Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী এক পাতা গল্প258 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গৃহ – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    গৃহ

    ভোরবেলা বাবা এলেন, মাথার জট এবার আরও বেড়েছে, হাতে কচি কচি চারটে সজনে ডাঁটা ।

    এর আগে যেবার এসেছিলেন, সেবার এনেছিলেন চারটে সবেদা । মায়ের, আমার, নীলুর আরেকটা নিজের জন্য । এবারও চারটে । বাবা তো আর জানতেন না, নীলু জেলে ।

    বাবার ডাক শুনেই মা আমার ঘুম ভাঙান । মাথায় কাপড় দিতে দিতে বললেন, ‘দরজা খোল তো ।’ বলে নিজেই দরজা খুলে দিয়ে বাবার চোখে চোখ রেখে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন । বাবার মাথার ওপর দিয়ে দেখলাম আকাশে তখনও শুকতারা জ্বলজ্বল করছে ।

    বাবা বললেন, ‘ঘুমোচ্ছিলে?’

    কথার উত্তর না দিয়ে মা শুধু বললেন, ‘ভেতরে এসো ।’

    বাবাকে বসবার ঘরে বসিয়ে মা বোধহয় বিছানা তুলতে গেলেন । আগের বার বাবার পরনে ছিল গেরুয়া, মা রাগে কুটি কুটি করে ছিঁড়ে দিয়েছিলেন । এবার ময়লা, ছেঁড়া ধুতি আর ফতুয়ায় বাবাকে দেখাচ্ছে ঠিক একটা ভিখিরি ।

    হাতের চেটোয় সিগারেট আড়াল করে বাথরুমে যাবার সময় দেখলাম, বাবা ঘাড় ঘুরিয়ে দরজা-জানলার পর্দা দেখছেন । আমাকে দেখে বললেন, ‘আজকাল কী করছ-টরছ শুনব । স্নান সেরে এসো । নীলুকে তো দেখছি না?’

    বছরের পর বছর খবর রাখেন না, আজ এত খবরে কী দরকার আপনার! মুখে বললাম, ‘আপনি রেস্ট করুন, মা চা আনছে ।’

    বাবাকে দেখে এবার কেন জানি না আমার আনন্দ হল না । বরং অস্পষ্ট একটা বিরক্তি ক্রমশই মনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে । শুকনো রুগণ চেহারা, ভিখিরির অধম জামাকাপড়, বাবা এভাবে জীবনে কী আহরণ করছেন, তিনিই জানেন!

    বাথরুমের দরজায় খটখট । মায়ের গলা— ‘তোর কি দেরি হবে মলু?’

    বেরিয়ে দেখি মায়ের হাতে বাবারই বহু যুগ আগের পাটভাঙা ধুতি । বাবার পাশে রেখে বললেন, ‘ছাইভস্ম ধুয়ে, রাজবেশ ছেড়ে এসো ।

    বাবার মুখে অপরাধীর হাসি । সজনে ডাঁটাগুলো তখনও হাতে ধরা, মায়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘বড় উপকারী । অল্প আঁচে রেঁধো ।’

    ‘তুমি খাবে না?’

    ‘না হলে আর চারটে এনেছি!’

    ‘তুমি বাড়ির রান্না খাবে? তোমার জন্য আলাদা হাঁড়ি মাজতে দিয়ে এলাম ।’

    বাবার মুখে আবার সেই গোঁফ-দাড়ি ছাপানো অপরাধীর হাসি ।

    মা আজ বোধহয় চায়ের কথা ভুলে গেছেন । আমার জেলের দেরি হয়ে যাচ্ছে, শুধু তো দেখতে যাওয়া না, নীলুর জন্য কিছু কেনাকাটাও করতে হবে । এদিকে ইন্টারভিউ শুরু হবার আগেই জেলের সুপারিন্টেন্ডেন্টকে দরখাস্ত না দিতে পারলে সেদিন আর দেখা হবার উপায় নেই ।

    রবিবার এমনিতে আমার ছুটির দিন । কিন্তু জেলের তাড়াহুড়োয় সকালটা আলস্যে কাটাবার উপায় থাকে না । খবরের কাগজে চোখ বুলিয়ে চানটান করে তৈরি হয়ে নিই । সপ্তাহে ওই একদিনই নীলুর সঙ্গে দেখা করা যায়, অন্য দিন নিষিদ্ধ ।

    এর সঙ্গে আজ আবার একটু বাড়তি তাড়াও আছে । দুপুরে ঋতু আসবে । আমাদের সঙ্গে খাবে । বেরবার আগে মুরগি কিনে দিয়ে যেতে হবে । মায়ের তা অজানা নয় ।

    মা বাবাকে তোয়ালে দিতে ভুলে গিয়েছিলেন, তোয়ালে নিয়ে বাথরুমের দরজায় খুব আস্তে ঠকঠক করতেই বাবা দরজা খুলে দিলেন । বাবা ধুতি পরে চান করছিলেন, তোয়ালেটা নিতে নিতে বললেন, ‘নীলুকে দেখলাম না তো!’

    ‘সে বাবু সন্ন্যেসী হয়ে গেছে!’

    ‘সে কী!’ বাবা খুব চমকে উঠেছেন মনে হল ।

    ‘সন্ন্যাসীর ছেলে সন্ন্যাসী ছাড়া আর কী হবে?’ বলে এদিকে মুখ ঘোরাতেই দেখলাম, মায়ের নাকের পাটা হঠাৎ দুবার ফুলে উঠল ।

    মা রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিলেন, আমি বললাম, ‘নীলুর সঙ্গে আজও দেখা হওয়া মুস্কিল হবে! ঋতুরও আসার সময় হয়ে যাচ্ছে!’

    খাবার টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে মা বললেন, ‘ঋতুর আজ এখানে না আসাই ভালো । তুই বরং নীলুর কাছ থেকে ঋতুদের বাড়ি চলে যাস । তোরা হোটেল থেকে কিছু খেয়ে নিস ।’

    ‘বাবার কথা ঋতু তো জানেই?’

    ‘সে জানা আর হঠাৎ এরকম দেখা এক কথা না ।’

    ‘বাবা নিশ্চয়ই দু-তিন সপ্তাহ থাকবে—’

    ‘যা ভালো বুঝিস কর—’

    বলে মা রান্নাঘরে গেলেন ।

    ফর্সা ধুতি পরে বাবা বাথরুম থেকে বেরলেন । চুল-দাড়ির জটা বেয়ে টপটপ করে জল পড়ছে । বাঁহাতে সেই ছাড়া ফতুয়াটা ।

    আমাকে দেখে বললেন, ‘নীলু তাহলে সন্ন্যাস নিল?’

    আমি হ্যাঁ-না কিছুই বললাম না ।

    বাবা ঠায় দাঁড়িয়ে । খানিকটা উদ্বেগ, কিছুটা অন্যমনস্ক । মনে হয় নিজের সঙ্গে কিছু একটা বোঝাপড়া করছেন ।

    হঠাৎ মুখ তুলে বললেন, ‘কতদিন বাড়িছাড়া?’

    ‘সাত বছর!’

    ‘তখন ওর বয়েস কত?’

    ‘সে তো আপনারই জানার কথা!’

    বাবা দুয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে খুব শান্ত গলায় বললেন, ‘তোমার কণ্ঠস্বর শুনে মনে হচ্ছে, তোমার মনে শান্তি নেই, শুধু বাইরের দিকে সুখ-শান্তির আয়োজন করেছ ।’

    এক হাতে ফ্রাই প্যানে ওমলেট, আরেক হাতে টোস্ট নিয়ে মা সোজা টেবিলের কাছে এসে বললেন, ‘প্লেটটা টেনে নে ।’ আমার প্লেটে টোস্ট ওমলেট দিয়ে বাবাকে বললেন, ‘তুমি কি এই আমিষ টেবিলে বসবে, না চা ঘরে দিয়ে আসব?’

    বাবা কথার উত্তর না দিয়ে অন্যমনস্কভাবে খাবার টেবিলের একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসলেন ।

    মা রান্নাঘরের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন, বাবা বললেন, ‘শোনো, একটা কথা বলো দেখি । নীলু কি তবে সংসারে—’

    বাবা কথা শেষ করলেন না । চুপ করে আছেন দেখে মা আবার চলে যাচ্ছিলেন, বাবা বললেন, ‘নীলু কি সংসারে কোনও ব্যথা পেয়েছিল?’

    মা স্পষ্ট চোখে বাবার দিকে তাকালেন, মায়ের ঠিক এরকম চোখ তুলে তাকানো আমার মনে পড়ে না । ওইভাবে চেয়ে থেকেই বললেন, ‘এই মলুর সামনেই বলছি, নীলু তোমার কাছে কী পেয়েছে একটু ভেবো তো!’

    বাবা কিছুক্ষণ বসে থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে এতক্ষণে হাতের ফতুয়াটা টেবিলের কোনায় রাখলেন । ঠক করে শব্দ হল ।

    মা আমার জন্য চা নিয়ে এসেছিলেন, শব্দটা তাঁরও কানে গেছে— ফতুয়ার পকেটে ওটা কি গাঁজার কলকে না? যে কদিন থাকবেন, বাড়িতেও খাবেন নাকি? মা কি আগেই এটা দেখেছিলেন, তাই ঋতুকে আসতে বারণ করছিলেন?

    মা গলা তুলে বললেন, ‘লক্ষ্মী! এদিকে একবার আয় তো । ফতুয়াটা নিয়ে একেবারে রাস্তায় ফেলে দিয়ে আয়!’

    বাবা ব্যস্ত হয়ে ফতুয়াটা তুলে ধরে পকেট থেকে একটা বড় রঙিন পাথর বার করে নিলেন, একবার মায়ের দিকে, একবার আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন, ‘এটা নিয়ে আমি খেলি!’

    মা বললেন, ‘তোমার তো এখন খেলারই বয়েস!’

    ‘না না, মন যখন বিক্ষিপ্ত হয়, ওই পাথরটা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাই, মন শান্ত হয়ে যায় । ওতে আমার ভারি মনসংযোগ হয় ।’ একটু থেমে বললেন, ‘তোমাকেও শেখাব ।’

    মা হঠাৎ রেগে উঠলেন মনে হয় । গলার স্বরে ঝাঁঝ নিয়েই বললেন, ‘আগে সংসার-ধর্ম শেখো, তারপর তোমার সন্ন্যাস শিখিয়ো! তোমার সকালবেলায় সেবায় কী কী লাগে বললে না তো?’

    বাবা মনে হয় আঘাত পেয়েছেন । স্বরে আঘাত চাপবার চেষ্টা । বললেন, ‘সকালে আমি কিছু খাই না । চা যখন করেছ, এক কাপ দিতে পারো । এক গেলাস জলও দিও ।’

    মা চায়ের সরঞ্জাম আজ টেবিলে আনেননি । রান্নাঘর থেকে এক কাপ চা এনে বললেন, ‘এখানেই খাবে?’

    ‘একটা টেবিল আর কী দোষ করল?’

    ‘দোষগুণ তুমিই জানো! সেবার তো পিঁড়িও ছোঁওনি ।’

    মা ফ্রিজ খুলে একটা জলের বোতল বার করে এদিক ওদিক গেলাস খুঁজলেন, না পেয়ে বোতলটা বাবার হাতে দিয়ে বললেন, ‘তোমার তো কমণ্ডলু থেকে খাওয়ার অভ্যেস— খুব ঠান্ডা কিন্তু—’

    আমার মুখ থেকে বেরিয়ে গেল, ‘হিমালয়ের বরফের চেয়ে তো বেশি ঠান্ডা না ।’

    কথাটা আমি হালকাভাবে, নির্দোষ মজা হিসেবেই বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু কেমন ব্যঙ্গের সুর এসে গেল! বাবা দেখলাম, হাতের পাথরে চোখ নামালেন ।

    আগের বার বাবা যখন এসেছিলেন, বছর নয়েক আগের কথা, আমি ম্যানেজমেন্ট কোর্সের অ্যাডমিশন টেস্টে সিলেকটেড হয়ে টাকার ধান্দায় না ধরছি এমন আত্মীয় নেই, তখন আমাদের খাবার টেবিল ছিল না, মেঝেয় পিঁড়ি পেতে বসে খেতাম, আমার মনে আছে, বাবা সেবার মায়ের পীড়াপীড়িতেও পিঁড়িতে বসতে রাজি হননি । মা কেঁদে ফেলেছিলেন । এখন বুঝি, কত সামান্য কারণে মা তখন কাঁদতেন । সারা সন্ধে মায়ের ফোঁপানো কান্না শুনতে শুনতে সেদিন বাবার ওপর আমার খুব রাগ হয়েছিল ।

    মা চান করে শাড়ি বদলে এসেছেন । আমি খাবার টেবিলেই ছোট আয়না বসিয়ে দাড়ি কামাচ্ছি । আমাকে দেখে বললেন, ‘আ! আজ আবার এখানে বসলি কেন?’

    আমি মুখ না ফিরিয়েই বললাম, ‘তুমি বাথরুমে ছিলে ।’

    মা আমাকে কিছু না বলে বাবাকে বললেন, ‘দুপুরে খাবে তো? নাকি এখনও একাহারী?’

    আমি টের পাচ্ছি, বাবা আমাকে দেখছেন । মাকে বললেন, ‘না! আর কোনও নিয়ম নেই ।’

    ‘আজ আমাদের মুরগি হবে । তুমি খাবে?’

    বাবার উত্তর নেই । একটু পরে বললেন, ‘আমার জন্যে ভাতের মধ্যে কিছু সেদ্ধটেদ্ধ করে দিও । আর সজনে ডাঁটা ।’

    ‘তবে যে বললে, নিয়মটিয়ম আর মানো না?’

    বাবা খুব শান্ত স্বরে বললেন, ‘প্রাণী হত্যার দায়ভাগী হতে পারব না ।’

    বলে খুব বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন ।

    বাবার কথাটাতেই আমার জ্বালা ধরেছিল, মনে হল যেন ব্রণয় হঠাৎ ব্লেড বসে গেছে, তার ওপর ওই দীর্ঘশ্বাস আর সহ্য করতে পারলাম না । বাবার দিকে তাকিয়েই বললাম, ‘তবে তো আপনার ভাতও খাওয়া চলে না! গাছও তো প্রাণীই । সজনে ডাঁটা খাওয়ার যুক্তিটাই বা কী?’

    বাবা পাথরটা হাতে নিয়ে দু-হাত জোড় করে বসেছিলেন, এবারও খুব শান্ত গলায় বললেন, ‘জীবন তর্কের বিষয় নয় । তর্ক খুব বাইরের জিনিস, মলয় ।’

    মলু না বলে মলয়! এরকম বাবা আগেও বলতেন, আমাকে মলয়, নীলুকে নীলয়, সে আমাদের ছেলেবেলায় দেশি-বিদেশি গল্প শুনিয়ে গল্পের উপদেশ যখন বোঝাতেন, তখন । আমার কথাাট একটু রূঢ় হয়ে গেছে সন্দেহ নেই, তা কী করা যাবে, আমিও তো মানুষ । একে তো শেষরাতে আচমকা ঘুম ভেঙে মাথাটা ভার হয়ে আছে, তার ওপর এত আগে উঠেও লাভ কী হল? সেই দেরিই হয়ে গেল । বাজারে যাও, মুরগি কিনে বাড়িতে পৌঁছিয়ে দাও, তারপর নীলুর জন্য আজ একটা মাখন আর কেজি খানেক ছোলা-বাদাম কিনব ভেবেছি, একটা পাজামা আর এক জোড়া চপ্পল চেয়েছিল, কাল কিনে রাখতে ভুলে গেছি, আজ রবিবার দোকান-টোকান কোথায় খোলা আছে কে জানে— সব তো আমাকেই সামলাতে হবে! এদিকে দেখতে দেখতে প্রায় সাড়ে আটটা । তার মানে ঋতুরও আসার সময় হয়ে এল ।

    আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ে বাথরুমের দিকে যেতে যেতে মাকে বললাম, ‘আমি মুরগি এনে দিয়ে যাচ্ছি । ঋতু এলে আমার ঘরে বসিয়ো । আর কিছু কি আনতে হবে?’

    মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন । হাতে এক পেয়ালা দুধ । আমার সামনে ধরে বললেন, ‘এক চুমুকে খেয়ে নে । কখন ফিরবি, কখন খাবি তার তো কোনও ঠিক নেই । ছোট বাঁধাকপি একটা পাস তো আনিস ।’

    দুধে চুমুক দিচ্ছি, বাবা বললেন, ‘আজ যে বড় রান্নার ঘটা! নেমন্তন্ন নাকি?’

    ‘নেমন্তন্ন আবার কী! একটা মেয়ে আসবে, আমাদের সঙ্গে খেতে বলেছি—’

    ‘কার মেয়ে?’

    ‘তুমি চিনবে না ।’

    ‘তোমাদের সঙ্গে কী ধরনের সম্বন্ধ?’

    মা এবার একটু হেসে বললেন, ‘সম্বন্ধ হয়নি, হচ্ছে । মলুর অফিসের বন্ধু । বুঝলে?

    দুধ শেষ করে বেরবার মুখে অভ্যেসবশত সিগারেট ধরাতে গিয়ে সামলে নিলাম । হাতের তালুতে সিগারেটটা লুকিয়ে ফেলা বাবার চোখে পড়েছে । আরেকবার বাবার চোখের দিকে এক পলক তাকিয়ে নিয়ে বললাম, ‘আমি বাজারে যাচ্ছি । ফিরে এসেই আবার বেরতে হবে । আপনি বরং পিছনের বাগানে ঘুরে বেড়ান, আপনার ভালো লাগতে পারে ।’

    বাবা চেয়ারে বসে থেকেই বললেন, ‘আমি ভাবছি, তোমাকে এত চঞ্চল দেখাচ্ছে কেন!’

    ‘চাঞ্চল্যের কারণ আছে বলেই দেখাচ্ছে’ ।

    ‘না না, সে কথা বলছি না । তুমি বড় অশান্তিতে আছো ।’

    ভাবলাম কথা না বাড়িয়ে চলে যাই, সত্যিই দেরি হয়ে গেছে, কিন্তু হঠাৎই কী রকম জেদ ধরে গেল, বললাম, ‘অশান্তির কারণ থাকলেই অশান্তি থাকবে । পাগল বা সাধু-সন্ন্যাসী হলে আলাদা কথা ।’

    ‘তুমি বোধহয় আমার কথা ঠিক বুঝতে পারছ না । একটা কথা বলো তো, আজ যার আসার কথা তার সঙ্গে কি তোমার বিবাহ হবার সম্ভাবনা আছে?’

    মা বোধহয় সবই শুনছিলেন, আঁচলে হাত মুছতে মুছতে বেরিয়ে এসে বাবাকে বললেন, ‘তুমি ওকে অমন জেরা করছ কেন? শুনছ ওর খুব দরকারি কাজ আছে, দেরি হয়ে গেছে—’

    তারপর আমার দিকে ফিরে বললেন, ‘তুই বরং আগে ওখানে যা । ফেরার সময় মুরগি নিয়ে আসিস । পাওয়া যাবে না?’

    তাছাড়া আর বোধহয় উপায়ও নেই । বাজার করে ফিরে এসে নীলুর কেনাকাটা সেরে আলিপুর যাবার আর সময়ও থাকবে না । বাদ দেওয়াও আর যায় না । গত রবিবার যাওয়া হয়নি, ও খুব আশা করে থাকবে ।

    বাবা দাড়ির জটে হাত বোলাচ্ছেন । জট ছাড়াচ্ছেন না, হাত দিয়ে জটগুলো যেন অনুভব করছেন । আমি চলে যাচ্ছি দেখেও বললেন, ‘মলুর জীবনে অনেক জট পড়েছে । সেসব না ছাড়িয়ে অন্যের জীবনে এখনই ওর জড়িয়ে পড়া ঠিক হবে না ।’

    ঘরে বসে জেল সুপারিন্টেন্ডেন্টের কাছে নীলুর সঙ্গে সাক্ষাৎকারের জন্য অ্যাপ্লিকেশন লিখতে লিখতে মায়ের গলা শুনলাম, ঝাঁঝ চাপতে পারেননি, ‘বত্রিশ বছর বয়েস হল, ওকেও কি সন্ন্যাসী বানাতে চাও নাকি?’

    বাবার গলা এবারে বেশ মৃদু । বললেন, ‘অনুপযুক্ত হাতে সংসার করতে গেলে সংসার নরক হয়ে ওঠে ।’

    বাবার কথায় মা একেবারে জ্বলে উঠলেন, বোধহয় রান্নাঘর থেকে চ্যাঁচাচ্ছেন— ‘সারা জীবন সন্ন্যেসীগিরি করে কাটালে, সংসারের কতটুকু বোঝ? ইচ্ছে হল আর বেরিয়ে পড়লে । মলু কত দিকে কত লড়াই করে আজ দাঁড়িয়েছে । ওর জন্যই যা হোক একটু সুখের মুখ দেখছি । কথায় কথায় ওকে অপমান করলে সইবে কেন!’

    রান্নাঘরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে বললাম, ‘আ! মা! তোমরা কী শুরু করলে? ঋতু আজ না এলেই ভালো হয়!’

    মা আবার বেরিয়ে এসে বাবার একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘তুমি দু-দিনের জন্যে এসেছ, সংসারের সব ব্যাপারে মাথা ঘামাবার তোমার দরকার কী? যাও না, দু-দণ্ড বাগানে গিয়ে বসো না ।’

    বাবা এমন একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন যে, ওরকম উত্তেজনাময় পরিবেশেও আমার বুকের মধ্যে একবার ধ্বক করে উঠল ।

    রাস্তায় বেরিয়ে প্রথমেই ঋতুকে ফোন করলাম ।

    ‘ঋতু, শোনো, আয়াম ফিলিং সো ব্যাড—’

    ‘কী ব্যাপার?’

    ‘না, মানে, বলতে খুবই খারাপ লাগছে—’

    ‘দেরি করছো কেন, বলো, বলে ফেলো, আমি কিন্তু টেন্স হয়ে যাচ্ছি—’

    ‘মানে আমার এক আত্মীয় মারা গেছেন । আজই সকালে, এইমাত্র খবর পেলাম—’

    ‘সো স্যাড—’

    ‘নেমন্তন্নটা কিন্তু মুলতুবি রইল । সামনের রবিবারের পরের রবিবার । না না, আমি তোমাকে জানিয়ে দেব ।’

    নীলুকে বাবার কথা বলব বলব করেও শেষ পর্যন্ত বললাম না । কত বছর জেলে রয়েছে, আরও কত বছর থাকতে হবে, বাবার কথা ওকে জানিয়ে লাভ কী? আর বলবই বা কী?

    দু পরত তারের জালের আড়ালে গোঁফ-দাড়িময় ওর মুখটা দেখে আজ হঠাৎ মনে হল, মা খুব মিথ্যে বলেননি, সন্ন্যাসীই তো, নীলুকে ক্রমশ তরুণ সন্ন্যাসীর মতো দেখাচ্ছে!

    বললাম, ‘আজ আর চপ্পল কেনার সময় পেলাম না । পাজামা জমা দিয়ে যাচ্ছি । তোর মাপটা মনে ছিল না, ৪০ নম্বর নিয়েছি, পরে দেখিস তো ।’

    ‘পাজামা একটু ছোট হলে এমন কী আর, বড় হলে গুটিয়ে নিলেই হবে ।’ তারপর লাজুক হেসে বলল, ‘দুয়েক প্যাকেট সিগারেট দিয়ে যেও ।’

    ‘তোর কেসের কতদূর কী হল? কোর্টে নিয়ে যায়?’

    ‘প্রায় সব কোর্টেই কেস দিয়েছে । প্রতি সপ্তাহেই কোথাও না কোথাও যাচ্ছি । বিনা পয়সায় দেশ ভ্রমণ আর কী!’

    নীলু অনায়াসে এসব কথা বলে যায় । আমিও সহজ থাকার ভান করি । সেই ভাবেই প্রশ্ন করলাম, ‘তোরা শুনেছিলাম দেশ বদলে দিবি । তা দেশ তো যেখানে ছিল সেখানেই আছে । মাঝখান থেকে তোরা সরকারের অতিথি হয়ে গেলি । লাভ কী হল?’

    নীলু এবারও হেসে বলল, ‘এসব কথা তোমার সঙ্গে আলোচনা করে লাভ নেই । দাদা, তুমি বিয়ে করছ কবে?’

    আমি সাধারণত এখানে এসে নীলুর সামনে সিগারেট খাই না, আজ একটা ধরিয়ে ফেললাম ।

    ‘তুমি বিয়ের কথায় চুপ মেরে গেলে যে?’ হাসলে নীলুকে ভারি সুন্দর দেখায় ।

    আমিও হেসে বললাম, ‘তুই শ্বশুরবাড়িতে, আমিও শ্বশুরবাড়িতে, মা কাকে নিয়ে থাকবে?’

    ‘তুমি কি ঘরজামাই হচ্ছ নাকি?’

    ‘সে তো তোরই একচেটিয়া ।’

    বলে আমি অকারণে পাশের গোয়েন্দা অফিসারের দিকে তাকালাম । ভদ্রলোকও মৃদু হাসলেন, বললেন, ‘নীলয়বাবুর মতো জ্ঞানী, ওরকম চার্মিং ইয়ংম্যান আমার ২৬ বছরের চাকরিজীবনে আমি আর দেখিনি । মাঝে মাঝে সত্যিই আশ্চর্য হয়ে ভাবি—’

    নীলু জালের ঝাপসা আড়াল থেকে ভদ্রলোককে উদ্দেশ করে বলল, ‘থাক থাক গোয়েন্দামশাই, আমার চরিতকথা আর নাই বা শোনালেন!’

    ‘নীলু, বাবার কথা মনে পড়ে?’

    ‘তুমি কোনও খবর পাও না?’

    ‘তোর কীরকম মনে আছে শুনি?’

    ‘সেই যে একবার গেরুয়া-টেরুয়া পরে এসেছিল । রোজ রাত থাকতে আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে দিত । চলে যাবার সময় মা গেরুয়া ফেলে দিয়েছিল । আমি অবশ্য বাবাকে খুব ভালো করে জানি না ।’ একটু হেসে বলল, ‘আজকাল বসে বসে ডায়রি লিখি, সময় কাটানো আর কী, বাবার কথা একদিন ভাবছিলাম । বাবা কি আমার কথা জানে?’

    ‘বাবা জানে তুই সন্ন্যাসী হয়ে গেছিস ।’ শুনে নীলু হো-হো করে হেসে উঠল ।

    মা বোধহয় ঋতুর আশায় রয়েছেন । মুরগির অপেক্ষা করছেন । জেল থেকে বেরিয়ে আমার সমস্ত মন যেন এলিয়ে পড়ল । কী রকম মনে হল আমার আর কোথাও যাবার নেই, আমার পথ শেষ হয়ে এসেছে, এবার বসে পড়লেই হয় । অদ্ভুত একটা ক্লান্তি না বিষাদ না বিরক্তি না বৈরাগ্য— কে জানে কী আমাকে পেয়ে বসেছে ।

    একটা খালি ট্যাক্সি দেখে উঠে পড়লাম । পার্ক স্ট্রিটের ঠান্ডা বারে ঢুকে বিয়ার নিয়ে বসে বসে সময় কাটাতে লাগলাম, যেন সময় কাটানোই এখন আমার সবচেয়ে বড় কাজ ।

    সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরতেই বাবার ভজন কানে এল । ভরাট, সুরেলা গলা । হিন্দি উচ্চারণও পরিষ্কার ।

    গান আসছে বাগানের দিক থেকে । এগোতেই চোখে পড়ল বাবা চোখ বুজে দুলে দুলে গাইছেন । মা পাশে বসে আছেন । ঠিক একটা মূর্তি । জ্যোৎস্নায় আমগাছের বউল চকচক করছে ।

    ‘আপনাকে চা দিই দাদাবাবু?’ পিছনে লক্ষ্মী এসে দাঁড়িয়েছে ।

    বললাম, ‘থাক, এখন আর চা খাব না ।’

    বাবার চোখ খুলে গেল । ভজন সমে এসে পৌঁছেছে, আমার দিকে চেয়ে থেকেই শেষ করলেন ।

    গান শেষ হতেই মা মুখ তুলে আমাকে দেখলেন । যেন ঘোর থেকে উঠে এলেন ।

    তারপর উঠে দাঁড়িয়ে এদিকে আসতে আসতে বললেন, ‘ভাবাতেও পারিস বটে! গেলি তো গেলিই । সারাদিন একটা খবর পর্যন্ত নেই । ঋতুও এল না । খেলি কোথায়? ওর ওখানেই গিয়েছিলি বুঝি?’

    কিছু না বলে আমি হাসলাম ।

    বাবা বললেন, ‘অত ব্যস্ত হও কেন? সংসার তো মায়ের আঁচল নয়!’

    আমি বললাম, ‘আপনি এবার কতদিন থাকবেন?’

    বলতে চেয়েছিলাম, এবার কিছুদিন থেকে যেতে পারেন না?

    প্রথম প্রকাশ : শারদীয় যুগান্তর, ১৯৮৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Our Picks

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }