Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এক পাতা গল্প174 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চাঁদের অমাবস্যা – ১২

    বারো

    অবশেষে যুবক শিক্ষকের পক্ষে বাঁশঝাড়ের নির্মম ঘটনাটি নিরপেক্ষ দর্শকের পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিতে দেখা সম্ভব হয়। চন্দ্রালোক দিবালোকে পরিণত হয়েছে। সে-দিবালোকে একটি নিহত যুবতী নারীর অর্ধ-উলঙ্গ দেহ স্পষ্টভাবে সে দেখতে পায়। শুধু তাই নয়। হত্যাকারীর পক্ষেও কোথাও গা-ঢাকা দেবার উপায় নাই।

    না, ঘটনাটিতে আর কোনো জটিলতা নাই। একসময়ে ফৌজদারি আদালতে বাদীপক্ষ সেটি এ-ভাবেই পেশ করবে তাতে সন্দেহ নাই।

    বড়বাড়ির প্রধান মুরুব্বি আলফাজউদ্দীন চৌধুরী সাহেবের কনিষ্ঠভ্রাতা কাদের চৌধুরী নিষ্কর্মা মানুষ। কয়েক মাস আগে বিবাহিত এবং ভদ্রবংশীয় সে নিষ্কর্মা মানুষটি তাদের গ্রামেরই একটি দরিদ্র মাঝির সন্তানহীনা যুবতী স্ত্রীর সঙ্গে কোনো প্রকারে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে। কার্যোপলক্ষে স্বামীটিকে প্রায়ই গ্রামছাড়া হতে হয়। তখন ঘরে থাকে তিনজন মেয়েমানুষ : মাঝির স্ত্রী, বৃদ্ধা মা এবং কানা বোন। অবস্থা অনুকূল হলেই কাদের যুবতী নারীর সঙ্গে গোপনে দেখা-সাক্ষাৎ করে। মাঝির ঘরটা গ্রামের একপ্রান্তে। নিকটে একটু জঙ্গলের মতো। সেখানে একটা বৃহদাকার বাঁশঝাড়। সে বাঁশঝাড়ের মধ্যে ক্ষুদ্র খোলা স্থানে তাদের গোপনমিলন হয়। ধর্মনীতিবিরুদ্ধ অবৈধ এ- মিলনের কারণ কী? যুবতী নারী আজ মৃতা। তার মনে কী ছিল তা আজ জানা সম্ভব নয়। তবে তার সঙ্গে কাদেরের সম্পর্কের কারণ নিঃসন্দেহে বলা যায়। সে-কারণ ইন্দ্রিয়পরায়ণতা।

    দিন-কয়েক পূর্বে বড়বাড়ির আশ্রিত যুবক শিক্ষক আরেফ আলী গভীর রাতে কাদেরকে বাড়ি ত্যাগ করে গ্রাম-অভিমুখে যেতে দেখে। তার জ্যেষ্ঠভ্রাতার মতে সে দরবেশ। কথাটা বিশ্বাস না-হলেও কাদের সম্বন্ধে যুবক শিক্ষক কৌতূহল বোধ করে। সে ভাবে, কাদেরকে অনুসরণ করে দেখে অত রাতে কী উদ্দেশ্যে সে ঘর থেকে বেরিয়েছে। অবশ্য খারাপ কিছু সে সন্দেহ করে না।

    শীঘ্র সে কাদেরকে হারিয়ে ফেলে। তারপর উজ্জ্বল জ্যোৎস্নালোকে তার কথা ভুলে সে কিছুটা উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে থাকে। হয়তো কাদেরকে আবার দেখতে পাবে সে-আশাটা এখনো সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করে নাই। তারপর একসময়ে নদীর কাছে বাঁশঝাড়ের নিকটবর্তী হতেই একটি মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলে তার বিস্ময়ের অবধি থাকে না। ঠিক চিনতে না পারলেও তার সন্দেহ থাকে না যে কণ্ঠস্বরটি কাদেরেরই। দ্বিতীয় কোনো কণ্ঠস্বর শুনতে না পেলে তার মনে হয়, কাদের হয়তো অদৃশ্য কোনো আত্মার সঙ্গে কথালাপ করছে। সে কি সত্যই দরবেশ? তার কথা ভালো করে শুনবার জন্যে সে বাঁশঝাড়ের দিকে এগিয়ে যায়। তখন শুকনা পাতায় তার পা পড়লে হঠাৎ আওয়াজ হয়, হয়তো ভয় পেয়ে সে নিজেও কিছু বলে ওঠে। এবার বাঁশঝাড়ে কণ্ঠস্বরটি থেমে যায়। কিছুক্ষণ পর যুবক শিক্ষক আবার রাখালের মতো ডেকে উঠলে যুবতী নারী ভয় পেয়ে সামান্য চিৎকার করে ওঠে।

    বাঁশঝাড়ের বাইরে মানুষের আওয়াজ শুনতে পেলে কাদের ভেবেছিল হয়তো যুবতী নারীর স্বামীই তার স্ত্রীর সন্ধানে এসেছে। এবার যুবতী নারী চিৎকার করে উঠলে সে নিদারুণ ভয়ে দিশেহারা হয়ে যুবতী নারীকে চুপ করাবার জন্যে তার গলা টিপে ধরে। প্রাণের জন্যে যুবতী নারী যতই ধ্বস্তাধ্বস্তি করে ততই দিশেহারা কাদের তার হস্তবন্ধন শক্ত করে। শীঘ্র যুবতী নারীর জীবনাবসান ঘটে। কাদেরের মতে, সে-নিদারুণ ভীতির কারণ তার পরিবারের নামযশ। সে-পরিবারের মানুষ চরম ব্যভিচারে লিপ্ত তা প্রকাশ পেলে যে ভয়ানক পরিণাম হবে সে পরিণামের কথা স্মরণ হওয়াতে তার সমস্ত জ্ঞানবুদ্ধি হঠাৎ লোপ পায়। যখন সে বুঝতে পারে যুবতী নারীর দেহে প্রাণ নাই, তখন সে বাঁশঝাড়ের পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়।

    তারপর কাদের একটু ভুল করে। কিছুদূরে গিয়ে তার সন্দেহ হয়, হয়তো সবটা কানেরই ভুল। ভুলবশত সে কি এমন গুরুতর কাণ্ড করে বসেছে? তাছাড়া, বাঁশঝাড়ের সামনে কেউ যদি এসেও থাকে, সে যে হত্যাকাণ্ডের কথা জানতে পেরেছে তার প্রমাণ কী? ভাবে, বাঁশঝাড়ের সামনের ভাগটা একবার দেখে এলে ক্ষতি কী! ফলে যুবক শিক্ষকের সঙ্গে তার দেখা হয়। সে-রাতে তার বিচিত্র আচরণ দেখে তার মনে সন্দেহ থাকে না যে, সে যে শুধু মৃত নারীর কথা জানে তা নয়, হত্যাকারী কে তাও সে জানে। যুবক শিক্ষক যে কিছু দেখে নাই, কাদের যে হত্যাকারী সেটা যে কেবল তার একটি খেয়াল, সে-কথা বোঝা তার পক্ষে সম্ভব হয় না।

    পরদিন যুবক শিক্ষক ঘটনাটি প্রকাশ করবে সে-কথাই কাদেরের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। তবে সে বুঝতে পারে, সাক্ষীর অভাবে অভিযোগটা প্রমাণ করা তার পক্ষে সহজ হবে না। একটি মানুষের বিরুদ্ধে আরেকটি মানুষের কথা। অতএব যুবক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনার জন্যে সে তৈরি হয়ে থাকে। সে বোঝে, প্রথমে যে অভিযোগটি আনবে তারই অপেক্ষাকৃত বেশি লাভ থাকবে কিন্তু নিজে অপরাধী বলেই হয়তো তার পক্ষে আক্রমণটা শুরু করা সম্ভব হয় না। যুবক শিক্ষক কথাটি প্রকাশ করলে সে কী-পাল্টা জবাব দেবে তা সে ঠিক করে রাখে। সে বলবে, মৃতদেহটি সে স্বচক্ষে দেখেছে এবং যুবক শিক্ষককেও বাঁশঝাড়ের কাছাকাছি দেখেছে। অবশ্য যুবক শিক্ষকই যে হত্যাকারী সে কথা সে সরাসরি না বললেও তার ওপর সন্দেহ ফেলতে দেরি হবে না। তাছাড়া, তার দরবেশী সুনামের জন্যে সে রাতভ্রমণেরও একটা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারবে। উপরন্তু, তার পরিবারের নামযশ প্রতিপত্তিও তাকে সাহায্য করবে।

    তাকে কিছুই করতে হয় নাই। পরদিন যুবক শিক্ষক নিয়মিতভাবে বড়বাড়িতে এবং ইস্কুলে শিক্ষকতা করে, রাত্রির ঘটনা কাউকে বলে না। তার ব্যবহারে কাদের বিস্মিতই হয়। তারপর তার নীরবতার একটি কারণই সে দেখতে পায়। যুবক শিক্ষকই তাদের আশ্রিত বলে চক্ষুলজ্জার জন্যেই হোক বা সাহসের অভাবেই হোক, সে নীরব থাকাই সমীচীন মনে করেছে।

    হত্যাকাণ্ডটি প্রকাশ পায় নাই সে-বিষয়ে নিশ্চিন্ত হলে এবার কাদেরের মন বাঁশঝাড়ে পরিত্যক্ত মৃতদেহটির প্রতি যায়। রাত্রি হলে সে বুঝতে পারে, যুবক শিক্ষক তো কথাটি বলেই নাই, মৃত দেহটিও এ-পর্যন্ত অনাবিষ্কৃত রয়েছে। সেটা তার কাছে অতি সৌভাগ্যের ব্যাপার বলেই মনে হয়। তবে সে এ-কথা উপলব্ধি করে যে, প্রথম দিন যে-কোনো কারণে তার প্রতি ভাগ্য অতি সুপ্রসন্ন থেকেছে, দ্বিতীয় দিনেও এমন সুপ্রসন্নতা আশা করা বাড়াবাড়ি হবে। নিখোঁজ নারীর সন্ধান চলছে, দেহটি আবিষ্কার করতে দেরি হবে না। স্থিরমস্তিষ্কে ব্যাপারটি বিবেচনা করে সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, দেহটি অদৃশ্য হয়ে গেলেই সে সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ বোধ করতে পারবে। যুবতী নারীর দশা না জানলে তার হত্যার কথা কেউ সন্দেহ করবে না, হত্যাকারীকেও সন্ধান করবে না।

    দেহটি গোর দেবার কথাটা ভেবে দেখে নদীতে ফেলাটাই সে সমীচীন মনে করে। তবে পন্থাটি মনঃপূত হলেও তা কম অপ্রীতিকর মনে হয় না। এ-সময়ে তার মাথায় খেয়াল আসে, সে-ব্যাপারে যুবক শিক্ষকের সাহায্য সে নেয় না কেন? খেয়াল হিসেবে যে-কথাটা তার মনে আসে, ভেবে দেখার পর তা তার ভালোই লাগে। দু-জন মানুষের পক্ষে কাজটি সম্পন্ন করতে দেরি হবে না, সাথী পেলে সেটি কাদেরের কাছে ততটা ন্যাক্কারজনকও মনে হবে না। তাছাড়া, কাদের এ-কথাও বুঝতে পারে যে, যে-লোকটি সব জেনেও কথাটি এ-পর্যন্ত প্ৰকাশ করে নাই, তাকে দেহ বহনের ব্যাপারে একবার জড়িত করতে পারলে চিরকালের জন্যে তার মুখ বন্ধ করা সহজ হবে। অবশ্য সে সাহায্য করতে রাজি হবে কিনা সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ হতে পারে না, কিন্তু ভাবে, চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কী! তাছাড়া, যুবক শিক্ষকের চোখে নিজেকে দোষমুক্ত করার একটা ক্ষীণ আশাও মনে মনে পোষণ করে। কে জানে একটি আজগুবি কথা বলে নিরীহ-সাদাসিধে লোকটির মনকে হয়তো অন্যপথে চালু করে দিতে সক্ষম হবে। সবদিক থেকে কথাটি তার পছন্দ হয়।

    যুবক শিক্ষক বিনাতর্কে তাকে সাহায্য করতে রাজি হয়। প্রথমে সামান্য ভয় পায়, তার প্রস্তাবটিও হয়তো পরিষ্কারভাবে বোঝে না, কিন্তু দ্বিরুক্তি না করে তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে। পরে কাজটির সামনাসামনি হলে সে ভীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কোনো প্রকারে দেহটি বহন করলেও নদীর পাড় দিয়ে নাবতে গিয়ে সে এভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যে আর ওঠে না। বাকি কাজটি কাদের একাকীই করে। পরে ধরাশায়ী যুবক শিক্ষকের দিকে তাকাতেই একটি ব্যাপারে সে নিঃসন্দেহ হয়। যুবক শিক্ষক মেরুদগুশূন্য ব্যক্তি। প্রয়োজন হলেও তাকে বেশি ভয় দেখাতে হবে না, একটুকুতেই তাকে কাবু করা যাবে। পাড় বেয়ে উঠে কাদের নিশ্চিন্তচিত্তে বাড়ি ফিরে যায়।

    দুর্ভাগ্যবশত পরে রাতের বেলায় কোম্পানির জাহাজের সারেঙ্গ যুবতী নারীর দেহটি নদীতে ভাসতে দেখে। তার পরিকল্পনাটি কার্যকরী হল না দেখে কাদের অতিশয় নিরাশ হয় কিন্তু সে আর কী করতে পারে? অবশ্য যুবক শিক্ষকের দিক থেকে কোনো বিপদ সে আশঙ্কা করে না, তাই তাকে কোনো কথা বলার প্রয়োজনও বোধ করে না। যে-মানুষ সত্যকথা জেনেও এবং মৃতদেহটি বহনকার্যে তাকে সাহায্য করেও কাউকে কিছু বলে নাই, এখন দেহটি খুঁজে পাওয়া গেছে শুনে সে হত্যাকাণ্ডের কথাটি প্রকাশ করবে তা যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না।

    তারপর যুবক শিক্ষক তাকে ডেকে পাঠায়। প্রথমে সে ঠিক করে যাবে না। ঘটনাটির বিষয়ে তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার বা ষড়যন্ত্রের কোনো প্রয়োজন দেখে না। না গেলে যুবক শিক্ষক এ-কথাও বুঝতে পারবে যে, ব্যাপারটি ভুলে যাওয়াই বাঞ্ছনীয়। তবু পরে কেমন অস্বস্তি এবং কৌতূহল হলে সে যুবক শিক্ষকের ঘরে হাজির হয়। যুবক শিক্ষকের ব্যবহার কিন্তু তার বোধগম্য হয় না। পরিষ্কার করে সে কিছু বলে না, যেটুকু বলে তাও অসংলগ্ন মনে হয়। কাদেরের সন্দেহ হয়, যুবক শিক্ষকের মনে যেন একটা কুমতলব। এ-সময়ে একটি কথা জানতে পেরে তার অনুশোচনার শেষ থাকে না। কথাটি এই যে, কাদের যে হত্যাকারী তা যুবক শিক্ষক নিশ্চিতভাবে জানত না। যেটুকু অনিশ্চয়তা ছিল তা কাদের নিজেই দূর করেছে।

    কথাটি জানতে পেরে যুবক শিক্ষকও কেমন বিচলিত হয়ে পড়ে, তার ব্যবহারও আরো বিচিত্র হয়ে ওঠে। সে যেন একটা বিভ্রমের ঘোরে ছিল, সে ঘোরটা কেটেছে। কিন্তু তবু তার ব্যবহার বোধগম্য না হয়ে আরো দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। কাদের একটি উপসংহারেই উপনীত হতে সক্ষম হয়। সত্যকথা জানতে পেরে যুবক শিক্ষক একটি বিকৃত আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছে।

    দ্বিতীয় বার সে নিজেই যুবক শিক্ষকের কাছে হাজির হয়। মনে অশান্তি। তাছাড়া, সেদিন সকালে দাদাসাহেব যুবক শিক্ষককে ডেকে পাঠিয়েছিলেন সে কথা সে জানে।

    যুবক শিক্ষককে এবার অপেক্ষাকৃত শান্ত মনে হয়। তাছাড়া মনে হয়, তার যেন কী একটা কথা বলার আছে। তার আচরণ-ব্যবহারে কোনোপ্রকার বিরুদ্ধতা প্রকাশ পায় না বলে কাদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে। সে কোনো কথা বলতে আসে নাই, জানতেই এসেছে।

    অবশেষে যুবক শিক্ষক তার মনের কথাটি কোনোপ্রকারে প্রকাশ করে। বলতে গিয়ে তার মুখ লাল হয়ে ওঠে, শব্দগুলিও ঠিকভাবে সরে না। যা বলে তা-ও অতিশয় বিচিত্র শোনায়। তার মর্মার্থ এই যে, যুবতী নারীর প্রতি প্রণয়ের কথাটা কাদের বলে নাই। সে-কথাটি বিশেষ জরুরি এই কারণে যে অপরাধটি ক্ষমার্হ কি ক্ষমার্হ নয় তা তার উত্তরের ওপরই নির্ভর করে। যুবক শিক্ষকের বক্তব্যটি এতই অপ্রত্যাশিত এবং অপ্রাসঙ্গিক মনে হয় যে কাদের স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। এ কী ধরনের কথা? কাদের কি একটি বদ্ধপাগল মানুষের হাতে পড়েছে? বাঁশঝাড়ের ঘটনাটি ভয়ানক গুরুতর কিন্তু কী করে লোকটি প্রেমের কথা ভাবতে পারছে? তাছাড়া, নারী- পুরুষের সম্পর্কের কারণ কি শুধুমাত্র প্রেম? না, লোকটি নিঃসন্দেহে উন্মাদ। তা না হলে এমন অহেতুক কথার উত্থাপন করবে কেন? কাদের হঠাৎ রাগে অন্ধ হয়ে পড়ে। সে-ক্রোধ সামলানো তার পক্ষে সহজ হয় না। তারপর যুবক শিক্ষকও অকারণে বেসামাল হয়ে পড়ে। তার মধ্যে যেন একটা বিষম মানসিক সঙ্কট উপস্থিত হয়। অবশেষে সে পরিষ্কারভাবেই ঘোষণা করে যে, তার পক্ষে কাদেরকে ক্ষমা করা আর সম্ভব নয়।

    লোকটি যে উন্মাদ সে-বিষয়ে কাদেরের এবার আর কোনো সন্দেহ থাকে না। অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে পেরে সে এবার সত্যিই ভয় পায়। ফলে, যুবক শিক্ষককে ভয় দেখানো অত্যন্ত প্রয়োজন মনে করে। যুবক শিক্ষক একটু সুস্থির হলে সে তাকে পরিষ্কারভাবে বলে যে, কথাটা প্রকাশ করলে তার সর্বনাশই হবে। কিন্তু ভয়-প্রদর্শন বৃথা মনে হয়। কাদেরের কথা যুবক শিক্ষকের কানে পৌঁছায় না। কাদের যে প্রেমিক নয়, সে-দুঃখেই সে যেন আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। লোকটির প্রতি ক্রোধে-ঘৃণায় কাদেরের শ্বাসরোধ হবার উপক্রম হয়।

    সচকিত হয়ে যুবক শিক্ষক বুঝতে পারে, কাদেরের সঙ্গে তার শেষ সাক্ষাৎটি সে কাদেরের দৃষ্টিতেই দেখতে শুরু করেছে। কিন্তু তাতে ক্ষতি নাই। অবশেষে সব দুর্বলতা-স্বপ্ন-কল্পনা থেকে সে মুক্তি পেয়েছে, কাদেরের কুকীর্তিটি স্বচ্ছদৃষ্টিতে দেখবার পথে আর বাধা নাই। কাদের যখন তাকে কোনোপ্রকারে আর প্রভাবিত করতে পারবে না তখন তার দৃষ্টিতে ব্যাপারটি দেখতে কোনো ভয় নাই। এখন সে তার যুক্তি-অজুহাত সম্পূর্ণভাবে বুঝতে চায়।

    কাদেরের যুক্তির উপসংহার কী? শুধু এই যে, যুবক শিক্ষক একটি মতিচ্ছন্ন মানুষ। সেখানেই তার যুক্তির শেষ। অপরের বিষয়ে এ সিদ্ধান্তের পর নিজের সম্পর্কে কী তার বলার আছে? কিছু না। সেখানে তার যুক্তি শূন্যতায় খাঁ-খাঁ করে।

    না, কাদের যে প্রেমিক নয় সে-কথাই তার দুঃখের কারণ নয়। আসল কারণ এই যে, একটি যুবতী নারী নিতান্ত অর্থহীনভাবেই প্রাণ হারিয়েছে। তার মৃত্যুতে কাদেরের মনে একটু দুঃখ-বেদনা জাগে নাই। শূন্য হৃদয়ে দুঃখ-বেদনা জাগে না। কাদেরের হৃদয়ের শূন্যতার জন্যেই যুবতী নারীর মৃত্যুটা একটি নির্মম হত্যা ছাড়া কিছু নয়।

    হয়তো যুবক শিক্ষক মতিচ্ছন্ন মানুষ। সে-বিষয়ে নিজে সে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারে না। কিন্তু তার কর্তব্য সে পরিষ্কারভাবে দেখতে পায়। কাদেরের বিচারের যে-ভার নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল সে-ভার সে আর বহন করতে পারবে না। তাকে এবার কথাটা প্রকাশ করতে হবে। প্রথমে দাদাসাহেবকে, তারপর কর্তৃপক্ষকে।

    কর্তব্যটি পালন করা যে কষ্টসাধ্য হবে তা সে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করে। সর্বপ্রথম দাদাসাহেবের কথাই তার মনে আসে। কথাটা তাঁকে বলা সহজ হবে না। তিনি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কঠিন আঘাত পাবেন, যে-আঘাত বৃদ্ধবয়সে তাঁর পক্ষে সামলে ওঠা হয়তো দুষ্কর হবে। হয়তো হঠাৎ তিনি দেখতে পাবেন, যে আশা-ভরসা আশ্বাস- বিশ্বাসের জোরে এতদিন তিনি বেঁচে ছিলেন, তা সারশূন্য হয়ে উঠেছে : সমস্ত জীবনটাই এক পলকের মধ্যে নিষ্ফল হয়ে পড়েছে। তাছাড়া, যুবক শিক্ষক জানে তিনি অতিশয় দয়াবান মানুষ। তাঁর দয়াবান চরিত্রের ভিত্তি হল মানুষের প্রতি অটল বিশ্বাস! এমন মানুষের হৃদয়ে নিষ্ঠুর আঘাত দেওয়া কি সহজ? কর্তৃপক্ষকে বলাও সহজ হবে না। যে-হত্যাকাণ্ড সে নিজের চোখে দেখে নাই সে হত্যাকাণ্ডের সমর্থনে কী সাক্ষী-প্রমাণ পেশ করবে সে? বলতে বিলম্বেরও কী কারণ দেবে? তার মনের নানাপ্রকার বিচিত্র বিশ্বাস-চিন্তাধারার কথা তাদেরকে বলতে হবে। কিন্তু তখন তাদের কাছে তার অভিযোগটি বিভ্রান্তমস্তিষ্কের প্রলাপ বলে মনে হবে না কি? তাছাড়া, নদীতে যুবতী নারীর দেহটি ফেলার ব্যাপারে তার সহায়তারও কী ব্যাখ্যা দেবে?

    কথাটি প্রকাশ করলে তার সমূহ ক্ষতিরও সম্ভাবনা আছে। কাদের ইতিমধ্যে তার পরিণামের কথা বলে তাকে ভয়-প্রদর্শন করেছে। যুবক শিক্ষক শুধু যে তার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হবে না তা নয়, কাদের তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনলে নিজেকে রক্ষা করার কোনো উপায় তার থাকবে না। এখন সে ভাবছে দাদাসাহেব কথাটি জেনে অত্যন্ত আঘাত পাবেন। হয়তো তিনি তা বিশ্বাস করতেই চাইবেন না। অকারণে তার কনিষ্ঠভ্রাতার গুরুতর ক্ষতি সে করতে চাইছে এই ধারণায় বদ্ধমূল হয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে কাদেরকে রক্ষা তো করবেনই, তার বিরুদ্ধে কাদেরের পাল্টা জবাবটি যাতে টেকে তার যথাযথ ব্যবস্থা করবেন। সত্য কথা জেনেই যে তিনি এমন অন্যায় কাজ করবেন তা নয় : কাদেরকে অপরাধী বলে গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। আরেকটি কথা। ভাইকে রক্ষা করার প্রয়োজন ছাড়া আরেকটি প্রয়োজনও তিনি বোধ করবেন : তাঁর পরিবারের সুনাম রক্ষা করা

    যুবক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ না আনলেও কথাটি প্রকাশ করার পর তাকে বড়বাড়ির আশ্রয় এবং ইস্কুলের শিক্ষকতার চাকুরিটি ছাড়াতে হবে, তারপর এখানে থাকতে তার বিবেকে বাধবে। তখন সে কোথায় যাবে? কোথায়ই-বা এমন লাভজনক চাকুরি বা দাদাসাহেবের মতো এমন স্নেহ-দয়াশীল অভিভাবক পাবে?

    তবু কথাটা প্রকাশ না করে তার উপায় নাই। উপায় থাকলে সে বলত না। বাঁশঝাড়ে একটি নারী অর্থহীনভাবে জীবন দিয়েছে। তার বিশ্বাস, মানুষের জীবন এত মূল্যহীন নয়। না, সত্যিই তার উপায় নাই।

    যুবক শিক্ষকের শীর্ণ মুখ শুষ্ক কাঠের মতো নীরস-কঠিন মনে হয়। সে-মুখ কখনো যেন হাসবে না কাঁদবে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার
    Next Article বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026
    Our Picks

    বন্ধনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 31, 2026

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }