Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫৬. অর্ক একটুও নড়ল না

     ছাপ্পান্ন

    অর্ক একটুও নড়ল না, অনিমেষই দূরত্বটা অতিক্রম করল।

    মুখোমুখি হতে অনিমেষকে খুব নার্ভাস দেখাচ্ছিল। তার কাঁধে একটা ঝোলা, পোশাক মলিন এবং চেহারায় শ্রান্তির ছাপ স্পষ্ট। বোধ হয় কি কথা দিয়ে শুরু করবে ঠাহর করতে না পেরেই অনিমেষ বলল, ‘যাক, তোকে পেয়ে বাঁচলাম। তোর মা কেমন আছে?’

    হঠাৎ অর্ক আবিষ্কার করল তার এরকম উত্তেজিত হওয়ার কোন কারণ নেই। অযথা রূঢ় কথা বলে কি লাভ! এই মানুষটিকে দেখা মাত্র তার শরীরে উত্তেজনা উথলে উঠেছে। মনে হয়েছে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা ওই মানুষটিকে মৃত্যুর দরজায় নিয়ে গেছে এই লোকটি। এরই জন্যে আজ মায়ের ওই দশা। কিন্তু যেই অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, তোর মা কেমন আছে অমনি অর্ক নাড়া খেল। মায়ের এই অবস্থার জন্যে সে নিজেও তো সমানভাবে দায়ী। মাকে সে চিন্তিত করেছে, তার জন্যে এত বছর মা কম পরিশ্রম করেনি।

    অনিমেষ ছেলেকে নিরুত্তর দেখে বোধ হয় আরও অস্বস্তিতে পড়েছিল। অসহায় গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কি রে কথা বলছিস না কেন?’

    অর্ক মুখ নামালো, ‘আছে।’ তারপর সরাসরি জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি এখানে কেন এলে?’

    ‘কি বলছিস তুই? আমি আসব না? তোর মা হসপিটালে আর সেই খবর পেয়ে আমি সেখানে চুপ করে বসে থাকব?’

    ‘এসে কি করবে? বরং তোমাকে নিয়েই তো নানান অসুবিধে।’

    অনিমেষ ছেলের দিকে তাকাল। তারপর আবেদনের গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘তুই এমনভাবে কথা বলছিস কেন?’

    অর্ক নিঃশব্দে মাথা নাড়ল। তারপর পেছন দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ওখানে পরমহংস কাকুরা আছেন। ওঁদের সঙ্গে কথা বল। আমি যাচ্ছি।’

    ‘তুই কোথায় যাচ্ছিস?’

    ‘কেন?’

    ‘আমি শ্যামবাজারের মোড়ে শুনলাম ঈশ্বরপুকুরে খুব গোলমাল হচ্ছে।’

    ‘কে বলল?’

    ‘উনুনের কারখানার মালিক। তার কাছেই শুনলাম ও এই হাসপাতালে আছে। গোলমাল হচ্ছে যখন তখন পাড়ায় এখন যাস না।’

    অর্ক বুঝতে পারছিল না আবার কিসের গোলমাল হতে পারে ঈশ্বরপুকরে! কয়লার লোকজন নিশ্চয়ই হামলা করতে সাহস পাবে না। ব্যাপারটা কি দেখবার জন্য তো এখনই যেতে হয়।

    সে মুখ ফিরিয়ে পরমহংস কিংবা সৌদামিনীকে বারান্দায় দেখতে পেল না। অথচ একটু আগে ওঁরা ওখানেই ছিলেন। অনেকটা ইচ্ছের বিরুদ্ধেই সে অনিমেষের পাশে হাঁটতে লাগল। ক্রাচে ভর রাখার দরুন কিংবা অন্য কারণেই হোক অর্ক অনিমেষের মাথার মাঝখানটা দেখতে পেল। পরিষ্কার হয়ে এসেছে চুল। চকচকে সাদা চামড়া দেখা যাচ্ছে। তার মানে সে লম্বা হয়ে গেছে কিংবা বাবা বেঁটে হয়েছে। মোট কথা, সে ওই মানুষটিকে ছাড়িয়ে গেছে। এরকমটা ভাবতে পারায় মন প্রফুল্ল হল অর্কর।

    অনিমেষ আবার জিজ্ঞাসা করল, ‘ওর কি হয়েছে?’

    ‘অপারেশন। পেটে ঘা হয়েছিল। এখনও জ্ঞান ফেরেনি।’

    ‘কিরকম ঘা?’

    ‘তুমি কি খুব খারাপ কিছু ভেবেছ?’

    ‘অর্ক।’ চেঁচিয়ে উঠল অনিমেষ, ‘তুই কি ভেবেছিস?’

    ‘কিছুই না। তোমার সঙ্গে কথা বলতে ভাল লাগছে না। ওই যে পরমহংস কাকু আসছে। তোমরা কথা বল।’

    ‘তুই কোথায় যাচ্ছিস?’

    ‘কাজ আছে।’

    ‘কি কাজ?’

    ‘সব কি তোমাকে বলতে হবে?’

    ‘তুই কিরকম পাল্টে গিয়েছিস!’

    পরমহংস অনিমেষকে দেখতে পেয়ে ছুটে এল, ‘কখন এসেছ?’

    ‘এইমাত্র। ও কেমন আছে?’

    ‘কাল সকালের আগে বলা যাবে না। তবে আমরা যা ভয় পেয়েছিলাম তা নয়। মনে হচ্ছে বিপদ কাটিয়ে উঠবে।’

    ‘কি ভয় পেয়েছিলে?’

    ‘ক্যান্সার। কিন্তু তা নয়। বিরাট বোঝা নেমে গেল। তুমি এখন কোত্থেকে এলে? এ সময় কি ট্রেন আছে?’

    ‘আট ঘণ্টা লেট করল। আন্দোলনের জন্যে।’

    ‘চল। কোথাও গিয়ে বসি। একা একা আসতে অসুবিধে হয়েছে?’ অর্কর এসব কথা ভাল লাগছিল না। সে পরমহংসকে বলল, ‘আপনারা কথা বলুন, আমি চলি।’

    ‘কোথায় যাচ্ছ?’ পরমহংস জিজ্ঞাসা করল।

    ‘পাড়ায়। ওখানে যখন গোলমাল হচ্ছে তখন বেশী রাত হলে না যাওয়াই ভাল।’ শেষ কথাটা যে অনিমেষের উদ্দেশ্যে তা বুঝতে অসুবিধে হল না। পরমহংস জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার উণ্ড কেমন আছে?’

    ‘ভাল।’

    ‘আজ ডাক্তারকে দেখিয়েছ?’

    ‘না।’

    ‘কি আশ্চর্য। এটাকে নেগলেক্ট করো না।’

    অনিমেষ অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, ‘কিসের উণ্ড?’

    ‘অর্ককে সমাজবিরোধীরা ছুরি মেরেছিল।’

    ‘সে কি। কেন?’

    অর্ক হাসল, ‘ওরা কেন ছুরি মারে তা জানো না?’

    অনিমেষ তিক্ত গলায় বলল, ‘তুই একটুও পাল্টালি না। এখনও সেই গুণ্ডামি করে যাচ্ছিস!’

    অর্কর মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছিল। অনেক কষ্টে নিজেকে সংবরণ করল সে। তারপর মুখ বেঁকিয়ে বলল, ‘যে সব সমাজবিরোধী সামনাসামনি ছুরি মারে তাদের ফেস করা যায়, কিন্তু যাদের ছুরি দেখা যায় না তারা আরও মারাত্মক।’

    অর্ক আর দাঁড়াল না। সে উত্তপ্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এল। অনিমেষকে সে কিছুতেই সহ্য করতে পারছিল না। এই মানুষটাকে তার মা এমন ভালবাসে যে অবচেতনায় নাম ধরে ডেকে যাচ্ছে। হিংসেয় জ্বলছিল অর্ক।

    সন্ধ্যে পার হয়ে গেলেই কাঁধে এক ধরনের টনটনানি শুরু হয়েছিল। ঠিক যে জায়গায় ছুরিটা বিঁধেছিল সেখানটায় যেন চিড়চিড় করছে মাঝে মাঝে। অর্কর ইচ্ছে করছিল একবার জামা খুলে ব্যাণ্ডেজ সরিয়ে ক্ষতটা কাউকে দেখায়। কিন্তু একটা অন্য ধরনের জেদে সে ইচ্ছেটাকে চেপে রাখছিল। তাছাড়া রাত এগারটা পর্যন্ত আজ নিঃশ্বাস ফেলার সময় ছিল না। একটার পর একটা কাজ এবং তার উত্তেজনা শরীরের কষ্ট ভুলিয়ে রাখার পক্ষে যথেষ্ট ছিল।

    হরেন ড্রাইভারের ছেলেকে কয়লার লোক শ্যামবাজারে খুন করার চেষ্টা করেছে এই খবর পাড়ায় আসা মাত্র মানুষ পাগল হয়ে গিয়েছিল। শান্তি কমিটি কোন ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই উত্তেজিত মানুষেরা ছুটে গিয়েছিল কয়লার বাড়িতে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর কয়লার আত্মীয়রা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। সেই বাড়িটাকে আগুনে ঠেসে দিয়েও যেন শান্তি হয়নি মানুষের। তাদের শান্ত করতে প্রচুর পরিশ্রম হয়েছে শান্তি কমিটির। তারপর শুরু হয়েছে পুলিসের সঙ্গে ঘনঘন আলোচনা। স্বয়ং পুলিস কমিশনার এসেছিলেন পাড়ায়। তিনি আবেদন করেছেন আইন নিজের হাতে না নিতে। শান্তি কমিটি ঘুরে ঘুরে তাঁকে কয়লার অত্যাচারের নিদর্শন দেখিয়েছে। যে পুলিস অফিসার কয়লার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ দিয়েছে কমিশনারের কাছে। পুলিস কমিশনার আশ্বাস দিয়েছেন যে সমস্ত সমাজবিরোধী এখনও আশেপাশের পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের গ্রেপ্তার করবেন।

    আগামীকাল একটা শান্তি মিছিল বের হবে। এলাকার নির্বাচিত এম এল এ এবং বিরোধীদলের নেতা সেই মিছিলে থাকবেন। এই প্রথম একটি এলাকার মানুষ অরাজনৈতিকভাবে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে, তাদের মনোবল বাড়াবার জন্যে পশ্চিমবাংলার সাহিত্যিক অভিনেতা এবং বুদ্ধিজীবীদের কাছে আবেদন জানানো হবে। সমাজবিরোধীদের তালিকা শান্তি কমিটির পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশনারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কোয়া এবং বিলুর নাম সেই তালিকায় রয়েছে।

    দেখা গেল, একটা এলাকার মানুষকে সংগঠিত করতে প্রচুর কাজ করতে হয়। যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁদের এক ধরনের নেশা থাকে। বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতের দিকে না তাকিয়ে তাঁরা দলের জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু যাঁরা রাজনীতি করেন না, সুবিধেবাদী মধ্যবিত্তের সাইনবোর্ড যাঁদের কপালে টাঙানো তাঁরা সাধারণত সময় নষ্ট করতে রাজি হন না, বিশেষ করে যেখানে ব্যক্তিগত কোন লাভ নেই। কিন্তু এই ধারণার ব্যতিক্রম দেখা গেল এবার। সাধারণ মানুষ এমনকি বাড়ির মেয়েরা পর্যন্ত রাস্তায় নেমে এসেছেন সমাজবিরোধীদের রুখে দাঁড়াতে। তাঁদের অনেকেই এখন অফিসে যাচ্ছেন না ঝুঁকি থাকায় কিন্তু এলাকার ভেতরে যা কাজ করতে বলা হচ্ছে তা তাঁরা করছেন। এই মুহূর্তে কংগ্রেস কিংবা সি পি এম দলের কোন সক্রিয় অবস্থান নেই। রাত বারোটায় সুবলকে অর্ক বলল, ‘আমার শরীর খুব খারাপ লাগছে। আমাকে আপনারা যে পদ দিয়েছেন তা থেকে বাদ দিন।’

    সুবল চোখ ছোট করল, ‘সে কি! কেন?’

    ‘আমি তো কিছুই করতে পারছি না। এইভাবে একটা পদ আঁকড়ে বসে না থেকে অন্য কাউকে দিলে সে আরও বেশী উৎসাহিত হবে।’

    ‘করার দিন তো শেষ হয়ে যায়নি। তাছাড়া তুমি পদত্যাগ করেছ জানলে অনেকে ভাববে আমরা বিভক্ত হচ্ছি। ঠিক আছে, সবাইকে বলে দেখি।’

    রাত এখন সাড়ে বারোটা। অর্কর শরীরে প্রবল শীতভাব এল। শান্তি কমিটির অফিস থেকে তিন নম্বরে ফিরতে ওর খুব কষ্ট হচ্ছিল। এখন চারপাশে কোন শব্দ নেই। রকে কিংবা রাস্তায় কোন জটলা হচ্ছে না। এমন কি লাইট পোস্টের তলায় তাসের আড্ডাও জমেনি।

    গলিতে ঢুকতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল অর্ক। অন্ধকার জমাট হয়ে রয়েছে যেখানে সেখানে মোক্ষবুড়ি বসতো। ওই রকম চুপচাপ অন্ধকারের মতন। অর্ক মাতালের মত হেঁটে এল অনুপমার ঘরের সামনে দিয়ে। তারপর পকেট থেকে চাবি বের করতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল। দরজার গোড়ায় কেউ বসে আছে, অন্ধকারে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। অর্ক জিজ্ঞাসা করল, ‘কে?’

    ‘আমি। এত দেরি হল তোর?’

    অর্ক চমকে উঠল। অনিমেষ এতক্ষণ বন্ধ তালার নিচে অপেক্ষা করছিল। ছেলেকে দেখে এবার ক্রাচ দুটো হাতড়ে ওঠার চেষ্টা করল।

    ‘তুমি এখানে বসে আছ?’

    ‘দরজায় তালা থাকলে ঢুকব কি করে?’

    চটপট তালা খুলল অর্ক। তারপর আলো জ্বেলে নিজে খাটের ওপর বসে পড়ল। বসে খুব আরাম লাগল তার। কিন্তু একটা অপরাধবোধ যে তাকে গ্রাস করছে তা টের পেয়ে সে মরিয়া হয়ে নিজেকে পরিষ্কার করতে চাইছিল। সে ভেবেছিল পরমহংসকাকুর সঙ্গেই অনিমেষ চলে যাবে। মাধবীলতা এখানে নেই এবং তার সঙ্গে যখন আর সম্পর্ক নেই তখন ঈশ্বরপুকুরে অনিমেষ আসতে যাবেই বা কেন? হাসপাতালে অর্ক এমনটা ভেবেছিল। তারপর এতক্ষণ শান্তি কমিটির কাজে ব্যস্ত থাকায় এইসব ভাবনা তার মাথা থেকে একদম উধাও হয়ে গিয়েছিল। অর্ক আবিষ্কার করল, অনিমেষ তো দূরের কথা, মাধবীলতার কথাও সব সময় তার মনে ছিল না। অর্ক নিজেকে বোঝালো, অনিমেষের অপেক্ষা করার জন্যে সে দায়ী নয়।

    অনিমেষ ঘরে ঢুকলে সে বলল, ‘তুমি আসবে বললেই পারতে।’

    ‘আর কোথায় যাব?’

    ‘ভেবেছিলাম পরমহংসকাকুর কাছে যাবে।’

    ‘কেন?’

    অর্ক অনিমেষের দিকে তাকাল কিন্তু কথাটাকে গিলে ফেলল। অনিমেষ এ ব্যাপারে আর কথা বলতে চাইল না। ছেলে যে তাকে পছন্দ করছে না সেটা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না। সে ঘরটার দিকে তাকাল। চারধার ছন্নছাড়া, মেঝেয় সিগারেটের টুকরো পড়ে আছে। তার মানে অর্ক এখন ঘরে বসে সিগারেট খাচ্ছে। সে চেয়ারে বসতে বসতে বলল, ‘ঘরের ভেতর সিগারেট ফেলেছিস কেন?’

    অর্ক ঘাড় ঘুরিয়ে ওটাকে দেখতে পেল। তার মনে পড়ল কোয়া দুপুরে ওখানে বসে সিগারেট খাচ্ছিল। সে মাথা নেড়ে বলল, ‘আমি ফেলিনি। কোয়ারা এসেছিল।’

    ‘কোয়া? ওঃ, সেইসব রক্তবীজের দল!’

    ‘রক্তবীজ মানে?’

    ‘যাদের কোন পিছুটান নেই, দয়া মায়া ভালবাসা নেই। ইভিল স্পিরিট।’

    ‘এদের তো তোমরাই জন্ম দিয়েছ।’

    ‘আমরা?’ অনিমেষের বিরক্তি উড়ে গিয়ে বিস্ময় এল।

    ‘নিশ্চয়ই। ওরা আকাশ থেকে পড়েনি। তোমরা বোম নিয়ে পাড়ায় হামলা করতে, পুলিস মারতে। এরা সেইসব দেখেছে, দেখে শিখেছে।’

    ‘ইডিয়ট। তুই কিসের সঙ্গে কার তুলনা করছিস? আমাদের একটা আদর্শ ছিল। আমরা ভারতবর্ষে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেছিলাম। নকশালপন্থী ছেলেদের সঙ্গে বখাটে গুণ্ডাদের তুলনা করছিস?’

    ‘তোমাদের তো সবাই গুণ্ডা বলেই ভাবত। সাধারণ মানুষের কি উপকার করেছ তোমরা? আমি অত বড় বড় বিদ্যে জানি না। মাও সে তুং কার্ল মার্কসের দোহাই দিয়ে তোমরা যা করেছ তাতে দেশের কোন উপকার হয়নি।’

    ‘হয়তো। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছিলাম। তোদের মত গুণ্ডাবাজি করে সময় কাটাইনি। আমরা মানুষের ভাল চেয়েছিলাম।’

    ‘তাই নাকি? তাহলে তোমাদের কথা উঠলেই সাধারণ মানুষ এখনও আঁতকে ওঠে কেন? কেন বলে বিভীষিকার দিন? আজকে আমাদের এলাকায় সমস্ত সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, তোমরা তো এটুকুও করতে পারোনি।’

    ‘হ্যাঁ, আমি শুনলাম। এটা একটা সাময়িক উত্তেজনা।’

    ‘হয়তো। কিন্তু তা থেকে অনেক সময় বড় কাজ হয়।’

    অনিমেষ যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। সেই অর্ক, এই সামান্য বয়সে তার সঙ্গে সমানে তর্ক করে যাচ্ছে বড়দের ভঙ্গীতে। সে ছেলের মুখের দিকে তাকাল ভাল করে। ওর দিকে তাকালে অবশ্য কেউ কুড়ির নিচে বলে ভাববে না। মুখে চোখে একটা পোড়খাওয়া ভাব এসেছে। ওই বয়সে সে যখন কলকাতায় এসেছিল পড়তে তখন অনেক সরলতা জড়ানো ছিল, মুখ দেখে বন্ধুরা বলত, অবোধ বালক! অনিমেষের মনে হল অর্ককে ছোট করে না দেখে খোলাখুলি আলোচনা করা বুদ্ধিমানের কাজ। ও কতটা বোঝে সে জানে না, খামোকা ছেলেমানুষ ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার কোন মানে হয় না।

    অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘এপাড়ার গুণ্ডারা শান্তি কমিটিতে নেই?’

    ‘গুণ্ডা বলতে তুমি কাদের বোঝাচ্ছ?’

    ‘লোকে যাদের গুণ্ডা ভাবে।’

    ‘লোকে তো তোমাদেরও গুণ্ডা ভাবত।’

    ‘অর্ক!’ অনিমেষ উত্তেজিত হল, ‘বারবার অনধিকার চর্চা করবি না।’

    অর্কর ঠোঁটে হাসি খেলে গেল, ‘তাহলে এই ঘরে ফিরে এলে কেন?’

    ‘মানে?’ অনিমেষ হতভম্ভ। ‘আমি তোর বাবা—।’

    ‘সে কথা মা আমাকে না জানালে আমি জানতাম না। তুমি প্রমাণ করতে পার যে তুমি আমার বাবা?’

    অনিমেষ ক্রাচদুটো আঁকড়ে ধরল, ‘তুই কি বলছিস!’

    ‘ঠিকই বলছি। তুমি প্রমাণ করতে পার?’

    ‘কেউ করতে পারে?’

    ‘পারে। তার চারপাশের মানুষ আত্মীয়স্বজন এবং আরো অনেক কিছু প্রমাণ দেয় যে কে বাবা! আমার মায়ের সন্তান হয়েছিল কিন্তু তিনি বলেছেন বলেই জেনেছি তুমি আমার বাবা। তোমার কোন জোর নেই। একটু আগে অধিকারের কথা বললে না? তোমার কাছ থেকে আমি কিছুই পাইনি, তুমি আমাকে কিছুই দাওনি। অধিকার কি করে পাবে?’ কথাগুলো বলার সময় অর্ক তার কাঁধে হাত রেখেছিল। প্রচণ্ড টনটন করছে। শরীর গরম হয়ে উঠেছে কিন্তু জ্বরটা ফিরে আসেনি।

    ‘তোর মা কি কিছু বলেছে?’

    ‘তুমি নিজেকে আরও ছোট করছ এই প্রশ্ন করে। মা হাসপাতালে ঘোরের মধ্যে তোমার নাম ধরে ডাকছে আর তুমি—।’ অর্ক ঠোঁট কামড়ালো।

    ‘মা হাসপাতালে ওই রকম অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তুই আমাকে খবর দিসনি কেন?’

    ‘প্রথমত মা নিষেধ করেছিল আর আমারও ইচ্ছে হয়নি।’

    ‘কেন?’

    ‘তোমার জন্যেই মায়ের এই অবস্থা তাই। মাকেও তুমি কিছুই দাওনি। তোমার জন্যে মা একটু একটু করে নিজেকে শেষ করে ফেলেছে। সেই তোমাকে আমি মায়ের অসুস্থতার খবর দিতে যাব কেন?’

    ‘তুই নিজে কি করছিস? সে অসুস্থ হয়ে পড়ে রইল আর তুই পাড়ায় সমাজবিরোধী তাড়াচ্ছিস, তাদের ছুরি খাচ্ছিস?’

    ‘ঠিক করছি। আমি যদি একটা ভাল কাজ করি তাহলে মা খুশি হবে, মায়ের আয়ু বাড়বে তাতে।’ অর্ক চোখ বন্ধ করল।

    অনিমেষ মাথার চুলে আঙ্গুল চালালো। তারপর ক্লান্ত গলায় বলল, ‘আমি স্বীকার করছি তোকে কিছু দিতে পারিনি। সেটা আমার অক্ষমতা। কিন্তু আমরা বিবাহিত। তুই আমাদের সন্তান।’

    অর্ক চমকে মুখ তুলে তাকাল।

    ‘কথাটা শোন। আমরা পরস্পরকে ভালবেসেছিলাম। তোর মা সেই ভালবাসার জন্যে তার সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করেছিল। আমার জগতে সে ছাড়া আর কারও অস্তিত্ব ছিল না। পৃথিবীতে এর চেয়ে বড় আর কোন আইন নেই। যেসব স্বামী স্ত্রী সই অথবা আগুন সাক্ষী রেখে বিয়ে করে তাদের দিকে তাকিয়ে দ্যাখ, নব্বুইজনই পরস্পরের সঙ্গে বাধ্য হয়ে বাস করে। ভালবাসা তো দূরের কথা ঘৃণা আর অশান্তি নিয়ে দিন কাটায়। তাদের সন্তান প্রয়োজনে আসে। সেই সন্তানদের পিতৃপরিচয় কি? কি পাচ্ছে তারা বাপমায়ের কাছে। তুই বল, কোন বিয়েটা বেশী জরুরী?’ কাঙালের মত তাকাল অনিমেষ।

    ‘তাহলে তুমি মাকে অপমান করলে কেন জলপাইগুড়িতে?’

    ‘আমি অপমান করতে চাইনি। এত সামান্য কারণে ওর অভিমান আহত হবে আমি ভাবিনি। আমি যদি তাই চাইতাম তাহলে এই শরীরে একা ছুটে আসতাম না। সে যদি আমায় অস্বীকার করত তাহলে আমার নাম ধরে ডাকত না। আমার মনে যেটুকু দ্বন্দ্ব ছিল হাসপাতালে এসে তা মুছে গেছে। আমি সব কথা তোকে খুলে বললাম, এবার তোর যা বিবেচনা করবি।’

    অর্ক অনিমেষের দিকে তাকাল। ওর শরীরে কাঁটা দিচ্ছিল। ব্যথাটা পাক দিয়ে উঠছে। ওর মুখের চেহারা দেখে অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘কি হয়েছে তোর?’

    ‘কিছু না। আমি একটু শোব।’ কথাটা বলতে বলতে অর্ক উপুড় হয়ে পড়ল খাটে। আর তখনই অনিমেষ দেখল ওর পিঠে কালচে ছোপ। ক্রাচ নিয়ে সে কোন রকমে উঠে এল খাটে। তারপর নিঃশব্দে অর্কর জামা খুলে নিল সজোরে। ব্যাণ্ডেজটা চোখে পড়তেই চমকে উঠল। কালচে রক্তে ভিজে গেছে সেটা। অর্ককে জোর করে বসাল সে। তারপর ধীরে ধীরে ব্যাণ্ডেজটা খুলে নিতেই দেখল ক্ষতের মুখে পুঁজরক্ত জমেছে।

    অনিমেষ ব্যাণ্ডেজের শুকনো অংশ দিয়ে সন্তর্পণে চাপ দিতে আরও কিছুটা পুঁজরক্ত বেরিয়ে এল। সেটাকে মুছিয়ে দিয়ে সে আবার অর্ককে শুইয়ে দিল, ‘এবার তুই শুয়ে থাক। আমি ডাক্তারকে ডেকে আনছি।’

    অর্কর মনে হচ্ছিল তার পিঠের ব্যথাটা অনেক কমে এসেছে। বেশ আরাম লাগছে এখন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }