হাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – ৫
অধ্যায় পাঁচ
কেন আমরা কাছাকাছি ধারণা পোষণ করি?
আমরা ঠিক থোকায় থোকায় সাজানো শিমের বিচির মতো
মুক্ত আকাশে অসংখ্য পাখির বিচরণ। নানা রঙের, নানা ঢঙের এসব পাখিদের একটা কমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এরা নিজের পাল ছেড়ে অন্যের পালে যায় না। সব পাখি তাদের নিজ দলে বিচরণ করছে। নিচ থেকে দেখলে পাখিদের অনেক কাছাকাছি দেখালেও, তাদের প্রতিটি পালের রয়েছে আলাদা স্বতন্ত্রতা। পাখির গায়ের রং হলুদ হলেই তারা তাইরে নাইরে করে একত্রে উড়তে থাকে না। বরং একই জাতের পাখি হওয়াও আবশ্যক। একই কালারের অনেক পাখিই থাকে। একটা পাখি একটা পালে ওড়ার যোগ্যতা তখনই পাবে, যখন সে প্রমাণ করবে, সে তাদেরই একজন। পাখিদের এই স্বতন্ত্রতা দেখে কেউ একজন বলেছিল, ‘যেই পাখিটার পাখনায় একটা মাত্র পালক আছে, সেও তার পালের সাথেই উড়ে।’
পাখিদের মতো অনেক মানুষের ভেতরটাও একই রকম। যতক্ষণ না নিজের মন মতো কাউকে পাচ্ছে, সে কাউকে গ্রহণ করবে না। মানুষদের এই অংশটা নেহাৎ ছোট্ট না। তারা নিজেদের আশপাশে শুধুমাত্র তাদের মতো মানুষদেরই আকাঙ্ক্ষা করে। অথচ মানুষ বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে অধিক পরিচিত! এজন্য জ্ঞানীরা নিজেদের একটা গণ্ডির ভেতরে ফেলে রাখে না, বরং নিজেকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়, সব রং, সব ঢঙের মানুষদের সাথে তারা মেশে, সম্পর্ক তৈরি করে এমনকি ব্যবসায়িক অংশীদারও বানায়। তুমি যত বেশি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে তোমার সফলতা ততই বাড়বে।
এটা একটা প্রমাণিত সত্য যে, মানুষ তার নিজের ব্যক্তিত্বের কাছাকাছি মানুষকে বেশি আকাঙ্ক্ষা করে। তাদের সাথে থাকতে বেশি তৃপ্তি অনুভব করে। একটা গবেষণা আয়োজিত হয়েছে এ ব্যাপারে। সেখানে সমসংখ্যক নারী ও পুরুষকে ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বাসের পরীক্ষা দিয়ে তারপরই চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একজন পুরুষ এবং একজন নারীকে জোড়া করে, আলাদা ঘরে কথা বলতে দেওয়া হয়েছে। অর্ধেক জোড়াকে বলা হয়েছে, তাদের দুজনই একই মন মানসিকতা বহন করে। অন্যদিকে বাকি অর্ধেককে বলা হলো, তারা উভয়ই ভিন্ন মন মানসিকতা বহন করে। তবে আসল সত্য কথা হচ্ছে, উভয় ধরনের গ্রুপকেই মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। আসলে তাদের কে কোন ধ্যান ধারণা পোষণ করে এটা কেউ জানে না। কারণ ওটা মাত্র পরীক্ষার স্বার্থেই করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে দেখার বিষয় ছিল, তাদের নিজেদের মাঝে সম্পর্ক কেমন মধুর হয়। বলে রাখা ভালো, দুই পক্ষের চূড়ান্ত ফলাফল এটাই বলছিল, যেই জোড়াদের জন্য বলা হয়েছিল তাদের মন মানসিকতা একই ধরনের ঠিক তাদের প্রায় সকলের ভালো একটা কথোপকথন হয়েছে। অন্য দিকে যাদের জানানো হয়েছে তারা বিপরীত ধ্যান ধারণা পোষণ করে, তাদের সম্পর্ক অপেক্ষাকৃত কম মধুর ছিল। সুতরাং এটা ভালোই বোঝা যাচ্ছে মানুষ তার ব্যক্তিগত চিন্তা চেতনা দ্বারা কতটা প্রভাবিত!
এই অধ্যায়ে তোমাদের বিপরীত ধ্যান ধারণা পোষণ করা মানুষদের সাথে সম্পর্ক করার কৌশল শেখানো হবে। শুরু করা যাক-
পর্ব ৪৪
অনুকরণপ্রিয় হও
তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে নজর রাখো
আকাশে ঈগল যতটা ধীর গতিতে পাখা মেলে ভেসে থাকে, অন্যান্য ছোটো পাখিরা ততটা পারে না। তারা খুব দ্রুত উড়ে যায়। আবার একজন শহরের বাসিন্দা যেমন করে শহরের অলিগলিতে হাঁটবে একজন গ্রামের লোকের কাছে তা আশা করার কথা নয়।
মানুষ অবস্থাভেদে বিভিন্ন রকমের হতে পারে, তুমি কি এদের কাউকে সঠিক বা ভুল বলার অধিকার রাখো? না, রাখো না। সবাই সবার দিক থেকে সঠিক হতে পারে। এজন্য অনেক মানুষ, মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলায় না। ছট করে বলে ফেলে না, তুমি ভুল! বরং তাকে আসল পরিস্থিতি বুবিয়ে বলে।
বিক্রয়কর্মীরা এ ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন। সে তোমার ব্যক্তিত্ব বুঝেই তার কথা বলে। তুমি ঠিক যে রকম, সে নিজেকে ঠিক সেভাবেই উপস্থাপন করে। ফলে তুমি ধরে নাও, আরেহ ও তো আমার মতো! ব্যাস তুমি তাকে পছন্দ করতে শুরু করো। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই নিজের কাছাকাছি চরিত্রের মানুষদের পছন্দ করে।
আমার বান্ধবী জিনিয়া একটা সেমিনারের আয়োজন করল, যার নাম, ‘কীভাবে একজন ধনী ব্যক্তিকে বিয়ে করবেন?’
অনুষ্ঠান পরবর্তী একটা সময়ে তাকে লাস ভেগাসে যেতে হয়েছিল। রেস্টুরেন্ট তাকে পেয়ে বসল এক সাংবাদিক। সাংবাদিক বেচারা জেনিকে বাগে পেয়ে বসেছে। মঞ্চে মানুষকে বক্তৃতা দেওয়া আর বান্তবতা যে ভিন্ন এটা নিয়ে একটা পরীক্ষা চালানোর সুযোগ সে হাতছাড়া করল না।
সে অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়ে বলল, ‘জেনি, এই কক্ষে কে সবচেয়ে ধনী বলে তোমার মনে হয়?’
বেচারি খেতে এসে এমন কাউকে পেয়ে বসবে ভাবেনি। আর বোকার মতো এড়িয়ে যাওয়াটাও সম্ভব নয়। তাই জেনি সুন্দর করে হাসল, ‘খুব সহজ।’
রিপোর্টারের চোখ বড় বড় হয়ে এলো। তাদের একটু অদূরে তিন ভদ্রলোক বসে আছেন। প্রত্যেকের জমকালো পোশাক দেখে বলার উপায় নেই কে সবচেয়ে বেশি ধনী! জেনি পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে নিল। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে, আঙুল ইশারা করল, ‘ওই যে, ওই লোকটা এখানকার সবচেয়ে ধনী।’
জেনি যাকে ইশারা করল, সে ওই তিনজনের পেছনের টেবিলে বসা। রিপোর্টার অবাক হয়ে বলল, ‘সেটা কীভাবে বুঝলে?’
জেনি তার ধূর্ত হাসিটা দিল, ‘মানুষের পোশাক দেখে ধনী চেনা যায় না। ধনী চিনতে হয় তার আচার-আচরণে।’
মেয়েটা তাকে টাকার উদাহরণ দিল। নতুন টাকা যেমন চকচক করে, পুরাতন টাকা তার উল্টো। ধনী ব্যক্তিরা হচ্ছে পুরাতন টাকার মতো। চকচক করবে না, কিন্তু তুমি ভালো করে তাদের দেখলেই, তাদের চিনতে পারবে।
কৌশল ৪৪
অনুকরণপ্রিয় হও
ভালোমতো পর্যবেক্ষণ করো, যাকে দেখছ, সে কেমন করে হাঁটছে? আস্তে নাকি জোরে?
উগ্রভাবে কথা বলছে নাকি নম্রতা প্রদর্শন করছে? এমন নানাবিধ আচার-আচরণ দেখে তুমি বুঝতে পারবে, তোমার সামনে থাকা মানুষটি কেমন এবং কোন পর্যায়ের।
পর্ব ৪৫
প্রতিধ্বনিত করা
আমরা ঠিক থোকায় থোকায় সাজানো শিমের বিচির মতো
কখনো কখনো আমাদের সাথে এমন মানুষদের পরিচয় হয়ে বসে, যারা ঠিক আমাদের মতোই!
আমি যেভাবে সমাজ, রাষ্ট্র ইত্যাদিকে দেখি; সেও ঠিক একইভাবেই দেখে। তখন ভেতর থেকে কেমন যেন খুশি খুশি লাগে। আরেহ লোকটা যে পুরোপুরি আমার মতোই!
এই ঘটনাটা যখন প্রেমিক প্রেমিকার ভেতরে হয়, আমরা তাকে বলি প্রেমের রসায়ন। বন্ধুরা বলে আত্মার সম্পর্ক। ব্যবসায়ীদের চোখে সাক্ষাৎকারের মুহূর্ত। হ্যাঁ অবশ্যই এটা সেই মুহূর্ত যখন আমাদের মনে হয়, তার সাথে বোধহয় আমার পূর্বে কখনো বন্ধুত্ব ছিল! নয়ত এত মিল কীভাবে সম্ভব?
তুমি যেই শহরে, যেই ছোট্ট গ্রামে বড় হয়েছ, তোমার ছোটোবেলা ছিল অনেক মধুর, চাইলেই কারো সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলেছ। তোমাদের জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুদের সাথে অঙ্গ ছেদ সেদিনই হয়েছে, যেদিন তুমি দূরে সরে গেছ। নতুন পরিবেশ, নতুন শহরে এসে এসে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছ যেন! তোমার জীবনযাপন যেমন বদলে গেছে, ঠিক তেমনই বদলে গেছে তোমার আচার-আচরণ। ঠিক এই কারণেই নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাস করা মানুষদের আচার-আচরণ অনেকাংশে একই রকম।
অথচ এখন নতুন করে অনেকের সাথে তোমার পরিচয় হচ্ছে। নতুন করে জানতে হচ্ছে, চিনতে হচ্ছে। তোমাদের সেই জালের মতো ছিটিয়ে থাকা সম্পর্কগুলি হয়ত কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে সুতা এখনো তোমার হাতে। চাইলেই তুমি বুনতে পারো নতুন সম্পর্কে গাঁথা।
আর এই কৌশলটার নাম হচ্ছে ‘প্রতিধ্বনিত করা।’ একটা বড় পাহাড়ের উপরে দাঁড়িয়ে জোরে একবার চেঁচিয়ে উঠো তো, ‘আমায় শুনতে পাচ্ছ?’
দেখবে চারদিক থেকে তোমারই কষ্ট তোমায় বলছে, ‘আমায় শুনতে পাচ্ছে!’
এটাই ‘প্রতিধ্বনিত করা’ কৌশল। অন্যের কথা পুনরায় প্রতিধ্বনিত করে তুমিও তার মতো হয়ে উঠতে পার!
স্থানভেদে ভাষা পরিবর্তনশীল
ইউরোপের অনেক দেশেই দেখা যায়, ভিন্ন ভিন্ন ভাষার উপস্থিতি। উত্তর অংশ এক ভাষায় কথা বলে তো দক্ষিণ ভিন্ন! এই যেমন ইতালির দক্ষিণ অংশের মানুষগুলো সিসিলিয়ান ভাষায় কথা বললেও উত্তরের মানুষদের কাছে ওটা একেবারে দুর্বোধ্য!
এমনটা আমেরিকায়ও দেখা যায়, যদিও আমরা সচরাচর খেয়াল করে উঠি না। এই যেমন আমি আমি একবার যাত্রাপথে থেমে একটা রেস্টুরেন্ট গেলাম। তাদের কাছে সোডা চাইলাম, তারা নিজেদের মধ্যে এটাকে পপ বলে উচ্চারণ করছে। এটা খুবই স্বাভাবিক যে, ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন নাম খুবই কমন, কেন না, ইংরেজি ভাষাতেও এত এত শব্দ আছে যে সবগুলোর সঙ্গে আমরা পরিচিত নই!
সবারই ফ্যামিলিতে, অফিসে, ক্লাবে কিংবা অন্য কোনো মিলন ছলে আমরা এমন অনেক শব্দ ব্যবহার করে থাকি যা অন্যদের কাছে একেবারে নতুন। অন্যরা তোমাদের কাছে বহিরাগত!
তোমার বলার ধরনটা তাকে জানিয়ে দেবে তোমরা একই ধরনের সাদৃশ্য বজায় রাখছ
তোমার উদ্দেশ্য যখন কাউকে মুগ্ধ করা এবং তার কাছের কেউ একজন হিসেবে প্রকাশ করা, তখন তোমার একটাই পথ বাঁচে! আর তা হলো, সে যেভাবে বলছে তুমিও সেভাবেই বলো। তাকে অনুকরণ করো। দেখবে সে খুশি হয়েছে।
তুমি এক মহিলার কাছে গাড়ি বিক্রি করতে যাচ্ছ। সে জানাল, তার ছোট্ট একটা শিশু রয়েছে। সে ওই শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত।
‘শিশুর’ চেয়ে সমাজে ‘বাচ্চা’ শব্দটা বেশি পরিচিত। তোমার কাজ হচ্ছে সে যা বলে তাই উচ্চারণ করা। তুমিও তোমার উত্তরে জানাও, শিশুদের কথা ভেবে কোম্পানি গাড়িতে কী কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছে!
‘বাচ্চাদের জন্য নিরাপত্তা লক’ ব্যবস্থাটাকে তুমি তার সাথে মিলিয়ে এভাবে বলতে পার, ‘শিশুদের জন্য নিরাপত্তা লক।’ এতে করে সে তোমাকে তার ঘরের মানুষদের মতোই মনে করবে। ‘শিত’ শব্দটা সে সবখানেই ব্যবহার করে বলে ওটা তার কাছে এমন একটা শব্দ যা তাকে পরিবারের অনুভূতি দেয়।
অথবা মহিলা বলল, ‘আমার দুষ্ট ছেলেটার জন্য ভয়ই লাগে…’
তোমার কাজও হলো তাকে ‘ছেলে’ বলে সম্বোধন করা। আবার যে ‘বাচ্চা’ শুনতে পছন্দ করে তার সামনে শিশু কিংবা ছেলে বলার প্রশ্নই আসে না। সে যা বলবে তোমাকে তাই বলতে হবে।
ব্যাপারটা এরকম, সে যদি বলে আমার শিশুটি। তুমিও বলবে, ‘আপনার শিশুটি।’
সে যদি বলে, আমার বাচ্চাটি। তুমিও বলবে, ‘আপনার বাচ্চাটি।’
সে যদি বলে আমার ছেলেটি। তুমিও বলবে, ‘আপনার ছেলেটি।’
# যেকোনো অনুষ্ঠানে প্রতিধ্বনি করো
নিজেকে একটা বড় হলঘরে কল্পনা করো তো, যেখানে নানান পেশার মানুষ উপস্থিত রয়েছে। প্রথমেই তোমার সাথে দেখা হয়ে গেল একজন আইনজীবীর। সে তার পেশা জানানোর পর তুমি তোমার পেশা জানাবে এটাই স্বাভাবিক। সে যখন তার কাজকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছে, তখন তোমাকেও পেশা শব্দটাই ব্যবহার করতে হবে। ধরো তুমি বললে আমি জীবিকা হিসেবে অমূক কাজটা করি। এখানেই তোমার ভুলটা। তুমি জীবিকার স্থলে ‘পেশা’ শব্দটার ব্যবহার করবে। এই যেমন আমি পেশা হিসেবে অমূক কাজটা করি। আবার যখন একজন নির্মাণ শ্রমিকের সাথে তোমার কথা হচ্ছে সে পেশার চেয়ে জীবিকা শব্দটা পছন্দ করছে। তোমার জীবিকা শব্দটিই ব্যবহার করতে হবে। আরো নানাবিধ পেশার মানুষদের সাথে তোমার পরিচয় হচ্ছে যাদের কেউ নিজের কাজকে পেশা, কেউবা নিজেকে আর্টিস্ট এমনকি কেউ কেউ কাছাকাছি অন্য শব্দগুলো ব্যবহার করছে। বুদ্ধিমান হলে তুমি শুধুমাত্র প্রতিধ্বনি তুলে যাবে, যেমনটা সে বলে। দেখবে সে তোমাকে ঘরের মানুষের মতো কাছের মনে করবে।
# প্রতিধ্বনিত না করলে বিপদ!
প্রশ্ন মনের ভেতরে আসতেই পারে, আমি বিপরীত করলে কী হবে? যারা আগ্রহী তাদের জন্য এই ঘটনাটি।
এক অনুষ্ঠানে আমি আর আমার বন্ধু পিল উপস্থিত হলাম। অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজন জনাব জনসন অত্যন্ত খুশি হয়ে সবার সাথে কথা বলছেন। তিনি ব্যাপক আনন্দের সাথে জানালেন, সম্প্রতি তিনি একটা বাংলো বাড়ি কিনেছেন। ওটা ঠিক পাহাড়ের পাদদেশে।
এমন চমৎকার জায়গায় যাবার লোভ আমার আর পিল দুজনেরই জেঁকে বসল। আমন্ত্রিত হবার আশায় পিল কথা বাড়াল, ‘বাহ, অত্যন্ত খুশির খবর। এমন একটা বাসায় আমরা যেতে পারলে খুশি হতাম।’
জনসন সাহেব অত্যন্ত বিমর্শ হয়ে অন্যদিকে চলে গেলেন। এদিকে পিল দ্বিগুণ চমকাল। আমার দিকে করুণ হয়ে বলল, ‘কী অমন মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেললাম? তার বাসায় যেতে চাইলাম, এই যা!’
আমি তখন ওর ভুলটা ভাঙিয়ে দিলাম, ‘পিল, ওটা বাসা না, বরং একটা বাংলো বাড়ি।’
সে ক্র কুঁচকে বলল, ‘কথা তো ওই একই! আমি তো বাসা বলতে তার বাগানবাড়িকেই বুঝিয়েছি!’
‘বন্ধু পিল, নিজের বুন্দা দিয়ে চললে হবে না। যে যেমনটা বলে তার সাথে তেমনটাই বলতে হয়। নেক্সট টাইম ওটাকে বাগানবাড়ি বললেই ভালো হয়।’
## পেশাদার জীবনে প্রতিধ্বনি
পেশায় যখন তুমি বিক্রয়কমী, তোমাকে এই কৌশল অবশ্যই জেনে রাখা উচিত। বিক্রয়ের ক্ষেত্রে একই পণ্যকে বিভিন্ন নামে ডাকতে হবে।
আজকালকার ক্রেতারা তোমাকে শুধু একজন বিক্রেতা হিসেবেই মূল্যায়ন করবে না, বরং তারা তোমার কাছে তাদের কাজের সমাধানও আশা করে। তুমি যদি তাদের মতো করে চিন্তাভাবনা না করো, তারা জানবে তুমি তাদের কাজকে ছোটো করছ। একজন ঘরের মানুষ না ভেবে তোমাকে ভেবে নেবে একজন বহিরাগত যে কি না শুধু পণ্য বিক্রয় করছে!
আমার এক বন্ধুর ফার্নিচারের ব্যবসা রয়েছে। সে আমায় জানাল, তার ক্লায়েন্টের মধ্যে কেউ কেউ আইনজীবী, কেউ কেউ কোম্পানির মালিক, আবার কেউ বা একজন সাধারণ ক্রেতা। ভিন্ন ভিন্ন পেশার মানুষদের জন্য তার শব্দের উচ্চারণও ভিন্নতা পায়। একজন সাধারণ ক্রেতার জন্য, বাসার আসবাবপত্র শব্দটি ব্যবহার করলেও একজন আইনজীবীর জন্য তার শব্দ ভিন্ন। একজন আইনজীবীকে বলতে হয়, তার ফার্মের জন্য ফার্নিচার। একজন অফিসের মালিকের জন্য সেটা অফিসের জন্য আসবাবপত্র। খেয়াল রাখবে ব্যাপারটা, যার সাথে যেটা যায়; তাকে সেটা বলেই সম্বোধন করবে।
## কৌশল ৪৫
### প্রতিধ্বনিত করা
অন্যের শব্দের হুবহু প্রতিধ্বনিত করার অনেক সুবিধা রয়েছে। তুমি যখনই কারো মুখের উচ্চারিত শব্দগুলো হুবহু তাদের মতো করে বলবে, তারা তোমার প্রতি খুশি হবে। নিজের মনের কথা আরো বেশি খুলে বলতে আগ্রহী হবে।
### প্রতিধ্বনিত করা, ঠিক বীমা করে রাখার মতো ব্যাপার। বিপদে নিশ্চিত কাজে দেবে
মানুষ অনেকগুলো শব্দ শুনতেই চায় না, যা আমরা জেনে বা না জেনে হোক ব্যবহার করি। আমার বন্ধু লিয়ান একজন ফার্মাসিস্ট। তাকে প্রায়শই লোকে প্রশ্ন করে, ‘তুমি কোন ওষুধের দোকানে কাজ করো?’
সে প্রতিবারই বিরক্ত হয়। মানুষ এমন সব ধারণা করে বসে যা সত্যিই বিরক্তিকর। এসব শব্দ ব্যবহার করাটা বোকামি। তোমাকে সহজেই যে কেউ একজন বহিরাগত হিসেবে ধরে নেবে, যে কি না তোমার সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা রাখে না। এদের কে বোঝাবে, ফার্মাসিস্টরা ফার্মেসিতে বসে না?
শারীরিকভাবে অক্ষম এক বৃদ্ধা হাসপাতালে পায়চারি করার মুহূর্তে আমার চোখে পড়লেন। কেউ একজন তাকে বিকলাঙ্গ বলায় রেগে গেলেন। বললেন, ‘ঠিক তোমাদের মতো, আমাদেরও সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গই রয়েছে। তোমরা বেঁচে থাকতে যা করো আমরাও প্রায় ঠিক তাই করি। শরীরে একটা খুঁত রয়েছে মানলাম, এরজন্য বিকলাঙ্গ বলে ডাকবে?
মানুষকে সম্মান দাও এবং তাদের অনুস্তব করতে দাও, তোমরা তাদের কাছের মানুষ। সেক্ষেত্রে তোমাদের উচিত তাদের কথা প্রতিধ্বনিত করা, ঠিক তারা যেভাবে উচ্চারন করেন।
## পর্ব ৪৬
### ব্যক্তিত্বে দৃঢ়তা ফুটিয়ে তোলো
গতানুগতিক পুরুষালি চিন্তাভাবনা মেয়েদের সামনে তোমায় অপেশাদার প্রমাণ করতে পারে
মাঝেমাঝে আমার নিজেকেও বিব্রতকর অবস্থার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। তখন নিজেকে শান্ত করার জন্য নিজেকে নিজেই বলি, ‘লেইল, ধৈর্য ধরো। আরেকটু ধৈর্য!’
ওই রকমই একটা সময়, আমার সাথে তেমন ঘটনাই ঘটেছিল। একটা প্রোগ্রাম পরিচালনা করছি যেখানে আমার শ্রোতাদের সবাই পুরুষ। সংখ্যায় তারা বিশ থেকে পাচশজন হবে। আমি শুরুটা খুব সুন্দর করেই করলাম। স্বাগত বক্তৃতা সবাই খুব মনোযোগ দিয়েই শুনল।
অনুষ্ঠানকে আরো মজাদার করতে আমি পুরুষদের মাঝে আগ্রহী ব্যক্তিদের সুযোগ দিলাম, সোজা মঞ্চে উঠে আসতে বললাম। তাদের মঞ্চে উঠানোর একটাই কারণ, আমি চাই মঞ্চে দাঁড়ানো ব্যক্তিরা খুশিমতো যেকোনো বিষয়ে কথা বলুক, অন্য সবাই সেটা শুনুক। আমি পাশেই একটা চেয়ারে বসে পড়লাম।
একজন পুরুষ মঞ্চে উঠল। সে কথা বলা শুরু করল। কীভাবে একজন খেলোয়াড়, সবাইকে পাশ কাটিয়ে একটা গোল দিল, কীভাবে পাস দিয়ে যাচ্ছে এসবই তার বন্তব্যের বিষয়। পাশাপাশি তাকে অনেকেই প্রশ্ন করছে। এতটুকু পর্যন্ত আমার জন্য বোধগম্য থাকলো।
কিছুক্ষণ পর ফুটবল নিয়ে এমন সব প্রশ্ন আসতে লাগল যেগুলো আমার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত। অজানা! মেয়েরা ফুটবল খেলা পছন্দ করে না, এটা সবার জানা কথা। অথচ পুরুষদের ওটা মুখ্য। কোনটাকে কর্নার বলে, কোনটাকে হেড বলে তা তাদের নখদর্পণে। আমি খুবই বোর হয়ে উঠলাম। ওরা ফুটবল নিয়ে আলোচনা করছে তো করছেই! অথচ আমার মনে হচ্ছিল ওরা যেন এলিয়েনদের ভাষায় কথা বলছিল! সেই রাতে আমার ঘুম হয়নি ঠিকমতো। ব্যাপারটা আমাকে প্রচণ্ডরকম চিন্তায় ফেলে দিল। ভাবতে থাকলাম, আমার পরিস্থিতিতে যে কেউই পড়তে পারে।
অথবা নিত্য পড়ে চলেছে!
দ্বিতীয় ঘটনাটা ঘটেছে কয়েকদিন, তবে এবার এর শিকার অন্য একজন।
হসপিটালের ওয়েটিং রুমে বসে আছি। পাশে এসেছেন এক ভদ্রলোক। আশপাশে পড়ার মতো কিছুই গেলাম না। অনেক হাসপাতালের ওয়েটিং রুমে নিউজপেপার, ম্যাগাজিন থাকে পড়ার জন্য। বোধ করি ভদ্রলোকও একই পরিস্থিতিতে আছেন।
অগত্যা দুজনই চুপচাপ বসে আছি। এমন সময় বেশ কয়েকজন নার্স ওপ্যানে প্রবেশ করল। তারা নিজেদের মধ্যে বাচ্চা জন্মাদান প্রক্রিয়া এবং ক্রিনিক্যাল নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। অধিকাংশ বিষয় বাচ্চাদের সাথে সম্পর্কিত এবং একজন নারী হিসেবে ওসব আমি বুঝতে পারছিলাম। নার্সদের কথাগুলো মনযোগ দিয়ে শুনতে শুনতে ভদ্রলোকের দিকে চোখ গেল। বেচারা ঘেমে একাকার। চোখ মুখ
দেখে বুঝলাম সব কথা তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে! ঠিক আমার সেদিনকার মতো পরিস্থিতি! বেচারা!
## সঠিক উপমার ব্যবহার নিশানায় লক্ষ্যভেদ করে
নানান সেক্টরে নানান ভাষা প্রচলিত রয়েছে, যেসব ভাষা একমাত্র তারাই বুঝতে পারে; যারা ওটার নিয়মিত শ্রোতা। এই যেমন রেসলিং খেলার উত্তেজিত ধারাভাষ্য, একজন দর্শক খুব সহজেই বুঝে যাবে যদি সে রেসলিংয়ের নিয়মিত দর্শক হয়ে থাকে। তেমনই ফুটবল, হকি কিংবা আরো যত ধরনের খেলা রয়েছে, সবখানেই কম বেশি রূপকের ব্যবহার হয়। ওই ছোট্ট লাইনগুলো শুনলেই তুমি ধরে ফেলতে
পারবে ওরা কী নিয়ে আলোচনা করছে। সেদিন আমিও এতটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়তাম না, যদি আমি ফুটবল খেলা নিয়মিত দেখতাম। নারী-পুরুষদের যেমন বিচরণের ক্ষেত্র আলাদা তাই পছন্দের দিকেও কিছুটা আলাদা থেকেই যায়। ব্যাপারটা এমন, তুমি যখনই কারো পছন্দের বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকবে, সে যত লাজুকই হোক তোমার সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। আর একজন বিক্রয়কর্মীর জন্য এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, যে তার ক্রেতা ঠিক কী বিষয়ে আগ্রহ রাখছে!
## কৌশল ৪৬
### ব্যক্তিত্বে দৃঢ়তা ফুটিয়ে তোলো
তোমার মক্কেল একজন বৃক্ষপ্রেমী? তবে তুমি বৃক্ষ এবং এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করো, সে খুশি হবে। বৃক্ষ নিয়ে কত উপমা প্রচলিত রয়েছে, প্রসঙ্গ ধরে দুয়েকটা তার সামনে বলো। তার মন জয় করা অনেক সহজ। অথবা তোমার বসের অনেকগুলো স্পিড বোট রয়েছে। স্পিড বোটের গুরুত্ব তোমার আলোচনার বিষয় হতে পারে। এত ছোট্ট একটা যান পানিতে কীভাবে এত দ্রুত ছুটে, তোমার প্রশ্ন থাকতেই পারে! এমন প্রশ্নে বস কিন্তু আদতে খুশিই হবেন।
তোমার শ্রোতার জীবনযাপন সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্ন তাকে বাড়তি উত্তেজনা দেবে। তার প্রিয় শখও তোমার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
## পর্ব ৪৭
### নিজেকে একজন ইম্প্যাথাইজার হিসেবে গড়ে তোলো
**’হ্যাঁ‘.. হুঁ.. ‘আচ্ছা‘.. এসবের পেছনের কাহিনি**
অন্যের কথার জবাব আমরা হুঁ, হ্যাঁ, আচ্ছা ইত্যাদি ছোটো শব্দে দিয়ে প্রতিপৃন্নিত করে থাকি। এসব শব্দের উদ্দেশ্য একটাই, শ্রোতাকে বোঝানো, আমি তোমার কথা শুনছি। হুঁ, হ্যাঁ কিংবা আচ্ছা শব্দগুলো আমরা কখনো কখনো নিজের অজাত্তেই ব্যবহার করে ফেলি। অভ্যাস বলা চলে। অথচ আমি বা আমরা অন্যের কথাটা ঠিকভাবে না শুনেই জবাব দিচ্ছি, ‘আচ্ছা!’
আমার বন্ধু পল এই ব্যাপারটার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাকে আমি যখনই কোনো কিছু বলি সে জবাবে, হ্যা, হুঁ শব্দ করে। একদিন আমার মনে হলো, সে যতই হ্যা, হুঁ করুক না কেন আদতে আমার কথা শুনছে না। তার মনযোগ অন্য কোথাও। আমি তাকে থামিয়ে বললাম, ‘পল, আমি কী বলছি যেন?’
সে ভূত দেখার মতো স্তব্ধ হয়ে গেল। ধরা পড়ায় কিছুটা লজ্জিত হলো। তারপর, ‘না মানে, তুমি বলছিলে… উফ!… মনে আসছে না…’
তবে এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে সে হুঁ, হ্যাঁ করে হলেও জবাব দিচ্ছে। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকার চেয়ে হুঁ, হ্যাঁ বলে জবাব দেওয়া ভালো। বড় বড় ব্যক্তিরা কখনোই এমন সব শব্দে জবাব দেয় না। তারা পূর্ণ বাক্যে তাদের মনোভাব তুলে ধরে।
**ইম্প্যাথাইজার কারা?**
ইম্প্যাথাইজার বলতে বোঝায়, যারা ঠিক তোমার মতো করে তোমার কথায় সহানুভূতি, আবেগ অনুভূতির মিশ্রণ ঘটিয়ে নিজের জবাব দেন। ইম্প্যাথাইজারদের জবাব শুনলে মনে হতে থাকবে সে তোমার দুঃখে তোমার সমান কষ্ট পেয়েছে।
একজন ইম্প্যাথাইজার এবং একজন সাধারণ মানুষের প্রধান পার্থক্য হলো তাদের প্রতিক্রিয়া। একজন সাধারণ মানুষ হ্যাঁ, হুঁ, আচ্ছা বলে জবাব দিলেও একজন ইম্প্যাথাইজার তার পরিপূর্ণ জবাব তোমার প্রতি সহানুভূতি নিয়েই দেবে। ধরো তোমার কোনো একটা কাজে তারা বলবে, ‘আমি অত্যন্ত খুশি যে, তুমি এই পদক্ষেপটা নিয়েছ। আমার মতে এটা তোমাকে সাহায্য করবে।’
অথবা ‘তোমার এই কাজটা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য।’
তো অন্যের দুঃখে সমান সহানুভূতি দেখায়, ‘শোনে খুবই কষ্ট লাগল!’
যখন থেকে তুমি পূর্ণ মাত্রায় জবাব দিতে শুরু করবে, দেখবে তোমার সাথীর চোখে মুখে উচ্ছ্বাস। কারণ, তুমি তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছ।
## কৌশল ৪৭
### নিজেকে একজন ইম্প্যাথাইজার হিসেবে গড়ে তোলো
স্বভাবজাত হ্যাঁ, হু, আচ্ছা বলে জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকো। তোমার জবাব যেন পরিপূর্ণ বাক্যে এবং সহানুভূতি নিয়ে হয়। এই যেমন, ‘আমি বুঝতে পেরেছি, তুমি কী বোঝাতে চাচ্ছ।’ অথবা ‘এটা দারুণ ব্যাপার।’
তোমার সহানুভূতি তাকে উৎসাহ দেবে তার পরবর্তী কথাগুলো বলতে।
পর্ব ৪৮
ইন্দ্রিয়ের প্রয়োগ বুঝে সঠিক ইম্প্যাথাইজ
একটি কার্যকরী কৌশল
বছর দশেক আগের ঘটনা। ব্রেন্ডা নামের একটা মেয়ে আমার সাথে রুম শেয়ার করে থাকত। সে একটা নাচের ফুলে শিক্ষকতা করত। শুধু প্রক্ষেশন হিসেবে সে নাচ শেখাত বিষয়টা তেমন নয়, বরং ওটাই ছিল তার দুনিয়া। তার বিছানার চারপাশে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব নাচের শুরুদের ছবির সমাহ্যর সবসময় চোখে পড়ত। যে কেউ দেখলেই বুঝতে পারবে, সে নাচ কতটা পছন্দ করে।
আমাদের মেসটা এমন এক জায়গায় অবস্থিত, যার আশপাশে অনেক বেশি কলকারখানা রয়েছে। ওগুলো থেকে এত বেশি শব্দ আসত যে মাঝেমধ্যে আমি টেলিফোনের রিং হবার শব্দও শুনতাম না। তবে ব্রেন্ডার বেলায় তা ভিন্ন। সে ঠিকই শুনে ফেলত। যত বিচ্ছিরি কিংবা বিকট শব্দই আসুক, তাকে দমাতে পারত না। একদিন কৌতুহল বশে বললাম, ‘ব্রেন্ডা, তোমাকে একটা ব্যাপারে আমি প্রশ্ন করতে চাই।’
ব্রেন্ডা আমার দিকে তাকাল, ‘কী ব্যাপারে? বলো?’
‘যেকোনো শব্দ তোমার কান এড়ায় না। কারণটা কী?’
ও হাসল। তারপর হাত নাড়িয়ে বলল, ‘আমি একজন ভালো শ্রোতা। ছোটো বেলা থেকেই আমার এই অভ্যাসটা গড়ে উঠেছে। আমি ঠিক যেদিন থেকে আমার শোনার ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি, সেদিন থেকে আমি যেকোনো শব্দই আলাদা করে অনুভব করতে শিখেছি।
আমরা যেকোনো বিষয় বুঝতে আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সাহায্য নেই। এই পাঁচটি ইন্দ্রিয় হলো-
১. দেখা
২. শোনা
৩. অনুভব করা
৪. গল্প পাওয়া এবং
৫. স্বাদ পাওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি মানুষ স্বত্ত্ব। পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের ভেতরে প্রত্যেক মানুষের যেকোনো একটি ইদ্রিয় খুবই প্রখর। ব্রেডার ক্ষেত্রে সেটা তার শোনার ক্ষমতা।
তাই এই ক্ষমতা বৃদ্ধিতে তার ছোটোবেলার কিছু ঘটনা খুব প্রভাব রেখেছে। সে আমায় বলেছে, তার বড় হওয়া নিউইয়র্কের একটা অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। তার বাসায় বারান্দা না থাকায় বাইরের ঝকঝকে পৃথিবীটাকে সে নিজের চোখ দিয়ে দেখার সুযোগ পায়নি বরং সে বাইরের দুনিয়াকে কান দিয়ে অনুভব করেছে। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়া পথচারীদের কথোপকথন, ঘোড়ার গাড়ি কিংবা মোটরগাড়ির আওয়াজ সে নিত্য অনুভব করত। ফলে তার চোখের তুলনায় কানে শোনার ক্ষমতা বেড়ে গেছে। তারই ফলশ্রুতিতে সে চোখে দেখার চেয়ে কানে শুনে সেটা বেশি অনুভব করতে পারে। একজন ইম্প্যাথাইজার হিসেবে আমি তার জবাবে কিছুটা ভিন্নতা আনলাম।
‘এটা চমৎকার দেখাচ্ছে।’ শব্দটাকে আমি এভাবে বললাম, ‘এটা চমৎকার শোনাচ্ছে।’
‘তুমি যা বোঝাতে চাইছ, তা আমার চোখে স্পষ্ট।’ এটাকে এভাবে বললাম, ‘আমি তোমার শুনতে পাচ্ছি।’
শব্দগুলো অসম্ভব কাজে দিয়েছে। তার কাছ থেকে আমি বরাবরের তুলনায় একটু বেশি মনযোগ পেতে আরম্ভ করলাম।
ব্রেডার ক্ষেত্রে দেখাকে ‘শোনা’ হিসেবে উচ্চারণ করলেও অন্য যারা চোখে দেখাকে বেশি প্রাধান্য দেয় তাদের জন্য আগের বাক্যগুলো অপরিবর্তিত রাখলাম। এই যেমন-
– তুমি যা বোঝাতে চাইছ তা আমার চোখে স্পষ্ট।
– এটা চমৎকার দেখাচ্ছে।
– আমি এমনটা করছি, এটা চোখে দেখতে চাই না।
– বিষয়টা কীভাবে হবে আমায় দেখাও।
-আমার আন্দাজ থেকে বলছি…
## একটি কুঞ্চিত অভিব্যক্তি
বরফে ঢাকা পাহাড়ে ঘোরার মজাই অন্য রকম। আমরা কয়েকজন এক শীতের ছুটিতে বেরিয়ে পড়লাম মুরতে। সাথে আমার রুমমেট ব্রেন্ডাও রয়েছে। সারাদিনের ঘোরাঘুরির শেষে আমরা যখন হোটেলে গল্পে যেতে উঠলাম, সবাই কোনো না কোনো ঘটনা বলতে লাগল, ‘দেখলে, বরফ কতটা শক্ত ছিল?’
আরেকজন বলল, ‘তবে যাই বলো, বরফ অনেক বেশি পিচ্ছিল। আমি অনুষ্ঠন করেছি, আরেকটু হলে দুমড়ে পড়তাম!’
আমি নিজেও একটা মন্তব্য যোগ করলাম, ‘তবে এই সৌন্দর্য চোখে দেখার মতো। উফ, কী দারুণ! যেদিকে তাকাই পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড়ের উপর দিয়ে সূর্য্য মামা উঁকি দিচ্ছিল। অসাধারণ।’
সবার চোখেমুখে উচ্ছ্বাস থাকলেও ব্রেন্ডা কিছুটা দুঃখ করে বলল, ‘অথচ, পুরো চারদিকে কেমন যেন নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে ছিল। বাতাসের শব্দটা ছাড়া আর কোনো শব্দই কানে আসেনি।’
এই অবস্থায় আমার বুঝতে অসুবিধা রইল না, সবাই তার মূল ইন্দ্রিয় দিয়ে ব্যাপারগুলো দেখেছে। কারো সেটা চোখ অথবা কারো সেটা কান। কেউ বা তার অনুভূতি শক্তি কাজে লাগায়!
## একটি সহজ সমাধান
নানাবিধ মানুষদের কথা বলার হিসেব নিকেশ নির্ভর করে সে কোন ইন্দ্রিয়ের উপরে বেশি নির্ভরশীল, তার উপরে। সুতরাং কারো সাথে কথা বলতে গেলে রকেট সাইন্স জানার প্রয়োজন নেই। তোমাকে যা করতে হবে, উক্ত ব্যক্তির কথা মনযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তুমি তার সাথে কথা বললেই বুঝবে, সে কোন ইন্দ্রিয়ের সাথে বেশি পরিচিত। ধরো, তোমার ব্যবসায়িক সহকর্মী তোমায় বলল, ‘এই প্ল্যানটা কাজে লাগাতে পারলে, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই আমরা ফলাফল দেখতে পাব।’
তোমার উক্ত সহকর্মী চাক্সুস দেখার উপরে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাকে তুমি জবাবে এভাবে বলতে পার, ‘তোমার পরিকল্পনাটা আমার চোখে স্পষ্ট। ভালো কিছু হবে মনে হচ্ছে।’
ধরো, তোমার উক্ত সহকর্মী এভাবে বলল, ‘এই পরিকল্পনা যেভাবে প্রতিষ্ঠনিত হচ্ছে, তাতে ভালো কিছু হবে আশা করি।’
তোমার জবাবটাও তার সুরেই হবে, ‘তোমার পরিকল্পনা আমার কাছে ভালো শোনাচ্ছে।’ অথবা ‘আমি তোমার কথাগুলো শুনতে পাচ্ছি।’
এরকম করেই তুমি প্রতিটি স্বতন্ত্র ব্যক্তির সাথে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে পারো।
কৌশল ৪৮
ইন্দ্রিয়ের প্রয়োগ বুঝে সঠিক ইম্প্যাথাইজ
তোমার সাথী তার ইন্দ্রিয়ের কোন অংশটার উপর বেশি পরিমাণে নির্ভরশীল? তুমি তার সাথে কথা বললেই বুঝবে; সে চোখ, কান, নাক কিংবা অন্য কোন ইন্দ্রিয় বেশি ব্যবহার করে কি না। তোমার উত্তরটাও তার সাথে মিলিয়ে, তার মতো করে জবাব দাও। এটা তাকে অনুভব করাবে, তুমি তার মতোই ভাবছ।
## পর্ব ৪৯
### বাক্যের শুরুতে আমরা
আমাদের কথোপকথনের গভীরতা যেন বলছে, আমরা পুরনো বন্ধু ছিলাম!
আড়িপাতা একটা খারাপ স্বভাব হলেও মাঝেমধ্যে এটি অনেক বেশি কাজে লাগে। এই ধরো তোমার সামনে দুজন ব্যক্তি খোশগল্পে মজে আছে। তুমি দেখে বলে দিতে পারবে না, তাদের সম্পর্ক কী রকম। তারা কি বন্ধু? তারা কি সদ্য পরিচিত হয়েছে এমন?
এর উত্তর জানতে গেলে, অল্প একটু সময়ই যথেষ্ট। এমন না যে তারা বন্ধু, দোস্ত বলে চেঁচিয়ে উঠবে আর তুমি ওদের সম্পর্কে বুঝে নেবে!
আরেকটা দৃশ্য অবতারণা করো। তোমার সামনে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে বসে গল্প করছে। এদের সম্পর্কটা কী? ভাই-বোন? স্বামী-স্ত্রী? নাকি দুজনই সদ্য পরিচিত?
এক্ষেত্রে তারা তোমায় শুনিয়ে শুনিয়ে নিশ্চয়ই নিজেদের জান, টিয়া, ময়না বলে ডাকবে না! কীভাবে এদের সম্পর্ক নিরূপণ করবে?
এর উত্তর পেতে হলে তোমায় কিছুক্ষণ কান পেতে তাদের কথা শুনতে হবে।
মানুষের কথার মাঝে এমন কিছু শব্দ থাকে যেগুলো দিয়ে তুমি তাদের সম্পর্ক নির্ধারণ করতে পারবে। সেগুলো কী, জানতে চাও?
লেভেল এক : গতানুগতিক কথাবার্তা
দুজন অচেনা মানুষ যখন নিজেদের মাঝে কথা বলে, তারা গতানুগতিক বিষয় নিয়েই কথা বলে থাকে। তেমনই একটা কমন সাবজেক্ট হচ্ছে, আবহাওয়া।
একজন এভাবে বলতে পারে-
– আজ আমরা কী সুন্দর রৌদ্রোজ্জ্বল দিন দেখছি!
– কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলে মন্দ হতো না। কী বলো?
লেভেল দুই : প্রকৃত অবস্থা
দুজন অপরিচিত ব্যক্তি এভাবেও কথা বলতে পারে। লেভেল ২-এর ব্যক্তিরা পূর্ব
পরিচিত কিন্তু সম্পর্ক অত মধুর নয়।
– জন দেখেছ, এবার কী যুম বৃষ্টিটাই না হচ্ছে। অথচ গত বছর বৃষ্টির নাম গন্ধ
পাচ্ছিলাম না!
– বাপরে, যে গরম পড়ছে। মন চাচ্ছে এখনই পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ি।
লেভেল তিন : অনুভূতির প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত প্রশ্ন
যখন দুজনের বন্ধুত্ব থাকে, তারা বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুভূতি শেয়ার করে।
এই যেমন একজন বলল, ‘জর্জ, গ্রীষ্মকাল আমার ভীষণ প্রিয়।
এমনকি তারা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতেও ভাববে না, ‘তোমার কথা বলো বেনি।
তোমার গ্রীষ্মকাল পছন্দ?’
লেভেল চার : ‘আমরা‘ যুক্ত করে কথা বলবে
এই পর্যায়ে আমরা আলোচনা করব এমন দুজনের সম্পর্কে, যারা বন্ধুত্বকে ছাড়িয়ে অন্তরঙ্গতার শীর্ষে পৌছে গেছে।
তারা উভয়েই ‘আমরা’ এবং ‘আমাদের’ এই শব্দ দুটো অত্যধিক ব্যবহার করবে।
দুজন বন্ধু নিজেদের সাথে এভাবে কথা বলতে পারে, ‘আবহাওয়াটা যদি এমন থাকে, তবে এই গ্রীষ্মকাল আমাদের দারুণ কাটবে।’
প্রেমিক প্রেমিকা দম্পতির কেউ একজন বলতে পারে, ‘এই গ্রীষ্ম আমাদের জন্য ভালোই যাচ্ছে। আমরা সমুদ্র স্নানের পরিকল্পনা করতে পারি। কী বলো তুমি?’
মনে করো, কোনো একজন ব্যক্তির সাথে তোমার সম্পর্ক খুবই সাধারণ। তুমি চাচ্ছ এই সাধারণ সম্পর্কটাকে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক পর্যন্ত টেনে নিবে।
সম্পর্ক গাঢ় করার কৌশলটায় ‘আমরা/আমাদের’ শব্দটা চমকপ্রদ ভূমিকা পালন করে। যখন তুমি ‘আমরা/আমাদের’ শব্দটা দিয়ে কোনো বাক্য শুরু করবে, সেটা অত্যধিক জোরালো শোনাবে।
যাদের কথাবার্তা জোরালো শোনায় আমরা সবাই চাই তাদের সংস্পর্শে থাকতে, এমন একটা মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করতে।
বন্ধুত্ব পর্যন্ত লেভেল ১ ও লেভেল ২-এর কথোপকথন চলতে পারে। কারো সাথে অন্তরঙ্গ হতে চাইলে লেভেল ৩ ও লেভেল ৪ অনুসরণ করা আবশ্যিক।
একটা কাল্পনিক চরিত্র অবতারণা করো। ধরো তোমার পছন্দের একজন মানুষের নাম রিবান, যার সাথে ভালো সম্পর্ক করতে চাচ্ছ।
তার সামনে গিয়ে দাঁড়াও। তুমি তাকে একজন বন্ধুর মতো বলো, ‘রিবান, নতুন সরকার নিয়ে তোমার মনোভাব কেমন?’
সে নিশ্চয়ই কিছু একটা জবাব দিয়ে দেবে।
এই অবস্থায় ‘আমরা’ কৌশলটা ব্যবহার করো।
তুমি এভাবে পরের প্রশ্নটা তৈরি করো, ‘তোমার কী মনে হয়? /আমরা/ এই সরকারের আমলে উন্নতি করতে পারব?’
এমনভাবে বলার ফলে সে অনুভব করবে, আমরা তো মনে হয় কাছের কেউ।
## কৌশল ৪৯
### বাক্যের শুরুতে ‘আমরা‘
এই কৌশল ব্যবহার করে তুমি এমন মানুষের সাথেও সখ্যতা গড়ে নিতে পারবে, যার সাথে এই কিছুক্ষণ আগেই পরিচিত হয়েছ। ‘আমরা, আমাদের’ এই শব্দদুটো শুনতে সাধারণ শোনালেও এদের কার্যকারিতা অনেক বেশি। তুমি লেভেল ১ এবং ২ ব্যবহার না করে মানুষের সাথে লেভেল ৩ অথবা ৪ এর মতো করে কথা বলো, এটা অনেক বেশি বাস্তব সম্মত।
# পর্ব ৫০
## তাৎক্ষণিক স্মৃতি
### আমাদের নিজস্ব কৌতুক
স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মাঝে এমন কিছু ভাষার প্রয়োগ করে, যা বাইরের মানুষের বোঝার কোনো সাধ্য নেই।
বন্ধু বান্ধব, অফিস আদালত চারিদিকেই এমন কিছু ‘বিশেষ ভাষা’ ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বাইরের মানুষ যখন এর সম্মুখীন হয়, ভাবতে থাকে, এরা কী বলে এসব? কিছুই তো বুঝি না!
আমি একটা কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে চাকরি করতাম। ওখানে টিম ওয়ার্ক প্রথা খুব বেশি প্রচলিত ছিল। সবার অংশগ্রহণে কাজে পেত নতুন ছোঁয়া। যেকোনো কাজ শেষ করতে পারলেই আমরা খুশিতে চেঁচিয়ে উঠতাম, আমরা সফল হয়েছি। একদিন খবর পেলাম আমাদের মালিক পক্ষের একজন কোনো একটা ভবনে চড়তে গিয়ে উল্টে পড়েছেন, ভদ্রলোকের পায়ের কয়েকটা আঙুল ভেঙে গেল। পরবর্তী মিটিংয়ে সেই ভদ্রলোককে একটা ক্র্যাচে ভর দিয়ে অফিসে আসতে হলো। তিনি ক্র্যাচটা নাড়িয়ে নাড়িয়ে বললেন, ‘আজ থেকে সমন্ত টিম ওয়ার্ক বন্ধ। সবাই আলাদা আলাদা, স্বতন্ত্র কাজ করবে।’
টিম ওয়ার্কের উপরে তার কীসের এত রাগ বোঝা গেল না।
ব্যাস! এরপর যখনই কোম্পানিতে কেউ কোনো কিছু নাতিল করত, সবাই টিটকারি করত, ‘এটার উপরে আমি ক্র্যাচ নাড়াচ্ছি।’
কিছুদিন পর পরিছিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়োছে, নতুন কর্মীরাও এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে লাগল, অথচ তারা পেছনের কাহিনি কিছুই জানে না।
আমি এবং ডায়ান দুজন দুজনের সাথে দেখা হলেই হ্যালো বলার পরিবর্ত বলি, ‘প্যাক প্যাক!’
জানি ব্যাপারটা হাস্যকর শোনাচ্ছে। কোনো এক অনুষ্ঠানে এই প্যাক প্যাক শব্দটার কারণেই ওর সাথে আমি পরিচত হয়েছিলাম, ওটাই হয়ে গেছে আমাদের গোপন ভাষা।
পাঁচ বছর আগে ওর সাথে প্রথম পরিচয়। সে আমাকে জানাল, সে একটা হাঁসের খামারে বড় হয়েছে। একজন মানুষ হাঁসের খামারে বড় হবে এটা হাস্যকর ব্যাপার। বুঝলাম সে আমার সাথে মজা করছে। আমি মজা করে বললাম, ‘আমি কখনো হাঁসের খামার দেখিনি।’
সে হেসে বলল, ‘এই দেখো।’
বেচারা হাঁসের মতো হাত পা ভাঁজ করে হাঁটতে লাগল। আর কিছুক্ষণ পরপর প্যাক প্যাক করে উঠছে। এরপর আমিও ওর সাথে যুক্ত হলাম। দুজন হাঁসের মতো কিছুক্ষণ হাঁটলাম। সূক্ষ্মভাবে দেখলে এটা আমাদের পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। ছেলেমানুষীও বলা যায়। সময়ে সময়ে আমরা এমন অনেক কাজ করে ফেলি যার পেছনে কোনো যুক্তি কাজ করে না।
পরদিন আমার মোবাইলে একটা ফোন এলো। আমি রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠল, ‘প্যাক প্যাক।’
মুখে হাসি চলে এলো। আমি হাসতে লাগলাম। হাসতে হাসতে বললাম, ‘প্যাক প্যাক।’
এই ভাষা আমরা দুজন ছাড়া আর কারো বোঝার সাধ্য আছে? অথচ এই সাংকেতিক শব্দ আমাকে আরো বেশি পরিমাণে আন্দোলিত করেছে।
## কৌশল ৫০
### তাৎক্ষণিক স্মৃতি
কারো সাথে প্রথম পরিচয়ের সময়টা স্মরণে রাখলে ভবিষ্যতে কাজে লাগে। প্রথম সাক্ষাতে এমন কিছু শব্দ ব্যবহৃত হয়, ওটা স্মরণে রেখে পরবর্তী সাক্ষাতে সেটা ব্যবহার করা যায়। এমন কোনো শব্দ যেটা ওই ব্যক্তিটিকে হাসাবে, আন্দোলিত করবে। তারপর টুক করে পরের সাক্ষাতে ওটা বলে কথা গুরু করো। উভয়ই সম্পর্কের অনন্যতা উপলব্ধি করবে, অতি স্বল্প সময়ে।
