Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. তিনটে শরীর উদ্দাম নেচে যাচ্ছে

     একুশ

    তিনটে শরীর উদ্দাম নেচে যাচ্ছে। তাদের লম্বা লম্বা চুল কিন্তু সরু লিকলিকে লেজের মত ঝাপটা মারছে সমানে। মোক্ষদাবুড়ির মত চুপসে যাওয়া বুক, ডাইনিদের মত মুখ আর বিশাল বিশাল নখ নিয়ে নাচতে নাচতে ঘিরে ধরেছে তাকে। স্পষ্ট সে শুনতে পাচ্ছে ওরা হাসছে, যেন হাসির সুরে বলছে, পেয়েছি পেয়েছি। কোথাও একটা বাজনা বাজছে খুব দ্রুত লয়ে। হিলহিলে সাপের মত তিনজনের হাত কাঁপতে কাঁপতে নেমে এল নিচে। ক্রমশ গলা লক্ষ্য করে সেগুলো এগিয়ে এল। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে উঠল অর্ক। দম বন্ধ হয়ে আসছে, নিঃশ্বাস নেবার জন্যে পৃথিবীতে যেন আর বাতাস নেই। সে ধড়মড় করে উঠে বসার চেষ্টা করল কিন্তু শরীর এক ইঞ্চি উঠতে পারল না। বুকের ভেতর যেন একটা ভারী কিছু চেপে বসেছে এবং অর্ক সেটাকে কিছুতেই নড়াতে পারছে না। প্রচণ্ড চেষ্টার পর সে কোনরকমে যখন উঠে বসল তখন সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে গিয়েছে। নিঃশ্বাস ভারী। অন্ধকারে চারপাশে তাকিয়েও বুঝতে সময় লাগল যে এখন ঘরের মেঝেয় শুয়ে। ওপাশে মা আর খাটের ওপর বাবা। সামান্য নাক ডাকার শব্দ হচ্ছে খাট থেকে। অন্য সময় এই শব্দটায় ঘুম আসতে চায় না কিন্তু এখন খুব আরাম লাগল। যেন একটা পরিচিত অবলম্বন স্থিত হবার জন্যে।

    দুহাতে মুখ মুছল অর্ক। আর তখনই মাধবীলতার গলা ভেসে এল, ‘কি হয়েছে? অর্ক কথা বলার চেষ্টা করেও পারল না। এখনও তার শরীর কাঁপছে। মাধবীলতা আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘উঠে বসলি কেন? স্বপ্ন দেখছিলি?’

    অর্ক মুখ ফেরালো। তারপর কোনরকমে বলতে পারল, ‘মা—’

    মাধবীলতা অবাক হল। এই গলা স্বাভাবিক নয়, আবছা অন্ধকারেও ছেলেটাকে অন্যরকম দেখাচ্ছে। সে দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে ছেলের পাশে এসে বসে জিজ্ঞাসা করল, ‘কিরে, কি হয়েছে?’ বলে ওর কাঁধে হাত রাখল।

    অর্কর উত্তেজনা ততক্ষণে কমে এসেছে। সে ঘাড় নাড়ল, ‘কিছু না।’

    ‘কিছু না তো অমন করছিলি কেন? স্বপ্ন দেখছিলি?

    ‘হ্যাঁ।’

    মাধবীলতা হেসে ফেলল। এতবড় ছেলেটা একদম শিশুর মত ভঙ্গী করছে। একটু ঠাট্টার গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কি স্বপ্ন? ভূত প্রেতের?’

    ততক্ষণে অর্ক চেতনা ফিরে পেয়েছে। কিন্তু সেই দম-বন্ধ-হওয়া অনুভূতিটাকে সে তখনও যেন টের পাচ্ছিল। স্বপ্নটার কথা মাকে বলা যায় না। কিন্তু এই যে মা তার কাঁধে হাত রেখে এত আন্তরিকভাবে কথা বলছে এটাকেও হারাতে চাইছিল না সে। ওর মনে হল অসুখের সময় ছাড়া সুস্থ অবস্থায় মা অনেকদিন তার কাছে এমনভাবে আসেনি। সে মায়ের পাশে বালিশটাকে নিয়ে এসে শুয়ে পড়ে বলল, তুমি আমার পাশে শোও। মাধবীলতা এবার সত্যিই বিস্মিত হল, ‘কেন?’

    ‘আমার খুব ইচ্ছে করছে।’ অর্ক একটা হাত মায়ের কোলে রাখল। মাধবীলতার মুখে এক মুহূর্ত কোন কথা এল না। হঠাৎ অর্ক এত ছেলেমানুষ হয়ে গেল কি করে তা সে বুঝতে পারছিল না। বুকের মধ্যে যে আবেগটা একটু একটু করে শুকিয়ে যাচ্ছিল সেটা এখন যেন প্রাণ ফিরে পেল। অর্ক আবার ডাকল, ‘শোও না। মাধবীলতা ছেলের মাথায় হাত রেখে বলল, ‘শুতে পারি যদি তুই একটা প্রতিজ্ঞা করিস!’

    ‘কি প্রতিজ্ঞা।’ চিৎ হয়ে শোওয়া অর্ক একটুও নড়ল না।

    ‘তুই কখনও আর ওইসব খারাপ কথা বলবি না। ওগুলো শুনলেই আমার বমি পায়।

    অর্ক সিঁটিয়ে গেল। মায়ের মুখ থেকে এইরকম কথা সে এই মুহূর্তে আশা করেনি। কোনদিন খিস্তি করবো না এমন প্রতিজ্ঞা সে কিভাবে করবে? বিলু কোয়াদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেই ওগুলো আপনা থেকেই জিভে চলে আসে। তাছাড়া ওরা যখন খিস্তি দিয়ে কথা বলবে তখন চুপ করে থাকা যায় না। সে একটু ভেবে নিয়ে মাধবীলতাকে বলল, ‘চেষ্টা করব।’

    ‘উঁহু! ওরকম ঘোরানো কথা আমি শুনতে চাই না। তোকে স্পষ্ট বলতে হবে।’

    অর্ক অসহায় চোখে মায়ের দিকে তাকাল। এখন একা শুতে ভয় ভয় করছিল এটা ঠিক কিন্তু মা তার পাশ থেকে উঠে যাক এটা সে কিছুতেই চাইছিল না। সে যদি প্রতিজ্ঞা করার পরও ভুল করে বলে বসে! তৎক্ষণাৎ ওর চোখে তিন বুড়ির নৃত্যদৃশ্যটা ভেসে এল। শিউরে উঠে অর্ক চোখ বন্ধ করল। তারপর মাধবীলতার শরীরে মুখ রেখে বলল, ‘আমি জেনেশুনে আর খারাপ কথা বলব না মা।’

    নিজের বালিশ অর্কর পাশে রেখে শুয়েছিল মাধবীলতা। খাটের ওপরে অনিমেষ নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। আজকাল ঘুমালেই নাক ডাকে অনিমেষের। শুধু সেই শব্দে ফের ঘুম আসছিল না তা নয়, মাধবীলতা আর একটা নতুন জিনিস আবিষ্কার করল। অর্ক সামান্য বড় হবার পরেই তার একা শোওয়া অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। চোখের সামনে ছেলেটাকে বড় হতে দেখেছে সে। কিন্তু এভাবে পাশাপাশি আর শোয়নি। অর্কর শরীর থেকে এক ধরনের পুরুষালি গন্ধ বের হচ্ছে। ছেলেটা তার পেটে হাত রেখে শুয়েছিল। যতটা না ওজন তার চেয়ে অস্বস্তিতে সে বলেছিল, ‘হাতটা সরা পেটে লাগছে। অর্ক যেন খানিকটা অনিচ্ছায় হাত সরিয়ে তার গা ঘেঁষে শুয়েছে এখন। মাধবীলতার হঠাৎ কান্না পেয়ে গেল। যে ছেলেকে সে পেটে ধরেছে, এত কষ্ট করে বড় করেছে তার পাশেও সে স্বচ্ছন্দে শুয়ে থাকতে পারছে না কেন? কেন এত অস্বস্তি হচ্ছে? সেটা কি ছেলে একটা আস্ত পুরুষমানুষ হয়ে গেছে বলে? কথাটা ভাবতে গিয়েই হেসে ফেলল মাধবীলতা নিঃশব্দে। অর্ক যখন শিশু ছিল তখন ওর সামনে জামাকাপড় পাল্টাতে একটুও সঙ্কোচ হতো না তার। কিন্তু এখন তো মরে গেলেও পারবে না। এই শোওয়ার অস্বস্তিটা বোধ হয় সেই একই কারণে।

    মায়ের গা-ঘেঁষে শুয়ে অর্ক সেই মিষ্টি গন্ধটাকে টের পেল। কোন পাউডার সেন্টের গন্ধ নয়, ছেলেবেলায় মায়ের শরীর থেকে অদ্ভুত একটা গন্ধ বেরিয়ে তার নাক জুড়ে থাকতো। গন্ধটা ক্রমশ বুক ভরিয়ে দিচ্ছিল তার। কিন্তু চোখ বন্ধ করে পড়ে থেকেও কিছুতেই আর ঘুম আসছিল না। হঠাৎ তার মনে হল স্বপ্নের তিন বুড়িকে সে চিনতে পেরেছে। মিসেস সোমের তিন বান্ধবী যখন নাচছিলেন তখন তাঁদের ওই রকমই দেখাচ্ছিল। ওই তিনজনই স্বপ্নে ডাইনি হয়ে গিয়েছে। বুকের ভেতর আবার দমদম করে উঠতেই মাকে ছুঁয়ে সে শান্ত হল। কিন্তু তখনই শরীর গুলিয়ে উঠল ওর। ওই তিনজন প্রৌঢ়া মহিলা কি কুৎসিত ভঙ্গীতেই না নাচছিলেন। তাছাড়া ওঁদের ভাবভঙ্গীর মধ্যে একটা কিছু রহস্য ছিল। তাকে গোপনে যেতে বলছিলেন কেন? গা ঘিনঘিন ভাবটা বেড়ে গেল অর্কর! ওই মহিলারা কেউ ভাল নয়। অথচ ওদের সঙ্গে থাকার সময় এটা একবারও তেমন করে মনে হয়নি তার। এই স্বপ্নটা দেখার পরে মনে হচ্ছে ওরা তাকে ব্যবহার করতে চায়। এই তিনজন মহিলা মায়ের মত নয়। এমন কি মিসেস সোমও। তা না হলে অন্ধকার বাড়িতে একা বিছানায় শুয়ে কাঁদছেন প্রায় বিবস্ত্র হয়ে অথচ পাশের ঘরেই বিলাস সোম অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। ওই তিনজন যার বন্ধু সে কিছুতেই ভাল হতে পারে না। অর্কর মনে হল সে যেন একটা মুরগি আর তিনটে শেয়াল তার তিন পাশে বসে জিভ কাটছে। কিছুদিন আগে বিলু একটা সিনেমার গল্প বলেছিল। সেটা এইরকম। বুড়ি মেয়েরা নাকি অল্পবয়সী ছেলেদের খেয়ে ফেলে ছুঁড়ে ফেলে দেয় একসময়। ব্যাপারটা যত ভাবছিল তত গা-বমি ভাবটা বাড়ছিল। তারপর একসময় আর না পেরে উঠে বসল।

    মাধবীলতা ছটফটানিটা টের পাচ্ছিল। ছেলে উঠে বসতেই জিজ্ঞাসা করল, ‘কি হয়েছে?’

    ‘বাইরে যাব।’ অর্ক চট করে উঠে দরজা খুলে অন্ধকারে বেরিয়ে গেল। মাধবীলতা এরকম আচরণে অবাক হয়ে তাড়াতাড়ি কাপড় সামলে বেরিয়ে এল ঘর ছেড়ে। এবং তখনই সে বমির শব্দ শুনতে পেল। অনুদের বাড়ি পেরিয়ে আসতেই দেখতে পেল নর্দমার ধারে দাঁড়িয়ে অর্ক বমি করছে। তবে মুখ থেকে কিছুই বের হচ্ছে না সামান্য জল ছাড়া। মাধবীলতা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ছেলেকে ধরল। সে এর মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছিল না। স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়ে ছেলেটা পাশে শুতে বলল। বেশ আবদেরে ভঙ্গীতে শুয়েই ছিল এতক্ষণ। হঠাৎ এভাবে ছুটে এসে বমি করছে কেন? এবার সামান্য কিছু উঠল।

    অর্ককে হাঁপাতে দেখে মাধবীলতা জিজ্ঞাসা করল, ‘আর হবে?’

    চোখ বন্ধ অর্কর। মুখটা ওপরে তুলে শেষ পর্যন্ত মাথা নাড়ল, না। মাধবীলতা বলল, ‘ঘরে চল। ওহো একটু দাঁড়া। কল থেকে অসাড়ে জল পড়ছিল। মাধবীলতা আঁজলা করে তাই তুলে ছেলের মুখে ঘাড়ে বুলিয়ে দিল। তারপর ধরে ধরে নিয়ে এল ঘরে।

    অনিমেষ তখনও ঘুমাচ্ছে। ছেলেকে শুইয়ে দিয়ে পাখা নিয়ে এল মাধবীলতা। মৃদু বাতাস করতেই আবার বমির দমক এল। মাধবীলতা দ্রুত একটা খালি কৌটো ওর মুখের কাছে এগিয়ে ধরতেই সেটা ব্যবহার করল অর্ক। মাধবীলতা ওর বুকে পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে গিয়ে মনে হল গা-টা গরম গরম। সে অর্কর মুখের ওপর ঝুঁকে বলল, ‘কিছু খেয়েছিলি বাইরে?’ অর্কর কষ্ট হচ্ছিল খুব। সে মাথা নাড়ল, না।

    মাধবীলতা উঠে আলো জ্বাললো। তারপর নিজের মনেই বিড়বিড় করল, ‘অসুস্থ শরীর তবু বেরুনো চাই। কটা দিন ঘরে বসে থাকলে পৃথিবীটা যেন আর চলছিল না।’

    অর্ক কিছুতেই গা গুলানি ভাবটাকে এড়াতে পারছিল না। চোখ বন্ধ করলেই তিনটি বীভৎস বুড়ি অশ্লীলভাবে নৃত্য শুরু করে দেয় চোখের পাতায়। আর তখনই বমি বমি বোধটা বেড়ে ওঠে। মাধবীলতা পাশে বসে বলল, ‘কেমন লাগছে?’ ‘বমি পাচ্ছে মা।’ অর্ক দু’হাতে মাধবীলতাকে আঁকড়ে ধরল।

    মাধবীলতা অসহায় চোখে ছেলের দিকে তাকাল। হঠাৎ অর্ক যেন ছোট্টটি হয়ে গিয়েছে। সেই পুরুষালি গন্ধ এবং শরীরের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে আলাদা হওয়া ব্যাপারটা এখন যেন উধাও। সে ছেলের শরীর হাতের বন্ধনে রেখে বলল, ‘একটু ঘুমাবার চেষ্টা কর বাবা, আমি হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু পরমুহূর্তেই অর্কর শরীরটা আবার কেঁপে উঠল, ‘বমি পাচ্ছে মা।’

    মাধবীলতা কৌটোটা এগিয়ে দিল, কিন্তু কিছুই বের হল না। এবার প্রচণ্ড ঘাবড়ে গেল মাধবীলতা। অর্কর হাত এবং পা কেমন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগছে অথচ শরীরে উত্তাপ। সে অনিমেষকে ডাকল, ‘শুনছো! এই একটু উঠবে?

    অনিমেষ ঘুমভাঙ্গা মাত্র উত্তেজনাটা ঠাহর করতে পারল না। কটা বিরক্তিসূচক শব্দ উচ্চারণ করামাত্র মনে হল মাধবীলতার গলাটা অন্যরকম লাগছে। সে ফ্যাসফেসে গলায় বলল, ‘কি হয়েছে?’

    ‘ছেলেটা কেমন করছে! তুমি দ্যাখো, আমি ডাক্তারকে ডেকে আনি।’ মাধবীলতা শাড়িটাকে ঠিকঠাক করে নিচ্ছিল।

    ‘কটা বাজে?’

    ‘জানি না। দুটো তিনটে হবে হয়তো।’

    ‘এত রাত্রে তুমি একা বাইরে যাবে, পাগল হয়েছ?’

    ‘কে যাবে?’

    ‘কেন, খোকার কি হয়েছে?’

    ‘বমি করছে বারবার আর হাত পা কেমন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগছে।’

    ‘সেকি!’ অনিমেষ হাত বাড়িয়ে ক্রাচ টেনে নিল, তোমার যাওয়া ঠিক হবে না, আমি যাচ্ছি। ঠিক কোন জায়গায় বলে দাও।

    মাধবীলতা চমকে উঠল, ‘তুমি যাবে? পাগল!’

    ‘আঃ, বোকামি করো না। আমি যখন ট্রাম রাস্তা পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারছি তখন পাড়ার ডাক্তারকে ডেকে আনতে নিশ্চয়ই পারব।’ অনিমেষ টলতে টলতে মেঝেতে দাঁড়াল।

    অনিমেষের গলায় যে জেদ তা মাধবীলতাকে দ্বিধায় ফেলল । বলল, ‘তুমি কি পারবে?’

    ‘কথা বাড়াচ্ছ শুধু শুধু। রাস্তায় এখন গাড়ি নেই অতএব মুশকিল কি আছে। আমি এখানে থাকলে খোকাকে ভাল করে দেখতেও পারব না। তোমারই থাকা উচিত।’

    বেশ অনিচ্ছাতেই মাধবীলতা ডাক্তারের বাড়িটা বুঝিয়ে দিল অনিমেষকে। দরজা পেরিয়ে বাইরে যাওয়ার মুহূর্তে অনিমেষ শুনল ছেলে ঘোরের মধ্যে বলছে, ‘বমি পাচ্ছে, মা।’

    ঠুক ঠুক করে সরু গলি দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে অনিমেষ তিন চারবার দাঁড়ালো। কোমরে খচ খচ করছে। বেশ চিনচিনে ব্যথা! এটা আবার এল কোত্থেকে? দাঁড়ালে টের পাওয়া যাচ্ছে না, হাঁটলেই হচ্ছে। গলিতে একটাও মানুষ নেই। তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুর লেন এখন ঘুমাচ্ছে। গলির মুখে কেউ একজন বসে আছে। একটা গোল পুঁটুলির মত। অনিমেষ পাশে আসা সত্ত্বেও সে মুখ তুলল না। মোক্ষদাবুড়ি। ‘কে যায়’ প্রশ্নটা আজ শুনতে পেল না অনিমেষ। নাতি মারা যাওয়ার পর থেকেই বুড়ি দিনরাত এরকম আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে থাকে গলিতে। অনিমেষ ফুটপাথে উঠে এল। খাঁ খাঁ করছে ঈশ্বরপুকুর লেন। এই দৃশ্য কখনও চোখে পড়েনি তার। রাস্তায় আলোগুলোকে বিবর্ণ দেখাচ্ছে। চায়ের দোকানটাও বন্ধ শুধু তার বাইরে গুঁড়ো কয়লা চাপা দেওয়া উনুনটা একটা লালচে আভা ছড়াচ্ছে। ফুটপাথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটু গা ছমছম করলেও অনিমেষের বেশ ভাল লাগছিল। হঠাৎ মনে হল, সমস্ত পৃথিবীটাই যদি এইরকম নিঃসঙ্গ, নির্জন হত। অনেক, অনেকদিন পরে স্বৰ্গছেঁড়া চা বাগানের নদীর ধারটার কথা মনে হল আজ।

    বন্ধ দরজায় তিন, চারবার আওয়াজ করেও কোন সাড়া পাওয়া গেল না। অনিমেষ এবার সজোরে কড়া নাড়ল। শব্দটা নিস্তব্ধ রাত্রে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল অনিমেষের। যেন ঈশ্বরের দরজায় বারংবার মাথা ঠুকেও তার দয়া পাওয়া যাচ্ছে না; সে এবার চিৎকার করল মরিয়া হয়ে, ‘ডাক্তারবাবু।’

    কোন সাড়া নেই। অনিমেষ আবার চিৎকার করার পর ওপরের একটা ঘরে আলো জ্বলল, ‘কে?’ জানলায় একজন মহিলা এসে দাঁড়ালেন। পেছনে আলো থাকায় মহিলার মুখ দেখতে পাচ্ছিল না অনিমেষ। অনেকদিন বাদে এমন গলা খুলে চিৎকার করার পর বুকের ভেতরটা কেমন যেন হালকা হালকা লাগছে। সে গলা তুলে বলল, ‘ডাক্তারবাবুকে ডেকে দেবেন?’

    ‘কি হয়েছে? ওঁর শরীর ভাল নেই।’

    ‘আমার ছেলে খুব অসুস্থ। একবার যদি দয়া করে আসেন।’ অনিমেষ বিনীত হল।

    মহিলা জানলা থেকে সরে গেলেন। তারপর মিনিট দুয়েক জানলা ফাঁকা। অনিমেষ ভেবে পাচ্ছিল না সে কি করবে। লোকটা যদি না যায় তাহলে জোর করার তো কোন উপায় নেই। এই সময় খালিগায়ে লুঙ্গিপরা এক ভদ্রলোক জানলায় এসে দাঁড়ালেন, ‘কি হয়েছে?’

    ‘হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে, শরীর গরম আর খুব বমি করছে।’ ওপর দিকে মুখ তুলে অনিমেষ নিবেদনের ভঙ্গীতে জানাল। এইসময় মহিলা আবার ডাক্তারের পাশে এসে দাঁড়ালেন। ডাক্তার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কোথায় বাড়ি?’

    ‘তিন নম্বরে।’

    ‘ওঃ, বস্তি! ডাক্তারের প্রতিক্রিয়া খুব সহজেই বোঝা গেল। বোধ হয় কোন অজুহাত দেখাতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তার আগেই মহিলা বলে ফেললেন, ‘খোঁড়া লোকটা নিশ্চয়ই খুব বিপদে পড়ে এসেছে। তোমার যাওয়া উচিত।’

    লুঙ্গির ওপরে পাঞ্জাবি চাপিয়ে ডাক্তার বেরিয়ে এলেন, ‘রোগী আপনার কে হয়?’

    ‘ছেলে।’ অনিমেষ চেষ্টা করছিল ডাক্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাঁটতে। কিন্তু একটু জোর পড়তেই চিনচিন ব্যথাটা শুরু হল। সে দাঁড়িয়ে যেতেই ডাক্তার মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি হল? অনিমেষ দেখল ডাক্তার তার পায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন?’

    ‘কিছু না, চলুন।’

    ‘হাঁটুতে কষ্ট হচ্ছে?’

    ‘হ্যাঁ, সামান্য।’

    ‘কি করে হল এরকম? আপনাকে কখনও এ পাড়ায় দেখেছি বলে মনে পড়ছে না।’ অনিমেষ হাসবার চেষ্টা করল কিন্তু মুখে কিছু বলল না। নিজের ঘরের দরজা অবধি আসতেই ঘেমে নেয়ে গিয়েছিল অনিমেষ। ঘরে ঢুকে মাধবীলতাকে বলল, ‘ডাক্তারবাবু এসেছেন।’ তারপর খাটে প্রায় এলিয়ে বসল। শরীরটার যে কিছুই অবশিষ্ট নেই সেটা বোঝা যাচ্ছে। মাধবীলতা ডাক্তারকে অর্কর কাছে নিয়ে এল। ডাক্তার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কি হয়েছে বলুন?’ মাধবীলতা যা যা ঘটেছিল সবই বলল। ডাক্তার নাড়ি দেখলেন। অর্কর জ্বর বেশ বেড়েছে। ঘোরের মধ্যে মাঝে মাঝেই বলছে, ‘বমি পাচ্ছে, মা। ডাক্তার সেটা শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কখন শেষবার বমি করেছে? ওই কৌটোটা দেখি।’

    ‘ও যখন আপনাকে ডাকতে গেল তার একটু আগে। তারপর এক কথা মাঝে মাঝে বলছে কিন্তু আর বমি করছে না।’ মাধবীলতা কৌটোটাকে দেখালো। ডাক্তার বললেন, ‘কিছুই তো বের হয়নি। বাইরে কিছু খায়নি বললেন না?’

    ‘হ্যাঁ। তাই বলেছে।’ মাধবীলতা উদগ্রীব হয়ে তাকাল। কিছুক্ষণ পরীক্ষা করার পর ডাক্তার বললেন, এখন তো কোন ওষুধের দোকান খোলা পাবেন বলে মনে হচ্ছে না। শ্যামবাজারের মোড়ে—। না, থাক। ওটা বোধ হয় খোলা থাকে না। আমি দুটো ট্যাবলেট দিয়ে যাচ্ছি। দু’ ঘণ্টা পর পর দুটো দেবেন। মনে হয় জ্বরটা কমবে। এভাবে কিছু না শুনে রোগ ঠাহর করা মুশকিল। কাল সকালে খবর দেবেন। ওষুধ বের করে সামনে রেখে ডাক্তারবাবু উঠলেন। মাধবীলতা ব্যাকুল গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কোন ভয় নেই তো ডাক্তারবাবু?’

    ডাক্তার মাথা নাড়লেন, ‘মনে হয় না। পেটে উইণ্ড জমেনি। প্রেসার ঠিক আছে। মাথায় জলপট্টি দিয়ে যান যতক্ষণ জ্বর না কমে। এর আগে আপনি এই ছেলের জন্যে ওষুধ নিতে গিয়েছিলেন না?’ ডাক্তারবাবুর কপালে ভাঁজ।

    ‘হ্যাঁ।’ মাধবীলতা নিচু গলায় বলল।

    ‘এ যে আপনার ছেলে তা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। আচ্ছা, আমি আসছি।’

    ‘একটু দাঁড়ান।’ মাধবীলতা ব্যাগ থেকে টাকা বের করে এগিয়ে ধরল, ‘এতে হবে?’

    ‘ঠিক আছে। ডাক্তারবাবু পা বাড়াচ্ছিলেন মাধবীলতা কথা বলল, ‘কিছু মনে করবেন না, ওকে আমার ছেলে বলে ভাবতে আপনার কষ্ট হচ্ছে কেন?’

    ডাক্তারবাবু থতমত হয়ে গেলেন। তারপর কোনরকমে বললেন, ‘এই বস্তিতে আপনাকে বেমানান লাগে কিন্তু ওকে এই বস্তির ছেলে বলেই মনে হয়। কিছু মনে করবেন না।’

    ‘বমি পাচ্ছে, মা।’ অর্ক বিড়বিড় করল।

    মাধবীলতা ছুটে এল ওর কাছে। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, ‘তুই ঘুমিয়ে পড়। ডাক্তারবাবু ওষুধ দিয়ে গেছেন, ওষুধ খেলেই সেরে উঠবি।’

    দরজা থেকে ডাক্তারবাবু ফিরে এলেন, ‘ওসব চাপা দেওয়ার কোন দরকার নেই। আপনি উঠুন। একটা ছোট বালতিতে জল আর তোয়ালে নিয়ে আসুন। ব্যাগটাকে মাটিতে রেখে হাঁটু গেড়ে বসলেন ভদ্রলোক। মাধবীলতা এতটা আশা করেনি। সে চকিতে অনিমেষের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাড়াতাড়ি বালতি আর গামছা নিয়ে ফিরে এসে দেখল ডাক্তারবাবু অর্কর শরীর থেকে সমস্ত চাপা সরিয়ে ফেলেছেন। এমন কি গেঞ্জিটা পর্যন্ত নেই। গামছাটা ভাল করে জলে ডুবিয়ে সেই ভেজা গামছা দিয়ে অর্কর বুক-গলা-মাথা মুছিয়ে দিতে লাগলেন ডাক্তার। মাধবীলতা বলল, ‘আমাকে দিন, আমি করছি।’ ডাক্তার ঘাড় নেড়ে বললেন, ‘ওষুধটা গুড়ো করে একটা কাপে জল মিশিয়ে আনুন।’

    জলে গোলা ট্যাবলেট খুব সাবধানে বেঁহুশ অর্কর জিভে ঢেলে দিলেন ডাক্তার। তারপর আধ ঘণ্টা ধরে শুধু জলেভেজা গামছা দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া চলল। অনিমেষ ততক্ষণে কিছুটা স্থির হয়েছে। ও দেখছিল এই ঘরে দুটো মানুষ সমানে পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তার নিজের ছেলে যন্ত্রণায় কষ্ট পাচ্ছে অথচ সে কোন কাজেই লাগছে না। এখন আর পায়ের ব্যথাটা নেই। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে ওটা চলে যাচ্ছে। সে বলল, ‘এবার আমাকে দাও, আমি হাওয়া করি খোকাকে।’

    পাখা বন্ধ না করে মাধবীলতা বলল, ‘তুমি পারবে না, কষ্ট হবে।’

    ‘পারব।’ নিজের অজান্তে গলাটা চড়ে গেল অনিমেষের। অবাক চোখে মাধবীলতা ওর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ঠিক আছে।’ বলে পাখাটা মাটিতে রেখে সরে বসল।

    ক্রাচে ভর করে নিচে নামল অনিমেষ। তারপর শরীরটাকে টেনে নিয়ে এল অর্কর মাথার কাছে, এসে পাখা তুলে নিল হাতে।

    ডাক্তারবাবু এবার উঠলেন, মনে হচ্ছে আর চিন্তার কোন কারণ নেই। এখন অঘোরে ঘুমুবে ও যাহোক, কাল সকালে খবর দেবেন।

    এইসময় বিড় বিড় করে উঠল অর্ক। তারপর পাশ ফিরে শুতে শুতে কিছু বলল। অনিমেষ তাড়াতাড়ি ঝুঁকে পড়ল ওর দিকে, ‘কষ্ট হচ্ছে? কিছু বলছিস?’

    অর্কর চোখ বন্ধ। সেই অবস্থায় ঠোঁট কাঁপল, ‘বমি পাচ্ছে, মা।’ তারপর ঘুমিয়ে পড়ল আস্তে আস্তে। ওর মুখ এখন বেশ শান্ত। মাধবীলতা ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ওই এক কথা ডাক্তারবাবু, অথচ বমি করছে না।

    ডাক্তারবাবু হাসলেন। তারপর চলে যাওয়ার আগে বললেন, ‘ভালই তো, বমি করুক। বমি করলে সব সাফ হয়ে যায়।’

    ঝড় বয়ে গেল যেন সারারাত ধরে। ওরা দুজনে ছেলের পাশে চুপচাপ বসে। মাধবীলতা বলেছিল অনিমেষকে, ‘তুমি এবার শুয়ে পড়, আমি দেখছি।’

    ‘না, ঘুম আসবে না। অনিমেষ কাটিয়েছিল অনুরোধটা। মাধবীলতাকে সে আর হাওয়া করতে দেয়নি। অনিমেষের মুখের দিকে তাকিয়ে মাধবীলতা বলল, ‘তুমি কষ্ট করলে আমি আরামে ঘুমুতে পারব? কি মনে হয় তোমার।’

    হাত থামিয়ে অনিমেষ বলেছিল, ‘মুশকিল তো এইটেই। সমস্ত কষ্টের ইজারা যেন তুমি নিয়ে বসে আছ। যা কিছু ঝামেলা তা তুমি যেন জোর করে সামলাবে। আসলে দুঃখের মধ্যে না থাকলে তোমার আজকাল খারাপ লাগে! লোকে শুনলে বলবে মেয়েটা কত কষ্ট পাচ্ছে, আহা, এত দুঃখ চোখ চেয়ে দেখা যায় না।’

    মাধবীলতা হেসে বলল, ‘তাহলে লোকের মুখ চেয়ে এখন তুমি খোকাকে বাতাস করছ?’

    ‘আমি তাই বলেছি?’ অনিমেষ উগ্র হতে গিয়েও পারল না।

    মাধবীলতা হাত বাড়িয়ে অর্কর কপাল স্পর্শ করল। তারপর নিশ্চিন্ত হয়ে বলল, ‘এসবে আমার কষ্ট হয় না। তুমি ঠিকই বলেছ। কত মেয়ের তো কতরকম শখ থাকে। আমার ধরো এইটেই। তোমাদের জন্যে কিছু করছি। একটু আগে ডাক্তারবাবু বলে গেলেন খোকাকে নাকি আমার ছেলে বলে ভাবতে পারেননি। আচ্ছা, আমার ছেলে কিরকম হলে মানাতো?

    ‘মুশকিল! কে কি বলল তাই নিয়ে ভাবছ কেন?’

    ‘ভাবিনি। মাধবীলতা অন্যমনস্ক হয়ে বলল। তারপর হঠাৎ মনে পড়ায় হেসে বলল, ‘খোকা আমাকে কথা দিয়েছে যে আর কখনও খারাপ কথা বলবে না।’

    অনিমেষ অবাক হল, ‘কখন কথা দিল?’

    ‘প্রথম রাত্রে। তখন ও ভালই ছিল।’

    ‘হঠাৎ?’

    ‘কি জানি একটা স্বপ্ন দেখে খুব ভয় পেয়ে আমাকে শুতে বলেছিল পাশে। তারপরই আমার মনে হয় ও কোন মানসিক আঘাত পেয়েছে।’

    ‘মানসিক আঘাত? প্রেম ট্রেম?’

    ‘দূর! অন্য কিছু। কি সেটা তাই ধরতে পারছি না। এবার পাখাটা দাও।’ হাত বাড়ালো মাধবীলতা। অনিমেষ সত্যিই আর পারছিল না। এবার নিঃশব্দে পাখাটা দিয়ে দিল। মাধবীলতা বলল, ‘তাহলে কষ্ট করতে দিলে শেষ পর্যন্ত।’ হঠাৎ একটা আবেগ অনিমেষকে কাঁপিয়ে দিল। সে দুহাতে মাধবীলতাকে বুকে টানবার চেষ্টা করল। মাধবীলতা একটু হকচকিয়ে গেল প্রথমটা। তারপর একটু জোরেই নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, ‘ছি! খোকা রয়েছে না এখানে?’

    অনিমেষ একটু অপরাধীর চোখে ঘুমন্ত অর্ককে দেখল। অঘোরে ঘুমাচ্ছে এখন। চোখ বন্ধ, ঠোঁটে তৃপ্তির ছাপ। এতবড় অসুস্থ ছেলের সামনে এরকম করা উচিত হয়নি বুঝতে পেরে সে মাথা নিচু করে শরীরটাকে খাটের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। মাধবীলতার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ মাধবীলতা তার বুকের ওপর হাত রাখল, ‘রাগ করলে?’

    ‘না।’ অনিমেষ কোনরকমে জবাব দিল।

    মাধবীলতা একবার অনিমেষের বুকে মাথা রেখেই চট করে সরে এল। এসে ছেলেকে ধীরে ধীরে বাতাস করতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Our Picks

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }