Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প344 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তার চোখের তারায় – ১

    প্রথম অধ্যায়

    “খুন! সবাই এটাই কেন জিজ্ঞেস করে বলুন তো আগে?” শশাঙ্ক পালিত দাঁতের ফাঁকে হাসল। তারপর মিনমিন করে নিতান্ত অদরকারি কথার মতো বলল, “যে মৃত্যুগুলো হয়েছে সেগুলোর সবকটাই বলা যায় ন্যাচারাল ডেথ। আনইউজুয়াল সেরকম কিছু নেই!”

    নীলাদ্রি এতক্ষণ সিঁড়ির নিচের খসে পড়া প্লাস্টারের তাপ্পি দেওয়া কড়িকাঠের দিকেই তাকিয়েছিল। এবার মাথা নামিয়ে বলল, “ডেথ ব্যাপারটাই ন্যাচারাল নয় শশাঙ্কবাবু, সে বিছানায় শুয়ে হোক কিংবা পাহাড় থেকে পড়ে।” শশাঙ্ক আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল। তাকে থামিয়ে দিল সুনন্দা। তুলির ঘুমন্ত মুখটা নিজের এক কাঁধ থেকে অন্য কাঁধে বদলে নিয়ে বলল, “ডেথটা আমাদের কনসার্ন নয়; বাড়ির যা অবস্থা দেখেছি তাতে যে কোনো সময় ছাদ খসে পড়তে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালটা…”

    “অমন দেখে মনে হয় দিদিভাই, এ কি আর আজকের নরম গাঁথনির বাড়ি? খাস জমিদারবাবুর নিজের তদারকিতেই তৈরি…”

    “জমিদারবাবু আর বেঁচে নেই।” নীলাদ্রি বলে ওঠে, “তাই ছাদ ভাঙলে সেটা তার ঘাড়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই। আমাদেরই প্রাণটা খোয়া যেতে পারে।” একটু থেমে আবার বলল, “শুনেছি সাউথের বিল্ডিংটা একটু পাকাপোক্ত আছে। ওদিকটায় তো দিতে পারতেন? “

    শশাঙ্কর মুখ দেখে মনে হল সে ভিতরে ভিতরে বিরক্ত হয়েছে কিন্তু মুখে প্রকাশ করতে চাইছে না। জোর করে আগের হাসিটা হেসে বলল, “ওদিকে এখনও পাইপের জলের ব্যবস্থাটা হয়নি, আপনারা যদি কুয়ো থেকে জল নিয়ে কাজ চালাতে পারেন তাহলে আমাদের অসুবিধা নেই।”

    নীলাদ্রি আর কিছু বলল না। সুনন্দাও মুখ নামিয়ে নিয়েছে। থাকার জায়গা নিয়ে খুব বেশি বিলাসিতা করার মতো ক্ষমতা থাকলে কলকাতা ছেড়ে এই গঞ্জে পুরানো জমিদারবাড়িতে ঠাঁই নিতে হত না। একমাস হল নীলাদ্রির মার্চেন্ট অফিসের চাকরিটা চলে গেছে। সুনন্দা বাড়িতে টিউশনি করত বেশ কয়েকটা। তাছাড়া জমানো টাকাও খানিকটা ছিল। কিন্তু তাতে আর যাই হোক মাসে মাসে বাড়িভাড়া গুনলে চলে না। ফলে বাধ্য হয়ে প্রস্তাবটা গ্রহন করতে হয়েছে। প্রস্তাবটাও ভারি অদ্ভুত। সুনন্দাই এক ছাত্রের মায়ের মুখে প্রথম জানতে পারে খবরটা। এক ধনী দম্পতি সপ্তাখানেকের জন্যে জরুরি দরকারে বিদেশ যাচ্ছেন। তাদের একটি বছর দশেকের মেয়ে আছে। ঘটনাচক্রে সেই মেয়েটিকে এক্ষুনি তারা নিয়ে যেতে চাইছেন না। ফলে সাতদিনের জন্যে এমন কাউকে তাদের দরকার যারা মেয়েটির দেখাশোনা করতে পারে।

    তবে নিজের বাড়িতে মেয়েটিকে আনা যাবে না। হুগলী সদর থেকে বেশ খানিক ভিতরে জামালপুর থানার অধীনে একটা ছোট জনপদ আছে— চকদীঘি সেখানে একটা পুরনো জমিদারবাড়ি সরকারি তত্ত্বাবধানে লিজ নিয়েছেন এনারা। এই একটা সপ্তাহ মেয়েটিকে নিয়ে সেইখানেই থাকতে হবে। মেয়েটির ঠিক মতো দেখাশোনা হচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্যে কয়েকজন লোককে বাড়িতেই রাখা হবে। বাদ বাকি সমস্ত দায়িত্ব তাদের নিজেদের।

    প্রস্তাবটা শুনে প্রথমে কিছুতেই রাজি হতে চায়নি নীলাদ্রি। গম্ভীরভাবে মাথা নেড়ে বলেছিল, “উঁহু, এর মধ্যে নিশ্চয়ই কোন দু’নম্বরি ব্যাপার আছে। নিজের মেয়েকে কেউ অন্যের কাছে রেখে যায় নাকি? তাও আবার আজকের সময়…”

    “অন্যের কাছে কোথায় রাখছে? বাড়ি ভর্তি ওদের লোকজন থাকবে। আমাদের খালি কয়েকদিনের জন্যে মা-বাবার মতো দেখাশোনা করতে হবে। ইটস টু ইজি…”

    তাও গাঁইগুই করেছিল নীলাদ্রি, “তারপর মেয়েটার কিছু গণ্ডগোল হলে? সব দোষ কিন্তু তোমার-আমার ঘাড়ে চাপবে।”

    “ওইটুকু মেয়ের কী হবে? আর আমরা দুটো এতবড় মানুষ একটা দশ বছরের মেয়েকে সামলাতে পারব না!”

    শেষপর্যন্ত কিন্তু যুক্তিতর্ক ধোপে টেকেনি। পকেটে টাকাপয়সা না থাকলে ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলে আলাদা করে কিছু থাকে না। নীলাদ্রিও রাজি হয়েছে শেষ অবধি। সুনন্দা পা বাড়িয়েই ছিল। তুলিকে দেখার পর থেকে দু’জনের যেটুকু কিন্তু-কিন্তু ভাব ছিল সেটাও কেটে গেছিল।

    যোগেন্দ্র নাথ আর অরুণিমা নাথ নিজেরা থাকেন কলকাতার ভবানিপুরে। নিজস্ব তিনতলা বাহুল্যে ভরা বাড়ি। সেখানে গিয়ে ডাইনিঙে বসতে প্রথমে একটু ভয়-ভয় লাগছিল সুনন্দার। এত সাজানো গোছানো বড়লোকের বাড়িতে সে আগে পা রাখেনি কোনোদিন। বারবার চোখ চলে যাচ্ছিল দোতলাটার দিকে। সেখানে বারান্দার গ্রিলের গা ঘেঁষে উঁকি দিচ্ছে বেগুনি বোগেনভিলিয়ার ঝাঁক।

    মজার কথা হল প্রস্তাবটায় নীলাদ্রি রাজি হওয়ার পর থেকেই সুনন্দার নিজের উৎসাহে ভাঁটা পড়েছে। উলটে একটা অজানা আশঙ্কা এসে চেপে ধরেছে তাকে। মেয়েটা যদি রাজি না হয়?

    এমনিতে সুনন্দা সবার সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি মিশে যেতে পারে। ফলে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাচ্চামানুষের খেয়াল কেই বা বলতে পারে? আচমকা যদি বেঁকে বসে তাহলে এক ধাক্কায় সব বানচাল হয়ে যাবে।

    নাথ-দম্পতী কিন্তু সে আশঙ্কা হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, “তুলির সঙ্গে একবার মিশে দেখুন না, আপনি ওকে নয়, ওই আপনাকে শাসন করবে।”

    “ওকে নিয়ে যাচ্ছেন না কেন?” নীলাদ্রি করেছিল প্রশ্নটা।

    “আসলে ওখানে গিয়ে ওকে দেখাশোনার সময় পাব না আমরা।”

    “সে হলেও, ওখানে তো পয়সা দিয়ে বেবিসিটার রাখা যায়।”

    “তা যায়, কিন্তু নতুন জায়গায় নতুন লোকের হাতে ওইটুকু মেয়েকে তুলে দিতে ভরসা হয় না।”

    “এখানেও তো তাই দিচ্ছেন।” হাসতে হাসতেই কথাটা বলেছিল নীলাদ্রি।

    ব্যঙ্গটা গায়ে মাখেননি যোগেন্দ্র নাথ। হাসির রেশ ধরে বলেছিলেন, “আপনারা যা ভাবছেন তা নয়, মেয়ের উপর চব্বিশঘণ্টা নজর রাখার লোকের ও বাড়িতে অভাব নেই। গেলেই বুঝতে পারবেন। কিন্তু আমরা চাইছিলাম মা-বাবার ফিগারটা ও যেন মিস না করে। বিশেষ করে আপনাদের…” আচমকাই থেমে যান যোগেনবাবু।

    খানিকক্ষণ নীরবতা, তার পর সুনন্দা প্রশ্ন করেছিল, “ওর কোনো মেডিক্যাল কন্ডিশন…”

    বিমর্ষ মাথা নেড়েছিলেন দম্পতী, “আজ্ঞে হ্যাঁ, ওর একটু শ্বাসকষ্ট আছে। মানে একটু উত্তেজিত হয়ে পড়লে সেটা শুরু হয়। ইনহেলার রাখবেন সঙ্গে তবে সেটা যত কম ব্যবহার হয় ততই ভালো, বুঝতেই পারছেন এইটুকু মেয়ে…

    সুনন্দা মাথা নেড়েছিল। মনে মনে একটা বিচ্ছিরী খেয়াল এসে চেপে ধরেছিল ওকে। মন বলছিল মেয়েটা ওদের দেখে রাজি না হলেই হয়তো ভালো হবে। এক্ষুনি দু’জনে মিলে বাড়ি ফিরে যাবে। আর একটু চেষ্টা করলে একটা চাকরি ঠিক জোগাড় করে নিতে পারবে নীলাদ্রি। কি দরকার খামোখা একটা অচেনা অজানা মেয়ের ভার নিয়ে? শেষে যদি মেয়েটার কোনো ক্ষতি হয় সব দোষ ওদের উপরে এসে পড়বে।

    ভাবনাটা এতটা বেড়ে উঠেছিল যে কথাটা নিজে থেকেই বলত সুনন্দা। কিন্তু মুখের কথা আটকে যায় তুলিকে দেখে। দশ বছরের তুলনায় বেশখানিকটা ছোট দেখায় তাকে। নরম, গোলগাল চেহারা। গায়ের রঙটা কেমন যেন ফ্যাকাসে ধরনের। ঠোঁটের দুটো কোণ এতটাই গভীর শে সারাক্ষণই মনে হয় হাসছে।

    সোফায় ওদের উলটোদিকে বসে প্রথমে বেশি কথা বলতে চায়নি তুলি। হয়তো সদ্য ঘুম থেকে উঠে এসে বসেছিল বলেই। কিন্তু সে পুরনো বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে ছাড়া থাকতে পারবে কিনা জিজ্ঞেস করতে মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ জানিয়েছিল। তারপর উঠে এসে বসেছিল সুনন্দার পাশে। মেয়েটার নরম হাতের উপর হাত রেখেছিল সুনন্দা। একবারের জন্যে নিজের বুকের ভিতরটা কেমন মুচড়ে উঠেছিল তার। রিন্টির কথা মনে পড়েছিল না চাইতেই….

    .

    শশাঙ্ক পালিত উত্তরের জন্যে অপেক্ষা করছিল। ভাঙা কড়িকাঠের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে নীলাদ্রি বলল, “না না! বাচ্চামেয়ে আছে সঙ্গে, কুয়ো-টুয়ো রিস্ক হয়ে যাবে, আপনি এদিকটাতেই ব্যবস্থা করুন।”

    “দুটো ঘর রেডি করা আছে। আপনারা চাইলে এক্ষুনি খুলে দেব।” শশাঙ্ক পিছনের সিঁড়ির দিকে একবার হাত দেখিয়ে বলল কথাটা।

    “দুটো ঘর একটু বাড়াবাড়ি, আমি আর থাকবই কতক্ষণ, ওদের দু’জনের জন্যেই….”

    সুনন্দার চোখের ইশারায় থেমে গেল নীলাদ্রি। তারপর একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “আপনি বরঞ্চ ওকে ঘরটা দেখিয়ে আনুন, আমি একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসছি।”

    “এখন আবার কোথায় যাবে, জামাকাপড় ছেড়ে যেও না হয়।”

    “নাঃ, জাস্ট সারাউন্ডিংটা দেখে আসব একটু। এখান থেকে তো কালনা বেশিদূর নয়, শশাঙ্কবাবু? “

    “না না। সামনেই তারকেশ্বর-বর্ধমান রোড পাবেন।”

    “ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফিরছি। তুমি ভালো করে বুঝে নিও।” কথাটা বলে আর সেখানে দাঁড়াল না নীলাদ্রি।

    সুনন্দা একবার তুলির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল সে তখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার মাথায় একবার হাত বুলিয়ে নিয়ে আবার মাথাটা কাঁধে ফেলে শশাঙ্কর দিকে তাকিয়ে বলল, “চলুন, যাওয়া যাক।”

    জমিদারবাড়ির পুরনো সিঁড়ি। প্রতিটা ধাপের কোণে ভরাট শ্যাওলা জমেছে। সিঁড়ির ঠিক মধ্যিখানে বেশ কয়েকটা ধাপে সিমেন্টের চাঙড় উঠে গেছে। দেখে পা ফেলতে হয়। শুধু ভাঙা বলেই নয়, খসে যাওয়া সিমেন্টের ধুলো আলগা হয়ে পড়ে আছে। তার উপরে একবার পা পিছলে গেলেই মাথা উলটে নিচে পড়তে হবে। সুনন্দা সাবধানে উঠতে লাগল।

    বাড়ির এইদিকটা মোটামুটি খালি। ফলে পায়ের আওয়াজ দোতলা অবধি গিয়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসছে। সিঁড়ির ল্যান্ডিয়ে একটা প্রায় মানুষের সমান লম্বা জানালা আছে। রঙিন স্কাইলাইট লাগানো। সেই নকশা ভেদ করে আসা রামধনু রঙের আলো পড়েছে ধুলোঢাকা মেঝের উপরে।

    শশাঙ্ক ল্যান্ডিয়ে এসে একবার পিছন ফিরে বলল, “দিন, ওকে আমি ধরছি।”

    “না, থাক, এইটুকুই তো।”

    “তাতে কি। প্রথমবার উঠছেন। দিন না।”

    মাথা নাড়ল সুনন্দা, প্রসঙ্গটা ঘোরানোর জন্যে বলল, “আচ্ছা, শুনেছি একজন নাকি এই সিঁড়ি থেকে পড়েই মারা গেছিলেন।”

    দাঁতের নিচে একটু হাসল শশাঙ্ক, তারপর বলল, “সেখান থেকেই তো সুনাম রটল।”

    “হঠাৎ সিঁড়ি থেকে পড়ে গেলেন কী করে?”

    “সিঁড়ির অবস্থা তো দেখতেই পাচ্ছেন। রাতবিরেতে আলো ছাড়া চলাফেরা করলে পড়ে যে যাবে তাতে আর আশ্চর্য কি? তার উপরে তখন আবার ছিল বর্ষাকাল, এমনিতেই মেঝে সব পিছল হয়ে ছিল।”

    “হুম….” প্রতিধ্বনির আওয়াজটা মন দিয়ে শুনছিল সুনন্দা। নিশ্চয়ই লোকটা যখন পড়ে যাচ্ছিল তখন তার আর্ত চিৎকারটাও এভাবে গোটা সিঁড়ি জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। দোতলায় এসে পড়েছিল দু’জনেই। সুনন্দা আর কথা বাড়াল না।

    দোতলায় এলে বোঝা যায় বাড়িটা ঠিক কতটা বড়। চৌকো ঘেরা বারান্দা তার এক-একটা দিক অন্তত বিশ মিটারের কম নয়। প্রতিটা দিকে তিনটে করে ঘর। তার সবকটার দরজা এখন বন্ধ। দেওয়ালের হলদে রং জায়গায় জায়গায় চটে গেছে। কোথাও চুন-সুরকি বেরিয়ে পড়েছে। উপরের দিকটা ফাঁকা। বোঝা যায় বর্ষার সময় জল এসে বারান্দাটাকে থৈথৈ করে দেয়।

    শশাঙ্ক সিঁড়ি দিয়ে উঠেই বাঁদিকে একটা ঘরের দিকে এগোতে এগোতে বলল, “এই দুটো ঘর নিলেই আপনাদের সুবিধা হবে, বাকিগুলোতে বড্ড ধুলো পড়ে গেছে।”

    “আপনারা থাকেন কোথায়?”

    আবার সেই আগের বিনীত হাসিটা ফিরিয়ে আনল শশাঙ্ক, চাবিটা দিল সুনন্দার হাতে।

    “আমরা একরকম এ বাড়ির কেয়ারটেকার, যখন জমিদার আমল ছিল তখন এই দিকটা ছিল জমিদার বংশের সদস্যদের থাকার জায়গা। আর আমরা যে মহলটায় থাকি সেটা ছিল গেস্ট আর সাহায্যপ্রার্থীদের। ছাদে আসুন, দেখাব আমরা কোথায় থাকি।”

    বাঁদিকে আরও কিছুদূর গিয়ে দ্বিতীয় ঘর। দরজাটা খোলা ছিল। সেটা হাত দিয়ে ঠেলে ভিতরটা দেখাল শশাঙ্ক। তারপর আর একটা চাবি তার দিকে বাড়িয়ে দিল। একহাতে চাবিটা নিয়ে ভিতরে ঢুকে এল সুনন্দা

    ভিতরটা সদ্য গোছানো হয়েছে বোঝা যায়। দেওয়ালেও নতুন রং করা হয়েছে। বাইরে থেকে মহলটাকে যতটা ভাঙাচোরা মনে হয় ভিতর দিকটা ততটা নয়।

    ঘরের দু’দিকে দুটো জানলা। আর একটা দিকে জামাকাপড় রাখার মতো ছোট আলনা। মাঝখান জুড়ে একটা দু’জনের শোয়ার মতো বিছানা। তার উপরে পরিপাটি করে চাদর পাতা আছে। চাদরটা নতুন নয়। সম্ভবত এতদিন অন্য কোথাও পাতা ছিল সেটা। সুনন্দারা এখানে আসায় নিয়ে এসে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    মাথার উপরে তাকিয়ে একটা নতুন পাখা চোখে পড়ল। সুইচবোর্ডের কাছে গিয়ে সেটা চালিয়ে দিল শশাঙ্ক। সুনন্দা ততক্ষণে তুলিকে কোল থেকে নামিয়ে বিছানার উপরে শুইয়ে দিয়েছে। এগিয়ে গিয়ে জানলাটা খুলে দিল সে।

    বাইরে তাকালেই এ প্রাসাদের অন্দরমহলটা চোখে পড়ে। এতদূর থেকে দেখে বড়সড় মনে হয় সেটাকে। এদিককার প্রাসাদের প্রায় অর্ধেক। অনেকটা জুড়ে ছড়ানো। বাইরে বেশ কিছু কাঁটাঝোপ গজিয়েছে। ঢোকার রাস্তার ঠিক মুখে একটা বেশ বড়সড় কাঠগোলাপের গাছ। এত বড় কাঠগোলাপ আগে দেখেনি সুনন্দা। সে সেদিকে একটা আঙ্গুল দেখিয়ে বলল, “গাছটা কে লাগিয়েছে বলুন তো?”

    “সনাতনদা। আরও লাগিয়েছিল। আগের বছরের ঝড়ে সব উপড়ে গেছে। তাছাড়া জায়গাটায় সাপখোপ আছে। খুব একটা যায় না কেউ।”

    “সনাতনদা? উনিও এ বাড়িতেই থাকেন?”

    “হেডকুক বলতে পারেন। এ বাড়িতে ঠিক বলা যায় না, দক্ষিণ মহলে থাকেন। সেদিকের অন্দরমহলটা অবশ্য এতটা ভেঙ্গে পড়েনি। ছাদে আসুন, দেখিয়ে দিচ্ছি সব।”

    তুলির দিয়ে তাকায় সুনন্দা। গালের উপর একটা হাত রাখে। সে একটু উশখুশ করে পাশ ফিরে শোয়। তার গোলাপি ফ্রক এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে আছে বিছানার উপরে। সেটা হাত দিয়ে ঠিক করে দেয় সুনন্দা। এখনও গভীর ঘুমে আছন্ন হয়ে আছে মেয়েটা। কাল রাতটা ট্রেনে ভালো করে ঘুম হয়নি। আজ সকাল থেকে একবারও চোখ খোলেনি।

    ঘরের দরজাটা টেনে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল দু’জনে।

    শশাঙ্ক পালিতের বয়স বছর চল্লিশেকের একটু বেশি আন্দাজ করা যায়। গালে চাপ দাড়ি, গায়ের রং বেশ ফর্সা। সমস্ত মুখের মধ্যে খাড়া নাকটা আলাদা করে চোখে পড়ে। কপালের কাছে একটা বড়সড় জড়ুল আছে! থেকে থেকে কবজির উলটো দিকটা দিয়ে নাকের ডগাটা ঘষে সে। এ বাড়ির বাকি সদস্যরা এখনও আসেনি এদিকে। শশাঙ্কই গিয়ে হুগলী স্টেশান থেকে নিয়ে এসেছে ওদের।

    আরও গোটা কুড়ি সিঁড়ি পেরোলে ছাদ। ছাদে ওঠার মোট দুটো সিঁড়ি আছে। একটা সিমেন্টের, সোজা। আর একটা লোহার পেঁচানো সিঁড়ি। দ্বিতীয় ছাদে ওঠার আগেই দু’জায়গায় ভেঙে গিয়ে ফাঁক হয়ে আছে। সেখানটা একটু লাফিয়ে উঠতে হয়।

    সিমেন্টের সিঁড়ির নিচের দিকে লম্বা ঝুলের সার নেমেছে। তার ফাঁকে কিছু পুরানো জিনিসপত্র রাখা আছে। সেদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে চলে এল সুনন্দা।

    চকদীঘির দত্ত জমিদারবাড়ি সতেরশো শতকের মাঝামাঝি তৈরি। তখন বড়সড় বাড়ির বেশিরভাগ অংশেই শ্বেতপাথরের মেঝের চল ছিল। কিন্তু এতক্ষণে অন্তত এ মহলে শ্বেতপাথর চোখে পড়েনি সুনন্দার। বাইরে মূল প্রাসাদে ঢোকার মুখে যে সদরের সিঁড়ি আছে সেটা প্রস্থে অন্তত মিটার দশেক চওড়া। তবে কোণার দিকে কয়েক জায়গায় ভেঙে গেছে।

    ছাদে উঠে মনটা হালকা হয়ে গেল সুনন্দার। চারপাশে সিমেন্টের ভারি রেলিং দেওয়া ছাদ। সেই সিমেন্টের গাঁথনির মধ্যে মধ্যে সময়ের কালো ছোপ পড়েছে। রেলিঙের ঠিক উপরেই নানারকম মূর্তি বসানো আছে। বেশিরভাগই সিংহ, কোথাও খাপখোলা তলোয়ার, কোথাও বা ঘোড়া। কয়েকটা জায়গায় মূর্তি খসে গিয়ে রেলিঙের খাম্বা বেরিয়ে পড়েছে।

    ছাদের মেঝেতে বড় বড় খোপ কাটা। কয়েকটা খোপ হেঁটে পার হয়ে ছাদের একপ্রান্তে এসে দাঁড়াল সুনন্দা। কিনারায় এসে না দাঁড়ালে আশপাশের অন্য কোনো বাড়ি চোখে পড়ে না। শুধু দক্ষিণের প্রাসাদটা চোখে পড়ে। সেদিকে দেখিয়ে শশাঙ্ক বলল, “মোট দুটো প্রাসাদ। একটা উত্তরের, একটা দক্ষিণের। জমিদারবাড়ির নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকটা প্রাসাদের পিছনের দিকে সেই প্রাসাদের অন্দরমহল। আপনারা থাকবেন উত্তরের প্রাসাদে। আর আমরা থাকব দক্ষিণের অন্দরমহলে। দেখে আসবেন একবার?”

    “না, আজ আর ভালো লাগছে না। তাছাড়া মেয়েটা জেগে গেলে খুঁজবে।”

    “খোঁজার কিছু নেই। ও আগেও এসেছে আমাদের এখানে। বেশ চৌকশ মেয়ে। আমাদের সবাইকেই প্রায় চেনে।”

    এতক্ষণ মন দিয়ে উত্তরের ভাঙাচোরা অন্দরমহলের ভিতরের জমাট অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে ছিল সুনন্দা। এবার শশাঙ্কের দিকে ফিরে বলল, “মেয়েটাকে নিয়ে ভয় লাগছে, জানেন?”

    “ভয়ের কী আছে? সাতটা দিনের তো ব্যাপার।”

    “গণ্ডগোল কিছু হওয়ার থাকলে সাতদিনই যথেষ্ট। বিশেষ করে এইটুকু বাচ্চা…”

    “আপনাদের নিজেদের ছেলে মেয়ে…”

    কথাটা বলতে গিয়েও থেমে গেল শশাঙ্ক। অর্ধেক বলেই বুঝতে পেরেছে একটু বেশি ব্যক্তিগত হয়ে গেছে প্রশ্নটা।

    তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নরম করে হাসল সুনন্দা। তারপর মাথা দুলিয়ে বলল, “ছিল…”

    শশাঙ্কের অস্বস্ত্বিটা আর একটু বেড়ে উঠল। সে আর কিছু জিজ্ঞেস করল না। প্রসঙ্গটা বদলাতে বলল, “দাদা বলে দিয়েছেন সনাতনদা আর মধুবাবু মাঝে মাঝেই দেখে যাবেন আপনাদের। আমিও আসব যাব ইচ্ছা হলে।”

    “আপনিও তো এখানেই থাকতে পারতেন।”

    হাতের উলটোদিক দিয়ে কপালের ঘাম মুছল শশাঙ্ক, “আমার আসলে দোকান বাজারের দায়িত্ব। তাছাড়া রান্নবান্নাটাও দেখাশোনা করতে হয়। বাইরে থেকে লোকজন জমিদারবাড়ি দেখতে আসে। তাদের সামলানোটাও একটা হ্যাপা।”

    “আপনাকে থাকতে বললাম তার একটা কারণ আছে জানেন।”

    “কী কারণ?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে শশাঙ্ক।

    “এখানে আসার পর থেকে জমিদারবাড়ির ইতিহাসটা জানতে ইচ্ছা করছে আমার। অন্তত কোনো বই-টই যদি পাওয়া যেত, মানে জমিদারবাড়ির তো কিছু না কিছু হিস্ট্রি থাকে …”

    মিহি একটা হাসি খেলে যায় শশাঙ্কের মুখে, “যত ইতিহাস আপনি বইতে পাবেন তার থেকে ঢের বেশি পাবেন মধুবাবুর মুখে। তবে ইতিহাস বলতে তেমন কিছু নেই।

    জমিদার ভূপতি দত্ত ব্রিটিশদের প্যাট্রন ছিলেন। ফলে সেকালেও জমিদারিটা টিকিয়ে রেখেছিলেন। এই বাড়িটাও। তারপরের জেনারেশান থেকে একটু একটু করে শেষ হয়ে যায় জমিদার বংশ। লোকে বলে…”

    “কী বলে?” কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে সুনন্দা।

    “একটি, মাথায় কালো কাপড়ে ঢাকা ছায়ামূর্তিকে নাকি কয়েক শতাব্দী ধরে দেখা যায় এখানে। কিসব যেন অভিশাপ আছে।” খোলা হাসির একটা দাগ ফোটে শশাঙ্কের দাড়ির আড়ালে, “ওসব গল্প পরে মধুবাবু শুনিয়ে দেবেন। আপাতত জেনে রাখুন বছর পঞ্চাশেক আগেই তার বংশের শাখাপ্রশাখা প্রায় গুটিয়ে গেছে। দাপট যা ছিল তাও শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। শেষে নাথ ইন্ডাস্ট্রি সরকারের নির্দেশে এটা দেখাশোনা আর এলটমেন্টের দায়িত্ব পায়।”

    “আর খুনগুলো কবে হয়?”

    আবার হাসির ঝাপটা ছড়িয়ে পড়ে শশাঙ্কের মুখে, “খুনের ব্যাপারটা আপনার মাথাতেও ঘুরছে তার মানে।”

    সুনন্দা একটু লজ্জা পেয়ে মুখ নামিয়ে বলে, “আসলে যে বাড়িতে এতগুলো মানুষ আচমকা মারা গেছেন সেখানে থাকতে একটু একটু গা ছমছম করবে বৈকি। বিশেষ করে প্রাচীন জমিদারবাড়ি যখন, তাও ব্যাপারটা যদি ভালো করে জানা থাকে তাহলে আর অতটা ভয় করবে না।”

    মাথা নাড়ায় শশাঙ্ক, তারপর দূরের দিকে তাকিয়ে বলে, “খুন বলুন আর মৃত্যু, সেগুলো ঠিক কবে থেকে শুরু হয় তা কেউ বলতে পারে না। মানে ধরুন ইংরেজ আমলেও যদি হয়ে থাকে তার সাক্ষী দেওয়ার জন্যে কেউ নেই আর। চাকর-বাকরের মধ্যে কেউ যদি মরে থাকে তাহলে কেউ তার অত হিসেব রেখে যায় না। আমি যদ্দুর জানি সরকার থেকে এর হেরিটেজশিপের নেওয়ার পর মোট চারজন এ বাড়িতে থাকতে থাকতে মারা গেছেন। তবে তার কোনোটাই খুন বলা যায় না। লোকে গুজব রটাতে পারে বড়জোর। সেটা কোনো নতুন কথা নয়।”

    “প্রথমটা সিঁড়ি থেকে পড়ে?”

    “আজ্ঞে, যে সিঁড়ি দিয়ে এলাম আমরা। নাইন্টীন সিক্সটিফোরে।”

    “তারপর?”

    “প্রথমটার বারো বছর পর অর্থাৎ সেভেন্টিস-এর মাঝামাঝি দ্বিতীয়টা। দীঘির জলে বড়ি ভেসে ওঠে। এর নাম আমি শুনেছিলাম একবার, মহীতোষ বসু। ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এসেছিল। কোনোভাবে হয়তো রাতে জলের কাছাকাছি গিয়েছিল। দীঘিতে বড়ি ভেসে ওঠে।”

    “কোন্ দীঘি?” প্রশ্ন করে সুনন্দা।

    আঙুল দিয়ে অন্দরমহলের মাথার পিছনটা দেখিয়ে দেয় শশাঙ্ক। ঝোপঝাড়ে ঢেকে আছে সেখানটা। তবে ভালো করে লক্ষ করলে সেই গাছপালার ফাঁক দিয়ে একটুখানি জলের রেখা চোখে পড়ে।

    “ওখানে একটা পুকুর আছে মনে হচ্ছে।”

    “ওটাই দীঘি, এ বাড়ির সামনে আর পিছনে দু’দিকেই জল আছে। আসার সময় সামনে পুকুরপাড় দেখলেন তো?”

    সুনন্দা মাথা নাড়ে। চারদিক খোলা থাকায় বেশ জোরে একটা হাওয়া দিচ্ছে। তাতে চুলগুলো এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে মুখের উপরে। এই হাওয়াটা যেন তার বহুদিনকার চেনা।

    সুনন্দার চেহারাটা বেশ মার্জিত। রোগা বা মোটা কোনোটাই বলা যায় না। গায়ের রং ফর্সার দিকে। চোখে একটা রিমলেস চশমা পরে সে। তাকে একবার দেখেই হাইস্কুলের নতুন বহাল হওয়া অংকের দিদিমণি গোছের একটা চেহারার কথা মাথায় আসে। ফিনফিনে গলার আওয়াজ। কথাও বলে থেমে থেমে।

    বাইরে কম্পাউন্ডের উপরে আরও কিছু ফুলের গাছ লাগানো আছে। তার পাশ দিয়ে মাঝে মধ্যেই জমিদারবাড়ির অন্যদিকের বাসিন্দা কিছু লোকজন এদিক থেকে ওদিক চলে যাচ্ছে। কারও কাঁধে গামছা, কারও পরনে। কেউ কেউ দীঘির দিকে যাচ্ছে স্নান করতে। গুনগুন আওয়াজে ভরে আছে জায়গাটা

    আচমকাই সুনন্দার চোখ চলে গেল উত্তরের অন্দরমহলের দিকে। ভারী আশ্চর্য গঠন মহলটার। ঠিক যেন একটা ছোটোখাটো মন্দির। উপরের দিকটা জুড়ে ছড়ানো একটা গম্বুজ। তার চূড়ায় একখণ্ড লাল তেকোণা কাপড় পতাকার মতো এসে পড়েছে। পাশে গজিয়ে ওঠা ঝাঁকড়া খেজুর গাছের পাতা এলিয়ে পড়েছে সেই গম্বুজের উপরে। সামনের দিকে মহলের দরজা। সেই দরজার গায়ে চক দিয়ে কেউ নাম লিখে গেছে। দরজাটা অর্ধেক খোলা থাকায় ভিতরের দিকের ঘন অন্ধকার চোখে পড়ে। সম্ভবত ভিতরে কোনো জানলা বা দরজা খোলা নেই। সামনের ঘাসের জায়গাটার উপরে পায়ে চলা রাস্তা নেই। সত্যি জায়গাটা পরিত্যক্ত।

    সিঁড়ির কাছ থেকে পায়ের আওয়াজ পেয়ে এগিয়ে এল দু’জনে। নীলাদ্রি এসে ঢুকল ছাদে। তারপর সুনন্দার দিকে তাকিয়ে বলল, “কি ঘুম ঘুমাচ্ছে গো! ওঠার নাম নেই।

    “ক্লান্ত আছে খুব, রাতে তো জেগেই ছিল।”

    “সে তো বুঝলাম, কিন্তু এভাবে একা রেখে যাওয়া ঠিক হবে না। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে?”

    “বেশ, এবার থেকে নিয়েই আসব।”

    পকেট থেকে সিগারেট বের করে শশাঙ্কের দিকে এগিয়ে দিল নীলাদ্রি। তারপর আবার সুনন্দার দিকে ফিরে বলল, “সব বুঝে-টুঝে নিয়েছ তো? দরকার পড়লেই লোক থাকবে। ভয়ের কিছু নেই।”

    “আপনি থাকবেন না?” জিজ্ঞেস করল শশাঙ্ক।

    “আমার দিন তিনেকের কাজ আছে কলকাতাতে। তাছাড়া কিছু জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে আসতে হবে। ল্যাপটপটা তো রেখেই এসেছি। কিগো, তোমার ভয় করবে নাকি?”

    ভুরু কুঁচকে মুখ বাঁকাল সুনন্দা, “কে যে ভিতু আমার জানা আছে।”

    “না না ইয়ার্কি নয়” নীলাদ্রি মুখে মেকি ভয় আনার চেষ্টা করে, “এ বাড়িতে চার-চারটে মানুষ চার-চারটে দশকে অস্বাভাবিকভাবে মারা গেছে। তার মধ্যে একটা আবার সুইসাইড।”

    “তাই নাকি! সুইসাইডও আছে?” অবাক চোখে শশাঙ্কের দিকে তাকাল সুনন্দা।

    “হ্যাঁ, এটাই লেটেস্ট। বছর দশেক আগে। দড়ি থেকে ঝুলছিল। আপনাদের যে রুমটায় আছেন তার উলটো দিকেরটায় ছিলেন। নলিনী… কি যেন নাম, ঠিক মনে পড়ছে না…”

    “এনাদের কোনো জ্ঞাতির কেউ?”

    “একেবারেই না। সরকার বাহাদুরের লোক, হ্যাঁ, মনে পড়েছে— নলিনী ঘোষ। মজার কথা হল এই যে চারজন মারা গেছেন তাদের কেউই এদের বংশের সঙ্গে যুক্ত নয়। হয় বাইরে থেকে আসা অতিথি না হলে ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার, এইসব।”

    “বেশ, তিনজনের কথা জানলাম। ফার্স্ট, সেকেন্ড আর ফোরথ, বাকি একজন?”

    শশাঙ্ক কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। নীলাদ্রি বাধা দিল তাকে। তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “মরা লোকেদের কথা পরে জানবে না হয়। আপাতত নিচে একজন জীবিত বসে আছেন। তার সঙ্গে দেখা করে আসা দরকার।”

    “কে?”

    “জানি না। নাম বলল সনাতন।”

    সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল শশাঙ্ক, “সনাতনদা এসেছেন। আপনারা নিচে আসুন। আলাপ করিয়ে দি। বাকি সব ওঁর থেকেই জানতে পারবেন। ভারী কর্মঠ লোক। তবে মাথাটা ইদানীং বুঝি একটু খারাপ হয়েছে।”

    দোতলার বাইরের বেঞ্চে বসেছিল সনাতন। লোকটাকে দেখে প্রথম দর্শনে বাঙালি বলে মনেই হয় না। মাথা আর গাল ভর্তি সাদা দাড়ি। মোটাসোটা শক্ত গড়ন। হাতে রোঁয়া ওঠা লাল তাগা বাঁধা। পরনে একটা পাট করে পড়া খাটো ধুতি আর ফতুয়া। এটুকু বাদ দিলে শৌখিনতার তেমন কোনো চিহ্ন নেই শরীরে। খানিকটা ঝুঁকে থাকেন সবসময়। সুনন্দার মনে হল লোকটার সঙ্গে ছবি বিশ্বাসের মিল আছে কোথাও।

    নীলাদ্রিদের দেখেই দুটো হাত জড়ো করে তুলে ধরল সনাতন। তারপর সেরকম গম্ভীর মুখে একবার সুনন্দার দিকে তাকিয়ে আবার চোখে ফিরিয়ে নিল। বোঝা গেল বেশি কথাবার্তার লোক নয় সনাতন।

    “আপনাদের নন-ভেজে আপত্তি নেই তো?” নীলাদ্রির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল শশাঙ্ক।

    “উঁহু, সেটাই প্রেফার করি বরঞ্চ।”

    “বেশ, তাহলে সনাতনদাকে নিয়ে অভিযোগ থাকবে না। শুধু ঝালটা একটু বেশি হয়। সেটা সহ্য করে নিতে হবে। অনুরোধ করে লাভ হবে না। ওল্ড হ্যাবিটস… হেঁ হেঁ…”

    “আপনারা যা বলবেন তেমনই করে দেব।” ঘরঘরে গলায় কথাগুলো বলে জামার হাতায় ঘাম মুছল সনাতন।

    “আজ রাতে যা খাবেন এখনই বলে দিন। বিকেলের চা-টা আমি আলাদা করে পাঠিয়ে দেব।” শশাঙ্ক বলল।

    “না না, আজ রাতে আমরা একটু বাইরে বেরিয়ে খাব ঠিক করেছি। কাল সকালে তো ও চলে যাবে।” সুনন্দা সনাতনের দিকে তাকাল।

    “চকদিঘীতে বাইরে খাবার মতো কিছু পেলে হয়। ঠিক শহর তো আর নয়। যাই হোক, কাল থেকেই শুরু হবে না হয়। আর মধুদা… মধুদা মহলে নেই সনাতনদা?”

    “ছিল তো আসবে একটু পরে।” আগের মতোই কাটাকাটা উচ্চারণে কথাগুলো বলে সনাতন। তারপর আবার বসে পড়ে বেঞ্চের উপরে। লোকটার চোখের মণি দুটো কি আশ্চর্য রকম স্থির! মনে হয় বুকের ভিতরে রক্তের বদলে খানিকটা বরফ জমাট বেঁধে আছে।

    “যাই, আমি আবার একটু দেখে আসি তেনাকে পাওয়া যায় কিনা। আপনারা জিরিয়ে নিন।” কথাগুলো বলতে বলতে বাইরের দিকে পা বাড়ায় শশাঙ্ক।

    সনাতনের পাশে বসে পড়ে নীলাদ্রি। খোশগল্প করতে থাকে।

    বারান্দার উপরে খোলা ছাদ দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে সনাতন। প্রশ্ন করলে মাঝে মাঝে মুখ খুলে উত্তর দিয়ে আবার চুপ করে যাচ্ছে। সুনন্দা একবার তাকে আপাদমস্তক দেখে ভিতরের দিকে ঢুকে আসে। ওপাশের ঘরটার চাবি রেখে গেছে শশাঙ্ক। কিন্তু খুলে দিয়ে যায়নি। সেটা একবার খুলতে হবে। টেবিলের উপর থেকে চাবিটা নিতে গিয়েই থমকে যায় সুনন্দা। এতক্ষণে বিছানার উপরে উঠে বসেছে তুলি। খোলা জানলা দিয়ে উত্তরের অন্দরমহলের দিকে চেয়ে কি যেন দেখছে।

    “তুমি উঠে পড়েছ?” নরম গলায় প্রশ্ন করল সুনন্দা। তারপর এগিয়ে গেল বিছানার দিকে।

    তুলি একবার মুখ ফিরিয়েই আবার জানালার দিকে দৃষ্টি সরিয়ে নিল। কোনো কারণে একটু চমকে গেছে যেন সে।

    নিচু অস্পষ্ট স্বরে প্রশ্ন করল, “তোমরা আমাকে ডাকছিলে?”

    “আমরা? নাতো।” অবাক হয়ে যায় সুনন্দা, “আমি তো উপরে ছিলাম। অবশ্য নীলাদ্রি যদি এ ঘরে এসে…

    “এ ঘর থেকে না।” কথা শেষ হবার আগেই বলে ওঠে তুলি।

    “তাহলে কোথা থেকে?”

    ডানহাতটা তুলে জানলা দিয়ে দূরের ঝোপে ঢাকা পুরনো অন্দরমহলটা দেখিয়ে দেয় তুলি, “কাছে যেতে বলছিল, ওখান থেকে।”

    দু-এক পা এগিয়ে জানালার কাছে সরে আসে সুনন্দা। একটা ঠান্ডা স্রোত তার বুকের মাঝে পুরানো ভয়টা আবার ফিরিয়ে আনে।

    কাঠগোলাপ গাছটার ফাঁক দিয়ে শতাব্দী প্রাচীন অন্দরমহল মাকড়সার ঝুলে ঢেকে একবুক নিশ্ছিদ্র অন্ধকার নিয়ে পড়ে আছে। তার সামনেটা এখন ফাঁকা….

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article হেঁটে যাই জনমভর – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সায়ক আমান

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }