Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী এক পাতা গল্প258 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভয় – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    শেষ রাতে একদল লোক হঠাৎ সুর করে হরিনাম শুরু করায় সত্যেনের ঘুম চটে যায় । ভোরের দিকটাই তার গাঢ় ঘুমের সময় । চোখ জ্বালা করছে, মাথা ভার । ট্রেন থেমে আছে । জানলা দিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, স্টেশনের নাম পাঠশালা । প্লাটফরমে ছোট-ছোট দলে ভাগ হয়ে বহুলোক অলসভাবে দাঁড়িয়ে আছে । দেখেই বোঝা যায়, তাদের কোনও তাড়া নেই । দূরে গ্রাম । আকাশে তখনও তিনটে তারা ।

    কীর্তনের দলটা ছাড়া কামরা প্রায় ফাঁকা । সত্যেনের ঠিক সামনের সিটের মহিলা এরই মধ্যে মুখ-টুখ ধুয়ে বোধহয় একটু পাউডারও বুলিয়ে নিয়েছে । মুখটা ঘুমের পর একটু ভার-ভার, দেখতে মন্দ নয় । বাঁ-গালে আবছা মতো কয়েকটা ছিটছিট দাগ, বোধহয় লিভারের গোলমাল, ভুরু কুঁচকে প্লাটফরমের দিকে চেয়ে আছে । ছেলেটা দুহাতে তার মায়ের একটা বাহু জড়িয়ে ধরে কিছু বলছে, কীর্তন ছাপিয়ে শোনা যায় না । মহিলা বিরক্ত হয়ে ভেতরের দিকে মুখ ফেরাতেই সত্যেন চোখ সরিয়ে নেয় ।

    সিগারেট মুখে নিয়ে এ-পকেট ও-পকেট হাতড়ে দেশলাই পেল না । হরেরাম হরেকৃষ্ণ পৌঁছেচে, একজন তো দুহাত তুলে বসে-বসেই দুলছে । ওদের কাছে দেশলাই চাওয়া যায় না । অথচ ওদের জন্যই তার ভোরের ঘুম মাটি । ধর্ম সত্যিই বড় অন্ধ ।

    মহিলার স্বামী দু-হাতে দু-ভাঁড় চা নিয়ে ঢুকল, ধরো, ধরো, হাত পুড়ে যাচ্ছে ।

    — আঃ! হাত ছাড়ো বুবু ।

    — আগে বলো, পাঠশালা মানে কী?

    মহিলাটি এক হাতে একটা ভাঁড় নিয়ে সিটের ওপর রাখল । তারপর ছেলের হাত ছাড়িয়ে দিয়ে বলল, সোজা হয়ে বসতে পার না? কতদিন বলেছি কুঁজো হয়ে বসবে না ।

    ছেলেটা আরও ঘেঁসে মায়ের বাহু টেনে ধরে আরও কুঁজো হয়ে বসল । বলল, বসবো! তুমি আমাকে পাঠশালা মানে বলছ না কেন?

    টান লেগে বুকের আঁচল খসে পড়ে । আঁচল তুলে ছেলের দিকে তাকায়, উঃ! এত বিরক্ত কর! কলকাতায় চলো, তোমাকে আমি স্কুল ছাড়িয়ে ঘরে বসিয়ে রাখব!

    — আমি স্কুলে যেতে চাই না!

    ভদ্রলোকের প্যান্টে চা পড়েছিল, টয়লেট থেকে ধুয়ে এসে রুমাল দিয়ে ভিজে জায়গাটা মুছতে-মুছতে বললেন, কতক্ষণ এখন থাকতে হয় দ্যাখো! পর-পর ফিশপ্লেট খুলে রেখেছে । কতক্ষণে মেরামত হবে কে জানে!

    ভদ্রলোক চায়ে চুমুক দিলেন, এঃ, ঠান্ডা । কীর্তন তুঙ্গে উঠে নতুন করে মন্থর চালে শুরু হয়েছে । ভদ্রলোক সেই দিকে একবার চেয়ে নিয়ে স্ত্রীকে বললেন, তুমি বরং একটু শুয়ে নাও । বসে থেকে কোমর ধরে যাবে । ট্রেন ছাড়লে আর জায়গা পাবে না ।

    সত্যেনের মেজাজ পুরোপুরি খিঁচড়ে যায় । তার মানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এখানেই ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকবে । লাইন রিপেয়ারের কাজ কতক্ষণে শেষ হতে পারে, ভদ্রলোক সে-বিষয়ে কোনও ধারণা পেয়েছেন কিনা, জিজ্ঞেস করতে তার ইচ্ছে হল না । এই তার এক স্বভাব । মেজাজ খারাপ হলে কারও সঙ্গেই কথা বলতে ইচ্ছে করে না । এইসব সময় কেউ যদি তাকে জিজ্ঞেস করে কটা বাজে, সে উত্তর দেয় না, চুপ করে থাকে । এমনিতে অচেনা লোকের সঙ্গে কথা বলাই তার পেশা । মেডিকেল স্টোর, গ্রামের হাসপাতাল, এসব জায়গায় কথা বেচেই তাকে খেতে হয় । কিন্তু এখন ট্রেন কতক্ষণে ছাড়বে সেটা জানা তার খুবই দরকার, তবু কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হল না । সামনের ভদ্রলোককে সিগারেট ধরাতে দেখেও সে দেশলাই চাইল না ।

    প্ল্যাটফরমে নেমে সে পান-সিগারেটওয়ালার কাছ থেকে দেশলাই কিনল । লোকেরা কেউ-কেউ প্ল্যাটফরম ছাড়িয়ে লাইন পর্যন্ত এগিয়ে গেছে । ইঞ্জিনের কাছেও ভিড় । অনেকে এই সাতসকালেই সিঙাড়া-ডালপুরী খাচ্ছে । ভাব-সাব দেখে বোঝাই যায়, খুব শিগগির ট্রেন ছাড়বার সম্ভাবনা নেই । পাছে বিরক্তি বেড়ে যায়, সত্যেন স্টেশনের লোহার বেড়া ডিঙিয়ে বাইরে ফাঁকা মাঠের মুখে দাঁড়াল ।

    মাঠের ওপারে বাঁদিকে অনেকটা জায়গা জুড়ে বাঁশঝাড় । ডানদিকে গা-ঘেঁসাঘেঁসি কতগুলো মেটে বাড়ি । এই গ্রাম, তার আসা দূরে থাক, আগে কখনও দেখেইনি । এই রকম করে এই মাঠের ধারে এসে দাঁড়ানোরও তার কথা ছিল না! চারটে পাখি ঠিক তার মাথার ওপর দিয়ে চিংরিক চিংরিক করে ডাকতে-ডাকতে উড়ে গেল, সত্যেন খেয়াল করল, ঠিক এরকম কোনও পাখির ডাক সে আগে শোনেনি । সবটাই তার কাছে একেবারে আনকোরা নতুন । তার ওপর সবে ভোর হয়েছে । ভোরবেলা আচমকা নতুন একটা জায়গা চোখের সামনে পেয়ে গিয়ে সত্যেনের বুকের মধ্যে একটা চিনচিন ভাব আসে । সে টের পায়, তার মেজাজ ভালো হয়ে যাচ্ছে ।

    ভেতরটা ঘুরে দেখে এলে হয় । পিছন ফিরে প্ল্যাটফরমে চোখ বুলোল । লোকজনের তেমনই গা-ছাড়া ভাব । ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ট্রেন নিশ্চয় ছাড়বে না । সুটকেশ আর ব্যাগটা ট্রেনে রয়ে গেছে । ওই মহিলাটি ট্রেন ছেড়ে নামবে মনে হয় না । চুরি হওয়া শক্ত । তবু পকেট থেকে একটা আধুলি বের করে সে টস করে । হেড পড়লে এগোবে, টেল হলে পেছোবে । আধুলিটা হাত ফসকে কেঁচোর তোলা নরম মাটির স্তূপে কাত হয়ে গেঁথে যায় । চুলোয় যাক । তাছাড়া এখন তার ঝুঁকি নিতেই ভালো লাগছে । পয়সাটা ঘাসে মুছে নিয়ে পকেটে রেখে মাঠের মাঝামাঝি পৌঁছে সত্যেন পরিষ্কার বুঝতে পারল, তার এতদিনের জীবনের সঙ্গে এখন আর তার সম্পর্ক নেই ।

    মাঠ পেরিয়ে প্রথম যে বাড়িটা দেখল, তার উঠোনে একটা মেয়ে ছাগল দুইছে । কাছেই সাত-আট বছরের আরেকটা খালি-গা মেয়ে ছাগলটার পিছনের ঠ্যাং দুটো শক্ত করে ধরে আছে । বড় মেয়েটির শাড়ি হাঁটুর ওপর তোলা, দু-হাঁটুর মাঝখানে একটা অ্যালুমিনিয়ামের বাটি চেপে রেখেছে, সত্যেন পাশ থেকে তার একদিকের স্তনের খানিকটা দেখতে পেল ।

    সিগারেট ফেলে সত্যেন মেয়ে-দুটোর কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই ছাগলটা গলা তুলে ডেকে উঠল । পা ঠুকে-ঠুকে পা ছাড়াবার চেষ্টা করছে ।

    — আঃ! শক্ত করে ধর না! এই লক্ষ্মী, ওদিকে কী দেখছিস?

    লক্ষ্মী সত্যেনকে দেখছিল । তাদের বাড়ির উঠোনে প্যান্ট-শার্ট পরা লোক, কোমরে চওড়া বেল্ট, পায়ে কীরকম জুতো, লক্ষ্মী অবাক ।

    — ইস্টিশন পরে দেখিস । ও ট্রেন আজ আর যাবে নাকি! বলছি না, ঠ্যাং চেপে ধর ।

    লক্ষ্মী আস্তে করে মুখ নামিয়ে বলল, দিদি, দ্যাখ—

    মেয়েটা মুখ ফিরিয়ে সত্যেনকে দেখেই বিরক্ত । খুব বিপদে পড়েছে । কাপড়-চোপড় ঠিক নেই, এদিকে পা আটকা । সত্যেন গলা পরিষ্কার করে বলল, ছাগলদুধ তোমরা বিক্রি কর?

    মেয়েটা ততক্ষণে দুধের বাটি নামিয়ে রেখে পায়ের পিঠের শাড়ি টানছে, সত্যেনের কথার উত্তর দিল না । গলায় খাঁটি বিরক্তি নিয়ে লক্ষ্মীকে বলল, যা তো, বাবাকে ডেকে নিয়ে আয় ।

    ছাড়া পেয়ে ছাগলটা দৌড়ে খানিক দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল । মেয়েটা এক দৌড়ে গিয়ে ছাগলটার শিং ধরে ফেলল ।

    গায়ে কাপড়ের খুট জড়িয়ে লক্ষ্মীর পিছন-পিছন মাঝবয়েসী একটা লোক বেরিয়ে এল । চোখে সন্দেহ । সত্যেন তার দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে বলল, আপনারা কি অল্প খানিকটা ছাগলদুধ বেচবেন?

    লোকটার তখনও সন্দেহ যায় না । সত্যেনকে আপাদমস্তক দেখে নিয়ে বলল, তা আপনার আসা হচ্ছে কোত্থেকে?

    সত্যেন সিগারেট ধরিয়ে লোকটার দিকে প্যাকেট বাড়িয়ে দেয়, আমাদের ট্রেন এখানে আটকে গেছে । লাইন-টাইন সারিয়ে কখন ছাড়বে ঠিক নেই । আমার পেটের গোলমাল । একটু ছাগলদুধ পেলে—

    লোকটা সিগারেট ধরায়, ধোঁয়া ছেড়ে বলল, দাম আজ একটু বেশি পড়বে । ভোর থেকেই তো গ্রামের সব দুধ-ডিম ইস্টিশানে উবে যাচ্ছে ।

    — সে ঠিক আছে । কিন্তু দুধ একটু গরম করে দিতে হবে । পোয়াটাক হলেই চলবে ।

    মেয়েদুটো ততক্ষণে আবার ছাগল দুইতে লেগেছে । লোকটা বলল, একটু সময় লাগবে । আপনি ততক্ষণ একটু বিশ্রাম করুন ।

    নিজেই একটা জলচৌকি এনে দাওয়ায় পেতে দেয়, বসুন ।

    লোকটাও কয়েক হাত দূরে মাটিতে উবু হয়ে বসে ।

    সত্যেনের অস্বস্তিভাবটা কেটে গেছে । বেশ লাগছে । যেন বিনা চেষ্টায় সে একটা নতুন জীবনে ঢুকে পড়েছে । দূরে বাঁশঝাড়ের মাথায় চিংরিক-চিংরিক শুনে সে কথা খুঁজে পায়, ওটা কী পাখি বলুন তো ।

    — আমরা বলি পিরীত-পাখি । জোড়ায়-জোড়ায় ওড়ে । সব সময় ওইরকম শিস দেয় ।

    লাভবার্ড-এর চমৎকার বাংলা! সত্যেন নায়কোচিত ভঙ্গিতে এদিক-ওদিক দ্যাখে— আপনাদের এই জায়গাটা আমার খুব ভালো লাগছে । ধরুন, আমি যদি এখানে থেকে যেতে চাই, একটু জমি কেনার ব্যবস্থা করে দিতে পারেন?

    লোকটা সিগারেট টেনে কাশছিল, বসে-বসেই অনেক দূরে, উঠোনের কিনারে খানিকটা কাশ ছুঁড়ে ফেলে বলল, কলকাতায় আপনার বাড়ি নেই?

    — তা আছে । আচ্ছা, আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করে এখানেই ঘর-বাড়ি তুলে থেকে যেতে পারি না?

    বলেই সত্যেন বিব্রত হয় । লোকটা নিশ্চয় তাকে পাগল ঠাওড়াচ্ছে কিংবা বদমাশ-টদমাশ ভাবছে । ভাবুক গে, এই ভাবেই ভালো । স্পষ্টাস্পষ্টি কথা বলার স্বাদই আলাদা । আর এই মাঠের মধ্যে বিয়ে-টিয়ের কথা বললেই বা ক্ষতি কী!

    লোকটা কিন্তু একটুও চমকায়নি, দিব্যি শান্ত গলায় বলল, কলকাতায় আপনার বউ নেই?

    সত্যেনের ইচ্ছে হল, বলে দেয় যে তার বউ আছে । তার ছেলে পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে পড়ছে । আর তিন বছর পরে দেরাদুন ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে যাবে । আজ, এখানে, তার সব সত্যি কথা বলতে ইচ্ছে করছে । তার মন চাইছে, সত্য বই মিথ্যা বলিব না । একরকম জোর করে সে বলল, বিয়ে আর করা হল কই! অবশ্য আপনার মেয়ের তুলনায় আমার বয়েস একটু বেশি—

    সত্যেন টের পায়, তার ভেতরটা কাঁপছে । লোকটা নিশ্চয় তাকে বড়শিতে বিঁধে খেলাচ্ছে । বলল, তাতে আর বাধা কী! সরস্বতীর মা আমার থেকে কুড়ি বছরের ছোট ছিল । তা তিনি আর নেই । এই বুড়ো বয়সে মেয়েদুটোকে আমার কাঁধে চাপিয়ে— কথা থামিয়ে ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ।

    ব্যাপারটা সত্যেনের আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে । কোথাকার জল কোথায় গড়াবে কে জানে । তার নেশা চড়ে গেছে, এখন আর থামার মানে হয় না । সে চট করে ভেবে নিল, যদি মেয়েটাকে বিয়ে করে এখানেই বাকি জীবন সে থেকে যায়, সেটা কি সত্যিই অসম্ভব? সঙ্গে সঙ্গে তার একটা দর্শনও তৈরি হয়ে যায় । এটা কি ঠিক নয় যে তার জীবনটা আগাগোড়া ভুল হয়ে গেছে! সে কি সত্যিই অন্তরে-অন্তরে একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ? কোথাকার কোন ওষুধ কোম্পানির স্যামপেলের ব্যাগ নিয়ে হিল্লি-দিল্লি করে বেড়াতে কি তার জন্ম হয়েছে? এতদিনে তার সেতারের টংকারে দেশ কাঁপানোর কথা ছিল । বড়মামা নিজে ডাক্তার, একবর্ণ সেতার না-বুঝে দিব্যি সুখে জীবন কাটিয়ে গেলেন । ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে তার চাকরিটা জুটিয়ে না দিলে, আজ তার এরকম জীবন হয়? চাকরি হয়েছে, বউ হয়েছে, প্রোমোশান হয়েছে, ভাড়াটে সুদ্ধ একটা বাড়িও সে কিনে ফেলেছে, ছেলে হয়েছে, সবই হয়েছে । কিন্তু তার ওপর যেন অন্য একটা লোকের জীবন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে । এই জীবনের কথা সে ষোল বছর বয়েসে কই ভাবেনি তো! সত্যেন একেকটা বয়েসে একেকরকম দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভেবেছে, আবার যদি সেই স্কুলের জীবন থেকে শুরু করা যেত! সেটা কারও পক্ষেই সম্ভব নয় । কিন্তু সারাজীবন একঘেয়ে একটা ভুল জীবনের জের টেনে চলতে হবে তারই বা মানে কী! পাঠশালা থেকে শুরু করা না যাক, এখন এই পাঠশালা গ্রামে নতুন আরেকটা জীবন কেন ফিরে শুরু করতে পারবে না?

    সরস্বতী এক বাটি গরম দুধ তার সামনে রেখে চলে যাচ্ছিল, তার বাবা খেঁকিয়ে উঠল, হাতে দিতে পারিস না? মানী লোককে ওভাবে খেতে দেয়? ধিঙ্গি মেয়ে, এসব আর কবে শিখবি?

    মেয়েটা ফিরে এসে দুধের বাটি সত্যেনের হাতে তুলে দেয় । লোকটা হা-হা করে ওঠে, এক হাতে না, এক হাতে না! বাঁ-হাত দিয়ে ও-হাতের কনুই ছুঁয়ে তারপর দে ।

    সত্যেন ব্যস্ত হয়, ঠিক আছে, ঠিক আছে । ছেলেমানুষ—

    — ছেলেমানুষ কী! কদিন পরে নিজের সংসার হবে, ছেলেমানুষ বললে হয়!

    মেয়েটা দুধ দিয়ে চলে যাচ্ছে, একেবারে লাউডগার মতো সজীব । সত্যেন বাপের সামনে জোর করে ওর দিক থেকে চোখ সরিয়ে নেয় ।

    — তা বাবা, আপনারা শহরের মানুষ, এসব গ্রাম-গাঁ তো আপনার ভালো লাগবে না ।

    — আমার লাগবে । জায়গাটা আমার খুব ভালো লাগছে ।

    — সে দু-একদিন । তারপর আর মন টিকবে না ।

    — আপনি আমার ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন না । আমি নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই । এইখানেই, এটাই ঠিক জায়গা ।

    — তা নয় থাকলেন, পেট চলবে কিসে?

    — কলকাতায় আমার বাড়ি আছে । নীচের ভাড়াটে তুলে দিয়ে বাড়িটা বেচতে পারলে ভালো দাম পাব । লাখ-দুয়েকের বেশি ছাড়া কম নয় । মামলা করেছি, রায় আমার পক্ষেই হবে ।

    সত্যেন কথাটা এই পর্যন্ত হুবহু সত্যি বলছে, ফলে তার কোনও জড়তা নেই, সে ভাবী শ্বশুরকে তার আর্থিক সঙ্গতির বর্ণনা দেয়, পুরো টাকাটা ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিটে রাখলে ব্যাঙ্কই মাসে মাসে এখানে আমাকে টাকা পাঠিয়ে দেবে । মাসে প্রায় দু হাজার ।

    লোকটা ঝট করে উঠে দাঁড়িয়ে বাড়ির ভেতরের দিকে মুখ ফিরিয়ে হাঁক পাড়ে, ও নকে-সরে, একবার আয়, শিগগির আয় মা—

    অনেকক্ষণ সহ্য করেছে, এতক্ষণে বুঝি তার মাথা খারাপ হল । আয়, আয়, শিগগির আয়— বলতে বলতে লোকটা সত্যেনের পায়ের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে, আপনি সাক্ষাৎ ভগমান!

    সত্যেন ভারি বিব্রত হয়ে পা সরিয়ে নেয় । লোকটা মেয়েদের দিকে মুখ তোলে, তার দু-চোখ বেয়ে জল পড়ছে, বাবু চান করবে, জল তুলে দে, শ্যামার বাড়ি থেকে আরও দুধ নিয়ে আয়, পায়েস হবে, ঘরটা ভালো করে নিকিয়ে একপাশে পরিষ্কার একটা বিছানা কর, কাচা কাঁথা-টাথা কী আছে দেখ— ও হো হো হো! তোর মা যদি আজ থাকত ।

    লোকটা বালকের মতো কাঁদছে । সত্যেনের হাত ধরে তাকে ঘরে নিয়ে আসে, কাঁদতে কাঁদতে শীতলপাটি পেতে দেয়, এ আপনার নিজের বাড়ি । সরস্বতী, হাওয়া কর মা । আমি দেখি, দুমুঠো সরু চাল যদি পাই—

    লোকটার পিছন পিছন লক্ষ্মী একটা ঘটি নিয়ে বেরিয়ে গেল । বোধহয় দুধ আনতে ।

    সরস্বতী দেওয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে হাওয়া করছে । ঘরে আর কেউ নেই । সত্যেন খপ করে তার হাত ধরে । ভেতরে ব্লাউজ-টাউজ কিছু নেই, শাড়ির ওপর দিয়ে বুকের ডৌল বোঝা যায়, সত্যেনের শরীরের মধ্যে ঝমঝম করছে…. না ঠিক হবে না, এবার তার অন্য রকম জীবন চাই । মেয়েটা ওই অবস্থায়ও দেওয়ালের দিকে মুখ করে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে । সত্যেন হাত ছেড়ে দিয়ে বলল, হাওয়া করতে হবে না, বোসো । তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে ।

    মেয়েটা আড়ষ্ট, মুখটা শক্ত করে তেমনই দাঁড়িয়ে আছে । সত্যেন এবার তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় । একেবারে মুখোমুখি । হাত নিসপিস করছে । ফস করে সিগারেট ধরিয়ে বলল, তুমি কাজ কর । আমি একটু গাছপালা আকাশ-টাকাশ দেখে আসি । জায়গাটা ভারি সুন্দর ।

    বাইরে এসে একটা পুকুরে তার চোখ আটকে যায় । পরিষ্কার জল, তার মধ্যে আকাশ স্থির হয়ে আছে । অনেক নীচে দুটো চিল, জলের মধ্যে চিৎ হয়ে অতি ধীরে ভেসে বেড়াচ্ছে ।

    ঠিক এইখানেই সে বাড়ি তুলবে, এই পুকুরটার কাছে । চার কোণে চারটে, কি আটটা পিলার তুলে তার ওপর কংক্রিটের ছাদ ঢালাই করে তার ওপরে ঘর হবে, যেন মাচার ওপর বাড়ি, নিচটা চারদিক খোলা, সেখানে শুধু ফুলগাছ, মাঝখানে সবুজ ঘাসে ঢাকা বসবার একটু উঁচু মতো জায়গা থাকবে । দোতলায় তার খাওয়া-শোওয়ার ঘর, আর তার ওপরে, একেবারে আকাশ-ছুঁয়ে একটামাত্র ঘর । ওই ঘরে সে রেওয়াজ করবে । রোজ শেষ রাতে আহীরভৈঁরো বাজিয়ে সে সূর্যোদয়ের ঠিক আগে সারা আকাশ রাঙিয়ে দেবে । ভাবতেই তার শরীরে যৌন আনন্দের মতো একটা শিহরণ উঠল ।

    বহুদূর থেকে ইঞ্জিনের টানা হুইশিল শুনে প্রথমে সে কিছুই মনে করতে পারল না । পরের মুহূর্তে সে ভীষণ ভয় পেয়ে হঠাৎ মাঠ ভেঙে দৌড়তে লাগল । মাঝ বরাবর এসে সত্যেন দেখল, প্ল্যাটফরম ফাঁকা, সবাই ট্রেনে উঠে পড়েছে । দ্বিতীয় হুইশিল পড়ল । ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে তৃতীয় হুইশিলের মাথায় সত্যেন লোহার বেড়া ডিঙোতে গিয়ে প্যান্টের পা ছিঁড়ল । লাফ মেরে সামনের একটা চলন্ত কামরায় উঠে পড়ে হাঁপ নিতে নিতে সত্যেন ভাবল, উঃ, আরেকটু হলে…কাল তার মামলার তারিখ!

    এত হাঁপাচ্ছে, এখন পনেরো মিনিট সিগারেট খাওয়া যাবে না ।

    প্রথম প্রকাশ : আনন্দবাজার পত্রিকা, ২ এপ্রিল ১৯৭৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Our Picks

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }