Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এক পাতা গল্প174 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চাঁদের অমাবস্যা – ৭

    সাত

    সে-রাতে পড়ানোর অধিবেশন শেষ হলে যুবক শিক্ষক কুদ্দুসকে বলে, ‘কাদের মিঞাকে ডেকে দেবে?’

    তারপর বারান্দার কালো-সাদা বরফি – ছককাটা মার্বেলের মেঝের দিকে তাকিয়ে সে নিশ্চলভাবে দাঁড়ায়। সে বুঝতে পারে, ছেলেমেয়েরা কৌতূহলভরে তার দিকে চেয়ে আছে, কিন্তু তার শীর্ণমুখে কোনো ভাবান্তর ঘটে না। তার আচরণ-ব্যবহার আর তার ক্ষমতাধীন নয় যেন। কেবল কুদ্দুসের যেতে দেরি হচ্ছে দেখে তার চোখে অস্থিরতার ঈষৎ আভাস জাগে।

    বারান্দা অবশেষে খালি হলে সে পূর্ববৎ নিশ্চলভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। দরজার ওপর দেয়ালঘড়িটা সশব্দে বাজে, ওপরতলা থেকে দাদাসাহেবের খড়মের আওয়াজ আসে। তারপর সে পদধ্বনিও থামে। প্রগাঢ় নীরবতায় তার বুকের স্পন্দন ঘড়ির আওয়াজের মতো জোরালো হয়ে ওঠে।

    গতরাতেই সে বুঝতে পারে, দেখার চেষ্টা না করলে হয়তো কাদেরের সঙ্গে বহুদিন দেখা হবে না। এমনিতে দেখা হবার সুযোগ-সুবিধা কম। যুবক শিক্ষক নিজে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিক্ষকতার কাজে ব্যস্ত থাকে। দীর্ঘ দিনব্যাপী ইস্কুল আছে, দু-বেলা ছেলেমেয়েদের পড়াতেও হয়। অতএব সে স্ব-ইচ্ছায় দর্শন না দিলে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা দৈবাৎ ঘটনার মতোই অনিশ্চিত। এ ক-দিন সে অপেক্ষায় থেকেছে, কিন্তু তার দেখা পায় নাই। স্পষ্ট বোঝা যায়, কাদেরের মনে তার সঙ্গে দেখা করার কোনো ইচ্ছা নাই। থাকলে সে আসত। কাদেরের এ-নিস্পৃহতার কোনো অর্থ সে বোঝে না। তার রহস্যময় ব্যবহারের ফলে যুবক শিক্ষকের মনে তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্যে যে- তীব্র ব্যাকুলতার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সযত্নে সাজানো নানা প্রশ্ন বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। প্রশ্নগুলি আর দরকারিও মনে হয় না। তার সঙ্গে একবার দেখা হলেই সে যেন তার উত্তর পাবে, মনেরও নিদারুণ বিহ্বলতা কাটবে।

    আজ মগরেবের নামাজের সময় দাদাসাহেবের দিকে তাকিয়েই সাক্ষাতের আশায় বসে থাকার নিষ্ফলতা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে সে। বড়বাড়িতে কেবল দাদাসাহেবই কাদের সম্বন্ধে সচেতন। নামাজের আগে তাঁর ঈষৎ অনুসন্ধানী দৃষ্টি চোখে পড়লে যুবক শিক্ষক বোঝে, তিনি তারই সন্ধান করছেন। প্রায় দু-সপ্তাহ সে নামাজে যোগদান করে নাই। তার অনিশ্চিত মতিগতি তিনি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন বটে তবু সে এলে তিনি খুশিই হন। আজ সে আসে নি দেখে তিনি ক্ষুণ্ণ হন। সে ক্ষুণ্ণতা লক্ষ করে যুবক শিক্ষক তাঁর সঙ্গে একটা আন্তরিক যোগাযোগ বোধ করে। ফলে, মনে কেমন সবলতা আসে। সে-মুহূর্তেই সে স্থির করে, আজ রাতেই কাদেরকে ডেকে পাঠাবে। দাদাসাহেব নীরবে দিনের পর দিন তার জন্যে অপেক্ষা করতে পারেন, কিন্তু সে পারে না। আকণ্ঠ নিমজ্জিত মানুষের পক্ষে কারো জন্যে অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ভাঙন ধরেছে, কাদেরের সঙ্গে দেখা না হলে সে ভাঙন জোড়া লাগবে না। তারই নির্দেশে একটি অতিশয় অস্বাভাবিক কাজে সে তাকে সাহায্য করেছে, গভীর রাতে একটি নারীর মৃতদেহ বহন করেছে। বাক্স-পেটরা নয়, মেজ-কুর্সি নয় : মানুষের মৃতদেহ। তাকে কি কাদেরের কিছুই বলার নাই? সে হয়তো ব্যাপারটির অর্থ জানে, কিন্তু যুবক শিক্ষক জানে না। হয়তো তার পক্ষে সে ব্যাপারে বিস্তৃত হয়ে আবার গতানুগতিক জীবনযাত্রায় নির্বিঘ্নে মনোনিবেশ করা সম্ভব, যুবক শিক্ষকের পক্ষে সম্ভব নয়।

    অবশেষে কুদ্দুসের চটির আওয়াজ কানে আসে। এবারও যুবক শিক্ষকের মুখে কোনো ভাবান্তর ঘটে না; কিন্তু উত্তরের তীব্র প্রত্যাশায় তার সমস্ত দেহ পাথরের মতো শক্ত হয়ে ওঠে। তারপর সে-শক্ত আবরণের মধ্যে একটি দুর্বল হৃৎপিণ্ড থরথর করে কাঁপতে শুরু করে। কুদ্দুস যখন সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন সে তার দিকে তাকায় না। কেবল প্রশ্ন করে, ‘কী?’

    ‘কিছু বললেন না।’

    যুবক শিক্ষক উত্তরটির অর্থ যেন বোঝে না। ক্ষিপ্র দৃষ্টিতে কুদ্দুসের দিকে তাকায়। সেখানে কোনো ব্যাখ্যা দেখতে না পেলে অকারণে খোলা দরজা দিয়ে বাইরের দিকে তাকায়। বারান্দায় অখণ্ড নীরবতা।

    ‘শুধু বললেন, কেন। বললাম, জানি না।’ একটু ইতস্তত করে কুদ্দুস বলে। একটু থেমে সে আবার বলে, ‘যাই?’

    যুবক শিক্ষক কোনো উত্তর দেয় না। প্রশ্নটি হয়তো শোনে না। তারপর সে নিজেই বারান্দা অতিক্রম করে বেরিয়ে যায়।

    ঘণ্টাখানেকের মধ্যে যুবক শিক্ষকের মনে এ বিশ্বাস জন্মায় যে, কিছু না বলার অর্থ সে আসবে না তা নয়। সাক্ষাতের জন্যে অনুরোধটি তার কানে পৌঁছেছে, এবার সময় করে সে আসবে। হয়তো একটু রাত হলে আসবে। লণ্ঠনের আলোটা কিছু কমিয়ে দরজাটি সামান্য খোলা রেখে চৌকির ওপর বসে যুবক শিক্ষক অপেক্ষা করতে শুরু করে। রাত তখন ইতিমধ্যে গভীর হয়ে উঠেছে।

    মধ্যরাত গড়িয়ে গেলেও কাদেরের কোনো চিহ্ন দেখতে না পেলে সে দরজা খুলে একবার বড়বাড়ির দিকে তাকায়। চাঁদ তখন উঠেছে, তবে আজ তার আলো নিস্তেজ। সে-আলোয় অন্ধকারাচ্ছন্ন বড়বাড়ি ফ্যাকাসে দেখায়। সেখানে কেউ জেগে নেই। কতক্ষণ সে বড়বাড়ির দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল জানে না, অকস্মাৎ এক সময় সামনের দৃশ্য মুছে গিয়ে তার চোখের সামনে আগুনের নৃত্য শুরু হয়েছে। সে বুঝতে পারে, হঠাৎ একটি দুর্দান্ত ক্রোধ তাকে গ্রাস করেছে। যে-মানুষের প্রতি দু-বছরব্যাপী অস্পষ্ট কৌতূহল, অবিশ্রাম উদাসীনতার পর হঠাৎ শ্রদ্ধা-ভক্তি, এমনকি কেমন একটা বন্ধুত্বের ভাব জেগেছে, সে-ই এ ক্রোধের কারণ। কিছুক্ষণ পর দরজায় খিল দিয়ে সে বিছানায় ফিরে আসে। ক্রোধ তখনো পড়ে নাই। নিষ্ফল ক্রোধ সহজে মিটতে চায় না।

    এক সময়ে সে হয়তো ঘুমিয়ে পড়ে। যখন আবার জেগে ওঠে, তখন সে কান পেতে কিছু শোনবার চেষ্টা করে, কিন্তু রাত্রির গভীরতায় কোনো আওয়াজ শুনতে পায় না। নীরবতা শূন্যতার মতো অন্তহীন মনে হয়। এ-নীরবতা কখনো যেন ভাঙে নাই, ভাঙবেও না। ক্রমশ একটি অবাস্তব ভাব এসে তার সময়-কালের চেতনাবোধ লুপ্ত করে দেয়। সে না ঘুমিয়ে অন্ধকারে চোখ খুলে নিঃসাড় হয়ে শুয়ে থাকে।

    অবশেষে সে-চেতনাহীনতা থেকে ক্ষীণভাবে তার মনে একটি প্রশ্ন জাগে। সমস্ত ঘটনাটি কি একটি বিচিত্র দুঃস্বপ্ন? চমকিত হয়ে প্রশ্নটি সে ভেবে দেখে। যত ভাবে ততই তার সত্যাসত্য সম্পর্কে সন্দেহ থাকে না। তাই ঘটনাটি আগাগোড়া একটি অত্যাশ্চর্য স্বপ্ন। কাদেরকে ডেকে পাঠালে সে কুদ্দুসকে জিজ্ঞাসা করেছিল কেন সে দেখা করতে চায়। তার প্রশ্নের অর্থ এবার সে বুঝতে পারে।

    এ নোতুন জ্ঞান লাভে প্রথমে সে অস্থির হয়ে উঠে বসে। তার কি মস্তিষ্ক সুস্থ নয়? ঘরের কোণে সুরাহি থেকে পানি ঢেলে সে গলা সিক্ত করে, দু-চারবার পায়চারি করে, তারপর আবার চৌকিতে ফিরে এসে বসে। না, ঘটনাটি দুঃস্বপ্ন, দু-রাতব্যাপী দীর্ঘ দুঃস্বপ্ন। সে-দুঃস্বপ্নের কথা সে ছাড়া দ্বিতীয় ব্যক্তি জানে না। জানা সম্ভব নয়। সে জন্যেই কাদের জিজ্ঞাসা করেছিল, কেন

    দুঃস্বপ্ন বাস্তবরূপ ধারণ করলেও তাতে কিছু অবাস্তবতা, কিছু যুক্তিহীনতার ছাপ না থেকে পারে না। ঘটনাটিতে এবার সে যে শুধু অবাস্তবতার সুস্পষ্ট ছাপ দেখতে পারে তা নয়, স্থানে স্থানে অযৌক্তিকতা তার কাছে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।

    প্রথমত, হত্যাকারীর আচরণ। হত্যাকারী বাঁশঝাড়ে বসে যুবক শিক্ষকের জন্যই অপেক্ষা করে। সে যখন জানতে পারে, বাঁশঝাড়ের বাইরে সে এসে দাঁড়িয়েছে, তখন সে যুবতী নারীর জীবনাবসান করে। তারপর সে চাঁদের আলোয় হাওয়ার মতো মিলিয়ে যায়। বাইরে কে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে? বড়বাড়ির আত্মভোলা দরবেশ ধরনের মানুষ, কাদের। সে-ও তারই জন্যে অপেক্ষা করে যেন। স্বপ্নে ছাড়া এমন ঘটনা কি সম্ভব? স্বপ্নে কাদেরের আবির্ভাবের কারণও সে বুঝতে পারে! কাদের নাকি দরবেশ। বিস্ময় কী, সে-ই সে স্বপ্নের একটি বিশিষ্ট চরিত্র হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে?

    ‘সবটাই দুঃস্বপ্ন। অত্যাশ্চর্য দুঃস্বপ্ন।’ যুবক শিক্ষক আপন মনে ঘোষণা করে। স্বপ্নে যে সে প্রায় সারারাত ছুটোছুটি করেছে পাগলের মতো, সে কথা স্মরণ হলে তার একটু হাসিও পায়। না, সে নয়, যুক্তি বিচার-বুদ্ধি থেকে স্বপ্নই পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।

    ‘আষাঢ়ের গল্পের মতো স্বপ্ন।’ এবার সে অস্ফুট কণ্ঠে বলে ওঠে। তারপর সে কৌতুকভরে স্বপ্নটির বিশ্লেষণকার্য নিয়ে অগ্রসর হয়।

    দুঃস্বপ্নের সেখানেই কি শেষ! আষাঢ়ে গল্পের শেষ নাই : যার যুক্তি নাই, তার সমাপ্তিও নাই।

    বড়বাড়ির কাদের যে নিষ্কর্মা হলেও কারো সাতে পাঁচে নাই, দরবেশ না হোক তব আপন খেয়ালেই থাকে—সে-ই পরদিন রাতে তার ঘরে এসে হাজির হয়। সামাজিকতা বা প্রতিবেশীর সঙ্গে একটু গল্পগুজবের তাগিদে নয়, একটি ব্যাপারে সাহায্যের প্রয়োজন বোধ করে বলে। নিষ্কর্মা হলেও যে-মানুষ সম্ভ্রান্ত বংশজাত এবং ভদ্রলোক, সে বলে, দয়া করে চলুন, বাঁশঝাড়ের মৃতদেহটি নদীতে ফেলে দিয়ে আসি। দু-বছরে তার সঙ্গে কখনো আলাপ-সালাপ হয় নাই, প্রস্তাবটাও অতি বিস্ময়কর, তবু বড়বাড়ির মানুষ তারই সাহায্যপ্রার্থী হয়ে এসেছে, কী করে না করে? দ্বিরুক্তি না করে গায়ে আলোয়ান জড়িয়ে সে কাদেরের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে। অবশ্য কার্যান্তে কাদের চন্দ্রালোকের মধ্যে মিলিয়ে যায়। স্বপ্নটি হয়তো তাকে বেশিক্ষণ ধরে রাখা সমীচীন মনে করে না। ধরে রাখলে যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন উঠতে পারে, সে ভয় আছে।

    ‘অদ্ভুত স্বপ্ন।’ যুবক শিক্ষকের বিস্ময় কাটে না।

    সেখানেই স্বপ্নের জের শেষ হয় না। স্বপ্নের ফেনিয়ে গল্প বলার আত্যন্তিক নেশা কাটে না। যুবক শিক্ষকের মতো উর্বরমস্তিষ্ক কল্পনাপ্রবণ খদ্দের পেয়ে সহজে কি তাকে হাতছাড়া করে?

    নদীতে দেহটি নিক্ষেপ করার ব্যাপারে সাহায্য-সহায়তার আদর্শ উদাহরণের পর দিন-দুপুরে ইস্কুল পর্যন্ত ছুটে যেতে স্বপ্নটি দ্বিধা করে না। যখন তার সহযোগীর টিফিনের সময় গল্পগুজব করে, তখন বিশ্রাম ঘরের এক কোণে বসে নিদ্রাভিভূত হয়ে সে স্বপ্নে দেখে নদীপথ, স্টিমারের সন্ধানী-আলো, পুলের ওপর দাঁড়িয়ে সারেঙ্গ মোল্লার মতো সারেঙ্গ, এক সহযোগী যার দীর্ঘ বিবরণ দেয়। কিন্তু স্বপ্নের পক্ষে পথভ্রষ্ট হওয়া অতি স্বাভাবিক। একটু ঘুরে-ফিরে আসল কথায় ফিরে আসে নদীবক্ষে যুবতী নারীর দেহটির আবিষ্কার

    একটি কথা ভেবে যুবক শিক্ষক কিছু ভাবিত হয়। তার মনে পড়ে, স্বপ্নের শেষভাগে সহযোগীদের প্রতি সে নিদারুণ ঘৃণা বোধ করেছিল। সে জানত না, তার মনের অন্তরালে মানুষের প্রতি এমন ঘৃণা লুক্কায়িত। এ-গোপন ঘৃণার পরিচয় পেয়ে সে ক্ষণকালের জন্যে শঙ্কাই বোধ করে। এ-ঘৃণার উৎপত্তি কোথায়?

    প্রশ্নটির উত্তর না পেলে সে স্বপ্ন-বিশ্লেষণকার্যে প্রত্যাবর্তন করে। যুবক শিক্ষক স্বীকার করে, এখানে- সেখানে অযৌক্তিকতা থাকলেও ঘটনার অনুক্রম বিন্যাসের ব্যাপারে এবং বিষয়বস্তুর কাঠামোতে আপাতদৃষ্টিতে স্বপ্নটির মধ্যে কোনো দোষঘাট নজরে পড়ে না। সে জন্যে তার কালোস্রোতে সে ভেসে যেতে পেরেছে, তাকে বাস্তব ঘটনা বলে গ্রহণ করতে তার দ্বিধা হয় নাই। না, সে-সব অযৌক্তিকতা স্বপ্নটির প্রধান দুর্বলতা নয়; তার প্রধান দুর্বলতা অন্যত্র। সে-দুর্বলতাটি এখন সে বুঝতে পারে বলেই স্বপ্নটির অসত্যতা তার চোখে পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে।

    স্বপ্নটির সে চরম দুর্বলতা তার আসল উদ্দেশ্যের মধ্যেই নিহিত। একটি অপঘাত মৃত্যুর কথা বলে দর্শকের মনের ভীতি-আঘাত জাগানোই তার আসল উদ্দেশ্য নয়, কারণ অপরিচিতা একটি নারীর এমন দুর্ভাগ্যের কথায় মনে যতই ভীতি-আঘাতের সঞ্চার হোক না কেন, তা তেমন গভীর বা স্থায়ী হওয়া সম্ভব নয়। অপঘাত-মৃত্যুটি উদাহরণ মাত্র, একটি সাংঘাতিক উপসংহারে পৌঁছাবার উপাদান। উপসংহারটি হল, মানুষের জীবনের প্রতি মানুষের নির্দয় নিষ্ঠুর উদাসীনতা। সেটাই স্বপ্নের মর্মকথা। স্বপ্নটির আসল উদ্দেশ্য যে সফল হয়েছে তার প্রমাণ যুবক শিক্ষকের বিপর্যস্ত মন। যুবতী নারীর মৃত্যুর সঙ্গে যে-নৃশংসতা জড়িত সে-নৃশংসতা নয়, মনুষ্যত্বহীন ভয়াবহ সে-মর্মকথাই তাকে এমন গভীরভাবে বিচলিত করেছে।

    যুবক শিক্ষক এখন বুঝতে পারে, সে-মর্মকথাই স্বপ্নটির প্রধান দোষ, প্রধান দুর্বলতা। নানাবিধ গাল্পিক কারুকার্যের মধ্যে কৌশলে লুকানো যে-অসত্যের ওপর স্বপ্নটি স্থাপিত, সেদিকে একবার দৃষ্টি পড়লে স্বপ্নটি স্বপ্নেরই মতো ধূলিসাৎ হয়, যে-বৃক্ষটি শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে সত্যরূপ ধারণ করেছিল, মূল নেই বলে সে – বৃক্ষটি নিমেষেই ধরাশায়ী হয়। বাস্তব জীবনে মানুষ মানুষের প্রতি এমন নির্দয়-নিষ্ঠুরভাবে উদাসীন নয়।

    যুবক শিক্ষক বুঝতে পারে না কী করে স্বপ্নটি তাকে এমনভাবে সম্মোহিত করতে পেরেছিল যে সে প্রশ্ন না করে তার হাতে বন্দি হয়ে থেকেছে, দিনের আলোতেও তার হাত কবল থেকে মুক্তিলাভ করতে পারে নাই। এর অর্থ কি এই যে, তার মন অতিশয় দুর্বল? অথবা, মনের অদৃশ্য কোনো অংশে অতি গোপনে সে কি নিজেই এমন অদ্ভুত বিশ্বাস পোষণ করে? তীব্র ঘৃণার পরিচয় পেয়ে সে সামান্য শঙ্কিত হয়েছিল : এবার তার শঙ্কার অবধি থাকে না।

    কিন্তু দুঃস্বপ্ন অবশেষে দূর হয়েছে এ-জ্ঞানে তার মনে যে-গভীর স্বস্তির ভাব দেখা দেয়, তাতে সব শঙ্কা ভেসে যায়। একটি কুৎসিত সর্বধ্বংসী জন্তুর শ্বাসরোধ-করা- আলিঙ্গন থেকে অবশেষে সে মুক্তিলাভ করেছে। সে আর কিছু ভাবতে চায় না। সব উৎকণ্ঠা—উদ্বেগ কেটেছে বলে সারা দেহমন কেমন অপরিসীম ক্লান্তিতে আচ্ছন্ন হয়, তবু সে ক্লান্তি অতি মধুর, অতি সুখদায়ক মনে হয়। না, সে আর কিছুই ভাবতে চায় না। গভীর তৃপ্তির সঙ্গে সে অনুভব করে, একটি আরামদায়ক ক্লান্তি স্রোতের মতো বইছে এবং তাতে তার চিন্তাশক্তি তলিয়ে যাচ্ছে। কেবল তাতে বাষ্পের মতো হাল্কা উষ্ণ একটি কৃতজ্ঞতার ভাব ভেসে থাকে। সে-কৃতজ্ঞতা এই জন্যে যে, মানুষের ভাগ্য খামখেয়ালি এবং নির্মম হলেও মানুষ মায়ামমতাশূন্য নয়, অতি নিস্পৃহের নিকটও অন্যের জীবন মূল্যহীন নয়।

    যুবক শিক্ষকের শীর্ণ-শুল্ক দেহের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে আবার মোহময় জীবিতাশা প্রবাহিত হয়। অন্ধকার ঘরে বাঁশের দেয়ালের ছিদ্রে ছিদ্রে বাইরের চন্দ্রালোক চিকন কারুকার্য বিস্তার করেছে। সে-দিকে স্তব্ধ হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর তার মনে প্রার্থনার মতো ভাব আসে, সঙ্গে-সঙ্গে তার চোখ একটু সজল হয়ে ওঠে। মনে মনে ভাবে, স্নিগ্ধ-সুন্দর চাঁদের পৃষ্ঠদেশ মানুষ দেখতে পায় না। তার অন্ধকার অংশে যদি কদর্যতা-নিষ্ঠুরতা থাকে, তা যেন কেউ কখনো না দেখতে পায়।

    তার মাথার তলে তুলায় ঠাসা ছোট বালিশের এক কোণে রঙিন রঙের সুতায় তৈরি একটি গোলাপ ফুল। তারই পাশে এবার দু-এক ফোঁটা চোখের পানি নিঃশব্দে ঝরে পড়ে। মনে-মনে সে আবার বলে, কোনো দুঃস্বপ্নও যেন কখনো সত্য না হয়।

    অবশেষে শ্রান্ত যুবক শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়ে।

    ঘরের কোণে দড়িতে একটি লুঙ্গি ঝোলে। তার কোণটা একটু ছেঁড়া। গতকাল লুঙ্গিটি সে ধুয়েছে কিন্তু ছেঁড়া অংশটি সেলাই করবার সময় পায় নাই।

    দ্বিতীয় রাতে বাঁশঝাড়ে অপেক্ষাকৃত নূতন লুঙ্গিটির সে-দশা ঘটে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার
    Next Article বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    Our Picks

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }