Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প344 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তার চোখের তারায় – ১২

    দ্বাদশ অধ্যায়

    বারান্দায় রাখা ছোট চেয়ারে বসেছিলেন মধুবাবু। মাঝে মাঝে হাতটা তুলে কপালের ঘাম মুছছেন তিনি। বেশ নার্ভাস দেখাচ্ছে তাকে। সামনের চেয়ারে বস কেশব শর্মা আর তার পাশে বসা মুকেশ খাসনবীশ একদৃষ্টে চেয়ে আছেন তার দিকে। এর আগে মধুবাবু পুলিশের জেরার সামনে পড়েননি কোনোদিন। বিশেষ করে বাড়ির সবাইকে ছেড়ে পুলিশ যে কেন তাকে নিয়ে পড়েছে সেটাই বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি।

    “আপনার নাম মধুসূদন বাগ?”

    “আজ্ঞে হ্যাঁ, স্যার।”

    “না না, স্যার ট্যার বলার দরকার নেই।” হাত তুলে বাধা দিলেন কেশর শর্মা, “আমরা একরকম দরকারেই আপনার কাছে ছুটে এসেছি। আপনি সাহায্য না করলে আমাদের ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।”

    “এই খুনের ব্যাপারে আমি আর কী সাহায্য করব বলুন। সবই তো বলেছি আপনাদের। আমি একটু চায়ের খোঁজে রান্নাঘরের দিকে….”

    “এই খুনের ব্যাপারে নয়।” এবার মুকেশ বলে ওঠে, “অন্য একটা খুনের ব্যাপারে সাহায্য দরকার আপনার।

    “কোন খুন?” মুকেশের মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকান মধুবাবু। “ঠিক খুন নয়। শশিভূষণ সরকার আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন একবার প্রায় দশ বছর আগে। মনে আছে?”

    আর একবার কপালের ঘাম মুছে মাথা নাড়লেন মধুবাবু। তারপর ভীরু চোখে তাকালেন শর্মার দিকে, “সেই ভদ্রলোক এখান থেকে ফেরার কয়েক মাসের মধ্যে খুন হন। আমাদের মনে হচ্ছে অতীনের মৃত্যুর সঙ্গে শশিভূষণ সরকারের খুনের কোনো লিঙ্ক আছে।”

    “কিন্তু আমি তাকে ভালো করে চিনতাম না স্যার। একদিন এসেছিলেন। প্রথমে শশাঙ্কের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। শশাঙ্ক বলেছিল নাথবাবুর সঙ্গে কথা বলতে। নাথবাবুকে আমি ফোন করতে তিনি আমাকেই বললেন ব্যাপারটা মিটিয়ে নিতে। আমি একতলাতেই বসাই। সেখানেই কথা হয়।”

    “ঠিক কী নিয়ে কথা হয় বলুন তো?”

    একটু ভাবলেন মধুবাবু। আলপটকা কিছু বলে ফেলে মোটেই বিপদে পড়তে চান না তিনি। কোন কথার যে কি মানে বেরিয়ে যায়, মাথা তুলে তিনি বলেন, “একটা কাগজ দেখিয়েছিলেন। বলেছিলেন ওঁর কাছে নাকি এ বাড়ি দেখাশোনা করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে।”

    “সে কাগজ দেখেছিলেন আপনি?”

    ‘সেরকম ভালো করে নয়। আসলে নাথবাবু আগে থেকেই আমাকে বলে রেখেছিলেন যে কাগজ যাই হোক না কেন আমি যেন লোকটাকে নাথবাবু এখানে থাকাকালীন আসতে বলি। তাই বলেছিলাম, কিন্তু আর আসেনি। এখন বুঝতে পারছি…”

    “শুধু কাগজ দেখালেন? আর কিছু বললেন না শশিভূষণ?”

    “হ্যাঁ। একবার নলীনি ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে চান।”

    “তিনি কে?”

    “এখানকার গেস্ট ছিলেন। তার কিছুদিন পরে উনি সুইসাইড করেন।”

    “এগেইন।” দু’জন পুলিশ অফিসার একবার চোখাচোখি করে। তারপর বলেন, “তারপর করেছিলেন দেখা?”

    “হ্যাঁ। আমিই ওর ঘরটা দেখিয়ে দিয়েছিলাম। তবে ভিতরে কী কথা হয়েছিল সেটা জানি না।”

    টেবিলের উপরে ঝুঁকে পড়ল মুকেশ। থুতনির তলায় হাতের তালু রাখল, “সেদিনের পর আর শশিবাবুর সঙ্গে দেখা হয়নি আপনার?”

    “না। উনি আমাকে না জানিয়েই চলে যান।”

    “আর নলিনী ঘোষের সঙ্গে?”

    “কথা সেরকম হয়নি। তবে ওকে দেখে মনে হত একটু যেন ভয় পেয়েছে। ঘর থেকে খুব একটা বেরোতে চাইত না। “

    “এর ঠিক কতদিন পরে সুইসাইড করেন তিনি? “

    “মাস দুয়েক হবে।”

    “আপনি নিজেই লাশ উদ্ধার করেন?”

    “হ্যাঁ।”

    সেসময়ে আপনি ছাড়া এ বাড়িতে আর কে কে ছিল?”

    একটু ভাবেন মধুবাবু, তারপর ধীরে ধীরে বলেন, “তখন যারা ছিল এখনও তারাই আছে। শুধু মতীন বলে একটি সিকিউরিটি গার্ড ছিল। যেদিন রাতে ভদ্রলোক সুইসাইড করেন সেদিন প্রায় সারারাতই আমি তার সঙ্গে গল্প করছিলাম।”

    “তা এই মতীন ছেলেটি হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দিল কবে?”

    “তা ওই আত্মহত্যার ঘটনাটা ঘটার পর পরই।”

    “সেকি! ভয় পেয়েছিল নাকি?”

    হাসলেন মধুবাবু। তারপর ঘাড়ে হাত ঘষতে ঘষতে বললেন, “আজ্ঞে না না, সেরকম ছেলে সে ছিল না। তবে ভারী পড়াকু ছোকরা ছিল। সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি ভালো লাগত না। চাকরির পরীক্ষা দেবে বলে রাতদিন ওর ঘরে বসেই পরীক্ষা দিচ্ছিল। পেয়ে যেতেই ছেড়ে দিল।”

    “সে ছাড়া আর কেউ সেদিন রাতে আপনাকে দেখেছিল?” উত্তরটা দেওয়ার আগে একটু থমকান মধুবাবু। দু’জনের মুখের দিকেই একবার দেখে নিয়ে বলেন, “আপনারা কি আমাকে সন্দেহ করছেন স্যার?”

    “আরে না না।” হো হো করে হেসে ওঠেন শর্মা, “আসলে অন্য কেউ যদি দেখে থাকে তাহলে এটা বোঝা যাবে যে সে রাতে আপনারা দু’জন ছাড়া- আর কেউ জেগে ছিল কিনা।”

    “না আর কাউকে দেখতে পাইনি আমি। সকাল চারটে নাগাদ আমি ফিরে আসি আমার ঘরে। কিন্তু ঘুম আসে না।”

    “তা সেদিন হঠাৎ অত রাত অবধি গল্প করলেন যে? মানে রোজ তো করতেন না নিশ্চয়ই?”

    “না তা করতাম না। সেদিন বোধহয় শরীরটা খারাপ হয়েছিল। তো বাইরে বেরিয়ে একটু খাওয়া খেতে বেরিয়েছিলাম। দেখলাম মতীন সিকিউরিটি গার্ডের শোবার ঘরে বসে আলো জ্বালিয়ে পড়াশোনা করছে। তার পাশে গিয়ে খানিক বসলাম। তারপর তার পড়াশোনা শেষ হতে গল্প শুরু হল।”

    “তাও ক’টা থেকে ক’টা অবধি?”

    একটু ভেবে চিনতে মধুবাবু বললেন, “এই ধরুন রাত দেড়টা নাগাদ আমি তার ঘরে যাই। আর ফিরি ওই চারটে নাগাদ।”

    সময়টা একটা ছোট ডায়েরিতে লিখে নিয়ে ডায়েরিটা আবার পকেটে ঢুকিয়ে নিলেন শর্মা। সময়টা পেন দিয়ে গোল করে রাখলেন। তারপর আবার চোখ তুলে তাকিয়ে বললেন, “বেশ। এবার অতীনের কথায় আসি। সে যেদিন মারা যায় সেদিন রাতে আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন?”

    “হ্যাঁ, ভালো ঘুম এসেছিল।”

    “মাঝরাতে একবারও ভাঙেনি?”

    “না” বলতে গিয়েও একবার থেমে গেলেন মধুবাবু। তারপর বারান্দার রোদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “একবার মনে হচ্ছে ভেঙেছিল ঘুমটা। তবে…”

    “কোনো আওয়াজ শুনে?” কথা শেষ হওয়ার আগেই প্রশ্ন করে মুকেশ। মধুবাবু কিন্তু মাথা নাড়ান

    “উঁহু, একটা দুঃস্বপ্ন দেখে। এত ভয় পেয়ে গেছিলাম যে ধড়ফড় করে উঠে বসি বিছানায়। তারপর দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে মুখে চোখে জল দিয়ে আসি। বিছানায় শুতে আবার ঘুমিয়ে পড়ি।”

    “ক’টা নাগাদ মনে আছে?”

    “নাঃ, ওইসময়ে ঘড়ি দেখার কথা কি মনে থাকে?”

    “যখন উঠেছিলেন তখন কারও দরজায় টোকা দিয়েছিলেন? “

    “টোকা! হঠাৎ টোকা দিতে যাব কেন?” আকাশ থেকে পড়লেন মধুবাবু। “হতেই পারে আপনি ভয় পেয়েছিলেন বলে কাউকে জাগিয়ে সঙ্গ পেতে চাইছিলেন।” মুকেশ স্বাভাবিক গলায় বলে।

    মধুবাবুর মুখে অমায়িক হাসি ফুটে ওঠে, তিনি বলেন, “আপনি কি আমাকে বাচ্চাছেলে ভাবেন দাদা যে মাঝরাতে ভয় পেয়ে লোক ডাকব? ভয় পেয়েছিলাম বটে কিন্তু কাউকে ডাকাডাকি করিনি একবারও। মুখে জল দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ি।”

    “বেশ।” একটা বড়সড় নিশ্বাস নিয়ে বলেন কেশব শর্মা, “এবার আপনি আসতে পারেন। এতক্ষণ ধরে রাখলাম বলে আমরা ভীষণ দুঃখিত।”

    “কি যে বলেন স্যার। যার যা কাজ। এবাড়িতে যদি এত বড় একটা কাণ্ড না ঘটত তাহলে আপনারা কি আর বেঁচে পড়ে এসব করতেন?” দেঁতো হাসি হেসে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়লেন মধুবাবু। তিনি বিদায় নেওয়ার পর কেশব পাশের দিকে ঘুরলেন, “লোকটাকে কেমন দেখলে?”

    “যতটা ভীতু ও নিজেকে দেখাচ্ছে ততটা ভীতু নয়। তবে স্যার স্বপ্নটা কি দেখেছিল সেটা খুব জানতে ইচ্ছা করছিল কিন্তু জিজ্ঞেস করা হল না। এত বড় বয়সে নিশ্চয়ই ভূতের স্বপ্ন দেখেননি।”

    “যাই দেখুন না কেন, তার সঙ্গে আমাদের তদন্তর ‘যোগ নেই।”

    “কে বলতে পারে, হয়তো কিছু যোগ পেলেও পাওয়া যেতে পারে।”

    হেসে মাথা দোলালেন শর্মা, “ওসব ছাড়ো। তুমি বরঞ্চ এই নলিনী ঘোষের, মৃত্যুর টাইমটা কনফার্ম কর। ঠিক কখন দড়ি গলায় দিয়ে ঝোলেন তিনি?” ডায়েরিতে লেখা সময়টা দেখালেন শৰ্মা।

    “সেটা হয়ে যাবে স্যার। বেশি সময় লাগবে না। এ থানারই কেস যখন।”

    “আর এই মতীন বলে ছেলেটির খোঁজ কর একটু। সব যদি ঠিক থাকে। তাহলে মধুবাবুর বয়ানটা একটা ঠেকনা পাবে।”

    “আপনি কি ওকে সন্দেহ করছেন?”

    গালে হাত দিয়ে কি যেন ভাবতে ভাবতে শৰ্মা বললেন, “সন্দেহ নয়। তবে মুশকিলটা হল আমরা এখন অন্য কেসের রেফারেন্সে ঘটনাটাকে খুন বলে ভাবছি কিন্তু সেই সময়ে পুলিশ হয়তো সুইসাইড কেস বলেই ট্রিট করেছিল। ফলে সেরকম তদন্ত হয়নি। দেখা যাক কুড়িয়ে বাড়িয়ে যদি কিছু পাওয়া যায়।”

    ******

    চার্চের ভিতরে ঢুকে আজ বেশ কয়েকজন লোককে দেখতে পেল পায়েল। আগের দিনের থেকে আর একটু বেশি সাজানো হয়েছে ভিতরটা। কাল রবিবার গেছে। প্রার্থনার দিন ছিল হয়তো। চার্চে ঢোকার আগেই হাতের সিগারেটটা বাইরে ফেলে দিয়েছে। তারপর বেশ কিছুক্ষণ একটা চিউইং গাম চিবিয়ে সেটাও ফেলে দিয়েছে।

    আপাতত তার গায়ে একটা গোলাপি কুর্তি আর হালকা নীল জিনস। সবসময়ের সঙ্গী কাঁধের ব্যাগটা নেই। একটু আগেই স্নান করেছে বলে চুলগুলো পুরোপুরি শুকোয়নি।

    প্রেয়ার রুমে ঢুকে একটা বেঞ্চে বসে পড়ল পায়েল। শান্তিনিকেতনে থাকতেও বেশ কয়েকবার চার্চে গেছে সে। এমনিতে ঈশ্বরে একেবারেই বিশ্বাস নেই তার। তবে এই প্রেয়ার রুমের ভিতরটা অনেক বড় আর ঠান্ডা। মনে হয় যেন ঠিক মানুষের শরীরের জন্যে বানানো হয়নি ঘরটা। হয়েছে এমন কিছুর জন্যে যা মানুষের শরীরের থেকে ঢের বড়, ঢের বেশি উঁচু। এইটুকু ভাবনা মাঝে মাঝে ভারি শান্তি দেয় ওকে।

    বেঞ্চে বসে সামনের দেওয়ালে ঝুলন্ত যিশুর দিকে তাকাল সে। একটা মাঝবয়সী লোক পিয়ানোর ওপারে বসে আছে। কোনো একটা গসপেল বাজিয়ে চলেছে। সেটা ভালো করে শোনার চেষ্টা করল পায়েল। সুরটা চিনতে পারল। ‘গসপেল অফ জন’ বাজছে। গানের মধ্যে দিয়ে যিশুর কীর্তিকাহিনী তুলে ধরছে লোকটা। তার জলের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া, জলকে সুরায় বদলে দেওয়া, জন্মান্ধ মানুষকে হাতের ছোঁয়ায় দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া, মৃত লাযারুসকে জাগিয়ে তোলা…”

    একটু থেমে যায় পায়েল। প্রেয়ার রুমের আইল দিয়ে ফাদার রমেন এগিয়ে আসছেন। পায়েলের দিকে তাকিয়ে একটু অবাক হন তিনি। পায়েল একবার চোখের পাতা ফেলে, অল্প হাসে। ফাদার এগিয়ে আসেন তার দিকে, “আজ কীসের সন্ধানে? নতুন কোনো গ্রেভ?”

    “না।” লাজুক হাসে পায়েল। “আজ ঈশ্বরের সন্ধান।”

    “বাঃ, ধর্মে মতিগতি আছে তার মানে। সে যে ধর্মেই হোক না কেন। বিশ্বাসটাই আসল কথা।”

    পায়েলের থেকে একটু দূরে বসে পড়েন ফাদার। তারপর সামনে মুখ ফিরিয়ে এক মনে গসপেল শুনতে থাকেন। পায়েলও সেদিকে মুখ ঘুরিয়ে কিছুক্ষণ শোনার পরে বলে, “আচ্ছা, এই বিশ্বাস ব্যাপারটা কী থেকে আসে বলুন তো? মানে হঠাৎ করে কোনো কিছুকে বিশ্বাস করতে শুরু করব কেন আমি?”

    “হঠাৎ করে কেন? তোমার মনের ভিতরই ঈশ্বর সংকেত দিয়ে যাবেন তোমাকে শুধু খুঁজে নিতে হবে।”

    “কিন্তু যাদের সেই সংকেত চিনে নেওয়ার ক্ষমতা নেই তাদের তো কিছু ডেমন্সট্রেট করে দেখাতে হয়।”

    “তুমি কীসের কথা বলতে চাইছ?” মুখ ঘুরিয়ে প্রশ্ন করে ফাদার।

    পায়েল আবার অমায়িক হেসে বলে, “মানে মানুষ তো বেসিক্যালি সন্দেহপ্রবণ প্রাণী। তাকে কোনো কিছু বিশ্বাস করানো সোজা কথা নয়। কিছু একটা মিরাকল করে দেখাতে হয়।”

    ফাদার এতক্ষণ মন দিয়ে গসপেল শুনছিলেন। সেটার মধ্যে এখন একটু বিরতি চলছে। তিনি একটু ঘুরে বসে বললেন, “যেমন এই লাযারুসের কথাই দেখ না…”

    একচোট হেসে নিল পায়েল। সে আর কোনো পদ্ধতি জানুক না জানুক মানুষকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজের ইচ্ছামতো প্রসঙ্গে এনে ফেলতে পারে।

    “লাযারুসের কথা আমিও সিলেবাসে পড়েছি। কিন্তু এখন মনে পড়ছে না।” পায়েল জিভ কেটে বলল।

    ফাদারকে দেখে মনে হল পায়েল ব্যাপারটা ভুলে যাওয়াতে খুশিই হয়েছেন তিনি। গল্পটা তার আদ্যপ্রান্ত জানা। হাতের ঘড়িটা একবার দেখে নিয়ে বলতে শুরু করলেন তিনি, “লাযারুস জন্মেছিল জেরুজালেম থেকে মাইলখানেক দূরে বেথানি নামের এক গ্রামে। সেখানে দুই বোনেদের নিয়ে সে থাকত। তো একদিন সে ভারি এক অসুখে পড়ল। এমন কঠিন অসুখ যে তা থেকে বেঁচে ওঠার কোনো সম্ভাবনাই রইল না।

    এই সময়ে লাযারুসের অসুখের কথা যিশুখ্রিস্টের কানে গেল। তিনি শোনা মাত্র বললেন যে লাযারুস যত কঠিন রোগেই পড়ুক না কেন তিনি লাযারুসকে ভালো করে দেবেন। তিনি এক সঙ্গীকে পাঠালেন এই খবর লাযারুসের ফ্যামিলিকে জানাতে। কিন্তু মুশকিল হল কোনো কারণে যিশুর সেখানে পৌঁছোতে দিনতিনেক দেরি হয়ে গেল। এর মধ্যে লাযারুস গেল মরে এবং তার বোনেরা মিলে তাকে কবর অবধি দিয়ে দিল।

    চতুর্থদিন যিশু সেখানে পৌঁছে লাযারুসের খোঁজ করতে তাকে পেলেন না। তার বোনেরা জানাল যে চারদিন হল সে মারা গেছে এবং তাকে আর কোনো ভাবেই ভালো করা যাবে না। কিন্তু যিশু বললেন একবার যখন ঈশ্বর চেয়েছেন লাযারুস বেঁচে উঠুক তখন সে উঠবেই।

    যিশু লাযারুসের কবরের সামনে গিয়ে মনে মনে কিছু বললেন এবং প্রার্থনা করলেন। তার কিছু সময় পরেই লোকে অবাক হয়ে দেখল, যে কাপড় পরিয়ে লাযারুসকে কবরে দেওয়া হয়েছিল সেটা পরেই অক্ষত শরীরে হেঁটে কবর থেকে বেরিয়ে আসছে লাযারুস।

    লাযারুসের বোনেরা সেইখানেই যিশুকে ঈশ্বরের সন্তান বলে মেনে নেন এবং এই ঘটনার পরেই যিশুর নাম মূলত ছড়াতে শুরু করে। তার কথা রাজার কানে যায় এবং তুমি যে মিরাকেলের কথা বলছ সেই মিরাকেলটি ঘটে।

    দুটো হাত বুকের উপরে আড়াআড়ি রেখে মন দিয়ে শুনছিল পায়েল। এবার সে হাত খুলে কয়েক সেকেণ্ড সিলিঙের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে, “তার মানে মরা মানুষকে জাগিয়ে তোলা এত বড় একটা মিরাকেল যা মানুষকে রাতারাতি ঈশ্বরে পরিণত করতে পারে?”

    “তা ঠিক নয়, তবে যারা মনের চোখ দিয়ে মিরাকেল দেখতে পায় না তাদের জাগতিক চোখকে খোলার জন্যে মিরাকেল তো দরকার হয়।”

    কয়েকে সেকেণ্ড চুপ করে থাকে পায়েল। কীসের হিসেব করে নেয়। একটু দম নেয়, আচমকাই উজ্জ্বল চোখে ফাদারের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে, “রাতে সেই মিরাকেল উদ্ধারের জন্যেই আপনি জমিদারবাড়ি যেতেন। আর সেটা একজন মানুষের জাগতিক চোখ দেখে ফেলেছে জানার পর থেকে আর যাচ্ছেন না, তাই তো?”

    ফাদারের চোখে ছায়া নামতে বেশি সময় লাগল না। কয়েক পলকের জন্যে তার মুখের উপর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেল। দুটো হাত মুঠো হয়ে এল। গলাটা তবু শান্ত রাখলেন তিনি

    “তোমাকে কে বলেছে এসব?”

    “ধরে নিন ঈশ্বর। সামনা-সামনি নয়। ঠিক যেভাবে মনের ভিতর সংকেত দেন তিনি, সেইভাবে।”

    “বুঝতে পেরেছি…” চাপা গলায় গরগর করলেন ফাদার, “কী চাও তুমি?”

    “প্রথম দিন যা জানতে চেয়েছিলাম আজও তাই চাই। শুধু আজ আপনার মিথ্যে বলার লাইফ লাইনটা নেই। লেভিক্বীকাস মনে আছে আপনার? ১৯; ১১? ডু নট স্টীল, ডু নট লাই, ডু নট ডিসিভ ওয়ান এনাদার। লেটস নট ডিসিভ ওয়ান এনাদার…”

    “আমি চাইলে তোমাকে এখান থেকে বের করে দিতে পারি।”

    “না, পারেন না, এটা আপনার বাড়ি নয় স্যার। আমি জানি আপনি • জমিদারবাড়ির ইতিহাসের খানিকটা অন্ধকার অধ্যায় জানেন। সেই জ্ঞানের আলো একটু আমার উপরেও ছড়িয়ে দিন।”

    “যদি না বলি কী করবে তুমি?”

    “আপনি ব্যাপটিস্ট চার্চের ফাদার হয়েও অকাল্টের পিছনে দৌড়াদৌড়ি করছিলেন। ব্যাপারটা লোক জানাজানি হলে ভালো হবে কি?”

    এবার একটু নিস্তেজ দেখায় ফাদারকে। চারপাশটা একবার দেখে নেন তিনি। তারপর বেঞ্চ থেকে উঠে পড়ে বলেন, “ঠিক আছে। যা জানতে চাইছ সবই বলব, তবে এখানে এসব বলা উচিৎ হবে না। এ জায়গাটা পবিত্র। বাইরে এসো।”

    চার্চ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে দু’জনে। রোদে রাঙা ঘাসের জমি ছাড়িয়ে অনেকটা দূর চলে আসে। লোকজন প্রায় চোখে পড়ে না এখানে।

    একটা বেঞ্চের উপরে এসে বসে পড়ে ওরা। পায়েল সিগারেট ধরায়। এতক্ষণ খেতে ইচ্ছা করলেও ধরাতে পারেনি। এবার আরাম করে একটা ধরিয়ে মুখে দিয়ে সে বলে, “আমার যদ্দুর মনে হয় আপনি পুরানো কিছু কাগজপত্রের রেকর্ড খুঁজে পেয়েছিলেন।”

    “কী করে বুঝলে?” ফাদারের মুখে একটু আগের ছায়াটা মিলিয়ে এসেছে এতক্ষণে। তার বদলে রোদ এসে পড়েছে।

    “এখানে যে গ্রেভগুলো আছে তার অনেকগুলো দেখে বোঝা যায় সেগুলো ব্যাপটিস্ট ক্রিশ্চানদের। সাধারণত বাচ্চাদের ব্যাপটিসজম হবার পরে তাদের নামধাম, পরিবারের খতিয়ান চার্চের কাছে ধরা থাকে। অথচ আপনি বললেন আপনার কাছে কিছুই নেই। এতদিন আগের ব্যাপার বলে বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম কিন্তু কাল আপনার গতিবিধি জানার পর বুঝলাম সেটা গল্প দিয়েছিলেন।”

    ভুরু কুঁচকে মাথা নাড়েন ফাদার, বলেন, “কাগজটা যখন প্রথম পাই তখন ভেবেছিলাম অসঙ্গতিটা মুছে ফেলব। কী দরকার? দুটো শতাব্দী কেটে গেছে, এরকম কত দগদগে ক্ষতই কালো কাপড়ে ঢেকে রাখে ইতিহাস। সেভাবেই একসময় মিলিয়ে যাবে হয়তো। কিন্তু মানুষ তো জন্মত পাপী। অলৌকিক শক্তির টান তাকে রাতারাতি নরকের দিকে টেনে নিয়ে যায়। আমাকেও তাই নিয়ে গেল।

    একদিন রাতে মনে হল একবার না হয় গিয়ে দেখে আসি। সত্যি সেরকম কিছু আছে কিনা। সত্যি কি মৃত মানুষকে জাগিয়ে তোলা যায়? কী তার নিয়ম? কীভাবে সম্ভব হয় সেই মিরাকেল?

    কাগজপত্র যা ছিল তা থেকে বুঝতে পারি জমিদারবাড়ির ভিতরে কোনো একটা ঘরে কিছু একটা লুকানো আছে। যা উদ্ধার করতে পারলেই সেই ভয়ানক কাজটি করা যাবে। কে লুকিয়েছে, কীভাবে লুকিয়েছে তার খানিকটা সংকেতও দেওয়া ছিল বটে তবে খুবই অস্পষ্ট। সম্ভবত যে লুকিয়েছিল সে কথাটা বিশেষ কাউকে জানাতে চেয়েছিল। সবাইকে নয়।”

    “কিছু পেয়েছিলেন আপনি?” উৎসুক গলায় জিজ্ঞেস করে পায়েল।

    ফাদার মাথা নাড়েন, “নাঃ। হয়তো পেতাম। ও বাড়িতে যেতে যেতে এমন একটা নেশা হয়ে গেল যে সাপের ভয় করত না একটুও। এমন কি যখন চার্চে প্রার্থনা হত তখনও ওই বাড়ির ঘরগুলোর কথা ভাবিয়ে তুলত আমাকে। আমি যা অন্যায় করেছি তা ঈশ্বর হয়তো ক্ষমা করবেন না। তবে এই কথাগুলো তোমাকে বলতে পেরে আজ বেশ হালকা লাগছে নিজেকে।”

    কথাগুলো বলে একটু থামেন ফাদার। তারপর পায়েলের মুখের দিকে ভালো করে তাকিয়ে বলেন, “তোমার বয়স অল্প। কিন্তু তা সত্ত্বেও তোমার মধ্যে এমন কিছু আছে যাতে অপরাধ স্বীকার করতে ইচ্ছা করে। অনেক বড় হবে তুমি একদিন।” শেষ কথাগুলো বলতে গিয়ে ফাদারের গলায় আবেগের রেশ এসে যায়। সেটা তড়িঘড়ি মুছে ফেলেন তিনি।

    হেসে মাথা নামিয়ে নেয় পায়েল, ধীরে ধীরে বলে, “সে কাগজগুলো লাগবে আমার। আমার অকাল্টের উপরে কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু বাড়িতে যে খুনগুলো হয়েছে তার সঙ্গে আমার মনে হয় এর কোনো না কোনো সম্পর্ক আছে।”

    “বেশ, দিচ্ছি তোমাকে। ওগুলো আর ফেরত দিতে হবে না। দরকার মিটে গেলে ফেলে দিও না হয়।”

    দু’জনে উঠে পড়ে। পায়েলের সিগারেট এতক্ষণে ছোট হয়ে এসেছিল। বাকিটুকু শেষ না করেই সেটা ফেলে দেয় সে। তারপর ফাদারের পিছন পিছন এসে ঢোকে চার্চের ভিতরে।

    এখন ‘গসপেল অফ জন’ শেষ হয়ে গেছে। তার জায়গায় অন্য কিছু একটা শুরু হয়েছে। এটা চেনে না পায়েল।

    আবার আগের দিনের মতো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসে দু’জনে। আগের দিনের ছোট ঘরটা ফেলে আরও কিছুটা বাঁদিকে চলে আসে ওরা। এখানে চার্চের দরকারি কাগজপত্র রাখা থাকে।

    একটা বড় বই-এর র‍্যাক চোখে পড়ল পায়েলের। তার সামনে কাচের পাল্লা দেওয়া। ভারী ভারী বই রাখা আছে তার ভিতরে। বাইবেলের অনেকগুলো ভারসান। কোনোটা কিং জেমসের ইংলিশ আবার কোনোটা ল্যাটিন। এছাড়া আরও কয়েকটা গবেষণামূলক বইপত্র। কিছু হাতে লেখা ম্যানুস্ক্রিপ্টও চোখে পড়ল।

    সেগুলো ছাড়িয়ে এসে একটা বড় ড্রয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে পড়লেন ফাদার। তারপর আলখাল্লার পকেট থেকে একটা চাবি বের করে খুলে ফেললেন সেটা। উপরে কয়েকটা চকচকে সাদা কাগজ সাজিয়ে রাখা আছে। সেগুলো উপরে সরিয়ে রেখে নিচের কাঠের তক্তাটার উপরে চাপ দিলেন ফাদার। সঙ্গে সঙ্গে তার একটা দিক উঠে এল। পায়েল বুঝল এভাবেই কায়দা করে কাগজগুলো এতদিন লুকিয়ে রেখেছিলেন ফাদার।

    কতগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া হলদে খাম। বইয়ের মতো কিছু একটাও দেখা যাচ্ছে সেই সঙ্গে। সেগুলো হাতে নিয়ে একবার ফিরেও তাকালেন না ফাদার। পায়েলের হাতে তুলে দিয়ে বললেন, “মাই চাইল্ড টাইল্ড বলে নাটক করব না। তবে তোমার জায় গায়ন্যে কেউ হলে এগুলো তা হাতে দিতে সাহস করতাম না। পড়, যা করতে চাইছ করো। তারপর বিদায় করে দিও। কেমন?”

    পায়েল বাধ্য শিশুর মতো মাথা নাড়ে। তার মাথায় একবার হাত বুলিয়ে দিয়ে একটু হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে যান ফাদার। পায়েল পিছনে তাকিয়ে বসার মতো কিছু নেই দেখে একটা কোণে গিয়ে মেঝের উপরেই বসে পরে। তারপর ভীষণ সাবধানে একটা একটা করে পাতা উলটে দেখতে শুরু করে।

    বইটা মূলত এখানে যাদের সেই আমলে ব্যাপটাইজ করা হয়েছিল তাদের নাম ধাম এবং পরিবারের বর্ণনা। তাছাড়া ছোটোখাটো দরকারি কিছু ঘটনার বিবরণ।

    সেগুলো রেখে খামটা খোলে পায়েল। তার ভিতরে আছে সেই সময়ে চার্চে আসা কিছু চিঠি। বেশিরভাগই এসেছে বিদেশ থেকে। পড়ে শেষ করতে আজ সারাটা দিন লেগে যাবে। কয়েকটা আবার সময়ের ছাপে এতটাই অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে যে হরফগুলো পর্যন্ত চেনাই যাচ্ছে না।

    সেগুলো গুছিয়ে নিয়ে উঠতে যাচ্ছিল পায়েল। এমন সময়ে একটা পাতায় চোখ আটকে গেল তার। এতক্ষণে দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসেছিল সে। এবার সোজা হয়ে উঠে বসল।

    জর্জ মসক্রপ! নামটা চোখে পড়েছে তার। এবং তার পরিবার সম্পর্কে কিছু তথ্য। ইংল্যান্ডের তৎকালীন রাজপরিবার থেকে বেশ কয়েকটি গোপন সিলড চিঠি পেয়েছিলেন তিনি। সেগুলোর কিছু কিছু অংশ লেখা আছে তার নিজের জবানবন্দীতে।

    মিনিট কুড়ি পরে অনেকগুলো জটিল প্রশ্নের উত্তর জলের মতো পরিষ্কার, হয়ে উঠল তার চোখের সামনে। একটা অচেনা গোলাপি রং ফুটে উঠতে লাগল পায়েলের মুখ। এও কি সম্ভব!

    *****

    থানা থেকে বেরোতে যাচ্ছিলেন কেশব শর্মা। রাত বেশ বেড়ে গেছে। সারাটাদিন দৌড়াদৌড়িও কম যায়নি। এই বয়সে আর আগের মতো প্রেশার নিতে পারেন না। বাড়ি থেকে ফোন আসে মাঝে মধ্যেই। ওষুধ খেয়েছেন কিনা তদারকি, সিগারেট খেয়েছেন কিনা জেরা ইত্যাদি।

    আজ কিন্তু উঠতে গিয়েও ওঠা হল না। দরজা দিয়ে হস্তদন্ত হয়ে ঢুকে এল খাসনবীশ। তার মুখ চোখ দেখে মনে হল বড়সড় কিছু একটা ঘটেছে। কেশব সেই মুখ দেখেই চেয়ারে বসে পড়লেন।

    মুকেশ তার সামনে রাখা চেয়ারে বসতে বসতেই বলল, “মনে হয় ব্যাপারটার একটা কিনারা করতে পেরেছি স্যার।”

    “কিনারা! মোটিভটা তো জোগাড় কর আগে তারপর কিনারা।”

    “মোটিভ স্যার। ওইটাই পেয়েছি। আর এই কেসে যা মোটিভ তাতে বাকি কাজ মাখনের মতো হয়ে যাবে।”

    “দেখো আবার বেশি মাখনে ডায়াবেটিস না হয়ে যায়।”

    “মানে?”

    “মানে ডোন্ট রাস ইট। আগে খুলে বল কী হয়েছে। গোড়া থেকে।”

    “নলিনী ঘোষ আত্মহত্যাটা দুটো থেকে সাড়ে তিনটের মধ্যে করেছিলেন। ফরেনসিক কনফার্ম করেছিল।”

    “মানে আমাদের মধুবাবু আর মতীন যতক্ষণ গল্প করছিল তার মধ্যেই। দু’জনেরই করস্পন্ডেন্ট এলিবাই আছে।”

    একটু গলা খাঁকারি দিয়ে সময় নিল খাসনবীশ। তারপর সামনে রাখা জলের গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে বলল, “দেয়ার ইজ দ্যা ক্যাচ… মতীন বলে ছেলেটার খোঁজ নিয়েছি আমি স্যার। এন্ড হি ইজ ডেড।”

    “মানে? সে আবার কবে মরল?” চমকে উঠলেন শর্মা।

    “এখান থেকে ফেরার পরপরেই। কিছু একটা ক্রনিক রোগে ভুগে। এস্ত গেস ওয়াট, ও কোনো চাকরি টাকরি পায়নি।”

    “মানে মধুবাবু আমাদের মিথ্যে বলছেন। যাঃ, লোকটাকে দেখে বোঝা যায়নি মিথ্যে বলছে।”

    কয়েক সেকেণ্ড চুপ করে থেকে ব্যাপারটা মাথার ভিতরে সাজিয়ে নিলেন শর্মা। তারপর মুখ তুলে বললেন, “কিন্তু এর মধ্যে তুমি অতীনের খুনের মোটিভ কোথায় দেখছ?”

    একটু বাঁকা হাসি হেসে খাসনবীশ বলে, “সে মোটিভটা আলাদা।”

    “কীরকম?”

    “আপনি যদিও বলেননি তাও আমি একবার ও বাড়িতে যারা যারা আছে তাদের একটা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করতে দিয়েছিলাম। আই মিন যাদের সঙ্গে অতীনের পরিচয় ছিল।”

    “বেশ। কর্মঠ ছেলে তুমি। তারপর?”

    “সেটা হাতে আসার পর একটা জিনিস দেখে একটু চমকে যাই। আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে এই ক্ষেত্রমোহন সেন মানে আমাদের অতীনের বাবা কিছু একটা কারণে ক্রিমিনাল কনভিকশানে জড়িয়েছিলেন।”

    “বল কি! জেলে গেছিলেন নাকি!”

    “মাসখানেক, হিট এণ্ড রান কেস। তখন কিছুদিন উনি কলকাতায় একটা এজেন্সির হয়ে ক্যাব ড্রাইভিং করতেন। তো একদিন ভোরের দিকে একটি বাচ্চা মেয়েকে গাড়িতে চাপা দেন। পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু পরে পুলিশে ধরে ফেলে। তবে ইচ্ছাকৃত নয় বলে খুব একটা কিছু ঝামেলা হয়নি।”

    মাথাভরা টাকে একবার হাত বোলালেন শর্মা, ভুরু তুলে বললেন, “গো অন। আই এম ওয়েটিং ফর ইয়োর নেক্সট পয়েন্ট। কারণ মোটিভ আমি এখনও পাইনি।”

    “পাবেন। সেই মেয়েটির মায়ের নাম জানলেই পাবেন।”

    “মেয়েটির মা? কে সে?”

    “সুনন্দা সান্যাল।” টেবিলের উপরে একটা চাপড় মেরে বলল মুকেশ খাসনবীশ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article হেঁটে যাই জনমভর – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সায়ক আমান

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }