Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৭. ছুটির দরখাস্ত লিখতে গিয়ে

    সাতাশ

    ছুটির দরখাস্ত লিখতে গিয়ে মাধবীলতা দ্বিধায় পড়ল। দিন পনের ছুটি চাইতে গেলে সঠিক কারণ দেখাতে হবে। জলপাইগুড়িতে যাচ্ছে, শ্বশুর খুব অসুস্থ, এইটুকু লিখতে যে জড়তা ছিল তা মাধবীলতা ঝেড়ে ফেলতে পারল শেষ পর্যন্ত। জড়তা আসার কারণ এতকাল যাদের সঙ্গে কাজ করছে তারা জানে সে বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন। দু’একজন আরো বেশী জানে, অনিমেষের সঙ্গে তার পরিবারের কোন যোগাযোগ নেই এবং মাধবীলতা একাই সব দায় বহন করছে। আজ এতদিন বাদে বউ শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছে এটা সহকর্মীদের কাছে আলোচনার ব্যাপার হবে। এবং হলও তাই। দরখাস্ত দেওয়ার মিনিট পনের পরেই সৌদামিনী সেনগুপ্তা ডেকে পাঠালেন। ঘরে ঢোকামাত্র চোখ তুললেন, ‘কি হল?’ মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল মাধবীলতা। দরখাস্ত না ভূত দেখছেন বোঝা যাচ্ছে না। সে বলল, ‘আমাকে ছুটি দিতে হবে।’

    ‘তা তো বুঝলাম। কিন্তু তুমি শেষ পর্যন্ত সারেণ্ডার করলে,’ বিস্ময় স্পষ্ট প্রধান শিক্ষিকার গলায়। মাধবীলতার মনে হল কণ্ঠস্বরে কিছুটা আফসোসও আছে।

    ‘সারেণ্ডার কেন বলছেন? ওঁর যাওয়ার খুব প্রয়োজন, তাই—।’

    ‘কি হয়েছে?’

    ব্যাগ থেকে টেলিগ্রামটা বের করে দিল সে। সৌদামিনী পড়লেন। তারপর নিজের মনেই বললেন, ‘মৃত্যু মানুষকে দুর্বল করে দেয়! কিন্তু তুমি যদি অ্যাকসেপ্টেড না হও, ধরো ওরা যদি জোর করে তাদের পঙ্গু ছেলেকে আটকে রেখে দেয়? তাহলে তুমি কি করবে?’

    মাধবীলতা বলল, ‘এসব কিছু হবে না।’

    কিন্তু কিছুক্ষণ বাদেই টিচার্সরুমে ঢুকে নীপা চেঁচিয়ে উঠল সবার সামনে, ‘এই, তুমি খবরটা চেপে গিয়েছিলে? শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছ?’

    সঙ্গে সঙ্গে সবকটা মুখ তার দিকে ফিরতেই সে লজ্জা পেল। এই লজ্জা কেন আসে তা বোঝা মুশকিল কিন্তু মেয়ে হয়ে জন্মালে এই লজ্জাটুকুই খুব আনন্দের হয়। তবু মুখ গম্ভীর করল মাধবীলতা, ‘আর নাটক করো না। ষোল বছরের ছেলেকে নিয়ে আমি যেন নতুন বউ যাচ্ছি, কি যে বলো! ওঁর বাবা খুব অসুস্থ, দেখতে চেয়েছেন, না গিয়ে উপায় নেই।’

    নীপা পাশে বসে বলল, ‘যাক মরণকালে চৈতন্য হয়েছে তাহলে!’

    মাধবীলতা সঙ্গে সঙ্গে মুখ খুলল, ‘ছি! এভাবে বলো না।’

    নীপার কথাটা ভাল লাগল না, ‘বাজে কথা বলো না। এত বছর ধরে ছেলে, ছেলের বউ, নাতির খবর রাখল না, আজ বিপদের সময়—, আমি হলে যেতাম না।’

    সুপ্রিয়া বললেন, ‘নীপা, তোমার তো বিয়ে হয়নি, তুমি বুঝবে না।’

    আর যাই হোক, সবাই তার দিকে নতুন চোখে এই যে তাকিয়ে আছে সেটা স্বস্তি দিচ্ছিল না ওকে। টিচার্সরুম ছেড়ে সে সোজা অফিসে চলে এল। আজ স্কুলে এসেই দরখাস্ত করেছিল টাকার জন্যে। হাত একদম খালি, নতুন জায়গায় যাচ্ছে, সেখানে অসুস্থ লোক, কিরকম খরচ হবে তা কে জানে।

    যা চেয়েছিল তা পাওয়া গেল না স্কুল থেকে। ফলে সুপ্রিয়া করের কাছ থেকে আবার ধার করতে হল। এখন তিনজনের যাওয়া আসায় চারশ বেরিয়ে যাবে। আর পরমহংস যদি যায় তাহলে ওর ভাড়াটাও দেওয়া উচিত। দেড় হাজার টাকা ব্যাগে নিয়ে যখন মাধবীলতা বাড়িতে ফিরল তখন বেলা একটা। টাকাটার জন্যে সুপ্রিয়ার বাড়িতে যেতে হয়েছিল তাকে। এসে দেখল অর্ক স্কুলে গিয়েছে, অনিমেষ চিৎ হয়ে শুয়ে কি ভাবছে। স্টোভের পাশে ভাত তরকারি নামানো। ঘর অগোছানো। অনিমেষ মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘এত দেরি হল?’

    মাধবীলতা বলল, ‘হয়ে গেল।’ সে দেখল কোনরকম গোছগাছ হয়নি। যাওয়ার কোন প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। সে ব্যাগটা টেবিলে রেখে চেয়ারে শরীর ছেড়ে দিয়ে আঁচলে মুখ মুছল। তারপর স্পষ্ট গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার কি ইচ্ছে?’

    ‘কিসের?’ অনিমেষ চোখ বন্ধ করল।

    ‘সকালে বের হবার আগে বলে গেলাম শুনতে পাওনি।’

    ‘ও। আরে দ্যাখো পরমহংস টিকিট পায় কিনা। অত সোজা নয়, গেলেই যেন রিজার্ভেশন পাওয়া যাবে। কাগজে অত লেখালেখি হচ্ছে দ্যাখোনি!’

    ‘যদি পায়?’

    ‘আগে পাক! তাছাড়া এভাবে ভিখিরির মত যাওয়ার কোন মানে হয় না।’

    ‘তোমার বাবা যেতে বলেছেন!’

    ‘বলেছেন কিন্তু কাল থেকে তোমাকে বোঝাতে পারছি না আমি গিয়ে কি করব। কোনরকম আর্থিক কায়িক সাহায্য করার ক্ষমতা আমার নেই। আমার মুখ দেখলেই ওঁর সব অসুখ সেরে যাবে? ভেবেচিন্তে কথা বল।’

    ‘পরিশ্রম আমি করতে পারি, অর্ক পারে। আর টাকার জন্যে চিন্তা না করলেই হবে। হাজার খানেক টাকা ওখানে খরচ করতে পারব।’

    অনিমেষ চোখ খুলল, ‘তুমি আবার ধার করলে?’

    মাধবীলতা উত্তর দিল না। চেয়ার ছেড়ে উঠে আলনার দিকে এগিয়ে গেল। এই সময় অনিমেষ অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বলল, ‘খুব অন্যায় করেছ। আজ বাদে কাল তোমাকে নতুন বাড়ির টাকা দিতে হবে সে খেয়াল আছে?’—

    ‘নতুন বাড়িতে যাওয়ার চেয়ে এইটে বেশী জরুরী।’

    ‘আশ্চর্য! তুমি বাড়িটা ছেড়ে দেবে?’

    ‘পেরে না উঠলে ছেড়ে দিতে হবে।’

    অনিমেষ কিছুক্ষণ মাধবীলতার পিঠের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘নিজের সর্বনাশ করে অন্যের উপকার করতে যাওয়ার কোন যুক্তি নেই।’

    এবার মাধবীলতা ঘুরে দাঁড়াল। এইসব কথা যে তাকে আলোড়িত করছে তা তার মুখের অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট। ভাঙ্গা গলায় সে বলল, ‘আমাকে তোমার খুব হ্যাংলা মনে হচ্ছে, না?’

    এই সময় দরজায় ছায়া পড়ল। প্রশ্নটা করেই মাধবীলতা দেখল অর্ক দাঁড়িয়ে আছে। নিজেকে সংবরণ করতে যেটুকু সময় লাগল তাতেই মাধবীলতার মনে হল এর চেয়ে মরে যাওয়া ভাল ছিল। যে মুখভঙ্গীতে সে কথাগুলো উচ্চারণ করেছে তা কি ছেলের চোখে পড়েছে, মাধবীলতা নিশ্চিত ছিল না। কিন্তু তৎক্ষণাই সে বলতে পারল, ‘কিরে, এত তাড়াতাড়ি চলে এলি?’

    ‘বা রে। যদি যেতে হয় গোছগাছ করতে হবে না?’ অর্ক বইপত্র টেবিলে রেখে অনিমেষকে জিজ্ঞাসা করল, ‘একি, তোমার এখনও স্নান হয়নি?’

    ‘আমার আজ স্নান করতে ইচ্ছে করছে না। শরীরটা ঠিক নেই।’ অনিমেষ উঠে বসল, তাছাড়া যাব যাব করে নাচলেই হয়ে যাবে? তোমার স্কুল নেই? এক বছর নষ্ট হয়েছে তবু খেয়াল হচ্ছে না?’

    অর্কর কপালে ভাঁজ পড়ল। সে মাধবীলতার দিকে একবার তাকিয়ে আবার অনিমেষকে দেখল, ‘আমার জন্যে চিন্তা করতে হবে না।’

    ‘মানে?’ আঁতকে উঠল যেন অনিমেষ।

    ‘আমি আর স্কুল করব না।’

    ‘স্কুলে পড়বে না? কি অশ্বডিম্ব করবে?’

    ‘এক্সটারনাল ক্যাণ্ডিডেট হিসেবে ফাইন্যাল দেব। সামনের বছরেই। আমার যদি এক বছর নষ্ট না হত তাহলে ওই সময়েই পাশ করতাম।’

    অনিমেষের যেন চিন্তাভাবনা এসব ঢুকছিল না। এই সময় মাধবীলতা বলল, ‘যা স্নান করে আয়।’

    অর্ক বলল, ‘মা, তোমরা যাবে না?’

    ‘তোর বাবার ইচ্ছে নয়।’

    ‘বাবা তো কোথাও যেতে চায় না। কিন্তু নিজের বাবা মরে যাচ্ছে আর তা শুনে দেখতে যাবে না, আশ্চর্য!’ অর্ক নিচু গলায় বললেও কথাগুলো অনিমেষের কানে সরাসরি চলে এল। সে চিৎকার করে উঠল, ‘তুমি ছেলেটাকে তাতাচ্ছ কেন? আমি যাব না স্পষ্ট করে বলেছি?’

    ‘আমি তাতাচ্ছি!’ মাধবীলতা যেন জমে গেল।

    ‘বাঃ, বাবার ইচ্ছে নয় বলার কি দরকার? আমি তোমাকে নেগেটিভ দিকটা দেখাচ্ছিলাম। এতে ভবিষ্যতে সুবিধে হয়। তুমি চট করে কথাটাকে—!’

    ‘আমি তোমাকে বলেছি যে তুমি যা চাও তাই হবে।’

    ‘আমি কি চাইব?’ অনিমেষ মুখ তুলে দরজার বাইরে তাকাল, ‘আমার কিছু চাওয়ার নেই।’

    তারপর খুব দ্রুত স্নান খাওয়া সারা হয়ে গেল। ঘরের বাইরে গিয়ে এক বালতি জলে মাথা ধুয়ে নিল অনিমেষ। তারপর খাওয়া শেষ করে খাটের ওপর উবু হয়ে বসে দেখল মা ছেলেতে মিলে গোছগাছ করছে। একটা সুটকেসে সব ধরে গেল কিন্তু এতদিন অব্যবহারে ডালাটা ঠিক বসছে না। অর্ক অনেক কসরৎ করেও ওটাকে বাগ মানাতে পারছিল না। শেষে বলল, ‘এসব আর চলে না।’

    মাধবীলতা বলল, ‘একটা নতুন সুটকেসের দাম কত জানিস?’

    অর্ক মুখ তুলে বলল, ‘আমরা ওখানে কদ্দিন থাকব?’

    ‘জানি না। তবে বেশীদিন তো থাকা যাবে না।’

    ‘বিছানাপত্র নেবে না?’

    ছেলের প্রশ্নটা শুনে মাধবীলতা হতভম্বের মত খাটের দিকে তাকাল। ওইসব নিয়ে রাস্তাঘাটে বের হওয়া যায় না। জলপাইগুড়ির বাড়িতে তাদের জন্যে বিছানাপত্র পাওয়া যাবে কিনা তাও সে জানে না। অনিমেষকে জিজ্ঞাসা করেও তো কোন লাভ নেই। সে মাথা নাড়ল, ‘নাঃ। যদি দরকার হয় ওখান থেকে কিনে নেব। বড় শহর, সব পাওয়া যায়, আগে থেকে বয়ে নিয়ে গিয়ে কি হবে।’

    গায়ের জোরে শেষ পর্যন্ত সুটকেসটা বশ মানল। একটা সুটকেস আর একটা হাতব্যাগ। চারটে বাজতে যেন খুব দেরি হচ্ছে আজ। এই ঘরে তালা দিয়ে যেতে হবে। দামী জিনিসপত্র বলতে কিছুই নেই তবু যা আছে ফিরে আসার পর তা পাওয়া দরকার। মাধবীলতা বলল, ‘ন্যাড়ার বাবাকে একটু বলবি? আমরা যখন থাকব না তখন যেন এদিকটা দ্যাখে।’

    ‘দূর! ওকে বলে কি হবে।’ অর্ক মাথা নাড়ল, ‘দাঁড়াও দেখছি।’ অর্ক মাঝে মাঝেই অনিমেষকে দেখছিল। বাবা যে কোন কথা বলছে না এটা লক্ষ্য করছিল। সে বুঝতে পারছিল জলপাইগুড়িতে যাওয়ার ইচ্ছে বাবার নেই; মায়ের আছে। তারও এতদিন কোন ইচ্ছে হত না, হঠাৎ এখন হচ্ছে। কেন হচ্ছে সে জানে না।

    বাইরে বেরিয়ে এসে ও চারপাশে তাকাল। গলির মুখে মোক্ষবুড়ি বসে আছে। আজকাল কোন সাড়াশব্দ করে না। শরীরটা আরও শুকিয়ে শুধু হাড়ের গায়ে চামড়া আটকে আছে। সেই চিৎকার করা গালাগাল এই গলিতে আর ভাসে না। অর্ক দেখল ন্যাড়া আসছে। খুব কায়দা দেখানো শার্ট পরেছে। এরকম মূল্যবান শার্ট ও কোত্থেকে পেল কে জানে!

    অর্ক বলল, ‘এই ন্যাড়া, শোন!’

    ন্যাড়া যেন বিরক্ত হল। কাঁধ নাচিয়ে বলল, ‘ঝটপট বল, টাইম নেই।’ অর্কর মাথায় যেন রক্ত উঠে গেল। ওইটুকুনি পুঁচকে কথা বলছে ঠিক কোয়ার ভঙ্গীতে। ওর সঙ্গে ঝামেলা করে লাভ নেই। সে নিজেকে ঠাণ্ডা করে বলল, ‘আমরা সাতদিন এখানে থাকব না। ঘরটাকে দেখিস।’

    ‘থাকবে না? কোথায় যাবে?’

    ‘আমাদের দেশে।’ কথাটা বলার সময় বেশ আরাম লাগল অর্কের।

    ‘যা ব্বাবা। তোমারও দেশ আছে? চাবি দাও।’

    ‘কিসের চাবি?’

    ‘ঘরের।’

    ‘চাবি নিয়ে কি করবি?’

    ‘ওখানেই তাস খেলব তাহলে আর কোন ভয় নেই।’

    ‘দেখার হলে দূর থেকে দেখিস। আমি এসে যদি দেখি গোলমাল হয়েছে তাহলে কেস খুব খারাপ হয়ে যাবে। ফোট্‌।’ অর্ক হাত নাড়ল। এবং তখনই দূরে পরমহংসকে দেখতে পেল। খুব হন্তদন্ত হয়ে আসছে। ন্যাড়া অর্কর হাত নাড়ার সময় সরে গিয়েছিল এবার চিৎকার করে বলল, ‘দেখতে বলছ দেখব কিন্তু আমি কোন জিম্মা নিচ্ছি না।’

    পরমহংস ততক্ষণে এসে গেছে কাছে। বলল, ‘এখানে দাঁড়িয়ে?’

    ‘এমনি। টিকিট পেয়েছেন?’

    মাথা নাড়ল পরমহংস, ‘চল, ঘরে চল বলছি। মা আছে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    পরমহংস খুব তাড়াহুড়ো করে হেঁটে চলল আগে আগে। খাটো এবং মোটা শরীর ধুতি এবং পাঞ্জাবিতে এই ছুটে যাওয়া মানাচ্ছিল না। ন্যাড়ার পাশ দিয়ে পরমহংস চলে যাওয়ার পর সে চোখ নাচাল অর্কর দিকে তাকিয়ে। অর্ক উত্তর দিল না কিন্তু বুঝতে পারল এবার ন্যাড়ারা পরমহংসের পেছনে লাগবে। মা মারা যাওয়ার পর খুব দ্রুত ছেলেটা যেন মিনি-মাস্তান হয়ে উঠেছে। সে গম্ভীর গলায় ন্যাড়াকে বলল, ‘আমার কাকা, ফালতু ঝামেলা করবি না।’

    পরমহংসকে দেখে মাধবীলতা উদ্বেগ নিয়ে বলল, ‘টিকিট পাওয়া যায়নি?’ পরমহংস অনিমেষের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ল, ‘মাইরি, জব্বর একখানা বউ যোগাড় করেছিস। নিজের ধান্দা ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না। আমি শালা এত খেটেখুটে এলাম, কোথায় বসতে বলবে চা খাওয়াবে তা নয়—।’ কথা বলবার সময় পরমহংস যে মুখভঙ্গী করছিল তাতে নিশ্চিন্ত হল মাধবীলতা। বলল, ‘চায়ের জল বসিয়েছি। ট্রেন ক’টায়?’

    ‘সাতটা । শিয়ালদায়।’ পরমহংস চেয়ারে পা ঝুলিয়ে বসল, ‘তোমাদের জিনিসপত্র গোছানো হয়ে গিয়েছে?’

    ‘হ্যাঁ।’

    পরমহংস পকেট থেকে তিনটে টিকিট বের করল, করে অনিমেষের হাতে দিল, ‘ভি আই পি কোটা থেকে বার করিয়ে এনেছি। নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত কাটা আছে। ওখান থেকে ট্রেন পেলে এক্সটেণ্ড করে নিস।’

    অনিমেষ বলল, ‘ট্রেনেই যেতে হবে। কিন্তু ওভারব্রিজ পেরোতে হলে হয়ে গেল। কি যে করব বুঝতে পারছি না। তুই যাবি না?’

    ‘তিনটের বেশী পাওয়া গেল না।’ বলেই মাধবীলতার দিকে তাকিয়ে হাত তুলল, ‘অনেস্টলি বলছি। তাছাড়া না পেয়ে ভালই হয়েছে। অফিসে ছুটির ঝামেলা ছিল। হাতেও বেশী পয়সাকড়ি নেই। মাইনে পেলে না হয় একটা কথা ছিল।’

    অর্ক এর মধ্যে দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল, বলল, ‘আপনি ইচ্ছে করলে যেতে পারতেন। আমি নাহয় রিজার্ভেশন ছাড়াই যেতাম।’

    পরমহংস মাথা নাড়ল, ‘না রে। অনেক সময় ইচ্ছে থাকলেও যাওয়া যায় না। তোমরা একজন অসুস্থ মানুষের কাছে যাচ্ছ। ওখানে গিয়ে তোমাদের কাজকর্ম শেষ হলে আমাকে জানিও তখন না হয় ঘুরে আসা যাবে।’

    মাধবীলতা বুঝল পরমহংস ঠিকই বলছে। ইচ্ছে থাকলেও এই সময়ে যাওয়াটা যে শোভন নয় তা পরমহংস বুঝেছে। অনিমেষকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সুবিধে হবে বলেই সে এতক্ষণ জোর করছিল।

    ঠিক হল পরমহংস বাড়িওয়ালাকে বলেকয়ে ওরা না ফেরা পর্যন্ত সামলে রাখবে, যদি হাতছাড়া হবার উপক্রম হয় তাহলেই অ্যাডভান্স ভাড়া দিয়ে দেবে। তিনটে টিকিটের দাম দিয়ে দিল সে পরমহংসকে। মাধবীলতা পাশের ঘরগুলোর মানুষকে কদিন দেখাশোনার জন্যে বলতে বেরিয়ে গেলে পরমহংস অনিমেষকে জিজ্ঞাসা করল, ‘তুই মুখ গোমড়া করে আছিস কেন?’

    ‘ভাল লাগছে না।’ অনিমেষ মাথা নাড়ল, ‘এভাবে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না!’

    ‘পরিস্থিতির সঙ্গে মানাতে হয় রে।’

    ‘বুঝলাম। কিছু রাজত্বের লোভে বেরিয়ে এসেছিলাম এখন ভিখিরির মত ফিরতে কারো ইচ্ছে হয়?’

    ‘থাক! একমাত্র তুই ওখানকার সব জানিস, তোর ভরসায় এরা যাচ্ছে, তাই তোর শক্ত হওয়া উচিত! এত ভাবপ্রবণ হবার কোন মানে হয় না। আর হ্যাঁ, আমার কাছে শ’ পাঁচেক টাকা আছে। দরকার হলে নিতে পারিস।’ পরমহংস পকেটে হাত দিল। অনিমেষ চিন্তা করল একটু, তারপর। মাথা নেড়ে বলল, ‘দরকার নেই।’

    পরমহংস বলল, ‘সঙ্কোচ করিস না। দ্যাখ—।’

    অনিমেষ মাথা নাড়ল, ‘আর বোঝা বাড়িয়ে কি হবে। ও যা নিয়েছে তাতেই হয়ে যাবে।’

    পরমহংস আর জোর করল না। তারপর পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে অর্ককে দিল, ‘এটা রেখে দিও সঙ্গে। যদি প্রয়োজন মনে করো তাহলে আমায় লিখো।’ অর্ক দেখল সাদা কাগজটায় পরমহংস আগে থেকেই নিজের ঠিকানা লিখে এনেছে।

    পৌনে ছ’টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রাম রাস্তার কাছে আসতেই অর্ক কোয়াকে দেখতে পেল। সে এসেছিল ট্যাক্সির খোঁজে। কলকাতা থেকে প্রথমবার সে বাইরে যাবে, ‘আ বে অক্ক! তোর সঙ্গে কথা আছে।’

    অর্ক মুখ ফেরাল। এই বিকেলেই কোয়া রঙিন হয়ে আছে। এরই মধ্যে কোয়ার যে অবস্থা পাল্টেছে তা ওর পোশাক দেখলেই বোঝা যায়। তার মানে খুরকি-কিলা ভোগে যাওয়ার পর কোয়া এখন রাজত্ব করছে। সে হাত নাড়ল, এখন আমার সময় নেই।’

    ‘সময় নেই?’ কোয়া যেন হতবুদ্ধি হয়ে গেল। অর্ক ততক্ষণে ট্যাক্সির দর্শন পেয়েছে। বেলগাছিয়া থেকে বেরিয়ে সেটা একটা চায়ের দোকানের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্ক ছুটল। শিয়ালদার নাম শুনে ট্যাক্সিওয়ালা মাথা নাড়ল, ‘না দাদা, ওদিকে যাব না। হেভি জ্যাম।’

    ‘কিন্তু আমাদের স্টেশনে যেতে হবে। আমার বাবা ইনভ্যালিড, ট্যাক্সি ছাড়া যাব কি করে? চলুন না—।’ অর্ক প্রায় অনুনয় করল।

    ‘না মশাই, অন্য ট্যাক্সি দেখুন।’

    ঠিক সেই সময় চিৎকারটা ভেসে এল। কোয়া উন্মত্তের মত চিৎকার করতে করতে এগিয়ে আসছে! ‘কি! আমাকে ধ্‌‌ক! বল শালা খানকির বাচ্চা তুই আমাকে গুরু বলবি কিনা!’

    সঙ্গে সঙ্গে অর্কর সমস্ত শরীরে আগুন জ্বলে উঠল । রাস্তার লোকজন এখন হাঁ করে কোয়াকে দেখছে। ট্যাক্সিওয়ালাও যেন ভয় পেয়ে গেল, ‘যাঃ শালা! কি ঝামেলায় পড়া গেল!’ বলে ইঞ্জিন চালু করতে যেতেই অর্ক ওর কাঁধ চেপে ধরল। লোকটা থতমত হয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করতেই অর্ক ঘুরে দাঁড়াল। কোয়া আজ সামনে, সমানে খিস্তি করে যাচ্ছে। তার বক্তব্য, সে এখন ঈশ্বরপুকুরের এক নম্বর, সবাই তার বশ মেনেছে, বিলু হাওয়া হয়ে গেছে কিন্তু অর্ককে তার বশ্যতা স্বীকার করে সঙ্গে থাকতে হবে। এসব বলতে বলতে কোয়া হাত বাড়াল অর্কর কলারের দিকে। কিন্তু ওর শরীর টলছে। বোধ হয় মাথাও কাজ করছে না। অর্ক খুব ধীর মাথায় একটা ঘুষি মারল। কোয়ার বাঁ দিকের চোয়ালের নিচে। মারটা খাওয়া মাত্র কোয়ার কথা বন্ধ হয়ে গেল। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে সে টলতে লাগল কয়েক সেকেণ্ড তারপর কাটা গাছের মত লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। অর্ক ঘুরে দাঁড়াল। রাস্তায় লোকজন যে হাঁ করে তাকিয়ে আছে তার দিকে তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ না করে সে ট্যাক্সিওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘তাহলে যাবেন না?’

    ‘বসুন।’ ড্রাইভার পেছনে ঝুঁকে দরজার লক খুলে দিতে অর্ক নিঃশব্দে উঠে বসল। তারপর বলল, ‘ওই গলিতে চলুন। সঙ্গে জিনিসপত্র আছে।’

    ট্যাক্সিওয়ালা বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ না করে গাড়ি ঘোরাল। অর্ক একবারও পেছন ফিরে তাকাল না। কোয়া নিশ্চয়ই তাকে ছাড়বে না। দেখা যাবে, ফিরে এসে দেখা যাবে। ওর শরীরে তখনও উত্তেজনা ছিল। এই প্রথম কেউ তাকে ওই বিশ্রী গালাগালটা দিল। কোয়া যদি না পড়ে যেত তাহলে সে একটাতেই থেমে যেত না। পড়ে যাওয়ামাত্র কেমন একটা ঘেন্না হল।

    সুটকেস ব্যাগ তোলা হলে অনিমেষকে নিয়ে পরমহংস বেরিয়ে এল বস্তি থেকে, পেছনে মাধবীলতা। পুরো বস্তিটাই এখন ভেঙ্গে পড়েছে ফুটপাথে। প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল অর্ক। তারা এখান থেকে চিরকালের মত উঠে যাচ্ছে না আবার ফিরে আসবে এটাই সবার চিন্তা। অনিমেষকে যখন ধরাধরি করে গাড়িতে তোলা হচ্ছে তখন একটা কান্না ছিটকে উঠল। জনতা অবাক হয়ে দেখল গলির মুখে পুঁটলির মত বসে থাকা মোক্ষবুড়ি কাঁদছে। একটা গোঙানি, টানা টানা। অর্ক দাঁড়িয়ে পড়ল। মোক্ষবুড়ি তো আজকাল কোন কথাই বলে না। তাদের সঙ্গে ওর কোন সম্পর্কই তৈরি হয়নি, তাহলে কাঁদছে কেন?

    বস্তির দু-একজন মহিলা ঠাট্টা করল, ‘ও দিদিমা কাঁদছ কেন?’

    বুড়ির গলা ভাঙ্গা এবং বসা। তবু বুঝতে অসুবিধে হল না কথাগুলো, ‘চলে গেল, সবাই চলে গেল, আমি কবে যাব?’

    ‘তুমি আবার কোথায় যাবে?’ একজন হেসে উঠল।

    বুড়ি সে কথায় কান দিল না, ‘তোমার সঙ্গে আর দেখা হবে না, অ মাস্টারনি, আমাকে এখন কে খেতে দেবে, দুপুরে আমি কার কাছে খাব। হায় ভগবান, এত খেয়েও কেন নোলা যায় না।’ শব্দগুলো বিকৃত হয়ে একটা সুরের মধ্যে ডুবে গেল।

    অর্ক চট করে মুখ ঘুরিয়ে মাধবীলতার দিকে তাকাল। মা ওই বুড়িকে রোজ দুপুরে খেতে দিত? স্কুলের দিন হলে আলাদা কথা কিন্তু ছুটির দিনেও সে ব্যাপারটা টের পায়নি কখনো।

    এখন বস্তির সমস্ত মানুষ খানিকটা বিস্ময়ে ট্যাক্সির দিকে তাকিয়ে আছে। অনিমেষ বসেছিল তার পাশে মাধবীলতাও উঠে পড়েছে। পরমহংস সামনের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে। প্রত্যেকেই যে এখন মাধবীলতাকে দেখছে সেটা স্পষ্ট। মাধবীলতার চেহারাটা যেন সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছিল। সে চট করে হাতের ব্যাগটা খুলে একটা দশ টাকার নোট বের করে অর্ককে ডাকল, ‘এটা ওকে দিয়েই চলে আয়। আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।’

    অর্ক আদেশ পালন করল। ভিড়টা দু’পাশে সরে গেল। অর্ক মোক্ষবুড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ‘এই নাও, মা দিল।’

    মোক্ষবুড়ি কেঁদেই যাচ্ছে এবং অর্কর কথা তার কানে ঢুকল না। অর্ক অস্বস্তি নিয়ে চারপাশে তাকাল। তারপর ঝুঁকে মোক্ষবুড়ির হাতে টাকাটা গুঁজে দিয়ে সটান ফিরে এল। ওদের গাড়ি যখন তিন নম্বর ছেড়ে যাচ্ছে তখনও গোঙানিটা ভেসে ছিল বাতাসে তারপর কানের পর্দায় আঠার মত সেঁটে গেল। পরমহংস বলল, ‘লুকিয়ে দান করা হয় বুঝি।’

    মাধবীলতা কোন উত্তর দিল না। অনিমেষ বলল, ‘আমিই জানতাম না।’

    মাধবীলতা এবার একটু নড়ে চড়ে বসল, ‘থাক এসব কথা। একটা জিনিসের কথা আমি একদম ভুলে গিয়েছি। ট্রেনে খাবার পাওয়া যাবে?’ পরমহংস বলল, ‘দার্জিলিং মেলে খাবার পাওয়া মুশকিল। বর্ধমান স্টেশন থেকে কিনে নিতে পারো। তবে সঙ্গে নিলে ভাল করতে।’

    ‘গাড়ি ছাড়ার আগে যদি সময় পাওয়া যায়—।’ মাধবীলতা অর্কর দিকে তাকাল, ‘তুই শিয়ালদা থেকে কিছু কিনে আনিস।’

    অর্কর হতভম্ব ভাবটা এখন কমেছিল। সে বলল, ‘কি কিনব?’

    ‘রাত্রে যা খাবি। শুকনো কিছু নিস। পাউরুটি মাখন আর মিষ্টি।’

    ‘তোমার তো কাঁচা রুটি খেলে অম্বল হয়।’ অনিমেষ বলল।

    পরমহংস হাত নাড়ল, ‘ঠিক আছে, আমি দেখছি।’

    ‘দেখছি মানে?’ মাধবীলতা প্রতিবাদ করল, তোমার টাকায় আমরা খাব না।’

    কাঁচুমাচু ভঙ্গী করল পরমহংস, ‘আমি যে এতবড় নরাধম তা জানতাম না।’

    অনিমেষ আর মাধবীলতা হেসে উঠল। কিন্তু অর্ক তখনও চেয়ে ছিল মাধবীলতার দিকে। ওর হঠাৎ মনে হল, কোয়ারা বোধ হয় ওদের মাকে কখনও দ্যাখেনি।

    অনিমেষকে তুলতে খুব অসুবিধে হল। প্লাটফর্ম থেকে গাড়ির মেঝেতে ওর নিজের পক্ষে কিছুতেই ওঠা সম্ভব নয়। গাড়ির দরজাটা এক মুহূর্তের জন্যে খালি পাওয়া যাচ্ছে না। যত লোক যাচ্ছে তার দ্বিগুণ লোক যেন তুলতে এসেছে। শেষ পর্যন্ত একটা কুলির সাহায্যে অনিমেষকে ওপরে তুলল অর্ক। থ্রিটিয়ারের পাশাপাশি তিনটে আসন ওদের দখলে। জানলার পাশে ক্রাচ দুটোকে রেখে অনিমেষ নিঃশ্বাস ফেলে বলল, ‘দ্যাখো তো কি ঝকমারি।’

    ‘ঝকমারি ভাবলেই ঝকমারি নইলে কিছুই নয়। তোমরা বসো আমি এখনি ঘুরে আসছি।’ পরমহংস কথাটা বলে গাড়ি থেকে নেমে গেল। অর্কর বেশ মজা লাগছিল। চারধারে যাত্রীদের চিৎকার, কুলিদের হাঁকাহাঁকি। এই প্রথম সে ট্রেনে উঠল। জিনিসপত্র গুছিয়ে রেখে সে বাইরে বেরিয়ে এল। প্লাটফর্মে এখন বেশ শোরগোল। মাইকে অবিরাম ঘোষণা চলছে। এই ট্রেন তাদের কলকাতা থেকে নিউ জলপাইগুড়িতে নিয়ে যাবে। একটু এগিয়ে গিয়ে সে কামরাটার মুখোমুখি দাঁড়াল। সামনে পত্রিকার স্টল, চায়ের দোকান। হঠাৎ তার নজর পড়ল জানলায়। অনিমেষ গালে হাত দিয়ে বসে আছে। খানিক তফাতে মাধবীলতা চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে রয়েছে। মায়ের দিকে তাকিয়ে অর্কর বুকের ভেতরটা নড়ে উঠল। মাধবীলতার ভঙ্গী এমন যে খুব কষ্ট না পেলে মানুষ অমনভাবে চোখ বন্ধ করতে পারে না। অর্ক ঠিক বুঝতে পারছিল না মা ওইভাবে রয়েছে কেন? সে দ্রুত জানলার কাছে চলে এসে ডাকল, ‘মা!’

    মাধবীলতা প্রথমে শুনতে পায়নি। একটুও নড়ল না মুখ। অনিমেষ তার হাত ছুঁয়ে বলল, ‘তোমাকে ডাকছে!’

    মাধবীলতা যেন চমকে উঠল। বলল, ‘কি রে?’

    অর্ক তখনই আবিষ্কার করল সে কি বলবে তা জানে না। মাধবীলতা আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘কি?’

    খোলা চোখের কোলের দিকে তাকিয়ে অর্ক প্রচণ্ড ধাক্কা খেল। দু ফোঁটা শিশিরের কণা সেখানে জমে আছে। এবং এই জমে থাকার কথা মাধবীলতা নিজেই জানে না। অর্ক বুঝল তাকে কিছু বলতে হবে, এইমাত্র। সে একটা পানওয়ালাকে আসতে দেখে বলে ফেলল, ‘পান খাবে?’

    ‘পান?’ মাধবীলতার মুখে বিস্ময় স্পষ্ট।

    অনিমেষ হেসে বলল, ‘তোর মা কি পান খায়!’

    সঙ্গে সঙ্গে মাধবীলতা মাথা নাড়ল, ‘না না খাব। ভাল করে একটা পান সাজতে বল তো। জর্দা দিয়ে।’

    অনিমেষ বলল, ‘জর্দা?’

    মাধবীলতা হাসল, ‘হ্যাঁ। একটু নেশা হোক না।’ বলতে বলতেই তার খেয়াল হল গালের ওপর দিয়ে কিছু গড়িয়ে পড়ছে। আর তখনই ট্রেনটা হুইসল দিয়ে উঠল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }