Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৮. ওই দ্যাখো পাহাড়

    আঠাশ

    অনিমেষ বলল, ‘ওই দ্যাখো পাহাড়। হিমালয়।’ বলে হাত তুলে মাধবীলতাকে সামান্য ঠেলল। মাঝের বাঙ্কে মাধবীলতা চোখ খুলে শুয়েছিল। একটু শীত শীত লাগছে, উপুড় হয়ে জানলার বাইরে ফ্যাকাশে আলো দেখতে পেল। আর তখনি ওপরের বাঙ্ক থেকে তড়াক করে লাফিয়ে নামল অর্ক। নেমে জিজ্ঞাসা করল, ‘কোথায়?’

    মাঝের বাঙ্কটা টাঙানো থাকায় অনিমেষ নিচে কাত হয়ে শুয়েছিল। মাথাটা জানলার শিকে হেলানো, দৃষ্টি বাইরে। অর্কর প্রশ্নে চোখের ইশারা করল। অর্ক জানলায় ঝুঁকে এল। মাঠ, দূরের রাস্তা পেরিয়ে দিগন্তের ওপরে আকাশের গায়ে ঝাপসা রেখা, সেটা পাহাড় কিনা তা বুঝল না। বুঝল না কিন্তু রোমাঞ্চিত হল। এবং সেই আবেগে জিজ্ঞাসা করল, ‘জলপাইগুড়ি কি পাহাড়ী শহর?’

    অনিমেষ মাথা নাড়ল, ‘না। তবে জলপাইগুড়ি জেলায় পাহাড় আছে।’ মাধবীলতা নেমে এল। অনিমেষ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘রাত্রে ঘুমাওনি?’

    মাথা নাড়ল মাধবীলতা, ‘নাঃ, ঘুম এল না। কই, কোথায় পাহাড়, দেখি?’

    অর্ক বলল, ‘একটু দাঁড়াও, এটাকে নামিয়ে দিই। বাবা, তুমি সরে এস খানিকটা, হ্যাঁ।’ শেকল খুলে দেওয়ার পর ওরা তিনজন আরাম করে পাশাপাশি বসল। ট্রেনটা তখন হু হু করে ছুটে যাচ্ছে। অদ্ভুত একটা হিম বাতাস বইছে পৃথিবীতে। যেন খুব আরামের নিঃশ্বাস শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে। সকাল এখনও হয়নি। দূরের গাছের মাথাগুলোয় কালো ছোপ মাখানো। অনেক দূরের আকাশের গায়ে এখন পাহাড়ের অস্তিত্ব স্পষ্ট। ওরা তিনজনে খানিকক্ষণ নিষ্পলক তাকিয়ে থাকল বাইরে। শেষ পর্যন্ত অনিমেষই কথা বলল, ‘এই রকম দৃশ্য কতকাল দেখিনি!’ মাধবীলতা মাথাটা পেছনের কাঠে হেলিয়ে দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইল। ওর ঠোঁট সামান্য কাঁপল কিন্তু কোন কথা বলল না। অর্ক খুব নিচু গলায় বলল, ‘আমি কোনদিন দেখিনি।’

    কথাটা শুনেই অনিমেষ চমকে তাকাল ছেলের দিকে। তারপর ম্লান হেসে বলল, ‘দেখবি কি করে! কলকাতায় এসব দেখা যায় না।’ এবং এই সময় তার খেয়াল হল সে অর্কর চেয়ে ভাগ্যবান। পনেরো বছর অন্ধকূপে বাস করেছে বলে যে হতাশা আসছিল তা মুহূর্তেই সরে গেল। ওর মনে হল, জীবনে পাইনি পাইনি করেও কিছু পেয়েছে যা অর্ক এখনও পেল না। পরবর্তী জীবনে অর্ক যাই পাক না কেন সেই সোনার ছেলেবেলাটাকে কখনই পাবে না। এ ব্যাপারে সে অনেক ধনী।

    কামরায় এতক্ষণ স্থিরঘুম ছিল, এবার শব্দ শোনা যেতে লাগল। সামনের তিনটি বাঙ্কে তিনজন যাত্রীই ঘুমে কাদা। একটা অলস আবহাওয়া এখানে।

    মাধবীলতা উঠল। ব্যাগ থেকে তোয়ালে আর পেস্ট বের করে অনিমেষের দিকে তাকাল, ‘বাথরুমে যাবে না?’

    অনিমেষ বলল, ‘থাক। রানিং ট্রেনে সুবিধে হবে না।’

    মাধবীলতা বলল, ‘খোকা তোমাকে ধরুক। ওখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কটা বাজবে জানি না ততক্ষণ বাসিমুখে বসে থাকবে?’

    অনিমেষ বলল, ‘ঠিক আছে, তুমি ঘুরে এস আগে।’

    মাধবীলতা চলে গেলে অর্ক দেখার সুবিধের জন্যে অনিমেষের পাশে এসে বসল। অনিমেষ বলল, ‘চেয়ে দ্যাখ, এদিকের গাছপালা মাঠের চেহারা একদম আলাদা। যত এগোবি তত প্রকৃতির চেহারা পাল্টাবে, মানুষেরও।’

    অর্ক চট করে কোন পার্থক্য বুঝতে পারছিল না। কিন্তু হঠাৎ সে দু’দিন ধরে ভাবা প্রশ্নটা এখন করে বসল, ‘তুমি কেন আসতে চাইছিলে না বাবা?’

    অনিমেষ অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকাল, একটু ভাবল, তারপর বলল, ‘তুই বুঝবি না।’

    ‘তুমি বললে নিশ্চয়ই বুঝব। আমি ছোট নই।’

    অনিমেষ ঘাড় নাড়ল, ‘না। তুই যদি সত্যি বড় হয়ে থাকিস তাহলে ওখানে গিয়ে বুঝতে পারবি আমি কেন আসতে চাইছিলাম না। আমাকে কিছু বলতে হবে না। আমার বাবার সঙ্গে চিরদিনই দূরত্ব ছিল কিন্তু তাই বলে তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়েও আসব না এমন অবস্থা নয়। তবু আমার দ্বিধা হচ্ছিল। কেন হচ্ছিল সেটা ওখানে গিয়ে তোকে বুঝে নিতে হবে।’

    অর্ক অনিমেষকে দেখল। তারপর নিচু স্বরে বলল, ‘আমাদের সঙ্গে ওরা কেমন ব্যবহার করবে কে জানে। কোনদিন দ্যাখেনি তো।’

    অনিমেষ বলল, ‘যাই করুক, তুই যেন কখনও খারাপ ব্যবহার করিস না। যা করতে বলবে তা বিনা প্রতিবাদে করবি। মনে রাখিস, মানুষ তার ব্যবহার দিয়েই মানুষকে আপন করে নেয়। আর একটা কথা, তোর ওই রকের ভাষা যেন ওখানকার কেউ শুনতে না পায়।’

    অর্ক প্রতিবাদ করল, ‘কি আশ্চর্য। আমি কি তোমাদের সঙ্গে রকের ভাষায় কথা বলি? তোমার কি মনে হয় না আমি ঠিক আগের মত নই!’

    অনিমেষ মাথা নাড়ল কয়েকবার। সেটা অর্কর কথাকে মেনে নেওয়া বলেই মনে হল। তারপর বলল, ‘কলকাতার পথেঘাটে যেসব কথা শুনতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি জলপাইগুড়িতে সেটা চূড়ান্ত অশ্লীল। ওই ভাষায় ওখানে কেউ কথা বলার কথা ভাবতেও পারে না। জানি না এর মধ্যে কোন পরিবর্তন হয়েছে কি না! তুই তো কখনও ওই পরিবেশে থাকিসনি তাই বললাম।’

    এই সময় সামনের সিটের ভদ্রলোক আড়মোড়া ভেঙ্গে বললেন, ‘ডালখোলা চলে গেছে?’ অনিমেষ ঘাড় নেড়ে হ্যাঁ বলল।

    সঙ্গে সঙ্গে লোকটা ‘আই বাপ’ বলে তড়াক করে উঠে বসতে গিয়ে মাথায় ধাক্কা খেলেন। ওপরের বাঙ্কটার কথা খেয়াল ছিল না তাঁর। হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, ‘ভেরি ব্যাড সিস্টেম।’

    অর্ক আর কথা বলতে পারল না। কিন্তু ওর মনে একটা চিন্তার উদয় হল। সে চিরকাল বস্তিতে থেকে এসেছে বলে কি বাবা তার সম্পর্কে ভয় পাচ্ছে? তার আচার ব্যবহারে কি বস্তির ছাপ আছে? অদ্ভুত একটা জ্বালা এবং হতাশাবোধ এল। কিন্তু এই নিয়ে বাবার সঙ্গে তর্ক করার পরিবেশ যে এটা নয়। এই সময় মাধবীলতা ফিরে এল পরিষ্কার হয়ে, এসেই বলল, ‘তাড়াতাড়ি যাও, এখনও সবাই ঘুম থেকে ওঠেনি। ভিড় হয়ে গেলে বিপদে পড়বে।’

    অনিমেষ ক্রাচ দুটো আঁকড়ে উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করল! সমস্ত শরীর টলছে। দ্রুত ছুটে যাওয়া ট্রেনের কামরা তাকে ভারসাম্য রাখতে দিচ্ছে না। সে মাথা নাড়ল, ‘না, আমি পারব না।’ মাধবীলতারও তাই মনে হয়েছিল। এমনি সমান মাটিতে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটা এক জিনিস আর ছুটন্ত গাড়িতে আর এক জিনিস। একটু অভ্যেস না থাকলে হয় না। কিন্তু অর্ক ছাড়তে নারাজ। অনিমেষের যে পা একটু ওজন সইতে পারে সেদিকের ক্রাচ রেখে দিয়ে অর্ক বলল, ‘তুমি আমাকে ধরে চল।’

    এভাবে যাওয়া সম্ভব হল। একদিকে অর্ক অন্যদিকে ক্রাচে ভর দিয়ে অনিমেষ এগিয়ে গেল। এখনও এই দেশে খোঁড়া কিংবা অন্ধ মানুষকে সবাই মমতা দেখায়, ফলে ওদের পক্ষে বাথরুমের দরজায় পৌঁছাতে অসুবিধে হল না। অর্ক লক্ষ্য করল চারধারে বিছানাপত্র গুটিয়ে মানুষেরা তৈরি হচ্ছে।

    পরিচ্ছন্ন অনিমেষকে আসনে ফিরিয়ে দিয়ে এবার অর্ক পেস্ট নিয়ে গেল। বাথরুমের সামনে এর মধ্যেই লাইন পড়ে গেছে। ঠিক বস্তির মত। কাল রাত্রে শিয়ালদায় এই মানুষগুলো কি ভীষণ ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল নিজের নিজের আসন দখল করার জন্যে। সারা রাত সেই অপরিচিত পরিবেশে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে একটু বাদেই চিরকালের মত ছেড়ে চলে যাবে। অর্কর মনে হল এই লোকগুলো সে সব কথা ভাবছে না। হঠাৎ তার খেয়াল হল তাকে ডিঙ্গিয়ে একটা মোটা লোক এগিয়ে গেল। সে খুব ভদ্র গলায় বলল, ‘আপনার আগে আমি আছি। আপনি পেছনে যান।’

    লোকটা তার দিকে না তাকিয়ে বলল, ‘আমি আগে ছিলাম, আছি।’

    লোকটা বেমালুম মিথ্যে কথা বলছে। অর্কর মাথার ভেতরটা চিনচিন করে উঠল। সে ডান হাত বাড়িয়ে লোকটার কাঁধ স্পর্শ করল, ‘এই যে!’

    লোকটা একটু বিরক্তি নিয়ে মুখ ফেরাতেই অর্ক চোখ স্থির রেখে বলল, ‘পেছনে যান।’ লোকটা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, ‘পেছনে যান, মাস্তানি হচ্ছে? বললেই যেন আমাকে পেছনে যেতে হবে। লাটের বাট এসেছে। হুঁ।’

    এই সকালে লোকটা যেরকম কুৎসিত মুখভঙ্গী করল তাতে অর্ক আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ওর গলার মধ্যে বসে যেন খুরকি কথা বলে উঠল, ‘আব্বে, খুব নকশা হচ্ছে?’

    তৎক্ষণাৎ লোকটার মুখের চেহারা পাল্টে গেল। চোয়াল ঝুলে গেল যেন, চোখও বড়। এবং চোরের মত সুড়ুৎ করে সামনে থেকে পেছনে চলে এল লোকটা। তারপর ফিসফিস করে বলল, ‘একই ট্রেনে যাচ্ছি, কেউ আগে কেউ পরে, এ তো হবেই।’

    লোকটার ভাবভঙ্গী দেখে হাসি পেয়ে গেল অর্কর। রাগটা যেমন এসেছিল আচম্বিতে তেমনি মিলিয়ে গেল। সে খিস্তি করেনি কিন্তু বলার ধরন দেখেই গুটিয়ে গেল লোকটা। এক নম্বরের ভেড়ুয়া। তারপরেই মনে হল এ নিশ্চয় কলকাতার লোক নয়। এই রকম গলার কথা শুনতে কলকাতার লোক অভ্যস্ত। কিন্তু এখন আর কথা না বলাই বুদ্ধিমানের কাজ তবু কৌতূহল চাপতে পারল না সে, ‘আপনি কোথায় থাকেন?’

    ‘আমি? আলিপুরদুয়ারে। কেন?’

    অর্ক আর জবাব দিল না। সে খুশি হল কারণ তার ধারণাই ঠিক। ওর মনে হল বাবা-মা যাই বলুক এই পৃথিবীতে গায়ের অথবা গলার জোর না দেখালে কেউ খাতির করবে না, সব সময় অন্যায়কে মেনে নিতে হবে।

    চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে উজ্জ্বল মুখে অনিমেষ বলল, ‘আর মিনিট দশেকের মধ্যে নিউ জলপাইগুড়ি এসে যাবো।’

    ‘কি করে বুঝলে?’ মাধবীলতা চুল ঠিক করছিল।

    ‘আমি বুঝতে পারব না?’ অনিমেষের গলায় একটু অহমিকা। সেটা লক্ষ্য করে মাধবীলতা হাসল। অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘হাসলে কেন?’

    ‘নাঃ।’ তারপরই ওর গলা পাল্টে গেল, ‘আমার খুব ভয় করছে।’

    ‘ভয় করছে?’ অনিমেষ অবাক হল।

    ‘আমাকে কিভাবে নেবেন ওঁরা? নতুন বউও নয়, একেবারে পনেরো ষোল বছরের ছেলে সমেত পুত্রবধূ।’

    ‘আমার জন্যে তো তুমিই ব্যস্ত হয়েছিলে। এত যদি ভয় তাহলে এলে কেন?’

    অনিমেষ মুখ ফিরিয়ে নিল। ‘খাবার আছে আর? খিদে পেয়েছে!’

    কাল ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে পরমহংস সন্দেশ আর রুটি দিয়ে গিয়েছিল। পরিমাণে প্রচুর, এখনও তার কিছু রয়েছে। মাধবীলতা একটা বড় সন্দেশ বের করে অনিমেষের হাতে দিল। দিয়ে বলল, ‘পরমহংসের মত বন্ধু হয় না।’

    আর তখনই দূরের ঘরবাড়ি এবং অনেকগুলো রেল লাইন চোখে পড়ল। অনিমেষ যেন এক বুক নিঃশ্বাস নিয়ে বলল, এসে গেছি।’

    নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে ওরা চারপাশে তাকাল। মাধবীলতা বলল, ‘তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। আগে সবাই বেরিয়ে যাক তারপর না হয় যাওয়া যাবে। অর্ক তুই জিজ্ঞাসা করে আয় জলপাইগুড়ি যাওয়ার কোন ট্রেন আছে কিনা।’ তারপর অনিমেষকে বলল, ‘তুমি তো অনেক দিন আসোনি, ভুল করতেও পার।’

    অনিমেষ দুটো ক্রাচে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্টেশনটাকে তার একদম অচেনা মনে হচ্ছে। তার স্মৃতিতে জলপাইগুড়িতে যে ট্রেনটা যায় সেটা এখান থেকে ন’টার আগে ছাড়ে না। নিয়মটা যদি এখনও চালু থাকে তাহলে ঘণ্টা দুয়েক চুপচাপ বসে থাকতে হবে।

    অর্ক একটা কালো কোর্ট-পরা লোককে জিজ্ঞাসা করল কয়েক পা এগিয়ে। লোকটা তড়িঘড়ি করে বলল, ‘বাসে চলে যান। স্টেশনের বাইরে মিনিবাস পাবেন। না হলে রিকশা নিয়ে জলপাইগুড়ির মোড়ে গেলে সব পাবেন। ট্রেনের জন্যে বসে থাকবেন না। কাল থেকে গোলমাল চলছে।’

    অর্ক বলল, ‘আজ কি ট্রেন যাবে না?’

    এই সময় মাইকে ঘোষণা করা হল কামরূপ এক্সপ্রেস দেরিতে আসছে। লোকটা ছাড়া পাওয়ার জন্যে বলল, ‘কামরূপে চলে যান। জলপাইগুড়ি রোডে নেমে রিকশা নেবেন।’ অর্ককে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে লোকটা হাওয়া হয়ে গেল।

    দার্জিলিং মেলের প্যাসেঞ্জাররা ততক্ষণে প্লাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। অর্ক ওভারব্রিজের দিকে তাকাল। অনিমেষের পক্ষে ওই উঁচুতে ওঠা সম্ভব নয়। সে ফিরে এসে বলল, ‘এখনই যে ট্রেনটা আসবে সেটায় যাওয়া যাবে।’

    অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘কোন ট্রেন? জলপাইগুড়িতে কোন দূরের গাড়ি যায় না।’

    অর্ক প্রতিবাদ করল, ‘রেলের লোক বলল যাবে!’

    মাধবীলতা মাথা নাড়ল, ‘নে ব্যাগটা তোল, একটু চা খাই।’

    বাক্স-দোকান থেকে চা বিস্কুট খাওয়া শেষ হতেই ট্রেনটা এসে পড়ল পাশের প্লাটফর্মে। চিৎকার চেঁচামেচি শেষ হলে অর্ক গিয়ে জেনে এল ওই ট্রেন জলপাইগুড়ি শহরের পাশ ছুঁয়ে যাবে। সেখান থেকে খুব সহজেই শহরের মধ্যে যাওয়া যায়। অনেক লোক নিউ জলপাইগুড়িতে নেমে যাওয়ায় ট্রেনটা বেশ খালি হয়ে গেল। কামরূপ এক্সপ্রেসে খুব ধীরেসুস্থে ওরা অনিমেষকে তুলল। প্লাটফর্ম উঁচু থাকায় এখন আর কুলির সাহায্য দরকার হল না, অর্ক একাই পারল। গুছিয়ে বসে অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘দ্যাখো তো আমাদের টিকিট কতদূর পর্যন্ত! মনে হচ্ছে নিউ জলপাইগুড়ি লেখা ছিল।’

    মাধবীলতা বলল, ‘ওখানে যখন যাচ্ছি তখন অন্য জায়গা কেন হবে?’ ব্যাগ খুলে টিকিট বের করে চোখের সামনে ধরে অস্ফুটে বলল, ‘ওমা, সত্যি তো, এ যে নিউ জলপাইগুড়ি লেখা। কি হবে?’

    অনিমেষ বলল, ‘জলপাইগুড়ি পর্যন্ত টিকিট কাটতে হবে। অর্ক, দ্যাখ তো পারিস কিনা টিকিট কাটতে?’

    মাধবীলতা জিজ্ঞাসা করল, ‘এখান থেকে কত ভাড়া?’

    অনিমেষ হাসল, ‘কতকাল আসিনি, আমার তো ভুলও হতে পারে। একটা মানুষের সঙ্গে বহুদিন বাদে দেখা হলে তার মনের অনেকটাই অচেনা হয়ে যায় আর এ তো রেলের ভাড়া, বছরে বছরে পাল্টায়। কুড়ি টাকা দাও, ওতে হয়ে যাবে বোধহয়।’

    টাকা নিয়ে অর্ক আবার প্লাটফর্মে নামল। টিকিটঘর কোনদিকে? সে একটা কুলিকে জিজ্ঞাসা করতেই জবাব পেল, ‘ওভারব্রিজসে যাইয়ে, একদম বাহার।’ অর্ক যখন ওভারব্রিজের ওপরে ঠিক তখন ওর চোখে পড়ল রঙিন ছোট ছোট কামরা নিয়ে ছোট ইঞ্জিন দাঁড়িয়ে আছে ওপাশে। দার্জিলিং-এর গাড়ি বোধহয়। এখান থেকে দার্জিলিং কতদূর! সে ডানদিকের আকাশে তাকাতেই চমকে গেল। অনেক দূরে পাহাড়ের গায়ে সাদা সাদা চুড়ো, আবছা, কিন্তু বোঝা যায়। ওগুলো কি বরফ? আর তখনি নিচের ট্রেনটা হুইসল বাজিয়ে নড়ে উঠল। অর্ক মুখ নামিয়ে দেখল ট্রেনটা চলা শুরু করেছে। জীবনের শ্রেষ্ঠ দৌড়টা দিল সে। ট্রেনটা তখন প্লাটফর্মের অর্ধেক ছেড়ে গেছে। অর্ক বুঝতে পারছিল না কোন কামরাটা ওদের! এবং এই সময় মাধবীলতার গলা শুনতে পেল। দরজায় দাঁড়িয়ে তার নাম ধরে চিৎকার করে ডাকছে। একটার পর একটা কামরা সরে যাচ্ছে সামনে থেকে, মায়ের চেহারাটা আরও দূরে চলে যাচ্ছে। অর্ক মরিয়া হয়ে আবার দৌড়াল এবং শেষ পর্যন্ত কামরার হাতলটা ধরে উঠে পড়তেই মাধবীলতা তাকে জড়িয়ে ধরল। অর্ক তখন জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে, চোখ বড় হয়ে গিয়েছে। মাধবীলতা সেই অবস্থায় বলল, ‘ভয়ে আমার বুক হিম হয়ে গিয়েছিল।’

    অনিমেষ বলল, ‘ওকে টিকিট কাটতে পাঠানো ভুল হয়ে গিয়েছিল। ট্রেনটা যে চট করে ছেড়ে দেবে ভাবতে পারিনি।’

    একটু সুস্থ হয়ে অর্ক বলল, ‘মা, ছোট ট্রেন দেখে এলাম।’

    অনিমেষ বলল, ‘ওগুলো দার্জিলিং-এ যায়।’

    মাধবীলতার মুখ উজ্জ্বল হল এখন, ‘একবার দার্জিলিং-এ গেলে বেশ হয়, না?’

    অনিমেষ ম্লান হাসল, ‘বেশ তো, তোমরা দুজন না হয় ঘুরে এস।’

    ততক্ষণে ট্রেনটা দুপাশে মাঠঘাট রেখে ছুটে চলেছে। অনিমেষ বাইরে তাকিয়ে আবার উদাস হল, ‘এদিকের স্টেশনগুলোর নাম খুব অদ্ভুত। বেলাকোবা, আমবাড়ি-ফালাকাটা।’

    মাধবীলতা জিজ্ঞাসা করল, ‘কতক্ষণ লাগবে?’

    ‘এক ঘণ্টার বেশী লাগা উচিত নয়।’ অনিমেষ খুব বিজ্ঞের মত বলল।

    পরের স্টেশনটা আসতে অর্ক উঠে গিয়ে দরজায় দাঁড়াল। এখন বুকের ভেতরটা ঠাণ্ডা কিন্তু উত্তেজনাটার ছায়া মনে রয়ে গেছে। মায়ের শরীরটা কিভাবে দ্রুত চোখের সামনে থেকে দূরে চলে যাচ্ছিল। যদি সে ট্রেনটা না ধরতে পারত! একটু ঝামেলা হত কিন্তু সে তো আর হারিয়ে যেত না!

    এই সময় ট্রেনটা ছাড়ল আর একজন টিকিট চেকার উঠে এল। খুব নিরীহ চেহারার ভদ্রলোক। কিন্তু ওঁকে দেখে অর্কর খেয়াল হল ওদের এই পর্বের টিকিট কাটা হয়নি। বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করলে জরিমানা এবং জেল দুই হতে পারে—এরকম একটা বিজ্ঞাপন কোথায় যেন দেখেছিল। সে পেছন ফিরে তাকাল, মা এবং বাবাকে এখান থেকে দেখা যাচ্ছে না। চেকার দরজায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালেন। অর্ক ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছিল। ওর মনে হল টিকিট না থাকার কথা চেকারকে আগেই বলা দরকার। সে সরাসরি বলে ফেলল, ‘শুনুন, আমরা কলকাতা থেকে আসছি। জলপাইগুড়িতে যাব।’

    ‘ভাল কথা। জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে নেমে যেও। এক মিনিট থামে।’ ভদ্রলোক নির্বিকার ভঙ্গীতে বললেন।

    ‘কিন্তু আমাদের টিকিট ছিল নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত। ওখানে দৌড়ে গিয়েও আমি টিকিট কাটতে পারিনি।’

    ‘কই দেখি টিকিট?’

    ‘আমার মা-বাবার কাছে আছে, নিয়ে আসব?’

    ‘থাক, ছেড়ে দাও।’

    ‘আমাদের টিকিটটা—।’

    ‘বলেছ এই ঢের! কজনই বা বলে? আমার কাছে রসিদ বই নেই না হলে টিকিট কেটে দিতাম। আর জলপাইগুড়ি রোডে কেউ চেক-ফেক সাধারণত করে না। যদি করে তখন বলবে মিত্তিরবাবুর সঙ্গে কথা হয়েছে।’ কথা শেষ। ভদ্রলোক ঠিক তেমনি চুপচাপ সিগারেট খেতে লাগলেন। অর্ক ফিরে এসে অনিমেষকে ঘটনাটা বলল। অনিমেষ যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না, ‘সত্যি বলছিস?’

    ‘হ্যাঁ। বললেন টিকিট কাটতে হবে না।’

    একটু ইতস্তত করে অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘তোর কাছে টাকা চায়নি?’

    ‘না তো। বললেন রসিদ নেই তাই টিকিট কাটতে পারবেন না।’

    ‘সে তো বুঝলাম, এমনি টাকা চাইল না?’

    ‘না।’

    অনিমেষ মাধবীলতার দিকে তাকাল, ‘আমার সব গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। ভারতবর্ষে এরকম মানুষ তাহলে এখনও আছে, অদ্ভুত ব্যাপার।’

    মাধবীলতা বলল, ‘ভদ্রলোকের সঙ্গে কাগজপত্র নেই বলে গা করেননি।’

    অনিমেষ মাথা নাড়ল, ‘উঁহু। এই লোকটা ব্যতিক্রম। ভাবতে পারছি না।’

    পাশে বসা একজন যাত্রী এইবার কথা বললেন, ‘মিত্তিরবাবু ঘুষ খান না।’

    অর্ক লোকটির দিকে তাকাল। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে উঠেছেন, খুব দীন দশা। অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি ওঁকে চেনেন?’

    ‘চিনব না? রোজ এই লাইনে যাতায়াত করি।’

    মাধবীলতা ঠাট্টার গলায় বলল, ‘বাটিরা ভাল মানুষ হয় মনে হচ্ছে।’

    ‘বাটি?’

    ‘তাই তো! নর্থ বেঙ্গলের লোক বাঙাল আর ঘটি মিশিয়ে।’

    অনিমেষ হেসে ফেলল। তারপরই উত্তেজিত গলায় বলল, ‘ওই দ্যাখো চা গাছ।’

    গাড়িটা তখন চা বাগান চিরে চলেছে। মাধবীলতা আর অর্ক অবাক হয়ে দেখতে লাগল চায়ের গাছ। অনিমেষ বলল, ‘এ আর এমন কি! আমাদের স্বর্গছেঁড়া চা বাগানে যদি যাও তাহলে চোখ জুড়িয়ে যাবে।’

    অর্ক বলল, ‘সেখানে যাবে বাবা?’

    তখনি অনিমেষের খেয়াল হল স্বৰ্গছেঁড়ায় এখন কারো থাকার কথা নয়। মহীতোষ জলপাইগুড়িতে চলে এসেছেন। সেই বাগানের কোয়াটার্সে নিশ্চয়ই এখন অন্য লোক রয়েছে। সমস্ত ছেলেবেলাটা জুড়ে যে স্বৰ্গছেঁড়া অটুট ছিল আজ সেখানে গিয়ে দাঁড়াবার কোন সুযোগ নেই। এতদিনে স্বর্গছেঁড়ায় কোন হোটেল হয়েছে? কে জানে! সে মুখে বলল, ‘দেখি!’

    নিউ জলপাইগুড়ি রোডের প্লাটফর্ম এত নিচুতে যে অনিমেষের পক্ষে নামা অসম্ভব। সহযাত্রীটি বলেছিলেন ট্রেন এখানে এক মিনিটের বেশী থামে না। তাড়াহুড়ো করে জিনিসপত্র নামিয়ে অর্ক অনিমেষকে প্রায় কোলে করে নিচে নিয়ে এল। এবং তখনই ট্রেনটা ছেড়ে দিল। শব্দটা মিলিয়ে গেলে অনিমেষ মাধবীলতাকে বলল, ‘লাঠি দুটো দাও।’ তারপর ম্লান হাসল, ‘আমার দেশের মাটিতে আমি তোর কোলে চেপে নামলাম।’ ওকে খুব বিষণ্ণ দেখাচ্ছিল।

    মাধবীলতা ক্রাচ এগিয়ে দিয়ে উজ্জ্বল চোখে চারপাশে তাকাচ্ছিল। একটা মাঝারি কিন্তু ন্যাড়া স্টেশন। কোন মানুষজন নেই, দোকানপাট নেই। এমন কি বাইরে তাকালে শুধু মাঠ ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে না। সে অর্ককে বলল, ‘দ্যাখ স্টেশনের কি অবস্থা! একদম মরুভূমি।’

    অনিমেষ সামলে নিয়েছিল এর মধ্যেই। এতক্ষণ ট্রেনে সে একরকম ছিল। কিন্তু জলপাইগুড়িতে পা দেওয়ামাত্র বুকের ভেতর কেমন করে উঠেছিল। নিজেকে সংযত রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় সে বলল, ‘আসলে এটা জলপাইগুড়ির আসল স্টেশন নয়। শহরটাও অন্যদিকে। চল, আর দাঁড়িয়ে থেকে লাভ কি!’

    অর্ক অবাক হয়ে দেখল গেটে কোন লোক নেই যে তাদের কাছে টিকিট চাইবে। চমৎকার! এই এতটা পথ তারা দিব্যি বিনা টিকিটে চলে এল? বাইরে দুটো রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। বাকিরা যাত্রী নিয়ে রওনা হয়ে গিয়েছে। অনিমেষকে রিকশায় তুলতে এবার রিকশাঅলার সাহায্য দরকার হল। আর এসব যত হচ্ছে তত মেজাজ খিঁচড়ে যাচ্ছে ওর। মাধবীলতা পাশে উঠে বসতেই চাপা গলায় বলল, ‘এই জন্যে আসতে চাইনি!’

    ‘কেন, আমাদের তো কোন অসুবিধে হচ্ছে না। তুমি মিছে ভাবছ!’

    রিকশা দুটো সরু পিচের রাস্তা দিয়ে মিনিট দশেক ছুটে এল দুপাশে মাঠ আর চাষের ক্ষেত রেখে। তারপর সামান্য কিছু ঘরবাড়ি যাদের শহুরে বলে মনে হয় না। অর্ক জিনিসপত্র নিয়ে আগের রিকশায় যাচ্ছিল। সে কোনদিন কলকাতার বাইরে আসেনি এবং ততক্ষণে তার মনে হল জলপাইগুড়ি নেহাতই একটা গ্রাম। অথচ বাবা এই শহর নিয়ে কত না কথা বলত! হঠাৎ তার চোখে পড়ল একটা বিশাল ন্যাড়া সিমেন্টের গেট। তার ফাঁক দিয়ে দূরে প্রাসাদ দেখা যাচ্ছে। এরকম বাড়ি কলকাতাতেও কম দেখা যায়। সে মুখ ফিরিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘বাবা, এটা কি?’

    অনিমেষ চেঁচিয়ে জবাব দিল, ‘ওটা জলপাইগুড়ির রাজবাড়ি। এখানে এককালে বিরাট মেলা বসত। এখন তো রাজারা নেই, মেলা হয় কিনা কে জানে।’

    রিকশাঅলা বুড়ো। খানিকটা যাওয়ার পর লোকটা বলল, ‘এটা রায়কত পাড়া।’ অর্ক এবার ধারণাটা পাল্টালো। না, সত্যিই শহর। যদিও বেশীর ভাগই একতলা বাড়ি কিন্তু আর গ্রাম বলে মনে হচ্ছে না। রিকশাঅলা নিজের মনে বলে যাচ্ছে, ‘ওইটে জেলখানা, ওই রাস্তায় দিনবাজার।’ আর তখনই পেছনের রিকশাঅলা চেঁচিয়ে ওদের থামতে বলল। অর্ক মুখ ঘুরিয়ে দেখল মাধবীলতা তাকে হাত নেড়ে ডাকছে। সে রিকশা থেকে নেমে এগিয়ে যেতেই মাধবীলতা বলল, ‘দ্যাখ তো এখানে মিষ্টির দোকান আছে কিনা! তাহলে সন্দেশ কিনে আন।’ সে ব্যাগ খুলতে যেতেই অর্ক বলল, ‘আমার কাছে তো টাকা আছে, টিকিটের জন্যে দিয়েছিলে।’

    খোঁজ করে করে একটা নদীর ওপর দিয়ে ওপারে গিয়ে সে সন্দেশ কিনে আনল। জায়গাটায় বেজায় ভিড়। রিকশা আর সাইকেলে ঠাসাঠাসি। ও ফিরে আসার সময় নদীটাকে দেখল। ছোট্ট মজা নদী শহরটার মধ্যে দিয়ে গেছে। এই জায়গাটা খুব ঘিঞ্জি। বাবার বর্ণনার সঙ্গে মিলছে না। মায়ের হাতে প্যাকেট দিতে গিয়ে শুনল, ‘তুই রাখ।’

    মাধবীলতা হঠাৎ আবিষ্কার করল সে কেমন জড়োসড়ো হয়ে যাচ্ছে। অনিমেষের পাশে বসে আছে রিকশার স্বল্প পরিসরে কিন্তু গায়ে যেন জোর নেই। সে টের পাচ্ছিল যে শরীর ঘামছে। অনিমেষ বলল, ‘এটা সদর হাসপাতাল। এরপরেই হাকিমপাড়া, আমরা এসে গেছি।’

    এসে গেছি শুনে মাধবীলতার হাত কেঁপে উঠল। ডান হাত কাঁপছে, অলক্ষণ। অনিমেষ চারপাশে উদগ্রীব চোখে তাকাচ্ছিল। একটাও চেনা মুখ দেখতে পাচ্ছিল না। হাকিমপাড়া চিরকালই নির্জন, শান্ত। হঠাৎ সে আবিষ্কার করল তার মধ্যে আর কোন উত্তেজনা নেই, যেন যা হবার তা হবে এইরকম একটা মানসিকতায় সে পৌঁছে গেছে। রিকশাঅলাকে নির্দেশ দিল সে বাড়িটার কাছে পৌঁছে যেতে। এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে দরজা বন্ধ। অজস্র গাছগাছালিতে বিরাট বাড়িটা ছেয়ে আছে। দীর্ঘদিন চুনকাম না করানোয় একটা স্যাঁতসেঁতে ভাব দেওয়ালে। অর্ক এবং রিকশাঅলা অনিমেষকে ধরে ধরে নামাল। ক্রাচ দুটো বগলে নিয়ে অনিমেষ বলল, ‘ওই বাড়ি!’

    অর্ক তাকাল। গাছপালার ফাঁকে যে বাড়িটা দেখা যাচ্ছে সেটা তাদের বাড়ি! এত বড়! অনিমেষ শান্ত গলায় বলল, ‘তুই এগিয়ে গিয়ে নক্ কর, আমরা ভাড়া মিটিয়ে আসছি।’

    মিষ্টির বাক্স, সুটকেস আর ব্যাগ দু’ হাতে তুলতে তুলতে অর্ক দেখতে পেল মায়ের আঁচল মাথায় উঠে যাচ্ছে। মুখ ভরতি ঘাম, খুব ভীরু বউ-এর মত মাধবীলতাকে দেখাচ্ছে।

    মায়ের এই রূপ সে কখনও দ্যাখেনি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }