Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প344 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তার চোখের তারায় – ৮

    অষ্টম অধ্যায়

    “আর দে নাটস? একটা বাচ্চা ছেলে কী করে সুইসাইড করতে পারে? তাও এইভাবে।”

    “খুনই বা কীভাবে হতে পারে?”

    “তাও সেটার চাইলে একটা এক্সপ্লানেশান দেওয়া যায়। পোস্টমর্টেমে কী ছিল এমন? যা দেখে সুইসাইড বলছে ওরা?”

    “তা জানি না। তুমি কাল আসছ তো?”

    “ইচ্ছা তো তাই আছে।”

    “বেশ, আর এসব নিয়ে বেশি ভেব না। আমাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তুলি শুধু একটু শকে আছে।”

    “হ্যাঁ, ওকে একটু সাবধানে রেখো। ও বাড়িতে বাচ্চারাও সেফ নয় দেখছি।”

    ফোনটা রেখে দেয় সুনন্দা। নীলাদ্রি নিজেই ফোন করেছিল আজ। তখনই খবরটা জানাতে হল। এ বাড়িতে এতগুলো মৃত্যু হয়েছে পরপর, নীলাদ্রিই আগে বারণ করেছিল নাথদের কাজটা নিতে। জেদটা সুনন্দারই ছিল। কিন্তু তাদের থাকতে থাকতে যে আর একটা মৃত্যু হবে সেটা আগে ভাবতে পারেনি সে।

    সকালের নতুন ছাদ। পায়েল একটু দূরে মেঝের উপরে বসে কাল রাতের ডায়েরিটা মন দিয়ে দেখছে। একটু দূরে পায়রার ঘরের সামনে দানা ছড়াচ্ছে তুলি। কাল রাতে এ বাড়ির কারও ভালো ঘুম হয়নি। দেহ সৎকার করা, ঘাটের কাজ ইত্যাদিতেই সময় কেটে গেছে। নিচের ঘরে বাইরে থেকে তালা দিয়ে ছাদে চলে এসেছে সুনন্দা। সকাল থেকে একগাদা জামাকাপড় নিজে হাতে কেচেছে সে। সদ্য চান করে উঠে একটা গামছা জড়িয়ে নিয়েছে মাথায়। গামলা থেকে কাপড় তুলে নিংড়াতে নিংড়াতে বলল, “আমি শুধু ভাবছি পোস্টমর্টেম রিপোর্টে কী লেখা আছে?”

    উত্তর না পেয়ে আবার প্রশ্ন করল, “আচ্ছা, সেটা দেখে তুমি কিছু বুঝবে না? তাই না?”

    “আমি ইংলিশের স্টুডেন্ট, বায়োলজির না।” ডায়েরির দিকে মন দিয়েই উত্তর দেয় পায়েল।

    “অন্তত এটুকু তো বুঝবে কেন সুইসাইড বলছে?”

    এবার সে মুখ একটা একটা পেন থুতনিতে ঠেকিয়ে বলল, “কি জানি কেন বলছে, আমার কি মনে হয়েছিল জানো আগে?”

    “কী?”

    “কেউ ওকে ড্রাগড করে কাজটা করেছে। সেই জন্যেই স্ট্রাগলের চিহ্ন নেই। কিন্তু সুইসাইড মানে শরীরে মাদকও পাওয়া যায়নি।”

    এইবার কাপড়গুলো মেলতে লাগল সুনন্দা, “আমারও ভারি আশ্চর্য লাগছে। ধরে নিলাম কোনো কারণে অতীন ঠিক করল সে সুইসাইড করবে। কিন্তু তার জন্যে সাতসকালে উঠে রান্নাঘরে এসে মাথা ঠুকতে যাবে কেন? কাছে পুকুর আছে, দীঘি আছে। ঝাঁপ দিতে পারত।”

    “দড়ি কলসি নিয়ে যাবে বলছ? তাতে লাভ হত না। অতীন সাঁতার জানত।”

    “সে তুমি যাই বল। মাথা ঠুকে সুইসাইডটা কেমন যেন লাগছে আমার।”

    “শুধু সেটা না, আর একটা জিনিস মিলছে না আমার।”

    “কী বলতো?” শেষ কাপড়টা রোদ্রে দিয়ে জিজ্ঞেস করল সুনন্দা। “হোয়াই রান্নাঘর? এ বাড়িতে ঘরের শেষ নেই। কিছু কিছু ঘর এতদূরে যে লোকজনের শুনতে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। তাছাড়া রান্নাঘরে ভর্তি বাসন কোসন। কোনোভাবে একটা খসে গেলেই দূর থেকে সেটা শোনা যাবে। সেটা সুইসাইডের জন্যেও ভালো না, খুনের জন্যেও নয়। এতকিছু থাকতেও রান্নাঘরটাই বেছে নিল কেন?“

    পায়েলের পাশে এসে এবার বসে পড়ল সুনন্দা। একবার মুখ তুলে তুলিকে দেখে নিল। তারপর আবার নিচে তাকিয়ে বলল, “আজব কাণ্ড! এ বাড়িতে যেই মারা যাক না কেন, সেগুলো খুন আর আত্মহত্যার মাঝামাঝি ঝুলে থাকছে।”

    এবার পেনের ঢাকাটা খুলে নিয়ে নিজের ডায়েরির পিছনের একটা পাতা মেলে ধরল পায়েল। তাতে ছোট ছোট অক্ষরে কী যেন লিখতে লাগল। স্বগতোক্তির মতো বলল, “আমাদের হাতে রইল তাহলে ছ’টা খুন। এ)- সিক্সটিফোরে সিঁড়ি থেকে পড়ে, বি) – সেভেন্টি সিক্সে জলে ডুবে, সি) – নাইন্টি টুতে কুয়োয় পড়ে, ডি)— দু’ হাজার আটে সিলিং থেকে ঝুলে, ই) – দু’ হাজার আটেই দোকানের সিলিং থেকে ঝুলে, এফ)— দু’ হাজার আঠেরোতে দেওয়ালে মাথা ঠুকে। সব দশকেই একটা করে খুন, এক্সসেপ্ট এইট্টিস। খুনি কী করছিল তখন? মিস্টার ইন্ডিয়া দেখছিল?

    ধরে নিলাম তার নাম— এক্স। এখন প্রশ্ন হল এক্স কি কন্সট্যান্ট নাকি ভেরিয়েবেল? সেও কি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পালটে যাচ্ছে?”

    “আমার তো তাই মনে হয়। এত বছর ধরে একটা মানুষের পক্ষে খুন করা সম্ভব না। কেউ তার স্টাইলগুলোকে কপি করে তার ঘাড়ে চাপাতে চাইছে।”

    “আচ্ছা এই টাইমলাইনে কিছু গ্লিচ চোখে পড়ল তোমার? মানে যেখানে প্যাটার্নটা প্রায় মেলেনি?”

    উত্তরটা সুনন্দার ঠোঁটের উপরেই ছিল, “হ্যাঁ, দুটো। ছ’টার মধ্যে পাঁচটা খুন হয়েছে এ বাড়িতে, মানে বাড়ির চৌহদ্দিতে আর কি। একমাত্র শশিভূষণ সরকার মারা গেছেন তার নিজের দোকানে। আর একটা হল দু’ হাজার আটেই দু’টো খুন হয়েছে। এই খুনি সাধারণত এত তাড়াতাড়ি খুন করে না।”

    “হুম… এ থেকে দুটো জিনিস বোঝা যায়। এক, কোনো একটা কারণে খুনটা করা ভীষণ দরকারি হয়ে পড়েছিল। দুই, খুনগুলো সে নিতান্তই ইচ্ছা হয় বলে করে না। তার একটা লজিকাল রিসেন আছে। হি ইজ নট আ সাইকোপ্যাথ।”

    “শশিভূষণ সরকারকে খুন করার কারণটা স্পষ্ট। জমিদারী দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে লোকটা যদি এখানে এসেই থাকতে শুরু করে তাহলে কিছু একটা জেনে যেতে পারে সে। সেটা খুনির পক্ষে সুবিধের হবে না।”

    ডায়েরিটা হাতে নিয়ে পায়েল উঠে পড়ল মেঝে থেকে। তারপর ধীর পায়ে হেঁটে এসে দাঁড়াল ছাদের কিনারায়। তার দিকে এগিয়ে এল তুলি হেসে তার কাঁধে একটা হাত রেখে পায়েল বলল, “পুলিশরা কী জিজ্ঞেস করছিল রে তোকে?”

    ছাদের পাঁচিলের কিনারায় হাত দিয়ে তবলা বাজাতে বাজাতে সে বলল, “জিজ্ঞেস করছিল কাল রাতে কে বিছানা থেকে তুলে এনেছিল?”

    “তুই কী বললি?”

    “বললাম জানি না।”

    পায়েল সুনন্দার দিকে একবার চোখ তুলে বলল, “এখানে একটা ঝামেলা হবে মনে হচ্ছে। মালতীকে জিজ্ঞেস করলে ও তো বলে দেবে। কী বলবে ভেবেছ?”

    “ভেবেছি বলব তুমি সিগারেট খাচ্ছিলে, আমি সঙ্গ দিচ্ছিলাম।”

    “মানে! আমার নামে চালাবে?” রাগত স্বরে বলে পায়েল।

    “ভেবে দেখ, সিগারেট খাওয়াটা বড় পাপ না কবর ভাঙা? তাছাড়া কথাটা একেবারে মিথ্যেও না।”

    “সারারাত সিগারেট খাচ্ছিলাম এটা অতি বড় নেশারুও বিশ্বাস করবে না।”

    “সেই সঙ্গে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে গল্প করছিলে।”

    হেসে ফেলে পায়েল। মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলে, “নেশারু ও চরিত্রহীন বলে বাবা বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে আমাকে। তারপর তুমি অ্যাডাপ্ট করো।” এবার সুনন্দাও পাঁচিলের পাশে উঠে আসে। তারপর ডায়েরিটার দিকে দেখিয়ে বলে, “ওটা কিছু পড়তে পারলে?”

    “না।” মাথা নাড়ে পায়েল, “ভাষাটা পড়া যাচ্ছে না।”

    সুনন্দা মুখ বেকায়, “ভারি যে বলছিলে ইংলিশের স্টুডেন্ট।”

    “আরে!” প্রতিবাদ করে পায়েল, “একবার খুলে তো দেখো। ভাষাটা আদৌ ইংরাজি নয়। অন্তত শুরুর দিকে খানিকটা হলেও দশ বারো পাতা পরে কীসব আজগুবি লিখেছে।”

    খাতাটা হাতে নিয়ে সাবধানে পাতা উলটাতে থাকে সুনন্দা। প্রথমে সাদা পাতার উপরে মেয়েটার ডাক নাম লেখা আছে–বেথ।

    তারপরের পাতায় পুরো নামটা। সেটা দেখিয়ে পায়েল বলে, “দেখো, পুরানো ইংরাজির স্ক্রিপ্ট। তখন দু’ রকম এস হত। একটা সাধারণ এস আর একটা এফের মতো দেখতে লং এস। কোথায় কোন এস হবে তার ডিফাইণ্ড কিছু নিয়ম ছিল। যেমন একসঙ্গে যদি দুটো এস থাকে তাহলে প্রথমটা লং হবে পরেরটা সর্ট হবে। মসক্রপ বানানটা দেখ, একটা এস এফের মতো দেখতে। তবে যে সময়ে এটা লেখা হয়েছে তখন লং এসের ব্যবহার প্রায় উঠে গেছে। তাও বাবা মা মেয়েকে লং এস শিখিয়েছেন মানে বাবা-মা একটু কনজারভেটিভ বলা যায়।”

    “বাবা! আর?” লং এস’টা দেখতে দেখতে বলে সুনন্দা।

    “মেয়েটা সম্ভবত বাঁহাতি ছিল।”

    “সেটা কী করে বুঝলে?”

    “যারা ডান হাতি তারা জেনারেলি স্ট্রোক দেয় বাঁদিক থেকে ডানদিকে। বাঁহাতিরা ডানদিক থেকে বাঁদিকে।”

    ভালো করে লেখাগুলো দেখে ব্যাপারটা বুঝল সুনন্দা, বলল, “এখানে বর্ণগুলোর ডানদিকে কালি বেশি মোটা করে পড়েছে বাঁদিকে কম। তাই বলছ বাঁহাতি। বেশ, আর?”

    “মেয়েটা খুব একটা স্বাভাবিক নয়। মানে আই এর মাথাগুলো লক্ষ কর। সাধারণত এই বয়সের বাচ্চারা আই এর মাথার পুটকিটা গোল্লা পাকায়। এই মেয়েটা বড়দের মতো ডট দিয়েছে। বর্ণগুলো সামান্য বাঁদিকে হেলানো। যেদিক থেকে লিখছে সেদিকেই যদি বর্ণ হেলে থাকে তার মানে লেখক একটু আত্মকেন্দ্রিক, লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা পছন্দ করে না। আর একটা ব্যাপার ভারী ইন্টারেস্টিং, জানো? এইখানে দেখ ডিজিট লিখতে শিখছে… ওয়ান টু থ্রি ফোর… কিন্তু গণ্ডগোল বুঝতে পারছ?”

    ডায়েরিটা মন দিয়ে দেখে সুনন্দা বলে, “উঁহু… নাতো….

    “আমরা বাঙালিরা যখন ইংরাজি ডিজিট লিখতে শিখি তখন আমাদের বাবা-মায়েরা আমাদের শেখায় যে বাংলার সাত-এর মতো করে ইংরাজি নাইন লিখতে। ফলে আমরা নয়ের নিচের আঁকড়াটা বাঁকিয়ে দিই না। সোজা থাকে। নেটিভ ইংলিশ স্পিকিংদের নয় সবসময় নিচের দিক বাঁকানো থাকে। এলিজাবেথ মসক্রপের নাইনগুলো সোজা… এর মানে কী হতে পারে?”

    “হতে পারে যে তাকে ডিজিট লেখা শিখিয়েছিল সে ছিল বাঙালি, তাই শিক্ষককে নকল করতে গিয়ে তারও নাইন সোজা হয়ে যায়।”

    আবার কিছুক্ষণ পাতাগুলো ওলটাচ্ছিল সুনন্দা। এবার সে থেমে গিয়ে বলল, “বেশিরভাগই ছাড়া ছাড়া শব্দ। যেন নতুন করে শব্দগুলো লিখতে শিখছে। ওয়াটার, বল্‌ এইসব।”

    পায়েল কিছু উত্তর দেয় না। সে মন দিয়ে দেখে চলেছে পাতাগুলো। হলদে থেকে তামাটে হয়ে যাওয়া পৃষ্ঠা। বেশিরভাগ পাতাই কোণের দিক থেকে ক্ষয়ে গেছে। কোথাও কোথাও লেখা এতই হালকা হয়ে গেছে যে পড়াই যায় না ভালো করে।

    দশ-পনেরোটা পাতা ওলটানোর পরে থমকে যায় সুনন্দা। লেখাগুলো আর বর্ণ নয়। বরঞ্চ তার বদলে কিছু দাগ টানা হয়েছে লাইন জুড়ে। কিছু কিছু দাগ একই রকম দেখতে। মনে হয় যেন অন্য কোনো ভাষায় লেখা হয়েছে বাকি ডায়েরিটা। শেষের দিকে কয়েকটা পাতা দেখতেই একটা খটকা লাগে সুনন্দার।

    “এই জায়গাটা দেখ। লেখাগুলো আরও ঝকঝকে। যেন অল্প কয়েকদিনে অনেকটা বড় হয়ে গেছে সে।”

    অনেকক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে দেখেও ভাষাটা চেনা মনে হল না সুনন্দার। সে লেখাগুলোর উপরে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, “কী লিখেছে বল তো? “

    “কী জানি। আমার চেনা লাগছে না।”

    “আমারও।”

    “অথচ লেখাগুলো উদ্ধার করতে না পারলে আর এক পাও এগোতে পারব না আমরা।”

    “এমনভাবে বলছ যেন তোমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মার্ডারগুলো সল্ভ করার।”

    “মার্ডারগুলো নিয়ে আমার অত মাথা ব্যাথা নেই। সেসব পুলিশে সামলাবে। আমি খালি মসক্রপের গল্পটা জানতে চাই।”

    আরও কয়েকটা পাতা উলটে আবার থেমে যায় পায়েল, ডায়েরিটা আড় করে ধরে বলে, “এখানে দেখো, কয়েকটা ছবি আঁকা আছে, মানে লিখতে শেখার পরপরই সে ছবি আঁকা শিখেছিল।”

    “তাই তো…” ছবিগুলো মন দিয়ে দেখে সুনন্দা। ছাড়া ছাড়া অস্পষ্ট ছবি! ভালো করে দেখলে মনে হয় যেন মাটির উপরে একটা গর্ত। গর্তের ভিতরটা বারবার কালি ঘষে গোল করা। অর্থাৎ অন্ধকার! কখনও আবার বাড়ি, পুকুরপাড়, মানুষজন। একটা গ্রামের ছবি যেন। তবে সব কটা ছবির বিশেষত্ব হল সেগুলো সবই অসম্পূর্ণ। যেন ছবির কয়েকটা জায়গা কেউ ইচ্ছা করেই আঁকেনি। একটা কুঁড়ে ঘরের মাথার উপরে একটা গাছ উঠেছে, কাণ্ড, কিছুটা ডালপালা সবই আছে তার কিন্তু গাছের মাথার দিকে অনেকটা কেউ খাবলে নিয়ে ছবিটা সাদা করে দিয়েছে। পুকুরের মাঝে কিছু কিছু জায়গায় যেন আচমকাই জল নেই। সেখানটা ফাঁকা।

    “এরকম আঁকল কেন বলতো?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে পায়েল। “বুঝতে পারছ না? আমি কিন্তু বুঝেছি।” দাঁতের ফাঁকে হাসতে হাসতে বলে সুনন্দা, “কোনো দৃশ্য আমরা দেখার পর থেকেই ভুলে যেতে থাকি? ফলে আঁকতে গেলে কিছু কিছু জায়গায় কি দেখেছি কিছুই মনে পড়ে না? ভাবো…”

    কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে উত্তর দেয় পায়েল, “স্বপ্ন। হ্যাঁ… কোয়াইট পসিবেল। সেকালের বিশ্বাস অনুযায়ী খারাপ স্বপ্ন লিখে বা এঁকে রাখলে সেটা আর ঘটে না। তাই হয়তো বেথ স্বপ্নগুলো এঁকে রাখত। কিন্তু এই স্বপ্নট। তো প্রায় দু’ পাতা অন্তর আঁকা আছে… মানে কী এটার?”

    সুনন্দা লক্ষ করে সত্যি পাতায় পাতায় সেই কালো গর্তের ছবিটা আঁকা রয়েছে। অর্থাৎ বারবার এই একই স্বপ্নটা দেখত মেয়েটা। গর্তের সঙ্গে কি চেনা কিছুর মিল রয়েছে?

    “রিকারিং ড্রিম। হয়তো তেমন কোনো মানে নেই। কিন্তু তাও…” কথাটা বলতে গিয়েও থেমে যায় পায়েল। এইমাত্র অন্যমনস্কভাবে একটা পাতা উলটেছে সে। নতুন পাতায় আবার সেই গর্তের ছবি কিন্তু এবার একটু বদলেছে সেটা। ভিতরে কালি ঘষে আগের মতোই অন্ধকার করা হয়েছে, কিন্তু এবার তার ভিতরে অন্ধকার ছাড়াও আরও কিছু দেখা যাচ্ছে একটা হাত। গর্তের ভিতর থেকে কেউ হাত বাড়িয়েছে। “স্পুকি” পায়েল নিজের মনেই বলে। ছাদের ধার থেকে তুলিকে নিয়ে একটু সরে আসে সুনন্দা। তারপর ভাবুক গলায় বলে, “হয়তো একটু বেশি ভাবছি বলে, কিন্তু আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে দুটো ঘটনা কোনো জায়গায় গিয়ে একটা আরেকটার সঙ্গে মিলে গেছে।”

    “মানে বলছ এ বাড়ির খুন আর মসক্রপ?”

    মাথা নাড়ে সুনন্দা। আঁচল দিয়ে তুলির মুখের ঘাম মুছতে মুছতে বলে, “দুটোর একটা সল্ভ করতে পারলেই আর একটা সল্ভ হয়ে যাবে। কিন্তু ….”

    “এ বাড়িতে খুনগুলো হবার সময় যারা বাড়িতে ছিল তারা কেউ ঝেড়ে কাশছে না। অন্তত অন্য কারও মুখে ঘটনাগুলো শোনা গেলেও একটা লাভ হত।”

    সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়েছিল সুনন্দা। হঠাৎ থেমে গিয়ে বলল, “সেরকম লোক একজন আছে বটে, এ বাড়ির লোক না। তবে জানে অনেক কিছু আসার দিন আমরা এখানে একটা হোটেলে খেতে গেছিলাম, তার ম্যানেজার। নাম দেখেছিলাম মাধব চৌধুরী।”

    “সে এখানকার সম্পর্কে জানল কী করে?” ভিতরের দিকে সরে এসে প্রশ্ন করল পায়েল।

    “ছোটবেলায় এ বাড়িতে খেলতে আসত। তখনই ওই ডুবে যাওয়ার ব্যাপটারটা হয়। তারপর থেকে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।”

    “ব্যাস! একেই দরকার আমার। হোটেলের নাম বল।”

    “সে বলছি। কিন্তু একটা সমস্যা আছে।”

    “কীরকম সমস্যা?”

    “বাড়িতে একটা এতবড় কাণ্ড ঘটে গেছে। এরপরেও তোমাকে এসব কথা খুলে বলবে কিনা সন্দেহ।”

    “আলবাত বলবে। বয়স কীরকম লোকটার?”

    “এই বছর পঁয়তাল্লিশেক হবে।”

    “মিডলাইফ ক্রাইসিসে ভুগছে, মেয়ে দেখলেই হুড়হুড় করে বলবে। নামটা বলো তুমি।”

    *****

    মনসা হোটেলের ভিতরে তাকাতেই ম্যানেজারকে চোখে পড়ল। চেহারা দেখে মনে হয় মাঝবয়সের একটু বেশিই গড়িয়ে গেছে। চোখের নিচের চামড়া খুলে পড়েছে। এখন দুপুর বলে ব্যস্ততা একটু বেশি। তবে সেসব কর্মচারীদের। ইনি টাকাপয়সা মিটিয়েই চেয়ারে পিঠ এলিয়ে দিচ্ছেন। রুমালে একবার মুখ মুছে ভিতরে ঢুকে এল পায়েল। তাকে দেখে খানিক দূরের একটা চেয়ার দেখিয়ে দিলেন ম্যানেজার। পায়েল তাতে না বসে ম্যানেজারের ঠিক পাশের একটা টেবিলেই বসে পরে তার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল।

    “আপনাকে কী দেব?” পাশ থেকে এক বেয়ারা এসে জিজ্ঞেস করতে পায়েল খাবারের অর্ডার দিয়ে দিল। তারপর ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে একবার ঘড়ি দেখে বলল, “আপনারা সারা দুপুর খোলা রাখেন তো?”

    “দুপুরেই তো ব্যাবসা।” গম্ভীর মুখে কথাটা বলে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন ম্যানেজার।

    “আসলে আমার বিকেলের দিকে আসতে হবে আবার। আপনাদের এদিকে খাবারের দোকান তো খুব একটা দেখছি না।”

    “হ্যাঁ, রেস্তোরাঁ বলতে এই আমরাই। বাদবাকি যা আছে তা তো মুখে দেওয়ার যোগ্য নয়। আসুন না যখন হোক, রাত অবধি খোলাই আছে। বললে বাড়ি গিয়ে দিয়েও আসবে। কুড়ি টাকা এক্সট্রা লাগবে তাতে।”

    “না না, আসলে আমি ওই জমিদারবাড়িতে একটা কাজে এসেছিলাম। বিকেল অবধি স্টে করতে হবে। খেতেও বলেছিল। কিন্তু বুঝতেই পারছেন একটা ট্র্যাডেজি হয়ে গেছে।”

    বিমর্ষ মাথা নাড়লেন ম্যানেজার। আর কিছু বললেন না। পায়েল এতক্ষণে বুঝেছে কাজটা খুব একটা সহজ নয়। লোকটা মিডলাইফ ক্রাইসিসে ভুগছে না মনে হয়। ভারী ভালো মানুষ। কিন্তু পায়েলের একটু অসহায় লাগল। “ঠিক কী হয়েছে বলুন তো?” জলের গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে পায়েল জিজ্ঞেস করল।

    জিভে একটা আওয়াজ করে সুইচ টিপে পায়েলের মাথার উপরের পাখাটা চালিয়ে দিয়ে ম্যানেজার বললেন, “ওই আপনি যদ্দুর জানেন আমিও তদ্দুরই জানি। একটা বাচ্চা ছেলে দেওয়ালে মাথা ঠুকে পড়ে গেছে।”

    “অদ্ভুত ব্যাপার যাই বলুন, এরকম একটা বাড়িতে দুর্ঘটনা… ভাবাই যায় না।”

    টোপটা দিয়ে আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগল পায়েল।

    “এটা কি প্রথম নাকি?” লোকটা পায়েলের দিকে ঘুরিয়ে নিল চেয়ারটা। মনে মনে হাসল পায়েল। কিন্তু মুখে আসতে দিল না সেটা, “মানে! আগেও হয়েছে?”

    “আমার নিজের চোখের সামনে হয়েছে।”

    “বলেন কি! ঠিক একই ঘটনা!” পায়েল এতক্ষণে বুঝেছে লোকটাকে কামিনী কাঞ্চন দিয়ে বধ করা যায়নি ঠিকই কিন্তু তৃতীয় একটি ফলায় তিনি ধরা পড়েছেন –গসিপ।

    এতক্ষণে পায়েলের খাবার এসে গেছে ডিম টোস্ট আর চা। বেয়ারা চিনির ডিবে তুলে ধরে বলল, “চিনি দেব?”

    “দাও, তিন চামচ। আমার আবার মিষ্টির উপর একটা ফ্যাসিনেশান আছে।”

    “তখন আমি নিতান্তই ছোট, বুঝলেন? বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে যা হয় আর কি। পুরনো জমিদারবাড়ি। তার উপরে চারিদিক কেমন অন্ধকার। একটু গা ছমছমও করে। ওখানেই গিয়ে লুকোচুরি খেলতাম আমরা। অন্য জায়গায় খেলতে গেলে লোকের দেখে নেবার ভয়। তাই আমরা উত্তরের অন্দরমহলের দিকে খেলতাম। যে চোর হত সে দীঘির পাড়ে গিয়ে দীঘির দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকত। চল্লিশ অবধি গুণত। ততক্ষণে আমরা অন্দরমহলের ভিতরে লুকিয়ে পড়তাম। তো একদিন আমি চোর হয়েছিলাম আর সেই লোকটা দীঘির ধারে বসে জলের দিকে কিছু দেখছে। আমাকে দেখতে পেয়ে হাত তুলে ডাকল। আমি কাছে যেতে কীসব যেন বলেছিল। আমি অত মন দিয়ে শুনিনি। চল্লিশ গুণতে ব্যস্ত ছিলাম তো। ভারি মজা হত সেই সময়ে। তো তার পরদিন সকালেই শুনলাম জলের উপরে লোকটার লাশ পাওয়া গেছে।” লোকটা থামতে পায়েল তৎক্ষণাৎ কিছু উত্তর দিল না। লোকটার থেকে যতটা জানা যাবে বলে ভেবেছিল তার কিছুই জানা গেল না। সে বিমর্ষ হয়ে আবার খাবারে মন দিল। নাঃ ব্যাপারটা নিয়ে আর এগোনো মুশকিল। ডেড এণ্ড। লোকটা আবার কীসব বলতে শুরু করেছে, পায়েল অতটা কান দেয়নি এতক্ষণ। “তবে শেষের দিকে আমরা আর লুকোচুরি বেশি খেলতাম না। অন্য খেলা, খেলতাম।”

    “কেন?” একটু আগে আগ্রহ দেখিয়েছিল, এখন নিরুত্তাপ দেখালে কিছু বুঝে ফেলতে পারে লোকটা। সেজন্যেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রশ্নটা করে।

    লোকটা একটু হেসে বলে, “সে কারণটাও ভারি অদ্ভুত। লুকোচুরি খেললে হরে সবসময় জিতে যেত।”

    “কী করে?” অন্যমনস্কভাবেই প্রশ্নটা করে পায়েল।

    “সে এমন কোথাও একটা লুকাতো যে কেউ খুঁজে পেত না।”

    “সে কি! কী করে?” হাতের চামচটা প্লেটের উপরে রেখে ঘুরে বসে পায়েল।

    “সেইটাই সে বলতে চায়নি আমাদের। ওই অন্দরমহলের গলিঘুপচি এমনিতেই অন্ধকার। ভালো করে ভিতরটা দেখা যায় না। অন্য সবাই কেউ সিঁড়ির নিচে লুকাতো, কেউ দোতলার ভাঙা দরজার আড়ালে। হরে ছিল টকটকে ফর্সা, তাকে অন্ধকারে খুঁজে নেওয়া সহজ। কিন্তু সে ব্যাটা এমন কোনো জায়গা জানত যেখানে লুকিয়ে থাকলে খুঁজে বের করা মোটেই সহজ না। প্রথম প্রথম আমরা তাকে খুব জোরজার করতাম বলে দেওয়ার জন্যে, কিন্তু সে কিছুতেই বলতে চায়নি। তাই আমরা রেগে গিয়ে লুকোচুরি খেলাই বন্ধ করে দিলাম।”

    “ওঃ…” আর কথা না বলে খাওয়া শেষ করে বাইরে বেরিয়ে এল পায়েল। উত্তেজনায় একটু বেশি টাকাই টিপ দিয়ে ফেলেছে বেয়ারাটাকে। অনেকক্ষণ হাঁ করে তাকিয়েছিল বেয়ারাটা। বাইরে এসে পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে সুনন্দার নম্বরটা ডায়াল করল পায়েল। তুলি প্রথমে ফোন ধরল, তারপর সুনন্দা।

    “দিদি, তোমার আশেপাশে মধুবাবু বা শশাঙ্কদা আছে?”

    “একটু দূরে আছে। কেন বলতো?” অবাক গলায় জিজ্ঞেস করল সুনন্দা “ওদের মধ্যে যাকে হোক জিজ্ঞেস করো এখানে আশেপাশে হরি বা হারাধন নামের বছর পঁয়তাল্লিশের কেউ আছে কিনা। হরিনাথ, হরিপ্রসাদ সবু চলবে।”

    “কিন্তু কেন?”

    ‘ধুর বাবা, আগে জিজ্ঞেস কর। পরে বলছি।”

    “শুধু নাম? সারনেম জানো না?”

    “নাঃ।”

    কিছুক্ষণ ওপাশ থেকে আওয়াজ এল না। দূরে ক্ষীণ কথাবার্তা শোনা গেল তারপর পায়ের আওয়াজের পর আবার সুনন্দার গলা পাওয়া গেল, “তিনজন আছে। হরিনাথ, বলহরি আর হারান। হারানের ভালো নাম মধুদা জানে না।”

    “এদের মধ্যে কার গায়ের রং ফর্সার দিকে?”

    “উফ, সেটা তো আগে বললেই হত।” কথাটা বলে আবার দূরে যায় সুনন্দা। পায়েল হাসে। গায়ের রং ফর্সাটা মানুষের পার্মানেন্ট অ্যাট্রিবিউট না। এই গ্রাম্য রোদে জ্বলে লোকটা এখন যদি কালো হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে প্রথমেই সে ফিল্টার হয়ে যাবে। গায়ের রঙটা প্রায়োরিটি না।

    “তিনজনের কেউই ফর্সা নয়। তবে হরিনাথ নাকি একসময়ে খানিক ফর্সা ছিল বলা যায়।”

    “বেশ। এ যেখানে থাকে সে জায়গাটা আমাকে মেসেজ করে পাঠাও জলদি। আমি পরে ফোন করছি।”

    “কিন্তু হয়েছেটা কী? এরা কারা?”

    ওদিক থেকে উত্তর আসার আগেই ফোনটা কেটে যায়। সুনন্দা মধুবাবুর থেকে জায়গাটা জেনে নিয়ে মেসেজ করে দেয়। তারপর আবার ভিতরের ঘরে ঢুকে আসে।

    *****

    আগের দিনের পুলিশ অফিসারদের মধ্যে একজন আজ আবার এসেছেন। গিরিজাকে এতক্ষণ প্রশ্ন করা হচ্ছিল। তিনি তেমন কিছু উত্তর দিতে পারছেন না। মাঝে মধ্যে কথা বলতে বলতে কপাল চাপড়াচ্ছেন। ক্ষেত্রমোহন বসে আছেন তার পাশে। স্ত্রীর কাঁধে একটা হাত রেখে আগলে রেখেছেন তিনি। সুনন্দা বিছানায় তার পাশে বসে পড়ে একটা হাত গায়ে, মাথায় বুলিয়ে তাকে সামলানোর চেষ্টা করল।

    পুলিশ অফিসারটি তার দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনারা তাহলে এই বিল্ডিংয়ের একতলায় ছিলেন?”

    সুনন্দা মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানালো।

    “কোনো আওয়াজ শোনেননি রাতে? মানে দেওয়ালে মাথা ঠোকার আওয়াজ তো অনেকদূর যাবার কথা। বিশেষ করে আপনারা তখন সদ্য ঘুমিয়েছেন হয়তো।”

    “আমি কোনো আওয়াজ পাইনি।”

    ইন্সপেক্টার আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। সুনন্দা এবার নিজে প্রশ্ন করল, “আমি বুঝতে পারছি না আপনারা এটাকে সুইসাইড বলছেন কী করে? শুধু বাসনপত্র তোলপাড় হয়নি বলে?”

    “খুন তো আমাদেরও প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছিল। ছেলেটা শুয়েছিল দোতলায়। রান্নাঘর একতলায়। এতটা রাস্তা সে একা আসেনি। হয় কেউ ডেকে এনেছিল নাহলে কোনো শব্দ শুনেছিল। কিন্তু আপনারা যখন কিছু শোনেননি তার মানে ডেকেই এনেছিল কেউ। আজ আমরা ওর মায়ের থেকে জানলাম ছেলেটি স্লিপ ওয়াকিং করত। এমনও হতে পারে রাতে দরজা খোলা পেয়ে হেঁটে বেরিয়ে আসে সে। এবং তারপর খুনি দেখতে পায় ছেলেটিকে। আমাদের এটা ভাবারও যথেষ্ট কারণ আছে যে খুনির কোনো নির্দিষ্ট টার্গেট ছিল না। তার একটা লাশের দরকার ছিল শুধু।”

    “তাহলে আত্মহত্যা বলছেন যে।”

    “প্রধান কারণ দুটো। এক, মাথার একই জায়গায়, প্রিসাইস্লি একই পয়েন্টে বার চারেক ব্লো হয়েছে। যেটা খুনের ক্ষেত্রে হয় না। বডি তার স্বাভাবিক নিয়মে একটু আশেপাশে হবেই। আর দুই ভিক্টিমের মাথার পিছনের চুলে কোনো ডিস্টারবেন্স ছিল না। অর্থাৎ পিছন থেকে কেউ ধরে ছিল না তাকে।”

    “এমনও তো হতে পারে রান্নাঘরে কিছু পাড়তে গেছিল সে। নিচে পড়ে গেছে।”

    “তাহলে চারটে ব্লো আসবে কী করে?”

    নিজের বোকামিটা বুঝতে পেরে মাথা নামিয়ে নেয় সুনন্দা। ক’দিন হল তার মাথাটা একদম কাজ করতে চাইছে না। এটুকু বেশ বুঝতে পারছে এ বাড়িতে যতক্ষণ আছে ততক্ষণ একটা বিষণ্ণতা এসে ঘিরে থাকবে তাকে। বিশেষ করে তুলি তো চোখের আড়াল হলেই আতঙ্ক ধরে যায় বুকের মাঝে।

    পায়েল কাছে পিঠে থাকলে তাও খানিকটা শান্তি পাওয়া যায়। মেয়েটার বয়স অল্প তবু তার মধ্যে কোথাও একটা ভরসা করার মতো জায়গা আছে! কাল নীলাদ্রি এসে গেলে হয়তো একটু দূরে দূরে থাকবে সে। তখন আবার কি নতুন করে ভয় লাগবে সুনন্দার?

    এইসব ভাবতে ভাবতে বাইরের দালানে বেরিয়ে এল সে। এখন আর কেউ নেই প্যাসেজে। রান্নাঘরের সামনের জায়গাটা খালি। অথচ কাল সারাদিন কত লোক গিজগিজ করছিল। গিরিজার হাহাকারে সমস্ত জায়গাটা যেন ঝাপসা ওয়ে আসছিল বারবার। অথচ আজ কি শান্ত।

    নিজের মেয়ের কথা মনে পরে সুনন্দার। রিন্টি মারা যাবার পর বেশ কিছুদিন মুখ খুলতে পারেনি সে। একফোঁটাও কাঁদেনি। স্থবির পাথরের মতো বসেছিল। আগুনে খুব ভয় পেত রিন্টি। বলেছিল বড় হয়ে মায়ের মতো ইন্ডাকশান ওভেন কিনে রান্না করবে। গ্যাস জ্বালাবে না। অথচ কয়েক মুহূর্তে তার গোটা শরীরটা ছাই হয়ে গেল চুল্লির আগুনে। চুল্লির ভিতর যেতে কি ভয় পেয়েছিল রিন্টি?

    ঘণ্টাখানেক চাতালেই বসেছিল সুনন্দা। ভাবনার মাঝে কোথায় ডুবে গেছিল নিজেরই খেয়াল ছিল না। আচমকা পিঠে একটা হাত এসে পড়ায় চমকে ফিরে তাকাল সে–পায়েল। সদর দরজা দিয়ে ঢুকে কখন যে পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে বুঝতেই পারেনি সুনন্দা। বুকের ভিতরের উত্তাপটা নেভানো মোমের মতো কমে আসছে। একটু হেসে সুনন্দা বলল, “ব্যাপার কী তোমার? কাকে খুঁজছিলে এত?”

    “সে বলছি। কিন্তু তুমি কী ভাবছিলে?” সুনন্দার পাশে বসে পড়ে জিজ্ঞেস করে পায়েল। তার জামার গলার কাছটা ঘামে ভিজে গেছে।

    “ভাবছিলাম যে তুমি মেয়েটা খুব ভালো।”

    “বাবা! কি বলছ গো?” একটু অবাক হয় পায়েল।

    “হ্যাঁ, শুধু একটু বেশি সিগারেট খাও। আর মাথায় খানিকটা ছিটও আছে। সেই সঙ্গে একটুখানি বুদ্ধি।”

    চাপা শব্দ করে একবার হেসে ওঠে পায়েল। হাসলে ভারি সুন্দর দেখায়। তাকে। গোটা মুখ জুড়ে ছড়ানো খোলা হাসি। কাজলপড়া চোখের একপ্রাপ্ত ঝিকমিকিয়ে ওঠে সেই হাসির সঙ্গে।

    “এবার বলতো লোকটাকে কী কারণে দরকার? ম্যানেজারের থেকে কিছু পেলে?”

    “যা চাইছিলাম সেটা পাইনি তবে অন্য একটা জিনিস পেয়েছি। উইচ আই থিঙ্ক ইজ আ ফ্রুটফুল বারগেন।”

    “কী পেলে আবার?”

    কাঁধ ঝাঁকিয়ে চারিদিক দেখে নিয়ে পায়েল বলে, “তোমাদের উত্তরের অন্দরমহল, যার ভিতর থেকে তুলিকে কেউ ডাকছিল, সেখানে যতদূর সম্ভব একটা হিডেন প্যাসেজ আছে।”

    “অ্যাঁ! সে আবার কী!” চমকে ওঠে সুনন্দা।

    “ইয়েস। আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে কিছু ছেলেপুলে সেখানে লুকোচুরি খেলতে আসত। তার মধ্যে একজনের কাছে হদিস ছিল সেই প্যাসেজের। সম্ভবত কো-ইন্সিডেন্টালি সে সেটা খুঁজে পেয়েছিল।’

    “কে পেয়েছিল?”

    “এই যে হরিনাথ ঘোষ। লোকটা এই শহরেই থাকে। ক্রেডিট গোস টু মধুবাবু।”

    “তো তুমি দেখা করেছিলে তার সঙ্গে?”

    “করেছিলাম।” পায়েলের গলায় হতাশার ছাপ

    “কী বললেন তিনি?”

    “বললেন, কিস্।”

    “মজা না করে সত্যিটা বলবে?”

    “আরে মজা করিনি। ভদ্রলোক বছরতিনেক হল এলঝাইমারসে ভুগছেন। আমি প্রশ্নটা করতে কিছুক্ষণ হাঁ করে চেয়ে থাকলেন, তারপর বললেন ওই, কিস। এখন সেটা কিসমিস নাকি কিস্তি নাকি বুড়োর সত্যি চুমু খাওয়ার আচ্ছা হয়েছিল তা আমি বলতে পারব না।”

    “তাহলে এখন উপায়?”

    সুনন্দার কাঁধে চাপ দিয়ে উঠে দাঁড়াল পায়েল, “উপায় এখন একটাই। একটা খেলা খেলতে হবে। যেভাবে হরিনাথ জায়গাটা বের করেছিল সেভাবে আমাকেও বের করতে হবে।”

    “কিন্তু ওখানে যে কিছু থাকবেই তার কি মানে আছে?” চিন্তিত হয়ে প্রশ্ন করে সুনন্দা।

    “তা জানি না…” স্বগতোক্তি ফুটে ওঠে পায়েলের গলায়, “বাট সামওয়ান ওয়ানটস টু প্লে হাইড-অ্যাণ্ড-সিক।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article হেঁটে যাই জনমভর – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সায়ক আমান

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }