Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্রেষ্ঠ উর্দু গল্প – সম্পাদনা : শহিদুল আলম

    লেখক এক পাতা গল্প766 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫.০১ ধান কাটার আগে – দেবেন্দ্র সত্যার্থী

    ধান কাটার আগে – দেবেন্দ্র সত্যার্থী

    সারিবদ্ধ কামানের মতো বাঙালিদের একটি দল পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। ওরা সংখ্যায় হবে খুব সম্ভব সাতজন পুরুষ, দশজন স্ত্রীলোক আর ছোট ছোট ছেলেমেয়ে। পুরুষদের মধ্যে যুবক-বুড়ো- দুই-ই রয়েছে। সবার অবস্থাই এক– সকলেই ক্ষুধার্ত। কোলের শিশুরা শুকনো মাই চুষছে। অপেক্ষাকৃত বড়রা লাইন ভেঙে লঙ্গরখানার দুয়োরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জেদ ধরেছে। লঙ্গরখানার পরিচালকেরা পুরুষ আর মেয়েদের আলাদা লাইন লাগাবার কতই-না চেষ্টা করেছেন, ওরা কিন্তু তবু ভারি কামানের মতো– যার যার জায়গা ছেড়ে আদপেই নড়তে চায় না।

    ‘সত্যযুগ– সত্যযুগ!’ কান-ফাটা আওয়াজ আসছে লাইন থেকে।

    জয়শ্রী ভাবে– জানি না, সত্যযুগ কবে আসবে। হয়তো আসতে পারে, হয়তো না-ও আসতে পারে। সত্যের পরে ত্রেতা, দ্বাপর, কলি। আবার কলিযুগের পরে সত্যযুগ। সত্যযুগ কত বছরের হবে, কে জানে। কলিযুগের নির্দিষ্ট কালও কেউ বলতে পারে না। হ্যাঁ, স্মরণ হয় বটে, বারো লক্ষ ছিয়ানব্বই বছরে ত্রেতা আর আট লক্ষ চৌষট্টি বছরে দ্বাপর। শাস্ত্র-পুরাণ ঘেঁটে পুরোহিত যা বলেন, তা ঠিকই বলে থাকবেন। কলিযুগের নির্দিষ্ট কালের খবর নাকি শাস্ত্রেও নেই। কে জানে, কলিযুগের অন্ত হবে কিনা। হয়তো কলিযুগ ত্রেতার চেয়েও দীর্ঘ হবে। একটু বুদ্ধিসুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই তো জয়শ্ৰী শুনে আসছে, পাপের বোঝা বেশি হয়ে গিয়েছে, তাই নৌকা এখন ডুবুডুবু।

    জয়শ্রীর মানসপটে ভাসে অগণিত শকুনের দৃশ্য। সবগুলো শকুনই যেন একসঙ্গে তার ওপর ঝাঁপটা দিতে উদ্যত। সে বলে– সত্যযুগ আসুক চাই না-আসুক– শকুনগুলো আমাদের মতো কাঙালিদের বুঝি-বা গিলেই ফেলবে। আমরা যে আর বাঁচতে পারব না।… সব সহ্য করছি।

    তার এই স্বগতোক্তিতে মনে হচ্ছে যেন তারা সবাই চোখের সামনে শকুন দেখতে পাচ্ছে।

    রাখাল তার হাত টেনে বলে– মা, ক্ষিধে পেয়েছে, মা, ক্ষিধেয় প্রাণ যায়।

    অন্য কোথাও হলে জয়শ্রী নিশ্চয় পালিয়ে যেত। এখন তার শরীরে আর এক ফোঁটাও শক্তি নেই। জয়শ্রী রাখালের ঘাড়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে ভাবে– আট বছর ধরে আমার কোলে ও মানুষ– এমন তো আর কোনোদিন নজরে পড়েনি। পেটটা একেবারে সেঁধিয়ে গেছে। শরীরের হাড় কটা যেন গোনা যায়। আহা, আজ যদি ওর বাবা বেঁচে থাকত, তাহলে লঙ্গরখানার সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন করে দাঁড়িয়ে থাকতে হত না। তার মজুরির কামাইয়ে দিন চলে যেত। আজকেও ডাল-ভাত কপালে জোটে কিনা কে জানে। এমন করে আমরা কি আর বেঁচে থাকব!

    চোখের সামনে জয়শ্রী দেখতে পায়, ক্ষুধার্ত শকুনেরা উড়ে বেড়াচ্ছে- শকুনগুলো যেন রাখালের ওপর ঝাঁপটা দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে।

    রাখাল মায়ের হাত ধরে বলে– আমরা ডাল-ভাত কখন পাব, মা– গরম গরম ডাল-ভাত?

    –আমাদের পালা আসতে দাও, তবে তো।

    জয়শ্রী রাখালের মুখে চুমু দিতে গিয়ে ভাবে– জানিনে, আমাদের পালা কখন আসবে, পালা আসার আগেই ডাল-ভাত শেষ হয়ে যাবে কিনা। বুঝি-বা আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না, এক্ষুনি মাথা ঘুরে পড়ে যাব। তারপর অগণিত শকুনের দল ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়ে ফেলবে।… ক্ষিধের জ্বালায় পেটে যেন চিতা জ্বলছে। হায় রাম! এ ক্ষিধে কি আর মিটবে না! আমরা বোকা, আর শকুনগুলোও বোকা– কে কতক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকবে! জানি না আর কত দেরি। কিন্তু ডাল-ভাত যে পাওয়া চাই-ই। লঙ্গরখানার মালিকরা কত দয়াবান– মৃত্যুর কবল থেকে ওরা আমাদের বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।…

    …জয়শ্রী ও জয়শ্রী…! গ্রাম থেকে বিদায় নেবার সময় তার স্বামী বলেছিল– আমারই আগে মৃত্যু হবে, জয়শ্রী। যতিদন আমি বেঁচে থাকব, যমদূত তোমায় দেখতেও পাবে না।

    –এমন কথা মুখেও এনো না, পতিদেব। আমি আগে মরব। তুমি বেঁচে থাক, আমার রাখালও যেন বেঁচে থাকে।…

    –রাখালের কথা ভেব না। ওর আমি এতটুকুও কষ্ট হতে দেব না।

    জয়শ্রী ভাবে– কলিযুগের মানুষের মুখে এ যেন সত্যযুগের বাণী। হ্যাঁ, স্বামীর ভবিষ্যদ্বাণীই সত্য হয়েছে, সেই আগে মরেছে।… কাঙালি-জীবন কারই-বা পছন্দ হয়! এই কি জীবন! এ জীবন কি কারও কাম্য হতে পারে!… জীবন তো নয়, বোঝা।… জয়শ্রী, তুমি এত শুকিয়ে যাচ্ছ কেন? জয়শ্রী, তুমি গর্ভবতী! জয়শ্রী, সাত মাস পেরিয়ে গেছে, আর মাত্র দুমাস বাকি। বেটা ছেলে জন্ম নেবে। তখন আর কোনো দুঃখ-কষ্টই থাকবে না। কিন্তু যদি মেয়ে জন্মায়? না, না, না, মেয়ে চাই না। মেয়ের জীবনে অনেক কষ্ট। ছেলে চাই, ছেলে। যে ছেলে ক্ষেতে-জমিতে হাল চালাবে, বছর বছর ধান ফলাবে।… হায়রে আকাল!

    জয়শ্রী রাখালের হাত ছাড়িয়ে নেয় ঝট্‌কা মেরে– যেন যত দোষ তারই। পরমুহূর্তেই আবার তার পিঠে হাত বুলোতে শুরু করে। বলে– রাখাল, সোনার চাঁদ ছেলে আমার। এক বুড়ো কাশতে কাশতে বলে– আমরা বড়লোকের দান খাচ্ছি। দান খেতে আমরা বাধ্য।

    আরেকজন বলে– এমন আকাল তো সাত জন্মে দেখিনি, বাবা– শুনেছি বলেও তো মনে হয় না।

    এক বুড়ি বলে– আগে বিষ্টি না-হলে আকাল হত, ধানের ফলন নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু এবার এত ফসল ফলল, তবু এত আকাল! হায় ভগবান, এ আকাল কি শেষ হবে না!

    একটা মেয়ে বুড়িকে আশ্বাস দিয়ে বলে– আমরা আবার গ্রামে ফিরে যাব, বুড়িমা। অন্য একজন বলে– যারা যাবার, তারা তো চলেই গেল; এখন দেখছি লঙ্গরখানার মালিকরা আমাদের মরতে দেবে না।

    বুড়ি এ-কথার প্রতিবাদ করে ওঠে– তুমি যদি বাঁচতে চাও তো বেঁচে থাক, বাছা। ভগবানকে অনেক বলেছি, আমি আর বাঁচতে চাইনে।

    জয়শ্রী তন্ময় হয়ে ওদের আলাপ-আলোচনা শোনে। ডান পায়ের ভর বাঁ পায়ের উপর দিয়ে রাখালের চিবুক স্পর্শ করে বলে– তোর বাবা আমাকে ছেড়ে গেছে, রাখাল। এখন তুই-ই আমার ভরসা। তুই আমার সোনার চাঁদ ছেলে, তুই আমার রাজপুত্তুর।…

    এক কোণা থেকে একটা মেয়ে হঠাৎ বলে ওঠে– কিন্তু স্বর্গে তো আকাল নেই।

    অন্যজন যোগ করে– ক্ষিধেয়, মহামারীতে ভুগে ভুগে আমাদের কত কষ্ট- দেবতাদের সে খবর জানা আছে কি?

    চণ্ডিদাস ঠিকই বলেছেন।– বুড়ি তখন গুনগুন করে সুর ধরে গাইতে শুরু করে– সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল…।

    হঠাৎ নিজের বাড়ির কথা মনে পড়ে যায় জয়শ্রীর। বাড়ি নয়, একটা কুঁড়েঘর। অনন্ত অভাবের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকেও জয়শ্রী শুনতে পায় শঙ্খধ্বনি। শাঁখ বাজিয়ে কারা যেন দেবতাদের ঘুম ভাঙাচ্ছে। দেবতার বাস স্বর্গে, তবু তাঁর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় মন্দিরে। রাত্রিবেলা মন্দিরে তাঁরা ঘুমিয়ে থাকেন। সকালে তাঁদের জাগিয়ে তোলা হয়। স্নানের পর নানারকমের ভোজ্য পরিবেশন করা হয় তাঁদের সামনে। জমিদারবাবুর প্রাসাদের কোনো বিশেষ জায়গায় তাঁদের জন্য খাবার রাঁধা হয়। সম্ভবত তাই দেবতারা জমিদারবাবুর ওপর এত খুশি। অন্যদিকে মহাজনেরাও দেবতাদের খুশি রাখে আর আমাদের জমিগুলো আত্মসাৎ করে ক্ষুদে জমিদার হওয়ার চেষ্টা করে।

    .

    পিছন থেকে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়েছে। জয়শ্রী রাখালকে তাড়াতাড়ি আগলে রাখে। আহা, লোকগুলোর কি লজ্জা-শরমও নেই গো।

    কানের পাশ দিয়ে আওয়াজ ভেসে আসে– বলি, দেবে তো এক মুঠো ডাল-ভাত, তা-ও এত দেরি কেন, বাবা, কেন এত শাস্তি দেওয়া!

    এ লোকটাও ধাক্কা খেয়েছে বুঝি। কাঁঠালগাছের আড়ালে না-থাকলে তার অর্ধোলঙ্গ শরীরের ওপর সূর্যের কিরণ এসে পড়ত। ছায়ায় দাঁড়িয়ে থেকেও লোকটা ঘামে চুপসে গেছে।

    মায়ের হাত শক্ত করে ধরে রেখে রাখাল জয়শ্রীর মুখের দিকে পিটপিট করে তাকিয়ে থাকে।

    –রাখাল, তুইও বুঝি ঘামে ভিজে গেছিস? রাজপুত্তুর, সোনার চাঁদ ছেলে আমার, তোর খুব ক্ষিদে পেয়েছে নারে? আজ আমার ভাগটাও তোকে দেব, কেমন?…

    জয়শ্রী খুব জোরে জোরে মাথা চুলকাতে শুরু করে। মাথার মধ্যে উকুনগুলো রক্ত চুষছে।

    পিছন থেকে বুড়োটা আবার মুখ খোলে– এখন গাঁয়ের অবস্থা কেমন?… আড়াই মাস হল গ্রাম ছেড়েছি। গাঁয়ের চাল নিয়ে এসে শহর ভরেছে। এখন গ্রাম না-ছেড়ে এসে তারা কিই-বা করবে। বুড়ো হয়েছি, অনেক দেখলাম।…

    আগের মেয়েটি প্রশ্ন করে– তাহলে তোমরা আর কেউ গাঁয়ে ফিরবে না?

    জয়শ্রী রাগ করে বলে– পোড়ামুখোরা এত চাল কোথায় নিয়ে গেল?

    — ভগবান, তুমি কি দেখতে পাও না? তোমার কি চোখ নেই?

    পিঁপড়ের মতো লাইনগুলো একটু একটু করে সামনে এগোয়। এখনো লঙ্গরখানায় পৌঁছাতে অনেক দেরি। পোয়া ঘণ্টা… আধ ঘণ্টা… এক ঘণ্টা… জয়শ্রী জানে না, কতক্ষণে লঙ্গরখানার দুয়ারে গিয়ে সে পৌঁছাবে। তখনো সে মাথা চুলকাচ্ছে।

    মানুষের চিৎকার ক্রমেই বাড়তে থাকে। লঙ্গরখানায় গিয়ে একসঙ্গে সবাই হানা দেবার মতলবে বুঝি ষড়যন্ত্র করছে। পিছন দিকের চিৎকার ছড়াতে ছড়াতে সামনে গিয়ে পড়ে। দু-একজন ধ্বনি তোলে– হায় ডাল, হায় ভাত!… আর সারাটা লাইন দুলতে থাকে, ফুলতে থাকে।

    এখানে জয়শ্রীর এইভাবে এমনি করে দাঁড়িয়ে থাকা যেন অপ্রিয় দীর্ঘ একটা দুঃস্বপ্নের মতো। জীবন নয়, ভারি বোঝা। কে জানে, আর কতদিন টেনে বেড়াতে হবে এই ভারি বোঝাটা। জয়শ্রী বুড়োর দিকে চোখ মেলে তাকায়; বুড়ো যেন তাকে বলতে চাচ্ছে আমরা সব মড়া, সবাই আমরা শ্মশান থেকে উঠে এসে এখানে লাইন লাগিয়েছি; চল পাগলি, আবার আমরা শ্মশানে গিয়ে শুয়ে পড়ি।

    …ক্ষুধার বন্যা, আকাল, দুর্ভিক্ষ, মহামারী…

    রাখাল যেন বানরের মতো লাফ দিয়ে লঙ্গরখানায় ঢুকে পড়তে চায়। সে ভাবে– মায়ের অংশের সবটুকুই আজ সে খেয়ে ফেলবে। আজ তার অনেক ক্ষুধা।

    ঘামের তীব্রগন্ধী উগ্রতা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে।… জয়শ্রী ভাবছে তার গ্রামের কথা– গ্রামে কি আর কোনোদিন ফিরে যাওয়া চলবে তাদের? স্বামী নেই, কিন্তু রাখাল তো আছে। রাখালের চেষ্টাতে আবার তারা সব ফিরে পাবে। জমিদারের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনবে তাদের জমিজমা। রাস্তার ভিখারিদের সাথে রাখাল আর ঘুরে বেড়াবে না। গ্রামেই ফিরে যেতে হবে, গ্রামে ফিরে যাওয়াই ভালো।

    পিছনের মেয়েটি বলে– আমাদের সারাজীবনের ঘাম আজকে টপটপ করে ঝরে পড়ছে।

    বুড়ি বলে– ধনী, গরিব সবার গা থেকেই ঘাম ঝরছে, বাছা।

    বুড়ো বলে– কিন্তু কেমন করে ঝরছে? পেটের মধ্যে একফোঁটা অন্ন নেই, জল নেই– তবু ঘাম ঝরছে কেমন করে?

    তারপর জয়শ্রীর গায়ে হাত দিয়ে বলে– পাগলি, তুমি কেমন চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছ? তোমার কি কিছুই বলতে সাধ যায় না?

    জয়শ্রী একবার বুড়োর দিকে, একবার মেয়েটির দিকে তাকায়। কিন্তু কোনো কথাই বলতে পারে না সে।

    সামনের ছোকরাটি ধ্যানস্থ চোখে মেয়েটির দিকে এমনভাবে তাকায় যেন সে নিজে কৃষ্ণ, আর মেয়েটি তার রাধা। জয়শ্রী কিন্তু তাদের দুজনকেই মনে মনে ধ্যান করে রাধা-কৃষ্ণ ভেবে। সে নিজেও তো একদিন কৃষ্ণ পেয়েছিল, যদিও শূন্যপ্রাণ রাধিকা আজকে স্বামীর শেষ কটি দিনের স্মৃতির রোমন্থন ছাড়া আর কিছুই আগলে রাখতে পারছে না। স্বামীর মৃত্যুতে কতই-না কেঁদেছে সে। তারপরেই কান্না থেমেছে, যখন দেখেছে, তার বুকের মতোই বাড়িটাও শূন্য– মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থাটুকুও করা যাচ্ছে না। ভিক্ষা করেনি, ধার করেনি– থালা-বাসন বিক্রি করে তবে মড়া পোড়াবার ব্যবস্থা করেছে। চিতার ছাই এখন বাতাসে বাতাসে উড়ে না-জানি কোন তেপান্তরের মাঠে গিয়ে পড়ছে।…

    জয়শ্রীর মন আবার গ্রামের পথে ফিরে যায়।… রাধা-কৃষ্ণের পালা হচ্ছে গ্রামে। গ্রামে যাত্রার দল এসেছে। চণ্ডিদাসের পদাবলির কীর্তন হচ্ছে প্রায়ই। শুকনো মনে কত দোলা লাগে, প্রাণে কত ফুর্তি জাগে। মনে পড়ছে, জয়শ্রীর হাতে টাকা-পয়সা থাকায় এসব আনন্দে অংশ নিতে কত সহজ প্রাণের সাড়া জাগত। মহাজনদের দোকানে সস্তা দরে ধান বিক্রি করে সে নগদ টাকা নিয়ে আসত ঘরে। মশাল জ্বালিয়ে যাত্রা হবে, তাই সে সাততাড়াতাড়ি পয়সা ফেলে দিত। একবার চাঁদা উঠেছিল তিনশো টাকা। পঞ্চাশ টাকা দিয়েছিলেন জমিদারবাবু একাই। কিন্তু… কিন্তু… সে টাকা কাদের! আমাদেরই ঘাম-ঝরানো পয়সা দিয়ে জমিদারের শখের লীলা। ভগবান, তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ– ন্যায়-অন্যায়ের এই লীলার তুমিই একমাত্র দর্শক।… তবু মনে কোনো দুঃখ নেই। একটি টাকা চাঁদা দিয়ে জয়শ্রী তো তবু দেখেছে রাধা-কৃষ্ণের যাত্রা-গান। দেখে দেখে মন জুড়িয়েছে।…

    দুর্বিষহ দুর্ভিক্ষ। জ্যোতির্ময় রাধা-কৃষ্ণের কথা ভেবে আর দুর্ভিক্ষকে আটকে রাখা যাবে না। আটকে রাখা যাবে না পেটের অনন্ত ক্ষুধাকে।…

    ভাবতে ভাবতে জয়শ্রী লঙ্গরখানার দুয়ারের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। নিশ্বাসটুকুও পড়তে চায় না, গলার মধ্যে এসে আটকে যায়।

    গ্রামের কথা ভাবতে ভাবতে জয়শ্রী আবার তন্ময় হয়ে ওঠে। মনে পড়ছে, চালের দাম যখন হু-হুঁ করে বাড়তে লাগল, গ্রামের লোকেরা তখন ভবিষ্যৎ না ভেবেই অন্ধের মতো তা বিক্রি করতে শুরু করল। মহাজনেরা আল্লাদে আটকানা, কারণ তাদের পোয়াবারো। তারা আরো বেশি করে ধান-চাল বিক্রি করার জন্যে চাষিদের উৎসাহ দিতে থাকে, তাদের বোঝায়– ধান-চালের দর বেশি থাকতে বিক্রি করে ফেল, আবার সস্তার সময় কিনে নেবে।

    কিন্তু সস্তার সময়ও আর এল না, তাই কেউ আর ধান-চাল কিনতেও পারল না। যেন চিরস্থায়ী দুর্ভিক্ষের ঘূর্ণিজলে পড়ে তারা হাবুডুবু খেতে লাগল। আর মহাজনেরা এখন বলে– এককণা চাল সোনার চেয়েও দামি। আহা, এ কি কলিযুগ এল, মা গো!

    পিছন থেকে বুড়ো আবার জয়শ্রীর গায়ে হাত দিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। জয়শ্রী তার দিকে তাকায়। বুড়োর চোখে ফুটে উঠেছে অপূর্ব ভাষা। সে যেন বলতে চাইছে– দুনিয়া একটা পান্থশালা। পথে পথে, দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করে আমরা এখানে ফিরেছি। বেশিক্ষণ এখানে থাকা চলবে না। আবার আমরা বেরিয়ে পড়ব। লঙ্গরখানার ডাল-ভাতই আমাদের সম্বল।

    গ্রাম ছাড়ার কিছুদিন আগে জয়শ্রী এক বুড়োকে দেখেছিল বাজারের মধ্যে রাধা-কৃষ্ণের যুগলমিলনের মূর্তি বিক্রি করতে। সে বুড়ো যেন এই বুড়োরই প্রতিধ্বনি। না, প্রতিধ্বনি নয়, বরং খুব সম্ভব এই-ই সেই বুড়ো। পূর্বপুরুষের পুজোর মূর্তি পেটের দায়ে এখন বিক্রি হচ্ছে। জয়শ্রী ভাবে মূর্তি বিক্রি করার কথা বুড়োকে জিগ্যেস করবে কিনা। কিন্তু কী মনে করে বিরত থাকে সে।

    জয়শ্রীর চোখের সামনে তারাপদের ছবিটা হঠাৎ ভেসে ওঠে। শহর থেকে যেসব দালালরা এসে মেয়েদের ফুসলিয়ে নিয়ে যেত, তারাপদ তাদের উদ্দেশে রচনা করেছিল ব্যঙ্গ-কবিতা। কবিতায় তাদের সে সম্বোধন করত ‘হারামি, শুয়োরের বাচ্চা, পাজি’ বলে। অথচ কী আশ্চর্য! তারাপদই অবশেষে দালালদের পাল্লায় পড়ে গ্রামের সব-সেরা সুন্দরী মেয়েদের ধরে ধরে বিক্রি করে ফেলত। কে জানে, সেই ‘হারামি, শুয়োরের বাচ্চা, পাজি’ লোকটা এখন কোথায়? তখন পর্যন্ত একটি নয়, দুটি নয়– সাত-সাতটি মেয়ে সে বিক্রি করেছে। কেন, কিসের জন্য?– পেটের জন্য। একমুঠো ভাতের জন্য। কিন্তু শুধু এক-মুঠো ভাত নয়– পেয়েছে সে রসগোল্লা, সন্দেশ আরো কত রকমারি মণ্ডা-মিঠাই। আমাদের মতো কষ্ট করে তাকে আর লঙ্গরখানার লাইনে দাঁড়াতে হয় না। সম্ভবত এখন সে পাকা দালান তুলেছে।…

    জয়শ্রী আর রাখাল এখন লঙ্গলখানার দুয়ারের কাছেই পৌঁছে গেছে প্রায়। আহা, রাখালের মুখে আনন্দ আর ধরে না। এখন মায়ের হাত টেনে লঙ্গরখানার দিকে দৌড়াবার আর কোনো প্রয়োজন নেই। এখন গরম গরম ডাল-ভাত সে নিজেই নিয়ে খেতে পারবে। মা যদি তার কাছ থেকে হাজার ক্ষিধের দোহাই দিয়ে এতটুকুও চায়, তবু দেবে না– সবটুকু সে একাই খেয়ে সাবাড় করবে।

    জয়শ্রী ভাবে– সাত দিন ধরে পুঁইপাতা খেয়ে বেঁচে থাকা; আর পারি না, পতিদেব। কিন্তু দু’দিন পরে তা-ও কি আর জুটবে! ওই এক টুকরো জমিই তো রেখেছিলাম রাখালের জন্য। মহাজন এসে মাত্র দুই সের চালের বিনিময়ে সেটা চাইল। ভাবলাম, কলিযুগের তো এই শেষ, আমারও শেষ। এরপর সত্যযুগ আসবে, রাখাল আবার জমি ফিরে পাবে।…

    ঘোর অন্ধকার যে-রাত্রিতে ওরা পাড়ি দিয়েছিল, মহাজনের গাড়ি-ভর্তি চোরাই ধান-চালগুলোও সেই রাত্রিতেই শহরে এসেছে! সে কিছুই বোঝেনি, তবুও ভেবেছে– ভগবান, এত চাল কোথায় যাবে, কে খাবে।

    ইতোমধ্যে ওরা লঙ্গরখানায় এসে পৌঁছে গেছে। জয়শ্রী দেখতে পায়, রাখাল তার নিজের অংশ এরই মধ্যে খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছে।

    লোভাতুর দৃষ্টিতে মায়ের অংশের দিকে তাকিয়ে রাখাল বলে– মা, একেবারে ঠাণ্ডা।

    জয়শ্রী তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে– গরম কোথায় পাবে, বল, বাবা। আজকে এটাই খাও, কালকে আবার দেখা যাবে।

    জয়শ্রী আর রাখাল এখন নদীর দিকে এগুতে থাকে। পিছন থেকে সেই মেয়েটি তাড়াতাড়ি এসে ওদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বলে– একটু আস্তে চল না, দিদি। আমার মাকেও আসতে দাও, ভাই। তা আমরা তো আর এক গাঁয়ের লোক নই; ভগবানের ইচ্ছা, তাই একসঙ্গে মিশেছি।

    জয়শ্রী তার হাত ধরে বলে– হ্যাঁ বোন, আমরা যে সবাই দুঃখী।

    মেয়েটির মা এসে রাখালের গালে চুমো খায়। বলে– তা বাছা, আমার থেকে ও কিছুটা ভাগ নাও না; বুড়ো হয়েছি, এত কি আর খেতে পারি!

    কথা শুনে রাখাল লোলুপ দৃষ্টি মেলে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

    জয়শ্রী শিউরে উঠে বলে–না, না, তাই কি হয়! সবাইকেই তো বেঁচে থাকতে হবে।

    কিন্তু আপত্তি সত্ত্বেও রাখাল কিছুটা ভাগ পায় আবার। নদীর ধারে পৌঁছে পেট ভরে জল খেয়ে নিয়ে সবাই জিরোতে থাকে। এদিকে অল্পক্ষণের মধ্যেই রাখালের পেট ফাঁপতে শুরু করেছে।

    জয়শ্রী ভয়ঙ্কর দুর্ভাবনায় পড়ে। তার মাথাটা বোঁ বোঁ করে ঘুরতে থাকে। ক্লান্ত, অবসন্ন শরীর নিয়ে লুটিয়ে পড়ে সে মাটিতে।

    সেই সঙ্গে রাখালও পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করে। তার মুখের রং ঘন-ঘন বদলাতে থাকে। ক্রমেই সে রং পাংশুটে হয়ে আসে।

    ওরা দুজন মা-মেয়ে যতখানি পারে তাদের যত্ন নেয়, সান্ত্বনা দেয়, অভয়বাণী শোনায়। জয়শ্রী উঠে বসে রাখালের পেটে হাত বুলাতে থাকে।

    উদ্ভ্রান্তের মতো চোখ মেলে তাকিয়ে জয়শ্রী মেয়েটিকে প্রশ্ন করে– জানিস বোন, সত্যযুগ আসতে আর কত দেরি?

    –তা কেমন করে বলি বল। শহর থেকে ঝাণ্ডা হাতে যারা আমাদের গাঁয়ে মিটি করতে এসেছিল, তারাও তো জানে বলে মনে হচ্ছে না।

    শুয়ে শুয়ে রাখাল পাশ ফেরে। পাতলা বাহ্যি হয় তার। রাখালকে পরিষ্কার করে নিয়ে জয়শ্রী তাকে অন্যত্র শোয়ায়। মাটি চাপা দিয়ে ময়লা ঢেকে ফেলে। জয়শ্রীর বুক আতঙ্কে তোলপাড় করতে থাকে। রাখালের পেটে মালিশ করতে থাকে সে।

    জয়শ্রী প্রশ্ন করে– সত্যযুগ কি তবে আসবে না, বোন?

    মেয়েটি বলে– তা কেমন করে বলি বল! তবে শহর থেকে মিটিং করতে এসে তারা বলেছিল, যারা হাল চালাবে, তারাই নাকি জমির মালিক হবে।

    –তেমন দিন করে আসবে, বোন?

    –ঝাণ্ডাধারীরা বলেছিল, এই যে ডাল-ভাত ওরা আমাদের খাওয়াচ্ছে, এ কিন্তু দয়ার দান নয়, এতে আমাদের অধিকার আছে। আমরা আমাদের পাওনা আদায় করে নিচ্ছি। একদিন আসবে, যখন আমরা আর চেয়ে খাব না, নিজেরাই আমাদের খাবার যোগাড় করে নিতে পারব।

    জয়শ্রী তন্ময় হয়ে শোনে আর ভাবতে থাকে শুধু সত্যযুগের কথা। কিন্তু ভাবনার রেশ ছিঁড়ে যায় শ্রীকৃষ্ণের বাঁশির শব্দ শুনে। যেন এক নতুন যাত্রাদল এসেছে। তীব্র মশাল হাতে নিয়ে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। মানুষ এগিয়ে আসছে আর থালায় পয়সা ফেলে দিচ্ছে। কেমন করে মানুষ আজ এত উদারপ্রাণ! তবে কি এ দেশে আর দুর্ভিক্ষ নেই। রাধা… রাধা…! কৃষ্ণ… কৃষ্ণ…!

    রাখালের অবস্থা ক্রমেই শোচনীয় হতে থাকে। জয়শ্রীর মনে উৎকণ্ঠার সীমা নেই। রাখালের মাথা কোলে রেখে জয়শ্রী ভাবে– আমার এই শেষ প্রদীপও কি তবে নিভে যাবে! কান্নার উচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়ে জয়শ্রী।

    মেয়েটি বলে– হতাশ হয়ো না, দিদি– রাখাল সেরে উঠবে।

    কিন্তু জয়শ্রী মৃত্যুকে ভয় করে না। তার চোখের সামনে মৃত্যু এসে তাণ্ডব করলেও সে ভয় পাবে না। কিন্তু রাখাল যেন না-মরে। রাখালের বুকে হাত রেখে সে আকাশের দিকে তাকায়, যেন অদৃশ্য কোনো শক্তির কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছে, নীরব করুণ ভাষায় জীবন ভিক্ষা চাচ্ছে রাখালের।

    কিন্তু আবেদন যথাস্থানে পৌঁছাবার অনেক আগেই… জয়শ্রী রাখালের নাড়ি টিপে দেখে, নীরব হয়েছে সবকিছুই। সে ডুকরে কেঁদে উঠে বলে– সব শেষ হয়ে গেছে, বোন– সব শেষ।

    .

    মেয়েটি শহর থেকে খুঁজেপেতে ঝাণ্ডাধারীদের তিনজনকে নিয়ে আসে। সৎকারের ব্যবস্থার জন্য সে হাতের চুড়ি খুলে দিতে চায়। কিন্তু ওরা তা গ্রহণ করে না। অল্পক্ষণের মধ্যে চিতার কাঠের যোগাড় হয়ে যায়। জয়শ্রী তার বিচিত্র চাদর দিয়ে রাখালকে ঢেকে নেয়। চিতায় তুলে দেওয়া হয় মৃতদেহটাকে।

    জয়শ্রী নিজের হাতে তাতে আগুন ধরায়।

    গভীর অন্ধকার রাত্রি। জয়শ্রীর ভবিষ্যৎ যেমন অন্ধকার।

    চিন্তার আগুন স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়। জয়শ্রীর মনের চিতার ফুলিঙ্গ এ যেন।

    আলোর চার পাশের অন্ধকার আরো জমাট বেঁধে ওঠে। জয়শ্রীর বর্তমান আর ভবিষ্যৎ যেমন নিরাশায় জমাট বাঁধা।

    ঝাণ্ডাধারীরা চলে যায়। জয়শ্রী শ্মশানেই শুয়ে পড়ে। ওরা দুজনাই তাকে সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করে।

    সারারাত্রি জেগে কাটে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জয়শ্রী শ্মশানের ছাই তুলে নিয়ে মাথায় মাখে। সে দেখতে পায়, মাথার উপর দিয়ে যেন অসংখ্য শকুন উড়ে বেড়াচ্ছে। তারাও যেন জয়শ্রীর মতো অনন্তকাল ধরে ক্ষুধার্ত। জীবন্ত মানুষের ওপর ঝাঁপটা দেওয়ার চেষ্টায় তারা হন্যে হয়ে উঠেছে। এবং একদিন-না-একদিন ঝাঁপটা তারা দেবেই।

    জয়শ্রী সেখানেই আবার লুটিয়ে পড়ে। ওদের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও সে লঙ্গরখানার দিকে যেতে রাজি হয় না। যেন এখানেই পড়ে থেকে সে রাখালের অনুসারী হবে।

    মেয়েটি বলে– তুমি যে পোয়াতি, তোমার একটু সাবধানে থাকা উচিত, বাছা।

    মা বলে– বাছা, তোমার কিন্তু ছেলেই হবে।

    জয়শ্রী ধড়মড় করে উঠে বসে। সে ভাবে– অনাগত শিশু সত্যযুগের মানুষ; নিজের ভাগ্য সে নিজেই গড়ে নেবে।

    জয়শ্রী বলে– সত্যযুগ তাহলে আসবে। আমরা আবার জমি ফিরে পাব। নিজের জমিতে আমারই ছেলে হাল চালাবে। ভিখিরিদের মতো দুয়ারে দুয়ারে আর ঘুরে বেড়াতে হবে না। লঙ্গরখানায় আর লাইন লাগাতে হবে না। পাপের নৌকা এবারে তাহলে ডুববে।

    জয়শ্রী মাটিতে আসন পেতে বসে। সাত মাস পূর্ণ হয়েছে, আর মাত্র দুই মাস। তারপর আর কতদিন… আর কতদিন।

    কিন্তু… কিন্তু…

    কিন্তু কদিন ধরে পেটের মধ্যে বাচ্চাটার কোনো নড়নচড়ন নেই কেন?

    তবে কি… তবে কি….

    মা বলে– চাঁদের মতো ছেলে হবে, দেখো। তোমার আর ভাবনা কিসের!

    .

    জয়শ্রীর কানে কানে কে যেন মন্ত্র পড়ে যায়– জয়শ্রী, জয়শ্রী, তোমরা-যে সব জাত- কিষাণ, তোমাদের আর ভাবনা কিসের। যুগ পালটে যাচ্ছে। তোমাদের জমিদার আর কতদিন জমিদারি করবে। তোমাদের জমি তোমরাই আবার ফিরে পাবে। তোমার নতুন রাখাল এসে সে জমির তদারকি করবে। তোমাদের আর ভাবনা কিসের

    কিন্তু পেটে এত ব্যথা উঠল কেন। আমি যে মরে যাচ্ছি।

    জয়শ্রী পেটের ব্যথায় আর্তনাদ করে চেঁচিয়ে ওঠে। মেয়েটি কোত্থেকে খানিক শর্ষের তেল যোগাড় করে এনে জয়শ্রীর পেটে মালিশ করতে থাকে।

    যথাসময়ের দু’মাস আগেই, এই এখানে শুয়ে শুয়েই জয়শ্রী একটি নবশিশুর জন্ম দেয়। জন্ম দেয় একটি মৃত সন্তানের।

    মা জয়শ্রীকে সামলে নিয়ে বলে– বাচ্চাটাকে ঢেকে নাও, বাছা; ভাগ্যের লিখন কে খণ্ডাতে পারে।

    জয়শ্রী কিন্তু সচেতন হয়ে মাটিতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকে।

    একটুখানি চেতনা ফিরে পেয়েই সে উঠতে চেষ্টা করে। সত্যযুগের সন্তানকে সে দুহাত দিয়ে খুঁজতে থাকে।

    মৃত সন্তানের মুখ দেখে আবার সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। জয়শ্রীর চোখ দুটি ঘুমের নেশায় আস্তে আস্তে জুড়িয়ে আসে। কোনোদিনই আর ঘুম ভাঙে না জয়শ্রীর।

    অদূর ভবিষ্যতের উজ্জ্বল ইঙ্গিতকে যেন সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেই মেয়েটি বলতে থাকে– জয়শ্রী বলেছিল-না, মা : সত্যযুগ আসবে। পাপের নৌকা ডুবে যাবে। জয়শ্রী তার প্রাণ দিয়ে গেল, আর যাবার আগে কি সে পাপের নৌকা ডুবানোর জন্য শেষ ধাক্কাটা দিয়ে গেল না?

    অনুবাদ : নজিরউদ্দীন চৌধুরী

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমার বোকা শৈশব – আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
    Next Article এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে – আবদুল্লাহ আল-মুতী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }