেন, আপনি কি জার্মান?

    চিবুকটা সামান্য উঁচু করে সগর্বে সেই শ্বেতাঙ্গিনী উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। জার্মান এবং আর্য।

    .

    বেশ মন দিয়ে বিরাজ কাপালির কথকতা শুনছিলাম। পুরোনো দিনের গল্প শুনতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু হঠাৎ তিনি গল্প থামিয়ে এমন একটা প্রশ্ন করে বসলেন যে, আরেকটু হলে ভির্মি খাচ্ছিলাম। বললেন, আচ্ছা রুদ্র। তুমি লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের নাম শুনেছ?

    বললাম, সে তো একজাতের মুরগি।

    আঃ। কানে কম শোনো নাকি? একটু বিরক্ত হয়ে ঘাড় নাড়লেন বিরাজ কাপালি, লেগহর্ন নয়, লেগহর্ন নয়—। লেবেনসবর্ন। এল ই বি ই এন এস—লেবেন্স। বি ও আর এন—বর্ন। অরিজিনালি জার্মান শব্দ। বাংলায় অনুবাদ করলে মানে দাঁড়াবে প্রাণ-ঝরনা।

    এতক্ষণ উনি যা বলে যাচ্ছিলেন তার সঙ্গে প্রাণ-ঝরনার কী সম্পর্ক বুঝতে পারলাম না! শুকনো-মুখে বললাম, ও। আচ্ছা।

    বিরাজ কাপালি আমার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, মোটেই আচ্ছা নয়। নাৎসি বীভৎসতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ ছিল ওই লেবেনসবর্ন প্রোগ্রাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই কালো দিনগুলোয় স্কুৎজস্টাফ বা সংক্ষেপে এস এস বাহিনীর নাম শুনলে সারা ইওরোপের মানুষের বুকের রক্ত হিম হয়ে যেত। হিটলারের বুলডগ বাহিনীও বলতে পারো এস এসকে।

    সেই প্যারামিলিটারি ফোর্সের চিফ ছিলেন হাইনরিখ হিমলার। ওইসময়ে জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের পরেই সবচেয়ে পাওয়ারফুল লোক ছিলেন তিনি। আস্ত অমানুষ। ইহুদি-নিধন যজ্ঞ বা হলোকস্টের পেছনে তাঁর যে শয়তানি-বুদ্ধি ভরা মাথা কাজ করেছিল, সেই একই মাথা থেকে বেরিয়েছিল লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের ছক। আর এই দুষ্কর্মে হিমলারের সহযোগী ছিলেন এক নীতিজ্ঞানহীন চিকিৎসক—ডক্টর গ্রেগর এবনার। এরা দুজনে মিলে খাঁটি আর্য-সন্তান প্রসব করানোর এক প্রোজেক্ট তৈরি করেন। তারই নাম লেবেনসবর্ন-প্রোগ্রাম।

    সেই সময়ে জার্মানিতে হিটলারের অন্ধ ভক্তের সংখ্যা তো কম ছিল না। তাদের মধ্যে শুধু পুরুষই ছিল না, নারীও ছিল অনেক। তাদের মধ্যে থেকেই বেছে নেওয়া হত অবিবাহিতা যুবতী ভলান্টিয়ারদের। দেখে নেওয়া হতো তাদের পেডিগ্রি। দেখা হতো তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে কোনো অনার্য রক্ত, বিশেষত ইহুদি-রক্ত মিশেছিল কিনা। আর শারীরিক লক্ষণ হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হত তাদের, যাদের চোখের মণি নীল, চুল সোনালি আর যারা দীর্ঘাঙ্গী।

    এইবার আমি নড়েচড়ে বসলাম। একটু আগে বিরাজ কাপালি ইভা স্টাইনবেকের যে ডেসক্রিপসন দিলেন, তার সঙ্গে লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের ভলান্টিয়ারদের চেহারা বেশ মিলে যাচ্ছে তো!

    তারপর? আমি প্রশ্ন করলাম।

    তারপর এস এস বাহিনীর অফিসারদের মধ্যে যাদের ওই একই রকমের এরিয়ান পেডিগ্রি থাকত তাদের সঙ্গে মেয়েগুলিকে রাত কাটাতে হত। মাসের উর্বর রাতগুলো, বলাই বাহুল্য। সেসব হিসেব-নিকেশ করে দেওয়ার জন্যে প্রতিটি লেবেনসবর্ন-হোমে কোয়ালিফায়েড ডাক্তার থাকত।

    এতই অবাক হলাম যে, মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল, আপনি সত্যি বলছেন?

    মিথ্যেকথা বলে আমার লাভ? গুগল ঘেঁটে চেক করে নিতে পারো। তারপরে শোনো। এস এস অফিসার আর হিটলারের অনুগত মেয়েগুলির মধ্যে পরিচয়হীন প্রেমহীন সঙ্গম ঘটত। তারা কেউ কারুর পরিচয় জানত না। জানার দরকারই বা কী? হিমলারের প্ল্যান অনুযায়ী তারা তো সন্তান উৎপাদনের মেশিন ছাড়া আর কিছু ছিল না।

    সঙ্গমের ফলে মেয়েগুলি গর্ভবতী হত। সন্তানের জন্ম দিত। সেই সন্তানগুলিকে লেবেনসবর্ন নার্সারিতে রেখে মেয়েগুলি ফিরে যেত যার যার বাড়িতে। পুরো ব্যাপারটাই রাখা হত গোপন। সত্যিকথা বলতে কি লেবেনসবর্ন প্রোগ্রামের পুরো ব্যাপারটাই সভ্যসমাজের গোচরে এসেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে, জার্মানির পরাজয়ের পরে।

    সে যাইহোক, ওইসময়ে, মানে উনিশশো ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে লেবেনসবর্ন প্রোগ্রাম অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছড়িয়ে পড়ছিল। শুধু জার্মানিতেই নয়, ইওরোপের অন্যান্য যে দেশগুলো জার্মানি কব্জা করেছিল, যেখানকার মেয়েদের দেখে হিমলারের মনে হয়েছিল এদের মধ্যে আর্য লক্ষণ রয়েছে, সেখানেও শেকড় গেঁড়েছিল লেবেনসবর্নের বিষবৃক্ষ। বুঝতেই পারছ, সেসব দেশে তো আর হিটলারের অনুরাগী মেয়ে পাওয়া যেত না। কাজেই সেখানে যেটা হত সেটা অর্গানাইজড-রেপ ছাড়া আর কিছুই নয়। আর্য সন্তান পাওয়ার জন্যে পোল্যান্ড কিম্বা নরওয়ের মতন দেশগুলোতে কত কুমারী মেয়েকে যে এস এস অফিসারদের সঙ্গে রাত কাটাতে হয়েছে তার গোনাগুন্তি নেই।

    বাচ্চাগুলোর কী হত? আমি প্রশ্ন করলাম।

    এমনিতে লেবেনসবর্ন-চাইল্ডরা ওইসময়ে পৃথিবীর অন্যান্য বাচ্চাদের চেয়ে একশোগুণ ভালো জীবন কাটিয়েছিল। রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে তারা প্রচুর খাবার পেত, ওষুধ পেত। নাৎসি-ধরনে শিক্ষাও পেত অনেকখানি। শুধু বাপ-মায়ের পরিচয়টুকু তারা জানতে পেত না। বাচ্চাগুলো হয়ে যেত নাৎসি-সরকারের সম্পত্তি।

    হিমলারের আশা ছিল, ওই বাচ্চাগুলো বড় হলে নাৎসি ভাবধারায় নিবেদিতপ্রাণ এক বিপুলসংখ্যক যুবক যোদ্ধাকে পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে পৃথিবীর বুকে গড়ে উঠবে খাঁটি আর্য এক জনসম্প্রদায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পরে যখন লেবেনসবর্নের লুকোনো নথিপত্র নুরেমবুর্গ ট্রায়ালে পেশ হল, তখন দেখা গেল ওই ন’-দশ বছরেই কুড়িহাজার অবৈধ সন্তানের জন্ম হয়েছিল। তার মধ্যে শুধু জার্মানি আর নরওয়ের লেবেনসবর্ন ক্যাম্পগুলোতেই জন্ম নিয়েছিল পনেরো হাজার শিশু।

    কাপালি স্যারের কথা শুনতে-শুনতে মনে হচ্ছিল, খুব কুৎসিত একটা রূপকথা শুনছি। তবে যে-প্রশ্নটা অনেকক্ষণ ধরেই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, সেটা আর না করে থাকতে পারলাম না। বললাম, আপনি বোধহয় ব্যাভেরিয়া পোর্সেলিন ইন্ডাস্ট্রির পত্তনির ইতিহাস বলছিলেন। তার সঙ্গে লেবেনসবর্ন-প্রোগ্রামের সম্পর্ক কী?

    কাপালি স্যার বললেন, আছে। আরো কিছুটা না শুনলে বুঝতে পারবে না। যেদিন স্টিফেন মেয়ার আর ইভা স্টাইনবেক দাদুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন, সেদিন আমার দাদুও সম্পর্কটা বুঝতে পারেননি। অবশ্য কেমন করেই বা বুঝবেন? ইভা যদিও চিবুক তুলে অহঙ্কারী-ভঙ্গিতে বলেছিলেন, আমি জার্মান এবং আর্য, কিন্তু এটা তো বলেননি যে তিনি ছিলেন লেবেনসবর্ন-প্রোগ্রামের একজন নিবেদিতপ্রাণ ভলান্টিয়ার। যখন বলেছিলেন, দাদু যখন তাঁর ডায়েরিতে ওই শব্দটার উল্লেখ করেছেন, ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে।

    তবে হ্যাঁ। ইভা যে ঠিক কোন উদ্দেশ্যে ঈশপের উটের স্টাইলে দাদুর কারখানায় মাথা ঢুকিয়েছিল, সেটা জানলে দাদু নির্ঘাৎ ওদের সেইমুহূর্তেই বার করে দিতেন। কিন্তু কী আর করা যাবে।

    বললাম, কারখানায় মাথা ঢুকিয়েছিল মানে?

    মানে খুব সহজ। ধুঁকতে-থাকা জটাকেশী ফার্মেসির ওই বাড়িতেই একটা পোর্সেলিনের বাসনপত্র আর ছোট-ছোট মূর্তি তৈরি করার কারখানা গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিন ওরা। মনে রেখো রুদ্র, এসব প্রায় পঁচাত্তর-বছর আগের কথা। তখনো এই ট্যাংরা-তিলজলা অঞ্চলকে প্রপার ক্যালকাটা বলে ধরা হত না। তাই ওদের প্রস্তাব শুনে দাদু প্রথমেই ভাবলেন, ওঁরা এই জমিটাতেই কারখানা বানাতে চাইছে কেন? তাছাড়া ‘সিক-ইন্ডাস্ট্রি’ হলেও জটাকেশীতে তো তখনো প্রোডাকশন চলছিল।

    তার উত্তরে স্টিফেনসাহেব একটা ভারি অদ্ভুত কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, গোটা ইওরোপের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর পোর্সেলিনের বাসন যেখানে বানানো হয় জার্মানির সেই অঞ্চলটার নাম ব্যাভেরিয়া। আর সেই ব্যাভেরিয়ার সবচেয়ে খানদানি কারিগর-বংশের মেয়ে হচ্ছেন ইভা স্টাইনবেক।

    ইভার কাছে রয়েছে দুধের মতন সাদা, শিশুর চোখের মতন নীল, কচি কুসুমপাতার মতন লাল এবং আরো একশোরকম রঙ আর ডিজাইনের বাসন বানানোর কারিগরি বিদ্যা। সেই আশ্চর্য পোর্সেলিন বানাতে ঠিক কোন-কোন মালমশলা যে লাগে, তা গত আড়াইশো বছর ধরে স্টাইনবেক পরিবারের ট্রেড-সিক্রেট। সেসব উপাদানের কথা ইভা তার বিজনেস-পার্টনার স্টিফেনকেও কোনোদিন বলেননি, দাদু তো কোন ছাড়। তবে তার মধ্যে একটা উপাদান হচ্ছে ব্লাড-চারকোল রক্ত থেকে তৈরি করা অঙ্গার। এবং সেটা লাগে প্রচুর পরিমাণে।

    দাদুকে আর বেশি বুঝিয়ে বলতে হয়নি। কবরডাঙা রোডের একপাশে ওই কসাইখানাটা তো তার অনেক আগে থেকেই ছিল, যদিও সেটা ছিল কসাইখানার পেছনদিক। এদিক দিয়ে কেউই যাতায়াত করত না। তবে রাস্তার ধারের নালি দিয়ে দিনের মধ্যে চারবার জলের মতন হুড়হুড় করে বয়ে যেত জবাই করা পশুর রক্ত।

    নালিটা ছিল দাদুর কারখানার একেবারে গা ঘেঁষে। ইচ্ছে করলে পুরো রক্তস্রোতটাকেই কারখানার ভেতরে এনে ফেলা যায়। ইভা বললেন, সেইজন্যেই এই জমিটা তার এত পছন্দ। দাদুকে ওই জমির জন্যে তিনি যা দাম দিতে চাইলেন, সেটা অবিশ্বাস্য রকমের বেশি এবং সোমেশ্বর কাপালির মতন একজন ডুবন্ত ব্যবসায়ীর পক্ষে দারুণ লোভনীয়।

    তবু দাদু তখনই ওঁদের কোনো কথা না দিয়ে একসপ্তাহ সময় চাইলেন এবং পুরো সপ্তাহটা জুড়ে তিনি বম্বে, কলকাতা আর মাদ্রাজের নানান পাইকিরি বাজারে নানারকমের খোঁজখবর নিলেন। সেই সময়টা স্টিফেন আর ইভা রডন-স্ট্রিটের একটা হোটেলে শান্তভাবে অপেক্ষা করলেন। একসপ্তাহ বাদে সোমেশ্বর ওদের জানালেন যে, তিনি জমি বিক্রি করতে রাজি, তবে পুরো দামের কিছুটা তিনি নেবেন ক্যাশে আর বাকিটার জন্যে তাকে কোম্পানির একজন পার্টনার করে নিতে হবে।

    কেন? এরকম ডিসিসন নিলেন কেন? আমি জিগ্যেস করলাম।

    বিরাজ কাপালি বললেন, আসলে দাদু এরমধ্যে খোঁজ নিয়ে দেখেছিলেন যে, স্বাধীনতার পরে ভারতের বাজারে আর ইওরোপ-আমেরিকা থেকে আগের মতন অবাধে পোর্সেলিন আমদানি হচ্ছে না। অথচ দেশে নব্য ধনীদের সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছিল। খুলছে নতুন-নতুন পাঁচতারা-তিনতারা সব হোটেল আর দামি রেস্তোঁরা। সব মিলিয়ে দাদু বুঝতে পেরেছিলেন, সময়টা এমন যে, ভালো-কোয়ালিটির পোর্সেলিনের বাসন বাজারে পড়তে পাবে না! সেইজন্যেই তিনি চেয়েছিলেন পার্টনারশিপ।

    ইভা আর স্টিফেন দাদুকে আটকাবার অনেক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দাদু ছিলেন নাছোড়। অগত্যা তাঁরা দাদুকে ওই জমি-বাড়ির পরিবর্তে তিন-লক্ষ টাকা আর কোম্পানির শতকরা কুড়িভাগের অংশীদারি দিতে বাধ্য হলেন।

    কবরডাঙার ওই কারখানা-ঘরের খোলশটুকুই শুধু রইল। বন্ধ হয়ে গেল জটাকেশী ফার্মেসি। ছাঁটাই হয়ে গেল পুরোনো লোকজন। বিদেশি পার্টনাররা কারখানার বাইরের দিকে তেমন কিছু পরিবর্তন করলেন না, শুধু পঙ্খের কাজ করে ওই যে কোম্পানির নাম, ওটাকে খোদাই করে দিলেন আর একটা স্লুইস-গেটের ভেতর দিয়ে কারখানার ভিতরে রক্ত নিয়ে আসার ব্যবস্থা করলেন।

    কারখানা-ঘরের ভিতরের খোল-নলচে সবই বদলে গেল। দাদুই খুঁজেপেতে হাওড়ার কোন গ্রাম থেকে তিনজন কারিগরকে নিয়ে এলেন। লোকগুলোর দেশিয় পদ্ধতিতে চিনেমাটির বাসন তৈরির অভিজ্ঞতা ছিল। তবে হেড-মিস্ত্রি ছিলেন ওরা দুজন—স্টিফেন আর ইভা। দাদু কখনোই কারখানা-ঘরের ভেতরে পা রাখেননি। কারণটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ। যেখানে নিজের ওষুধের কারখানা ছিল, সেখানে অন্য কাজ হতে দেখলে মন খারাপ হতে বাধ্য।

    তবে স্টিফেন আর ইভার তাতে কিছু আটকাল না। বিদেশ থেকে আনানো হল চায়না-ক্লে, ফেলসপার আর আরো কী কী যেন সব কাঁচামাল। রানিগঞ্জ থেকে ট্রাকে করে এল ফার্নেসের জন্যে বিশেষ কোয়ালিটির কয়লা। শেষমেষ উনিশশো-উনপঞ্চাশ সালের অক্টোবর-মাসে ব্যাভেরিয়া পোর্সেলিন ইন্ডাস্ট্রির ফার্নেসে প্রথমবারের মতন আগুন জ্বলল।

    কাপালি স্যার হাত বাড়িয়ে একটা ডায়েরি তুলে নিলেন। দেখলাম, ডায়েরিটার অনেকগুলো পাতার ভাঁজে বুকমার্ক দেয়া আছে। একটা পাতা খুলে তিনি ঝুঁকে পড়লেন। চোখ কুঁচকে কিছুক্ষণ লেখার ওপরে চোখ বুলিয়ে বললেন, উনিশশো পঞ্চাশের সাতই জানুয়ারি। দাদু লিখছেন, প্রথম ত্রৈমাসিকে বিক্রির পরিমাণ খুশি হওয়ার মতন। লভ্যাংশ হিসেবে আমি পেয়েছি কুড়িহাজার তিনশো একুশ টাকা। মনে হচ্ছে ভাগ্যের চাকা আবার ঘুরছে। ছোটমেয়ের জন্যে আমোদপুর থেকে একটা ভালো সম্বন্ধ এসেছে। ভাবছি কথাবার্তা পাকা করে নেব। দেনা-পাওনার জন্যে আটকাবে না।

    আবার কয়েকটা পাতা উলটে অন্য একটা পাতায় এসে স্থির হল তাঁর হাত। বললেন, ওই বছরেরই অক্টোবর মাস। সতেরো তারিখ। দাদু লিখছেন, গত তিনদিন শরীর এবং মনের ওপর দিয়ে যেন একটা ঝড় বয়ে গেল। চোদ্দো তারিখ রাতে স্টিফেন মেয়ারের মৃত্যু হয়েছে। অপঘাতে মৃত্যু। এবং বীভৎস মৃত্যু। বেচারা ব্লো-পাইপ দিয়ে গলন্ত কাঁচের বুদ্বুদে ফুঁ দিয়ে ফুলদানি বানাচ্ছিল। কীভাবে কে জানে, সেই পেতলের ব্লো-পাইপ ওর টাকরা ফুঁড়ে মাথায় ঢুকে গিয়েছিল।

    সময়টা ছিল গভীর রাত, সেইসময়ে ওদের ফাউন্ড্রির মধ্যে আর কেউ ছিল না। কাজেই কী করে যে এমন ঘটনা ঘটল সেটা কেউ বলতে পারছে না। ডাক্তারের অনুমান, কাজ করতে-করতেই স্টিফেনের একটা মাইল্ড হার্ট-অ্যাটাক হয়ে থাকবে, যার ফলে ওর মাথা ঝুঁকে পড়েছিল সামনে! ব্লো-পাইপের পেছন দিকটা মুখের তালু ফুঁড়ে ওপরে উঠে গিয়েছিল। আমাদের কংগ্রেসি কাউন্সিলরের দয়ায় থানা-পুলিশের ঝামেলা এড়ানো গিয়েছে।

    ইভাকে জিগ্যেস করেছিলাম, স্টিফেনের মৃতদেহ ওর দেশে পাঠানোর দরকার আছে কিনা। তাতে ইভা অদ্ভুত একটা কথা বললেন। এই প্রথম ওর কাছ থেকে জানলাম, স্টিফেন আদতে ছিলেন রুমানিয়ার জিপসি সম্প্রদায়ের লোক। ওঁর না আছে ঘর, না আছে সংসার। একটা সময় অবধি আমি ভাবতাম, স্টিফেন বুঝি ইভার অসমবয়সি প্রেমিক। ইভাকে ব্যবসার পয়সাকড়ি ওই জোগাচ্ছে। কিন্তু গত কয়েকদিনে বুঝলাম, মোটেই তা নয়। ইভার সঙ্গে নাকি ওঁর সম্পর্কটা ছিল গুরু-শিষ্যার।

    শুনে চমকালাম। স্টিফেন আবার ইভাকে কী শেখাতেন? যেদিন ওদের সঙ্গে প্রথম আলাপ হয়েছিল, মনে আছে, সেদিন স্টিফেনই আমাকে বলেছিল, পোর্সেলিন বানানোর ‘নো-হাও’ সব ইভা জানে। সে-সব স্টাইনবেক পরিবারের বংশগত গোপন বিদ্যা; বাইরের কেউ জানবে না।

    তাহলে?

    ইভাকে জিগ্যেস করলাম, গুরু-শিষ্যা কথাটার মানে কী। প্রশ্নটা শুনে ইভা স্পষ্টতই অপ্রস্তুত হলেন। আমতা-আমতা করে বললেন, না, মানে ওই ইয়ে আর কি। কোনো শিল্পসামগ্রীই কি আর একটা কালচারের মধ্যে আটকে থাকে? নানান কালচারের মিশ্রণ থাকে তার মধ্যে। ও আমাকে শেখাত রুমানিয়ার ট্র্যাডিশনাল পোড়ামাটির বাসনপত্রের ডিজাইন।

    ডায়েরি থেকে মুখ তুলে কাপালি স্যার বললেন, সে যাই হোক, স্টিফেনের মৃত্যুতেই গল্প শেষ হল না। পরের বছর, মানে উনিশশো-একান্নর দোসরা মার্চ, ওই ছোট্ট কারখানাটার চৌহদ্দির মধ্যে আরো এক দুর্ঘটনা ঘটে গেল।

    সেই-যে হাওড়া থেকে সোমেশ্বর কাপালি তিনজন কারিগরকে নিয়ে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে একজন বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গেল। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, আগের রাতে তিনজন লেবার একই ঘরে ঘুমিয়েছিল। তারপর, তখন গভীর রাত, ওই যে-লোকটা পাগল হয়ে গিয়েছিল, সেই লোকটা বাকি দুজনকে ঠেলা মেরে জাগানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাকি দুজনের চোখে তখন গাঢ় ঘুম। ওরা ওঠেনি। শুধু আবছা মনে আছে, লোকটা বলেছিল, কারখানা-ঘরে একটা কিছু হচ্ছে। সে দেখতে চলল।

    সেই ছিল লোকটার শেষ কথা। পরদিন ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে বাকি দুজন কারিগর দ্যাখে তাদের সেই সঙ্গী কারখানা-ঘরের দরজায় বসে আছে। কখনো হাসছে, কখনো কাঁদছে। আবার কখনো প্রবল আতঙ্কে চিৎকার করে উঠছে। তাকে গ্রামের বাড়িতে ফেরত দিয়ে আসা হল। বাকি দুজন মিস্ত্রি কারখানায় থেকে গেল।

    কিন্তু সে মাত্র দুদিনের জন্যে। দুদিন পরেই, তখন সবে ভোরের আলো ফুটেছে, সেই দুজন মিস্ত্রি আমাদের এই সার্পেন্টাইন-লেনের বাড়িতে এসে দাদুর পায়ের কাছে মাটিতে থেবড়ে বসে পড়ল। হাঁউমাঁউ করে তারা যা বলল, তার সার কথা, কারখানা-ঘরে ভূত আছে। দাদু অবাক হয়ে বললেন, সে আবার কী! ওরা বলল, ওদের সেই সঙ্গী পাগল হয়ে যাওয়ার পর থেকে গত দু-রাত ওরা সজাগ হয়ে শুচ্ছে। সেইজন্যেই ওরা দেখতে পেয়েছে কারখানা-ঘরে গভীর রাতেও ফার্নেস জ্বলে। হঠাৎই পচা গন্ধে ভরে যায় চারপাশ আর হিংস্র কোনো জানোয়ারের গরগরানির মতন আওয়াজ আসে ওদিক থেকে। তাছাড়া…

    ওরা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে থেমে গেল।

    দাদু ছাড়বার পাত্র নন। কড়া-গলায় বললেন, থামলে কেন? তাছাড়া কী?

    তাছাড়া—ওরা আমতা-আমতা করে বলল, আমাদের চোখের ভুল হতে পারে—আপনি আমাদের নাম করে এই কথাটা কাউকে বলবেন না কোবরেজমশাই—মনে হয় দু-রাতেই যেন ইভা মেমসাহেবকে কারখানা ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেছি। একদম নাঙ্গা উদোম।

    চোখের ভুল যে নয় সে কথা বোঝার মতন বুদ্ধি দাদুর ছিল। দুটো সুস্থ-সবল লোকের চোখ তো আর একইরকম ভুল দেখতে পারে না। দাদু ওদের বললেন, তোরা মেমসাহেবকে কিছু বললি না? এতদূর দৌড়ে চলে এলি?

    বলব কেমন করে? কোন ভাষায় বলব? মেমসাহেব বাংলা-হিন্দি কিছুই জানেন না। স্টিফেনসাহেব ভাঙা ভাঙা হিন্দি জানতেন। তিনিই আমাদের কাজকর্ম বুঝিয়ে দিতেন। তাছাড়া মেমসাহেব তো বেলা বারোটা অবধি ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমোন। আপনি জানতেন না?

    না, ইভার এই অভ্যেসের কথা দাদু সত্যিই জানতেন না। তিনি কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে থেকে বললেন, তা তোরা এখন কী করবি?

    ওদের মধ্যে একজন গেঁজের মধ্যে থেকে একটা বড় চাবির গোছা বার করে দাদুর পায়ের কাছে নামিয়ে দিয়ে বলল, আপনিই আমাদের চাকরি দিয়েছিলেন, তাই আপনার কাছেই ইস্তফা দিয়ে গেলাম। আমাদের থাকার জায়গা আর কারখানা ঘরের চাবি এই রইল। আপনি রাখুন। পরে মেমসাহেবকে দিয়ে দেবেন। আমরা দেশে ফিরে গেলাম। এই মাসের পাঁচদিনের মজুরি পরে কখনো এসে নিয়ে যাব না হয়।

    দাদু দেখলেন, ওরা সত্যিই ঝোলা গুছিয়েই বার হয়েছে। দাদু ওদের হাতে পাঁচদিনের মজুরি ধরিয়ে দেওয়া মাত্র ওরা হ্যারিসন রোডের দিকে পা চালাল। একবার ঘুরেও তাকাল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেসিয়ানার জ্যোৎস্নারাত – গৌতম ভট্টাচার্য
    Next Article ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    Related Articles

    সৈকত মুখোপাধ্যায়

    ১৬ আনা ভয় – সম্পাদনা : সৈকত মুখোপাধ্যায়

    January 6, 2026
    সৈকত মুখোপাধ্যায়

    খেলার নাম খুন – সৈকত মুখোপাধ্যায়

    January 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026
    Our Picks

    সাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য

    July 2, 2026

    শিমুলগাছা জায়গা সুবিধের না – নির্বাণ রায়

    July 2, 2026

    ডঃ ডেথ – সায়ন্তনী পূততুণ্ড

    July 2, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }