Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী এক পাতা গল্প258 Mins Read0
    ⤶

    ভাঙন – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    দুর্গাপদ হাত বাড়িয়ে মায়ের ফটো ছুঁয়ে, হাতটা নিজের কপালে ঠেকাল । তারপর বউয়ের ফটো ছুঁয়ে হাতটা ঠোঁটের কাছে এনে চুমুর মতো একটা শব্দ করল । তারপর ফোম লেদারের ব্যাগটা হাতে নিয়ে ঘরের বাইরে এসে দাঁড়াতেই একেবারে সুষমার মুখোমুখি । দুর্গাপদ একনজর দেখেই বুঝে গেছে তাকে ধরবে বলেই সুষমা আগে থেকে এসে দাঁড়িয়ে আছে ।

    সুষমা যেন সবে রান্নাঘর থেকে বেরিয়েছে, শব্দ করে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে বলল, দাদা কি তবে একেবারে মামলা মিটিয়ে ফিরবেন?

    মামলার কথা কে বলতে পারে! বলে সে পকেট থেকে চাবি বের করল ।

    দুর্গাপদ তার এই ভাইয়ের বউটিকে বিশেষ পছন্দ করে না । আজ কী মতলবে কে জানে!

    সে নিচু হয়ে নিজের দরজায় তালা লাগাতে লাগাতে কান খাড়া করে অপেক্ষা করছে, সুষমা বলল, দিদির সেলাইকলটা ক’দিনের জন্য আমাকে দিয়ে যাবেন?

    দুর্গাপদ পিঠ টান করে ফট করে বলে দিল, ও মেশিন তো কবে থেকে ছুঁচ ভেঙে পড়ে আছে ।

    —তাই বুঝি! ইস, অত ভালো মেশিনটা!

    —তা আর কী করা যাবে! হরি উঠেছে? একবার ডাকো দেখি ।

    বলে দুর্গাপদ নিজেই হরিপদর ঘরের দিকে এগিয়ে চৌকাঠে দাঁড়িয়ে হাঁক পাড়ল, হরি, এই হরি । আর কত ঘুমোবি রে! ওঠ, ওঠ, উঠে পড়! উঠলি?

    হরিপদ ধুতিতে গিঁট দিতে দিতে বাইরে এসে দাঁড়াল, তার দুচোখ এখনও কোঁচকান । ওইভাবেই বলল, এখনই চললে?

    —সুবলকে রিকশা আনতে পাঠিয়েছি । শোন হরি, ফিরতে আমার ক’দিন দেরি হতে পারে । কোর্ট-কাছারির ব্যাপার । এদিকে একটু নজর রাখিস । দিনকাল তো ভালো না ।

    —সুবলকেও নিয়ে যাচ্ছ নাকি?

    —ওর বড় মামা তো সেই রকমই লিখেছেন । অনেক সময় ছোটদের সাক্ষীতে বেশি কাজ হয় । ওর একটু দেখে-শুনে আসাও হবে ।

    হরিপদ রকের ধারে বসে চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দিতে দিতে বলল, সব ঠিকমতো হয়ে গেলে, ওখানে দুয়েকখানা ঘর যদি পাও, মানে বৌদির অংশটা তো তুমিই পাবে, তাহলে কি ওখানেই থাকবে নাকি তুমি?

    —পাওয়া-পাওয়ি অনেক পরের কথা । অতবড় মানি লোকের বাড়ি, আগে তো শ্মশানের কাঠ বেচা বন্ধ হোক— তারপর ধর, এই কোর্টে হারলে আবার হয়তো ওপরের কোর্টে যাবে, ওই বাড়ির ছেলে হলে হবে কী, শুনি তো একেবারে চণ্ডাল!

    —না, ধরো, তোমার শালারা ছোট ভাইয়ের হাত থেকে বাড়িটা উদ্ধার করল, তখন তো তার ও-বাড়িতে বসে রাত-বিরেতে আর কাঠ বেচা চলবে না, তখন বাড়ি নিশ্চয়ই ভাগ হবে— ভাগ হলে এক ভাগ তো বৌদিরই প্রাপ্য—

    —বুদ্ধিটা তোর বরাবর মোটাই রয়ে গেল । পৈতৃক ভিটে ছেড়ে আমি যাব বিদেশে! শ্রীরামপুর আমাদের কাছে বিদেশ ছাড়া আর কী!

    হরিপদ গেঞ্জি আনতে ঘরে ঢুকেছিল, বাইরে এসে গেঞ্জিতে মাথা গলিয়ে বলল, বৌদির ভাগটা তাহলে ছেড়ে দেবে?

    বাইরে রিকশার শব্দ । দুর্গাপদ উঠোনে নামতে নামতে বলল, সম্পত্তি-টম্পত্তি বাজে কথা । আমাকে যেতে হচ্ছে শ্বশুরমশায়ের বাড়ি রাহুমুক্ত করতে । যতদিন বেঁচেছিলেন, লোকের প্রণাম কুড়িয়েছেন । সেই লোকের বাড়ির এই অবস্থা! অরূপদা তো লিখেছে, এবার একটা ডিসিশান হবার নাকি খুব সম্ভাবনা । চলি রে ।

    ২

    মেঘলা আকাশেও এক ধরনের মৃদু আভা আছে । তাতেই গঙ্গায় বাড়িটার ঘোলাটে ছায়া পড়েছে । দুর্গাপদ হাতের সিগারেট জলে ছুড়ে দিয়ে বলল, বৃষ্টি হলে কিন্তু এ-ছায়া আর দেখা যাবে না ।

    সুবল এতক্ষণ গঙ্গার জলে মামাবাড়ির আবছা ছায়ার দিকে চেয়ে ছিল, বাবার চোখ এড়ায়নি । নৌকো চড়া তার জীবনে এই প্রথম । এতদিন সে শুধু বাবার ছেলেবেলায় ভোররাতে চুঁচুড়ো থেকে শ্রীরামপুর নৌকোযাত্রার গল্প শুনেছে, আজকাল যখন হাওড়া থেকে আধ ঘণ্টায় ইলেক্ট্রিক ট্রেনে শ্রীরামপুর যাওয়া যায় তখন আচমকা নৌকো চড়ার সুযোগ পেয়ে তার প্রায় রোমাঞ্চ লাগছে । ভাগ্যিস, বালিতে ট্রেন বিগড়েছিল!

    বাবার চেষ্টা ছিল, বালি থেকে বাস ধরবে । বাসে অস্বাভাবিক ভিড়, একটার পর একটা বাস ছেড়ে দিয়েও সুবিধে করা যাচ্ছে না । বাবা হঠাৎ বললেন, চ’ সুবল, আমরা নৌকোয় যাই । না হয় সন্ধেই হবে, তাই বলে এই গা-বমি করা ভিড়ে যাওয়া যায় না । তাছাড়া তোরও একটা অভিজ্ঞতা হবে । জলের ওপর ভাসতে ভাসতে যাওয়া— তার স্বাদই আলাদা । চিরকাল তো মাটির ওপর দিয়েই যাওয়া-আসা করলি!

    সুবলের একটু খটকা ছিল, বলল, গঙ্গায় নৌকো ডুবে যাবে না তো?

    —তোর জলে ডোবার ফাঁড়া ছিল, কেটে গেছে । ভয় কী!

    দিনের আভা মুছে গিয়ে চারদিক ক্রমশ খয়েরি হয়ে আসছে । সজল, মলিন আকাশ । ঘোলাটে জল ছুঁয়ে সব সময় একটা শিরশিরে হাওয়া বইছে । সুবল দু-হাতের বেড়ে দু-হাঁটু জাপটে গুটিসুটি মেরে বসে গঙ্গার ডানদিকে বারাকপুর, বাঁদিকে শ্রীরামপুর দেখছিল । বাঁদিকে কিছু দূরে, জলের ওপর মামাবাড়ির ময়লা ছায়া তিরতির করছে ।

    একটু পরে মামার বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে যেতে সুবল নৌকো থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে বাড়িটা দেখে অবাক— এই বাড়িতে নাকি মানুষ থাকে! এ তো একেবারে গল্পের বইয়ের পোড়োবাড়ি!

    সুবল মুখ ফিরিয়ে এনে দেখল, বাবার চোখে ঘোর । বলল, আচ্ছা বাবা, তুমি ছোটবেলায় এখানে এদের সঙ্গে থাকতে কেন?

    দুর্গাপদ দু-এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে যেন প্রশ্নটা বোঝবার চেষ্টা করল । তারপর মৃদু হেসে বলল, তোর ঠাকুরদা একটু নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ ছিলেন । কারণে-অকারণে বড্ড প্রহার করতেন । মারের ভয়ে আমি প্রায়ই চুঁচুড়োয় আমার মামার বাড়ি পালিয়ে আসতাম । তাঁদের সঙ্গে আবার তোর দাদুর কীরকম জানাশোনা ছিল । একদিন তোর দাদু আমার মার খাওয়ার কথা শুনে বাবাকে চিঠি লিখে আমাকে নিজের কাছে এনে রাখলেন । খুব যত্ন করে পড়াতেন । ছেলেবেলাটা এই শ্রীরামপুরের বাড়িতেই কেটে গেল । তোর মা তখন ছ-সাত বছরের ।

    কথা বলতে বলতে দুর্গাপদ তার শৈশবের শ্রীরামপুরে ঢুকে পড়েছে— একটু আগে কালীবাবুর ঘাট দেখলি না? এখন তো গঙ্গাও শীর্ণ, ঘাটও ভাঙা । ছোটবেলায় ওই ঘাটে দাঁড়িয়ে ওপারে বারাকপুর দেখতাম— ঘরবাড়ি, গাছপালা এই এতটুকু-টুকু । লোকজনকে দেখাত ঠিক যেন গালিভার্স ট্র্যাভেলস-এর ছোট্ট ছোট্ট মানুষের মতো । বিজয়া দশমীর দিন বেলা থাকতে থাকতে আমরা চট বিছিয়ে কালীবাবুর ঘাটের সিঁড়িতে জায়গা দখল করতাম— সন্ধে হলেই ঝাঁক ঝাঁক জোড়া-নৌকোয় আলো-ঝলমল দুর্গাঠাকুরে গঙ্গা একেবারে ভরে যেত । ঘাটের পাশেই শ্মশান । শ্রীরামপুরে ওই একটা আমার ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল— মড়া পোড়ানোর গন্ধ জীবনে আর ভুলতে পারলাম না ।

    দুর্গাপদ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল— তোর চণ্ডালমামা শুনি এখন এই শ্মশানে মড়া পোড়াবার কাঠ সাপ্লাই করে । তোর দাদু ছিলেন সকলের শ্রদ্ধার পাত্র । সেই মানুষের বাড়িতে যখন-তখন শ্মশানযাত্রীরা দরজার কড়া নেড়ে হাঁক দেয়— ভটচাজমশাই, দু-মণ কাঠ দাও গো! এরকম দেখতে হবে ভাবিনি!

    সুবল হাঁটুতে থুতনি রেখে বাবার কথা শুনছিল । মুখ না তুলেই সে কী ভেবে বলল, শোনা কথা আর ঘটনা সব সময় এক হয় না ।

    —তুই কী বলছিস, কী! মামারা সবাই মিথ্যে বলছে?

    —তা বলছি না । ভুলও তো হতে পারে । আর এক ভাই-ই শুধু কালো, আর ন-ভাইয়ের আটজনই একদম ধবধবে সাদা ঠিক বিশ্বাস হয় না ।

    বলতে বলতে সুবল হঠাৎ চাপা রাগে ঝেঁঝে উঠল— চণ্ডাল কখনও ছোটদের পেট ভরে জিলিপি খাওয়ায়? ঘুড়ির সুতোয় মাঞ্জা দিয়ে দেয়? ছোটবেলায় একবার জামাইষষ্ঠীতে বড় মামি পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল, বাড়িতে রান্না হল না, তখন ছোট মামা আমাকে দাশুবাবুর দোকানে নিয়ে গিয়ে একঝুড়ি জিলিপি খাইয়েছিল । পৌষ সংক্রান্তির আগে কতবার আমার সুতোয় মাঞ্জা দিয়ে দিয়েছে । সবুজ বোতল যোগাড় করে কাচ গুঁড়িয়ে দিয়েছে, শিরীষের আঠা কেনবার পয়সা দিয়েছে— ছোট মামা আমাকে খুবই ভালোবাসত । মা যদি এখন বেঁচে থাকত, মা ঠিক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ছোট মামাকে ভালো করে দিতে পারত । মা বেঁচে থাকলে ছোট মামা কক্ষনো খারাপ হতে পারত না । মাকে প্রণাম করবার সময় ছোট মামা কতক্ষণ মা’র পা ছুঁয়ে থাকত তুমি তো দেখোনি ।

    ছইয়ের আড়ালে মাঝি গুড়ুক গুড়ুক শব্দে হুকো টানছে । দুর্গাপদ অনেকক্ষণ কথা না বলে ওই শব্দ শুনতে লাগল । তারপর একটু ঝিমনো গলায় বলল, তোর মা পুণ্যাত্মা মানুষ, তাকে এসব দেখতে হল না ।

    দুর্গাপদ গঙ্গার হাওয়া বাঁচিয়ে সস্তার সিগারেট ধরাল । একটু দামি সিগারেটের প্যাকেটটা বেশ খানিকটা খরচ হয়ে গেছে, সেটা আলাদা করে সরিয়ে রাখল । শ্বশুরবাড়িতে তো আর খুব সস্তার সিগারেট বার করা চলে না । ধীরে-সুস্থে ধোঁয়া ছেড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, তোকে যদি সাক্ষী-টাক্ষী দিতে হয়, ছোট মামার স্নেহ-প্রেমের কথা যেন বলতে যাস না । যখনকার কথা বললি, তখনও ওর চাকরি ছিল । আপিসে টাকা-পয়সার গোলমাল করে চাকরিটা গেল, তারপর থেকেই আপিসের মামলার ভয়ে বছর দুয়েক কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়াল । ফিরল যখন একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে । তোরা তখন খুবই ছোট । এসব তোদের জানার কথাও না । ও যে এতদূর নামবে, কেউ ভাবেনি ।

    সুবলের এমনিতেই শীত-শীত করছিল । এবার দুই হাঁটুতে কপাল রেখে চোখ-মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলল ।

    ব্যাপারটা দুর্গাপদর চোখে এড়ায়নি । সে কৈফিয়ত দেবার মতো করে বলল, তোর অন্য মামারা তো ওকে বাড়িছাড়া করতে চায়নি । তারাই বরং যে যার সুবিধে মতো আলাদা আলাদা বাড়ি করে উঠে গেছে । তাদের ইচ্ছে ছিল বাড়িটাকে একটা অবৈতনিক স্কুল-টুল করে দেবে । তা ছোটটা তখন কষ্টে পড়েছে, ও আর কোথায় যাবে! ঠিক হল, যদ্দিন কিছু সুবিধে করতে না পারে এখানেই থাকুক । একা মানুষ, বিয়ে-থা করেনি । তাছাড়া বাড়িটাও একটু দেখাশোনা হবে । তা দেখাশোনা তো দূরের কথা । নৌকো থেকেও যতটুকু দেখলি, ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কী? তাও না হয় বোঝা গেল, তাই বলে বাড়ির মধ্যে চিতাকাষ্ঠের গুদাম! শুনি তো গোড়ায় গোড়ায় দরজা-জানলার কাঠও নাকি খুলে খুলে বেচেছে ।

    ৩

    ভদ্রেশ্বরে অরূপকুমার ভট্টাচার্যের প্রকাণ্ড বাড়িতে সুন্দরীদের মেলা বসেছে । অরূপকুমার বড় ভাই, তাঁর অনূঢ়া তিন কন্যা তো আছেই, বিবাহিতা দুজনও এসেছে । একজন শান্তিনিকেতন, একজন সাতনা থেকে । জয়পুর থেকে মেজো ভাই স্বরূপকুমারের দুই কন্যা তাদের বাবার সঙ্গে চলে এসেছে । সেজো ভাই অভিরূপ থাকে কল্যাণীতে, তার কোনও সন্তান নেই, সে সস্ত্রীক এসেছে । ন-ভাইয়ের বাড়ি কলকাতায়, এখন আপিসের ট্যুরে বাইরে, খুব শিগগিরই ফেরার সম্ভাবনা নেই, তার স্ত্রী ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে ছেলে আর ননদকে নিয়ে এসেছে । গুয়াহাটি থেকে এসেছে সস্ত্রীক রাঙাভাই । তার পরের ভাই অশোককুমার এসেছে রাউরকেল্লা থেকে । ভটচাজ পরিবারের সব মেয়ে-বউদের মধ্যে কেবল এরই স্ত্রী ততটা চোখে পড়ার মতো সুন্দরী নয় । অন্য তিন ভাই থাকে কাছাকাছি, একজন বৈদ্যবাটি, একজন রিষড়ায়, আরেকজন হরিপালে । তাদের বউয়েরা সকালে স্বামীদের অফিসের ভাত দিয়ে সোজা বড় ভাশুরের বাড়ি চলে এসেছে । স্বামীরা যে যার অফিস ফেরত এসে যাবে । এই তিন বউ মাঝে মাঝে পরস্পরকে পোস্টকার্ড লিখে শেওড়াফুলির উদয়নে বা শ্রীরামপুরের মানসীতে মিলিত হয়ে একসঙ্গে ম্যাটিনি দেখে সন্ধের আগে যে যার বাড়ি ফিরে যায় ।

    কাল থেকে প্রায় সারাদিনই চা হচ্ছে । একেক দল এসে পৌঁছচ্ছে আর নতুন করে চায়ের জল চড়ছে । অরূপকুমার বিলিতি কোম্পানির টি-টেস্টার । বাড়িতে অঢেল চায়ের স্যাম্পেল । ভাইয়েরাও কেউ চানাচুর, কেউ মিষ্টি, কেউ পেস্ট্রি এনেছে । মেজো ভাই এনেছে জয়পুরের পাঁপড় । সাত ভাইয়ের জন্য সাত কেজি ছাড়াও বাড়তি তিন কেজি । অতএব চায়ের সঙ্গে খাবারও অফুরান । রাতে মাংস হবে, রান্নাঘরে শিবের মা দুপুর থেকে বাটনা বাটছে ।

    বাড়িময় মজলিশী আবহাওয়া । কয়েকটা দলে ভাগ হয়ে জোর আড্ডা চলছে । ভাইয়েরা রাজনীতি, আপিস, আপিসের রাজনীতি নিয়ে তর্ক জুড়েছে । বউয়েদের মধ্যে শাড়ি, গয়না, স্বচ্ছলতা, সন্তানের প্রতিভা, যে যেখানে থাকে সেখানকার গুণাগুণ, লোডশেডিং কম না বেশি ইত্যাদি নিয়ে সূক্ষ্ম প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমশ রূপটান, কেশচর্চা, ত্বকপরিচর্যার ভালো-মন্দে এসে দিব্যি জমে উঠেছে । কম-বয়েসীরা নিজেদের মধ্যে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা বিনিময় ও হৈ হুল্লোড় নিয়ে মেতে আছে ।

    অরূপকুমার অবেলায় আহার সেরে একটু বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন, এখন রাঙাভাইয়ের বউয়ের হাত থেকে চা নিয়ে ভাইদের মধ্যে এসে তার নিজস্ব আরামকেদারায় আধশোয়া হয়ে বললেন, দুর্গা এখনও এসে পৌঁছল না, ভাববার কথা ।

    মেজ স্বরূপকুমার দাদাকে আসতে দেখেই সদ্য-ধরানো সিগারেটটা অ্যাশ-ট্রের ওপর নামিয়ে রেখেছিল । সেদিকে একবারও না তাকিয়ে দাদাকে বলল, তুমি কি চিঠি দিয়েছিলে, না টেলিগ্রাম করেছ?

    টেলিগ্রামও করেছি, আবার চিঠিও দিয়েছি । এ তো বেশ মুশকিল হল । সাড়ে সাতটায় উকিল এসে যাবে । দুর্গাকে খানিকটা রিহার্স করা দরকার ।

    আরেকটু দেখা যাক ।

    বলে স্বরূপকুমার দাদার সামনেই অ্যাশ-ট্রে থেকে সিগারেটটা তুলে বেরিয়ে গেল ।

    অন্যান্য ভাইয়েরা সকলে সকলের সামনে সিগারেট খায় । এমনকি পরস্পরের কাছ থেকে চেয়েও নেয় । কিন্তু বড়দার ঠিক সামনে কেউ সিগারেট খায় না ।

    স্বরূপকুমার দাদার চেয়ে আট বছরের ছোট । দাদার পর তিন বোন । তিনজনের কেউই বেঁচে নেই । দুজন জামাইবাবু আসলে দুই ভাই । তাঁরা ওপার বাংলার বাসিন্দা । অনেক কাল আগেই তাঁরাস্ট্যাম্প পেপারে লিখে দিয়েছেন— তাঁদের স্ত্রীদের পৈতৃক বাড়িতে তাঁদের কোনও রকম দাবি নেই । শ্যালকদের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগাযোগও আর নেই ।

    বাইরের গেটে রিকশার শব্দ শোনা গেল । অরূপকুমার ভাইদের দিকে তাকিয়ে বললেন, দ্যাখ তো, দুর্গা কিনা ।

    দুর্গাপদ নয়, ঘরে ঢুকল অতুল, যে বৈদ্যবাটিতে থাকে । সোজা অফিস থেকে চলে এসেছে । সকলের ওপর এক পলক চোখ বুলিয়ে নিয়ে বলল, বাব্বা, এ যে একেবারে ফ্যামিলি রি-ইউনিয়ন!

    অশোককুমার বাঁ হাতের তালুতে বাঁ কান চেপে ডান হাতের তালু মুখের পাশে এনে বাড়ির ভেতরের দিকে হাঁক পড়ল অতুল এসেছে! চা—

    অরূপকুমার সোজা হয়ে বসে অতুলকে জিজ্ঞেস করলেন, তুই কি পাঁচটা আঠারোয় এলি?

    —চারটে একচল্লিশের ট্রেন ছাড়ল পাঁচটা পঁচিশে । দুপুরে মাঝে কোথাও ট্রেন আটকে ছিল । তারপর থেকে সব ট্রেনই কিছু না কিছু লেট । দুর্গাদাকে দেখছি না!

    —বড়দা সেটা নিয়েই ভাবছে । ন-ভাইয়ের উত্তর ।

    দুই বউ দুটো প্লেট ভরে মোচার চপ নিয়ে এসেছে । পিছনে নতুন ভাইয়ের বউয়ের হাতে মাস্টার্ড সসের শিশি । আর এক কাপ চা । কাপ-শিশি টেবিলে নামিয়ে রাখতে রাখতে বলল, বড়দি বললেন— অশোকদা তো মাংস খান না, রাতে কী খাবেন?

    অরূপকুমার যদিও মুখে এক ধরনের হাসি ফোটালেন, কিন্তু মনে মনে উদ্বিগ্ন ও বিরক্ত হয়ে বললেন, বউমা আজ কি আমার শ্রাদ্ধের ভোজ? খাওয়া নিয়ে অত কী ভাবছ তোমরা?

    অশোক চট করে বলল, রাতে আমার একটু দুধ-মুড়ি হলেই চলবে । বড়বৌদিকে বল, কাল ভালোয়-ভালোয় কোর্ট থেকে ফিরে গঙ্গার ইলিশ দিয়ে ভুরিভোজ করব ।

    স্বরূপকুমার ফুঁ দিয়ে দিয়ে গরম মোচার চপ খাচ্ছিল, ওই অবস্থায়ই বলল, কাল কি তুই বাড়ি উদ্ধার করে ফিরবি নাকি? কাল আমাদের উকিল দুর্গাদা আর দুর্গাদার ছেলেকে সাক্ষী হাজির করবে । তারপর আমাদের সকলকে হাজিরা দিতে হবে । তবে, তেইশ তারিখের মধ্যে ফয়সালা না হলে মুশকিল । টুয়েন্টি ফিফথ আমাকে জয়পুরে ফিরতেই হবে ।

    অরূপ এবারও গেটে রিকশার শব্দ শুনে অপেক্ষা করছিলেন, না দুর্গা না, ন্যাপা অর্থাৎ অনুপ এল, দৃষ্টি ফিরিয়ে এনে বললেন, এসব ঝামেলা হতই না, বাবা কী বুদ্ধিতে যে ওরকম একটা উইল করতে গেলেন— না হলে কে এসব মামলা-মোকদ্দমায় যেত-মাড়োয়ারি-টাড়োয়ারি দেখে বাড়িটা বেচে দিলেই ল্যাটা চুকে যেত, দেখতাম তখন বাড়ি কেমন আগলে রাখে । শ্মশানের কাঠ বেচাও বন্ধ হত । আসলে বাবার মাথায় কে ঢুকিয়েছিল, বাড়ির কোনও অংশ বিক্রি করার অধিকার দিলে ছেলেরা যে যার অংশ বেচে আলাদা হয়ে যাবে ।

    আমার মনে হয় বড়দা, অনুপ চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, দুর্গাজামাইবাবুকে একবার ও বাড়িতে পাঠালে হয় না? শেষবারের মতো একবার বোঝাবার চেষ্টা করা যেত ।

    অরূপকুমারের অধৈর্য ও উদ্বেগ বাড়ছিল । তিনি অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বললেন, তোরা কি আবার গোড়া থেকে শুরু করতে চাস নাকি? ওসব ছাড় । শোন, উকিল বলছিল— আমাদের একটা উইক পয়েন্ট আছে । অনল দাবি করছে আমরা সব ভায়েরা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে এসেছি । ও বলছে— নিজেদের সুবিধের কথা ভেবে, নিজেদের স্বার্থে আমরা ও-বাড়ি ছেড়েছি । আমরা ফিরে গেলে ও কোনও আপত্তি করবে না বা বাধা দেবে না । বাড়ি তো আর বিক্রি করা যাবে না! তাহলে ওকে উচ্ছেদ করা যাবে কোন আইনে? ও বলছে, ও তো ও বাড়ির ভাড়াটে নয়?

    ফিরে যাবার তো প্রশ্নই ওঠে না ।

    ও বাড়িতে কে গিয়ে থাকবে?

    স্বরূপ ও অভিরূপ কিছুটা উত্তেজিত হয়ে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় বাক্যটি বলল ।

    অশোক বলল, থাকা না থাকার কথা না, বাবার স্মৃতি হিসেবে বাড়িটাতে ভালো কিছু হোক— শুধু এইটুকু চাইছি । আইনের চোখে এটা কোনও ন্যায্য দাবি নয়?

    অরূপকুমার ডানহাত বাড়িয়ে দিলেন, যেন সকলকে একটা পথ দেখাবেন । বললেন, উকিলের কাছে এটা শোনা থেকে আমি এই পয়েন্টটা নিয়ে ভেবেছি । আমি যে-বছর ও-বাড়ি ছেড়ে আসি—

    কথার মাঝখানে ছোটরা এসে হঠাৎ টিভি খুলে দেওয়ায় অরূপকুমার বিরক্ত হয়ে তাদের ধমকে ওঠেন— আঃ । বন্ধ কর তো!

    অরূপকুমারের ছোট মেয়ে নিজেরই বাড়িতে অন্যদের সামনে হঠাৎ বাবার ধমক খেয়ে রীতিমতো আহত ও অপমানিত বোধ করল । সে-ই সকলকে টিভি দেখতে নিয়ে এসেছে । সে খানিকটা জেদীভাবে বলল, আমরা এখন খেলা দেখব!

    —এখান থেকে নিয়ে গিয়ে যত খুশি খেলা দ্যাখ!

    —এত বড় টিভি কে বয়ে নিয়ে যাবে! তাছাড়া এ ঘরে সকলে মিলে দেখবার সুবিধে । স্বরূপকুমারের বড় মেয়ে বলল, তোমরা কথা বল না, আমরা সাউন্ড কমিয়ে খেলা দেখব ।

    বলে সে টিভি প্রায় নিঃশব্দ করে দিল ।

    বড়দের সিরিয়াস কথার মধ্যে ছোটদের উপস্থিতি নিয়ে স্বরূপ কিছু বলতে যাচ্ছিল, অরূপ তাকে হাতের ইঙ্গিতে থামিয়ে দিয়ে আগের কথার জের ধরলেন— আমি যে বছর চলে এলাম, আমাদের বলতে হবে, সে বছর আমি ওখানে থাকতে থাকতেই অনল আমাদের তাড়াবার ষড়যন্ত্র করে । রীতিমতো অত্যাচার শুরু করে । আমি ওর অত্যাচারের একটা নমুনা ভেবেছি । আমরা বলব, একদিন রাতে আমরা যখন ঘুমোচ্ছি, অনল আমাদের পায়খানার ময়লা-ভরা গামলাটা আমাদের রান্নাঘরে টেনে এনে মেঝের ওপর উল্টে দেয় । ওর এইসব অত্যাচার দিনে দিনে বাড়তে থাকে । অসহ্য হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে একে একে পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে আসি ।

    অভিরূপ বলল, শ্রীরামপুরে কি খাটা পায়খানা আছে?

    —তখন ছিল । তাহলে বলি, গত মাসে কোর্ট যখন কমিশন বসায় তখন এটা কমিশনের কাছে রেকর্ড করানো হয়নি । গত হপ্তায় আমাদের উকিলের সঙ্গে পরামর্শ করে কমিশনের উকিলকে আর অনলের উকিলকে একটু মিষ্টিমুখ করিয়ে এই কমপ্লেনটা ইনসার্ট করিয়ে দিয়েছি । অত্যাচারের ঘটনার সাক্ষী হিসেবে দুর্গার ছেলেটার নামও দিয়ে দিয়েছি । আমি বাড়ি ছাড়বার আগে সুবল কিছুদিন তোদের বৌদির কাছে এসে ছিল । ওর তখন আট-ন’বছর বয়েস ।

    স্বরূপের ছোট মেয়ে নন্দিনীর বয়েস পনেরো । সে মোটেই খেলা দেখছে না, কেউ লক্ষ করেনি । হঠাৎ প্রায় একটা আশ্চর্য সুন্দর সারসের মতো সে বড় জেঠুর কাছে এগিয়ে গিলে বলল, জেঠু, উইল ইউ প্লিজ টেল মি হোয়াই ছোটকা টেক্স অল দা ট্রাবল— তোমরা একবার ভেবে দেখেছ— ছোটকা কেন একটা অ্যাবানডান্ট হাউসে পড়ে থাকে? কেন রাত জেগে বসে বসে বার্নিং ঘাটের লোকদের কাছে কাঠ বিক্রি করে? জাস্ট টু আর্ন হিজ ব্রেড! ইজ নট ইট?

    ঘরসুদ্ধ বড়রা বোবা । দু-এক মুহূর্ত কেউ কিছু বলে উঠতে পারল না । সেই সুযোগে নন্দিনী আবার বলল, অল অব ইউ আর হিজ এল্ডার ব্রাদার্স । হি ইজ দ্য ইয়াংগেস্ট অব অল । ওকে তোমরা তাহলে কেন প্রত্যেকে ফিফটি রুপিজ পার মানথ দাও না? ইভন হোয়াই নট হান্ড্রেড রুপিজ ইচ? দেখবে ছোটকা তখন তোমাদের কত ভালোবাসবে । বাড়িতেও আর ওই সব খারাপ কাজ করবে না । আমি বলছি— দেখো—

    অরূপকুমারের হতভম্ব ভাব পুরো কেটে গেছে, তিনি বোধহয় রাগে ফেটে পড়তে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই গেটে উকিলবাবুর মরিস মাইনরের আওয়াজে তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে কেবল বাড়ির ভেতরের উদ্দেশে একটি হাঁক ছাড়লেন— মেজবউমা!

    মেজবউ পাশের ঘরে বোধহয় খুব হাসি-ঠাট্টার মধ্যে ছিলেন, মুখের হাসি প্রাণপণে মুছতে মুছতে তিনি দৌড়ে এলেন ।

    অরূপ নন্দিনীর দিকে আঙুল তুলে খুব স্বাভাবিক গলায় বললেন, একে নিয়ে যাও ।

    উকিলবাবু ঘরে ঢুকতেই অরূপকুমার উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আসুন, আসুন । বসুন ।

    উকিলবাবু একবার সকলের মুখে চোখ বুলিয়ে সোফায় বসতে বসতে বললেন, এঁদের মধ্যে কোনজন আপনার ব্রাদার-ইন-ল?

    অরূপকুমার বললেন, ট্রেনের গোলমালে দুর্গার একটু দেরি হচ্ছে, এবার এসে যাবে । এদের আমি আপনার সেই পয়েন্টটা বোঝাচ্ছিলাম । এরা সব আমার ভাই ।

    ৪

    গঙ্গায়, গঙ্গার ঘাটে দুই পারে পুরোপুরি সন্ধে নেমেছে । আকাশে তারা নেই ।

    সুবল হাঁটুতে মুখগুঁজে বসে বসে ঘুমিয়ে পড়েছে । একটানা মেঘলা সন্ধ্যার মধ্যে নিমাইতীর্থ ঘাট ঝাঁক ঝাঁক জোনাকির মতো আলোয় সেজে দূর থেকে কাছে এসে আবার পিছনে চলে গেল । সুবল জানতে পারল না ।

    —নিমাইতীর্থ ঘাটে লোকেরা বাঁক সাজাচ্ছে, তুই তো কিছুই দেখছিস না, এবার সব পায়ে হেঁটে তারকেশ্বর যাবে ।

    সুবলের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে দুর্গাপদ খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ রেগে উঠল সুবলের ওপর । না নিজের ওপর কে জানে? বলল, নৌকোয় এত সময় লাগবে আমি জানতাম নাকি? তোর কথা ভেবেই আমি নৌকোয় যাওয়া ঠিক করলাম । কোথায় তর-তর করে এগিয়ে যাবে, তা না, যেন গরুর গাড়ি চলেছে! এ গঙ্গা সে গঙ্গাই না! একটা শিক্ষা হল বটে! মাঝি ব্যাটারাও তেমনই! দাঁড় মারছে, না হাতা দিয়ে পায়েস রাঁধছে!

    বাবার চড়া গলার কথায় সুবলের তন্দ্রা ভেঙে গেল । সে মাথা তুলে এপাশ ওপাশ দেখে নিয়ে বলল, ভদ্রেশ্বর যেতে আমার ইচ্ছে করছে না ।

    —তা বললে হয়? তোর মামারা সব এসেছেন । বড়মামা অত করে লিখেছেন!

    —আমাকে ফেরার ট্রেনে তুলে দিয়ে তুমি যাও ।

    দুর্গাপদ প্রায় ধমকে ওঠে— তোর হল কী বল তো?

    সুবল আবার হাঁটুতে মুখ গুঁজল ।

    লোকালয় ছাড়িয়ে নদী এবার একটু চওড়া । বাঁ দিকের তীর ঘেঁসে অন্ধকার গাছপালা । ঘরবাড়ি থাকলেও চোখে পড়ে না । দাঁড়ের শব্দ আর নদীর ছলছলানি ছাড়া কোথাও কোনও শব্দ নেই ।

    দুর্গাপদর সস্তা, দামী-দুরকম সিগারেটই শেষ । এতটা সময় লাগবে সে ভাবেনি । মাঝিদের কাছ থেকে একটা বিড়ি চেয়ে নিলে হয় । হালের মাঝি একটু আগেই বিড়ি খেয়েছে, দুর্গাপদ গন্ধ পেয়েছিল । কিন্তু সুবলের সামনে ঠিক হবে না । সে সামনের মাঝিকে রাগ চেপে নরম গলায় বলল, কী রে, রাত যে কাবার করে ফেললি! আর পনেরো মিনিটে পৌঁছে দে তো দেখি!

    নৌকো অনেকটা বাঁ দিকের তীর ঘেঁসে চলেছে । দুর্গাপদর মনে নানা চিন্তা । হরির বউ চাবিঅলা ডেকে ডুপ্লিকেট চাবি বানাচ্ছে না তো? একটু আগে কিছুটা অন্যমনস্কভাবে সামনের অন্ধকার স্রোতে সে একটা জোর পতনের শব্দ শুনেছে, দ্বিতীয়বার একই রকম শব্দ শুনে মাঝিকে জিজ্ঞেস করল, কিসের শব্দ রে?

    মাঝি তাল মিলিয়ে দাঁড় বাইতে বাইতে বাইতে বলল, গঙ্গার পাড় ভাঙছে । ভাঙনের শব্দ কখনও শোনেননি নাকি?

    দুর্গাপদ এই সামান্য কথায় প্রায় খেঁকিয়ে উঠল— তোকে আর শেখাতে হবে না! জোরে জোরে দাঁড় টান । চ’রে সুবল, এসে গেলাম বলে ।

    মাঝিকে বকা সুবলের ভালো লাগেনি । বাবার বিরুদ্ধে তার মনে কী রকম একটা আন্দোলন দানা বেঁধে উঠছে । এক ধরনের প্রতিবাদ থেকে সুবল মনে মনে ভাবল নদীর বিষয়ে মাঝি জানে না তো কে জানে!

    নৌকো ঝাঁকুনি খাচ্ছে, ডাঙা ছুঁতে আর অল্পই বাকি ।

    প্রথম প্রকাশ: শারদীয় যুগান্তর, ১৯৯৩

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Our Picks

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }