Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫৭. মাধবীলতাকে বিপদমুক্ত ঘোষণা

     সাতান্ন

    তিনদিন পরে মাধবীলতাকে বিপদমুক্ত ঘোষণা করা হল। ওকে আজ দুপুরে পেয়িংবেডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন এটাকে ঈশ্বরের দয়া বলা যেতে পারে। পেশেন্টের অবস্থা এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছিল যেখানে শতকরা নব্বুইভাগ মানুষ বাঁচে না। এখন সময় লাগবে সুস্থ হতে। এই অবস্থায় পেশেন্টকে বিরক্ত করা উচিত হবে না। অথবা অযথা ভিড় বা কোনরকম উত্তেজনা যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভিজিটার্সরা যেন পেশেন্টের সঙ্গে বেশী কথা না বলেন।

    চারটের অনেক আগে থেকে ওরা ভিড় করেছিল। সৌদামিনী তার স্কুলের শিক্ষিকাদের আসতে নিষেধ করেছিলেন। এই কদিন মহিলা দুবেলা আসছেন, অনেকক্ষণ থাকছেন। ডাক্তারকে সক্রিয় রাখতে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছেন। অনিমেষ ওঁর সামনে দাঁড়াল, ‘আপনার কাছে আমরা—।’

    ‘এই রে!’ সৌদামিনী হাত নাড়লেন, ‘আপনি আবার ওসব বলবেন নাকি! কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ! ওয়ার্থলেশ ওয়ার্ডস। টেক ইট ইজি। মেয়েটা আমার সহকর্মী তাই এসেছি। আপনাদের কৃতার্থ করার বিন্দুমাত্র বাসনা আমার ছিল না। এখন ও ভালর দিকে তাই কাল থেকে আসব না। ও যদ্দিন না কমপ্লিট সুস্থ হচ্ছে তদ্দিন স্কুলে যেতে হবে না। আর এই হাসপাতালের খরচ আমরা দেখব। আর কিছু বলার আছে?’

    অনিমেষ অপ্রস্তুত। সে ম্লান হেসে ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল।

    সৌদামিনী বললেন, ‘আপনি মশাই খুব ফাঁকি দিয়েছেন। বউ-এর অসুখ হল, হাসপাতালে এল, আর আপনি কোথায় বসে রইলেন।’

    পরমহংস কাছেই ছিল। বলল, ‘এটা আকস্মিক ব্যাপার। ওর দোষ নেই।’

    সৌদামিনী কাঁধ নাচালেন, ‘যার শেষ ভাল তার সব ভাল। এখন ওকে একটু যত্নে রাখবেন। পরিশ্রম করতে দেবেন না। আর নিজেরা না খেয়ে মেয়েটা যাতে খায় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। আপনার ছেলে জানে ওর মায়ের কথা?’

    ‘না। একটু আগেই তো আমরা জানলাম। তবে জানে আজ জানা যাবে।’

    ‘কেমন আছে ও?’

    ‘ভাল। ডাক্তার তো বলেছে দিন চারেক একদম শুয়ে থাকতে।’

    সৌদামিনী চশমার কাঁচ মুছলেন, ‘আমি আজকালকার ছেলেদের একদম বুঝতে পারলাম না। যার মা এমন অসুস্থ সে খামোকা আগ বাড়িয়ে ছুরি খেতে যাবে কেন?’

    অনিমেষ কোন উত্তর দিল না। পরমহংস একটা সিগারেট ধরাল। এই কদিন তারও অফিস কামাই হয়েছে। আজ এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে কাল থেকে মুক্তি। যেন একটা যুদ্ধ হচ্ছিল এতদিন। জয় ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর আর তার কিছুই করার নেই। হার হলেও যেমন কিছু করার থাকত না।

    চারটের সময় ওরা প্রবেশাধিকার পেল। অনিমেষের বুকের মধ্যে অকস্মাৎ আলোড়ন সৃষ্টি হল। তাকে দেখে মাধবীলতার কি রকম অনুভূতি হবে? যদি ও আচমকা উত্তেজিত হয়ে ওঠে? ঘোরের মধ্যে নাম ধরে ডেকেছে ঠিকই কিন্তু চেতনায় এলে যদি তার অভিমান উগ্র হয়ে ওঠে! অনিমেষ মনস্থির করতে না পেরে পরমহংসকে বলল, ‘তোমরা গিয়ে দেখে এসো। আমি প্রথমে যাব না।’

    পরমহংস কাঁধ ঝাঁকাল, ‘ওপেন করতে ভয় পাচ্ছ? সেকেণ্ড ডাউন নামবে? নামবে? ঠিক হ্যায়, অপেক্ষা করো।’

    সৌদামিনী এগিয়ে গিয়েছিলেন, ‘কি হল আসুন।’

    পরমহংস পা বাড়াতে সৌদামিনীর কপালে ভাঁজ পড়ল, ‘কি হল, উনি আসবেন না?’

    ‘আমরা ঘুরে এলে ও যাবে। স্বামী স্ত্রীতে একটু নিরিবিলিতে দেখা হওয়া ভাল। আর আমরা পেশেন্টকে বলব না যে তার স্বামী এসেছে। একটু সার প্রাইজ থাকা ভাল, বুঝলেন।’ পরমহংস বোঝাচ্ছিল।

    সৌদামিনী কি বুঝলেন তিনি জানেন, মুখে বললেন, ‘যত্তসব।’

    ভিজিটার্সরা লাইন দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে। অনিমেষ দেখছিল। সে নিজে কেন প্রথমেই যেতে পারল না? শুধুই কি মাধবীলতা উত্তেজিত হবে এই ভয়ে, না তার ভেতরে কোন অপরাধবোধ কাজ করছিল? অন্তত গত কয়েকদিনে অর্কর পাশে বসে থেকে তার প্রতিক্ষণ মনে হয়েছে এই জেনারেশনটার কাছে সে হেরে গেছে। যা নেহাতই আকাশকুসুম, যার সঙ্গে মাটির কোন যোগ নেই সেটা তো আকাশকুসুমই, আঁকড়ে ধরার জন্যে সে চোখ কান মন বন্ধ রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পেছনে না তাকিয়ে, যার জন্যে মাধবীলতাদের জীবন দিয়ে দাম দিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ দায়িত্ব তার, অর্করা এখন অনেক বেশী বোঝে। ওই বয়সে সে নিজে এসব কথা চিন্তাও করতে পারত না। কিন্তু জীবনের রূঢ় দিকটা সম্পর্কে অর্করা যতটা জেনে ফেলেছে এবং তাই নিয়ে যেভাবে কথা বলে সেটা ওই বয়সে তার পক্ষে অকল্পনীয় ছিল।

    অনিমেষ নিজের পোশাকের দিকে তাকাল। বেশ ময়লা হয়েছে। অন্তত এরকম ময়লা পোশাকে কোন রোগীর পাশে যাওয়া উচিত নয়। জলপাইগুড়ি থেকে আসার সময় সামনে যা পেয়েছে ঝোলায় ঢুকিয়ে নিয়ে চলে এসেছে। এখানে আসার পর কাচাকাচির বালাই ছিল না। এই কয়দিন খাওয়াদাওয়া সারতে হয়েছে দোকান থেকে কিনে এনে। দুদিন আগে বস্তির একটা মেয়ে এসেছিল দরজায়। অর্ক তখন ঘুমাচ্ছিল। অনিমেষের হাসপাতালে যাওয়ার সময় হয়নি। সকাল আটটা সাড়ে আটটা তখন। মেয়েটি জিজ্ঞেস করেছিল, ‘কেমন আছে ও?’ অনিমেষ তখন জলপাইগুড়িতে একটা চিঠি লেখার কথা ভাবছিল। মুখ ফিরিয়ে মেয়েটিকে দেখে সে অবাক। মেয়েটিকে সে আগে কখনও দ্যাখেনি। কিন্তু মনে হচ্ছিল বিবরণ শুনেছে। উনুনের কারখানায় আড্ডা মারার সময় অনেক গল্প কানে আসতো। ভদ্রতা করে ঘাড় নেড়েছিল সে, ‘ভাল। তুমি কে?’

    ‘আমি এখানেই থাকি।’

    ‘ও!’ অনিমেষ মুখ ফিরিয়ে ভেবেছিল অর্কর তাহলে পরিচিতি বেশ বেড়েছে। অনেকেই খোঁজ নিতে আসেছ। বস্তির লোক তো বটেই, শান্তি কমিটি থেকেও দুবেলা জিজ্ঞাসা করে যাচ্ছে কিছু প্রয়োজন আছে কি না। তবে কোন মেয়ে এই প্রথম এল। অনিমেষের খেয়াল হল মেয়েটি খবরটা জানার পরেও দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। সে জিজ্ঞেস করল, ‘কিছু বলবে?’

    ‘মেয়েটি ইতস্তত করল। তারপর নরম গলায় বলল, ‘আপনাদের খাওয়াদাওয়া?’

    অনিমেষ অবাক হল। তাদের খাওয়া দাওয়া নিয়ে মেয়েটি মাথা ঘামাচ্ছে কেন? সে বলল, ‘বাইরে থেকে এনে খাচ্ছি। এ কথা জিজ্ঞাসা করছ কেন?’

    ‘যদি বলেন আমি রেঁধে দিতে পারি।’

    ‘কেন? তুমি রাঁধবে কেন?’

    ‘এমনি।’

    ‘তোমার নাম কি?’

    ‘ঝুমকি। আপনার ছেলে আমাকে চেনে।’

    ‘ও। না, না। রান্নার কোন দরকার নেই। তুমি যেতে পার।’ অনিমেষ রূঢ় গলায় কথাগুলো বলেছিল। এরকম গায়ে পড়া ভাব তার মোটেই ভাল লাগেনি। মেয়েটি মাথা নিচু করে চলে যাওয়ার পর অনিমেষ দেখল অর্ক তার দিকে তাকিয়ে আছে। সে বিরক্ত হয়ে বলল, ‘ওকে চিনিস?’

    নীরবে মাথা নাড়ল অর্ক, কথা বলল না।

    ‘কে? কোন ঘরে থাকে?’

    ‘এখানেই থাকে। ওর ইচ্ছে ছিল ক্যাবারের ড্যান্সার হবার। হতে পারেনি।’

    হতভম্ব হয়ে পড়েছিল অনিমেষ, ‘তুই জানলি কি করে?’

    ‘জানি!’ চোখ বন্ধ করেছিল অর্ক।

    অনিমেষ আর কোন প্রশ্ন করতে পারেনি। কিন্তু সে আর একবার হেরে গেল। তার মনে পড়ল, বাল্যে কিংবা কৈশোরে সে নিজে মহীতোষ কিংবা সরিৎশেখরকে কখনই বলতে পারত না একটা ক্যাবারে ড্যান্সারের সঙ্গে তার পরিচয় আছে। অথচ অর্কর গলা কাঁপল না। খুব সহজ ভঙ্গীতে খবরটা দিল। সামান্য অপরাধ বোধ নেই।

    হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনিমেষ মনে মনে স্বীকার করল। আমরা যত আধুনিকতার কথা বলি, বিপ্লবের জিগির তুলি ঠিক ততটা যোগ্যতা এখনও অর্জন করিনি। এখনও মনের আড় ভাঙ্গেনি। অর্কর সহজভঙ্গীটা সে এখনও আয়ত্ত করতে পারেনি।

    অর্কর ক্ষত খুব খারাপ অবস্থায় যেত যদি সেই রাত্রেই ডাক্তার ডেকে না আনা হত। বেশ কয়েকটা ইঞ্জেকশন আর ক্যাপসুল গিলতে হয়েছে তাকে। আজ সকালে দেখা গেছে ক্ষত শুকিয়ে গেছে। ব্যাণ্ডেজ খুলে নিয়ে ক্ষতর মুখ তুলো আর প্লাস্টারে চাপা দেওয়া হয়েছে। এসব করতে অনেক খরচ হয়ে গেল। এখন যে কি হবে কে জানে। অনিমেষ হেসে ফেলল। আমরা যত বড় বড় কথা বলি না কেন পকেটে টাকা না থাকলে সেসব এক সময় নিজেকেই গিলে ফেলতে হয়।

    এই সময় পরমহংসর গলা শুনতে পেল অনিমেষ, ‘ভাল আছে, কিন্তু ভীষণ দুর্বল। যা ঝড় গেল মেয়েটার ওপরে। তবে ভাই মাস্টারনি ওখানে গিয়েও দাবড়ে এসেছে। যাবে তো?’

    ততক্ষণে সৌদামিনী এসে পড়েছেন, ‘যান, কি সারপ্রাইজ দেয়ার দিন। তবে এমন দেবেন না যাতে চোখ উল্টে যায়। আমি চলি। এখন তো রোজ আসার দরকার নেই। কাল বিকেলে নীপাকে পাঠিয়ে দেব। যদি কোন প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে জানাবেন। আপনি যাবেন?’

    প্রশ্নটা পরমহংসকে। সে সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় নাড়ল, ‘না না। আপনি এগোন। আমি অনিমেষের সঙ্গে ফিরব।’

    মহিলা চলে যেতে পরমহংস মুখ ফোলাল, ‘ডেঞ্জারাস মহিলা রে। রোজ আমাকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামবাজার পর্যন্ত যেতেন জ্ঞান দিতে দিতে।’

    ‘কি জ্ঞান?’

    ‘কেন পুরুষমানুষদের বিবাহ করা উচিত নয়। দে আর ওয়ার্থলেশ, একটা পুরুষমানুষের চেয়ে ওয়ার্থলেশ জীব নাকি পৃথিবীতে জন্মায়নি।’ মাথা নাড়ল পরমহংস।

    একটা হিমেল বাতাস হাসপাতালের ওপর দিয়ে বয়ে গেল। কলকাতায় এখনও শীত পড়েনি কিন্তু তার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। অনিমেষ ক্রাচ নিয়ে এসেছিল। পরমহংস যে নির্দেশ দিয়েছে সেই মত চিনতে অসুবিধে হচ্ছিল না। কিন্তু সিড়ি ভাঙ্গতে গেলে প্রাণ বেরিয়ে যায়। আরও খারাপ লাগে সেই সময় যদি কেউ সাহায্যের কথা বলে। মনে একটা জেদ কাজ করে তখন, যত নিয়ে এসেছি প্রাণ বেরিয়ে তখন, যত কষ্ট হোক আমি নিজে ওপরে উঠব কারো সাহায্য না নিয়ে।

    লম্বা করিডোরে নানান মানুষের ভিড়। দেখতে দেখতে অনিমেষ সেই হলঘরটার সামনে দাঁড়াতেই একটি নার্স তার দিকে কৌতূহলী চোখে তাকাল। হয়ত তার ক্রাচদুটোর জন্যেই এই কৌতূহল। অনিমেষ তাকে বিছানার নম্বর বলতেই মেয়েটি বলল, ‘আসুন আমার সঙ্গে।’

    একদম কোণের দিকে একটি খাটে যে শুয়ে আছে সে কি মাধবীলতা? মেয়েটি মিষ্টি হেসে চলে যেতে অনিমেষ আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বুক অবধি সাদা চাদরে ঢাকা, কাগজের মত সাদা মুখ, চোখ বন্ধ। শরীরের আদল দেখলে মনে হবে চাদরের নিচে তেরো বছরের কিশোরী শুয়ে রয়েছে। অনিমেষের বুকের ভেতরটা যেন দুমড়ে গেল। মাধবীলতার মুখের সমস্ত সুস্থতা কেউ যেন খাবলে তুলে নিয়েছে। শুধু হাড়ের ওপর চামড়া টাঙানো। অনিমেষ ধীরে ধীরে ব্যবধান কমাল। বিছানার পাশে টুল রয়েছে। খুব সন্তর্পণে সে টুলটায় বসে ক্রাচদুটোকে বিছানায় ঠেস দিয়ে রাখল। মাধবীলতা তখনও জানে না কেউ তার পাশে এসে বসেছে। দুচোখ বন্ধ করে স্থির হয়ে শুয়ে রয়েছে সে। অনিমেষের খুব ইচ্ছে করছিল হাত বাড়িয়ে ওর চিবুক কপাল স্পর্শ করে। তার পাশের বিছানা ঘিরে অনেক মানুষের ভিড়। তারা তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলছে। অনিমেষ চুপচাপ বসে রইল। মাধবীলতার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে শুধু ক্ষরণ হয়ে যাচ্ছিল তার ভেতরে। অদ্ভুত এক আবেগে সমস্ত শরীর থরথরিয়ে কাঁপছে।

    দুটো হাত দুপাশে নেতিয়ে রয়েছে। চাদরের আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে রয়েছে সামান্য। এত সাদা হাতের তেলো আগে দ্যাখেনি অনিমেষ। অত্যন্ত লোভীর মত কিংবা কাঙালের মত সে ধীরে ধীরে মাধবীলতার আঙ্গুল স্পর্শ করল। আঙ্গুলগুলো কেঁপে উঠল সামান্য। অনিমেষ ধীরে ধীরে হাতটা নিজের দুহাতে তুলে নিল। শীতল হাত নিজের উত্তাপের মুঠোয় পূর্ণ মায়ায় ধরে রাখতে চাইল সে। আর তখনই ধীরে ধীরে চোখ মেলল মাধবীলতা। যেন অনেক, অনেক দূর থেকে তাকাচ্ছে সে। দৃষ্টি অস্বচ্ছ। যেন স্পষ্ট চোখে সে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। অথচ প্রাণপণে লক্ষ্যবস্তুকে চিনতে চেষ্টা করছে। অনিমেষ বুঝতে পারল। পেরে কিছু বলতে গিয়ে আবিষ্কার করল তার গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছে না। আচমকা গলায় স্বর আটকে গেছে। সে ঢোক গিলল। তারপর ধীরে ধীরে হাতখানা বিছানায় নামিয়ে দিতেই মাধবীলতার আঙ্গুল তার হাত আঁকড়ে ধরল। শরীরের সমস্ত আলোড়ন মুহূর্তেই স্থির দিঘির মত, অনিমেষ চোখে চোখ রাখল।

    ঈশ্বর মানুষকে যা দেন তার অনেক বেশী কেড়ে নেন। হয়তো মানুষের অতটা পাওনা ছিল না, এবং কিছুকাল বাড়তি ভোগ করায় তাকে গুণাগার দিতে হয়। স্বাস্থ্য সৌন্দর্য সাদা কাগজের মত, যে কোন মুহূর্তে ঈশ্বরের ইচ্ছায় তাতে কালি ঢালা হতে পারে। কিন্তু মানুষের হাতে একটি ব্যাপারে ঈশ্বরের পরাজয় ঘটে যায়। সব ফিরিয়ে নিলেও একটি জিনিসে তিনি কিছুতেই হাত বসাতে পারেন না। সেটি হল মানুষের হাসি। সব হারিয়েও কোন কোন মানুষ সেই হাসির দ্যুতিতে তার হারানো রূপ ঢেকে দিতে পারে। চট করে সে উঠে আসতে পারে স্বমহিমায়।

    এই মুহূর্তে মাধবীলতা তাই পারল। তার অসুস্থ পাণ্ডুর মুখে হঠাৎ ভোরের আলো খেলে গেল। অনিমেষের মনে হল অনেকদিন পর সে স্নিগ্ধ হল। এই হাসি এক লহমায় অনিমেষের সব অপরাধবোধ মুছিয়ে দিল। সে পরম মমতায় মাধবীলতার হাত আঁকড়ে ধরল।

    বালিশে এবার গালের একপাশ চাপা। রুখু চুল অগোছালো। স্থির চোখে তাকিয়ে মাধবীলতা ঠোঁট নাড়ল, ‘কেমন আছ?’

    ঘাড় নেড়ে ভাল বলতে গিয়ে আড়ষ্ট হল অনিমেষ। এই প্রশ্নটা কার করা উচিত ছিল। মৃত্যুর অন্ধকার থেকে ফিরে এসে কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে পৃথিবীর মানুষ কেমন আছে? কিন্তু উত্তর দেওয়া দরকার। আমি ভাল আছি; তোমাকে অসুস্থ দেখে আমার ভাল থাকা কমেনি। কথাটা হয়তো অনেকটাই সত্যি কিন্তু এই মুহূর্তে বলা কি যায়?

    ‘কি হল!’ মাধবীলতার গলার স্বরে দুর্বলতা মাখানো।

    অনিমেষ হাসার চেষ্টা করল। এই হাসিতে যেন অনেক উত্তর দেওয়া যায়। তারপর গাঢ় গলায় বলল, ‘খুব কষ্ট হচ্ছে?’

    নিঃশব্দে ঘাড় নেড়ে না বলল মাধবীলতা। তার হাত তখনও অনিমেষকে আঁকড়ে আছে। চোখ জড়িয়ে রেখেছে অনিমেষের মুখ। তারপর আবার সেই এক প্রশ্ন, ‘বললে না, কেমন আছ?’

    অনিমেষ এতটা ভাবেনি। সে এবার নিচু গলায় বলল, ‘বোঝ না, কেমন থাকতে পারি!’ সঙ্গে সঙ্গে চোখ বন্ধ হয়ে গেল। মুখের সব আলো নিবে গেল। যেন আচমকা আকাশের সব দরজা জানলা বন্ধ হয়ে গেল। অনিমেষ চোরের গলায় জিজ্ঞাসা করল, ‘কি হল, লতা?’

    ততক্ষণে দুচোখ ছাপিয়ে জল গালে নেমেছে। মাধবীলতা ভেজা গলায় বলল, ‘কিন্তু দোষ আমার।’

    কিসের দোষ, কি দোষ? অনিমেষের মাথায় এল না প্রথমে। সে আর একটু ঝুঁকে বলল, ‘কেঁদো না। এখন কাঁদলে শরীর খারাপ করবে।’

    সাদা ঠোঁট কামড়ালো মাধবীলতা নিজেকে স্থির করতে, ‘আমি তোমার কাছে বড্ড বেশী চেয়েছিলাম তাই ভগবান এমন শাস্তি দিলেন।’

    ‘তুমি তো আমার কাছে কিছুই চাওনি লতা!’

    ‘চেয়েছিলাম। তুমি জানো না!’

    ‘তুমি আর কথা বলো না।’

    ‘ঠিক আছে, কিছু হবে না। সে কোথায়?’

    অনিমেষ ইতস্তত করল, ‘ওর শরীরটা খারাপ তাই আমি আসতে নিষেধ করেছি।’

    ‘শরীর খারাপ? কি হয়েছে?’ চোখ খুলল মাধবীলতা এবং উদ্বেগের ছাপ খোদাই হয়ে গেল সারা মুখে।

    ‘এমন কিছু না, সামান্য জ্বরজারি।’

    ‘ও! আমার জন্যে খুব করেছে ছেলেটা।’

    ‘বাঃ। মায়ের জন্যে ছেলে করবে না?’

    ‘সবাই করে?’

    মাধবীলতা আবার চুপ করে গেল। অনিমেষের অস্বস্তি হচ্ছিল। যে কোন কথা মাধবীলতা হঠাৎ এমন একটা জায়গায় এনে দাঁড় করিয়ে দেয় যে তার জবাব দেওয়া যায় না। কিংবা দিতে গেলে নিজেকে খুব খেলো মনে হয়। মাধবীলতা তার কাছে কি চেয়েছিল যা সে জানে না? টাকা পয়সা বা অন্য কিছু কোনদিন সে চায়নি। যদি ভালবাসার কথা ওঠে সে তো ওকে কম ভালবাসেনি। তাহলে?

    ‘কাঁদছ কেন?’

    অনিমেষ চমকে মুখ ফিরিয়ে দেখল অর্ক তার পেছনে দাঁড়িয়ে মাধবীলতাকে প্রশ্নটা করছে। মাধবীলতা চোখ খুলে ছেলেকে দেখে অবাক হয়ে গেল, ‘কই, কাঁদছি কে বলল?’

    দ্রুত পায়ে অর্ক বিছানা-ঘুরে মাধবীলতার ওপাশে হাঁটু গেড়ে বসল। তারপর আঙ্গুলের ডগায় গালের ভেজা জায়গা মুছে নিল, ‘চোখ থেকে জল বের হলে কান্না বলে।’

    ‘তুই কেমন আছিস?’

    ‘ভাল। আমি কখনও খারাপ থাকি না।’

    ‘তোর নাকি জ্বর হয়েছিল?’

    ‘ঠিক জ্বর নয়।’ তারপর অনিমেষের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি তো বলনি মাকে আজ দেখতে দেবে?’

    ‘আমি জানতাম না; এখানে এসে শুনলাম।’ অনিমেষের বলতে ইচ্ছে করছিল যে অর্কর আজই আসা উচিত হয়নি। আর একদিন রেস্ট নেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু কথাটা সে বলতে পারল না।

    দুহাতে মাধবীলতার গলা গাল জড়িয়ে ধরেছিল অর্ক, ‘জানো, আমরা ভয় পেয়েছিলাম তুমি হয়তো বাঁচবে না।’

    ‘মেয়েদের কি অত সহজে মরণ হয়!’

    ‘কেন? মেয়েরা কি?’

    মাধবীলতা হাসল, ‘পাগল! তোর চেহারা কি হয়েছে?’

    ‘যা ব্বাবা! নিজের দিকে তাকিয়ে দ্যাখো। ফ্রক পরলে ক্লাশ সিক্সের মেয়ে মনে হবে। ওঃ, আমার আজ কি ভাল লাগছে না! হঠাৎ মনে হল আজ তোমাকে দেখতে পাব। মনে হতেই চলে এলাম।’

    এই সময় নার্স এগিয়ে এল, ‘ব্যাস। আজকের মত ছেড়ে দিন ওঁকে। আর কথা বলবেন না।’

    অর্ক উঠতে যাচ্ছিল। মাধবীলতা ওর হাত ধরল, ‘আর একটু থাক না।’

    নার্স বলল, ‘না, থাকলেই কথা বলবেন।’

    মাধবীলতা বলল, ‘না, কথা বলব না। শুধু একটু বসে থাকুক।’

    ‘ঠিক আছে। পাঁচ মিনিটের বেশী নয়।’

    নার্স চলে গেলে অর্ক আবার বসল। তারপর ধীরে ধীরে মাধবীলতার কপালে গালে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। অনিমেষের কিছুই করার নেই। সে অপলক এই দৃশ্য দেখছিল। সে নিজে কখনও মাধবীলতার এত কাছে যেতে পারেনি।

    পাঁচ মিনিট হয়ে গেলে অর্ক কথা বলল, ‘তুমি তাড়াতাড়ি ফিরে চল। তোমাকে না পেলে আমার কিচ্ছু ভাল লাগে না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }