Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৩. প্রিয়তোষের দিকে তাকিয়ে

    তের

    প্রিয়তোষের দিকে তাকিয়ে অনিমেষ বলল, ‘কেমন লাগছে?’

    ঘাড় নাড়লেন প্রিয়তোষ, ‘আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। এরা কারা?’

    প্রশ্নটা শোনামাত্র মাধবীলতার হাত একটু স্থির হয়েই আবার সচল হল। অনিমেষ লক্ষ্য করল পাখার হাওয়ার বেগ এখন কম। সে বলল, ‘এটা বোঝা উচিত ছিল।’

    প্রিয়তোষ মাধবীলতার মুখের দিকে তাকালেন, ‘তোমরা বিয়ে থা করেছ কিন্তু এই খবরটা দাদাকে দাওনি কেন? ওঁরা তো কিছুই জানেন না।’

    মাধবীলতা কোন উত্তর দিল না কিন্তু তার হাত এবার স্থির হল। প্রিয়তোষ অনিমেষের দিকে তাকালেন। হ্যারিকেনের আলোয় অনিমেষকে আরও বেশী রোগা দেখাচ্ছে। অনিমেষ বলল, ‘বাবার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে?’

    ‘হ্যাঁ। আমি ওখানেই শুনলাম তুই জেলে গিয়েছিলি। দাদা সেই খবর পেয়ে মাঝে মাঝেই জেলে এসে খোঁজ খবর করত।’

    ‘তাই নাকি!’ অনিমেষ হাসবার চেষ্টা করল, ‘আমার সঙ্গে দেখা হয়নি কখনও।’

    ‘ইচ্ছে করেই নাকি করেনি। ভেবেছিল তুই রিলিজড হলে জলপাইগুড়িতে ফেরত নিয়ে যাবে। কিন্তু তারপরেই ওই ঘটনাটা ঘটল।’

    ‘কি ঘটনা?’

    ‘তুই কিছুই জানিস না?’

    ‘না।’

    ‘জেল থেকে বেরিয়ে কোথায় ছিলি?’

    ‘এখানে, এই ঘরে।’

    ‘আশ্চর্য! দাদা প্যারালাইজড হয়ে রয়েছে। ডানদিকটায় কোন সেন্স নেই। চা বাগানের চাকরি ছেড়ে এখন জলপাইগুড়ির বাড়িতে রয়েছে। লাঠি নিয়ে কোনরকমে বাথরুম বারান্দায় যেতে পারে।’

    অনিমেষ হোঁচট খেল। বাবা-! বাবার কথা ভাবলেই চোখের সামনে একটাই দৃশ্য ভেসে ওঠে। সন্ধ্যের অন্ধকার যখন তিরতিরিয়ে স্বৰ্গছেঁড়ার মাঠে ছড়িয়ে যেত তখন সাইকেলের ঘন্টি বাজাতে বাজাতে বাবা ফিরতো বাড়িতে, হাফ প্যান্ট আর শার্ট পরে। সাইকেল রেখে আলতো আঙ্গুলে অনিমেষের চুল এলোমেলো করে ভেতরে চলে যেত! এখন সেই মানুষ অর্ধেক অবশ শরীরে পড়ে আছে অথচ সে কিছুই জানে না।

    অনিমেষ কাঁপা গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘পিসীমা?’

    ‘দিদির শরীর খুব খারাপ, বেশীদিন বাঁচবে না। তুই তো ওদের চিঠি দিতে পারতিস। এই বস্তির ঘরে থাকার কোন মানে হয়?’

    অনিমেষ মাথা নাড়ল, ‘না। আমি আর কারো দায় হয়ে থাকতে চাই না।’

    মাধবীলতা চকিতে অনিমেষকে দেখল তারপর ইশারায় অর্ককে ডেকে বাইরে চলে গেল। অর্ক এতক্ষণ ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছিল। মা ডাকামাত্র সে বেরিয়ে এল। মাধবীলতা দ্রুতগলায় বলল, ‘দুটো সন্দেশ আর রসগোল্লা নিয়ে আয়।’

    অর্ক মাথা নাড়ল, ‘এখন পাড়ার দোকান বন্ধ। সেই মোড়ে যেতে হবে।’

    ‘তাই যা। আমি টাকা দিচ্ছি।’ আবার ঘরে ঢোকার জন্যে মাধবীলতা পা বাড়াতে অর্ক বাধা দিল, ‘আমার কাছে টাকা আছে।’

    ‘কোথায় পেলি টাকা?’ সন্দেহের, সুর ফুটে উঠল মাধবীলতার গলায়।

    ‘পেয়েছি। কিন্তু এই লোকটাকে এত খাতির করছ কেন?’

    ‘ওইভাবে কথা বলবি না। তোর ছোট দাদু উনি, মনে রাখিস। তুই প্রণাম করেছিস?’

    ‘না।’

    মাধবীলতা দাঁতে দাঁত চাপল, ‘তুই এত অবাধ্য! লজ্জা লজ্জা, যা প্রণাম কর।’

    অর্ক গোঁজ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মাধবীলতা ওর হাত ধরে ঘরের দিকে টানতেই সে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, ‘তোমাকে ছাড়া আর কাউকে আমি প্রণাম করতে পারব না।’ তারপর দ্রুত বেরিয়ে গেল। মাধবীলতা পাথর, অন্ধকার প্যাসেজে দাঁড়িয়ে অনেক কষ্টে নিজেকে সামলাচ্ছিল সে। না পেতে পেতে যখন অভ্যেস হয়ে যাচ্ছে তখন ছোট্ট একটা পাওয়া এমন করে যে কেন নাড়িয়ে দেয়!

    মাধবীলতা ঘর ছেড়ে যাওয়ামাত্র প্রিয়তোষ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুই বিয়ে করেছিস কবে?’

    অনিমেষ হিসেব করার চেষ্টা করে মুখ নামাল, ‘অনেকদিন।’

    ‘সন্তানাদি?’

    ‘ওই তো দেখলে, এখানে দাঁড়িয়েছিল।’

    ‘অতবড় ছেলে তোর?’ চমকে উঠলেন প্রিয়তোষ।

    ‘পনের বছর বয়স।’

    ‘আমি ভাবতে পারছি না। তোর শ্বশুরবাড়ি কোথায়?’

    ‘কোলকাতাতেই, কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোন যোগাযোগ নেই।’

    ‘তোদের চলছে কি করে?’

    ‘ও স্কুলে পড়ায়।’

    প্রিয়তোষের মুখচোখে এবার বিস্ময় ফুটে উঠল, ‘শিক্ষিতা মেয়ে? তোর সঙ্গে পড়ত নিশ্চয়ই?’

    ‘হ্যাঁ।’

    এইসময় মাধবীলতা দরজায় এসে দাঁড়াল। মুখ যদিও অন্ধকারে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না তবু অনিমেষের মনে হল ওর কিছু হয়েছে। প্রিয়তোষ মাধবীলতাকে বললেন, ‘না, তোমাকে আর হাওয়া করতে হবে না। তুমি বরং আমার সামনে এসো।’ হাত দিয়ে খাট দেখিয়ে দিলেন তিনি।

    মাধবীলতা আলোর সামনে এলে প্রিয়তোষ বললেন, ‘আমি তোমাদের সব কথা জানি না। কিন্তু মনে হচ্ছে তুমি অন্য জাতের মেয়ে। কি নাম তোমার?’

    ‘মাধবীলতা।’

    ‘বাঃ, সুন্দর। তুমি যা রোজগার কর তাতে এর চেয়ে একটু ভাল পরিবেশে থাকা যায় না?’

    ‘যেত। কিন্তু এত ধার হয়ে গিয়েছে—।’

    ‘ধার! কেন?’

    অনিমেষ বলল, ‘ওসব কথা ছেড়ে দাও। এই পাদুটো কখনই সারবে না অথচ ও সারাবেই। অসম্ভবের পেছনে ছোটার কোন মানে হয়?’

    সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়তোষের মুখ শক্ত হল, ‘সেটা তোর খেয়াল ছিল না?’

    ‘আমার?’ অনিমেষ বিস্মিত হল।

    ‘বিপ্লব করবি, এই দেশে সেটা যে অসম্ভব তা জানতিস না?’

    অনিমেষ পূর্ণ-দৃষ্টিতে ছোটকাকাকে দেখল, ‘এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে আমি আলোচনা করতে চাই না।’

    প্রিয়তোষ যেন নিজেকে ফিরে পেলেন, ‘আমরা অন্যের সমালোচনা করি কিন্তু নিজের ত্রুটি দেখতে পাই না। এটা যদি বুঝতিস তাহলে আজ এই অবস্থা হতো না।’

    অনিমেষ নিচু গলায় বলল, ‘সেটা তুমি অনেক আগেই বুঝেছিলে।’

    ‘তার মানে?’ চমকে উঠলেন প্রিয়তোষ।

    ‘আমি তোমার কাছেই প্রথম মার্কসের নাম শুনেছিলাম।’

    এই সময় মাধবীলতা বলে উঠল, ‘ওসব পুরোনো কথা এখন তুলছ কেন?’

    প্রিয়তোষের কিছুটা সময় লাগল সুস্থির হতে। অনিমেষের কথায় একটা স্পষ্ট খোঁচা ছিল তা তিনি জানেন। পুরোনোকথার সূত্র ধরে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের কত টাকা ধার আছে?’

    ‘আছে, একসময় শোধ করে দেব।’ মাধবীলতা অঙ্কটা বলতে চাইল না।

    ‘কিন্তু এই পরিবেশে বাস করলে তোমাদের ছেলে মানুষ হতে পারবে না।’

    মাধবীলতা বলল, ‘জানি। কিন্তু এর বেশী কিছু করার সঙ্গতি আমার নেই।’

    ‘তোমরা জলপাইগুড়িতে ফিরে যেতে পার। চেষ্টা করলে ওখানকার স্কুলে তোমার কাজ হতে পারে। পরিবেশ আর পরিস্থিতিও পাল্টে যাবে।’

    ‘দেখি।’

    ‘এতে দেখাদেখির কি আছে?’

    ‘ধার শোধ না হওয়া পর্যন্ত এখানকার চাকরি ছাড়া সম্ভব নয়।’

    ‘বেশ তো, আমাকে বল কত টাকা দরকার?’

    এবার অনিমেষ উত্তর দিল, ‘যে প্রয়োজনে নিজের বাবা মায়ের কাছে হাত পাতেনি সে তোমার সাহায্য নেবে এটা ভাবছ কেন?’

    ‘ও।’ প্রিয়তোষ নড়েচড়ে বসলেন। তারপর মাধবীলতার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তাহলে তোমার ছেলেকে ওখানে পাঠিয়ে দাও। আমাদের বংশের মুখ চেয়ে এটা কর। গাড়িতে বসে যা দেখেছি তা আমার ভাল লাগেনি।’

    ‘কি দেখেছ?’ অনিমেষের বুকের ভেতর অস্বস্তি।

    ‘লরির সামনে আমার গাড়ি আটকে গিয়েছিল বলে পাড়ার ছেলেরা ঝামেলা করার চেষ্টা করছিল। আমি লক্ষ্য করছিলাম ওরা কতটা বাড়ে। এই সময় তোর ছেলে এল। কথাবার্তায় বুঝলাম পাড়ার ছেলেদের ওপর ওর বেশ কর্তৃত্ব আছে। কথা বলার ধরনটাও ভাল লাগল না। রকবাজ ছেলে আগেও দেখেছি, কিন্তু এবার এসে যে শ্রেণীর ছেলেদের দেখছি তাদের আগে দেখিনি।’

    মাধবীলতা নিচু গলায় বলল, ‘এই জ্বালায় তো জ্বলছি। আসলে ওর বয়সের তুলনায় চেহারাটা বড় কিন্তু বুদ্ধিসুদ্ধি একটুও পাকেনি।’

    এইসময় অর্ককে দরজায় দেখতে পেয়ে মাধবীলতা চট করে উঠে দাঁড়াল। তারপর ছেলের হাত থেকে মিষ্টির প্যাকেটটা নিয়ে প্রিয়তোষের পেছনে চলে গিয়ে প্লেটে সাজাতে বসল। মাধবীলতা দেখল দুটো করে নয়, অনেক বেশী মিষ্টি নিয়ে এসেছে অর্ক। অন্তত দশ টাকার তো হবেই। এত টাকা ও পেল কোথায়? তারপরেই মনে পড়ল দুপুরে ওর হাতে টাকা ছিল। মাথা গরম হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু অনেক কষ্টে নিজেকে সামলালো মাধবীলতা। হঠাৎ খেয়াল হল অর্ক নিজে থেকে বাড়তি মিষ্টি এনেছে সেটাও অভিনব।

    প্রিয়তোষ অর্ককে দেখলেন, ‘তোমার নাম কি?’

    ‘অর্ক।’

    ‘বাঃ চমৎকার নাম। কি পড়ছ?’

    জিজ্ঞাসা করামাত্র মা এবং বাবার চোখ যে তার ওপর পড়ল সেটা টের পেয়ে একটু সংকুচিত গলায় উত্তর দিল অর্ক।

    ‘এখানকার ছেলেদের সঙ্গে মিশতে তোমার ভাল লাগে?’

    ‘কেন লাগবে না?’

    ‘এরা কি তোমার মত পড়াশুনো করে?’

    ‘না।’

    ‘তাহলে?’

    ‘তাহলে কি?’

    প্রিয়তোষ আবার পূর্ণদৃষ্টিতে অর্ককে দেখলেন। এই সময় মাধবীলতা প্লেটটা প্রিয়তোষের পাশের টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখল। প্রিয়তোষ সেদিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে মাথা নাড়লেন, ‘এসব করতে গেলে কেন?’

    ‘কিছুই তো করিনি।’ মাধবীলতার কণ্ঠস্বর নরম।

    ‘আমার ব্লাডসুগার চারশোতে উঠেছিল। মিষ্টি বিষের সমান। হ্যাঁ অনিমেষ, তোর নিজের কি করার ইচ্ছে?’

    ‘বুঝতে পারছি না। কিছু তো করতেই হবে।’

    প্রিয়তোষ উঠলেন, ‘আমি আরও দিন দশেক এখানে আছি। এর মধ্যে তুই চিন্তাভাবনা করে নে। এখানে আমাদের মত মানুষ বাঁচতে পারবে না। আর বউমা, তোমাকে যা বললাম, ভেবে দ্যাখো। ওর জন্যে যা করছ তার তুলনা নেই কিন্তু তোমার অসুস্থ শশুর কি দোষ করল।’ তারপর অর্কর দিকে তাকিয়ে হাসলেন, ‘তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।’

    অর্ক একটু উদ্ধতভঙ্গীতে তাকাল। প্রিয়তোষ বললেন, ‘কাল বিকেল তিনটে নাগাদ আমার হোটেলে ওকে পাঠিয়ে দিও বউমা।’

    অনিমেষ মনে করার চেষ্টা করল, ‘কোন হোটেল যেন?’

    ‘এবার আমি পার্ক হোটেলে উঠেছি। পার্ক স্ট্রীটে। রিসেপসনে আমার নাম বললেই হবে।’ ঘর ছেড়ে যাওয়ার ভঙ্গী করে আবার দাঁড়ালেন প্রিয়তোষ। তারপর মাধবীলতার দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমি তো তোমাদের কথা জানতাম না। আমাদের বংশের নতুন বউ প্রণাম করল অথচ শুধু হাতে বউ-এর মুখ দেখে যাব তা হয় না। কিন্তু—।’

    মাধবীলতার গলার স্বর কাঁপল, ‘আপনি আশীর্বাদ করুন তাতেই হবে। তাছাড়া আমি তো আর নতুন বউ নই।’

    ‘আমি তো তোমাকে প্রথম দেখলাম। আমাদের বংশের নিয়ম তুমি জানবে কি করে?’ প্রিয়তোষ বাঁ হাতের কড়ে আঙ্গুল থেকে আংটিটা খুললেন, ‘যদিও আমার আঙ্গুল সরু তবু তোমার হবে কিনা জানি না। পুরোনো জিনিস বলে কিছু মনে করো না।’

    মাধবীলতা একদৃষ্টে প্রসারিত হাতটিকে দেখল। আঙ্গুলের ডগায় আংটি থেকে আলো ঠিকরে বার হচ্ছে। খুব দামী পাথর নিঃসন্দেহে। সে অনিমেষের দিকে তাকাল, অনিমেষের মুখ মাটির দিকে।

    প্রিয়তোষ বললেন, ‘আশীবাদ প্রত্যাখ্যান করলে অপমান করা হয়।’

    শেষপর্যন্ত মাধবীলতা মাথা নাড়ল, ‘আপনি এসেছেন এই আমার সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ পাওয়া।’

    প্রিয়তোষ ধীরে ধীরে হাত নামিয়ে আংটিটাকে পকেটে ফেলে দিলেন। তারপর অনিমেষের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘যাওয়ার আগে জানাস।’

    মাধবীলতা অর্ককে ইশারা করল এগিয়ে দিতে।

    অন্ধকার গলিতে পা ফেলতে প্রিয়তোষের অসুবিধে হচ্ছিল। একটা চাপা ঘেমো গন্ধ যেন বাতাসে ভাসছে। অর্ক বলল, ‘আপনি আমার হাত ধরুন।’

    প্রিয়তোষ মাথা নাড়লেন, ঠিক আছে, তুমি সামনে হাঁটো।’

    ঈশ্বরপুকুর লেনে অবশ্য অন্ধকার নেই। রাস্তার আলোর তলায় এখন জোর তাসের আড্ডা বসে গেছে। প্রিয়তোষের ড্রাইভার গাড়ি ঘুরিয়ে রাখায় ওপারে যেতে হবে। অর্ক গাড়ি অবধি পেছন পেছন এল। দরজা খুলে প্রিয়তোষ বললেন, ‘কাল ঠিক সময়ে চলে এসো আমি অপেক্ষা করব।’

    ঠিক তখনই একটা চিৎকার ভেসে এল, ‘আরে অক্ক, মাল খেয়ে আমাদের ঢপ দিয়ে ফুটে গেলি, এখন দেখি কোন খানকির বাচ্চা তোকে বাঁচায়!’

    চকিতে পিছু ফিরে তাকিয়ে অর্ক দেখল কোয়া ফুটপাথে টলছে। দুটো পা কখনই স্থির থাকছে না। আচমকা মুখে রক্ত জমল। সে আড়চোখে দেখল প্রিয়তোষ বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। খুব লজ্জা লাগছিল অর্কর। এবং এই প্রথম ওইসব খিস্তি শুনে তার লজ্জাবোধ হল। প্রিয়তোষ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ছেলেটি কে?’

    ‘এখানে থাকে।’ অর্কর মনে হচ্ছিল প্রিয়তোষ যত তাড়াতাড়ি চলে যান তত ভাল।

    ‘তোমার বন্ধু?’ প্রিয়তোষ আড়চোখে ওকে দেখলেন।

    মাথা নাড়ল অর্ক, না।

    ‘তাহলে ওই ভাষায় ওকে কথা বলতে দিচ্ছ কেন?’

    ‘ওরা ওইরকম কথাই বলে।’

    ততক্ষণে কোয়া এগিয়ে এসেছে কাছে। জড়ানো গলায় সে চিৎকার করল, ‘চলে আয় বে! মাল পেলে আমি আজ ছাড়ছি না।’

    হঠাৎ অর্কের মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। সে কয়েক পা এগিয়ে প্রচণ্ড জোরে কোয়ার গালে চড় মারল। মাটিতে পড়ে গিয়েও কোয়া সমানে খিস্তি করে যাচ্ছিল। দৃশ্যটা দেখে ফুটপাথে লোক দাঁড়িয়ে পড়েছে। অর্ক কোয়াকে উপেক্ষা করে বলল, ‘আপনি যান।’

    প্রিয়তোষের মুখে হাসি ফুটল, ‘খুশি হলাম। কাল দেখা হবে।’

    গাড়িটা ট্রাম রাস্তার দিকে চলে যাওয়ার পর অর্ক কোয়াকে কলার ধরে টেনে দাঁড় করাল, ‘কি বলছিস বল!’

    টলতে টলতে কোয়া বলল, ‘তুমি আমাকে মারলে গুরু! আমার গায়ে হাত তুললে?’

    ‘বেশ করেছি।’

    ‘না গুরু। এর বদলা হবে। আমার গায়ে হাত তুলে কেউ-কেউ—!’ জড়িয়ে গেল গলা। অর্ক বলল, ‘বাড়ি যা।’

    ‘আগে বদলা চাই।’

    ‘ঠিক আছে বাড়ি যা।’

    ‘গুরু তুমি কথা দাও বদলা নেবে।’

    ‘ঠিক আছে, বাড়ি যা।’

    এবার কোয়া অর্ককে জড়িয়ে ধরল, ‘সব শালা হারামি, শুধু তুই ছাড়া।’ কথাটা শুনে হেসে উঠল দর্শকরা। অর্ক কোয়াকে নিয়ে গলির মধ্যে ঢুকল। কিন্তু গলিতে পা দেওয়ামাত্র জোর করে হাত ছাড়িয়ে নিল কোয়া। সে কিছুতেই আর এগোবে না। অনেক বোঝানোর পর অর্ক ওকে ছেড়ে দিয়ে পা বাড়াল। কোয়া আবার টলতে টলতে গলি ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

    ঘরে ঢুকে অর্ক দেখল মা চেয়ারে বসে বাবার সঙ্গে কথা বলছে। অর্ককে দেখামাত্র ওদের কথা থেমে গেল। অনিমেষ আচমকা প্রশ্ন করল, ‘হ্যাঁ রে, সেই ভদ্রলোক কেমন আছেন এখন?’

    ‘কোন ভদ্রলোক?’ অর্ক বুঝতে পারল না।

    ‘যাঁর অ্যাকসিডেণ্ট হয়েছিল, লেকটাউন না কোথায় থাকেন বলেছিলি।’

    ‘ভাল।’ কথাটা বললেও অর্ক খুব দুর্বল হয়ে পড়ল। সে জানে না বিলাস সোম এখনও বেঁচে আছে কি না। একবার খোঁজ নেওয়া খুব দরকার ছিল। আর তখনই তার হারখানার কথা মনে পড়ল। যে করেই হোক সেই মেয়েটার কাছ থেকে হারখানা উদ্ধার করতেই হবে।

    মাধবীলতা বলল, ‘তোর ছোটদাদু কি বলে গেলেন শুনেছিস?’

    ‘কি ব্যাপারে?’

    ‘জলপাইগুড়িতে যাওয়ার ব্যাপারে। আমি ভাবছি সেই ভাল, তুই আগে জলপাইগুড়িতে চলে যা, আমরা পরে এদিকটা সামলে যাব।’

    ‘কেন?’

    ‘ওখানে আরও ভাল থাকতে পারবি।’

    ‘দূর! ওখানে তোমাকেই কেউ চেনে না আমাকে চিনবে কেন?’

    মাধবীলতা এতক্ষণ তরল গলায় কথা বলছিল। এই বাক্যটি শোনামাত্র সে শক্ত হল। অর্ক তো ঠিকই বলছে। তার পরিচয় কি? অনিমেষের স্ত্রী? অথচ ওই বাড়ির লোক তাকে এত বছরে চোখেই দ্যাখেনি। অনিমেষ নিজে তার পরিচয় না করিয়ে দিলে কেউ স্বীকার করতেই চাইবে না। এত করেও সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে, পিতা স্বামী এবং সন্তান ছাড়া মেয়েদের আলাদা কোন ভূমিকা নেই, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। সমস্ত শরীরে অসহ্য জ্বলুনি কিন্তু কিছু করার নেই। সে অনিমেষের দিকে তাকাল। ভাবখানা এমন, হায়, তোমরা এদেশে বিপ্লব আনতে গিয়েছিলে অথচ তোমাদের ঘরগুলো সব অন্ধ সংস্কারে ঠাসা এই খেয়াল কি কখনও করেছ!

    কথাটা অনিমেষের কানেও কট করে বেজেছিল। হঠাৎ ওর চোখের ওপর একটা ছবি ভেসে উঠল। জ্যাঠামশাই যেদিন জেঠিমাকে নিয়ে নিঃসম্বল অবস্থায় জলপাইগুড়ির বাড়িতে এসেছিল চোরের মতন সেদিন ওরা কেউ জেঠিমাকে চিনতো না। কৌতূহল ছিল কিন্তু সেই সঙ্গে অবজ্ঞামেশানো দূরত্ব কম ছিল না। আজ মাধবীলতাকে নিয়ে এত বছর পরে জলপাইগুড়ির বাড়িতে ফিরলে সবাই কি ওকে মেনে নিতে পারবে? নতুন যে তাকে গ্রহণ করার জন্যে একটা মন সবসময় উদ্‌গ্রীব থাকে কিন্তু দীর্ঘসময় যে জুড়ে বসেছে তাকে মানতে অনেক অসুবিধে।

    মাধবীলতা বলল, ‘না। তবু তোমাকে যেতে হবে। এখানে থাকলে আমি তোমাকে মানুষ করতে পারব না। আজ কিছুক্ষণের জন্যে এসেও ওই মানুষটা তোমার স্বরূপ বুঝে গেছেন। এতোদিন কেউ আমাদের ওখানে যেতে বলেনি কিন্তু এখন উনি যখন বলছেন তখন আর বাধা কি!’ কথাটা শেষ করে সে অনিমেষের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুমি কি বল?’

    অনিমেষ গম্ভীর মুখে বলল, ‘দেখি!’

    কথাটা শোনামাত্র মাধবীলতার ঠোঁটে এক চিলতে হাসি চলকে উঠল। আর তখন অর্ক বলল, ‘লোকটা অ্যাদ্দিন আসেনি কেন?’

    অনিমেষ মুখ তুলল, ‘লোকটা নয়, উনি আমার কাকা। এতদিন বিদেশে ছিলেন। বয়স্ক লোকের সম্পর্কে যখন কথা বলবে তখন সমীহ করে বলতে শেখ।’

    অর্ক খোঁচা খেয়ে হজম করল, ‘উনি ছিলেন না কিন্তু আর যাঁরা ছিলেন তাঁরাও তো খবর নিতে পারতেন। এখন ডাকলেই যেতে হবে?’

    মাধবীলতা বলল, ‘তোমাকে এই নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। আমি দেখতে চাই তুমি নিজেকে শুধরে নিয়েছ।’

    আর তখনই দপ করে আলো জ্বলে উঠল। পুরো বস্তিটায় একটা চাপা উল্লাস উঠল। মাধবীলতা বলল, ‘যাও, হাতমুখ ধুয়ে এসো। কদিন তো একেবারে বই-এর সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। খেয়ে দেয়ে আমি যতক্ষণ খাতা দেখব ততক্ষণ তুমি পড়বে।’

    অর্ক মাথা নাড়ল, ‘আমার ঘুম পাচ্ছে।’

    মাধবীলতা বলল, ‘কোন কথা শুনতে চাই না। সারাদিন টো টো করার সময় খেয়াল থাকে না? মনে করো না চেহারায় বড় হয়ে গিয়েছ বলে সাপের পাঁচ পা দেখেছ। যাও।’

    অর্ক উঠল। তারপর দরজার দিকে যেতে যেতে চাপা গলায় বলল, ‘তুমি মাইরি মাঝে মাঝে ঠিক মাস্টারনি হয়ে যাও।’

    অর্ক বেরিয়ে যাওয়ামাত্র অনিমেষ হাসিতে ভেঙ্গে পড়ল। বালিস বুকে চেপে সশব্দে হেসে উঠল সে। মাধবীলতা গম্ভীর গলায় বলল, ‘চমৎকার!’ তারপর সামান্য হাসল, ‘আর কত কি শুনব! তুমি তখন এমনি করে হেসো।’

    আজ রবিবার। ভোরবেলা থেকে যেন একটা ঝড়ের মধ্যে কাটাল অর্ক। ছুটির দিনেও মায়ের সাতসকালে ওঠা চাই। কলঘরের কাজ সেরে চা বানিয়ে তাকে ডেকে তুলেছে। তারপর বাধ্য করেছে বই নিয়ে বসতে। ছোটবেলা থেকে চিৎকার না করে পড়ার অভ্যেস হয়েছে অর্কর। মা বলে ওটা নাকি ফাঁকিবাজি। সে পড়ছে কিনা তা আর কেউ টের পাবে না। পড়তে পড়তে অর্কর মনে হচ্ছিল ওগুলো পড়ার কোন মানে হয় না। কবে কে কখন যুদ্ধ করেছিল, কে কি রকম ভাল শাসক ছিল তা এখন তার জেনে কি লাভ! ওসব যাদের দরকার তারা পড়ুক। পড়তে পড়তে ওর নজর ছিল ঘরের কোণে রাখা খালি দুধের কৌটোর দিকে। ওর মধ্যে কাল রাত্রে এক ফাঁকে টাকাগুলো লুকিয়ে রেখেছে। বইপত্তর গোটালো অর্ক।

    মাধবীলতার খাতা দেখা হয়ে গিয়েছিল। উনুনে এখন সুজি ফুটছে। ছেলেকে উঠতে দেখে বলল, ‘কি হল?’

    ‘আর পড়তে ইচ্ছে করছে না।’

    ‘কেন? এটুকু পড়লে হবে?’

    ‘হবে।’

    মাধবীলতা চকিতে ছেলের দিকে তাকাল, ‘মুখে মুখে তর্ক করছিস?’

    ‘তর্ক করছি না তো। আমার এখন পড়তে ভাল লাগছে না।’ অর্ক বইপত্র টেবিলে রেখে দরজায় গিয়ে দাঁড়াতেই দেখল অনু এদিকে আসছে। তাদের ঘরে এই বস্তির কেউ খুব প্রয়োজন ছাড়া আসে না। সে একটু অবাক গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কি চাই?’ অনু বোধ হয় অর্ককে ঘরে আশা করেনি। একটু থতমত হয়ে বলল, ‘না, কিছু না।’ তারপর ফিরে যাওয়ার জন্যে ঘুরে দাঁড়াল।

    ‘তুমি কিছু বলবে?’

    ‘থাক, পরে আসব।’

    ভেতর থেকে মাধবীলতা জিজ্ঞাসা করল, ‘কে রে?’

    অর্ক উত্তর দিল, ‘অনু। কিছু বলতে এসে ফিরে যাচ্ছে।’

    মাধবীলতা এবার দরজায় চলে এল, ‘তুই ভেতরে যা।’

    অর্ক ঘরে ঢুকে গেলে অনু এগিয়ে এল মাধবীলতার কাছে। মাধবীলতা জিজ্ঞাসা করল, ‘কি ব্যাপার?’

    একটু ইতস্তত করে অনু বলল, ‘বউদি, একটা উপকার করবেন?’

    ‘কি?’

    ‘আপনাদের স্কুলে লোক নিচ্ছে?’

    ‘আমাদের স্কুলে?’ মাধবীলতা অবাক হল, ‘টিচার?’

    ‘না। অফিসের কাজ করবার লোক।’

    ‘জানি না, কেন বল তো?’

    ‘আমার চেনাশোনা একজন দরখাস্ত করেছে, তাই।’

    মাধবীলতা বলল, ‘দ্যাখো, আমি প্রথমত জানি না কোন ক্লারিকাল স্টাফ নেবে কিনা! আর নিলেও ও-ব্যাপারে আমার কোন হাত নেই।’

    অনু মাথা নাড়ল, ‘কিন্তু আপনাদের স্কুল যখন তখন সবার সঙ্গে আপনার নিশ্চয়ই চেনাজানা আছে। একটু চেষ্টা করলে হয়তো কাজটা হয়ে যাবে।’

    মাধবীলতা দেখল অনুর মুখে আকুতি স্পষ্ট। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘কে দরখাস্ত করেছে?’

    অনু এবার ঢোক গিলল, ‘আমার পরিচিত একজন।’

    ‘তোমার বাবা চেনেন তাকে?’

    নিঃশব্দে মাথা নাড়ল অনু, না।

    মাধবীলতা মনে মনে হাসল, হায় রে! সেই এক ভুল, মেয়েগুলো এমনি করেই মরে! তারপরেই সে নিজেকে সংশোধন করার চেষ্টা করল, এভাবে না মরেও যে মেয়েদের কোন উপায় নেই।

    ‘তোমাদের আত্মীয় নয় যখন তখন এত চিন্তা করছ কেন?’

    এবার অনু তাকাল তারপরেই মুখ নামিয়ে নিয়ে বলল, ‘ওর একটা কাজ না হলে আমার কোনদিন বিয়ে হবে না বউদি।’

    মাধবীলতা এবার যেন ছোট্ট ধাক্কা খেল। এই মেয়েটিকে সে অনেকদিন থেকে দেখছে। নেহাত অশিক্ষিত নির্বোধ এবং শরীরে বেড়ে ওঠা মেয়ে বলেই মনে হত। ও যে জীবনের চরম সত্য এত নগ্নভাবে জেনে গেছে তা ভাবতে পারেনি মাধবীলতা। তার বলতে ইচ্ছে করছিল, চাকরি হয়ে যাওয়ার পর সেই ছেলে ওকে বিয়ে নাও করতে পারে। কিন্তু ওর মনে সন্দেহের কাঁটাটা ঢুকিয়ে দিয়ে কি লাভ! সে হাসল, ‘ঠিক আছে, তুমি একটা কাগজে ছেলেটির নাম ঠিকানা লিখে দিয়ে যেও। আমি কথা দিতে পারছি না তবে যাঁরা চাকরি দেবেন তাঁদের অনুরোধ করব।’ অনুপমার চলে যাওয়া পর্যন্ত মাধবীলতা ওর দিকে তাকিয়ে ছিল; হঠাৎ শুনল, ‘সরো।’

    ও দেখল অর্ক সেজেগুজে বের হচ্ছে। বিরক্ত গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কোথায় যাচ্ছিস?’

    ‘হাসপাতালে।’

    ‘এত ঘন ঘন হাসপাতালে যাওয়ার কি দরকার?’

    ‘বাঃ, লোকটা বেঁচে আছে কিনা দেখব না?’

    মাধবীলতা ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল অনিমেষ সেই একই ভঙ্গীতে মুখের ওপর পথের পাঁচালি রেখে শুয়ে আছে। সে গম্ভীর গলায় বলল, ‘সুজি খেয়ে যা।’

    খাওয়ার মোটেই ইচ্ছে ছিল না অর্কর। খুব দেরি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মাকে এড়ানোর জন্যে ও গরম সুজিতে হাত দিল। অনিমেষের জন্যে প্লেটে ঢালতে ঢালতে মাধবীলতা বলল, ‘তুই দাঁড়া, আমি তোর সঙ্গে যাব।’ অর্কর গলায় যেন আচমকা সুজি আটকে যাচ্ছিল, কোন রকমে বলল, ‘তুমি যাবে মানে?’

    ‘বাঃ, তোর মা হিসেবে আমারও তো দেখতে যাওয়া উচিত।’

    ‘দূর! ওরা খুব বড়লোক, ওখানে তুমি গিয়ে কি করবে?’

    ‘বড়লোক তো কি হয়েছে? তুই রোজ যাচ্ছিস কেন?’

    অর্ক দেখল, এইভাবে কথা বললে সে মায়ের সঙ্গে পেরে উঠবে না। তাই কথা চাপা দেবার জন্যে বলল, ‘বেশ, আমি গিয়ে দেখে আসি টেঁসে গেল কিনা তারপর তুমি যেও।’

    মাধবীলতাকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে চটপট ডিশ নামিয়ে অর্ক বেরিয়ে এল বাইরে। ওর হঠাৎ খেয়াল হল, সকাল থেকে বাবার গলা শোনা যায়নি। কাল রাত্রে বুড়োটা আসার পর থেকেই যেন বাবার হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে গেছে।

    ট্রামরাস্তায় চলে এসে চারপাশে তাকাল অর্ক। না, ঝুমকি এখনও আসেনি। ওর বাড়িতে খোঁজ নিয়ে এলে ভাল হত। ঘড়ি-হাতে একটা লোককে সময় জিজ্ঞাসা করে অর্ক সমস্যায় পড়ল। পনের মিনিট দেরি হয়ে গিয়েছে। ঝুমকি কি ঠিক সময়ে এসে চলে গেছে? তার জন্যে অপেক্ষা করেনি? অর্ক কি করবে বুঝতে পারছিল না এমন সময় ন্যাড়াকে দেখতে পেল। মাতৃদায়ের কোন চিহ্ন নেই শরীরে। তবে গা খালি। সিগারেটের দোকানের সামনে মাটিতে পোঁতা বেঞ্চিতে বসে বিড়ি খাচ্ছে লুকিয়ে। সে চিৎকার করল, ‘এই ন্যাড়া?’

    ন্যাড়া চকিতে বিড়িটাকে হাতের আড়ালে সরিয়ে মাথা নাড়ল ‘কি?’

    কয়েক পা এগিয়ে অর্ক জিজ্ঞাসা করল, ‘ঝুমকিকে দেখেছিস?’

    আবার মাথা নাড়ল ন্যাড়া। তারপর ধোঁয়া ছেড়ে বলল, ‘একটু আগে চার নম্বর ট্রামে উঠেছে।’

    চার নম্বর। তার মানে চিৎপুরেই গেছে। ঠিকানাটা মনে করার চেষ্টা করল অর্ক। পনের মিনিট অপেক্ষা করতে পারল না, আচ্ছা হারামি! ডান দিকে তাকাল সে, একটাও ট্রাম নেই। ট্রাম ছাড়া চিৎপুরে যাওয়া অসম্ভব। অস্বস্তিতে খানিকটা এগোতেই টালা পার্কের দিক থেকে আসা একটা ট্যাক্সি থেকে কেউ যেন চেঁচিয়ে কিছু বলল। অর্ক দেখল ট্যাক্সিটা একটু এগিয়ে থেমে গেছে। এর পেছনের জানলায় সুরুচি সোমের মুখ, হাত নেড়ে ডাকছেন।

    দৌড়ে এল অর্ক এবং এসেই ওর বুক ধক্‌ করে উঠল। না এলেই পারত। সুরুচি বললেন, ‘কি ব্যাপার, তোমার কোন খবর নেই কেন?’

    ‘এমনি।’

    ‘বাঃ, বেশ ছেলে যা হোক। এদিকে ও তো তোমার জন্যে হেদিয়ে মরচে। দুবেলা জিজ্ঞাসা করছে তুমি এসেছ কিনা!’

    আতঙ্কিত গলায় অর্ক জানতে চাইল, ‘উনি কেমন আছেন?’

    ‘ভাল। মনে হচ্ছে আজ বিকেলে ছেড়ে দেবে। উঠে এসো।’

    মাথা নাড়ল অর্ক, ‘না। খুব জরুরী কাজে যাচ্ছি। বিকেলে যাব।’

    ‘ঠিক যাবে তো? একদিনের আলাপে বিলাস দেখছি তোমাকে খুব পছন্দ করেছে। আমি ওকে বলব তুমি আসছ।’

    ট্যাক্সিটা চলে গেলে অর্ক অবশ হয়ে গেল। বিকেলে তার পার্ক হোটেলে যাওয়ার কথা, মনে ছিল না। কিন্তু লোকটা সুস্থ হয়ে গিয়েছে। আর কোন উপায় নেই, যেমন করেই হোক হারখানা ফেরত চাই। অন্যমনস্ক অর্ক হঠাৎ দেখল একটা চার নম্বর ট্রাম সামনে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

    মরিয়া হয়ে হ্যাণ্ডেল ধরার জন্যে সে ছুটল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }