Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প344 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তার চোখের তারায় – ১৮

    অষ্টাদশ অধ্যায়

    “কিন্তু কেন?” প্রায় চেঁচিয়ে উঠেছিলেন মধুবাবু। তার চোখে-মুখে এখন উগ্র অবিশ্বাসের সুর ঝরে পড়ছে।

    “তাহলে অতীনকে খুন করল কে?” ক্ষেত্রমোহন এতক্ষণে প্রথম আগ্রহ দেখালেন, “আর কেন?”

    বাকিদের মুখে কোনো কথা নেই। সবাই প্রায় নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে পায়েলের দিকে।

    “কেন?” ধীরে ধীরে কথাটা উচ্চারণ করল পায়েল, “এই একটা প্রশ্ন‍ই এই চেন অফ মার্ডারে সব থেকে বেশি ধাঁধায় ফেলছে আমাদের। যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে অ্যাপারেন্টলি কোনো যোগাযোগ নেই। তার থেকেও বড় কথা তাদের মধ্যে আছে একটি কিশোর। এবং পরের টার্গেট একটি বছর দশেকের মেয়ে। যার অন্তত আত্মহত্যা এবং খুন কোনোটাই হবার বয়স নয়।

    কিন্তু এই ‘কেন’ ছাড়াও আর একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার আছে এই মৃত্যুগুলোর মধ্যে। আমাদের সবার চোখের সামনেই জলের মতো ছিল সেটা। অথচ আমরা গুরত্ব দিয়ে ভাবিনি বলে বারবার খুনি পার পেয়ে গেছে। খানিকটা সেই উদ্দেশ্যেই জিনিসটাকে ঢাকা দেবার জন্যে প্রতিবার আলাদ পদ্ধতি অবলম্বন করে সে।

    ব্যাপারটা আমার প্রথম মাথায় আসে আমার নিজেরই একটা ভাবনা থেকে। আমার বারবার মনে হচ্ছিল শশিভূষণ সরকারের বড়বাজারে গয়নার দোকান কিন্তু কেন? আমার অবচেতন মন কি বাকি ঘটনাগুলোর সঙ্গে এক লাইনে শশিভূষণের খুনটা রেখে কিছু একটা মেলাতে চাইছে?

    এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি সবকটা খুন পরপর সাজিয়ে ভেৰে দেখার চেষ্টা করি। বর্ষাকালে সিঁড়িতে পা পিছলে প্রথমজন মারা যান, দ্বিতীয়জন মারা যায় দীঘির জলে ডুবে, তৃতীয়জন পরিত্যক্ত কুয়োর ভিতর পরে, চতুর্থজন ঘরের ভিতরে আত্মহত্যা করেন। শেষ পর্যন্ত অতীন মারা যায় রান্নাঘরে। কিন্তু কী করে?”

    পকেট থেকে মোবাইলটা বের করেছিলেন ক্ষেত্রমোহন। পায়েল দ্রুত তার দিকে এগিয়ে গিয়ে এক ঝটকায় ছিটকে ফেলে দিল সেটা। রাগ আর বিরক্তি একসঙ্গে মিলিয়ে মুখ তুললেন ক্ষেত্রমোহন, “তুমি নিজেকে কি…”

    “রিফ্লেকশান…” জ্বলজ্বলে চোখে তার দিকে তাকিয়ে কথাটা বলল পায়েল, “এই প্রত্যেকটা খুনের আগে ভিক্টীম কোনো না কোনো ভাবে নিজের মুখ দেখতে পেয়েছে। কখনও জলে, কখনও আয়নায়, কখনও রান্নাঘরের চকচকে বাসনে…. গয়নার দোকানে দেওয়াল জুড়ে আয়না থাকে, সেই কারণেই আমার বারবার মনে হচ্ছিল শশিভূষণের গয়নার দোকান।”

    “তা কী করে হয়।” এতক্ষণ পর ভুরু কুঁচকে বলে সুনন্দা, “এ কথাটা আমারও মাথায় এসেছিল কিন্তু প্রথমজন মারা যায় সিঁড়ি থেকে পড়ে… সে কীভাবে…”

    “কোন সময়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে যায়? বর্ষাকালে। তুমি নিজেও দেখেছ বর্ষাকালে উপরের খোলা ছাদ দিয়ে জল পড়ে একতলার চাতালটা জলে ভরে যায়। রাতে আলো জ্বেলে কেউ যদি নিচে তাকায় তাহলে নিজের মুখের ছায়া দেখতে পাবে সে।

    তৃতীয় খুনের সময় কুয়োটা পরিত্যক্ত ছিল। কিন্তু মনে করে দেখো সেটাও ছিল বর্ষাকাল। এবং তখন কুয়োর মাথায় ঢাকনা ছিল না। ফলে নিচে গোড়ালি সমান জল জমে যাওয়াটা বিচিত্র না।

    নলিনী ঘোষ যে ঘরে আত্মহত্যা করেন সেখানে একটা আয়না রাখা ছিল এবং অতীনের ক্ষেত্রে এ কারণেই বেছে নেওয়া হয়েছিল রান্নাঘর।”

    “কিন্তু প্রথম আর দ্বিতীয় খুনের সময় মতীন তো জন্মায়নি। তাহলে সেগুলো করল কে?”

    “মতীনের বাবা কাশীনাথ। মতীনের আগে সেই এ বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড ছিল। দীঘির জলে ডুবে যিনি মারা যান তার নাম মহীতোষ দাস। পুরনো কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে তার নাম কাশিনাথ নিজেই সুপারিশ করেছিল। সে এতদিনের গার্ড বলে তার সুপারিশটা স্যাংশান হয়ে যায়।”

    “তার মানে তুমি বলছো নানা অছিলায় এরাই কিছু লোককে এ বাড়িতে টেনে এনে খুন করত? কিন্তু কীভাবে? আর এরা তো কেউ দত্ত বংশের সঙ্গে জড়িত নয়।”

    সুনন্দাকে এই প্রথম একটু উত্তেজিত দেখায়। পায়েল কপালের ঘাম মুছে বলে, “সেটাই বলছি এবার।”

    “আমরা কিন্তু এখনও কারণটা বুঝতে পারছি না। ওইটুকু ছেলেকে খুন করে কার কী লাভ হতে পারে?” কেশব শর্মা ঝুঁকে পড়ে প্রশ্ন করলেন। প্রজেক্টারের কাছে ফিরে গিয়ে সেটার উপরে হাত রাখল পায়েল। স্ক্রিনে একটা বদল এল। দত্ত বংশের ফ্যামিলি ট্রি দেখা যাচ্ছে সেখানে। কয়েকটা জায়গা ফাঁকা, কিছু জায়গায় সোজা লাইনের শেষে জিজ্ঞাসা চিহ্ন। এখন গোটা ফ্যামিলি ট্রিয়ের উপরে পায়েলের শরীরের ছায়া এসে পড়েছে।

    ঘরের আলো এক পরত কমে এল। উপস্থিত সকলের দিকে একবার দেখে নিয়ে সে বলল, “এরপর আমি যা বলতে চলেছি সেটা আপনারা বিশ্বাস করবেন কিনা আপনাদের ব্যাপার। তার সমস্তটা আমার কাছেও পরিষ্কার নয়। কিছুটা পুরনো পুঁথি থেকে পেয়েছি কিছুটা নিজের মতো করে বানিয়ে নিয়েছি।”

    “বেশ, তাই বল না হয়।”

    পিছন ঘুরে ফ্যামিলি-ট্রির দিকে তাকিয়ে পায়েল বলল, “আমরা জানি ভূপতি দত্তরা চার ভাইবোন ছিলেন। বড় ভাই এর নাম জানা যায় না। তারপরে ভূপতি, সন্ধ্যারানি এবং নৃপতি। আমরা জানি বড় ভাই যুবক বয়সে ইংরেজদের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায়। ব্যাপারটা খানিকটা ভুল। সে ইংরেজদের হাতেই মারা যায় কিন্তু সংঘর্ষে নয়। সে জমিদারবাড়ি ছেড়ে চন্দননগরের একটি গ্রামে গুপ্তবাহিনি তৈরি করে গোপনে লড়াই করার ষড়যন্ত্র সাজাচ্ছিল। এমন সময় পেয়াদাদের হাতে ধরা পড়ে এবং রাজদ্রোহিতার অপরাধে শাস্তি হিসেবে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে পুড়িয়ে দেওয়া হয় তাকে। এ হত্যাকাণ্ড যিনি পরিচালনা করেন তিনি সে সময়ের ব্রিটিশ আর্মির কমান্ডার জর্জ মসক্রপ। এর কয়েক বছর পরে ব্রিটেনের রাজ পরিবার থেকে জর্জ মসক্রপকে চিঠি দিয়ে কোনো কারণে ভৎর্সনা করা হয়। কেন করা হয় সেটা আর জানা যায় না, তবে অবশ্যই এই গাছে বেঁধে মানুষ পোড়ানোর জন্যে না।

    যাই হোক, জর্জ মসক্রপ এ ঘটনার অনেক পরে এই কাণ্ডের জন্যে অনুতপ্ত বোধ করেন এবং তার মেয়ের অন্তিম পরিণতির জন্যে এই ঘটনাকেই দায়ি করে চার্চের তৎকালীন হেড প্রিস্টের কাছে একটি কনফেশান লেটার লেখেন। সেটা পরের কথা। এর আগের খানিকটা অজ্ঞাত ইতিহাস আছে। মধুদার মুখ থেকে আমি জানতে পারি ভূপতি প্রথমবার বিয়ে করেন বেশ কচি বয়সে। সে সময়ে ব্যাপারটা এবসারড়। তাছাড়া জমিদারী দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল তার ঘাড়ে। হঠাৎ এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করলেন কেন তিনি? বিশেষ কোনো দরকার ছিল? আমার খটকা লাগে।

    কারণটা আপনাদের বলছি। দাদা মারা যাবার পর ভূপতি আবিষ্কার করেন দাদা চন্দননগরে থাকাকালীন শুধু যুদ্ধ করেই জীবন অতিবাহিত করেননি। তার একটি গুপ্তবাহিনি ছিল, এবং সেই বাহিনীরই একটি সাধারণ মেয়ের সঙ্গে তার প্রেম এবং বিবাহ দুটিই হয়। তবে ব্যাপারটা জানাজানি হয়নি। মেয়েটির নাম যতদূর সম্ভব সুনয়না। তার বয়স ছিল ঊনিশের কাছাকাছি।

    জমিদারবাড়ির বড়ছেলের স্ত্রী, অর্থাৎ রীতিমতো অভিজাত ঘরের ব্যাপার। সেটা প্রায় আঠেরোশো দুই কি তিন নাগাদ। সতীদাহ তখনও রদ হয়নি সদ্যমৃত দাদার স্ত্রীকে জীবন্ত চিতায় নিক্ষেপ হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ভূপতি তাকে নিজের স্ত্রী সাজিয়ে জমিদারবাড়ি নিয়ে আসেন। জমিদারবাড়ির লোকজন ছাড়া বাইরের কাউকে মেয়েটির আসল পরিচয় জানানো হয় না। ভূপতির স্ত্রী হিসেবে সে সেখানেই থাকতে শুরু করে।

    এর মাসখানেক পরেই নতুন এক সমস্যা এসে দেখা দেয়। স্বামী মারা যাবার সময় সেই মেয়েটি মাস চারেকের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। একমাস পরে তার শরীরে সন্তান ধারনের লক্ষন দেখা দেয়। ভূপতি প্রমাদ গোনেন। সন্তানটিকে যদি জন্ম দেওয়া হয় তাহলে সেটা যে তার নিজের নয় তা লোকে সময়ের হিসেব করলেই বুঝতে পারবে। এদিকে দাদার একমাত্র পূর্বসূরিকে গর্ভে নষ্ট করে ফেলতে মন চায়নি তার। একটিই পথ খোলা ছিল সামনে

    মহাভারতে কুন্তি যা করেছিলেন ভূপতি দত্তও তাই করলেন, তবে ছেলেটিকে ভাসিয়ে দিলেন না তিনি। নায়েবকে দিয়ে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিলেন। সে বড় হল বটে তবে দত্তবংশের পরিচয়ে না। ছেলেটি জন্মানোর সময়ই তার মা সুনয়নাদেবী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মৃত্যু হয়।”

    এই পর্যন্ত বলে একটু থেমে ব্যাগের ভিতর থেকে কয়েকটা কাগজপত্র বের করে কি যেন দেখে নিল পায়েল। তারপর আবার বলতে শুরু করল, “এবার আমার বছর কয়েক এগিয়ে আসি। মানে ধরা যাক আঠেরোশো পাঁচ নাগাদ।

    দত্ত বংশের বড় ছেলেকে যিনি হত্যা করেন অর্থাৎ জর্জ মসক্রপ, হুগলীতে এসে ততদিনে তিনি বাসা বেঁধেছেন। পাঁচ বছর আগে দুটি যমজ মেয়ে হয়েছে তার। এলিজাবেথ আর পারসিলা মসক্রপ। এই দুটি মেয়ের নাম ভালো করে মনে রাখুন। এরা আমাদের গল্পে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

    এর মধ্যে একটা বিচিত্র কাণ্ড ঘটে গেছে। জমিদারবাড়ির উত্তরের অন্দরমহলে একটা গোপন ঘর আবিষ্কার করে ফেলেছেন ভূপতি দত্ত। যা বাইরে থেকে কারও পক্ষে সহজে খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। এমন একটা ঘর যেখানে যে কোনো অপরাধের চিহ্ন লুকিয়ে রাখলে তা কারও হাতের নাগালে আসার কথা নয়।

    এই বাড়িতে আগে যে জমিদার বংশ থাকত তারাই সম্ভবত বিশেষ কোনো কারণে ঘরটা বানিয়েছিল। সেখানে ঠিক কি হত তা ভূপতি দত্ত জানতেন না। মোট কথা ঘরটাকে তিনি একটা হিডেন চেম্বার বলেই ধরে নেন।

    এর ঠিক পরপরই হুগলীতে বসবাসকারী মসক্রপের দুটি যমজ মেয়ের প্রতি তার নজর যায়। তাদের দু’জনের বয়সই সবে পাঁচ। হাসিখুশি, মা-বাবার আদরে বেড়ে ওঠা দুই-বোন। তাদের দেখে প্রতিশোধ স্পৃহা জ্বলে ওঠে ভূপতির।

    এরপর একদিন সুযোগ বুঝে লেঠেল দিয়ে এলিজাবেথ মসত্রুপকে লুকিয়ে তুলে আনেন তিনি এবং অন্দরমহলের সেই গোপন ঘরে তাকে বন্দি করেন, অত্যাচার করেন এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধ ঘরের ভিতরেই আটকে আগুনে ঝলসে দেন তাকে। মেয়েটি বন্ধ ঘরের ভিতর অত্যাচারিত ও দগ্ধ হতে হতে দেওয়ালে কিছু আঁচড় কাটে। এমন কিছু লিখে রেখে যায় যা বিশেষ একজন ছাড়া আর কারও পক্ষে পড়া সম্ভব নয়। গোপন কুঠুরিতে আগুনে পুড়েই মারা যায় সে। বদলে অন্য কিছুর জন্ম হয়। কিন্তু সে প্রসঙ্গে পরে আসছি।

    এভাবে ভূপতি দত্তের প্রতিশোধস্পৃহা চরিতার্থ হয়। জর্জ মসক্রপ বহু চেষ্টা করেও তার মেয়ের মৃতদেহ অবধি খুঁজে পান না। এ ঘটনার কয়েক বছরের মধ্যে জর্জ মসক্রপও মারা যান। তার স্ত্রীর খবর আর পাওয়া যায় না। সম্ভবত মারা গেছিলেন। শুধু এখানে থেকে গেছিলেন পারসিলা মসক্রপ।”

    “কিন্তু এসব ইতিহাসের সঙ্গে আমাদের খুনের সম্পর্ক কোথায়?”

    শশাঙ্ক জিজ্ঞেস করে। এতক্ষণ মনে দিয়ে শুনতে শুনতে একটাও কথা বলেনি সে, “এলিজাবেথ মসত্রুপ নিশ্চয়ই ভূত হয়ে এ বাড়িতে ফিরে আসেনি?”

    “ভূত মানে কিন্তু অতীতও হয় শশাঙ্কদা, আর অতীত বারবার ফিরে আসে আমাদের জীবনে। বিশেষ করে সে অতীত যদি অসমাপ্ত হয়। যদি কোথাও একটা গিয়ে তার তাল কেটে যায়, জোর করে তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। দত্ত বংশের ক্ষেত্রেও সে ফিরে এসেছে। আর তার জন্যেই এতগুলো খুন…”

    শশাঙ্ক একটু নিরুৎসাহিত হয়ে আবার পিছিয়ে বসল। পায়েল সবার দিকে আর একবার দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ছিন্নসূত্র আবার হাতে তুলে নিল, “এলিজাবেথ মসক্রপের কথা কেউ জানতে পারেনি। এমনকি তার যমজ বোন অবধি না। বোনের খোঁজ করার চেষ্টা করেছিল হয়তো বহুবার। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন হাওয়ায় উবে গেছে মেয়েটা।

    এখানে যমজদের সম্পর্কে দু-একটা কথা বলে নিই। আমিও সদ্য জানতে পেরেছি বইপত্র পড়ে। যমজ সন্তানদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখা যায় মাঝে মাঝে। গর্ভে তারা একে অপরের উলটোদিকে থাকে বলে একে অপরের সিমেট্রিকালি অপোজিট হয়। মানে আয়নায় দাঁড়ালে আমারা যেমন আমাদের ছায়াটাকে দেখতে পাই, তারাও সেভাবেই একে অপরকে দেখে। এ জন্যে বেশিরভাগ টুইনের একজন ডানহাতি ও অপরজন বাঁহাতি হয়ে থাকে, একজনের মাথার ডানদিক বেশি সক্রিয় অপরজনের বাঁদিক। এছাড়া আর একটি আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য থাকে। এরা নিজেদের মধ্যে জন্মগত আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের জন্যে অনেকসময় নিজেদের মধ্যে আকার-ইঙ্গিত ও বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে মনের ভাব আদান-প্রদান করতে পারে। এমনকি ভাষা অবধি বানিয়ে ফেলতে পারে। চলতি কোনো ভাষা শেখার আগেই এরা নিজেদের মধ্যে কমিউনিকেট করতে পারে। এমনকি মাতৃগর্ভে একে অপরকে হাত দিয়ে স্পর্শ করে ভাব বিনিময় করে।

    আমাদের এই দুই মসক্রপ বোনের মধ্যেও তেমনই কোনো একটা ভাষা চালু ছিল। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে ভাষার একটি লিখিত রূপও দেয় তারা। অন্য কেউ দেখলেও বুঝতে পারবে না সেটা। এভাবেই দুই বোন একসঙ্গে বেড়ে উঠছিল। কিডন্যাপ, রেপড হবার পর এলিজাবেথ মসত্রুপ সেই ঘরে পুড়তে পুড়তে আঙুলের আঁচড়ে তার বোনের উদ্দেশ্যেই কিছু লিখে রেখে গেছিল। মনে রাখতে হবে তার বয়স যেহেতু তখন পাঁচ এবং একমাত্র নিজের বোনের সঙ্গেই তার আত্মিক টান। তাই তাকে কিছু বলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক! এদিকে বোনের উধাও হয়ে যাওয়ার পর থেকেই পারসিলার স্বভাব চরিত্র পালটে যায়। সে একটু একটু করে ভায়োলেন্ট হয়ে পড়তে থাকে। আপনি আয়নায় দাঁড়িয়ে যদি নিজের ছায়াটা না দেখতে পান তাহলে আপনি যেভাবে ক্ষেপে উঠবেন ঠিক তাই। তার অর্ধেক শরীরের অনুপস্থিতি উপলব্ধি করতে পারে সে। আগুন তার ভিতরের কোনো চোরাকুঠুরিতেও জ্বলছিল। কিন্তু ভস্ম করার মতো কাউকে পাচ্ছিল না সে।

    এরপর আরও বছর কুড়ি এগিয়ে আসুন। ভূপতি দত্তের দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে কন্দৰ্প দত্ত তখন যুবক হয়ে উঠেছে। আমার ধারণা বাবার কাছ থেকেই কোনোভাবে সে ওই ঘরটার সন্ধান পায়। ঘরটা তাকে টানতে শুরু করে। কিছু যে আছে ঘরটায় সেটা বুঝতে পারে কন্দর্প। এঘরে যে তার বাবার আমলে ভয়ানক কিছু একটা ঘটেছিল সেটা সে ততদিনে ঝাপসা হয়ে আসা নখের আঁচড় আর আগুনের ছাপ দেখে বুঝতে পারে, এছাড়াও হয়তো প্রাচীন কিছু বইপত্র ঘরটা থেকে উদ্ধার করে সে। তাতে কিছু গোপন তন্ত্রের নির্দেশ দেওয়া ছিল। কিন্তু সেই মুহূর্তে সেই তন্ত্র ব্যবহার করার দরকার ছিল না তার তবে ঘরটা তাকে টানতে থাকে।

    এই সময় কোনোভাবে তার বন্ধুত্ব হয় পারসিলা মসক্রপের সঙ্গে। বন্ধুত্ব গভীরতর হবার পরপরই পারসিলাকে উত্তর মহলের ঘরের কথা জানায় কন্দৰ্প। সেখানে তখনও এলিজাবেথের নখের আঁচড়ের দাগ ফুটে ছিল দেওয়ালে। নখের আঁচড়ের লেখা দেখে পারসিলা বুঝতে পারে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তার বোন এলিজাবেথকে। বাবা ও জমিদার বংশের প্রতি ঘৃণায় কন্দর্প দত্তের মনও বিষিয়ে ওঠে তখন। পারসিলা প্রতিশোধের নেশায় পাগল হয়ে ওঠে।

    উত্তরের ওই ঘর দত্ত বংশের হাতে আসার আগে নবাবী আমলে একটি বিশেষ কাজে ব্যবহার হত। সে কাজটা ঠিক কি তা আমি জানি না। আজকের দিনে আর জানা সম্ভব নয়। তবে সেকালে চার্চের হেড প্রিস্টকে চিঠি লিখে জানানো হয় যে চকদীঘি জমিদারবাড়ির আড়ালে কোনো অকাল্ট রিচুয়াল পালন করা হচ্ছিল সেখানে যা সেই সময়ের অন্য যেকোনো ধর্মকে অস্তিত্ব শঙ্কটে ফেলতে পারে। বিশেষ করে মারা মানুষকে জাগিয়ে তোলা এবং জিনের মাধ্যমে উত্তরপুরুষের সঙ্গে পূর্বপুরুষের স্মৃতির মেলবন্ধন ঘটানোর অলৌকিক ক্ষমতা তারা হস্তগত করেছিল। কোনো প্রাচীন বিলুপ্ত দেবতার উপাসক ছিল তারা।

    “কিন্তু এসব তো গুজব। এরকম হাজারটা কথা মানুষ বলে বেড়াতো তখন।” মধুবাবু প্রতিবাদ করে ওঠেন।

    “গুজব যে নয় তার প্রমাণ আমি পেয়েছি। তবে দেখাতে হয়তো পারব না। আমাদের মধ্যেই এমন একজন আছে যে সেই অবলুপ্ত বংশের রক্তবাহক…’

    একবার মাথা তুলে পায়েলের দিকে তাকিয়েই মাথা নামিয়ে নেয় মালতী। পায়েল তার দিকে না তাকিয়ে আবার গল্পে ফিরে যায়, “কন্দৰ্প দত্ত ও পারসিলা মসক্রপ সেই অলৌকিক শক্তির সন্ধানে মেতে ওঠে। সে শক্তি একবার হস্তগত করতে পারলে ভূপতি দত্তের উপর প্রতিশোধ নেওয়া বিন্দুমাত্র কঠিন হবে না। তবে সেটুকুতেই তাদের প্রতিশোধস্পৃহা নিবৃত হবার নয়। তাদের রাগ গোটা জমিদারবংশের উপরে। এই কমন ইন্টারেস্ট ধীরে ধীরে দু’জনের মাঝে প্রেমের জন্ম দেয়।

    এইসময়ে বেশ কিছু ঘটনা আমার কাছে ঝাপসা। তবে এটুকু ধারণা করতে পারি যে নায়েব দিনু রায়ের মেয়েকে খুন করে দীঘির ধারে ফেলে রাখার কাজটা সম্ভবত করেছিল কন্দর্প। কারণ ছিল একটাই, ছেলের অসমকক্ষ প্রেমিকার খুনের দায়টা নৃপতি বা ভূপতি দত্তের উপরেই যাবে। তাদের আইনত সাজা দেবার ক্ষমতা কারও না থাকলেও প্রজাদের চোখে তাদের সম্পর্কে ঘৃণার উদ্রেক হবে। কাজটা সফল হয়, এরপর থেকেই জনমানসে দত্ত জমিদারদের প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয়।

    কিন্তু তার আগে গণ্ডগোলটা বাঁধে অন্য জায়গায়। মেয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে নায়েব দিনুরায় যে দত্তজমিদারবাড়ি আক্রমণ করবে সেটা আগে কন্দৰ্প ভাবতে পারেনি। ডাকাতরা দীঘির ধারে তাকে দেখতে পেয়ে খুন করতে যায়, এবং ঠিক এই সময়েই ঘটনাস্থলে আমাদের খুনির উদ্ভব হয়–কাপড়ে ঢাকা নারীমূর্তি।

    উত্তরের অন্দরমহলের সেই গোপন ঘরে যে অলৌকিক দেবতা লুকিয়ে ছিল তাকে সত্যি হয়তো জাগিয়ে তুলতে পেরেছিল পারসিলা মসক্রপ। তাকে জাগিয়ে তোলার জন্যে ভয়ানক কোনো অভিশাপের প্রয়োজন হয়। দেবতা সুপারি কিলার নয়। সে শুধু ইতিহাসের একটা সুতোকে আর এক সুতোর সঙ্গে বুনে দেয়, অসম্পূর্ণ বৃত্তকে সম্পূর্ণ করে, অভিশাপ তার নৈবেদ্য। এলিজাবেথ মসক্রপ আগুনে ঝলসাতে ঝলসাতে যে অভিশাপের ছবি এঁকে গেছিল সে ঘরে, তাতেই জেগে ওঠে সেই আদি দেবতা। তাকে জাগিয়ে তোলার একটি বিশেষ রীতি আছে।

    দুই মসক্রপ বোনই ছোট থেকে একটি বিশেষ স্বপ্ন দেখত। উত্তর মহলের সেই গোপন ঘরে ঢুকে পারসিলা মসক্রপ বুঝতে পারে তার স্বপ্নের সঙ্গে ঘরটার কিছু যোগাযোগ আছে।”

    ঘরের মধ্যে চাপা গুনগুনটা বেড়ে উঠেছে। নীলাদ্রি হাই তুলতে শুরু করেছে এতক্ষণে। একবার আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে সে বলল, “যতসম আজগুবি গালগল্প। এত সহজে পারসিলা মসক্রপ আর কন্দর্প দত্ত মিলে বেমক্কা দেবতা নামিয়ে ফেলল!”

    “পারসিলা মসক্রপের সম্পর্কে আরও কয়েকটা কথা বলার আছে আমার। তবে সেটা একটু পরে বলছি। এখন বললে সব গুলিয়ে যাবে আপনাদের।”

    মধুবাবু মুখটা ভার করে আছেন। যেন এতক্ষণ কিছুই শুনতে পাননি তিনি। সনাতন মাটির দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছে। ঘরে একমাত্র চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে দু’জনের মধ্যে, মালতী আর মুকেশ খাসনবীশ। দ্বিতীয়জন একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “কিন্তু আমি একটা ব্যাপার কিছুতেই বুঝতে পারছি না। এদের যাই করার থাকুক না কেন সেটা আজ থেকে দুশো বছর আগেই মিটে গেছে। আজ তাহলে এঘরে এদের কথা আসছে কেন?”

    “আসছে, কারণ শুধু ভূপতি দত্ত ও তার পরিবারকে খুন করা পারসিলার উদ্দেশ্য ছিল না। সে চেয়েছিল দত্ত বংশের শেষ রক্তটুকু শেষ করে দিতে। অর্থাৎ সমস্ত উত্তরপুরুষকে সমূলে বিনাশ করতে চেয়েছিল সে। শুধু সেই বংশধরই বেঁচে থাকবে যার গায়ে দত্তবংশ ছাড়াও পারসিলা মসক্রপের রক্ত আছে।”

    “কিন্তু তার জন্যে তো তিন ভাইবোন আর তাদের ছেলেমেয়েকে খুন করলেই যথেষ্ট ছিল।

    “ওমা! এর মধ্যেই ভুলে গেলেন!” অবাক হয়ে মুকেশের দিকে তাকাল পায়েল, “ভূপতি দত্তের সেই বড় বৌদি, তার সন্তানের গায়েও বইছে দত্ত বংশের রক্ত। অথচ সে যে কোথায় আছে কীভাবে মানুষ হচ্ছে সেটা কন্দর্প আর পারসিলার পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না। তারা অন্য একটা পন্থা অবলম্বন করে।”

    “কী পন্থা?” এবার সুনন্দা জিজ্ঞেস করে।

    “হেরেডিটারি মিউটেশান। অভিশাপের বলে দেবতাকে জাগিয়ে এলিজাবেথ মসক্রপের মৃত্যুর প্রতিশোধ একমাত্র সেই নিতে পারবে যার গায়ে পারসিলা মসক্রপের রক্ত বইছে। সেই শুধু ডায়েরির নির্দেশ পড়ে জাগিয়ে তুলতে পারবে দেবতাকে। এক জন্মে ঘটে যাওয়া ঘটনার স্মৃতি সঞ্চারিত হবে পরজন্মে। মিশরীয় দেবতা ওসাইরিসের পুনর্জন্মের মতো। পূর্বপুরুষের হত্যার প্রতিশোধ নেবে উত্তরপুরুষ। একে এক ধরনের পজেশান বলতে পারেন। অনেকটা ভর হওয়ার মতো… শুধু পার্থক্য হল ভর একজন মানুষের উপরে হয়। এক্ষেত্রে সেটা বংশানুক্রমিক।”

    “তার মানে তুমি বলছ মতীন ছিল সেই পারসিলা মসক্রপ আর কন্দৰ্প দত্তের বংশধর? আর শশিভূষণ ছিল ভূপতি দত্তের অজ্ঞাত বংশধর?”

    “প্রথমটা ঠিক, দ্বিতীয়টা ভুল। শশিভূষণ-এর কোনো পূর্বপুরুষ জমিদার বংশের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্যে এই অভিশাপের কথা জানতে পারেন। তার কাছ থেকে জমিদারী দেখাশোনা সংক্রান্ত কাগজপত্র পান শশিভূষণ। তাকে খুন হতে হয় এই ইতিহাসের খানিকটা জেনে যাওয়ার জন্যে। একটি বিশেষ জিনের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সদস্যদের যে স্বাধীনতার আগে এবং পরে এই জমিদারবাড়িতে এনে খুন করা হচ্ছে সেটা তিনি বুঝতে পারেন। কিন্তু যারা করছে সেই পারসিলা মসক্রপের বংশধরদের চিহ্নিত করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। মধুবাবুর কাছ থেকে শশিভূষণের কথাটা জানতে পেরে তাকে কলকাতায় গিয়ে খুন করে আসে মতীন। মনে করে দেখুন খুনের মাসখানেক আগেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল সে।”

    এতক্ষণ একটানা কথা বলে হাঁপিয়ে গেছিল পায়েল। সে মেঝেতেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। একবার ঘড়ির দিকে তাকায়।

    “কলকাতার খুনটা না হয় বুঝলাম, কিন্তু নলিনী ঘোষকে কী করে খুন করবে মতীন? সেতো আমার সঙ্গে বসেই গল্প করেছিল সারারাত।” মধুবাবু একটু ভেবেচিন্তে দেন যুক্তিটা।

    “খুনটা মতীনের নিজে হাতে করার দরকার ছিল না। দেবতাকে জাগিয়ে তোলার যে নির্দেশ বইতে লেখা আছে তার মধ্যে কোনো মন্ত্রের কথা বলা আছে। মতীন আপনার সামনে বসে পড়াশোনা করছিল। কিন্তু কী বই পড়ছিল দেখেছেন কি?”

    “না তা কেন দেখব?” অস্পষ্ট গলায় কথাটা বলেন মধুবাবু।

    “দেবতা জেগে উঠলে ভিক্টীম যে কোনো রিফ্লেকশানে তার নিজের মুখের বদলে একটি ছায়া ঢাকা মানুষের মুখ দেখতে পায়। সেই সঙ্গে দুটো জ্বলজ্বলে চোখের তারা। সে আরও ভালো করে দেখে বোঝার চেষ্টা করে কেন ভার মুখটা বদলে গেছে। যত মন দিয়ে দেখতে থাকে তত সে নিজের আত্মার উপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে। অনেকটা হিপনোটিজমের মতো। তারপরে সে পুরোপুরি আচ্ছন্ন হয়ে আত্মহননের দিকে এগিয়ে যায়। শশিভূষণের ক্ষেত্রে সে অভিশাপকে প্রয়োগ করতে পারেনি কারণ শশিভূষণ এ বাড়ির চৌহদ্দিতে ছিলেন না তাছাড়া উনি কোনোভাবেই দত্তবংশের জিনের বাহক নন। বললাম না দেবতা সুপারি কিলার নয়। কিন্তু অতীনের ক্ষেত্রে তা পেরেছে।”

    “কিন্তু অতীন রান্নাঘরে গিয়েছিল কী করতে?” প্রশ্ন করেন কেশব শৰ্মা।

    “নিজে যায়নি। নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শ্বাসকষ্ট হবার জন্যে সকালে ঘুম ভেঙে উঠে শুয়েছিল অতীন। তারপর ঘুম না আসাটা খুব স্বাভাবিক। কেউ জানালা দিয়ে কাগজের বল ছুঁড়ে ডাকে ওকে।”

    “কিন্তু কে?” কেশব শর্মা প্রশ্ন করেন। চারপাশটা দেখে নিয়ে একবার ঘড়ির দিকে তাকায় পায়েল। তারপর রহস্যজনকভাবে বলে, “এর জবাব আমি ঠিক চার মিনিট পরে দেব।”

    একটু অসন্তুষ্ট হন শর্মা। কিন্তু সেটা মুখে আসতে দেন না। মুকেশের কানে কানে কিছু একটা শলাপরামর্শ করেন তিনি।

    সুনন্দা কি যেন ভেবে নিয়ে বলল, “তার মানে তুমি বলছ সেদিন ডাকাতের দল নারীমূর্তি বলতে সেই দেবতাকেই দেখেছিল?”

    মাথা নাড়ে পায়েল, “না, সেদিন ডাকাতরা যে নারীমূর্তির কথা বলেছিল সে সম্ভবত পারসিলা মসক্রপ। তারা একটি অন্ধকারে ঢাকা নারীমূর্তির কথা বলেছিল। সেই যে তাদের খুন করেছে সেকথা বলেনি। দেবতা বাস্তবের মাটিতে আবির্ভূত হতে পারেন না। একমাত্র রিফ্লেকশানে ধরা পড়েন।”

    “কিন্তু তাহলে তুলি যাকে দু’বার দেখল…

    কথাটা বলতে গিয়ে আঁতকে ওঠে সুনন্দা। তুলির নাকের কাছে আঙুল চলে গেছে তার। মেয়েটার নিঃশ্বাস পড়ছে না। সবার অজান্তে বুকের স্পন্দন থেমে গেছে অনেকক্ষণ আগে। মুখটা রং হারাচ্ছে আস্তে আস্তে।

    “তুলি… তুলি…” মেয়েটাকে চেপে ধরে চিৎকার করে ওঠে সুনন্দা।

    “ও মরে গেছে সুনন্দাদি।” নিচু গলায় বলে পায়েল। তারপর মুখ ফিরিয়ে নেয়।

    “কে… কে মারল ওকে?”

    ঝোলা ব্যাগের ভিতর থেকে দুটো সবুজ বোতল বের করে টেবিলের উপরে রাখে পায়েল। দুটোই সবুজ। শুধু একটার মাথার কাছে একটু লাল রঙের দাগ লাগান। সুনন্দার দিকে এগিয়ে এসে চাপা অথচ দৃঢ় স্বরে পায়েল বলে,–“আমি।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article হেঁটে যাই জনমভর – সেলিনা হোসেন

    Related Articles

    সায়ক আমান

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026
    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }