Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্রেষ্ঠ উর্দু গল্প – সম্পাদনা : শহিদুল আলম

    লেখক এক পাতা গল্প766 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪.১২ হাসিতে অশ্রু – হায়াতুল্লাহ আনসারি

    হাসিতে অশ্রু – হায়াতুল্লাহ আনসারি

    ‘কেসু তোমাকে যদি আমি পড়াতে চাই, পড়বে?

    ‘আমাকে পড়াবে বাবু! আমাকে–?’

    যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ঝগড়ু চাক্কি থামিয়ে আশ্চর্য হয়ে আমার দিকে তাকাল।

    ‘কেন, এতে খারাপের কী আছে।’

    ‘কিন্তু আগে বলো কী পড়াবে তুমি?’

    ‘কেন– ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি, দেশের বড় বড় লোকদের জীবনকাহিনি এবং তাঁদের মূল্যবান উপদেশাবলি!’

    ঝগড়ু হেসে উঠল, উচ্চস্বরে হেসে উঠল।

    বেদম হাসির চোটে অনেকক্ষণ পর্যন্ত তার মুখ বড় একটা পাত্রের মতো হাঁ করে থাকল। আর তার ভেতর দিয়ে উঁচু-নিচু নানান স্বরের হাসি ভেসে আসতে লাগল।

    ‘কী বললে, ইতিহাস, ভূগোল আর কী– বাবু আমরা তো এখানের সকলেই নিরক্ষর।’

    তার এ-কথায় আমি কিছুটা আশ্চর্য হলাম। বললাম– ‘কিন্তু তোমরা প্রয়োজনের সময় তো দেখি দিব্যি একজনের কার্ড আরেকজনের কার্ড থেকে আলাদা করে নিতে পারো।’

    ‘ওসব কার্ডের উপর তো আমরা বিশেষ চিহ্ন দিয়ে রাখি। এখানে পড়ালেখা কে জানে? ‘ঠিক আছে কোনও চিন্তা নেই, আমি তোমাকে পড়া শেখাব আগে, তার পর লেখা।’

    ‘শেখাবে আমাকে পড়ালেখা! কিন্তু আমি তো বোকা!’

    ‘কে বলল তুমি বোকা, তুমি তো সব কথাবার্তায় বেশ চালাক।’

    ‘কিন্তু বাবু যখনি বই সামনে আসে অমনি আমি বোকা বনে যাই।’

    ‘তা হলে চলো তোমাকে এমন এক পদ্ধতিতে পড়াব যাতে বইয়ের প্রয়োজন হয় না।’ বারে বারে বাড়ির কথা মনে পড়ত ঝগড়ুর। তাকে আনমনা করে দিত সে-চিন্তায়। সারাক্ষণ সে চিন্তার সায়রে ডুবে থাকত! কিন্তু এরপরও সে আমার কাছে পড়ালেখা করে যেতে লাগল। পিষানো আটার উপর অক্ষর তৈরি করে তার উপর তাকে মক্‌শ করাতাম। তাকে পড়াবার এটাই ছিল শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি।

    খুনের অপরাধে ঝগড়ুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। সে ছিল বড় ঝগড়াটে কয়েদি। আর বোধহয় এ-কারণেই জেলার সাহেব তাকেই দিয়েছে আমার সাথি হিসেবে। কিন্তু আমার সাথে সে কখনও ঝগড়া করেনি, বরং চাক্কি চালাবার সময় সে নিজে গায়ের সব জোর দিয়ে চালায়, আমাকে শুধু বলে– ‘বাবু, তুমি শুধু হাত দিয়ে ধরে রাখো।’

    কোর্টের পক্ষ থেকে আমাকে ‘বি’ ক্লাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের জেলার সাহেব রাজবন্দিদের ব্যাপারে বড় তীক্ষ্ণদৃষ্টি রাখেন। তিনি বলতেন– ‘এ’ ক্লাস হোক, চাই ‘বি’ ক্লাস হোক, তাদের কাজ করতেই হবে। নাহয় আবার তারা বিদ্রোহী হয়ে উঠবে আর খোদ জেলারের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করবে।

    আমি তার সাথে এ-ব্যাপারে কথা-কাটাকাটি করেছিলাম।

    তিনি রেগে গিয়ে বললেন– ‘তোমার সমস্ত শক্তি বের করে ছাড়ব। এমন কয়েদির সাথে তোমাকে চাক্কি চালাতে দেব– যে তোমার মেজাজই ঠিক করে দেবে।’

    প্রথম প্রথম চাক্কি চালাতে সত্যি আমার কষ্ট হয়েছিল। চাক্কির ভার আমার ওপর ছেড়ে দিয়ে ঝগড়ু বসে থাকত। কিন্তু যখনি সে জানতে পারল– ‘রাজবন্দি কাদের বলে’- তখনি সে আমার ওপর সহৃদয় হয়ে উঠল এবং চাক্কির সমস্ত ভার নিজে নিতে লাগল।

    ‘কেমন ভাই, পড়া মুখস্থ হয়েছে তো?’

    ‘কালকেরটা হয়নি। তার আগের দুদিনের পড়া মুখস্থ হয়েছে।’

    ‘যা হোক– অন্তত কিছু তো হয়েছে।’

    ঝগড়ুর স্থির বিশ্বাস– পড়াটাই আসলে ভালো জিনিস, কিন্তু লেখা শিখে কী করবে। তার আছেই-বা কে যে, একখানা চিঠি লিখবে?’

    ‘বাড়ির কথা তুমি খুব স্মরণ করো– তাই না?’

    ‘হাঁ বাবু, খুব।’

    ‘যাকে স্মরণ করো– তার কাছে লিখবে?

    ‘না বাবু, তা হয় না।

    ‘কেন?’

    ‘কী আর বলব।’

    আটার মাঝে অক্ষর এবং অক্ষর থেকে শব্দ গঠন হতে থাকল। আর শব্দ পড়ার সাথে সাথে তার চেহারায় এক অদ্ভুত সজীবতা ফুটে উঠতে লাগল– সাথে একটুখানি আশার ক্ষীণ আভা। পড়ার দিকে তার আকর্ষণ ক্রমশ বেড়েই যেতে লাগল, শব্দের পর বাক্য লিখে যেতে লাগল আটার উপর।

    আস্তে আস্তে ঝগড় এসব বাক্যগুলো পড়তে থাকল।

    একদিন আমি বললাম– ‘ঝগড়ু ভাই! এবার তুমি চিঠিও পড়তে পারবে।’

    ঝগড় হঠাৎ হাত থামিয়ে ফেলল।

    ‘আমি চিঠি পড়তে পারব?’

    ‘হ্যাঁ।’

    তার কালো বর্ণের শরীরে ঈষৎ রক্তিমাভা খেলে গেল, শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত বইতে শুরু করল এবং হাত কাঁপতে থাকল– ‘আমি চিঠি পড়তে পারব!’

    ‘হ্যাঁ ঝগড়ু! তুমি চিঠি পড়তে পারবে।’

    সে এক আশ্চর্য খুশিভরা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকল।

    ‘দ্যাখো বাবু, ভেবেচিন্তে বলো, পড়তে বসলে আবার আটকে যাব না তো!’

    ‘না ঝগড়ু, যদি পরিষ্কার লেখা হয় তা হলে নিশ্চয়ই তুমি পড়তে পারবে।’

    ঝগড়ু উৎফুল্ল, ভাবনাচিন্তার অতলে ডুবতে থাকল সে এবং ডুবতে ডুবতে একসময় একেবারে অদৃশ্য হয়ে গেল। চাক্কি চলতে থাকল গড় গড় করে স্বাভাবিক গতিতে আর আমিও জোর দেওয়ার তেমন কোনও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম না। কিন্তু ঝগড়ুর চোখজোড়া অতীত চিন্তার গভীর অতলে তলিয়ে গেল– যা দেখে আমি ভয়ে এতটুকুন হয়ে গেলাম।

    ঝগড়ুর চেহারার এই অদ্ভুত পরিবর্তন দুপুর থেকে ছ-প্রহর পর্যন্ত থাকল। পরে একসময় সে আমার কাছে এসে বলল– ‘বাবু কিছুক্ষণের জন্য আমাকে ছুটি দাও, এই এক্ষুনি চলে আসব।’

    ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, যাও।’

    একটা দেয়ালের আড়ালে চলে গেল ঝগড়ু। আমি পুরোদমে আটা পিষতে থাকলাম। ঠিক সে-সময় ঝগড়ুর কণ্ঠস্বর ভেসে এল। সে উচ্চস্বরে কথাবার্তা বলছে, কখনও হাসছে, কখনও-বা জোরে জোরে কাঁদছে। আর তার গলার স্বরও এমন অদ্ভুত যে, আমার ভয় পেয়ে গেল এবং জোরে তার কাছে দৌড়ে এলাম আমি।

    ঝগড় তখন হাতে একখানা কাগজের পাতা নিয়ে পড়ছিল। তার ঠোঁটে ঈষৎ হাসি, চোখে অশ্রু –আর তার হাতজোড়া কাঁপছিল।

    ‘সে মারা গেল, তা সে আমার হয়েই মারা গেল। মরার সময় সে আমারই ছিল এবং এখনও আমার থাকল, হ্যাঁ।’

    এবার সে কাঁদতে থাকল এবং ফুটফুট করে কাঁদতে থাকল। আমি অনুভব করলাম এসময় তার কাছে যাওয়া ঠিক হবে না। তাই দূরেই দাঁড়িয়ে থাকলাম আমি। ঝগড়ুর কান্নার রেশ কিছুটা কমলে আমি ডাকলাম– ‘ঝগড়ু, ঝগড়।’

    কিন্তু ঝগড়ু তেমনি নিজের চিন্তার রাজ্যে ডুবে থাকল। আমি বারবার তাকে ডাকতে থাকলে সে বলল– ‘বাবু তুমি চাক্কি চালাও গে, নাহয় আমাদের উভয়েরই পিঠে কোড়া পড়বে। তোমার বদৌলতে আমার সে-কথা জানা হয়ে গেছে যে-কথা জানার জন্য আমি পাঁচ বছর ধরে অস্থির চিত্তে উন্মুখ ছিলাম। কিন্তু আমাকে কে বলত –।‘

    তার এসব কথাবার্তায় আমরা নিশ্চিন্ত হলাম যে, সে পাগল হয়ে যায়নি। পরে এসে আটা পিষতে থাকল সে।

    ২

    পরের দিন ঝগড়ু এলে দেখলাম তার চেহারায় বিষণ্নতাও ছিল, নীরবতাও ছিল এবং একটা ক্ষীণ হাসির ছোঁয়াও ছিল। তবে এখন তার চোখে সেই মৃত-মৃত ভাব নেই– যা প্রায়শ তার মাঝে দেখা যেত।

    আমি ঝগড়ুকে জিগ্যেস করলাম– ‘কী ব্যাপার।’

    সে কিন্তু কোনও জবাব দিল না। সেদিন বিকেলে যখন সে চলে যাচ্ছিল তখন বড় নম্রভাবে আমার পা ছুঁয়ে সালাম করে গেল। পরের দিন সকালেও তাই করল, সন্ধ্যায়ও। তিন-চার দিন পর ঝগড়ু আমাকে তেমনি পা ছুঁয়ে বলতে লাগল–

    ‘বাবু তুমি আমার ওপর এমন অনুগ্রহ করেছ যে, সাত জনমেও তার শোধ দিতে পারব না। যদি আমি জেলের বাইরে হতাম তা হলে একটা কাজ নিশ্চয়ই করতাম। তা হল তোমার সব শত্রুদের খুঁজে খুঁজে বের করতাম।’

    ‘আমার কোনও শত্রু নেই, কিন্তু তোমার হয়েছে কী বলো দিকিনি, তুমি খুশি, না বিষণ্ণ।’

    ‘আমার নিজেরও বুঝে আসছে না, তোমাকে কী বলব।’

    ‘আচ্ছা বলো দিকি সেদিন আমার হাতে চাক্কি ছেড়ে দিয়ে গিয়ে কী পড়ছিলে?’ ‘একখানা চিঠি।’

    ‘কার চিঠি?’

    ‘আমার স্ত্রীর।’

    ‘স্ত্রীর! তুমি তো সবসময়ে বলতে তোমার কেউ নেই।’

    ‘এখন সে কোথায় বাবু– সে তো এখন ভগবানের কাছে।’

    ‘ভগবানের কাছে? তবে তার চিঠি কীভাবে পেলে তুমি?’

    ‘এ চিঠি তো পাঁচ বছর আগে এসেছিল।’

    ‘তা তুমি কারও কাছ থেকে নিশ্চয়ই পড়িয়ে নিয়েছিলে?’

    ‘না, তা কারও কাছে যাইনি।’

    ‘কারও কাছে যাওনি?’

    ‘হ্যাঁ, চিঠিখানি এভাবেই পাঁচ বছর যত্ন করে রেখে দিয়েছিলাম।’

    আমি কেঁপে উঠে মনে-মনে বললাম –”পাঁচ বছর, পাঁচ বছর! গত পাঁচ বছরে এ পৃথিবীর কত পরিবর্তন হয়েছে, কত কিছু ঘটেছে।-–”

    আমি চাকরি পেয়েছি, বিয়ে করেছি, আমার বড়ছেলে ইশকুলে পড়ছে, চাকরি ছেড়ে দিয়েছি এবং ‘৪৬ সনের আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেলে এসেছি।

    এই পাঁচ বছর হিন্দুস্তানে কী তুমুল বিপ্লব সংঘটিত হয়ে গেছে। দেশে কংগ্রেস সরকার গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ সেই নেতৃবৃন্দ– যাদের লোক গুণ্ডা বলে মনে করে– তারা শাসক হল। শিক্ষার নিয়মকানুন পরিবর্তিত হল, কৃষকদের উচ্ছেদ করা বন্ধ হল। এতে তাদের জীবনের কাঠামোই বদলে গেল, এবং আরও অনেককিছুই হয়ে গেছে এ পাঁচ বছরে– যখন থেকে এ চিঠিখানা ঝগড়ুর কাছে এমনি পড়ে ছিল।

    ‘উহ্! পাঁচ বছর।

    ঝগড়ু বলতে থাকল, ‘যদি এটা যেই-সেই চিঠি হত তা হলে অবশ্য অন্য কারও কাছ থেকে পড়িয়ে নিতাম। কিন্তু এটা তো অন্যধরনের চিঠি। আমার সবসময় ভয় ছিল– চিঠিতে এমন কোনও কথা নেই তো যদ্দ্বারা সে হেসে দেয়। তা হলে তো নির্ঘাত আমি তার গলা চেপে ধরব। এবং আমার এ-ও ভয় ছিল– চিঠির কথা নিয়ে তারা যদি হাসাহাসি করে তা হলে আমি তাদের মেরে শেষ করে দেব। ভাই আমার রাগকে আমি বড় ভয় করি,–রাগই তো আমাকে এই চার দেয়ালের অভ্যন্তরে নিয়ে এসেছে।

    ‘আমি তাই চিঠিখানা অন্য কারও কাছ থেকে পড়িয়ে নিইনি। তা সেই চিঠিখানা আমার বুকের উপর রাবারস্ট্যাম্পের মতো লেগেছিল। সবসময় বুকে একধরনের ব্যথা অনুভব করতাম– না-জানি চিঠিখানার ভেতরে কী লেখা আছে। আমি ভেবে রেখেছিলাম জেল থেকে ছাড়া পেয়েই স্টেশনে গিয়ে একজন লোককে দিয়ে তা পড়িয়ে নেব।

    ‘তা এখন চিঠি পড়েছ তো?’

    ‘হ্যাঁ বাবু, পড়েছি। এবং পড়ে জানলাম- আমার পত্নী আমার ছিল এবং মরার সময়ও আমার হয়ে মরেছে।’

    ‘এর ওপর তোমার সন্দেহ হল কেন?’

    ‘বাবু– দীর্ঘ সাজা কাকে বলে তা তো জানো না। যখন আমার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়– তখন আমি যুবক, আর সে তো ধরতে গেলে একেবারে বাচ্চাই। আমি রায় শুনেই পাঁচজনকে সাক্ষী রেখে বলে দিয়েছি যে, আমার পত্নী যাকে ইচ্ছা বিয়ে করে নিতে পারবে, আমার দিক থেকে সে মুক্ত। পরে সে জেলে আমার সাথে দেখা করতে এলে তাকে একথা আমি নিশ্চয়ই বলতাম– ‘তুই এই যৌবন নিয়ে কী করে বাঁচবি রে মূর্খ? যা কাউকে বিয়ে করে নেগে।’ কিন্তু ভগবান জানেন একথা বলার সময় আমার হৃদয় ফেটে চৌচির হয়ে যেত। আমি নিজের মনকে প্রায়শ বলতাম, তোর হৃদয় ফেটে যায় তো যাবে– কিন্তু এটা তো চিন্তা কর্ এ মেয়েটা যাবজ্জীবন কয়েদির পত্নী হয়ে কী করে থাকবে। তুমি তো জানো যৌবনেরও একটা বয়েস আছে, একটা সময় আছে। সে-বয়সের রঙিন দিনগুলোতেই যদি সে তার প্রেমাস্পদকে না-পেল তা হলে তো বৃথা তার এ জীবন। তবুও সে এল না দেখে মন-মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। শেষমেশ আমিও রেগে গেলাম। মনে মনে বললাম –ঠিক আছে, তুই না-আসিস্ –অন্য কারও ঘরে চলে যা। তা সে এলও না। প্রতিদিন সে আসবে ভেবে ভেবে আমি অস্থির হয়ে উঠতাম, গভীর জলের মাছের মতো চঞ্চল হয়ে উঠতাম। পরে একজনকে দিয়ে খবর পাঠিয়েও তাকে ডাকলাম, তবুও সে এল না। আমার খুব কান্না পেল, আর আমি খুব করে কাঁদলামও। পরে নিজকে নিজে বললাম– ‘মূর্খ, তুই নিজেই তো তাকে আসতে বাধা দিচ্ছিস, অন্যের ঘরে চলে যেতে পরামর্শ দিচ্ছিস। তবুও সে অনেকদিন তোর ঘরে থেকেছে, এখন যদি সে তোর ঘরে না-থাকে…তোর কথামতো অন্যের ঘরে চলে যায়- তাতে তোর কী!– তুই কেন আবার কাঁদছিস?

    ‘তবুও আমি তার আশা ছাড়িনি। ভাবলাম –যদি কখনও আমার কথা তার মনে পড়ে এবং তার নতুন পুরুষের সাথে চলে আসে?– এমনি আশায় আশায় বেশ কয়েক বছর গড়িয়ে যায়।

    শেষে একদিন এই চিঠি পেলাম। চিঠিখানা নিয়ে আমি মুন্সির কাছে ছুটলাম পড়িয়ে নিতে, কিন্তু কিছুদূর গিয়েই ভাবলাম –চিঠিতে কী লিখবে? লিখবে সে অন্যের ঘরে চলে গেছে। এটা পড়ে মুন্সিও দেবে হেসে। ঝগড়ু কি এ হাসি সহ্য করতে পারবে! একথা মনে হতেই রক্ত আমার গরম হতে শুরু করল, পরে ভাবলাম– না-হয় মুন্সি হাসলই না– কিন্তু কথা তো আর গোপন থাকবে না, একদিন-না-একদিন জনসম্মুখে প্রকাশ হয়ে পড়বে– এবং কয়েদিরা যেখানেই আমাকে দেখবে হাসবে– আর তা আমিও সহ্য করতে পারব না।

    ‘তা শেষপর্যন্ত চিঠিখানা তেমনি রেখেই দিলাম– চিঠিখানাও তেমনি পড়ে থাকল। এরই মধ্যে একদিন খবর পেলাম তার মৃত্যু হয়েছে।

    ‘তার মৃত্যুখবরে আমি মুষড়ে পড়েছিলাম– কিন্তু কাঁদতে পারিনি। কান্না আমার আসেনি। কারণ এটুকুই জানতে পারিনি যে, মরার সময় সে কার ছিল।

    ‘পরে তুমি যখন বললে যে পড়া শিখো– তখনও আমার একথা মনে ছিল না– আমি এতদূর পড়তে পারব বলে, অন্তত চিঠি।

    ‘আমাদের গাঁয়ে অনেক লোক আছে– যারা পাঠশালায় পড়ালেখা করেছে, তারাও না পারে একটা চিঠি পড়তে, না পারে লিখতে। এ দুটো কাজ তারা অন্যের দ্বারা সারিয়ে নেয়। এবং কখনও তাদের ঘরে এক-একটা চিঠি মাসের-পর-মাসও পড়ে থাকতে দেখা

    যায়, তারা শুধু অপেক্ষা করে একজন শিক্ষিত লোকের জন্য।

    ‘যখন তুমি বললে, ‘তুমি চিঠি পড়তে পারবে’–

    তখন আমার বিশ্বাস হয়নি- তাই তোমার কাছ থেকে সরে গিয়ে চুপি চুপি এ চিঠিখানা খুললাম এবং পড়তে শুরু করলাম, আর চিঠিখানা পড়েই তার মৃত্যুর জন্য কেঁদে দিলাম। এবং একথা জেনেই বড় খুশি হলাম যে, সে মরার সময় আমারই ছিল।’

    ‘তা হলে সে তোমার সাথে দেখা করতে আসেনি কেন?’

    ‘বাবু তার দুটো পা-ই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল –আসবে কী করে! — জানি না সে কীভাবে বেঁচে ছিল। উপোস থেকে মরে যায়নি তো?’

    ঝগড়ু পকেট থেকে চিঠিখানা বের করে দেখতে থাকল। তার চোখে ছিল ব্যথা-মিশ্রিত অশ্রু এবং ঠোঁটে বিজেতার হাসি।

    অনুবাদ : আখতার-উন-নবী

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমার বোকা শৈশব – আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
    Next Article এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে – আবদুল্লাহ আল-মুতী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }