Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প344 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তার চোখের তারায় – ৫

    পঞ্চম অধ্যায়

    “আসুন মিস সান্যাল। আলাপ করিয়ে দি, ইনি হলেন ক্ষেত্রমোহন সেন। আর ওঁর স্ত্রী গিরিজা। আর অতীন… তাকে দেখচি না…”

    একটা কৃত্রিম হাসি মুখে ঝুলিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে আসে সুনন্দা। তুলি একটু আগেই এসে ঢুকেছে। সে ছাড়া ঘরে পঞ্চম ব্যক্তি যিনি উপস্থিত আছেন তিনি শশাঙ্ক পালিত। ক্ষেত্রমোহন সেন এই জমিদারবাড়ির আর এক আবাসিক। এখানে আছেন তাও বছর দশেক হতে চলল। এনার কোনো এক পূর্বপুরুষ সহদেব দত্ত এবং লীলাবতী দত্তের আমলে এবাড়ির নায়েব ছিলেন। পরে সেই নায়েবের সাথেই জমিদারবাড়ির কারও বিয়ে হয়। ফলে একরকমভাবে ইনিও এই দত্তবংশেরই রক্ত বহন করছেন। সে প্রজন্ম শেষ হতে আর নায়েব রাখা হয়নি এ বাড়িতে। জমিদারী তখন থেকেই পড়ে আসতে শুরু করে।

    গিরিজা বলে মহিলাটিকে এখনও দেখতে পায়নি সুনন্দা। বিছানার উপরে একটা চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন তিনি। সুনন্দা তার দিকে তাকিয়ে একবার নমস্কার করেছিল। মহিলা কুতকুতে চোখে তাকে আপাদমস্তক জরিপ করে আবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যেই সুনন্দা বুঝেছে সে এখানে আসায় যেকোনো কারণেই হোক খুশি হননি গিরিজা সেন।

    “আমার স্ত্রী আসলে একটু অসুস্থ।” গিরিজার দিকে একবার তাকিয়ে সামাল দেবার চেষ্টা করলেন ক্ষেত্রমোহন, “লোকজনের সঙ্গে তেমন একটা মিশতে চায় না। অতীন… ও অতীন… একবার এদিকে শোন্ বাবা।”

    অতীন যার নাম সে ভিতরের ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এল। সম্ভবত ক্ষেত্রমোহন-এর ছেলে। এর চেহারাটা খাপছাড়া রকম পরিপাটি। মাথার চুল মেপে বাঁদিকে সিতে করে সাজানো। এমনভাবে আজকালকার ছেলেমেয়েরা আর চুল আঁচড়ায় না। পরনে একটা হাফ প্যান্ট আর স্যান্ডো গেঞ্জি। বয়সে চোদ্দ কি পনেরোর বেশি হবে না। ঘরের বাইরে এসে সে সটান বাপের মুখে দিকে চেয়ে দাঁড়াল।

    “মাকে সকালের ট্যাবলেট দিয়েছিলি?”

    “দিয়েছিলাম।” কাটা কাটা উত্তর।

    “তিরিশ এমজি তো?”

    “হ্যাঁ। মেপে দিয়েছি।”

    “বেশ করেছিস। আজ রাতে আর দিতে হবে না।”

    ঘাড় নেড়ে আবার ঘরের ভিতরে ঢুকে গেল অতীন। ক্ষেত্রমোহন সুনন্দার দিকে চেয়ে বলল, “চলুন আমরা বাইরে গিয়ে কথা বলি। ও আবার বেশি আওয়াজ পছন্দ করে না।”

    “হ্যাঁ সেই ভালো।” কথাটা বলে বাইরের দিকে পা বাড়াল শশাঙ্ক।

    আজ সকালেই দক্ষিণের প্রাসাদটা দেখে এসেছে সুনন্দা। আলাদা করে কিছু চোখে পড়েনি। উত্তরের প্রাসাদের সঙ্গে এর তেমন একটা কিছু পার্থক্য নেই। দু-একটা ঘরে লোকজন আছে। তারা কে, জমিদারবাড়ির সঙ্গে কীসের সম্পর্ক সেসব আর জিজ্ঞেস করেনি সুনন্দা। লোকগুলো এগিয়ে এসে আলাপ করার মতো নয়। দুটো প্রাসাদের মাঝে মিটার খানেকের একটা রাস্তা রাখা হয়েছে। সেখান দিয়ে পিছনে অন্দরমহল আর দীঘির দিকে যাওয়া যায়। উত্তরের অন্দরমহল আর তার আশেপাশের ঝোপঝাড়ে ছেয়ে যাওয়া জায়গাটাকে একটা কাঠের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। সেই বেড়ার বাইরে থেকে ভিতরে চোখ রেখে একটা ফুট পাঁচেক লম্বা খরিশের খোলস দেখতে পেয়েছে সুনন্দা। দেখেই বুকের ভিতরটা আটকে উঠেছে তার। সরু শুকনো ডালপালার ‘আড়ালেই কোথাও এখনও লুকিয়ে আছে হয়তো সাপটা। ইচ্ছা হলে বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাইরেও বেরিয়ে আসতে পারে সে।

    মনটা সেদিক থেকে ফেরায় সুনন্দা, কিছু একটা বলছেন ক্ষেত্রমোহন, “আমার বৌয়ের ব্যবহারে কিছু মনে করবেন না প্লিজ। আসলে আমার এখানে থাকাটা ওর পছন্দ নয়।”

    “পছন্দ নয় কেন?” সুনন্দা আগ্রহ দেখানোর চেষ্টা করে।

    ক্ষেত্রমোহন ভুরু দুটো কপালের বেশ খানিকটা নিচ অবধি নামিয়ে আনেন, “আসলে আমি একটু ভ্যাগাবন্ড টাইপের ছিলাম। সংসার-টংসার নিয়ে অত মাথা ব্যথা ছিল না। বিয়ে করি বেশ দামড়া বয়সে। দোকানে হেল্পারের কাজ করেছি, ড্রাইভারি করেছি এমনকি খাবার-দাবারের দোকানও দিয়েছি কিছুদিন। বিয়ের পর থেকে গিরিজার শখ ছিল নিজেদের একটা ফ্ল্যাট কিনে কলকাতায় থাকা। সে আর হল কই? এখন ভরসা বলতে একমাত্র ওই ছেলে। বাপের পয়সা নেই, কিন্তু অতীন বেশ ব্রাইট স্টুডেন্ট।”

    প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এসে মাঝের রাস্তাটা দিয়ে হাঁটতে লাগল তিনজনে তুলি আপাতত মালতীর সঙ্গে ফুল দেখছে। এখানে এসে থেকে একবারও মা-বাবার কথা বলেনি মেয়েটা। আজ সকালেই যোগেন্দ্র নাথ ফোন করেছিলেন। তুলির খবর নিচ্ছিলেন। সুনন্দার কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা সেটাও জিজ্ঞেস করলেন। সুনন্দা জানিয়ে দিয়েছে বেশ ভালোই আছে সে। আর তুলির মতো মিশুকে ভালো মেয়েও আর হয় না। কাল আর আজ একবারও শরীর খারাপ করেনি। শুধু মাঝে মধ্যে একদম কথা শুনতে চায় না।

    অন্দরমহলের সীমানা পেরিয়ে আবার একটুখানি ঝোপঝাড় পড়ে। সেটার দিকে এগোতেই একটা কুয়ো চোখে পড়ল সুনন্দার। তবে এর উপরে গাছপালা গজিয়ে গেছে। চারপাশেও পুরু ঘাসের আস্তরণ। সম্ভবত আর ব্যবহার হয় না সেটা। সেদিকে আঙুল দেখিয়ে সুনন্দা জিজ্ঞেস করল, “এটা কি শুকনো?”

    শশাঙ্কই উত্তর দিল, “তা আজ বহুকাল হল এরকমই পড়ে আছে। আমাদের ব্যবহারের কুয়োটা সামনের দিকে।”

    সুনন্দা মনে মনে একটা সময় কল্পনা করার চেষ্টা করল। চারপাশের ঘাসগুলো হয়তো ছিল না তখন। সিমেন্টের চাতালটা ভেঙে পড়েনি। ওপাশের অন্দরমহলের ঝকঝকে গম্বুজে সূর্যের আলো ঠিকরে পড়ত। বাইরের ঘরে বসে গড়গড়া টানতেন ভূপতি দত্ত। তাজা তামাকের গন্ধে ভরে থাকত চারপাশটা। বাড়ির মেয়ে-বৌ এসে কুয়ো থেকে বালতি নামিয়ে জল তুলত। গমগম করত জায়গাটা।

    কুয়োর পাশটা এখন আগাছায় ভরে গেছে। একটা সিমেন্টের স্ল্যাব দিয়ে ঢাকা আছে সেটা। স্ল্যাব আর কুয়োর মুখের মাঝে যেটুকু ফাঁক ছিল সেটা ঢেকে গেছে শ্যাওলার আস্তরণে।

    ঝোপটা পেরিয়ে আসতেই বিশাল চোখ জুড়ানো দীঘিটা দেখতে পেল সুনন্দা। জমিদারবাড়ির গোটা পিছন দিকটা ছাড়িয়ে আরও বেশ কিছুদূর এগিয়ে গেছে সেটা। ওপারে তাকালে ছোটখাটো কয়েকটা কুঁড়ে ঘর চোখে পড়ে।

    দীঘির জলে এখন পড়ন্ত বিকেলের রোদ পড়ে এসেছে। একটু আগের খেয়ালটা আবার ফিরে এল সুনন্দার মাথায়। কুড়িজন গুপ্তঘাতকের শরীর ভেসে উঠেছে দীঘির জলে। আর ওরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে ঠিক সেইখানে অসহায় মুখে দাঁড়িয়ে আছে কন্দর্প দত্ত… আর সেই নারীমূর্তি।

    খোলা জলের উপরে দিয়ে হাওয়া বয়ে এসে সুনন্দার খোলা চুল উড়িয়ে দিচ্ছিল। সেগুলো বাঁধতে বাঁধতে সে বলল, “এ বাড়িতে একসময় ডাকাত পড়েছিল শুনেছি।”

    শশাঙ্ক হাসল, “মধুবাবু বলেছেন তো? আরে লোকটার ওই এক দোষ গাকে পাবে ধরে ধরে ইতিহাস শোনাবে।

    “দোষ কেন? আমরাই তো জানতে চেয়েছিলাম। ছোটোখাটো একটা মার্ডার মিস্ট্রি বলা যায়।”

    “সেইসঙ্গে রিভেঞ্জ ড্রামা।” ক্ষেত্রমোহন বলে উঠলেন, “দিনু রায়ের ব্যাপারটা শুনেছেন তো?”

    মাথা নাড়ে সুনন্দা। তারপর দীঘির ধার ঘেঁষে হাঁটতে শুরু করে, “মার্ডার মিস্ট্রি বললেন বলে মনে পড়ল, সে মিস্ট্রি কিন্তু এখনও সল্ভড হয়নি।”

    “কেন?” অবাক হল শশাঙ্ক।

    “দিনু রায়ের মেয়েটাকে কে খুন করেছিল সেটা এখনও জানা যায়নি। মানে দিনু রায় সন্দেহ করেছিলেন যে জমিদারবাড়ির থেকেই কেউ, কিন্তু তারপর তো আর কিছু জানা গেল না।”

    শশাঙ্ক কিছু বলতে যাচ্ছিল, ক্ষেত্রমোহন তার আগেই বললেন, “সন্দেহ খুব একটা অমূলক ছিল না মনে হয়। সে আমলে জমিদাররা অত পুলিশ টুলিশের ধার ধারত না। জমিদারবাবুর মেয়েটাকে পছন্দ হয়নি, চাণক্য ঝোলাঝুলি করছে। ব্যাস! একটা মেয়েকে তুলে এনে খুন করতে কতক্ষণ লাগে?”

    “সেসব ঠিকই আছে, কিন্তু মেয়েটাকে বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গেছিল, আর লাশ গুম করাটাও ভূপতি বা নৃপতি দত্তের কাছে বড় ব্যাপার ছিল না। যার উপরে আমার রাগ তাকে খুন করে নিজের বাড়ির দরজায় তার লাশ বেঁধে রাখব কেন আমি? উঁহু… লাশের বিবরণ শুনে মনে হচ্ছে কেউ যেন জোর গলায় বলতে চেয়েছে, দেখ একটা খুন হয়েছে। বুঝতেই পারছ কে খুন করেছে…।”

    “তাহলে আপনি বলছেন ভূপতি দত্তকে ফাঁসানো হয়েছিল?” শশাঙ্ক জিজ্ঞেস করল।

    “কাকে ফাঁসানো হয়েছে বলা মুশকিল। তবে দিনু রায়ের আগেও জমিদারবাড়ির চরম শত্রু ছিল কেউ সেটা বোঝা যাচ্ছে।”

    “সেটাও অস্বাভাবিক না। জমিদারদের বন্ধুর থেকে শত্রুই বেশি থাকত। “ বেশ খানিকক্ষণ কোনো কথা বলল না কেউ। দীঘির জল পাথরে বাধানো পাড়ে এসে লেগে ছলাৎ ছলাৎ আওয়াজ আসছে। দু-একটা মাছ জলের উপর মুখ বাড়িয়ে কয়েক সেকেন্ডের জন্যে কি যেন দেখেই আবার তির বেগে ডুব দিচ্ছে ভিতরে। এতক্ষণ কিছু একটা ভাবছিল সুনন্দা। মুখ ফিরিয়ে বলল,

    “আচ্ছা এই ডাকাতিটা ঠিক কোন সময় নাগাদ হয়েছিল বলুন তো?”

    “আপনি তো রীতিমতো গোয়েন্দার মতো প্রশ্ন করছেন।” কথাটা বলে কৌতুকে হেসে উঠলেন ক্ষেত্রমোহন। একটা লজ্জার রেশ ছড়িয়ে পড়ল সুনন্দার মুখে, “আসলে এখানে তেমন কিছু করার নেই তো, রান্নাবান্নাও সনাতনদা করে দেন। ফলে এইসব নিয়েই ভাবি সারাদিন।”

    “বেশ, তো ভাবুন না। আমি আপনাকে একটা টাইমলাইন দিয়ে দিচ্ছি। ভাবতে সুবিধা হবে। সালগুলো যদিও একেবারেই আন্দাজে… তাও…”

    শশাঙ্ক বুক পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে সুনন্দার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “সকালের ফর্দর পিছন দিকটা ফাঁকা আছে। লিখে নিন ইচ্ছা হলে।” পেন সমেত কাগজটা হাতে নিয়ে দীঘির পাড়েই বসে পড়ল সুনন্দা। ক্ষেত্রমোহন বসলেন তার পাশে। শশাঙ্ক একটু দূরে ঘাসের উপরেই দাঁড়িয়ে হাওয়া খেতে লাগল।

    খানিকটা হিসেব করে নিয়ে বলতে শুরু করলেন ক্ষেত্রমোহন

    “এই বাড়িটা কবে তৈরি তা আন্দাজেও বলা সম্ভব না। তবে ভূপতি দত্তের বাবা এটা ব্রিটিশ সরকারের থেকে লিখিয়ে নেন সম্ভবত ১৭৭০ নাগাদ। এবং তার পর থেকেই থাকতে শুরু করেন। তার বড় ছেলের নাম জানা যায় না। ধরে নিন তিনি জন্মেছিলেন সত্তরের আশেপাশেই।”

    সাদা কাগজে ছোট ছোট করে লেখে সুনন্দা – আননোন; ১৭৭০।

    “তার পাঁচবছর পর অর্থাৎ ১৭৭৫-এ ভূপতি, ১৭৮০ তে সন্ধ্যারানি ও ছোট ছেলে নৃপতি ১৭৮৫ নাগাদ। আবার বলছি সংখ্যাগুলো আন্দাজে আর দুই ভাইবোনের মধ্যে পাঁচবছরের ফাঁক রেখে।”

    মাথা নাড়ে সুনন্দা। সত্যিকারের সাল তারিখ এখন আর পাওয়া সম্ভব নয়।

    “বড় ছেলে যার নাম জানা যায় না সে মারা যায় কম বয়সে। ধরে নিন ১৭৯০ এর কাছাকাছি। ভূপতি জমিদারী সামলাতে সামলাতে প্রথমবার বিয়ে করেন একটু তাড়াতাড়ি, ধরা যাক ১৮০৩। প্রথম স্ত্রী মারা যান একবছরের মধ্যে। তারপর আবার বিয়ে করেন ১৮০৪-এ ধরে নিন। কন্দর্পের জন্ম তাহলে দাঁড়াচ্ছে ১৮০৫-এর কাছাকাছি।

    ভূপতির বোন সন্ধ্যারানির বিয়ে হয় কম বয়সে ১৮০২-১৮০৩ এর মধ্যে হয়তো দু’বছর পর তার প্রথম সন্তান হয়— লীলাবতী, তার গায়ে গায়েই সহদেব।”

    হাত দেখিয়ে ক্ষেত্রমোহনকে একটু থামতে বলল সুনন্দা। মানে লীলাবতী জন্মাচ্ছে ১৮০৫ এর কাছাকাছি। ঠিক যে বছর মারা যায় মসক্রপ নামের সেই মেয়েটি। কাগজের উপরে কী যেন লিখল সুনন্দা। ভুরু দু’টো আশ্চর্য রকম কুঁচকে আছে তার। প্রায় মিনিট খানেক পর শব্দ ফুটল মুখে, “তারপর?”

    নৃপতির বিয়ে হচ্ছে তাহলে ১৮১০। তার ছেলেমেয়ে হয়নি বলে দত্তক নেন তিনি চাণক্যকে। চাণক্যর জন্ম তাহলে ধরে নিন আঠেরোশো দশের আশেপাশে। তার প্রেমে পড়ার মতো বয়স হতে আরও বছর কুড়ি নিয়ে নিন— ১৮৩০। এই হল আপনার প্রশ্নের উত্তর— জমিদারবাড়িতে ডাকাতি ঘটে ১৮৩০। তখন ভূপতির বয়স ৫৫, সন্ধারানি ৫০, নৃপতি ৪৫, কন্দৰ্প ২৫, লীলাবতী ও সহদেব প্রায় ২৫।

    পিছন থেকে এবার সামনের দিকে সরে আসে শশাঙ্ক। পাড়ের উপরে উবু হয়ে বসে পড়ে বলে, “কিছু বুঝলেন? “

    সুনন্দার মুখ থেকে চিন্তার মেঘ কেটে যায়, “বোঝার আর কি আছে। আমার আসলে কৌতূহল হচ্ছিল একটু।” নারীমূর্তির কথা ইচ্ছা করেই চেপে গেল সে।

    “আপনার কৌতূহল কোথা থেকে হচ্ছে সেটা কিন্তু আমি জানি। সেদিন যেভাবে মৃত্যুগুলোর কথা জিজ্ঞেস করছিলেন….”

    “তার সঙ্গে এইসব জমিদারী ইতিহাসের সম্পর্ক আছে বলছেন?” কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করে সুনন্দা।

    “মে বি অর মে নট বি। কে বলতে পারে এই বাড়ির কোনো গোপন কুঠুরিতে হয়তো শুভ অশুভ এমন কিছু আছে যা এর আগেও মানুষ খুন করেছে।” গলায় রহস্য আনার চেষ্টা করে শশাঙ্ক।

    “তা বলতে পারব না। তবে আমার একটা কথা মনে হচ্ছে এখানে আসার পর থেকে।”

    “কী কথা?” দুজনে প্রায় একসঙ্গে জিজ্ঞেস করল।

    পাড়ের উপরেই উঠে দাঁড়ায় সুনন্দা। তারপর দীঘির জলের উপর চোখ নিবদ্ধ রেখে বলে, “খুনের কথা জানি না। তবে মনে হয় এই দীর্ঘ আড়াইশো বছরের সাক্ষী হয়ে আছে কেউ। এই এত কান্না, শোক, মৃত্যু, উৎসব, যন্ত্রণা— কেউ দেওয়ালের আড়ালে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। কালের প্রবাহে বয়ে যাওয়া দুই শতাব্দীর গোপন ইতিহাস ধরা আছে তার চোখের তারায়। আজও আগের মতোই দেখে চলেছে সে। এখনও…”

    বিরাট প্রাসাদগুলোর দিকে ফিরে কিছু একটা কথা বলতে যাচ্ছিল সুনন্দা। কিন্তু সে থেমে যায়। প্রাসাদের দিক থেকে মালতীকে দৌড়ে আসতে দেখা যায়। তার হাবেভাবে একটা অদম্য উত্তেজনা খেলা করছে। এক মুহূর্তের জন্যে সুনন্দার বুক কেঁপে ওঠে। দ্রুত পায়ে সে দীঘির পাড় ফেলে এগিয়ে যায়।

    প্রায় দৌড়ে কাছাকাছি চলে আসে মালতী। সুনন্দার দিকে তাকিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, “তুলিদিদির শরীর খারাপ করেছে। শ্বাস আটকে যাচ্ছে, শিগগির চলুন।”

    আর কোনো কথা শোনার জন্যে দাঁড়ায় না সুনন্দা। দ্রুত পায়ে দৌড় দেয় দক্ষিণের অন্দরমহলের দিকে। একটু আগে সেখানেই শশাঙ্কর ঘরে গিয়েছিল তুলি। ভিতরে মধুবাবু আর সনাতন ছিল। তার মধ্যেই কি হয়েছে তুলির? ভাবতেই সুনন্দার বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল।

    শশাঙ্কের ঘরের দরজায় গিয়ে দু-তিনজন অচেনা লোককে চোখে পড়ল। এরাও হয়তো এই মহলেই থাকেন। কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে শুনে দৌড়ে এসেছেন।

    সবাইকে সরিয়ে বিছানার উপর ঝুঁকে পড়ল সুনন্দা। একটা বালিশের উপরে শুয়ে আছে তুলি। তার চোখ দুটো এখন খোলা। বুকটা মৃদু ওঠা-নামা করছে। বালিশের ঠিক পাশেই পড়ে আছে ইনহেলারটা। সারাক্ষণ সেটা তুলির পকেটেই থাকে।

    সুনন্দাকে আসতে দেখে তার দিকে একবার মুখ ফেরাল তুলি। তার মুখে কোনো অভিব্যক্তি ফুটল না। গোটা মুখ লাল রঙে ভরে গেছে। একটু একটু করে যেন ফ্যাকাসে হচ্ছে চামড়াটা।

    “এখন ঠিক লাগছে মা?” তুলির কপালে একটা হাত রেখে নিচু গলায়- জিজ্ঞেস করল সুনন্দা।

    কয়েক সেকেণ্ড পরে উপরে নিচে মাথা নাড়াল তুলি। তারপর আবার মুখ ফিরিয়ে বা পাশের জানালাটার দিকে তাকাল।

    “ভাগ্যিস ঘরে খুরাম ছিল।” মাটির উপরে বসে থাকা একটা মাঝবয়সী ছেলের দিকে চেয়ে বলল মালতী।

    ছেলেটা হালকা মাথা নাড়াল, “আমি তো পে… হিসি করতে গেছিলাম বাইরে… এসে দেখি…”

    সুনন্দা লক্ষ করল ছেলেটার বয়স বেশ কম। সম্ভবত এ বাড়ির কোনো শরীকের ছেলেপুলে হবে। সে খুরামের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “এসে কী দেখলে?”

    খুরাম ধীরে ধীরে উচ্চারণ করল, “দেখি দিদি খুব হাত পা ছুঁড়ছে। আর শ্বাস নিতে পারছে না।”

    মুখ ঘুরিয়ে নিল সুনন্দা। তারপর আবার তুলির কানের কাছে মুখ এনে বলল, “কী হয়েছিল তুলি? ভয় পেয়েছিলে?”

    এই মুহূর্তে তুলি যেন অনেকটা পালটে গেছে। তার চোখ মুখ আশ্চর্যরকম স্থির, ঠোঁট দুটো শুধু কেঁপে উঠছে মাঝে মাঝে। সেই রকম কাঁপাকাঁপা ঠোঁটেই আলতো করে উচ্চারণ করেছিল সে, “একজন এসেছিল। চলে গেছে।”

    “কে এসেছিল?” উদ্বিগ্ন গলায় প্রশ্ন করে সুনন্দা।

    “একটা মেয়ে। মুখ দেখতে পাইনি। মুখ ঢাকা ছিল।”

    ‘কী বলছিল সে?”

    এ প্রশ্নের আর উত্তর দেয় না তুলি।

    সুনন্দা খুরামের দিকে তাকাতে সে অর্থবহ মাথা নাড়ায়।

    সুনন্দা তাকিয়ে দেখে শশাঙ্ক আর ক্ষেত্রমোহন এসে দাঁড়িয়েছে দরজায়। তাদের ভিতরে আসতে ইশারা করে তুলির মাথায় আর একবার হাত রেখে বাইরে বেরিয়ে আসে সুনন্দা।

    পায়েলকে এতক্ষণে চোখে পড়ে তার। স্নান খাওয়া সেরে উত্তরের প্রাসাদের দিক থেকে এদিকে আসছে সে। সুনন্দাকে দেখে একটু থমকে দাঁড়ায়। তারপর অন্দরমহলের দিকে একবার উঁকি মেরে দেখে বলে, “কি হয়েছে গো? এত লোক কেন?”

    “তুলির শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।” মুখ নামিয়ে বলে সুনন্দা।

    “শ্বাসকষ্ট! এমনি, এমনি?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে পায়েল।

    “নাঃ, কেউ এসেছিল ওর ঘরে।”

    “সে আসতেই পারে, তার জন্যে শ্বাসকষ্ট হবে কেন?”

    “একটি মেয়ে… তার মুখ কাপড়ে ঢাকা ছিল। খুরাম ঘরে ঢুকে দেখতে পাানি তাকে।”

    তীক্ষ্ণ চোখে সুনন্দার দিকে তাকায় পায়েল, “কাপড়ে মুখ ঢাকা মেয়ে….! এটা তো…”

    “জানি” পায়েলের কথা শেষ হওয়ার আগেই তাকে থামিয়ে দেয় সুনন্দা, কাল আমরা এখানে আসার পরেই তুলিকে কেউ ডেকেছিল। উত্তরের অন্দরমহলের দিক থেকে। আমার মনে হয় দু’জন একই।”

    “দিস ইস টারনিং টু স্পুকি। ভূতের গল্প মনে হচ্ছে।”

    সুনন্দা এতক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে ছিল। এবার সে পায়েলের চোখে চোখ রেখে বলল, “ভূত হোক বা অন্য কিছু। আমি তাকে ছেড়ে দেব না। আজ ওর কিছু একটা হয়ে গেলে…” আচমকাই সুনন্দার চোয়াল শক্ত হয়ে উrঠছে। মুখের শিরাগুলোয় রং ধরতে শুরু করেছে আস্তে আস্তে। সেটা দেখে এক মুহূর্তের জন্যে ভয় লাগে পায়েলের। দ্রুত সুনন্দার একটা হাত ধরে ফেলে সে বলে, “তুমি একটু শান্ত হও। এরকমও তো হতে পারে যে ও ভুল দেখেছে, বা ঘুমের ঘোরে দেখেছে। হাজার হোক ও একটা বাচ্চা মেয়ে।”

    “হ্যাঁ। বাচ্চা, একদম রিন্টির মতো।” আগের মতো শক্ত গলাতেই কথাটা বঙ্গল সুনন্দা।

    “রিন্টি কে?” নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল পায়েল।

    “আমার মেয়ে। বেঁচে নেই।”

    “ওঃ সরি… আসলে…’

    “জাস্ট শাট আপ।“

    এতক্ষণে সুনন্দার গলার কঠিন ভাব মুছে গিয়ে একটা চাপা কান্নার রেশ ফুটে ওঠে, “আট বছর বয়স ছিল রিন্টির। বাবার হাত ধরে সকালের বাজার করতে গেছিল। তখনও ভালো করে ভোরের আলো ফোটেনি। রাস্তার উলটোদিক দিক থেকে এসে একটা গাড়ি ধাক্কা মারে ওদের। নীলাদ্রি একটু দূরে ছিটকে পড়ে। রিন্টিকে চাপা দিয়ে চলে যায় গাড়িটা।”

    এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে একটু থামে সুনন্দা। একফোঁটা জল তার চোখ থেকে গড়িয়ে গালের উপরে নেমেছিল। আঁচলের একটা প্রান্ত ধরে সেটা মুছে নিয়ে মুখ তুলে তাকায়।

    পায়েল এতক্ষণ ধরেই ছিল তার হাতটা। এবারে হাতটা কাঁধে রেখে বলে, “তোমাকে একটা কথা বলা হয়নি, জানো?”

    “কী কথা?” ধরা গলায় জিজ্ঞেস করে সুনন্দা।

    “টেবিলটা খুঁজে পেয়েছি আমি।”

    “মানে সেই ছবির টেবিলটা!” পলকের মধ্যে সুনন্দার গলায় একটু আগের উত্তেজনাটা ফিরে আসে।

    “ইয়েস, দ্যাট টেবিল। যে ঘরে নলিনী ঘোষ সুইসাইড করেছিল সেখানেই রাখা ছিল।”

    “ড্রয়ারটা ছিল?”

    “ছিল। কিন্তু তার ভিতরে একটা আয়না ছাড়া কিছু ছিল না।”

    “আয়না! কীরকম আয়না?”

    “সেটা বড় কথা না। আশ্চর্যের ব্যাপার হল অনেক টানাটানির পরেও ড্রয়ারের পুরোটা খোপ থেকে খুলে বেরিয়ে আসছিল না।”

    “তো? তাতে কী হল?”

    “তাতে হল এই যে আমি বুঝতে পারলাম ড্রয়ারের উপরের কাঠে এমন একটা কিছু আটকান আছে যেটা ড্রয়ারের শেষ প্রান্তটাকে খুলে বেরিয়ে আসতে বাধা দিচ্ছে। আয়নাটা আর একবার ওখানে চিত্ত করে রাখতেই ড্রয়ারের উপরের দিকের কাঠটা দেখতে পেলাম।”

    “কী ছিল সেখানে? “

    “ইয়েস। কী ছিল ওখানে।”

    পাকেট থেকে একটা পুরনো মরচে ধরা বড়সড় চাবি বের করে দেখাল পায়েল। তারপর চারপাশটা একবার ভালো করে দেখে নিয়ে বলল, “একবার এদিকে এসো তো।”

    “কোথায়?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল সুনন্দা।

    “ওই কুয়োটার কাছে।”

    “কিন্তু কেন?”

    সুনন্দার কোনো কথা আর শুনল না পায়েল। দ্রুত পায়ে এগোতে লাগল কুয়োটার দিকে। সুনন্দা বুঝল তাকে আর বাধা দিয়ে লাভ নেই। ভারি জেদি

    মেয়েটা। যেটা একবার মাথায় চাপল তো সেই নিয়েই মেতে থাকবে।

    কাছে পৌঁছাতে সুনন্দা বুঝল কুয়োটা সে আগে যতটা ভেবেছিল তার তুলনায় বেশ খানিকটা ছোট। মাটির উপরে একটা মানুষের কোমর সমান উঁচু সেটা। সাবধানে পা ফেলে কাছে যেতে হয়। দু’জনের পায়েই চটি। সাপ না হোক পোকামাকড় কামড়ে দিলেও রক্ষা থাকবে না।

    কুয়োটার সামনে পৌঁছে সেটাকে আর একবার ঘুরে ফিরে দেখল পায়েল। তারপর একবার স্ল্যাবটার উপরে হাত রেখে পিছন ফিরে বলল, “এটাকে সরিয়ে ফেলতে হবে।”

    “কী হবে তাতে?” এবার বেশ বিরক্ত হয় সুনন্দা। মেয়েটা যেন বড্ড বাড়াবাড়ি শুরু করেছে।

    “আহা, শোনোই না আমার কথা।” পায়েল কাতর আবেদন জানানোর চেষ্টা করল।

    “যতক্ষণ না বলছ চাবিটা কীসের ততক্ষণ কিচ্ছু শুনব না।”

    এক পলকে পায়েলের ঠোঁটে একটা শয়তানী হাসি খেলে গেল, “বেশ, সব বলব, কিন্তু তার আগে তোমাকে একটা পাজেলের উত্তর দিতে হবে।”

    “আর ভালো লাগে না… যাক গে, বল কী পাজেল।”

    “পাজেলটা এই স্ল্যাবের নিচে। হাত লাগাও।”

    অগত্যা হাত লাগাল সুনন্দা। স্ল্যাবটা ভীষণ ভারি। সেটা তুলে সরানো দূরের কথা ঠেলে খানিকটা ফাঁক করতেই কালঘাম ছুটে গেল দু’জনের। মাঝে কয়েকবার থেমে দম নিল সুনন্দা। পায়েলের কিন্তু ধৈর্য্যে ঘাটতি নেই। মহামূল্য কিছু রত্ন রাখা আছে যেন স্ল্যাবের নিচে। সরালেই সব জ্বলজ্বল করে উঠবে।

    শেষে ইঞ্চি পাঁচেক ফাঁক হতে সূর্যের আলো সেই অন্ধকারের ভিতরে গিয়ে পড়ল। সেই ফাঁকের ভিতর দিয়ে কিছু একটা দেখার চেষ্টা করল পায়েল। তারপর একপাশে সরে এসে নাটকীয় ভঙ্গীতে বলতে লাগল

    “উনিশশো বিরানব্বই শাল। স্থান এই জমিদারবাড়ি। একটা বছর তিরিশের লোক। হাইট এই ধর তোমার কি আমার মতোই হবে। একদিন সকালে তার ডেডবডি আবিষ্কার করা গেল এই কুয়োর ভিতরে। উপর থেকে পড়ে ঘাড় ভেঙে মারা গেছে সে। কুয়োর পাঁচিলে রাখা ছিল একটা মদের বোতল আর একটা গ্লাস। ভদ্রলোককে শেষ দেখা গেছিল আগের দিন বিকেলে। একটা ব্যাগ নিয়ে দীঘির দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। কী মনে হয়? কীভাবে পড়ে গেল লোকটা?”

    সুনন্দা একটুও না ভেবে বলল, “এত খুব সহজ। মদ খেয়ে মাথার ঠিক ছিল না। কুয়োর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। তেমন উঁচু তো নয়, নিচে পড়ে গেছে।”

    “কিন্তু কেন? লোকটা যদি জানে কুয়োটা পরিত্যক্ত তাহলে কাছে এসে দাঁড়াবে কেন?”

    “কেন?”

    “তুমি কেন এসে দাঁড়ালে?”

    “তুমি ডাকলে বলে।” কথাটা বলেই মাথা নাড়ে সুনন্দা, “না পায়েল। জোর করে ব্যাপারটাকে খুন বলতে চাইছ। তবে একটা জিনিস আমার মাথায় ঢুকছে না।”

    পায়েল কপালের ঘাম মুছে ব্যাগের ভিতর থেকে জলের বোতলটা বের করে এগিয়ে দিল সুনন্দার দিকে, “জল খাও। যা হাওয়া দিচ্ছে, আমারও গলা শুকিয়ে গেছে।”

    বোতলটা হাতে গিয়ে এক ঢোক জল গলায় ঢালল সুনন্দা। সত্যি একটু আগের দৌড়াদৌড়িতে গলা শুকিয়ে গেছে তার।

    দ্বিতীয় ঢোক ঢালতে যাবার আগেই থেমে গেল সুনন্দা। একটা আতঙ্ক মিশ্রিত চিৎকার শোনা গেছে। বোতলটা তার হাতে দিয়ে কুয়োর স্ল্যাবের ফাঁকে চোখ রেখেছিল পায়েল। তার গলা থেকেই বেরিয়ে এসেছে আওয়াজটা। এক ঝটকায় চোখে সরিয়ে নিল সে–“নিচে কিছু একটা আছে।”

    “কী আছে?” সুনন্দার বুকটাও দুরুদুরু করতে শুরু করেছে।

    “জানি না।” খানিকটা পিছিয়ে এল পায়েল। সুনন্দা মনে জোর এনে কুয়োর ফাঁকের কাছাকাছি চোখটা নিয়ে গেল। হাতের বোতলটা পাঁচিলের উপরে রেখে অন্ধকারের ভিতরটা দেখার চেষ্টা করল। নাঃ… সূর্যের আলোর ছটা ভিতরের লতাগুল্মের খানিকটা আলোকিত করে রেখেছে। সেখানে তাকিয়ে স্থির নীরবতা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না।

    মুখ ফিরিয়ে পায়েলের দিকে তাকাল সুনন্দা। অবাক হয়ে গেল। মেয়েটা হাসছে। একটু আগে ভয়ে চিৎকার করে উঠেছিল কিন্তু এখন তার রেশ মাত্ৰ নেই তার মুখে। বরঞ্চ তার বদলে একটা পরিতৃপ্তির হাসি।

    “কী হল? কিছু নেই তো…” হতবাক গলায় বলল সুনন্দা।

    “তুমি বোতলটা খেয়াল কর। কোথায় রেখেছ?”

    বোতলটা এখনও পাঁচিলের উপরে রাখা আছে। একটু আগেই ভিতরটা দেখার সময় সেটা ওখানে রেখেছিল সুনন্দা

    পায়েল আগের মতোই হাসতে হাসতে বলল, “যে লোক কুয়োর ধারে দাঁড়িয়ে মদ খাচ্ছে সে যদি পা পিছলে পড়ে যায় তাহলে তার হাতে ধরা গ্লাসও নিচে গিয়ে পড়বে। গ্লাস পাঁচিলের উপরে কিন্তু লোকটা নিচে মানেই লোকটা পা হড়কে পড়েনি। বরঞ্চ নিচে কিছু একটা চোখে পড়েছিল তার। সেটা দেখতে গিয়েই পা হড়কে যায় বা কেউ ঠেলা মারে পিছন থেকে। আমি সিওর না। তবে এক্ষেত্রে শুধু মদ যে দায়ি নয় সেটা জানি।”

    সুনন্দার মুখ থেকে বিস্ময়ের ভাবটা এখনও কাটেনি। সে কাটা কাটা উচ্চারণে জিজ্ঞেস করল, “কিন্তু নিচে কী দেখেছিল বল তো?”

    “যাই দেখুক না কেন, সেটা আর এখানে নেই।”

    কুয়োটা ছেড়ে আবার প্রাসাদের দিকে হাঁটতে লাগল দু’জনে। একটু আগের মেঘটা এতক্ষণে নিকষ কালো হয়ে এসেছে। দূরে নারকেল আর তালগাছের মাথাগুলোতে ছাই রঙের খেলা শুরু হয়েছে। তিরতির করে ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে একটা।

    “আজ রাতটা মালতীকে বলবে তুলির কাছে থাকতে?”

    “কেন? আমি থাকব না নাকি?”

    “প্লিজ। আমি একা পারব না। বিশ্বাস করো, আমার ভীষণ ভূতের ভয়।”

    “কী পারবে না?” কথাটা জিজ্ঞেস করে থেমে গেল সুনন্দা, পায়েলের দুটো কাঁধ ধরে বেশ জোর গলায় বলল, “এই মেয়ে, খুলে বল তো কী হয়েছে? আর চাবিটাই বা কীসের?”

    “মেটাফোরিকালি বলতে গেলে রহস্যের। আর আক্ষরিকভাবে বলতে গেলে একটা দরজার।”

    “কোন্ দরজার?”

    “এলিজাবেথ মসক্রপের সমাধির। এন্ড উই আর ব্রেকিং দ্যাট টুনাইট।”

    *****

    সন্ধের দিকে আচমকা মেঘ ঘন হয়ে এল। মালতী তড়িঘড়ি গিয়ে রাতের রান্নার জন্যে আনাজ কাটতে বসেছিল। জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে একবার আকাশটা দেখে নিয়েই বঁটি ছেড়ে উঠে পড়ল সে। লাল চাদর গায়ের উপর টেনেছে আকাশটা। একটু পরেই ঝড় শুরু হবে। শনশন্ করে হাওয়া দিচ্ছে। দোতলার জানালাগুলো বন্ধ করতে ছুটল মালতী।

    আজ সন্ধে থেকে তুলিকে সে নিজের কাছেই রেখেছে। সুনন্দা আর পায়েল ঘরের ভিতর ঢুকে কি নিয়ে যেন আলচনা শুরু করেছে। রাতে নাকি সবাইকে না জানিয়ে কোথায় একটা যাবে। তুলি থাকবে মালতীর কাছে। এই এক সমস্যা তার। কেউ জোর করলে সে কিছুতেই না বলতে পারে না।

    এতক্ষণ তুলি বাইরের বারান্দাতে খেলছিল। তাকে আর খেলতে দেওয়া চলবে না। বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডা লাগার ধাত আছে মেয়েটার। মালতী ঘরের জানালাগুলো বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে এসে দেখল বারান্দাটা খালি। তুলি নেই সেখানে।

    “তুলি… এই তুলি….” জোর গলায় তুলিকে ডাকল মালতী। ঝড়ের হাওয়া এতক্ষণে বেড়ে উঠছে। সেটাই বয়ে নিয়ে গেল ডাকটাকে। কারও সাড়া পাওয়া গেল না।

    “কোথায় গেল আবার… উফফ্” শাড়িটা কোমরে গুঁজে দুহাতে দূরে আসা’ ধুলো থেকে চোখ আড়াল করে সিঁড়ির দিকে এগোলো মালতী। মেয়েটা কি তবে নিচে নেমে গেছে?

    কয়েকটা সিঁড়ি নিচে নেমে থেমে গেল মালতী। ঝড়ের মধ্যে আর একটা শব্দ শুনতে পাচ্ছে সে। উপর থেকে আসছে, ছাদের দিক থেকে। কান্নার আওয়াজ তুলির কান্নার আওয়াজ।

    দ্রুত সেদিকে ছুটল মালতী। উপরের সিঁড়ির কাছে পৌঁছে অবাক হল সে। এই সিঁড়ি থেকে নয়, ছাদে ওঠার আর একটা বাঁকানো লোহার সিঁড়ি আছে সেখান থেকে আসছে আওয়াজটা। তবে কি সেটা দিয়ে ছাদে উঠতে গেছিল তুলি?

    লোহার ভাঙা সিঁড়িটার নিচে আসতেই তুলিকে দেখতে পেল মালতী। ভাঙা-জায়গাটা দিয়ে নিচে পড়ে আছে মেয়েটা। আপাতত তার কান্নার শব্দ ফিকে হয়ে এসেছে। এক হাতে নিজের হাঁটুর উপরে হাত বুলাচ্ছে সে। অল্প চিরে গিয়ে রক্ত পড়ছে সেখান থেকে। মালতী দৌড়ে গিয়ে তাকে কোলে তুলে নেয়।

    “কী করছিলে এখানে?” একটা হাত হাঁটুর নিচে রেখে প্রশ্ন করে মালতী। কাটাটা খুব একটা বেশি নয়। তবে মেয়েটা মাথায় আঘাত পেয়েছে নিশ্চয়ই।

    “জামাটা…” চোখের জল মুছতে মুছতে বলে তুলি।

    লোহার সিঁড়িটা যেখানে ছাদের দরজায় গিয়ে মিশেছে সেখানে তাকিয়ে একটু অবাক হয় মালতী। সত্যি একটা জামা আটকে আছে দরজার মাথায়। হয়তো দুপুরে শুকোতে দেওয়া হয়েছিল। কোনো ভাবে ঝড়ে উড়ে এসে আটকেছে দরজার মাথায়। জামাটা নিতেই ছাদের দিকে যাচ্ছিল তুলি। সিঁড়িটা যে মাঝপথে গিয়ে ভেঙে গেছে সেটা সে আগে অন্ধকারে দেখতে পায়নি। ফলে সিঁড়ির ভাঙা ধাপটায় পা রাখতে গিয়ে নিচে এসে পড়েছে।

    “তোমাকে জামাটা কে আনতে বলেছে? বদমাইশ মেয়ে… আমাকে ডাকতে পারোনি?” মৃদু তিরস্কারের গলায় বলে মালতী।

    “ডাকতে গেলে তো জামাটা ও নিয়ে নিত।”

    “কে নিয়ে নিত?” দাঁড়িয়ে পড়ে জিজ্ঞেস করে মালতী।

    তুলি আর কিছু উত্তর দেয় না। মালতী এক মুহূর্তের জন্যে ছাদের দরজার দিকে তাকায়। অনেকক্ষণ আগে মূল সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। এই লোহার সিঁড়ি দিয়ে এ বাড়ির কেউ ছাদে ওঠে না। তবে এদিকের দরজাটা কোনো কারণে খোলাই আছে দেখল। খোলা দরজার দিকে তাকাতেই মালতীর হৃৎপিণ্ড এক সেকেন্ডের জন্যে থেমে যায়। একটা ছায়া— অল্প টিমটিমে আলোতেও বেশ বোঝা যায় কেউ একটা সরে গেল ছাদের দরজা থেকে। এতক্ষণ যেন ওখানে দাঁড়িয়েই লুকিয়ে নজর রেখেছিল ওদের উপরে।

    “কে ওখানে?”

    কেউ সাড়া দেয় না। ঝড়ের শনশন্ শব্দের তেজ আরও বেড়ে ওঠে। তুলিকে নিয়ে সুনন্দার ঘরের দিকে হাঁটতে থাকে মালতী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article হেঁটে যাই জনমভর – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সায়ক আমান

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }