Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প344 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তার চোখের তারায় – ৩

    তৃতীয় অধ্যায়

    পুকুরের ধার দিয়ে অনেকক্ষণ পায়চারি করছিল পায়েল। মাঝে মাঝেই পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে নিচ্ছে। প্রায় সাড়ে ন’টা বেজেছে।

    পুকুরের পাড়ে দাঁড়ালে ঝাঁকড়া গাছের মাথা থেকে পাতা উড়ে আসে গায়ে। পায়েলের সালওয়ারের উপরেও এসে পড়েছিল কয়েকটা। সেগুলোকে তুলে ফেলে দিল সে। কাঁধের ঝুলন্ত ব্যাগের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে একটা রুমাল বের করে আনল। তারপর সেটা পাখার মতো নাড়তে লাগল মুখের সামনে। একটু ছায়ায় এসে দাঁড়াল।

    পায়েলের চেহারাটা বেশ ধারালো। সবে চব্বিশে পা দিয়েছে। ছিপছিপে পাতলা গড়ন। সাধারণ মেয়েদের থেকে একটু বেশি লম্বা। গায়ের রং যতটা না ফর্সা তার থেকে বেশি রক্তাল্পতা আর লো ব্লাড প্রেশারে ভুগে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। কাল রাতেই বোলপুর থেকে বর্ধমান হয়ে হুগলী ফিরেছে সে। রাতেই সুনন্দার সঙ্গে প্রাথমিক আলাপটা সেরে এসেছে। আজ সকালে দু’জনের গ্রেভইয়ার্ড দেখতে যাবার কথা। কিন্তু সুনন্দা এখনও এসে পৌঁছায়নি।

    খানিক পরে জমিদারবাড়ির সদর দরজায় দেখা গেল সুনন্দাকে। সেই সঙ্গে তুলিকেও। তার একটা হাত ধরে আছে সুনন্দা।

    দূর থেকে পায়েলকে দেখতে পেয়ে একবার হাত তুলে ইশারা করল সে। তারপর দ্রুত পায়ে এগিয়ে এল সেই দিকে।

    আজকের রোদটা বেশ চড়া। তাতে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে মাথা ধরে যায়। শরীর শুকিয়ে আসে।

    “অনেকক্ষণ এসেছ?” কাছে এসেই প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেয় সুনন্দা।

    “মিনিট দশেক হবে। হেঁটে যাবে?”

    “এই রোদে! রিক্সা দাঁড়িয়ে আছে তো…”

    একটুখানি হাসল পায়েল। তারপর তুলির দিকে তাকিয়ে বলল, “রানিমা কি কোলে বসতে রাজি হবেন?”

    “একটুও না।” মাথা দুলিয়ে বলে তুলি।

    “তাহলে বাঁদিক দিয়ে চল, ছায়া পড়ে আছে।”

    রাস্তার বাঁদিকে সরে আসে তিনজনে। তারপর হাঁটতে থাকে। এখান থেকে গ্রেভইয়ার্ডটা বেশিদূরে না। মিনিট কুড়ি বড়জোর। তুলিকে একদম ধারে রাখে সুনন্দা। সে নিজে মাঝখানে আর পায়েল রাস্তা ঘেঁষে হাঁটতে থাকে।

    “তুমি একা এলে! বাবা মা কেউ এলেন না!” সুনন্দা জিজ্ঞেস করে পায়েলের দিকে তাকিয়ে।

    “বাবা আসতে চায় না খুব একটা এখানে। একটু পাঞ্জাবী পরা আঁতেল গোছের লোক। জমিদারি-টোমিদারি এড়িয়েই চলে। আর মায়ের একা এতদূর আসার ইচ্ছা নেই।”

    “তোমার আগ্রহ আছে?”

    পায়েল হাসে। হাসলে বেশ মিষ্টি দেখায় তাকে। সাদা ঝকঝকে দাঁতগুলো সরু ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে দেখা যায় একঝলক। তারপর বলে, “আমার সব পুরনো জিনিসপত্রতেই আগ্রহ। তবে এখানে আগে খুব একটা আসা হয়নি।

    “কেন?”

    “এসে কী করব? লোকজন যাদের চিনি তারা হয় আমার বাবার বয়সী নাহলে এতটাই গম্ভীর যে কথা বলতেও ভয় লাগে।”

    ‘তোমাকেও তো বেশ গম্ভীর মনে হয়। কাল তো তাই মনে হচ্ছিল।”

    “আমাকে যা মনে হয় আমি আদৌ তা নই। ক’দিন যেতে দাও। বুঝবে।” অর্থপূর্ণ হাসি হেসে চুলে একটা ক্লিপ লাগায় পায়েল।

    “আমি আইসক্রিম খাব।” রাস্তার ধারে একটা আইসক্রিমের গাড়ি দেখে আবদার করে তুলি। সুনন্দা তাকে আইসক্রিম কিনে দেয়। তারপর আবার হাঁটতে থাকে সামনে

    কালকে রাতের ঘটনাটা মনে পড়ে তার। ব্যাপারটা নীলাদ্রিকেও ভাবিয়ে তুলেছে। এতক্ষণ ভাবনাগুলো মনের মধ্যে ছটফট করছিল। এবার সে হাঁটতে হাঁটতে বলে, “আমার যা মনে হয় তোমাদের বংশে কিছু একটা গোলমাল আছে।”

    “গোলমাল বলতে?” পায়েল জিজ্ঞেস করে।

    “মানে তোমাদের কোনো পূর্বপুরুষের অবর্তমানে শশিভূষণ সরকার বলে এক ভদ্রলোকের জমিদারির সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব পাবার কথা ছিল। ভদ্রলোক কাগজপত্র নিয়ে এসেওছিলেন কিন্তু তারপরেই কেউ খুন করে তাকে। “

    পায়েল ব্যাপারটা একবার ভেবে নিয়ে বলে, “মানে বলছো যাতে তিনি দায়িত্ব না পান তার জন্যেই তাকে সরিয়ে দিয়েছে কেউ?”

    “সেটা হতে পারে। তবে তার থেকেও বড় কথা হল সেই খুনটা হয়েছে ঠিক সেইভাবে যেভাবে এই বাড়ির শেষ খুনটা… আই মিন আত্মহত্যাটা হয়েছে।”

    “কীভাবে?”

    “বন্ধ ঘরের মধ্যে। মানে জানলা দরজা সব ভিতর থেকে ছিটকানি দিয়ে বন্ধ। সকালবেলা লোকে দরজা ভেঙে দেখে সিলিং থেকে ঝুলছে।”

    “তাহলে খুন বলছ কী করে? আত্মহত্যাই তো মনে হচ্ছে।”

    সুনন্দার বাঁকা কপালের রেখাগুলো এবার নরম হয়ে আসে, “আমি বলছি মানেই তো আর হয়ে যাবে না। তবে এখানে আসার পর থেকে মনটা সারাক্ষণ খারাপ হয়ে থাকে আমার।”

    “কেন?”

    “কি জানি, এতদিন আগে এত লোক এখানে থাকত। এখন তারা আর কেউ বেঁচে নেই। কত হাসিকান্না, মৃত্যু, হিংসা- প্রতিহিংসার ঝড় বয়ে গেছে। সেসব আজ আর কোথাও লেখা নেই।” কথাটা বলেই হাওয়ায় একবার হাত চালিয়ে সে বলল, “ছাড়ো এসব। বোলপুরে তুমি কী পড়ো বলতো?”

    “ইংলিশ অনার্স।”

    “তা কলকাতার বাড়ি ছেড়ে এতদূরে!”

    “আর বলো কেন, সেই টুটাফুটা গল্প। বাবার ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি। আমার কম্প্যারাটিভ লিটারেচার ভালো লাগত। তাই নিলাম একরকম জোর করেই। তারপর দেখলাম বাড়িতে থাকলে ওই এক জিনিস নিয়ে বক্‌বক্ শুনিয়ে মাথা হেজিয়ে দেবে। তাই ভাবলাম দূরে গিয়েই থাকি।”

    “এখন হঠাৎ এলে যে…”

    “কিছুদিন ধরে মনে হচ্ছিল একবার ঘুরে আসি। তাছাড়া…”

    পায়েলের কথা শেষ হল না। দু’জনেই থেমে গেল। রাস্তাটা একটা বাঁক ঘোরার পরে অনেকটা খালি জায়গা দেখা যাচ্ছে। সেখান থেকে সোজা তাকালে একটা লোহার আর্চ চোখে পড়ে। তার ঠিক পাশেই বড়বড় হরফে লেখা— চকদীঘি ব্যাপটিস্ট চার্চ অ্যাণ্ড গ্রেভইয়ার্ড। লেখাটার গায়ে এখন লতাপাতা গজিয়েছে। সেই লতার ঝাক নেমে এসেছে দু’পাশের পাঁচিলের উপরে। এখানে এখনও যে ক’টি খ্রিস্টান পরিবার আছে তারাই যত্ন নেন চার্চটার। দু’জনে এগিয়ে গেল সেইদিকে।

    গেটের মুখটায় একজন মাঝবয়সী লোক বসেছিলেন। ইনি সম্ভবত স্থানীয় লোক। চার্চের দেখাশোনা করেন। সুনন্দা একটু এগিয়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল, “একটু ভিতরে যাওয়া যাবে?”

    “কোথা থেকে আসছেন আপনারা?” লোকটা ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল!

    “আমরা জমিদারবাড়িতে এসেছি। আর ও…“

    “ওকে চিনি।” পায়েলের দিকে ভালো করে তাকিয়ে বলল লোকটা। পায়েল নিজেও অবাক হয়ে গেছিল। সে আগে কখনও গ্রেভইয়ার্ডে আসেনি! তাহলে লোকটা ওকে চিনল কী করে?

    যাই হোক, লোকটা আর কথা না বাড়িয়ে ভিতরটা দেখিয়ে দিল। ওরা দু’জনে ভিতরে ঢুকে এল।

    গেট পেরিয়ে ঢুকলে প্রথমেই চার্চের বড়সড় বিল্ডিংটা দেখা যায়। এখন তার উপরে দুপুরের রোদ এসে পড়েছে। লাল রঙের ক্যাথোলিক চার্চ। চূড়ার ঠিক নিচে একটা কাচের প্লেটে যিশুর প্রতিকৃতি। তার নিচে গোল, রোমান নিউমারে লেখা ঘড়ি। সামনে খানিকটা ঘাসের জমি। বড়সড় চেহারার দরজাটা খোলা। তার ভিতরে তাকালে প্রেয়ার রুমের কয়েকটা বেঞ্চ চোখে পড়ে। চার্চের পিছনের দিকে ছোটখাটো কয়েকটা স্তম্ভ। সেখান থেকেই গ্রেভইয়ার্ড শুরু।

    চারপাশে তাকিয়ে আর কাউকে কিন্তু চোখে পড়ল না। ভিতরে হয়তো লোক থাকতে পারে। কিন্তু বাইরে থেকে তাদের দেখতে পাবার কথা নয়। দু’জনে চার্চটাকে পাশ কাটিয়ে সমাধিক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যায়।

    সমাধির দিকটায় গাছপালা একটু বেশি। বাইরে থেকে দেখলে পাতলা জঙ্গল বলে মনে হয়। মাটিতে শুকনো ডালপালা বিছিয়ে রয়েছে। ওদের পায়ের চাপে মড়মড় করে আওয়াজ উঠছে তাতে। ঠিক যেন মনে হয় পিছন পিছন হেঁটে আসছে কেউ। মাঝে মাঝে চমকে ফিরে তাকাচ্ছে দু’জনে।

    কিছু সমাধির উপরে বেদি করা আছে। উঁচু বেদির সমস্ত গা জুড়ে শ্যাওলার ছোপ পড়েছে। কিছু জায়গায় আবার শ্বেতপাথরের গা খসে গিয়ে একটুখানি ফাঁক হয়ে আছে। তার ভিতরটা অন্ধকার। অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলে মনে হয় ভিতর থেকে কেউ চেয়ে আছে যেন।

    দেখতে দেখতে হাঁটতে থাকে দু’জনে। বিশেষ করে কিছু দেখার নেই। তবে সমাধির উপরে শ্বেতপাথরের ফলকে মৃত ব্যক্তির নাম, জন্মতারিখ, কবে মারা গেছেন ও তার সম্পর্কে দু-একটা কথা খোদাই করা আছে ইংরাজিতে। সেগুলোর উপর চোখ রাখল ওরা। বেশিরভাগ ফলকই অস্পষ্ট। কয়েকটা আবার আশপাশের গাছের শিকড়ের জন্যে নিচের দিক থেকে ভাঙতে শুরু করেছে।

    ফলকের উপর লেখা শালগুলো দেখতে দেখতে হাঁটছিল পায়েল। এবার সে থেমে গেল, তারপর আসতে আসতে বলল, “একটা জিনিস লক্ষ্য করছি।”

    “কী বলতো?” সুনন্দা তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল।

    “মোটামুটি সত্তর শতাংশ লোক এখানে সতেরোশো নব্বই থেকে আঠেরোশো পাঁচ— এই পনেরো বছরের মধ্যে মারা গেছে, এবং তাদের আবার সিংহভাগের বয়স চল্লিশ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে।”

    “নতুন গরমের দেশে এসে ক্লাইমেটটা সহ্য করতে পারেনি। রোগটোগ হয়েছিল হয়তো।”

    তুলির আইসক্রিম এতক্ষণে শেষ হয়েছে। সে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে সৌধগুলোর দিকে। এর আগে কোনো করবরস্থানে আসেনি সে। এতক্ষণে সুনন্দার হাত ছেড়ে সে পায়েলের দিকে সরে এসেছে।

    আচমকা একটা এপিটাফ চোখে পড়তে থমকে গেল সুনন্দা। তারপর সেটার উপরে ঝুঁকে পড়ে বলল, “দেখ, এখানে ওয়াও লেখা আছে। মানুষ মরে গেছে তাও এত খুশি হয়েছে কেন?”

    পায়েল একবার সেদিকে তাকিয়ে হাসল, তারপর বলল, “ওটা আসলে একটা এব্রিভিয়েশান। উডমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, একটা ইন্সিওরেন্স কোম্পানি কেউ মারা গেলে এরা সাধারণত মৃতের পরিবারকে মোটা টাকা দিয়ে সাহায্য করত। এমনকি এপিটাফটা পর্যন্ত এরা নিজেরা বানিয়ে দিত। শর্ত শুধু ওই একটাই। এপিটাফের উপরে ওদের লোগো খোদাই করতে দিতে হবে।”

    “মজার ব্যাপার তো!” খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে সুনন্দা, “এখানেও অ্যাডভেটাইজমেন্ট!

    “হ্যাঁ, ইন্সিওরেন্সের বিজ্ঞাপন মরা লোকের থেকে ভালো আর কে করতে পারে?”

    মূল রাস্তা ছেড়ে আর একটু ভিতরের দিকে ঢুকে আসে ওরা। এখানে আরও কিছু ছড়ানো ছিটানো বেদি চোখে পড়ছে। কোথাও বা বেশ বড়সড় বেদি বানিয়ে একটা গোটা পরিবারকে কবর দেওয়া হয়েছে। দুই ভাইয়ের কবর চোখে পড়ল। একজন মারা গেছে আঠেরোশো ছয়ে, আর একজন আঠেরোশো আটে।

    পায়েল একটু ভুরু কুঁচকে বলল, “দেখ, প্রথম কবরটা দেওয়ার সময় যেন লোকগুলো জানত পরের ভাইকেও কবর দিতে হবে। পাশে খানিকটা জায়গা ফাঁকা রেখেছিল।”

    “আগে থেকে জানল কী করে?”

    “হয়তো রোগে ভুগছিল।” ক্লান্ত গলায় জবাব দিল পায়েল।

    এবারে একেবারের শেষের দিকে এসে পড়েছিল ওরা। এদিকটা প্রায় ফাঁকা হয়ে এসেছে। দু-একটা সমাধি এখানেও আছে বটে তবে গভীর গাছপালা এসে ঢেকে দিয়েছে তাদেরকে। তার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় একটা মসোলিয়াম। অর্থাৎ ছোট্ট ঘর। বাইরে থেকে লোহার চেন দিয়ে তালা লাগানো আছে।

    “এটা কী বলতো?” কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করল সুনন্দা।

    “মৃতের ঘর বলতে পারো। যদি ভিতরে সমাধি থাকে তাহলে বলা হবে মসোলিয়াম আর মৃতদেহ ছাড়া শুধু স্মৃতির উদ্দেশ্যে যদি হয় তাহলে সেনোটাফ। তবে আয়তন দেখে তো মসোলিয়ামই মনে হচ্ছে। এসো তো দেখি।”

    ঘরগুলো দেখে বেশ আগ্রহ পেয়েছিল তুলি। সে হাত ছাড়িয়ে ইচ্ছামতো এদিক-ওদিক ছুটতে থাকে। একটা মাঝারি সাইজের মসোলিয়ামে চোখে আটকেছে তার।

    দু’জনে ঝোপঝাড় ভেঙে এগিয়ে যায় শ্বেতপাথরের উপর সিমেন্টের আবরণ দেওয়া ঘরটার দিকে। তুলি যেদিকে গেছে সেখানে একটা সমাধিকক্ষ দেখা যাচ্ছে। আয়তনে প্রায় একটা কুঁড়েঘরের মতো হবে। তবে দরজাটা বেশ জমাকালো। বাইরে স্বাভাবিকের থেকে বেশ বড় এপিটাফে কিছু একটা খোদাই করা ছিল। আপাতত তার বেশিরভাগটাই ভেঙে পড়ে বেশ খানিকটা ইটের গাঁথনি বেরিয়ে পড়েছে।

    কাছে গিয়ে ভালো করে সেটার উপরে চোখে রেখে, হাত দিয়ে খানিকটা শ্যাওলা সরিয়ে পায়েল বলল, “একটা নাম দেখা যাচ্ছে, মসক্রপ। তবে সেটা মনে হয় ফ্যামিলি নেম। মসোলিয়ামের ভিতরে এক পরিবারের সবাইকে সমাধি দেওয়া হত। তবে…”

    “তবে কী?” মনের ইচ্ছা সত্বেও সামনে এগোতে পারে না সুনন্দা। তুলির হাতটা ধরা আছে তার হাতে। মেয়েটাকে নিয়ে ওখানে যাওয়া ঠিক হবে না। জায়গাটা বেশ ভাঙাচোরা। ঝোপঝাড়ের আড়ালে সাপখোপ থাকতে পারে।

    “চিহ্নগুলো একটু গোলমেলে লাগছে।”

    “কীসের চিহ্ন?”

    “জেনারেলি এইসব সমাধির গায়ে কিছু চিহ্ন আঁকা হয়। সমাধির ভিতরে যে বা যারা শুয়ে আছে তাদের সম্পর্কে কিছু বোঝানোর জন্যে। যেমন মিলিটারি বা আর্মির কেউ মারা গেলে তার কবরে ঈগল আঁকা হত। কোনো শিশু মারা গেলে আঁকা হত ভেড়া। এখানে যেটা আঁকা আছে তার মানে আমি জানি না। “

    “কী আঁকা আছে।”

    “একটা গোলের ভিতরে ছোট একটা চেয়ার। তাছাড়া একটা পদ্ম। এটার মানেটা জানতাম। সম্ভবত মহাকাশ… তবে এটুকু বুঝছি এগুলো আঁকা হয়েছে আগেরগুলোর থেকে বেশ দেরিতে।”

    সুনন্দা কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই তার হাত ছাড়িয়ে দৌড় দিল তুলি। দৌড়ে তাকে ধরতে গেল সুনন্দা কিন্তু পারল না। প্ৰায় লাফাতে লাফাতে ঝোপঝাড় মাড়িয়ে মসোলিয়ামের সামনে এসে দাঁড়াল। জায়গাটা দেখে ভারি অবাক হয়েছে সে। ছোট ছোট হাতগুলো একবার রাখল সিমেন্টের উপরে। তারপর দৌড়ে চলে গেল পিছনে। যেন ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল গোটা সৌধটা।

    এতক্ষণে ঘরটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল সুনন্দা। প্রথমেই লোহার চেনগুলো চোখে পড়ল। চেন দুটো যেখানে এসে মিলেছে সেখানে এখন একটা মোটাসোটা তালা ঝুলছে। একবার দেখেই বোঝা যায় বহুবছর খোলা হয়নি সেটা। দরজাটাও সিমেন্টের। তালাটা খোলা থাকলেও দরজাটা টেনে খোলা খুব একটা সহজ হবে না।

    “তুলি… পিছনে যেও না… এসো এদিকে।” গলা তুলে ডেকে উঠল সুনন্দা। ওদিক থেকে কোনো সাড়া এল না। সুনন্দা তাকে ডাকতে যাচ্ছিল এমন সময় কবজিতে টান পড়তে থেমে গেল সে।

    পায়েল একহাতে টেনে ধরেছে তার হাতটা। ফিসফিসে গলায় বলল, “একটা মেয়ে। বাচ্চা মেয়ে। চেয়ারটার মানে এবার বুঝতে পারছি।”

    পায়েলের দৃষ্টি লক্ষ্য করে পাথরের ফলকের দিকে তাকিয়ে সুনন্দা দেখল হাত দিয়ে আরও খানিকটা শ্যাওলা সরাতে ফলকের আর একটু বেরিয়ে পড়েছে বাইরে। তার উপরে কিছু একটা লেখা আছে। একটা নাম– এলিজাবেথ এম মসক্রপ। তার পাশেই জন্ম আর মৃত্যুর তারিখ–১৭৯৯-১৮০৪।

    “মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মারা গেছে।” বিড়বিড় করে বলল সুনন্দা।

    ফলকের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে সুনন্দার দিকে তাকাল পায়েল। একটা মিহি হাসি খেলে গেল তার মুখে। গলাটা নিচে নামিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল, “একবার ডেকে দেখবে নাকি? সাড়া দেয় কিনা?”

    “মানে?” অবিশ্বাসের গলায় জিজ্ঞেস করে সুনন্দা।

    “মানে ধর এই সিমেন্টের নিচেই সে শুয়ে আছে। ডেকে দেখব? ওপাশ থেকে কেউ সাড়া দেয় কিনা?”

    “তুমি পাগল হয়েছ?”

    সুনন্দার কথায় কান দেয় না পায়েল। সে হাঁটু মুড়ে বসে পড়ে মসোলিয়ামের সামনে। সিমেন্টের উপরে দুটো হাত রাখে। তারপর মাথাটা পিছনের দিকে ফিরিয়ে বলে, “কেমন দেখতে ছিল বলতো? ধর গায়ের রং ফর্সা। টুকটুকে লাল ঠোঁট। সোনালি চুল। হাইট… আমি এভাবে হাঁটু গেড়ে থাকলে তার মুখটা আমার মুখের সামনে থাকবে…”

    “পাগলামি ছাড়ো পায়েল। কেউ দেখলে কি ভাববে?”

    “বেথ… বেথ শুনতে পাচ্ছ আমার কথা?” সিমেন্টের সৌধের একদম কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে কথাগুলো বলে পায়েল। পুরনো সিমেন্টের খসা ধুলোয় তার হাতের উপরটা ভরে গেছে। ঝুঁকে থাকা গাছের থেকে টুপটাপ পাতা খসে পড়ছে চারিদিকে। একটু আগে কাছেই কোথাও একটা দাঁড়কাক ডাকছিল। এখন সে চুপ করে আছে।

    পায়েলকে ডাকতে গিয়ে আচমকা একটা ধাক্কা লাগল সুনন্দার। মনে হল আজ থেকে প্রায় দু’শো বছর আগে ফিরে গেলে এই গ্রেভইয়ার্ডটাকে একদম অন্যরকম দেখাত। অনেকগুলো সৌধ হয়নি তখনও। চারপাশটা আর একটু ফাঁকা। গাছগুলো গজিয়ে ওঠেনি। এই ফলকটা সদ্য খোদাই করা হয়েছে। ফলকের সামনে বসে কাঁদছেন এক মহিলা। সদ্য মেয়ে মারা গেছে তার। এবার ফলকের উপর নাম খোদাই করা হচ্ছে, ঠং ঠং ঠং সাদা পাথরের উপরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে হাতুড়ির আওয়াজ।

    কতগুলো লোক মিলে ছোট স্ট্রেচারে করে নিয়ে এল একটা সাদা পাশবালিশের মতো কাপড়ে জড়ানো মৃতদেহ। কীভাবে মারা গেল সে? এইটুকু বয়সে? মারা যাওয়ার আগে কী ভাবছিল?

    “বেথ…” পায়েলের কণ্ঠস্বর এখনও শোনা যাচ্ছে। আকুল কণ্ঠে ডেকে চলেছে সে। যেন সত্যি আর একটু পরেই কিছু একটা শোনা যাবে। একটা হাসির আওয়াজ… অথবা কান্না… অথবা…

    হাওয়া দিতে শুরু করেছে জোরে। লম্বা খয়েরি গাছগুলো আর একটু জোরে মাথা দোলাচ্ছে এখন। আর একটু বেশি করে পাতা পড়ছে। কাকটা আবার ডাকতে শুরু করেছে। আগের মতো নয়। খানিকটা অন্য সুরে। শুধু ডাক নয়, এবার যেন দুর্বোধ্য ভাষায় কিছু বলতে চাইছে সে।

    খিল্‌ খিল্‌ করে একটা হাসির আওয়াজ। ভিতর থেকে না। ওপাশ থেকে শোনা গেছে। পিছিয়ে এল সুনন্দা। মসোলিয়ামের পিছন থেকে হাসছে তুলি। মাটি থেকে উঠে পড়ে দ্রুত পায়ে সেদিকে এগিয়ে গেল সুনন্দা। আর গিয়েই সে থমকে গেল। সিমেন্টের গায়ে কান রেখে দাঁড়িয়ে কি যেন শোনার চেষ্টা করছে তুলি। তার মুখে হাসির চিহ্ন নেই। একটু আগে হাসছিল হয়তো। সুনন্দা উঠে পিছনে আসতে আসতে সে থেমে গেছে।

    “নিষেধ করলে শোন না কেন বলতো?” কড়া গলায় ধমক দিল সুনন্দা। তুলি মুখ তুলে তাকাল না। শুধু ঠোঁটের উপরে আঙুল রেখে চুপ করতে বলল সুনন্দাকে। দেওয়ালের ভিতরের কিছু যেন মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করছে সে।

    “ওখানে কান দিয়ে আছ এবার কানের ভিতরে পোকা ঢুকে যাবে।” দ্রুত মেয়েটার দিকে এগিয়ে এল সুনন্দা, “সরে এসো।”

    “কেউ কথা বলছে।” নিচু স্বরে বলল তুলি।

    “অনেক হয়েছে। চলে এসো এবার।” তুলির হাত ধরে টানল সুনন্দা।

    “কান রাখো। শুনতে পাবে।” তুলির মিহি গলায় আত্মবিশ্বাসের ছাপ। সে ইয়ার্কি করছে না। মিথ্যে বলছে না। কিছু একটা ছিল তার মুখের ভয়ার্ত রেখাগুলোতে, সুনন্দা রেগে গেলেও উপেক্ষা করতে পারল না। সিমেন্টের গা থেকে ধুলো সরিয়ে একটু মসৃণ করে তার উপরে সাবধানে কান রাখল সে নিজে।

    শনশন করে ভিতরের হাওয়ার আওয়াজ। দু’হাতে কান চেপে ধরলে যেমন শব্দ হয়। অনেকটা সেইরকম। আর কিছুতো…

    মুহূর্তে সুনন্দার বুকের ভিতর হিমেল স্রোত বইতে থাকে। সেই শনশন্ হাওয়ার শব্দের ভিতরে আরও একটা ক্ষীণ আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। যেন মাটির গভীরতম অংশ থেকে অস্পষ্ট কতগুলো শব্দ ভেসে আসছে। প্রায় শোনা যায় না, তাও এটুকু বোঝা যায় সেটা মানুষের গলার আওয়াজ। বাতাসের শব্দ নয় তুলির একটা হাত এতক্ষণ ধরা ছিল তার হাতে। এবার সেটা খসে পড়ল। মুখ থেকে আতঙ্কের মৃদু একটা শব্দ বেরিয়ে এল। কান সরিয়ে নিল সে।

    পায়েল এসে দাঁড়িয়েছিল তুলির পাশে। সুনন্দা তাকে বলতে যাচ্ছিল কথাটা, পায়েল তার আগেই থামিয়ে দিয়ে বলল, “জানি। আমিও শুনেছি।”

    “আপনারা কি কিছু খুঁজছেন?” একটু দূর থেকে ভেসে আসা প্রশ্নটা শুনে ফিরে তাকাল দু’জনে। খানিকদূরে যেখানে সমাধিক্ষেত্রের সীমানাটা শেষ হচ্ছে সেখানে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছেন। উপর থেকে নিচ অবধি একটা সাদা আলখাল্লা। জামাকাপড় দেখে বোঝা যায় ইনিই সম্ভবত চার্চের ফাদার। তবে বয়স বছর তিরিশেকের বেশি হবে না। ভুরু কুঁচকে তিনজনের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

    একটু অপ্রস্তুতে পড়ে গেল সুনন্দা। তারা যে কাজটা করছিল সেটা অপরাধ কিছু না হলেও মোটেই অভিপ্রেত নয়। সে হাত দিয়ে একবার মুখ মুছে উঠে পাড়িয়ে বলল, “আসলে একটু কৌতূহল হল আর কি….”

    ফাদার কিন্তু রাগলেন না। বরঞ্চ মুখটা নামিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললেন, “চলে আসুন।”

    তুলির হাত ধরে বেরিয়ে এল সুনন্দা। পায়েল তাদের পিছনে। কাঁধের ঝোলা ব্যাগ থেকে জল বের করে একবার খেল সে। থাই-এর কাছে থাবড়ে হাতের ধুলোটা ঝেড়ে নিল।

    “নতুন এসেছেন এখানে?” মিহি গলায় জিজ্ঞেস করলেন ফাদার।

    “হ্যাঁ। রাজবাড়িতে আছি।”

    “ওঃ।” আর কিছু না বলে পিছন ফিরে হাঁটতে লাগলেন ফাদার। কিছু বুঝতে না পেরে তাকে অনুসরণ করল বাকি তিনজন। এখান থেকে চাৰ্চটা সামনেই। নিজেদের মধ্যে আর কোনো কথা হল না। চার্চের সামনে এসে একবার ওদের দিকে তাকালেন ফাদার। তারপর চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে বললেন, “চলুন, ভিতরে গিয়ে বসি। তারপর কথা হবে।”

    কথা যে কি তা পায়েল ভেবে পেল না। লোকটার এতক্ষণে অসন্তুষ্ট হওয়ার কথা। দু’কথা শুনিয়ে দিলেও প্রতিবাদ করার কিছু নেই।

    প্রার্থনা ঘরের ভিতরে গিয়ে বসে শরীরটা বেশ ঠান্ডা লাগল ওদের। এতক্ষণের জমাট গরমটা এখানে নেই। চারদিকে পাথরের উঁচু দেওয়াল হলঘর জুড়ে লম্বা লম্বা বেঞ্চ পাতা আছে। একদম সামনে ছোট একটা বেদি। তার অনেকটা উপরে ক্রস থেকে যিশু ঝুলছেন। তিনতলার সমান উঁচু সিলিং জুড়ে অনেকগুলো পেন্টিং লাগানো। শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মাথাটাও ঠান্ডা হয়ে এল পায়েলের। সে বেঞ্চের একপাশে বসেছে। মাঝে তুলি তার পাশে সুনন্দা উলটোদিকের বেঞ্চটায় এসে বসলেন ফাদার। একটা হাত তুলির মাথায় রেখে অল্প হেসে জিজ্ঞেস করলেন, “নাম কী তোমার?”

    “ঋত্বিকা নাথ।”

    “বেশ। আর এই দু’জন?”

    প্রথমে পায়েলের দিকে তাকাল তুলি, “এটা আমার দিদি…” সুনন্দার দিকে তাকিয়ে এক সেকেণ্ড কি যেন ভেবে নিল সে, “এটাও আমার দিদি।”

    তুলির দিক থেকে চোখ সরিয়ে সুনন্দার দিকে তাকালেন ফাদার, “এবার বলুন, কী জানতে চান আপনারা।”

    পায়েল কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। সুনন্দা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, “আসলে ওই মেয়েটা এত কম বয়সে মারা গেছে। ঠিক কী হয়েছিল জানতে ইচ্ছা করছিল।”

    এতক্ষণে একটা খোলা হাসি ফুটে উঠল ফাদারের মুখে, “ওঃ, এই কথা তা এখন আর কেউ বলতে পারে না। একটা সময় হয়তো কিছু রেকর্ড রাখা হত। আমার দাদুর আমল থেকেই তার আর পাত্তা নেই।”

    “আচ্ছা গেটের বাইরে যিনি ছিলেন তিনি আমাকে চিনলেন কেমন করে বলুন তো? আমি তো আগে আসিনি এখানে।” পায়েল জিজ্ঞেস করে।

    “আপনি কি জমিদারবাড়ির এন্সেস্টারদের কেউ?”

    অবিশ্বাসের সঙ্গে মাথা নাড়ে পায়েল, “হ্যাঁ। কিন্তু আপনিও…”

    আবার সেই নরম হাসিটা ছড়িয়ে যায় ফাদারের মুখে, “আপনার পূর্বপুরুষদের মধ্যে একজন হলেন সহদেব দত্তের বোন লীলাবতী। তিনি একসময় প্রচুর টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন চার্চকে। প্রতিদানস্বরূপ চার্চের পক্ষ থেকে কাউকে দিয়ে তার একটা প্রতিকৃতি এঁকে উপহার দেওয়া হয়। কিন্তু কেন জানি না সেটা নিতে চাননি তিনি। ফলে চার্চের জিম্মাতেই এখনও পড়ে আছে সেই প্রতিকৃতি। আমরা মাঝে মধ্যে পরিষ্কার করাই সেটা, সংরক্ষণ করি। তো আপনাকে অবিকল সেই লীলাবতী দেবীর মতো দেখতে।”

    “উনি আমার ঠাকুমার ঠাকুমার ঠাকুমা সম্ভবত।”

    “ব্যাস। তাহলে মিলে গেল হিসেব।” বেঞ্চে হেলান দিয়ে বসলেন ফাদার।

    “একবার সেটা দেখাবেন আমাকে? মানে…”

    “মানে কৌতূহল হচ্ছে, তাই তো?”

    মাথা নাড়ল পায়েল। ফাদার তুলির গালটা একবার টিপে দিয়ে উঠে পড়ে বললেন, “আসুন আমার সঙ্গে।” তারপর প্রেয়ার রুমটা পেরিয়ে এগিয়ে গেলেন দোতলার সিঁড়িটার দিকে।

    পায়েল তুলির কাঁধে একটা হাত রেখে বলল, “এতক্ষণ আমরা যে জায়গাটায় ছিলাম তাকে বলে নেভ। আর ঢোকার মুখে যে ফাঁকা জায়গাটা ছিল তাকে বলে নারথাক্স। মনে থাকবে?”

    তুলি মাথা নেড়ে বলল, “ওখানে কী হয়?”

    “চার্চে ঢোকার আগে একজন আরেকজনের সঙ্গে গল্প করে ওখানে দাড়িয়ে। আর ওইখানটা দেখছ, একটা ছোট ঘর।”

    তুলি মুখ তুলে দেখে। যিশুর ক্রস যেখানে আছে সেখান থেকে একটু দূরে একটা পোডিয়াম। পোডিয়ামের পাশেই একটা পিয়ানো রাখা আছে। তার পিছনে একটা ছোট ঘর চোখে পড়ছে। যদিও মাটি থেকে বেশ কিছুটা উপরে ঘরটা।

    “ওটাকে বলে স্যংচুয়ারি।”

    “ওখানে কী হয়?”

    “পরে বলব। এখন এসো।”

    সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসে চারজনে। উঠেই দু’দিকে দু’টো ছোট ছোট স্টোররুম। চার্চের পুরানো জিনিসপত্র এখানেই সংরক্ষণ করা হয়। চাবি দিয়ে প্রথম স্টোররুমের দরজাটা খুলে ফেললেন ফাদার।

    নানারকম পুরনো জিনিসে ভর্তি হয়ে আছে ঘরটা। কোনো জানালা নেই ফলে দরজা খুলতেই একটা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে এল সবার।

    ঘরের ভিতরে ঢুকে এলেন ফাদার। সামনে কয়েকটা কাঠের লগ পড়েছিল। সেগুলো হাত দিয়ে সরিয়ে ফেললেন। একটা চ্যালিশ, গোটা কতক পুরনো উইতে খাওয়া বই সরিয়ে কাপড়ে ঢাকা বড়সড় কিছু একটা বের করে আনলেন। পাশেই ঝুলতে থাকা একটা কাপড় দিয়ে ধুলো ঝেড়ে নিলেন। সুনন্দা বিড়বিড় করে বলল, “বেশ সংরক্ষণ করে দেখছি।”

    পায়েল কিছু বলল না। কোনো একটা কারণে তার ভুরু দুটো আশ্চর্যরকম কুঁচকে গেছে। এক মনে কিছু একটা ভেবে চলেছে সে। উত্তর পাচ্ছে না। কাপড়টা সরিয়ে ভিতরের ফ্রেমটা বের করে আনলেন ফাদার। এখানে আলো খানিকটা কম। ছবিটা ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। প্যাসেজের কাছে বড় জানালা দিয়ে রোদের ফালি আসছে। কয়েকপা এগিয়ে সেদিকটায় চলে এলেন তিনি। তারপর একটা স্ট্যান্ড টেনে এনে তার উপরে রাখলেন ছবিটা।

    ছবিটার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল ওরা দু’জনে। যেন কেউ রংতুলিতে পায়েলকে আঁকার চেষ্টা করেছে। একই চোখ, নাক, এমনকি মাথার চুলটা পর্যন্ত একইভাবে আঁচড়ানো। শুধু চেহারায় ছবির মানুষটা একটু স্থূল। একটা ছোট টেবিলের উপরে হাত রেখে বসে আছেন বছর বাইশেকের এক মহিলা। একটু এগিয়ে গিয়ে ছবিটা ভালো করে দেখে পায়েল। গোটা ছবিটা জুড়ে কি যেন খুঁজতে থাকে সে। বিড়বিড় করে বলে, “টেবিলটা বেশ উঁচু… মহিলার হাত রাখতে অসুবিধা হচ্ছে। কিছু একটা গণ্ডগোল আছে ছবিটায় সুনন্দাদি…

    সুনন্দা হাঁ করে তাকিয়েছিল সেদিকে। পায়েলের কপালের ভাঁজটা এখন আরও একটু গভীর হয়ে উঠেছে। সে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল ছবিটার কাছে। হাঁটু গেড়ে সেটার সামনে বসে পড়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কিছু যেন দেখার চেষ্টা করল। ছবি নয় যেন আয়না। পায়েলের মুখেরই ছায়া পড়েছে।

    কয়েক মিনিট পরে উঠে এল পায়েল। এতক্ষণে ছায়ায় ঢেকে গেছে তার মুখ। সুনন্দা অবাক গলায় প্রশ্ন করল, “তোমার কী হয়েছে বলতো? এটা দেখে তো খুশি হওয়ার কথা।”

    মাথা নাড়ে পায়েল। একবার আড় চোখে ফাদারের দিকে দেখে নেয় সে। বেশ খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

    “আমি বুঝতে পারছি কেন লীলাবতী দত্ত ছবিটা নেননি।”

    “সেকি! দেখেই বুঝতে পারছ! কেন?”

    “কারণ ছবিটা তার নয়।”

    “তাহলে কার?”

    “এলিজাবেথ মসক্রপ…” বিড়বিড় করে বলে ওঠে পায়েল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article হেঁটে যাই জনমভর – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সায়ক আমান

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }