হাউ টু টক টু এ্যানিওয়ান – ৭
অধ্যায় সাত
তাদের হৃদয়ে স্থান করে নাও
অন্য মফ্কেও নিজের সমান কার্যকারিতা দেখাও
তুমি এমন অনেক মানুষের সাথে জড়িয়ে আছ, যাদের কখনো দেখোনি, যাদের কথা, যাদের চেহারা, কখনো দেখবে কি না তাও তোমার অজানা। অথচ তাদের তৈরি করা বিছানায় তোমাকে ঘুমাতে হয়, তাদের সাজানো ড্রয়িং রুমে বসতে হয়, তাদের বানানো ভবনে থাকতে হয়। এমন হাজারো মানুষ, পেছন থেকে আমাদের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। শুধুমাত্র আন্দাজ শক্তি দিয়ে তাদের বোঝা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তোমার জামা কাপড় যেসব মানুষ তৈরি করছে, তোমার নিত্য ব্যবহার্য আসবাপত্র, তোমার গাড়ি, এমনকি তোমার ব্যবহার্য সব জিনিসগুলো কেউ না কেউ তৈরি করেছে, যাদের চেহারা তোমার কাছে অজানাই থেকে যাবে।
অনেকদিন আগের কথা, এক ট্রাভেল এজেন্টের সাথে আমার পরিচয় ছিল, যাকে কোনোদিন আমি দেখিনি। তার কষ্ঠটাই একমাত্র তার পরিচিতি ছিল আমার কাছে। সেই এজেন্টের নাম ছিল রানি। তার সাথে কাজ করতে করতে এক সময় বিরক্ত বোধ হতে থাকল, তাকে ছেড়ে অন্য একজন এজেন্টের সাথে কাজ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলাম।
হুট করেই বিপদে পড়ে গেলাম, ইমার্জেসি প্লেনের টিকিট কীভাবে ম্যানেজ করব তাই নিয়ে জল্পনা কল্পনায় ডুবে গেলাম। আমাকে ওই দিনই জার্মানি যেতে হতো, অথচ হাতে টিকিট নেই! এরারপোর্টে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পাওয়াটা মুশকিল, অন্তত এখন তো তাই মনে হচ্ছে। ভেতর থেকে উত্তেজিত হায়ে উঠলাম, যে করেই হোক টিকিট আমার লাগবেই। এই প্রেনটা মিস হলে আজ আর যাওয়া হবে না।
একটা ক্যাব নিয়ে রানির এজেন্সিতে গিয়ে হাজির হলাম। রিসিপশনের মেয়েটাকে বললাম, ‘ইমার্জেন্টি আমার টিকিট লাগবে।’
মেয়েটাও যথেষ্ট চটপটে, বোঝা যাচ্ছে। মুহূর্তেই সে দৌড়ঝাঁপ করে একটা টিকিট হাতে ধরিয়ে দিল, মনে মনে বললাম, লেইল এই যাত্রায় বেঁচেছিস!
নার্জাসনেস কিছুটা কমেছে, মেয়েটাকে ধন্যবাদ জানালাম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার নাম কী?’
সে হেসে জবাব দিল, ‘লেইল, আমি রানি। তোমার ট্রান্ডেল এজেন্ট।’
কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমি থ মেরে রইলাম। রানি! যার সাথে আমি ফোনে কথা বলি? অথচ ফোনে কথা বলা রানিকে আমার বিরক্তিকর মনে হয়েছিল। বাস্তবে রানি এতটা ছটফটে এবং স্মার্ট যে, আমি নিজের আন্দাজের উপরেই শঙ্কায় পড়ে গেলাম। রানি খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারে। তার চোখের আই কন্টাস্ট এবং শারীরিক অঙ্গভঙ্গি যে কাউকে মুগ্ধ করবে। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, শুধুমাত্র আন্দাজ করে নেক্সট টাইম কারো সম্পর্কে কিছু ভাবব না।
আমার ক্যাবটা এয়ারপোর্টের দিকে ছুটো যাচ্ছে, আমার মন পড়ে আছে রানির দিকে।
আমি উপছিত হতেই যেভাবে হামলে পড়ল, তড়িৎ কাজ করে নিজেকে প্রকাশ করল, সত্যিই অবিশ্বাস্য! কাউকে না দেখে তার সম্পর্কে ধারণা করা অনেক কঠিন। মনে রেখো, তোমার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি যে কাউকে প্রেমে ফেলে দিতে পারে।
পর্ব ৬০
কথা বলার ভঙ্গিমা
তোমার আচার-আচরণ সঠিকভাবে পৌছানোর যোগসূত্র
আমার বাদ্ধবী টিনা একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তার মূল উদ্দেশ্য মানুষকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি তার ব্যবসার মার্কেটিং করা।
একদিন ঘটনাক্রমে জানতে পারলাম তার উক্ত অনুষ্ঠান পুরো ভেন্তে গেছে। মানুষজন হাসাহাসি করেছে, অথচ বেচারি তার সর্বোচ্চ ইফোর্ট দিয়েছিল! সে জানাল, সমস্যা বাঁধিয়েছে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। তারা অনুষ্ঠানটাকে ‘হালকা’ কার নিয়েছে। সঠিক বড় ল্যাস্ট্রেজ, কথার সাথে এক্সপ্রেশনের অমিল নানাবিধ কারণে অনুষ্ঠানটা আর জমকালো হয়ে গেছে।
বড়ি ল্যাস্ট্রেজ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা রানির সাথে ঘটা পরিছিতি দেখে বুঝে গেছি।
‘চোখ যে মনের কথা বলে।’ কথাটা সমাজে এমনি এমনি প্রচলিত হয়নি। চোখ, হাত, পা প্রত্যেকটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তোমার মনের কথাই প্রকাশ করে। আর যখন তুমি উসবের ব্যবহারে অপটুত্তু দেখাও, অন্যদের কাছে হয়ে পড়ো গুরুত্বহীন।
যারা রেডিওতে কাজ করে বিশেষ কারে রেডিও জকি, ওরা যত কিছুই বলুক, তোমরা কি তাদের দেখতে পাও? কথা বলার সময় হাত নাড়াচ্ছে, কিংবা বিষয়ে চোখ দুটো বড় বড় করে নিচ্ছে এসব আমরা কেউই দেখতে পাই না। আমরা শুধুমাত্র শুনি, তারা কী বলছে। তাদের কথা মন দিয়ে অনুভব করি। মন দিয়ে অনুভব করতে গিয়ে ভুল অনুভবও তুমি করে ফেলতে পারো, যেমনটা আমি করেছি রানির সাথে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ ৩০% মনোবল হারিয়ে কেলে, যখন কারো সাথে ফোনে কথা বলে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, বিপরীতে থাকা ব্যক্তিটিকে দেখা যায় না। তার বড়ি ল্যাস্ট্রেজ আর কথার যে অস্থায়িত রয়েছে তা অনুধাবন করা অসম্ভব হয়ে যায়। মানুষের অর্ধেকের বেশি ব্যক্তিত্ব নির্ভর করে তার বড়ি ল্যাস্ট্রেজের উপরে।
তবে এই বিশেষ উপায়ে আমরা সেই হারানো ৩০% মনোবল ফিরে পেতে পারি। যখনই কারো সাথে ফোনে কথা বলবে, চেষ্টা করবে নিজের এক্সপ্রেশনগুলো প্রকাশ করতে। যখন অন্যের কথা শুনছ, ‘হ্যাঁ… ইঁ… জি…’ ইত্যাদি বলে তাকে বোঝাতে পার, তুমি তাকে শুনছ।
যখন সম্মতি জানাচ্ছ, ‘হ্যাঁ, বুদ্ধিটা চমৎকার।’ কিংবা ‘তুমি ঠিক দিকেই যাচ্ছ।’ এসব বলার অর্থ হচ্ছে, তুমি মাথা নাড়িয়ে তার সাথে একমত হচ্ছ।
হাসির কথায় যেমন তার সাথে হাসবে, দুঃখের কথায় দুঃখ প্রকাশ করবে। এতে করে সে ধরে নেবে বিপরীতে থাকা মানুষটা তার সাথেই রয়েছে।
কৌশল ৬০
কথা বলার ভঙ্গিমা
কারো সাথে ফোনে কথা বলছ, অথচ নিজের অভিব্যক্তিগুলো কীভাবে প্রকাশ করবে তা নিয়ে চিন্তিত? এই কৌশল ব্যবহার করতে পারলে তোমার চিন্তার কোনো কারণই থাকবে না।
তোমার হাসিমাখা মুখকে ফোনের ওপাশে পৌছাতে, তোমার একেকটা হাসিমাখা শব্দই যথেষ্ট। তোমার মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানানো হয়ে যাবে, যদি তুমি একটু শব্দ করে জানান দাও, সে ঠিক পথেই আছে।
চুপ করে অন্যের কথা শোনার অর্থ তুমি অমনযোগী। চুপ থাকা যাবে না। হ্যাঁ… হ্যাঁ… আচ্ছা বলে হলেও জবাব দিতে হবে।
পর্ব ৬১
বেশি বেশি করে নাম উচ্চারণ করো
মৌখিক কথোপকঘনে যত্নবান হও
অন্যের সাহচর্যে না গিয়ে তার মন জয় করাটা বড়ই কঠিন কাজ। আর সেটা যদি এমন কেউ হয়, যে থাকে হাজার মাইল দূরে, যেখানে সহসা যাওয়া সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে কাজটা অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে যায়। ফোনকলে অনেক মানুষের সাথেই আমাদের কথা হয়, না দেখে, না জেনে আমরা ক’জন মানুষের মন জয় করতে পেরেছি?
ফোনে কথা বলার পাশাপাশি আমরা ঠিকই অন্য কাজ করতে থাকি। একটাই কারণ, ফোনের অপর প্রান্তের মানুষটা আমায় দেখছে না।
একই বিছানায় না ঘুমিয়ে, একই টেবিলে না খেয়ে কিংবা চোখে চোখ রাখার সুযোগও হয়নি, তবুও তুমি এই দূর থেকেই কারো মন জয় করে নিতে পারো। কৌশলটা খুব বেশি কঠিন নয়, যতবার তোমার কাক্ষিক্ত ব্যক্তির সাথে কথা বলবে, বারবার তার নাম উচ্চারণ করবে, দেখবে এর ফলাফলটা অভাবনীয়।
‘জন, তোমার ওই কাজটি সম্পর্কে জানতে চাই।’
‘ওটা কীভাবে করলে, জন?’
‘জন, তুমি সত্যিই একজন দারুণ মানুষ।’
‘তোমার এই মানসিকতাকে আমি সম্মান করি, জন।’
যখন নাম ধরে কথা বলবে, বারবার তার নাম উচ্চারণ করবে সে কথায় মনযোগী হতে বাধ্য। খেয়াল করলে দেখবে যেসব ফোনকলকে তুমি গুরুত্বপূর্ণ ভাবছ, ওই সময়টা তুমিও অন্য কাজ ফেলে শুধু ফোনেই মনযোগ রাখছ।
এমন তো অনেক হয়েছে, দূরে কোথাও, কেউ একজন তোমার নাম ধরে কিছু একটা বলছে। তুমি তোমার কাজ ফেলে রেখে কান খাড়া রেখে শুনলে, ওরা কী বলছে? সবাই নিজের নামটা শোনার পর এমনটাই করে। ফোনের ওপাশের ব্যক্তিটি কেন নয়?
কৌশল ৬১
বেশি বেশি করে নাম উচ্চারণ করো
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলা আর অনেক দূর থেকে কথা বলার মাঝে সিন্ধুর পার্থক্য রয়েছে। সামনাসামনি, চোখে চোখ রেখে তুমি কাউকে মুদ্ধ করে তুলতে পার, এটা তোমার যোগ্যতা, অথচ ফোনের পেছনে সেটা সম্ভব নয়। ওই অন্যায় ফোনকলে কারো মন করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, বারনার তার নাম উচ্চারণ করে করা বলা।
পর্ব ৬২
আচ্ছা ওটা তুমি ছিলে!
কে-ই বা চেশায়ারের সেই বিড়ালটার মতো হতে চায়?
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফোনকলে কথা বলার পূর্বে একটু হেসে নেওয়া উত্তম। এতে করে ফোনে কথা বলতে সুবিধা হয়, এমনকি যদি সম্ভব হয়, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলো! নিজের হাসি দেখে, নিজেকে উপছিত জেনে কথা বলতে পারাটা তোমাকে ওভাবে কথা বলতে অভ্যন্ত করে।
আমার জীবনে বিচ্ছিরি একটা ঘটনা ঘটেছে ‘বিশেষজ্ঞদের’ বিশেষ কৌশল খাটাতে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখনই কথা বলতে গেলাম, অনুভব করলাম, আমাকে বিচ্ছিরি দেখাচ্ছে। ব্যাস!
নিজকে বিচ্ছিরি দেখাচ্ছে এটা জেনে আর ভালো মুহূর্ত তৈরি করা সম্ভব? কথোপকথন ভালো গেল না। নিজেকে ঠিক চেশায়ারের সেই বিড়ালটার মতো মনে হলো, যেটি সব সময় অনর্থক হাসত।
আমার দেখা সফল ব্যক্তিরা কখনো এই কাজটা করেনি। তারা আগে শোনে তারপর হাসে।
ওরা খুব স্বাভাবিকভাবে তোমার সাথে কথা বলবে, তোমার পরিচয় জানবে, পরিচয় জেনে তারপর হেসে উঠবে, ‘আরেহ, লেইল দেখছি। আমার কী সৌভাগ্য!’
অথচ কথা বলার শুরুতে তাদের মধ্যে কোনো প্রকারের ইমোশন দেখা যায় না, এমন কি তারা খুবই পেশাদার আচরণ করে। অবাক করা ব্যাপার, যখন তারা তোমার পরিচয় জানবে, নিজের হাসির মাধ্যমে তার জানান দেবে। তাদের অত্যধিক খুশির ফোয়ারা দেখে তুমি নিজেই চমকে উঠবে! ভাবতে থাকবে, তার কাছে আমি এত শুরুত্বপূর্ণ কেউ?
ওয়াশিংটন ডিসিতে আমার বন্ধু স্টিভ মোটামুটি ভালো অবস্থায় রয়েছে। সে একটা ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের হেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। একবার স্টিভের সাথে কথা বলার দরকার পড়ে গেল। তার অফিসের নাম্বারে কল দিলাম। আমার যে ভয়টা মাথায় ঘুরছে, কে না কে কল ধরে! তার অফিসে এতস্তলা স্টাফ, তারপর নিজের পরিচয় দেওয়া!
কল পিক হতেই ওপাশ থেকে কেউ বলল, ‘ক্যাবল টেলিকমিউনিকেশন আসোসিয়েশন থেকে ডেনিস বলছি. আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?’
তার কণ্ঠে কোনো জড়তা নেই। একবারে সাধাপিধে প্রশ্ন, যেটা সনাই করে। আমি একটু কেশে নিলাম। সরাসরি বললাম, ‘আমি লেইল বললছি, স্টিভকে পাওয়া যাবে?’
ডেনিসের মুখের হাসি যেন আমি অপর প্রান্ত থেকেই দেখছিলাম। তার কণ্ঠে প্রুশর কোয়ারা জেসে এল, ‘আরেহ লেইল লাউন্ডেস যে! আমি এফুনি স্টিভকে দিছি।’ আমি কিছুক্ষণের জন্য বোবা হয়ে গেলাম! ডেনিস নামক মানুষটাকে আমি কখনো দেখেছি বলেই মনে হয় না, অথচ আমার নাম বলতেই চট করে চিনে ফেলল। অবাক করা ব্যাপার, সে আমার পুরো নাম কীভাবে জানে?
এর বছরথানেক পরে স্টিভের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েই গেল। দুজন একটা রেস্টুরেন্টে বসে গল্প করছিলাম। গল্পের ফাঁকে এই ব্যাপারটা জানতে চাইলাম, তার অফিসের স্টাফরা কীভাবে আমায় চেনে? তার স্টাফের সাথে কথা বলে আমার ভালো লাগার অনুভূতিও তাকে জানালাম।
স্টিভ হাসল। তার হাসিতে রহস্য লুকিয়ে রয়েছে।
সে ঠোট নড়িয়ে বলল, ‘টেলিফোনে কীভাবে কথা বলতে হয়, ওটা তো তোমার কাছেই শিখেছি লেইল!’
আমার মুখ হা হয়ে গেল। বলে কী!
আমি অবাক ভঙ্গিতে বললাম, ‘কখন?’
‘এত অবাক হবার কী আছে? তুমি ব্যক্তিগত জীবনে ব্যবহার করতে বলেছ, আমি ওটাকে আপডেট করে আমার পেশাদার জীবনে কাজে লাগাচ্ছি। এর বেশি কিছু না।’
‘সে তো আমায় চিনেছে দেখলাম! ওটা কীভাবে হলো?’
‘আরেহ বোকা মেরে, আমি ওদের বলে রেখেছিলাম। অন্য পরিচিত যে কেউ কল দিলেও একই প্রতিক্রিয়া পেত।’
যখন বিপদন্তলো ঘাড়ে চাপে
পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য স্টিভের কায়দা অত্যন্ত কার্যবহ। তাই বলে কি ওয়া অপরিচিত কাউকেও সমান শুরুত্ব দেবে? আর মিথ্যা চেনার ভান করলে সেটা এক প্রকারের ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। সেই ব্যক্তি যদি টের পায় ওটা মিছে চেনার ভান, তাহলে যে পুরোটাই বিপদ।
স্টিভ সেক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি রেখেছে। তার মতে অপরিচিত কেউ কল দিলেও একই ধরনের উচ্চসিত জবাব মিলবে।
যেমন- একজন ক্যাবল অপারেটর তাদের অ্যাসোসিয়েশনে যুক্ত হতে চায়। সে কল দিল। সেক্ষেত্রে তার স্টাফদের জবাব কী হবে?
হাসিখুশি জবাব আসবে, ‘ওহ, হ্যা জনাব গিও। আমি একুণি আপনার কাজটি করে দিচ্ছি। ধন্যবাদ।’
আমার জবাবটা পুরোপুরি পাইনি দেখে ওকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ধরো, এবার এমন একজন ফোন করেছে যে তোমার অফিসে তার ফার্নিচার বিক্রি করতে আগেই।’
স্টিভ বলল, “ওয়া এবারও খুশি হবে। তারপর বলবে ‘ওহ, ফার্নিচার কোম্পানি থেকে বলছেন?’ ওটা শুনেই কলার খুশি হবে।”
পরে সামনাসামনি দামাদামি করতে সুবিধা হয়, কারণ সে আগেই কোম্পানির স্টাফদের সাথে কথা বলে পুলকিত বোধ করেছে। আমি টিপ্পনী দিয়ে বললাম, ‘কাল থেকে আমিও ওটা খাটাবো। দেখি কী হয়!’
পরদিন আমার ডেন্টিস্ট কল দিল। শেষ ছয় মাস ধরে আমি তার কাছে যাচ্ছি না, আমায় স্মরণ করিয়ে দিল সে।
আমি খুশি খুশি ভঙ্গিতে বললাম, ‘তুমি পুরোপুরি ঠিক বলেছ। ব্যাপারটা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
আমার কাছ থেকে এমন জবাব পেয়ে আমার ডেন্টিস্ট থ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ ধরে কী বলবে ভেবেই পেল না। আমিই পরের অংশ ধরে শুরু করলাম, ‘দুঃখের বিষয় আমি এখন আসতে পারছি না। ঝামেলা থেকে মুক্ত হলে আমি নিজেই কল করব।’ অন্য সময় হলে যাবার জন্য গুতাগুতি করত। এবার তার কিছুই করল না। সুন্দর করে জানতে চাইল, ‘তুমি আনুমানিক কবে আসতে পারবে?’
আমার একটা বাড়তি বোঝা নেমে গেল। তার কথার ধরন দেখে বোঝা গেল, আগামী ছ’মাসের ভেতরে অন্তত কল দিচ্ছে না সে।
পরের কলটা এসেছে আমার একজন বায়ার থেকে। সে ফোন দিয়েই বলল, ‘আপনার দেওয়া প্রোডাক্টে সমস্যা রয়েছে।’
আমি আন্তরিকতার সাথে বললাম, ‘আমি খুবই কৃতজ্ঞ যে আপনি আমাকে ব্যাপারটা জানিয়েছেন। আপনার অসুবিধার জন্য দুঃখিত।’
আমার আন্তরিকতা দেখে ভদ্রলোক চমকে গেলেন। অন্য কেউ হলে খিটখিট করে কথা বলতেন।
নিজেকে সামলে বললেন, ‘এটা তেমন কিছুই না। আমি আপনার থেকে আরেকটা কিনব। কবে আসতে পারি?’
তৃতীয় কলে এলেন একজন দোকানদার, যার কাছ থেকে আমি গত দু’মাস আগে বাকি করেছি।
আমি এবারও খুশি হয়ে বললাম, ‘কী সৌভাগ্য যে আপনি ফোন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আমি তো বিলের কথা ভুলেই গেছিলাম।’
দোকানি তাজ্জব বনে গেল আমার জবাব পেয়ে। এমন কাস্টমার বোধহয় প্রথম দেখছে সে, যে কি না টাকা দেওয়ার কথা শুনে খুশি হয়!
দোকানির কণ্ঠে রাগের পরিবর্তে খুশি খুশি ভাব এলো। সে আমায় জানাব, ‘আপনার দুই মাসের বিল বাকি, সাপে জরিমানা জমা হয়েছে। জরিমানার ব্যাপারটা আমি দেখে নেব। আপনি শুধু আসল দিলেই চলবে।’ ভালো ব্যাপার হচ্ছে, এই কৌশলটা আমি আজও ব্যবহার করি।
কৌশল ৬২
আঙ্গা ওটা তুমি ছিলে।
ফোনের অপর পাশের ব্যক্তিকে তোমার খুশি শুরুতেই দেখানো উচিত নয়। তার কল পেয়ে খুশি হয়েছ, এটা তার পরিচয় জানার পরেই প্রকাশ করো। পরিচয় জানার পর হাসির একটাই অর্থ, তুমি তার পরিচয় জেনেই খুশি হয়েছ।
পর্ব ৬৩
গোপন যন্ত্রটি
আ… আ… এই যন্ত্র দিয়ে শান্তি দিও না
এক উন্নাদ বিজ্ঞানীর ছবি কল্পনা করো তো। সেই বিজ্ঞানী একটা যন্ত্রের সামনে বসে আছেন। যন্ত্রের একটা সুইচ চাপ দিতেই একটা বৈদ্যুতিক করাত সঙ্গে জেগে উঠল। সেই করাতটি একজন ব্যক্তিকে খণ্ড-বিখণ্ড করে চলেছে। উন্নত বিজ্ঞানী তার করাতের কাণ্ড দেখে হেসে একাকার অথচ ওদিকে যিনি করাতের নিচে ছিলেন, টুকরো টুকরো হয়ে গেছেন! যেই লোকটির বলি চড়ানো হলো, তার পক্ষে এটা জানা অসম্ভব যে, গোপন যন্ত্রের স্কিনের সামনে দাঁড়ানো বিজ্ঞানী মশাই কীভাবে হাসছেন!
ঠিক তেমনটাই আমাদের সাথে নিত্য ঘটে। আমরা ফোনে কথা বলি, অথচ অপরপাশের মানুষটি কী করছে সঠিকভাবে জানতে পারি না। তার মুখের ভঙ্গি আমাদের অগোচরেই রয়ে যায়।
কোম্পানির সেলস পার্সন হিসেবে তোমাকে অনেকের কাছে ফোন করতে হয়। বারবার রিজেক্ট হলেও তুমি কল করেই যাও। যাকে চাচ্ছ তার সহকারী ফোন ধরল। ফোন ধরেই জানতে চাইল, ‘কে বলছিলেন?’
তুমি নিজের পরিচয় দিতেই সে ফটাফট জিজ্ঞেস করল, ‘কোন কোম্পানি থেকে?’ কোম্পানির পরিচয় পেয়েও সহকারী সম্ভব্য হতে না পেরে জিজ্ঞেস করে বসল, ‘কার রেফারেন্সে আসতে চান?’
তোমার অবছাটা কেমন হবে কল্পনা করা যায়?
আমার সাথেও এমনটা ঘটেছে। স্টিভ ইফরোসের সাথে আমার একটা মিটিং হবার ছিল। কাক্ষিক্ত নাম্বারে কল করতেই ওপাশ থেকে স্টিভের সহকারী জানতে চাইল, ‘কে বলছিলেন?’
আমি জবাবে নাম বললাম, ‘লেইল নাউন্ডেস বলছি। আমি স্টিভকে চাচ্চিল্লাম।’ ‘ঠিক আছে লেইল। আমি এখনই আপনাকে তাঁর সাথে মোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি।’ তার জবাবটা আমাকে খুশি করল। স্টিভ আসা পর্যন্ত নিজে নিজে কিছু একটা শুনতুন করছিল্লাম।
সহকারী ক্ষণিক বাদে জানাল, ‘অত্যন্ত দুঃখিত লেইল। মিস্টার স্টিভ এই কিছুক্ষণ আগে লাঞ্ছ করতে বের হয়েছেন। এখন পাওয়া যাবে না। তিনি আপনার ফোনকলটি ধরতে না পারায় দুঃখিত বোধ করবেন বলে আমি আশা করছি।’
স্টিভের সাথে যোগাযোগ করতে না পারলেও কোনো দুঃখ পাইনি। বরং নিজে নিজে হাসতে লাগলাম। যাক অন্তত তার সহকারীর কথা শুনে কে বা দুঃখ পেতে পারে?
অবচেতন মন বলছে স্টিভ ওখানেই ছিল। হয়ত এই মুহূর্তে তাঁর কথা বলতে মন চাচ্ছে না। অথবা সে অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত। সবকিছু ছাপিয়ে আমি সন্তুষ্ট মনে অন্য কাজে মনযোগ দিলাম।
কৌশল ৬৩
গোপন যন্ত্রটি
তোমাকে কেউ খুঁজছে অথচ তুমি তার সাথে দেখা দিতে চাচ্ছ না। তোমার স্টাফকে সুন্দর করে শিখিয়ে দাও কীভাবে কথা বলতে হয়, ‘অবশ্যই, আমি আপনাকে তাঁর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি। আপনার নামটা যেন কী?’
অথবা সে যদি অতি পরিচিত কেউ হয় তবে নাম ধরেই বলা যায়, ‘অবশ্যই মিস্টার জিলান। আমি এখনই আপনার সাথে মিস্টার লিংকনকে সংযোগ করিয়ে দিচ্ছি।’ যখন ফিরে এসে জানানো হবে মিস্টার লিংকন অফিসে নেই। ফোনের ওপাশের ভদ্রলোক একটুর জন্যও রাগ করবেন না। যেমনটা আমি করিনি।
পর্ব ৬৪
ঘরণীকে প্রাপ্য সম্মান দাও
ফোনের পেছনের মানুষটির ক্ষমতা
আমার জানাশোনা এক ভদ্রলোক রয়েছেন, যিনি নিজে একজন শিল্পপতি হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি একজন বড় ধরনের দাতা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
একাধারে কতজনকে যে চাকরি দিয়েছেন তার যেমন হিসেব নেই, চাকরি কেড়ে নেওয়ার রেকর্ডও বেশ ভারী। যেকোনোভাবে উক্ত ভদ্রলোকের স্ত্রীর সাথে আমার বেশ ভাব হয়ে যায়। চারের দাওয়াত থেকে শুরু করে রাতের খাওয়ার দাওয়াত প্রায়ই আসত একং আমিও খুশি মনে চলে যেতাম।
একদিন আমরা গল্প করছি এমন সময়ে কেউ একজন কল করে বসল। ভদ্রলোকের স্ত্রী আমাকে বলে গেলেন, ‘আমি শীঘ্রই আসছি।’
ওপাশ থেমে তাঁর কথার শব্দ শোনা গেল।
‘কে বলছিলেন?’
‘আচ্ছা, আমি আসলে বলব তাকে।’
‘না, মানে তিনি তো বাসায় নেই।’
‘আরেহ বললাম তো বাসায় নেই!’
‘জি ডোনেশনের ব্যাপারটা উনিই দেখেন।’
ভদ্রমহিলা কল কেটে সোজা চলে এলেন। যাওয়ার সময় হাসিমুখে গেলেও এসেছেন রেগে আগুন হয়ে। সোফায় ধূপ করে বসেই বললেন, ‘এঁরা মনে হয় ভেবে বসে আছে আমরা দান খয়রাতের দোকান খুলে বসে আছি! বদমায়েশ একটা।’
কোনের অপর প্রান্তের ভদ্রলোক কী বলেছেন জানা না গেলেও বোঝাই যাচ্ছে শিল্পপতির স্ত্রী তার উপরে রুষ্ট। এরপরই তিনি মুচকি হেসে বললেন, ‘সে কীভাবে ডোনেশন নেয় আমিও দেখে নেব।’
ভদ্রমহিলার কাও দেখে আমার মাথায় চট করে এটা খেলে উঠল, শিল্পপতির সিদ্ধান্তে তাঁর স্ত্রীও বড় ভূমিকা রাখেন! কিছুদিন বাদে যখন শুনলাম সেই অজানা ভদ্রলোক দুইবার চেষ্টা করেও শিল্পপতির দেখা পাননি, তখন পেছনের গল্পের পুরোটাই আমার জানা হয়ে গেছে।
গল্পটা এমনও হতে পারত, শিল্পপতির পত্নীই শিল্পপতিকে বলছেন, ‘অমুক নামের এক ভদ্রলোক কল করেছিলেন। কথা শুনে বেশ আন্তরিক মনে হলো। তুমি একটু উনার ব্যাপারটা দেখো তো।’
বরং ভদ্রলোকের কটু ব্যবহারের কারণে তার বড় একটা ক্ষতি হয়ে গেছে।
এই কাহিনির শিক্ষণীয় দিকটা হচ্ছে, তোমার কাউকেই হেলাফেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে অফিসে তোমার কাক্ষিকত ব্যক্তির সেক্রেটারি এবং বাসায় তাঁর স্ত্রী। এই দূজন তাদের অধিকাংশ সিদ্ধান্তের পেছনে থাকেন। চেষ্টা করো তাদের সাথেও ভালো সম্পর্ক রাখার। তোমার অর্ধেক কাজ ওরাই করে দেবে।
কৌশল ৬৪
ঘরণীকে প্রাপ্য সম্বান দাও
কারো বাসায় কল দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই এই কথাটা মাথায় গৈংথে নাও, যেই কল রিসিভ করুক না কেন, তার সাথে সুন্দর ভাষায় সালাম দিয়ে কপা গুরু করতে হবে।
ঘরে ঘরণী এবং অফিসে সেক্রেটারি, এই দুই ব্যক্তি তোমার কান্সিক্যান্ট ব্যক্তির সিদ্ধান্তে বাগড়া দিতে পারে। তাই এদের পক্ষে নিতে পারলে তোমারই মঙ্গল।
পর্ব ৬৫
তোমার সময় এখন কী রঙের?
তুমি কি লাল, হলুদ, নাকি সবুজ?
আলেকজাভার গ্রাহাম বেল সাহেব টেলিফোন আবিষ্কার করেছেন অথচ তাঁর টেলিফোনে প্রথম কথাটা ছিল, ‘তুমি কি কথা বলতে পারছো?’
সালাম বিনিময় করে খোঁজ-খবর নেওয়ার রীতিটা অবশ্য পরে এসেছে। অথচ বেল সাহেবের শত পরও আমরা ওই একই গতানুগতিক কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে অত্যন্ত সফল ব্যক্তিদেরও ওরকম করে বলতে শোনা যায়।
‘একটু কথা বলার ছিল। সময় হবে?’
‘দয়া করে একটু সময় দিতে পারবেন?’
‘দুমিনিট সময় হবে?’
সবগুলো প্রশ্নের সারাংশ একটাই ‘আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছি।’
কোনে কথা বলার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। যাকে কল দিয়েছ, তিনি ঘুমে থাকতে পারেন, রান্নায় কিছু চড়িয়ে আসতে পারেন, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার এক রাউন্ড কাটিয়ে আসতে পারেন। যেহেতু তাকে দেখছ না, তাই এমন কিছু বলবে না যেটা তাকে চটিয়ে দেয়! তাকে ভদ্রভাষার জিজ্ঞেস করো তার সময় হবে কি না তোমার সাথে কথা বলার। এভাবে জিজ্ঞেস করাটাকে অভ্যাসে পরিণত করো। যখন তুমি তার কাছে টাইম আছে কি না জানতে চাইবে, সে অবশ্যই এটা বুঝে যাবে তুমি তার সময়ের গুরুত্ব বোঝ। এক্ষেত্রে তোমাকে সে অনেকটাই প্রায়োরিটি দেবে।
একই সারাংশ অনেকভাবেই বোঝানো সম্ভব। তবে সবচেয়ে উত্তম হয় তুমি যদি জানতে চাও, ‘কথা বলার জন্য সময়টা কি উপযুক্ত কি না?’
আমার এক রসিক বন্ধু ব্যারির গল্পটা তোমাদের শোনাতে চাই। ব্যারি রেডিওতে কাজ করে। নানা ধাঁচের, নানা জাতের মানুষের সাথে তার ওঠা বসা। সুতরাং বড় বড় ব্যক্তিদের সময়ের মূল্য তার চেয়ে ভালো কে বোঝে?
সে কারো সাথে কথা বলতে চাইলে তার সময়কে তিন ভাগে ভাগ করে নেয়।
লাল, হলুদ এবং সবুজ। লালের অর্থ সবারই জানা, বিপদ সঙ্কুচি। অর্থাৎ উক্ত ভদ্রলোকের হাতে কথা বলার সময় নেই। হলুদের অর্থ, কথা বলা যায়, তবে চটপট শেষ করে নিতে হবে। আর সবুজের অর্থ
হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির হাতে যথেষ্ট সময় আছে। সে মন খুলে কথা বলতে পারে।
সে কথা বলার পূর্বে এই ব্যাপারটা তার কাঙ্ক্ষিত লোককে বুঝিয়ে বলে। এরপর জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি কোন রংটা বেছে নিচ্ছেন?’
তার কায়দা অনেকেরই পছন্দ। কেউ যখন বলে লাল, অর্থাৎ তিনি খুবই ব্যন্ত।
সবুজে একেবারে বিন্দাস ফ্রি। আর হলুদে তাড়ায় আছেন, তবে অল্প সময়ে কথা সারা যাচ্ছে।
এরপর তাদের যখনই ব্যারির সাথে দেখা হয়, মজা করে জিজ্ঞেস করেন, ‘কী খবর ব্যারি। তোমার সময় এখন কী রঙের? তুমি কি সবুজ আছ?’
কৌশল ৬৫
তোমার সময় এখন কী রঙের?
তোমার নিজের সময়ের মূল্যের চেয়ে যখন তুমি অন্যের সময়ের গুরুত্ব বুঝতে
শিখবে, তখনই বুঝবে তুমি এক ধাপ এগিয়ে গেছ। যাকে কল করছ তাকে
কখনেই তোমার সময়ের মূল্য বোঝাতে যাবে না। বরং তোমার সাথে কথা বলার
জন্য তার সময় হবে কি না, এটাই জিজ্ঞেস করো। সে যদি বুঝে তুমি তার সময়ের
মূল্য দিচ্ছ, তবে তার উত্তরটা তোমার দিকেই গড়িয়ে আসছে। নিশ্চিত থাকো।
### বিক্রয় বন্ধুরা, সবুজ বাতির জন্য অপেক্ষা করো
বিক্রয় বন্ধুদের সময়ের ব্যাপারে একটু বেশি মনযোগ দেওয়া উচিত। তোমার
ব্রায়েন্ট যদি বলে, তার হাতে সময় নেই, কিন্তু তুমি কী বিষয়ে কথা বলতে চাও
সেটা জানতে চায়, তোমার উচিত অন্য কোনো ফ্রি সময় চেয়ে নেওয়া। অপেক্ষা
করে যাও, শুধুমাত্র সিগন্যাল ঘিন হলেই কথা বলবে।
পর্ব ৬৬
আউটগোয়িৎ ভয়েস মেইল আপডেট রাখা উচিত
উফফ। তোমার পাগলামি মানুষ দেখছে
টেলিফোন ভয়েস মেইলে অনেকে অনেক অঞ্চল সন রেকর্ডের অন করে রাখেন যেটা কল দেওয়া ব্যক্তিকে বিরক্ত করে তুলে।
আমার পরিচিত এক লেখিকাকে টেলিফোনে কল দিতেই ভয়েস বেজে উঠত, লেখিকা কয়টা বই প্রকাশ করেছেন, সমাজে তার বইয়ের প্রভান কত কী! অথচ নিজের মুখে নিজের নামে সুনাম করে নেড়ানোটা অনেকের মতো আমাকেও বিরক্তির অনুভৃতি দিয়েছে।
আরেক ভ্রদলোককে কল করতেই বিরক্তিকর রক গান বেজে উঠল!
তোমার সেট করা ভয়েস, তোমার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। এমন কোনো কিছু সেট করে রাখা উচিত নয়, যেটা তোমাকে আরেকজনের কাছে ছোটো করে তোলে।
কৌশল ৬৬
আউটগোয়ি ভয়েস মেইল আপডেট রাখা উচিত
বাইরে বেরনোর পূর্বে তোমার ভয়েস মেইল সেট করে যাওয়া উচিত। ওটা অবশ্যই ছোট্ট, পেশাদার এবং সালাম দিয়ে শুরু করো। গান, প্রণোদনা, উপদেশ ইত্যাদি দিয়ে তোমার ভয়েস মেইল ঠেসে রেখো না। কলকারী ব্যক্তি বিরক্ত হতে পারেন।
পর্ব ৬৭
দশ সেকেন্ডের অডিশন
প্রিজ পরের জন আসো…!
একজন শিল্পীর স্টেজে ওঠার পূর্বে কয়েক সপ্তাহের অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মনে মনে তারকা বনে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছাটাও কার না দেখা দেয়? অথচ এর মধ্যে অধিকাংশই স্টেজে দশ সেকেণ্ডের বেশি টিকতে পারে না। প্রযোজক সাহেব চেঁচিয়ে বলেন ‘নেক্সট।’
এতদিনের দীর্ঘ অনুশীলন প্রকাশের সময় মাত্র দশ সেকেন্ড। এর মাঝেই নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে তার অবস্থানটা কোথায়? সফল ব্যক্তিরাও উক্ত প্রযোজকের মতোই। তারা তোমার পেছনে দশ সেকেন্ডের বেশি নষ্ট করবে না। ওতেই ওরা বুঝে নিবে তোমার অবস্থান কোথায়।
এবার ব্যাপারটা যখন ভয়েস মেইলের হয় সেক্ষেত্রে এটা আরো জটিল হয়ে দাঁড়ায়। তাদের রিসিভ করা অসংখ্য ভয়েস মেইলের মাঝ থেকে তোমার মেইলটার জবাব কী কারণে আশা করছ? তোমার ভয়েস ম্যাসেজে এমন কী যুক্ত আছে, যেটা তাকে বাধ্য করবে তোমার সাথে যোগাযোগ করতে?
তোমার দৃঢ়তা, স্পষ্টতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা যেন তোমার ভয়েস মেইলে ফুটে উঠে। তোমার ম্যাসেজটা যেন অন্যদের মতো গংবাধা না হয়।
‘হ্যালো, আমি জন বলছি। দয়া করে আমাকে কল ব্যাক করুন।’ এমন কথা কখনোই কাজে দেবে না বড় বড় সফল ব্যক্তিদের কাছে।
মজার কাহিনিটা বলছি, শুনতে থাকো
রেডিও জকিদের একটা দারুণ কৌশল হচ্ছে তোমাকে পরের অংশ পর্যন্ত ধরে রাখা। এমনকি বিজ্ঞাপন বিরতির পর তুমি উক্ত অনুষ্ঠান আনার দেখতে থাকো। তারা মজার কিছু অংশ তোমাকে সংকেত দিয়ে রাখে, যেটা তোমার আগ্রহ জিইয়ে রাখে। এই যেমন ‘বিজ্ঞাপন বিরতির পর ঘোষণা করা হবে বিজয়ীর নাম।’
বিজয়ীর নাম জানার অগ্রহ তোমাকে তার পুরো অনুষ্ঠানটা গিলিয়ে নেবে। ঠিক এই কাজটা করেই বড় বড় ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিংবা তোমার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছ থেকে কল ব্যাক পেতে পারো।
‘হাই, বেনি বলছি। ওই প্রজেক্টটার ব্যাপারে একটা বড় খনর দেওয়ার ছিল, যেটা নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছিল।’
অথবা
‘আপনার কাজটার সমাধান আমি পেয়ে গেছি। সমাধানটা মনে হচ্ছে কার্যকর।’
এমন ম্যাসেজ সফল ব্যক্তিদের অগ্রহী করে তুলবে তোমার সাথে যোগাযোগ করতে। কারণ তুমি যে তাদের জন্য অর্ধেক কথার টোপ ফেলেছ! শত ম্যাসেজের ভিড়ে তোমারটা তাকে বাড়তি আকর্ষণ করবেই।
কৌশল ৬৭
দশ সেকেন্ডের অডিশন
নিজেকে উপস্থাপনের জন্য তোমার হাতে দশ সেকেন্ডের বেশি সময় নেই। এমন কিছু উপস্থাপন করো, যেটা তোমার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে দশ সেকেন্ডের পরেও তোমার প্রতি আগ্রহ ধরিয়ে রাখে।
পর্ব ৬৮
একঘেয়ে পরিছিতি এড়িয়ে যাওয়ার পদ্ধতি
### পেশাদার জীবনে এর কার্যকারিতা
নিউইয়র্কের আশপাশে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমি দারুণ বিড়ম্বনার সম্মুখীন হয়েছিলাম। কাছকাছি পাবলিক টয়লেট কম থাকায় প্রায়শই কোনো একটা কফি শপের দারছ হতে হয়েছে। ওখানে আরেক সমস্যা। ক্যাশিয়ারের করুণার উপরে নির্ভর করে আমি ওদের টয়লেট ব্যবহার করতে পারব কি না? অধিকাংশ টয়লেটের উপরেই লেখা থাকে ‘শুধুমাত্র কাস্টমারদের জন্য’ অর্থাৎ যারা খেতে আসবে তারাই টয়লেট ব্যবহার করতে পারবেন। সোজা হিসেব।
দীর্ঘদিন করুণার উপরে টিকে থাকার মানেই হয় না। একদিন নিজেই কৌশলটা আবিষ্কার করলাম। এবার ক্যাশিয়ারের সাথে চোখাচোখি না করেই শপের একপাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাই। তারপর ঝুলতে থাকা মেন্যুতে একনার চোখ নুলিয়ে বুনিয়ে দেই আমি খেতেই এসেছি। এরপর এক ফাঁকে টয়লেটে ঢুকে পড়ি। বেরনোর কায়দাটাও বেশ মজার। ক্যাশিয়ারকে নির্ধারিতভাবেই ন্যন্ত থাকতে হয়। যখনই সে ব্যন্ত হয়ে কিছু একটা করতে যায় তখনই আমি ফুটুস করে বের হয়ে যাই।
এই কৌশলটা কীভাবে ফোনকলে খাটাবে, ওটাই ভাবছ তো? ক্যাশিয়ারকে যেভাবে যোল খাইয়েছি, ঠিক একইভাবে তোমার কাক্সিক্ত ব্যক্তির সেক্রেটারিকে যোল খাওয়াও।
যাকে চাও তার নাম ধরে না বলে জানতে চাও, ‘সে কি আছে?’
সেক্রেটারি বিম্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারে, ‘কার কথা বলছিলেন?’
‘নেলসনকে চাচ্ছিলাম, ওকে ফোনটা দিন।’
যে মুহূর্তটায় সেক্রেটারির সাথে কথা বলবে, বেচারা ভেবে বসবে নেলসন বুঝি তোমরা পূর্বপরিচিত। ফলত সে খুব সহজে তোমার টেলিফোন কলটা তোমার লক্ষ্যে পৌছে দেবে।
কৌশল ৬৮
একবেয়ে পরিছিতি এড়িয়ে যাওয়ার পদ্ধতি
পার্টির নাম ধরে না ডেকে ‘সে’ সম্বোধন করে ডাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
‘হ্যালো, আমি লেনিন বলছি, বব স্যারকে পাওয়া যাবে?’
এভাবে বলার চেয়ে এটাকে এভাবে বলা যায়-
‘হ্যালো, লেনিন বলছি। সে কি আছে?’
পর্ব ৬৯
আপনার অন্য মোবাইলটি রিং হচ্ছে
আপনার রান্নাঘরে কিছু একটা পুড়ছে মনে হচ্ছে, আপনি কি ওদিকে একটু দেখে আসবেন?
ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়শই বিপরীতে থাকা মানুষটির মইক্রোফোন থেকে নানা ধরনের আওয়াজ শুনতে পাই। বাচ্চা কান্না করছে, কুকুর খেউ ঘেউ করছে, রান্নার চড়চড় আওয়াজ আসছে কিংবা অন্য কোনো টেলিফোনে রিং হচ্ছে।
এমন বিষয় আমরা অনেক বেশি শুনতে পাই, কিন্তু ওসব আমাদের কোনো কাজে আসবে কীভাবে এটা আমাদের বুঝে আসে না।
তুমি যে একজন ভালো শ্রোতা এটা তোমার কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে দেবে। বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনেই তুমি বলে দিলে, ‘স্যার, মনে হচ্ছে আপনার বাচ্চা কান্না করছে। ওর পাশে কী কেউ নেই?’
‘স্যার সম্ভবত আপনার অন্য টেলিফোনটা রিং করছে। আপনি চাইলে ওটা রিসিড করতে পারেন। আমি অপেক্ষা করছি।’
তুমি তোমার শ্রোতাকে এতটা গুরুত্ব দিচ্ছ, তার পেছনে কী হচ্ছে না হচ্ছে সব নিয়ে তুমি চিন্তিত। এর একটাই অর্থ তুমি একজন ভালো শ্রোতা, পাশাপাশি তুমি তার প্রতি আন্তরিক। সে ব্যক্তি অপর ফোনকলটি আমলে নিক আর না নিক, তোমার সম্পর্কে তার আন্তরিকতা বেড়ে যাবে। তোমার উদ্দেশ্য যোলো আনাই পূর্বতা পাবে।
কৌশল ৬৯
আপনার অন্য মোবাইলটি রিং হচ্ছে
ফোনকলে তোমার শ্রোতার দৃষ্টি আকর্ষণের কিছু একটা পেলে ওটা হাতছাড়া করো না। হোক তুমি কথা বলছিলে। কথা থামিয়ে বলো, ‘স্যার মনে হচ্ছে আপনার অন্য ফোনটা রিং হচ্ছে। আপনি চাইলে ওটা রিসিড করতে পারেন। আমি অপেক্ষা করব।’ (ফোনকলের জায়গায় বাচ্চার কান্না, কুকুরের ঘেউ ঘেউ অথবা অন্য যেকোনো কিছুই হতে পারে।)
পর্ব ৭০
তাংক্ষণিক জবাব
রেকর্ডিংটা দ্বিতীয়বার শুনো, নতুন অনেক কিছু জানতে পারবে
একটা চলচ্চিত্র প্রথমবার দেখে যেমন ফিল করা যায় দ্বিতীয়বার দেখলে ভিন্ন অনুভূতি আসে। প্রথমবার আমরা এমন অনেক কিছুই খেয়াল করি না, যেটা পরের বার দেখার সময় দেখতে পাই। ঠিক একই চলচ্চিত্রটি তৃতীয়বার দেখেও তোমার বিময় কাটবে না। মনে হবে, আরেহ এই দৃশ্যটা এত সুদর করে সাজিয়েছে, খেয়ালই করিনি!
একটা ছায়াছবির ক্ষেত্রে বারবার দেখে আমাদের এমন অনুভূতি আসে, তবে দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলো নিয়ে ভেবেছ? যেগুলো আমাদের হাত ফসকে যায়!
যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের পূর্বে মোবাইলের রেকর্ডারটা অন করে রাখাটা তোমাকে এমন অনেক তথ্যের জোগান দেবে, যেগুলো তুমি প্রথমবারে বুঝতে পারবে না।
এরকম অনেকবার হয়েছে, কেউ তোমাকে কিছু একটা বলেছে, তুমি বুঝতে পারোনি। দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বারে গিয়ে বিয়য়টা ধরতে পেরেছ।
তোমার অফিসের বস তোমায় ফোনে একটা ঠিকানা বললেন। তোমার হাতে খাতা কল্য না থাকায় তুমি চাইলেও ওটা প্রথমবারে মুখছ করতে পারবে না। এমনকি দ্বিতীয়বারেও না। বস তোমাকে বারবার বলবে আর তুমি বারবার জিজ্ঞেস করবে, এমনটা হবার নয়। তিনি ভেবে বসবেন তুমি তার টাইম নষ্ট করছ। অন্যদিকে তুমি যদি ফোনে রেকর্ডারটা অন করে রাখো, প্রথমবারেই তুমি পুরো অ্যাজ্রেসটা পেয়ে যাবে।
‘স্যার আমি অ্যাজ্রেসটা বুঝতে পেরেছি।’ তুমি যখন প্রথমবারেই এভাবে বলবে, তোমার বস তোমার উপরে কী পরিমাণ সন্তুষ্ট হবে বলার অপেক্ষা রাখে না। ভাববে অন্য কেউ হলে ওটা কমপক্ষে দুইবার বলা লাগত, যাক একটা কাজের ছেলে পেয়েছি এত দিনে!
লরা একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ। ওর আবিষ্কৃত পানীয় গুণগত দিক থেকে ভালো সাড়া কেলেছে। ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব অনেক দিনের। তার এমন সাফল্য আমাকেও প্রচুর সুখানুভূতি দিয়েছে। এই ফাঁকে একদিন ফ্রেড নামের এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় হয়। ভদ্রলোক মার্কেটের বড় রাঘব বোয়ালদের একজন। যেহেতু লরার ভিপার্টমেন্টটা তাঁর হাতেই আছে, লরার সম্পর্কে তাকে জানালাম। ভদ্রলোক বেশ আগ্রহী হলেন।
যখন লরার হাতে ফ্রেড সাহেবের নাম্বার দিলাম সেও খুব খুশি হলো। ফ্রেড সাহেবকে লরা আমার সামনেই কল দিল। কুশলাদির পর ভদ্রলোক তার পানীয়ের সেম্পল চাইলেন যেটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। লরা ভদ্রলোকের ঠিকানাটা জিজ্ঞেস করল। খটকা বাজল ঠিক এই অংশে। ভদ্রলোক ঠিকানা বললেন, লরা ওটা ধরতে পারেনি। তাই সে আবার জিজ্ঞেস করলো, ‘১২২, নিউইয়র্ক… তারপর যেন কী বললেন?’
এমন সময় বেচারির কলমের কালি গেলো শেষ হয়ে। সে দিগৃবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে আমার হাতের কলমটা ছো মেরে নিয়ে নিল। আবার সে অ্যাজ্রেস জিজ্ঞেস করল। ভদ্রলোকের কী হাল হলো জানি না। তবে আমার নিজেরই বিরক্তি ধরে গেল। ফ্রেড একজন সফল ব্যবসায়ী। তার প্রত্যেকটি সেকেন্ড আলাদা করে মূল্যবান। আর লরা তার সাথে ব্যবসায় নামার পূর্বেই গুধুমাত্র ঠিকানা লিখে নিতে এত সময় নিল! নিশ্চিত লরাকে মনে মনে গালিই দিচ্ছেন তিনি!
এরপর অনেকদিন হয়ে গেলেও ভদ্রলোক আর যোগাযোগ করেননি। আমিও কানে ধরলাম, ভবিষ্যতে আর কাউকে ওর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পূর্বে দশবার ভাববো।
রেকর্ডিৎ টেকনিকটা হতে পারত ওর সমাধান।
কৌশল ৭০
তাংক্ষণিক জবাব
গুরুত্বপূর্ণ ফোনকলগুলোকে রেকর্ডিৎ করে রাখার অভ্যেস করো। প্রতিটি রেকর্ডিৎ কয়েকবার শুনলেই বুঝতে পারবে, প্রথমবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিয়য় তোমার অগোচরে থেকে গেছে। ফলে তুমি কারো অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করে পুরো তথ্য একবারেই আয়ন্ত করে নিলে।
