Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    July 4, 2026

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন এক পাতা গল্প311 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কেউ কেউ কথা রাখে – ২৪

    অধ্যায় ২8

    অমানিশা

    থার্টিফার্স্ট নাইটের পর বেশ কয়েকদিন রামজিয়ার সাথে আর আমার যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু যখন দেখা হলো তখন আমাদের জন্য সময়টা মোটেও সুখকর ছিলো না। ঐদিনটির কথা আমি কখনও ভুলবো না। আমার মনের গহীনে থাকা সুদৃঢ় বিশ্বাস টলে গেছিলো। ভয়ঙ্কর রকমের হতাশায় নিপতিত হয়েছিলাম আমি। সেই দিনটি যদি আমার জীবনে না আসতো তাহলে হয়তো খুশিই হতাম। এটাও সত্যি, ভয়াল সেই দিনটি না এলে আজ আমি লেখক হয়ে উঠতাম কি-না সন্দেহ।

    ঐ দিন ছিলো খুবই মেঘলা, সকাল থেকে সূর্যের দেখা নেই। যেন আসন্ন বিষাদের পূর্বাভাষ দিচ্ছিলো প্রকৃতি! জানুয়ারির শেষে তিন-চারদিনের শৈত্যপ্রবাহ বইছিলো দেশজুড়ে। থানায় বসে থেকে রীতিমতো আমার দাঁতে দাঁত ঠোকাঠুকি হচ্ছে। পুরনো দিনের দালান, চারদিকে বড় বড় অসংখ্য দরজা-জানালা। শীতের হিম শৈত্য হু হু করে ঢুকে পড়ছে ভেতরে। পুলিশের ইউনিফর্মের সাথে দেয়া পাতলা সোয়েটার সেই শীত কাবু করতে পারার কথাও নয়। আমি জবুথবু হয়ে নিজের চেয়ারে বসে থানার পাশে টঙ দোকান থেকে গুঁড়ের চা এনে খাচ্ছিলাম। হায়দারভায়ের চায়ের কাপটা আমার টেবিলের উপর থেকে তখনও ধোঁয়া ছাড়ছে। চা আসার আগেই জরুরি একটা দরকারে ওসিসাহেব নিজের রুমে ডেকে নিয়ে গেছে তাকে। আমি ভাবছিলাম পিরিচ দিয়ে কাপটা ঢেকে দেবো কি-না, এভাবে খোলা থাকলে চা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। হায়দারভাই আবার ঠাণ্ডা চা একদম পছন্দ করতেন না।”

    আমি চায়ের কাপের উপর পিরিচ রাখতে যাবো অমনি চিৎকার- চেঁচামেচি ভেসে এলো ওসির রুম থেকে। হায়দারভায়ের ভরাট কণ্ঠটা চিনতে মোটেও ভুল হবার নয়। চিৎকার করে ওসিকে তিনি গালাগালি করছেন!

    সর্বনাশ!

    আমি পিরিচ রেখে ছুটে গেলাম ওসির রুমে, সঙ্গে সঙ্গে আরো কয়েকজন কলিগও ছুটে গেলো সেখানে। দরজা দিয়ে ঢুকতেই দেখি অবিশ্বাস্য একটি দৃশ্য।

    হায়দারভাই ওসির কলার ধরে তাকে শাসাচ্ছেন! এরইমধ্যে গায়ে হাত তুলেছে কি-না জানি না, আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধরে ফেলি। পেছন থেকে জাপটে ধরে টেনে নিয়ে আসি ওসির ঘর থেকে।

    “ছাড়ো আমাকে! শালার কত্ত বড় সাহস! আমাকে…” দম ফুরিয়ে হাপাতে লাগলেন তিনি।

    “ভাই, আপনার কি মাথা খারাপ হয়ে গেলো? এসব কী করছেন?”

    থানার কনস্টেবল আর বাকি পুলিশের দলটি হা করে চেয়ে আছে আমাদের দিকে। তারা হায়দারভাইকে সমীহ করে, তার বদমেজাজের কারণে ভয়ও করে। ওসিসাহেবও তাকে খুব একটা ঘাটায় না। তাই বলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কলার ধরে তাকে শাসানো!

    কানে গেলো ক্ষিপ্ত আর অপমানিত ওসি নিজের ঘরে দাঁড়িয়ে গজ গজ করে যাচ্ছে। তার কথায় আমি মনোযোগ দিলাম না। আমার মনোযোগ হায়দারভায়ের দিকে।

    “ঘটনা কি, ভাই?”

    আমার দিকে হায়দারভাই অগ্নিমূর্তি ধারণ করে তাকালেন। পুলিশের টুপিটা খুলে আছাড় মেরে রাখলেন সামনের একটা টেবিলের উপর। “শূয়োরেরবাচ্চা!”

    আমি নিশ্চিত ছিলাম গালিটা আমাকে দেননি। “আরে,

    কি হয়েছে, বলবেন তো?” তাড়া দিলাম তাকে। বুঝতে পারছিলাম না হঠাৎ করে ওসির উপর চড়াও হওয়ার কারণটা কি।

    “কি হয়েছে?!” আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন, যেন তার এই বিশাল ক্ষোভের কারণের মধ্যে আমিও পড়ি! “ওই শালা আমাকে বলে ইমতিয়াজের জামিন আবেদনে বিরোধিতা যেন না করি! কত্ত বড় সাহস, আমাকে এ কথা বলে!”

    “কি!” অবিশ্বাসে বলে উঠেছিলাম আমি। কথাটা বিশ্বাস করতেও কষ্ট হচ্ছিলো। আমার কাছে সেটা ছিলো রীতিমতো অসম্ভব একটি ঘটনা। “আপনি এসব কী বলছেন?! উনি কেন আপনাকে এটা করতে বললেন?”

    আমার দিকে তাচ্ছিল্যভরে তাকালেন তিনি। তার এমন চাহনির সাথে আমি মোটেও অপরিচিত ছিলাম না কিন্তু এর আগে কখনও আমার সাথে এটা করেননি।

    “কেন?” রাগে কাঁপছেন তিনি। “তোমার দলের এক নেতা…!” দু-হাত আকাশের দিকে তুলে অঙ্গভঙ্গি করলেন। “সেই মহান নেতা স্বাধীন দেশের পুলিশকে হুকুম করেছে এক খুনি-ধর্ষকের পক্ষে দাঁড়াতে!”

    কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমার কপালে ভাঁজ পড়ে গেলো। বুঝতে বাকি রইলো না ঘটনা কি। ক্ষমতাসীনদের এমন আচরণ তখন নিয়মিত ব্যাপার ছিলো। অনেকেই নিজদলের চোর-বাটপার থেকে শুরু করে, মজুতদার, চোরাকারবারি, খুনি, ডাকাত সবার মাথার উপরেই বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে যাচ্ছিলো। এসব করতে গিয়ে তারা তাদের প্রিয় নেতা আর জন্মভূমির কতো বড় সর্বনাশ করছে সেটা যদি বুঝতো! মাত্র স্বাধীন একটি দেশ, অথচ এইসব দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছে পাকিস্তান আমলই ভালো ছিলো।

    একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো আমার ভেতর থেকে।

    “সাহস থাকলে নেতাদের কলার চেপে ধরেন না!” নিজের ঘর থেকে চেঁচিয়ে বললো ওসি।

    ফিরে তাকালাম সেদিকে।

    “আমার কলার ধরাটা তো খুব সহজ! আমাকেই শুধু গালাগালি করার মুরোদ আছে। পারলে তাদের বাল ছিড়েন গিয়ে! বুঝবো কেমন মুক্তিযোদ্ধা!”

    হায়দারভাই কথাটা শুনে কিছু বলতে যাবেন অমনি আমি তার হাতটা ধরে ফেললাম। “ভাই, আপনার পায়ে পড়ি! প্লিজ! মাথা গরম করবেন না।” টানতে টানতে তাকে থানার বাইরে নিয়ে এলাম।

    ক্ষুব্ধ এসএম হায়দারকে প্রশমিত করার জন্য একটা সিগারেট বের করে দিলাম কিন্তু উনি সিগারেটটা হাত নেড়ে সরিয়ে দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

    “ওই শালার ওসি ঠিকই বলেছে,” উদাস হয়ে বাইরের রাস্তার দিকে চেয়ে তিক্তমুখে বললেন, “আমরা পুলিশ… আমাদের কোন ক্ষমতা নেই। হুকুমের গোলাম আমরা! এই বালের চাকরি করার চেয়ে গুলিস্তানে গিয়ে হকারগিরি করাও অনেক ভালো!”

    কথাটা নির্মম হলেও সত্য ছিলো সে-সময়। সত্যি বলতে, আজ এতোগুলো বছর পরও এই কথাটা যেন আরো বেশি সত্য হয়ে উদ্ভাসিত হচ্ছে আমাদের সবার কাছে। কোন পরিবর্তন নেই। যেন স্থায়ি এক অমানিশা ভর করেছে আমাদের আকাশে!

    অনেকক্ষণ চুপ রইলাম আমরা, কেউ কিছু বললাম না। হায়দারভায়ের দৃষ্টিতে শূন্যতা। আমি মাথা নীচু করে রাখলাম। কারণ আমি সরকারী দলের একনিষ্ঠ সমর্থক।

    হায়দারভাই তখনও উদাস হয়ে শূন্যে তাকিয়ে আছেন। “যুদ্ধের সময় বহুবার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছিলাম,” অবশেষে শান্তকণ্ঠে বললেন তিনি। “এখন মাঝে মাঝে মনে হয় মরেই গেলেই ভালো হতো!”

    কথাটা আমার বুকে শেলের মতো বিধলো। একজন মুক্তিযোদ্ধা দেশ স্বাধীন করার পর এ কথা বলছেন!

    “সরকারি দলের নেতা খুনির পক্ষে দাঁড়ায়!” মাথা দোলালেন আবারো, “বোঝো এবার, এই দেশের ভবিষ্যৎ কী!”

    আমি কোন জবাব দিলাম না। তার সাথে সব সময় এসব নিয়ে তর্ক করি। বার বার হেরেও যাই। হায়দারভায়ের মতো মানুষের কাছে হেরে যাওয়াতে আমার একটুও খারাপ লাগে না কিন্তু নিজের কাছে হেরে যাওয়ার যে কী কষ্ট সেটা যদি কেউ বুঝতো!

    “তাহলে এখন কি হবে, ভাই?” কথাটা আবারো বললাম তাকে। এছাড়া যেন বলার মতো, জানার মতো আর কিছু নেই আমার।

    বাঁকাহাসি ফুটে উঠলো তার ঠোঁটে। “আমার যা করার আমি তা করবো। ঐসব হারামখোর নেতাদের হুকুম তামিল করার জন্য দেশটা স্বাধীন হয়নি, আর আমিও নিজেকে তাদের চাকর-বাকর মনে করি না।”

    মনে মনে আশান্বিত হয়ে উঠলাম। যাকগে, হায়দারভাই তাহলে ওসি কিংবা নেতার কথা শুনছেন না।

    “কিন্তু আমার ক্ষমতা খুবই কম,” একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো তার ভেতর থেকে। “আমি যতো চেষ্টাই করি না কেন, কাজ হবে না।”

    “কাজ হবে না, মানে?” আশ্চর্য হয়ে জানতে চাইলাম।

    নিরস্ত্র সৈনিকের মতো অসহায় দৃষ্টিতে তাকালেন আমার দিকে। “ইমতিয়াজ ঠিকই জামিন পেয়ে যাবে।”

    “কী!” যারপরনাই অবাক হয়েছিলাম আমি। “কিন্তু আপনি তো বললেন জামিনের বিরোধিতা করবেন?”

    বাঁকাহাসি ফুটে উঠলো তার ঠোঁটে। “তাতে কি?”

    “আপনি জামিনের বিরোধিতা করলেও কোর্ট তাকে জামিন দিয়ে দেবে?”

    উনি আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন আমি পঞ্চম শ্রেনির ছাত্র। “দেশটা কেমনে চলছে তুমি মনে হয় জানো না?” একটু থেমে আবার বললেন, “নাকি ব্লাইন্ড সাপোর্টার হতে হতে সত্যি সত্যি অন্ধ হয়ে গেছো।”

    আমি মোটেও অন্ধ ছিলাম না। তবে হায়দারভায়ের সাথে আমার পার্থক্য ছিলো, আমি তখনও পুরোপুরি হতাশ হয়ে পড়িনি। আমার কেন জানি মনে হতো, অচিরেই বঙ্গবন্ধু সব গুছিয়ে আনবেন। উনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। উনাকে ব্যর্থ করার জন্য মাঠে অনেক শক্তিও সক্রিয় আছে। এককালে উনার ঘনিষ্ঠরা জাসদ নামের একটি বিষফোঁড়া তৈরি করেছে, সেই বিষফোঁড়া নিশ্চয় সদ্য স্বাধীন দেশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে গ্যাংরিন সৃষ্টি করতে পারবে না। তাদেরকেসহ সব অপশক্তির বিরুদ্ধে আবারো আমার নেতা জয়ি হবে-ঠিক যেমনটি পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে তিনি জয়ি হয়েছিলেন।

    “আমার মনে হয় এইসব খুব জলদিই বন্ধ হয়ে যাবে,” আস্তে করে বললাম। হায়দারভাই আমার দিকে মুখ তুলে তাকালেন। “মানে, এই যে…নেতা-কর্মিদের উল্টাপাল্টা কাজকারবার…এগুলো তো চলতে দেয়া যায় না, তাই না? এসব বন্ধ হয়ে যাবে, দেখবেন।”

    আবারো বাঁকাহাসি ফুটে উঠলো তার মুখে।

    “যুদ্ধের পর একটা বিধ্বস্ত দেশ পেয়েছেন উনি…নানান সমস্যা। এসব রাতারাতি ঠিক করা যাবে না, একটু সময় দিতে হবে।”

    “ব্রাদার, উনি যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরে এসে বললেন, তিন বছর কিছুই দিতে পারবেন না, সেটা সবাই মেনে নিয়েছিলো কিন্তু এই তিন বছরে পাবলিক কি দেখলো?” জবাবের অপেক্ষা না করেই আবার বললেন, “উনার দলের ঘনিষ্ঠজনদের অনেকেই পরিত্যক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কারখানা আর বাড়ি পেয়ে যাচ্ছে! তারা কিন্তু তিন বছর অপেক্ষা করছে না।”

    আমি কোন তর্ক করলাম না। তর্ক করার মতো অস্ত্রের মজুদ আমার কাছে খুব একটা ছিলোও না তখন।

    “সেটাও কোন সমস্যা হতো না, যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যেত আক্ষেপে মাথা দোলালেন এসএম হায়দার। “এই একটা জিনিস করতে কিন্তু টাকা লাগে না। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট বানাতে টাকা লাগে, স্কুল-কলেজ বানাতে টাকা লাগে, এটা করতে শুধু দরকার হয় ক্ষমতাসিনদের সদিচ্ছা, আত্মত্যাগ আর দুরদর্শিতা। সেটা কি তোমার দলের সবার মধ্যে আছে?”

    আমি এবারো নিশ্চুপ রইলাম।

    “সবাই কিন্তু শেখসাব না, তাজউদ্দিন না।

    হায়দারভায়ের কথাটা যে সত্যি সেটা বঙ্গবন্ধু নিজেও জানতেন। তিনি কি বলেননি, তার চারপাশে চাটার দল? চোরের খনি?

    “তাকে আরেকটু সময় দিতে হবে, ভাই,” কথাটা আমার হতাশা ছাপিয়ে বের হয়ে গেলো যেন।

    “আরে ব্রাদার, তুমি আমি সময় দিলেই কী না দিলেই বা কী…আমরা হলাম আম-পাবলিক। আমারা শুধু তালি আর গালি দিতে পারি। কিন্তু শেখসাহেবের প্রতিপক্ষরা কি তাকে সময় দেবে?”

    বঙ্গবন্ধুর প্রতিপক্ষ? জাসদ? হাহ্! ওরা কেবল নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে। রাষ্ট্র চালানো, মানুষকে একতাবদ্ধ করে নতুন স্বপ্ন দেখানো ওদের কাজ না। মনে মনে বলে উঠেছিলাম আমি। কিন্তু তখন কে জানতো, পর্দার আড়ালে আরো অনেকে আছে!

    যাই হোক, আরো অনেক যন্ত্রণা আর স্বপ্নভঙ্গের কথা বলেছিলেন হায়দারভাই, সে-সব কথা আমার কাছে না ছিলো নতুন, না মনে হয়েছিলো অযৌক্তিক। আমি চুপচাপ তার স্বপ্নভঙ্গ আর মর্মবেদনার সঙ্গি হয়ে বসে বসে শুনে গেছিলাম শুধু।

    এই ঘটনার কয়েকদিন পরই হায়দারভায়ের তুমুল বিরোধিতা সত্ত্বেও ইমতিয়াজ জামিন পেয়ে বের হয়ে গেলো। আদালতের সিদ্ধান্তে আমি পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গেছিলাম। অবশ্য হায়দারভাইকে দেখে মনে হয়েছিলো তিনি যেন জানতেন কি হতে যাচ্ছে। কোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুধু বলেছিলেন, “দেশটা এভাবেই চলছে।”

    আজকের দিনের ক্রিমিনাল রাজনীতিকদের মতো জেলগেট থেকে ফুলের মালা দিয়ে ইমতিয়াজকে বরণ করা হয়েছিলো কি-না সেটা আমি জানি না, তবে সে যে বুক ফুলিয়ে মাথা উঁচু করে বের হয়েছিলো সেটা অনুমাণ করতে পারি। জেলে ঢোকার আগে সে ছিলো পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো এক ধর্ষক-খুনি, কিন্তু বের হয়ে এলো ক্ষমতার বটবৃক্ষের ছায়ায় থাকা পরজীবি হিসেবে। তার কেশাগ্রও যে স্পর্শ করতে পারবো না সেটা বুঝে গেছিলো সে।

    আমার স্পষ্ট মনে আছে ইমতিয়াজের জামিন পাবার পরদিনই থানায় চলে এলো মিনহাজ। তার আগমণ আমার কাছে প্রত্যাশিতই ছিলো। ঠিক যেমন প্রত্যাশিত ছিলো তার অবিশ্বাস্য চেহারা আর হতবিহ্বল মুখখানি।

    “এটা কিভাবে সম্ভব হলো, ভাই?!”

    মিনহাজের দিকে তাকানোর মতো সাহস আমার ছিলো না। এমনিতেই মনমরা হয়ে ছিলাম। হায়দারভাইও কোর্ট থেকে সেই যে চলে গেছেন আর থানায় ফিরে আসেননি। এই সময়টা নিজেকে বড্ড এতিম বলে মনে হচ্ছিলো আমার।

    থানায় বসে মিনহাজের প্রশ্নের জবাব দেয়াটা ঠিক বলে মনে করিনি আমি, তাকে নিয়ে বাইরে চলে আসি। প্রভাবশালি এক রাজনৈতিক নেতার কারণেই যে ইমতিয়াজ জামিন পেয়েছে সেটা খুলে বলি তাকে। হায়দারভাই জামিনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানালেও কোন লাভ হয়নি। অবশ্য মিনহাজকে আমার আশঙ্কার কথাটা বলি নি-মিলির কেস থেকে হায়দারভাইকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে।

    আমি ভেবেছিলাম আমার কাছ থেকে এসব শুনে মিনহাজ খুবই উত্তেজিত হয়ে চেঁচামেচি শুরু করে দেবে, কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো সে। তার থমথমে মুখের দিকে চেয়ে আমার ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। বেচারা মাত্র স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলো তার প্রাণপ্রিয় স্ত্রির হত্যাকারির বিচার হবে। উপযুক্ত শাস্তি হবে। সেই স্বপ্ন বিরাট বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে।

    কোন অভিযোগ, অনুযোগ কিংবা আক্ষেপ না করে, বিন্দুমাত্র উত্তেজিত না হয়ে মিনহাজ চুপচাপ চলে গেলো। যাবার সময় আমার দিকে ফিরেও তাকালো না। আমিও তাকে পেছন থেকে ডাকলাম না, চুপচাপ তার চলে যাওয়া দেখে গেলাম কেবল।

    হায়দারভাই আর থানায় আসছে না দেখে আমি ভড়কে গেলাম। তিনি কি চাকরি ছেড়ে দিলেন! এই লোকের পক্ষে এমন কাজ করা মোটেও অসম্ভব ছিলো না। ভালো করেই জানতাম, রুটি-রুজি আর ভবিষ্যতের চিন্তা, কোন কিছুই তাকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

    বাধ্য হয়ে আমি ঐদিন সন্ধ্যার পর তার বাসায় চলে গেলাম। একটা সোয়েটার আর লুঙ্গি পরে তিনি তার দু-কামরার ছোট্ট বাসার সামনে একটা পুরনো নীচু দেয়ালের উপর বসে সিগারেট টানছিলেন, আমাকে দেখে নির্বিকার মুখে তাকালেন, সেই মুখে গভীর বিষাদ। তার যন্ত্রণাকাতর মায়াভরা চোখদুটো এখনও আমি ভুলতে পারিনি।

    আমি চুপচাপ তার পাশে গিয়ে বসতেই আধ-খাওয়া সিগারেটটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। তখনও তার দৃষ্টিতে শূন্যতা।

    “জামিনই তো হয়েছে…কেসটা তো আর ক্লোজ হয়নি,” আধ-খাওয়া সিগারেটে একটা টান দিয়ে আস্তে করে বলেছিলাম আমি।

    আমার দিকে না তাকিয়েই হাায়দারভাই বাঁকাহাসি দিলেন। “ধরে নাও এই কেস অলরেডি ক্লোজ হয়ে গেছে,” আস্তে করে বললেন তিনি, “তুমি আমি কেউ কিচ্ছু করতে পারবো না।”

    প্রতিবাদ করে উঠলাম, “আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, আপনার মতো লোক এতো সহজে হাল ছেড়ে দিচ্ছে। দেখিই না কী হয়। শেষ পর্যন্ত ফাইট করা উচিত আমাদের।”

    মাথা দোলালেন তিনি। “কোন লাভ নেই, আমি জানি এরপর কি হবে। একবার যখন ইন্টারফেয়ার করা শুরু হয়েছে তখন আর এই কেস নিয়ে আমি কোন আশা দেখছি না।”

    “না, ভাই…এটা আমি মানতে পারলাম না।”

    আমার মুখের দিকে তাকালেন তিনি।

    “আপনি খুব দুরদর্শি মানুষ, অনেক কিছুই বুঝতে পারেন, কিন্তু এভাবে চেষ্টা না করে একেবারে হাল ছেড়ে দেয়াটা ঠিক হবে না। ঘটনা কোন্ দিকে যায় কে জানে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করে দেখা দরকার না?”

    হায়দারভাই নির্বিকার রইলেন। যেন বালখিল্য কথাবার্তার জবাব দিতে চাইছেন না।

    “মিনহাজ এসেছিলো,” আস্তে করে বললাম তাকে। “সব শুনে একেবারে পাথরের মূর্তি হয়ে গেলো। বেচারার দিকে তাকাতে পারছিলাম না।”

    হায়দারভাই আবারো ফাঁকাদৃষ্টি নিয়ে চেয়ে রইলেন দূরে কোথাও। “এখন আপনি যদি এভাবে হাল ছেড়ে দেন তো সে কোথায় যাবে, বলেন?”

    “মেয়েটার চোখ শুধু ভেসে উঠছে চোখের সামনে।” অনেকক্ষণ পর আস্তে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন তিনি।

    বুঝতে পারলাম মিলির কথা বলছেন।

    “মাত্র বিয়ে হয়েছে, নতুন জীবন শুরু করেছে। কতো স্বপ, কতো আশা। একদিন তার ঘর দাপিয়ে বেড়াবে ছোটো ছোটো বাচ্চা। ওদের মানুষ করবে, ছোটো ছোটো আঙুল ধরে ধরে পড়তে শেখাবে, কোলে নিয়ে গল্প শোনাতে শোনাতে ঘুম পাড়াবে।”

    কথাগুলো আমাকেও আলোড়িত করলো। নিহত মিলির চোখদুটো আমিও ভুলতে পারিনি। আজো সেই স্মৃতি জ্বলজ্বল করছে।

    “শোনো,” বেশ শান্তকণ্ঠেই বললেন তিনি, “আমি হাল ছেড়ে দেবো না। সারা জীবনে আমি এ কাজ করিনি। মৃত্যুর আগপর্যন্তও আমি এটা করবো না।”

    আশান্বিত হয়ে উঠলাম আমি। এই তো আমার হায়দারভাই! আমাদের অতি চেনা এসএম হায়দার।

    “যদিও জানি, কিচ্ছু করতে পারবো না,” একটা দীর্ঘশ্বাসের সাথে বললেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে আমার আশার আলো দপ করে নিভে গেলো। “কিন্তু হেরে যাবার ভয়ে যুদ্ধ করবো না সেটা ভেবো না।”

    কথাটা শুনে আমার গায়ের পশম দাঁড়িয়ে গেছিলো। সংশপ্তক! হেরে যাবে জেনেও যারা লড়াই করে যায়! মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে!

    “ভাই, আপনি একজন মুক্তিযোদ্ধা…আমি বিশ্বাস করি না নেতা নামের ঐসব বেজন্মাদের কাছে আপনি হেরে যাবেন,” জোর দিয়ে বললাম তাকে, তবে মনেপ্রাণে বিশ্বাসও করেছিলাম কথাটা বলার সময়।

    এরকম আরো অনেক কথা বলেছিলাম তখন, সে-সব আর বিস্তারিত মনে নেই। তবে পরদিন যে হায়দারভাই থানায় যোগ দিয়েছিলেন সেটা নিশ্চয় আমার এসব কথার কারণে নয়। আজন্ম লালিত স্বভাব আর চরিত্রই তাকে পরিচালিত করতো সব সময়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজোনাকির রঙ – সায়ক আমান
    Next Article বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    Related Articles

    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    দ্য দা ভিঞ্চি কোড – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    অরিজিন – ড্যান ব্রাউন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেমেসিস (বেগ-বাস্টার্ড – ১) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    কন্ট্রাক্ট (বেগ-বাস্টার্ড ২) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    নেক্সাস (বেগ-বাস্টার্ড ৩) – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    November 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026
    Our Picks

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    July 4, 2026

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }