Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. অর্ক যেন অনেক কিছু জেনে ফেলল

     পনের

    এই ক’দিনে অর্ক যেন অনেক কিছু জেনে ফেলল। রকের আড্ডায় অথবা স্কুলের বন্ধুদের মুখে এসব ব্যাপারে অনেক গল্প শুনলেও সেগুলো ছিল ভাসা ভাসা। নিজের চোখে দেখার পর মনে হচ্ছিল ওর বয়স এখন অনেক বেশী।

    আজ তৃষ্ণা পালের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিডন স্ট্রীটের মোড়ে এসে একটা পানের দোকানের আয়নায় নিজেকে দেখল। যতই শরীরটা বড় দেখাক মুখের মধ্যে তার ছাপ একটুও পড়েনি। অথচ ও এখন যাদের সঙ্গে মেশে তারা কত না বড় বড় ব্যাপার স্যাপার করে থাকে। তৃষ্ণা পালের লেখা চিঠিটা বের করে আর একবার পড়ল সে। মেয়েটা নিশ্চয়ই কষ্ট পায়। নাহলে এইসব কি করে লিখল। বিলাস সোম ওর কাছে আসে কেন? অত বড় ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষিত মানুষ, সুন্দরী মেয়ে বউ থাকতে এই খারাপ পাড়ায় হার দিতে আসার কি দরকার? সেই রাতে হার না দিয়ে চলে গিয়েছিল বিলাস, সেটাও কি কষ্ট পেয়ে? বিলাসের বউ এই মেয়েটার কথা অনুমান করে জ্বলে উঠেছিল, হাসপাতালে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করেছিল, স্বামীর দুর্ঘটনার কথা শুনে ট্যাক্সিতে আসবার সময় হেসেও ছিল! এসবই কি কোন কষ্ট থেকে? এসব নিয়ে একবার ভাবতে শুরু করে অর্ক দেখল সব কিছুর চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। কোনদিন সে এভাবে চিন্তা করেনি। আজ যত ভাবছে তত যেন গিঁট খুলে গিয়েও জট পাকিয়ে যাচ্ছে। ঝুমকির চেহারা ভাল। বস্তিতে যখন থাকে তখন একটু আলাদা বলে চোখে পড়ে। সেই ঝুমকি পাড়ায় বলে আয়ার কাজ করে অথচ নাচ শিখতে যায় চৌরঙ্গী লেনে, শরীর বেচে, সোনাগাছিতে এসে তৃষ্ণা পালের কাছে তালিম নেয়। এসব কি ওকে দেখে কখনও কেউ অনুমান করতে পারবে? ও তো আয়ার কাজ করতে পারতো। কেন করেনি? তাহলে ওরও নিশ্চয়ই কোন কষ্ট আছে। কষ্টটা কি সেটা অর্ক এই মুহূর্তে ধরতে পারল না। খুরকি কিলা কিংবা বিলুর কোন কষ্ট নেই। যে কোন উপায়ে মাল যোগাড় করে বেশ মেজাজে থাকে। শুধু কোন বড় পার্টির সঙ্গে কিচাইন হলে অথবা পুলিসের ঝামেলা এলে ওরা খুব চিন্তায় পড়ে কিন্তু কষ্ট পায় না। হঠাৎ অর্কর মনে পড়ল, একদিন ট্রামরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে কিলা বলেছিল, ‘দুনিয়ার সব হেমা মালিনী রেখাদের কারা পায় জানিস?’

    ‘কারা! ধর্মেন্দ্র, অমিতাভ।’

    ‘দূর বে। যারা অনেক পড়াশুনার পরে বড় বড় চাকরি করে, ব্যবসা করে তারা।’

    ‘আমরা শালা ফেকলু, কেমন করে তাকায় দেখিস না? যেন থুতু ফেলছে।’ কথাটা যখন শুনেছিল তখন হাসি পেয়েছিল অর্কর। কিন্তু এখন, মনে পড়ার পর, মাথা নাড়ল সে। না, কিলাদেরও কষ্ট আছে। খুব বড় না হতে পারার কষ্ট। লোকের কাছে উপেক্ষা পাওয়ার কষ্ট। তবে এটা বুঝতে পেরেই যেন বুঝতে দিতে চায় না ওরা। এর পরেই মা এবং বাবার মুখ মনে পড়তেই ও রাস্তার রেলিং-এ হেলান দিয়ে দাঁড়াল। ওদের সব কষ্ট তো তার জন্যেই। ও যদি খুব পড়াশুনা করত, কিলাদের সঙ্গে না মিশত তাহলে মা-বাবার কোন কষ্ট থাকতো না। কিন্তু পড়াশুনা করতে যে তার একদম ভাল লাগে না! পড়াশুনা করেও তো বিলাস সোমের মত কষ্ট দিতে হবে, পেতে হবে। তাছাড়া কিলাদের সঙ্গে মিশছে বলেই সে গুণ্ডা হচ্ছে না। কেউ রোয়াবি করলে দল থাকলে বদলা নেওয়া যায়। হয় দল নয় ক্ষমতা—এই দুটোর একটা থাকা চাই। মা-বাবার কষ্ট দূর করা যায় কি করে তাহলে? তখনই অর্কর মনে হল শুধু তার জন্যেই কি মা-বাবার কষ্ট? মা কেন তাকে নিয়ে ছেলেবেলায় একা একা ছিল? কেন মাঝ রাত্রে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতো? তখন তো সে ছোট্ট, খুবই ছোট্ট? বাবা কেন জেলে গিয়ে শরীর নষ্ট করে এল? যে জন্যে বাবা জেলে গিয়েছিল সেটা সে শুনেছে। অনেক বড় বড় কথা বাবা বলেছে তাকে। এই দেশটাকে পাল্টে দিতে চেয়েছিল নকশালরা। বাবা তার জন্যে এখনও কষ্ট পায় এবং আজ অর্কর মনে হল এসব কাজ করে বাবা মাকে কষ্ট দিয়েছে। আর যে উদ্দেশ্যের জন্যে বাবা এই কষ্ট দিল তা হল না বলে নিজেও কষ্ট পাচ্ছে। তার মানে কোন মানুষই কষ্ট ছাড়া বেঁচে নেই। সে নিজে কি কষ্ট পায়? দূর শালা। অর্ক হাসল। তার আবার কষ্ট কিসের? না, ঠিক হল না। দুটো ভাল শার্ট এবং প্যান্টের জন্যে তার কষ্ট আছে। এটুকু ভাবতেই আরও অনেক চাহিদার কথা মনে এল তার। তার মানে এই যে, যা চাওয়া যায় তা না পেলেই কষ্ট হয়।

    এতখানি ভাবতে পেরে সে নিজেই অবাক হয়ে গেল। সে কি বেশ বড় হয়ে গেল? নাহলে একটার পর একটা ভাবার নেশা কি করে এল! আচ্ছা, কোনরকমে বারো ক্লাশটা পাশ করলে কেমন হয়? তাতে যদি মা একটু শান্তি পায় তো পাক। দিনে দু ঘন্টা বই নিয়ে বসলে বারো ক্লাশ পাশ করা যাবে? চেষ্টা করলে মন্দ হয় না।

    রেলিং ছেড়ে ট্রাম স্টপের দিকে এগোল অর্ক। বিলুকে কি বলবে সে সোনাগাছিতে এসেছিল? না, তাহলেই পাঁচটা প্রশ্ন উঠবে। ওই অতগুলো মেয়েকে দেখে বিলুরা নিশ্চয়ই খুব রসিকতা করত। কিন্তু তার একটুও ভাল লাগেনি। ওদের বাড়িঘর নেই, মা বাবা নেই, শুধু শরীর বিক্রি করে ভাত-কাপড় কিনছে। কিন্তু কাউকেও তো দুঃখী বলে মনে হল না। মাথা নাড়ল অর্ক, কোন মানুষের দুঃখ কি বাইরে থেকে বোঝা যায়? একটু আগেই তো এসব নিয়ে সে ভেবেছে। কিন্তু, অর্কর মনে এক ধরনের সঙ্কোচ এল। কিন্তু, ওই মেয়েদের দেখে তার ভয় লাগছিল কেন? ভয়টা চাপা, এখন টের পাচ্ছে। এমনকি যে ঝুমকিকে বাইরে সে তড়পায় তাকে দেখেও ওইরকম একটা কিছু হচ্ছিল!

    ট্রামের হ্যাণ্ডেল ধরে দাঁড়িয়ে অভ্যেস মত সে কণ্ডাক্টরকে খুঁজল। একদম প্রথম দিকের আসনের সামনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছে লোকটা। আধবুড়ো, টাক আছে। খুব খেঁকুরে হয় এই ধরনের লোক। ভাড়া না দিলে হেভি কিচাইন করবে। অবশ্য ওর দরজায় আসতে আসতে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া যাবে। নিশ্চিন্ত হতে গিয়ে নিজের মনেই হেসে ফেলল অর্ক। আজ তো সে স্বচ্ছন্দেই ভাড়া দিয়ে দিতে পারে। তৃষ্ণা পালের সামনে যে টাকা সে ছুঁড়ে দিয়েছিল সেটা বেরোবার আগে জোর করে তৃষ্ণা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। যদি ঝুমকিকে কিছুটা ভাগ দিতেও হয় তাহলে এমন কিছু কম থাকবে না। রোজ তো ট্রামবাসের টিকিট ফাঁকি দেয় আজ সে রাজার মত টিকিট কাটবে। চট করে গেট ছেড়ে ওপরে উঠে এল অর্ক। বেশ ভিড়। সামনের দিকে না গিয়ে পেছনের হ্যাণ্ডেল ধরে দাঁড়াল সে। এদিকটাও কমতি নেই। লেডিস সিটের সামনে যত শুড্যাগুলো আঠা হয়ে থাকে। আজ বিকেলে সেই পার্ক স্ট্রীট ছুটতে হবে। যদি মাকে বলে কাটানো যায় তো ভাল হয়। বাবার ছোটকাকাকে তার মোটেই পছন্দ হয়নি। দেখা করলে নিশ্চয়ই জ্ঞান দেবে খুব। এদিকে বিলাস সোমের বউ বলে গেল আজ বিকেলে একবার হাসপাতালে যেতে। কিন্তু লোকটা তাকে খোঁজ করছিল কেন? সেদিন তো স্পষ্টই বলল, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে অর্ক যেন দেখা করে। তাহলে এখন তাকে কি জন্যে দরকার। চুপচাপ কেটে পড়লে কেমন হয়! দূর! এখন আর বিলাস সোমকে সে ভয় করে না। তৃষ্ণার চিঠি পকেটে আছে, বিলাস নিশ্চয়ই আর ঝামেলা করতে চাইবে না।

    এই সময় বি, কে, পাল অ্যাভিন্যু ছাড়িয়ে গ্রে স্ত্রীটে পড়ল ট্রামটা। আর তখনই একটা অস্ফুট শব্দ কানে এল। খুব চাপা কিন্তু আচমকা। অর্ক লেডিস সিটের দিকে ঝুঁকে দেখল একটি মেয়ে সিট ছেড়ে দরজার দিকে এগোতে গিয়েও যেন পারছে না। শব্দটা ওরই গলা থেকে বেরিয়েছে কিনা বুঝতে পারল না অর্ক। কিন্তু এবার মেয়েটি বলল, ‘সরে যান, নামব।’

    ‘যান না। যে বলল তার বয়েস একুশ বাইশ। কথাটা বলে সে সামান্য দোলাল শরীর, যেন সরে যাচ্ছে এমন ভান করল কিন্তু সরল না। ওই জায়গাটায় বেশ ভিড়। সবাই রড ধরে উর্ধ্বনেত্র হয়ে রয়েছে। মেয়েটি সেই ভিড় বাঁচিয়ে কোন মতে বের হবার চেষ্টা করল। বেরুতে গেলে তাকে ওই ছেলেটির শরীর ঘেঁষে আসতে হচ্ছে। অর্ক দেখল, ছেলেটির বাঁ হাত সামান্য উঠে মানুষের শরীরের আড়ালের সুযোগ নিয়ে মেয়েটির বুকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ তার মুখচোখের ভঙ্গীতে একটুও পরিবর্তন নেই। মেয়েটি সেটা অনুভব করে যেন পাথর হয়ে গেল। এর মধ্যে পেছন থেকে নামবার তাড়া আসছিল। অতএব না এগিয়ে কোন উপায় নেই, মেয়েটি প্রাণপণে নিজের শরীরটাকে ছোট করে নিয়ে পা ফেলতেই ছেলেটির হাত ছোবল মারল। এতটার জন্যে প্রস্তুত ছিল না অর্ক। মেয়েটিও দ্বিতীয়বার অস্ফুট শব্দ করে যখন মরিয়া হয়ে বেরিয়ে আসছে তখন বাঁ হাত বাড়িয়ে ছেলেটার শার্টের কলার চেপে ধরে ভিড় থেকে হিড় হিড় করে টেনে এনে অত্যন্ত উত্তেজিত গলায় জিজ্ঞাসা করল অর্ক, ‘কি করছেন?’

    একটুও না ঘাবড়ে ছেলেটা বলল, ‘কি করছি মানে? কলার ধরেছেন কেন?’

    ডান হাতে প্রচণ্ড জোরে ঘুষি মারতেই ছেলেটা চট করে মুখ সরিয়ে নিল। ইতিমধ্যে ট্রামটা দাঁড়িয়েছিল। মেয়েটি নেমে যেতে ছেলেটি অর্কর হাত ছাড়িয়ে নিচে লাফিয়ে পড়ল। ঘুষিটা ঠিক মারতে পারেনি বলে আফসোস হচ্ছিল অর্কর কিন্তু ওকে নামতে দেখেই ভেতরে একটা জিদ এসে গেল। ছেলেটা নিশ্চয়ই এখন ওই মেয়েকে জ্বালাবে। কথাটা মনে হওয়ামাত্র অর্ক দ্রুত ট্রাম থেকে নেমে পড়ল। ছেলেটা হয়তো আশা করেনি অর্ক ট্রাম থেকে নেমে আসবে, তাই দেখামাত্র বেশ উল্লসিত হল। চিৎকার করে কয়েকজনকে ডাকতে লাগল হাত পা নেড়ে। সম্পূর্ণ বোধশূন্য হয়ে অর্ক দৌড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল ছেলেটার ওপর এবং প্রথম সুযোগেই ঘুষিটা চালালো মুখ লক্ষ্য করে। দরদরিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই দুহাতে ছেলেটার কাঁধ ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘আর ট্রামে বাসে মেয়েদের বুকে হাত দিবি? বদমায়েস লোচ্চার, তোর বাড়িতে মা বোন নেই?’

    সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে ভিড় জমে গেল। গ্রে স্ট্রীট চিৎপুরের এই সংযোগস্থলে সব সময়েই মানুষের জটলা। অনেকেই জিজ্ঞাসা করতে লাগল, কি হয়েছে, কি ব্যাপার? অর্ক ছেলেটাকে ছেড়ে দিয়ে ব্যাপারটা বলতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল। উল্টো পিঠের ফুটপাথে দাঁড়িয়ে মেয়েটি ওদের দেখছে মুখে হাত চাপা দিয়ে। সে কাঁধ ঝাঁকাল, দূর, ওসব কথা বললে লোকগুলো মেয়েটার দিকে তাকাবে, কি দরকার! সে দেখল ট্রামটা আর ধারে কাছে নেই। ছেলেটা মাটি ছেড়ে উঠে দৌড়ে গেল একটা চায়ের দোকানের দিকে। এখন পেছনে কোন ট্রাম নেই। অর্ক ঘাড় ঘোরালো, না মেয়েটি চলে গিয়েছে। দু’ চারজন তখনও দাঁড়িয়ে ছিল, একজন জিজ্ঞাসা করল, ‘কি হয়েছে ভাই?’ অর্ক দেখল লোকটা বৃদ্ধ, ভাল মানুষ গোছের। নিতান্ত অনিচ্ছায় অর্ক বলল, ‘মেয়েদের বেইজ্জত করছিল।’

    ‘বেইজ্জত! আরে ব্বাপ। কোথায়?’

    ‘ট্রামে।’

    ট্রাম শব্দটা শোনার পর লোকটার উত্তেজনা যেন কমে এল, ‘ও ট্রামে! ট্রামে আবার কি হবে। তা করেছিলটা কি?’

    অর্ক ঝাঁঝিয়ে উঠল, ‘বুঝতে পারেন না একটা মেয়েকে কিভাবে বেইজ্জত করা যায়?’

    দ্বিতীয়জন বলল, ‘নিশ্চয়ই খিস্তিখাস্তা করছিল।’

    প্রথমজন বলল, ‘তাহলে অমন করে মারা ঠিক হয়নি। নিশ্চয়ই গায়ে হাতটাত।’

    অর্ক বিরক্ত ভঙ্গীতে বলল, ‘আপনারা ফুটুন তো।’

    সেই মুহূর্তে ওর চোখে পড়ল ছেলেটা ফিরে আসছে। একা নয়, সঙ্গে আরও চারজন আছে। অর্ক বুঝল ঝামেলা হবে। সে দেখল খুব দ্রুত ভিড় গলে যাচ্ছে। এখন পালানোর কোন মানে হয় না। পালালেই ওদের জোর বাড়বে। কিন্তু পাঁচজনের সঙ্গে একা কি করে লড়বে? অর্ক চট করে পকেটে হাত দিল। হ্যাঁ, একদম ভুলে গিয়েছিল, পকেটে সেই মাল রয়েছে। তৃষ্ণা পালের দেওয়াল আলমারি থেকে ঝাড়া ডট পেনের মত দেখতে অস্ত্র এখন ওকে বেশ শক্তি যোগাচ্ছিল।

    ছেলেটা চিৎকার করল, ‘ওই যে ওই শালা!’

    একদম সামনে চলে এলেও অর্ক এক চুল নড়ল না। এটা বোধহয় ওরা আশা করেনি। ছেলেটা চেঁচাল, ‘আমার রক্তের বদলা নেব। দলের একজন জিজ্ঞাসা করল, ‘এই, ওর গায়ে হাত তুলেছিস কেন?’

    অর্ক বুঝল উত্তর দিয়ে কোন লাভ নেই। তবু চোখের ইশারায় ছেলেটাকে দেখিয়ে বলল, ‘ওকে জিজ্ঞাসা কর। মেয়েছেলের সম্মান না রাখতে জানলে ওরকম রক্ত বের হবে।’

    আহত ছেলেটা তেড়ে এল, এবং পলকেই অর্ক দেখল তাকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। আক্রান্ত হবার আগেই আক্রমণ করল সে। প্রচণ্ড জোরে লাথি মারল আহত ছেলেটির পেটে। কঁক করে একটা শব্দ বের হল, পেটে হাত চেপে বসে গেল সে। কিন্তু ততক্ষণে বাকি চারজন ঝাঁপিয়ে পড়েছে ওর ওপর। বেধড়ক ঘুষি এবং লাথি পড়তে লাগল ওর শরীরে। আঘাতের চোটে ফুটপাথে গড়িয়ে পড়ল অর্ক। তখনই ওই অবস্থায় পকেট থেকে দ্রুত কলমটা বের করে চাপ দিতেই চকচকে ফলা বেরিয়ে এল। যারা উল্লসিত হয়ে মারছিল তারা আচমকা থেমে গেল। জিনিসটা কি না বুঝলেও ওটা যে ভয়ঙ্কর কিছু অনুমান করে দাঁড়িয়ে পড়ল চারজন।

    টলতে টলতে উঠে দাঁড়াল অর্ক। তার জামা ছিঁড়েছে, জিভে নোনা স্বাদ। সে ফ্যাসফেসে গলায় বলল, ‘আয় শালারা আয়।’ তৎক্ষণাৎ চারটে ছেলেই উল্টোদিকে দৌড় দিল। কিন্তু প্রথমটি এখনও মাটিতে বসে। অর্ক ধীরে ধীরে কাছে এগিয়ে যেতেই হাউ হাউ করে কেঁদে উঠল ছেলেটা, ‘আমি আর করব না, আর মেয়েদের গায়ে হাত দেব না।’ ওর একটা চোখ তখন অর্কর হাতের ওপর স্থির। অর্ক জিজ্ঞাসা করল, ‘তুই রোজ হাত দিস?’

    প্রথমে উত্তর দিল না ছেলেটা। কিন্তু অর্ক সামান্য ঝুঁকতেই সে দ্রুত মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল। অর্ক অবাক হয়ে গেল। এর জামা-কাপড় এবং মুখের মধ্যে বেশ ভদ্র ভদ্র ছাপ আছে। তখনও পেটে হাত চেপে ছিল ছেলেটা, কেমন একটা ঘেন্না হল অর্কর। এই প্রথম কোন মানুষের দিকে তাকিয়ে ওর এই রকম অনুভূতি হল। তারপরেই খেয়াল হল কলমের ফলা ততক্ষণে অনেকের নজরে পড়ে গেছে। চট করে বোতাম টিপে সেটাকে গুটিয়ে ফেলে পকেটে রেখে জামার হাতায় মুখ মুছল অর্ক। হাতটা লালচে লালচে দেখাচ্ছে। মুখ ধুতে পারলে বেশ ভাল হত। সে যখন রাস্তা পার হয়ে চায়ের দোকানের দিকে যাচ্ছে তখনই চোখ পড়ল। মোটাসোটা একজন ভদ্রমহিলা, সুন্দর চেহারার একজন ভদ্রলোক আর সেই মেয়েটা দ্রুত এগিয়ে আসছে। অর্ক কিছু বোঝার আগেই ভদ্রমহিলা ওর দুই হাত জড়িয়ে ধরল, ‘তোমার কাছে আমি ঋণী হয়ে থাকলাম বাবা, তুমি আমার ইজ্জত বাঁচিয়েছ। বেঁচে থাক বাবা, তোমার মত ছেলে ঘরে ঘরে জন্মাক। কথাটা শুনেই আমি ছুটে আসছি। উনি মানা করছিলেন, গুণ্ডা বদমায়েসদের মারামারির মধ্যে তুমি যেও না। কিন্তু জানলা দিয়ে দেখলাম ওরা তোমাকে মারছে। আমার মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে তুমি মার খাচ্ছ এ আমি সহ্য করতে পারলাম না। দীর্ঘজীবী হও বাবা।’ এক নাগাড়ে গড় গড় করে বলে যাচ্ছিলেন মহিলা। অর্ক এত বিহ্বল হয়ে পড়েছিল যে কিছু বলার মত অবস্থায় ছিল না। এবং তখনি ওদের ঘিরে ভিড় জমে উঠল।

    ভদ্রলোক বললেন, ‘আমি পুলিসে ফোন করেছি।’

    ভদ্রমহিলা বললেন, ‘পুলিস ছাই করবে। কেউ যদি প্রতিবাদ না করে তাহলে তো এমন হবেই। সবাই বলে দিনকাল খারাপ কিন্তু তোমার মত ছেলে—, আহা রক্ত পড়ছে, তুমি দাঁড়িয়ে দেখছ কি, ওকে একটা ডাক্তারখানায় নিয়ে যাও।’

    এই সময় হই হই শব্দ উঠল। যারা ভিড় করেছিল তারা চেঁচাচ্ছে, পেটে হাত দিয়ে পড়ে থাকা ছেলেটা এবার দৌড়ে পালাচ্ছে। ভদ্রলোক বললেন, ‘যেতে দাও ওকে। তুমি চলে ওই ডাক্তারখানায়।’

    অর্কর খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। সে ঘাড় নাড়ল, ‘না, দরকার নেই।’

    ভদ্রমহিলা প্রতিবাদ করলেন, ‘এই অবস্থায় তোমাকে ছেড়ে দেওয়া যায় না। কোন কথা শুনতে চাই না, তুমি ডাক্তারখানায় চল।’ মোটাসোটা ফরসা পাকা চুলের মহিলার দিকে তাকিয়ে অর্ক আর না বলতে পারল না।

    ডাক্তারখানা পর্যন্ত ভিড় সঙ্গে ছিল। ডাক্তারবাবু সামান্য ফার্স্টএইড দিয়ে বললেন, ‘তেমন কিছু হয়নি।’

    এদিকে ভদ্রমহিলা তখন অনর্গল তার প্রশংসা করে যাচ্ছেন। ভদ্রলোক এখন চুপচাপ। ভিড় সরে গেছে ফুটপাথ থেকে। অর্কর ক্রমশ অস্বস্তি বাড়ছিল। সে বলল, ‘আমি যাই।’ তখনই প্রথম মেয়েটি কথা বলল, ‘রাস্তায় ওরা কিছু করবে না তো!’

    অর্ক মেয়েটিকে দেখল, ‘না। যারা ভয় পায় তারা কিছু করে না।’

    ভদ্রমহিলা বললেন, ‘তবু তোমার একা যাওয়া উচিত হচ্ছে না। কোথায় বাড়ি?’

    ‘বেলগাছিয়ায়। আমার কিছু হবে না।’

    ‘তার কি ঠিক আছে! তুমি বরং একটা ট্যাক্সি ডেকে ওকে পৌঁছে দিয়ে এস।’

    ভদ্রমহিলার এই প্রস্তাব যে ভদ্রলোকের পছন্দ হল না সেটা অর্ক বুঝতে পারল। সে দ্রুত প্রতিবাদ করল, ‘এসবের কোন দরকার নেই, আমি একাই যেতে পারব।’

    ভদ্রমহিলা বললেন, ‘বেশ তাহলে অন্তত কিছুক্ষণ আমাদের বাড়িতে জিরিয়ে যাও। ওহো, আমি তো তোমার নামই জিজ্ঞাসা করিনি। কি নাম তোমার?’

    ‘অর্ক, অর্ক মিত্র।’

    ‘বাঃ, কি সুন্দর নাম।’

    ভদ্রলোক বললেন, ‘এখানে ভিড় বাড়ানো উচিত হচ্ছে না। বাড়িতে চল।’

    ওঁরা অর্ককে কিছুতেই ছাড়লেন না। এখন ভরদুপুর। অর্ক বুঝতে পারছিল বেশী দেরি হলে বাড়িতে আর একটা ঝামেলা হবে। কিন্তু এই ভদ্রমহিলার এত প্রশংসা এবং আন্তরিক ব্যবহারকে এড়িয়ে যেতেও পারছিল না সে।

    তিন চারটে বাড়ির পরই দোতলায় ওঁরা থাকেন। সুন্দর সাজানো ঘর। নিজের ছেঁড়া পোশাকের জন্যে বেডের সোফায় বসতে অস্বস্তি হচ্ছিল অর্কর। ভদ্রমহিলা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কি পড়?’

    নিজের ক্লাসটা বলল অর্ক। এবং সেটা বলতে গিয়ে সে এই প্রথম লজ্জা পেল। এক বছর যদি নষ্ট না হত! ভদ্রমহিলা বললেন, ‘এই হল আমার মেয়ে, উর্মিমালা তোমার ক্লাশেই পড়ে। বাগবাজার মাল্টিপারপাসে।’

    অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও অর্ক কিছু খেল না। ভদ্রমহিলা কথা আদায় করলেন যে সে আর একদিন আসবে। তার ঠিকানা লিখে নিলেন ভদ্রলোক। দরজা অবধি এগিয়ে দিলেন ওঁরা। ঊর্মিমালা নিচু গলায় বলল, ‘সাবধানে যাবেন।’

    খালি ট্রামে জানলার ধারে বসেছিল অর্ক। হাতিবাগান ছাড়িয়ে ট্রামটা ছুটে যাচ্ছে। কপাল এবং গালে ব্যাণ্ডেজ লাগানো হয়েছে। সামান্য চিনচিন করছে জায়গাগুলো। এইভাবে একা কোনদিন মারামারি করেনি সে। এবং এই প্রথম মারামারি করলে যে মানুষের আদর ভালবাসা পাওয়া যায় তা সে জানল। কিলা কিংবা খুরকিদের কেউ পছন্দ করে না, ভয় পায়, ভালবাসে না। কিন্তু ভাল কাজের জন্যে মারামারি করলে এক ধরনের আনন্দ হয় তাই বা কি সে জানতো!

    অর্ক ভাবছিল এই কয়দিনে দুটো পরিবারের সঙ্গে তার আলাপ হল। বিলাস সোমের পরিবারের চেয়ে ঊর্মিমালাদের বেশী ভাল লেগেছে তার। অনেক ঘরোয়া, অনেক কাছের। ও রকম বাড়িতে থাকলে সে বাবা এবং মা ওই রকম ব্যবহার এবং কথা বলতে পারত। এবং তারপর উর্মিমালার মুখটা চোখের ওপর উঠে এল যেন। অত মিষ্টি মুখের মেয়ে সে কখনও দ্যাখেনি। মাথায় অর্কর চেয়ে ইঞ্চি ছয়েক ছোট হবে কি হবে না, লম্বা বেণী মোটা হয়ে অনেকটা নেমে গেছে, ডিমের মত মুখ, ঘাড় লম্বা, ছিপছিপে শরীরের রঙ শ্যামলা। কিন্তু দুই ভ্রূর তলায় কি শান্ত টানা চোখ। তার চেনাশোনা কোন মেয়ের চেহারার সঙ্গে উর্মিমালার মিল নেই। না, ঠিক হল না, অর্ক ভেবে দেখল, মায়ের সঙ্গে যেন কোথাও ওর মিল আছে। কোথায়? নাক, চোখ, কপাল কিংবা চেহারায়? না মোটেই না। তাহলে তার এ রকমটা মনে হল কেন? তারপরেই হেসে ফেলল সে, মিলটা খুঁজে পেয়েছে। দুজনের তাকানোর ভঙ্গীটা এক। মা যখন খুব অবাক হয় তখন অমন ঘাড় বেঁকিয়ে তাকায়। তাছাড়া মায়ের দিকে তাকালে শরীর ছাড়িয়ে আর একটা চেহারা অনুভব করা যায়। কথাবার্তা, হাত-পা নাড়া, হাঁটাচলা মিলে মিশে সেই চেহারাটা গড়ে দেয়। অর্কর মনে হল ঊর্মিমালারও সেই চেহারাটা আছে। এ রকম অনুভূতি আর কাউকে দেখে তার হয়নি। এবং তখনই সেই সঙ্কোচটা ফিরে এল। আজ সকাল থেকে যত সে ভাবছে তত অনেক কিছু মাথার মধ্যে পর পর এসে যাচ্ছে। এভাবে এর আগে কখনও চিন্তা করেনি সে। আর সেটা করতে গিয়েই মনে হচ্ছে উর্মিমালার চেয়ে সে কোথাও যেন ছোট, কিছুতেই সমান সমানও হতে পারছে না।

    আর জি কর ব্রিজে ট্রাম উঠতেই আশেপাশে একদম খালি হয়ে গেল। অর্ক পকেট থেকে কলম বের করল। কি নিরীহ চেহারা, কেউ দেখলেও বুঝতে পারবে না। এদিক দিয়ে স্বচ্ছন্দে লেখা যাবে। কিন্তু বোতামটা টিপলেই সাপের জিভের মত ছিটকে বেরিয়ে আসে ধারালো ফলা। আচ্ছা, উর্মিমালার মা যদি দেখতে পেতেন জিনিসটা তাহলে কি অত ভাল ভাল কথা বলতেন? ঊর্মিমালা নিশ্চয়ই বাবা-মাকে নিয়ে ছুটে আসতো না। নিজের অজান্তেই বুক থেকে বাতাস বেরিয়ে এল। ছেঁড়া জামাটাকে ম্যানেজ করতে চেষ্টা করল অকারণ।

    এখন করকরে দুপুর। পাড়া তবু জমজমাট। ফুটপাথে ব্রিজের আড্ডা বসে গেছে। তিন নম্বরের যাবতীয় লোক ছুটির দিনে এই নেশায় ডুবে থাকে। কিলা কিংবা খুরকিদের চোখে পড়ল না। বিলুও ধারে কাছে নেই। অর্ক আর দাড়াল না। চুপচাপ গলির ভেতরে ঢুকে পড়ল সে। মোক্ষবুড়ি দ হয়ে উনুন-কারখানার ছায়ায় বসে রয়েছে। অনুদের ঘরের দরজা বন্ধ। বাঁক নিতেই মাধবীলতার মুখোমুখি হয়ে গেল অর্ক। দরজায় চুপচাপ দাঁড়িয়েছিল মাধবীলতা। আচমকা ছেলের ওপর চোখ পড়তেই কপালে ভাঁজ পড়ল। নিঃশব্দে দরজা পেরিয়ে ঢুকতেই মাধবীলতা ঘুরে দাঁড়াল, ‘কোথায় গিয়েছিলি?’

    ‘হাসপাতালে।’ মিথ্যে কথা মনে করে বলল অর্ক।

    ‘কি হয়েছে?’ মাধবীলতার গলা চাপা কিন্তু তীব্র।

    ‘কিছু না।’

    প্রচণ্ড জোরে একটা চড় পড়ল অর্কর গালে, ‘কিছু না! গুণ্ডামি লোচ্চামি করে এসে আবার মিথ্যে কথা বলা হচ্ছে। ওঃ, ভগবান। দ্যাখো, তুমি ছেলের চেহারা দ্যাখো। জামাকাপড় ছিঁড়ে মুখে ব্যাণ্ডেজ লাগিয়ে এসে বলছেন কিছুই নাকি হয়নি।’ দু হাতে মুখ ঢেকে খাটের ওপর বসে পড়ল মাধবীলতা।

    চেয়ারে বসে পথের পাঁচালি পড়ছিল বোধহয় অনিমেষ। অর্ক ঘরে ঢোকামাত্র সে বই ছেড়ে অপলক তাকিয়েছিল। মাধবীলতার কথা শেষ হওয়ামাত্র সে চোখ বন্ধ করল। আচমকা মার খেয়ে অর্ক প্রথমে খুব ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তারপরেই সে নিজেকে সংযত করল, ‘তুমি আমাকে মিছিমিছি মারলে!’

    ‘মিছিমিছি!’ মাধবীলতা ফুঁসে উঠল। অর্ক মাকে এমন ভীষণ চেহারায় কখনও দ্যাখেনি, ‘আমি মিছিমিছি বলছি? তোকে, তোকে খুন করতে পারলে আমার হয়তো শান্তি হতো। আঃ। এত করে বোঝালাম, এত অনুরোধ করলাম সব ভস্মে ঘি ঢালা হল! সেই তুই ওই লুম্পেনগুলোর সঙ্গে গিয়ে মারামারি করে এলি! ছিঃ।’

    ‘আমি ওদের সঙ্গে ছিলাম না।’

    ‘ছিলি না? অর্ক, আমি আর মিথ্যে কথা শুনতে চাই না।’

    হঠাৎ অর্কর বুকের ভেতর হু হু করে উঠল। মায়ের এই কঠোর মুখ, ঘেন্না জড়ানো উচ্চারণ তাকে ক্ষতবিক্ষত করে তুলছিল। এই ঘরের দুটো মানুষই তাকে যে এক ফোঁটা বিশ্বাস করে না এটা বুঝতে পারা মাত্রই সমস্ত এলোমেলো হয়ে গেল তার। ঠিক তখন অনিমেষ শান্ত গলায় বলল, ‘ও কি বলতে চায় শোনা যাক।’

    ‘কি বলবে? একগাদা মিথ্যে কথা শোনাবে। আমার আর মুক্তি নেই।’

    অর্ক শরীর থেকে জামাটা খুলে মাটিতে ফেলে দিল। তারপর আলনা থেকে একটা শার্ট টেনে নিয়ে বলল, ‘তাহলে আমি চলে যাই!’

    ‘কোথায় যাবি?’ অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল।

    ‘আমাকে যখন তোমরা বিশ্বাস করতে পারছ না তখন—।’

    ছেলের এই রকম গলার স্বর এর আগে শোনেনি মাধবীলতা। চট করে মুখ তুলে দেখল অর্ক দাঁতে ঠোঁট চেপে দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    ‘দাঁড়া।’ আদেশ অমান্য করার চেষ্টা করেও পারল না অর্ক। পেছন ফিরেই দাঁড়াল।

    ‘কোথায় যাচ্ছিস?’

    ‘তা দিয়ে তোমাদের কি দরকার?’

    ‘বেশ। কিন্তু মনে রাখিস—।’ মাধবীলতাকে কথা শেষ করতে দিল না অনিমেষ, ‘লতা, আমাকে বলতে দাও। তুই আমার প্রশ্নের উত্তর দিসনি!’

    ‘কি প্রশ্ন?’ অর্কর শরীর কাঁপছিল।

    ‘কোথায় গিয়েছিলি, কি হয়েছিল?’

    ‘আমি তো মিথ্যে কথা বলব।’

    ‘মিথ্যেটাই বলে যা।’

    অর্ক সামান্য দ্বিধা করল, ‘আমি বিডন স্ট্রীটে গিয়েছিলাম একজনের সঙ্গে দেখা করতে—।’

    ‘বিডন স্ট্রীটে? ওখানে তোর কি দরকার?’ মাধবীলতা অবাক হল।

    ‘ওকে শেষ করতে দাও।’ অনিমেষ বলল।

    ‘ফেরার সময় দেখলাম ট্রামে লেডিস সিটের দিকে একটা ছেলে খুব খারাপ কাজ করছে। মেয়েটা নামছিল আর ছেলেটা ভিড়ের সুযোগে ওর গায়ে হাত দিচ্ছিল। তাই দেখে আমার মাথা গরম হয়ে গেল। আমি ছেলেটাকে টেনে এনে মারলাম। মেয়েটা নেমে যেতেই দেখি ছেলেটাও ওকে অনুসরণ করল। আমার ভয় হল হয়তো রাস্তায় নেমে ছেলেটা মেয়েটাকে বেইজ্জত করবে। আমি নামতেই ছেলেটা যা-তা কথা বলছিল। তখন আবার আমি তাকে মারতে সে দলবল নিয়ে আমাকে—। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওরা ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।’ কোন রকমে কথাগুলো শেষ করল অর্ক।

    অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘মেয়েটার বয়স কত?’

    ‘আমাদের বয়সী। ওর মা বাবা খবর পেয়ে আমার কাছে ছুটে এসেছিল।’

    অর্ক মায়ের দিকে তাকাল। মাধবীলতার মুখে বিস্ময়; ‘তুই সত্যি কথা বলছিস?’

    অর্ক আর পারল না। দ্রুত এগিয়ে খাটে বসে থাকা মাধবীলতার পায়ের সামনে বসে কেঁদে ফেলল, ‘তোমরা আমাকে এত অবিশ্বাস কর কেন?’

    ‘তুই মেয়েটাকে বাঁচিয়েছিস? সত্যি!’ মাধবীলতার চোখ বন্ধ, গলার স্বর এখন অন্য রকম, শরীর স্থির।

    ‘হ্যাঁ, তুমি বিশ্বাস কর। ইচ্ছে হলে ওর মা বাবাকে জিজ্ঞাসা করতে পার আমার সঙ্গে গিয়ে! আমি কি অন্যায় করেছি?’

    আর তখনি ভেঙ্গে পড়ল মাধবীলতা। দুহাতে ছেলেকে আঁকড়ে ধরল সে।

    অর্কর মুখ চোখ মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলল, ‘তুই ঠিক করেছিস। তুই ঠিক করেছিস।’ ওর দুই চোখ উপচে জল, মুখে তৃপ্তির ছবি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Our Picks

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }