Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী এক পাতা গল্প258 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মানুষ-মুনিষ – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    সুদেব সকলের বড় । তার কান্নার ধরনও আলাদা । বুক চাপড়াচ্ছে, নিজের চুল ধরে টানছে, একবার একটানে পট-পট করে জামার সব বোতামই ছিঁড়ে ফেলল ।

    দুপুরে ধুতির ওপর শার্ট চড়িয়ে বি-ডি-ওর অফিসে গিয়েছিল সারের তদ্বিরে । ফেরার পথে সন্ধেবেলা ময়নাদের বাড়ি সবে তাস নিয়ে বসেছে, তাস বাঁটা হচ্ছে, সেও ওই ফাঁকেই একবার উঠে গিয়ে নেবুতলায় ময়নাকে গালটাল টিপে এসেছে, এসে ময়নার বাপের কাশি আর রোজকার সেই একশিশি মধুর জন্য কাঙালপনা শুনতে শুনতে নিজের ভাগের তাসে চোখ রেখেছে, এমন সময় পলাই কোত্থেকে ছুটতে ছুটতে এসে বলল, বড়দাদাবাবু, আপনার মা মরে গেছে গো!

    তার তাস ভালোই পড়েছিল, ময়নাকে রাতে নেবুতলায় আরেকবার পাবারও কথা ছিল, সব মাথায় উঠল ।

    সুদেবের গলা শুনে অনেক দূর থেকেও চেনা-আধচেনা লোকজন ছুটে এসেছে । সুদেব কাঁদতে কাঁদতে প্রত্যেকের চোখে একবার করে চোখ রাখছে । যেন সকলের কাছে পালা করে জানতে চাইছে, কেন, কেন, কেন আমার মা মরে গেল?

    সুদেবের বউ সুদেবকে চেঁচিয়ে উঠতে দেখে সেই যে একবার কেঁদে উঠেছিল, তারপর আর কাঁদেনি । সে সমানে সুদেবকে গাল পাড়ছে । সুদেব যত কাঁদে, সেও ততই তাকে গালাগাল দেয় । সুদেব কাঁদতে কাঁদতে পুকুরের দিকে দৌড়ে যেতেই তার বউ পিছন থেকে গিয়ে তাকে জাপটে ধরে দুম-দুম করে পিঠে কিল মারতে লাগল ।

    সুদেবের পরের ভাই ভূদেব পাশের গাঁয়ে নতুন ইটখোলা করেছে । ভোরে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যায়, ফেরে রাত করে । ইটখোলার কাছেই একটা মদ-গাঁজার দোকানে সন্ধে থেকে নেশা করে সাত-আট মাইল রাস্তা সে ঠিক সাইকেল চালিয়ে ফিরে আসে । তখন দূর থেকে তার খোলা গলায় শ্যামাসঙ্গীত শোনা যাবেই । কোনও কোনও দিন বাড়ি ফিরতে মাঝরাত পেরিয়ে যায় । আজ একজন মুনিষ গেছে তাকে খবর দিতে ।

    ভূদেবের পর জয়দেব । সে কখনও সন্ধেবেলা বাড়ি থাকে না । ঝড়জলের দিনেও সে ঠিক বেরোবে । কোমর সোজা করতে পারে না । হাঁটবার সময় হাত দুটো সামনের দিকে ঝলঝল করে । একটু দূর থেকে দেখলে মনে হয় চার পায়ে হাঁটছে । নিজেদের বাগানের ফলমূল, পুকুরের মাছ-কাছিম চুরি করাই তার পেশা । শীতকাল কপি-বেগুন । গ্রীষ্মকালে আম-কাঁঠাল, শশা-তরমুজ । যখন যেমন । কাঁঠাল, আনারস চুরি করে সে বাগানের মধ্যেই গর্ত খুঁড়ে পুঁতে রাখে । ওপরে ডালপালা, পাতাটাতা বিছিয়ে দেয় । মাঝে মাঝে চুরি করে ধরা পড়ে গিয়ে দাদাদের হাতে তো মার খায়ই, ছোট ভাইরাও তার গায়ে হাত তোলে । যতই মার খাক, সন্ধে হলেই সব ব্যথা-ট্যথা ভুলে এক ফাঁকে সে বেরিয়ে পড়ে । মাটির ওপর ঝুঁকে, প্রায় উবুড় হয়ে হাঁটে । হাত-দুটো সামনের দিকে ঝোলে । ঠিক একটা মার-খাওয়া ধূর্ত শেয়ালের মতো সে অন্ধকারে বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায় । ফল পাড়ে । কোঁচে গিঁথে মাছ মারে । তারপর বাজারে গিয়ে বেচে দেয় । বাজারের কাছেই একটা খোলার ঘরে তার বউ আছে । সন্ধে থেকে সার বেঁধে অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গে সেও সেজেগুজে দাঁড়িয়ে থাকে । জয়দেব বউয়ের জন্য ঠোঙা ভরা গরম সিঙাড়া ফুলুরি-বেগুনি কিনে নিয়ে যায় । বাকি টাকার সবটাই বউয়ের হাতে তুলে দিয়ে, সে হাসে । ওই একটা সময় সে পিছনের দিকে ঘাড় ভেঙে মাথা তুলতে চায় । আজ সে বেরিয়ে যাবার ঠিক পরেই তার মা মারা গেছে । কাছাকাছি থাকলে নিশ্চয়ই বড়দার বীভৎস কান্না শুনতে পেত! একমাত্র তাকেই কেউ খবর দিতে যায়নি ।

    বারান্দার কোণে বর্শাটা নেই । মহাদেবের ঘরের কুলুঙ্গিতে পাঁচ শেলের টর্চটাও নেই । সহদেব আর মহাদেব গেছে খরগোশ শিকারে । এদিককার বন-জঙ্গলের সব খরগোশ শেষ, আজকাল প্রায়ই তারা দূরের ঝোপঝাড়ে যায় । আজ কোনদিকে গেছে, কখন ফিরবে, কেউ জানে না । তাদের খবর দিতে তিনদিকে তিনজন মুনিষ পাঠানো হয়েছে । মা হঠাৎ চোখ বুজবে, কেউ ভাবেনি!

    যেসব মুনিষ তেঁতুলতলার পুকুরে পাটগাছের আঁশ ছাড়াচ্ছিল, তারা সুদেবের আকাশ-ফাটানো কান্না শুনে ছুটে এসেছে । দুজন অল্পবয়সী মুনিষ মাঠ থেকে ফিরেই গোয়ালে ঢুকে ভাগাভাগি করে সাতটা গরু দোয়াচ্ছিল, তারা প্রথমে মেজবউয়ের কান্না শুনে ভেবেছিল মেজদাবাবু আজ হয়ত তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছে । এখন বড়দাবাবুর চিৎকার কানে যেতে উঠোনে এসে তাদের মুখ হাঁ হয়ে গেছে ।

    সুদেব একবার দাওয়ায় উঠে মায়ের মৃতদেহের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, একবার উঁচু দাওয়া থেকে লাফ মেরে উঠোনে পড়ে চিৎকার করে কাঁদছে ।

    মুনিষদের কারও চোখের পাতা পড়ছে না । সুদেবকে তারা এভাবে কাঁদতে দেখবে কেউ কখনও স্বপ্নেও ভাবেনি । মুনিষরা দম বন্ধ করে দেখল, বড়দাবাবু কাঁদতে-কাঁদতে খুব কাতরভাবে তাদের চোখে একবার চোখ রাখছে ।

    পলাই বিকেল থেকে কাঁঠালতলায় সারের জন্য গোবর জড়ো করছিল, হাতে-পায়ে গোবর নিয়েই সে সুদেবের খোঁজে দৌড়েছিল, তার হাতের কনুই পর্যন্ত গোবর শুকিয়ে খরখর করছে, ওই অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সুদেবের কান্না দেখতে লাগল ।

    বউদের মধ্যে বেশি কাঁদছে মেজবউ । আরও অনেকেই কাঁদছে । সুদেবের তুলনায় আর সকলের কান্নাই বেশ ঢিমে । কেউ ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কাঁদছে । কেউ কাঁদছে ইনিয়ে-বিনিয়ে । সুদেব একদম আলাদা । মনে হচ্ছে শুধু তারই মা মারা গেছে ।

    বর্ষার শেষেও আজকাল যখন-তখন হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে । একটু আগেও লেবুবাগানে, সজনে গাছে জোনাকির ঝাঁক টরটর করছিল, চিড়বিড়িয়ে বৃষ্টি নামতেই সব অদৃশ্য । বড়-বড় ফোঁটা সোজা গায়ে এসে বেঁধে । প্রতিবেশীদের অধিকাংশই যে যার ভিটের দিকে দৌড় লাগাল । কেউ কেউ উঠোনের চারপাশে এ-চালায় ও-চালায় মাথা গুঁজেছে । মুনিষরা তেমনই এক ঠাঁই দাঁড়িয়ে । তারা জানে, আজ তাদের রাত কাটবে শ্মশানে ।

    মৃতহেদ উঁচু দাওয়ায় শোয়ানো ছিল । মায়ের মুখে-টুখে জলের ঝাপটা লাগছে, সুদেব বিছানাসুদ্ধ সরিয়ে দিতে যাচ্ছিল, তার কাকা বলল, থাক, একটু জুড়োক ।

    এই সময় দেখা গেল, দূর থেকে একটা শেয়াল বা কুকুর বৃষ্টির মধ্যে খলবল খলবল করতে করতে ছুটে আসছে । উঠোনের কাছাকাছি এসে সে দাঁড়িয়ে পড়ল । তার ঝলঝলে দু-হাতে দুটো তাল । ভূদেবের বউ তাকে দেখতে পেয়ে নতুন করে ডুকরে উঠে বলল, জয়দেব রে! তোমাদের মা আর নেই!

    ভূদেবের বউয়ের কান্নার আওয়াজ কম, কিন্তু মর্মান্তিক । এত বড় বাড়িতে একমাত্র শাশুড়িই তাকে মাতাল ভূদেবের হাত থেকে বাঁচাতে পারত । এই বয়েসেও রাতে শাশুড়ির বুকের কাছে শুতে পেলে সে আর কিছু চায় না ।

    জয়দেবের ওপর তার একটু বিশেষ মায়া । বিশেষ করে সব ভায়েরা মিলে যখন ওই পঙ্গু ছেলেটাকে ধরে মারে, তার সহ্য হয় না । সে বুক নিঙরে দিয়ে বলল, মরবার সময় মা তোমায় বড্ড কাছে চেয়েছিল গো!

    এসব মায়া-মমতার কথা শুনেও জয়দেবের এখন আর এগোবার উপায় নেই । তাল নিয়ে সে কিছুতেই বড়দার সামনে যেতে পারে না । উঠোনের বাইরে বৃষ্টির মধ্যে দু-এক মুহূর্ত থমকে থেকে সে ব্যাপারটা পুরোপুরি বুঝে নিল, তারপর বাঁদিকের বনবাদাড়ে ঢুকে মিলিয়ে গেল ।

    বাড়ির ছোট-ছোট ছেলেমেয়েরা তালপাতার ডোঙা-মাথায় উঠোনে এসে জড়ো হয়েছে । আশপাশের বাড়ির মেয়ে-বউরা এসে তাদের নিয়ে যাচ্ছে । আজ তারা সেখানেই খাবে । আজ বাড়িতে উনুন জ্বলবে না । বড়রা কেউ খাবেও না ।

    যাদের কেউই এসে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে না, সুদেবের বউ তাদের একেকজন মুনিষ দিয়ে এ-বাড়ি ও-বাড়ি পাঠাবার ব্যবস্থা করছে । নিজের তিন ছেলে এক মেয়েকে এতক্ষণ কারও সঙ্গে যেতে দেয়নি । একজন মুনিষকে দিয়ে এদের খগেন জ্যাঠার বাড়ি পাঠিয়ে দিল । যাবার সময় সঙ্গের লোকটাকে একটু আড়ালে ডেকে নিয়ে বলল, বলিস— ঘি দিয়ে মুগের ডাল খেতে এরা ভালোবাসে ।

    এদিক-ওদিক দেখে নিয়ে আঁচলের তলা থেকে একটা চকচকে বেগুন বের করে দিয়ে বলল, একটু ছাঁকা তেলে ভেজে দিতে বলিস ।

    খগেন জ্যাঠার কাছে খুব গোপনে তার কিছু টাকা রাখা আছে!

    বৃষ্টি থেমে গিয়ে ফের ঘোলাটে চাঁদ উঠেছে । প্রতিবেশী পুরুষরা বেশ যত্ন করে খাটিয়া বানাচ্ছে । ছ-সাত ক্রোশ রাস্তা, বাঁধন-বুনোন মজবুত না হলে চলবে কেন!

    সুদেব তখনও কাঁদছে । মাঝে একটু ঝিমুনি এসেছিল, আবার নতুন করে শুরু করেছে । এর মধ্যে এক ফাঁকে সে একজন মুনিষকে টাকা দিয়ে বাজারে পাঠিয়েছে খই আনতে । আলাদা একটা দশ টাকার নোট দিয়েছে, পয়সায় ভাঙিয়ে আনতে । নাদুকে নোটটা দিয়ে বলে দিয়েছে, এক নয়া আজকাল আর পাওয়া যায় না । তবে দু-পয়সার বেশি নিবি না । প্রথমে সবটা এক টাকা করে নিস । তারপর দরকার হলে দশ দোকানে ঘুরে খুচরো করবি ।

    এখন তার কান্নার মধ্যে একটা কথাই ফিরে ফিরে আসছে । মা নেই, এবার সংসার কে দেখবে? সংসার এবার ভেসে যাবে ।

    কাঁদতে কাঁদতেই সে দূর থেকে ভূদেবের গান শুনে একটু ঢিমে দিল । মাঠ থেকে হঠাৎ-হঠাৎ উলটো-পালটা হাওয়া আসছে । ভূদেবের দরাজ গলার গান স্পষ্ট শোনা যায়— এত খেয়েও সাধ মেটে না, এবার কালী তোমায় খাব । তুমি খাবে লেজ-মুণ্ডু মা, আমি পাঁঠার মাংস খাব ।

    ভূদেবের বউ শোকের মধ্যেও ভুরু কোঁচকাল । অন্যদিন মানুষটা ঠিক-ঠিক শ্যামাসঙ্গীতই গায় । বেসুরো হলেও কথা ঠিক থাকে । কীসব মাথা-মুণ্ডু বকছে ।

    ভূদেবের বউয়ের আর শান্তি নেই । সব সময় সে ভয়ে কাঁপে । তার জীবনে আরও কী খারাপ ঘটতে পারে ভেবে সারাক্ষণই সে সিঁটিয়ে থাকে । ভিজে হাওয়ায় ভূদেবের প্রলাপ শুনতে শুনতে সে স্পষ্ট বুঝতে পারে, তার এবারের জীবন এইভাবেই একদিন শেষ হয়ে যাবে ।

    ভূদেব গান বদলেছে । এবারও মনগড়া কথা মিশিয়ে গাইছে । একটু পরে তার সাইকেলের শব্দ শোনা গেল । ওই তো আসছে । দু-চাকা কাদায় মাখামাখি । চোখ লাল । সাইকেল থেকে নেমে, দাঁড়াতে পারছে না । পা টলোমলো । সামনে খাটিয়া পেয়ে তার ওপর ধপাস করে বসে পড়ল ।

    সুদেবের বউ কাকি দিদি হা-হা করে দৌড়ে এল । দিদি বলল নাম, নাম— নেমে আয়! এক ফোঁটা জ্ঞানগম্যি হল না তোর!

    সুদেবের কাকি জামার কলার ধরে টানতে-টানতে তাকে তুলে দিয়ে বলল, মড়ার খাটিয়ায় কেউ বসে!

    ভূদেব একটু ধাতস্থ হয়ে বলল, সে হতভাগী কই? শ্মশানে নিয়ে গেছে?

    দিদি কিছু বলতে গিয়ে এবার কেঁদে ফেলল ।

    ভূদেব বড় একটা হাই তুলে বলল, যখন বেঁচে ছিল আমায় জ্বালিয়েছে— এবার মরে গিয়ে জ্বালাবে ।

    সুদেব প্রায় লাফ মেরে তার কাছে এসে হুঙ্কার দিয়ে বলল, থাবড়িয়ে মুখ ভেঙে দেব বাঁদর! আর একটা কুকথা বলবি তো মেরে শেষ করে দেব শুয়োর!

    ভূদেবের দু-চোখ দু-টুকরো আগুনের মতো জ্বলছে । রাগে তার নেশা প্রায় কেটে গেছে । সে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে দু-হাতে সুদেবের গলা টিপে ধরে তাকে ঝাঁকাতে-ঝাঁকাতে বলল, বড্ড মায়া! অ্যাঁ, বড্ড মায়া! আজ ওই ছেনালির সঙ্গে সহমরণে পাঠিয়ে তবে ছাড়ব! তবে আমার নাম ভূদেব বিশ্বাস!

    লোকজন ছুটে এসে কোনওরকমে ভূদেবের হাত না ছাড়িয়ে দিলে কী হত বলা যায় না । সবাই মিলে দুজনকে দুদিকে টেনে নিয়ে গেল । ছোটকাকা ভূদেবকে বলল, তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেল ভূদু? নিজের মাকে নিয়ে কেউ ওরকম বলে? শত্তুর মরলেও তো কেউ ওরকম করে বলে না । হাজার মাথা খুঁড়লেও ইহজীবনে আর কি মাকে পাবি?

    তার গলা বুজে আসছিল । ছোটবেলা থেকে ওই বৌদিই তাকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে ।

    ভূদেব হঠাৎ সব বুঝতে পারে । ছোটকাকার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে, কাকা! আমার মা মরে গেছে? আমি ভেবেছিলাম— ও! হো হো হো!

    ভূদেব হাউ হাউ করে কাঁদে ।

    আর রাত করা ঠিক হবে না । পথ কম নয় । তার ওপর বৃষ্টি-বাদলার কথা জোর করে কিছু বলা যায় না । সহদেব-মহাদেবের জন্য আর কত অপেক্ষা করা যায়! যে-তিনজন তাদের খোঁজে গিয়েছিল, একে-একে সকলেই ফিরে এসেছে । চেনা-অচেনা মাঠে বনে খেতে খুঁজেছে, দেখা পায়নি । দু-ভাই আজ খরগোশ মারতে কোন দুনিয়ায় গেছে কে জানে ।

    বিনোদ বৈরাগী সন্ধে থেকে বসে-বসে তামাক খাচ্ছিল, মুখের সামনে থেকে হুঁকোটা সরিয়ে বলল, সবার ভাগ্যে থাকে না । ছাই হবার আগে বাপ-মাকে একবার চোখের দেখা দেখবার ভাগ্যি সবার হয় না ।

    সুদেব ভূদেব দু-জনেই কাঁধ দিয়েছে । পায়ের দিকটা কাঁধে নিয়েছে দু-জন জ্ঞাতি । ছোটকাকা চলেছে আগে-আগে । তার হাতে খইয়ের ধামা আর খুচরো পয়সা ।

    শবযাত্রীরা উঠোন পেরিয়ে বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে চলেছে । পিছন পিছন যাচ্ছে চোদ্দজন মুনিষ । অন্যদিন ভোর থেকে কাজ করে সন্ধেবেলা তারা যে যার ঘরে ফিরে যায় । আজ আর তাদের বাড়ি যাওয়া নেই । কেউ তাদের কিছু বলেনি, তারা নিজে থেকেই জানে, আজ তাদের শ্মশানে যেতে হবে ।

    পদ্মপুকুর ছাড়াতেই বাঁদিকের ঝোপ-জঙ্গল থেকে ভূদেবের মুখের ওপর টর্চের আলো এসে পড়ল । তার কপাল বেয়ে ঘাম গড়াচ্ছে । সারা গা ঘামে ভেজা । কাকা পিছনে মুখ ফিরিয়ে বলল, সহদেব-মহাদেব আসছে ।

    বাহক ও মুনিষরা এবার একটু জোরে বলল, বল হরি হরি বোল । সুদেব ভূদেব দুজনেই গলা মেলাতে গিয়ে কেঁদে ফেলল ।

    চাঁদ এখন অনেক স্পষ্ট । মাঠভরা জোনাকি । সহদেব মহাদেব বাঁদিক থেকে টর্চ মারতে মারতে ঝোপঝাড় ভেঙে রাস্তায় উঠেই দাঁড়িয়ে গেল । সহদেব হাতের টর্চ নেভাতে ভুলে গেছে । তার বাঁহাতে দুটো খরগোশ । একসঙ্গে ঠ্যাং ধরে ঝুলিয়ে নিয়েছে । একটার কান দিয়ে রক্ত গড়াচ্ছে । আরেকটার মাথা দু-ফাঁক হয়ে রক্তে মাখামাখি । মহাদেবের হাতে বর্শা ।

    সহদেবের টর্চ এর-ওর মুখে ছটফট করতে করতে তার মায়ের মাথায় স্থির হয়ে গেল । অন্ধকারে ঝোপের মধ্যে খরগোশ দেখলে দূর থেকে সে ঠিক এমনি করে খরগোশের চোখে পাঁচ শেলের টর্চ ফ্যালে । খরগোশ আর নড়তে পারে না । মহাদেবের হাতে বর্শা দুলে ওঠে । তার টিপ ফস্কায় না ।

    জঙ্গলে জ্যোৎস্নায় নিঝুম গ্রামের পথে নতুন করে রোদন শুরু হয় । সহদেব কাঁদে— মা রে, এ তুই কোথায় চললি?

    খাটিয়া নামানো হয়েছিল । মহাদেব তার মায়ের মুখের ওপর ঝুঁকে দু-হাতে মায়ের মুখ ঝাঁকাতে-ঝাঁকাতে ডাকে, ও মা, মা রে!

    মহাদেব বর্শা ফেলে দিয়েছে । সহদেবের হাতে তখনও খরগোশ-দুটো ধরা । এবার তারা কাঁধ দেবে ।

    সহদেব পাশের ঝোপে খরগোশ দুটো ছুঁড়ে দিতে যাচ্ছিল, কাকা বলল, ফেলিস না । ওই মুনিষদের দে । ওদের তো আর অশৌচ নেই । গরিব মানুষ, তৃপ্তি করে খাবে । তোর মায়ের আত্মারও তাতে কল্যাণ ।

    সহদেব কাছেই তুঁতেকে পেয়ে খরগোশ তার হাতে দিতে গেল ।

    কাকা বলল, যা, দৌড়ে গিয়ে তোর বাড়িতে রেখে আয় । কাল সকলে মিলে ভাগ করে খাস ।

    তুঁতে এক পা পিছিয়ে গিয়েছিল । আমতা-আমতা করে বলল, আমার ঘরে রোজ শেয়াল ঢোকে ।

    সহদেব পলাইয়ের দিকে খরগোশ-দুটো বাড়িয়ে দিয়ে বলল, নিয়ে যা ।

    পলাই হাত বাড়ায় না । সে নেবু, ভূধর, কনুদের দিকে তাকিয়ে অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করে ।

    — কী হল রে! ধর—

    পলাই তবু শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ।

    এত শোকের মধ্যেও সুদেব হঠাৎ অসম্ভব গম্ভীর গলায় হুঙ্কার দিল, পলাই!

    মুনিষদের মধ্যে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে । তার মধ্যে থেকে নাদু গলা তুলে বলে উঠল, ও-খরগোশ আমরা কেউ খাব না বাবু, ওতে পেত্নী লেগেছে!

    সহদেব রাগের চোটে খরগোশ-দুটোকে খুব জোরে ছুড়ে দিল । গাছপালার মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে সে-দুটো সোজা পদ্মপুকুরে পড়ে ঝুপুস করে শব্দ হল ।

    খাটিয়া আবার কাঁধে উঠেছে । এবার চারকোণে চার ছেলে । কাকা খই আর পয়সা ছড়াতে ছড়াতে এগোচ্ছে । পিছনে শব-বাহকের দল ।

    তুঁতে আর পলাই বিড়ি খাবে বলে ইচ্ছে করেই একটু পিছিয়ে পড়েছিল । নাদুও দাঁড়াল । থক করে খানিকটা শ্লেষ্মা ফেলে বলল, বুড়ি বেঁচে থাকতে কোনওদিন একটা মাছের কাঁটা পাতে দিল না, সে মরেছে বলে খরগোশের ভোজ! থুঃ!

    পলাই পর পর কটা লম্বা টান দিয়ে বিড়িটা তুঁতের হাতে দিয়ে বলল, যা হাড়কিপটে বুড়ি! আমরা খরগোশ ছুঁলে ঠিক পেত্নী হয়ে ঘাড় মটকাতো!

    সবে কয়েক পা এগিয়েছে, এমন সময় তিনজনেই একসঙ্গে শুনল, পিছনের পদ্মপুকুরে ঝপাস করে কী-একটা লাফিয়ে পড়ল । হয়ত সেই শেয়াল বা কুকুরটা । খরগোশ দুটোর লোভে নয় তো?

    হরিধ্বনি অনেক দূর চলে গেছে । তারা জোরে পা চালাল । প্রায় দৌড়চ্ছে ।

    প্রথম প্রকাশ : অমৃত, ১৯৭৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Our Picks

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }