Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এক পাতা গল্প174 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চাঁদের অমাবস্যা – ১৫

    পনেরো

    দাদাসাহেব ফজরের নামাজ শেষ করে কারুকার্যময় রেহালে কোরান শরীফ রাখবেন এমন সময় একটি চাকর দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। এ-সময়ে তাঁর ধর্মীয় কাজে ব্যাঘাত ঘটলে তিনি বিরক্ত বোধ করেন বলে চশমার ওপর দিয়ে অসন্তুষ্টদৃষ্টিতে তার দিকে তাকান।

    ‘মাস্টার দেখা করতে চায়।’

    দাদাসাহেবের মুখ থেকে অসন্তুষ্ট ভাবটি মিলিয়ে যায়। একটু ভেবে তিনি বলেন, ‘যাও, আসছি।’

    চাকরটি অদৃশ্য হয়ে গেলে জরির কাজ-করা গাঢ় লালরঙের মখমলের সুদৃশ্য আবরণে কোরান শরীফ ভরে সেটি বুকের কাছে ধরে কতক্ষণ তিনি নিশ্চল হয়ে বসে থাকেন, মুখে একটু দুশ্চিন্তার ছায়া দেখা দেয়। তাঁর সন্দেহ থাকে না যে, যুবক শিক্ষক কাদের সম্বন্ধে কোনো কথা বলতে এসেছে। কিন্তু কী কথা?

    কাদের এবং যুবক শিক্ষকের মধ্যে হঠাৎ দেখাশুনা হলে তিনি কৌতূহলী হয়ে সেদিন যুবক শিক্ষককে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, তাদের দেখাশোনার কারণ যুবক শিক্ষকের নিকট হতেই জানা সহজ হবে। কিন্তু সে কিছু বলতে রাজি হয় নাই। তার আচরণ এবং না-বলতে চাওয়ার অর্থ তিনি বুঝতে পারেন নাই। কী এমন কথা হতে পারে যা বলতে তার এত দ্বিধা? অকারণে কাদেরের সেদিনের বিচিত্র দৃষ্টিও তাঁর স্মরণ হয়। সে-দৃষ্টির অর্থও তিনি এখনো বুঝতে পারেন নাই।

    কাদের দরবেশ সে-কথা তিনি নানা সময়ে বলে থাকেন বটে কিন্তু তাতে যে তিনি সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করেন, তা নয়। তিনি নিজেই জানেন, তা তাঁর একটি খেয়াল মাত্র। তবে এমন একটি খেয়াল যা কাদেরের মতো মানুষের পক্ষে সত্য হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। তার আচরণ-ব্যবহার দশজনের মতো নয়। সাধারণ জীবনের নকশার সঙ্গে তার জীবনের মিজুক নাই। তার সম্বন্ধে তার বড় ভাইয়ের ভাবনাচিন্তা হওয়া স্বাভাবিক। তাই একদিন তিনি আশা করতে শুরু করেন, হয়তো কাদেরের মন দরবেশীতেই। আশাটি সত্য হলে তার আচরণের একটি যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা হবে, ভাবনাচিন্তারও কারণ থাকবে না। ক্রমশ আশাটি একদিন খেয়ালে পরিণত হয়। প্রথমে প্রথমে সে রসিকতা – অবিশ্বাসের অংশটা ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুবক শিক্ষক তাঁর সে আশা-খেয়াল ভাঙতে এসেছে কি?

    অবশেষে সজোরে কেশে গলা সাফ করে তিনি উঠে দাঁড়ান। না, এমন আশঙ্কা অহেতুক।

    রেহালটি প্রশস্ত বিছানায় স্থাপিত জায়নামাজের ওপর পড়ে থাকে। তবে কোরান শরীফটা তিনি খাটের মাথার কাছে তাকের ওপর সযত্নে তুলে রাখেন। তারপর গলার মাফলারটি ভালো করে পেঁচিয়ে আলোয়ানটাও আরেকবার জড়িয়ে নেন। এ-সময়ে মুহূর্তের জন্যে হঠাৎ কেমন একটি কথা তাঁর মনে আসে। তিনি ভাবেন, না, তাঁকে কাদের সম্বন্ধে কোনো কু-কথা বলার সাহস যুবক শিক্ষকের হবে না। অবশ্য তৎক্ষণাৎ সেটিকে মন থেকে দূর করে তিনি ঘর থেকে নিষ্ক্রান্ত হন।

    শূন্য বারান্দায় নিশ্চল হয়ে বসে যুবক শিক্ষক দাদাসাহেবের জন্যে অপেক্ষা করে। একটু দুর্বল দেখালেও মুখ শান্ত। নিদ্রাহীনতার জন্যে চোখে শুষ্কতা কিন্তু তাতেও অস্থিরতা- বিহ্বলতার স্পর্শ নাই। মেঝের সাদা-কালো ছকের দিকে তাকিয়ে ধীর-স্থির ভাবেই সে ভাবে, অবশেষে দাদাসাহেবকে দুঃসংবাদটি দিতে এসেছে। দুঃসংবাদটি এই যে, কাদের একটি যুবতী নারী খুন করেছে। কিন্তু কেবল দুঃসংবাদটি দিতেই কি সে এসেছে? বাঁশঝাড়ের ঘটনাটি আসলে বড় অস্পষ্ট মনে হয়। শুধু তা-ই নয়। যা সে বলতে এসেছে এবং যা দাদাসাহেবকে নিঃসন্দেহে ক্রুরভাবে আঘাত দেবে, তা যেন ঘটনাটির সঙ্গে অতি ক্ষীণভাবে জড়িত। যা সে বলতে এসেছে আর যা ঘটেছে, সে দুটি পৃথক বিষয় যেন। হত্যাকাণ্ড নয়, কাদের যেভাবে তার সামনে স্তরে স্তরে ধাপে ধাপে নিজেকে ধ্বংস করেছে সেটাই বড়। কাদের যখন নিম্নতম সোপানে এসে নাবে তখন তার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে নাই : কেবল থেকেছে সামান্য বিষাক্ত কালো ধুঁয়া, হয়তো একটা দূষিত ছায়া।

    না, তার ধ্বংস হওয়াটাও আর বড় কথা নয়। বাঁশঝাড়ের ঘটনার মতো সেটিও যেন আবছা হয়ে উঠেছে। যুবক শিক্ষক এখন কেবল একটি কথাই বোঝে। কাদের অবশেষে যে বিষাক্ত ধুঁয়ায় এবং দূষিত ছায়ায় পরিণত হয়েছিল, সে-ধুঁয়া এবং ছায়া যুবক শিক্ষককেও যেন গ্রাস করার উপক্রম করেছিল।

    মনের কথা বোঝা মুশকিল। বাঁশঝাড়ের ঘটনাটি কেন তার মনে এমন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছিল তা সে এখনো সঠিকভাবে জানে না। হয়তো হত্যাকাণ্ডের কথাটি তার পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভব হয় নাই। এমন নির্মম কথা বিশ্বাস না হওয়াই স্বাভাবিক। অথবা বিশ্বাস না করাই সম্ভব হয় নাই। তাই কথাটা প্রকাশ করলে তার সমূহ ক্ষতি হতে পারে সে-কথা কাদেরের নিকট হতে শোনার আগেই নিজেকে বুঝতে পেরে স্বপ্নরাজ্যে সে আশ্রয় নিয়েছিল। দুটির ফল কিন্তু একই : ঘটনাটির বিষয়ে তার নীরবতা এবং দুটিই যে-কোনো একটির সাহায্যে তার পক্ষে সর্বপ্রকার আত্মরক্ষা করাও সম্ভব হত : মনটা নিষ্কলঙ্ক থাকত, কোনোপ্রকার ক্ষতিও হত না। কিন্তু কোনোটাই ধরে রাখা তার পক্ষে সম্ভব হয় নাই। কথাটা বিশ্বাস না করে উপায় থাকে নাই, স্বপ্নরাজ্যে বাস করাও সম্ভব হয় নাই।

    কেন? কারণ নিজের কাছে তার মনের ভয় লুকানো আর সম্ভব হয় নাই। আয়নায় একটি নগ্নভীতি দেখতে পায়; তার সন্দেহ থাকে না যে সেটি তারই প্রতিবিম্ব। তার কার্যের পরিণাম সম্বন্ধে এখনো সে ভীত, কিন্তু কাজটি না করে এখন তার উপায় নাই। ভয়টা যে তারই মনের ভয়, সে-কথা সে এখন জানে।

    পরিণামভীতি না কাটা সত্ত্বেও সে যখন কথাটি প্রকাশ করতে উদ্যত হয়েছে তখন কোনো একটি যুক্তির সাহায্যে সে নিশ্চয়ই তার ভীত মনকে মানিয়েছে। হ্যাঁ, যুক্তি একটা আছে বটে, কিন্তু হয়তো সেটি একটু বিচিত্র। দাদাসাহেবকে তা সে বোঝাবার চেষ্টা করবে। তাহলে তিনি একথাও বুঝতে পারবেন যে, সে তাঁকে কাদের সম্বন্ধে একটা নিষ্ঠুর খবরই দিতে আসে নাই। তারপর তাঁর পক্ষে যুবক শিক্ষককে খানিকটা ক্ষমা করাও হয়তো সম্ভব হবে।

    গতকাল স্বচ্ছদৃষ্টিতে পরিণামের সম্ভাবনাগুলি ভেবে সে ভয়ই পেয়েছিল। তারপর সে একটি কথা জানতে পারে। কথাটি এই যে, যুবতী নারীর আত্মীয়-স্বজন হত্যার অপরাধটি জিন-পরীর ঘাড়ে চাপানোই শ্রেয় মনে করেছে। হত্যাকারী কে তা না জানলেও হত্যার কথা সন্দেহ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় নাই, তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় নাই; মৃত্যুর কারণ সম্বন্ধে সরকারি ডাক্তারের রায়ের মধ্যে জিন-পরীর নামগন্ধ পর্যন্ত নাই। তবে কেন তারা জিন-পরীর নাম তুলেছে? কারণটি হয়তো এই যে, মৃত যুবতী নারীকে আর যখন তারা ফিরে পাবে না তখন তার মৃত্যুর অপ্রীতিকর ব্যাপারটি ঘাঁটিয়ে লাভ নাই। আত্মীয়-স্বজনের এমন বাসনা স্বাভাবিক।

    এমন সময় যুবক শিক্ষক একটি বিচিত্র কথা লক্ষ করে। কথাটা সত্যিই বিচিত্র। (প্রথমে ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্যে সে যেমন অদ্ভুত যুক্তি-অজুহাতের সাহায্য নিয়েছিল, এবার তা প্রকাশ করবার জন্যেও কি তেমনি অদ্ভুত যুক্তি-অজুহাতের সাহায্য নিচ্ছে?) সে দেখতে পায় যে, সব যুক্তি কাদেরের, তার নিজের, এমন কি যুবতী নারীর মৃত্যুতে একমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ তার আত্মীয়-স্বজনের—সব যুক্তিই সত্য ঘটনাটি গোপন রাখার পক্ষে। সহসা তার মনে হয়, এই ঐকতানের মধ্যে একটি নিগূঢ় অর্থ আছে যেন।

    না-বলার পক্ষে অতি আগ্রহের সঙ্গে কারা সে-সব যুক্তি জুগিয়ে দিয়েছে? জীবিত মানুষরা। জীবিত মানুষরা তাদেরই কথা বলছে, মৃত মানুষের কথা বলছে না। তারপর আরেকটি কথা সে বুঝতে পারে। জীবিত মানুষের পক্ষে জীবিত থাকার জন্যে আকুল আকাঙ্ক্ষা, বা জীবন থেকে যতটুকু পারা যায় লাভ-সুবিধা আদায় করার তীব্র বাসনা আপত্তিজনক নয়, কিন্তু যারা যুক্তিগুলি পেশ করেছে তারা যেন নামেই শুধু জীবিত। আসলে তারা মৃত, তাদের জীবনও ধার-করা জীবন। তা না-হলে তারা মৃত নারীর প্রতি কোনো সমবেদনা বোধ করবে না কেন, যে-মানুষ তার মৃত্যু ঘটিয়েছে তার প্রতি তীব্র ঘৃণা বোধ করবে না কেন? জীবনের ব্যাপারে তারা প্রতারক বলেই তাদের মনে এত ভীতি, সত্য ঘটনাটি লুকাবার জন্যে এত অধীরতা, এত শঠতা।

    যুবক শিক্ষক শীঘ্র সে দল থেকে কাদেরকে এবং যুবতী নারীর আত্মীয়-স্বজনকে বাদ দেয় : ঘটনাটি গোপন রাখার ইচ্ছাটি তার পক্ষে স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যান্য যুক্তিগুলি সে কোথায় শুনেছে? কাদের ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সে যখন আলাপ করে নাই, তখন সে-সব সে কি নিজের মনে শোনে নাই?

    তার মানে এই নয় কি যে যুবক শিক্ষক নিজে জীবিত হয়েও মৃত, জীবনের ব্যাপারে সে-ই প্রতারক?

    আয়নায় সে যেন নিজের আরেকটি চেহারা দেখতে পায়। তাহলে বাকি কথাও সত্য। কর্তব্য এড়াবার জন্যেই সে স্বপ্নরাজ্যে প্রবেশ করেছিল এবং নিজেরই সৃষ্ট অবিশ্বাস্য যুক্তি– অজুহাতে সে বিশ্বাস করেছিল। কাদের যে হত্যাকারী বা সে যে প্রেমিক নয় সে-কথা জানার পর তার মধ্যে যে-ভীষণ ক্রোধ দেখা দিয়েছিল তার কারণ অপরাধীর প্রতি ঘৃণা নয়, কাদের তাকে স্বপ্নরাজ্যে বাস করতে দেয় নাই বলেই সে এমন ক্রোধে আত্মহারা হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া, এ-কথাও সত্য যে যুবতী নারীর মৃত্যুর বীভৎসতা সে কিছুক্ষণের জন্যে বোধ করলেও তার প্রতি কোনো দুঃখ হয় নাই বা তার প্রতি গভীর অন্যায়টির সুবিচার হোক তার প্রয়োজন বোধ করে নাই। সে শুধু ভয়ই বোধ করেছে, নিজের জীবনের জন্য ভয়। সে-ভয়েই প্রথম রাতে মাঠে-মাঠে এমন উন্মাদের মতো ছুটাছুটি করেছিল এবং এ- ক’দিন এমন দিশেহারা হয়েছিল।

    নিজের সত্যরূপ সে কী করে সঠিকভাবে জানবে?

    কথাটি জানবার একটি পথই আছে। তার সত্যাসত্য বিচার ঘটনাটি প্রকাশ না করলে সম্ভব নয়। আবার, সে-বিষয়ে একটি পরিষ্কার উত্তর চাইলে মূল্যস্বরূপ দুটি পরিণামের জন্যে তাকে তৈরি হয়ে থাকতে হবে : হয় কাদের শাস্তি পাবে, না হয় সে-ই শাস্তি পাবে।

    তারা যেন দু-জনেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। তাদের মধ্যে আর প্রভেদ নাই।

    না, দাদাসাহেবের কাছে সে কাদেরের কথাটিই কেবল বলতে আসে নাই।

    হয়তো এখনো সে অন্যপ্রকারে স্বপ্নরাজ্যেই বাস করছে, নিজেকে ফাঁকি দেবার নূতন একটি পন্থা আবিষ্কার করেছে। তার একথা মনে হয় যে, সে যেন নিজেকেই কোনোপ্রকারে ভুলিয়ে ক্ষুধার্ত সিংহের গুহায় নিয়ে এসেছে। কিন্তু তবু তার মনে হয়, সে যেন ঘন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে উন্মুক্ত স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, কোথাও আশ্রয় নেবার স্থান নাই বলেই মনে বিচিত্র শান্তিও। বস্তুত, মন যেন শান্ত নদীর মতোই ঢেউশূন্য, মসৃণ। নদী তবু প্রবাহিত হয়। সে যেন নদীর মতোই একটি গন্তব্যস্থলের দিকে ভেসে যাচ্ছে। সে গন্তব্যস্থল সে দেখতে পায় না, সেখানে তার প্রশ্নের সঠিক উত্তর আছে কিনা তা-ও সে জানে না। তবে নদীর ধারা যেমন থামানো যায় না বা তার দিপরিবর্তন করা যায় না, তেমনি তার পক্ষে থামা বা দিক্‌- পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

    ভেতরের সিঁড়িতে দাদাসাহেবের খড়মের আওয়াজ শোনা যায়। সে আওয়াজ ক্রূরভাবে সারা বাড়িতে প্রতিধ্বনিত হয়। আচমকা সে আওয়াজ শুনে কয়েক মুহূর্তের জন্যে যুবক শিক্ষক বেসামাল হয়ে পড়ে, তার শান্তমনে আলোড়নের সৃষ্টি হয়। দাদাসাহেবকে কথাটি বলতে এসে সে ভুল করে নাই তো? আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে নিস্তার পাওয়ার প্রয়াসে সে কি আত্মহত্যা করতে বসেছে?

    মনকে সংযত করার চেষ্টা করে সে আপন মনে বলে, না। ভীতির কোনোই কারণ নাই। দাদাসাহেব তার অসহায়তা বুঝতে পারবেন। যে-স্রোতের বিরুদ্ধে সে দাঁড়াতে চেয়েছিল কিন্তু দাঁড়াতে পারে নাই এবং যে-স্রোতে সে এখন ভেসে যাচ্ছে দুটির কোনোটার অর্থই সে বোঝে না। এমন নিঃসহায় মানুষের জন্যে তাঁর নিশ্চয় দয়া হবে।

    দাদাসাহেবের খড়মের উচ্চ আওয়াজে উদ্বেগের আভাস নাই। হয়তো তাতেই সে অবশেষে আশ্বস্ত হয়, তার মনের আলোড়ন শান্ত হয়। তারপর দাদাসাহেব বারান্দায় উপস্থিত হলে সে সসম্মানে উঠে দাঁড়ায়, তিনি সশব্দে আসন-গ্রহণ করলে সে-ও আবার বসে। তারপর সে খোলা দরজা দিয়ে উঠানের দিকে তাকায়। সেখানে অস্পষ্ট ঈষৎ কুয়াশাচ্ছন্ন রোদ দেখা দিয়েছে। একধারে একটি ব্যস্তসমস্ত সাদারঙের মুরগি চঞ্চলভাবে খাদ্য অন্বেষণ করে। দাদাসাহেব কাশেন।

    কোথায় সে শুরু করবে? নদীর উৎস কোথায়, কোথায়ই-বা জীবন-মৃত্যুর উৎপত্তি? তাছাড়া, জীবন কি সত্যিই মৃত্যুর চেয়ে অধিকতর মূল্যবান?

    দাদাসাহেব আবার কাশেন। তিনি অপেক্ষা করছেন সে-কথা যুবক শিক্ষককে জানান। যুবক শিক্ষক বোধ করে, তার ভেতর ঝরঝর করে কী যেন ঝরতে শুরু করেছে। তার অন্তর কি কাঁদতে শুরু করেছে একটি নিঃসহায় অজ্ঞানতার জন্যে?

    তারপর সে অস্পষ্ট গলায় বলে, ‘কাদের মিঞা একটি মেয়েলোককে খুন করেছে।’

    কথাটি বলার পরও তার ভেতরে সে-অজানা ধারাটি ঝরতে থাকে। ধারাটি ঝরতেই থাকে, ঝরঝর করে ঝরতেই থাকে। অবশেষে সব কিছু ক্রমশ শেষ হয়ে যায়। নিঃস্ব শূন্যতায় কোনো শব্দ হয় না।

    বহুক্ষণ পর যেন নীরবতা ভঙ্গ করে দাদাসাহেব আস্তে বলেন, ‘বুঝলাম না।’

    যুবক শিক্ষক তখন দৃষ্টিহীনভাবে ছককাটা মেঝের দিকে তাকিয়ে নিঃস্পন্দভাবে বসে। পূর্ববৎ কণ্ঠে সে কথাটি আবার বলে। তারপর কতক্ষণের জন্যে নীরবতা অবিচ্ছিন্ন থাকে।

    ‘পরিষ্কার করে বলেন।’

    দাদাসাহেবের কথা ভালোভাবে বুঝবার ক্ষমতা না থাকলেও সে বোঝে, তিনি হয়তো ঘটনাটির বৃত্তান্ত জানতে চাইছেন। অনুচ্চ প্রাণহীন কণ্ঠে সে বাঁশঝাড়ের ঘটনাটির বৃত্তান্ত দিতে শুরু করে। কিন্তু শীঘ্র তার মনে হয়, তার শ্রোতা যেন নাই। তার কথা এলোমেলো হয়ে ওঠে। একবাক্যে যা বলেছে তার ব্যাখ্যা-সম্প্রসার হয়তো তার কাছে নিতান্ত নিষ্প্রয়োজনীয় বোধ হয়। বস্তুত, দাদাসাহেবকে আর কোনো কথা বলার প্রয়োজনই সে বোধ করে না। হঠাৎ লম্বা-চওড়া সম্ভ্রান্ত মানুষটি যেন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেন। তাছাড়া, কোনো কথা জানার কৌতূহলও যেন শেষ হয়ে গেছে।

    একটু পরে বিসদৃশভাবে উঠে দাঁড়িয়ে কোনোদিকে না তাকিয়ে যুবক শিক্ষক বলে, ‘আপনার কাছে বিদায় নিতে এসেছি।’

    গাঢ় নিঃশব্দতার মধ্যে তার কথাটা কেমন বেখাপ্পা শোনায়। হয়তো তা সে নিজেই অনুভব করে। তবু কয়েক মুহূর্ত সে অপেক্ষা করে। দাদাসাহেব নীরব হয়ে থাকলে সে এবার হাল্কা পায়ে বারান্দা অতিক্রম করে বেরিয়ে যায়। প্রস্থানটিও কেমন বেখাপ্পা মনে হয় যেন, কিন্তু সে-কথা বুঝলেও সে থামে না। উঠানে মুরগিটি সচকিত হয়ে ডানা তুলে পলায়নোদ্যত হয়, উচ্চ কর্কশ রব তোলে, কিন্তু নড়ে না।

    ঘরে সব তৈরি। ফুলতোলা টিনের সুটকেসটি কেবল হাতে তুলে নিলেই হয়। তবে মাথাটা কেমন শূন্য শূন্য মনে হয় বলে কতক্ষণ ঘরের মধ্যখানে স্থির হয়ে সে দাঁড়িয়ে থাকে। যে-ঘরে সে দু-বছর বসবাস করেছে, সে ঘরের চারধারে একবার তাকিয়ে দেখার ব্যর্থ চেষ্টা করে, কিছু দেখতে পায় না। মনে কোনো বেদনার ভাবও বোধ করে না।

    তারপর সে সুটকেসটি তুলে নেয়। কর্তব্য কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয় নাই। দু-ক্রোশ দূরে আদালতের সামনে ঘাসশূন্য বৃক্ষছায়াচ্ছন্ন প্রাঙ্গণের এককোণে যে থানা, সে-থানায় তাকে যেতে হবে। কথাটা কর্তৃপক্ষকে বলার দায়িত্ব তারই। কাদেরের বড় ভাইয়ের ওপর সে-দায়িত্বের ভার দেওয়ার মানে কর্তব্য শুধু অসম্পূর্ণ রাখাই নয়, তাঁকে অমানুষিক একটি কাজ করতে বলা।

    উঠানে নেবে বড়বাড়ির দিকে না তাকিয়ে সে হাঁটতে শুরু করে। তারপর যে-বাড়ি মূর্ছিত হয়ে আছে মনে হয়েছিল সে-বাড়ি থেকে এবার গুরুগম্ভীর একটা ডাক আসে। সে-ডাকটির জন্যে তারই অজ্ঞাতে সে কতক্ষণ অপেক্ষা করেছিল। অবশেষে সেটি যখন তার কানে পৌঁছায়, তখন সে হয়তো আর তার জন্যে তৈরি নয়, বা তাতে তার মনে একটা নতুন ভয়ের সৃষ্টি হয়।

    সে ছুটতে শুরু করে। হাঁটার ভঙ্গিতে চললেও আসলে সে দৌড়তেই থাকে। টিনের সুটকেসটি সশব্দে হাঁটুতে বাড়ি খায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার
    Next Article বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    Our Picks

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }