Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৮. বেলগাছিয়ার ট্রাম ডিপোর কাছে

     আটচল্লিশ

    বেলগাছিয়ার ট্রাম ডিপোর কাছে পৌঁছেই অর্ক বুঝতে পারল হাওয়া খারাপ। মোড়ের দোকানপাট বন্ধ। ঈশ্বরপুকুর লেন অন্ধকারে ঢাকা। চারপাশে একটা থমথমে ভাব। শুধু জনা পাঁচেক মানুষ ফুটপাথের একপাশে জড় হয়ে মৃদু গলায় কথা বলছে। লোকগুলোর চেহারা দেখেই বোঝা যায় সারাদিন খেটেখুটে বাড়ি ফিরছে। ঝামেলার মুখোমুখি হয়ে বিপর্যস্ত। এরা এখন ঘরে ঢুকে পেটে কিছু দিয়ে শুয়ে পড়তে পারলে বেঁচে যায়। কিন্তু গলিতে পা দেওয়ার সামর্থ্য কারো নেই। খাঁচায় পোরা জন্তুর মত শুধু পিটপিটিয়ে তাকাচ্ছে।

    ঠিক সেইসময় যেন দেওয়ালি শুরু হয়ে গেল, ঈশ্বরপুকুর লেনে বোম পড়ছে। একটার শব্দ না মেলাতেই আর একটা। সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাথের লোকগুলো সরে গেল খানিকটা তফাতে। অর্ক ভেবে পাচ্ছিল না আজকের গোলমালটা কি নিয়ে। খুরকি কিলা চলে যাওয়ার পর ঈশ্বরপুকুরে মাস্তান বলতে একমাত্র কোয়া। তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কথা সেদিন কোয়া বলছিল বটে কিন্তু তারা তো ঠিক মাস্তান নয়। অর্ক অন্ধকার গলিটার দিকে তাকাল। ওখানে ঢুকলে অজান্তেই আক্রান্ত হতে হবে। যারা ছুঁড়ছে তারাও জানবে না কাকে ছুঁড়ল। খোঁজ নেওয়া দরকার। এইসময় অর্ক রিকশাঅলাটাকে দেখতে পেল। জ্ঞান হওয়া ইস্তক একে ঈশ্বরপুকুরে রিকশা চালাতে দেখেছে। বুড়ো লোকটা রিকশা তুলে দিয়ে একটা বন্ধ দোকানের খাঁজে উবু হয়ে বসেছিল। দ্রুত পা চালিয়ে তার কাছে পৌঁছতেই লোকটা ভীতুচোখে তাকাল। অর্ক জিজ্ঞাসা করল, ‘কি হয়েছে ভেতরে?’

    ‘ঈশ্বরপুকুরকে শ্মশান করে দেবে বলেছে ওরা।’

    ‘কারা?’

    লোকটা অর্কর মুখের দিকে তাকিয়ে নীরব হল। অর্ক আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘কারা?’

    ‘কয়লা।’

    চমকে উঠল অর্ক। কয়লা নিজেকে বলে শেরকে শো। তার আধিপত্য রেললাইন এলাকায়। সমস্ত ওয়াগন ব্রেকার ওর চামচে। সাধারণত কোন পাড়ার দখল নেবার চেষ্টা করেনি কয়লা। দুটো রিভলভার কোমরে গুঁজে হাঁটে কয়লা। সঙ্গে বডি গার্ডও থাকে। প্রচণ্ড ক্ষমতাবান মাস্তান কয়লা। ওপর মহলেও খুব খাতির আছে। কিন্তু এই লোকটিকে কখনও চোখে দ্যাখেনি অর্ক। নানারকম গল্প শুনেছে। ঈশ্বরপুকুর লেন কয়লার আওতায় নয় যদিও রেললাইন খুব কাছে। তবে এটুকু জানে খুরকির সঙ্গে ওয়াগনের ব্যাপারে কয়লার যোগাযোগ ছিল। সেই সুবাদেই খুরকির রোয়াবি বেড়ে গিয়েছিল অত। সেই কয়লা ঈশ্বরপুকুরে এসেছে শ্মশান করতে। কেন? অর্ক রিকশাঅলাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কতজন আছে ওরা।’

    ‘অনেক। একটা গাড়িও আছে।’

    এইসময় গলির মধ্যে হৈ হৈ উঠল। রিকশাঅলাটা দোকানের খাঁজে যেন আরো সেঁধিয়ে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল, ‘বসে পড়ো।’ অর্ক দেখল যে লোকগুলো গলিতে ঢুকবে বলে দাঁড়িয়েছিল তারা দৌড়ে যাচ্ছে পাকপাড়ার দিকে। নিশ্চয়ই কয়লারা ফিরে আসছে এবং এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক কাজ হবে না। অর্ক চট করে দোকানের পেছনে চলে এল। এবং তখনই ঈশ্বরপুকুর থেকে বেরিয়ে এল জনা বারো ছেলে। দু’তিনজনের হাতে খোলা সোর্ড, পেটোর ঝোলা, দুটো রিভলভারও চোখে পড়ল। উত্তেজিত ছেলেগুলো মুখে বিকট শব্দ করতে করতে রেললাইনের দিকে চলে যাওয়ার পর অর্ক আবার সামনে ফিরে এল। চিৎকার মিলিয়ে যাওয়ার পর নিস্তব্ধ হয়ে গেছে চারধার। যে ঈশ্বর পুকুর রাত দুটোর আগে ঘুমোয় না দশটায় তার অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু ছুটে যাওয়া দলটার মধ্যে কয়লাকে আলাদা করতে পারেনি অর্ক। সে রিকশাঅলাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘কয়লা কোনটা?’

    রিকশাঅলা দমবন্ধ করে পড়ে ছিল। এবার যেন খানিকটা সাহস পেল, ‘কেউ না।’

    ‘কেউ না মানে?’ অর্ক অবাক হল, ‘এই তো বললে কয়লা এসেছে।’

    ‘এসেছে কিন্তু যায়নি। কয়লা খোলা গাড়িতে করে গিয়েছিল। গাড়িটা তো আসেনি।’

    অর্ক মাথা নাড়ল। সত্যি তো, কোন গাড়ি তো দলটার সঙ্গে বেরিয়ে আসেনি। কিন্তু দল চলে গেলে কয়লা একা থাকবে ঈশ্বরপুকুরে? এত সাহস? অর্ক দেখল বেশ দূরে সেই লোকগুলো আবার ফিরে এসে উঁকি দিচ্ছে এদিকে। সে হাত উঁচু করে তাদের ডাকলো। লোকগুলো যেন তাকেই সন্দেহের চোখে দেখছে। সে এবার গলা তুলে চেঁচাল, ‘কতক্ষণ আর দাঁড়িয়ে থাকবেন? চলে আসুন, একসঙ্গে পাড়ায় ঢোকা যাক।’

    এ সত্ত্বেও কোন প্রতিক্রিয়া হল বলে অর্কর মনে হল না। এক পা এগোনো দূরের কথা কেউ কোন শব্দ পর্যন্ত করছে না। অর্ক বুঝতে পারছিল বেশ কিছু মানুষ একসঙ্গে গেলে খানিকটা সুবিধে হবে। সে নির্জন রাস্তায় এগিয়ে গেল। লোকগুলো ওকে পুরোপুরি সন্দেহ করছে না কারণ সে যখন প্রথম এল কেউ কেউ তাকে দেখেছে। কাছাকাছি হয়ে অর্ক বলল, ‘চলুন, আমরা একসঙ্গে যাই।’

    ইতস্তত করে একজন বলল, ‘না ভাই, আমরা পাবলিক। ঝামেলার মধ্যে আমরা নেই।’

    ‘ওরা সবাই চলে গেছে। এখন আর ঝামেলা নেই। আমি তিন নম্বরে থাকি। আমাকে আপনাদের কেউ চেনেন?’ অর্কর প্রশ্নের উত্তরে দুজন মাথা নাড়ল। একজন আর একজনকে জিজ্ঞাসা করল, ‘যাবেন?’ দ্বিতীয়জন উত্তর দিল, ‘ছেলেপুলে নিয়ে ঘর করি ভাই, মরে গেলে ওরা সবাই পথে বসবে। তার চেয়ে গলিটা স্বাভাবিক হোক তখন না হয় ধীরেসুস্থে যাওয়া যাবে, কি বলেন?’

    কথাটা প্রত্যেকের বেশ মনের মত বুঝতে পেরে অর্ক বলল, ‘কিন্তু ওরা পাড়ায় হামলা করেছে। সেটা তো আপনার বাড়িতেও হতে পারে। তাছাড়া যে কোন মুহূর্তে ওরা ফিরে আসতে পারে। তখন বাঁচতে পারবেন? তার চেয়ে নিজের পাড়ায় যাওয়াটা তো নিরাপদ। আমরা অনেকে একসঙ্গে গেলে কেউ ঝামেলা করতে সাহস পাবে না।’ অর্ক কথাগুলো বলে বুঝল এটা খুব কাজের হল না। এইসময় একটা গাড়ির আওয়াজ হতেই লোকগুলো দৌড় শুরু করল। অর্ক লক্ষ্য করল, গাড়িটা গলি থেকে নয় উল্টোদিক থেকে আসছে। ওটা যে পুলিসের ভ্যান সেটা বুঝে অর্ক রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াল। ছুটন্ত লোকগুলো দেখে ভ্যানটা মুখ ঘুরিয়ে তাদের দিকে ধাওয়া করল। লোকগুলো প্রাণভয়ে ছুটছে। ফাঁকা রাস্তায় দৃশ্যটা সিনেমার মত দেখতে পাচ্ছিল অর্ক। ভ্যান থেকে লাফিয়ে নামল জনা আটেক পুলিস। লাঠি হাতে তারা ছুটে গেল লোকগুলোর দিকে। ওই দুর্বল নিরক্ত মানুষগুলোকে ধরতে সামান্য সময় লাগল না। একই সঙ্গে হাঁউমাউ শব্দ আর চিৎকার শুনল অর্ক। ‘আমাদের ধরছেন কেন? আমরা কিছু করিনি। আমরা পাবলিক।’

    একটা পুলিস বাজখাঁই গলায় চেঁচালো, ‘শালা পাবলিকের—করি।’ অশ্লীল শব্দটা রাত্রের নিস্তব্ধতা ভেঙে থিকথিক করতে লাগল। লোকগুলোকে টেনে হিঁচড়ে ভ্যানে তোলা হয়ে যাওয়ার পর সেটা আবার ফিরে গেল। অর্ক অবাক হতে গিয়ে হেসে ফেলল। যাচ্চলে! ওরা কাদের ধরে নিয়ে গেল? লোকগুলোর অবস্থা দেখে হাসি পাচ্ছিল তার। পাবলিক কেন ঝামেলায় থাকবে? ভালই হল, রাতটায় ওদের কোন ঝুঁকির মধ্যে যেতে হচ্ছে না। অবশ্য পুলিসরা যদি না প্যাঁদায়।

    আবার চারধার চুপচাপ। হঠাৎ অর্কর মনে হল সে নিজে কি করছে? গলিতে ঢোকার সাহস না থাকায় সে কতগুলো ভীতু মানুষকে নিয়ে দল গড়তে চেয়েছিল। বিপদ এলে সেটা অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দেবার কৌশল করেছিল। তার মানে, নিজের পাড়ার চেনা চৌহদ্দির মধ্যে পা বাড়ানোর ক্ষমতা তার লোপ পেয়েছে। অর্ক মাথা নাড়ল। তারপর একরোখা ভঙ্গীতে হাঁটতে লাগল ঈশ্বর পুকুরের দিকে। গলির মুখে দাঁড়িয়ে সে অন্ধকারে সামান্য আলো দেখতে পেল না। গলিতে ঢুকে সে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল। এবং তাতেই অন্ধকার ক্রমশ হালকা হয়ে গেল চোখের সামনে। গলিতে এখনও বারুদের গন্ধ আছে। অর্ক সতর্ক হয়ে হাঁটছিল রাস্তার ধার ঘেঁষে। অন্যদিন এইসময় ধার ঘেঁষে প্রচুর লোক পড়ে থাকে, আজ কেউ নেই। নিঃশব্দে সে হেঁটে এল তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুরের সামনে। এবং তখনই সে মানুষের অস্তিত্ব টের পেল। তিন নম্বরের সবক’টা দোকানপাট বন্ধ। নিমুর চায়ের দোকানের সামনে ছোটখাটো ভিড়। কিন্তু কেউ কোন কথা বলছে না। এবং এখানেই বারুদের গন্ধ বেশি।

    অর্ককে আসতে দেখে ভিড়টা পাতলা হতে হতে আবার রয়ে গেল। ভিড়টার দিকে এগিয়ে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেল অর্ক। গলির মুখে চিৎ হয়ে পড়ে আছে মোক্ষবুড়ি। দুটো হাত মুঠো করে দুপাশে লোটানো! ময়লা কাপড়ের স্তূপ রক্তাক্ত। আধো অন্ধকারে বোঝা যাচ্ছে ওর মুখের কিছুটা অংশ উড়ে গেছে। কঙ্কালের মত শরীরটা এলিয়ে আছে মাটিতে। ভিড়টা ওকে ঘিরেই।

    কোন প্রশ্ন করার দরকার হল না। মোক্ষবুড়ির প্রাণহীন শরীরটার দিকে তাকিয়ে শিউরে উঠল অর্ক। কিন্তু ভিড়টা বাড়ছে অথচ কোন কান্নার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। মোক্ষবুড়ির জন্যে কেউ কাঁদবার নেই। অর্ককে দেখে ন্যাড়া কাছে এল, ‘মোক্ষবুড়ি ভোগে চলে গেল।’ হাসল ন্যাড়া, ‘কোয়াদা খুব জোর বেঁচে গিয়েছে।’

    ‘কি হয়েছিল?’ অর্ক শীতল গলায় জিজ্ঞাসা করল।

    ‘তুমি জানো না?’

    ‘না। আমি এইমাত্র এসেছি।’

    ‘বিলুদাকে খুঁজতে এসেছিল কয়লা। না পেয়ে পাড়া জ্বালিয়ে দেবে বলেছিল। কোয়াদা তখন মাল খেয়ে এখানে দাঁড়িয়ে কয়লার একটা ছেলেকে খিস্তি করতে সে পেটো ছুঁড়েছিল। কোয়াদার গায়ে লাগেনি কিন্তু মোক্ষবুড়ি ভোগে গেল।’ ন্যাড়া আবার হাসল।

    ‘কোয়া কোথায়?’

    ‘হাওয়া হয়ে গিয়েছে।’ তিন নম্বরের পেছনের দিকটায় ইঙ্গিত করল ন্যাড়া।

    ‘বিলুকে খুঁজছিল কেন ওরা?’

    ‘বিলুদা নাকি দারোগাবাবু হয়েছে।’

    ‘দারোগাবাবু?’

    ‘হাঁস ডিম দেয় আর দারোগাবাবু সেই ডিম খায়।’ তারপর নিচু গলায় বলল, ‘কয়লা এখনও পাড়ায় আছে।’

    ’কোথায়?’

    ‘নুকু ঘোষের বাড়িতে। বডি গার্ড নিয়ে। ওর চামচেরা চলে গিয়েছে।’

    এইসময় দুটো হেডলাইট ঈশ্বরপুকুরকে আলোকিত করল। ইঞ্জিনের শব্দ হওয়ামাত্র মানুষগুলো গলির মধ্যে পিলপিল করে ঢুকে যাচ্ছিল। অর্কর হাত ধরে টানল ন্যাড়া, ‘কেটে পড়, পুলিস আসছে।’

    ‘কি করে বুঝলি?’ জিজ্ঞাসা করতেই পুলিসের ভ্যানটা এসে দাঁড়াল তিন নম্বরের সামনে। টপাটপ লাফিয়ে নামল কিছু পুলিস লাঠি এবং বন্দুক হাতে। দুজন অফিসার খোলা রিভলভার নিয়ে চেঁচিয়ে বলল, ‘কি হয়েছে এখানে? কেউ পালাবেন না, বলুন, কি হয়েছে?’

    এবার তিন নম্বরের লোকগুলো থিতিয়ে গেল। তারপর একটু একটু সাহসী হয়ে এগিয়ে এল তারা। হাঁউমাউ করে সকলে মিলে কয়লার অত্যাচারের কথা বলতে লাগল। সেটা স্পষ্ট না হওয়ায় কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। জনতা আঙ্গুল দিয়ে মোক্ষবুড়ির মৃতদেহ দেখাচ্ছিল পুলিসদের। একজন অফিসার টর্চের আলো ফেলল মোক্ষবুড়ির ওপর, ‘এটা কে?’

    জনতা চেঁচালো একসঙ্গে, ‘মোক্ষবুড়ি।’

    ‘এ কি করে ইনভলভড হল? বুড়ি মেয়েছেলেরাও অ্যাকশন করে নাকি?’

    ‘ও এখানে বসেছিল স্যার, কোয়াকে যে পেটো ছুঁড়েছিল সেটা ওর গায়ে লেগেছে।’

    ‘আই সি! হোয়ার ইজ কোয়া! তাকে আমার চাই। বলুন, বলুন কোথায় কোয়া?’

    ‘জানি না স্যার। কোয়া পালিয়ে গেছে।’

    অফিসার জনতার দিকে তাকালেন তারপর দুজন কনস্টেবলকে বললেন মোক্ষবুড়ির শরীরটাকে ভ্যানে তুলে নিতে। এইসময় ঈশ্বরপুকুরের আলো জ্বলে উঠল। অর্ক দেখল উল্টোদিকের দোতলা বাড়িগুলোর জানলা ঈষৎ ফাঁক করে ভদ্রলোকেরা এই দৃশ্য দেখছেন নিজেদের অস্তিত্ব না জানিয়ে। অফিসারটি আবার রিভলভার উঁচিয়ে চিৎকার করলেন, ‘কোয়াকে আমাদের হাতে তুলে দিন। ওর জন্যেই এই বুড়ি মরেছে। নইলে এই বস্তির কাউকে আমি ছাড়ব না।’ জনতা নীরবে এই হুমকি শুনল। অর্ক বুঝতে পারছিল না কোয়ার কি দোষ, কেন তাকে পুলিস অফিসার চাইছে।

    কিন্তু সে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল অফিসারটির কাছে, ‘কোয়াকে কি দরকার?’

    অফিসার অর্কর দিকে অবাক চোখে তাকালেন, ‘তুমি কে?’

    ‘আমি এখানে থাকি। কোয়া তো আজ কোন অন্যায় করেনি। যারা গুণ্ডামি করতে এসেছিল সে তাদের গালাগাল দিয়েছিল। ওরাই বোমা ছুঁড়েছে বলে মোক্ষবুড়ি মারা গিয়েছে। এতে কোয়ার অন্যায় কোথায়?’ সরাসরি প্রশ্ন করল অর্ক।

    ‘ন্যায় অন্যায়ের জ্ঞান তোমার কাছে নেব না। ওর নামে অনেক অ্যালিগেশন আছে।’

    ‘কিন্তু যারা অন্যায় করেছে তাদের আপনারা ধরছেন না কেন?’

    ‘কারা অন্যায় করেছে খোকা?’ ব্যঙ্গ ঝরল অফিসারের গলায়।

    ‘কয়লা দলবল নিয়ে পাড়া জ্বালাতে এসেছিল। ওরাই মোক্ষবুড়িকে খুন করেছে।’

    ‘কে কয়লা?’

    অর্ক অবাক হয়ে গেল। পুলিস অফিসার কয়লার নাম শোনেনি? সে তাকিয়ে দেখল বস্তির সমস্ত মানুষ তার দিকে বেশ সম্ভ্রমের চোখে তাকিয়ে আছে। অর্কর উত্তেজনা বাড়ল, ‘কে কয়লা তা আপনি জানেন না?’

    পুলিস অফিসার কাঁধ ঝাঁকালেন। তারপর হাতের রিভলভারটা নাচিয়ে বললেন, ‘এই ছোকরা, নিজের কাজ কর গিয়ে। যা, ভাগ্‌।’

    অর্ক গলা তুলল, ‘চমৎকার। একঘণ্টা ধরে এখানে হামলা হল, মানুষ মরল আর আপনারা চুপ করে বসেছিলেন, আসার দরকার মনে করেননি। এখন যখন সব থেমে গিয়েছে তখন উল্টে চোখ রাঙাচ্ছেন। কোথায় ছিলেন আপনারা এতক্ষণ?’

    ‘মেরে বদনা পাল্টে দেব হারামজাদা। যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা? আমার কাজের কৈফিয়ৎ তোমাকে দেব বাঞ্চোত?’ তারপর জনতার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি কোন কথা শুনতে চাই না। কোয়াকে আমার চাই।’

    অফিসারকে ভ্যানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে অর্ক কাছে গেল, ‘আপনি কয়লাকে অ্যারেস্ট করবেন না? সে এখানে এসে দলবল নিয়ে হামলা করে গেল সেটা দেখবেন না?’

    ‘কয়লা? কয়লা কোথায়?’

    ’ওদিকে, নুকু ঘোষের বাড়িতে।’

    হঠাৎ মুখ চোখ পাল্টে গেল অফিসারের, ‘অ্যাই, তোর নাম কি রে?’

    ‘তোর বলছেন কেন? ভালভাবে কথা বলতে শেখেননি?’

    এরকম প্রশ্ন যেন স্বপ্নেও ভাবেননি অফিসার। তাঁর হুঁশ ফেরার আগেই অর্ক জবাব দিল, ‘অর্ক মিত্র।’

    ‘নেতা হবার সাধ হয়েছে না? জন্মের মত সাধ ঘুচিয়ে দেব বদমাশ।’ এক লাফে যেন জায়গাটা অতিক্রম করতে চাইলেন অফিসার। বিপদ বুঝতে পারল অর্ক। কিন্তু একটা জেদ এবং ক্রোধ তাকে খাড়া দাঁড় করিয়ে রাখল। এইসময় একটি লোক ছুটে এল অফিসারের দিকে, ‘প্লিজ, ওকে মারবেন না। শান্ত হোন।’

    অর্ক অবাক হয়ে দেখল সতীশদা অফিসারের সামনে দাঁড়িয়ে। অফিসার যেন সতীশদাকে চিনতে পারলেন, ‘ও আমাকে অপমান করেছে। এইটুকুনি ছেলে কিন্তু কি ব্যবহার? নো নো, আমাকে বাধা দেবেন না। সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়ার সময় আপনারা ইন্টারফেয়ার করবেন না। আই উইল টিচ হিম এ গুড লেশন।’

    দুপাশে দু’হাত বাড়িয়ে সতীশদা বললেন, ‘আমি আপনাকে রিকোয়েস্ট করছি আপনি শান্ত হোন। ছেলেটি মোটেই সমাজবিরোধী নয়। তাছাড়া ও যেসব অভিযোগ করেছে সেগুলো সাধারণ মানুষের মনের কথা।’

    ‘আপনি এসব বোঝাবেন না সতীশবাবু। আমি ওকে অ্যারেস্ট করছি।’

    ‘অ্যারেস্ট করবেন? ওর অপরাধ?’

    ‘আমাকে অপমান করেছে, কর্তব্য করতে বাধা দিয়েছে।’

    ‘আপনি বাজে কথা বলছেন?’

    ‘আচ্ছা! নিশ্চয়ই আপনার স্বার্থ আছে! কিন্তু আমি আপনার সঙ্গে এত কথা বলছিই বা কেন? যদি প্রয়োজন মনে করেন থানায় আসবেন।’

    সতীশদা একবার অর্কর দিকে তাকালেন। তারপর অফিসারকে নিচুগলায় বললেন, ‘ওকে অ্যারেস্ট করলে আপনার অসুবিধে হবে অফিসার।’

    ‘তার মানে?’

    ‘কিছুদিন আগে মিনিস্টার এসেছিলেন এখানে। ওর বাবা মিনিস্টারের বন্ধু। আমাকে খোঁজ খবর নিতে বলেছিলেন। আপনি গায়ের জোরে অ্যারেস্ট করলে আমি এখনি তা মিনিস্টারকে জানাবো।’ সতীশদাকে অন্যরকম দেখাচ্ছিল।

    সতীশদার চোখে চোখ রেখে অফিসার যেন কিছু পড়তে পারলেন, ‘কিন্তু ওকে সাবধান করে দেবেন। একজন সরকারী অফিসারের সঙ্গে কিভাবে কথা বলতে হয় সেটা শেখা উচিত।’

    কথা শেষ করেই অফিসার ভ্যানে ফিরে গেলেন। ওদের চোখের সামনে ভ্যানটা পিছু ফিরে মুখ পাল্টে ঈশ্বরপুকুর থেকে বেরিয়ে গেল।

    এবার সতীশদা অর্কর দিকে তাকালেন, ‘তোমার সাহস আছে। কিন্তু সাহসী হলেই সবসময় কাজ হয় না। সময় এবং পরিস্থিতি বুঝে এগোতে হয়।’

    এতক্ষণ অর্ক চুপচাপ সমস্ত ব্যাপারটা দেখছিল। সতীশদা যে অফিসারকে মন্ত্রীর ভয় দেখিয়ে থামালো সেটাও কান এড়ায়নি। তার মনে পড়ল আজ সন্ধ্যায় সে একজন সাধারণ পুলিসকে ডি সি নর্থের নাম করে ভয় পাইয়েছিল। সেটা যে এত দ্রুত তার ক্ষেত্রেও ফিরে আসবে—! সতীশদা কথা শেষ করতেই অর্ক বলল, ‘লোকটা বদমাশ।’

    ‘হতে পারে। কিন্তু ওইভাবে বলা ঠিক হয়নি।’

    ‘কেন?’

    ‘তোমাকে ও অ্যারেস্ট করতে পারত, প্রচণ্ড মারত। তুমি কিছুই করতে পারতে না।’

    ‘কিন্তু আপনি এসব সমর্থন করছেন? ওরা কোয়াকে বোমা মারতে গিয়ে মোক্ষবুড়িকে মেরে ফেলল। খুন করল ওরা আর পুলিস কোয়াকে ধরতে চাইছে। কোয়ার কি দোষ?’

    সতীশদা মাথা নাড়লেন, ‘কিন্তু কোয়া তো ধোওয়া তুলসীপাতা নয়।’

    ‘তা হতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে তো কোন অন্যায় করেনি। তাছাড়া কয়লারা ঈশ্বরপুকুরে ঢুকে একটা খুন করল, অত্যাচার করল, অনেক পরে পুলিস এসে আমাদের ছেলেকেই গ্রেপ্তার করতে চাইল অথচ আপনি কিছু বলছেন না!’ অর্ককে খুব উত্তেজিত দেখাচ্ছিল। এবং এইসব কথাবার্তার মধ্যে তিন নম্বরের সাধারণ মানুষ যে উপচে পড়েছে তা সে লক্ষ্য করেনি।

    সতীশদা বললেন, ‘কিছু বলব না তাই বা জানলে কি করে? আমরা পার্টি থেকে অ্যাকশন নেব। পুলিসের কাছে কৈফিয়ৎ চাইব।’

    অর্ক বলল, ‘আর তার মধ্যে কয়লাদের মত গুণ্ডারা এসে একটার পর একটা খুন করে যাক আর আপনারা চেয়ে চেয়ে তাই দেখবেন।’

    এবার সতীশদার কণ্ঠে উত্তেজনা এল, ‘তুমি কি বলছ তা জানো না!’

    ‘জানি সতীশদা। আমি রাজনীতি বুঝি না কিন্তু আপনাকে আমার ভাল লাগে। কয়লারা মোক্ষবুড়িকে খুন করেছে আর পুলিস কিছু বলছে না এটা মেনে নিতে পারি না। আপনি আমাদের সঙ্গে আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিবাদ করি।’ অর্কর কথা শেষ হওয়ামাত্র তিন নম্বরের সমস্ত মানুষের গলা থেকে সমর্থনসূচক শব্দ বেরিয়ে এল। সতীশদা এবার অস্বস্তিতে পড়লেন। তারপর অর্কর কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘আমার পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। দলের নির্দেশ নিতে হবে।’

    ‘আপনি এর মধ্যে দলকে টানছেন কেন?’

    ‘কারণ আমি চব্বিশঘণ্টার রাজনীতি করি। আমি মনে করি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও আনুগত্য ছাড়া একটি মানুষ পূর্ণতা পায় না। যাহোক, এ ব্যাপারে তোমরা একটা কাজ করতে পারো। এ পাড়ার নাগরিক কমিটির মিটিং যাতে তাড়াতাড়ি ডাকা হয় সে ব্যবস্থা করতে পারি। সেখানে তোমরা বক্তব্য রাখতে পারো। নাগরিক কমিটি পল্লীর শৃঙ্খলা রাখতে অরাজনৈতিকভাবে কাজ করতে পারে।’

    কিন্তু সতীশদার কথা শেষ হওয়ামাত্র একজন চিৎকার করে উঠল, ‘ওখানে তো মাথাভারী লোক গিয়েছেন, তাঁরা কোনদিন আসেন না। পাড়ার কটা লোক নাগরিক কমিটির খবর রাখে বলুন?’

    সতীশদা বললেন, ‘আপনাদের কমিটি আপনারা যদি খবর না রাখেন—!’

    ‘না আমাদের কমিটি নয়। আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন এত বছর, নাগরিক কমিটি তৈরি হয়েছে কিন্তু সেই কমিটি কোন কাজ করে না, নামেই রয়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের খবর জানেই না।’ ছেলেটি এসব বলেই জুড়ে দিল, ‘একথা বলছি বলে ভাববেন না আমি কংগ্রেস করি। সমালোচনা করলেই তো চক্রান্তের গন্ধ পান।’

    সতীশদা মাথা নাড়লেন, ‘তুমি প্রতিক্রিয়াশীল সংবাদপত্রের ভাষায় কথা বলছ সুবল। তোমাকে আমি অনেকবার বলেছি দলের ভেতরে এসে এসব কথা বল। শরীরে আঁচ না লাগিয়ে যারা ফলভোগ করে তাদের সুবিধেবাদী বলা হয়।’

    অর্ক দেখছিল বিষয় থেকে সরে যাচ্ছে তারা। সে বলল, ‘ওসব আমি বুঝি না সতীশদা। তিন নম্বরে আমরা পশুদের মত আছি। এখানে দিনদুপুরে মাস্তানি হয়, অশ্রাব্য খিস্তির বন্যা বয়ে যায়, মাতলামি চলে দিন রাত আর আপনাদের নাগরিক কমিটি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোয়। কি, ঠিক বলছি?’

    সতীশদা মাথা নাড়লেন, ‘অনেকটাই ঠিক।’

    ‘কেন এমন হবে? কেন আপনারা রাজনীতি করেন সাধারণ মানুষের কাছে না গিয়ে! সতীশদা, শুধু বড় বড় শব্দ দিয়ে কদ্দিন মানুষকে বোঝানো যায়? না, সতীশদা, আমি এসব বুঝতে পারি না। কয়লা অন্যায় করে শাস্তি পাবে না কেন?’ অর্ক কথাগুলো বলামাত্র সমস্ত মানুষ হৈ চৈ করতে শুরু করল। সবাই উত্তেজিত।

    সতীশদা চিৎকার করলেন, ‘তোমরা কি করতে চাও?’

    ‘আমরা কয়লার শাস্তি চাই।’

    সতীশদা চিৎকার করলেন, ‘কিন্তু শাস্তি দেবে আদালত। আমরা আইন হাতে নিতে পারি না। অর্ক, তুমি এদের উত্তেজিত করছ। ভুল করছ। এতে এদেরই ক্ষতি হবে।’

    কেউ একজন চেঁচালো, ‘কয়লা নুকু ঘোষের বাড়িতে বসে মাল খাচ্ছে। নুকুর বাড়ি জ্বালিয়ে দাও।’ হঠাৎই মানুষগুলো পাল্টে গেল। যারা এতক্ষণ বোমের ভয়ে সিঁটিয়ে ছিল ঘরে তারা উত্তেজনায় রাস্তায় ছোটাছুটি করতে লাগল। সতীশদা কিংবা অর্ক চেষ্টা করেও সামলাতে পারল না তাদের। সবার লক্ষ্য নুকু ঘোষের বাড়ি।

    বাড়িটার সামনে একটা জিপ দাঁড়িয়ে। তিন নম্বরের মানুষের টানে আশেপাশের একটা বিরাট জনতা এই মাঝরাত্রে নেমে এসেছে পথে। অর্ককে নিয়ে সতীশদা কোনরকমে ভিড়ের সামনে চলে এলেন। সতীশদা চিৎকার করলেন, ‘আপনারা এমন কিছু করবেন না যাতে আইন বিঘ্নিত হয়।’

    কিন্তু অর্ক সতীশকে বলল, ‘সতীশদা, আপনি আড়ালে চলে যান। নইলে নুকু ঘোষ বলবে আপনার পার্টি ওর বাড়ি ঘেরাও করেছে। আপনি সাধারণ নাগরিক হিসেবে পিছনে থাকুন।’

    ‘কিন্তু পাড়ায় কোন গোলমাল হলে আমাকে জবাবদিহি দিতে হবে।’

    ‘সে নাহয় দেবেন। এখন সামনে থাকবেন না।’

    সুবল বলল, ‘ঠিক কথা। এটা আমাদের ননপলিটিক্যাল মুভমেন্ট।’

    মানুষেরা চিৎকার করছে কয়লার নাম ধরে, নুকু ঘোষের পিণ্ডি চটকে। দু-একটা ঢিল ছিটকে গেছে বাড়ির দিকে। এইসময় দরজা খুলে গেল। নুকু ঘোষ বেরিয়ে এল টালমাটাল পায়ে, ‘কি ব্যাপার? এখানে কি হচ্ছে?’ জনতা দেখে লোকটার মুখ চুপসে গেলেও সামলে নিল।

    ‘কয়লাকে চাই। বের করে দিন কয়লাকে।’ জনতা একসঙ্গে বলে উঠল।

    ‘কয়লা! কেন তাকে কি দরকার?’ নুকু ঘোষের গলার স্বর জড়ানো।

    সুবল উঠে গেল সিঁড়ি বেয়ে, ‘কয়লা তিন নম্বরে হামলা করে একজনকে খুন করেছে। আপনি তাকে আশ্রয় দিয়েছেন। ওকে বের করে দিন আমাদের হাতে।’

    নুকু ঘোষ চিৎকার করল, ‘বের করে দিন! যেন বাবার সম্পত্তি! কে তোদের লেলিয়েছে? অ্যাঁ, কে লেলিয়েছে?’

    সঙ্গে সঙ্গে জনতা ফুঁসে উঠল। উন্মত্ত ঢেউ আছড়ে পড়ল নুকু ঘোষের ওপর। নুকুর লোকেরা তাকে টেনে নিয়ে গেল ভেতরে। তারপর দরজা বন্ধ করে দিল। ততক্ষণে কয়লার গাড়িতে আগুন জ্বলেছে। জনতা এবার নুকুর বাড়িতে সে আগুন ছড়াতে চাইল। অর্ক এক লাফে বারান্দায় উঠল। তারপর দু’হাত ওপরে তুলে চিৎকার করল, ‘আপনারা শুনুন। মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। আমরা কয়লাকে চাই। নুকু ঘোষের বাড়ি ঘিরে রাখুন কিন্তু কেউ ভেতরে ঢুকবেন না। যতক্ষণ নুকু কয়লাকে বের না করে দেয় ততক্ষণ আমরা এখান থেকে নড়ব না।’

    সুবল বলল, ‘ঠিক কথা। আজ সারা রাত আমরা ঘেরাও করে থাকব। আপনারা সবাই বসে পড়ুন। গুণ্ডাটাকে চাই-ই চাই।’

    জনতা তখনও অশান্ত ঘোড়ার মত ছটফট করছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }