Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী এক পাতা গল্প258 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঘুম – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    রাখালের মা দরজা খুলে দিয়েই রান্নাঘরের দিকে দৌড়ে গেল । কুকার সিটি দিচ্ছে ।

    ঘরে ঢুকে দেখি, বাবা ডিভানে বসে আছেন । কোলে দাবার ছক ।

    নিচু বেতের চেয়ারটায় বসে জুতো খুলতে খুলতে বললাম, কার সঙ্গে খেলছিলে? হঠাৎ দাবা যে?

    হ্যাঁ অনেকদিন পর— একা একাই খেলছি । তা বছর বারো হল বোধহয় ।

    বেশি । শেষ খেলেছিলাম ১৯৬৮তে । আমার মনে আছে ।

    আমি, বাবা একসঙ্গে দেওয়ালে মায়ের ফটোর দিকে তাকালাম ।

    বাবার কথার সঙ্গে হাসি মিশে গিয়ে বাবাকে ভারি সুন্দর লাগে । হাসি নিয়েই বাবা বললেন, খেলাটা শেষ পর্যন্ত হলে তোকে চেকমেট করে দিতাম ।

    সে খেলাটা শেষ হয়নি, মা এসে বোর্ড তুলে নিয়েছিলেন । সেই আমাদের দাবা খেলার ইতি ।

    আমি বললাম, এই বোর্ড-ঘুঁটি তুমি পেলে কী করে? ছিল কোথায়?

    তোর দিদির বিয়ের ডালা-কুলো থলের মধ্যে বাঁধা থাকে না? সেই থলের ভেতর পিঁড়ির তলায় লুকিয়ে রেখেছিল ।

    আমি চেয়ারটা বাবার সামনে টেনে এনে আধখেলা বোর্ডের ওপর ঝুঁকে বললাম, তুমি মনে হচ্ছে একটু সাদার দিকে টেনে খেলছ । কার চাল— সাদার, না কালোর?

    কালোর!

    আমি কালো নিচ্ছি ।

    খেলিস যদি বরং গোড়া থেকে—

    দেখা যাক না । দাঁড়াও, একটু ভাবতে হবে ।

    চা-টা খেলি না । হাত-মুখ ধুয়ে খাবার-টাবার খেয়ে তারপর না হয়— রাখালের মাকে বল, তোকে চা করে দিক । আর যদি চা বাদ দিতে পারিস, ভালো কালোজাম আছে— বোধহয় ফ্রিজে রেখে গেছে— চমৎকার জাম ।

    ওই যাঃ! তোমার জন্য আমলকী কিনেছিলাম, গাড়িতে ফেলে এসেছি!

    এখন আমলকী?

    শিয়ালদার জ্যামে আটকে ছিলাম, হঠাৎ ফুটপাতে আমলকী দেখে, প্রথমটাতো চিনতে পারিনি, আমলকীর চেহারা একেবারে ভুলে গিয়েছিলাম—

    তোর আর দোষ কী । কোথায় আর সেসব ফলমূল । এই যে আমাদের ফলমূল থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি এটা কিন্তু খুব ভয়ের কথা । কত ফল আর চোখেই দেখি না । তুই জাম-কটা খেয়ে আয় ।

    আমি উঠতে উঠতে বললাম, আচ্ছা বাবা, ফলসা কোন সময়টায় পাওয়া যায়?

    ফলসা আর কোথায় পাবি? ফলসা, গোলাপ জাম, দিশি খেজুর— এসব গ্রীষ্মের ফল ।

    জামের বাটি নিয়ে এসে বাবার সামনেই আবার বসলাম । বাবা সিগারেট ধরিয়েছেন । এভাবে ফিরে আসব ভাবেননি । বাবার সিগারেট খাওয়া নিয়ে আমার কড়াকড়িতে আজকাল আমার সামনে খুব কমই সিগারেট ধরান । এখন ধরা পড়ে গিয়ে খুব সহজভাবে সিগারেটে টান দেবার চেষ্টা করছেন । যেন কোটার বাইরে যাননি ।

    চেহারা দেখে বোঝা না গেলেও— সোজা হয়ে বসেন, চশমা ছাড়া রোজ তিনটে কাগজ পড়েন, দু-বেলা দিব্যি তিনতলা সিঁড়ি ভাঙেন, হলে হবে কী, বাবা পঁচাত্তর ছাড়িয়েছেন তাও বছর তিনেক হল । বয়েসের কথা ভেবেই আমি সিগারেটের ব্যাপারে বাবাকে একটু শাসনে রাখতে চাই । বাবার সেটা মনঃপূত নয় । আমার ছেলেকে বলেন, তোর বাবা রোজ ক-প্যাকেট সিগারেট খায় একটু নজর রাখিস তো! আমার বলে আশি বছর বয়স হতে চলল—

    আমার সিগারেট খাওয়া নিয়ে সরাসরি তো কিছু বলতে পারেন না, আমার ছেলেকে বলেন, বাবাকে বলিস অত সিগারেট খাওয়া ভালো না! আজকের হিন্দুতে একটা লেখা বেরিয়েছে, পেজ ফোরটিনে, আমি দাগ দিয়ে রেখেছি, তোর বাবাকে দেখাস ।

    বাবা হয়ত সহজ হবার জন্যই বললেন, ভালো না? পাকা জামের স্বাদই আলাদা ।

    আমি একটা আঁটি চুষতে চুষতে বললাম, তোমার এটা আজ ক-নম্বর?

    বাবা একটু ক্ষুণ্ণ হলেন । ছাই ঝেড়ে বললেন, আজকাল আর পাঁচ-ছটার বেশি খাই কোথায়?—

    একটু পরে আস্তে আস্তে ধোঁয়া ছেড়ে বললেন, কাগজে একটা বইয়ের বিষয়ে পড়লাম, বাংলার নানান ফলের খাদ্যগুণ নিয়ে ভালো লিখেছে নাকি— রুমাকে বলেছি যদি পায় নিয়ে আসে যেন ।

    এসে থেকে দেখছি না তো! গেছে কোথায়?

    রঞ্জু-মঞ্জুকে নিয়ে বইমেলায় গেছে ।

    যাঃ! একটা তালিকা করে রেখেছিলাম—

    রুমাকে বলে রাখলেই পারতি । ও জানে না?

    উঁহু । তাছাড়া রঞ্জু-মঞ্জুকে এই সময় কয়েকটা অন্য ধরনের বই পড়াব ভেবেছিলাম ।

    তুই একদিন ঘুরে আয় না । মেলায় দেখবি মানসিক বিশ্রাম হয়ে যাবে ।

    আমি আর সময় পাচ্ছি কোথায়?

    ওরই মধ্যে করে নিতে হবে । ব্যস্ততা তো থাকবেই, তোর এখন ব্যস্ত থাকারই বয়েস । তবে শ্রমের সঙ্গে বিশ্রামের অনুপাতটাও ঠিক রাখা চাই ।

    বাবা নতুন করে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন— কী নিবি? সাদা, না কালো?— ভালো কথা, কদিন ধরে আমার একটা ইচ্ছে হচ্ছে, এই ঘরে এই যত গাছ আছে তার কয়েকটা গাছের নাম-ধাম, ফল-ফুল, বংশপরিচয় কিছুই জানি না । প্রথম সারির মাঝেরটা । দ্বিতীয় সারির প্রথম দুটো । আর ওই রাবার প্ল্যান্টের ডানদিকে যেটা ।

    বাবা আঙুল তুলে জানলার পটীর গাছগুলো দেখালেন ।

    সব কটাই বিদেশি । ইন্ডোর প্ল্যান্টের ওপর ভালো বিদেশি বই পাস যদি একটু খোঁজ করিস । খুব জানতে ইচ্ছে করে ।

    বাবা বোর্ড সাজিয়ে তৈরি । সেই খেলাটায় তোর সাদা ছিল না?

    আমি একটু আসছি ।

    টিভিটা চালিয়ে দিয়ে যা তো । যদি ভালো কিছু থাকে । ততক্ষণ দেখি—

    কী ব্যাপার? এরকম বসে বসে কাউকে নির্দেশ দেবার লোক তো বাবা নয়! বৃষ্টির ছাঁট আসছে, জানলাটা বন্ধ করে দে— বাবা এরকম কখনও বলেন না । নিজে উঠে গিয়ে জানলা বন্ধ করাই বাবার স্বভাব ।

    আরও আশ্চর্য, এতক্ষণ আমার চোখে পড়েনি, বাবা আজ সামনের দিকে অনেকটা ঝুঁকে, প্রায় কুঁজো হয়ে বসেছেন । সারা জীবন বাবাকে মেরুদণ্ড সোজা করে বসতে দেখাই আমার অভ্যেস । এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার!

    আমি বললাম, তোমার শরীর খারাপ নাকি? এরকম করে বসেছ?

    শরীর ঠিক আছে । একটা সমস্যা হচ্ছে— দুপুর থেকে শুতে পারছি না । শুলেই বুকে কী রকম একটা অস্বস্তি হচ্ছে । এই যেভাবে বসে আছি— এতে আরাম পাচ্ছি ।

    এ তো ভালো কথা নয় । এতক্ষণ বলোনি, আশ্চর্য!

    বাবা মৃদু হাসলেন— ভয়ের কিছু নেই । রাতে নিশ্চয়ই ঠিক হয়ে যাবে ।

    বুকে কোনওরকম ব্যথা হচ্ছে না তো?

    না না, সেসব কিছু নয় । এক ধরনের রেস্টলেসনেস বলতে পারিস । বসে আছি, এখন কিছু নেই ।

    বুকের বাঁদিকে কি?

    মাঝখানে ।

    আমি ডাক্তারকে ফোন করছি—

    না না, ডাক্তার ডাকার মতো ব্যাপার নয় । কোথায় যাচ্ছিলি, সেরে আয়, এক হাত খেলা যাক ।

    টিভিতে হাল্কা মিউজিকের সঙ্গে লেখা— অনুষ্ঠান প্রচারে বিঘ্ন ঘটায় দুঃখিত ।

    বাবা সেদিকে তাকিয়ে হাসলেন— দুঃখ প্রকাশে আমাদের আর লজ্জা নেই ।

    আমার হঠাৎ মনে পড়ল, বাবা টিভিতে প্রথমে সাত নম্বর চ্যানেল ধরেন । ছেড়ে-আসা দেশের গাছপালাও বাবার ভারি প্রিয় ।

    আমি চ্যানেল ঘুরিয়ে বাংলাদেশ ধরলাম ।

    সিগারেট শেষ করে ফিরে এসে দেখি, বাংলাদেশের এক গ্রামে চাষীদের সঙ্গে এরশাদ কথা বলছেন— চারদিকের গাছপালা, খেত-খামার, খাল-বিলের ওপর দিয়ে মাঝে-মধ্যেই ক্যামেরা ঘুরে যাচ্ছে । বাবা তন্ময় হয়ে দেখছেন ।

    আমি টিভির দিকে তাকিয়ে বাবাকে বললাম, প্লেনে কলকাতা থেকে ঢাকা চল্লিশ-পঞ্চাশ মিনিটের পথ । তুমি দু-চার দিন বাংলাদেশে ঘুরে আসতে পারো! ছেলেবেলার স্মৃতি বলে কথা! আমার তো মাঝে মাঝে বারুইপুরের জন্য মন কাঁদে । কলকাতা থেকে বোধহয় কুড়ি-বাইশ কিলোমিটার— তবু মনে হয় কত দূরে ফেলে এসেছি!

    বাবা টিভিতে চোখ রেখেই বললেন, ছেলেবেলার দেশ কি আর বাইরে পাওয়া যায়? ও থাকে মনের মধ্যে । ঘরে বসে সিনেমার মতো দেখছি, এই বেশ ।

    আচ্ছা বাবা, তুমি দেশ ছেড়েছ কত বছর বয়েসে?

    ১৯৩০ । তার মানে তখন আমার ঠিক তেইশ বছর বয়স ।

    তুমি একবার ঘুরে এসো । বলো তো আমি সব ব্যবস্থা করে দিই । তোমার ছেলেবেলার গ্রাম তোমার খুব ভালো লাগবে ।

    পারলে তুই একবার যাস ।

    আমার তো ওটা দেশ নয় । আমি গেলে বারুইপুরে যাব । গাছপালার মধ্যে দিয়ে কী আশ্চর্য রেললাইন! একটা চলে গেছে লক্ষ্মীকান্তপুরে, আরেকটা ডায়মন্ডহারবার । আমি বিকেল হলেই বেরিয়ে পড়তাম । বাঁদিকের রেললাইন ধরে যেতাম শাসন পর্যন্ত । ডানদিকে যেতাম কল্যাণপুর পর্যন্ত । তুমি অফিস থেকে ফেরার অনেক আগে আমি ফিরে আসতাম । তুমি টের পেতে না ।

    বাবা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আমার গল্প শুনছিলেন । হেসে বললেন, টের পেতাম না? আবদুলকে তোর মনে আছে? আমাদের বাড়ির গাছ-টাছ দেখাশোনা করত— আবার নতুন ঘর-টর মেরামতির কাজে রাজমিস্ত্রির যোগাড়ের কাজও করত— তোকে গাছপালা চেনাবার ভারও আমি ওকেই দিয়েছিলাম— ওর বাড়ি ছিল শাসনে, তোকে একা একা রেললাইন ধরে ঘুরতে দেখে ওর খুব চিন্তা হত । এসে বলত, আপনি বাবু, অমরকে একটু বকে দেবেন । বর্ষাকালে সুতির বাদায় তুই সুরজ-ফোজোদের সঙ্গে তালের ডোঙা চড়তিস, ওর পছন্দ হত না ।

    আমি এসব করতুম তোমাকে-মাকে লুকিয়ে । তুমি তো এসব নিয়ে কখনও কিছু বলেছ বলে মনে পড়ছে না ।

    তোর মা খুব দুশ্চিন্তা করত, আমিই তাকে বোঝাতাম । ওই বয়েসে আমি যা নদী-নালা মাঠ-ঘাট ভেঙেছি তার কাছে এতো কিছুই না! বারুইপুরে সেসব আর তুই পাচ্ছিস কোথায়? ওই বর্ষাকালেই যা একটু— আর ওই রেললাইন ।

    বারুইপুরের কথায় মনে পড়ল— তখন তুমি শীতকালে উঠোনে রোদে বসে কাগজ পড়তে, আমি দাঁত ব্রাশ করতে করতে একদিন তোমার কাছে জানতে চাইলাম— ব্রাশ কি জোরে জোরে চালাতে হয়? তুমি কাগজ পড়তে পড়তে শুধু হুঁ বললে । কাগজ নিয়ে বসলে তুমি আর সব ভুলে যাও, কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে শুধু হুঁ-হাঁ-ই বলতে । সেদিন তোমার হুঁ শুনে আমার খুব অভিমান হয়েছিল । আমার সমস্যাটায় তুমি মোটেই মন দাওনি । ‘জোরে জোরে’ বলতে তুমি কি ‘চেপে চেপে’ বুঝেছ, না ‘দ্রুত’ বুঝেছ? ‘হুঁ’ বলে তুমি কোনটা বোঝালে? তোমার মোড়ার চারপাশের ঘাস শিশিরে চিক-চিক করছিল, আমার এখনও মনে আছে । বাবা হাসলেন, তোর তো বেশ প্রখর স্মৃতি । আমার কিছু মনে পড়ছে না ।

    তোমার শালের ওপর পেয়ারাগাছ থেকে এক ফোঁটা শিশির পড়েছিল ।

    বারুইপুর বাবার দ্বিতীয় দেশ । আমার প্রথম । বাবা অনেক খুঁজে-পেতে বারুইপুর পছন্দ করেছিলেন । তখনকার গাছপালায় ভরা, শান্ত, নির্জন বারুইপুরের স্মৃতিকথায় বাবার মনটা ভারি খুশি হয়ে উঠেছে বোঝা যায় । উত্তেজনায় প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট পুরোপুরি বের করার পর হঠাৎই আমার উপস্থিতি খেয়াল করে সিগারেটটা প্যাকেটে ঢুকিয়ে রাখলেন ।

    আমি বললাম, আমাদের সেই পেয়ারাগাছটা এখনও আছে কিনা কে জানে!

    বাড়ি যারা কিনেছে তারাই জানে! গাছ বড় অসহায় । জমির মালিক রাখলে রাখে, কাটলে কাটে । এ এক দুঃসহ অবস্থা ।

    তোমার বুকে এখন আর কোনও অস্বস্তি নেই তো?

    মনোযোগ দেবার মতো কিছু নয় । বিজ্ঞাপন শুরু হল । বাংলাদেশেও একই বিজ্ঞাপন! আয়, এক হাত খেলা যাক ।

    আমি রাজার সামনের বোড়ে দু-ঘর দিলাম । বাবা মারলেন না । ঘোড়া তুলে নিজের বোড়েটার পাহারার ব্যবস্থা করলেন ।

    আমি ঘোড়া তুলব, না গজ বার করব, ভাবতে ভাবতে বললাম, এক কাপ চা হলে কেমন হয়?

    হ্যাঁ, এখন খেতে পারিস । রাখালের মা, দাদাকে এক পেয়ালা চা করে দাও । আমাকে আধ পেয়ালা ।

    চা বাবার অতি প্রিয় । পারলে সারাদিনই চা খান, কেবল অসুস্থ থাকলে চায়ে বাবার রুচি থাকে না । সুস্থতা পরীক্ষা করবার জন্যই আমি চায়ের কথা তুললাম ।

    বাবা অনেক সময় নিয়ে আস্তে আস্তে চা খাচ্ছেন । একটা করে চাল দিয়ে এক চুমুক । আমি চা শেষ করে বললাম, তুমি ভাব । আমি আসছি ।

    কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি, বাবা ঠিকই বুঝেছেন । পাশের ঘরে এসে সিগারেট ধরিয়ে কান খাড়া করে রাখলাম— না বাবা আমার অনুপস্থিতি সত্বেও সিগারেট ধরালেন না ।

    ফিরে এসে দেখি, মন্ত্রীর দিকের গজ ছুঁয়ে বাবা এক মনে চিন্তা করছেন ।

    চাল দাওনি?

    এই দিই ।

    গজ এগিয়ে দিয়ে বাবা বললেন— দুপুরে শুইনি তো, বসে বসে ঘুম পেয়ে যাচ্ছে ।

    একটু শুয়ে নাও না ।

    আরেকটু বসি । বোর্ডটা শেষ করা যাক ।

    এবার চালটা দিলাম খুব একটা না ভেবেই ।

    বাবা ভাবতে বসলেন । ভাবছেন তো ভাবছেন, চাল আর দেন না । হঠাৎ দেখলাম, বাবার চোখ ঘুমে বুজে আসছে ।

    খেলা থাক । একটু ঘুমিয়ে নাও । আমি খাবার সময় ডেকে দেব ।

    বাবা চোখ খুলে কিছুটা লাজুক কিছুটা বিষণ্ণ হেসে বললেন, বড্ড ঘুম পেয়ে গেছে দেখছি । চাল দিইনি বুঝি? এই নে?— ঘোড়া সামলা!

    আমি সোজা পাশের ঘরে গিয়ে আমাদের চেনা হোমিওপ্যাথ ডাক্তারকে ফোন করলাম— একবার যদি আসেন । বাবার বুকে— না না ব্যথা-ট্যথা নেই । শুধু শুলে বুকে একটা অস্বস্তি হচ্ছে ।

    অস্বস্তিটা কি নিশ্বাসের কষ্ট?

    জিজ্ঞেস করছি । ফোনের মুখ চেপে ওখান থেকেই চেঁচিয়ে বললাম, বাবা, শুয়ে কি তোমার নিশ্বাসের কষ্ট হচ্ছিল?

    বাবা সামনে বসে কথা বলার মতো বললেন, ওই আর কি ।

    আমার উত্তর শুনে ডাক্তার বললেন, বাড়িতে একোনাইট ২০০ আছে? এখনই এক ডোজ দিয়ে দিন । আর ডিজিটালিস ৩০ আনিয়ে রাখুন । আমি আসছি ।

    এ ঘরে আসতেই বাবা বললেন, তুই কি ডাক্তার ডাকছিস নাকি? তুই বড় অল্পে অধৈর্য হোস ।

    আমার গলায় একটু হয়ত রাগ এসে গেছে, বললাম— তোমার মতো ধৈর্য তো আমার নেই । নিশ্বাসের কষ্ট— এতক্ষণ বলোনি কেন? দেখি, হাঁ করো ।

    ওষুধটা খেয়ে নিয়ে বাবা হাসলেন— ধৈর্য তো জীবনে চাই-ই রে! একটা বয়েসে দেখবি ধৈর্য ছাড়া আর কিছুই শেখবার নেই ।

    নিশ্বাসের কষ্ট হচ্ছে, অথচ তুমি গা-ই করছ না, এও তো এক ধরনের গ্রাম্যতা!

    তুই রেগে যাচ্ছিস । রাগ আসে ক্ষতিবোধ থেকে । আমার এটা সে ধরনের কিছু নয় ।

    আমি আর কিছু না বলে শুধু বললাম, আমি একটু আসছি ।

    কোথায় যাচ্ছিস?

    একটা ওষুধ এনে রাখি, শোবার সময় যদি দরকার হয়—

    আমার মনে হয়, একটা সিগারেট খেয়ে দেখা যেতে পারে ।

    না না, এ অবস্থায় আজ আর সিগারেট না খাওয়াই ভালো ।

    যদি ডাক্তার আনিস, দাড়িটা একবার কামাতে হবে ।

    আমি বাবার মুখের দিকে তাকালাম, দাড়ি তো আজ কামিয়েছ ।

    সে কোন সকালে । এতক্ষণে আবার গজিয়ে গেছে ।

    তোমার মুখ একদম পরিষ্কার ।

    ওষুধ নিয়ে ফিরে এসে দেখি ডাক্তার ব্যানার্জির সঙ্গে বাবা দিব্যি গল্প জুড়েছেন ।

    আমাকে দেখেই ডাক্তার বললেন, পিঠে কয়েকটা বালিশ এনে দিন । শুতে যখন পারছেন না, অন্তত আধশোয়া অবস্থায় থাকুন । ওঁর এখন শোওয়াটা খুব দরকার ।

    ‘এভাবে শুলে অসুস্থের মতো দেখায় ।’ বলতে বলতে আমাদের দুজনের পীড়াপীড়িতে, নিতান্ত অনিচ্ছায় বাবা বালিশ হেলান দিলেন ।

    দুয়েক মিনিট কারও মুখেই কথা নেই । বাবার চোখ বোজা, বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছেন ।

    হঠাৎ চোখ খুলে বললেন, আমি উঠে বসি । দুপুরের সেই অস্বস্তিটা ফিরে আসছে ।

    ডাক্তার ব্যানার্জি আমার কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে বললেন, আরেকটু শুয়ে থাকুন । ওষুধ দিচ্ছি, ঘুমোবার চেষ্টা করুন ।

    চেষ্টা করব কী, ঘুমে তো শরীর ভেঙে আসছে । এত ঘুম পেয়েছে— নিজেরই অবাক লাগছে । অথচ শুয়ে থাকতে পারছি না ।

    পারবেন । ওষুধটা চিবোবেন না, চুষে চুষে খান ।

    ডাক্তার চলে যাবার পর বাবা উঠে বসে বললেন, তোর মায়ের তো ইচ্ছে ছিল না আমরা দাবা খেলি । আজও শেষ হল না । তুলে রাখ । বড্ড ঘুম পেয়ে গেছে ।

    বোর্ড যেমন ছিল পড়ে রইল । আমি পাশের ঘরে এসে এমার্জেন্সি ডক্টর সার্ভিসে ফোন করে অক্সিজেন নিয়ে আসতে বললাম ।

    এ ঘরে এসে বাবাকে বললাম, দ্যাখো বাবা, যারা পাহাড়ে ওঠে, ওই যারা অভিযান-টভিযান করে আর কি, নিশ্বাসের কষ্টের জন্য পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যায়, জানো তো? তোমারও শুলে নিশ্বাসের কষ্ট হচ্ছে, তোমাকেও অক্সিজেন দিয়ে দিই কী বলো? অক্সিজেন নিলে কষ্টটা কেটে যাবে, তুমিও আরামে ঘুমোতে পারবে ।

    বাবা তিন-চার সেকেন্ড আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলেন । তারপর বললেন, অক্সিজেন আজকাল বাড়িতে আনা যায় নাকি? খরচও নিশ্চয়ই কম না?

    আমি বললাম, খরচ সামান্য । ফোন করে দিলেই বাড়িতে সিলিন্ডার নিয়ে চলে আসে । আমার কাছে ওদের ফোন নম্বর আছে ।

    এরপর মিথ্যে করে বললাম, দাঁড়াও ফোনটা আগে করে আসি ।

    ডিভানের পাশে ঝুঁকে অল্পবয়েসী ডাক্তার অক্সিজেনের সাজসরঞ্জাম ঠিক করতে করতে বাবাকে বললেন, আপনাকে যে এবার একটু চিৎ হয়ে শুতে হবে ।

    বাবা বললেন— কঠিন । দেখি চেষ্টা করে ।

    বাবা চিৎ হয়ে শুলেন । অক্সিজেনের নল নাকে নিয়ে একটুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন— না, এতে হচ্ছে না । আচ্ছা আর একটু ধৈর্য ধরে দেখি, যদি ঘুমনো যায় ।

    বাবা উঠে বসলেন । ডাক্তার ও তাঁর সহযোগীরা সাজসরঞ্জাম নিয়ে চলে যাওয়ার পর আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, একটু ঘুমের জন্য এত উদ্যোগ আয়োজন— তোর নিশ্চয়ই তিন-চারশো খরচ হয়ে গেল!

    বাবার মুখে সেই লাজুক হাসি । ওই হাসির মধ্যেই বললেন, কিন্তু আর তো না ঘুমিয়ে পারা যাচ্ছে না । একটু চেষ্টা করা যাক ।

    আশ্চর্য, বাবা এবার অনায়াসে, কারও সাহায্য ছাড়া, ডিভানে শুয়ে পড়লেন ।

    একটু পরেই বেল বাজার শব্দে আমি দরজা খুলে দেখি— আমার স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে । তিনজনের হাতেই বড় বড় বইয়ের প্যাকেট ।

    রঞ্জু ঘরে ঢুকে ডিভানে দাদাকে চোখ বুজে শুয়ে থাকতে দেখে ‘দাদা, দ্যাখো দ্যাখো’ বলে বইয়ের প্যাকেট হাতে এগিয়ে যাচ্ছিল, আমি ওকে ধরে ফেলে, আমার ঠোঁটে আঙুল রেখে খুব আস্তে আস্তে বললাম, চুপ, চুপ, দাদা ঘুমিয়েছে ।

    রুমা নিচু চেয়ারটায় বসে পড়ে কোলের ওপর নিজের প্যাকেটটা নিয়ে খুলতে খুলতে বলল, মানে? না খেয়ে ঘুমোলেন কী রকম?

    আমি বললাম, ঘুমের জন্য একেবারে কাঙাল হয়ে পড়েছিলেন । খুব আস্তে কথা বলো ।

    সে কী!

    আঃ, আস্তে!

    দুঘণ্টা পর টেবিলে খাবার দিয়ে রুমা বাবার ঘুম ভাঙাবার চেষ্টা করতে গিয়ে আচমকা অদ্ভুত স্বরে কেঁদে উঠল ।

    দৌড়ে এসে দেখি বাবা নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন ।

    প্রথম প্রকাশ : যুগান্তর, শারদীয় সংখ্যা ১৯৮৫

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Our Picks

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }