Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এক পাতা গল্প174 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চাঁদের অমাবস্যা – ১১

    এগার

    কাদের তার জন্য অপেক্ষা করেছিল। যুবক শিক্ষক ঘরে প্রবেশ করলে সে এক পলকের জন্যে তার দিকে চোখ তুলে তাকায়, কিন্তু কিছু বলে না। জানালাটি বন্ধ বলে ঘরে আবছা অন্ধকার। সে-জন্যে তার চেহারা ভালো করে দেখা না গেলেও যুবক শিক্ষক তাতে কেমন স্তব্ধতা অনুভব করে।

    একটু ইতস্তত করে যুবক শিক্ষক টেবিলের পাশের ছোট নড়বড়ে চেয়ারটি টেনে নিঃশব্দে সোজা হয়ে বসে। কয়েক মুহূর্ত নীরব থেকে আপনা থেকেই খোশ মেজাজে ঘোষণা করে, ‘একটু বেড়িয়ে এলাম।’

    কাদের এবারও কিছু বলে না। একটু পরে যুবক শিক্ষক সংগোপনে তার দিকে তাকায়। কাদেরের মুখটা সামান্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাতে নিঃসন্দেহে স্তব্ধভাব। তারপর সে তার অর্ধনিমীলিত চোখের দিকে তাকায়। সে-চোখের দিকে তাকিয়ে যুবক শিক্ষক হঠাৎ যেন তার অর্থ বুঝতে পারে। সে- চোখ এ-দুনিয়া সে-দুনিয়া, এপার-ওপার দু-দুনিয়া দু-পারই দেখে। জেগে থেকেও কাদের ঘুমিয়ে, ঘুমিয়েও সে জেগে। তার রাতে সূর্য অস্ত যায় না, আবার প্রখর সূর্যলোকে রাতের অবসান হয় না। তার দৃষ্টি অস্তিত্বের এমনই একটি ক্ষেত্রে নিবন্ধ যেখানে জীবনমৃত্যুর মধ্যে কোনো ব্যবধান নাই, যেখানে দুটিই যুগপৎ সত্য, দুটিই একত্রে বিরাজ করে। বিস্ময় কি যে কাদেরকে বুঝবার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই অবাস্তব জগতে প্রবেশ করেছিল।

    যুবক শিক্ষক কাদেরকে দেখে খুশিই হয়েছিল। তাকে তার শেষ প্রশ্নটি করা বাকি। কিন্তু এবার তার চোখ-মুখের দিকে তাকিয়ে তার মনে হয়, আর প্রশ্নের কী দরকার? মনের অশান্তি কেটেছে। তার জীবনে যে-ফাটল ধরেছিল, সে-ফাটলে আবার জোড়া লেগেছে। কেন সে তাকে ব্যক্ত করবে?

    আবার সে অনেকটা অকারণে বলে, নদীর ধারে একটু বেড়িয়ে এলাম।’

    কাদের পূর্ববৎ নির্বাক থাকে। কিন্তু নদীর কথায় তার চোখে যেন ঈষৎ কম্পন দেখা যায়।

    না, তবু তাকে প্রশ্নটি করতে হবে। তার শেষ প্রশ্ন। সে-প্রশ্নের পরেই কাদের খালাস পাবে। সন্তোষজনক উত্তর পাবে তাতে সন্দেহ নাই, কিন্তু কথাটি মুখ থেকে না শোনা পর্যন্ত সে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হতে পারে না। সে কি একটা বিরাট দায়িত্বের বোঝা ঘাড়ে নেয় নাই? মায়ামমতার কারণেই সে তাকে নির্দোষ বলে গ্রহণ করবে—এ-সিদ্ধান্তের অর্থ কি এই নয় যে, সে নিজেকে নিজেই বিচারকের পদে নিযুক্ত করেছে? কে সে? একজন দরিদ্র শিক্ষক মাত্র, শিক্ষকতা করলেও যার জ্ঞানবুদ্ধি-অভিজ্ঞতা নেহাৎই সীমাবদ্ধ। তাছাড়া, অন্যদিক থেকে কথাটা ভেবে দেখলে এই মনে হয় না কি যে, দায়িত্বটি গ্রহণ করে খোদার চেয়ে বান্দাকেই সে বড় করে দেখছে? স্রষ্টার চোখে তাঁরই সৃষ্ট মানুষের প্রাণহরণ অতীব জঘন্য অপরাধ। সে- অপরাধের গুরুত্ব তিনিই সম্যকভাবে নির্ণয় করতে পারেন, তিনিই কেবল বলতে পারেন কোনো মানুষের অন্তরে কতখানি দয়ামায়া, কতখানি নির্দয়তা। যে-কথা যুবক শিক্ষক কাদেরের বিবৃতিতে এবং আচরণে সাব্যস্ত করবে, সে-কথা তার কাছে বিনা চেষ্টায় সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পাবে। যুবক শিক্ষক কি বিশ্বাসী নয়?

    শেষোক্ত প্রশ্নটি তাকে বিচলিত করে। ক্ষণকালের জন্যে তার মনে হয়, এ-প্রশ্নের জবাব সে দিতে পারবে না।

    নিশ্চিত জয়ের সামনে দাঁড়াবার পর আকস্মিকভাবে এবং অপ্রত্যাশিত কোণ থেকে একটি দুর্লঙ্ঘনীয় বাধা এসে হাজির হলে মনে ক্ষোভদুঃখের সৃষ্টি হয়। সে-ক্ষোভদুঃখ সাময়িক বিহ্বলতা আনলেও পরে আবার যে-কোনো প্রকারে বাধাটি অতিক্রম করার জন্যে একটি অন্ধ জিদ চাপে, মানুষ মরিয়া হয়ে ওঠে। যুবক শিক্ষকের মনে সন্ত্রাস সৃষ্টি হয় এই ভেবে যে, দুর্বহপ্রায় যে-দায়িত্বটি সে গ্রহণ করেছে এবং যে-দায়িত্ব সে কৃতকার্যতার সঙ্গে প্রতিপালন করতে পারবে বলে তার বিশ্বাস, সে-দায়িত্বটি যেন হাত থেকে শেষ মুহূর্তে খসে যাবে। কিন্তু এখন দায়িত্বটি ছাড়তে সে রাজি নয়।

    না, সে অবিশ্বাসী নয়, কারণ বিশ্বাসী হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সে এ-বিষয়ে সজ্ঞান যে, তার বিশ্বাসটি প্রশ্নহীন। যেখানে বিশ্বাসটি থামে তার ওধারে কী আছে সে জানে না। সে-কথা তার জানবার ক্ষমতা নাই, জানবার চেষ্টাও সে করে না। কেন করবে? অন্ধবিশ্বাস দাবি করে দৃষ্টিশক্তি আশা করা অনুচিত। কিন্তু যে-ক্ষুদ্র জগতে মানুষ বিচরণ করে সে- জগতের কোথায় ভালো কোথায় খারাপ সে-কথা বিচার করার ক্ষমতা মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া উচিত নয়। সে-ক্ষমতাটুকু হারালে মানুষ অতিশয় সীমাবদ্ধ প্রাণীতে পরিণত হবে। যুবক শিক্ষক কী চায়? সে চায় একটি কথা বিচার করতে : কাদের মানুষ কি অমানুষ, তার হৃদয়ে ভালবাসা- দয়ামায়ামমতা আছে, না তাতে কেবল নির্দয়তা। মানুষের কর্তব্য মানুষকে ভালবাসা, তার সঙ্গে স্নেহের নীড় বাঁধা, তাকে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করা। সে- বিষয়ে কে সফল হয়েছে কে হয় নাই, সে-কথা মানুষই বিচার করবে, কারণ মানুষের ভালোমন্দে মানুষেরই লাভ-লোকসান। যুবক শিক্ষক এ-কথা জিজ্ঞাসা করছে না সৃষ্টিকর্তা কেন কাউকে ভালো করেন কাউকে খারাপ করেন : তাঁর গূঢ় উদ্দেশ্য সে বোঝে না। শুধু মানুষের ভালোমন্দ বিচারের অধিকার চায়।

    হঠাৎ সভয়ে যুবক শিক্ষক ভাবে, এমন সব কথা সে কখনো ভাবে নাই। সে কি পাগল হয়েছে? বাঁশঝাড়ের ঘটনাটি কি তার মস্তিষ্কবিভ্রান্তি ঘটিয়েছে?

    কিন্তু অপরপক্ষকে শান্ত করবার জন্যেই যেন প্রশ্নটি তোলে। তার যুক্তির জন্যে সে মনে কোনো অনুশোচনা বোধ করে না।

    আর ভাববার সময়ও পায় না। হঠাৎ কাদের সম্বন্ধে সচেতন হয়ে তার দিকে তাকায়। কাদেরের দৃষ্টি তার ওপর নিবদ্ধ। সে-দৃষ্টিতে কেমন যেন সন্দেহ। চোখাচোখি হতেই সে চাপা, খখনে গলায় প্রশ্ন করে, ‘কী অত চিন্তা করেন?’

    উত্তর না দিয়ে যুবক শিক্ষক একটু হাসবার চেষ্টা করে, কিন্তু সামান্য মুখব্যাদান করে নিরস্ত হয়। তারপর তার দিকে না তাকিয়ে আস্তে বলে, ‘এসেছেন, ভালোই হয়েছে। আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চাই।’

    সূর্যাস্তের দেরি নাই। উঠানে যে-অংশটি দৃষ্টিগত হয় সেখানে কয়েক মুহূর্তের জন্যে দুটি গরু, তারপর একটি রাখালমানুষকে দেখা যায়। হঠাৎ যুবক শিক্ষকের সন্দেহ হয়, প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করার জন্যে সময়টি কি উপযুক্ত? কিন্তু তার সময় নাই। দাদাসাহেবকে একটা উত্তর দিতে হবে। তাছাড়া, উত্তরটি জানবার জন্যে তার মনেও ঔৎসুক্য কম নয়। তবু মনে দ্বিধা হয়। উত্তরটি যে সুখবর হবে তা জেনেও প্রশ্নটি করতে তার ভয় হয়। কয়েক মুহূর্ত সে নিশ্বাস বন্ধ করে রাখে। তারপর সে ভাবে, তার বিশ্বাসটি যদি অসত্য প্রমাণিত হয়, তবে বাইরের পৃথিবীই ধূলিসাৎ হবে, তার কোনো ক্ষতি হবে না; সে-ধ্বংসলীলা তার চুল পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারবে না। তারপর তার চিকন নাসারন্ধ্র যেন সতর্কিতভাবে কেঁপে ওঠে। নিঃশব্দে সে নিশ্বাস নেয়, শূন্য বুক ভরে ওঠে।

    ‘একটা কথা জানা বড় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’

    কাদের নীরব হয়ে থাকে। তার নীরবতায় যুবক শিক্ষক কিছুটা দমিত হয়। কাদের যদি একবার জিজ্ঞাসা করত কী সে-কথা যা যুবক শিক্ষকের জানা বড় প্রয়োজন, তবে আপনা থেকেই প্রশ্নটি বেরিয়ে আসত। জিহ্বার ডগায় সে-প্রশ্ন, সামান্য পালকস্পর্শই যথেষ্ট।

    কাদেরের দিকে চেয়ে সে প্রশ্ন করে, ‘আপনি কেন এসেছেন?’

    কাদের অর্ধনিমীলিত চোখে প্রশ্নটা ভেবে দেখে। তারপর চোখ বন্ধ করে বলে, ‘আপনার কথাই বলেন।’

    তার কণ্ঠের আওয়াজে কেমন প্রশ্রয়ের আভাস। কিন্তু মনে হয়, চোখ বন্ধ করেও সে যেন স্থির নির্নিমেষ দৃষ্টিতে যুবক শিক্ষকের দিকে তাকিয়ে আছে, তার কথা শোনবার জন্যে কানও খাড়া করে রেখেছে। সে যেন আজ দু-জগতের বাসিন্দা আর নয়। মুহূর্তের জন্যে যুবক শিক্ষকের মনে ভয়ের আবির্ভাব হয়। সে ভাবে, তার মাথায় এ কী অদ্ভুত খেয়াল জন্মেছে? কেন সে কাদেরকে প্রশ্ন করতে চায়? অকস্মাৎ আগাগোড়া সমস্ত ব্যাপারটিই যেন অর্থহীন মূল্যহীন মনে হয়, তার সত্যাসত্য বিচার করার কথাও নিতান্ত অহেতুক মনে হয়। তবু একটা হদিস পাবার আশায় সে কাদেরের দিকে তাকায়। তার চোখ পূর্ববৎ নিমীলিত, সারা শরীরে পাথরের মতো নিশ্চলতা। এবার যুবক শিক্ষকের মনে হয়, সে নিশ্চলতার সামনে বেশিক্ষণ সে স্থির হয়ে থাকতে পারবে না, হঠাৎ একটা দুর্বার স্রোত এসে তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। কাদের কিছু বলে না কেন? তার মনেও কি একটি নিদারুণ ভয় উপস্থিত হয়েছে? প্রশ্ন করতে যুবক শিক্ষকের মনে যেমন ভয়, প্রশ্ন শুনতেও তার মনে কি তেমনি ভয়? দু-জনের মনেই ভয়। তবে একই ভয় : দু-ভয়ে কোনো তারতম্য নাই। তাদের পক্ষে পরস্পরকে সাহায্য করা সম্ভব নয় কি?

    একটা গভীর নিঃসঙ্গতাবোধে নিঃসাড় হয়ে থেকে কাদেরের মতো সেও চোখ নিমীলিত করে। এবার চারধারে ঘন-কালো অন্ধকার জাগে, নীরবতাও যেন নিবিড় হয়ে ওঠে। সে ভাবে, তারা আক্রমণ-উদ্যত শত্রু নয়, বন্ধু। তবে দু-জনেই নিঃসঙ্গ, কী একটা প্রশ্নের জন্যে ঘনতমসার মধ্যে হাতড়িয়ে ফিরছে। যা খুঁজছে তা না পেলেও তারা যদি পরস্পরের হাত ধরতে পারে, শুধু একটু সময়ের জন্যে, একটি মুহূর্তের জন্যে, তবে ক্ষীণতম হলেও তবু তারা একটা আলো দেখতে পেত।

    যুবক শিক্ষকের ঠোঁটটা একটু কেঁপে ওঠে। কেন কথা বলছে সে-কথা বুঝতে না পারলেও ঘন অন্ধকারের মধ্যে সে এবার বলে, ‘আপনি সব কথাই বলেছেন কিন্তু একটা কথা বলেন নাই।’

    কাদের উত্তর দেয় না। কিন্তু যুবক শিক্ষক কোনো উত্তর বা উক্তির জন্যে অপেক্ষা করে না। আবার বলে, ‘কথাটা কী করে বলি?’ মুখটা তার সামান্য লাল হয়ে ওঠে। তারপর সে বলেই ফেলে, ‘যুবতী নারীর প্রতি আপনার মায়ামমতার কথা বলেন নাই।’

    কথাটা সে অবশেষে বলেছে। কেমন অসংলগ্ন শোনায়, কিন্তু ঘনতমসার মধ্যে কোন কথা অসংলগ্ন শোনায় না? যুবক শিক্ষক স্থির হয়ে থাকে। তারপর সে অপেক্ষা করে। অন্ধকারটা হাল্কা হয়ে উঠেছে, শীঘ্র সে যেন আলোতে ভেসে উঠবে, আবার চাঁদ-তারা আকাশ দেখতে পাবে। কোনো উত্তর না পেলে সে এবার চোখ খুলে তাকায়। অদূরে ছায়াটি এখনো নিশ্চল হয়ে আছে।

    কাদেরের চোখ উন্মুক্ত। সে তারই দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে। সে এমনভাবে তাকিয়ে আছে কেন? হয়তো তার দৃষ্টি এড়াবার জন্যেই সে এবার তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ায়। ব্যস্তসমস্ত হয়ে বলে, ‘দাঁড়ান, আলো জ্বালাই।’ তারপর লণ্ঠন জ্বালানোর কাজে মনোনিবেশ করে সে বলে, ‘বুঝলেন আমার কথাটা?’ কাদেরের দিকে তাকাতে তার আর সাহস হয় না, একটা গভীর লজ্জা এসে তাকে গ্রাস করে। লণ্ঠনটি জ্বালিয়ে সেটি দরজার এক পাশে ঠেলে দেয়, কাদেরের সঙ্গে চোখাচোখি হবার ভয়ে তা টেবিলে রাখতে পারে না। তারপর সে চেয়ারে ফিরে এসে কাদেরের দিকে পাশ দিয়ে বসে।

    অবশেষে কাদেরের কণ্ঠ শোনা যায়। সে-কণ্ঠে গভীর বিস্ময় না সন্দেহ তা যুবক শিক্ষক ধরতে পারে না। সে আস্তে প্রশ্ন করে, ‘আপনার মতলব কী?’

    এ-প্রশ্নটি কাদের সকালেও তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল এবং তখন প্রশ্নটি তাকে আঘাত দিয়েছিল। এখন সে তাতে আঘাত পায় না। বরঞ্চ সে ভাবে, সকালে কাদেরের সামনে যে- ভাবে সে আচরণ করেছিল, তারপর তার মনে এ-বিশ্বাসই হওয়া স্বাভাবিক যে তার প্রতি যুবক শিক্ষকের কোনো সহৃদয়তা নাই। যুবক শিক্ষকের মনে যে একটা পরিবর্তন এসেছে তা সে কী করে বুঝবে?

    ‘না, আমার কোনো কু-মতলব নাই।’ আবার সে একবার হাসবার ব্যর্থ চেষ্টা করে। ‘আমার কথাটি বুঝতে পারছেন না কেন?’

    ‘কথাটা কী?’

    ‘একটা দুর্ঘটনার কথাই আপনি শুধু বলেছেন। আর কিছু বলেন নাই।’

    কাদের তার কথা এখনো বুঝতে পারে নাই। একটু থেমে আবার প্রশ্ন করে, ‘আর কী বলব?’

    ‘বললাম না?’

    ‘কী বললেন?’

    যুবক শিক্ষকের মনে হয় আবার সে একটি ফাঁদে পড়েছে : এ-ফাঁদ অতীব বাস্তব, অতীব সত্য। তার মুখ ঝাঁ-ঝাঁ করতে শুরু করে।

    ‘বললাম তো! মেয়েলোকটির জন্যে আপনার মায়ামহব্বত ছিল সে-কথা একবারও বলেন নাই।’

    এবার কথাটা বোধগম্য হয়েছে কিনা তাই দেখবার জন্যে ক্ষিপ্রদৃষ্টিতে সে একবার কাদেরের দিকে তাকায়। যা দেখে তাতে প্রথমে তার বিস্ময় হয়, তারপর ভয়। কাদেরের চোখ সম্পূর্ণভাবে খোলা : সে যেন কী একটা কথা বুঝবার আপ্রাণ চেষ্টা করে। তারপর সে চোখ ঘোলাটে হয়ে ওঠে, তাতে শেষে রক্তাভা দেখা দেয়।

    শুষ্ককণ্ঠে যুবক শিক্ষক প্রশ্ন করে, ‘কী ব্যাপার?’

    কাদের উত্তর দেয় না। সে দৃষ্টি সরিয়ে নেয় কিন্তু তার চোখে রক্তাভা ক্রমশ আরো গাঢ় হয়। তিল-তিল করে তাতে যেন রক্তবিন্দু জমছে। অবশেষে তার দৃষ্টি ঘরময় ঘুরতে থাকে। সে যেন কী সন্ধান করে, কী যেন বুঝতে চায়। এখানে-সেখানে সে-দৃষ্টি থামে, কিন্তু ক্ষণকালের জন্যে, তারপর এক সময় আলগোছে যুবক শিক্ষকের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। একবার, দু-বার। তাকে দেখেও দেখে না, তবু তার ওপর দিয়ে যখন বয়ে যায়, তখন তার দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্যে কেমন তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। যুবক শিক্ষক বোধ করে, তার ভেতরটা হঠাৎ শীতল হয়ে উঠছে। অধীর হয়ে সে বলে, ‘সত্যি কিনা বলেন। হাঁ-না কিছু বলেন।’

    কোনো উত্তরই আসে না। তারপর যুবক শিক্ষকের মনে হয়, ক্ষুদ্র ঘরটা যেন চক্রাকারে ঘুরতে শুরু করেছে। সঙ্গে-সঙ্গে সেও ঘুরতে শুরু করে। তার মাথাটা শূন্য হয়ে ওঠে, তারপর দপদপ করে। একটা অকথ্য জ্বালায় সারা শরীরে যন্ত্রণাও জাগে। লোমশ বিষাক্ত বিচ্ছু গায়ে কিলবিল করে বেড়াচ্ছে; হাতে, পায়ে। তারপর সমগ্র দেহে। কিন্তু সে কিছু পরওয়া করে না। তার দৃষ্টি কাদেরের ওপর নিবদ্ধ। চতুর্দিকে ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে কাদেরই যেন কেবল স্থির হয়ে আছে। না, তার রক্তাক্ত স্ফীতমস্ত চোখ দুটি ঘোরে, কেবল ঘোরে, চক্রাকারে এবং অন্তহীনভাবে।

    তারপর যুবক শিক্ষকের মনে হয়, সে যেন দ্রুতভাবে কথা বলতে শুরু করেছে। গলা অনুচ্চ হলেও নিজেরই কানে তার স্বর অস্বাভাবিক ঠেকে, বিষয়বস্তুও ঠিক বোধগম্য হয় না। কেবল ক্ষিপ্রগতিতে অস্পষ্ট শব্দগুলি মুখ থেকে বেরিয়ে চতুর্দিকে ছিটকে পড়ে, একটার পর একটা, কোথাও জোড়া লাগে না, কোথাও বিদ্ধ হয় না। তাতে সে দমে না। শব্দগুলি সে ছুঁড়তেই থাকে, পাগল মানুষ যেমন ঢিল–পাথরের স্তূপ পেয়ে অশ্রান্তভাবে লক্ষ্যহীনভাবে তা ছুঁড়তে থাকে চতুর্দিকে। তারপর এক সময় হয়তো তার কথার উৎস শুকিয়ে আসে। কারণ তার মনে হয় সে একটি কথাই বারবার বলছে, একটি ঢিলই ছুঁড়ছে। কিন্তু ছুঁড়তেই আবার সেটা হাতে ফিরে আসে বা হাত থেকে বেরিয়েও হাতেই থেকে যায়।

    ‘বুঝলেন কথাটা কেন দরকারি? বুঝলেন, বুঝলেন?’

    সে কোনোই উত্তর পায় না। তারপর ঘূর্ণমান ঘরটি ধীর স্থির হয়, একটা নিঃস্ব তবু প্রীতিকর নীরবতা ফিরে আসে।

    অবশেষে কাদেরের কণ্ঠ শোনা যায়। সে কণ্ঠে ঘৃণা, বিস্ময়। শুধু তাই নয়। সে একটি অদ্ভুত কথা বলে। প্রথমে কথাটি বুঝতে পারে না যুবক শিক্ষক। কিন্তু কাদেরের কণ্ঠ যখন নীরব হয় তখন নীরবতার মধ্যেও তার কথাটি শুনতে পায় বার বার। অতি বিস্ময়ে সে নিজেকে প্রশ্ন করে, সে পাগল? কাদের যেন তাই বলল।

    তারপর কাদের তাকে ভয়-প্রদর্শন করে। যুবক শিক্ষক সুস্থমস্তিষ্ক নয় কথাটি আবিষ্কার করেছে বলেই সে যেন ভয়-প্রদর্শন করার প্রয়োজন বোধ করে। কিন্তু কাদেরের উক্তিটি তাকে স্পর্শ করে না। তার মন অন্যত্র। কেবল সে একাধিকবার বলা কথাটি আবার বলবার জন্যে তীব্র ইচ্ছা বোধ করে বলে সেটি শেষবারের মতো শূন্যতায় নিক্ষেপ করে, নিরাশভাবে, পূর্ববৎ লক্ষ্যহীনভাবে।

    ‘আমার কথাটা এখনো বুঝলেন না?’

    কাদের কোনো উত্তর দেয় না। যুবক শিক্ষকের প্রশ্নটি নিস্তব্ধ ঘরে কতক্ষণ বিসদৃশভাবে ঝুলে থাকে, তারপর প্রশ্নকারীকেই তা নির্মমভাবে লজ্জা দিতে শুরু করে। সেটি যেন তার প্রশ্ন নয়, তারই উলঙ্গ দেহ। সে-দেহ কড়িকাঠ থেকে ঝুলছে।

    একটি কথা তার কাছে অত্যাশ্চর্য মনে হয়। অনতিদূরে হত্যাকারী সম্পূর্ণভাবে বস্ত্রাচ্ছাদিত হয়ে সুস্থির হয়ে বসে, কোথাও একটু অসংলগ্নতা নাই।

    যুবক শিক্ষক অবশেষে বোঝে, কাদেরের পক্ষে দরিদ্র মাঝির বউ-এর প্রতি কোনো ভাবাবেগ বোধ করা সম্ভব নয়।

    তারপর যুবক শিক্ষকের চোখের সামনে একটি ধু-ধু প্রান্তর জেগে ওঠে। সে-প্রান্তর শুধু ধু-ধুই করে, তাতে কোনো মরীচিকা নাই। যে-মরীচিকার পেছনে সে এ-ক’দিন ছুটেছিল, সে-মরীচিকার কোনো আভাস নাই সেখানে।

     একটু পরে আপন মনেই শান্তভাবে যুবক শিক্ষক বলে, ‘তবে আর কী? সব শেষ হল।’

    মরীচিকা যদি অদৃশ্য হয়ে গিয়ে থাকে তবে কাকে দোষ দিতে পারে?

    অবশেষে সে কাদেরের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘আমার আর কোনো উপায় থাকল না।’

    কাদেরের চোখটা দপ করে জ্বলে ওঠে, ঠোঁটের পাশটা বিকৃত হয়ে ওঠে। কিছু না বলে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে ক্রুদ্ধভঙ্গিতে সে চলে যায়। তার ঘাড়ের একটা দিক অতিশয় উঁচু মনে হয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার
    Next Article বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    Our Picks

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }