Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫৮. কলকাতা শহরের বিখ্যাত ব্যক্তি

     আটান্ন

    কলকাতা শহরের বিখ্যাত ব্যক্তিদের কাছে আমাদের আবেদন রাখা হয়েছিল শান্তি কমিটির পক্ষ থেকে। তাঁরা প্রত্যেকেই স্বীকার করেছেন এরকম উদ্যোগ মানুষের মনে অন্যায়ের সঙ্গে লড়বার শক্তি যোগাবে। সারা দেশ যেখানে পশুশক্তির কাছে মাথা নত করে থাকে সেখানে বেলগাছিয়ার মানুষ দেখিয়ে দিল সাধারণ মানুষ যখন একতাবদ্ধ হয় তখন কোন শক্তি তাদের দাবিয়ে রাখতে পারে না। একটি বিখ্যাত কাগজে লেখা হল, অন্যায়ের ছুরির যে কোন বাঁট নেই, যে মারে সেও রক্তাক্ত হয় তা এই ঘটনায় প্রমাণ হল। আর একটি কাগজ আর এক ধাপ এগিয়ে বলল, ‘বেলগাছিয়া প্রমাণ করল সাধারণ মানুষ বিপ্লব করতে আগ্রহী।’

    শান্তি কমিটির তরফ থেকে কলকাতার বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, অভিনেতাদের কাছে আবেদন রাখা হল তাঁরা যদি সশরীরে এই উপলক্ষে আয়োজিত সভায় উপস্থিত হয়ে কিছু বলেন তাহলে এলাকার মানুষের মনের জোর আরও বাড়বে। কারণ এই মুহূর্তে পুলিস যদিও শান্তি কমিটির বিরোধিতা করছে না কিন্তু কয়লার সঙ্গীরা আশেপাশে এলাকায় এখনও সক্রিয়। কিছু কিছু ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া এলাকার মানুষ যদি দেখে বিখ্যাত ব্যক্তিরা তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাহলে আরো মনের জোর বাড়বে।

    প্রত্যেকের সম্মতি নিয়ে সভা ডাকা হল। এলাকার মানুষের কাছে সে খবর মাইকের মাধ্যমে ঘুরে ঘুরে জানিয়ে দেওয়ায় সভা ভরে গেল। হাজার পাঁচেক মানুষ বিকেল হতেই পার্কে উপস্থিত। তাদের মধ্যে উৎসাহ বেশী মেয়েদের। যতটা না শোনার তার চেয়ে বেশী দেখার।

    সকালে মাধবীলতাকে বলে এসেছিল যে সে বিকেলে আসবে না। শান্তি কমিটি থেকে তাকে কয়েকজন বিখ্যাত সাহিত্যিক এবং অভিনেতাকে নিয়ে আসবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কদিনে মায়ের কাছে এসব ঘটনা বিস্তারিত বলেছে সে। মাধবীলতা অবাক হয়ে শুনেছে। ঈশ্বরপুকুরের লোক এখন অশ্লীল শব্দ শুনছে না, গুণ্ডামি হচ্ছে না এটা ভাবতে তার অসুবিধে হচ্ছিল। দুটো ঘটনা অর্ক ইচ্ছে করে চেপে গেছে। মোক্ষবুড়ির মারা যাওয়া আর তার নিজের ছুরি খাওয়া। মনে হয়েছিল এই ঘটনা দুটো বললে মাধবীলতা উত্তেজিত হতে পারে। খুব দ্রুত সেরে উঠছে মাধবীলতা। যদিও তার শরীর খুবই দুর্বল এবং নড়াচড়া করা সম্পূর্ণ নিষেধ। পরমহংস এখন রোজ আসে না। অর্কর প্রশ্নের উত্তরে বলেছিল, ‘ক্রিকেট খেলেছ? যখন টিম ফলো অন খায় তখন এগার নম্বর ব্যাটসম্যান ঠকঠক করে কাঁপে। অ্যাদ্দিন আমার সেই অবস্থা ছিল। কিন্তু যখন তিরিশ রান তুললেই টিম জিতবে তখন সেই ব্যাটসম্যান হোটেলে ঘুমুতে পারে। আমার এখন সেই অবস্থা। বুঝলে? কি বুঝলে?’

    সৌদামিনীও থাকছেন না। মাঝে একদিন নীপা মিত্রের হাত দিয়ে মাধবীলতার মাইনে পাঠিয়ে, দিয়েছেন। হাসপাতালে যা খরচ হবে তা স্কুল থেকেই দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

    ব্ৰজমাধব পালের গাড়ি পাওয়া গিয়েছিল। শান্তি কমিটিকে তিনি আজকের অতিথিদের নিয়ে আসার জন্যে গাড়িটি দিয়েছিলেন। অর্ক এবং আর একটি ছেলে চারটে নাগাদ বেরিয়ে পড়ল সেজেগুজে। সুবল ওদের বারংবার বলে দিয়েছিল বিনীত ব্যবহার করতে। কথাবার্তায় যেন সমীহভাব থাকে সব সময়। সাহিত্যিকদের সম্পর্কে অর্কর কোন ধারণাই ছিল না। যে দুজনকে তার নিয়ে আসার কথা তাদের কোন লেখা সে পড়েনি, নামও তেমন শুনেছে বলে মনে পড়ে না। মাধবীলতা নাম শুনে বড় বড় চোখে তাকিয়েছিল, ‘তোর কি সৌভাগ্য! নাম শুনিসনি কি রে? কি অশিক্ষিত রে তুই? এঁরা দুজনেই তো এখনকার সবচেয়ে বড় লেখক।’ কিন্তু অভিনেতা দুজনকে অর্ক জানে। ওদের আনতে হবে বলে সে কিঞ্চিৎ উত্তেজিত। দুজনের ছবি সিনেমার বিজ্ঞাপনে, হলের সামনে টাঙানো থাকে। কথা ছিল, আগে অভিনেতাদের তুলে আসবার সময় একটা কাগজের অফিস থেকে লেখকদের নিয়ে আসতে হবে।

    নিউ আলিপুরে প্রথম অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে হোঁচট খেল ওরা। তিনি বাড়িতে নেই। হঠাৎ শুটিং পড়ে যাওয়ায় বাইরে চলে গিয়েছেন। দ্বিতীয়জন থাকেন টালিগঞ্জে। বাড়িতেই ছিলেন। অর্ক বেল বাজাতে একটা চাকর দরজা খুলে জিজ্ঞাসা করল, ‘কাকে চাই?’

    নাম বলল অর্ক, ‘বলুন, বেলগাছিয়া থেকে এসেছি।’

    বাইরের ঘরে মিনিট দশেক অপেক্ষা করার পর অভিনেতা এলেন। হাতে চুরুট। অর্ক উঠে দুহাত জড়ো করে নমস্কার করল। দারুণ ফর্সা লম্বা কিন্তু ছবিতে যা দেখায় তার চেয়ে বয়স বেশী। কিন্তু অর্ক খুব নার্ভাস হয়ে যাচ্ছিল। এত বড় মানুষের সামনে সে দাঁড়াবে ভাবাই যায় না। অভিনেতা বললেন, ‘কোত্থেকে আসা হয়েছে ভাই?’

    ‘বেলগাছিয়া। আমাদের ওখানে আপনি যাবেন কথা আছে।’

    ‘কথা?’ অভিনেতা চুরুটে টান দিলেন, ‘কথা তো থাকেই। ভেরি নোব্‌ল পার্পাস। সুন্দর উদ্যোগ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, হুঁ? রাশিয়াতে এরকম হয়েছিল। জারের সময়ে। তা তোমরা কি করেছ? দলবেঁধে মাস্তান পেঁদিয়েছ? কংগ্রেসী মাস্তান?’

    ‘আপনি তো সব জানেন। পাড়ার সবাই আপনার মুখ থেকে কিছু শুনতে চায়। আমাদের হাতে বেশী সময় নেই, অনেক দূর যেতে হবে।’ অর্ক খুব বিনীত গলায় বলল।

    ‘কে কে যাচ্ছে?’

    ‘অনেকেই যাবেন।’ অর্ক নামগুলো বলল।

    ‘সে কি? চ্যাটার্জী যাচ্ছে? ওকে বলেছ কেন? রিঅ্যাকশনারি, এসকেপিস্ট! তাছাড়া পাবলিক তো ওকে দেখতেই ভিড় করবে।’

    ‘আমরা তো অভিনেতা হিসেবেই বলেছি।’

    ‘অভিনেতা? ও আবার অভিনয় করতে শিখল কবে? মুখ দেখিয়ে পয়সা পায়। না না, ও গেলে আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’

    ‘কিন্তু আপনি না গেলে—।’

    ‘দ্যাখো ভাই, আমি অভিনেতা, রাজনীতি করি না। তোমাদের এই ব্যাপারে নাক গলাননা ঠিক নয়। এসে জানতে চাইলে সমর্থন করলাম। মুখে বলা এক কথা আর নিজে হাজির হয়ে বক্তৃতা দেওয়া অন্য কথা। স্ট্যাম্প পড়ে যাবে। তোমরা বিপ্লব ফিপ্লব করছ করো, আমরা তো আছিই।’ কথাগুলো বলেই ঘাড় ঘুরিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন অভিনেতা, ‘কি বলছ? অ্যাঁ? ওহো ওষুধ খাওয়ার সময় হয়ে গেল। ঠিক আছে, চলি।’

    অর্ক স্থির জানে ভেতর থেকে কেউ ওঁকে ডাকেনি। ও অভিনেতার নিষ্ক্রমণ দেখল। তারপর চাপা গলায় বলল, ‘শালা!’

    অর্কর সঙ্গী বলল, ‘কি হবে এখন?’

    বাঁ দিকের দেওয়ালে সাজানো রয়েছে অনেক কিছু। এখন ঘরে কেউ নেই। অর্ক হাত বাড়িয়ে একটা মূর্তি তুলে নিল। বিখ্যাত পত্রিকা থেকে অভিনয়ের জন্যে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। সেটাকে তুলে অর্ক সোজা বাইরে বেরিয়ে আসতেই চাকরকে দরজায় দেখা গেল।

    ‘এই যে, ওটা কি নিয়ে যাচ্ছেন?’ ছুটে এল চাকর।

    অর্করা ততক্ষণে গাড়িতে উঠে বসেছে। সেটা চালু হতে শূন্যে ছুঁড়ে দিল অর্ক মূর্তিটাকে। সুদৃশ্য পালিশকরা অ্যাবস্ট্রাক্ট মূর্তিটা মাটিতে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।

    সারাটা পথ ওরা কোন কথা বলল না। অর্কর মনে হচ্ছিল এই লোকটাকে যদি কয়লার সঙ্গে প্যাঁদানো যেত তাহলে মনে সুখ হতো। শালা দুনম্বরী! খবরের কাগজের অফিসে এসে সে আরও অবাক। নিচের রিসেপসনে তাকে আটকেছিল প্রথমে। অনেক বলাবলির পর সে ওপরে ওঠার ছাড়পত্র পেয়েছিল। একটি ঘরে চার-পাঁচজন মানুষ গল্প করছিলেন। অর্ক নাম বলতে দুজন বিখ্যাত লেখককে চিনিয়ে দিল একজন। অর্ক নমস্কার করে বলল, ‘আমি বেলগাছিয়া থেকে এসেছি। চলুন।’

    মোটাসোটা স্বাস্থ্যবান বৃদ্ধ বললেন, ‘এখন তো যেতে পারব না ভাই। রবীন্দ্রসদনে আমার একটা সভা আছে ঠিক ছটায়। সেটা সেরে চলে যাবো। সাতটা নাগাদ পৌঁছে যাবো।’

    ‘আমি কি ততক্ষণ অপেক্ষা করব?’

    ‘না না। কোন দরকার নেই। এটা জনগণের নবজাগরণের ব্যাপার। এখানে না গিয়ে পারি? রবীন্দ্রসদনটা অ্যাভয়েড করতে পারছি না, আমার এক বান্ধবী খুব ধরেছে। চিন্তা করো না।’

    অর্ক দ্বিতীয়জনের দিকে তাকাল। তিনি পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে এগিয়ে ধরলেন, ‘এটা নিয়ে যান।’

    অর্ক কাগজটা নিয়ে দেখল তাতে চার লাইনে লেখা রয়েছে যে বেলগাছিয়ার জনগণের অসীম সাহসিক কাজের জন্যে লেখক গর্বিত। তিনি মনে করেন সমস্ত ভারতবর্ষ এই ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হবে।

    অর্ক মুখ তুলল, ‘আপনি যাবেন না?’

    নীরবে মাথা নাড়লেন লেখক, না।

    ‘কিন্তু আমরা সবাই আশা করে আছি।’

    ‘মোটেই না। ওখানে সবাই ভিড় করবে ফিল্ম স্টার দেখতে। নিজেদের খুব ফেকলু মনে হয় ওসব জায়গায় গেলে। এই কাগজটা মাইকে পড়ে দিও।’

    ‘কিন্তু আপনি যাবেন বলেছিলেন—!’

    ‘যাবো বলেছিলাম বলে কি জোর করে ধরে নিয়ে যাবে? তোমরা দেখছি সমাজবিরোধী তাড়াতে গিয়ে নিজেরাই তাদের ফলো করছ।’

    টেবিলের অন্য প্রান্ত থেকে আর একজন বললেন, ‘এসব ঝামেলায় জড়ানোর কি দরকার। কাল দেখবেন ওই মাস্তান আপনার বাড়িতে বোম মেরে গেল। কলকাতার মাস্তানরা পুলিসের চেয়েও ইউনাইটেড।’

    ‘না না। ওকথা বলো না। প্রতিবাদ নিশ্চয়ই করব। তবে কিনা এক একজনের প্রতিবাদের মাধ্যম তার সুবিধে অনুযায়ী। আমি যদি একটা প্রবন্ধ লিখি অনেক বেশী লোক পড়বে, পড়ে অনুপ্রাণিত হবে। বুঝেছ?’

    গাড়িতে এসে অর্ক সঙ্গীর দিকে তাকাল। এখন ওরা কি করবে? খালি গাড়ি নিয়ে ফিরে যাওয়া মানে নিজেদের অপদার্থতা প্রমাণ করা, সঙ্গীর এরকম বক্তব্য ছিল। সে চাইছিল রবীন্দ্রসদনের সামনে অপেক্ষা করে প্রথম লেখককে সঙ্গে নিয়ে ফিরতে। কিন্তু অর্ক বলল, ‘এরা কেউ যাবে না। সবাই নিজেদের বাঁচাতে চায়। মুখে বড় বড় কথা বলবে কিন্তু কাজের বেলায় এগোবে না।’

    গাড়ি নিয়ে পাড়ায় ফিরে এল অর্ক। পার্কে সভার আয়োজন হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ বক্তৃতা শুনতে এসেছে। গাড়ি ছেড়ে দিয়ে অর্ক মঞ্চের পেছনে আসতেই সুবল উত্তেজিত হয়ে এগিয়ে এল, ‘ওঁরা এসেছেন?’

    মাথা নাড়ল অর্ক, ‘না।’

    ঘটনাগুলো খুলে বলল সে। চুল ছিঁড়তে লাগল সুবল। আরও দুটো দল গিয়েছিল বিখ্যাত মানুষদের নিয়ে আসতে। তারাও ব্যর্থ হয়ে ফিরেছে। বেশীর ভাগই বাড়িতে নেই, কেউ কেউ অসুস্থ। অর্ক দেখল চারজন মানুষ এসেছেন তালিকা অনুযায়ী। এঁদের কেউ আনতে যাননি। বয়স্ক এবং খুব কম পরিচিত মানুষ।

    এখন এই ব্যগ্র জনতাকে কি বলবে ওরা? শান্তি কমিটি ঘোষিত মানুষদের আনতে পারেনি। কলকাতার বিখ্যাত মানুষরা শান্তি কমিটির সঙ্গে নেই? কিছু দুর্বল মানুষ তো সঙ্গে সঙ্গে ভেঙ্গে পড়বে। এত বড় একটা হাস্যকর অবস্থা বিরোধীরা কাজে লাগাবে। কি করা যায় ঠিক করতে পারছিল না কেউ। সতীশদা বলল, ‘আমরা বক্তৃতা শুরু করি তারপরে দেখা যাবে। যে চারজন এসেছেন তাঁরাও কিছু বলুন। আসলে পলিটিক্যাল বেস না থাকলে কোন আন্দোলন সফল হতে পারে না।’

    সুবল বলল, ‘এ ধরনের কথা বলবেন না। তাহলে আমরা যেটুকু এগিয়েছি সেটা ভেস্তে যাবে।’

    সতীশদা সামান্য উত্তেজিত হল, ‘আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম সভা করতে। আমি মধ্যবিত্ত সুবিধাবাদীদের স্বরূপ জানি।’

    সুবল মাথা নাড়ল, ‘ঠিক আছে। এই মানুষগুলো আমাদের সঙ্গে মিথ্যাচার করেছেন। ওঁরা যা বলেছেন তা সভায় বললে মানুষ আরো ঘাবড়ে যাবে। অতএব আমাদের মিথ্যে কথা বলতে হবে। এছাড়া কোন উপায় নেই।’

    ‘কি মিথ্যে?’

    ‘আমি বলব যাঁদের আসার কথা ছিল, এখানে আসতে যাঁরা খুব আগ্রহী ছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের বাড়িতে কয়লার সমর্থক মাস্তানরা গিয়ে শাসিয়ে এসেছে এই সভায় এলে ফল খারাপ হবে। ফলে তাঁরা এখানে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। কয়লা গ্রেপ্তার হয়েছে কিন্তু তার সঙ্গীরা যে এখনও আমাদের ক্ষতি করতে চাইছে এই ঘটনা থেকেই প্রমাণ হয়। অতএব এলাকার সমস্ত মানুষকে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে যাতে ওরা অনুপ্রবেশ না করতে পারে। এইভাবে জনতাকে উত্তেজিত করা ছাড়া কোন উপায় নেই।’

    অর্ক চুপচাপ শুনছিল। এবার বাধা দিল, ‘কিন্তু এটা তো মিথ্যে কথা।’

    হয়তো মিথ্যে আবার সবটাই তো মিথ্যে নয়। ওঁরা আসেননি এই ভয়ে যদি কখনো ওঁদের বিপদ হয়। কেউ শাসায়নি সত্যি কিন্তু না শাসাতেই তো ওঁরা ভয় পেয়েছেন।’ সুবল চলে গেল সামনে।

    অর্ক সতীশদাকে ‘বলল, আপনি যাননি। আমি ওঁদের কাছে গিয়েছিলাম। ওঁরা যে আসবেন বলে কথা দিয়েছিলেন তাই আমার মনে হয়নি। এঁদের মুখাশ খুলে দেওয়ার বদলে বাঁচানো হচ্ছে। এটা ঠিক কি?’

    সতীশদা বলল, ‘উত্তেজিত হয়ো না অর্ক। তোমার বয়স কম। সুবল বোধ হয় ঠিক কাজ করছে। অন্তত আজকের সন্ধ্যায় এছাড়া কোন উপায় নেই।’

    সভার কাজ শুরু হল। প্রথমেই সুবল এলাকার মানুষদের জানাল কি পরিস্থিতিতে এলাকার হয়ে নিমন্ত্রিতরা আসতে পারেননি। কয়লার বন্ধুরা কতখানি সক্রিয় হয়েছে তার বিস্তারিত বর্ণনা শোনাল। এমন কি টালিগঞ্জ থেকে একজন মানুষ বেলগাছিয়ায় যাতে না আসেন তার ব্যবস্থা করেছে ওরা। কাল্পনিক কাহিনী শেষ হওয়ামাত্র জনতা উত্তেজিত হল। আর কেউ প্রশ্ন করল না কেন বিখ্যাত মানুষেরা এলেন না। কিন্তু সভার আয়তন ধীরে ধীরে কমতে শুরু করল।

    রাত সাড়ে আটটায় সব শেষ। সুবলকে খুব বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। অর্ক তাকে ডাকল, ‘আমরা এখন কি করব?’

    ‘কি করব মানে?’

    ‘শান্তি কমিটির কাজ কি হবে?’

    ‘পাড়ায় যাতে শান্তি বজায় থাকে তার দিকে নজর রাখব।’

    ‘কিন্তু সেটা কতদিন সম্ভব?’

    সতীশদা এগিয়ে এল, ‘তুমি কি বলতে চাইছ?’

    অর্ক বলল, ‘আজকেই একটা বিরাট মিথ্যে কথা বলে জনসাধারণকে শান্ত করতে হল। কিন্তু একদিন তো সত্যি কথাটা লোকে জানবেই।’

    ‘আমি তো বলেছি পুরো মিথ্যে বলিনি। এ নিয়ে তুমি ভেবো না।’

    অর্ক আর কথা বাড়াল না। ওর মনে আজ এই মুহূর্তে অনেকগুলো প্রশ্ন এসেছিল। যখন সমাজবিরোধীদের ঠাণ্ডা করার প্রশ্ন উঠছে তখন শান্তি কমিটি একযোগে কাজ করতে পারছে। কিন্তু কদিন বাদে যখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রয়োজনে আলাদা সভা করবে তখন? ধরা যাক একটা ইলেকশন এল। সতীশদারা তখন শান্তি কমিটির সহকর্মী কংগ্রেসীদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে বাধ্য হবে। উল্টো দিক থেকেও তাই হবে। সে সময় শান্তি বজায় রাখবে কারা? ইলেকশনের সময় যেসব ছেলে বাইরে থেকে কাজ করতে আসে পার্টির হয়ে তারা কারা? তাছাড়া শান্তি কমিটি থাকলে এলাকার ওপর পার্টির জোর কমে যাবে। এটা কতদিন পার্টি চাইবে। আজকের সভায় নির্বাচিত এম এল এ এবং বিরোধী সদস্য এসেছিলেন। পাশাপাশি বসে কথা বলেছেন হাসিমুখে। কিন্তু কদিন সম্ভব হবে এই সম্পর্ক রাখা।

    চারজন বিখ্যাত মানুষ যে দুনম্বরী আচরণ প্রকাশ্যে করতে পারলেন তা দেখে মনে মনে মুষড়ে পড়ছিল অর্ক। পার্ক থেকে বেরিয়ে সে চুপচাপ হেঁটে আসছিল অন্ধকার পথ দিয়ে। জায়গাটা নির্জন। কিছুক্ষণ হাঁটার পর তার খেয়াল হল একটা ট্যাক্সি খুব ধীরে তার পেছন পেছন আসছে। এদিক দিয়ে ঘন ঘন গাড়ি গেলেও মানুষের চলাচল কম। অর্ক বিপদের গন্ধ পেয়ে সতর্ক হবার চেষ্টা করামাত্র ট্যাক্সিটা পাশে এসে দাঁড়াল। অর্ক অবাক হয়ে দেখল বিলু মুখ বের করে জিজ্ঞাসা করল, ‘গুরু, তোমাকে কদিন থেকে খুঁজছি, কিছুতেই পাচ্ছি না।’

    অর্কর নিঃশ্বাস স্বাভাবিক হল; সে দেখল গাড়িতে কোয়া ছাড়াও আর একজন বসে আছে যাকে সে চেনে না। সে নিচু গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কেন?’

    বিলু জিজ্ঞাসা করল, ‘আমার নাম নাকি লিস্টে ছিল না, তুমি ঢুকিয়েছ?’

    অর্ক শক্ত হল, ‘হ্যাঁ।’

    ‘কেন গুরু? আমাকে এমন বাঁশ দিলে কেন?’

    ‘দুদিন বাদে এরা জানতেই পারতো।’

    ‘এখন আমরা কি করব? মাল তো ফুরিয়ে আসছে।’

    ‘থানায় যা। সারেণ্ডার কর।’

    কোয়া এবার কথা বলল, ‘আমি তোকে বললাম এছাড়া উপায় নেই।’

    ‘তারপর? বেরিয়ে এলে তুমি ব্যবস্থা করবে? পাড়ায় কোন অসুবিধে হবে না?’

    ‘না।’

    ‘ঠিক হ্যায়।’ বিলু নির্দেশ দিতে ট্যাক্সিটা চলে গেল। আর অর্কর মন খারাপ হয়ে গেল। ছেলেগুলো তাকে বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু সে এদের দেখেই প্রচণ্ড ঘাবড়ে গিয়েছিল। মন কখনই কোন কিছুকে ভালভাবে নিতে পারে না কেন? তারপরেই তার মাথায় দ্বিতীয় চিন্তার উদয় হল। বিলু এবং কোয়া সমাজবিরোধী বলে চিহ্নিত। পাড়ার লোক ওদের পেলে ছেড়ে দেবে না। তা সত্ত্বেও ওরা ঝুঁকি নিয়ে এখানে এসেছে তার সঙ্গে কথা বলতে। শান্তি কমিটির কেউ সেটা দেখলে যদি ভুল বোঝে? যদি মনে করে তার সঙ্গে এদের গোপন যোগাযোগ আছে! সঙ্গে সঙ্গে একটা ডোণ্ট কেয়ার ভাব ওর মনে এল। যতক্ষণ সে নিজে অন্যায় করছে না ততক্ষণ এসব নিয়ে চিন্তা করার কোন মানে হয় না।

    ঈশ্বরপুকুরে ঢুকেই ন্যাড়ার দেখা পেল সে। ন্যাড়া বিড়ি টানছিল। ওকে দেখে বলল, ‘যাঃ শালা, সব বিলা হয়ে গেল।’

    ‘কেন?’

    ‘ফিলিম স্টার এল না?’

    ‘তাই দেখতে গিয়েছিলি?’

    ‘আবার কি? শান্তি কমিটি হেভি ঢপ দিল।’

    ‘ওরা আসেনি শান্তি কমিটি কি করবে?’

    হঠাৎ ন্যাড়া কাছে সরে এল, ‘জানো অক্কদা! কয়লাকে তো তোমরা তাড়ালে। ওদিকে ওয়াগনের কারবার কিন্তু থেমে নেই।’

    ‘থেমে নেই মানে?’

    ‘গ্যালিফ স্ট্রীটের কচুয়া তো কয়লার ভয়ে এতদিন এদিকে আসতে পারেনি এখন লাইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। এতদিন বেলগাছিয়ার ছেলেরা কাজকর্ম পেত এখন গ্যালিফ স্ট্রীটের ছেলেরা পাচ্ছে। কাজ চাইতে গেলে বলে, যাঃ ফট। শান্তি কমিটি মারাগে যা।’

    ‘তুই গিয়েছিলি নাকি?’

    সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল ন্যাড়া, ‘না না। আমি শুনেছি।’

    অর্ক ন্যাড়াকে ছেড়ে তিন নম্বরের সামনে চলে এল। তার মাথার ভেতরটা ক্রমশ অসুস্থ হয়ে আসছিল। কয়লা নেই কিন্তু আর একটা কয়লা তৈরি হয়ে যাচ্ছে। যতদিন মানুষের অভাব থাকবে তদ্দিন এসব থাকবেই। হাজারটা শান্তি কমিটি তৈরি করে দূর করা যাবে না।

    গলিতে ঢুকতেই ডাক শুনতে পেয়ে মুখ ফেরাল অর্ক। সেই শীর্ণ প্রৌঢ় এগিয়ে এল তার সামনে, ‘তোমার জন্যে দাঁড়িয়ে আছি বাবা।’

    ‘আমার জন্যে?’

    ‘হ্যাঁ। দ্যাখো আজ মদ খাইনি। সন্ধ্যে থেকে বসে বসে এখানে দাঁড়ালাম। শুনেছিলাম তুমি পার্কের মিটিং-এ গেছ। বাড়ি ফিরবার সময় ধরব বলে অপেক্ষা করছিলাম।’ প্রৌঢ় হাসল।

    ‘কিছু দরকার আপনার?’

    ‘কেন? তোমার তো মনে থাকার কথা। এই নাও দুশো টাকা। তোমার হাতে তুলে দিলাম। আমার মাস মাইনে। ওদের যদি পুরো মাস পেট ভরিয়ে রাখো তাহলে কথা দিচ্ছি আর মদ ছোঁব না। নাও, টাকাটা ধরো।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Our Picks

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }