Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প265 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুয়াশার ফুল – ১৩

    ত্রয়োদশ অধ্যায়

    টিপটিপে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শীতকালের বৃষ্টি। গ্রামের লাগোয়া শ্মশান থেকে ভ্যানে চেপে ফিরছিল সায়ন। ভ্যানে ওর পাশেই বসেছেন পুরোহিত মাধব ভট্টাচার্য। একটু আগেই মৌলির মৃতদেহটাকে পুড়ে যেতে দেখল সায়ন। কালো ধোঁয়া ঘিরে ফেলেছিল আকাশ। সেই কালো ধোঁয়াই যেন মেঘ হয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় বৃষ্টি নামালো।

    শীতের বৃষ্টি বলে তার তীক্ষ্ণতা বেশি। চিতার শেষ আগুনটুকু তাতেই নিভে গেল। পুরোহিতমশাই নিজেই শেষকৃত্য করলেন। কী যেন মন্ত্রতন্ত্র পড়লেন। সায়ন ঠায় দাঁড়িয়েছিল শ্মশানের এক কোণে। ওর মনের ভিতর এক অদ্ভুত ঝড় উঠেছে। ও জানে মৌলি বেঁচে আছে, ওর ঘরে, ওর বিছানায় শুয়ে আছে নিরাপদে। অথচ ওর শরীরটা জ্বলছে!

    সায়নের সমস্ত শরীরে অসহ্য ব্যথা। হাঁটাচলার শক্তি নেই। দোতলা থেকে নিচে পড়ে চোট লেগেছিল মাথায়। অন্তত আধঘণ্টা জ্ঞান ছিল না। জ্ঞান আসতে খেয়াল করে পুলিশ মৌলির শরীরটা খুঁজে পেতে নিয়ে গেছে। অন্তত আটঘণ্টা আগে ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করে খুন করা হয়েছে তাকে। খুনের অস্ত্র আশেপাশে কোথাও পাওয়া যায়নি। মৌলিকে কে খুন করল সেই নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। দিলুজেঠুকে নাকি খুব জরুরি একটা কাজে কলকাতার বাড়িতে যেতে হয়েছে।

    বাইরে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করছিল দুটো ভ্যান। তার একটায় চেপে বসল সায়ন আর মাধব ভট্টাচার্য। গ্রাম থেকে কয়েকজন লোক এসেছিল শ্মশানে। তাদের কেউ অন্য ভ্যানে উঠল, আবার কেউ পায়ে হেঁটে রওনা দিল।

    ক্যাঁচকোঁচ শব্দ করে গ্রামের রাস্তার উপর দিয়ে চলেছে সায়নদের ভ্যানটা। রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো নয়। মাঝে মাঝেই অসম্ভব দুলে উঠছে ভ্যানটা। মাধব ভট্টাচার্য ঝুলন্ত পা-দুটো কোনওরকমে তুলে নিলেন ওপরে। তার গায়ে একটা সাদা সুতির গেঞ্জি। কাঁধের গামছাটা দিয়ে একবার ভেজা মুখটা মুছে নিলেন তিনি। মাথাটা নিচের দিকে নামিয়ে রেখেই বললেন, ‘মেয়েটা ভালো ছিল হে…এমন নির্মমভাবে ওকে খুন করে…’

    সায়ন কিছু বলল না। ওর এক্ষুনি বাড়ি ফিরতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু মৃতদেহটা ওই যেহেতু প্রথম দেখেছিল তাই থানায় হাজিরা দিতে হয়েছে, সেখান থেকে বডি পোস্টমর্টেম করে পুড়িয়ে একেবারে বাড়িমুখো যাত্রা করেছে। ওর জলে ভেজা মুখে ঠিক কোন অনুভূতি খেলা করছে, দেখা যাচ্ছে না।

    ‘তোমার সঙ্গে তো পরিচয় ছিল, তাই না?’

    ‘সেরকম নয়, কিছুই জানতাম না প্রায়। আচ্ছা, ওরা মৌলিকে কোথা থেকে তুলে এনেছিল? ওর বাড়ি থেকে?’

    মাথা নাড়েন পুরোহিতমশাই, ‘না, প্রভাকর বলেছিল ওরা নাকি গঙ্গার কাছে জবাব চাইতে গেছিল রাতেরবেলা। মৌলি রুখে দাঁড়ায়। ও কিছুতেই দেখা করতে দেয়নি। শেষে উপায়ান্তর না দেখে রাগের মাথায় ওরা মৌলিকেই তুলে আনে…’

    সায়ন ঠোঁট কামড়ে ধরে, তারপর জিগ্যেস করে, ‘এদের মা মেয়েকে আপনি নিজের চোখে একসঙ্গে কখনও দেখেছেন?’

    কী যেন একটা ভাবেন পুরোহিতমশাই, বলেন, ‘মনে তো হয় না। গঙ্গাকে ছেলেবেলায় দেখতাম। তখন মৌলি তো ছিল না। মৌলি আসার পর থেকেই গঙ্গা আর বাড়ি থেকে বেরোত না। কেন বলো তো?’

    সায়ন প্রশ্নটার উত্তর দেয় না। উল্টে জিগ্যেস করে ‘যারা অসুখ নিয়ে গঙ্গার কাছে আসত তাদের মধ্যে অনেকে ভেতরে গিয়ে তো গঙ্গাকে সশরীরে দেখত, তাই না?’

    ‘তেমনটাই তো শুনেছি…’

    ‘সে সময় মৌলি বাইরে বসে থাকত?’

    ‘হ্যাঁ। কিন্তু তুমি কী সন্দেহ করছ বলো তো?’

    সায়ন মাথা নাড়ায়। ওর যে কী সন্দেহ করা উচিত তা ও নিজেই বুঝতে পারছে না। একটা মানুষ যাকে ও নিজের ঘরে নিজের হাতে তালা বন্ধ করে রেখে এসেছে, যাকে স্পর্শ করে এসেছে, সে কী করে আরেক জায়গায় মৃতদেহ হয়ে শুয়ে থাকতে পারে? যদি মৌলি মারা গিয়ে থাকে তাহলে ওর ঘরে যে আছে সে কে? আর যদি না মারা গিয়ে থাকে তাহলে যাকে ওরা দাহ করে এল তার পরিচয় কী?

    ‘আপনি অলৌকিকে বিশ্বাস করেন পুরোহিতমশাই?’

    মাধব ভট্টাচার্য হাসেন, ‘অলৌকিকে যদি বিশ্বাস না করতাম তাহলে পুরোহিত হতাম কেন বলুন? আমাদের চারপাশে ঈশ্বর যেমন আছেন, শুভশক্তি যেমন আছে, তেমন অশুভ শক্তিও নিশ্চয়ই আছে…’

    ‘যেমন? ডাইনি?’

    দুপাশে মাথা নাড়ান পুরোহিতমশাই, ‘এত বছর ধরে এত হাজার হাজার মেয়েকে ডাইনি সন্দেহে যে শক্তি পুড়িয়ে মারে তাকে অশুভ শক্তি বলে…’

    সজোরে একটা ঝাঁকুনি খায় ভ্যানটা। সায়নের মাথাটা ঝনঝনিয়ে ওঠে। মাথায় হাত দিয়ে একটা শব্দ করে ও। মাধব ভট্টাচার্য ওর মাথায় হাত রাখেন, ‘তোমার শ্মশানে আসা উচিত হয়নি। বারণ করেছিলাম, শুনলে না তো…’

    মাথা থেকে হাতটা সরিয়ে নেয় সায়ন, তারপর ক্লান্ত গলাতেই বলে, ‘আমার মনে হয় এই গ্রামে কিছু একটা হচ্ছে। আজ থেকে নয়, অনেক দিন আগে থেকে। শুধু আমরা সেটা বুঝতে পারছি না।’

    স্মিত হাসি খেলে যায় পুরোহিতমশায়ের মুখে। বৃষ্টির জলে ভিজে তার মাথার টাক আরও বেশি চকচক করছে। গরুর গাড়ি দুলনিতে শরীরটা দুলছে। কোনওরকম একটু সামলে নিয়ে বসলেন তিনি।

    সায়ন প্রশ্ন করে, ‘একটা ব্যাপার ভারি অদ্ভুত লাগছে জানেন?’

    ‘কী?’

    ‘গোটা গ্রাম এখন বিশ্বাস করে যে গঙ্গা আর মৌলি খুনগুলো করেছে। আপনি কোনওদিনও গঙ্গার কাছে যাননি, গঙ্গার কাছে আপনার কোনও প্রয়োজনও নেই, কিন্তু তাও আপনি এটা বিশ্বাস করতে পারছেন না যে গঙ্গা বাচ্চাগুলোকে চুরি করেছে?’

    পুরোহিতমশাই প্রশ্নটার উত্তর দেন না। মাটির উপর চাকার আওয়াজ আর সেই সঙ্গে বৃষ্টির শব্দ বেড়ে উঠে।

    ‘আপনি যা বলছেন তার থেকে বেশি কিছু জানেন আপনি, তাই না?’ সায়ন আবার প্রশ্ন করে।

    উপরে নিচে মাথা নাড়ান মাধব ভট্টাচার্য, ‘গঙ্গা ডাইনি কিনা জানি না। কিন্তু হলেও আমার মনে হয় না সেটা খুব অপরাধের কিছু হত…’

    ‘মানে? কী বলতে চাইছেন?’

    মাধব ভট্টাচার্য কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। সায়ন বুঝতে পারে তার ভিতরেও মেঘ জমে আছে। বহুদিনের জমা মেঘ। আজ বৃষ্টির ফোঁটা হয়ে ঝরে পড়বার আগে একটুখানি স্তব্ধ হয়ে আছে সমস্ত কিছু।

    ‘আজ থেকে প্রায় বছর চল্লিশেক আগের কথা। আমার বয়স তখন পনেরোর আশেপাশে। গঙ্গারও তাই। ভারি মিষ্টি দেখতে ছিল ওকে। নরম মুখ, ভোরের আলোর মতো স্নিগ্ধ একটা মেয়ে। একটু মুখচোরা। খানিক ভীতু হয়ত। গ্রামের দিকে সে বয়সে তখন মেয়েদের বিয়ে হয়ে যেত। গঙ্গার কিন্তু বিয়ে করার কোনও ইচ্ছা ছিল না। গ্রামোফোনে গান শুনত সে, বই পড়ত, আর জঙ্গলের মধ্যে ঘুরে বেড়াত। এ ছাড়া জগতের আর কোনও কিছুর প্রতি টান ছিল না তার।

    গঙ্গার প্রতি দৃষ্টি ছিল অনেকের। সুন্দরী অবিবাহিত মেয়ে স্বাধীন হয়ে ঘুরে বেড়ালে আর পাঁচটা সমাজে যা হয় তাই হল। কিছু খারাপ লোকের দৃষ্টিতে পড়ে গেল…’ কথাটা বলে একটু দম নিলেন পুরোহিতমশাই। চোখ নেমে এল মাটির দিকে।

    ‘এরকমই কোনও শীতের রাত। আমি মন্দির থেকে ফিরছি পায়ে হেঁটে। সেদিন গঙ্গার বাড়ির সামনে দিয়ে ফিরছিলাম। হঠাৎ খেয়াল করলাম একটা চাপা চিৎকারের শব্দ আসছে।

    আমি আর একটু এগোতেই দেখতে পেলাম গ্রামের জনাচারেক লোক মিলে চ্যাংদোলা করে গঙ্গাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ওকে মারছে, কনুই দিয়ে গলা চেপে ধরেছে। আমি ওদের পিছু নিলাম। দেখলাম জঙ্গলের দিকে যাচ্ছে ওরা। তখনও বুঝতে পারিনি কী উদ্দেশ্য ওদের…

    জঙ্গলের ভিতরে গঙ্গার নিজের হাতে তৈরি করা একটা ছাউনি আছে। মাঝে মাঝে রাতের দিকে সেখানে গিয়ে বসে থাকত ও। লোকগুলো ওখানেই নিয়ে গেল গঙ্গাকে। তারপর ওকে মেরে মেরে অবশ করে ওর জামাকাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলে দিল…তারপর একজন একজন করে…’

    পুরোহিতমশাইয়ের গলা বুজে আসে, ‘আমি সেদিন গাছের আড়াল থেকে সবটা দেখেছিলাম, কিন্তু কিছু করতে পারিনি ভাই, ওরা ওখানেই গঙ্গাকে ফেলে রেখে চলে গেছিল। আধমরা অবস্থায়। ওরা চলে যেতে আমি পায়ে পায়ে ওর কাছে গিয়ে বসেছিলাম…গঙ্গা কোনওরকমে গোঙাচ্ছিল। বনের জন্তুগুলো সেদিন সবাই এসে জড় হয়েছিল ওই ছাউনিটার আশেপাশে। সেদিন ওরা সবাই কাঁদছিল, জানো? আর…আর আমিও…’ পুরোহিত মাধব ভট্টাচার্যের চোখ দিয়ে জলের ধারা নামে। বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে মিশে যায় সেই জল।

    ‘ভেবেছিলাম ও বাঁচবে না। কিন্তু গঙ্গা বেঁচে গেল। আমিই ওকে কোলে করে বাড়ি অবধি নিয়ে এসেছিলাম…তারপর ডাক্তার ডেকে…’

    সায়নের কপালের পাশের রগগুলো দপদপ করতে শুরু করেছে। প্রচণ্ড রাগে চলমান ভ্যানের উপরেই একটা ঘুষি মারে ও, ‘লোকগুলোর বিরুদ্ধে কেউ কিছু করেনি?’

    ‘কে করবে? একটা বিচারসভা বসেছিল গ্রামে। গঙ্গা কাউকেই চিনতে পারেনি…’

    ‘আর আপনি?’

    ‘অন্ধকার ছিল সেদিন। তাদের কারো মুখ দেখতে পাইনি। শুধু গলার আওয়াজটুকুনি এখনও শুনতে পাই…’ কথাগুলো বলে মুখ তোলেন মাধব ভট্টাচার্য, ‘চল্লিশ বছর আগের ঘটনা। তারা কেউ হয়ত আজ আর বেঁচে নেই…’

    ‘আপনি সেদিন গঙ্গার বাড়ির সামনে দিয়ে ফিরছিলেন কেন? মন্দির থেকে আপনার বাড়ি ফিরতে তো ওখান দিয়ে যেতে হয় না!’ সায়নের প্রশ্নে একটু থতমত খান পুরোহিতমশাই। মুখে কিছু বলেন না।

    ‘ও গ্রামোফোনে গান শুনত, বই পড়ত এগুলো তো আপনার জানার কথা নয়, অথচ আপনি…’ কথাটা শেষ হতেই সায়নের গলার সুর পাল্টে যায়, ‘আপনি গঙ্গাকে ভালোবাসতেন, তাই না?’

    মৃদু স্বরে মেঘ ডেকে ওঠে। কিছু বলার সুযোগ পান না পুরোহিতমশাই। তার আগেই ভ্যানটা এসে দাঁড়িয়েছে দিলীপ দস্তিদারের বাড়ির সামনে। সায়নকে ধরে ধরে ভ্যান থেকে নামান পুরোহিতমশাই। ওকে বাড়ির সিঁড়ি অবধি পৌঁছে দিয়ে আবার উঠে পড়েন ভ্যানে।

    ‘দাদা, কী হয়েছে গো তোমার?’

    কুসুম ছুটে এসে সায়নের একটা হাত চেপে ধরে। সায়ন হাত তুলে আশ্বস্ত করে ওকে, ‘একটু পড়ে গেছি, কোনও ব্যাপার না।’

    ‘চলো আমি তোমাকে ঘরে দিয়ে আসি।’

    সায়ন নিরস্ত করে তাকে, ‘আমি একাই চলে যাব। তুই ভিতরে যা এখন।’

    কাকভেজা অবস্থাতেই দোতলায় গিয়ে নিজের ঘরের চাবি খুলে আবার দরজাটা বন্ধ করে দেয় সায়ন।

    খাটের উপর দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে মৌলি। দেখে বোঝা যায় একটু আগেই স্নান করেছে। গায়ে একটা ফিনফিনে সুতির জামা আর ট্রাউজার। মাথার চুল খোলা। কোথা থেকে যেন অদ্ভুত মিষ্টি একটা গন্ধ আসছে।

    সায়নের দিকে তাকিয়েই তার মুখে একটা আনন্দের হাসি খেলে যায়। ভুরু তুলে বলে, ‘এই যে! আপনি জানেন না ঘরে একটা মেয়ে থাকলে নক করে ঢুকতে হয়!’

    সায়নের শরীর ঝিমিয়ে আসে, তাও ও গলায় জোর এনে বলে, ‘কে? কে আপনি?’

    ‘যে ঘরে ঢোকে তাকে পরিচয় দিতে হয়। যে ঘরে ছিল তাকে নয়…’

    সায়ন খোঁড়াতে খোঁড়াতেই এগিয়ে যায় ওর দিকে, ‘আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার এক্ষুনি চাই। আধঘণ্টা আগে আপনার এই শরীরটা আমি শ্মশানে চিতার আগুনে পুড়ে যেতে দেখেছি। তাহলে আপনি কে?’

    ‘আমরা যা দেখি তার সবকিছুই কি সত্যি হয়?’ কথাটা বলেই বিছানা থেকে উঠে পড়ে মৌলি। ওর ঠিক পাশেই একটা গামছা রাখা ছিল। সেটা নিয়ে সায়নের দিকে এগিয়ে আসে। গামছাটা মাথার উপর রেখে ওর মাথাটা মুছিয়ে দিতে দিতে বলে, ‘দেখুন তো, একেবারে ভিজে গেছেন আপনি। এই গ্রামে-গঞ্জে এসে ঠান্ডা লাগলে যত্ন নেবে কে? আপনার দিলুজেঠু?’

    হঠাৎই মৌলির মৃত মুখটা মনে পড়ে যায় ওর। বুকের ভেতরটা ডুকরে ওঠে। চোখদুটো নিশ্চল। মুখটা খোলা। একটু স্পর্শ করতে পেরেছিল ও। সমস্ত শরীর জুড়ে একটা গভীর শীতলতা…শিউরে উঠেছিল সায়ন! কেমন কান্না পেয়ে যায় ওর। দুহাতে আঁকড়ে ধরে মৌলিকে, ‘আমার খুব কষ্ট হয়েছে মৌলি, তোমাকে ওইভাবে দেখব আমি কোনওদিন ভাবিনি। তুমি যেই হও, আমি তোমাকে হারাতে পারব না…’

    শক্ত হাতে ওর মাথাটা ভালো করে মুছিয়ে দেয় মৌলি। তারপর বুক থেকে ওর মুখটা তুলে ধরে থুতনিতে আঙুল রাখে। ওর কপাল চোখ নাক চিবুক স্পর্শ করে যায় মৌলির চোখের দৃষ্টি, ও বলে, ‘তোমার প্রশ্নের উত্তর জানার কৌতূহলের থেকেও বেশি আটকে রাখতে চাও আমাকে, তাই না?’

    ‘আমার কোনও প্রশ্নের উত্তর চাই না। শুধু বলো তুমি আমাকে…’

    ‘ভালোবাসি কিনা?’ ওর চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে মৌলি। ওর একটা হাত সায়নের বুকের উপর নেমে আসে।

    ‘না, তুমি বেঁচে আছ কিনা!’

    মৌলি উত্তর দেয় না, ওর বুকে মাথা রেখে বলে, ‘ভালোবাসা আর বেঁচে থাকা কোনটা অলৌকিক সায়নবাবু? আমি বেঁচে আছি এটা অলৌকিক, নাকি আমি ভালোবাসি এটা অলৌকিক?’

    সায়নের ঠোঁট কাঁপে, ‘তুমি কী বলছ আমি কিছু বুঝতে পারছি না…’

    ‘পারবে। কয়েকদিনের মধ্যেই পারবে। জানো, তোমার সঙ্গে চিরকাল থাকতে পারব না। কিন্তু তোমার সব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কোথাও যাব না আমি…’

    ওর হাত ধরে ওকে জানালার সামনে টেনে নিয়ে আসে মৌলি। তারপর একটা হাত বাড়িয়ে দেয় বাইরের দিকে। টিপটিপে বৃষ্টির ফোঁটা ওর ফর্সা হাতে পড়ে আবার চুঁইয়ে পড়তে থাকে মাটির দিকে। দুজনের হাত একে অপরের উপর আশ্রয় নেয়। জলের ফোঁটা যেন সম্পৃক্ত করতে চায় দুটো হাতকে।

    ‘আচ্ছা কাল আমাকে এক জায়গায় নিয়ে যাবে?’ মৌলির গলায় অনুনয়ের সুর।

    ‘বাইরে? কোথায়?’

    ‘আমাদের সেই রকেটটার কাছে? খুব দেখতে ইচ্ছা করছে ওটা।’

    ‘কী করবে ওখানে গিয়ে?’

    ‘রকেট নিয়ে যা করে মানুষ, অন্য জগতে পাড়ি দেয়…’

    সায়ন হাসে, ‘আর কেউ যদি দেখে ফেলে তোমাকে? এ গ্রামে ডাইনি ছিল, এবার ভূতের গুজব রটবে।’

    ‘তোমার এমন কোনও জামা নেই যাতে মুখ ঢাকা যায়? বলো নিয়ে যাবে না?’

    উপরে নিচে মাথা নাড়ে সায়ন। ওর মনে হয় মৌলি সত্যি বশ করেছে ওকে। ও কাছে থাকলে নিজের ইচ্ছায় চলতে পারে না। যত কাছে আসে তত অক্ষম মনে হয় নিজেকে।

    ‘তোমার মায়ের সঙ্গে কী হয়েছিল আমি জানি…’ ফিসফিসে গলায় অপরাধীর মতো বলে সায়ন।

    ‘শুধু একটা জানো?’ ব্যাঙ্গের হাসি হাসে মৌলি, ‘ভুলে যাও ওসব, তোমাকে শান্ত করে দিই?’

    সায়নের ঠোঁট দুটো মৌলির গলার কাছে এসে আশ্রয় নেয়। সেই পরিচিত সুরটা গুনগুন করে মৌলি।

    ‘চোখ বন্ধ করো…’ ফিসফিসে গলায় নির্দেশ আসে, ‘আমাকে অনুভব করতে পারছ সায়নবাবু? দেখো তো…’

    দুহাত দিয়ে মৌলির শরীর স্পর্শ করে সায়ন। এখন অদ্ভুত শিহরন ছড়িয়ে যাচ্ছে ওর শরীরময়। গলা, ঘাড়, পিঠ, কোমর সব জায়গায় অজানা শীতলতা এসে ভর করছে। এ শীতলতা মৃত্যুর নয়…প্রশান্তির…

    সায়নের মনে হয় ও যেন জন্ম থেকে স্পর্শ করে আছে এই শরীরটা। ওর হাতটা মৌলির মুখে উঠে আসে। ওর ঠোঁটের উপর আঙুল রাখে সায়ন। বৃষ্টি ভেজা জলে মৌলির গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁট ভিজে আছে।

    ‘বেঁচে থাকাটা অলৌকিক সায়নবাবু। এই পৃথিবীর সব বেঁচে থাকা অলৌকিক। বেঁচে থাকা আর ভালোবাসা আলাদা কিছু না…’

    একটিমাত্র শব্দ সায়ন চিনতে পারে। এই অলৌকিক গ্রামে এই রক্তাক্ত পটভূমিতে, হাজার হাজার উত্তরহীন প্রশ্নের মাঝে একটা প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যায় সায়ন। সে ধীরে ধীরে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয় মৌলির ঠোঁটে। বাইরে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ বেড়ে ওঠে। মৌলির চুল চুঁইয়ে জল পড়তে থাকে মেঝেতে। একসময় সেটাও মিশে যায় সায়নের শরীরে। জননীর গর্ভের মতো নিরাপত্তা এসে গ্রাস করে নেয় সায়নকে। বাইরে ওদের হাত এখনও ভিজতে থাকে। সায়নের মনে হয় ওর আত্মাকে শরীর থেকে টেনে বার করে সে জানলা দিয়ে কোথায় যেন ভাসিয়ে দিয়েছে মৌলি। একটু আগে ঠিক যেভাবে ওর মৃতদেহটা ছিল, সেইভাবে ওদের প্রাণহীন দুটো শরীর ডুবে থাকে…

    * * * *

    ‘বুকের কাছে একবার স্ট্যাব করা হয়েছে…’ রিপোর্ট পড়ে নিয়ে সেটা টেবিলের উপরে রেখে বলল সঞ্জয়। আজ স্যারকে ভয়ানকরকম হতাশ দেখাচ্ছে, মেজাজটাও তিরিক্ষি হয়ে আছে। ওর ঠিক উল্টোদিকেই বসে আছেন ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী। তিনি আগেই চোখ বুলিয়ে নিয়েছেন রিপোর্টে। গালে হাত রেখে বললেন, ‘তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে তাহলে?’

    ‘কাল ওই লোকগুলোর হাত থেকে গঙ্গাই ওকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এবং তারপর ভুলিয়েভালিয়ে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ওকে খুন করে। খুন করে রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়…’

    ‘হুম, প্রশ্নগুলো কিন্তু থেকেই যাচ্ছে সঞ্জয়। ওইভাবে দুটো মানুষকে গঙ্গা মারল কী করে, এবং দ্বিতীয় কথা তার মতো বয়সের এক মহিলা ওই উঁচু লফটে একটা মানুষের দেহ লুকিয়ে রাখল কী করে? তাছাড়া যদি গঙ্গা ওকে খুন করবে ভেবেই থাকে তাহলে নিয়ে যাওয়ার কী দরকার ছিল? ওখানেই তো খুন করে রেখে আসতে পারত…’

    ‘স্যার রিপোর্ট কিন্তু বলছে খুন ওখানে হয়নি। হয়েছে অন্য কোথাও। এবং সম্ভবত মাটিতে। খুন করার পর ওর বডিটা তুলে নিয়ে গিয়ে উপরে রাখা হয়েছে। যার জন্য লফটের মধ্যে রক্তের ট্রেস কম…’

    ‘তোমার কী মনে হয়?’

    ‘হয়তো প্রথমে খুন করবে ভাবেনি। বাড়ি ফিরে মেয়েটি বলে যে সে সব গোপন কথা ফাঁস করে দেবে। তখন তাকে বুকে ছুরি মেরে খুন করে। তারপর অন্য কাউকে দিয়ে লাশটা…’

    টেবিলের উপরে পড়ে থাকা পেপারওয়েটটা ঘোরাতে ঘোরাতে গাঙ্গুলী বললেন, ‘মেয়েটি যদি সব কথা বলেই দিতে চাইত, তাহলে সারারাত অত্যাচার সহ্য না করে অনেক আগেই বলে দিতে পারত। কখন ওর মা ওকে উদ্ধার করবে, তারপরে গিয়ে বলবে। এটা একটু অসম্ভব লাগছে না?’

    রিপোর্টটা ছেড়ে একটু পিছিয়ে বসেন ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী। তারপর বলেন, ‘না হে সঞ্জয়, গঙ্গা না ধরা পড়া অবধি কিছু করা সম্ভব নয়। তার কোনও খোঁজ?’

    উল্টোদিকের দেওয়ালের কাছে একজন কনস্টেবল দাঁড়িয়েছিল। সে এবার দু-পা এগিয়ে এসে মুখ তুলে বলে, ‘স্যার গ্রামের ক’টা লোক বলেছে তারা নাকি জঙ্গলের দিকে গঙ্গাকে হেঁটে যেতে দেখতে পেয়েছে…আর তাছাড়া গ্রামের একটা বছর পনেরোর ছেলে উধাও হয়েছে, তাকেও নাকি গঙ্গাই নিয়ে গেছে…’

    ‘বছর পনেরো!’ গাঙ্গুলীর ভুরু কুঁচকে যায়, ‘এটা তো প্রোফাইলের সঙ্গে মিলছে না…নাম কী?’

    ‘মণিকান্ত মণ্ডল। বাড়ির লোক বলছে সে নাকি মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এদিক ওদিক চলে যেত। মা-বাপ মরা ছেলে স্যার। কাল রাতেও গেছিল কিন্তু তারপর আর ফিরে আসেনি…’

    সঞ্জয় আর একটা রিপোর্ট গাঙ্গুলীর সামনে ফেলে বলেন, ‘এটা দেখুন স্যার, সমীরণ মিত্রর রিপোর্ট…’

    ইদানীং একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ করেছে সঞ্জয়। স্যার এই কেসে কিছু বিশেষ বিশেষ লিডকে একেবারেই চেজ করছেন না, যেন সেগুলোর অস্তিত্ব দেখতে পাচ্ছেন না। ও কয়েকবার মনে করানোর চেষ্টা করেছে, কিন্তু তার উল্টে ওর উপর খেপে গিয়ে দুকথা শুনিয়ে দিয়েছেন। যেমন এই সমীরণ মিত্রের যার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তার কাছ থেকেই একটা লিড নিয়ে এসেছিল সঞ্জয়। স্যার দেখেও দেখলেন না যেন।

    ‘গঙ্গার বাড়িতে পাওয়া ছুরির সঙ্গে ব্লাড স্যাম্পেল মিলছে?’

    বিমর্ষ মুখে মাথা নাড়ে সঞ্জয়, ‘সেটাই আশ্চর্যের স্যার। গঙ্গার ছুরিতে কোনও ব্লাড স্যাম্পেলই নেই। ও দিয়ে কাউকে খুন করা হয়নি…’

    ‘তাহলে মিত্র খুন হল কী দিয়ে?’

    ফাইল থেকে একটা বিশেষ কাগজ ইন্সপেক্টরের দিকে এগিয়ে দেয় সঞ্জয়, ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে প্রচণ্ড রাগের বসে শক্তিশালী হাতে ছুরি মারা হয়েছে। ছুরিটা অন্তত ফুট দেড়েক লম্বা আর অবিশ্বাস্য ধারাল। হাড়গুলোকে বিলকুল মাখনের মতো কেটেছে! আরও একটা জিনিস গোলমাল লাগছে…’

    ‘কী গোলমাল?’

    ‘স্যার মোটামুটি গোটা স্ট্যাবিংয়ের ঘটনাটা ঘটেছে বড়জোর দেড় কি দু-মিনিটের মধ্যে। মোট পঁয়তাল্লিশবার আঘাত। দেড়শ সেকেন্ডের মধ্যে দুটো মানুষকে পঁয়তাল্লিশবার ছুরি মারা মুখের কথা নয় স্যার। খুনি শরীরে অসম্ভব শক্তি ধরে এবং যতদূর সম্ভব তার দুহাত সমান চলে…’

    ‘অর্থাৎ খুনি একটি দানো…’ বিড়বিড় করেন ইন্সপেক্টর।

    সঞ্জয় অনেকক্ষণ ধরে একটা কথা বলার জন্য উশখুশ করছিল, এবার সে মুখ ফুটে বলেই ফেলে, ‘আমার যতদূর মনে হচ্ছে গঙ্গা সোসিওপ্যাথ বা সিরিয়ালকিলার। বিভিন্ন সময়ে নানানরকম মানসিক ট্রমা থেকে এ ব্যাপারটা জন্মায়। তাছাড়া ওর বাড়িতে যে সমস্ত বইপত্র আছে সেগুলো পড়ে দেখা যাচ্ছে ডাইনিদের নিয়ে পড়াশোনা ছিল। সেখান থেকেই হয়ত ওর নিজের ভেতরে ডাইনি হয়ে ওঠার একটা টেন্ডেন্সি জন্মায়। হয়ত ডাইনিদের মতো, সন্দেহের বশে ওর উপরেও কোনও টর্চার গোছের কিছু হয়েছিল। ব্যাপারটা সেখান থেকেই ঘটে। সঙ্গের মেয়েটি প্রথম থেকেই সবকিছু জানত। কিন্তু ভয়ে হোক কিংবা আনুগত্যে— এসব কথা কিছুই সে বলেনি। প্রশ্ন তাহলে কেবল দুটো থাকছে। এক, গঙ্গার গায়ে এমন অমানুষিক শক্তি এল কী করে, আর দুই সে এখন আছে কোথায়?’

    বাইরে বৃষ্টির ঝিমঝিম শব্দ বেড়ে চলেছে। সারাটা বিকেল দরকারি কাগজপত্র আর ফাইল ঘেঁটেই কেটে যায় ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলীর। কিছুতেই মাথার ভিতরে হিসেব মিলিয়ে উঠতে পারছেন না তিনি। নাওয়া খাওয়া মাথায় উঠেছে। প্যাকেটের পর প্যাকেট সিগারেট উড়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।

    রাত খানিক বাড়তে ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী চেয়ে ছেড়ে উঠে পড়েন। ঠিক সেই সময় একজন কনস্টেবল ওনার ঘরে ঢুকে আসে।

    ‘গ্রামের একজন আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান। থানার বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছি…’

    ‘আমার সঙ্গে! নাম কী বলছে?’

    ‘বলছে গুপি।’

    ‘ও আচ্ছা! ঠিক আছে পাঠিয়ে দাও।’

    কনস্টেবল বেরিয়ে যাওয়ার মিনিট খানেকের মধ্যেই গুপি এসে চেয়ার টেনে বসে। এ থানায় প্রতিনিয়ত যাতায়াত আছে ওর। গাঙ্গুলীর নিযুক্ত করা খোঁচরদের মধ্যে গুপি একজন।

    ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী ওর উল্টোদিকে বসে পড়েন। একটা সিগারেট অফার করে জিগ্যেস করেন, ‘ব্যাপার কী? বলছিলে কাল কীসব খবর দিতে আসবে?’

    ‘স্যার, ভেবেছিলাম কালকেই ভালো করে খোঁজ নিয়ে আসব, কিন্তু তার আগে আরও বড় একটা জিনিস জানতে পেরেছি স্যার…’ গুপির চোখেমুখে উত্তেজনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে। গাঙ্গুলী বুঝতে পারেন সত্যি বড়সড় কিছু একটা খবর পেটের ভিতর চেপে রেখেছে ও।

    ‘বেশ, ছোটটাই আগে বল…’

    ‘আজকে একটা জিনিস দেখতে পেলাম স্যার। আজ বিকেল বিকেলে গুপ্তদের বাড়ির খেজুর গাছে উঠতে বলেছিল ডাব পাড়তে। বৃষ্টি পড়ছিল, তাও উঠেছিলাম…’

    ‘তো? তাতে কী হয়েছে?’

    ‘আমি তখন একটা জিনিস দেখতে পেয়েছি স্যার। দিলুবাবুর দোতলার জানলার থেকে দুটো হাত বেরিয়েছিল। একটা ছেলেদের হাত একটা মেয়েদের হাত…’

    ‘তাতেই বা হয়েছেটা কী?’ ইন্সপেক্টর বিরক্ত হন।

    ‘ওখানে মেয়েদের হাত থাকার কথা নয় স্যার, ও ঘরে তো শুধু ওই নতুন যে ছেলেটা এসেছে সে একা থাকে…’

    গাঙ্গুলী কথাটায় বিশেষ পাত্তা দেন না। কার না কার হাত দেখেছে তাতেই দুটো কাঁচা পয়সার লোভে চলে এসেছে।

    ‘আমি স্পষ্ট দেখেছি স্যার। একটা ছেলেদের হাত একটা মেয়েদের…’

    ওকে মাঝপথেই থামিয়ে দেন গাঙ্গুলী, ‘বেশ বুঝলাম, এছাড়া?’

    গুপির মুখে একটা আদুরে হাসি খেলে যায়, ‘এই খবরটাই দেব বলে ভাবছিলাম আপনাকে…’

    ‘তো দেরি না করে তাড়াতাড়ি বলে ফেলো।’

    বাঁ হাতটা টেবিলের উপর তুলে হাত দিয়ে একটু ইশারা করে গুপি। কিছু টাকার দরকার ওর। এই মুহূর্তে টাকার প্রেসার যাচ্ছে। পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে দুটো একশো টাকার নোট ওর দিকে এগিয়ে দেন ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী। তারপর নিঃস্পৃহ গলায় বলেন, ‘বল এবার কী বলবি?’

    টাকাটা পেয়ে খুশি হয় গুপি, একগাল হেসে ফিসফিসে শীতল গলায় বলে, ‘গঙ্গা কোথায় আছে আমি জানি না স্যার। তবে একটা কথা আপনাকে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি।’

    ‘কী কথা?’

    সতর্ক বিড়ালের মতো দৃষ্টিতে ঘরের এদিক-ওদিক তাকায় গুপি। তারপর গলা নামিয়ে প্রায় ফিসফিস করে বলে, ‘মৌলিকে ওর মা খুন করেনি স্যার…’

    ‘তাহলে কে করেছে?’

    ‘পুরোহিতমশাই…’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকলব্য – হরিশংকর জলদাস
    Next Article মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    Related Articles

    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    Our Picks

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }