Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৮. মহীতোষের কাজ শেষ

     আটত্রিশ

    মহীতোষের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মাধবীলতা কথাটা তুলল।

    দুপুরবেলায় এখানে ঘুঘুরা বড্ড বেশী হল্লা করে। নারকেল গাছের পাতাগুলো নরম হাওয়ায় তিরতিরিয়ে কাঁপে। আর কোন শব্দ নেই, কাঁপন নেই এ বাড়িতে। মাধবীলতার দুপুর এখন বারোটাতেই শুরু হয়ে যায়। তার মধ্যে রান্নাবান্না শেষ, খাওয়া চুকে যায়। ছোটমা আর হেমলতা এখন একসঙ্গে খান। তাঁদের উনুনে কয়লা পড়ে রোদের রঙ খোলসা হলে। খেতে খেতে ছায়া ছড়িয়ে যায় বাগানে। অবেলায় ভাত তো রাত শুরু হলে মুড়ি। পেট ভরতি আছে এই বাহানায় দিব্যি উনুন না ধরালে চলে। বিধবা হবার পর ছোটমার খাওয়ার খরচ দুম করে কমে গেছে। মাধবীলতা ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছে। কিন্তু এ নিয়ে সে কোন কথা বলেনি। শোক যখন দগদগে তখন মানুষ নিজেকে যে কোন উপায়েই হোক বেশী কষ্ট দিতে ভালবাসে। সে সময় আপত্তি জানালে হিতে বিপরীত হবার আশঙ্কা বেশী সারাদিনে ছোটমা আর হেমলতার কণ্ঠস্বর শোনা যায় কিনা বলা মুশকিল। অদ্ভুত গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেদের ওঁরা। মাধবীলতা যেচে কথা বললে উত্তর দেন। মাধবীলতাকে তাই খবর রাখতে হয় ওঁদের প্রয়োজনগুলো কি এবং কখন।

    অতএব সারাটা দিন চুপচাপ শুয়ে বসে থাকা। শীতের টান এসে গেছে এর মধ্যে। বিকেল তিনটেই কেমন ছমছমে হয়ে যায় চারপাশ। অনিমেষ দুপুরে ঘুমোয় না, মুখ দেখলেই বোঝা যায় আকাশ পাতাল ভাবছে। খাওয়া দাওয়ার পর অর্কর পাত্তা পাওয়া যায় না। এতদিন ছেলেটা বেকার বসে আছে। দুপুরে ঘুমোবার কথাও বলা যায় না, পড়াশুনা করার কথা বলে কোন লাভ নেই। মাধবীলতা ওর দুটো বই সঙ্গে এনেছিল, সময় পেলেই সে-দুটো গুলে খেয়েছে অর্ক। অতএব ঘুরুক সে যেখানে ইচ্ছে। আজ দুপুরে বড় বাড়ির নির্জন ঘরে বসে মাধবীলতা কথাটা তুলল, ‘আমার ছুটি ফুরিয়ে গেল।’

    অনিমেষ মুখ ফেরাল, ‘কি বললে?’

    মাধবীলতা আবার শব্দগুলো উচ্চারণ করল। অনিমেষ এবার জবাব দিল না, নিঃশব্দে মাথা নাড়ল। তারপর স্থির দৃষ্টিতে মাধবীলতার মুখের দিকে তাকাল।

    মাধবীলতা খুব সহজ ভঙ্গীতে বলল, ‘এখানে এসেই ছুটি বাড়িয়েছিলাম। ক’দিনের জন্য এসেছিলাম আর কতদিন থেকে গেলাম। এরপর আর ছুটি দেবে না। এখন না গেলে চাকরিটাকে খোয়াতে হয়।’

    অনিমেষ মাথা নাড়ল, ‘হুঁ।’

    মাধবীলতা আবার বলল, ‘তাছাড়া ছুটি নিয়ে নিয়ে তো অনন্তকাল চলতে পারে না। আমাকে তো এক সময় যেতে হবেই।’

    অনিমেষ এবারও মাথা নাড়ল, তারপর যেন নিজেকেই জিজ্ঞাসা করল, ‘কি করা যায়!’

    মাধবীলতা এবার অন্যরকম গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি আমাকে কি করতে বল?’

    অনিমেষ যেন আরও অপ্রতিভ হল, তারপর বলল, ‘বাস্তবকে মানতেই হবে।’

    মাধবীলতা বলল, ‘আমার খুব খারাপ লাগছে এঁদের এখানে এইভাবে ফেলে যেতে। আমি বুঝতে পারি এঁদের কেউ নেই, বেঁচে থাকতে গেলে এঁদের একটা অবলম্বন দরকার। তোমার বাবা অসুস্থ ছিলেন হয়তো কিন্তু তিনি আছেন এই বোধটুকুই এদের অবলম্বন ছিল। এখন তার কেউ রইল না এখানে।’

    অনিমেয় বলল, ‘আর এখান থেকে তো ওদের সরানোও যাবে না।’

    ‘মাথা খারাপ। এই বাড়ি ছেড়ে ওঁরা কোথাও থাকতে পারবেন? কলকাতায় কোথায় নিয়ে গিয়ে তুলবে তুমি? ঈশ্বরপুকুরের বস্তিতে?’

    একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলল অনিমেষ, ‘শোভাবাজারের বাড়িটাও হাতছাড়া হয়ে গেল। কপালটা সত্যি খারাপ।’

    দিন তিনেক আগে পরমহংসের চিঠি এসেছে। সেই বাড়িঅলা নাকি বেশী টাকা পেয়ে অন্য জায়গায় ভাড়া দিয়ে দিয়েছে। পরমহংস জানিয়েছে তার অফিসে নাকি এখন খুব গোলমাল চলছে। এ সময় তার পক্ষে কলকাতা ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে সে অন্য বাড়ির সন্ধানে রয়েছে। খবরটা শোনার পর সবচেয়ে বেশী মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল অর্কর। চিঠিটা নিজে আর একবার পড়ে বলেছিল ‘তাহলে আর আমাদের ঈশ্বরপুকুর ছাড়া হল না।’ মন খারাপ হয়েছিল মাধবীলতারও, কিন্তু এখন এ নিয়ে হা-হুতাশ করে লাভ নেই। জীবনে যা ঘটবে তার মুখোমুখি হওয়াই যখন নিয়ম তখন এ নিয়ে বেশী চিন্তা করার কোন মানে হয় না।

    মাধবীলতা চুপচাপ বসেছিল। অনিমেষ খাট ছেড়ে নেমে ক্রাচ দুটো টেনে নিল, ‘ঠিক আছে, যাওয়ার ব্যবস্থা করে। এভাবে তো অনন্তকাল থাকা যায় না। আমি ভাবছিলাম তোমার জন্যে যদি এখানকার স্কুলে একটা চাকরির ব্যবস্থা করা যেত!’

    ‘এখানকার স্কুলে?’

    ‘হুঁ। তাহলে কোন সমস্যাই থাকতো না। ছোটমা, পিসীমা আমাদের সঙ্গে নিশ্চিন্তে থাকতে পারতেন আর আমরাও ওই বস্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারতাম। তাছাড়া, তুমি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছ খোকা এখানে আসার পর বেশ পাল্টে গিয়েছে। বেলগাছিয়ার ওই পরিবেশে খোকা খিস্তি আর মাস্তানি ছাড়া কিছু শিখতো না। এখানকার জীবন খুব শান্ত, ও যদি এখানে পড়াশুনা করে তাহলে অনেকটা নিশ্চিন্ত হওয়া যায়। না, তোমার জন্যে একটা চাকরির ব্যবস্থা করতেই হবে।’

    মাধবীলতা হেসে ফেলল, ‘তোমার ভাব দেখে মনে হচ্ছে যে এখনই আমার জন্যে চাকরি খুঁজতে বের হচ্ছ! আজকাল স্কুলে চাকরি পাওয়া অত সোজা নয়। এই বয়সে আর নতুন স্কুলে চাকরি হবে না।

    অনিমেষ বলল, ‘চেষ্টা করলে সব হয়। কিন্তু আমার যে তেমন কারো কথা মনে পড়ছে না। দেখা যাক, দেখা যাক।’

    ‘তাহলে অর্ককে টিকিট কাটতে দিই? তুমি ওদের বুঝিয়ে বলবে।’

    সেই বিকেলে অনিমেষ ভেতরের বারান্দায় এল। একগাদা ছাতার পাখি বুনো বাগানে হুটোপাটি করছে। কতখানি খালি জায়গা নষ্ট হচ্ছে এখানে। হঠাৎ অনিমেষের মনে হল এখানে একটা ব্যবসা করলে কেমন হয়! বিরাট খাঁচা করে যদি মুরগির চাষ করা যায়! দেড় দুই হাজার টাকা কোন রকমে ব্যবস্থা করে যদি শুরু করা যায় তাহলে লেগে যেতে পারে! জলপাইগুড়িতে তো জিনিসপত্রের চাহিদা আছে। একশটা মুরগি কিনে তিন মাস অপেক্ষা করলে রোজ যদি পঞ্চাশটা ডিম পাওয়া যায় তাহলে মাসে সাড়ে সাতশ টাকা রোজগার। খরচ বাদ দিয়ে চারশোর মত থাকবে। মন্দ কি? তাছাড়া শীতকালে লোক দিয়ে আলু কপির চাষ করে ভাল টাকা পাওয়া যেতে পারে। মাধবীলতা যদি এখানকার স্কুলে চাকরি পায় তাহলে সে স্বচ্ছন্দে এসব করতে পারে। নিজেকে আর বেকার অকর্মণ্য মনে হচ্ছিল না চিন্তাটা মাথায় আসা মাত্র। ওর মনে হল কলকাতায় গিয়ে একটা জড় পদার্থ হয়ে থাকার চেয়ে এ ঢের ভাল। অবশ্য জুলিয়েন তাকে বলছে সে ইচ্ছে করলেই সক্রিয় হতে পারে। কিন্তু জুলিয়েনের নামটা মনে পড়তেই অনিমেষ যেন ধাক্কা খেল। সে মুরগি আর সবজির চাষ করছে এটা শুনলে জুলিয়েন নিশ্চয়ই হতভম্ব হয়ে যাবে! সুবিধেবাদী বলে ভাবতে শুরু করবে তাকে? এককালে যারা বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের অনেকেই এখন আখের গুছিয়ে নিয়েছে। এই কাজটাকেও কি আখের গোছানোর মধ্যে ফেলবে জুলিয়েন? প্রশ্নটা মাথায় আসতেই অনিমেষের হাসি পেল। সে কি জুলিয়েনকে ভয় পেতে শুরু করেছে? নাকি ওর আদর্শবাদ এবং আত্মত্যাগের কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হওয়ায় এই রকম বোধ হচ্ছে!

    এই সময় ছোটমা ঠাকুরঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন। অনিমেষকে দেখে তাঁর কপালে ভাঁজ পড়ল। অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘পিসীমা কোথায়?’

    ‘ওঁর শোওয়ার ঘরে।’

    ‘তুমি একটু ওখানে চল, তোমাদের দুজনের সঙ্গে আমার কথা আছে।’ অনিমেষ সহজ গলায় বলার চেষ্টা করল।

    ছোটমার কপালের ভাঁজ মিলিয়ে গেল না, প্রশ্ন করলেন, ‘কি কথা?’

    ‘এসোই না।’ অনিমেষ সাবধানে সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে নেমে এল।

    পিসীমার ঘরের বারান্দায় আসতেই অনিমেষের কানে সুরেলা স্বর ভেসে এল, ‘গুরুদেব দয়া কর দীন জনে।’ বাল্যকালে সে যখন এই বাড়িতে একা ছিল তখন লাইনটা প্রায় প্রতিদিন শুনতে হয়েছে। হায়, এতগুলো বছর পার হয়ে গেল তবু গুরুদেব পিসীমাকে দয়া করলেন না।

    সে এক হাতে দেয়াল ধরে অন্যহাতে ক্রাচ সামলে ওপরে ওঠার চেষ্টা করতেই সিমেন্টে খটখট শব্দ হল। সঙ্গে সঙ্গে সুর গেল থেমে। হেমলতার গলা ভেসে এল, ‘হেই হেই, আ মলে যা, গরু ঢুকল নাকি এখানে!’

    অনিমেষ তখন বারান্দায় উঠে পড়েছে। কলকাতায় থাকতে এইটে তার পক্ষে অসম্ভব ব্যাপার ছিল। অভ্যেসে কি না হয়। দরজার কাছে পৌঁছে সে হাসল, ‘আমি অনি, গরু কিনা তা আপনি জানেন।’

    তক্তাপোশের ওপরে বাবু হয়ে বসেছিলেন হেমলতা। নাকের ডগায় চশমা, সামনে ছোট্ট জলচৌকির ওপর খাতা খোলা। অনিমেষকে দেখে খুব অবাক হয়ে বললেন, ‘ওমা তুই। এখানে কেন এলি, খোঁড়া মানুষ, পড়ে গেলে—।’

    অনিমেষ বলল, ‘না, এখন আর পড়ব না। অভ্যেস হয়ে যাচ্ছে। তা এই বিকেল বেলায় কি করছিলেন?’

    ‘ঠাকুর নাম করছিলাম। সন্ধ্যে হয়ে গেলে তো আর কিছু ভাল করে দেখতে পাই না। এই দ্যাখ না, এখনই সব ঝাপসা দেখছি, তোর মুখটা কেমন অচেনা অচেনা মনে হচ্ছে—’ হেমলতা নমস্কার করে খাতা বন্ধ করলেন।

    অনিমেষের মনে পড়ল, পিসীমার নিত্যকাজ ছিল রোজ রাত্রে শোওয়ার আগে এক পাতা ঠাকুরের নাম লিখে রাখা। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘তাহলে আজকাল আর রাত্রে লেখালেখির কাজ করেন না?’

    ‘লেখালেখি? ও মা। কি হবে লিখে? এত বছর যা লিখেছি তাই এখন এক এক করে পড়ি। যা লিখেছি তা বোধহয় সব পড়ে যেতে পারব না।’

    হেমলতা হেসে ফেললেন, ‘সেই বড় বন্যায় সব তো জলের তলায় গিয়েছিল। তবু যা রয়েছে তাতেই—।’ ঘরের কোণটা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন তিনি।

    অনিমেষ এতক্ষণ লক্ষ্য করেনি। এবার চোখে পড়ল স্তূপ হয়ে থাকা খাতা। প্রতিটি পাতায় প্রত্যেকদিনের আন্তরিক ঈশ্বর-নাম লেখা হয়েছিল। আজ আর নতুন পাতা নয়, লিখে যাওয়া নামই ফিরে ফিরে দেখা।

    এই সময় ছোটমা বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন, ‘কি বলবে বলে ডেকে আনলে?’

    অনিমেষের খেয়াল হল। তারপর ঘরের মধ্যে এক পা এগিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘পিসীমা, এখানে বসব?’

    তক্তাপোশের সেই ধারের জিনিসপত্র সরিয়ে হেমলতা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হেগো কাপড় না তো? না? তাহলে বস। কি ব্যাপার ছোট?’

    ‘সেটা আপনার ভাইপোকে জিজ্ঞাসা করুন।’ ছোটমা দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়ালেন। হেমলতার নজরে পড়তে তিনি আপত্তি করলেন, মেয়েদের ওরকম ভাবে দাঁড়াতে নেই, অকল্যাণ হয়, ঠিক হয়ে দাঁড়াও।’

    ছোটমা চট করে সোজা হয়ে জবাব দিলেন, ‘আর কি কল্যাণ হবে?’

    অনিমেষ এতক্ষণ নিজেকে তৈরি করছিল। এবার কোন রকমে বলে ফেলল, ‘পিসীমা অনেকদিন তো হয়ে গেল, ওর ছুটি শেষ হয়ে গিয়েছিল তাও বাড়িয়েছে কিন্তু এবার না গেলে আর চাকরি থাকবে না যে!’

    হেমলতা অনিমেষের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকলেন। ছোটমা কোন কথা বলছেন না। হঠাৎ যেন সব শব্দ আচমকা মরে গেল। অনিমেষের খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। সে যেন খানিকটা জবাব দেওয়ার ভঙ্গীতেই বলল, ‘ওকে তো চাকরি করতেই হবে। তাছাড়া অর্কর পড়াশুনা রয়েছে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।’

    এবার হেমলতার ঠোঁট নড়ল, ‘আমরা কার কাছে থাকব?’

    খুব ধীরে ধীরে শব্দ চারটে উচ্চারিত হল কিন্তু অনিমেষ বুঝল সে ঝাঁঝরা হয়ে গেল। এই প্রশ্নের জবাব সে কি দেবে! হেমলতা এখন এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে, সে মাথা নাড়ল, ‘আমি বুঝতে পারছি না।’

    কিছুক্ষণ স্তব্ধতার পর হেমলতা ছোটমাকে বললেন, ‘তুমি কি বল?’

    এবার ছোটমা কথা বললেন, ‘যেতে হবে যখন তখন যাবে। ওরা যদি না আসতো, না ধরা দিত তাহলে আপনার ভাই চলে যাওয়ার পর কার কাছে আমরা থাকতাম? আপনি ভেবে নিন ওদের সঙ্গে আমাদের দেখাই হয়নি।’

    ‘ভেবে নেব?’ হেমলতাকে খুব জবুথবু দেখাচ্ছিল।

    অনিমেষ মাথা নাড়ল, ‘এভাবে বলবেন না। আমি চেষ্টা করছি যাতে এখানে মাধবীলতার একটা চাকরি হয়, তাহলে আর সমস্যা থাকবে না।’

    ছোটমা বললেন, ‘তুমি কি শুধু ওর চাকরির জন্যেই ফিরে যাচ্ছ?’

    অনিমেষ কোন উত্তর দেবার আগেই হেমলতা চিৎকার করে উঠলেন, ‘তুই চলে গেলেই পরি এসে আমাকে জ্বালাবে, এ বাড়ি লিখে দাও এ বাড়ি লিখে দাও। সব যাবে, উচ্ছন্নে যাবে। তুই কেন এলি, কি দরকার ছিল তোর আসার? বেশ তো মেরে ফেলেছিলি আমাদের, নতুন করে নুনের ছিটে কেন দিতে এলি?’

    ওই ছোট্ট শরীর থেকে যে এমন তীক্ষ্ণ চিৎকার বেরিয়ে আসতে পারে তা অনুমান করা অসম্ভব। অনিমেষ হতভম্বের মত তাকাল। হেমলতা চিৎকার শুরু করা মাত্রই ছোটমা দরজা থেকে দৌড়ে ভেতরে ঢুকে তাঁকে জড়িয়ে ধরেছিলেন, ‘একি করছেন, চুপ করুন, চুপ করুন। এভাবে বলতে আছে?’

    ‘কত চুপ করব? কতদিন চুপ করে থাকব? সেই শৈশবে বিধবা হয়ে অবধি চুপ করে আছি। সারা জীবন বাপের সেবা করেছি চুপ করে। আর এই ছেলে, একে আমি—উঃ ভগবান, আর কত চুপ করতে হবে আমাকে!’ হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলেন হেমলতা।

    অনিমেষের সমস্ত শরীর কেঁপে উঠল। নিজেকে তার খুব ছিবড়ে, অসহায় মনে হচ্ছিল। পৃথিবীর অনেক কষ্ট পাওয়া মানুষের জন্যে সে কিছু করতে গিয়েছিল, পারেনি। নিজের খুব কাছাকাছি দু’তিনজন মানুষের জন্যেও সে কিছু করতে পারছে না। এবং হঠাৎই তার মুখ থেকে শব্দগুলো বেরিয়ে এল। সে একটুও এর জন্যে তৈরি ছিল না। কোনরকম ভাবনা চিন্তা ছাড়াই অনিমেষ বলল, ‘আমার কথাগুলো কিন্তু আপনারা শুনলেন না।’

    হেমলতা ফুঁপিয়ে যাচ্ছেন সমানে, ছোটমা বললেন, ‘তুমি কিছু মনে করো না, আসলে খুব অসহায় হলে মানুষ—। তোমাদের তো যেতেই হবে, যাও।’

    অনিমেষ মাথা নাড়ল, ‘ঠিক এই কথা আমি বলতে চাইনি। মাধবীলতার স্কুলে আর ছুটি নেই। বেঁচে থাকার জন্যে অর্থ দরকার। আমি কোন কাজ এতদিন করতে পারিনি বলে ওর ওপর চাপ পড়েছে। তাছাড়া অর্ককে মানুষ করতে হবে। এইজন্যেই ওরা যাবে।’

    ‘ওরা যাবে মানে?’ ছোটমার ভুরু কোঁচকালো।

    ‘মাধবীলতা আর অর্ক যাবে। আমার এখানে থাকা যা ওখানে থাকাও তা। কারো কোন উপকারে লাগতে পারছি না যখন তখন এখানে থাকাই ভাল। বাবার অসাড় শরীরের চেয়ে আমি অনেক বেশী জীবন্ত।’ অনিমেষ উঠে দাঁড়াল, ‘এই হল কথা। আপনারা চিন্তা করবেন না, আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি।’ অনিমেষের খুব হালকা মনে হচ্ছিল নিজেকে।

    ছোটমা উঠে এলেন হেমলতাকে ছেড়ে, ‘কি পাগলের মত কথা বলছ? ওরা কলকাতায় কার কাছে থাকবে? তুমি এখানে পড়ে রইলে আর মেয়েটা ওখানে রইল তা কি ভাল দেখাবে?’

    ‘কি আশ্চর্য কথা।’ অনিমেষ হাসবার চেষ্টা করল, ‘মাধবীলতা এত বছর ওখানে আছে, ওর অসুবিধে হবে না। তাছাড়া অর্ক বড় হয়ে গেছে এখন, এই নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।’

    হঠাৎ হেমলতা অনিমেষকে পিছু-ডাকলেন, ‘অনি।’

    এ কণ্ঠস্বর একদম অন্যরকম। একটু আগে যে বৃদ্ধ উন্মাদিনীর মত চিৎকার করছিলেন তিনি এখন হেমলতার শরীরে নেই। অত্যন্ত শান্ত, পাথরের মূর্তির মত বসে আছেন হেমলতা। অনিমেষ ফিরে তাকাতে বললেন, ‘তুই আর কবে বড় হবি!’

    ‘মানে?’ অনিমেষ কথাটা বুঝতে পারল না।

    ‘মেয়েটা তোকে পাগলের মত ভালবাসে। আমি ওর সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি এই পৃথিবীতে তুই হলি ওর সব। সেই মেয়েটাকে আবার কষ্ট দিবি?’

    ‘কষ্ট দিচ্ছি?’

    ‘দিচ্ছিস না? তোকে ছেড়ে থাকা, মানে ওর কি কষ্ট।’

    অনিমেষ কথাটা শেষ করতে দিল না, ‘পিসীমা, অনেক বছর তো একসঙ্গে থাকলাম, এখন একটু আধটু ছেড়ে থাকলে খারাপ লাগবে না। তাছাড়া গরমের ছুটি পুজোর ছুটি তো রয়েছেই। আর এখানে যদি একটা চাকরি হয়ে যায় তো কথাই নেই।’

    অনিমেষ বারান্দা থেকে নেমে ধীরে ধীরে বাগানের মধ্যে গিয়ে দাঁড়াল। পাখিরা এখন গাছের মাথায়, রোদের চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে ছিল এতক্ষণ এখন টুক করে তাতে ছায়া মিশল। হেমলতা এই বাগানের যে যে অংশে ফুল তুলতে যান সেটুকই পা ফেলার অবস্থায় রয়েছে। অনিমেষের খেয়ালে ছিল না সে পেয়ারা গাছের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সময় তার নজর গেল সাপটার দিকে। সরু একটা হেলের বাচ্চা ভীরু ভঙ্গীতে এগোচ্ছে। প্রথমে একটু সচেতন হয়েছিল অনিমেষ, তারপর নির্লিপ্ত হয়ে সাপটাকে দেখতে লাগল। ঘাসের ফাঁক দিয়ে একটু এগোয় আর মুখ তুলে দ্যাখে। একসময় অনিমেষের কাছাকাছি চলে এল সাপটা। তারপর সন্দেহের চোখে অনিমেষকে দেখে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিল। অনিমেষ একটুও নড়ছিল না। এই সাপ কামড়ালে মানুষ মরে না, বড় জোর সামান্য ঘা হতে পারে। সাপটা যেন নিশ্চিন্ত হল। তারপর খানিকটা এগিয়ে ক্রাচের কাছে চলে এসে ওটাকে জড়িয়ে ধরল। সঙ্গে সঙ্গে অনিমেষের শরীরে একটা ঘিনঘিনে ঘেন্না পাক দিয়ে উঠতেই সে ক্রাচটাকে ওপরে তুলে ঝাঁকুনি দিতেই সাপটা ছিটকে শূন্যে উঠে গেল। আর তখনি অনিমেষ চমকে উঠল। নারকোল গাছের মাথায় ওপর থেকে সাঁ করে একটা কালো বড় ছায়া নেমে এল নিচে, সাপটা মাটিতে পড়ার আগেই সেটাকে ধরে ফেলে ছায়াটা উঠে গেল কাঁঠাল গাছের মাথায়। ওটা বাজ না ঈগল? কিন্তু সাপটাকে ঠোঁটে ধরে সে অনিমেষের দিকে একবার কৃতজ্ঞ চোখে তাকাল।

    এই সময় অর্কর গলা শুনতে পেল অনিমেষ। তাকে ডাকছে। ভেতরের বারান্দায় এসে অর্ক তাকে দেখতে পেল, ‘বাবা, জুলিয়েনবাবু এসেছেন।’

    অনিমেষ মাথা নাড়তেই অর্ক ফিরে গেল। আজ সারাদিন তিস্তার চরে ঘুরেছে অর্ক। অদ্ভুত জায়গা। জল সেই ওপার ঘেঁষে। এদিকটা পুরো চর বটে কিন্তু সবটাই খটখটে নয়। মাঝখানে ভেজা ভেজা বালি আছে। তার একটায় পা দিতে দোলনার মত দুলে উঠেছিল। অনেকটা ভেজা কাদা কাদা বালি একসঙ্গে গোল হয়ে দুলছে পা ফেললেই। বেশ মজা লাগছিল। একটু একটু করে জল উঠছিল বালি চুঁইয়ে। অথচ চারধার শুকনো খটখটে। কিন্তু একবার পা ফেলতেই ওপরের বালির আস্তরণ কেটে গিয়ে পা বসে গেল ভেতরে। অর্কর আর একটা পা তখনও ভেজা বালির বাইরে কিন্তু ডুবে যাওয়া পা থেকে মুহূর্তেই যেন সব শক্তি উধাও হয়ে গেল। কিছুতেই সেটাকে টেনে তুলতে পারছে না। তার গোটানো প্যান্টের কাপড় ভিজে গেল শেষ পর্যন্ত। অর্কর মনে হচ্ছিল কেউ তাকে নিচ থেকে টানছে। আর সেটা মনে হতেই সে চিৎকার করে উঠেছিল।

    ওই নির্জন বালির চরে কাশবন আর শুকনো বালি ছাড়া সেই চিৎকার শোনার জন্যে কারো থাকার কথা নয়। কিন্তু কাঠকুড়ানি এক মেয়ের দল সেটা আচমকাই শুনতে পেয়েছিল। আজকাল তিস্তার বুকে খুব অল্প স্বল্প কাঠ ভেসে আসে পাহাড় থেকে। তবু যদি আসে সেই আশায় এই মেয়ের দলগুলো ওত পেতে বসে থাকে। তাদের একদল ছুটে এল অর্কর কাছে। অর্ক তখনও চিৎকার করছে আর প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছে ডুবে থাকা পা-কে টেনে তুলতে। মেয়েগুলো সেখানে পৌঁছেই হাসিতে ফেটে পড়ল। কিন্তু কেউ এগিয়ে এল না অর্ককে সাহায্য করতে। একজন তো মুখ ভেংচে বলে বসল, ‘ঠিক আছে, মরু, মরু।‘ তারপর দলটা চলে গেল। অর্ক হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। তাকে সাহায্য করার বদলে ওরা মরতে বলে গেল কেন? কিন্তু এ ব্যাপারে বেশীক্ষণ চিন্তা করার সময় তার ছিল না। এর মধ্যে হাঁটুর অনেকখানি ওপরে বালিজল চলে এসেছে। বেশী টানাটানি করলে পা আরো নিচে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরে সে শরীরটাকে কোনরকমে শুকনো বালির ওপর ছড়িয়ে দিয়ে চিৎকার করতে লাগল সাহায্যের আশায়।

    মিনিট কয়েক বাদে দুজন লোক কাশবন সরিয়ে চলে এল কাছে। বোঝা যায় বেশ হাঁপাচ্ছে দুজনেই। এসেই একজন বলল, ‘ওঃ, ভেতরে ডোবেনি, আমি তো ভেবেছিলাম—, ধরো হাত দুটো।’

    সঙ্গীটি বলল, ‘দাঁড়ান, আগে জিজ্ঞাসা করে দেখি।’ তারপর অর্কর কাছে এগিয়ে এসে প্রশ্ন করল, ‘কোথায় বাড়ি?’

    অর্ক দেখল লোকটা মাঝবয়সী বাঙালি, কিন্তু ওর সঙ্গী যে তাকে তুলতে চেয়েছিল সে প্রৌঢ় এবং চেহারা দেখে মনে হয় অবাঙালি। অর্ক বাধ্য ছেলের মত জবাব দিল, ‘হাকিমপাড়ায়।’

    ‘এখানে রোজ আসো?’

    ‘না, আজ প্রথম এসেছিলাম।’

    ‘কেন এসেছিলে? মেয়েছেলে দেখতে?’

    ‘কি যা তা বলছেন?’ অর্ক রেগে গেল।

    লোকটা বলল, ‘আবার মেজাজ দেখাচ্ছে দেখুন। তোমার মত ছেলেরা এখানে এসে ওই মেয়েদের বিরক্ত করে। বাবার নাম কি?’

    অর্ক একবার ভাবলে জবাব দেবে কি না। কিন্তু সে এখন অসহায়। এরা যদি তাকে না তোলে তাহলে। সে শান্ত গলায় বলল, ‘অনিমেষ মিত্র।’ সঙ্গে সঙ্গে প্রৌঢ় লোকটি দ্রুত তার দিকে এগিয়ে এল, ‘কি বললে? তুমি অনিমেষের ছেলে?’

    ‘হ্যাঁ। আপনারা আমার সম্পর্কে মিছিমিছি বাজে কথা বলেছেন।’

    অর্কর গলা এবার আর শান্ত ছিল না।

    প্রৌঢ় লোকটি এবার নিজেই অর্কর দুই বগলের নিচে হাত দিয়ে টানতে শুরু করতে তার সঙ্গীও যোগ দিল। অর্ককে বালির ভেতর থেকে টেনে তুলতে ওদের বেশী কসরৎ করতে হল না। নিজের পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে গিয়ে প্রথমে মনে হয়েছিল পায়ে কোন সাড়া নেই। প্রৌঢ় মানুষটি তার কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞাসা করল, ‘এখন কেমন লাগছে?’

    ‘ঠিক আছে।’ অর্ক পা থেকে ভিজে বালি সরাচ্ছিল।

    ‘ওভাবে ওগুলো যাবে না, ধুয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু তুমি এখানে কি করতে এসেছিলে? এসব জায়গায় বেড়াতে আসে না কেউ। মাঝে মাঝেই এ ধরনের চোরাবালি ছড়িয়ে আছে। তাছাড়া কিছু বাজে ছেলে এখানে ঘোরা ফেরা করে। ওই মেয়েগুলো যদি যাওয়ার পথে আমাদের না বলতো তাহলে সত্যি বিপদে পড়তে। রাত্রে এখানে নেকড়ে শেয়াল এখনও বের হয়। চল, পা ধুয়ে নেবে।’

    সঙ্গীটি একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘একে আপনি চেনেন?’

    ‘এখন চিনছি। এর বাবাকে আমি, হ্যাঁ, ঠিক এই বয়সেই প্রথম দেখেছিলাম। সেই চেহারার সঙ্গে খুব মিল আছে। তুমি অনিমেষের নাম অনেকবার শুনেছ।’

    অর্ককে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রৌঢ় বলল।

    ‘অনিমেষ, মানে—কলকাতা থেকে—।’ সঙ্গীটি খোলসা করে বলতে চাইল না।

    ‘হ্যাঁ, ঠিকই।’ প্রৌঢ় লোকটি এবার অর্ককে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার নাম কি ভাই? তোমার বাবা আর আমি খুব ঘনিষ্ঠ।’

    ‘অর্ক।’

    ‘অর্ক। শব্দটার মানে কি?’

    ‘সূর্য।’

    ‘বাঃ, চমৎকার। খুব সুন্দর নাম। আমার নাম জুলিয়েন। আমি এখন কদিন ওই কাঠের বাড়িটায় আছি। ওখানে চল পা ধুয়ে নেবে। আমি এর মধ্যে একদিন তোমাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন কি তোমাকে দেখেছিলাম? মনে করতে পারছি না। আজকাল সব যেন ভুল হয়ে যায়।’

    ‘আমি আপনার নাম শুনেছি বাবার কাছে।’

    ‘শুনেছ?’ জুলিয়েন হেসে ফেলল, ‘চল, আজ তোমাদের বাড়িতে যাব। ভয় নেই, তোমার এই ডুবে যাওয়ার কথা অনিমেষকে বলব না। তবে তুমি এই চরে কখনও একা ঘুরবে না।’

    হঠাৎ অর্ক প্রশ্ন করল, ‘আপনি এখন কি করেন?’

    ‘আমি? কিছু না, কিছুই না।’ তারপর কি ভেবে বলল, ‘একটা দেশ ওইরকম চোরাবালিতে আটকে পড়েছে, ডুবে যাচ্ছে একটু একটু করে। তুমি চেঁচাচ্ছিলে সাহায্যের আশায় কিন্তু এই দেশের মানুষগুলোর সেই শক্তিও নেই। যদি এই দেশটাকে টেনে তোলা যায় সেই পথটাই খুঁজছি ভাই।’

    অর্ক বেশ অবাক হয়ে জুলিয়েনের দিকে তাকাল। এই মানুষটিকে তার হঠাৎ খুব ভাল লেগে গেল।

    পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে জুলিয়েনের সঙ্গে আসতে আসতে অর্কর অনেক গল্প হল। জুলিয়েন কলকাতার খবর নিচ্ছিলেন। অর্ক তার পাড়ার বাইরে কোন খবর দিতে পারছিল না। কিন্তু জুলিয়েনের কথা শুনতে শুনতে সে উত্তেজিত হয়ে পড়ছিল। বাড়িতে ঢুকে জুলিয়েনকে চেয়ার এগিয়ে দিয়ে সে ভেতরের বারান্দায় এসে অনিমেষকে ডাকল।

    জুলিয়েনকে দেখে অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘কি খবর? হঠাৎ ডুব দিয়েছেন, ভেবেছিলাম এর মধ্যে আসবেন।’

    জুলিয়েন বলল, ‘আপনার অনেক ঝামেলা গেল তাই বিরক্ত করতে চাইনি। আপনার ছেলের সঙ্গে হঠাৎ আলাপ হয়ে গেল আজ। তা এবার তো ফিরে যাওয়ার সময় হল। একদিন একটু বসা যাক।’

    অনিমেষ হাসল, ‘ব্যস্ত হচ্ছেন কেন? ওরা যাচ্ছে, আমি এখানেই থেকে যাচ্ছি।’

    জুলিয়েন বিস্মিত গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘তাই?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }