Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প344 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তার চোখের তারায় – ৭

    সপ্তম অধ্যায়

    সকালে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙতে বিছানার উপরে উঠে বসল তুলি। কি সুন্দর সকাল! সে তাকাল জানালার দিকে। চমৎকার রোদ আসছে। মেঝের উপরে আলোছায়ার নকশা এঁকেছে রোদটা। তুলির মনে হল রোদটা যদি আর একটু বড় হত তাহলে ওর উপরে পা রেখে দিব্যি চু-কিতকিত খেলা যেত। রোদের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে বিছানার উপর তাকাল তুলি। একটু অবাক হল সে। কাল রাতে মালতীদিদির কাছে শুয়েছিল। আজ সকালে কীভাবে জানি নতুনদিদি শুয়ে পড়েছে পাশে। আরে! এই বিছানাতেই তো রাতে শোয়নি। মাঝরাতে কি তবে কেউ কোলে করে নিয়ে এল তাকে? নাঃ তুলির কোলে উঠতে একেবারে ভালো করে না। বাচ্চামেয়েরা কোলে ওঠে।

    সুনন্দা পাশ ফিরে ঘুমিয়েছিল। তার মুখের দিকে আর একবার দেখে নিয়ে বিছানা থেকে নেমে আসে তুলি। একবার জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। মনটা নেচে ওঠে তার। কয়েকটা পাতি হাঁস মানুষে চলা পথ দিয়ে দুলে দুলে হেঁটে দীঘির দিকে রওনা দিয়েছে। কাল রাতের বৃষ্টিতে সমস্ত মাটি কাদায় ভরে গেছে। সেই মাটি পায়ে লেগে যাচ্ছে তাদের, বিরক্ত হয়ে হাঁসগুলো প্যাকপ্যাক করে ডেকে উঠছে বারবার। ভারী মজার ব্যাপার।

    সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তুলির মনে হয় খুব খিদে পেয়েছে। নতুনদিদি যেভাবে ঘুমোচ্ছে তাতে এখন তাকে ঘুম থেকে তুলতে ইচ্ছা করল না তার। বরঞ্চ মালতীদিদিকে খুঁজে বের করতে হবে কোথাও থেকে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলটা একবার আঁচড়ে নিয়ে বারান্দায় চলে এল সে। তারপর সিঁড়ি দিয়ে নেমে সাবধানে চাতাল পেরোল। দক্ষিণের প্রাসাদে একতলায় রান্নাঘর। কাদা ডিঙিয়ে সেদিকে চলে এল। কাল একবার উঁচু তাকে রাখা বিস্কুটের ডিবে দেখেছিল। সেইটা খেতেই এখন লোভ হয়েছে।

    রান্নাঘরের দরজা খোলার আগেই কীসের যেন একটা গন্ধ এল নাকে। এ গন্ধটা আগে সে পায়নি কোনোদিন। রান্নাঘরের ঢোকার আগেই মধুবাবুকে চোখে পড়ল। তিনিও ঘুমচোখে এদিকেই আসছেন। তুলিকে দেখে তিনি একবার ভুরু নাচালেন। তুলি একগাল হেসে রান্নাঘরের দরজা খুলে ফেলল—

    এত সকালে বাচ্চা মেয়েটাকে এখানে দেখবেন ভাবতেই পারেননি মধুবাবু ভোরবেলার চা-টা এখনও দিয়ে গেল না মালতী। সকালে উঠে বেশ খানিকটা বিরক্তই হয়েছিলেন। কিছুক্ষণ মালতীকে খুঁজলেন তারপর সনাতনকে। শেষে কাউকেই না পেয়ে নিজে বেরিয়ে এলেন চায়ের জল বসাবেন বলে। সারাক্ষণের ইউনিফর্মটা গায়ে গলানো হয়নি। শুধু একটা স্যান্ডো গেঞ্জি আর লুঙ্গি চাপালেন গায়ে। তুলিকে রান্নাঘরে ঢুকতে দেখে তিনি একবার ভুরু নাচালেন

    আজ মালতীর শরীরটা ভালো নেই। সে যে কালরাতে বাড়ি না ফিরে উত্তর মহলে থেকে গিয়েছিল সেটা সনাতন জানে। খানিকটা রাগ করেছে বাবা সেটা মুখ দেখে বুঝেছে মালতী। মাঝরাতে পায়েল আর সুনন্দা ফিরতে ঘুমন্ত তুলিকে সুনন্দার কাছে দিয়ে সুনন্দার পাশের ঘরেই শুয়ে পড়েছিল সে। তখন ঘুম ভেঙে যাওয়ায় সকালে ঘুম থেকে উঠতে বেশ দেরি হয়েছে। তার উপরে বাইরে একটু একটু ঠান্ডা পড়েছে যেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে পড়ল মালতী। কে জানে বকা শুনতে হবে হয়তো মধুবাবুর কাছে

    সনাতন যে ঘরে শোয় তার ছাদ থেকে বৃষ্টি হলে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে। ফলে কাল রাতে নিজের ঘরে শুতে পারেনি সনাতন। শশাঙ্ক নিজেই এসে ডেকে নিয়ে গেছিল তাকে। অনেকদিন পর কাল রাতে এ বাড়িতে থাকতে একেবারেই ইচ্ছা করেনি সনাতনের। নিজের বাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছা করছিল। কাল রাত থেকেই মনটা কুডাক ডাকছে। কে জানে? এমনটা তো খুব একটা হয় না তার আজ তাহলে কী হল? শুয়ে শুয়ে এইসব ভেবেই উঠে পড়ে সনাতন

    সকালের দিকে একবার ঘুম ভেঙেছিল শশাঙ্কের। আড়চোখ একবার সময় দেখল সে। সনাতনদার বিছানা খালি। পাশ ফিরে আবার ঘুমিয়ে পড়ল সে

    ক্ষেত্রমোহন বিছানা ছেড়ে উঠে এসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন, একবার। গিরিজা এখনও শুয়েই আছে বিছানায়। ঘুমোচ্ছে। ঘুমাক, যতক্ষণ চোখ বুজে থাকে ততক্ষণই শান্তি। কবে যে আপদ ঘাড় থেকে নামবে।

    আশপাশ দেখেও ছেলেকে দেখতে পেলেন না ক্ষেত্রমোহন। সাতসকালে গেল কোথায়? অতীনকে খুঁজতে বাইরে বেরিয়ে এলেন তিনি—

    দরজা খুলেই ছিটকে বেরিয়ে এল তুলি। তার মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে একটা ভয়ার্ত আর্তনাদ। দু’হাতে মুখ ঢেকে মাটির উপরেই পড়ে গেল সে। একটু ঘাবড়ে গেছিলেন মধুবাবু। দ্রুতপায়ে এগিয়ে এলেন তিনি, মাটি থেকে তোলার চেষ্টা করলেন, “কী হয়েছে মা?”

    তুলি কিন্তু উঠল না। সে একটু একটু করে পিছোতে শুরু করেছে। তার চোখ থেকে আহত পশুর মতো যন্ত্রণা ঝরে পড়ছে, “ভি… ভিতরে… ও মাগো…” ডুকরে কেঁদে উঠল তুলি। তারপর উঠে দাঁড়িয়েই দৌড় দিল বাইরে।

    কৌতূহল হতে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন মধুবাবু। এতটা ভয় পেল কেন মেয়েটা? কিছু কি দেখেছে ভিতরে? আরশোলা জাতীয় কিছু? দরজাটা আড় করে খোলাই ছিল। এবার ঠেলা দিয়ে সেটা খুলে ফেললেন মধুবাবু। সঙ্গে সঙ্গে একটা বিদ্যুৎ তরঙ্গের ঝটকা তার পা দুটো কাঁপিয়ে দিল। কোনোরকমে নিজেকে সামলে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি।

    ঘরের ভিতর কাল রাতের এঁটো বাসনকোসনের মধ্যে মাথা গুঁজে পড়ে আছে একটা লাশ। মাথাটা থেঁতলে দিয়েছে কেউ। মুখটা আর চেনা যায় না। কোমর অবধি ঢেকে আছে টকটকে লাল রক্তে। জামাকাপড় আর চেহারা দেখে চেনা যায় লাশটা কার। ক্ষেত্রমোহনের ছেলে–অতীন।

    *****

    জমিদারবাড়ির সামনে যখন পুলিশের জিপটা থামল তখন বেলা প্রায় দশটা। একটু আগেই জামালপুর থানার পুলিশ এসে দেখে গেছে জায়গাটা। পোস্টমর্টেমের জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বডি। প্রবীণ ইন্সপেক্টার কেশব শর্মা দুটো হাত পিছনে রেখে ভালো করে দেখতে লাগলেন বাড়িটা। পিছনে একজন কনস্টেবল দাঁড়িয়ে ছিল, তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “ছেলেটার বয়স কত বললে?”

    “চোদ্দ কি পনেরো।” কনস্টেবল তৎক্ষণাৎ জবাব দেয়।

    “ওঃ, আর মার্ডারটা কীভাবে হয়েছে বললে।”

    “মাথা থেঁতলে দিয়েছে কেউ। ব্লাজন কেস স্যার।”

    “দিনদিন মানুষ শালা কেমন যেন শুয়োরের বাচ্চা হয়ে যাচ্ছে। যাই হোক, চলো।”

    কনস্টেবল আর শর্মা ভিতরে ঢুকে এলেন। আরও দু-একজন কনস্টেবল ও ডাক্তারকে চোখে পড়ল। সঙ্গে বাড়ির কয়েকজন লোককেও। শর্মাকে দেখে মাঝবয়সী এক ভদ্রলোক এগিয়ে এলেন। ভিতরের ঘর থেকে চিৎকার চেঁচামিচি কানে আসছে। সেই সঙ্গে কান্নার আওয়াজও। শর্মা হাতটা একবার “বুকের কাছে জড়ো করে বললেন, “কেশব শর্মা সি.আই.।”

    কনস্টেবলের সঙ্গে ঘরের দিকে এগিয়ে যান শর্মা। এতক্ষণে সেটা সিল করে দিয়েছে পুলিশ। শর্মাকে দেখে বাকি দু’জন কনস্টেবল সরে দাঁড়ালেন। দরজার উপরের হলুদ ফিতে সরিয়ে ভিতরে ঢুকে এলেন শর্মা।

    বডিটা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এতক্ষণে। মেঝের উপরে রক্তের দাগ অবশ্য এখনও চোখে পড়ে। সেখানে গিয়ে একটু থমকে দাঁড়ালেন শর্মা। তারপর মাটির উপরে উবু হয়ে বসে চকে আঁকা বডির অবস্থানটা দেখার• চেষ্টা করলেন।

    “স্ট্রেঞ্জ!” ভুরু দুটো কুঁচকে উঠল তার।

    “কী হয়েছে স্যার?” কনস্টেবল জিজ্ঞেস করল।

    “সামওয়ান ব্যশড হিজ হেড। বাট দেয়ার ইজ নো সাইন অফ স্ট্রাগল।” রান্নাঘরের র‍্যাকের উপর রাখা থালা-বাসনগুলো দেখালেন তিনি, “বাসনগুলোও পরিপাটি করে সাজানো। বাইরে পায়ের দাগ দেখলে? দু-একটা আছে তবে সেগুলো বডি ডিস্কভার হওয়ার তুরন্ত পরে যারা বাইরে থেকে এসেছিল তাদের। স্পিকিং অফ হুইচ, তারা কারা? “

    “সেটা আমি ঠিক জানি না স্যার।” কনস্টেবলটি মাথা নামিয়ে নেয়। মধুবাবু দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। ইন্সপেক্টার তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “খুনটা প্রথম দেখে কে?”

    “তুলি। আমিও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে ঢুকি। ও রক্ত দেখেই ছুটে পালিয়ে যায়। আমি দেখে চিৎকার করে বাকিদের জানাই।”

    “সবার আগে কে আসে?”

    “মালতী, তারপর সনাতন।”

    “ততক্ষণ আপনি ডেডবডির সঙ্গেই ছিলেন?”

    “না…” একটু ইতস্তত করেন মধুবাবু, “…মানে ঘরের বাইরে ছিলাম। অত রক্ত… ওইটুকু ছেলে…”

    “পুলিশে কে খবর দেয়?”

    “শশাঙ্ক। আসলে ওই এসব ব্যাপার দেখাশোনা করে।”

    “কীসব ব্যাপার? কেউ মরে গেলে পুলিশে খবর দেওয়া?”

    “অ্যা? না না। মানে ব্যাঙ্ক, থানা এসব জায়গায় ওই যায় সাধারণত।”

    “তাকে একটু পাঠিয়ে দিন। এই ছেলেটা রাতে কার সঙ্গে ছিল?”

    “ওর বাবার সঙ্গেই তো শোয় যতদূর জানি। “

    “বেশ। তার কন্ডিশান কেমন? একটু কথা বলা যাবে?”

    মাথায় একবার হাত বোলান মধুবাবু, “ব্যাটাছেলে তো, হয়তো বলতে পারবেন। তবে ছেলেটার মা খুব ভেঙে পড়েছে।”

    “দ্যাটস ভেরি ন্যাচারাল।”

    ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন ইন্সপেক্টার। তিনজনে পা বাড়ালেন সিঁড়ির দিকে। প্রাসাদের অন্য বাসিন্দারা বেরিয়ে এসেছে ঘর থেকে। পুলিশ দেখে অবশ্য পরপর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জানালাগুলো। শর্মার গায়ে ইউনিফর্ম নেই। তবে তার চেহারায় এমন একটা ভারিক্কি ভাব আছে যে আশেপাশে কনস্টেবল পরিবৃত হয়ে রীতিমতো গমগমে পরিবেশ সৃষ্টি করে।

    “বডি নিয়ে প্রোভিশানালি কিছু বলেছে ফরেন্সিক?” পাশে হাঁটতে থাকা কনস্টেবলের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন শর্মা।

    “মাল্টিপেল উন্ডস। সবই ফ্রন্টে। সম্ভবত মাথার চুল ধরে বারবার দেওয়ালে ঠুকেছে।”

    ‘সেটাই আমি ভাবছিলাম, কিন্তু একটা ছোট প্রবলেম হচ্ছে।”

    “কীরকম প্রবলেম স্যার?”

    “মুঠো করে চুল ধরে যদি বারবার দেওয়ালে ঠুকতে থাকে তাহলে কিছু চুল মাথা থেকে উপড়ে হাতে চলে আসার কথা। অর্থাৎ যেখানে ঠোকা হয়েছে মাথাটা সেখানে ঘরের মেঝেতে কয়েকটা চুল পাওয়া যাবেই। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা এবসেন্ড। অবশ্য বাচ্ছাছেলের চুল একটু বেশি শক্ত হয়…

    কথাগুলো বলতে বলতেই ক্ষেত্রমোহনের ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পরেন মধুবাবু। পরদা সরিয়ে ভিতরে ঢুকে যান। কিছুক্ষণ কারও সঙ্গে কথা বলে বাইরে বেরিয়ে এসে চোখের ইশারায় ভিতরে ডেকে নেন শর্মাকে। ঘরের ভিতরে বাইরে কিছু লোকজন বসে শান্ত্বনা দিচ্ছিলেন ক্ষেত্রমোহনকে। তারা একে একে বাইরে বেরিয়ে যান। শর্মা কনস্টেবলদের বাইরে বসতে বলে ভিতরে ঢুকে যান।

    ভিতরটা এখন মোটামুটি শান্ত। গিরিজাকে খানিকক্ষণ আগেই ঘর থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রমোহনকে চোখে পড়ল ঘরের ঠিক মাঝে বিছানার উপরে বসে আছেন মাথা নিচু করে। চোখ দুটো লাল হয়ে ফুলে আছে।

    শর্মার কাছে অবশ্য এসব নতুন কিছু নয়। তিনি একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, “এসময়ে কথা বলতে পারবেন না জানি। আমি জাস্ট একটু ফলো আপ করেই চলে যাব।”

    উত্তর না দিয়ে মাথা নাড়লেন ক্ষেত্রমোহন। এখনও মুখ তুলে তাকাননি তিনি। গলার কাছে অনেকক্ষণ ধরে রক্ত খাচ্ছে একটা মশা। সেদিকে খেয়াল পড়ছে না তার।

    “আপনার ছেলে… আই মিন অতীন। কাল আপনার কাছেই শুয়েছিল?” আবার মাথা নাড়লেন ক্ষেত্রমোহন। তার কাঁধ ঝুঁকে পড়েছে। নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে খুব ধীরে ধীরে।

    “সকালে কখন ঘুম ভাঙে আপনার?”

    “সাড়ে সাতটায়।” ঘরঘরে গলায় জবাব দেন ক্ষেত্রমোহন।

    “তার মাঝে একবারও ঘুম ভাঙেনি।”

    উপরে নিচে মাথা নাড়েন ক্ষেত্রমোহন। সদর্থক। একটু নড়েচড়ে বসলেন শৰ্মা, “সময় দেখেছিলেন?”

    “দরকার হয় না। আমি বাথরুম করতে উঠি একবার সাড়ে চারটেয়।”

    “তখন ছেলেকে দেখতে পেয়েছিলেন?”

    “শুয়ে ছিল আমার পাশে। তখনও যদি একবার জানতাম…” ক্ষেত্রমোহনের গলা বুজে আসে। চোখ থেকে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে নিচে। পরমুহূর্তে সেটা মুছে নেন তিনি।

    শর্মা বিড়বিড় করে বললেন, “তার মানে খুন দিনের বেলা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে নয়।” তারপর মধুবাবুর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “বডি কখন দেখতে পান আপনারা?”

    মধুবাবু একটু ভেবে বললেন, “ওই পৌনে আটটা ধরুন।”

    “রক্ত যতদূর গড়িয়েছে তাতে অন্তত ঘণ্টাখানেক পড়ে ছিল বডি। মানে খুনটা হয়েছে প্রায় সাড়ে ছটা থেকে সাতটার মধ্যে।”

    আবার একবার গলা খাঁকারি দিয়ে শর্মা বললেন, “অত সকালে অতীম রান্নাঘরে কেন গিয়েছিল বলতে পারবেন?”

    দু’পাশে মাথা নাড়লেন ক্ষেত্রমোহন। বেশ কিছুক্ষণ গম্ভীর মুখ করে বসে থাকলেন শর্মা। তারপর উঠে পড়ে বললেন, “ছেলেটা যে বিছানায় শুয়েছিল সেখানটা একটু দেখতে হবে আমাকে।”

    “হ্যাঁ। আমি দেখাচ্ছি। এই ভিতরের ঘরটা।” বলে মধুবাবু উঠে পড়লেন। তারপর দ্রুত পায়ে ভিতরের ঘরের দিকে এগোতে এগোতে বললেন, “ও আর ওর বাবা এখানেই শোয়… মানে শুত।”

    পরদা সরানোই ছিল। ভিতরে ঢুকে এলেন শর্মা। বিছানাটা এখন ফাঁকা পড়ে আছে। চাদরটা দেখে বোঝা যায় রাতে দুটো মানুষ শুয়েছিল তার উপরে। বারান্দার দিকে জানলাটা খোলা আছে সেদিকে একবার উঁকি দিলেন শর্মা। উলটো দিকের প্যাসেজটা চোখে পড়ছে। এখন সেখানটা ফাঁকা।

    তিনি আবার বিছানার কাছে ফিরে এলেন। নিচু হয়ে বসে পড়লেন মেঝেতে। বিছানার নীচটা দেখার চেষ্টা করলেন। সেখানে চোখ রাখতেই কয়েকটা দোমড়ানো ছোট কাগজ চোখে পড়ল তার। ছোট, দলা পাকানো কাগজ। মাটির উপরে শুয়ে পড়ে সেটা বের করে আনলেন তিনি।

    কাগজগুলো দেখে বোঝা যায় কেউ কিছু লেখার পর দলা পাকিয়ে ফেলে দিয়েছে। সম্ভবত যা লিখেছিল সেটা পছন্দ হয়নি।

    হাতের চাপে কাগজটা সোজা করে নিলেন শর্মা। মন দিয়ে লেখাগুলো লক্ষ করলেন তিনি। কাঁপা কাঁপা হাতে কয়েকটা শব্দ লেখা আছে তাতে। শব্দগুলো পড়ে অবাক হয়ে গেলেন ইন্সপেক্টার— তার চোখের তারায়।”

    সব ক’টা কাগজে একই শব্দ একই ভাবে লেখা আছে। একটা বছর বারোর ছেলে খামোখা এই তিনটে শব্দ বারবার লিখে ছিঁড়ে ফেলবে কেন? অবশ্য এমনও হতে পারে এ ঘরের অন্য কেউ লিখে ফেলে দিয়েছে।

    তিনি মাটি থেকে উঠে পড়লেন। তারপর ঘরটা আর একবার খতিয়ে দেখে বেরিয়ে এলেন। মধুবাবু ক্ষেত্রমোহনের কাঁধে একটা হাত রেখে বললেন, “এখানে আর একা একা বসে থাকবেন না। চলুন, বাইরে সবাই আছে।”•

    “আমার ভালো লাগছে না। কে আমার ছেলেটার এমন করল বলুন তো, ওইটুকু বয়স। এত কষ্ট দিয়ে…”

    গলা ধরে এল ক্ষেত্রমোহনের। মধুবাবুকে হাতের ইশারায় এখানে থাকতে বলে ক্ষেত্রমোহনের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলেন শর্মা। বাড়িটা গুঞ্জনে ভরে আছে। প্রাসাদের দিক থেকে খাসনবীশকে হেঁটে আসতে দেখলেন শর্মা মুকেশ খাসনবীশ জামালপুর থানায় নতুন সাবইন্সপেক্টারে বদলি হয়েছে বছর তিনেক হল। যদিও জুনিয়ার অফিসার তাও ঝকঝকে স্মার্ট চেহারার জন্যে এর মধ্যেই নাম কামিয়ে ফেলেছে। শর্মাও স্নেহ করেন তাকে।

    শর্মাকে দেখে এগিয়ে এল মুকেশ। তারপর গম্ভীর গমগমে গলায় জিজ্ঞেস করল, “আপনাকেও এখানে ঠেলেছে?”

    “সকালে মেয়েকে আঁকার স্কুলে দিতে গেছিলাম, জান? ফোন করে বলল একটা ব্রুটাল মার্ডার হয়ে গেছে। শালা কোন দেশে আছি।”

    “তা যা বলেছেন, এখানে কোনো লিড পেলেন?” শৰ্মা আগেও লক্ষ করেছেন খাসনবীশ ডিউটিতে থাকলে অন্য কথা বিশেষ বলতে চায় না। এ স্বভাবটা ভালো লাগে শর্মার।

    “লিড তো পরের কথা। একটা জিনিস ভেবে তো কুল পাচ্ছি না হে…“ “মোটিভ?”

    “এক্সাক্টলি। মোটিভ। বারো বছরের একটা ছেলেকে নৃশংসভাবে মারা হল কিন্তু তার এপারেন্টলি কোনো কারণ নেই।”

    খাসনবীশ একটু ভেবে বলল, “এসব ক্ষেত্রে দেখেছি একটা কমন মোটিভ থাকে। এলিমিনেটিং দ্য আই উইটনেস।”

    “মানে ছেলেটা কিছু একটা ক্রাইম দেখে ফেলেছিল বলছ?”

    “হতে পারে।”

    “কিন্তু তেমন কোনো ক্রাইম এ বাড়িতে তো হয়েছে বলে শুনিনি।”

    “হয়েছিল। তবে বছর দশেক আগে। একটা প্রিজিউমড সুইসাইড। তবে সেটারও কোনো মোটিভ ছিল না।”

    “উঁহু…” একটু ভেবে মাথা দোলান শর্মা, “ধরে নিলাম সে ক্রাইমটা এ ছোকরা কোনোভাবে দেখে ফেলেছিল। তাহলে দশবছর পরে তাকে খুন করার দরকার পড়বে কেন? আর এ ছেলের যা বয়স তাতে ব্ল্যাকমেইলের থিওরিও লাগাতে পারবে না।”

    “তা জানি না তবে মোডাস অপারেন্ডি দেখে মনে হচ্ছে এ খুনি যেই হোক না কেন, দিস ইজ নট হিজ ব্রেকিং।”

    “মানে আগেও খুন করেছে বলছো?”

    সিঁড়ি ধরে একতলায় নামতে থাকে দু’জনে। খাসনবীশ আড় হয়ে নামতে নামতে বলে, “ব্যাপারটা কমপ্লিকেটেড। এ বাড়ির এক মহিলা এক চরিলেভেন্ট কিন্তু ইন্টারেস্টিং তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলছেন বছর খানেক আগে শশিভূষণ সরকার নামে এক ভদ্রলোক এ বাড়িতে কিছু কাগজপত্র নিয়ে সম্পত্তি দেখাশোনার দাবি জানাতে আসেন। পয়েন্ট টু বি নোটেড, লোকটা সম্পত্তির দাবি জানাতে আসেনি, দিন কতক পরে তিনিও সাস্পিসিয়াসলি সুইসাইড করেন।”

    “বাবা! এ তো সুইসাইডের লাইন লেগে গেছে। শুধু আজকের ব্যাপারটা হোমিসাইড। আচ্ছা এ বাড়িতে মোট কত লোক থাকে?”

    “প্রায় জনা তিরিশেক। তবে তাদের বেশিরভাগই পিছনের বিল্ডিংয়ে। কিছু শরীক আছে। কিছু অস্থায়ী বাসিন্দা আছে। জ্ঞাতিগোষ্ঠি আর কি।”

    “তার মধ্যে যে কেউ খুন করে থাকতে পারে…”

    একতলায় নেমে এসেছিল দু’জনে। দুপাশে মাথা নাড়িয়ে খাসনবীশ বলে, “দ্যাট উড বি হাইলি এবসারড। কাল রাতে বৃষ্টি পড়ে চারিদিক কাদা হয়ে গেছিল। পিছনের দিক থেকে কেউ যদি এ বিল্ডিংয়ে আসে তাহলে মাটিতে

    তার পায়ের ছাপ পড়বে। মজার কথা হল খুনের ধারে পাশে কোনো পায়ের ছাপ নেই।”

    “মানে খুন এই বিল্ডিংয়ের ভিতরেই কেউ করেছে।”

    “পাশের বিল্ডিং-এ কয়েকজন গেস্ট আছে। তাদের যাওয়া-আসার জন্যেও একটা প্যাসেজ আছে।”

    “মানে আমাদের সাসপেক্ট এসে দাঁড়াচ্ছে প্রায় জনা দশেক। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কখন আসছে।”

    “হাই প্রায়োরিটি দিয়েছিলাম। এতক্ষণে তো এসে যাওয়ার কথা।” বাইরে বেরিয়ে দু’জনে একতলার একটা ঘরের কাছে এসে দাঁড়ালেন। আগের থেকে এখন ভিড় খানিকটা কমেছে। ভিতরের ঘর থেকে কান্নার শব্দ আর শোনা যাচ্ছে না। ঘরের ভিতরে একবার উঁকি দিলেন শর্মা। মাঝে যিনি বসে আছেন তাকে দেখে বোঝা যায় তিনি ছেলেটির মা। মহিলার মুখের দিকে তাকানো যায় না। পাশ থেকে কয়েকজন ধরে আছে তাকে। মাঝে মাঝেই কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন তিনি।

    “উনি ঠিক আছেন তো?” পাশে বসে থাকা একটা মেয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন শর্মা। মেয়েটি মাথা নেড়ে দিল। শর্মা উঠে এসে তাদের দিকে পিছন ফিরে খাসনবীশকে বললেন, “একে এখন ইন্টারোগেট করা ইনহিউম্যান হবে। এক কাজ কর, যে বাচ্চা মেয়েটি বডিটা দেখেছে তাকে ডেকে দিতে বল।”

    মিনিট দশেকের মধ্যে তুলি এসে বসল দোতলার ঘরে। তাকে যারা নিয়ে এসেছিল তাদের হাতের ইশারায় বাইরে দাঁড়াতে বললেন শৰ্মা।

    তুলির চোখ-মুখ থেকে এখনও আতঙ্কের দাগ মোছেনি। কিছু বলতে গেলেই বারবার ঠোঁট কেঁপে উঠছে তার। কচি মুখটা যেন এক ধাক্কায় অনেকটা বয়স বাড়িয়ে ফেলেছে।

    তার কাঁধে একটা হাত রেখে অভয় দিলেন শর্মা, “তুমি না সাহসী মেয়ে। ভেঙে পড়লে চলবে?”

    কিছু বলল না তুলি। কোলের উপর পড়ে থাকা একটা হাতের উপরে আর একটা হাত রেখে মাথা নিচু করে বসে থাকল।

    “কাল রাতে কোথায় শুয়েছিলে তুমি?”

    প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে একটু থমকালো তুলি, তারপর একবার ঢোক গিলে বলল, “আগে দোতলায় মালতীদিদির কাছে। তারপর নতুনদিদির কাছে।

    চোখ, তুলে একবার খাসনবীশের দিকে তাকালেন শর্মা। তারপর আবার মুখ নামিয়ে নরম গলায় বললেন, “মালতীদিদির কাছ থেকে কে নিয়ে এসেছিল তোমায়?”

    “জানি না। আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম।”

    জিভ কাটলেন শর্মা, “তাও ঠিক, তাও ঠিক। বোকার মতো প্রশ্ন করছি। আচ্ছা সকালে তুমি কী করতে যাচ্ছিলে রান্নাঘরে?”

    “আমার খিদে পেয়েছিল। বিস্কুট খেতে যাচ্ছিলাম।”

    “ঘরে ঢোকার আগে কিছু দেখেছিলে?”

    মাথা নাড়ে তুলি, তারপর বলে, “মধুকাকা আসছিলেন রান্নাঘরে। আমি ভয় পেয়ে যাই খুব।”

    “তা তো পাবেই। আচ্ছা রাতে কোনো আওয়াজ শুনেছিলে তুমি? কাউকে দেখেছিলে?”

    মাথা নাড়ে তুলি।

    “আচ্ছা তুমি এসো এবার। ভয়ের কিছু নেই। একা একদম থাকবে না। বুঝেছ?”

    মাথা দুলিয়ে তুলি ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। শর্মা উঠে পড়ে খাসনবীশের দিকে তাকিয়ে বলেন, “রাতে মেয়েটাকে সরানো হয়েছিল ঘর থেকে। কিছু কারণ বুঝতে পারছ?”

    “মালতী নামের মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলেই বোঝা যাবে।”

    দু’জনে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। বারান্দায় এসে রেলিঙে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন শর্মা। কি যেন ভাবতে ভাবতে বললেন, “আচ্ছা, তোমার প্রাইমারিলি কী মনে হয়? খুনি নারী না পুরুষ?”

    “দুটোই হতে পারে। তবে যেভাবে বারবার মাথাটা ঠোকা হয়েছে তাতে রীতিমতো শক্ত হাতের কাজ মনে হচ্ছে।”

    “প্লাস কোনো স্ট্রাগলের চিহ্ন নেই। যেন ছেলেটা কিছু বোঝার আগেই • তার মাথাটা খুনির হাতে চলে গেছে।”

    “অথবা খুনি ছেলেটার কাছের কেউ। যার কাছ থেকে বিপদের আশঙ্কা একেবারেই করেনি সে।”

    “রাতে কেউ শব্দ শুনেছে কিছু?”

    “উঁহু… নাথিং।”

    শর্মা একটা হাত বুকের কাছে তুলে এনে আঙুল ফাটাতে থাকেন। অনেকগুলো প্রশ্ন উত্তরের অভাবে মাঝসমুদ্রে ভাসছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে যেটা বেশি করে ফুটে উঠছে সেটা হল মোটিভ। অন্তত সেটুকু যদি পাওয়া যেত তাহলেও এগোনোর একটা রাস্তা থাকত। আপাতত সব পথ বন্ধ।

    পকেট থেকে কাগজটা বের করে আবার তার উপরে চোখ রাখলেন তিনি। খাসনবীশ সেটার উপর ঝুঁকে পড়ে ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “এগুলো কোথায় পেলেন? “

    “ছেলেটার ঘরে। ডায়েরির পাতা ছিঁড়ে এইসব লিখছিল কাল রাতে।”

    “কাল রাতে কী করে বুঝলেন?”

    রোজ বিকেলে ঝাঁট দেওয়া হয়। আশা করা যায় কাল রাতেই কোনো সময় এইসব লিখেছে সে। কিন্তু প্রশ্ন হল একটা বাচ্চা ছেলে হঠাৎ এই তিনটে শব্দ লিখতে যাবে কেন?”

    “তার চোখের তারায়…” কথাগুলো উচ্চারণ করে একবার থেমে যায় খাসনবীশ। একটু দূরে শশাঙ্ককে হেঁটে আসতে দেখা যায়। দু’জনে এগিয়ে যায় তার দিকে

    শশাঙ্ককে আগেই জেরা করেছে খাসনবীশ। সে পুলিশ দু’জনের কাছে এসে একটু ইতস্তত করে বলে, “একটা কথা আপনাদের আগে বলা হয়নি। আমি একটু ভয় পেয়েছিলাম স্যার, মাফ করবেন।”

    “কী কথা বলুন তো?” নিরুৎসাহিত গলায় জিজ্ঞেস করেন শর্মা। তিনি জানেন যে কথা শশাঙ্ক বলতে চলেছে তাতে ঘটনার মোড় ঘুরে যেতে পারে। তাও বেশি উৎসাহ দেখালে সে ঘাবড়ে গিয়ে আবার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।

    “আসলে তেমন কিছু না। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগ নেই হয়তো তাও মনে হল বলা উচিৎ।”

    “নিশ্চিন্তে বলুন।” খাসনবীশ বলল পাশ থেকে।

    মাথা ঘুরিয়ে একবার চারপাশটা দেখে নিয়ে শশাঙ্ক বলল, “কাল ভোরের দিকে কেউ আমার দরজায় টোকা দিচ্ছিল।”

    “মানে!” চেষ্টা করেও উত্তেজনাটা চাপা দিতে পারলেন না শৰ্মা, “কখন?”

    “তা বলতে পারব না। তবে বার দুয়েক দিয়েছিল। আমি ঘুম চোখে গলা তুলে একবার জিগ্যেসও করি কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি।”

    “তারপর?”

    “আমি একবার ভেবেছিলাম উঠে দেখি। কিন্তু সারাদিন কাজ করি স্যার। রাতে বিছানা ছেড়ে উঠতে মন চায় না। দু’বার ডাকার পরে কেউ সাড়া দিচ্ছে না দেখে আমি আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।”

    “তারপর আর পাননি আওয়াজটা?”

    “না। সকালে উঠে দেখি এই অবস্থা।”

    শর্মার মুখ থমথমে দেখায়। কিছুক্ষণ পরে মুখ তুলে তিনি বলেন, “ঠিকাছে। আমরা দেখছি কী করা যায়। তবে এই কথাটা আর কাউকে বলবেন না। কেমন?”

    “হ্যাঁ স্যার।”

    শর্মা মাথা নেড়ে দিতে আবার ফেরার পথ ধরে হাঁটতে থাকে শশাঙ্ক। খাসনবীশ সেদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে শর্মার দিকে তাকিয়ে বলেন, “তাহলে কি আগে শশাঙ্ক টার্গেট ছিল। তাকে না পেয়ে বাচ্চাটাকে…”

    “কিন্তু কেন?”

    “আমার তো সিরিয়াল কিলার মনে হচ্ছে। এভাবে রক্তারক্তি করে খুন, একজন ফস্কে যেতে আরেকজন… অ্যাবসেন্স অফ মোটিভ… দিস গট টু বি আ সিরিয়াল কিলার।”

    শর্মা কিছু বলতে যাচ্ছিলেন এমন সময় তার ফোনটা বেজে ওঠে। সেটা পকেট থেকে বের করে স্ক্রিনের দিকে দেখে নিয়ে চাপা গলায় বলেন, “ফরেনসিক….”

    খাসনবীশ নিচে তাকিয়ে ভাবতে থাকে। খুনের সমস্ত ইঙ্গিত একসঙ্গে করলে একটা ছাঁচ ফুটে উঠছে। খুনি সম্ভবত পুরুষ, শক্তিশালী, আগেও খুন করেছে এবং ভিক্টিমের সুপরিচিত। কে হতে পারে?

    মাথাটা ঠান্ডা করে মুকেশ। যতই জটিল হোক না কেন তার মন বলছে এ কেস সল্ভ হতে বেশি সময় লাগবে না। বড় করে একটা দম নেয় সে। কতই বা জটিল হতে পারে?

    এতক্ষণে ফোনটা রেখে দিয়েছেন শর্মা। তিনি ধীরে হেঁটে খাসনবীশের কাছে এসে দাঁড়ান। প্রশ্ন করতেও উত্তর দেন না। কি যেন একটা ভাবনায় ডুবে গেছেন। অভিজ্ঞ গোয়েন্দাকে এত চিন্তিত এর আগে দেখেনি খাসনবীশ।

    বিড়বিড় করে উচ্চারণ করেন শর্মা, “ওই শশিভূষণ সরকারের ফাইলটা আজকের মধ্যে পাঠাও আমাকে। আই নিড দ্যাট রাইট নাও।”

    “কেন স্যার? পোস্টমর্টেম কী বলেছে?” জিজ্ঞেস করে মুকেশ।

    “পোস্টমর্টেম বলছে…” পরের কথাটা বলার আগে একটু থামেন শৰ্মা, “এটা হোমিসাইড নয়… সুইসাইড।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article হেঁটে যাই জনমভর – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সায়ক আমান

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }