Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প265 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুয়াশার ফুল – ৫

    পঞ্চম অধ্যায়

    ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী গাড়ি থেকে নামতেই হই-হট্টগোল থেমে গেল। বাড়িটার সামনে যে ক’টা লোক জটলা করেছিল তারা নিজে থেকেই যেন দু’পা সরে দাঁড়াল। দিনের আলোয় পুলিশের গাড়ি আর রাতে ডাইনি—এ দুটো জিনিসকেই এই গ্রামের সবাই ভয় পায়।

    অপরেশ গাঙ্গুলী গাড়ি থেকে একটা ছোট লাফ দিয়ে নেমে এসে চারপাশটা একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন। এদিকটায় বড় একটা আসেননি তিনি এর আগে। যে একমাস এদিকে রয়েছেন তার বেশিভাগটা সরকারি কাগজের ঠেলা সামলাতেই কেটে গেছে। তবে সঞ্জয় এদিকের পুরনো খেলোয়াড়। তাকেই গা বাড়াতে হচ্ছে বেশি করে।

    আজ সকালে নিজের কোয়ার্টারে ঘুমাচ্ছিলেন অপরেশ। এমন সময় বড়বাবুর জরুরি তলব। ব্রুটাল হোমিসাইড। খুনি নাকি বডি একদম ফর্দাফাই করে দিয়েছে। এমনিতে এ অঞ্চলে ক্রাইম রেট কম। খুন জখম এক রাজনৈতিক কারণ ছাড়া হয় না বললেই চলে। তার মাঝে গৃহস্থের জানলা ভেঙে এমন নৃশংস খুনে উপরমহলও নড়েচড়ে বসেছে। যে লোকটা মারা গেছে সে আবার স্থানীয় নেতা দিলীপ দস্তিদারের স্নেহভাজন। ফলে ভদ্রলোক খুনিকে টেনে বের করতে উঠে পড়ে লেগেছেন। নিজেই গাড়ি হাঁকিয়েছেন এদিক পানে। এসে পড়লেন বলে।

    অপরেশের বিরক্তই লাগে। সকালে ঘুমটা জমেছিল ভালো। তার মাঝে দিলুবাবুর হেঁড়ে গলায় নির্দেশ শুনতে হল। তখন থেকেই মেজাজ ব্যোমকে আছে।

    অপরেশের পেছনে পেছনে সঞ্জয় নামে গাড়ি থেকে, সঙ্গে দুজন কনস্টেবল। সঞ্জয় পকেট থেকে মোবাইল বের করে একটা ছবি তুলে নেয় বাইরেটার। তারপর সামনের দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে ছোট করে, ‘আসুন স্যার’ বলে এগিয়ে যায়।

    ‘তোমার বাড়িতে মেয়ে দেখতে আসিনি। এই কথায় কথায় আসুন স্যার, বসুন স্যার করে আপ্যায়ন করতে হবে না!’ খিঁচিয়ে ওঠে অপরেশ।

    সঞ্জয় জিভ কাটে।

    দুজনে মিলে একবার বাইরে থেকে জানলাটার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। দুর্ঘটনার পর প্রায় সাত ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের একটা টিম প্রাথমিক তদন্ত করে গেছে। ফরেনসিকের লোকও এসে স্যাম্পেল কালেক্টও করে গেছে। ঘরের ভেতরে বাড়ির লোককেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বডি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অনেকক্ষণ আগেই।

    ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী দেখলেন সারি সারি জং ধরা গ্রিলগুলো যেন পাতাঝরা গাছের ডালপালার মতো দুমড়ে গেছে। ফাঁকটা তিনি ভালো করে লক্ষ করলেন। একটা ছ-সাত ফুট মানুষের পক্ষে আরামসে ওই ফাঁক দিয়ে গলে যাওয়া যায়। অর্থাৎ খুনি ছোট বড় যে-কোনও চেহারার হতে পারে।

    গ্রিলটা ভালো করে পরীক্ষা করলেন তিনি। নাঃ, সন্দেহ নেই, গ্রিলগুলো বাঁকাতে কোনও যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। বরং হাতের টানে মাকড়সার জালের মতো দুদিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    হাতের লাঠিটা দিয়ে গ্রিলের উপর ঠং-ঠং করে দুবার বাজালেন তিনি। একবার ঘরের ভেতরে উঁকি মারলেন তারপর সঞ্জয়ের দিকে ফিরে বললেন, ‘লোকে বলছে, এই জানলা হাত দিয়ে ভেঙে খুনি ঘরে ঢুকে ছিল?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, আমাদের টিমও দেখে বলেছে ওগুলো যন্ত্র দিয়ে কাটা নয়। দুপাশ থেকে টেনে ভাঙা। তাছাড়া স্যার, যন্ত্রপাতির কোনও আওয়াজও শুনতে পায়নি কেউ।’

    ঠোঁট উল্টান ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী। বিড়বিড় করে বলেন, ‘লোকটাকে ধরতে পারলে একবার তোমার দিলুবাবুর অণ্ডকোষ দুটো খামচে ধরতে বললে হয়…’

    ‘লোক নয়, স্যার। সবাই বলছে মহিলা।’

    ‘সবাইটা কে?’

    ‘খুনদুটো যখন হয় তখন জানলার কাছে এলাকারই একটা ছেলে দাঁড়িয়েছিল। সে বলছে একটা মেয়েকে দেখেছে জানলা দিয়ে নেমে পালিয়ে যেতে। আমরা স্টেটমেন্ট নিয়ে রেখেছি।’

    ‘তাহলে তো ভালোই হল।’

    ‘কী ভালো হল স্যার?’

    ‘একটা মেয়েকে দিয়েই তোমার দিলুবাবুর অণ্ড…’ কথাটা বলতে গিয়েও চুপ করে গেলেন অপরেশ গাঙ্গুলী।

    সঞ্জয় কিছু একটা উত্তর দিতে যাচ্ছিল। থেমে গেল। একটা গাড়ি এসে থেমেছে বাড়িটার সামনে।

    গাড়িটা চেনেন অপরেশ। বিড়বিড় করে বলেন, ‘মালিক এসেছে, জিভ রেডি করো সঞ্জয়, চাটতে হবে—।’

    গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে আসেন দিলীপ দস্তিদার। সঙ্গে দুটো অল্পবয়সি ছেলে-মেয়ে। এরা সম্ভবত রিপোর্টার গোছের কেউ হবে। এছাড়াও আর একটা স্থানীয় ছেলে আছে, তবে সে সম্ভবত চ্যালাচামুণ্ডা গোত্রের।

    চারজনেই হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে আসেন ওদের দিকে। দিলীপ দস্তিদার নিজেই আগ বাড়িয়ে বলেন, ‘ফরেনসিকের সঙ্গে কথা হয়ে গেছে গাঙ্গুলী, ওদের ফার্স্ট ট্র্যাকে কাজ করতে বলেছি। আজ রাতের মধ্যেই রিপোর্ট দিয়ে দেবে।’

    গাঙ্গুলী বিশেষ উত্তর-টুত্তর দেন না।

    দিলীপবাবু নিজেই বিমর্ষ গলায় বলেন, ‘আমার এলাকায় এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল। কী বলি বলুন দেখি…’

    গাঙ্গুলী সঞ্জয়ের কানে কানে ফিসফিস করেন, ‘দিলীপবাবু কোথায় হিসি করেছেন পরে জিগ্যেস করে নিও…’

    ‘ইয়ে…হিসি মানে?’

    ‘এলাকা তো কুকুরের হয় কিনা, আর ওরা হিসি করে করেই এলাকা মার্ক করে রাখে…’

    মেয়েটির সঙ্গে ক্যামেরাম্যানটি ক্যামেরা বাগিয়ে ধরে পুলিশের দিকে ফেরায়। ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী লাঠি দিয়ে ইশারা করে তাকে ক্যামেরা নামাতে বলেন।

    ‘এরা ওই সাংবাদিক গোছের। আমার রেকমেন্ডেই এসেছে। তনুজা, ভারি ভালো মেয়ে। আর ও প্রত্যয়…’ দস্তিদার আলাপ করিয়ে দেন, ‘ওদের সঙ্গে যে-কোনও ইনফরমেশন শেয়ার করতে পারো। বিশ্বস্ত লোক!’

    সঞ্জয় আর গাঙ্গুলী বিরক্ত হয়। এসব পুলিশের কাজের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু ভদ্রলোক এই এলাকায় এতটাই প্রভাবশালী যে এরকম বেয়াড়া আবদার মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

    জমাট ভিড়ের মধ্যে আবার একটা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী একবার গাল চুলকে নিয়ে সঞ্জয়কে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘চলো হে, বাইরের চাকচিক্য তো দেখলাম। এবার একটু ভেতরের সাজসজ্জা দেখে আসি…’

    পাঁচজন মিলেই ভেতরে ঢুকে আসে। বাড়ির লোকেদের আপাতত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্য জায়গায়। নানা জায়গায় পুলিশের লোক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ঘরের ভেতরে ঢুকতেই ওদের পাঁচজনের নাকেই রক্তের গন্ধ এসে ঝাপটা মারে। দিলীপবাবু নাকে রুমাল দেন।

    ঘরের মেঝেতে এখনও রক্তের দাগ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সেদিকে ভালো করে লক্ষ করেন ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী। যে পরিমাণ রক্ত বেরিয়েছে একটা মানুষকে খুন করতে হলে ততটা রক্তের প্রয়োজন হয় না। হয় খুনি এলোপাথাড়ি ছুরি চালিয়েছে আর না হয় সে জানত না ঠিক কোথায় মারলে অল্প পরিশ্রমে মানুষ খুন করা যায়।

    মেঝের উপর হাঁটু মুড়ে বসে রক্তের দাগ লক্ষ করেন ইন্সপেক্টর। একটি কনস্টেবল এসে দাঁড়িয়েছিল পেছনে। তাকে লক্ষ করে বলেন, ‘ফুটপ্রিন্ট?’

    লোকটা হন্তদন্ত হয়ে বলে, ‘রক্তের উপর কিছু ফুটপ্রিন্ট ছিল স্যার, বাইরে থেকে লোক এসেছিল আর বাড়ির লোকজনের মিলেমিশে অন্তত গোটা চল্লিশেক। ছবি তোলা আছে।’

    ইন্সপেক্টর ভালো করে তাকিয়ে দেখেন রক্তের উপর কয়েকটা পায়ের ছাপ এখনও হালকা ভাবে ফুটে রয়েছে। বেশিরভাগই আবছা হয়ে এসেছে।

    ‘ঘটনার সময় বাড়িতে যারা ছিল তাদের মধ্যে কেউ কথা বলার মতো অবস্থায় আছে?’

    ‘দাদা অনিমেষবাবুর সঙ্গে সকালবেলা আমার কথা হয়েছে। উনি আপাতত একটু সামলে নিয়েছেন…’

    ‘ডেকে আনো—।’

    দিলীপ দস্তিদারের মুখে আতঙ্কের ছায়া নামছিল, মেঝে থেকে মুখ সরিয়ে তিনি বলেন, ‘ফরেনসিকের লোক বলছে সমীরণের বডিতে নাকি ছত্রিশবার আর ওর বউয়ের শরীরে ন’বার ছুরি চলেছে?’

    ‘সেটাই আশ্চর্যের!’ বললেন অপরেশ গাঙ্গুলী, ‘মনে হচ্ছে খুনি যেন শুধু খুন করেনি। চিলি চিকেনের পিস বের করেছে। ভদ্রলোকের রেপুটেশন কেমন? মানে এলাকায় লোকজন কী বলে?’

    ‘নির্বিবাদী ভালো মানুষ। কারো সাতেপাঁচে থাকত না। আমার কাছেও এসেছিল কয়েকবার। কিন্তু পার্টিপলিটিকসের ব্যাপারে নয়। কিছু দরকার নিয়ে…সেই থেকেই চেনা!’

    ‘বাচ্চা?’

    ‘এই তো আগের বছর বিয়ে হল। বাচ্চাটা হয়েছে বোধহয় মাসতিনেক হল।’

    ‘তাও কেউ মাঝরাতে এসে জানলা ভেঙে এভাবে কিমা করে দিয়ে চলে গেল, হুম?’ ভুরু কুঁচকে কী যেন ভাবতে লাগলেন গাঙ্গুলী।

    এতক্ষণে কনস্টেবলটি সমীরণ মিত্রের দাদাকে এনে দাঁড় করিয়েছে ঘরের বাইরে। ভদ্রলোকের গায়ে আপাতত একটা স্যান্ডো গেঞ্জি আর লুঙ্গি। মাথার চুল উশকো-খুশকো। বোঝা যায়, বাড়ির লোকেদের সামলাতে গিয়ে নিজের শোকপ্রকাশটুকু আর হয়ে ওঠেনি। বাইরে এসে তাকে সিঁড়ির পাশে রাখা একটা চেয়ারে বসতে বললেন ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী। তারপর দেওয়ালে হেলান দিয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনারা বাচ্চার কান্না শুনে ঘরে ছুটে এসেছিলেন তাই তো?’

    ‘হ্যাঁ, অনেকক্ষণ থেকেই কান্না আওয়াজ শুনছিলাম। বাচ্চারা রাতবিরেতে কাঁদবে এতে আশ্চর্যের কী?’

    ‘তখন শুধু বাচ্চার আওয়াজ ছিল, আর কিছু ছিল না?’

    ‘না, আমরা অন্তত শুনতে পাইনি।’

    ‘বেশ, তারপর? কান্নাটা যে স্বাভাবিক নয় সেটা সবার আগে কী করে সন্দেহ হল আপনাদের?’

    একটু মনে করার চেষ্টা করলেন অনিমেষ মিত্র, তারপর বললেন, ‘একটা অদ্ভুত শব্দ হল। ভারী শব্দ! পুরনো কাঠ চিড় খেলে যেমন আওয়াজ হয়, সেই রকম। আমরা ভাবলাম বাচ্চারা বুঝি ঝুলনা ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে…’

    ‘দুটো বাচ্চা ছিল, তাই তো? একটা আপনার অন্যটা আপনার ভাইয়ের। আপনার বাচ্চা কত বড়?’

    ‘এই সামনের মাসে এক বছর হবে!’

    ‘হুম, আপনি কী করছিলেন তখন?’

    ‘খেলা দেখছিলাম। আসলে বিদেশি ফুটবল দেখার নেশা আছে আমার। খেলাগুলো রাতে হয় তো, তাই ছেলেকে ওর কাকার কাছে রেখে আমরা একটু পরে আবার নিয়ে যাই। দুটো বাচ্চা, একসঙ্গে থাকে, অসুবিধা হয় না…’

    ‘বটে! তারপর কী হল?’

    ‘তারপর গ্রিলের উপর একটা আওয়াজ! ভীষণ জোরে। মনে হল মট করে যেন ভেঙে গেল গ্রিলটা! তারপর সুমির চিৎকার শুনে আমরা নেমে এসে দরজা খুললাম!’

    ‘কী দেখলেন?’

    ‘ঘরের ভেতর দেখলাম সুমি আর ওর বউ উল্টে পড়ে আছে। ওই দৃশ্য দেখেই আমি টর্চের আলো নিভিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর জানলার দিকে তাকালাম। আমাদের মধ্যেই কেউ ডাইনির কথা বলছিল। আমি ওসবে বিশ্বাস করি না। কিন্তু…’

    ‘হঠাৎ ডাইনির কথা মনে হল কেন?’

    উত্তরটা দিতে গিয়ে একটু ইতস্তত করলেন অনিমেষ মিত্র, তারপর বললেন, ‘আমিই সবার আগে ঘরের দরজায় পৌঁছাই স্যার। পৌঁছাতে গিয়ে একটা অদ্ভুত খেয়াল হয় আমার। মনে হয় আমার পা চলেছে না…’

    ‘সেকী! প্যারালিসিস গোছের?’

    ‘খানিকটা সেইরকম। মনে হল কেউ পা’টা চেপে ধরে আছে। যতক্ষণ না সমীরণের চিৎকার থামল ততক্ষণ কেউ নড়তে পারিনি আমরা।’

    ‘সেই থেকেই আপনাদের মনে হল এটা ডাইনির কাজ?’

    ‘আমি জানি না স্যার। তবে…গ্রামের লোক বলছে গত অনেক বছর থেকেই নাকি এ গ্রামে…’

    ‘হুম…বুঝতে পেরেছি। আচ্ছা, আপনাদের বাচ্চাদুটো একদম সুস্থ আছে তো?’

    উপরে নিচে মাথা নাড়ালেন অনিমেষ। ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী একবার গাল চুলকে আবার প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি বা আপনার বাড়ির কেউ মিস্টার আর মিসেস মিত্রের চিৎকার, বাচ্চাদের চিৎকার ছাড়া আর কোনও শব্দ শোনেননি?’

    ‘না।’ দুদিকে মাথা নাড়েন অনিমেষ মিত্র।

    গাঙ্গুলীর ভুরু কুঁচকে যায়। দেওয়াল থেকে পিঠ তুলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে জিগ্যেস করেন, ‘ভালো করে ভেবে দেখুন তো, গ্রামের একটা ছেলে সেই সময়ে আপনাদের গ্রিলের ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়েছিল। সে ঘরের ভেতর থেকে একটা মহিলা কণ্ঠের হাসির আওয়াজ শুনতে পায়। সেটা মিসেস মিত্রের হওয়া সম্ভব নয়।’

    ‘আমি অন্তত কিছু শুনতে পাইনি। ঘরের ভেতর কেবল ওদের দুজনের আওয়াজ শুনেছিলাম।’

    হাঁটু মুড়ে মেঝের উপরেই উবু হয়ে বসলেন গাঙ্গুলী। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে প্রশ্ন করলেন, ‘আচ্ছা ওর কোনও শত্রু থাকতে পারে বলে জানেন আপনি?’

    ‘না, অসম্ভব। আমার ভাইয়ের মতো ভালো ছেলে এই গ্রামে ছিল না। তবে শত্রু বলতে…’ ঘরে উপস্থিত বাকিদের মুখের দিকে চোখ বুলিয়ে নেন অনিমেষ মিত্র। তারপর বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে একটি মেয়ের সঙ্গে আমার ভাইয়ের দেখাশোনা করে সম্পর্ক ঠিক হয়েছিল…’

    ‘বিয়ে?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ। সবাই জানে সে কথা। আমাদের পাশের গ্রামেরই মেয়ে। সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবার পর মেয়েটি হঠাৎ করে বেঁকে বসে। তার নাকি অন্য একটি প্রেমিক আছে। এতদিন বলেনি, এখন বলছে। বুঝতেই পারছেন ব্যাপারটা একটা সামাজিক কলঙ্কের পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিয়ে ভেঙে আসার আগে তার বাড়ি বয়ে গিয়ে আমিই তাকে দু-কথা শুনিয়ে আসি। তাতে তার আমাদের উপর একটা চাপা রাগ থাকারই কথা, কিন্তু তার জন্য একটা মানুষকে এভাবে কুপিয়ে খুন করবে!’

    দিলীপবাবুর দিকে চোখ তুলে তাকান ইন্সপেক্টর। তারপর সঞ্জয়ের দিকে ফিরে বলেন, ‘একটা ব্যাপার ভারি আশ্চর্য লাগছে বুঝলে? এটা প্রিমেডিটেটের মার্ডার হওয়া অসম্ভব! ভদ্রলোক রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতেন। এদিক-ওদিক যেতেন। ছুরি দিয়েই যদি খুন করতে হয় তাহলে রাস্তাঘাটে হঠাৎ করে ছুরি মেরে পালিয়ে যাওয়াটাই তো ভালো। রাত্রিবেলা সুরক্ষিত অবস্থায় জানলা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার বউয়ের সামনে তাকে খুন করে পালিয়ে যাওয়াটা অ্যাবসার্ড নয়?’

    ‘মানে আপনি বলছেন খুনটা হঠাৎ করেই করা?’

    ‘তাই যদি হয় তাহলে খুনি রাতবিরেতে ছুরি নিয়ে ঘুরছিল কেন? মার্ডার ওয়েপনটা তো পাওয়া যায়নি কোথাও…’

    দিলীপ দস্তিদার এতক্ষণ মন দিয়ে কী যেন ভাবছিলেন, তিনি বললেন, ‘আমার কি মনে হয় জানেন স্যার?’

    ‘কী মনে হয়?’

    ‘খুনির টার্গেট সমীরণ ছিল না। ছিল অন্য কেউ…’ মুখ তুলে একটা ইশারা করেন দিলীপ দস্তিদার, ‘ওই বাচ্চা দুটোকেই তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল ডাইনিটা। সমীরণ আর ওর বউ এসে বাধা দেওয়ায় ওদের দুজনকে রাগের মাথায় খুন করে পালিয়ে যায়।’

    ‘ডাইনি মানে আপনার সেই গঙ্গা বলে মেয়েটি? আপনি বলছেন এতসব তারই কীর্তি?’

    দিলীপবাবু সরাসরি কিছু উত্তর দেন না। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন। গাঙ্গুলী উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘তার মাথার রোগ আছে বুঝলাম। বাচ্চা চুরি করে তাও নাহয় মেনে নেওয়া গেল, কিন্তু সে রোগে একটা আস্ত গ্রিলের জানলা হাত দিয়ে টেনে ভেঙে ফেলে, এটা আদৌ সম্ভব?’

    ‘আপনি তো গুপির কথা নিজের কানে শুনলেন, আমি বলি কি ইন্সপেক্টর, আপনি থানা থেকে একটা অর্ডার বের করে ওর বাড়িটা একবার ভালো করে তল্লাশ করুন। ওর বাড়িতে খুঁজলে কিছু না কিছু নিশ্চয়ই পাবেন আপনি।’

    ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী একটানা ভাঙা জানলাটার দিকে তাকিয়েছিলেন। সেদিকে চোখ রেখেই বললেন, ‘উঁহু, ডাইনির ব্যাপারটা বিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু এই খুনটার মধ্যে যে একটা অমানুষিক ব্যাপার আছে সেটা অস্বীকার করা যায় না। আগেরবার আপনার কথা শুনে ওর একটা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করিয়েছিলাম। সেটা মোটামুটি পরিষ্কারই আছে। এই গ্রাম ছেড়ে ভদ্রমহিলা খুব একটা নড়েননি।’

    ‘কোনও অভিযোগ নেই?’ তনুজা এতক্ষণ চুপ করে লক্ষ করছিল সব কিছু। এবার সাহস পেয়ে সে প্রশ্ন করে।

    ‘সে যা অভিযোগ তার ডায়েরি হয় না। একদল মহিলা দল বেঁধে থানায় গেছিলেন এই অভিযোগ নিয়ে যে গঙ্গা তাদের স্বামীকে ফুস-মন্তর করে বশ করেছে, কেউ আবার বলেছে এক শয়তানের সঙ্গে নাকি বিয়ে হয়েছে ওর। তাকে বশ করেই এইসব অনর্থ করায় ও। মোটকথা কংক্রিট কিছু কোনওদিন কারো কাছেই ছিল না। তবে…’ ইন্সপেক্টর কী ভেবে একটু চুপ করে আবার নিজেই বলতে থাকেন, ‘কিছু একটা তো করেন মহিলা। আমার মন বলছে কোনও না কোনও ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত উনি। আমরা ভুল দিকে ছুটে মরছি…’

    ‘ওয়ারেন্টের ব্যাপারটা…’ দিলীপবাবুকে মাঝপথেই থামিয়ে দেন ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী, একটা বড় শ্বাস নিয়ে বলেন, ‘ঠিক আছে আপনি বলছেন যখন আমি দেখছি। তবে আমার গঙ্গার এগেন্সটে কোনও পার্সোনাল ভেনডেটা নেই। কিছু যে বের করে আনবই এমন কিছু কথা দিতে পারছি না।’

    বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তেজও বেড়ে চলেছে। দিলুবাবু বাড়ির মধ্যেই রয়ে গেলেন। ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী, সঞ্জয় আর রিপোর্টার দুজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটতে লাগলেন চায়ের দোকানের দিকে। রিপোর্টার দুজন যে ওর খাস লোক সেকথা আর একবার মনে করিয়ে দিলেন দিলুবাবু।

    তনুজা কথাবার্তায় বেশ চৌকস। ছোট ছোট করে কাটা বয় কাট চুল। পরনে টপ আর জিন্স। মুখ-চোখ দেখে বেশ চাঁচা-ছোলা ব্যক্তিত্ব আছে বলে মনে হয়। ঝকঝকে স্মার্ট কথাবার্তা। দিলুবাবু বিদায় নিতে গাঙ্গুলীর উপর একরকম হামলে পড়েই বলল, ‘আপনি বিশ্বাস করছেন নাকি এই ডাইনির ব্যাপারটা?’

    ‘পুলিশে ভর্তি হওয়ার সময় দুটো জিনিস সবার আগে শিখিয়েছিল— কারও কথায় বিশ্বাস না করা, আর কোনটা বিশ্বাস করছি আর কোনটা করছি না সেটা রাজনীতির লোকেদের না জানানো…’ একটা সিগারেট ধরান ইন্সপেক্টর, ‘গঙ্গাকে এই গ্রাম থেকে সরালে দিলুবাবুর নিজের কিছু সুবিধা হবে। গঙ্গার মুখের কথা এই গ্রামের লোকেরা মাথায় করে রাখে। ও এখানকার ছোটখাটো একটা মেসিহা। দিলুবাবু রাজনীতির লোক, কোনওদিন গঙ্গা খেপে গিয়ে ওর বিরুদ্ধে দুটো কথা বললে ভোট ব্যাঙ্কে টান পড়তে পারে। এটুকু বোঝার মতো জ্ঞান-গম্যি আমার আছে। কিন্তু আপনি ওই জানলাটা এক্সপ্লেইন করতে পারবেন?’

    তনুজা আর কথা বাড়ায় না। নরম কিন্তু দৃঢ় গলায় বলে, ‘জানি না, কিন্তু ভাবতেও লজ্জা লাগে আজ বিংশশতাব্দীতে দাঁড়িয়েও একটা শিক্ষিত মানুষ আর একজন মহিলাকে ডাইনি অপবাদ দিতে পারে।’

    ‘বিংশশতাব্দীতেই হচ্ছে বাচ্চা চুরিগুলো। বডি বেমালুম গায়েব। হাত দিয়ে টেনে লোহার গ্রিল ভেঙে ফেলছে কেউ…’

    গাঙ্গুলী কথায় কথায় জানলেন বাংলার গ্রামেগঞ্জে ডাইনির মিথ নিয়ে কী যেন লেখালিখি করছে মেয়েটা। দিলীপবাবুর বিশেষ পরিচিতা। তার মুখ থেকেই এসব জেনে এতদূর এসে পড়েছে।

    গল্প করার ঢঙেই অপরেশকে প্রশ্ন করে মেয়েটা, ‘তাহলে আপনার কী মনে হয় স্যার, গঙ্গার অপরাধটা কী?’

    ইন্সপেক্টর কাঁধ ঝাঁকান, ‘মহিলা খুনটা করতে ফিজিক্যালি কেপাবেল না। সঙ্গের মেয়েটিও দুবলাই বলা চলে। এর পেছনে যদি ওদের মাথা থেকেও থাকে, শরীর অন্য কারো।’

    ‘আপনার মনে হয় না অকারণেই মহিলাকে ফাঁসানো হচ্ছে? গঙ্গা তো শুনলাম কারো সঙ্গে মেলামেশাই করে না। ও কাউকে দিয়ে খুন করাবে কেন?’

    ‘আপনি ভুলে যাচ্ছেন গঙ্গা এ গ্রামের কিছু মানুষের কাছে মেসিহা, আবার কারো কাছে ডাইনি। এই মেসিহা হওয়ার বাসনা থেকেই হয়ত অন্য কারো হয়ে খুনগুলো…’

    সঞ্জয় এবার পাশ থেকে বলে ওঠে, ‘আমি স্যার একটা হিচককের ফিল্ম দেখেছিলাম। তাতে দুটো সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের মধ্যে খুনের অদল বদল হত। মানে আপনার শত্রুকে আমি খুন করব আর আমার শত্রুকে আপনি। আপাতভাবে আমাদের দুজনেরই মোটিভ থাকবে না, পুলিশ ধন্দে পড়ে শেষে ছেড়ে দেবে। ধরুন এক্ষেত্রে গঙ্গা এই মিডল ম্যানের কাজটা করে। ওর কাছে তো কত লোক আসে। নিজেদের সমস্যা খুলে বলে ওকে। সেখানেই হয়ত…’

    ‘প্যাসেঞ্জারস অন আ ট্রেন…’ পাশ থেকে প্রত্যয় বলে।

    মাথা নাড়ে অপরেশ, ‘বিচিত্র নয়। মহিলা বুদ্ধিমান এবং শিক্ষিত। নইলে এতদিন এই হিংসুটে শেয়াল কুকুরের মধ্যে সারভাইভ করতে পারতেন না।’

    চারজন মিলে চায়ের দোকানে ঢোকে। আপাতত তেমন লোক নেই এখানে। পুলিশ অফিসারকে ঢুকতে দেখে আরও ফাঁকা হয়ে যায়। সঞ্জয় খবরের কাগজ দিয়ে বেঞ্চের ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে বলে, ‘আপনি ওয়ারেন্ট বের করবেন ভাবছেন নাকি?’

    ‘দিলুবাবু যেভাবে হাতধুয়ে মহিলার পেছনে পড়েছেন, না বের করে উপায় নেই।’

    সঞ্জয় একটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে বলে, ‘দেখুন, এটা যদি ধরেও নিই যে মহিলা বাচ্চা চুরি করেছে সে অবশ্যই তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখেনি। ওয়ারেন্ট ফোয়ারেন্টে লাভ কিছু হবে না।’

    ‘তাতে কিছু যায় আসে না। দিলুবাবু ইনফ্লুয়েন্সিয়াল লোক। আজ না হোক কাল ও মহিলাকে গ্রাম ছাড়া করবেই…’

    রিপোর্টার মেয়েটা চায়ের কাপ হাতে নিতে নিতে প্রশ্ন করে, ‘আপনি মহিলাকে দেখেছেন সামনে থেকে?’

    ‘উঁহু, এলামই তো ক’দিন হল মাত্র। তবে থানায় খুঁজে কিছু ছবি পেয়েছি ওর।’

    মোবাইল ফোনের গ্যালারিতে গিয়ে একটা পুরনো ছবি বের করেন ইন্সপেক্টর। দেখে বোঝা যায় কোনও ডকুমেন্টের উপরে লাগানো ফটোগ্রাফ থেকে মোবাইলে তোলা ছবি।

    সঞ্জয় ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে বছর পঞ্চাশের রোগাটে এক মহিলা। গায়ের রং ফ্যাকাসে। নাকটা স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশি খাড়া। চোখের কোণ বয়সের ভারে কুঁচকে গেলেও মণি দুটো ভারি উজ্জ্বল। আকাশি রঙের একটা আলখাল্লা জাতীয় পোশাক জড়ানো গায়ে। গালগুলো ভেঙে গেছে, মুখভর্তি বলিরেখা। তবে একসময় যে ডাকসাইটে সুন্দরী ছিলেন সেটা চোখদুটো দেখে বোঝা যায়। অদ্ভুত একটা দ্যুতি আছে মুখটায়। সহজে চোখ ফেরানো যায় না। একটানা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছবি তুলেছেন। চোখে পড়ল কপালের দিকে ক’টা নখের আঁচড়ের দাগ। গাঙ্গুলী সেটা দেখিয়ে বললেন, ‘শুনেছি ছোটবেলায় নিজেই নিজেকে খিমচে করেছিল ওই দাগগুলো! ভাবা যায়!’

    সঞ্জয় চাপা গলাতেই ফুট কাটে, ‘ডাইনি হিসেবে কিন্তু মানাবে ভালো, কী বলুন?’

    মেয়েটির হাতে ছবিটা দেয় সঞ্জয়। অপরেশ বলে, ‘এটা বছর তিনেক আগের ছবি। এখন নিশ্চয়ই স্বাস্থ্য আরও ভেঙেছে। শুনছি গত ছয়মাস নাকি কাউকেই খুব একটা সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না। মেয়েটিই তার থেকে জেনে এসে জড়িবুটি বলে দিচ্ছে…’

    ‘মেয়েটারও তো ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করিয়েছেন শুনলাম, তার কোনও ছবি আছে আপনার কাছে?’

    খুঁজে খুঁজে একটা পুরোনো ডকুমেন্টের ভেতর মেয়েটার ছবি আবিষ্কার করলেন ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী, ‘এই যে, এই ছবিটা…তবে এর ব্যাকগ্রাউন্ড একটু গন্ডগোলের। বাবা-মা কাউকেই নাকি চেনে না। কাইন্ড অফ অরফ্যান!’

    আড় চোখে সেটার দিকে একবার তাকিয়ে সঞ্জয়ের হাতে তুলে দিতে গিয়ে থমকে গেলেন ইন্সপেক্টর। আবার টেনে আনলেন ছবিটা চোখের সামনে। আতিপাতি করে কী যেন দেখার চেষ্টা করলেন ছবিটার মধ্যে। আচমকাই খামচে ধরলেন সঞ্জয়ের হাতটা। গ্যালারিতে সাফল করতে গিয়ে এইমাত্র একটা ছবি চোখে পড়েছে তার। অন্য ছবি খুঁজতে গিয়ে সরিয়ে দিয়েছেন সেটা। কিন্তু ওই মুহূর্তের ভগ্নাংশেই ছবিটা একটা খোঁচা দিয়ে গেছে ওর মাথার মধ্যে।

    থতমত খেল সঞ্জয়, ‘কী হল স্যার? কী দেখতে পেয়েছেন?’

    উত্তর না দিয়ে স্ক্রিনের উপর একটা ছবি টেনে আনেন অপরেশ। ছবি তোলার সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটার একটা হাত আর পায়ের ছাপও নেওয়া আছে। পায়ের ছাপটা বের করে কয়েক সেকেন্ড ঠায় সেদিকে চেয়ে রইলেন ইন্সপেক্টর গাঙ্গুলী। তারপর আচমকা চা ছেড়ে উঠে পড়ে দৌড়াতে লাগলেন বাড়ি লক্ষ্য করে।

    বাড়ির সামনে হল্লা আবার বেড়ে উঠেছে। সেটাকে পাত্তা না দিয়ে জমাট বাধা ভিড়টাকে ঠেলে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়লেন ইন্সপেক্টর। সঞ্জয় এতদূর দৌড়ে এসেছে ওর পেছন পেছন।

    খুনের ঘরটায় ঢুকে মাটির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লেন ইন্সপেক্টর অপরেশ গাঙ্গুলী। সেখানে শুকিয়ে যাওয়া রক্তের দাগের উপর কয়েকটা পায়ের ছাপ ফুটে আছে। যে বিশেষ পায়ের ছাপের উপর ইন্সপেক্টরের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে সেটা একেবারেই আবছা। দুতিনটে পায়ের ছাপের নিচে উপরে আর তলার দিকে অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেছে।

    ফোনে খোলা ছবিটা সেই ছাপটার পাশে রাখলেন ইন্সপেক্টর। তারপর একপা পিছিয়ে এলেন। সঞ্জয়ের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, ‘উই ওয়্যার বিটিং দ্যা রঙ বুশ সঞ্জয়।’

    সঞ্জয়ের চোখ ততক্ষণে আটকে গেছে সেই পায়ের ছাপে। দুটো ছাপ যে একই মানুষের সেটা স্পষ্ট করে বলা না গেলেও আন্দাজ করে নিতে অসুবিধা হয় না।

    ‘মেয়েটা কাল রাতে এসেছিল এইঘরে। এবং তাকেই সম্ভবত ঘর থেকে পালাতে দেখেছে ছেলেটা…’ সঞ্জয় স্বগতোক্তি করে।

    ‘এবং আমি যদি খুব ভুল না হই, তাহলে এই খুনটা ও-ই করেছে!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকলব্য – হরিশংকর জলদাস
    Next Article মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    Related Articles

    সায়ক আমান

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026
    Our Picks

    মমতাজ-দুহিতা জাহানারা – শ্রীপারাবত

    July 29, 2026

    কুয়াশার ফুল – সায়ক আমান

    July 29, 2026

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }