Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প344 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তার চোখের তারায় – ৬

    ষষ্ঠ অধ্যায়

    সন্ধেবেলার দিকটায় ঝাঁপিয়ে বৃষ্টি নেমেছিল। রাত দশটা পার হতে সেটা একটু থেমেছে। তবে এখনও একবারে বিদায় নেয়নি। আকাশে চাঁদ এখনও দেখা যাচ্ছে না। বরঞ্চ লালচে আভা ছড়িয়ে আছে আকাশ জুড়ে। জলের ছোঁয়া পেয়ে কাঁটাঝোপের ভিতর থেকে একটানা ব্যাঙের ডাক ভেসে আসছে। সেই সঙ্গে মিটমিট করে জ্বলছে জোনাকি। জমিদারবাড়ির থাম, দেওয়াল আর ছাদ রাতের বুকে শুয়ে আছে জোনাকির আলো মেখে। সব কিছু আশ্চর্যরকম নিস্তব্ধ। গোটা এস্টেটটা গভীর ক্লান্তির ঘুমে ঢলে পড়েছে।

    হঠাৎ জমিদারবাড়ির দিক থেকে ভেসে আসা একটা শব্দে এই নিস্তব্ধতা খানখান হয়ে গেল। চাতালের মাঝে জমে থাকা জলের উপর পায়ের আওয়াজ। একটা নয় দুটো।

    অন্ধকারের মধ্যে একটা নারীমূর্তিকে দেখা গেল। তার মাথা থেকে পা অবধি কাপড়ে ঢাকা। সন্তর্পণে মাথা থেকে ঢাকাটা সরিয়ে ফেলল সে। চোখের মণি দুটো সাদা হয়ে জ্বলছে। না মণি নয়, জ্যোৎস্না এসে পড়েছে তার রিমলেশ চশমার কাচে। সেই আলোই প্রতিফলিত হচ্ছে। পিছন ফিরে সে বলে, “আজ কি না হলেই নয়? কাদার উপরে আছাড় খেলে আর রক্ষে থাকবে না।”

    এবারে পিছন থেকে আর একটি নারীমূর্তিকে দেখা গেল। একটা জ্বলন্ত সিগারেট ধরা আছে তার ঠোঁটে। সেই আলোতেই মুখের একটুখানি অংশ চোখে পড়ছে। ধীর পায়ে জল পাড়িয়ে এগিয়ে এল সে, “আজ বৃষ্টি হওয়ায় একটু ঠান্ডা পড়েছে। সহজে লোকের ঘুম ভাঙবে না। দিস ইজ আইডিয়াল।”

    “আর জামাকাপড়ে কাদা লাগলে কাল তুমি পরিষ্কার করবে।”

    “বেশ করে দেব। চল এখন। এই জায়গাটা সেফ না।”

    আর আপত্তি করে না সুনন্দা। দেখে শুনে পা চালায়। মনটা মোটেই ভালো নেই তার। একে সারাদিন ধকল গেছে, তার উপরে এই রাতবিরেতে অচেনা জায়গায় চোরের মতো বাড়ি থেকে বেরিয়ে কবর খুঁড়ে বের করা। এসব করতে হবে জানলে সে এ বাড়িতে থাকতেই আসত না। নীলাদ্রিকে এসব কথা জানানো হয়নি। জানালে লাভের থেকে ঝামেলা হবে বেশি। পরশুর আগে সে ফিরছে না। ফিরলে একেবারে সামনা-সামনি না হয় বলা যাবে সব।

    পায়েল আজ রাতের আগে দেখা দেয়নি। নিজের ঘরে গিয়ে নাকি পড়াশোনায় মন দিয়েছিল। অন্যবার এখানে এসে নিরিবিলিতে তার পড়াশোনা ভালো হয়। এবার কিছুই হয়নি।

    আজ তুলির সঙ্গে দাবা খেলতে খেলতে অনেকগুলো নতুন ভাবনা খোঁচা দিচ্ছিল সুনন্দার মাথায়। বেশ কয়েকটা নতুন সম্ভাবনা। এমনও তো হতে পারে যে চারটে লোক এ বাড়িতে মারা গেছে তাদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে অবশ্য সেটা থাকার কথা নয়, কারণ চারজন চার

    রকমভাবে চার জায়গায় মারা গেছে। প্রথমজন যখন মরেছে তখন শেষ জনের জন্মই হয়নি। সমস্ত ঘটনাটা একেবারে শুনলে মনে হয় আড়াল থেকে যেন একজন মানুষই কলকাঠি নাড়ছেন। কিন্তু তাই যদি হয় তাহলে সেই লোকটার বয়সও অন্তত আশি-পঁচাশির কম হওয়ার কথা হয়। তেমন বৃদ্ধ কেউ তো এ বাড়িতে নেই। তাহলে কে?

    “আরে, দেখে চলো। পড়বে তো।”

    এইসব ভাবতে ভাবতে অসাবধানে একটা গর্তে পা রেখে হোঁচট খেয়ে টলে গেছিল সুনন্দা। পায়েল হাত বাড়িয়ে খপ করে ধরে নিল তাকে।

    সামনেই সিকিউরিটি গার্ডের ঘর। তার পাশেই সদর দরজা। তার উপরে এখন একটা বড় তালা ঝুলছে। সেটার সামনে থমকে দাঁড়িয়ে সুনন্দা বলল, “ওই চাবি তো জোগাড় করেছ। এটার কী হবে?”

    পায়েলকে কয়েক সেকেন্ডের জন্যে চিন্তিত দেখাল। তারপর সেইরকম ভাবুক মুখেই বলল, “একটাই প্ল্যান মাথায় আছে।”

    “কী প্ল্যান?”

    “উঁহু, আমার না, তোমার মাথায়। ক্লিপটা দাও তো।”

    “ক্লিপ!” মুহূর্তে অবাক ভাবটা কমে যায় সুনন্দার, “বুঝেছি। ওইটা বেঁকিয়েই চাবি বানিয়ে তালা খুলবে?”

    “হ্যাঁ, দাও তাড়াতাড়ি। আর লক্ষ রাখো ভোঁদড়টার ঘুম যেন না ভাঙে।”

    “আর ভেঙে গেলে?”

    “ভাঙবে না। এমনি কি আর বৃষ্টির দিনে বের হয়েছি?”

    অগত্যা মাথা থেকে একটা ক্লিপ খুলে পায়েলের হাতে দিল সুনন্দা। বেশ খানিকটা চুল মাথার উপর থেকে কানের পাশে চলে এল তাতে। সে সাবধানে এগিয়ে এসে গার্ডটার মুখটা একবার ভালো করে দেখল। ঘড়ঘড় করে নাক ডাকার শব্দ আসছে। মুখটা হাঁ করে ঘুমাচ্ছে লোকটা। হাতের পাশেই একটা বড়সড় লাঠি পড়ে আছে।

    ওদিকে পায়েল ক্লিপটাকে বাঁকিয়ে চুরিয়ে তালার ভিতরে ঢুকিয়ে কসরত শুরু করেছে। দরজার ঠিক উপরেই একটা নীলচে কম পাওয়ারের আলো জ্বলছে। তাতে ভালো করে তালাটা দেখতে পাচ্ছে না সে।

    “তোমার মোবাইলে টর্চ নেই?” সুনন্দা ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল।

    “আছে, কিন্তু সাইলেন্ট করা নেই। লক খুলতে গেলে আওয়াজ হবে জোরে। ভোঁদর উঠে পড়বে।”

    আর কিছু না বলে চশমাটা ভালো করে চোখের উপরে বসিয়ে নিল সুনন্দা এবারে মেয়েটা হতাশ হয়ে ফিরে গেলেই ভালো।

    ক্লিপটা মুঠো করে ধরে উঠে পড়ল পায়েল। চারপাশে তাকিয়ে কিছু একটা আলো খুঁজতে লাগল। চোখে পড়ল থামের ভিতরে জ্বলতে থাকা মশালটা। দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে আংটা থেকে সেটা খুলে নিল পায়েল। তার শিখাটা ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপটায় কেঁপে কেঁপে উঠছে। আগের মতোই সাবধানে ফিরে এসে সেটা সুনন্দার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “এটা দেখাও এদিকে। আর গার্ডের দিকটা আড়াল করে দাঁড়াও। ওর মুখে যেন আলো না পড়ে।”

    “একটা টর্চ আনতে পারলে না?” বিরক্ত হয়ে বলে সুনন্দা।

    “টর্চ আমার কাছে নেই। মধুদার কাছে ছিল কিন্তু চাইতে গেলে কিছু একটা সন্দেহ করবে।”

    “আমাকে আগে বলতে পারতে মোমবাতি ছিল আমার কাছে?”

    পায়েল দাঁত দিয়ে ক্লিপ কামড়াতে কামড়াতে বলে, “বছর পঁয়তিরিশের মহিলা। মাঝরাতে মোমবাতি হাতে পুরনো কবরস্থানে ঘোরাঘুরি করছে। তোমার প্রোফাইলটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াত বুঝতে পারছ?”

    “সব তোমার পাল্লায় পড়ে।”

    “অন দ্যা কন্ট্রারি তুমি আমাকে কবরস্থানে নিয়ে গেছিলে। আমি আগে যাইনি।”

    “আমি কবরস্থানে যেতে বলেছিলাম, তালা খুলে একেবারের সমাধির ভিতরে ঢুকতে বলিনি।”

    খুট করে একটা শব্দ করে খুলে যায় তালাটা। পায়েল সেটা আংটা থেকে সরাতে সরাতে বলে, “সেটা যে করতে বলেছে তার নামটাই জানতে ইচ্ছা করছে খুব।”

    মশালটা আবার আংটায় রেখে গেটে তালাটা আলতো করে ঝুলিয়ে দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে দু’জনে। সুনন্দা পা চালাতে চালাতে বলে, “তা বিদ্যেটা শিখলে কোথা থেকে?”

    “কোন বিদ্যে? তালা খোলা?”

    “হ্যাঁ।”

    “ইউটিউব দেখে।”

    “তাহলে এই চাবিটা এত কষ্ট করে জোগাড় করার কী ছিল?”

    “মসোলিয়ামের সামনে যেটা ঝুলছে সেটা মামুলি তালা নয়। শতাব্দী প্রাচীন প্যাডলক। সেটা খুলে ফেলা চুলের ক্লিপ দিয়ে সম্ভব নয়। তাছাড়া…”

    “তাছাড়া কী?”

    “চাবিটা শুধু তালাটা খোলার জন্যে না। এটা সম্ভবত একটা সংকেত আমাদের চাবিটা দিয়ে বলতে চাওয়া হয়েছে যে মসোলিয়ামটা খুললে কিছু একটা পাওয়া যাবে।”

    দু’জনে বেশ কিছুদূর হেঁটে আসে। রাস্তার পাশের লাইটপোস্টগুলো তেমন জোরালো নয়। সরু ফুটপাথ আলোছায়ায় ঢেকে আছে। রাস্তা দিয়ে দ্রুত গাড়ি ছুটে গেলেও দুটি নারীমূর্তিকে দেখতে পাবার কথা নয়। হাঁটতে আরামই লাগে সুনন্দার। পথ বেশ নরম। ক’দিন গরম পড়ার পড়ে আজ রাতের ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লেগে জুড়িয়ে দিচ্ছে শরীরটা।

    আবার হোঁচট খেতে যাচ্ছিল সুনন্দা। পায়েল তার দিকে একবার তাকিয়ে বলল, “তুমি আজ এত কী ভাবছ বল তো?”

    “ভাবছি এই চারজনের আগেও হয়তো এ বাড়িতে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।”

    “মধুবাবু সেদিন একটা কথা চেপে গেছিলেন আমাদের কাছে। হয়তো একটু বেশি ভায়োলেন্ট বলেই আমাদের মন ভারাক্রান্ত করতে চাননি।”

    “কী কথা?”

    “ভূপতি দত্ত বিছানায় শুয়ে মারা যাননি। ভূপতির শেষ বয়সে টিবি হয়। তাতেই মৃত্যু হয় তার। ফলে জমিদারী দেখাশোনার দায়িত্ব এসে পড়ে নৃপতির ঘাড়ে। তিনি খুব একটা সুবিধের লোক ছিলেন না। খাজনার জন্যে লুটপাট, জেনোসাইড এসবের জন্যে কৃষকরা এমনিতেই ক্ষেপে ছিল। শেষে একদিন মাঝরাতে একদল গ্রামবাসী চড়াও হয়ে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ ও নৃপতি দত্তকে, সাদা বাংলায় যাকে বলে জবাই করে। জবাই বোঝো?”

    মাথা নাড়ে সুনন্দা, তারপর বলে, “ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন?”

    “উঁহু, সে তো তাৎক্ষণিক ব্যাপার। জবাই করা হয় অনেকটা ধীরে

    সুস্থে। হয় বাঁধা থাকে, নাহলে কেউ হাত চেপে ধরে, কেউ পা চেপে ধরে। তারপর একজন ছুরি বা চপার নিয়ে এসে একটু একটু করে কাটে। সোজা কথায় জবাইয়ের একটা বিল্ড-আপ আছে।”

    “মানুষ কত নৃশংস ছিল তখন।” থমথমে গলায় বলে সুনন্দা।

    “ভূপতির জেনারেশানকে যতটা ব্যাকডেটেড ভাবছ ততটা নয়। ভূপতি দত্ত রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরদা দ্বারকানাথের কনটেম্পোরারি। আর আমাদের কন্দর্প দত্ত যদি আর একটু দক্ষিণে জন্মাতেন তাহলে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে চা খাবার একটা সুযোগ ছিল তার।”

    “তুমি এত কিছু জানলে কী করে? ইউটিউব দেখে?”

    “আজ সন্ধ্যেয় পড়ছিলাম এসব।”

    “ও হরি! ইংরাজি পড়ার নাম করে আসলে এইসব পড়ছিলে তার মানে?”

    “ভাষাও তো ইতিহাসেরই একটা অংশ।”

    খানিক দূর হেঁটে এসে চার্চের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল দু’জনে। এখানে একটা দরজা আছে বটে তবে তালা নেই। চার্চের দরজায় তালা ঝোলানো বেআইনি। পায়েল ফিসফিস করে বলল, “ডাক্তার, ডোম আর ভগবান এদের অফিস বন্ধ করার জো নেই। কার যে কখন দরকার পড়ে।”

    “অফিসে লোক থাকলেই মুশকিল।”

    নেই বলেই তো মনে হচ্ছে। অন্তত এত রাতে ‘লোক’ থাকাটা অফচান্স। তাও ধরা পড়ে গেলে কিছু একটা বাহানা রেডি রেখো।”

    “রাত-বিরেতে লোকের কবর খুঁড়তে আসার কোনো বাহানা হয় না পায়েল। এসাইলাম থেকে কী করে পালালাম সেটার একটা গল্প শোনাতে হতে পারে বরং।”

    “তাই শুনিও না হয়।” কথাটা বলে দরজাটা একটু ফাঁক করে ভিতরের দিকে পা বাড়ায় পায়েল। ক্যাঁচ করে দরজা খোলার আওয়াজ হয় একটা। পায়েল নিচু হয়ে ভালো করে চারপাশটা একবার দেখে নেয়। না কাউকে চোখে পড়ছে না। চার্চের কম্পাউন্ডের সামনেটায় একটা টিউব জ্বালানো আছে। তাতে আলোকিত হয়ে উঠেছে চার্চের সামনেটা। এতদূর আসার প্রশ্নই ওঠে না।

    সুনন্দাও ঢুকে আসে পায়েলের সঙ্গে সঙ্গে। এতক্ষণে মেঘের আড়াল থেকে চাঁদ বেরিয়ে এসেছে। সেদিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে পায়েল বলল, “আঙ্গ ফুলমুন দেখছি। ভালোই হল।”

    “এবার তো মোবাইল জ্বালাতে পারবে। ফুলমুনের কী দরকার?”

    “উঁহু, আলোর জন্যে নয়। পূর্ণিমা রাতে ওয়্যার-উলফ্রা শিকার ধরতে বেরোয়। কিন্তু ঈশ্বরের এলাকা বলে তারা চার্চের ভিতর ঢুকতে পারে না। আমরা চার্চের আশেপাশে আছি মানে বিপদ নেই।”

    “যত্তসব, কাজ নেই আর খেয়েদেয়ে…” মুখ বেঁকায় সুনন্দা।

    ছপছপ করে কাদার উপরে পায়ের আওয়াজ হচ্ছে। একটু দূরে ফণীমনসার ঝোঁপ থেকে ঝিঁঝিঁ ডেকে চলেছে একটানা। কয়েক ফোঁটা জল এসে পড়ল সুনন্দার গায়ে। গায়ের রেনকোটটা ভালো করে জড়িয়ে নিল সে। এই বিরাট কবরস্থানে বৃষ্টি এলে দাঁড়িয়ে যেতে সমস্যা হবে না কিন্তু তেমন বৃষ্টি হলে এদিকটায় জল দাঁড়িয়ে যেতে পারে। বাড়ি ফেরাটা মুশকিল হবে। কেন যে পায়েলের পাল্লায় পড়ল…

    চার্চটাকে পাশ কাটিয়ে জমির উপর দিয়ে এগিয়ে এল দু’জনে। এদিকটায় আলো অপেক্ষাকৃত কম। সামান্য আলোর হেরফেরে কবরস্থানের চেহারা কতটা পালটে যেতে পারে সেটা না দেখলে বিশ্বাস করতে পারত না সুনন্দা

    মোবাইলের আলোটা জ্বেলে সেটা নিচু করে ধরে সমাধিগুলোকে পাশে ফেলে কবরস্থানের শেষের দিকে হেঁটে গেল ওরা। মাটিতে দেখেশুনে পা ফেলতে হচ্ছে। একে জায়গাটা কাদায় পিছল হয়ে আছে তার উপরে মাটিতে পড়ে থাকা ডালপালা যে কোনো সময় পায়ের উপর আঁচড় কাটতে পারে। চাঁদ আর মোবাইলের সাদা স্তিমিত আলোই একমাত্র ভরসা।

    বেশ কসরত করে মসগ্রুপ পরিবারের মসোলিয়ামের সামনে আসতে আধঘণ্টা লেগে গেল ওদের। রেডিয়াম ডায়ালের ঘড়িতে সময় দেখল পায়েল। রাত সাড়ে এগারোটা হয়েছে সবে। এর মধ্যেই গোটা এলাকাটা মরার মতো ঘুমে ডুবে গেছে।

    এক’পা এক’পা করে কাদার উপরে পা দিয়ে মসোলিয়ামের দরজার সামনে চলে এল পায়েল। একটু ইতস্তত করে সুনন্দাও পা বাড়াল।

    ছোট গ্রানাইটের ঘরটাও যেন গোটা চকদীঘি গ্রামের মতোই ঘুমিয়ে আছে। শুধু তার ঘুমটা একটু দীর্ঘ। অন্তত দু’শো বছর ধরে ঘুমের আড়ালে কিছু একটা রহস্য লুকিয়ে রেখেছে সে।

    “ভয় লাগছে নাকি?” সুনন্দার দিকে তাকিয়ে সরু গলায় জিজ্ঞেস করে পায়েল।

    “হুঁ, তবে ভূতের না। কেউ দেখে ফেললে ঝামেলা হবে সেই ভয়।” পকেট থেকে চাবিটা বের করে পায়েল। সেই সঙ্গে একটা সাঁড়াশির মতো দেখতে যন্ত্র। সুনন্দা অবাক হয়ে সেটার দিকে তাকিয়ে বলে, “ওটা কী হবে?”

    “মসোলিয়াম সাধারণত সিল করে দেওয়া হত। সেটা হাত দিয়ে খোলা যাবে বলে তো মনে হয় না। আলোটা ধরো তো দেখি।”

    সুনন্দা আবার আলোটা জ্বেলে তালাটার উপরে ধরে। চারপাশটা আর একবার দেখে নেয়। যদিও আলোটা জোরালো নয় আর চার্চের এদিকটায় কোনো জানালা নেই। তাও কেউ দূর থেকে তাকালে দেখতে পাবে আলোটা। মোটা চেনগুলোর সঙ্গে জড়ানো আছে তালাটা। যেন দু’টো মানুষেরই হাত মসোলিয়ামের দু’পাশ থেকে বেরিয়ে এসে ঘিরে রাখতে চাইছে দরজাটাকে।

    তালার ভিতরে চাবি ঢুকিয়ে কিছুক্ষণ খুটখুট করল পায়েল। তালা এত সহজে খোলার নয়। হঠাৎ সুনন্দার মনে হয় তাদের ঠিক পিছনেই যেন কেউ এসে দাঁড়িয়েছে। গাছের ডালপালার উপরে পায়ের আওয়াজ হতেই সে ফিরে তাকালো। আলোটা ঘুরে গেল সেদিকে।

    নাঃ কেউ তো নেই। আগের মতোই খাঁখাঁ করছে কবরস্থানটা। দূরে চার্চের আলোটা আর দেখা যাচ্ছে না এখানে থেকে। একটু দূরে পাশের সমাধির পিলারটা এখনও আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে ঠায়। তাহলে কার পায়ের আওয়াজ শুনলো এক্ষুনি? মনের ভুল?

    আলোটা ঘুরে যেতে একটু বিরক্ত হল পায়েল, “আরে কী হল? প্রায় কায়দা করেই ফেলেছি।

    আরও মিনিট তিনেকের চেষ্টার পরে বেশ জোরে ঘড়াং করে একটা আওয়াজ করে খুলে গেল তালাটা। পায়েল হাত দিয়ে টেনে চেনগুলো দু’পাশে সরিয়ে দিতে দরজাটা চোখে পড়ল। যেখানে চেনগুলো ঝুলে ছিল তার চারপাশে বেশিরভাগটা ধুলো আর শ্যাওলায় ঢেকে গেছে। তার নিচে আবার এলিজাবেথ মসত্রুপের নামটা লেখা। পায়েল কিছুক্ষণ ভুরু কুঁচকে সেদিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “একলা মানুষের জন্যে মসোলিয়াম বানানো হয় না। মেয়েটার বাবা মা কীভাবে মারা গেল কে জানে।”

    তালাটা যেখানে ঝুলছিল তার ঠিক নিচেই একটা লোহার কড়া লাগানো। দরজার দুটো পাল্লাকে একসঙ্গে ধরে রেখেছে সেটা। হাতের যন্ত্রটা বের করে সেটার নিচে একবার ধরল পায়েল। তারপর একটা বড়সড় নিশ্বাস নিয়ে চাপ দিল তাতে। কোনো নড়চড় হল না। জং ধরে শক্ত হয়ে এঁটে গেছে সেটা।

    সুনন্দা একটু নিচু স্বরে বলল, “পায়েল, পরে একদিন আসা যাবে না হয় আজ ফিরে চল।”

    “তুমি এত বেকুবের মতো ভয় পাচ্ছ কেন বলতো?” পায়েল আংটায় চাপ দিতে দিতে দম ধরা গলায় বলল।

    “কি জানি, মন বলছে যা হচ্ছে তাতে কারও ভালো হবে না। এতদিন আগের একটা ব্যাপার। সেটা নিয়ে আমরা নাই বা টানা হেঁচড়া করলাম। সেই সময় যা ঘটেছিল তাতে যেই দায়ি থাক না কেন সে আজ বেঁচে নেই।”

    “আর শশিভূষণ সরকার? তার খুনটা তাহলে হল কী করে?”

    “খুন যে হয়েছে সেটা আমাদের ধারণা। এমনও হতে পারে ভদ্রলোক সত্যি সুইসাইড করেছিলেন। আমরা অকারণেই অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ছি।”

    “মানে তুমিও স্বীকার করছ আমাদের চারপাশে এমন একটা কিছু আছে যেটা অন্ধকার। এই জমিদারবাড়িকে জড়িয়ে কিছু একটা লুকিয়ে রাখা আছে। সেটা যদি থাকতে পারে ঢিল ছুঁড়তে অসুবিধা কোথায়?”

    সুনন্দা আর কিছু না বলে একটু পিছিয়ে দাঁড়াল। একটা হেঁচকা টানে আংটাটা তুলে আনল পায়েল। তারপর একটা পায়ে ভর দিয়ে আর একটা পা সামনে রেখে দু’হাতে ঠেলা দিল শ্বেতপাথরের ফলক করা দরজাটায়। সুনন্দা এসে হাত লাগালো।

    খানিক ঠেলাঠেলির পর একদিকের পাল্লাটা আড় হয়ে খুলে গেল। বাইরে থেকে মোবাইলটা দিয়ে ভিতরে আলো ফেলল সুনন্দা। প্রথমটা প্রায় কিছুই দেখা গেল না। তারপর একটু একটু করে ভিতরের খানিকটা পরিষ্কার হল তাদের চোখের সামনে।

    ভিতরের সব জায়গাটা মিলিয়ে তিন স্কোয়ার মিটারের মতো একটা ঘর। তার সমস্তটাই শ্বেতপাথরে বাধানো। মাকড়সার ঝুল উপর থেকে নিচ অবধি মশারির মতো ছেয়ে রয়েছে। ভিতরে একসঙ্গে দু’জনের বেশি মানুষের দাঁড়াবার জায়গা নেই।

    মুখ বাড়িয়ে একবার ভিতরটা দেখে নিয়ে পাল্লাটা পেরিয়ে এল পায়েল। সুনন্দার হাত থেকে আলোটা নিয়ে সেটা মেঝের দিকে ফেলল। পুরু ধুলোর আস্তরণে ঢেকে আছে মেঝেটা।

    দু’ধারে মেঝে যেখানে শেষ হচ্ছে সেখান থেকে কফিন ঢোকানোর জন্যে ছোট ছোট থাক করা আছে। মোট তিনটে থাক। দুটো বাঁদিকের দেওয়ালে একটা ডানদিকের দেওয়ালে। থাকগুলো শেষ হতেই দু’দিকের দেওয়ালে তিনটে করে মোট ছ’টা খুপরি করা আছে। পায়েলের হাতের আলো গিয়ে পড়তে দেখা গেল সেই খুপরির ভিতরে কতগুলো দলা পাকানো নষ্ট হয়ে যাওয়া হাত-পা ভাঙা পুতুল।

    “এগুলো সম্ভবত এলিজাবেথ মসক্রপের খেলনা। বাচ্চা মরে গেলে তার প্রিয় খেলনাগুলো রেখে দেওয়া হত মসোলিয়ামের ভিতরে। পিরামিডের ইনফ্লুয়েনস বলতে পারো।”

    পুতুলগুলোর দিকে তাকিয়ে বুকের ভিতরটা ছ্যাঁত করে উঠল সুনন্দার একসময় একটা বছর পাঁচেকের বাচ্চামেয়ের খেলার সাথী ছিল সেগুলো। কয়েকশো বছর ধরে ওভাবেই পড়ে আছে অন্ধকারে। কেউ খেলে না তাদের নিয়ে। এলোমেলো চুল, স্থির ঘোলাটে চোখে তাকিয়ে আছে সুনন্দার দিকে।

    উবু হয়ে নিচের একটা থাকের সামনে বসে পড়ল পায়েল। তারপর গলাটা অনেকখানি নিচে নামিয়ে বলল, “এগুলো হল ক্রিপ্ট। এর ভিতরে ঢোকানো হয় কফিনগুলো। আজীবন ধরে এই ক্রিপ্টের মধ্যেই থেকে যায় তারা।”

    “তার মানে এখানে তিনটে মৃতদেহ আছে?”

    “উঁহু, তার মানে মসক্রপ পরিবারের মোট সদস্য তিনজন। বাবা মা আর একটি মেয়ে।”

    “কিন্তু মেয়ে মসক্রপ তো…”

    “আপাতত ধরে নাও পুনর্জন্ম হয়েছে অ্যাজ লীলাবতী দত্ত। আমার গ্রেট গ্র্যান্ড মাদারের গ্রেট গ্র্যান্ড মাদারের উত্তরজন্ম আমার সামনে। ইটস গেটিং স্পুকি।”

    কথাটা বলে একটু হাসল পায়েল। তারপর আলোটা একবার ঘোরালো চারিদিকে। দরজার ঠিক উলটোদিকে একটা মিটার দুয়েকের দেওয়াল। দু’পাশে ক্রিপ্ট থাকায় তার অল্প খানিকটা চোখে পড়ে। সেখানে শ্বেতপাথরের উপরে রঙিন পাথরের কাজ করা আছে। সেদিকে এগিয়ে গিয়ে কিছুক্ষণ চোখ মেলে, কিছু খোঁজার চেষ্টা করে। শেষে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলে, “ক্রিশ্চানদের রীতি অনুযায়ী যেখানে একটা বাচ্চামেয়ের সমাধি আছে সেখানে বিশেষ কিছু সিমবল্ থাকার কথা। ভেড়া, ক্রস, হার্ট কিন্তু তার বদলে এখানে যা দেখতে পাচ্ছি সেগুলো খুব একটা সুবিধের নয়।”

    “কী দেখতে পাচ্ছ?”

    দেওয়ালের দিকটায় সরে আসে সুনন্দা। তার নিঃশ্বাস পড়ছে এখন পায়েলের কাঁধে।

    দেওয়ালের ঠিক মাঝ বরাবর একটা বড় গোল করা। তার ভিতরেই খোদাই করা আছে চিহ্নগুলো। কয়েকটা পাখির মুখ, গুল্মলতা, ভালো করে তাকিয়ে একটা চিহ্ন দেখে একটু অবাক হল সুনন্দা। বিড়বিড় করে বলল, “একটা ড্রাগনও আছে দেখছি।”

    পরক্ষণেই মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল, “চল, এবার ফেরা যাক।”

    “ফিরব!” বিস্ময়মাখা গলায় বলল পায়েল, “এখনও তো আসল কাজই করা হয়নি।”

    “কী কাজ?”

    আর উত্তর না দিয়ে মাটির উপরে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল পায়েল। তারপর আবার আলোটা সামনে ধরে ক্রিপ্টগুলোর উপরে কিছু একটা খুঁজতে লাগল।

    “কী খুঁজছ বলতো তুমি?”

    “একটা চিহ্ন। বাইরে যেটা ছিল। লোটাস উইথ থ্রি পেটালস।”

    কথাটা বলেই হাতের আলোটা একটা ডানদিকের ক্রিপ্টটার একদম নিচের দিকে নিয়ে গেল সে। তার মুখে একটা হাসির রেখা খেলে গেল।

    “অ্যাণ্ড হিয়ার ইট ইজ।”

    সুনন্দাও মাটির উপরে বসে পড়ে দেখল ক্রিপ্টের গায়ে সত্যি খোদাই করা আছে চিহ্নটা। একটা ছোট গোলের ভিতরে একটা তিন পাপড়ির পদ্ম।

    “খুলতে হবে এটা!”

    “কী খুলবে?” অবিশ্বাসের গলায় জিজ্ঞেস করে সুনন্দা।

    “কী আবার, এই ক্রিপ্টটা। এর জন্যেই এত ঝামেলা করে এখানে আসা।”

    “তুমি কি খেপেছ? আর কিছু না মানো অন্তত মৃত মানুষের প্রতি একটু তো সম্মান দেখাও।”

    “এর ভিতরে কোনো মৃত মানুষ নেই সুনন্দাদি। ভিতরে যা আছে সেটাকে রক্ষা করার জন্যেই কেউ বানিয়েছিল এই ক্রিপ্টটা।”

    “যদি থাকে? তাহলে কী হবে?”

    “অন্তত গ্রেভ ডিগিং-র জন্যে তোমাকে পৈতে ছিঁড়ে অভিশাপ দেবে না।”

    রাগ মাথায় উঠে গেল সুনন্দার, সে হিসহিসে স্বরে বলল, “সমস্ত ব্যাপারটা তোমার কাছে মজার? তাই না? দেখ, এসব তোমাদের বংশের ব্যাপার তুমি বুঝবে। আমাকে একটা বাচ্চামেয়ের দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার বেশি কিছুতে জড়াতে চাই না আমি।”

    “বেশ, জড়িও না। আমি তো জোর করিনি তোমাকে।”

    শান্ত গলায় কথাটা বলে আবার ক্রিপ্টের দিকে মন দিল পায়েল। সুনন্দা কী করবে বুঝতে পারল না। এই অবস্থায় পায়েলকে এখানে ফেলে ফিরতে ভয় করছে তার। একটু আগে যেভাবে জোর গলাতে কথাটা বলেছে তাতে খানিকটা ভয় তার নিজেরও লাগছে। কয়েক সেকেন্ড সেখানেই দাঁড়িয়ে থেকে একটুখানি বাইরের দিকে সরে এল সুনন্দা। মুখে বলল, “বেশ, তোমার যা করার আছে করে নাও। একসঙ্গেই ফিরব।”

    আর কোনো উত্তর পাওয়া গেল না। মসোলিয়ামের ভিতরটা ঘুপচি। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে শ্বাস আটকে আসে। একটু আগের লোহার যন্ত্রটা নিয়ে চাড় দিয়ে ক্রিপ্টের শ্বেতপাথরের আবরণটা সরিয়ে ফেলে পায়েল। ভিতরে কোনো নাম লেখা নেই। একটা ভ্যাপসা গন্ধ এসে লাগে তার নাকে। সোজা হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসে সে।

    একেই নিঃশ্বাসের অসুবিধা তার উপরে বিশ্রী গন্ধ। কপালের জমা ঘাম রুমাল দিয়ে মুছে নেয়। বড় কয়েকটা নিশ্বাস নেয়। একটু দূরেই দাঁড়িয়ে আছে সুনন্দা। মাঝে মাঝে পায়চারি করছে। তার শরীর জুড়ে একটা ছটফটানি ভাব। পায়েল তার থেকে অনেকটা শান্ত।

    কিছুক্ষণ পরে ঘড়িতে সময় দেখে আবার ভিতরে ঢুকে আসে পায়েল। গন্ধটা এতক্ষণে একটুখানি কমে এসেছে। আবরণটা সরিয়ে রাখা আছে একপাশে।

    আবার মেঝের উপরে বসে পড়ে সে। আলোটা ভিতরের দিকে ফেলে• দেখতে পায় কফিনটা। তার গায়ে কোনো হাতল নেই। সাবধানে সেটাকে চেপে ধরে একটু একটু করে টেনে বাইরে আনে পায়েল। ধুলোর উপর দিয়ে ঘসঘস্ করে আওয়াজ হয় একটা। কফিনটা খুব একটা ভারী নয়। ভিতরে তেমন কিছু নেই তা বোঝা যায়। মৃতদেহও যদি রাখা হয়ে থাকে এত বছর পরে তার আর ওজন থাকার কথা নয়।

    একটা ক্ষীণ যন্ত্রণা শুরু হয়েছে পায়েলের মাথায়। যেন বহু দূর থেকে কেউ বাঁশি বাজাতে শুরু করেছে। বাজিয়েই চলেছে একটানা। সুরের মধ্যে কিছু কথা লুকিয়ে আছে যেন। কেউ কি কিছু বলতে চায়?

    মাথায় একবার হাত রেখে যন্ত্রণাটা কোথায় বোঝার চেষ্টা করে পায়েল। মনে হয় আর একটু পরেই সে মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। ইচ্ছা করে গলা তুলে একবার সুনন্দাকে ডাকতে কিন্তু পরমুহূর্তেই সংবরণ করে নিজেকে

    কফিনের ডালাটা একটা আংটায় আটকানো ছিল। সেটায় জং ধরে গেছে। হাতের যন্ত্রটা সেখানে গলিয়ে জোরে চাপ দেয় পায়েল। সেটা খোলে না। চড়চড় করে একটা আওয়াজ শোনা যায় শুধু। অদম্য জেদ পায়েলের ক্লান্ত শিরায় আচমকাই অমানুষিক শক্তি এনে দেয়। আবার আংটায় জোরে চাপ দেয় সে। এবার অন্য একটা আওয়াজ। জং ধরা হুকটা খুলে গেছে। সেটা ভেঙে নিচে পরে যায়। ডান হাত দিয়ে ডালাটা ধরে সেটা খুলে ফেলে। আলোটা এখনও পড়েনি কফিনের ভিতরে। কিছু দেখা যায় না সেখানে।

    মোবাইলটা তুলে ধরে কফিনের ভিতরে আলো ফেলে পায়েল। সঙ্গে সঙ্গে সে চমকে ওঠে।

    না। তার আন্দাজ মেলেনি। কফিনের ভিতরে শোয়ানো আছে একটা শেষ হয়ে প্রায় মিলিয়ে আসা ফুট চারেক হাড়ের কাঠামো।

    যেহেতু সেটা কফিনের মধ্যে ছিল তাই মানুষ বলে ধরে নেওয়া যায় তাকে তবে আকৃতি দেখে এও বোঝা যায় সেটা পূর্ণবয়স্ক মানুষের না। কোনো বাচ্চার। একটা খুলি, মাটিতে নুয়ে পড়া পাঁজরা আর হাঁটু অবধি পা

    পায়েলের মাথার যন্ত্রণাটা এখন তীব্রভাবে বেড়ে উঠেছে। আর দূরে নয়, খুব কাছ থেকেই যেন কেউ ডাকছে তাকে। মসোলিয়ামের ভিতরের অন্ধকার চিরে ক্রমে ফুটে উঠছে একটা লাল আলো। মিলিয়ে যাচ্ছে পরক্ষণেই।

    কোমর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে পড়ে যাবার আগেই কফিনের ভিতরে আর একটা জিনিস চোখে পড়ে পায়েলের। তার মুখ দিয়ে একটা চিৎকার বেরিয়ে আসে। প্রাণপণে শব্দ করে সুনন্দাকে ডাকতে চায় সে।

    চিৎকারটা শুনেই সুনন্দার শরীরে একটা শিহরণ খেলে যায়। সে প্রায় এক নিঃশ্বাসে দৌড়ে এসে দাঁড়ায় ছোট ঘরটার ভিতরে।

    পুতুলগুলো যেন ভয়ার্ত চোখে এখন চেয়ে আছে মাটির দিকে। সেদিকে তাকিয়েই পায়েলকে মেঝের উপরে পড়ে থাকতে দেখল সুনন্দা। সামনেই পড়ে থাকা কফিনটার ডালা খোলা। সুনন্দার নার্ভগুলো শিথিল হয়ে আসছিল। তাও কোনোরকমে কফিনের ভিতরে চোখ দেয় সে।

    বাচ্চার দেহাবশেষটা চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে অন্য জিনিসটাও। নিচু হয়ে কাঁপা-কাঁপা হাতে সেটা তুলে নিয়ে আলোর কাছে ধরে সুনন্দা। একটা খাতা খুব সম্ভবত একটা ডায়েরি।

    সাবধানে দু-একটা পাতা উলটেই বুঝতে পারে সুনন্দা। পুতুলের সঙ্গে সঙ্গে এটাকেও কবর দেওয়া হয়েছিল মৃত মেয়েটার সঙ্গে। তবে আলাদা করে নয়। কফিনের ভিতর, মালকিনের সঙ্গেই এলিজাবেথ মসগ্রুপের ডায়েরি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article হেঁটে যাই জনমভর – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সায়ক আমান

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }