Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    July 4, 2026

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এক পাতা গল্প311 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কেউ কেউ কথা রাখে – ১৫

    অধ্যায় ১৫

    স্বীকারোক্তি

    ভেবেছিলাম ইমতিয়াজকে থানায় নিয়ে আসার পর হায়দারভাই তার উপরে চড়াও হবেন কিন্তু দেখা গেলো তিনি একদম শান্ত হয়ে গেলেন। ব্যাপারটা আমার কাছে অস্বাভাবিক বলেই মনে হলো। মনে মনে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম মিলির খুনির উপরে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়লে তাকে কিভাবে বিরত রাখবো।

    থানায় লকাপের পাশে একটা খালি ঘর, ওটাকেই আমরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যবহার করি, ইমতিয়াজকে ওই ঘরে বসিয়ে রেখে হায়দারভাই আমাকে নিয়ে বাইরে চলে এলেন। আমি নিজের প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে তার দিকে বাড়িয়ে দিলে তিনি সেটা ধরিয়ে উদাস হয়ে টানতে লাগলেন।

    “এখন মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হবে,” কিছুক্ষণ পর ধোঁয়া ছেড়ে বললেন।

    আমিও একটা ধরিয়ে টান দিলাম। “হুম।”

    “আমরা মোটামুটি নিশ্চিত খুনটা ও-ই করেছে, কিন্তু এটা ওর মুখ দিয়ে বের করতে হবে।”

    মাথা নেড়ে সায় দিলাম। “এতো সহজে মুখ খুলবে বলে তো মনে হয় না।”

    “কেউই সহজে মুখ খোলে না, খোলাতে হয়।” উদাস হয়ে সিগারেটে টান দিতে দিতে বললেন এসএম হায়দার।

    “আপনি টর্চার করবেন নাকি?”

    আমি অবশ্য এর আগে মাত্র একবারই হায়দারভাইকে আসামি ধরে এনে টর্চার করতে দেখেছি। তবে সেটার কারণ ছিলো একদমই ভিন্ন। গত বছর সরকারের কড়া নিষেধ থাকা সত্ত্বেও আকালের সময় এক ব্যবসায়ি খাদ্যদ্রব্য স্টক করে রেখেছিলো। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে এলে হায়দারভাই হঠাৎ করেই তার উপরে চড়াও হন। নিজের বেল্ট খুলে আচ্ছামতো পেটান লোকটাকে। আমরা দু-তিনজন তাকে ধরে নিবৃত্ত করেছিলাম। পরে হায়দারভায়ের কাছে যখন জানতে চেয়েছিলাম আচমকা তার এমন আচরণের কারণ, তখন তিনি বলেছিলেন, এই ব্যবসায়ি সরকারি দলের স্থানীয় এক নেতা। ওর বিরুদ্ধে কোনো কেস করা যাবে না। করলেও লাভ নেই। কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে পড়বে। তাছাড়া একটু পরই যে দলের নেতারা ফোন করে ছেড়ে দিতে বলবে সেটা তিনি নিশ্চিত জানতেন। আদতে তা-ই হয়েছিলো। সেজন্যেই ছেড়ে দেবার আগে একটু ‘ধোলাই’ করে দিয়েছিলেন।

    লম্বা করে ধোয়া গিলে মাথা দোলালেন তিনি। “না। প্রথমে কিছুই করবো না।”

    “কিন্তু ও যদি কোনো কিছু না বলে, তখন?”

    আমার দিকে তাকালেন। “যখন যেটা করতে হবে সেটাই করবো, ব্রাদার।”

    আমি কিছু না বলে সিগারেটের দিকে নজর দিলাম।

    “যেভাবেই হোক ওর কাছ থেকে কথা বের করতে হবে।”

    “ছেলেটা তো রাজনীতি করে, নেতারা ফোন করতে পারে।”

    “কোনো ফোনেই কাজ হবে না,” কথাটা বেশ জোর দিয়ে বললেন তিনি। “যে ফোন করবে তাকে আমার স্পেশাল গালি খেতে হবে আজ।”

    এসএম হায়দারের স্পেশাল গালাগালিগুলোর সম্পর্কে সম্যক ধারণা ছিলো আমার।

    সিগারেট শেষ করে আমি আর হায়দারভাই ঢুকলাম সেই ঘরে।

    ইমতিয়াজ চেয়ারে বসে আছে। চোখেমুখে ভড়কে যাবার লক্ষণ। আমাদের দেখে মুখ তুলে তাকালো সে।

    হায়দারভাই তার সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসলো। “ওঠ,” আদেশের সুরে বললেন তিনি।

    ঢোক গিলে আস্তে করে উঠে দাঁড়ালো আমাদের সন্দেহভাজন।

    ইমতিয়াজ যে চেয়ারে বসেছিলো এতোক্ষণ সেটায় বসে পড়লেন হায়দারভাই। “বস্,” আসামিকে বসার নির্দেশ দিলেন তিনি।

    ইমতিয়াজ আশেপাশে একটু তাকালো। ঘরে আর কোনো চেয়ার নেই। “মাটিতে বস্,” হায়দারভাই শীতলকণ্ঠে বললেন।

    ইমতিয়াজ মাটিতে বসে পড়লো চুপচাপ। তার চোখমুখ দেখে মনে হলো অপমানিত বোধ করছে। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম হায়দারভায়ের পাশে।

    “তোর নাম কি?”

    ইমতিয়াজ সম্ভবত এমন প্রশ্ন আশা করেনি। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে বললো, “ই-ইমতিয়াজ।” একটু ঢোক গিলে নিলো এবার। “ইমতিয়াজ শফিক।”

    “কি করিস?”

    অধৈর্য হয়ে উঠলো সন্দেহভাজন। “আ-আমাকে ধরে এনেছেন কেন? আমি কি করেছি?”

    হায়দারভায়ের অভিব্যক্তি একটুও বদলালো না। নির্বিকার ভঙ্গিতে তিনি বললেন, “কেন ধরে এনেছি সেটা তুই ভালো করেই জানিস। এখন যা জানতে চাইবো আমাকে বলবি।” একটু থেমে আবার বললেন, “কি করিস? মানে, কাজ-কামের কথা বলছি।”

    ঘন ঘন চোখের পাতা ফেললো ইমতিয়াজ। একটু সময় নিলো প্রশ্নের জবাব দিতে। “কিছু করি না।” অবশেষে বেশ তিক্ততার সাথে বললো সে।

    “থাকিস কোথায়?”

    “কাঠালবাগানে।”

    “হারামির বাচ্চা, তাহলে দখল করা বাড়িতে থাকিস কেন?!” ইমতিয়াজ চুপ মেরে গেলো।

    “ইতর-বদমাশ নেতাদের চামচা নাকি লাঠিয়াল? কোন্‌টা বলবো?” ইমতিয়াজ রেগেমেগে বলে উঠলো, “আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না, আমাকে এখানে কেন ধরে এনছেন? আমি কি করেছি?”

    মুচকি হাসলেন হায়দারভাই। “জান্নাতুল ফেরদৌস মিলিকে চিনিস তো?”

    সন্দেহভাজন দ্রুত ভেবে যেতে লাগলো, সে বুঝতে পারছে না কী বলবে।

    হায়দারভাই তার চোখের দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন। এমন অন্তর্ভেদি দৃষ্টিতে বিদ্ধ হয়ে ইমতিয়াজ একটু ভড়কেই গেলো। “চিনিস ওকে?”

    “হুম,” আস্তে করে বললো সে।

    “কিভাবে চিনিস? কতোদিন ধরে চিনিস?”

    ইমতিয়াজ বেশ সময় নিলো এই প্রশ্নের জবাব দিতে। “আমাদের দুরসম্পর্কের আত্মীয় হয়। কিন্তু মিলির কথা কেন জিজ্ঞেস করছেন?”

    হায়দারভাই পায়ের উপর পা তুলে দিলেন। “কেন জিজ্ঞেস করছি বুঝতে পারছিস না?”

    “না। আমার মাথায় কিছুই ঢুকছে না। আমি কি করেছি?”

    “কিছু না করলে নিজের বাড়িতে কেন থাকিস না? আমাদের দেখে ওভাবে পালালি কেন?”

    ইমতিয়াজ জোর করে অবাক হবার ভঙ্গি করলো। “আরে, আপনারা দু-জন আমাকে দেখে দৌড়ানি দিলেন…ভয় পাবো না?”

    “আচ্ছা। আর বাড়িতে কেন থাকিস না?”

    “বাবার সাথে রাগারাগি করে থাকি না। কাজকর্ম কিছু করি না… বাবা এটা নিয়ে সব সময় কথা শোনায়।”

    মাথা নেড়ে সায় দিলেন হায়দারভাই। “ভালো। খুব ভালো। ইমতিয়াজ কিছু বুঝতে না পেরে চেয়ে রইলো।

    “মিলি তো তোর আত্মীয় হয় তাহলে মেয়েটা খুন হবার পর ওর বাড়িতে গেলি না কেন? ওর অনেক আত্মীয়-স্বজনই গেছিলো…তোরও তো যাওয়ার কথা, তাই না?”

    “মিলি খুন হয়েছে?” তার অভিনয়টা বেশ কাঁচা বলে মনে হলো আমার কাছে। “কই, আমি তো জানি না!”

    “তোর মা জানে আর তুই জানিস না?”

    “মিলি খুন হবার পর তো বাসায় যাইনি, জানবো কিভাবে?”

    হায়দারভাই পাশে ফিরে আমার দিকে তাকালেন। “ও তো কিছু জানে না…কাকে ধরে আনলাম?” তারপর বাঁকাহাসি দিয়ে তাকালেন খুনির দিকে। “শূয়োরেরবাচ্চা! আমি কি তোকে বলেছি মিলি কবে খুন হয়েছে?”

    ইমতিয়াজ বুঝতে পারলো বেফাঁস কিছু বলে ফেলেছে। একটু ঘাবড়ে গেলো সে।

    “অথচ বলছিস, মেয়েটা খুন হবার পর আর বাড়িতে যাসনি! তার মানে মিলি কবে মারা গেছে তুই জানিস।” মাথা দোলালেন হায়দারভাই। “দারুণ। বুঝতে পারছি তুই অনেক স্মার্ট।”

    রাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছিলো। ইমতিয়াজ যে খুনি সে-ব্যাপারে আর কোনো সন্দেহ নেই।

    “মিলির সাথে কি তোর কোনো সম্পর্ক ছিলো?”

    “আমাদের আত্মীয় হয়।

    “আর কিছু?”

    অনেকক্ষণ পর মাথা দুলিয়ে জানালো ইমতিয়াজ, “না।”

    একটু সময় নিয়ে হায়দারভাই বললেন, “ও যেদিন খুন হয় সেদিন তুই কোথায় ছিলি? কার সাথে ছিলি?”

    ‘পার্টি অফিসে ছিলাম।”

    “কখন?”

    মনে করার চেষ্টা করলো সে। “চারটার দিকে?”

    “চারটার দিকে? মিলি যখন খুন হয় ঠিক তখনই?” কথাটা বলেই আমার দিকে তাকালেন হায়দারভাই। এরপর আরো শীতলকণ্ঠে বললেন, “তুই কেমনে জানলি ঠিক ঐ সময়ই মিলি খুন হয়েছিলো?”

    ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে রইলো ইমতিয়াজ শফিক। “মা-মানে?” তোতলালো একটু।

    “মানে, তুই তো জানতি না মিলি কখন খুন হয়েছে, তাহলে নিজেকে বাঁচানোর জন্য কিভাবে বলছিস ঐদিন চারটর দিকে পার্টি অফিসে ছিলি। এত সময় থাকতে ঠিক ঐ সময়ের কথা বলছিস কেন? টাইমটা তো একেবারে মিলে যাচ্ছে! অ্যালিবাই তৈরি করতে চাচ্ছিস, সেটা না-হয় বুঝলাম কিন্তু এভাবে বোকার মতো সব কিছু সাজিয়ে বললে তো ধরা খেয়ে যাবি।”

    “আপনি কি বলছেন, বুঝতে পারছি না,” ইমতিয়াজ না বোঝার ভান করলো।

    “তোর বোঝার দরকার নেই, আমার যা বোঝার বুঝে গেছি।”

    আমি অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছিলাম খুনটা ইমতিয়াজ করেছে, সেই মুহূর্তে আমার এই শক্তপোক্ত বিশ্বাস আরো জোড়ালো হয়ে উঠতে শুরু করলো। খুনিকে সামনে বসে থাকতে দেখে রাগে-ঘৃণায় কাঁপতে লাগলো আমার সারা শরীর।

    “তাহলে শোন। একটা কালো ছাতা নিয়ে তুই মিলিদের বাড়িতে গেছিলি,” একদম শান্তকণ্ঠে বললেন হায়দারভাই, “তুই মিলির ঘরের দরজার সামনে যখন কলিংবেল বাজাচ্ছিলি তখন দোতলার সিঁড়ি থেকে তোকে একজন দেখে ফেলেছে।”

    কথাগুলো ইমতিয়াজের মধ্যে কি রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে দেখার জন্য একটু বিরতি দিলেন এসএম হায়দার।

    আমাদের সামনে বসে থাকা মিলির খুনি পুরোপুরি ভড়কে গেলো কথাটা শুনে। সে অনেক চেষ্টা করেও অভিব্যক্তি লুকিয়ে রাখতে পারলো না।

    “মিলিদের বাড়ির সামনে যে মুদি দোকানটা আছে, সেই মুদি আমাদের বলেছে ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকে তুই নিয়মিত ঐ বাড়ির সামনে ঘুরঘুর করতি।”

    ইমতিয়াজ রীতিমতো অস্থির হয়ে উঠলো। তার শ্বাসপ্রশ্বাস যে দ্রুত হয়ে গেছে সেটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম আমরা।

    “তোর মা আমাদের বলেছে, মিলির খুন হবার পর থেকে তুই বাড়িতে থাকা বন্ধ করেছিস। ধানমণ্ডির একটা দখল হওয়া বাড়িতে থাকিস তুই। পুলিশ যে তোর বাড়িতে গেছিলো সেটা জানার পর কাপড়-চোপর নিয়ে বাড়ি থেকে চলে গেছিলি। আমরা ধানমণ্ডির ঐ বাড়িতে ঢোকার আগে দোতলা থেকে দেখে দেয়াল টপকে পালালি। একটুর জন্যে তোকে আমরা ধরতে পারিনি।”

    ইমতিয়াজের মুখে কোনো রা নেই। তার চোখেমুখে অস্থিরতা। একটু ঘেমেও উঠলো তার কপাল।

    “খুন হবার আগে শেষ কবে মিলির সাথে তোর দেখা হয়েছিলো?” একেবারে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলেন হায়দারভাই।

    ইমতিয়াজ শফিকের কপালে হালকা ভাঁজ পড়লো এ সময়।

    “ওর সাথে শেষ কবে তোর কথা হয়েছে?”

    ঢোক গিললো খুনি। “অ-অনেকদিন আগে।”

    “অনেকদিন বলতে কতোদিন?”

    আবারো ঢোক গিললো ইমতিয়াজ। “এ-এক দেড়-বছর…বেশিও হতে পারে।”

    হায়দারভাই কিছু বলার আগেই আমি পকেট থেকে একটা ছবি বের করলাম। মিনহাজের কাছ থেকে এটা আমি নিয়েছিলাম-গায়েহলুদ অনুষ্ঠানে তোলা একটি গ্রুপ ছবি।

    সম্ভবত চোখের কোণ দিয়ে হায়দারভাই আমাকে ছবিটা বের করতে দেখেছিলেন, তিনি ইমতিয়াজের দিকে তাকিয়ে থেকেই হাত বাড়িয়ে ছবিটা নিয়ে নিলেন আমার হাত থেকে। মেঝেতে বসে থাকা ইমতিয়াজের চোখের সামনে মেলে ধরলেন ওটা।

    “হুটহাট করে এভাবে মিথ্যে বললে আদালতের বিচারক বুঝে যাবেন তুই একটা পাক্কা বদমাশ। তোর উকিল তখন কিছুই করতে পারবে না। ফাঁসি ঠেকানো সম্ভব হবে না রে, হারামখোর।”

    ইমতিয়াজের দৃষ্টিতে ভয় আর অবিশ্বাস মিলেমিশে একাকার। চোখ পিটপিট করে চেয়ে রইলো ছবিটার দিকে। হায়দারভায়ের প্রতিটি কথায় যেন চমকে উঠলো সে।

    “তোকে পিটিয়ে কথা বের করার কোনো দরকারই নেই… ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য শক্ত প্রমাণ আছে আমাদের হাতে।”

    বুঝতে পারলাম, হায়দারভাই চাইছেন ইমতিয়াজকে মানসিকভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে।

    “তুই অস্বীকার করলি নাকি স্বীকার করলি তাতে কিছুই যায় আসে না,’ কথাটা একটু হেসেই বললেন তিনি। “এটা নিয়ে আমরা মোটেও ভাবছি না। আমরা শুধু তোকে কিভাবে ধরা যায় সেটা নিয়ে টেনশনে ছিলাম।” হাফ ছাড়লেন এবার। “অবশেষে বহুকষ্টে তোকে ধরতে পেরেছি। এখন আর চিন্তা নেই।”

    ইমতিয়াজের মধ্যে রাগ-ভয় আর উত্তেজনা দেখা দিলো। দম ফুরিয়ে যেন হাফাচ্ছে সে। হায়দারভাই তাকে আর কিছু না বলে চুপচাপ বসে রইলেন। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সামনে বসে থাকা খুনির দিকে। এভাবে কয়েক মিনিট চলে গেলো। আমি মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম সব। ইমতিয়াজ চেষ্টা করে গেলো তার এলোমেলো চিন্তাভাবনাগুলো গুছিয়ে নিতে। স্পষ্টতই সে বিপর্যস্ত।

    “সব কিছু ভালোমতো স্বীকার করলে হয়তো বিচারক দয়া করে তোকে ফাঁসি না-ও দিতে পারে।”

    ভালো করেই জানতাম হায়দারভায়ের কথাটা মোটেও সত্যি নয়। সিনেমায় এসব নাটকিয় ডায়লগ থাকে। প্রচুর মানুষ আছে যারা এমন কথায় বিশ্বাসও করে। তাদের ধারণা, খুনের কথা, অপরাধের কথা স্বীকার করলে শাস্তি কমে যায়। বাস্তবতা হলো, এতে একবিন্দুও শাস্তি কমে না। কমে শুধুমাত্র মামলা আর আদালতের মূল্যবান সময়।

    “হত্যা-ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, তবে যাবজ্জীবনও দেয়া হয় অনেককে। ভাগ্য ভালো থাকলে তোর কপালে ফাঁসি না-ও জুটতে পারে।”

    ইমতিয়াজ চোখমুখ কুচকে চেয়ে রইলো হায়দারভায়ের দিকে।

    “ফাঁসিতে ঝুলে মরে যাওয়ার চেয়ে যাবজ্জীবন অনেক ভালো। অন্তত বেঁচে থাকা যায়।”

    আমার দিকে তাকালো ইমতিয়াজ। আমি যে তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে আছি সেটা দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মুখটা সরিয়ে নিলো। কিন্তু ততোক্ষণে একটা জিনিস আমার চোখে পড়ে গেছে। সামনের দিকে ঝুঁকে ইমতিয়াজের বাম-কানের দিকে ভালো করে তাকালাম আমি। একটা পুরনো আঁচড়ের দাগ! শুধু কানের উপরেই নয়, কানের ঠিক পেছনেও আছে আরেকটা।

    “ভাই, এটা দেখছেন?” আসামির বাম কানটা দেখিয়ে বললাম।

    হায়দারভাইও ঝুঁকে এলেন ইমতিয়াজের দিকে। ছেলেটা মুখ সরিয়ে নেবার চেষ্টা করতেই আমি তার চুল মুঠি করে ধরে ফেললাম শক্ত করে।

    “এটা কেমনে হয়েছে, বল্‌?”

    আমার প্রশ্নে কোনো জবাব দিলো না ইমতিয়াজ।

    হায়দারভাই মুচকি হাসলেন। “আলামত আর সাক্ষি-প্রমাণ তো দেখছি বেড়েই চলছে।”

    ইমতিয়াজকে ছেড়ে দিয়ে আবার আগের জায়গা চলে এলাম আমি। “ওর শরীরে নিশ্চয় আরো কিছু চিহ্ন আছে, হায়দারভাই।”

    আমার কথায় মাথা নেড়ে সায় দিলেন তিনি। “অবশ্যই আছে। থাকারই কথা। মেয়েটার সাথে জবরদস্তি করার সময় হয়েছে।” একটু থেমে আবার বললেন, “মিলির হাতের নখ দেখেছিলে? বেশ বড় বড়। মেয়েটা নিশ্চয় বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। এই শূয়োরটার গায়ে অনেক খামচির দাগ থাকার কথা।”

    “আমি কি ওর শার্টটটা খুলে দেখবো?”

    “আস্তে, ব্রাদার,” হাত তুলে আমাকে নিবৃত্ত করলেন তিনি। “আমাদের হাতে অনেক সময় আছে। আগে দেখি, ও নিজে থেকে কিছু বলে কি-না।”

    “আমি কিচ্ছু বলবো না!” গর্জে ওঠার চেষ্টা করলো ইমতিয়াজ। “আমি কোনো খুন করিনি! কিছু করিনি!”

    হায়দারভায়ের অভিব্যক্তিতে কোনো পরিবর্তন হলো না, নির্বিকারভাবে চেয়ে রইলেন তিনি।

    “তাহলে এই দাগগুলো কিসের? কিভাবে হলো?” আমি রেগেমেগে বলে উঠলাম।

    “আ-আমি যুদ্ধ করেছি…” একটু তোতলালো ইমতিয়াজ। “মি- মিলিটারির কাছে ধরা পড়েছিলাম…ও-ওরা টর্চার করেছে।”

    বাঁকাহাসি ফুটে উঠলো এসএম হায়দারের ঠোঁটে। “এটা মিলিটারির মারের দাগ! ওরা বাঙালিদের ধরে ধরে খামচি দিতো?! শালা!” বলেই চোখমুখ তিক্ত করে ফেললেন তিনি। “তিন-চার বছরের পুরনো পাকিদের খামচির দাগ?!”

    ইমতিয়াজ কোনো জবাব দিলো না।

    “কোন্ সেক্টরে যুদ্ধ করেছিস, তুই?”

    একটু ঢোক গিললো খুনি। “আ-আমি বিএলএফ-এ ছিলাম।”

    সঙ্গে সঙ্গে হায়দারভায়ের চোখমুখ কুচকে গেলো। পায়ের উপর থেকে পা-টা নামিয়ে নিলেন তিনি। “তুই মুজিববাহিনীতে ছিলি?”

    ইমতিয়াজ কিছু বললো না। তবে তার চোখমুখ দেখে আমার মনে হলো সে প্রাথমিক ধাক্কা আর বিপর্যস্ততা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে।

    “তোরা আবার যুদ্ধ করেছিস নাকি?! তোরা তো মুক্তিযোদ্ধাদের পেছনে লেগে থাকতি…যুদ্ধ করলি কবে? কয়টা পাকি মেরেছিস, অ্যাঁ? কয়টা গুলি করেছিস ফ্রন্টিয়ারে গিয়ে? তোরা হলি সিক্সটিং ডিভিশনের ফাইটার!” এতোক্ষণ ধরে নিজেকে শান্ত রেখেছিলেন হায়দারভাই, সেটা যেন নিমেষে ভেঙে পড়লো এবার।

    “না, আমরা যুদ্ধ করিনি! তোরা যুদ্ধ করেছিস!” রাগে ফুসে উঠলো ইমিতিয়াজ। “শালার কোলাবরেটর! ভেবেছিস আমরা জানি না? ঢাকায় বসে বসে পাকিস্তানিদের ফয়ফরমাশ খেটেছিস নয়টা মাস! এখন বড় বড় কথা বলছিস্!”

    ইমতিয়াজের কাছ থেকে এমন জবাব আমি কিংবা হায়দারভাই, কেউই আশা করিনি। নিজেকে আর সামলে রাখতে পারলেন না এসএম হায়দার। চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। আমাকে বললেন ঘরের দরজা বন্ধ করে দিতে। আমি দ্বিধাগ্রস্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে ধমক দিয়ে উঠলেন।

    “দরজা বন্ধ করতে বললাম না!”

    দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় মনে মনে প্রমাদ গুনলাম আমি। ভালো করেই জানি ইমতিয়াজ কতো বড় ভুল করে ফেলেছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এসএম হায়দারকে কটাক্ষ করা! তাকে কোলাবরেটর বলা! ইমতিয়াজ যদি জানতো এই মানুষটি কতো বড় মুক্তিযোদ্ধা তাহলে নিশ্চয় এমন ভুল করতো না।

    আমি যে-ই না দরজার ছিটকিনি লাগাবো অমনি পেছন থেকে শুনতে পেলাম তীব্র একটা আর্তনাদ। ঘুরে দেখি ততোক্ষণে কোমরের বেল্ট খুলে ফেলেছেন হায়দারভাই। ইমতিয়াজকে সেটা দিয়েই সমানে পেটাতে শুরু করেছেন।

    “শূয়োরেরবাচ্চা! আমি কোলাবরেটর!? আমি ঢাকায় বসে বসে পাকিদের…” রাগে আর ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিলেন, দম ফুরিয়ে হাপাচ্ছেন তিনি। সপাং করে বেল্ট দিয়ে আরেকটা আঘাত করলেন।

    “ওই! গায়ে হাত তুলবি না!” ইমতিয়াজ গর্জে উঠলো আবার। “খবরদার! একটারেও ছাড়বো না! ভালো হবে না কিন্তু!”

    হায়দারভায়ের বেল্টের আঘাত থেকে বাঁচতে নিজেকে কোনোরকমে সরিয়ে নিয়ে ঘরের এককোণে কুকড়ে থাকলো সে। তার হাতে-পিঠে-পায়ে বেল্টের আঘাত লাগছে।

    “যুদ্ধ শুধু তোরা করেছিস, না? আর আমরা সব কোলাবরেটর!” আবারো আঘাত। বিশাল বদ্ধঘরে সেটা আরো বেশি জোড়ালো শোনালো।

    আমি পেছন থেকে হায়দারভাইকে মৃদুস্বরে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি আমার কথাগুলো শুনতেই পেলেন না। কী করবো বুঝতে না পেরে দাঁড়িয়ে রইলাম কয়েক মুহূর্ত।

    তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলের অনেকেরই ভাবসাব এমন ছিলো, ভারতে আশ্রয় নেয়া এককোটির মতো শরণার্থি ছাড়া বাকিরা সবাই হয় কোলাবরেটর নয়তো সুবিধাবাদী ছিলো। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের ক্ষোভও ছিলো।

    ইমতিয়াজের চিৎকারে প্রকম্পিত হলো ঘরটা। সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে হায়দারভাইকে জাপটে ধরে নিবৃত্ত করলাম। বেল্ট রেখে তিনি এবার পা ব্যবহার করতে শুরু করেছেন।

    হায়দারভাইকে রুম থেকে বের করতে গিয়ে আমাকে ঘাম ঝরাতে হয়েছিলো সেদিন। বাইরে এসে তাকে শান্ত করতে একটা সিগারেট ধরিয়ে দেই। সেই সিগারেট কয়েক টানে শেষ করে আরেকটা চেয়ে বসেন। রাগে- ক্ষোভে গজ গজ করছিলেন। আমি তাকে না থামালে ইমতিয়াজকে মেরেই ফেলতেন হয়তো।

    যাই হোক, অনেক বুঝিয়ে-সুজিয়ে শান্ত করি তাকে। ইমতিয়াজকে জিজ্ঞাসাবাদ করার বাকি কাজটুকু আমি নিজের কাঁধে তুলে নেই। আমার সিগারেটের প্যাকেটটা হায়দারভায়ের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ঢুকে পড়ি সেই ঘরে।

    ইমতিয়াজের সারা শরীরে প্রহারের চিহ্ন। শেষের দিকে এসএম হায়দারের লাখি তার নাক-মুখের অবস্থাও কাহিল করে দিয়েছে। দু-হাত আর পিঠে বেল্টের দাগগুলো ডলে যাচ্ছে সে চোখমুখ খিচিয়ে

    পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে দিলে ইমতিয়াজ অবিশ্বাসে চেয়ে রইলো আমার দিকে, তারপর চুপচাপ রুমালটা নিয়ে নাক-মুখের রক্ত মুছতে লাগলো। ঘরের একমাত্র চেয়ারে বসে পড়লাম আমি।

    “আমি ওই শালাকে ছাড়বো না,” ইমতিয়াজ বলে উঠলো। “ও জাসদ করে, আমি শিওর। ওর কথা শুনেই বোঝা যায়। আমার গায়ে হাত তুলেছে…কতো বড় সাহস!”

    “চুপ!” আমি রেগে গিয়ে বলে উঠলাম। আমার ধমক খেয়ে ফ্যালফ্যাল চোখে চেয়ে রইলো সে। “একদম চুপ! একটা মেয়েকে বিয়ের মাত্র তিনমাসের মাথায় রেপ করে মার্ডার করেছিস…এখন আবার বড় গলায় কথা বলছিস!” আমার চোখেমুখে তিক্ততায় ভরে উঠলো। “ভেবেছিস সব অস্বীকার করলেই বেঁচে যাবি?” মাথা দোলালাম আমি। “কক্ষনো না! এসএম হায়দার তোকে ফাঁসিতে ঝোলানোর আগপর্যন্ত থামবে না।”

    “আমি কিচ্ছু করিনি! আমি কিচ্ছু জানি না। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে ওই শালার পুলিশ!” ইমতিয়াজ চেঁচিয়ে উঠলো।

    তাকে আমার আস্ত একটা শয়তান বলে মনে হচ্ছিলো তখন। “তুই এখন পর্যন্ত একটাও সত্যি কথা বলিসনি। সব মিথ্যে বলেছিস। তাতে কোনো সমস্যা হবে না। যে প্রমাণ আমাদের হাতে-”

    “আরে রাখ তোর প্রমাণ!” এবার চোখমুখ খিচে বললো সে। “আমার বালটাও ছিঁড়তে পারবি না তোরা!”

    আমি স্থিরচোখে চেয়ে রইলাম মিলির খুনির দিকে।

    “একবার খালি আমার নেতা জানুক, তারপর দেখবি কি হয়। তোদের সবাইকে আমি ভুরুঙ্গামারিতে পাঠামু!”

    শেষ কথাটা আঙুল উঁচিয়ে বললো ইমতিয়াজ। স্বাধীনতার পর থেকেই পুলিশকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলির হুমকি দিয়ে কাবু করার রেওয়াজ চালু হয়ে গেছিলো। আর হুমকিটা শুধু বড় বড় নেতারাই নয়, ইমতিয়াজের মতো পাতিরাও দিতে কসুর করতো না। পরবর্তিতে ভুরুঙ্গামারির জায়গায় বান্দরবান-খাগড়াছড়ি ব্যবহৃত হতে শুরু করেছিলো, এই যা।”

    আমার ইচ্ছে করছিলো হায়দারভায়ের মতো বেল্ট খুলে হারামজাদাকে পেটাই, কিন্তু এ কাজ আমি জীবনেও করিনি। পুলিশে যোগ দেবার পরও না। এরকম আগ্রাসি আচরণের কথা আমি শুধু ভাবতেই পারি, কিন্তু সত্যি সত্যি কোনো মানুষকে পেটানো যে আমার পক্ষে সম্ভব নয় সেটা বহুকাল আগেই বুঝে গেছিলাম। সম্ভবত এ কারণেই উপযুক্ত বয়স থাকার পরও, মনে প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে পারিনি। কারণ যুদ্ধে মানুষ হত্যা করতে হয়!

    ইমতিয়াজের আচরণে রাগে আমার গা রি রি করে উঠলো। আমি কিছু বলতে যাবো অমনি ঘরে ঢুকে পড়লেন হায়দারভাই। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। সম্ভবত বাইরে থেকে ইমতিয়াজের তর্জন-গর্জন উনার কানে গেছে। মিলির খুনিও একটু ভড়কে গিয়ে চুপ মেরে গেলো হঠাৎ করে। কিন্তু এসএম হায়দারের মধ্যে কোনো উত্তেজনা দেখতে পেলাম না। তাকে খুব শান্ত আর স্বাভাবিক মনে হলো আমার কাছে।

    আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালে তিনি আমাকে বসার জন্য ইশারা করলেন। “বসো।” তারপর আমার পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কিছু স্বীকার করেছে?”

    “না,” আস্তে করে বললাম তাকে।”

    কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে হায়দারভাই বলে উঠলেন, “মনে হচ্ছে বিরাট বড় একটা ভুল করে ফেলেছি আমরা।”

    আমি তার কথার মাথামুণ্ডু কিছু বুঝতে না পেরে চেয়ে রইলাম। “ভুল করেছি? কি?”

    “এই ছেলেটা মনে হয় না একা একা মিলিকে ধর্ষণ করে খুন করেছে। আমি যেন আক্ষরিক অর্থেই আকাশ থেকে পড়লাম। “কি?!” এরইমধ্যে কি খুনির নেতা থানায় ফোন করে ফেলেছে? আর সেই ফোন পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার বেড়ালের মতো চুপসে গেছেন? মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে লাগলো কথাগুলো।

    “আহ্, ওকে ভালো করে দেখো।” ইমতিয়াজকে ইঙ্গিত করে বললেন তিনি।

    আমি কোনো কিছু বুঝতে না পেরে তাকালাম মেঝেতে বসে থাকা খুনির দিকে।

    “ওর মতো রোগাপটকা আর পাঁচফুটি সাইজের একটা ছেলের পক্ষে মিলির মতো মেয়েকে ধর্ষণ করা সম্ভব না।”

    “আপনি এসব কী বলছেন?” কথাটা আমার মুখ দিয়ে বের হয়ে গেলো। “ভেবে দেখো, আমাদের ভিক্টিমের হাইট কতো…পাঁচফিট পাঁচ। মেয়ে হিসেবে বেশ ভালো উচ্চতা। আর এটাকে দেখো, পাঁচফুট তিন-চারের বেশি হবে না। তার উপরে শরীরে কিছু নেই…রোগাপটকা। দেখলেই মনে হয় দিনে তিনবার গাঞ্জা খায়। এর পক্ষে কি একা একা মিলিকে ধর্ষণ করে খুন করা সম্ভব?”

    “আপনি বলতে চাইছেন…?”

    মাথা নেড়ে সায় দিলেন এসএম হায়দার। “কাজটা ও একা করেনি।”

    “কিন্তু আপনি যে বলেছিলেন, একজন মেহমান-”

    হাত তুলে আমার কথার মাঝখানে বাধা দিলেন তিনি। “ভুলটা তো সেখানেই করেছি।” এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “গোড়ায় গলদ হয়ে গেছে। তখন তো এই হারামজাদাকে সামনাসামনি দেখিনি। ছবি দেখে কি বোঝা যায়? এখন আমি নিশ্চিত, ওর পক্ষে মিলিকে ধর্ষণ করে খুন করা সম্ভবই না।”

    সত্যি বলতে আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম কথাটা শুনে। আরো একবার ইমতিয়াজের দিকে ভালো করে তাকালাম। রাগে-অপমানে সে কাঁপছে। কথাগুলো হজম করতে বেগ পাচ্ছে যেন।

    “তাছাড়া, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কথাটা ভাবো,” হায়দারভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন। “ভিক্টিমের ভ্যাজাইনার যে কন্ডিশন হয়েছিলো সেটা এর পক্ষে করা কি সম্ভব?”

    আমার মুখের জবান বন্ধ হয়ে গেলো। ফ্যালফ্যাল করে হায়দারভায়ের দিকে চেয়ে রইলাম।

    “এই বগা-টাইপের ছেলেটার ওই জিনিস আর কতো বড় হবে, অ্যাঁ?” তর্জনি আর বুড়ো আঙুল দিয়ে আকৃতিটা দেখালেন তিনি, “দাঁড়ালেও তিন ইঞ্চির বেশি হবে না। এরকম সাইজ দিয়ে কি ওটা করা যাবে?” মাথা দোলালেন এসএম হায়দার। “অসম্ভব!”

    ঢোক গিললাম আমি, “তাহলে ওর সাথে আরেকজন ছিলো? সে কে?”

    “সেটাই এখন বের করতে হবে। এই শালা অবশ্যই ছিলো কিন্তু কাজটা করেছে ওর সঙ্গে থাকা বলশালী আর তাকত আছে এমন কেউ। এই শালা হলো পাহারাদার। ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা। বুঝলে? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখেছে। খচ্চরটার জন্মই হয়েছে পাহারা দেবার জন্য। কাজ করার মুরোদ ওর নেই।”

    আমার মাথায় ঢুকলো না হায়দারভাই হঠাৎ করে এসব কেন বলছেন! কিন্তু রোগাপটকা, ছোটোখাটো ইমিতিয়াজকে আমার সামনে বসে থাকতে দেখে মনে হলো, হায়দারভায়ের কথাটা উড়িয়ে দেয়াও যায় না। তার কথা শোনার পর আমারও মনে হলো, এই ছেলের পক্ষে মিলির মতো মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করাটা আসলেই কঠিন।

    হায়দারভাই এগিয়ে গেলেন ইমতিয়াজের দিকে। ওর একটা হাত ধরে বললেন, “দেখো, মেয়েমানুষের মতো নরম হাত…আমাদের সামনে নার্ভাস হয়ে কেমন কাঁপছে…ও তো মিলির সামনে গিয়ে দাঁড়ানোরই সাহস রাখতো না। এই টাইপের ছেলেগুলো মেয়েদের সাথে জোর-জবরদস্তি করার হিম্মত রাখে না, ব্রাদার। আমি নিশ্চিত, ওর সাথে আরেকজন ছিলো।” এবার ইমতিয়াজের দিকে তাকিয়ে বললেন তিনি, “বল্, কে ছিলো তোর সাথে?”

    ইমতিয়াজ নিজের হাতটা ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে নিলো এসএম হায়দারের কাছ থেকে। “কেউ ছিলো না! আমি একাই খুন করেছি! আর আমার ওটা দেখতে চা?” কেমনজানি উন্মাদগ্রস্ত হয়ে পড়লো সে। প্যান্টের জিপার খুলে গোপনাঙ্গটা বের করে বিশ্রিভাবে দেখালো আমাদের। “দেখ শূয়োরেরবাচ্চা! তিন ইঞ্চির নুনু নিয়ে আমি ঘুরে বেড়াই না! তোদের চেয়েও বড় আছে! এটা দিয়ে ওই মেয়ের জন্মের সাধ মিটিয়ে দিয়েছি! ফাটায়া দিছি শালিরে!”

    কথাটা শুনে আমার গায়ের পশম দাঁড়িয়ে গেলো। চট করে তাকালাম এসএম হায়দারের দিকে, উনার ঠোঁটে তখন প্রচ্ছন্ন বাঁকাহাসি। সঙ্গে সঙ্গে উনার কৌশলটা ধরতে পারলাম, বুঝতে পারলাম মিলির খুনির স্বীকারোক্তি পেয়ে গেছি আমরা!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজোনাকির রঙ – সায়ক আমান
    Next Article বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    Related Articles

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    দ্য দা ভিঞ্চি কোড – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    অরিজিন – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেমেসিস (বেগ-বাস্টার্ড – ১) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    কন্ট্রাক্ট (বেগ-বাস্টার্ড ২) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেক্সাস (বেগ-বাস্টার্ড ৩) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026
    Our Picks

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    July 4, 2026

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }