Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    July 4, 2026

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এক পাতা গল্প311 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কেউ কেউ কথা রাখে – ৫

    অধ্যায় ৫

    রামজিয়া গাড়ি চালাচ্ছে আর আমি বসে আছি তার পাশে। রাস্তার লোকজনের তাকানোর ভঙ্গি দেখে বুঝতে পারলাম এ শহরের লোকজন এখনও কোনো মেয়েকে গাড়ি চালাতে দেখলে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। অনেকে আবার আমার দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে যেন আমি কোনো পুরুষই না! ব্যাটা মানুষ হয়ে গাড়ি না চালিয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে, আর গাড়িটা চালাচ্ছে কি-না এক বেটি!

    আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, তাদের মনে এ-কথাগুলোই প্রতিধ্বণিত হচ্ছে। ব্যাপারটা বেশ উপভোগ্য আমার কাছে। রামজিয়া কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমাকে জানি না। জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনও মনে করিনি। আজ এতো বছর পর দেখা, একটুখানি সময় কাটাতে পারলে মন্দ কি!

    “গল্পটা কি মিলির খুন নিয়েই? মানে শুধুই ওই ঘটনাটা নিয়ে লিখেছো?” রাস্তা থেকে চোখ সরিয়ে চকিতে আমার দিকে তাকালো সে।

    “ঠিক তা নয়।”

    “তাহলে? তোমার অটো-বায়োগ্রাফি?”

    হেসে মাথা দোলালাম। “না, তা-ও নয়।”

    “বাট দিস ইজ নট অ্যা ফিকশন, আই গেস?” রাস্তায় চোখ রেখেই বললো সে।

    “অবশ্যই ফিকশন। আমি এখন পর্যন্ত নন-ফিকশন কিছু লিখিনি, লিখতেও পারি না।” একটু থেমে আবার বললাম, “এটাকে বলতে পারো সত্যি ঘটনা অবলম্বনে লেখা ফিকশন।”

    পাশ ফিরে আমার দিকে তাকালো সে। তার বাম ভুরুটা একটু উপরে উঠে গেলো। সঙ্গে সঙ্গে আবার নজর দিলো সামনের রাস্তার দিকে। “সবটাই কি সত্যি ঘটনা নাকি কিছু ফিকশনও রয়েছে?”

    কয়েক মুহূর্ত চুপ মেরে রইলাম। এ প্রশ্নের জবাব দেয়াটা একটু কঠিনই। যা লিখেছি সবটাই সত্যি কিন্তু সেগুলোর সবই আমার নিজের চোখে দেখা ঘটনা। আমি যেভাবে দেখেছি, অনুভব করেছি, বুঝেছি তা-ই লিখেছি। এরমধ্যে অনেক কিছুই আছে যা একান্তই আমার নিজস্ব ভাবনা। অনেক কিছুই আছে আমার নিজস্ব বোধ থেকে উৎসারিত। আমি ছাড়াও এ গল্পে অনেক চরিত্র আছে-তাদেরকে আমি আমার দৃষ্টিতেই চিত্রিত করেছি। তাদের মনোভাবের বিষয়টা সত্যি বলতে আমার নিজেরই।

    “কঠিন প্রশ্ন করে ফেললাম নাকি?”

    রামজিয়ার কথায় একটু চমকে উঠলাম। “না। ভাবছি, কী বলবো। আসলে আমি সজ্ঞানে ফিকশনাল কিছু লিখিনি, সত্যি ঘটনাটাই লিখেছি। তবে সেটা আমার চোখ দিয়ে, আমার দৃষ্টিকোণ থেকে। এর সবটা হয়তো সত্যি নয়, কিছু কল্পনাও আছে।”

    “হুম, বুঝেছি,” রাস্তার দিকে চোখ রেখেই বললো সে।

    আমি জানি না সে কি বুঝতে পেরেছে। কয়েক মুহূর্ত চুপ থাকলাম আবারো।

    “আমাকে কিভাবে প্রেজেন্ট করেছো?” জানতাম এই প্রশ্নটা সে করবেই।

    “আমি কি তোমার এই লেখায় পুরোপুরি ফ্যাকচুয়াল নাকি ফিকশনাল?” রাস্তা থেকে চোখ না সরালেও আমি তার মুখের বাঁকাহাসিটা ঠিকই দেখতে পেলাম। যে মানুষটার সাথে সর্বসাকুল্যে মাত্র কয়েক মাসের পরিচয়, হাতেগোনা কয়েকবার দেখা-কথাবার্তা, তারপর দীর্ঘ দুই যুগ কোনো যোগাযোগ না থাকা তাকে আর যাই-ই হোক বাস্তব বলার কোনো উপায় নেই। সে তো গল্প-উপন্যাসের চরিত্রের চেয়েও দূরবর্তি!

    অবশেষে আস্তে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, “পড়লেই বুঝতে পারবে।”

    “পড়বো তো অবশ্যই, জাস্ট জানতে ইচ্ছে করছে, না বলতে চাইলে ইনজিস্ট করবো না।”

    আনমনেই মাথা নেড়ে সায় দিলাম। চকিতে আমার দিকে তাকালো সে কিন্তু চোখে চোখ পড়ার আগেই রাস্তার দিকে ফিরে গেলো।

    “আমি আগে তোমার কোনো লেখা পড়িনি, শুনেছি তুমি ক্রাইম-ফিকশন লেখো। এটাও কি সে রকম কিছু?”

    “উমমম…বুঝতে পারছি না।”

    আমার দিকে চোখ গোল গোল করে তাকালো সে। এরকম চাহনি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াদেরই বেশি মানায়। “তুমি নিজেই বুঝতে পারছো না, তাহলে পাঠক কী বুঝবে?”

    মুচকি হাসলাম। সঙ্গত প্রশ্নই করেছে। “আসলে, যে-রকম ক্রাইম- ফিকশন আগে লিখেছি এটা ঠিক সে রকম নয়। এখানে কোনো টুইস্ট নেই,

    নাটকিয় উপাদানও নেই। শুধুই ট্র্যাজেডি।” একটু থেমে যোগ করলাম, “আর সন্দেহ।”

    কয়েক মুহূর্ত ভেবে বললো, “ইনভেস্টিগেশনটা…আই মিন, মিলির কেসটা নিয়ে যে তদন্ত করেছিলে তোমরা সেটা ডিটেইল আছে তো এখানে?”

    “হ্যা।” ছোট্ট করেই বললাম।

    “দেন আ’ড লাভ টু রিড ইট।” মুচকি হাসলাম আমি।

    “স্টেট্সে কিন্তু ক্রিমিনাল ল-ই প্র্যাকটিস করতাম।”

    আমি তার ইন্টারভিউ পড়ে এটা জেনেছি। “তা, ক-জন ক্রিমিনালকে বাঁচিয়েছো এ পর্যন্ত?” হালকাচালে বললাম।

    আমার দিকে না তাকিয়েই ভুরু কুচকে ফেললো সে। “হোয়াট ডু ইউ মিন বাই দ্যাট?”

    “ক্রিমিনাল ল-ইয়ার ছিলে, নিশ্চয় ক্রিমিনালরাই আসতো তোমার কাছে। কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে বলতো, ম্যাম, সেভ মাই অ্যাজ!”

    হি-হি-হি করে হেসে উঠলো রামজিয়া। তার অট্টহাসিটাও আগের মতোই আছে। “ইয়েস, আই ইউস্ড টু সেভ্ লটস অব অ্যাজেস!”

    মাথা নেড়ে সায় দিলাম আমি।

    গাড়িটা ধানমণ্ডির একটি বাড়ির সামনে থামলে আমি অবাক হয়ে দেখলাম সময় যেন থমকে দাঁড়িয়ে আছে আমার চোখের সামনে।

    ***

    পুলিশের জিপ থেকে নেমে রামজিয়াদের দোতলা বাড়িটার দিকে তাকালাম। অভিজাত পাড়ার অভিজাত একটি বাড়ি।

    সদ্যস্বাধীন হওয়া দেশ। চারদিকে হাহাকার। কিন্তু এই বিক্ষুব্ধ সময় আর বঞ্চনা সারাদেশ গ্রাস করলেও এ শহরের কিছু এলাকায় প্রবেশ করতে পারেনি। তারা যেন বানের জলে ডুবে থাকা অঞ্চলের মধ্যে ভাসমান কিছু গেরস্থ বাড়ি! কিংবা চারপাশের পঙ্কিলতা থেকে বিচ্ছিন্ন নিরাপদ কোনো ঘেট্টো!

    মিনহাজের বাসা থেকে আমি চলে এসেছিলাম আজিমপুর থানায়। হায়দারভাই যে কোথায় গেছে কে জানে। শুনলাম তখনও থানায় আসেননি দুপুরের খাওয়ার পর হাতে তেমন কোনো কাজ না থাকায় আমি মিনহাজের দেয়া নাম্বারে ডায়াল করি। যাকে খুঁজছিলাম সে-ই ফোনটা ধরে। তার ছবি দেখে মুগ্ধ ছিলাম, কণ্ঠ শুনে একেবারে কুপোকাত হয়ে গেলাম। এমন কণ্ঠের নারীর জন্যই তো যুবকেরা অপেক্ষা করে।

    তাকে সংক্ষেপে বললাম তার তোলা গায়েহলুদের ছবিগুলোর মধ্যে একজনের নাম-পরিচয় জানতে চাইছি। আমার বর্ণনা শুনে সে চিনতে পারলো না। সেটাই স্বাভাবিক। ছবিতে একজন মিলির দিকে তাকিয়ে ছিলো? কে হতে পারে? ছবিটা দেখলে হয়তো চিনতে পারবে। রামজিয়া নামের মেয়েটি যখন বুঝতে পারলো আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াসটি তার বান্ধবির হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তখন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া দিয়ে তার বাড়িতে চলে আসতে বললো আমাকে। বিকেলে সে ফ্রি আছে। সমস্যা না থাকলে আজই চলে আসতে পারি তার বাসায়।

    পুলিশের জিপটা ওদের ধানমণ্ডির বাড়ির বাইরে রেখেই আমি মেইন দরজায় গিয়ে দারোয়ানকে বললাম রামজিয়ার কথা। পুলিশের ইউনিফর্ম দেখে দারোয়ান আমাকে সমীহ করলেও বলামাত্রই ভেতরে ঢুকতে দিলো না, ভেতরে গিয়ে অনুমতি নিয়ে ফিরে এলো, সঙ্গে করে নিয়ে এলো এক কাজের লোককে। ঐ কাজের লোকের সাথে আমি চলে গেলাম নীচতলার ড্রইংরুমে, তবে সেখানে খুব বেশিক্ষণ বসে থাকতে হলো না আমাকে।

    বেলবটম ফুলপ্যান্ট আর শর্ট-কামিজ পরা মোহনীয় এক তরুণী ড্রইংরুমে ঢুকতেই বুঝতে পারলাম এই সেই কিন্নরীকণ্ঠী। সত্যি বলতে, আগে এমন আপ-টু-ডেট মেয়ে পথেঘাটে দেখলেও তাদের সাথে কখনও আমার কথা হয়নি।

    হ্যা, আপ-টু-ডেট! তখন স্মার্ট আর আধুনিক মেয়েদেরকে লোকজন এটাই বলতো।

    “একটু আগে কি আপনার সাথেই আমার কথা হয়েছিলো?”

    আমি টের পেলাম টেলিফোনের চেয়েও বাস্তবে তার কণ্ঠ অনেক বেশি মোহনীয়। “জি।” ছোট্ট করে বললাম।

    “ফোনে আপনার গলা শুনে মনে হয়েছিলো খুব বয়স্ক একজন,” বলেই আলতো করে হাসলো।

    এটাকে আমার প্রশংসা হিসেবেই দেখা উচিত ছিলো কিন্তু সত্যি বলতে, ঐ সময় আমি একটু অন্য ভাবনায় ডুবে ছিলাম। আমার মনে হচ্ছিলো সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি হয়তো ভাবছে টেলিফোনে যার সাথে কথা বলেছে সে আমি নই।

    আমার পাশে একটা সোফায় বসে পড়লো সে। ধনী আর অভিজাত পরিবারের অন্দরমহলে ঢুকে একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। এরকম অস্বস্তি এখনও আমাকে পেয়ে বসে। বিশেষ করে যার বাসায় যাই সে যদি সহজ ব্যবহার না করে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, ধনীরা সাধারণত নিজেদের আচার-ব্যবহার দ্রুত বদলায় না। হয় এটা করার প্রয়োজনই মনে করে না তারা কিংবা এ কাজটা করতে চায় না। তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তিটা যেমন মজবুত তেমনি তাদের এই আলগা ইমেজটিও শক্তপোক্ত থাকে। আর মধ্যবিত্ত অনেক চেষ্টা করে, তিলে তিলে তার আলগা ইমেজ গড়ে তুললেও সেটা ডিমের খোসার মতোই ভঙ্গুর। দরকার শুধু একটা চাপের! তবে নিম্নবিত্ত তার শরীরের মতোই নগ্ন-আলগা ইমেজহীন।

    অবশ্য ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে রামজিয়াকে দেখে আমার মনে হলো, তার কোনো আলগা ইমেজ নেই। মুখোশ নেই।

    “ছবিটা কি নিয়ে এসছেন?”

    রামজিয়ার কথায় নড়েচড়ে বসলাম। আমি এখানে এসেছি ভয়ঙ্কর একটি হত্যা-ধর্ষণের তদন্ত কাজে অথচ মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে রোমান্টিক সব চিন্তা-ভাবনা। নিজেকে আমার চাঁদের সামনে বসে থাকা বামন বলে মনে হলো।

    “জি,” আবারো একই শব্দ আওড়ালাম।

    “মিলির কাজিনের গায়েহলুদের যে ছবিগুলো আছে তার বেশিরভাগই আমার নিজের ক্যামেরায় তোলা, সেজন্যে আমার খুব কম ছবিই আছে, ‘ সহজভাবে বলে যেতে লাগলো মেয়েটি। “আমার অবশ্য ফটোগ্রাফি করতে ভালো লাগলেও নিজের ছবি তুলতে একদম বিশ্রী লাগে।”

    সমস্ত মুগ্ধতা স্থগিত করে আমি বুকপকেট থেকে ছবিটা বের করে তার দিকে বাড়িয়ে দিলাম। “এই যে, পেছনের ডানদিকের এই লোকটা…” মিলিকে আড়চোখে দেখতে থাকা তরুণকে দেখিয়ে বললাম।

    রামজিয়া স্থিরচোখে কয়েক মুহূর্ত ছবিটার দিকে চেয়ে রইলো। আস্তে করে নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরলেও সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক অভিব্যক্তি দেবার চেষ্টা করলো সে।

    “আপনার বান্ধবির মতো মেয়ের দিকে যেকোনো পুরুষই তাকাবে কিন্তু,” একটু থেমে আবার বললাম, “এই লোক বেশ কয়েকটি ছবিতেই এভাবে চোরাচোখে চেয়ে আছে। ব্যাপারটা সন্দেহজনক মনে হচ্ছে আমার কাছে।”

    মুখ তুলে তাকালো রামজিয়া। “শুধু এ কারণেই ওকে সন্দেহ করছেন নাকি আরো কোনো কারণ আছে?”

    একটু ভেবে বললাম, “আমাদের ধারণা, খুনি ভিক্টিমের পরিচিত।”

    রামজিয়া চেয়ে রইলো আমার দিকে। সে আরো কিছু শুনতে চায় নাকি এমনি চেয়ে আছে বুঝতে পারলাম না।

    “তাছাড়া লোকটার চাহনির মধ্যে কিছু একটা আছে…চাহনিটা ঠিক স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।”

    “আপনি বলতে চাইছেন চাহনিটা স্বাভাবিক নয়?”

    “হুম।”

    আমার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে ছবির দিকে তাকালো। যেন সে নিজেও চাহনির মধ্যে ওরকম কিছু খুঁজে পেতে চাইছে। সে-ও একজন নারী। পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি ভালো করেই বোঝার কথা। তবে সম্ভবত সে আমার কাছ থেকেই জানতে চাইছে। হয়তো পরিস্কার হতে চাইছে।

    এমন সময় চা-বিস্কিট নিয়ে এক কাজের লোক চলে এলো।

    “প্লিজ, নিন।”

    কথাটা বলেই রামজিয়া আবার ছবির দিকে চেয়ে রইলো, তারপর নিজের কাপটা তুলে নিয়ে আলতো করে নিঃশব্দে চুমুক দিলো তাতে। তার দৃষ্টি আটকে আছে ছবিতে।

    তাকে চা খেতে দেখে আমার ভালো লাগলো। তাহলে আমি উটকো মেহমান নই!

    চায়ের কাপ তুলে আমিও চুমুক দিলাম বেশ সাবধানে। ভালো করেই জানতাম, শব্দ করে চুমুক দেয়াটাকে অভিজাতরা ছোটোলোকি স্বভাবের বলে মনে করে। কিন্তু নিজেকে বিব্রত করে দিয়ে আস্তে করে একটা শব্দ করে ফেললাম। হয়তো এই প্রথম চায়ে চুমুক দেবার সময় আমি শব্দহীন থাকার চেষ্টা করেছি বলে, কিংবা ভেতরে ভেতরে নার্ভাস ছিলাম—কারণ যাই হোক, নিজের কাছেই আমার চুমুক দেবার ছোট্ট আর মৃদু শব্দটি খুব জঘন্য লাগলো প্রথমবারের মতো! দ্বিতীয় চুমুক দেবার সাহস হলো না আমার। স্থির চোখে চেয়ে রইলাম রামজিয়ার দিকে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ছবি দেখে যাচ্ছে সে। আমার চুমুকের শব্দ তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে এক ধরণের স্বস্তি পেলাম। কিন্তু সেটা মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য।

    “আমার বাবা বলেন, শব্দ করে চা না খেলে নাকি চায়ের মজাটাই নষ্ট হয়ে যায়,” বেশ শান্তকণ্ঠে ছবির দিকে চোখ রেখেই বলে গেলো সে।

    আমি ঝিম মেরে গেলাম। কথাটা শেষ করে চকিতে আমার দিকে চেয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আবার ফিরে গেলো ছবিতে।

    “আপনি কিন্তু চা খাচ্ছেন না,” এবারও আমার দিকে না তাকিয়ে বললো।

    “না, এই তো…খাচ্ছি,” এবার আর চুমুক না দিয়ে উপায় রইলো না। রামজিয়ার চোখ যেমন ছবিতে নিবদ্ধ তেমনি আমার চোখ তার উপরে নিপতিত।

    “আপনার কথাই ঠিক,” ছবি থেকে চোখ তুলে বললো সে, “ওর চোখের চাহনি অন্যরকম।”

    আমি আর কিছু বললাম না।

    “আমিও একজন মেয়ে। পুরুষের দৃষ্টিতে কি থাকে ভালো করেই জানি।”

    আনমনেই ঢোক গিলে ফেললাম। কথাটা কি আমাকে উদ্দেশ্য করে? চোরের মন তো পুলিশ-পুলিশ। এদিকে আমি আবার স্বয়ং পুলিশ! নিজেকে চোর মনে করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। “লোকটা কে?” আমি কাজের কথায় ফিরে যেতে চাইলাম। চোর থেকে পুলিশ হতে চাইলাম আর কি!

    দীর্ঘশ্বাস ফেললো রামজিয়া। “ওর নাম ইমতিয়াজ…ইমতিয়াজ শফিক।”

    “মিলির কি হয়?”

    “কেমন জানি আত্মীয় হয়, আমি ঠিক বলতে পারছি না। তবে মিলিদের পরিবারের সাথে ওদের সম্পর্ক বেশ ভালো।” কাপ আর ছবি দুটোই নামিয়ে রাখলো সে। “অনেকদিন পর গায়েহলুদে তার সাথে আবার দেখা হয়ে গেলো।”

    “অনেক দিন পর দেখা হলো মানে? আপনি কি মিলির এই আত্মীয়কে আগে থেকে চিনতেন?” মোক্ষম প্রশ্নটাই করলাম আমি।

    নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো সে। “মিলি আর আমি একই স্কুল-কলেজ আর ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি। ওর পরিবারের সবাইকে আমি চিনি। অনেক আত্মীয়স্বজনকেও চিনি।”

    “এই ইমতিয়াজ লোকটার সাথে মিলির কি কোনো সম্পর্ক ছিলো?” প্রশ্নটা করার পরই বুঝতে পারলাম এতোটা সরাসরি না বললেও পারতাম। কিন্তু কিছু করার নেই, বন্দুক থেকে গুলি বের হয়ে গেছে।

    একটু চুপ মেরে গেলো রামজিয়া। আস্তে করে নীচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো আবার। “অনেক আগের কথা, তেমন কিছু না আসলে। ইউ নো, অল্প বয়সে যা হয়।”

    আমি অপেক্ষা করলাম পুরোটা শোনার জন্য।

    “আমরা যখন কলেজে পড়তাম তখন একবার মিলিকে প্রেমপত্র দিয়েছিলো ইমতিয়াজ। এ নিয়ে আমরা বান্ধবিরা খুব মজা করেছিলাম।”

    “তারপর?” আমি আরো কিছু জানার জন্য উদগ্রিব।

    “তারপর আর কি…এই তো।”

    আমার মনে হলো রামজিয়া এই বিষয়টা নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাইছে না। “আপনি একটু খুলে বললে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। এটা মিলির খুনের তদন্তে সাহায্য করবে।”

    স্থিরদৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে রইলো রামজিয়া। “এসব তেমন কোনো ঘটনা নয়। এগুলো প্রায় সব মেয়ের জীবনেই ঘটে।”

    “আমি আসলে জানতে চাইছি, প্রেমপত্র দেবার পর কি হলো।”

    গভীর করে দম নিয়ে নিলো সে। “মিলির মতো মেয়ে ইমতিয়াজের মতো ছেলের সাথে কোনো সম্পর্কে জড়াবে না এটাই স্বাভাবিক। ওদের মধ্যে অনেক অনেক ডিফারেন্স ছিলো। কোনো কিছুই ম্যাচ করতো না। করার কথাও নয়।”

    “স্ট্যাটাসের কথা বলছেন?”

    আমার কথাটা শুনে মাথা দোলালো আস্তে করে। “না, ঠিক তা নয়। আসলে দেখতে-শুনতে, আচার-ব্যবহার, পড়ালেখা কিংবা পারিবারিক অবস্থা…কোনো দিক থেকেই মিলির যোগ্য ছিলো না ইমতিয়াজ। ওদের দুই ফ্যামিলির সখ্যতার সুযোগ নিয়ে সে এ কাজটা করেছিলো বলে মনে হয়।”

    মাথা নেড়ে সায় দিলাম আমি। “তাহলে মিলি তাকে রিফিউজ করে দিয়েছিলো?”

    “সঙ্গে সঙ্গে করেনি অবশ্য।”

    আমি স্থির চোখে চেয়ে রইলাম।

    মলিন হাসি দিলো সে। “একটু নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছে আর কি।” আমি অবাক হলাম কথাটা শুনে।

    “অবাক হবার কিছু নেই, এরকম কাজ অল্পবয়েসি মেয়েরা করেই থাকে।”

    “তারপর কি হলো?”

    “কি আর হবে, কয়েকদিন পর মিলি জানিয়ে দিলো ওর মনোভাব।”

    “ইমতিয়াজ এটা কিভাবে নিলো?”

    “সেটা তো আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। ধরে নিতে পারি একটু মন খারাপ হয়েছিলো। এর বেশি কিছু না। গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে দেখা হবার পর স্বাভাবিক আচরণই করেছে সে। যেচে যেচে আমাদের সাথে কথা বলেছে।”

    “আপনাদের সাথে নাকি শুধু মিলির সাথে?”

    গভীর করে নিশ্বাস নিয়ে বললো, “শুধু মিলির সাথে।”

    “আগেও কি এই লোকটা এরকম করতো? মানে, গায়ে পড়ে মিলির সাথে কথা বলার চেষ্টা করতো?”

    “মিলি না করে দেবার পর আর ঘুরঘুর করেনি। আসলে মিলির পেছনে কে ঘুরঘুর করলো সেটাকে আমরা সিরিয়াসলি নিতাম না। আফটার অল, মিলি দেখতে খুব সুন্দর ছিলো। অনেকেই তার পেছনে ঘুরঘুর করতো।”

    “কখনও এর বেশি কিছু করে নি?”

    স্থিরচোখে আমার দিকে কয়েক মুহূর্ত চেয়ে রইলো রামজিয়া। “বাড়াবাড়ি করার কথা বলছেন?”

    মাথা নেড়ে সায় দিলাম আমি।

    “যুদ্ধের পর একবার জোর করে মিলির সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও মিলি পাত্তা দেয়নি। সে-ও আর এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করেনি।”

    “আপনি বলতে চাইছেন মিলি ওর সাথে কথা বলেনি?”

    “হ্যা।”

    “আপনি শিওর?”

    একটু ভেবে বললো, “পুরোপুরি শিওর কিভাবে হবো? আমার সামনে কথা হয়নি। আমার অগোচরে কিছু হয়ে থাকলে মিলি সেটা আমাকে বলতো।” একটু থেমে আবার বললো, “ও আমার খুবই ঘনিষ্ঠ বান্ধবি ছিলো, সব কথা আমার সাথে শেয়ার করতো।”

    আমি দেখতে পেলাম তার চোখেমুখে বান্ধবি হারানোর দৃশ্যমান শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    “ইমতিয়াজ স্টুডেন্ট পলিটিক্স করতো,” কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে আস্তে করে বললো রামজিয়া। “যুদ্ধের পর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এলেও আমাদের সাথে কথাবার্তা হয়নি। আমি আর মিলি ওকে দূর থেকে দেখেছি কয়েকবার।”

    “ইমতিয়াজ কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো?”

    “না। ইন্টারমিডিয়েটের পর সে ড্রপ-আউট করে। ক্যাম্পাসে যেত পলিটিক্স করতো বলে।”

    একটু চুপ থেকে আবারো প্রশ্ন করলাম তাকে, “আচ্ছা, গায়ে হলুদের প্রোগ্রামে মিলির সাথে তার কি ধরণের কথাবার্তা হয়েছে সে সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণা আছে?”

    “একদম ফর্মাল কথাবার্তা। অনেকদিন পর দেখা হলে যা হয়। মিলির বিয়ে হয়েছে এটা সে জানতো। কেমন আছে, কি করে, এইসব। তেমন কিছু না।”

    “মিলি কোথায় থাকে, ওর স্বামি কি করে এইসব জানতে চেয়েছিলো?”

    “আমার সামনে করেনি। তবে কোন এক ফাঁকে করে থাকতে পারে। আ’ম নট শিওর অ্যাবাউট দ্যাট।”

    মাথা নেড়ে সায় দিলাম আমি।

    “ইমতিয়াজ কিন্তু খুব স্বাভাবিক আচরণ করেছিলো। তার মধ্যে আমি কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখিনি। তবে…”

    “কি?”

    “এখন ছবিতে তার চাহনি দেখে মনে হচ্ছে না তার আচরণ পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিলো।”

    “বেশিরভাগ ছবি তো আপনিই তুলেছেন, ছবি তোলার সময় এটা খেয়াল করেন নি?”

    মাথা দোলালো রামজিয়া। “ও ছিলো ফ্রেমের একেবারে কোণায়। গ্রুপ ছবি তোলার সময় ফোকাস থাকে মাঝাখানে। ডানে-বামে হয়তো খেয়াল রাখবেন কিন্তু সেটা ফ্রেমের কারণে, কে কোথায় চেয়ে আছে, কিভাবে তাকাচ্ছে সেটা খেয়াল করা তখন অসম্ভব।”

    “তা ঠিক,” আমি বললাম।

    “আপনারা কি ইমতিয়াজকেই প্রাইম সাসপেক্ট মনে করছেন?”

    তার এ প্রশ্নে আমি একটু বুঝেশুনে জবাব দিলাম। সত্যি বলতে, ইমতিয়াজ তখনও কোন সন্দেহভাজন নয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এটা আমার নজরে এসেছে। তাকে সাসপেক্ট হিসেবে গন্য করতে গেলে আরো অনেক কিছু লাগবে। সবচাইতে বড় কথা হায়দারভায়ের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য হতে হবে নইলে কথাটা তোলামাত্রই তিনি খারিজ করে দিতে পারেন। ছবিতে এক যুবক হা-করে মেয়েমানুষ দেখছে-এটা কোনো ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পড়ে না। খুনখারাবি আর ধর্ষণের মতো ঘটনার আসামি হিসেবে তাকে সন্দেহ করার উপায় নেই। আমি যেটা করছি তার সবটাই আমার নিজস্ব মূল্যায়ন। অনুভূতির ব্যাপার।

    “ঠিক তা নয়,” গাল চুলকে বললাম। “একটু খতিয়ে দেখতে চাইছি আর কি।”

    “আমার কিন্তু মনে হচ্ছে ও-ই জঘন্য কাজটা করেছে,” রামজিয়া জোর দিয়ে বললো। “ওর চোখদুটো আসলেই কেমনজানি। আপনি বোধহয় ঠিকই ধরতে পেরেছেন।”

    “দেখা যাক, কি হয় শেষ পর্যন্ত।”

    আলতো করে মাথা নেড়ে সায় দিলো রামজিয়া।

    “এই লোকটা কোথায় থাকে বলতে পারেন?”

    আমাকে হতাশ করে দিয়ে মাথা দোলালো সে। “আমি ওর সম্পর্কে একদমই কিছু জানি না। কোথায় থাকে কি করে, নো আইডিয়া। তবে পারভেজ নামে মিলির এক কাজিন আছে, ও আবার বিয়ে করেছে আমাদের আরেক বান্ধবি পারুলকে। পারভেজের সাথে আমি ইমতিয়াজকে কথা বলতে দেখেছি গায়েহলুদের প্রোগ্রামে। সম্ভবত পারভেজ জানে ইমতিয়াজের ঠিকানা।” উঠে দাঁড়ালো সে, “ওয়েট অ্যা মিনিট…আমি আসছি।” বলেই পাশের ঘরে চলে গেলো।

    আমি ড্রইংরুমের চারপাশটা দেখতে লাগলাম। এরা শুধু ধনীই নয়, বেশ শিক্ষিতও বটে। দেয়ালে কিছু পেইন্টিং টাঙানো আছে, টিভি সেটের পাশে একটা লং-প্লেয়ারও-তখনকার দিনে যা খুব কম বাড়িতেই ছিলো। প্লেয়ারটার পাশে একগাদা লং-প্লে ডিস্ক। এটাকে সবাই এল.পি নামে ডাকতো। সবার উপরে থাকা লং-প্লেটা চিনতে পারলাম গায়কের ছবি দেখে-ক্লিফ রিচার্ড। ভদ্রলোককে চেনার কারণ যুদ্ধের পর পর এ দেশে এসেছিলেন তিনি। টিভিতে তার গাওয়া ‘কংগ্রাচুলেশন্স’ গানটা আমিও দেখেছি। দীর্ঘদিন এই গানটা প্রচার করতো বিটিভি। আমার মতো ইংরেজি গান না-শোনাদেরও মুখস্ত হয়ে গেছিলো ভদ্রলোকের চেহারা!

    আমি রুমের বামদিকে তাকালাম। বড় বড় জানালা দিয়ে বাইরে ছোট্ট একটি বাগান দেখা যাচ্ছে। ঘরের বড় জানালার পাশে একটা রকিং চেয়ার। কেউ হয়তো আয়েশ করে চায়ে চুমুক দিতে দিতে এই চেয়ারে বসে বই পড়ে, গান শোনে আর বাগানের হরেক রকম ফুল দেখে। একেবারে সিনেমায় দেখা বড়লোকদের মতোই!

    তবে ঘরে বিশাল একটি বুকসেলফই আমার মনোযোগ বেশি আকর্ষণ করলো। এরকম বুকসেফের স্বপ্নই আমি দেখতাম। ব্যাচেলরের জীবন যেমন এলোমেলো হয় তেমনি তার বইগুলোও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে ঘরে। আমিও এর ব্যতিক্রম ছিলাম না। তবে অন্যদের তুলনায় সামান্য একটু গুছিয়ে রাখতাম।

    যাই হোক, বুকসেলফে থাকা বইগুলো বলে দিচ্ছিলো এ বাড়িতে কমপক্ষে একজন পড়ুয়া আছে। সে কে হতে পারে? এই মেয়েটা? সম্ভবত।

    আমি বইগুলো দেখে গেলাম এক এক করে। আমি যে এতো বই পড়ি তারপরও অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম সেফের একটা বইও আমার পড়া নেই! কালেকশানে থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না!

    বইগুলো সব ইংরেজি ভাষার।

    ঢাকায় আসার পর পুরনো ইংরেজি বইয়ের কিছু দোকান দেখে ঢু মেরেছিলাম। সেই সময় ঢাকায় খুব বেশি ইংরেজি বই পাওয়াও যেতো না, আর পাওয়া গেলেও দাম পড়তো খুব বেশি। তবে স্টেডিয়ামের একটা দোকানে পুরনো বইয় বিক্রি করা হতো, ওখান থেকে কম দামে দুটো ইংরেজি নভেল কিনে পড়ার চেষ্টা করেছিলাম, বার বার ডিকশনারি দেখে বই পড়া যে কী যন্ত্রণাদায়ক সেটা হাঁড়ে হাঁড়ে টের পেয়েছিলাম আমি। তিনদিনে বিশ পৃষ্ঠা পড়ে ক্ষান্ত দিয়েছিলাম অবশেষে।

    বুকসেলফে একমাত্র বাঙালি লেখক নিরদচন্দ্র চৌধুরি, কিন্তু তার বইটা যথারীতি ইংরেজিতে লেখা-অ্যান অটো-বায়োগ্রাফি অব অ্যান আননোন ইন্ডিয়ান। এই বাদামি সাহেবের দুটো বাঙলা বই আমি পড়েছি, কোন ইংরেজি বই পড়া হয়নি। আনমনেই অটো-বায়োগ্রাফি বইটা হাতে তুলে নিয়ে পাতা ওল্টাতে শুরু করলাম।

    “আব্বা দেশের বাইরে গেলেই আমার জন্য বই নিয়ে আসেন,” ঘরে ঢুকেই রামজিয়া বলে উঠলো।

    আমি একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বইটা জায়গামতো রেখে দিলাম। “মনে হচ্ছে খুব বই পড়েন?”

    “না, মানে…একটু আধটু।” আমি যে ইংরেজি বই পড়ি না, পড়তে গিয়ে ঘেমে উঠি সেটা আর তাকে বললাম না।

    “নিরদ চৌধুরির লেখা ভালো তবে ভাষা খুবই কঠিন। একেবারে রয়্যাল-ইংলিশে লেখেন।”

    “আমি অবশ্য উনার দুটো বাঙলা বই পড়েছি,” বললাম তাকে।

    “উনি বাঙলা বই-ও লেখেন নাকি?” অবাকই হলো। “আব্বু বলেন, উনি নাকি কিছুটা বাঙালি বিদ্বেষি। আমার তো ধারণা ছিলো উনি বাঙলায় লেখেন না।”

    “উনার একটা বইয়ের নাম আত্মঘাতী বাঙালী, সেজন্যে হয়তো মনে করা হয় উনি বাঙালি বিদ্বেষি।”

    “বিদ্বেষি না-হলে কেউ পুরো জাতিকে আত্মঘাতী বলতে পারে,

    বলেন?” আমি সৌজন্যমূলক হাসি দিলাম। “হতে পারে। তবে উনার বাঙালীর জীবনে রমণী বইটা বেশ ভালো। আমার খুব ভালো লেগেছে।”

    “তাই?”

    “হুম।” একটু থেমে আবার বললাম, “এসব বই কে পড়ে, আপনি?”

    “আমি আর আব্বা।” ছোট্ট করে জবাব দিলো। তারপর কিছু একটা মনে পড়তেই বলে উঠলো, “আপনার ভাগ্য ভালো, পারভেজকে ফোনে পেয়েছি।”

    আমি কৃত্রিম হাসি দিলাম।

    “দু-দিন ধরে ওর চোখ উঠেছে তাই অফিসে যায়নি, বাসায়ই আছে।”

    এই চোখ ওঠা রোগটি তখন বেশ পরিচিত ছিলো। যুদ্ধের সময় লক্ষ- লক্ষ শরণার্থি কোলকাতায় আশ্রয় নিলে রোগটা এ দেশ থেকে সেখানেও চলে যায়। ওরা এটাকে ‘জয়বাংলা রোগ’ বলে ডাকতো।

    আবার নিজের জায়গায় বসে পড়লো সে। “এই নিন, ইমতিয়াজের ঠিকানা।”

    বাড়িয়ে দেয়া এক টুকরো কাগজটি হাতে নিলাম।

    “পারভেজ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো ইমতিয়াজের ঠিকানা চাচ্ছি কেন, আমি বলেছি একটা দরকার আছে। ওকে এসব বলা ঠিক হতো না, তাই না?”

    “জি। না বলে ভালোই করেছেন।”

    কাগজে চোখ বোলালাম : কাঠালবাগানের বড় মসজিদের পাশে।

    “পারভেজ বলেছে, ওখানে গিয়ে ইমতিয়াজের নাম বললেই লোকজন ওর বাড়িটা দেখিয়ে দেবে,” রামজিয়া বললো।

    “থ্যাঙ্ক ইউ,” কথাটা বলার পরই আমার মনে হলো অযথাই বোকার মতো ইংরেজি বললাম কেন! ধনীর বাড়িতে এসে তাদের অনুকরণে কথা বলে নিজের কাছেই কেমন ছোট হয়ে গেলাম যেন। আস্তে করে উঠে দাঁড়ালাম।

    রামজিয়াও আমার সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালো। “আমার ফোননাম্বারটা তো আপনার কাছে আছেই…মিলির কেসটার আপডেট আমাকে জানাবেন।”

    “জি, অবশ্যই জানবো।”

    হঠাৎ করেই মনে হলো, রামজিয়ার মুখটা কেমনজানি চেনা চেনা লাগছে। কোথায় যেন দেখেছি।

    আহ্! রোমান হলিডে…অড্রে হেপবার্ন!

    কয়েক বছর আগে মধুমিতা’য় গিয়ে এই সিনেমা দেখে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছিলো।

    “কিছু বলবেন?”

    তার কথায় সম্বিত ফিরে পেলাম। “না।”

    বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার সময় আমার শুধু এটাই মনে হলো, খুন- খারাবির তদন্ত করাটা সব সময় নিরস আর বিরক্তিকর হয় না!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজোনাকির রঙ – সায়ক আমান
    Next Article বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    Related Articles

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    দ্য দা ভিঞ্চি কোড – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    অরিজিন – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেমেসিস (বেগ-বাস্টার্ড – ১) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    কন্ট্রাক্ট (বেগ-বাস্টার্ড ২) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেক্সাস (বেগ-বাস্টার্ড ৩) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026
    Our Picks

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    July 4, 2026

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }