Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালপুরুষ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প892 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫৯. একটি অভিনব কাণ্ড আরম্ভ হল

     ঊনষাট

    তিন নম্বর ঈশ্বরপুকুর লেনে একটি অভিনব কাণ্ড আরম্ভ হল। ব্যাপারটা যে এইরকম পর্যায়ে পৌঁছাবে তা অর্ক কখনও চিন্তা করেনি। সেদিন টাকাটা নিতে চায়নি সে। মনে হয়েছিল লোকটা মতলববাজ। নাহলে এইভাবে টাকা দেবার জন্যে দাঁড়িয়ে থাকে? নিশ্চয়ই অন্য কোন ধান্দা আছে।

    সে বলেছিল, ‘যদি আমি ওই টাকায় সারা মাস আপনার পরিবারকে খাওয়াতে পারি তাহলে আপনিও পারবেন।’

    ‘না, আমি পারছি না। তুমি যখন বলেছ পারবে তখন তোমাকে পারতে হবে। নইলে বস্তির সবার সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইতে হবে আমাকে মারার জন্যে। বলতে হবে তুমি অন্যায় করেছ।’

    ‘আমি কোন অন্যায় করিনি। আপনি মদ খেয়ে খিস্তি করছিলেন। আমি যা করেছি তা ঠিক করেছি।’

    ‘তাহলে যা বলেছ তা ঠিকভাবে পালন কর।’

    ‘আপনার মতলবটা কি খুলে বলুন তো?’

    ‘কোন মতলব নেই। তুমি যা বলেছ তাই করো। আমি আর মদ্যপান করব না কথা দিচ্ছি।’

    ‘ঠিক আছে। আপনি আপাতত টাকাটা রাখুন। আমি কাল সকালে আপনার সঙ্গে কথা বলব। আমার মা হাসপাতালে। এখন আমি কিছু ভাবতে পারছি না।’

    ‘সে কথা বললে অবশ্য কিছু বলার থাকে না। তবে আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু তোমাকে টাকাটা নিতেই হবে। নইলে আমি ছাড়বো না। তুমি আমাকে প্রকাশ্যে অপমান করেছ। গুণ্ডা তাড়ালেই কি সব হয় বাবা, আমাদের পেটের ওপর যে গুণ্ডামি হয় সেটা বন্ধ করো আগে তবে বুঝি!’

    ‘ঘরে ঢুকে অর্ক দেখেছিল অনিমেষ শুয়ে আছে। ওকে দেখে বলল, ‘তোদের মিটিং কেমন হল?’

    ‘হল!’ অর্কর মন স্থির ছিল না।

    অনিমেষ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘কি হয়েছে?’

    ‘কিছু না।’

    ‘গোলমাল হয়েছে?’

    ‘না। জানো বাবা, বিখ্যাত মানুষের কাজ আর কথা সব সময় এক হয় না। যাঁরা আজকে আসবেন বলে কথা দিয়েছিলেন তাঁরা কি সুন্দর কেটে পড়লেন। তাঁদের অপরাধ ঢাকতে শান্তি কমিটিকে একগাদা মিথ্যেকথা বলতে হল।’

    ‘তুই কাদের আনতে গিয়েছিলি?’

    অর্ক নামগুলো বলল। এমন কি সেই চিত্রাভিনেতার সঙ্গে তার বাক্যালাপ পরিণামে মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা, কিছুই বাদ দিল না। শুনতে শুনতে অনিমেষ উত্তেজিত হয়ে উঠল, ‘আরে কি আশ্চর্য। এতগুলো বছর হয়ে গেল তবু লোকটা একটুও পাল্টায়নি।’

    অর্ক জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি চেনো ওঁকে?’

    ‘দুদিন দেখেছিলাম। য়ুনিভার্সিটিতে ভিয়েৎনামের ওপর একটা অনুষ্ঠানে ওঁর দল নাটক করেছিল। উনি করেননি। কারণ আমরা ওঁর জন্যে পয়সা দিতে পারিনি। অথচ সেদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়েছিলেন। একগাদা মিথ্যে কথা। সারাটা জীবন লোকটা ভাঁওতা দিয়ে কাটিয়ে গেল? আশ্চর্য!’

    রাত্রে খাওয়া দাওয়া সেরে শুয়ে পড়ার পরও ঘুম এল না। অর্কর মাথার মধ্যে শুধু বুড়োর কথাগুলো পাক খাচ্ছিল। গুণ্ডা তাড়ালেই কি সব হয় বাবা, আমাদের পেটের ওপর যে গুণ্ডামি সেটা বন্ধ করো আগে তবে বুঝি! চোখ বন্ধ করলেই যেন শীর্ণ হাতের মুঠোয় ধরা টাকাগুলো সামনে চলে আসছিল। শেষ পর্যন্ত উঠে বসেছিল অর্ক। সঙ্গে সঙ্গে অনিমেষ জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘ঘুমোসনি?’

    ‘তুমি জেগে আছ?’

    ‘তোর মায়ের কথা ভাবছিলাম। চেহারাটা কেমন যেন পাল্টে গিয়েছে, না?’

    অর্ক বাবার দিকে তাকাল। অন্ধকারে বাবার মুখ দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ তার মনে অন্যরকম অনুভূতি এল। কেমন একটা কষ্ট, বাবার জন্যে একধরনের মমতা যা তার কোনকালে কখনও মনে আসেনি। জলপাইগুড়ি থেকে আসার পর আজ এই মুহূর্তে অর্কর মনে অনিমেষ সম্পর্কে আর কোন ক্ষোভ রইল না। সে কোন জবাব দিল না। অনিমেষ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নিঃশ্বাস ফেলল, ‘জীবনটা মিছিমিছি খরচ হয়ে গেল।’ তারপরেই সে যেন সচেতন হল, ‘তুই ঘুমোসনি কেন?’

    অর্ক কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর ধীরে ধীরে ঘটনাটা খুলে বলল। সব শুনে অনিমেষ জিজ্ঞাসা করল, ‘তুই কি করবি ভেবেছিস?’

    ‘বুঝতে পারছি না। লোকটা যেন আমাকে জব্দ করতে চাইছে।’

    ‘তুই জব্দ হবি কেন?’

    ‘কি করব আমি?’

    ‘তুই চ্যালেঞ্জটা অ্যাকসেপ্ট কর।’ অনিমেষ উত্তেজিত হয়ে উঠে বসল, ‘বিখ্যাত ব্যক্তিরা যেসব থিওরি দিয়ে গেছেন সেসব বাস্তবে সম্ভব হয় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা যাক। কিন্তু একটা ফ্যামিলি নয়। এই বস্তিতে ওইরকম আয়ের পরিবারগুলো একত্রিত করে এই পরীক্ষা চালাতে হবে। অর্ক, আমি তোর সঙ্গে আছি।’

    ‘কিন্তু বাবা, অন্য সবাই রাজি হবে কেন?’

    ‘হবে। কারণ প্রত্যেক মানুষ একটা রিলিফ চায়।’

    সেই রাত্রে অনেকক্ষণ ওদের কথা হয়েছিল। অন্ধকার ঘরে পিতা এবং পুত্র পরস্পরের মুখ দেখতে পায়নি কিন্তু উত্তেজনার স্পর্শ পেয়েছিল। বাবাকে এতটা উৎসাহিত হতে অর্ক কখনও দ্যাখেনি।

    পরের দিন সকালে দ্বিতীয় ব্যক্তিটি স্বেচ্ছায় এগিয়ে এলেন। দরজায় দাঁড়িয়েছিল হরিপদ। বউ মারা যাওয়ার পর লোকটার দেখাই পাওয়া যেত না। এখন ন্যাড়াই যেন অনেক বেশী সাবালক হয়ে গেছে। অনুপমা আসে যায়। দরজায় দাঁড়িয়ে হরিপদ তার প্রায় মিনমিনে গলায় বলল, ‘একটু কথা আছে।’

    অর্ক তাকাল। খোঁচা খোঁচা সাদা দাড়ি নিয়ে লোকটা ভয়ে ভয়ে তাকাচ্ছে। এই পৃথিবীতে যেন মানুষটার জোর করে বলার কিছু নেই। সে দাঁড়াতেই হরিপদ এগিয়ে এল, ‘সত্য মিথ্যে জানি না, তুমি নাকি দুশো টাকা দিলে একটা পরিবারকে সারা মাস খাওয়াবে। শুনলাম কিন্তু বিশ্বাস হল না। সত্যি?’

    অর্ক মাথা নাড়ল, ‘অনেকটা তাই। তবে পরিবার বলতে যদি একশজন মানুষ হয় তাহলে পারব না।’

    ‘আমার তো বেশী লোক নেই। সে চলে গেছে। অনু তো এখন শ্বশুরবাড়িতে, থাকার মধ্যে আমি আর ওরা তিনজন। খুব বেশী হবে?’

    ‘না।’ অর্ক মাথা নেড়েছিল।

    ‘তাহলে বাবা তুমি আমাকে উদ্ধার করো। আমি আর বোঝা টানতে পারছি না। যে ক’দিন আছি তোমার ওপর দায়িত্ব দিলাম। কিন্তু একটা কথা, তুমি আগ বাড়িয়ে দায়িত্ব নেবে কেন?’

    ‘কেন বলুন তো?’

    ‘সেটাই তো বুঝতে পারছি না। এতে কি তোমার কোন লাভ হবে? আমি নিজে দুশো টাকায় ওদের মুখ বন্ধ করতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি—তুমি কি করে তা থেকে লাভ করবে? আমার মাথায় ঢুকছে না।’

    ‘থাক।’ অর্ক হেসে ফেলল, ‘এ নিয়ে চিন্তা করে কি হবে। আমি লাভ করলে তো আপনার আপত্তি নেই!’

    ‘না আপত্তি কিসের! শুধু ওরা যেন দুবেলা পেট ভরে খেতে পায়।’

    ‘আমি এখনই আপনাকে কথা দিচ্ছি না। তবে পেট ভরে খাওয়া মানে খুব সাধারণ খাওয়া। এই নিয়ে কারো কোন নালিশ করা চলবে না। আসলে যাঁদের পুরো মাস খাওয়া জোটে না তাঁরাই আসতে পারেন।’

    ‘বুঝেছি, বুঝেছি। আমি বলছি না তুমি পোলাও কালিয়া খাওয়াবে। দুবেলা পেট ভরলেই হল।’

    খবরটা যেন তিন নম্বরে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। সবাই অর্ককে জিজ্ঞাসা করছে কথাটা সত্যি কিনা। দেখা যাচ্ছিল বেশীরভাগ পরিবার যেন নিজেদের কাঁধ থেকে দায়িত্ব নামিয়ে দিতে পারলে বাঁচে। আবার উল্টো সন্দেহের কথাও কানে আসছিল। হাসপাতালে যাওয়ার আগে অর্ক শান্তি-কমিটির অফিসে গেল। কয়লার বিরুদ্ধে এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষে কয়েকটি মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার খরচ চালানোর জন্যে চাঁদা তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুবল সতীশদা সে ব্যাপারে ব্যস্ত। একটু ফাঁক পেলে অর্ক ওদের কাছে কথাটা তুলল।

    সুবল বলল, ‘তুমি ক্ষেপেছ? সাধ করে এসব ঝামেলায় কেউ জড়ায়? দুদিন বাদে সবাই বদনাম দেবে। তাছাড়া অন্যের হাতে টাকা তুলে দিলেই মানুষের মনে বাবুয়ানা এসে যায়। তখন দেখবে হুকুম করবে।’

    অর্ক বলল, ‘কিন্তু যদি করা যায় তাহলে মানুষগুলোর সত্যিকারের উপকার হতো। এদিকের সমাজবিরোধীরা তিন নম্বরের অভাবকে কাজে লাগায়। যদি পেট-ভরা খাবার পায় তাহলে—।’

    ‘বোকার মত কথা বলো না। আমরা মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যায় নাক ঢোকাতে চাই না। তাছাড়া দুশো টাকায় চারজন মানুষকে তুমি কিভাবে খাওয়াবে যদি তারা সেটা নিজেরা না পারে!’

    অর্ক বলল, ‘আমি কালকে হিসেব করেছি। সেটা সম্ভব। অনেক মানুষ একসঙ্গে খেলে সেটা সম্ভব। আর তার ওপরে যদি বাইরের সাহায্য পাওয়া যায় তাহলে তো কথাই নেই।’

    ‘কিন্তু আলটিমেট লাভ কি হবে?’

    ‘সবাই যদি একত্রিত হয়, একটা পরিবারের মত সম্পর্ক হবে। এখন যেসব কাজ করা সম্ভব নয় তখন সেটা সহজ হবে।’

    সুবল বলল, ‘আকাশকুসুম কল্পনা।’

    এইবার সতীশদা কথা বলল, ‘অর্ক, তোমার মাথায় কমিউনের চিন্তা কে ঢোকাল? তার জন্যে একটা রাজনৈতিক শিক্ষা প্রয়োজন।’

    অর্ক উঠে দাঁড়াল, ‘যদি বাইরের গুণ্ডামি রুখতে আমরা কোন রাজনৈতিক শিক্ষা ছাড়া এক হতে পারি তাহলে পেটের খিদে মেটাতেও এক হতে পারব। দেখি কি করা যায়!’

    সুবল বলেছিল, ‘অর্ক, এটা তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। শান্তি কমিটিকে এর সঙ্গে জড়িও না। এতবড় একটা ব্যাপার সামলাতে আমরা নাস্তানাবুদ হচ্ছি।’

    এইসব কথা শুনে অর্কর জেদ আরও বেড়ে গেল। ওরা যদি যুক্তি দিয়ে তাকে বোঝাতো সে মেনে নিত। কিন্তু শুধুই সমালোচনা, ঝামেলা এড়িয়ে যাওয়ার জন্যে উপদেশ—এগুলো শুনলেই মনে অন্য রকম প্রতিক্রিয়া হয়।

    হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে তার জন্যে অন্য বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। গেটের কাছে বিলু দাঁড়িয়ে, একা।

    অর্ক অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘থানায় যাসনি?’

    হাসল বিলু, ‘গিয়েছিলাম। শালারা আমাকে পছন্দ করল না।’

    ‘মানে?’

    ‘মানে আবার কি? বলল, শান্তি কমিটির লিস্টে যদিও আমার নাম আছে কিন্তু কোন ঠিকঠাক অভিযোগ নেই। একরাত হাজতে রেখে বলল, যা শালা, শান্তি কমিটির সঙ্গে বোঝাপড়া করে নে।’

    ‘কোয়া?’

    ‘ওকে ধরেছে। খুব আদর করছে। গুরু, আমি কয়লার সঙ্গে কদিন মাল টানার ব্যবসা করেছি, গুণ্ডামি তো করিনি। এখন কি হবে?’

    ‘যা তাহলে শান্তি কমিটির কাছে। গিয়ে বল।’

    ‘আমি একা পাড়ায় ঢুকতে সাহস পাচ্ছি না।’

    ‘অর্ক বিলুর দিকে তাকাল, ‘তুই সত্যি থানায় গিয়েছিলি তো?’

    চোখ কপালে তুলল বিলু, ‘আই বাপ! আমি কি মিথ্যেকথা বলছি? তুমি আমার সঙ্গে থানায় চল তাহলে।’

    ‘ঠিক আছে। তুই আমার সঙ্গে পাড়ায় চল।’

    ফেরার পথে অর্ক বিলুকে ঘটনাটা বলল। তার মাথায় যে জেদ চেপেছে সেই কথাও। বিলু বলল, ‘কাজটা ভাল, কিন্তু মুনাফা?’

    ‘কিসের মুনাফা?’

    ‘মাল আসবে এ থেকে?’

    ‘ভ্যাট। আমি চাইছি তিন নম্বরের গরীব মানুষগুলো দুবেলা পেট ভরে খেয়ে বাঁচুক। তাহলেই পরিবেশটা পাল্টে যাবে। এর পরে আমরা তিন নম্বরের বেকার ছেলেদের নিয়ে আরও কিছু করতে পারি।’

    বিলু হাল ছেড়ে দিল, ‘আমি আর পারছি না। ক’দিন চোরের মত ঘুরে ঘুরে পাগলা হয়ে গেছি। ঠিক আছে, এখন তুমি যা বলবে আমি তাই করব। এতে তো পাড়ায় থাকা যাবে।’

    বিলুকে নিয়ে শান্তি কমিটির সঙ্গে অর্কর একটু ঝামেলা হল। যতক্ষণ না বিলু সমাজবিরোধী নয় বলে প্রমাণিত হচ্ছে ততক্ষণ তাকে পাড়ায় ঢুকতে দিতে শান্তিকমিটি চায়নি। অর্ক বলেছিল, ‘ও যে সমাজবিরোধী সেটা প্রমাণ করুন আগে। পুলিস যখন বলেছে কোন কেস নেই তখন আমরা কি করতে পারি। তাছাড়া এ ব্যাপারে যা শাস্তি পাওয়ার ও পেয়েছে।’

    শেষ পর্যন্ত ঠিক হল, বিলুর সমস্ত দায়িত্ব অর্কর। ভবিষ্যতে যদি বিলু কোন কাজ করে তবে তার জন্যে অর্ক দায়ী থাকবে। বিলুকে দিয়ে অর্ক প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিল, অন্তত মাসখানেক সে অন্য কোন ধান্দায় যাবে না। অর্ক যা বলবে তা শুনতে হবে।

    কিন্তু এর মধ্যেই তিন নম্বরে একটা আলোড়ন উঠেছে। অর্ককে প্রতিনিয়ত নানান প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনিমেষের সঙ্গে কথা বলে অর্ক শেষ পর্যন্ত পা বাড়াল। তিন নম্বরের মাঝখানে যে জলের কল আছে তার পাশে খানিকটা খোলা জায়গায় মেয়েরা গল্প করত। সেই জায়গাটিকে নির্বাচন করা হল। ঈশ্বরপুকুর লেনের একমাত্র ডেকোরেটরের দোকান থেকে ত্রিপল ভাড়া করে আনা হল। সেই সঙ্গে বড় বড় হাঁড়ি কড়াই। ঠিক হল, মাসকাবারে ভাড়া দেওয়া হবে। ছ’টি পরিবার এগিয়ে এসেছিল অর্কর কাছে। তাদের কাছে মাথাপিছু পঞ্চাশ টাকা করে নেওয়া হল। বিলুকে ক্যাশের ভার দিল অর্ক। প্রথমে দ্বিধা এবং নিরাসক্তি কাজ করলেও হঠাৎই যেন খুব উৎসাহিত হয়ে পড়েছে বিলু। চিৎকার চেঁচামেচি করে খাটছে, খাটাচ্ছে। ন্যাড়াকে সঙ্গে পাওয়া গেল। বিলু আসার পর ন্যাড়া সঙ্গে সঙ্গে ঘুরছে। কিন্তু রান্নার লোক নিয়ে সমস্যা হল। ন্যাড়া এবং অর্কর বাড়িতে কোন মহিলা নেই এই মুহূর্তে যে রান্না করতে পারে। অন্য চারটি পরিবারের মেয়েরা এত লোকের রান্না করতে রাজি নয়। তারা নানা রকম বাহানা করতে লাগল। রান্নার মেনু কি হবে তা নিয়েও মতবিরোধ শুরু হল। শেষ পর্যন্ত অর্ক বলল, ‘আমার হাতে যখন আপনারা টাকা দিয়েছেন তখন আমি যা বলব তা আপনাদের শুনতে হবে। এই টাকায় যা খাওয়ানো সম্ভব তাই ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা অভুক্ত থাকবেন না এই কথা ছিল। এর বেশী কিছু চাইলে সম্ভব নয়।’

    অসন্তোষ চলছিল। যদিও মুখ ফুটে কেউ কিছু বলছিল না। অর্কর মুখের দিকে সেই মাতাল বুড়ো পিটপিটিয়ে তাকায়, ভাবখানা, কি হে কেটে পড়বে নাকি? তাহলে আমি কিন্তু ছাড়ব না।

    অর্কর লোকটাকে দেখলেই জেদ বেড়ে যায়। সে ঠিক করল যেমন করেই হোক একটা মাস অন্তত চালাতে হবে। কিন্তু রাঁধবে কে?

    সেদিন বিকেলে হাসপাতালে শুয়ে মাধবীলতা হেসে বলল, ‘আমার হাতের রান্না যদিও খুব খারাপ তবু একবার চেষ্টা করতে পারি।’

    অর্ক আঁতকে উঠল, ‘তুমি রাঁধবে? মাথা খারাপ।’

    ‘কেন? আমি তো ভাল হয়ে গিয়েছি।’

    কথাটা অর্ধসত্য। মাধবীলতার এখন তেমন কোন অসুবিধে না থাকলেও শরীর প্রচণ্ড দুর্বল। এখনও সাদাটে ভাব রয়েছে। সেলাই কাটা হয়েছে। ডাক্তার অবশ্য কিছুদিন রেখে দিতে চাইছেন কিন্তু মাধবীলতা ছটফট করছে বাড়িতে ফিরবার জন্যে।

    হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অর্ক দেখল ঝুমকি আসছে। সেই দিনের পর এই প্রথম ঝুমকিকে দেখল সে। তাকে দেখে ঝুমকি এমন ভঙ্গীতে ট্রামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল যাতে বোঝা যায় এড়াতে চাইছে। অর্ক খানিকটা দৌড়ে ওকে ধরে ফেলল, ‘কি ব্যাপার?’

    ‘কিসের কি ব্যাপার?’

    ‘আমাকে দেখে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছিল কেন?’

    ‘আমার কি দরকার পড়েছে এড়িয়ে যাওয়ার?’

    ‘কি ব্যাপার বলো তো, রাগ করেছ?’

    ‘আমার রাগের আর কি দাম আছে?’

    ‘বুঝেছি। যাচ্ছ কোথায়?’

    ‘যেখানে ইচ্ছে!’

    ‘এত সেজেগুজে?’

    ‘আমাদের সাজ না দেখলে তো কেউ পকেটে হাত দেবে না।’

    ‘মানে?’

    ‘মানে বোঝার মত যথেষ্ট বয়স হয়েছে। ছেড়ে দাও পথ, আমি যাব।’

    ‘তুমি সেই ক্যাবারে ড্যান্সারের কাছে যাচ্ছ?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কেন? তুমি তো ছেড়ে দিয়েছ সেসব।’

    ‘আমি কোনদিন ড্যান্সার হতে পারব না। কিন্তু আমাদের পেট তো এই কথা শুনবে না। কদিন ধরে বাড়িতে বসে বসে আর সহ্য করতে পারছি না।’

    ‘তাই শরীর বিক্রি করতে বেরিয়ে পড়লে?’

    ‘নইলে এই শরীরটাকে দড়িতে ঝোলাতে হয়।’

    ‘ঘেন্না করে না তোমার?’

    হঠাৎ ঝুমকির মুখ শক্ত হয়ে গেল, ‘অন্য কেউ হলে আমি জবাব দিতাম। তোমার বাবাও তো আমাকে ঘেন্না করেন, তাই না। আমার হাতের রান্না খেতে তাঁর আপত্তি। শোন, এছাড়া আমার কোন উপায় নেই।’

    অর্ক হতভম্ব হয়ে গেল। তার পর সে মাথা নাড়ল, ‘তোমার যাওয়া চলবে না।’

    ঝুমকি হাসল, ‘গায়ের জোরে? এখনই সমাজবিরোধী বলে চেঁচাব নাকি?’

    ‘সমাজবিরোধী?’ অর্ক হেসে ফেলল, ‘ভাল বলেছ। কে সমাজবিরোধী নয় সেটাই বোঝা মুশকিল। গায়ের জোর খাটাবো তেমন জোরও নেই। কিন্তু তুমি না গেলে আমার ভাল লাগতো। তুমি নষ্ট হয়ে যাবে।’

    তবু তো বেঁচে থাকব। বাঁচাতে পারব। আমি দুদিন কিছু খাইনি।’

    হঠাৎ অর্কর মাথায় একটা চিন্তা পাক খেয়ে গেল। সে গাঢ় গলায় বলল, ‘আমি যা বলব তা তুমি শুনবে?’

    ‘কি?’

    ‘তুমি আমার সঙ্গে ফিরে চল।’

    ‘তারপর?’

    ‘আমার সঙ্গে কাজ করো।’

    ‘কি কাজ?’

    ‘আমি যা বলব তাই। তুমি আমাকে সাহায্য করবে না?’

    ‘তাতে আমার কি লাভ?’

    অর্ক বলল, ‘বুঝিয়ে বলছি। তুমি আমার সঙ্গে ফিরবে?’

    ঝুমকির ইতস্তত ভাবটা যাচ্ছিল না। একটা ট্রামকে চলে যেতে দেখল সে। তারপর যেন অনিচ্ছায় অর্কর সঙ্গে হাঁটতে লাগল। অর্ক সেটা লক্ষ্য করল, ‘তুমি কি খুব বড়লোক হতে চাও?’

    ‘কে বলেছে! আমি স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চাই।’

    ‘তুমি নিশ্চয়ই শুনেছ আমরা তিন নম্বরে কি করতে যাচ্ছি?’

    ‘শুনেছি। কিন্তু সেই টাকাটা দেবার সামর্থ্য আমার নেই।’

    ‘তোমার কাছে টাকা চেয়েছে কে?’

    ‘মানে?’

    ‘তুমি রান্নার ভারটা নাও।’

    ‘রান্না?’

    ‘হ্যাঁ, সেদিন আমাদের দুজনের ভাত রাঁধতে চেয়েছিলে আজ এই বড় দায়িত্বটা তোমাকে নিতে হবে।’

    ‘এত লোকের রান্না আমি রাঁধতে পারব?’

    ‘তুমি একা থাকবে না। তুমি এগিয়ে এলে অন্য মেয়েরাও আসবে। তোমার ওপর ভার থাকলে আমি নিশ্চিন্ত হতে পারি।’

    ‘কিন্তু?’

    ‘তোমাদের খাওয়াবার দায়িত্ব আমাদের। তোমরা তো তিনজন?’

    ঝুমকি হাসল, ‘অন্য কেউ হলে না বলতাম। কিন্তু এতে কি আমাদের অভাব মিটবে। নাহয় খালিপেটে থাকতে হল না।’

    ‘সেটা তো কম কথা নয়। পেট ভর্তি থাকলে অন্য কাজের কথা চিন্তা করতে অসুবিধে হয় না। কি, রাজি?’

    ঝুমকি মুখ তুলে তাকাল। তার রঙকরা মুখটা হঠাৎ যেন স্বাভাবিক হওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। সে বলল, ‘হ্যাঁ।’

    a

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালবেলা – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ৫ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }