Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ১ম খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    May 1, 2026

    ৫৭ থেকে ৪৭ (স্বাধীনতা সংগ্রামের কল্পিত বিকল্প ইতিহাস)

    May 1, 2026

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সব ভুতুড়ে – লীলা মজুমদার

    লীলা মজুমদার এক পাতা গল্প293 Mins Read0
    ⤶

    হরু হরকরার একগুঁয়েমি

    কলকাতায় গেঁড়িদির বিয়ে হল। তার নিমন্ত্রণ-পত্র বিয়ের সাত সপ্তাহ পরেও যখন বোলপুরের ভুবনডাঙায় বড়দাদুর কাছে পৌঁছল না, তিনি চটে কাঁই। নাকি লোকের অভাবে বাইরের চিঠি সব ডাকে দেওয়া হয়েছিল। বড়দাদু তাতে আরো চটে গেলেন, “ডাকে চিঠি! বলি, ডাকের চিঠি, কারো কাছে কখনো সঠিক পৌঁছয় যে বলছিস ডাকে দিয়েছিলি?”

    গেঁড়িদিদির বাবা অম্বিকাজ্যাঠা হলেন গিয়ে মেজদাদুর ছেলে। অবিশ্যি ছেলে ঠিক নয়, বেশ বুড়ো। বড্ড ভালমানুষ। বাড়িসুদ্ধু সক্কলের জন্যে নতুন কাপড়, কাঁচাগোল্লা, কালাকান্দ, ল্যাংড়া আম সঙ্গে নিয়ে, কী ব্যাপার দেখতে এসেছিলেন। কেউ গেল না কেন বিয়েতে? সবাই খুশি হল, এক বড়দাদু ছাড়া।

    বড়দাদু আবার বললেন, “চিঠি পাইনি, যাইনি, ব্যাস!” অবিশ্যি চিঠি পেলেও যেতেন না। দোতলা থেকে নামতেই পারেন না, ৮৮ বছর বয়স। রান্নাঘরের ছাদে পাইচারি করে করে বনপথের মতো দুটা চওড়া লাইন ক্ষয়ে ফেলেছেন। অম্বিকাজ্যাঠা কিছু বলছেন না দেখে বড়দাদু ইজিচেয়ারের হাতল চাপড়ে আরো বললেন, “হয় রেলের ডাকের থলিতে অন্য জিনিস আসে, বুঝলি? নয়তো পাঠাসনি। তা না হলে দেরি করে হলেও, এর মধ্যে এসে পৌঁছত। আসলে রেলের ডাকে চিঠিপত্র আসে না আজকাল। আর শুধু আজকাল কেন, আগেও অনেক সময় আসত না। আমার দাদামশায়ের মরার আগে রেজিস্টার ডাকে পাঠানো হীরেগুলো মা’র কাছে এসে পৌঁছল না কেন? তার রসিদও ছিল। দাদামশায়ের ছেঁড়া গীতায় গোঁজা। তা সেটিকে বড়মামা সর্দারি করে চিতেয় তুলে দেছলেন! ব্যস হয়ে গেল! সে তো আমার জন্যেই পাঠানো হয়েছিল। আমিই মায়ের একমাত্র সন্তান। যদিও তখনও জন্মাইনি, তবু তাতে আমার উত্তরাধিকারের দাবি তো আর উপে যায় না?—”

    হেনাতেনা কত কী বলতে লাগলেন বড়দাদু। জোড়া-শিং গুবরেকে চান করাতে করাতে আধখানা কান দিয়ে সব শুনছিল বড়দাদুর একমাত্র সন্তানের একমাত্র সন্তান উট্‌কো। গুবরেটা যেমনি বদ তেমনি নোংরা, কিছুতেই চান করবে না। ঠ্যাং-এ সুতো বাঁধা সত্ত্বেও ইদিক-উদিক পালাবার চেষ্টা করে। সমস্তক্ষণ কড়া নজর রাখতে হয়। তাই গোড়ার দিকটা তত শোনা হয়নি। কিন্তু হিরের কথা কানে যেতেই কান খাড়া। দু-শিং বদ গুবরেটা সেই সুযোগে দরজার পরদা বেয়ে প্রায় ছাদ অবধি উঠতেই সুতোয় টান পড়ল। থপ করে মাটিতে পড়ে উল্টো হয়ে শূন্যে ঠ্যাং ছুঁড়তে লাগল। তা জোড়া শিং ভাঙুক আর না-ই ভাঙুক, উট্‌কোর খেয়াল নেই।

    কাঁথা সেলাই করতে করতে বড়ঠাকুমা বললেন, “তা বললে তো চলবে না। মাসে মাসে আমি আমকপালিতে বাপের বাড়ি চিঠি পাঠাই, পরের মাসে তার ঠিক ঠিক জবাবও পাই। আমার বাপু কোনো অসুবিধা হয় না।”

    শুনে অম্বিকাজ্যাঠা পর্যন্ত অবাক! “সে কী! রেলের ডাকে চিঠি যায়, উত্তর আসে?”

    বড়ঠাকুমা কাঁথা থেকে চোখ না তুলেই বললেন, “অতশত জানিনে, বাপ। উট্‌কো চিঠি ফেলে, উত্তর আসে। তাই না রে উট্‌কো?”

    গুবরেকে সোজা করতে করতে উট্‌কো বলল, “হুঁ।” জ্যাঠা বললেন, “ডাকঘরের বাইরের ডোরাকাটা বাক্সে ফেলিস আর ডাকঘরের পেছনের খুদে জানলা দিয়ে উত্তর আনিস?”

    গুবরেকে বড় জালের বাক্সে ভরতে ভরতে উট্‌কো বলল, “ঠিক তা নয় অবিশ্যি।” “তবে? তবে?” “ডাকে দিলে যদি না যায়, তা হলে ঠামু আমাকে ঘুড়ির পয়সা, গুলির পয়সা দেবে না। তা—” উট্‌কো থামতেই সবাই ওকে ছেঁকে ধরল, “তাই কী বল, আহা থামলি কেন? তোর যদি কোনো প্রাইভেট বন্দোবস্ত থাকে তো বল, আমরাও তার পৃষ্ঠপোষকতা করব—।”

    উট্‌কো উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “বন্দোবস্ত ঠিক নয়। হয়েছে কী, হরু হরকরা যার-তার চিঠি বিলোবার ভার নেয় না।”

    বড়দাদু ভারি বিরক্ত, “বিলোবার ভার আবার কী? ডাকের থলিতে রেলে করে যায় না?”

    “না। তাহলে হয়তো পৌঁছবে না।”

    অম্বিকাজ্যাঠা খবরের কাগজে বানিয়ে বানিয়ে গল্প লেখেন। তিনি বললেন, “তবে কি চিঠি হাতে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যায়। বুড়ো নিশ্চয়? খোঁড়াও হয়তো?”

    উট্‌কো বড়দের সঙ্গে পারতপক্ষে কথা বলত না। সে খালি বলল, “হুঁ।” বলে দরজার দিকে পা বাড়াল। ঠামু বললেন, “সেইখানে দুটো পোস্টকাট রেখেছি, তাকে দিয়ে দিস।” সঙ্গে সঙ্গে উট্‌কো হাওয়া।

    বড়দাদু তো হাঁ! বুলিপিসি বললেন, “আমিও তা হলে দুটো চিঠি দেব।” এমনিতে তো অর্ধেক পৌঁছয় না। অম্বিকাজ্যাঠা বললেন, “তোরা কি খেপেছিস? হরকরারা আর আছে নাকি? রেলের পত্তনের সঙ্গে সঙ্গে ও-সব উঠে গেছে। চার ঘণ্টায় রেল যায়, হরকরাদের লাগত পাঁচদিন, তা জানিস?”

    পিসি বললেন, “তবু তো পৌঁছয় শুনছি। একটা পরীক্ষা হয়েই যাক না।”

    ততক্ষণে বিকেলের জলখাবারের সময় হয়ে গেছিল। চিড়েভাজা, ডালমুট, কুচো নিমকি মাখা, জ্যাঠার আনা সন্দেশ। বলা বাহুল্য উট্‌কো এ ব্যাপারে খুব উৎসাহী। সঙ্গে আবার পাশের বাড়ির লংকাকে জুটিয়ে এনেছে। দুজনারি বারো বছর বয়স, ভয়ানক ভাব।

    জলখাবারের পর ঘুড়ি নিয়ে উট্‌কো আর লংকা যেই বেরোতে যাবে, বুলিপিসি দুটো কলকাতার চিঠি দিয়ে বললেন, “হরকরাকে দিস। দাঁড়া, ওই টিকিটেই চলবে তো? নাকি বুড়োকে বাড়তি পয়সা দিতে হবে।” উট্‌কো বলল, “না। বাড়তি পয়সাকড়ি কিছু নেয় না হরু হরকরা। সে বলে— “আমরা সরকারের লোক। সরকার যা দেন সেই যথেষ্ট। চিঠি বিলি আমাদের ডিউটি, ওতে টিকিট থাকলেই হল। আজকাল ছাপ-টাপও কেউ দেখে না।” এ-সব কথা অবিশ্যি বলেনি উট্‌কো।

    বাড়ি থেকে বেরোবার সময় ঘুড়ি লাটাই সিঁড়ির নিচে রেখে গেছিল। লংকা বলেছিল, “এগুলো দিয়ে কী হবে? আমিও হরু হরকরার কাছে যাই চল৷”

    পেছন থেকে বড়দাদুর খাসবেয়ারা সীতেশ এক গাল হাসতে হাসতে ডেকে বলল, “বড়বাবু বলছিলেন, হরকরাকে জিজ্ঞেস করিস হীরেগুলোর কী করল? রেজিষ্ট্রি করা প্যাকেট তো হারাবার কথা নয়।”

    ভারি রাগ হল উট্‌কোর। বেশ, তাই জিজ্ঞেস করবে। হরু হরকরা চোর নয়। কী ভালো ভালো গল্প বলে মহারানীর বিষয়ে। ইন্দিরা গান্ধীই বলতে চায় বোধ হয়, তা ঐরকম বলে। দেশের সকলের জন্য কত ভাবেন। ডাক টিকিটের দাম কত কমিয়ে দেছেন। অথচ বড়দাদুদের কথায় উল্টো মনে হয়। কী বাজে বকে বুড়োরা, মানে হরু হরকরা ছাড়া। আর ঠামু ছাড়া। উট্‌কো যা বলে ঠামু সব বিশ্বাস করে।

    লংকা বলল, “ও কী! ওই বাঁশতলায় যাচ্ছিস ঠিক সন্ধ্যার আগে? জায়গাটা খারাপ। উট্‌কো চটে গেল, “ধেৎ! আমি তো প্রায়ই যাই। বাঁশতলার চায়ের দোকানে হরু হরকরা আমার জন্য অপেক্ষা করে। ওকে আমি দুটো করে গোলাপী বিড়ি দিই, সীতেশদার ঘর থেকে নিয়ে। না বলে নিই। নইলে দেবে না।”

    লংকা বলল, “তোদের চিঠিপত্র নিরাপদে পৌঁছে দেয় আর তুই মোটে দুটো বিড়ি দিস? ছিঃ!” তার বেশি দেয়ই বা কী করে? হরু বলে— যাবার পথে একটা, ফেরার পথে একটা। তার বেশির কী দরকার যে নেব? কিচ্ছু জমাতে হয় না বুঝলি বাপ্‌, সব ছেড়েছুড়ে যেতে হয়। আমাকে দেখতে পাচ্ছিস তো!’

    আশু পণ্ডিতের চায়ের দোকান। পণ্ডিত ওর পদবী। তবে সমসকিতও নাকি জানে। গুড় দিয়ে আর শুকনো শালপাতা দিয়ে কী ভালো চা বানায়। হরু খাইয়েছে। আশুর চিঠি পৌঁছে দেয়, আশু ওকে আর ওর বন্ধু যদি কেউ সঙ্গে থাকে, সবাইকে বিনি পয়সায় চা খাওয়ায়। পয়সাকড়ির ধার ধারে না এরা।

    হরু হরকরা বোধহয় একটু ব্যস্ত হচ্ছিল, “এত দেরি করলে চলে, বাপ্‌? চাঁদ ডোবার আগে সিকি পথ কাবার করতে হয়।” উট্‌কো বলল, “তা দেরি হবে না, হরুদা? যেখানে যাবে চা খাবে, একটু বসবে, “তামাক খাবে, বিড়ি খাবে, শালপাতার চা খাবে, গাল-গল্প করবে, চিঠি দেবে, চিঠি নেবে— দেরি তো হবেই।”

    ভাঁড়ে করে চা দিতে দিতে আশু পণ্ডিত বলল, “তা হরুদা একটু না বসলে আমরা কী করে রাজ্যের খবরাখবর পাব? কলকাতার পোস্টকাট হরুদা পড়ে শোনাবে বলে আমরা সারা হপ্তা পথ চেয়ে থাকি, কী বল ভাইসব?”

    চায়ের দোকানে মশার জ্বালায় চাদর-মোড়া অন্য লোকও ছিল, ওরা এতক্ষণ খেয়াল করেনি। তারা বলল, “লিশ্চয় লিশ্চয়।” সীতেশদাদা বলে যে, বেশি ‘লস্যি লিলে সব ল হয়ে যায়।’

    উট্‌কো বলল, “ঠামুর পোস্টকাটও পড়ে শোনাও নাকি?” হরু ভারি বিরক্ত, “এত দেরি করে এলে তা কী করে শোনাব? দুঃখ কর না, ভাইসব, আসছে হপ্তায় হবে। এখন রওনা না দিলেই নয়।” উট্‌কো আর লংকা ওর সঙ্গে চলল।

    রোগা শুঁটকো মানুষটা, রোদে জলে চিঠি বিলি করে খেজুরের মতো গায়ের রং, পালকের মতো হালকা শরীর, বাতাসের মুখে ছুটে চলে। তা ওরা ওর সঙ্গে পারবে কেন? গোলাপি বিড়ি দুটো নিয়ে সে পা বাড়াতেই, উট্‌কো বলল, একটু সাহায্যের দরকার ছিল।’

    ততক্ষণে বাঁশবাগান ছাড়িয়ে ঘোষদের আমবাগানে পৌঁছেছে ওরা। ঝড়ে একটা আমগাছ পড়ে গেছিল। টপ করে হরু তার ওপর বসে পড়ে বলল, “বল।” লংকা চাঁদের আলোয় ওকে ভালো করে দেখতে লাগল। বাঁশবনটা কেমন ধোঁয়া-ধোঁয়া, চেহারাটা ভালো করে মালুম দিচ্ছিল না। এখন দেখল কালচে মতো ইজের কুত্তা পরা, হাতে একটা তেলচুকচুকে বাঁশের লাঠি, কাঁধে ঝোলানো থলি। লংকা বলল, “লাঠিতে ঘণ্টি বাঁধা থাকে, ছবিতে দেখেছি।” হরু কাষ্ঠ হাসল। “সে আমি খুলে রেখেছি। এইসব বনে বাঘ নেই কিন্তু ডাকাতদের জানান দেবার কী দরকার? কই বাপ, বললে না কী সাহায্য?”

    উট্‌কো হরুর গা ঘেঁষে বসে বলল, “তোমার গায়ে ধূপধুনোর গন্ধ পাই, হরুদা। দাদু আজ যা-তা বলেছে।”

    “কী যা-তা— বলবি তো?”

    “নাকি রেজিস্টার ডাকে পাঠানো এক প্যাকেট হীরে হারিয়েছে। ডাকের সবাই নাকি চোর!”

    চাঁদের আলোয় হরুর মুখ গম্ভীর হল, “কে পাঠিয়েছিল? কাকে পাঠিয়েছিল? কোথা থেকে কোথায় পাঠিয়েছিল? কবে পাঠিয়েছিল?”

    “দাদুর দাদামশাই মরার আগে তাঁর একমাত্র সন্তান দাদুর মা-কে পাঠিয়েছিল। আমাদের এই ভুবনডাঙার বাড়িতে, কলকাতা থেকে পাঠিয়েছিল। কবে তা জানি না। দাদু তখন জন্মায়নি।”

    শুনে লংকার কী হাসি। কিন্তু হরু বেজায় রেগে গেল, “তার মানে আমাদের এই লাইনে রেজিস্টার প্যাকেট হারিয়েছিল? ডাকগাড়িতে আসছিল, না কি হরকরা আনছিল? আগে হরকরা আনত, পরে ঘোড়ার ডাক হলে, যদ্দূর গাড়ির রাস্তা, তার পর থেকে হরকরায় আনত। আমি বলছি কারো কোনও হীরের প্যাকেট হারাতে পারে না। রসিদ আছে?”

    নাকি দাদামশাই মলে মামা সরদারি করে তাঁর সঙ্গে তাঁর ছেঁড়া গীতা পুড়িয়ে ছিলেন। তার মধ্যে রসিদ ছিল। মোট কথা আজ পর্যন্ত হীরে পৌঁছয়নি। নির্ঘাৎ চুরি গেছে, দাদু বলে।” হরু চিড়বিড়িয়ে উঠল, “নিশ্চয় ঠিকানা ভুল ছিল।” দাদু বলে তা হলে মরা চিঠির দপ্তর থেকে, যে পাঠিয়েছিল তার কাছে ফেরত যেত।”

    হরু বলল, “হুঁঃ! তুমি তো সব জান! আমরা অত সহজে ছাড়ি না, বুঝলে? বছরের পর বছর ঠিক মালিককে খুঁজে বেড়াই। আমার কাছেই একাট আলাদা পুঁটলি আছে, এদিককার যত সব পথ-হারা চিঠি, পার্সেলের। তাদের ঠিকানা পাওয়া যায় না। এই দেখ—!”

    কাঁধের ঝুলি নামিয়ে হরু বলল, “একবার অজয় নদীর বানের জলে ডাকের থলি পড়েছিল। বহু চিঠি প্যাকিটের নাম ঠিকানা ধুয়ে গেছিল। কিন্তু হারায়নি। চুরিও যায়নি। বুঝলে বাপ্‌? আমি পিরতিজ্ঞে করেছি সবগুলো বিলি না করে ছুটি নেব না, হ্যাঁ। এ লাইনে চোরটোর নেই!”

    ঝুলির মধ্যে খুদে একটি বাক্স। সেটি গামছার ওপর উপুড় করে ফেলতেই দশ-বারোটা ছোট বড় খাম প্যাকেট ছড়িয়ে পড়ল। হরু বলল “কী নাম ছিল মায়ের সেটা তো জান?” বগলাদেবী। “বরের কী নাম?” “বর কেন আসবে, হরুদা, দাদুর মা’র তো বিয়ে হয়ে গেছিল।” আহা, কর্তার কী নাম ছিল? “ও তাই বল। ভজহরি শর্মা।”

    চাঁদের আলোয় ঘাঁটাঘাঁটি করে খুদে একটা নোংরা ন্যাকড়ায় সেলাই করা, গালা লাগানো প্যাকেট উট্‌কোর হাতে দিয়ে হরু বলল, “এই নাও বগলাদেবী। আর কিছু পড়া যাচ্ছে না। ভুল হয়। তাই বলে চোর বলো না।” এই বলে হাউহাউ করে হরু হরকরা কেঁদে ফেলল। উট্‌কো অপ্রস্তুতের এক শেষ! “ও হরুদা, আমি কখনো তোমাকে চোর ভাবতে পারি? ওরাও কেউ তোমাকে চোর বলেনি। যাবে একদিন আমাদের বাড়িতে? খালি বলছিল ডাকে সব চুরি যায়!”

    শুনে হরু ফিক করে হেসে ফেলে বলল, “তা যাব না। কিন্তু এই আমি তোকে বলে দিলাম, এই যে রং-ওঠা, নাম-ঠিকানা-ধোয়া, ভুল-নাম-লেখা তেরোটা চিঠি বাকি রইল, এর পেরতেকটির মালিক খুঁজে বের করে তবে আমি ছাড়ব। তাপ্পর ছুটি নেব। বয়স হয়েছে, আর পারিনে। তোরা তখন অন্য লোক দিয়ে চিঠি পাঠাস। প্যাকিটটা বড়দাদুকে দিস, ওনার মায়ের জিনিস। ঠিকানা নেই, তাই সেকাল থেকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি! আবার বলে কি না ডাকে জিনিস চুরি যায়! ছিঃ!”

    এই বলে হরুদা উঠে পড়ল। উট্‌কো বলল, “ও হরুদা, ও-সব একশো বছর আগেকার চিঠিপত্র, ওর মালিক তুমি এখন কোথায় খুঁজে পাবে? ওগুলো মরা চিঠির আপিসে জমা দিয়ে দাও। এখন যেন কী নতুন নাম হয়েছে জ্যাঠা বলছিল।

    গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে তেরচা হয়ে একটা চাঁদের কিরণ উট্‌কোর হাতে ধরা প্যাকেটের ওপর পড়ল, একটু ফেটে গেছে, মনে হল ভেতরে কী চকচক করছে। উট্‌কো বলল, “ও হরুদা— ওদের কোথায় খুঁজবে?”

    হরু হরকরা বলল, “কেন সেকালে!” এই বলে ওদের চোখের সামনে সেই চাঁদের কিরণটাতে টপ করে উঠে পড়ে, কিরণ বেয়ে হাঁটতে হাঁটতে ওদের চোখের বাইরে চলে গেল। উট্‌কো আর লংকা সেখানে আর এক মুহূর্তও দাড়াল না।

    বাড়ি পৌঁছে হাঁপাতে হাঁপাতে বড়দাদুকে প্যাকেটটা দেবামাত্র তিনি সেটা কেটে খুলে হাতে একটা হীরের সীতাহার তুলে ধরে হাঁ করে চেয়ে রইলেন।

    তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, “এ যে দিদিমার সেই সীতাহার, মা’র কাছে কতবার শুনেছি। এই জলে-ধোয়া পুরনো ধুরধুরে প্যাকেট তুই কোথায় পেলি?” উট্‌কো হাঁউমাউ করে এমনি কাঁদতে লাগল যে দুঃখের চোটে জাল কেটে বেরিয়ে এসে গুবরে ওর মুখে মাথায় দুটো শিং-ই বুলিয়ে দিতে লাগল।

    লংকা সব বলল। “তা বড়রা কি সহজে কিছু বিশ্বাস করে। ঠিক হল কাউকে কিছু বলা হবে না। কাল সন্ধ্যায় নিজেরা গিয়ে হরু-হরকরাকে ধন্যবাদ আর কিছু বকশিশ দিয়ে আসবে। এমন বিশ্বাসী লোক আজকাল দেখা যায় না।

    কোথায় হরু হরকরাকে পাবে যে ধন্যবাদ দেবে। পরদিন সন্ধ্যায় লংকার আর উট্‌কোর সঙ্গে অম্বিকাজ্যাঠা, কলকাতা থেকে ফোন করে ডেকে আনা উট্‌কোর বাবা, পাশের বাড়ির লংকার বাবা, ব্যোমকেশ কাকা, সীতেশদা গেল। বাবা আর জ্যাঠা ছাড়া সবাই শুনল বাঁশবনে মোটা মোটা খরগোশ শিকার করতে যাওয়া হচ্ছে। লাঠি, গুলতি, এয়ার-গান, এইসব সঙ্গে গেল।

    কোথায় কী! লংকা আর উট্‌কো সেই বাঁশবাগানটাকে খুঁজেই পেল না, তা আশু পণ্ডিতের শালপাতার চায়ের দোকান আর হরু-হরকরা! ওদের খোঁজাখুঁজি দেখে নবু মণ্ডলের কী হাসি! সে বলল, “ছিল বটে বাঁশবন একশো বছর আগে। কোনকালে সব বেচেবুচে সাফ! খরগোশ চাও তো ইলেমবাজার ছাড়িয়ে শালবনে খোঁজ। বাস যায়।” সব শুনে দাদু একেবারে থ! উট্‌কো আর লংকা গাঁজাখুরি গল্প বলতে ওস্তাদ, কিন্তু হিরেগুলো তো আর গাঁজাখুরি নয়। উট্‌কোকে বলেওছিল হরুদা, কারো কাছে এসব কথা পেরকাশ করলে এমনই হবে।

    আর কখনো ওরা সেই বাঁশবন খুঁজে পায়নি। চিঠিপত্র আজকাল পাঁচ দিনে, রেলের ডাকেই যায়। নয়তো স্বপনকাকা হাতে করে পৌঁছে দিয়ে আসে।

    ________

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভয়ঙ্কর ভূতের গল্প – লীলা মজুমদার সম্পাদিত
    Next Article হ্যান্স অ্যান্ডারসন রচনাবলী-১ – অনুবাদ: লীলা মজুমদার

    Related Articles

    লীলা মজুমদার

    বদ্যিনাথের বড়ি – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    লীলা মজুমদার

    হলদে পাখির পালক – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    লীলা মজুমদার

    বাঘের চোখ – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    লীলা মজুমদার

    গুপির গুপ্তখাতা – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    লীলা মজুমদার

    পদিপিসীর বর্মিবাক্স – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    লীলা মজুমদার

    টং লিং – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ১ম খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ১ম খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    May 1, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ১ম খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    May 1, 2026

    ৫৭ থেকে ৪৭ (স্বাধীনতা সংগ্রামের কল্পিত বিকল্প ইতিহাস)

    May 1, 2026

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }