Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প344 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তার চোখের তারায় – ১৪

    চতুর্দশ অধ্যায়

    বাদামতলা পেরিয়ে বস্তির দিকটায় আসতেই মালতী চিৎকারটা শুনতে পেল। একটা মেয়েলি গলার যন্ত্রণাকাতর চিৎকার। খুব একটা কান দিল না সে। আজকাল এটা গা সয়ে গেছে তার। ওষুধটা নেই আপাতত। ফলে আজ রাতটা কান ঝালাপালা হবে। কাল রাত অবধি খানিকটা টাকা ছিল তার পকেটে। কিন্তু আজ সকালে সমস্তটাই বাবার হাতে দিয়ে এসেছে। নিজের জন্যে প্রায় কিছু রাখে না, তার উপরে মায়ের ওষুধ। সনাতন বৌকে দেখে না। মরে গেলে হয়তো মুখে আগুন দিতেও আসবে না।

    ঘরে ঢুকে মায়ের মাথার কাছে গিয়ে দাঁড়াল মালতী। পেটের কাছে গুটিয়ে থাকা কাপড়টা একবার তুলে ধরল। এভাবে তাকাতে একটা সময় অবধি ঘো লাগত তার। এখন আর লাগে না। রাতটা তাকে এখানেই থাকতে হয়। মায়ের পাশেই শুতে হয়। যন্ত্রণা খুব বেশি বেড়ে উঠলে ঘায়ের উপরে একটা পুরনো মলম লাগিয়ে দেয়। সে মলমে আর কাজ হবার কথা নয়। তাও লাগানোর পরে মনের খেয়ালেই কিছুক্ষণ শান্ত থাকেন তিনি।

    আজও সেটা লাগিয়ে দিতে কিছুক্ষণের জন্যে চুপ করলেন মহিলা। তারপর আবার ঢলে পড়লেন একপাশে।

    মালতীর ঘরের জানলায় একবার চোখ রাখল টুম্পা। তারপর জানালার খড়খড়িতে আঙুল ঠুকে শব্দ করে ডাকল তাকে। মালতী চোখ তুলে তাকিয়ে বিরক্ত হয়, “তুই? তোর এখন কী চাই?”

    “একটু বাইরে আয় না।” হাতছানি দিয়ে তাকে ডাকল টুম্পা। মালতী খুব একটা খুশি হল না। কী চাইবে সে খুব ভালো করে জানে। টুম্পার স্বামী জোগাড়ের কাজ করে। ফলে বছরের বেশিরভাগ সময়টাই তার হাতটান যায়। সংসার একেবারেই না চললে তখন সে মালতীর কাছে এসে হাজির হয়। মালতী আগে বার দুয়েক ধার দিয়েও ছিল টাকাপয়সা। টুম্পা সামান্য কিছু ফেরত দিয়েছিল। বাকি টাকা আর শত চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারেনি মালতী। আজও টুম্পাকে দেখেই তার মাথায় সেই পুরনো টাকার রাগটা চড়ে বসল। সে টাকাটা থাকলে আজ ওষুধটা কিনে আনতে পারত।

    “টাকা নেই এখন। আর থাকলেও দেব না।” মুখ ঘুরিয়ে নেয় মালতী।

    “টাকা চাই না রে, অন্য একটা দরকার আছে।”

    দরকার যে আছে সেটা মালতী আগেও বুঝেছে। টুম্পার সঙ্গে তার ইস্কুল বেলা থেকে বন্ধুত্ব। কিন্তু বিয়ের পর থেকে সংসার নিয়ে মেতে ওঠায় এক টাকাপয়সার দরকার না থাকলে টুম্পা নিজেই আর যোগাযোগ রাখেনি মালতীর সঙ্গে। আজ যখন যেচে পড়ে জানালায় এসেছে তখন কিছু যে একটা দরকার আছে সেটা না বোঝার কিছু নেই।

    “একটিবার বাইরে আয় ভাই, পায়ে ধরছি।”

    টুম্পার চোখ-মুখ বেশ অসহায় দেখায়। সত্যি অসুবিধায় পড়েছে হয়তো।  খানিকক্ষণ ভেবে নিয়ে একবার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসে মালতী। টুম্পাও এসে দাঁড়ায় দরজার কাছে। সে কিছু বলার আগেই তার দুটো হাত চেপে ধরে বলে, “কটা টাকা আছে আমার কাছে সব দিয়ে দেব তোকে। একটিবার সাহায্য কর্।”

    “চাইটা কী খোলসা করে বল না।” মুখ ঝামটা দিয়ে ওঠে মালতী।

    “আমার বাড়িতে আসবি একবার?”

    “কেন? কী করব গিয়ে?”

    “আগে আয়, তারপর বলব।”

    এইসব ফালতু ভণিতা মালতীর পছন্দ হয় না। টাকাপয়সা ছাড়া অন্য কোনোভাবে সাহায্য করতে হলে আপত্তি নেই তার। তাছাড়া খানিকটা টাকাপয়সারও টান পড়েছে। এখন টুম্পার থেকে টাকাটা উদ্ধার করতে পারলে কিছুটা উপকার হতে পারে।

    আর বাক্যব্যয় না করে ঘরের ভিতর থেকে ওড়নাটা এনে গায়ে ফেলে সামনের দিকে পা বাড়াল সে।

    বছর তিনেক হল মালতী নিজের খরচেই বাড়িটা পাকা করেছে। তার আগে দরমার বেড়া দেওয়া একচালা ছিল। নাথবাবু একবার ঘুরতে এসে নিজেই সনাতনকে বলেছিলেন মেয়ে-বৌ নিয়ে প্রাসাদের একটা ঘরে থাকতে কিন্তু সনাতন কিছুতেই রাজি হয়নি। লোকটার এই ব্যাপারে আশ্চর্য গোঁ। রাতে মালতীর কিছুতেই এখানে থাকা চলবে না। মালতী নিজেও খুব একটা জোর দেয়নি বাবাকে। জানে, দিয়েও লাভ হবে না।

    জমিদারবাড়িতে মালতীর যাতায়াত প্রায় ছোট থেকেই। প্রথমে বাবার সঙ্গে যেত। সনাতনকে রান্নার কাজে সাহায্য করত, কখনও বাবুদের ঘর ঝাঁট দিয়ে দিত। পুজোর ফুল তুলে এনে দিত। শেষে বড় হতে আর মায়ের শরীর পড়ে যেতে একেবারে পাকাপাকি মাইনে নিয়ে কাজ শুরু করল।

    তাকে দেখতে খুব একটা ভালো না হলেও মুখের মধ্যে রুক্ষ ভাব নেইল গায়ের রঙটা কালচে তবু মুখটা ভারি নরম। ছিপছিপে বেতের মতো চেহারা।

    কমবয়সে আরও খানিকটা কালো ছিল মালতী। তখন একটা প্রিয় ঘের দেওয়া ঝিনুকমালা জামা ছিল। সেটা পরেই জমিদারবাড়িতে যেত। সনাতনের রান্নাঘরে কাজ কমে এলে মেয়েকে কিছুক্ষণের জন্যে ছুটি দিত। তখন জমিদারবাড়ির আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াত মালতী। বিশেষ করে বাড়ির বাগানে গজিয়ে ওঠা গাছগুলো বারবার টানত তাকে।

    লোকে আগে বলত জমিদারবাড়ির কোথায় নাকি একটা সুড়ঙ্গ আছে। বাইরে থেকে কেউ আক্রমণ করলে বাড়ির লোকেরা সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে অন্য কোথায় পালিয়ে যেতে পারত। অবশ্য সেটা আজ অবধি খুঁজে পায়নি কেউ। মালতী মাঝে মাঝে সেই সুড়ঙ্গটা খুঁজে বেড়াত। রোজ অপেক্ষা করে থাকত কতক্ষণে বাবা রান্নাঘর থেকে ছুটি দেবে। ছুটি পেলেই এক দৌড়ে বেরিয়ে আসত।

    টুম্পা মালতীর পিছে পিছে হাঁটছিল, একটু দ্রুত পা চালিয়ে কাছে এসে পড়ে বলল, “ও বাড়িতে নাকি পুলিশ এসেছিল।”

    “তা মানুষ মরবে আর পুলিশ আসবে না?”

    “তোকে কী জিজ্ঞেস করল?”

    “কী আর করবে, বলল রাতে কী করছিলাম, কোথায় ছিলাম?”

    একটু থেমে গেছিল টুম্পা, একটা কথা মনে করে সে বলল, “হ্যাঁরে তুই তো রাতে ওবাড়িতে থাকিস না। সেদিন ছিলি যে…”

    “দিদিমণি আটকে দিল। বাপ কে বলতেই খ্যাঁক করে উঠল।”

    “আটকে দিল কেন?”

    “তুলিদিদিকে আমার কাছে রেখে কোথায় যেন গেছিল। রাতে ফিরে আমাকে জাগিয়ে নিয়ে গেল।”

    “কোথায় গেছিল?” কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে টুম্পা।

    “অত আমি কী করে জানব?” মুখ ফিরিয়ে বলে মালতী। তারপর আবার গটগট করে এগোতে থাকে সামনের দিকে।

    টুম্পা তার সঙ্গে মিশতে চায় না তার একটা কারণ আছে। ছেলেবেলায় • সুড়ঙ্গের কথাটা টুম্পাকেও বলেছিল মালতী। দু’জনের বয়সই তখন বারো, কি তেরো হবে। টুম্পা তারপর থেকেই জমিদারবাড়ি যাবার জন্য মালতীর- কাছে ঝোলাঝুলি শুরু করে। মালতী প্রথমে অত গুরুত্ব দেয়নি ব্যাপারটা। পরে একদিন নিয়ে যায় তাকে।

    সেদিন টুম্পা তক্কে তক্কে ছিল। সদর দরজায় মতীন পাহারা দিত তখন তাকে সনাতন ডাকছে বলে মালতীই সরিয়ে দেয়। মতীন মালতীকে গেটে দাঁড়াতে বলে প্রাসাদে যায় সনাতনের সঙ্গে দেখা করতে। মিনিট দশেকের জন্যে গেটে কেউ নেই। সেই ফাঁকে টুম্পা ভিতরে ঢুকে পরে। কিছুক্ষণ লুকিয়ে থাকে পুরনো কুয়োটার পিছনে। হতভম্ব হয়ে মতীন ফিরে এলে মালতীও গেট ছেড়ে কুয়োর কাছে চলে যায়।

    সেই একটা দিন দু’জনে একসঙ্গে কাটিয়েছিল জমিদারবাড়িতে। আর সেখান থেকেই যত সমস্যার শুরু।

    মালতীর বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল মতীনকে বোঝাতে যে হয়তো সনাতন কী কারণে ডেকেছিল সেটা তার নিজেরই মনে নেই। এর মাঝে একা একাই দীঘির ধারে খেলছিল টুম্পা। খেলতে খেলতে আচমকাই দীঘির জলে পড়ে গিয়েছিল। সে সাঁতার জানত না। ফলে বেশ কিছুক্ষণ খাবি খেয়ে একপেট জল খেয়ে নাকানিচোবানি খাচ্ছিল। ফিরে এসে সেটা দেখে ভয় লেগে যায় মালতীর। সে একবার ভাবে ভিতরে গিয়ে কাউকে ডেকে আনবে। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয় কাউকে ডাকলেই সে যে টুম্পাকে ভিতরে এনেছে সেটা বাবার কানে যাবে। আর রক্ষা থাকবে না।

    অগত্যা মালতী নিজেই জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে তুলে এনেছিল টুম্পাকে। শরীরে সাড় ছিল না তার। অনেকক্ষণ চোখ খোলেনি। তাকে পাড়ের উপরে এনে শুইয়ে অনেকবার ডাকাডাকি করে মালতী। তাতেও জ্ঞান ফেরেনি টুম্পার। খানিক পরে পেটে কয়েকটা চাপ দিতে মুখ থেকে বগবগ করে জল বেরিয়ে এসেছিল তার। তারপর খানিকটা সুস্থ বোধ করে টুম্পাদ কিন্তু সুস্থ হয়ে আর সেখানে থাকতে চায়নি সে। মালতীর হাত ধরে টান দিয়েছিল বাইরে যাবার জন্যে।

    কিন্তু ততক্ষণে মালতীর মাথায় এক আজব খেয়াল চেপে বসেছে। জলের ভিতর থাকতে থাকতে এক মজার ব্যাপার খেয়াল করেছে সে। এই জলটা ঠিক আর পাঁচটা পুকুরের জলের মতো নয়। এই দীঘির জলে অন্যরকম একটা টান আছে। কোমর অবধি নেমে দাঁড়ালে মনে হয় যেন বিশেষ একটা দিকে সে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে।

    কাপের মধ্যে রাখা জলকে চামচ দিয়ে জোরে ঘোরালে ঘুরন্ত জলের যেমন একটা মাঝখান থাকে ঠিক সেইরকম এই দীঘিটারও কোথাও একটা মাঝখান আছে। দীঘির মাঝেও একটা লুকানো ঝড় আছে। তার যত কাছে যাওয়া যাবে তত কাছে টানতে থাকবে সেটা। কী যেন একটা টানে অন্য সব কিছু ভুলে যায় মালতী। টুম্পার হাত ছেড়ে সে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় জলের দিকে।

    “কোথায় যাচ্ছিস?” পিছন থেকে ডেকে ওঠে টুম্পা। কিন্তু তার কথা মালতীর কানে যায় না। সে ততক্ষণে শান বাঁধানো পাড় দিয়ে একটু একটু করে জলের ভিতরে পা ডুবিয়ে দিয়েছে। জলের স্রোত এসে টেনে নিয়ে গেছে তাকে।

    হাঁপাতে হাঁপাতেই ভিজে গায়ে জলের ধার অবধি দৌড়ে আসে টুম্পা। মালতীর শরীর ততক্ষণে মিলিয়ে গেছে…

    .

    আরও মিনিট তিরিশেক হাঁটার পর টুম্পার ঘরের সামনে এসে পৌঁছাল দু’জনে।

    বাদামতলার একদম শেষ প্রান্তে ঘরটা। আগে টুম্পার শ্বশুর-শাশুড়ি থাকতেন এখানে। এখন দু’জনেই মারা গেছেন। তারপর থেকে বার কয়েক সারানো হয়েছে ঘরটা। ঘর বলতে ইঁটের ছোট একটা একতলা ঘুপচি। এখন তার বাইরের দিকে কয়েকটা ছেঁড়া জামাকাপড় আর ন্যাকড়া ঝুলিয়ে ভিতরটা আড়াল করা হয়েছে।

    বিশ্রী পচা গন্ধ আসছে ভিতর থেকে। ছোটবেলার পর আর এ বাড়িতে আসেনি মালতী। তখনও এতটা নোংরা ছিল না ঘরটা। এখন যেন সামনে এসে দাঁড়ালেই গা’টা গুলিয়ে ওঠে। একবার মালতীর মনে হল হাত দিয়ে নাক চাপা দেয়। কিন্তু পরক্ষণেই সামলে নিল। নাথবাবু সনাতনকে জমিদারবাড়িতে ঠাঁই না দিলে তাকেও হয়তো এরকম একটা ঘরেই থাকতে হত। টুম্পা নিচু হয়ে তার ভিতরে পা বাড়াতে যাচ্ছিল। মালতী আটকে দিল তাকে। বলল, “এবার বল তো কী করব আমি?”

    “আগে তুই ভিতরে আয়।”

    মালতীর মনে হল কিছু যেন একটা লুকাচ্ছে টুম্পা। কথাটা ঘরের বাইরে বললে কী এমন ক্ষতি হবে? সে আর কিছু না ভেবে ঘরের ভিতরে পা বাড়াল।

    ভিতরে ঢুকেই ডানদিকে ঘরটা। ট্যাক থেকে চাবি বের করে দরজাটা খুলতে লাগল টুম্পা। বাঁদিকের পাশটায় বস্তির অন্য বাসিন্দাদের চোখে পড়ল। দু একটা আধল্যাংটো নোংরা বাচ্চা উৎসুক মুখে মালতীর দিকে একবার তাকিয়ে আবার মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে। তাদেরকে উপেক্ষা করেই পরদার মতো করে ঝোলানো শাড়িটা সরিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে এল দু’জনে।

    ঘরের ভিতরে ঢুকে গন্ধটা বেড়ে উঠেছে আরও। এবার সত্যি হাত দিয়ে নাক চাপা দিল মালতী।

    ঘরের ছাদের দিকে একটা পাখা লাগান আছে। সেটা এখন প্রায় ঘুরছে না। একদিকের মেঝেতে উলটে পড়ে আছে একটা স্টীলের জল খাবার গ্লাস। তার পাশেই ভাতের হাড়ি, ছোট টুল, বিছানাটার উলটোদিকে একটা ছেঁড়া মাদুর পাতা। তার উপর তুলো বের হয়ে আসা বালিশ রাখা আছে। টুম্পার এত হা-ঘরে দশা হয়েছে সেটা জানতো না মালতী। খানিকটা মায়া লাগল তার।

    ঘরের চারিদিকে দড়ি টাঙিয়ে জামাকাপড় মেলে দেওয়া হয়েছে। তার কোনো কোনোটা থেকে জল পড়ছে এখনও। ঘরের সিমেন্টের মেঝে ভিজে আছে তাতে। কয়েক ফোঁটা ময়লা জল মালতীর গায়েও এসে পড়ল। সে সঙ্গে সঙ্গে সরে এসে একটু দূরে দাঁড়াল।

    ঘরের ভিতরে ঢুকেই কিন্তু আবার দরজা বন্ধ করে দিল টুম্পা। জানালাগুলো বন্ধ করা আছে। বাইরের আলো আটকে দিনের বেলা একটা ক্যাটক্যাটে সাদা টিউবলাইট জ্বালা আছে। আশ্চর্য! এত লুকোচুরি কীসের? তার ঘরের ভিতরে আছেই বা কি যে এত তালাচাবি দিয়ে রাখা।

    ঘরের ভিতরে আসল জিনিসটা এবার দেখতে পেল মালতী। একটা মানুব মুখটা দেখলে চেনা যায়। টুম্পার স্বামী বলাই। আপাতত মরার মতো চিত হয়ে শুয়ে আছে বিছানার ঠিক মাঝখানে। জামাকাপড় ওলটপালট। জটপাকানো, চ্যাটচ্যাটে ধুলোমাখা চুলগুলো কপাল থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে। যেন একটু আগে ঘুমিয়ে পড়েছে লোকটা।

    নাকে হাত চাপা দিয়েই টুম্পার দিকে ফিরল মালতী, তারপর একটা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “কই, দে আমার টাকা।”

    “টাকা নেই।” মাথা নিচু করে বলল টুম্পা। তার গলার বাইরেটা কয়েকবার ওঠানামা করে থেমে গেল।

    “তো ডেকে এনেছিস কেন মাগী?” গনগনে রাগ ঝরে পড়ে মালতীর মুখ থেকে।

    টুম্পা উত্তর দেয় না। উলটে সে এক-পা এক-পা করে এগিয়ে যায় বিছানার দিকে। একটু আগের কথাটা বেশ জোর গলায় বলেছে মালতী। গলার আওয়াজে লোকটা যদি ঘুমিয়েও থাকে সেই ঘুম ভেঙে যাওয়ার কথা। কিন্তু বলাই-এর শরীরে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সে একইভাবে বুকের কাছে হাত জড়ো করে শুয়ে আছে। টুম্পা গিয়ে দাঁড়ায় তার সামনে।

    এতক্ষণে একটা সন্দেহ এসে দানা বাঁধতে শুরু করেছে মালতীর মনে বলাই-এর শুয়ে থাকা কেমন যেন অস্বাভাবিক। একটু ফুলেও যেন উঠেছে শরীরটা। চোখের পাতাদুটো একটু বেশি মোটা হয়ে গেছে মনে হয়। ঠোঁটদুটো শুকিয়ে কাঠ। গালের অনেকটা ভিতর অবধি ঢুকে এসেছে তারা।

    বলাই-এর কাছে এগিয়ে গিয়ে তার পায়ে একটা হাত রাখে মালতী। সঙ্গে সঙ্গে ছিটকে সরে আসে দূরে। হাত পা বরফের মতো ঠান্ডা। কাল রাতে অথবা আজ সকালের মধ্যে মরে গেছে মানুষটা। ধরা গলায় মালতী টুম্পার দিকে মুখ তুলে তাকায়, “এত মরে গেছে রে।”

    বিদ্যুৎ গতিতে মালতীর দিকে সরে আসে টুম্পা। একহাতে তার মুখ চেপে ধরে বলে, “খবরদার, ও কথা বলবিনি, কেউ শুনতে পেলে কী হবে?”

    “শুনতে পেলে মানে?” অবাক হয়ে যায় মালতী। তার মাথা আচমকা সমস্ত কাজ বন্ধ করে স্থবির হয়েছে। কান গরম হয়ে উঠেছে। হাতের শিরায় রক্ত যেন দশগুণ বেশি গতিতে ছুটতে শুরু করেছে।

    “কেউ শোনার আগেই তোকে শেষ করতে হবে কাজটা। গোপনে।”

    “আমি কী করব?” একটু একটু করে পিছিয়ে আসে মালতী।

    টুম্পার মুখ থেকে এতক্ষণের বিনয় এক নিমেষে মুছে যায়। সে একলাফে বুনো চিতার মতো মালতীর বুকের কাছে জামাটা খামচে ধরে, “ন্যাকামি করিস না আমার কাছে, সব জানি আমি। সব… সব…”

    মিইয়ে আসে মালতী। হাত দিয়ে টুম্পার হাত দুটো ছাড়ানোর চেষ্টা করে, “ওসব সবসময় হয় না তুই জানিস। হলে আমার মাকে ওইভাবে পড়ে থাকতে হত না।“

    “ও আজ সকালে মরেছে। আমি ঘুম থেকে উঠেও ওর নাক দিয়ে নিঃশ্বাস পড়তে দেখছি।” গলার স্বর অনেকটা নিচে নেমে আসে টুম্পার, “তোকে এইটুকু করে দিতেই হবে। আমি কিছু জানি না ভাই, সারাজীবন আমি তোর দাসীবাদি হয়ে থাকব।” মালতীর গলা ছেড়ে টুম্পার হাত একটু একটু করে তার পায়ের দিকে নেমে আসতে থাকে। মালতী সরে আসে।

    “না, আমি ঠাকুরের কাছে দিব্যি করেছিলাম আর ওপথে যাব না। আমি একটু একটু করে শেষ হয়ে যাব এরকম করলে।”

    “আজ, আজকেই শেষ, আর বলব না তোকে কোনোদিন। আমার আর কিছু নেই। কোথায় যাব আমি ভাব একবার। করে দে ভাই। আর কিচ্ছু চাই না তোর কাছে।”

    পা সরিয়ে নিতে গিয়েও পারল না মালতী। এ পৃথিবীতে মাত্র দু’জন জানে কথাটা। সনাতন আর টুম্পা। আর কাউকে কোনোদিন বলেনি মালতী। বললে কারও বাড়ি কাজ জুটত না। ডাইনি অপবাদটা জুটত হয়তো।

    ম্যাজিক জানে না সে। না চাইলেই সবসময় মরা মানুষকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে না, তবে সেই ছোটবেলা থেকে কিছু একটা এসে বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। মাঝে মাঝে আধো ঘুমে একটা অজানা মন্ত্র শুনতে পায়। থেকে থেকে কানের মধ্যে বাজতে থাকে সেটা। মৃত্যুকে মানুষের ছায়ার মতো দেখতে পায় সে। তার উপস্থিতি কাছে পিঠে অনুভব করতে পারে। পাড়ার কারোর বাড়ি মৃত্যু এসে হানা দেওয়ার ঠিক আগে মালতী বুঝতে পারে ছায়া ঘনিয়ে আসছে।

    অনেক চেষ্টা করেও সেটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি মালতী। শেষে একদিন বাবাকে বলে ফেলে। প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি সনাতন। শেষে হাতে নাতে প্রমাণ দেখার পর আর রাতে মেয়েকে ওবাড়িতে থাকতে দেয়নি সনাতন।

    একটু একটু করে মৃতদেহের মাথার দিকে এগিয়ে আসে মালতী। কপালে একটা হাত রেখে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করে, “কখন শেষ দেখেছিস শ্বাস পড়ছে?”

    ‘দেড় ঘণ্টা আগে। মাছ কিনতে গেছিলাম বাজারে, এসে দেখি… তারপর তোর কথা মনে পড়ল।”

    মুখ নামিয়ে আবার বলাইয়ের দিকে তাকাল মালতী। একটু একটু করে শক্ত হতে শুরু করছে শরীরটা। মৃত্যু এসে তাকে নিয়ে গেছে অনেক দূরে। আর কি ফেরানো যায়?

    আজ থেকে প্রায় বছর পনেরো আগে এইভাবে শক্ত হয়ে আসছিল টুম্পার শরীরটা। সমস্ত দৃশ্যগুলো মালতীর চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল …

    টুম্পাকে জল থেকে তুলে আনার পরেই একটা অজানা আশংকায় মালতীর বুকের ভিতরটা শুকিয়ে গেল। টুম্পার বুক ওঠানামা করছে না। নাকের সামনে একবার হাত রাখল সে। নাঃ নিঃশ্বাসও পড়ছে না। মালতীর ইচ্ছা করল এক্ষুনি এখান থেকে দৌড়ে পালাতে। সে জানে নিশ্বাস নিতে না পেরে মরে গেছে টুম্পা। এখন যেটা তার হাতে শুয়ে আছে সেটা টুম্পার মৃতদেহ। চিৎকার করতে গিয়েও পারল না মালতী। তার গলার ভিতরে স্বর আটকে গেছে। উঠতে গিয়ে মনে হল পা দুটোও আর নিজের আয়ত্তে নেই। আচমকাই এত অসহায় অবস্থাতেও মনটা একটু একটু করে শান্ত হয়ে আসে মালতীর। মনে হয় আশেপাশে ওরা দু’জন ছাড়া আরও কেউ যেন এসে দাঁড়িয়েছে। একটু একটু করে টুম্পার বুকের ভিতর থেকে কিছু শুষে নিচ্ছে সে। একটা জীবন ধোঁয়া কচি মেয়েটার বুক থেকে টেনে বের করে নিচ্ছে প্রাণের স্পন্দন। সেই সঙ্গে আরও কেউ এসে দাঁড়িয়েছে ঠিক মালতীর পিছনে।

    টুম্পার কপালে একটা হাত রাখে মালতী। চারটে আঙুল তুলে নিয়ে শুধু তর্জনীটা রাখে মাঝবরাবর। তার নিজের মুখ আর চোখের মনি পুতুলের মতো স্থির।

    ধীরে ধীরে তর্জনী দিয়ে টুম্পার কপালের মাঝখানটা গোল করে ঘষতে থাকে সে। খুব ক্ষীণ গতিতে, বারবার। নখে লেগে টুম্পার চামড়ার কয়েক জায়গায় ছিঁড়ে যায়। সেই মন্ত্রটা কানে আসে মালতীর। অনেক দূরের কোনো মন্দির থেকে ঘণ্টা বাজার আওয়াজ আসছে। কয়েক লক্ষ মানুষ চাপা স্পষ্ট স্বরে উচ্চারণ করে চলেছে অচেনা ভাষার কয়েকটা শব্দ

    অনুভূতিটা একটু একটু করে কমতে থাকে। এতক্ষণে টুম্পার শরীরের ভিতরে একটা যুদ্ধ শুরু হয়েছে। দুটো বিপরীত শক্তির লড়াই। যে অন্ধকার ছায়াটা সাপের মতো জড়িয়ে ধরেছিল বাচ্চা মেয়েটার শরীরটাকে এখন সে পিছিয়ে গিয়ে আলগা করছে নাগপাশ। ঠিক যেমন রক্তাত্ত নেউলের দাঁতের আঁচড়ে হার স্বীকার করে পিছু হটে কালনাগিনী।

    মিনিট দশেক সেইভাবে যুদ্ধের পর আঙুল তুলে নিল মালতী। টুম্পার মাথাটা মাটির উপরে রেখে একটু পিছিয়ে এল। জলটা টানছে তাকে। জলের ভিতরে কোথায় থেকে যেন ডাক শুনতে পাচ্ছে সে। হ্যাঁ… একটা স্রোত… দীঘির জলের ভিতরে লুকানো একটা ঝড় উঠেছে… সেই ঝড়ের মধ্যে থেকে কেউ ডাকছে তাকে।

    চোখ খুলেই মালতীকে দেখতে পেল টুম্পা। কয়েক সেকেন্ড পরে তার মাথাটা কাজ করতে শুরু করল। উঠে বসার চেষ্টা করেও সে পারল না! এইমাত্র যেন সাতদিনের জ্বর থেকে উঠছে। সমস্ত শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা। মালতীর স্থির মুখের দিকে তাকিয়ে ভয় লাগল তার। তার নাক দিয়ে এখন চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে। অথচ হাত বাড়িয়ে সেটা মুছে নিচ্ছে না মালতী। চোখদুটো দেখে মনে হয় কোনো অদৃশ্য ম্যাজিশিয়ান তার যাদুদন্ডের ছোঁয়ায় অবশ করে দিয়েছে তাকে।

    এক-পা এক-পা করে জলের দিকে পিছিয়ে হাঁটছে মালতী। টুম্পা উঠে দাঁড়িয়ে তাকে ডাকার চেষ্টা করল, “মালা, কী হয়েছে মালা তোর? ওদিকে যাচ্ছিস কেন? আমার কী হয়েছিল?”

    সে কিছু বুঝে ওঠার আগে পাড়ের দিকে মিলিয়ে গেছে মালতীর শরীর। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বিস্ময়মাখা চোখে সেদিকে তাকিয়ে থাকল টুম্পা।

    আজও সেইরকম ভাবেই তাকিয়েছিল সে মালতীর দিকে। একটা হাতের তর্জনী দিয়ে বলাইয়ের কপালের কাছটা ঘষছে মালতী। তার চোখমুখ এখন স্থির। শুধু নাক থেকে চুঁইয়ে নেমে আসছে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত। সেই রক্ত ঝরে পড়ছে বলাইয়ের মাথার নিচে থাকা বালিশের উপরে। পনেরো বছর আগের স্মৃতি মনে পড়তে থাকে টুম্পার। সত্যি কি মারা গেছিল সে? যতক্ষণ তার জ্ঞান ছিল না কী দেখেছিল ততক্ষণ? কিছু মনে পড়ে না। সাদা পাতার উপর থেকে হালকা পেনসিলের দাগ কেউ যেন ধুয়ে মুছে দিয়েছে।

    একটু পরে আঙুলটা বলাই-এর কপাল থেকে তুলে নিয়ে পিছিয়ে আসে মালতী। এখন তার গোটা থুতনি রক্তের রঙে ঢেকে গেছে।

    টুম্পা দ্রুত হাত চালিয়ে একটা কেচে রাখা রুমাল এগিয়ে দেয় তার দিকে। সেটা দিয়ে রক্তটা মুছে ফেলে মালতী। তারপর দু’জনে বিছানার উপরে ঝুঁকে পরে।

    হালকা একটা কাশির আওয়াজ শোনা যায়। ভিতর থেকে একটা দমক এসে ঢেউ খেলিয়ে দিয়ে যায় বলাইয়ের নিথর দেহে। সেই স্রোতের ধাক্কাতেই কয়েকবার কেঁপে চোখের পাতাদুটো খুলে যায়।

    এই প্রথম হাহাকার শোনা যায় ঘর থেকে। বুকের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা একটা আকাশ ফাটানো কান্নায় ডুকরে উঠে বলাইয়ের বুকের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে টুম্পা। তার নখের আঁচড়ে মানুষটার বুকের কাছটা চিরে যায়।

    ঘরে আর একজন মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একটু হতবাক হয় বলাই। স্ত্রীর পিঠে হাত দিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করতে করতে বলে, “কী হয়েছিল বলো তো? হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়েছিলাম?”

    মাথা নিচু করে চুপচাপ ঘর থেকে বেরিয়ে এল মালতী। বাইরে দরজার পাশে রাখা ভাঙা সিমেন্টের স্ল্যাবের উপরে বসে পড়ল। এক্ষুনি হেঁটে বাড়ি ফিরতে পারবে না। অসম্ভব দুর্বল লাগছে শরীর। চোখদুটোও বিশ্বাসঘাতকতা করছে। মনে হচ্ছে যেন এই মাত্র অনেকটা মদ খালি পেটে ঢেলে নিয়েছে গলায়।

    একটু পরে ঘর থেকে বেরিয়ে এল টুম্পা। তার চিৎকারে বস্তির আশপাশের ঘর থেকে ছেলেবুড়ো বেরিয়ে এসেছিল। তাদেরকে কিছু একটা বলে সামলে বাইরে বেরিয়ে মালতীর ঠিক পাশটায় এসে বসল সে। মাথাটা কাঁধের উপরে রেখে দুটো হাত দিয়ে মালতীকে জড়িয়ে ধরল। চোখে থেকে অবিশ্রান্ত জলের ধারা নামল।

    “ঠিক করলি না তুই…” কাঁধে একটা ঝাঁকা দিয়ে বলে মালতী, “ভগবানের সঙ্গে বারবার লড়াই করতে নেই। মরণ ভগবানের হাতে, আমাদের তা নিয়ে খেলা করা পাপ। “

    “আমার যে আর কেউ নেই মালা, আমি যে পথে বসতাম।” কান্নার দমক টুম্পার শেষ কথাগুলো ভিজিয়ে দেয়।

    অন্যদিকে তাকিয়ে মালতী বলে, “আমারও ক’দিন হল কী হয়েছে। সারাক্ষণ মনে হয় কিছু একটা হবে। সেদিনও মনে হচ্ছিল।”

    “কোন্ দিন? যেদিন ছেলেটা মরে গেল?”

    উপরে নিচে মাথা নাড়ায় মালতী, তারপর বলে, “সন্ধে থেকেই মনটা ভালো লাগছিল না। দিদিরা মেয়েটাকে আমার কাছে রেখে গেল, ওকে নিয়ে একটু ভুলে ছিলাম। তারপর ও ঘুমিয়ে পড়তেই চারদিক এত শুনশান হয়ে গেল যে মনে হল এক্ষনি কিছু একটা হবে। এই বাড়িতেই…”

    “তারপর?” মুখ তুলে জিজ্ঞেস করে টুম্পা।

    “মনে হল একবার বাইরেটা গিয়ে দেখি। তারপর ভাবলাম আমার মনের ভুল। অনেক বছর তো হয়নি।”

    কয়েক সেকেণ্ড থেমে আবার বলতে লাগল মালতী, “দিদিরা তুলিকে নিয়ে চলে যেতে আমি আবার একা শুয়েছিলাম ঘরে। বারবার মনে হচ্ছিল সিঁড়ি দিয়ে কেউ যেন যাওয়া আসা করছে। একটা ছায়া। ওই ছায়াটা আসলেই খারাপ কিছু হয়… বারবার… ভোর রাতের দিকে আর থাকতে পারলাম না। উঠে পড়ে বাইরেটা দেখে এলাম। কেউ নেই। মনে পড়ল বাবা আজ শশাঙ্কদার ঘরে শুয়েছে। বাবার জন্যে চিন্তা হল। তবে কি বাবাকে নিতেই এসেছে ছায়াটা? আমি শশাঙ্কদার ঘরে গিয়ে টোকা দিলাম। যদি বাবা বেরোয়

    তাহলে বলে দেব আমার সঙ্গে এসে শুতে। শশাঙ্কদার গলা শুনে বুঝলাম জেগে আছে। চিন্তাটা একটু কমতে আমি আবার ঘরে ফিরে এসে শুয়ে পড়লাম। সেদিন রাতে ভালো করে ঘুম হয়নি। সারাক্ষণ মনে হচ্ছিল ছায়াটা ঠিক পাশেই আছে। সকালে উঠে দেখলাম…”

    মাথাটা আবার মালতীর কাঁধে রাখল টুম্পা। বিড়বিড় করে বলল, “ভাগ্যিস এসব কথা কারও কাছে ফাঁস হয়ে যায়নি। হয়ে গেলে তোকে ডাইনি বলতো, এতদিনে।”

    “আমি তো তাইই।” টুম্পার দিকে তাকিয়ে বলে মালতী, “শুধু ওরকম নাক, নখ, চুল নেই।”

    কথাটা বলে মালতী উঠে পড়ল। কি যেন মনে পড়তে টুম্পা তার হাত চেপে ধরল, তারপর শাড়ির গিট খুলে হাসিমুখে কয়েকটা একশো টাকার নোট আর খুচরো এগিয়ে দিয়ে বলল, “যতটা আছে সব ঝেড়ে দিলুম, তুই না থাকলে ও টাকাগুলো শ্মশানযাত্রীরা নিতো।”

    আর একটু বেশি করে মালতীকে জড়িয়ে ধরে টুম্পা। মনটা খুশি হয়ে গেল মালতীর। আজ বুড়ির ওষুধ জুটে যাবে। আপাতত ক’দিন চিৎকার শুনতে হবে না। মালতী হাঁটতে যাচ্ছিল, টুম্পা তাকে পিছু ডেকে বলল, “আর শোন মালা, তোকে আর যেতে হবে না ও বাড়িতে। আমার কাছেই থেকে যা…

    মালতী অল্প হেসে মাথা দোলায়, “না যেতে হবে আমাকে। এতগুলো লোক, এতগুলো টাকার কাজ।”

    “বেশ, কিন্তু আমার মন বলছে ছায়াটাকে আর দেখতে পাবি না তুই।” মালতীর মুখের হাসি শুকিয়ে গেল। গম্ভীর গলায় প্রায় দাঁতে দাঁত চেপে উচ্চারণ করল সে, “ছায়াটাকে আমি এখনও ওবাড়িতে দেখতে পাই… কিছু একটা হবে… আরও খারাপ কিছু একটা হবে…”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article হেঁটে যাই জনমভর – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সায়ক আমান

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }