Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫৫. ট্রামে উঠেই মাথা গরম

     পঞ্চান্ন

    ট্রামে উঠেই মাথা গরম হয়ে গেল অর্কর। চারজন লোক বসেছিল সামনে, কণ্ডাক্টর টিকিট চাইতেই তারা চোখ মটকে হাসল। কণ্ডাক্টর দ্বিতীয়বার চাইতেই একজন বলল, ‘পরে দেব, বুঝতে পারছেন না?’

    ‘কোথায় যাবেন?’

    ‘এসপ্লানেড।’

    ‘এক টাকা দিন। তবে চেকার উঠলে টিকিট কাটতে হবে।’

    ‘এক টাকা কেন? ফিফটি ফিফটি করুন। আশি পয়সা। নামবার আগে দিয়ে যাব।’ লোকটা দাঁত বের করে হাসতে কণ্ডাক্টর সরে এল অর্কর সামনে, ‘টিকিট!’

    অর্ক লোকটার দিকে তাকাল। বছর তিরিশের নিরীহ চেহারা। যে চারটে লোকের কাছ থেকে ও ফিরে এল তাদের বয়স চল্লিশের মধ্যে। কণ্ডাক্টর বিরক্ত গলায় বলল, ‘কোথায় যাবেন?’

    অর্ক চোখে চোখ রাখল, ‘ওদের কাছ থেকে টিকিট নিলেন না কেন?’ কেমন থতমত হয়ে গেল কন্ডাক্টর। প্রশ্নটা বেশ জোরে হওয়ায় ট্রামের অন্য লোকগুলো এদিকে তাকিয়েছে। সেই চারজনও অনেকটা অপ্রস্তুত ভঙ্গীতে অর্ককে দেখছে। শেষ পর্যন্ত কণ্ডাক্টর বলল, ‘আপনার টিকিট করুন, ওসব নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই।’

    বেলগাছিয়া ব্রিজের ওপর দিয়ে হু হু করে ট্রাম ছুটছিল। এক্ষুনি আর জি কর এসে যাবে। অর্কর রাগ আরও বাড়ছিল, ‘চমৎকার, আপনি প্রকাশ্যে পয়সা খাচ্ছেন, ট্রাম কোম্পানিকে ঠকাচ্ছেন আর কিছু বলা যাবে না?

    এবার লোকটা প্রতিরোধ শক্তি হারিয়ে ফেলল। অর্ক অন্য যাত্রীদের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এই লোকটিকে চিনে রাখুন। এ সমাজবিরোধী। ঘুষ নিয়ে ট্রামের লোকসান বাড়াচ্ছে। আর ওই চারজনও তাই। ভদ্রলোকের চেহারা নিয়ে হাফ টিকিটে বেড়াতে যাচ্ছে।’

    সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে রব উঠল, ঠিক বলেছে। এই জন্যে টিকিটের দাম বাড়ে। এদের ধরে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। আরে মশাই, কাকে বলবেন? সবখানেই তো দুনম্বরী ব্যাপার। মরালিটি শব্দটা এখন উঠে গেছে। পঁয়ত্রিশ পয়সা এগিয়ে দিতেই কণ্ডাক্টর টিকিট ছিঁড়ে দিল। ওর মুখ শুকিয়ে গেছে। আর জি কর আসতেই কণ্ডাক্টর ফিরে গেল চারজনের কাছে, ‘টিকিট দিন। আপনাদের জন্যে বেইজ্জত হতে হল।’

    ট্রাম থেকে নেমে পড়ল অর্ক। পাঁচটা সমাজবিরোধীকে নিয়ে এক নম্বর ট্রামটা এসপ্লানেডের দিকে চলে গেল। অর্ক ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল সেই ট্রাফিক পুলিসটা আজ দাঁড়িয়ে নেই। আর একটা সমাজবিরোধী। তবে তার জায়গায় যে দাঁড়িয়ে তাকে দেখতে অনেকটা আগের লোকটার মতনই।

    এখনও বোধ হয় ভিজিটিং আওয়ার্স শুরু হয়নি। কিন্তু এর মধ্যে চত্বরে বেশ ভিড় জমেছে। পিচের পথটা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অর্ক বুঝতে পারল তার শরীরটা যতটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল বলে মনে হয়েছিল ততটা হয়নি। মাথার ভেতরে দপদপানি শুরু হয়েছে, গা গোলাচ্ছে, জিভে তিক্কুটে স্বাদ।

    খানিকটা এগোতেই মাথাটা এমন ঘুরে গেল যে অর্ক হাসপাতালের বারান্দায় বসে পড়ল পা ঝুলিয়ে। তার এখন জ্বর নেই কিন্তু শরীরে সামান্য শক্তি অবশিষ্ট নেই। অর্ক অলস চোখে হাসপাতাল বাড়িটার দিকে তাকাল। এটাও তো একটা দু’নম্বরের আড়ত। তোমার ন্যায্য পাওনা তুমি পাবে না। অথচ ধরার লোক আর পকেটে টাকা থাকলে সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে। আর এই হাসপাতালের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অর্কর মনে বিলাস সোমের মুখটা ভেসে উঠল।

    লোকটা এক নম্বর না দুনম্বর ছিল সেটা বোঝা বড় গোলমেলে।

    মিনিট দশেক বসে থাকার পর একটু আরাম হল। অর্ক খানিকটা এগোতেই কোয়া এবং বিলুকে দেখতে পেল। ওদের চেহারা একদিনেই বেশ জীর্ণ হয়েছে। দুজনে একটা সিঁড়িতে বসে ছিল। ওকে দেখেই তড়াক করে উঠে এল।

    বিলু জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার নাকি জ্বর হয়েছে খুব?’

    ‘কে বলল?’

    ‘ওই ন্যাটা লোকটা। তোমাদের বোধ হয় আত্মীয় হয়।’

    পরমহংস কাকুর সঠিক পরিচয় পেয়ে হাসল অর্ক। তারপর মাথা নাড়ল, ওঁকে দেখেছিস তোরা?’

    বিলু বলল, ‘না। এ বেলায় দেখিনি। বারোটা একটা অবধি ছিল।’

    ‘কেন?’ অর্ক বুঝতে পারল না অত বেলা পর্যন্ত পরমহংসকাকু কেন থাকবে?

    ‘তোমার মায়ের কেসটা বোধ হয় ভাল নয়।’

    সঙ্গে সঙ্গে অর্কর বুকের ভেতরটা অসাড় হয়ে গেল। সে সাদা চোখে হাসপাতাল বাড়ির দিকে তাকাল। ভিজিটিং আওয়ার্স শুরু হয়েছে। লোকজন ভেতরে ঢুকছে। মাকে কি বিছানায় আনা হয়েছে? অর্ক আর দাঁড়াল না। কোয়াদের সেখানেই রেখে ও হাসপাতালের বারান্দায় উঠে এল। গেটে যে দারায়োনটা থাকে সে এর মধ্যেই বোধ হয় অর্ককে চিনে গিয়েছে। কারণ কখনই কোন প্রতিরোধের সামনে দাঁড়াতে হয়নি অর্ককে ঢোকার সময়ে। ওষুধের বিটকেল গন্ধে ডুবে ডুবে অর্ক মাধবীলতার বিছানার সামনে এসে অবাক হয়ে গেল। একটি বিশাল চেহারার মহিলা বাবু হয়ে বসে ছানা খাচ্ছেন।

    অর্ক অসহায় চোখে তাকাল চারপাশে। দেখতে আসা মানুষেরা যেন মেলা বসিয়েছে চারধারে। কিন্তু মাধবীলতা নেই। তার মানে অপারেশনের পর মাধবীলতাকে আর বিছানায় ফিরিয়ে আনা হয়নি।

    অর্ক বাইরে বেরিয়ে এল। গেটের বাইরে তখন পরমহংস আর সৌদামিনী দাঁড়িয়ে। ওকে দেখে পরমহংস এগিয়ে গেল, তোমার শরীর এখন কেমন আছে?’

    ‘ভাল। মা—?’

    পরমহংস আড়চোখে সৌদামিনীর দিকে তাকাল। সৌদামিনীর মুখে কোন অভিব্যক্তি নেই। অর্কর বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। সে আবার প্রশ্ন করল, ‘মায়ের কি কিছু হয়েছে?’

    সৌদামিনী এবার কথা বললেন। ওঁর ঠোঁট সামান্য নড়লেও শব্দগুলো ঠিকঠাক বেরিয়ে এল, ‘আমাদের এখন যে কোন পরিস্থিতির জন্যে তৈরি হতে হবে।’

    ‘মানে?’

    ‘এটা তো খুবই সরল। মেয়েটা সারাজীবনে তোমাদের জন্যে এত রক্ত দিয়েছে যে আজকে নিজের জন্যে লড়াই করার শক্তিটুকুও নেই।’

    হঠাৎ অর্কর মনে হল সৌদামিনী যেন আঙ্গুল তুলে বলছেন, ‘তুমি এবং তোমরা মাধবীলতার মৃত্যুর জন্যে দায়ী হবে।’

    দুহাতে মুখ ঢাকল অর্ক। ওর সমস্ত শরীর কাঁপছিল। মা না থাকলে পৃথিবীটার চেহারা যে অন্যরকম হয়ে যাবে। কাঁধে হাত রাখল পরমহংস, ‘ভেঙ্গে পড়ো না। ওকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। বড় দুর্বল হয়ে পড়েছে। একবার সেন্স আসতেই অনিমেষের নাম ধরে ডেকেছিল।’

    অর্ক ঠোঁট কামড়ালো। সে জিজ্ঞাসা করল, ‘ডাক্তারবাবু কি হাসপাতালে আছেন?’

    ‘হ্যাঁ। মিসেস সেনগুপ্তা ওঁকে বাড়ি থেকে তুলে এনেছেন। এখন ওঁর হাসপাতালে আসার কথা নয়।’

    ‘আমি ওঁর সঙ্গে দেখা করব।’

    অর্ক আর দাঁড়াল না। পথে কয়েকটা বাধা পেলেও ও একরোখা ভাব দেখিয়ে ডাক্তারের মুখোমুখি হয়ে গেল। ডাক্তার তখন নিজের ছোট্ট ঘরটিতে চোখ বন্ধ করে বসে ছিলেন। ভদ্রলোককে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছিল।

    অর্ক সামনে দাঁড়াতেই ডাক্তার চোখ খুললেন, ‘কি চাই?’

    ‘আপনার সঙ্গে একটু কথা বলব।’

    ‘এখানে কে আসতে দিল?’

    ‘কেউ দেয়নি, আমি এসেছি। ডাক্তারবাবু, আমার মা বাঁচবে না?’

    ‘কে তোমার মা?’

    ‘মাধবীলতা, যার অপারেশন আপনি করেছেন।’

    ‘ও। হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।’ ডাক্তারবাবু অর্ককে আর একবার দেখলেন, ‘আমার পক্ষে যা করা সম্ভব আমি সব করেছি। এখন ভগবানই ভরসা।’

    ‘মায়ের কি হয়েছে?’

    ‘অনেক কিছু, তুমি বুঝবে না। তবে মোটামুটি জানো, ওঁর পেটে অনেকটা ঘা হয়ে গিয়েছিল। ওপেন করে আমি হতভম্ব হয়ে গেছি। এটা অনেকদিনের ব্যাপার। জেনেশুনে আত্মহত্যা করা হচ্ছিল।’

    কথাগুলো বলতে বলতে ডাক্তারবাবুর যেন খেয়াল হল, ‘তোমাকে সৌদামিনী সেনগুপ্তা কিছু বলেননি?’

    ‘না।’

    ডাক্তারবাবু কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন, ‘তোমার বাবা এসেছেন?’

    ‘বাবা?’

    ‘হ্যাঁ, শুনলাম ওঁকে টেলিগ্রাম করা হয়েছে, এসেছেন?’

    অর্ক কথা বলল না কিন্তু শক্ত মুখে মাথা নাড়ল। ডাক্তার আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হু ইজ অনি?’

    ‘কেন?’

    ‘যখনই সেন্স আসছে তখনই অনি শব্দটা ওঁর মুখে শোনা গেছে। তোমার নাম কি অনি?’

    অর্ক নিরক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আবার মাথা নাড়ল। খানিক আগে পরমহংসকাকু যখন ওই কথা বলেছিল ও বিশ্বাস করেনি। মা এখন বাবার কথা মনে করছে? পৃথিবীতে সবচেয়ে মায়ের কে আপন তা তো জানাই হয়ে গেল। তাহলে মা কেন চলে এল বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে? কেন তার পরিচয়ের ওপর কালি ছিটিয়ে দিল? যে মানুষটাকে খবর পাঠাতে নিষেধ করেছে বারংবার সেই মানুষের নাম ধরে ডাকছে চেতনা ফিরলেই?

    মায়ের ওপর তীব্র অভিমান অর্কর মনে জন্ম নিল। মা তার কথা একবারও ভাবল না? এই সময় তো প্রিয়জনের মুখ মনে পড়ে, সে কি মায়ের প্রিয়জন নয়? অর্কর বুকের ভেতর যেন ভাঙ্গচুর চলছিল।

    এই সময় আর একজন লোক ডাক্তারের সামনে দাঁড়াতেই তিনি নরম গলায় বললেন, ‘মন শক্ত করো আর ভগবানকে ডাকো। তিনি আছেন বলেই পৃথিবীতে এখনও মির‍্যাক্‌ল ঘটে।’

    ‘আমি একবার ওঁকে দেখতে পারি?’

    চোখ বড় হয়ে গেল ডাক্তারের, ‘ইম্পসিবল।’

    ‘একবার দেখব, একটুখানি। মাকে একবার দেখতে দিন।’

    ‘ভেতরে যেতে দেব না আমি। বাইরে থেকে দেখতে পারো।’ একটা বেয়ারা গোছের লোককে ডেকে নির্দেশ দিতে সে অর্ককে নিয়ে গেল অনেকটা পথ হাঁটিয়ে বিশেষ ঘরের সামনে। তারপর বলল, ‘ওই জানলা দিয়ে দেখুন।’

    জানলাটি কাঁচের। ভেতরটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ঘরের ভেতর গোটা চারেক খাটে অসুস্থ মানুষেরা শুয়ে আছে। তাদের মুখে নাকে হাতে নানারকমের নল আটকানো। কিন্তু কাউকেই আলাদা করে চেনা যাচ্ছে না, প্রত্যেকটা শরীর সাদা চাদরের আড়ালে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। অসুস্থ মানুষদের চেহারা এক রকম হয়?

    অর্ক চেষ্টা করেও মাধবীলতাকে খুঁজে বের করতে পারল না।

    দুটো পা যেন ভীষণ ভারী, হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল অর্কর। ডাক্তার তো বলেই দিলেন তাঁর আর কিছুই করার নেই, এখন ভগবানই ভরসা। বিজ্ঞান কি কখনো ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে? তাহলে এ কেমন ডাক্তার? ডাক্তার বললেন, পেট ওপেন করে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। মায়ের পেটের মধ্যে কি ছিল? যদি কিছু খারাপ হয়ে থাকে সেটা কি পাল্টানো যায় না? যদি তার পেটের যন্ত্রপাতি খুলে মায়ের পেটে লাগিয়ে দেওয়া যায়? অর্ক কেঁদে ফেলল। সে বুঝতে পারছিল যখন একজন ডাক্তার ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করতে বলেন তখন বিজ্ঞানের করার কিছু থাকে না।

    এবং তখনই তার মনে দ্বিতীয় চিন্তার উদয় হল। মা এই সময়েও অর্ক বলে ডাকেনি। মায়ের মনের কোথাও সে নেই। যাকে মানুষ প্রচণ্ড ভালবাসে একমাত্র তার কথাই এই মুহূর্তে মনে পড়ে। মায়ের সঙ্গে বাবার ঝগড়া, সম্পর্ক ত্যাগ—এসবই তাহলে বানানো। আসলে মা যাকে ভালবাসতো তাকেই ভালবেসে যাচ্ছে। কিন্তু তাকে তো মা অন্যরকম শিখিয়েছিল। না, মা তাকে বাবার বিরুদ্ধে কোনদিন কোন কথা বলেনি। তার মন বিষাক্ত করার কোন চেষ্টা করেনি। কিন্তু সে তো বাবাকে মানতে পারেনি। তার চেতনায় মা এবং বাবা সেই রাত্রে যে নোংরা জল ছুঁড়ে দিয়েছিল তা থেকে তো সারাজীবন মুক্তি নেই। এই সময় ভেবেছিল মা এবং সে পরস্পর পরস্পরের আশ্রয়। আজ বোঝা গেল সবই ভুল। আর এই প্রথম অর্ক অনিমেষকে হিংসে করতে লাগল। এবং অকস্মাৎ একটা নির্লিপ্তি তাকে গ্রাস করল। অর্ক চোখের জল মুছল কিন্তু সবকিছু সাদা হয়ে রইল তার চারপাশে।

    বারান্দায় আসতেই নীপা মিত্র তাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ডাক্তারবাবুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল তোমার?’

    মাথা নাড়ল অর্ক, ‘হ্যাঁ।’

    ‘আমি বিশ্বাস করি না তোমার মা চলে যাবে।’

    ‘কে বলেছে চলে যাবে?’

    নীপা মিত্র যেন হোঁচট খেল। তারপর অন্য রকম গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কেন, ডাক্তারবাবু তোমায় কিছু বলেনি?’

    ‘সেরকম কিছু বলেননি। শুধু ভগবানকে ডাকতে বললেন।’

    ‘হ্যাঁ। ভগবানকে ডাকলে সব হয়। তুমি আমার সঙ্গে দক্ষিণেশ্বরে যাবে?’

    ‘কেন?’

    নীপা মিত্র হতাশ চোখে তাকাল অর্কর দিকে। অর্কর ঠোঁটে তখন হাসি, ‘মা বলেছে ভগবানের কোন বাড়ি নেই। দক্ষিণেশ্বরে গেলেই ভগবানকে পাওয়া যাবে না। আর মা তো ঠাকুর দেবতা—।’

    ঠিক সেই সময় সৌদামিনী এগিয়ে এলেন, ‘অর্ক, এখন তো ঈশ্বরকে ডাকা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই।’

    অর্ক বলল, ‘হ্যাঁ, তাই উনি দক্ষিণেশ্বরের কথা বলছিলেন।’

    সৌদামিনী নীপা মিত্রকে দেখলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কারো ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত করতে চাই না। আমি শুধু ঈশ্বরকে ডাকার কথাই বলতে পারি।’

    পরমহংস উঠে এসেছিল কাছে। বলল, ‘একবার ডক্টর চক্রবর্তীর কাছে গেলে হতো না? শুনেছি উনি নাকি এ ব্যাপারে কিছু কিছু সাফল্য পেয়েছেন।’

    সৌদামিনী বললেন, ‘অ্যালাপাথি থেকে হোমিওপাথিতে শিফট করতে গেলে, দাঁড়ান, আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলি।’

    দূরে একটা রিকশা আসছিল। রিকশাকে ঘিরে বেশ ভিড় এগিয়ে আসছে আউটডোরের দিকে। রিকশার ওপরে একটি এলিয়ে পড়া মানুষকে ধরে বসে আছে নিমু চাঅলা। অর্ককে দেখামাত্র ঈশ্বরপুকুরের কয়েকজন উত্তেজিত অবস্থায় ছুটে এল। তারা জানাল, ‘কয়লার ছেলেরা চোরাগোপ্তা আক্রমণ করছে। একটু আগে শ্যামবাজারের মোড়ে হরেন ড্রাইভারের ছেলেকে ধরে কুপিয়েছে। নিমু চাঅলা একজনকে নিয়ে ওই সময় শ্যামবাজারে গিয়েছিল বলে ওরা প্রাণে মারতে পারেনি। আজকের কয়লার বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বদলা হিসেবে। এরা সবাই আজ আদালতে গিয়েছিল। সেখানে কয়লাকে বিচারকের সামনে উপস্থিত করা হয়েছিল। কয়লাকে দেখতে বিরাট জনতা উপচে পড়েছিল সেখানে। সবাই কয়লাকে ছিঁড়ে ফেলতে চায়। আজ কয়লা জামিন পায়নি! কয়লার বড় বড় সঙ্গীরা হয় ধরা পড়ছে নয় ধরা দিচ্ছে। ফেরার পথে ওরা দেখতে পায় নিমু চাঅলা আহতকে নিয়ে রিকশায় আসছে।

    শুনতে শুনতে অর্কর মনে পড়ল কোয়া এবং বিলু এতক্ষণ এখানেই ছিল। গতকাল মায়ের জন্যে ওরা রক্ত দিয়েছে। প্রয়োজন হলে ওরা আজও রক্ত দেবে। কিন্তু সেই সঙ্গে ওরা জানতে এসেছিল অর্ক তাদের জন্যে কিছু করতে পেরেছে কিনা। যে সমাজবিরোধী একটু আগে ছুরি মেরেছে, যে সমাজবিরোধী ট্রামে টিকিট কাটে না বা ঘুষ নেয়, যে সমাজবিরোধী সাদা পোশাক পরে চৌমাথায় দাঁড়িয়ে লরির ড্রাইভারের কাছে ঘুষ খায় বিলু এবং কোয়া সেই সমাজবিরোধীদের সঙ্গে এক শ্রেণীতে পড়ে না। তবু ওদের জানানো দরকার শুদ্ধির জন্যে একবার থানায় যেতে হবে। একবার থানা থেকে না ঘুরে এলে পাড়ার মানুষ ওদের গ্রহণ করতে পারবে না।

    আহতকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু কোয়া এবং বিলুকে আশেপাশে কোথাও দেখতে পেল না অর্ক। এই ভিড় দেখেই বোধ হয় ওরা আড়ালে চলে গিয়েছে।

    কিন্তু এসব ব্যাপারে আর উৎসাহ পাচ্ছিল না অর্ক। ভিড় সরে গেলে সৌদামিনী বললেন, ‘তোমাদের পাড়াটা খুব খারাপ, কাগজে পড়লাম।’

    ‘কাগজে লিখেছে?’

    ‘হ্যাঁ। একজন সমাজবিরোধী নাকি দলবল নিয়ে খুব অত্যাচার করত। পাড়ার লোকরা একজোট হয়ে তাকে পুলিসের কাছে তুলে দিয়েছে।’

    পরমহংস বলল, ‘আমি পড়েছি খবরটা। এই ধরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অর্ক একজন নায়ক। ওর পিঠে বোধ হয় এখনও ব্যাণ্ডেজ আছে, ছুরির।’

    সৌদামিনী বললেন, ‘সে কি! তুমি এসব ঝামেলায় আছ নাকি?’

    অর্ক কথা বলল না। এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে তার ভাল লাগছে না। সৌদামিনী আবার যোগ করলেন, ‘তোমার মা এমন অসুস্থ আর তুমি ওসব করবে এটা ভাল নয়। উচিত নয়।’

    ‘নোংরা জলে থাকব আর নোংরা গায়ে লাগলে পরিষ্কার করব না?’

    কথাটা শুনে তিনজনেই যেন চমকে উঠল। সৌদামিনী বললেন, ‘আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না তোমরা অমন খারাপ পরিবেশে থাকতে কি করে? একটু বেশী ভাড়া দিলে ভদ্র পাড়ায় ঘর পাওয়া যায় নিশ্চয়ই।’

    ‘ভদ্রপাড়ায় বুঝি সমাজবিরোধী থাকে না?’

    সৌদামিনীর মুখ কালো হয়ে গেল, ‘মানে?’

    এই সময় পরমহংস নির্জীব হাসল, ‘ঠিক বলেছ। নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়?’ তারপর রুমালে মুখ মুছল।

    কথাটা অর্কর মনে বাজল। সত্যি তো। একটা শহরে আগুন লাগলে সব মন্দির পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। কেউ সেগুলো বাঁচাতে পারবে না। কলকাতার এক অঞ্চলে সমাজবিরোধীরা মাথা চাড়া দিলে অন্য পাড়ায় শান্তি থাকতে পারে না। নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়? সুন্দর কথা। এটা কি কোন কবিতার লাইন? হঠাৎ ঊর্মিমালার মুখ ভেসে এল মনে। এরকম লাইন বোধ হয় রবীন্দ্রনাথই লিখেছেন। অর্ক লাইনটা মনে করে রাখল।

    এই সময় ডাক্তারবাবুকে দেখতে পেয়ে পরমহংস এবং সৌদামিনী তাঁকে ধরতে এগিয়ে গেলেন। অর্ক একবার সেদিকে তাকাল কিন্তু নড়ল না। নীপা মিত্র এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল, জিজ্ঞাসা করল, ‘ডাক্তারবাবু বেরিয়েছেন, কথা বলবে না?’

    ‘আমি তো কথা বলেছি।’

    ‘কি বললেন উনি? ক্যান্সার হয়নি তো?’

    ‘ক্যান্সার?’ অর্কর সমস্ত শরীর শিথিল হয়ে গেল। মায়ের ক্যান্সার হলে সে কি করবে? ক্যান্সার হলে মানুষ বাঁচে না। শরীরের একটা জায়গায় ক্যান্সার হলে সেটি কেটে বাদ দিতে হয়। কিন্তু তার শেকড় অন্য জায়গায় মাথা তোলে। শেষ পর্যন্ত হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যায়। নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?

    অর্ক সজোরে মাথা নাড়ল, ‘না ক্যান্সারের কথা আমায় বলেনি! আপনাকে কে বলেছে মায়ের ক্যান্সার হয়েছে?’

    ‘আমাকে কেউ বলেনি। খারাপ কথা প্রথমে মনে আসে বলে জিজ্ঞাসা করলাম।’

    এই সময় সৌদামিনীর উচ্ছ্বাস শোনা গেল। ছেলেমানুষের মত তিনি অতদূর থেকেই উত্তেজিত এবং আনন্দিত গলায় বলে উঠলেন, ‘নীপা, ইটস নট দ্যাট, নট দ্যাট।’

    অর্ক দেখল ওঁরা ডাক্তারবাবুর সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন বারান্দা ধরে। নীপা মিত্র ছুটে গেল সেদিকে। কিন্তু অর্ক নেমে এল নিচে। না, মায়ের ক্যান্সার হয়নি। নট দ্যাট নট দ্যাট। আঃ। দুটো শব্দ একটা পাথরের পাহাড় গলিয়ে দিল। নগরে যদি আগুন না লাগে তাহলে দেবালয় কেন পুড়বে?

    এবং তখনই তার দুই হাত মুঠো পাকাল। শরীর কাঁপতে লাগল। প্রাণপণে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে লাগল অর্ক। কারণ কাঁধে ঝোলা নিয়ে দুটো ক্রাচে ভর দিয়ে যে মানুষ দ্রুত এগিয়ে আসার চেষ্টা করছে এই আলো অন্ধকারে তাকে চিনতে একটুও ভুল হয়নি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }