Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. গলির ভেতরটায় তেমন মানুষজন নেই

     চৌদ্দ

    গলির ভেতরটায় তেমন মানুষজন নেই। দুধারে বেশ পুরোনো ধরনের বাড়ি। কেমন ঘুম ঘুম ভাব। নম্বর মিলিয়ে হাঁটতে গিয়ে অসুবিধেয় পড়ল অর্ক। তিন-এর পরেই আঠাশের এক। কয়েকজন বয়স্ক লোক এক জায়গায় গুলতানি করছিল। অর্ক তাদের সামনে গিয়ে নম্বরটা জিজ্ঞাসা করল।

    ‘বাঁক ঘুরেই ডানহাতি লাল বাড়ি।’ ওদের মধ্যে যে সবচেয়ে বুড়ো সে কথাটা বলল। অর্ক পা বাড়াতেই আবার প্রশ্ন হল, ‘কার ঘরে যাবে?’

    অর্ক ভাবল উত্তর দেবে না। তারপরেই মত পাল্টালো। বেপাড়ায় ঢুকে কোনরকম রোয়াবি দেখানো উচিত হবে না। কিন্তু কোন মেয়ের নাম বলা কি ঠিক হবে? অথচ উপায়ও তো নেই। সে নরম গলায় বলল, ‘ওখানে মিস টি বলে একজন আছে, তাকে খবর দিতে হবে।’

    ‘কি খবর?’

    চটপট মিথ্যে কথা বলল সে, ‘ফাংশনের।’ ঝুমকি বলেছিল মিস টি এখন চারধারে নেচে বেড়ায়।

    ‘ফাংশন?’ বুড়ো মুখ বিকৃত করল, ‘এই শালা এক কায়দা হয়েছে। পাড়ার মেয়েরাও এইভাবে বেহাত হয়ে যাবে, তোরা দেখিস!’

    ‘কি করবে বল, দিনকাল এখন অন্যরকম!’ আর একজন আফসোসে মাথা নাড়ল।

    ‘তাই বলে এরকম চললে আমাদের পেটে হাত দিয়ে বসতে হবে।’

    অর্ক তখনও দাঁড়িয়ে আছে দেখে দ্বিতীয় লোকটি বলল, ‘তুমি যাও ভাই, ফাংশন করো।’ শেষ কথাটায় এমন একটা টিপ্পনি ছিল অন্যান্যরা হেসে উঠল।

    বাঁক নিতেই লাল বাড়িটা চোখে পড়ল। একটা বুড়ি ঝাঁটা আর বালতি হাতে সদর দরজায় দাঁড়িয়ে কারো মুণ্ডপাত করছে। দোতলা বাড়িটা খুব পুরোনো বলে মনে হচ্ছে না। অর্ক ধীরে ধীরে কাছে এগিয়ে যেতেই বুড়ি মুখ থামিয়ে হাঁ করে তার দিকে তাকাল, ‘ওমা, এটা আবার কে রে? কি চাই?’

    অর্ক নম্বরটা যাচাই করতে চাইল। বুড়ির গলা আবার গন্‌গনে হল, ‘লম্বরে কি দরকার! গোটা সোনাগাছি জানে এটা বীণাপাণির বাড়ি। এই সাতসকালে কি ধান্দায় এয়েচ বল তো ছোঁড়া?’

    ‘একজনের সঙ্গে আমার দরকার আছে।’ অর্ক বিরক্ত হল বুড়ির চিৎকারে।

    ‘আরে বাবা এখানে কেউ দরকার ছাড়া আসে? মন্দির শ্মশান সোনাগাছি, প্রয়োজনে হাজির আছি। ঘুরে এসো নদের চাঁদ। দিন ফুরোলে সন্ধ্যে হলে গায়ে গতরে বা একটু বাড়লে। এই এঁচোড় বয়সে ভর সকালে কে তোমাকে নাড়ু খাওয়াবে গোপাল? ঝেঁটিয়ে ফুটুনি বের করে দেব, যা ভাগ্‌। আচমকা গলা সপ্তমে উঠল বুড়ির।

    অর্ক গম্ভীর গলায় বলল, ‘আপনি এইভাবে কথা বলছেন কেন?’

    ‘কি ভাবে? কথা বলাও তোর কাছে শিখব নাকি! যখন যৈবন ছিল তখন কত বড় বড় বাবু এসে কান পেতে থাকতো দুটো মধু শুনবে বলে।’

    এইসময় আর একটি গুলা শোনা গেল, ‘ও মাসী, ধমকাচ্ছো কাকে?’

    ‘এই দ্যাখোদিকিনি! গোঁফ উঠেছে কি ওঠেনি এখনই তা দেবার শখ। এগারটার সময় প্রয়োজন মেটাতে এসেছে, আর সময় পেল না। এটা হাসপাতাল নাকি? গেলেই ওষুধ লাগিয়ে দেবে।’ বুড়ি সদরে জল ঢেলে দিয়ে দ্রুত হাতে ঝাঁটা চালাতে লাগল। জলের ছিটে লাগছে দেখে লাফিয়ে সরে দাঁড়াল অর্ক। তখনই সে মধ্যবয়সিনীকে দেখতে পেল। মোটাসোটা, গোল মুখ, চোখ এখনও ফুলো, মাথার চুল পিঠময় ছড়ানো। ঠোঁটে পানের শুকনো দাগ, কথা বলার সময় লালচে দাঁত দেখা গেল, ‘কি চাই?’

    এই কি মিস্ টি? অর্ক মনে মনে মাথা নাড়ল। দূর! ওই শরীরে নাচ হয়? মিস্‌দের যে সব ছবি বিজ্ঞাপনে সে দেখেছে এ তার ধারে কাছে যায় না। কিন্তু বুড়ির চেয়ে মহিলা অনেক ভদ্র। সে বুড়িকে এড়িয়ে কাছে এসে বলল, ‘উনি আমাকে মিছিমিছি আজে বাজে কথা বলছেন। আমি—।’

    চট করে ঠোঁটে আঙ্গুল চেপে ইঙ্গিত করল মহিলা, তারপর ইশারায় ভেতরে ঢুকতে বলল। বুড়ির গলা তখন চিরে যাচ্ছে, ‘ছা ছ্যা, এত পয়সার লোভ, ভর সকালে ঘরে তুললি? এক কাপ চা খেতে চাইলে ঘুরিয়ে নাক দেখাস। আজ আমি কোন কথা শুনছি না। দুটো টাকা না দিলে কুরুক্ষেত্র করব।’

    একতলার ভেতরে বাঁধানো উঠোন। তার ধার ঘেঁষা বারান্দা দিয়ে মহিলার পেছন পেছন পা ফেলতেই অবাক হয়ে গেল সে। বিভিন্ন বয়সের মেয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁত মাজছে কাপড় কাচছে উঠোনের কলে। অর্ককে দেখতে পেয়েই একজন কি টিপ্পনি কাটতেই সবাই হেসে গড়িয়ে পড়ল। একটি কালো মেয়ে বেসুরো গলায় চিৎকার করল, ‘আ গিয়া মেরে লাল, কর দিয়া কামাল।’

    এসব যে তার উদ্দেশ্যেই বুঝতে অসুবিধে হবার কথা নয়। হঠাৎ কেমন অসহায় বোধ করতে লাগল অর্ক। এটা যে খারাপ মেয়েদের বাড়ি তাতে আর সন্দেহ নেই। খান্না সিনেমার সামনে দাঁড়ানো মেয়েদের সে দেখেছে। এই বাড়িতে মিস টি থাকে এবং ঝুমকি তার কাছে এসেছে, কি আশ্চর্য! একটা বাচ্চা মা মা বলে কাঁদতে কাঁদতে আর একজনের আঁচল ধরল। তাকে পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে অর্ক প্রবল নাড়া খেল। খুরকিরা প্রায়ই বলে, খানকির বাচ্চা! ওই উদোম বাচ্চাটিকে দেখে সে কথা কি বলা যায়?

    ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে মহিলা বলল, ‘এসো।’ তারপর ঘরে ঢুকে মেঝেয় পাতা বিছানা গুটিয়ে নিতে লাগল। অর্ক দেখল, এক চিলতে ঘরের দেওয়ালে শিব ঠাকুরের ছবি। বিছানা বাদ দিলে পা ফেলার যেটুকু জায়গা তাতেই কুঁজো আর হাঁড়ি-কুঁড়ি স্তুপ করে রাখা। চ্যাপ্টা বালিস ফোলাতে ফোলাতে মহিলা বলল, ‘দাঁড়িয়ে রইলে কেন, বসো ভাই। নইলে এক্ষুনি ফ্যান চলে যাবে।’

    অর্ক দেখল দেওয়ালের কোণে একটা ছোট্ট ফ্যান আটকানো। শব্দ করে তার ব্লেড ঘুরছে। মহিলা বলল, ‘কি গো, ঘর পছন্দ হচ্ছে না?’

    অর্ক পেছন ফিরে মেয়েগুলোকে দেখল। তারা আর এদিকে নজর দিচ্ছে না। সে বলল, ‘আমি অন্য একজনকে খুঁজছিলাম।’

    ‘অন্য একজন?’ সঙ্গে সঙ্গে মহিলার মুখ কালো, ‘কেন আমি কি ফ্যালনা?’

    ‘এখানে মিস টি বলে কেউ আছেন?’

    ‘ও! তুমি তাহলে আমার এখানে বসবে না? ওই মাগীর কাছে এসেছ? মুরোদ আছে ওর কাছে ঘেঁষার?’ হিসহিসিয়ে উঠল মহিলা।

    ‘আপনি এসব কি বলছেন?’ প্রায় আর্তনাদ করে উঠল অর্ক!

    ‘ন্যাকা! পাঁচজনে দেখল তুমি আমার ঘরে এসেছ। এখন চলে গেলে ইজ্জত থাকবে?’ উঠে দাঁড়াল মহিলা।

    ‘আপনি বিশ্বাস করুন আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। আমি খুব প্রয়োজনে এখানে এসেছি।’ মিনতি করল অর্ক।

    ‘ওসব বাজে কথা রাখ। আমার বউনি হয়নি এখনও। এখন তোমাকে ছেড়ে দিলে দিনটাই নষ্ট হয়ে যাবে। প্রয়োজন! বুড়ি ঠিকই বলেছিল।’

    অর্ক কি বলবে বুঝতে পারছিল না। শেষতক বলে বসল, ‘মিস টি-এর সঙ্গে কথা না বললে আমার জেল হয়ে যেতে পারে!’

    ‘জেল!’ শব্দটা শোনামাত্র মুখের চেহারা পাল্টে গেল মহিলার। বড় বড় চোখে অর্কর দিকে তাকিয়ে সে জিজ্ঞাসা করল, ‘এর মধ্যে পুলিশের ব্যাপার আছে নাকি?’

    নীরবে মাথা নাড়ল অর্ক, হ্যাঁ।

    একটু বিব্রত হল মহিলা। তারপর হাত বাড়িয়ে বলল, ‘দশটা টাকা দাও।’

    ‘কেন?’ ভীষণ অবাক হল অর্ক।

    ‘ঘরে না বসলে দিতে হবে।’ কঠিন মুখে জানাল মহিলা।

    অর্ক বুঝল এর হাত থেকে কোনমতে পরিত্রাণ নেই। সে পকেটে হাত ঢুকিয়ে সন্তর্পণে টাকার গোছা থেকে একটা দশ টাকার নোট বের করে প্রসারিত হাতে ফেলে দিল। তৎক্ষণাৎ পেছনে জলতরঙ্গ বেজে উঠল প্রথমে, তারপর দু’তিনটে সিটি এবং উদ্ভট চিৎকার। মেয়েরা হাততালি দিচ্ছে।

    মহিলা টাকাটায় চুমু খেয়ে বলল, ‘ওই সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে ডান দিকের ফেলাট।’ বলে টাকাটাকে পাখার মত করে হাওয়া খেতে লাগল। একজন চেঁচিয়ে উঠল, ‘শোভাদি, বেশ টুপি পরালে সাত সকালে!’

    চোখ ঘুরিয়ে দোতলা দেখিয়ে শোভা বলল, ‘দুধ দুইতে এলে তো ভাই একটু আধটু চাঁট সইতেই হবে।’

    মেয়েটি বলল, ‘ওমা! মেমসাহেবের ঘরে নাকি?’

    ‘তাই তো বলছে।’

    ‘একটু আগে আর একজন ওপরে উঠল। হবু মেমসাহেব!’

    অর্ক ততক্ষণে সিঁড়িতে পা রেখেছে। কিন্তু শেষ সংলাপ তার কান এড়ায়নি। যে উঠেছে তাকে এরা পছন্দ করছে না। সে কি ঝুমকি? হবু মেমসাহেব, হাসি পেল অর্কর। তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুর লেনে ঝুমকিকে কেউ মেমসাহেব বলে চিন্তাও করতে পারবে না। ধর্মতলায় না গেলে সে নিজেও বিশ্বাস করত না। দোতলায় উঠেই ডান দিকে একটা কোলাপসিব্‌ল গেট। ভিতরে তালা ঝুলছে। তার পেছনে কাঠের বন্ধ দরজা। বাঁ দিকের বারান্দা খালি। অর্ক দেখল কোলাপসিব্‌ল গেটের ফাঁকে কলিং বেলের বোতাম, টিপতেই যেন বাজ ডাকল। দরজার গায়ে সুন্দর অক্ষরে লেখা মিস টি।

    তিরিশ সেকেণ্ড পরে কাঠের কপাট খুলল। একটি আধাবুড়ো লোক মুখ বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘কি চাই?’

    ‘মিস টি আছে?’

    দ্রুত মাথা নাড়ল লোকটা, না, নেই।

    যাচ্চলে! ঝুমকি বলেছিল ফাংশনে গিয়েছে কিন্তু সকালেই ফিরে আসার কথা। লোকটা এবার দরজা বন্ধ করতে যাচ্ছে দেখে সে তাড়াতাড়ি বলে উঠল, ‘আচ্ছা, ঝুমকি, মানে মিস ডি এসেছে? আমি একটা ফাংশনের জন্যে এসেছি।’

    এবার বুড়োর মুখ নরম হল। কাঠের দরজাটাকে আধভেজিয়ে ভেতরে চলে গেল লোকটা। ব্যাপার-স্যাপার দেখে অর্কর মনে হচ্ছিল নিচে যাদের দেখে এল তাদের সঙ্গে এই ঘরের বাসিন্দাদের প্রচুর পার্থক্য আছে। এত পাহারা, সতর্কতা!

    দরজায় এসেই চমকে উঠল ঝুমকি, ‘তুমি!’

    সঙ্গে সঙ্গে মুখচোখে ক্রোধ ফুটে উঠেছিল অর্কর, কিন্তু পেছনে বুড়োটাকে দেখতে পেয়ে সামলে নিল, ‘দেরি হয়ে গিয়েছিল।’

    ‘তৃষ্ণাদি এখনও ফেরেনি।’ ঝুমকি যে তাকে কাটাতে চাইছে তা স্পষ্ট।

    ‘জানি। আমি অপেক্ষা করব।’

    ঝুমকি খুব অস্বস্তিতে পেছন ফিরে বুড়োর দিকে তাকাল। তারপর সামনে মুখ ফিরিয়ে বলল, ‘কোন সুবিধে হবে না।’

    ‘সেটা আমি বুঝব। যা কথা ছিল তাই কর।’

    অগত্যা নিতান্ত উপায় নেই বলেই যেন ঝুমকি বুড়োকে বলল, ‘খুলে দাও, তৃষ্ণাদির সঙ্গে দেখা করে যাবে।’

    বুড়ো লোকটার বোধহয় অর্ককে ঢুকতে দেওয়ার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু ঝুমকি দ্বিতীয়বার ইশারা করায় বাধ্য হল তালা খুলতে। কাঠের দরজা পেরিয়ে একটা ভারী পর্দা দেওয়াল থেকে ও দেয়ালে চলে গেছে। তার ফাঁক দিয়ে ঝুমকির পেছন পেছন অর্ক যে ঘরে এল সেখানে সূর্যের আলো ঢোকে না। নীলচে দুটি বাল্ব দু কোণে জ্বলছে। পায়ের তলায় বেশ পুরু কার্পেট, এক কোণে ছয় জন বসতে পারে এমন সাফা। ঘরের অনেকটাই খালি।

    ঝুমকি ইঙ্গিত করতেই অর্ক সোফায় আরাম করে বসল। এই ফ্ল্যাটের মালিক বেশ মালদার বোঝা যাচ্ছে। ভেতরে আর একটা ঘর রয়েছে যে ঘরে সূর্যের আলো ঢোকে। বুড়োটা ভেতরে চলে গিয়েছে। ঝুমকি দাঁড়িয়েছিল বেশ জড়সড় হয়ে। অর্ক বলল, ‘তুমি আমাকে কাটিয়ে দিতে চেয়েছিলে নইলে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে পারতে।’

    ঝুমকি বলল, ‘না, তুমি ঠিক সময়ে আসনি। তাছাড়া আমি চাইনি তুমি এখানে আসো।’

    ‘কেন? তুমি আসতে পারো, আমার বেলায় কি দোষ।’

    ‘জায়গাটা খারাপ।’

    ‘তুমি এসেছ কেন?’

    ‘আমি তো খারাপ, পাড়ায় ভাল হয়ে থাকি।’

    অর্ক এবার আড়ষ্ট হল। ওর জানাশোনা কেউ নিজেকে কখনও খারাপ বলেনি। হাত উল্টে সে বলল, ‘জেনেশুনে খারাপ হওয়ার কি দরকার?’

    হাসল ঝুমকি, ‘নইলে শুধু হাওয়া খেয়ে বাঁচতে হয়। আর কদিন যাক, এই তৃষ্ণাদির মত নাম হয়ে গেলে কোন চিন্তা থাকবে না। তুমি এই জায়গার কথা পাড়ায় গিয়ে কাউকে বলো না।’

    অর্ক হাসল, যদি বলে দিই?’

    ঝুমকি বলল, ‘জানি না কি হবে। হয়তো তখন আর কাউকেই কেয়ার করব না।’

    অর্ক খুঁটিয়ে দেখল ঝুমকিকে। আর পাঁচটা মেয়ের সঙ্গে ওর কোন তফাত নেই। এই বাড়ির নিচের তলায় যারা রয়েছে তাদের দিকে তাকালেই মনের মধ্যে কিরকম যেন হয়। কেমন নির্লজ্জ বেলেল্লাপনা ওদের হাবভাবে। ঝুমকি তার ধারে কাছেও যায় না। কিন্তু তবু ঝুমকি বলছে ও খারাপ! কথাটা মনে আসতেই সে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল, ‘খারাপ মানে কি?’

    হাসল ঝুমকি, ‘তুমি দেখতেই বড়, বয়স হয়নি।’ তারপর গম্ভীর মুখে জানাল, ‘আমি পয়সা নিয়ে ব্যাটাছেলেদের শরীর দিই।’

    ‘রোজ?’

    ‘না। সপ্তাহে দুদিন। নাচ শেখা হয়ে গেলে এই ছ্যাঁচড়ামিটা ছেড়ে দেব।’

    ‘তখন কি করবে?’

    ‘কেন নাচব! হোটেলে, থিয়েটার হলে, বিজ্ঞাপন দ্যাখোনি? ওতে এখন খুব ভাল পয়সা।’

    ‘শরীর দেবে না?’

    ‘ভাল দাম পেলে অন্য কথা তৃষ্ণাদি প্রাইভেট নাচের জন্যে হাজার টাকা নেয়। হোটেলে নাচলে মাসে দুহাজার মাইনে। কেউ যদি রাত কাটাতে চায় তৃষ্ণাদির সঙ্গে তাকে বেশ মাল ছাড়তে হয়। তৃষ্ণাদি আমায় শেখাচ্ছে।’

    ‘হবু মেমসাহেব!’ কথা মনে পড়ায় এখন উগরে দিল অর্ক, ‘নাম হলে তুমি আর আমাদের পাড়ায় নিশ্চয়ই থাকবে না। তা তোমার তৃষ্ণাদির তো অনেক পয়সা, এই খানকিপাড়ায় থাকে কেন?’

    ‘সে তুমি বুঝবে না।’

    ‘বোঝালেই বুঝব।’

    ‘অন্য পাড়ায় বড় বাড়ি পাওয়ার খুব ঝামেলা। তাছাড়া নাচগান হলে পাড়ার লোক পিছনে লাগে। পুলিশ এসে হিস্যা চায়। এখানে সব ধরাবাঁধা ব্যাপার। মাঝে মাঝেই নিচতলায় পুলিশ আসে রেড করতে কিন্তু ওপর তলায় ওঠে না। তৃষ্ণাদির এখানে বাজে খদ্দের কক্ষনো ঢুকবে না। যারা আসে তারা খুব নামী-দামী লোক। এপাড়ায় থাকলে, কাউকে পরোয়া না করলেই চলে। শুধু পুলিশ আর পাড়ার গুণ্ডাকে টাকা দিলেই হল।’

    কথা বলতে বলতে কানখাড়া করেছিল ঝুমকি শেষ করে পাশের ঘরে ছুটে গেল। এখন অর্ক ঘরে একা। নীলচে আলোয় সে ঘরখানার দিকে তাকাল। তারপর উঠে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল। সোফার পেছনে একটা দেওয়াল আলমারি। নানান রকম জিনিস রয়েছে সেখানে। সব শখের ব্যাপার। হঠাৎ ওর চোখ আটকে গেল ছয় ইঞ্চি লম্বা একটি ধাতব বস্তুর ওপর। ওটা কি? সন্তর্পণে কাঁচ সরিয়ে জিনিসটাকে বের করে আনল সে। ইস্পাতের ওপর মসৃণ হাড় বসানো হাতল। দুপাশে দুটো বোতাম। একটা টিপতেই সরু ফলা বেরিয়ে এল ইঞ্চি পাঁচেক। মুখটা সামান্য বাঁকানো কিন্তু প্রচণ্ড ধার। বোতাম টিপতেই ওটা লুকিয়ে গেল হাতলের আড়ালে। অন্য বোতামটা টিপতেই ডট পেনের মুখ বেরিয়ে এল, ডটার সমেত।

    এইসময় পায়ের শব্দ পাওয়া মাত্র অর্ক জিনিসটাকে পকেটে ঢুকিয়ে দিল। দারুণ জিনিস পাওয়া গেল। এইরকম একটা মালের সন্ধানে ছিল সে এতদিন, এটা সঙ্গে রাখলে মনের জোর অনেক বেড়ে যাবে।

    ভেতরের দরজায় তখন ঝুমকি দাঁড়িয়ে আছে। বোধহয় অর্ককে দেখে ওর মনে কিছু সন্দেহ জেগেছিল, চোখাচোখি হতেই বলল, ‘তৃষ্ণাদি এসেছে।’

    চট করে সোফায় গিয়ে বসল অর্ক। না জিনিসটা পকেটের ভেতর কোন অসুবিধে করল না। ঝুমকির চোখে তখনও সন্দেহ লেগে ছিল, ‘তুমি কি করছিলে?’

    ‘কিছু না।’

    ‘শোন, তোমার পায়ে পড়ি, তৃষ্ণাদির সঙ্গে কোনরকম ঝামেলায় যেও না। ফাংশন করে এলে তৃষ্ণাদির মাথা খুব গরম থাকে।’

    ‘মাল কামালে তো মানুষের মাথা ঠাণ্ডা হওয়া উচিত।’

    আর তখনই সেই বাজ ডাকার শব্দ হল। বুড়ো লোকটা ছুটে এল ভেতর থেকে। ঝুমকি ওর পিছু নিল। গলা পেল অর্ক, ‘ঘুমুচ্ছিলে? গণ্ডা গণ্ডা টাকা দিচ্ছি কি মুখ দেখতে? ট্যাক্সি এলে মাল নামাতে যেতে পারো না। এই যে, তুমি যখন উদয় হয়েছ তখন কি করছিলে? এত করে বলেছি নিচের তলায় সব ডাইনিরা নখ বের করে আছে তবু তোদের হুঁশ হয় না।’

    কথা শেষ হওয়ামাত্র যিনি ঝড়ের মত পর্দা সরিয়ে ভেতরে ঢুকলেন তাকে দেখে চমকে গেল অর্ক। হাতির দাঁতের মত গায়ের রঙ, মাঝারি উচ্চতায় ছিপছিপে শরীরে আটকে আছে জিনসের প্যাণ্ট আর ঢিলে ফুলশার্ট। হাঁটতে হাঁটতে উঁচু হিল জুতো ছুঁড়ে ফেলল ঘরের দু দিকে, মাথার টানটান চুল পাছার ওপর নাচছে এবং অর্ক অদ্ভুত সুন্দর একটা গন্ধ পেল আচমকা। অর্ক যে ঘরে বসে আছে সে খেয়াল নেই, সটান ঢুকে গেল পাশের ঘরে। যেটুকু দেখা গেল তাতেই অর্কর মনে হল মেমসাহেব একেই বলে। নিচের মেয়েগুলো কিংবা ঝুমকির সঙ্গে এর আকাশপাতাল তফাত। বরং বিলাস সোমের মেয়ে যদি—। না। মাথা নাড়ল অর্ক। বিলাস সোমের মেয়ের মধ্যেও এই ঝিলিক নেই। ঝিলিক শব্দটা ভাবতে পেরে নিজেরই মজা লাগছিল। বুড়ো লোকটা ততক্ষণে জুতোজোড়া কুড়িয়ে নিয়ে ভেতরে ছুটেছে। ঝুমকি ভারী পায়ে ভেতরের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। তারপরেই সংলাপ শুরু হল।

    ‘কখন এসেছিস?’

    ‘একটু আগে।’

    ‘হঠাৎ?’

    ‘এমনি।’

    ‘না। এমনি আসার মেয়ে তুমি নও। কাল তো অত টাকা নিয়ে গেলি আজ আবার কি দরকার? আমি তোকে বলেছি একা একা এখানে আসবি না। পেছন পেছন মাতালগুলো ছুটবে। এই বেশ্যাপাড়ায় আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। ও হ্যাঁ, এসেছিস ভাল করেছিস। পরশু রাত্রে বজবজে একটা ফাংশন আছে। আর একজনকে নিয়ে যেতে হবে। তুই যাবি?’

    ‘যাব।’

    ‘কাল দুপুরে বাদল আসবে, মিউজিক-এর সঙ্গে রিহার্সাল দিবি।’

    ‘আচ্ছা।’

    ‘দুশো টাকা কম দিয়েছে। হারামির ঝাড় সব। নাচ শুরু করতে না করতেই হামলে পড়ে। শরীরটার আর কিছু বাকি নেই। পুতুলের মত দাঁড়িয়ে আছিস কেন?’

    ‘তৃষ্ণাদি!’

    ‘কি হল? ন্যাকামি করবি না। আমার মেজাজ গরম আছে।’

    ‘একজন তোমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে!’

    ‘কে কোথায়?’

    ‘বাইরের ঘরে। আমার পাড়ার ছেলে।’

    ‘ছেলে। পাড়ার ছেলেকে এখানে এনেছিস? আমার সঙ্গে তার কি দরকার?’

    ‘ওই হার—।’

    ‘কি হার?’

    ‘যেটা কাল তোমাকে দিয়েছি।’

    ‘তার জন্যে তো টাকা দিয়েছি। আমি নেই আর ছোঁড়া এনে তুলেছিস। কোথায় গেল বুড়ো, পই পই করে বলেছি আমি না থাকলে দরজা খুলবে না। উফ্‌! আর তারপরেই অসম্ভব উত্তেজিত একটি মূর্তি বুমকিকে সরিয়ে দিয়ে এই ঘরে ঢুকল। এতক্ষণ তৃষ্ণা পালের কথার ঝাঁঝ পাচ্ছিল অর্ক এখন পুরো শরীরটাকেই তার ধারালো বলে মনে হল। ইতিমধ্যে প্যাণ্ট শার্ট দূর হয়ে হাত কাটা ঢোলা সেমিজের মত ম্যাক্সি অঙ্গ ঢেকেছে। হাঁটুর সামান্য নিচেই তার শেষ। দুটো সুডৌল হাত আর নিটোল পা শঙ্খিনীর মত শরীর কাঁপাচ্ছে। তীক্ষ্ণ চোখে অর্ককে দেখে তৃষ্ণা জিজ্ঞাসা করল, ‘কি চাই?’

    অর্ক প্রথমে ভেবেছিল উঠে দাঁড়িয়ে নমস্কার করবে। কিন্তু প্রশ্ন করার ধরন দেখে মত পাল্টালো। সোফায় হেলান দিয়েই বলল, ‘হার।’

    ‘তুমি কে?’

    ‘ঝুমকির পাড়ায় থাকি।’

    ‘কি নাম?’

    ‘অর্ক।’

    ‘অর্ক? এরকম নাম কখনও শুনিনি। এই হার তোমার?’

    ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল অর্ক।

    ‘কিন্তু এটা আমি কিনে নিয়েছি।’ বুকের ওপর থেকে আঙ্গুলের ডগায় লকেটটা তুলে নিল তৃষ্ণা, ‘একবার কিনে নিলে আর তো ফেরত দিই না।’

    ‘ওটা ঝুমকি বন্ধক রেখেছে, টাকাটা ফেরত দিচ্ছি।’

    ‘না। আমি বন্ধকের কারবার করি না। যা নিই একেবারেই নিয়ে নিই। কিন্তু এই হার তুমি পেলে কোথায়?’ লকেটটাকে ঠোঁটে চেপে তৃষ্ণা হাঁসের মত এগিয়ে এল সামনে। তারপর উল্টোদিকের সোফায় পা তুলে শরীরের ভর রেখে দাঁড়াল। হঠাৎ অর্কর কান লাল হয়ে গেল। এরকম বিশাল, বাঁধ উপচে পড়া বুক সে কখনও দ্যাখেনি। সোফার ওপরে পা তোলা থাকায় সেদিকেও তাকানো যাচ্ছে না। তৃষ্ণা মুখ ফিরিয়ে ঝুমকিকে বলল, ‘তুই ভেতরে যা। আমি ডাকলে তবে আসবি।’ ঝুমকি আড়ালে চলে যেতে আবার প্রশ্নটা শুনতে পেল অর্ক, ‘তুমি এই হার কোথায় পেয়েছ?’

    অর্ক বুঝতে পারছিল সে একটা ফাঁদের দিকে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। একটু মরিয়া হয়েই বলল, ‘পেয়েছি। এখন আমার হার। ওটা ফেরত দিন।’

    ‘মিথ্যে কথা। তুমি এই হার চুরি করেছ।’

    ‘মুখ সামলে কথা বলবেন। আমি চোর নই।’ ফুঁসে উঠল অর্ক।

    ‘চুপ করো। এখানে মাস্তানি দ্যাখাতে এসো না। আমি ইচ্ছে করলে—! যা জিজ্ঞাসা করছি তার জবাব দাও।’

    ‘আমি কারো চাকর নই।’ উঠে দাঁড়াল অর্ক, ‘বেশী বাতেলা না করে মালটা খুলে দিন।’ তারপর পকেট থেকে ঝুমকির দেওয়া টাকাগুলো বের করে ছুঁড়ে দিল টেবিলের ওপর।

    চোখ ছোট করে ওকে দেখল তৃষ্ণা, ‘তুমি খুব ছোট। নইলে এতক্ষণে কথা বন্ধ করে দিতাম। আমি তুড়ি বাজালে এই গলির গুণ্ডারা কুকুরের মত ছুটে আসে। এই হার তুমি চুরি করোনি?’

    ‘না।’

    ‘কোথায় পেয়েছ?’

    ‘বলব না।’

    ‘এই হার তোমার?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কি লেখা আছে এর লকেটের ভেতরে?’

    এইবার হোঁচট খেল অর্ক। অ্যাকসিডেণ্টের পর কখনও ভাল করে হারখানা সে দেখার সুযোগ পায়নি। ভেতরে কি লেখা আছে তা ওর জানা সম্ভব নয়।

    ‘যা ইচ্ছে লেখা থাকতে পারে, তার মানে এই নয় যে আমি চুরি করেছি!’

    তৃষ্ণা হাসল। তারপর ধমকের গলায় ডাকল, ‘এদিকে এসো!’

    অর্ক বিরক্ত চোখে তাকাল।

    ‘এদিকে আসতে বলছি।’

    এবার আর অপেক্ষা করতে পারল না অর্ক। ধীরে ধীরে কাছে গিয়ে দাঁড়াল! যত কাছে যাচ্ছিল সেই মিষ্টি গন্ধটা তত বাড়ছিল। গলা তুলে তৃষ্ণা বলল, ‘লকেটটা দ্যাখো, এই হারখানা?’

    মুখ নামিয়ে তাকাতেই নিঃশ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম। হলদে মাখনের দুই গোল বলের ভাঁজে যে হার এবং তার লকেট সেটা চিনতে ভুল হল না। কোনরকমে মাথা নাড়ল সে, হ্যাঁ।

    তৃষ্ণা মাথাটা পেছনে হেলিয়ে লকেটটায় চাপ দিতেই ওটা খুলে গেল। সিরসিরে গলা কানে এল, ‘বুকের দিকে তাকাতে হবে না, লকেটে কি লেখা আছে?’

    অর্ক পড়ল, তৃষ্ণা পাল। পড়ামাত্র বোবা হয়ে গেল অর্ক। মিস টি-এর গলায় যে হার সেটা যদি বিলাস সোমের হার হয় তাহলে ওর লকেটে কি করে তৃষ্ণা পাল লেখা থাকবে। সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহটা এল; নামটা হার পাওয়ার পরে লেখানো হয়নি তো? মালটা নিজের করে নেওয়ার এটা কায়দাও হতে পারে। সে ঠোঁট কামড়ালো, ‘এটা তো আপনি কাল রাত্রেও লেখাতে পারেন।’

    ‘তাই? যেন মজা পেয়েছে কথা শুনে এমন ভঙ্গী তৃষ্ণার।

    ‘হার দিন, আমি চলে যাব।’

    মাথা নাড়ল তৃষ্ণা, ‘চলে যাবে মানে? তোমাকে আমি পুলিশে দেব।’ খপ করে হাত ধরল তৃষ্ণা, তারপর ঠেলে অর্ককে বলল, ‘বসো এখানে চুপ করে।’

    ক্রমশ একটা ভয় অর্ককে আচ্ছন্ন করে ফেলল। সে চাপা গলায় বলল, ‘আপনি আমায় বিপদে ফেলবেন না, এই হার বিলাসবাবুর।’

    ‘বিলাস! বিলাসকে তুমি চেন?’

    ‘একদিন আলাপ হয়েছিল। উনি জানেন হারখানা আমার কাছে আছে। পকেট থেকে পড়ে যাওয়ায় ঝুমকি কুড়িয়ে আপনার কাছে বন্ধক রেখেছে।’

    তৃষ্ণা ওর মুখের দিকে তাকাল কিছুক্ষণ। তারপর চেঁচিয়ে ডাকল, ‘ঝুমকি!’ পেছনের দরজায় ঝুমকি আসতেই তৃষ্ণা বলল, ‘ওঘর থেকে তো সব গিলছিস, এ যা বলছে সত্যি?’

    ‘হ্যাঁ।’ ঝুমকি উত্তর দিল।

    ‘যা।’

    ঝুমকি চলে যাওয়ার পর তৃষ্ণা ওর চোখে চোখ রাখল, ‘বিলাস তোমাকে কেন হার দিতে যাবে?’

    আর তখনই অর্ক প্রবল নাড়া খেলো। সেদিন রাত্রে মাল খেয়ে গাড়িতে বিলাস সোম যার নাম বলেছিল সেও তো তৃষ্ণা। এই বাড়ি থেকে বেশী দূরে ওঁর গাড়ি খারাপ হয়নি। যা শুনে মিসেস সোম ফুঁসে উঠেছিলেন স্ট্রীট গার্ল বলে। বিলাস সোমের সম্বন্ধে একটা খারাপ ইঙ্গিত ফুটে উঠেছিল ওঁর গলায়। এবং হ্যাঁ, মনে পড়ছে, হাসপাতালে শুয়েও এই হারখানার ব্যাপার বিলাস চেপে যেতে চেয়েছিলেন ওঁর স্ত্রীর কাছে। অর্কর মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল, ‘আপনিই তৃষ্ণা?’

    ‘আমি তৃষ্ণা মানে?’

    ‘বিলাসবাবু সেদিন আপনার কথা বলেছিলেন।’

    ‘কবে?’

    দিনটা বলল অর্ক। তারপর জুড়ে দিল, ‘ওঁর স্ত্রী আপনার ওপর খুব চটা!’

    সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটল মুখের। তৃষ্ণা দ্রুত তার পাশে এসে বসল, ‘তুমি বিলাসের বউকে চেন?’

    মাথা নাড়ল অর্ক, হ্যাঁ। তৃষ্ণা এখন ওর গা ঘেঁষে বসে। হারটা বুকের ওপর নেতিয়ে, ‘আচ্ছা, ওর বউকে কি রকম দেখতে?’

    ‘ভাল। বড়লোকের বউরা যেমন দেখতে হয়।’

    ‘আঃ। আমার চেয়েও ভাল কিনা তাই বল!’

    অর্ক আর একবার দেখল তৃষ্ণাকে। কিন্তু সে নিজেও ঠিক ঠাওর করতে পারল না কে বেশী সুন্দরী। কিন্তু যে সামনে বসে আছে তাকে বেশী সম্মান দেওয়াই ভাল, ‘উনি একটু মোটা, আপনার মত ফিগার—।’

    ওকে থামিয়ে দিল তৃষ্ণা, ‘ঠিক আছে। বিলাস তোমাকে কেন হার দিয়েছিল সেটা বলো।’

    ‘আমাকে না দিয়ে ওঁর কোন উপায় ছিল না।’

    ‘বউ-এর ভয়ে? কাওয়ার্ড। দোকান থেকে ডেলিভারি নিয়ে আমাকে দিতে এসেছিল সেদিন। অথচ ঘরভর্তি লোক তখন। বসে বসে নেশা করে হারখানা নিয়ে চলে গেল। কত সাধলাম দিল না। বলল, যেদিন তোমাকে একা পাবো সেদিনই পরিয়ে দেব। আর বাইরে বেরিয়েই তোমাকে দিয়ে দিল? আসুক এবার। বউকে এত ভয়!’

    অর্ক তাকাল। তারপর মৃদুস্বরে বলল, ‘আপনি আমার একটা উপকার করবেন?’

    ‘কি?’… তৃষ্ণা তখনও ফুঁসছিল।

    ‘একটা কাগজে লিখে দেবেন ওঁকে যে হারখানা পেয়েছেন।’

    ঠোঁটে হাসি ফুটল তৃষ্ণার, ‘বেশ। ঠিক জবাব হবে।’ তারপর উঠে দেওয়াল আলমারি থেকে কাগজ নিয়ে ক’লাইন লিখে অর্ককে দিয়ে দিল। অর্ক পড়ল, ‘তুমি না দিলেও আমার জিনিস ভগবান পাইয়ে দিয়েছেন। হারখানা সত্যি সুন্দর। তুমি না খুলে নিলে খুলব না। তৃষ্ণা।’

    চিঠিটা পড়ার পর অর্ক অনেক চেষ্টা করে নিজেকে সামলালো। না, অ্যাকসিডেণ্টের খবরটা সে দিতে পারবে না। তাছাড়া উনি যখন ভাল হয়ে উঠেছেন তখন আর দিয়েই বা লাভ কি! তার হাত ধরে তৃষ্ণা বলল, ‘তুমি রাগ করো না ভাই, আমি তো জানতাম না তাই তোমাকে আঘাত দিয়েছি। বড্ড মাথা গরম আমার!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }