Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৬. মহীতোষ মারা যাওয়ার পর

     ছত্রিশ

    মহীতোষ মারা যাওয়ার পর এই বাড়ির চেহারাটা যেন আচমকা পাল্টে গেল। ছোটমা সেই শূন্য ঘর ছেড়ে পারতপক্ষে বের হচ্ছেন না। হেমলতার পরিবর্তনটা আরও বেশী চোখে পড়ছে। যে মানুষ সব সময় বক বক করতে ভালবাসতেন তিনি একেবারেই নীরব হয়ে গেছেন। সারা দিন তাঁর নিজের কাজগুলো বার বার করে যাচ্ছেন। তিনি নিজের রান্না চিরকাল নিজেই বেঁধে এসেছেন। হঠাৎ যেন আরও বেশী স্বতন্ত্র হয়ে পড়েছেন। মাধবীলতা তিনবার প্রশ্ন করলে একবার হয়তো জবাব দেন আর কপালে ভাঁজ ফেলে দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তাঁর আচরণের মধ্যে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিচ্ছে। মাঝে মাঝে একই কাজ দুবার করেন এবং অর্ককে অনিবাবা বলে সম্বোধন করছেন।

    এই পরিস্থিতিতে এত বড় বাড়ির দায়িত্ব এসে পড়ল মাধবীলতার ওপর। তাকেই সমস্ত কাজকর্ম করতে হচ্ছে। এখন অবশ্য রান্নাবান্নার তেমন ঝামেলা নেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে গৃহিণীর দায়িত্ব এড়াতে পারছে না মাধবীলতা।

    মহীতোষকে দাহ করতে যাওয়ার আগে একটু চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। সকালেই এ পাড়ায় খবরটা প্রচারিত হয়ে গিয়েছিল। অনিমেষ দেখেছিল ক্রমশ বেশ ভিড় জমে গেল বাড়িতে। এঁদের অনেকেই মহীতোষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত নন কিন্তু পাড়ার মানুষ মারা গেছেন এবং তাঁর আত্মীয়রা শোকগ্রস্ত বলেই এঁরা পাশে এসে দাঁড়ালেন। এঁদের মধ্যেই কয়েকজন যখন উদ্যোগী হয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করছেন ঠিক তখনই চেঁচামেচি শোনা গেল। গেট হাট করে খোলাই ছিল, সেখান থেকে বিলাপ করতে করতে ঢুকলেন পরিতোষ, ‘ওরে তুই চলে গেলি, আমি বড় হয়ে রয়ে গেলাম আর তুই চলে গেলি।’ বিলাপ করছেন আর মাথায় চাপড় মারছেন।

    অনিমেষ প্রথমে তাঁকে চিনতে পারেনি। একটা মানুষের চেহারা যে এত পাল্টে যায় তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এবং চেনা মাত্র তার খেয়াল হল এই মানুষটা সারা জীবন দাদুকে জ্বালিয়েছে আর বাবার বিরুদ্ধে এই বাড়ির মালিকানা চেয়ে আদালতে মামলা ঠুকেছে। অথচ এখন ওঁর বিলাপ দেখলে সে সব কথা কারো মনে আসবে না। দ্বিতীয় চিন্তায় অনিমেষের মনে হল, হয়তো মৃত্যু সংবাদ পেয়ে মানুষটার মনে অনুশোচনা এসেছে। যে জেদ এবং ঈর্ষা তাঁকে মামলা করিয়েছিল তা বোধ হয় ধাক্কা খেয়েছে। এই বিলাপ তারই প্রতিক্রিয়া।

    পরিতোষ তখন বারান্দায়। কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘কোথায় সে, আমাকে তার কাছে নিয়ে চল। আমি তাকে শেষবার দেখতে চাই। মহী, মহী রে।’ পাড়ার একটি ছেলে পরিতোষকে পথ দেখিয়ে মহীতোষের ঘরে নিয়ে যাচ্ছিল। উপস্থিত মানুষগুলো স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। একে মৃত্যু তার ওপর এই ধরনের বিলাপ আবহাওয়াকে ভারী করে তুলেছে। অনিমেষের দিকে পরিতোষ তাকাচ্ছিলেন না। অনিমেষের মনে হল হয়তো ওকে চিনতে পারেননি তিনি। সে দুহাতে ক্রাচ নিয়ে চুপচাপ দরজার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। এখন ঘরে বেশ ভিড়। হেমলতা সেই জানলার পাশে পাথরের মত অনড় হয়ে আছেন। প্রতিবেশী মহিলারা তাঁর পাশে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে। মাধবীলতা মহীতোষের মাথার পাশে। অর্ক সামান্য দূরে। পরিতোষ ঘরে ঢুকে এমন একটা কান্নার শব্দ করলেন যে সবাই চমকে তাঁর দিকে তাকালেন। এমন কি ছোটমা মহীতোষের পায়ের ওপর থেকে মুখ তুললেন, শব্দটা করেই পরিতোষ দৌড়ে খাটের কাছে পৌঁছে গেলেন, ‘মহী, মহী, ভাই আমার কথা বল, একবার দাদা বলে ডাক, ও হো মহী রে!’

    মৃত মহীতোষের হাত জড়িয়ে ধরে হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগলেন পরিতোষ। ছোটমার শরীর ধীরে ধীরে সোজা হয়ে বসল। তাঁর চোখে বিস্ময়। পরিতোষ বলছিলেন, ‘তুই চলে গেলি, আমি অভাগা রে মহী, মায়ের স্নেহ বাবার ভালবাসা কখনও পাইনি। তবু আমি রয়ে গেলাম। আঃ ভগবান!’

    ঠিক তখনই হেমলতার চাপা অথচ ধারালো গলা শোনা গেল, ‘পরি!’

    পরিতোষ চোখ খুললেন, ‘কে, কে ডাকল আমাকে?’ মুখ ঘুরিয়ে চারপাশ দেখতে দেখতে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। তার পর জ্যামুক্ত তীরের মত ছুটে গেলেন হেমলতার পায়ের কাছে। মাটিতে সাষ্টাঙ্গে শুয়ে বললেন, ‘ক্ষমা কর, ক্ষমা কর দিদি।’

    হেমলতা বললেন, ‘উঠে দাঁড়া।’

    বাধ্য শিশুর মত হুকুম তামিল করলেন পরিতোষ, অনেক শাস্তি পেয়েছি দিদি। আজ মহী নেই আজ আর … আমার ছেলেরাও আমাকে দ্যাখে না।’

    হেমলতা বললেন, ‘বেরিয়ে যা এখান থেকে।’

    পরিতোষ যেন চমকে উঠলেন, ‘অ্যাঁ?’

    ‘এই বাড়িতে তোর ঢোকা নিষেধ আছে। আমার বাবার শেষ ইচ্ছে যাতে পালন করা হয় তা আমি দেখব। যা।’ হেমলতার ছোট্ট শরীরটা যেন আচমকা বিশাল হয়ে যাচ্ছিল। পরিতোষ কিছুক্ষণ স্তব্ধ ভঙ্গীতে দিদিকে দেখলেন, ‘তুমি, তুমি কি পাষাণ? এই দিনেও ওই কথা বলছ?’

    ‘হ্যাঁ বলছি। তোর মামলা করার খবর পাওয়ার পর থেকেই মহী –।’

    ‘মামলা? মরা মানুষের সঙ্গে মামলা কি! এখন মহী আমার ভাই।’ কথাগুলো বলতে বলতে দরজার দিকে সরে আসছিলেন পরিতোষ। এবং তখনই তাঁর চোখ পড়ল অর্কর ওপর। একটু থিতিয়ে গিয়েও তিনি হাত বাড়িয়ে অর্ককে ধরলেন, ‘এসো, তোমার সঙ্গে একটু প্রাইভেট কথা আছে।’

    প্রায় টানতে টানতেই অর্ককে নিয়ে তিনি বাইরে বেরিয়ে এলেন। দরজাটা অতিক্রম করার সময় অর্ক অনিমেষের মুখের দিকে তাকাল। অনিমেষ অবাক হয়েছিল। অর্কর সঙ্গে জেঠুর সম্পর্ক সে ঠাওর করতে পারছিল না।

    হলঘরে ঢুকেই পরিতোষ নিচু গলায় বললেন, ‘দিদির মাথা শোকে খারাপ হয়ে গিয়েছে। তুমি কিছু মনে করো না। এই সময় ও–রকম হয়।’

    অর্ক হতভম্ব হয়ে গেল। পরিতোষ যেন তাকেই সান্ত্বনা দিচ্ছেন। ওই একঘর লোকের সামনে অপমানিত হবার ব্যাপারটা যেন কিছুই নয়। তার মনে হল এই মুহূর্তে হেমলতাকেই সমর্থন করা উচিত। ‘আপনাকে যখন চলে যেতে বলা হয়েছে তখন চলে যান।’

    ‘আরে, তুমি ব্যাপারটা বুঝতেই পারছ না। তোমার তো মাথা খারাপ হয়নি।’

    ‘আপনি দাদুর বিরুদ্ধে মামলা করছেন আবার এখানে এসে কাঁদছেন—!’

    ‘করছেন না, করেছিলেন। বললাম না, মরা মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করার কোন মানে হয় না। ও মামলা আমি তুলে নেব। এখন এসো সবাই মিলে মহীর সৎকারটা ভালভাবে করি। এখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করার সময় নয়।’ খুব বিচক্ষণ দেখাচ্ছিল পরিতোষকে।

    অর্ক বুঝতে পারছিল না তার কি বলা উচিত। সে মুখ ফিরিয়ে অনিমেষকে দেখল। ‘আপনি আমার বাবার সঙ্গে কথা বলুন। বাবা, এদিকে এসো।’

    পরিতোষ যেন খুব অবাক হলেন, ‘তোমার বাবা? ও অনি! সে কোথায়? শুনেছি হাঁটাচল করতে পারে না।’ তাঁর কথা শেষ হওয়া মাত্র অনিমেষ সামনে এসে দাঁড়াল। পরিতোষ তার দিকে তাকিয়ে যেন চমকে উঠলেন, ‘হায় ভগবান, তুই অনি? একি চেহারা হয়েছে তোর? আহা রে! আমাকে চিনতে পারছিস তো? আমি তোর-।’

    ‘চিনতে পেরেছি।’

    ‘সেই এলি অনি আর একটু আগে আসতে পারলি না। বাবা গেল, মহী গেল, এই সাজানো বাগান শুকিয়ে গেল। আজ মহীর মৃতদেহের সামনে বসে দিদি আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। তুইও আমাকে তাড়িয়ে দিবি?’

    অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি কি চান?’

    ‘আমি? কিছুই চাই না। শুধু মহী যাতে ভালভাবে যেতে পারে তাই দেখতে চাই।তোর শরীর, ঠিক নেই, তোর ছেলে এখানে কখনও আসেনি, আমি থাকলে তোদের সুবিধে হবে রে। একটু ভেবে দ্যাখ, মহী তো আমারই ভাই।’

    ‘কিন্তু দাদু আপনাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন এটা পিসীমা ভুলতে পারছেন না। তিনি এ বাড়ির সবার চেয়ে বড়। আপনি মামলা করেছেন-।’

    ‘আর লজ্জা দিস না। আমি আর মামলা চালাবো না রে। তোমার নামটা কি যেন, এই হয়েছে মুশকিল, কিছুতেই মনে রাখতে পারি না আজকাল।’

    ‘অর্ক।’

    ‘বেশ বেশ। আর সময় নষ্ট করো না। বেলা হয়ে যাচ্ছে। কিসে নিয়ে যাওয়া হবে ঠিক করেছ?’

    ‘না।’

    ‘ঠিক আছে চল আমি দেখছি। মহীর যেন একটুও অসম্মান না হয় দেখতে হবে।’ অনিমেষের আর কিছু করার ছিল না। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পরিতোষের নেতৃত্বে বেশ বড়সড় শ্মশানযাত্রীর দল তৈরি হয়ে গেল। ওই মানুষটির শোক এবং তার প্রকাশ বেশ উগ্র হওয়া সত্ত্বেও অনিমেষের মনে হচ্ছিল কোথাও বোধহয় ভুল হচ্ছে। হঠাৎ একটা ধাক্কা কাউকে আমূল পরিবর্তন করতে পারে। পরিতোষের ক্ষেত্রেও সেটা সম্ভব। তবে অর্কর সঙ্গে ওঁর পরিচয় কিভাবে হল এটা সে আঁচ করতে পারছিল না। এবং সেদিন জিজ্ঞাসা করবে ঠিক করেও শেষ পর্যন্ত ভুলে গিয়েছিলো।

    সেই দিন থেকেই যেন এ বাড়ির প্রতিটি মানুষ অশৌচ পালন শুরু করে দিল। বিকেল হলেই এ বাড়িতে অন্ধকার এসে ঢোকে। টিমটিমে আলোগুলোকে ভূতের মত দেখায়। সন্ধ্যের পর ঠাণ্ডা পড়ছে এখানে। মেঝেতে বিছানা করে শুতে হচ্ছে। মাধবীলতা ছোটমার সঙ্গে রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত মহীতোষের অস্তিত্ব এই বাড়িতে ছিল না বললেই চলে। মাঝে মাঝে যে গোঙানি তাও শেষ পর্যন্ত থেমে গিয়েছিল কিন্তু তখনও আবহাওয়া ভারী হয়নি। মানুষটা স্তব্ধ কিন্তু মৃত নয়, শুধু এই ধারনাই সবাইকে সচল রেখেছিল!

    এখন কি করা যায় ভেবে পাচ্ছি না অনিমেষ। মাধবীলতা অনন্তকাল ছুটি পাবে না। অর্কর পড়াশুনা আছে। বড় জোর-মহীতোষের কাজ পর্যন্ত ওরা এখানে থাকতে পারে। তার পর? ছোটমা এবং পিসীমাকে কার কাছে রেখে যাবে? দ্বিতীয় জনের কাছে তার নিজস্ব ঋণ শোধ করার সময় এখন। কিন্তু কি করে সেটা সম্ভব? ওদের এখান থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা যায় না। পরমহংস যদি নতুন ফ্ল্যাট ধরে রাখে তবু সেখানে এরা একরাতও থাকতে পারবে না। তাহলে? হঠাৎ অনিমেষের মনে হল মাধবীলতা যেচে এই সমস্যার মধ্যে তাকে ফেলে দিল। সে নিজে এই বাড়ি এবং মানুষদের কাছ থেকে ধীরে ধীরে অনেক দূরে সরে গিয়েছিল। একসময় তার ভুলেও জলপাইগুড়ির কথা মনে পড়ত না। ঈশ্বরপুকুর লেনের ঘরে তার নিজের ভাবনা চিন্তা করার কোন অবকাশ ছিল না। একটা জড়পদার্থের মত বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়া যেত। তার পরেই মনে হল, যদি আজ মহীতোষ কিংবা অর্কর কাছ থেকে কেউ তাকে অনেকদূরে কোন পরিবেশে রেখে দিয়ে আসে তাহলে কি এক সময় জলপাইগুড়ির মত ওদেরও সে ভুলে যাবে? ভুলে যেতে পারবে? অনিমেষ বুঝতে পারছিল না। কিন্তু একটা আশঙ্কা, ওর মনে তির তির করে কাঁপছিল। হয়তো সে ভুলে যাবে। এই পৃথিবীতে কোন কিছুই স্থির হয়ে থাকে না। এই মুহূর্তে মহীতোষের মৃত্যুশোক তারই বেশী করে বাজা উচিত। কিন্তু দীর্ঘ-অনুপস্থিতি শোকের ধার নষ্ট করে দিয়েছে। অথচ ছোটমা এবং পিসীমার শোক অনেক গভীর। শুয়ে অনিমেষ নিজের বুকে হাত দিল। সে কি ক্রমশ হৃদয়হীন হয়ে যাচ্ছে। কেন আর তাকে কোন কিছু তেমন করে কাঁদায় না! অনিমেষের অস্থিরতা বাড়ছিল। পাশে শুয়ে থাকা অর্কর দিকে সে তাকাল। কেমন অসহায় ভঙ্গীতে ছেলেটা এখন ঘুমুচ্ছে। এত দ্রুত পরিবর্তন কোন মানুষের হয়? এত দ্রুত! সঙ্গে সঙ্গে মনে হল তারও তো পরিবর্তন ঘটেছে। কখন তা ঘটে যায় জানা যায় না এই যা।

    অনিমেষের ঘুম আসছিল না। ক্রাচ টেনে নিয়ে সে উঠল। শোওয়ার সময় মাথার পাশে যে চাদরটা ছিল সেটা কোনরকম জড়িয়ে নিল। তার পর ধীরে ধীরে দরজা খুলে ভেতরের ঘরে চলে এল। ঘুট ঘুট করছে অন্ধকার। এখন কত রাত কে জানে। সে চেষ্টা করেও ক্রাচের শব্দ কমাতে পারছিল না। এই বাড়িতে দরজা জানলা বন্ধ রাখলে সামান্য শব্দ অনেকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু তাতেও কারো ঘুম ভাঙ্গছে বলে মনে হল না। দেওয়াল ঘেঁষে ঘেঁষে শেষ পর্যন্ত অনিমেষ মহীতোষের ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দরজাটা ভেজানো, একটা সরু আলোর রেখা সামান্য ফাঁক গলে বেরিয়ে এসেছে। অনিমেষ হাত বাড়িয়ে নিথর হল। ছোটমা এবং মাধবীলতা খানিক দূরত্বে ঘুমিয়ে রয়েছে। ঘরের মাঝখানে একটা বড় প্রদীপ জ্বলছে। সলতেটা পুড়তে পুড়তে তেলের কাছাকাছি। শায়িত দুটো মানুষকে কেমন যেন অশরীরী বলে মনে হচ্ছে। মহীতোষের মৃত আত্মার জন্যে কি প্রদীপ জ্বেলে রাখা! অনিমেষ দরজাটা নিঃশব্দে বন্ধ করে দিল। তার কাঁপুনি আসছিল। এবং হঠাৎই সে বিড় বিড় করে বলল, ‘বাবা, আমাকে ক্ষমা কর।’

    অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে অনিমেষ দরজা খুলে ভেতরের বারান্দায় এসে চুপ করে দাঁড়াল। এখনও চোখের ওপর প্রদীপের শেষ শিখা কাঁপছে। অথচ বাইরে চাঁদের দেওয়ালি। হিমমাখা জ্যোৎস্নায় বাগানটা ভাসছে। নাকে চোখে মুখে ঠাণ্ডা বাতাস লাগতেই সে ধাতস্থ হল। ও-পাশে পিসীমার ঘর, দাদুর পুরোনো ঘর কেমন ডুবো পাহাড়ের মত মনে হচ্ছে। সিঁড়িটার দিকে তাকিয়ে অনিমেষ মাথা নাড়ল। সে কি একা নামতে পারবে? কেন পারবে না? নামতে তো তার কোন অসুবিধে হয় না। তলার ধাপে ক্রাচ রেখে অনিমেষ শরীরটাকে নামাল। তারপর বাকিগুলো অতিক্রম করলো সময় নিয়ে। এখন খালি পায়ে বাগানের মাটিতে, জ্যোৎস্নায়। দাদু থাকতে এত আগাছা ছিল না বাড়িতে। এত বুনো ঘাস কখনও হয়নি। অনিমেষ সেই আধা-জঙ্গল ভেঙ্গে এগোচ্ছিল। তার কোন লক্ষ্য ছিল না। অথচ হঠাৎ এই বাগানে চলে এসে মন খুব হালকা হয়ে যাচ্ছিল। অনিমেষকে দেখেই একটা প্যাঁচা পাখায় শব্দ করে উড়ে গেল যে গাছটা থেকে সেখানে নজর গেল ওর। ওটা কি গাছ? পেয়ারা না! সেই পেয়ারা গাছটা? কত বছর একটা পেয়ারা গাছ বাঁচে? অনিমেষ দ্রুত জঙ্গল মাড়িয়ে চলে এল গাছটার তলায়। বেশ বড় ঝাঁকড়া গাছে বসে থাকা দ্বিতীয় প্যাঁচাটা এবার ভয় পেয়ে ডেকে উঠল কর্কশ স্বরে এবং সঙ্গীর অনুগামী হল। এবং তখনই অনিমেষের সমস্ত শরীর রোমাঞ্চিত হল। এই গাছ! সে নিচের দিকে তাকাল। ঘন ঘাস আর আগাছা ছাড়া কিছুই নেই। কিন্তু এখানে সে মাটি রেখেছিল, ভালবাসার মাটি।

    অনেক অনেক বছর আগে দাদুর সঙ্গে যেদিন চিরদিনের মত স্বৰ্গছেঁড়া থেকে সে এখানে চলে এসেছিল সেদিন রুমালে করে স্বর্গছেঁড়ার মাটি এনেছিল। তার জন্মভূমির মাটি। সাত বছরের বালক সেই মাটি এই পেয়ারা গাছের তলায় রেখে প্রতিদিন দেখত আর স্বৰ্গছেঁড়ার কথা ভাবত। ভাবত এই জায়গাও স্বগছেঁড়া হয়ে গেছে কিংবা ওই মাটির দিকে তাকালেই মনে হত সে স্বৰ্গছেঁড়াতেই আছে। কিন্তু তার পর একদিনের সামান্য বৃষ্টির পর সে দৌড়ে এসে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেছিল একা এই বাগানে দাঁড়িয়ে। সেই মাটিটাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই মাটি সেই মাটিকে নিজের করে নিয়েছিল। তার পর থেকে মনে হত জলপাইগুড়িতে স্বৰ্গছেঁড়ার মাটি মিশে রয়েছে। মনে হলে সেই বালক খুশি হত। একটু একটু করে জলপাইগুড়িকেও তাই নিজের ভাবা গেল।

    আজ এতদিন পরে সেই পেয়ারা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে এই নির্জন রাত্রে অনিমেষের মনে হল সে দিনের সমস্ত ব্যাপারটাই ছেলেমানুষী কিংবা বোকামি ছিল? ওইটুকু মাটি নিয়ে একটা ছোট্ট ছেলে কি আবেগে আক্রান্ত হয়েছিল! নিজের মনেই মাথা নাড়ল সে। কলকাতায় যাওয়ার সময় সে রুমালে মাটি বেঁধে নিয়ে যায়নি। কিন্তু কলকাতা তাকে গ্রাস করে নিল। তার শরীর থেকে একটি অদৃশ্য সিরিঞ্চ মারফৎ সমস্ত আবেগ শুষে নিল। অনিমেষের বুকের খাঁচা কেঁপে উঠল। সে মুখ তুলে আকাশের দিকে তাকাল। শীতার্ত আকাশ। ঘোলাটে সাদা। শুধু চাঁদের শরীরে ঝকমকে আলো। কিছু কিছু তারাও আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। আঃ! কতদিন পরে আকাশ দেখা গেল! হঠাৎ অনিমেষের মনের অনেকগুলো স্তরের নিচ থেকে একটা স্মৃতি ভুল করে উঠে এল। সে উদগ্রীব চোখে সেই তারাকে খুঁজতে লাগল। খুব উজ্জ্বল তারা, জ্বল জ্বল করত। আজকের আকাশে তাকে দেখা যাচ্ছে না কোথাও। মায়ের মৃত্যুর পর আকাশের দিকে তাকিয়ে সে প্রায়ই যে তারাটার সঙ্গে কথা বলত। মৃত্যুর আগে মা বলেছিল তাঁকে মনে পড়লেই সে যেন ওই তারাটা দ্যাখে। আজ এত বছর পরে সেই তারাটাকে খুঁজতে গিয়ে হাসি পেল অনিমেষের। হায়, তারাদেরও বয়স বাড়ে, তারারাও মরে যায়।

    অনিমেষ মুখ নামাতেই তার বুক ছ্যাঁত কতে উঠল। ওটা কি? সাদা, লম্বা, হাওয়ায় কাঁপছে! আধো আলো আধো জ্যোৎস্নায় মূর্তিটি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বুকের ভেতরটা হিম হয়ে যাচ্ছিল। এই নির্জন বাড়িতে প্রেতাত্মারা ঘোরাফেরা করে নাকি! এই মুহূর্তে কোন ব্যাখ্যা বা প্রমাণের কথা মাথায় আসছে না! অনিমেষের দুটো হাত ক্রাচ আঁকড়ে ছিল। এবং তখনই মূর্তিটা সামান্য নড়ল। সঙ্গে সঙ্গে অনিমেষ ধাতস্থ হল। চোর নয় তো! আজকের দিনে ওদের তো খুবই সুবিধে। কিন্তু এ বাড়িতে নেওয়ার মত কিছু নেই তা নিশ্চয়ই ওরা জানে, তবে? সাহস এল, অনিমেষ ধীরে ধীরে বারান্দার দিকে এগোল। না, চোর নয়। চোর হলে তাকে দেখে নির্ঘাৎ পালাতো। অনিমেষ আরও একটু কাছাকাছি হলে স্পষ্ট দেখতে পেল। ছোটমা। সাদা কাপড় হাওয়ায় উড়ছে। আচমকা বুকের ভেতরটা স্থির হয়ে গেল। ছোটমা এখানে কেন?

    ছোটমা তার দিকে মুখ করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে। অনিমেষ বাগান পেরিয়ে সিঁড়ির কাছে উঠে এসে ইতস্তত করল। তার পক্ষে নামা যত সহজ ওঠা তত মুশকিল ওপরের ধাপে একটার পর একটা ক্রাচ রেখে দুহাতে ভর দিয়ে কোনরকমে শরীরটাকে টেনে তুলে বড় আনন্দ হল অনিমেষের। আঃ, সে পেরেছে। পরের দুটো ধাপ পার হতে একটু বেশী সময় লাগল কিন্তু এবার সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল সে। না, আর অন্যের ওপর নির্ভর করতে হবে না সব সময়। শুধু অনভ্যাসই মানুষকে পরনির্ভর করে তোলে। সে ধীরে ধীরে ছোটমার দিকে এগিয়ে গেল।

    বারান্দার এককোণে ছোটমা দাঁড়িয়েছিলেন। সম্পূর্ণ সাদা কাপড়ে তাঁকে খুব করুণ দেখাচ্ছিল। অনিমেষ মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘কি ব্যাপার?’

    ‘আমি কি করব?’ খুব নিচু গলায় যেন নিজেকেই জিজ্ঞাসা করলেন ছোটমা।

    ‘মানে?’

    ‘এবার আমি কি করব? আমার তো কোন পিছুটান রইল না। এ বাড়িতে থাকবার কোন অধিকার নেই।’ নিঃস্ব গলা, বাতাসের সঙ্গে মেশামেশি।

    ‘কে বলেছে এসব?’ অনিমেষ খুব বিস্মিত হচ্ছিল।

    ‘কেউ না। বাপের বাড়িতে কেউ নেই। দাদারা যে যার নিজের সংসারে ব্যস্ত। এখানে যিনি ছিলেন তিনিও গেলেন। সত্যি কি আমার কখনও কেউ ছিল!’

    অনিমেষ এবার একটু ধমকের গলায় বলল, ‘মাঝরাত্রে এসব কি হচ্ছে। এই বাড়ি থেকে যাওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না। মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি!’

    ছোটমা অদ্ভুত ভঙ্গীতে হাসলেন। ‘মাথা খারাপ! হায়, সেটা হলেও তো আমি বেঁচে যেতাম। কিন্তু তুমি কি করছিলে? এই মাঝ রাত্রে একা একা ওই জঙ্গলে দাঁড়িয়ে?

    অনিমেষ থতমত হয়ে গেল। তার মুখে কোন জবাব এল না। ছোটমার মুখে সেই হাসিটা আরও ধারালো হল, ‘সেটা পাগলামো নয়?’ তারপরই হাসিটা শব্দময় হল, ‘আমি না, আমি এতদিন ঝি হয়ে ছিলাম, বিনি পয়সার ঝি। আজ বাবু মারা গেল আর আমারও ঝিগিরি চলে গেল!’

    অনিমেষ চেঁচিয়ে উঠল, ‘ছোটমা!’

    ‘চুপ করো। আমাকে তুমি মা বল না। কি করেছ তুমি আমার জন্যে? আমি কি তোমাকে ভালবাসিনি? আমি কি তোমাকে আপন করে নিই নি? এই বাড়িতে আমি কি পেয়েছি? তোমার বাবা যৌবনে. আমাকে কি দিয়েছে? কখনও ভেবেছ এ সব! কলকাতায় গিয়ে কখনও আমার কথা ভেবেছ? স্বার্থপর, স্বার্থপর, স্বার্থপর।’ তিন রকম উচ্চারণ যেন অনেক ঘৃণা উজাড় করে ঢেলে দিল।

    অনিমেষ সেই উন্মাদিনীর দিকে তাকিয়ে রইল বিস্ময়ে। তার গলায় শব্দ আসছিল না। ছোটমা তখনও মাথা নাড়ছিলেন, ‘দেশ উদ্ধার করছেন তিনি। দিনের পর দিন আমি তোমার জন্যে মিথ্যে কথা বলে গেছি তোমার বাবার কাছে। পারলে দেশ উদ্ধার করতে? খোঁড়া হয়ে বউ-এর ঘাড়ে বসে খাচ্ছ আর দায়িত্ব নেবার ভয়ে লুকিয়ে রেখেছ নিজেকে। কথা বলো না, তুমি কথা বলো না। এখন দু’দিনের জন্যে বেড়াতে এসেছ, আমাদের দুর্দশা দেখে বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলে চলে যাবে। তাই না, আমি ঠিক বলছি না?’

    ছোটমার বড় বড় চোখের দিকে তাকিয়ে অনিমেষ মাথা নাড়ল। সেটা সমর্থনের কি প্রতিবাদের তা বোঝা গেল না। তার পর শান্ত গলায় বলল, ‘আমার ভুলগুলো এবার আমাকেই শুধরাতে হবে ছোটমা, তুমি এমন করে কথা বল না।’

    চমকে মুখ তুলে তাকালেন ছোটমা। তার পর নিজের মনেই বললেন, ‘আমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেল। আমি তোমাকে এ সব কি বললাম! ছি।’

    অনিমেষ বলল, ‘ঠিকই বলেছ। কিন্তু আমি জানি না আমি কি করব।’

    হঠাৎ যেন পাল্টে গেলেন মহিলা, ‘তোমাকে কিছুই করতে হবে না। তুমি যেমন আছ তেমনি থাক। স্রোতে গা ভাসিয়েছ এখন কি আর স্রোতের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটা যায়। আমি তোমাকে এ সব কথা বলতাম না। কিন্তু বারান্দায় এসে যেই দেখলাম তুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছ একমনে তখনই মাথা খারাপ হয়ে গেল। কিছু মনে করো না।’

    ‘আকাশের দিকে তাকিয়েছিলাম তো কি হল?’

    ‘তুমি ভুলে গেছ। অনেকদিন আগে আমায় বলেছিলে আকাশের দিকে তাকালে নাকি তুমি দিদিকে দেখতে পাও। এ বাড়িতে পা দেওয়ার পর তোমার মৃত মা আমার পেছন ছাড়েননি। এই আজকেও বড়দি মাধুরী মাধুরী করছিলেন। মানুষটা মরে গিয়ে সারা জীবন আমার শত্রুতা করে গেল। তাই যখন দেখলাম তুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছ তখন হিংসেয় বুক ফেটে গেল। অনিমেষ, আমি যখন এখনও হিংসে করছি তখন পাগল হইনি, না? যাই, তোমার বউ অনেকক্ষণ ওই ঘরে একা আছে। কিছু মনে করো না।’ সাদা কাপড়ে জড়ানো শরীরটা ধীরে ধীরে ভেতরে চলে গেল।

    অনিমেষের কোমর টনটন করছিল। সে সাদা জ্যোৎস্নার দিকে তাকাল। প্রথমে মনে হয়েছিল ছোটমার মাথা বোধ হয় ঠিক নেই। কিন্তু এখন ওই জ্যোৎস্নার দিকে তাকিয়ে সে ঘাড় নাড়ল। ঠিকই। ছোটমা খুব সত্যি কথা বলেছে। এই সত্যগুলো তার মুখের ওপর কেউ এতকাল সরাসরি বলেনি। মাধবীলতা মুখ বুজে থেকেছে, অর্কর বোধে আসেনি। এখন কিছু একটা করা দরকার। এইভাবে বদ্ধ জলার মত পড়ে থাকার কোন মানে হয় না। স্রোত চাই, যে কোনভাবে এগিয়ে যেতে হবেই।

    ঘুম ভাঙ্গতেই চিৎকার চেঁচামেচি কানে এল। অনিমেষ চোখ খুলতেই দেখল অর্ক উঠে বসেছে। একমাত্র খালি পা আর মাথায় তেল না দেওয়া ছাড়া অর্ককে কোন অশৌচ পালন করতে হচ্ছে না। তা দ্বিতীয়টি ইদানীং মাথায় দেয় না বলে ওর কোন অসুবিধে নেই। চেঁচামেচি শুনে অর্ক উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। বাইরের দরজা খুলে বারান্দায় আসতেই দৃশ্যটা দেখতে পেল অর্ক। এই সাতসকালে পরিতোষ হাঁকডাক করে জিনিসপত্র নামাচ্ছেন। একটা ঠেলা রয়েছে গেটের বাইরে দাঁড় করানো। তার ওপর স্তূপীকৃত মালপত্র। অর্ককে দেখতে পেয়ে একগাল হাসলেন, ‘তোমার ঠাকুমা এল বলে। রাতে ঘুম হয়েছিল? এই যে, মালগুলো নামাও না!’

    অর্ক অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি কি করছেন?’

    ‘চলে এলাম। তোমাদের কোন চিন্তা নেই। ওই পুরোনো বাড়িটায় গিয়ে উঠব। দলবদ্ধ হলে শক্তি বাড়ে। সেই গুরু শিষ্যের গল্পটা জানো তো! তা আর সবাই ঘুম থেকে উঠেছে?’ পরিতোষ এগিয়ে এলেন।

    ‘না’। অর্ক জবাব দেওয়া মাত্র অনিমেষ বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে বলল, ‘এ কি?’

    পরিতোষ বললেন, ‘চলে এলাম। তোমার জেঠিমা আসছেন। আর যখন ঝগড়াঝাঁটি নেই তখন আলাদা থেকে লাভ কি? আমি আজই মামলা তুলে নিচ্ছি।’

    অনিমেষের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল, ‘আপনি পিসীমার অনুমতি নিয়েছেন?’

    ‘অনুমতি? কার, বড়দির? বড়দির অনুমতি নিতে হবে?’

    ‘হ্যাঁ। বাবার অবর্তমানে তিনি এই বাড়ির কর্তা।’

    ‘মেয়েছেলে আবার কর্তা হয় নাকি?’

    ‘যা বলছি তাই শুনুন। ওদের মালপত্র নামাতে বারণ করুন। এ নিয়ে কোন অশান্তি করতে চাই না আমি। আপনি পিসীমার সঙ্গে দেখা করুন।’

    অনিমেষের কথাগুলো পরিতোষের পছন্দ হচ্ছে না বোঝা গেল। তিনি শেষ পর্যন্ত ঘাড় নাড়লেন, ‘ঠিক হ্যায়, চল যাচ্ছি। কোথায় বড়দি?’

    অনিমেষ অর্ককে ইশারা করতে সে পরিতোষকে নিয়ে ভেতরে ঢুকল। ততক্ষণে ভেতরের ঘরে মাধবীলতা আর ছোটমা এসে দাঁড়িয়েছেন। ছোটমার চোখে বিস্ময় এবং বিরক্তি। অর্ক পরিতোষকে নিয়ে পাশের ঘরে ঢুকলে পরিতোষ বললেন, ‘বাবার একটা মেহগিনি কাঠের আলমারি ছিল, সেটা নেই?’

    অর্ক বলল, ‘আমি এ সব জানি না।’

    পরিতোষ বললেন, ‘নির্ঘাৎ হাওয়া হয়ে গেছে।’

    ভেতরের বারান্দায় আসতেই হেমলতাকে দেখা গেল। বাগানে ঘুরে ঘুরে একটা রেকাবিতে ফুল তুলে রাখছেন। তাঁর ছোট্ট শরীরটা গাছগুলোর ফাঁকে দুলছিল। মুখে কোন অভিব্যক্তি নেই। তাঁকে দেখা মাত্র পরিতোষ ছুটে গেলেন, বড়দি, ও বড়দি, ক্ষমা কর, ক্ষমা কর এই অধমকে, আমি পাপী মহাপাপী।’

    হেমলতাঅবাক হয়ে তাকালেন পরিতোষের দিকে। পরিতোষ তাঁর সামনে আগাছার মধ্যেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছেন। বোধ হয় তিনি ব্যাপারটা বুঝতে পারছিলেন না। লোকটার ভণ্ডামি দেখে অর্কর মাথা গরম হয়ে যাচ্ছিল। সে নিজে থেকে বলল, ‘উনি মালপত্র নিয়ে এসেছেন এখানে থাকবেন বলে। বাবা আপনার অনুমতি নিতে বললেন।’

    এবার হেমলতার ঠোঁট নড়ল, ‘আমি অনুমতি দেবার কে?’

    ‘তুমিই সব। তুমি বললেই হবে। আমি মামলা তুলে নেব।’

    হেমলতা জবাব দিলেন না। যেন কিছুই হয়নি এমন ভঙ্গীতে অন্য গাছের সামনে গিয়ে ফুল তুলতে লাগলেন। পরিতোষ উঠে দাঁড়ালেন। তার পর করুণ গলায় ডাকলেন, ‘দিদি, বড়দি।’ হেমলতা সেদিকে লক্ষ্যই করছিলেন না। তাঁর ছোট্ট শরীরটা একটু একটু করে দূরে চলে যাচ্ছিল।

    এই সময় বারান্দা থেকে ছোটমার গলা নেমে এল, ‘অর্ক, এখন ওঁকে যেতে বল। তোমার দাদুর কাজ মিটে যাক তার পর তোমার বাবা ওঁর সঙ্গে কথা বলবেন। এতদিন যখন ধৈর্য ধরতে পেরেছেন আর কটা দিন নিশ্চয়ই পারবেন।’

    পরিতোষ চকিতে বারান্দার দিকে তাকালেন। মুখ অসহায় দেখাচ্ছিল তাকে। অর্ক তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়াল, ‘শুনলেন তো। এবার ঠেলা ফিরিয়ে নিয়ে যান।’

    হঠাৎ পরিতোষ চিৎকার করে উঠলেন, ‘ঠিক হ্যায়। আমি অভিশাপ দিচ্ছি এই বাড়ি ভূতের বাড়ি হবে। কেউ বাস করতে পারবে না এখানে।’ তার পর হন হন করে বেরিয়ে যেতে যেতে বারান্দার দিকে তাকিয়ে আচমকা গলা পাল্টে বললেন, ‘বেশ বউমা, তোমার কথাই থাক। আমি কাজের পরই এ বিষয়ে কথা বলব।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }