Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এক পাতা গল্প174 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চাঁদের অমাবস্যা – ৩

    তিন

    শীতের মিষ্টিরোদ ইস্কুলের নেড়ে প্রাঙ্গণেও স্নিগ্ধ সোনালি আলো ফেলেছে। এক কোণে পাতাবাহারের গাছে সে আলো ঝলমল করে।

    চুনবালিতে লেপা বাঁশের দেয়াল, কাঠের ঠাট, ওপরে তরঙ্গায়িত টিনের ছাদ। ছাত্রদের সামনের বার্নিশশূন্য বেঞ্চিতে কালির দাগ, অনেক গ্রীষ্মের ঘামের ছাপ, এখানে-সেখানে ছুরির নির্দয় আঁচড়। অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার টেবিলের পেছনে বসে যুবক শিক্ষক আরেফ আলী। গায়ে নিত্যকার মতো সামান্য ছাতাপড়া, জীর্ণ সবুজ আলোয়ান, পরনে আধা-ময়লা সাদা পায়জামা, পায়ে ধুলায় আবৃত অপেক্ষাকৃত নোতুন পাম্প-সু। অভ্যাসমতো টেবিলের তলে সে অবিরাম ডান পা নাড়ে। পা-টি যেন কলযন্ত্রে চালিত হয়।

    আরেফ আলীর বয়স বাইশ-তেইশ। কিন্তু তার শীর্ণ মুখে, অনুজ্জ্বল চোয়ালে বয়োতীতভাব : যৌবনভার সে যেন বেশিদিন সহ্য করতে পারে নি। সে-মুখে হয়তো যৌবনকণ্টক জন্মেছিল, কখনো যৌবনসুলভ পুষ্পোদগম হয় নাই। কয়েক বছর আগে মাদ্রাসা- হাদিসের প্রভাবে দাড়ি রেখেছিল, আজ সে-দাড়ি নাই। কিন্তু এখনো মনে হয় থুতনির নিচে কেমন উলঙ্গতার ভাব। খাড়া নাক চিকন, কপাল ঈষৎ সমুন্নত, চোখে একটু কাঠিন্যভাব। তবে রসশূন্যস্বাস্থ্যের জন্যেই তার চোখ কঠিন মনে হয়। লক্ষ্য করে দেখলে সে-চোখের সরলতা, সময়ে সময়ে অসহায়তাও নজরে পড়ে। কখনো-কখনো তার মধ্যে উদ্ধতভাব ও দম্ভ দেখা যায়, কিন্তু সেটা শিক্ষকতা করে বলে চড়ানো ব্যাপার। তবু একটু অহঙ্কার নাই যে তা নয়। দম্ভ-ঔদ্ধত্য না হোক, শিক্ষক হলে অহঙ্কার না হয়ে পারে না। তবে সেটা কৃত্রিম নয় বলে সযত্নে ঢেকে রাখে, শুধু ক্বচিৎ-কখনোই তার আভাস পাওয়া যায়।

    আরেফ আলী অনেকক্ষণ অন্যমনস্ক হয়ে থাকে। এক সময়ে হঠাৎ সচেতন হয়ে সে লক্ষ্য করে, ছাত্রদের কোলাহল ঝড়ের বেগ ধারণ করেছে। শিক্ষকের অন্যমনস্কতা লক্ষ্য করে তারা সংযমের লাগাম ছেড়ে শোরগোল শুরু করেছে এবং সে- শোরগোল এমন এক উচ্চ খাদে উঠেছে যে সেখানে ব্যক্তিগত কন্ঠের কোনো চিহ্ন নাই। সে জন্যেই মনে হয় ঝড় বইছে।

    অন্যদিন তীক্ষ্ণগলায় তবু হৃদ্যতার সঙ্গে শিক্ষক আরেফ আলী আঙ্গুল নেড়ে শাসন করত। আজ কেমন শ্রান্তগলায় বলে, ‘না না, গোলমাল করো না।’

    ছাত্রদের কোলাহল দু-এক খাদ নিচে নেমে একটু অপেক্ষা করে, তারপর আবার সে উচ্চপদে আরোহণ করে। কিছুক্ষণ সময় কাটে। অবশেষে আরেফ আলী এধার-ওধার তাকায়। আওয়াজটা কোত্থেকে যে আসছে তা যেন বুঝতে পারে না। পূর্ববৎ শ্রান্তগলায় বলে, ‘কী? বললাম না গোলমাল করো না?’

    শিক্ষকের দৃষ্টি ছাত্রদের উপর নিবদ্ধ থাকে বলে এবং তার মন অন্যত্র ফিরে যায় না দেখে কোলাহল হঠাৎ থামে। যেন ঝড় থামে। একটু দম নিয়ে যুবক শিক্ষক আবার এধার-ওধার তাকায়। কেন তাকায়, নিজেই তা বোঝে না। তারপর অভ্যাসবশত অন্যদিনের মতো আমজাদকেই প্রশ্ন করে, ‘বলো, তিনটি পর্বতমালার নাম বলো।’

    শান্তচিত্ত হয়ে যেন যুবক শিক্ষক শিক্ষকতার কাজ শুরু করে, ছাত্ররাও হঠাৎ পাঠানুরাগী হয়ে ওঠে। আমজাদ দ্বিধা না করে বলে,

    ‘হিমালয়।’

    ‘তারপর?’

    ‘আরাবল্লী।’

    ‘তারপর?’

    ‘বিন্ধ্যাচল।’

    ‘বেশ। মনে রেখো, হিমালয় দুনিয়ার সবচেয়ে বড় পর্বতমালা। দৈর্ঘ্যে, উচ্চতায়, ঘনত্বে তার সেরা নাই।’

    সামনের বেঞ্চি থেকে একটি ছেলে ডাকে ‘স্যার?’

    ‘বলো।’

    ‘হিমালয় দেখেছেন?’

    দরিদ্র যুবক শিক্ষক, কোপন নদীর ধারে ক্ষুদ্র চাঁদপারা গ্রামে তার জন্ম। কষ্টেসৃষ্টে নিকটে জেলা শহরে গিয়ে আই.এ. পাস করেছে, সুপরিচিত নদী-খাল-বিল ডোবা-মাঠ-ঘাট সুদূরপ্রসারী ধান ফসলের ক্ষেতের বাইরে কখনো যায় নাই। সমতল বাংলাদেশের অধিবাসী, পর্বতমালা কখনো দেখে নাই। বই-পুস্তকে, সাময়িক পত্রিকা- সংবাদপত্রে কোনো কোনো পর্বতের ছবি দেখেছে, কিন্তু অনেক পর্বতের শুধু নামই শুনেছে। এণ্ডিজ, উরাল, ককেসিয়ান আলতাই পর্বতমালা। কত নাম। সব স্বপ্নের মতো শোনায়।

    ‘না। হিমালয় দেখি নাই। হিমালয় দেখার সৌভাগ্য হয় নাই।’ কিছুটা ক্ষুণ্ণ কিন্তু পরিষ্কারকণ্ঠে যুবক শিক্ষক জবাব দেয়।

    যুবক শিক্ষকের মনে ইস্কুল ঘরের পারিপার্শ্বিকতা এবং শিক্ষকতার কাজ সাধারণ রূপ ধারণ করেছিল। হয়তো দেখা না-দেখার কথাতেই হঠাৎ নিমেষের মধ্যে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। বিদ্যুৎ-ঝলকের মতো একটি ভয়াবহ দৃশ্য আবার তার চোখের সামনে এসে উপস্থিত হয়। তারপর কেউ যেন তার শরীরের রক্তপানি শুষে নেয়, শূন্য শরীর অপরিসীম শ্রান্তিতে অবশ হয়ে আসে। দমটা কাটলে সে আপন মনে বলে, হিমালয় সে দেখে নাই। বস্তুত, সে কিছুই দেখে নাই। দরিদ্র শিক্ষক, কিছুই তার দেখার সৌভাগ্য হয় নাই।

    সজোরে নিশ্বাস নিয়ে যুবক শিক্ষক তারপর জানালা দিয়ে স্বর্ণোজ্জ্বল সূর্যালোকের দিকে তাকায় কিন্তু সে-আলো সে দেখতে পায় না। একটি দৃশ্যই কেবল তার চোখে ভাসে। সে-দৃশ্য থেকে তার নিস্তার নাই, তার মনে-প্রাণে ও দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার বিভীষিকাময় ছায়া।

    কিছুক্ষণ পর যুবক শিক্ষক অস্পষ্টভাবে শুনতে পায়, ক্লাসঘরে আবার কলরব জেগেছে। কিন্তু তাদের শাসন না করে সে সর্বাঙ্গে নিশ্চল হয়ে বসে থাকে। সে যে কেবল দৃশ্যটিই দেখে তা নয়, একটি মানুষের মুখও বার বার দেখতে পায়। আসলে সে-মুখই যেন ভয়াবহ দৃশ্যটিকে ঢেকে দেয়, এবং সে-মুখ ভয়াবহ মনে না হলেও প্রতিবার তার জন্যেই তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, শরীরেও কাঁপুনি ধরে। তবু বারেবারে মনশ্চক্ষুতে মুখটিকে সে চেয়ে চেয়ে দেখে।

    তারপর হয়তো ছাত্রদের কোলাহল অসহনীয় হয়ে ওঠে। অথবা অতি বিচিত্র মানসিক অবস্থার মধ্যেও কর্তব্যের কথা তার স্মরণ হয়। আবার সজোরে নিশ্বাস নিয়ে সে ছাত্রদের দিকে তাকায়। তাদের মুখ কেমন অস্পষ্ট মনে হয়। দুর্বলকণ্ঠে সে প্রশ্ন করে, ‘কে বলবে এবার?’

    সে শাসন না করলেও গোলযোগ সহসা শান্ত হয়। যুবক শিক্ষক অবশেষে মতিনকে দেখতে পায়। ঘোর-কালো ছেলে, কিন্তু বড় বড় চোখ টলটল করে।

    ‘তুমি বলো। তিনটে উপদ্বীপের নাম বলো।’

    যুবক শিক্ষক মতিনের দিকে তাকিয়ে থাকে বটে কিন্তু তার উত্তর তার কানে পৌঁছায় না। কেবল শোনবার ভঙ্গি করে ঘন ঘন মাথা নাড়ে। তার ডান পাও আবার অভ্যাসমতো নড়তে শুরু করেছে।

    মতিনের গলার স্বর থামলে অজান্তেই সাধুতার পরিচয় দিয়ে যুবক শিক্ষক প্রশ্ন করে, ‘বলেছ তিনটি উপদ্বীপের নাম?’

    ‘বললাম তো।’

    ‘বেশ বেশ।’ যুবক শিক্ষক আবার সজোরে নিশ্বাস নেয়। ছেলেদের মুখ যেন পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। এবার তাদের কচি মুখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ অকারণে কেমন বেদনা বোধ করে। ‘বেশ। তাহলে এবার তিনটে দীর্ঘতম নদীর নাম বলো।’ এধার-ওধার চেয়ে আবার আমজাদের ওপরই আঙ্গুল নিবদ্ধ করে।

    ‘তুমিই বলো।’

    .

    দু-বছর আগে আরেফ আলী শিক্ষক হয়ে এ গ্রামে আসে। থাকার আশ্রয় পায় বড়বাড়িতে। খাওয়াদাওয়াও সেখানেই হয়। তার বদলে বড়বাড়ির ছেলেদের দুই বেলা ঘরে পড়ায়। তার বিশ্বাস এই যে, যত নেয় তত সে দেয় না, কিন্তু সেটা দয়াশীল দাদাসাহেবেরই ব্যবস্থা। দাদাসাহেবের প্রতি তাই তার ভক্তিশ্রদ্ধার অন্ত নাই।

    দক্ষিণে তিন মাইল দূরে তার নিজের গ্রাম। দরিদ্র সংসার, হাতের তালুর মতো এক টুকরো জমিতে জীবনধারণ চলে না। টেনে-হিঁচড়ে আই.এ. পাস করে সে দেশে ফিরে আসে। পড়তে পারলে আরো পাস করত, কিন্তু কলেজের ফি, বইখাতা কেনার পয়সা আর যোগাড় হয় না। তাছাড়া, জেলাশহরে ঘুসি-আস্তানায় থাকলেও খরচ হয়। এক রত্তি শাকসবজির জমিটাও বিক্রি করে উচ্চশিক্ষার পশ্চাতে ছোটার অর্থ হয় না।

    বর্তমান চাকুরিতে আরেফ আলীর অসন্তোষের কারণ নাই। বরঞ্চ তার বিশ্বাস, ভাগ্য দয়াবান না হলে এমন চাকুরি সহজে মিলত না। ইস্কুলটি এখনো উচ্চ ইস্কুলে পরিণত হয় নাই বটে তবু নবম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ-অধ্যয়নের দরজা খোলা হয়েছে। আশা এই যে, দু-এক বছরের মধ্যে সর্বশেষ শ্রেণীও খোলা সম্ভব হবে। সরকারি অর্থ সাহায্যের জন্যে যথাযথ আর্জি পেশ করা হয়েছে। শীঘ্র সে সাহায্যও পাওয়া যাবে সকলের ভরসা। বড়বাড়ির উদ্যম ও আর্থিক সাহায্যে এ ইস্কুলের পত্তন পড়ে। কিন্তু এখন সেদিনের ক্ষুদ্র ইস্কুলটি আর নাই; এ-কে পোষা বড়বাড়ির সামর্থ্যের বাইরে। সরকারি সাহায্য ছাড়া ইস্কুলটির উন্নতি সম্ভব নয়। অবশ্য নিরাশাবাদীদের মতে সরকারি অর্থ সাহায্য পাওয়ার পথে অনেক বাধাবিঘ্ন আছে। নিকটবর্তী জেলাশহরের দুটি উচ্চ ইস্কুলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবলই বাগাড়ম্বর নয়। এ-ইস্কুল ক্রমশ তাদের আয়ে হস্তক্ষেপ করছে সেটা সহনীয় ব্যাপার নয়। সুতরাং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থামাবার জন্যে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করবে। আরেফ আলী কিন্তু নিরাশ বোধ করে না। ইস্কুলের এবং সাথে সাথে নিজেরও আর্থিক এবং পদোন্নতির বিষয়ে সে নিঃসন্দেহ। তাছাড়া, বর্তমান অবস্থাই-বা তেমন বিশেষ খারাপ কী? দাদাসাহেবের অভিভাবকত্ব শুধু যে লাভজনক তা নয়, পিতৃহীন যুবকের জন্যে একটা নিরাপদ স্নেহশীল ছাতার মতো।

    হাতে যে সামান্য টাকা আসে মায়না বাবদ, তা প্রায় না ছুঁয়ে বৃদ্ধা মায়ের হাতে দিয়ে আসে। মাকে টাকা দেবার সময় প্রতিবার তার অন্তরে কী একটা ভাব উদ্বেলিত হয়ে ওঠে, চোখে প্রায় পানি আসে। কিন্তু সে-আবেগ অপ্রীতিকর ঠেকে না। অন্তর শান্ত হলে একটা সুখবোধ আসে। তখন তার মনে হয়, জীবনে যেন এই সর্বপ্রথম সে সুখবোধ অনুভব করছে। তবে নবজাত এই সুখবোধকে সরাসরি আলিঙ্গন করতে সাহস হয় না, লাজুক মানুষের মতো অজ্ঞাত আগন্তুকটিকে এড়িয়ে-এড়িয়ে চলে। তবু তার সহবাস ভালোই লাগে। একটি হাসিখুশি প্রফুল্লচিত্ত সঙ্গী জুটেছে যেন।

    .

    হঠাৎ সচেতন হয়ে যুবক শিক্ষক লক্ষ করে, ক্লাসঘরে অখণ্ড নীরবতা। কপালে হাত রগড়ে ভ্রূ উঠিয়ে সে নির্বাক ছাত্রদের পানে তাকায়। দেখে, সবাই নিষ্পলকদৃষ্টিতে তারই দিকে তাকিয়ে আছে। অপ্রস্তুত হয়ে সে ছাত্রদের শাসন করতে গিয়ে থেমে যায়। ছাত্ররা গোলমাল করছে না, জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বাঁদরনাচও দেখছে না। এধার-ওধার তাকিয়ে অবশেষে আমজাদকে জিজ্ঞাসা করে, ‘কী? বলেছ উপদ্বীপের নাম?’ আমজাদ প্রতিবাদ করার আগেই সজোরে মাথা নেড়ে বলে, ‘কী বলছি! উপদ্বীপ নয়, নদীর নাম।’

    আমজাদ নিরুত্তর হয়ে থাকলে পেন্সিল দিয়ে টেবিলে আওয়াজ করে কৃত্রিম বিস্ময়ের সঙ্গে আরেফ আলী বলে, ‘কী? ভুলে গেছ সব?’

    কয়েক মুহূর্ত নীরবতার পর আমজাদ শিক্ষকের দিকে সোজা তাকিয়ে গম্ভীরভাবে প্রশ্ন করে, ‘স্যার, আপনার আজ শরীর ভালো নয়?’

    হঠাৎ এমন প্রশ্নের জবাবটা ঝট্ করে আসে না। যুবক শিক্ষক কোনো উত্তর খুঁজে পায় না। নিদ্রাহীন রাত্রি বিচরণের ছাপ নিশ্চয় তার চোখে-মুখে স্পষ্টভাবে লেখা। তার আচরণ ও কি ছাত্রদের কাছে অস্বাভাবিক ঠেকে?

    অবশেষে নিরাশমুখে পেটে হাত বুলিয়ে সে বলে, ‘বোধহয় একটু বদহজম হয়েছে।’ পরমুহূর্তেই সে-কথা উড়িয়ে দিয়ে উচ্চকণ্ঠে আদেশ দেয়, ‘উপদ্বীপের নাম বলেছ, এবার তিনটি দীর্ঘতম নদীর নাম বলো, আমজাদ।’

    আমজাদ বলে না যে ইতিপূর্বে সে তিনটি নদীর নাম একবার বলেছে। নত মাথায় শুষ্ককণ্ঠে সে পুনর্বার বলে। অন্য ছাত্ররা একটি কথা বলে না।

    দাহজ্বরাগ্রস্ত মানুষ যেমন স্নেহস্পর্শ অনুভব করে কিন্তু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে না, তেমনি যুবক ছাত্রদের স্নেহজাত উদ্বেগ সে নীরবেই গ্রহণ করে। সে বোঝে তার মানসিক কষ্ট-যন্ত্রণা বিভাজ্য নয়, কারো সাথে তার ভাগাভাগি সম্ভব নয়। কারণ তার জন্মকথা প্ৰকাশ করা যায় না।

    অপরিসীম দুঃখের সঙ্গে সে ভাবে, এ কী হল তার? কিন্তু কী যে তার হয়েছে তা সে পুরোপুরিভাবে বুঝতে পারে না। সে একটি গোলকধাঁধায় ঢুকেছে, যার আকৃতি-পরিধি কিছুই জানে না, যার অর্থ সে বোঝে না। সে-গোলকধাঁধায় পরিচিত জগতের কোনো চিহ্নও নাই।

    ঘণ্টা বাজার একটু আগে হঠাৎ যেন তার জ্বর ছাড়ে। চিন্তাধারা সংযত হলে সে এবার সামান্য লজ্জাও বোধ করতে শুরু করে, কারণ তার মানসিক অবস্থার কোনো যুক্তিসঙ্গত হেতু সে খুঁজে পায় না। গোলকধাঁধায় যেন সূর্যরশ্মি প্রবেশ করেছে। সে বুঝতে পারে, বাঁশঝাড়ের দৃশ্যটির সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ নাই। দৃশ্যটি অতি বীভৎস তাতে সন্দেহ নাই কিন্তু সে শুধু তার ক্ষণকালের দর্শকমাত্র। একবার দেখেছে, আর দেখবে না। দেখে মনে যে আঘাত পেয়েছে, সে আঘাতও স্থায়ী হবে না। তাছাড়া, সে-দৃশ্যটির সঙ্গে কোনো পাপ-নৃশংসতা জড়িত, সে-পাপ-নৃশংসতা তাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

    মনে সামান্য শক্তির সঞ্চার হলে যুবক শিক্ষক ছাত্রদের বলে, ‘বলো, কে আমাজন আবিষ্কার করেছিল?’ তারপর হঠাৎ একটি কথা স্মরণ হলে বলে, ‘না, তোমাদের বইতে তার নাম নাই। পনের শ শতাব্দীতে ভিনসেন্ট পিনজোন সর্বপ্রথম আমাজন নদীটি আবিষ্কার করে। তবু বহুদিন সে-নদী রহস্যময় ছিল। কিন্তু আজ সে-নদী সম্বন্ধে কিছুই মানুষের অজানা নাই।’ একটু থেমে যুবক শিক্ষক আবার বলে, ‘সে-রহস্যও নাই, নদীটির সম্বন্ধে সে-রূপকথাও নাই। অজ্ঞানতায় রহস্য-রূপকথার জন্ম হয়।’

    হঠাৎ শিক্ষকের কানে ঝাঁঝ ধরে। মনে হয় কান দুটি জ্বলে যাচ্ছে। সজোরে সে প্রশ্ন করে, ‘আমাজন নদীর আবিষ্কারকের নামটি বল।’

    ছাত্ররা চুপ করে থাকে। নতুন বিদেশী নামটি তারা ধরতে পারে নাই। কোনো উত্তর না পেলে যুবক শিক্ষক কিন্তু আবিষ্কারকের নামটি দ্বিতীয় বার বলে না। তার মনে হয়, কানের ঝাঁঝটা আরো বেড়েছে যেন। সে ভাবে : তাই, কেন সে পালিয়ে গিয়েছিল? কেমন করে সে এ-কথা ভাবতে পেরেছিল যে বীভৎস দৃশ্যটির সঙ্গে কাদের জড়িত থাকতে পারে?

    অবশেষে ক্লাস বদলের ঘণ্টা বেজে ওঠে। ভূগোলের বই বন্ধ করে যুবক শিক্ষক উঠে দাঁড়ায়। পায়ে অসীম দুর্বলতা, তবে মাথাটা পরিষ্কার মনে হয়। লজ্জাভাবের রেশটা এখনো কাটে নাই, কিন্তু সে একটা গভীর স্বস্তি বোধ করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার
    Next Article বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    Our Picks

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }