Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তোমাকে আমি ছুঁতে পারিনি – সন্মাত্রানন্দ

    সন্মাত্রানন্দ এক পাতা গল্প173 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. ময়ূখ লিখিতেছে….

    ১১. ময়ূখ লিখিতেছে….

    পূর্বের অধ্যায় লিখিবার পর বহুদিন কাটিয়া গেল, কিছুই লেখা হইল না। আটপৌরে জীবন কাটাইয়া চলি, বাজার-হাট, স্কুলে পড়াইতে যাই, ঘরে ফিরিয়া আসি, নিজের জন্য দুইটা ভাতডাল ফুটাইয়া লই। ইহার মধ্যেই রচনাটির নিকট মধ্যে মধ্যে আসিয়া বসি, পুরানো রচনা পড়ি, কিন্তু নূতন কিছু লিখিতে আর পারি না। বর্ষা ঘনঘোর নামিয়াছে। দিনের বেলায় ঘর অন্ধকার হইয়া থাকে, লেখার টেবিলে আলো জ্বালাইয়া বসিতে হয়। সারা রাত্রি বৃষ্টি হইলে দিবাভাগে বাজার করিতে গেলে দেখি, পথে ঘাটে অলিতে-গলিতে জল জমিয়াছে। রিকশাগুলি চালকের মাথার উপরেও ছাউনি টানিয়া লইয়াছে, দেখিতে ঠিক যেন এ স্বল্পস্থায়ী পথসরোবরে ছই তুলা নৌকার ন্যায় লাগে। আমার জানলার ওইদিকে সেই কদমগাছগুলির ফুল বৃষ্টিতে ভিজিয়া ভিজিয়া খ্যাতলাইয়া গিয়াছে, তাহাদের পূর্বতন সে-শোভা আর নাই। সারি সারি সুপারিগাছের প্রসারিত শাখা বৃষ্টিতে ভিজিয়া আকার হারাইতেছে। এইসব দৃশ্য অলসভাবে দেখিয়া দেখিয়া দিন কাটাই।

    লিখিতে কেন জানি আর ইচ্ছা করে না। লিখিবার অনেক আছে, কিন্তু উঠিয়া বসিয়া সে-সকল কথা লিপিবদ্ধ করিবার কী যে ক্লান্তি! বাজার করিতে ক্লান্তি, রান্না করিতে ক্লান্তি, স্কুলে যাইতেও ক্লান্তি, যাহা করি সবই ক্লান্তির সহিত করিয়া থাকি। শুধু পড়িয়া পড়িয়া ঘুমাইতে ইচ্ছা করে। ঘুমাইলেই দীর্ঘ দীর্ঘ সব স্বপ্ন, কোন যেন অস্পষ্ট নদীতীর… জন্মান্তরের কোন গ্রাম… কে এক নারী প্রণয়কাঙ্ক্ষিণী… এক তরুণ শ্রমণ—এইসব এলোমেলো ভাসিয়া উঠে। ইহা তো মহা জ্বালা হইল! কেন এত আলস্য?

    কলেজজীবনের এক বন্ধু ছিল, এখন ডাক্তার হইয়াছে, অনেক দিন পর তাহাকে ফোন করিলাম। এ কথা সে-কথা কহিবার পর আমার এই প্রকার অসুস্থতার কথা বলিলাম। সে আমাকে তাহার ডিসপেনসারিতে আসিতে বলিল। ডাক্তার বন্ধুটি দেখিয়া শুনিয়া কয়েকটি টেস্ট করিবার জন্য লিখিয়া দিল। ব্লাড টেস্ট করাইলাম। ব্লাড রিপোর্ট আসিল। ভিটামিন ডি-র সাংঘাতিক অভাব দেখাইতেছে। ইহারই ফলে শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়িয়া গিয়াছে।

    ডাক্তার বন্ধুটি ঔষধ লিখিয়া দিল। তাহাই খাইতেছি। ইহা তিন মাসের উপর খাইতে হইবে। তবেই নাকি উৎসাহ আসিবে। ইহা সত্য। কিন্তু আমার মনে, এইরূপ ক্লান্তির অন্য কারণ অনুভূত হইতেছে। এই যে দিনে রাত্রে আড়াই হাজার বৎসরের ভিতর দিয়া মনের আগুপাছু যাতায়াত, ইহাই মনকে ক্লান্ত করিতেছে বোধ হয়। ইহা তো আর ডাক্তারকে বলিতে পারি না। মনের এরূপ অভ্যাস ছাড়িয়া থাকিতেও পারি না। উহাই মনের স্বাভাবিক গতিধর্ম হইয়া উঠিয়াছে সারাজীবন ধরিয়া। এক্ষণে ইহার দিকবদল করিতে পারিব না। এক জীবনে যেন দুইটা জীবনযাপন করিতেছি। আমি ময়ূখ… আবার আমিই সৌদাস; বড়ো আশ্চর্য কথা!

    আবার বৃষ্টি আসিল। সকাল হইতে ঘোর বর্ষণ। আজ আর স্কুলে যাইতে ইচ্ছা করিতেছে না। গতকাল কয়েক দিনের বাজার করিয়া আনিয়াছি, তাই বাজারে যাইবারও আর প্রয়োজন নাই আজ। ঘরে বসিয়া কী করিব কী করিব ভাবিতেছি, খাতা খুলিয়া বসিলাম। সৌদাসের অধ্যায়টি শত শত অক্ষরে ভরিয়া আছে। উহাই পড়িতে লাগিলাম। সহসা ইহার ভাষা সাধু হইল কেন? ইহার পূর্ব পর্যন্ত তো বেশ চলিত ভাষায় লিখিতেছিলাম। হঠাৎ সাধুভাষা কেন?

    মনের ভিতর তলাইয়া ইহার কারণ অনুসন্ধান করিতে লাগিলাম। মনে হইল, সাধুভাষার ভিতর একটা আর্কাইক সৌন্দর্য আছে বটে! আর্কাইক বলিয়াই উহার সহায়তায় আমার মনের অবচেতনে ঢুকিয়া পড়া সহজ হইতেছে। অতীত যুগের হারানো সেই ‘আমি’—সেই সৌদাসের সহিত আজিকার এই ‘আমি’ ময়ূখের সংযোগ সাধন—কিংবা ভালো করিয়া বলিতে গেলে অতীতের সকল কিছুর সহিত সাম্প্রতিকের সংযোগ এই সাধুভাষাতেই সম্ভব—ইহাই মনে হইতেছে। ইহার পূর্বে যে-চলিত ভাষায় অধ্যায়গুলি লিখিয়াছিলাম, তাহাতে অসুবিধা হয় নাই, কারণ ওই অধ্যায়গুলিতে ‘আমি’ নাই। পূর্বের ওই অধ্যায়গুলিতে বস্তুসমূহ ও ব্যক্তিবর্গের নিরপেক্ষ বর্ণনা দিয়াছি—উহা বড়ো দূর হইতে দেখা। কিন্তু এখন যাহা লিখিতেছি, ইহার সহিত আমার আঁতের ভাব মিশিয়া আছে। ফলত, মন ক্রমাগত অতীতের সহিত মিশিয়া যাইতেছে, পূর্বের ন্যায় দূরে দাঁড়াইয়া ঘাড় ঘুরাইয়া সিংহাবলোকন করিতে পারিতেছে না। তাই, এই সাধুভাষা, সাধু ক্রিয়াপদ, সাধু সর্বনাম স্বতই উঠিয়া আসিতেছে।

    আসুক। তাহাতে আমার অসুবিধা নাই। যে-ভাষায় সহজে নিজের অবচেতনে জমিয়া থাকা চিত্রাবলি ও কথামঞ্জরীকে মুক্তি দিতে পারি, তাহাতেই লিখিব। ভাবিতেছি, এখন হইতে পরের অধ্যায়গুলি এই সাধুভাষাতেই লিখিব। ইহাই আমার ভাষা, আমার জাতিস্মরকল্প প্রাণের অভিব্যক্তি।

    সৌদাসের ভিতর গৃহস্থ সংস্কার অল্পবিস্তর ছিল। কিন্তু সবার উপরে ছিল তাহার প্রেমিক স্বভাব। সেই সৌন্দর্যমুগ্ধ প্রেমিক-স্বভাবের জন্যই সুজাতা তাহার কাছে আসিয়াছিল। তাহার প্রেমের প্রতিমা ও কাব্যের নায়িকা হইয়া উঠিতে পারিয়াছিল। তাহারা ঘর বাঁধিয়াছিল। কিন্তু সেই গৃহের দ্বারপ্রান্তে একদিন সিদ্ধার্থের প্রশান্ত অবয়ব দেখা দিল। উহা কবি সৌদাসকে পাগল করিল। সৌন্দর্য হইতে অপার্থিবতার উচ্চতায় মন উঠিয়া গেল। সিদ্ধার্থের কৃপায় সিদ্ধার্থের ভাব সৌদাসের মনে প্রবেশ করিল বটে, কিন্তু সৌদাসের আধার সে-মহৎ ভাব ধারণ করিবার উপযুক্ত ছিল না।

    ক্ষুদ্র আধারে বৃহৎ ভাব ঢুকিয়া তোলপাড় করিয়া দিল। শেষে এমন হইল যে, সৌদাস সেই মহাভাবের অত্যাচার হইতে নিষ্কৃতি পাইবার নিমিত্ত ব্যাকুল হইয়া উঠিল। সিদ্ধার্থের কৃপাতেই সেই ভাবের উপশম হইল বটে, কিন্তু যাহা সে স্বল্পকালের জন্য পাইয়াছিল, তাহা হারাইয়া বড়োই কাতর হইল। আত্মক্ষোভ উৎপন্ন হইল। তাহার পর আবার সেই গার্হস্থ্য জীবন। কিন্তু ইহাতেই কি আর নিষ্কৃতি হইল?

    হইল না। কেন-না, একবার সেই ভাব যে আস্বাদ করিয়াছে, সে বহু চেষ্টা করিয়াও সেই আস্বাদের স্মৃতি হইতে মুক্তি পাইবে না। একবার যে এই জগত্যবনিকা ছিঁড়িয়া ফাঁড়িয়া দেখিবার সুযোগ পাইয়াছে, বিশেষত এই জগতের ঊর্ধ্বে আর-একটা সেই জগৎছাড়া ভাব একবার যাহার মস্তিষ্ককে অধিকার করিয়াছে, সে-ভাবের আবেশ সারিয়া গেলেও মন বারবার ওইদিকে যাইবার জন্য ছটফট করিতে থাকে। ধরিয়া যদি লই, সুজাতাকে লইয়া ইহার পর সে সুখে কালাতিপাত করিয়াছিল, তথাপি সেই সুখের ভিতরেও সেই জগদতীত ভাবের পুনরাবর্তন চলিত, সুসজ্জিত সংসারের প্রাকার ভেদ করিয়া সে-অপার্থিব ভাবের মুকুল মুখ তুলিত, তাহাতে আর সন্দেহ নাই।

    সৌদাস মরিয়া গিয়াছে। তাহার পর সহস্র সহস্র বৎসর কাটিয়া গিয়াছে। পৃথিবী যেমন সূর্যের চতুর্দিকে ঘুরিতেছিল, তেমনই ঘুরিতেছে। শরৎ-বসন্ত-নিদাঘ-প্রাবৃট ধরিত্রীর উপর ঘুরিয়া ফিরিয়া আসিতেছে। তাহার পর ময়ূখ আসিয়াছে। ময়ুখ আর সৌদাস কি একই ব্যক্তি? এক নহে। তবে কি ভিন্ন? না, তাহাও নহে। তাহা হইলে কী?

    এইখানে আমার মনে একটি প্রাচীন উপমা ভাসিয়া উঠিতেছে। প্রাচীন বৌদ্ধ দার্শনিকগণ ওই উপমাটি ব্যবহার করিতেন। গ্রিক বীর মিলিন্দের সমীপে বৌদ্ধ পণ্ডিত নাগসেনা এই উপমাটি ব্যবহার করিয়াছিলেন। ধরা যাউক, একটা প্রদীপ সন্ধ্যা হইতে নিশান্ত অবধি জ্বলিতেছে। প্রদীপে ঘৃত ইন্ধনরূপে ব্যবহৃত হইতেছে। প্রদীপের সলিতায় আগুন দেওয়া হইয়াছে। এখন এই যে শিখা, ইহা তো প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হইতেছে। প্রতি মুহূর্তে ঘৃত পুড়িয়া সলিতা দগ্ধ হইয়া নূতন নূতন শিখার উদ্ভব ঘটাইতেছে। এই ক্ষণের শিক্ষা পরক্ষণের শিখা হইতে পৃথক। তাহা সত্ত্বেও সমস্ত রাত্রি ধরিয়া একটাই শিখার প্রতীতি হইতেছে। কিন্তু এই প্ৰতীতি ভ্রান্ত। সন্ধ্যার প্রদীপশিখা, মধ্যরাত্রির প্রদীপশিখা ও নিশান্তের প্রদীপশিখা পৃথক পৃথক। প্রতি মুহূর্তেই ভিন্ন ভিন্ন প্রদীপশিখা উৎপন্ন হইতেছে। তথাপি, এই সকল ভিন্ন ভিন্ন শিখার ভিতর দিয়া একত্ব প্রতীয়মান হইতেছে। আবার এক মুহূর্তের প্রদীপশিখা পরমুহূর্তের প্রদীপশিখার সহিত সম্পূর্ণত ভিন্নও নহে। কিছুটা আছে, কিছুটা গিয়াছে।

    এই একই ভাবে সৌদাস পুড়িয়া ময়ূখ হইয়াছে। মধ্যে আড়াই হাজার বৎসর কাটিয়া গিয়াছে। এই আড়াই হাজার বৎসর ধরিয়া সৌদাস ও ময়ূখের মধ্যস্থলে কত আসিয়াছে, কত গিয়াছে। সৌদাস পুড়িয়া ‘ক’ হইল, ‘ক’ মরিয়া ‘খ’ হইল, ‘খ’ মরিয়া ‘গ’ হইল… তাহার পর একসময় ‘ময়ূখ’ হইল। কে কাহার সহিত সম্পূর্ণ এক? কে বা কাহা হইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন? কিছুটা গিয়াছে, কিছুটা পড়িয়া রহিয়াছে। সৌদাসের মন কিছুটা ভাঙিয়া চুরিয়া ময়ূখের মন হইয়াছে। তাই ময়ূখের মনে সৌদাসের স্মৃতি উঠে। এমন করিয়া ভাবিলে তবে আমার এই অসুখের একটা ব্যাখ্যা পাই। জানি না, ইহা আমার মনগড়া ব্যাখা কিনা

    সে না হয়, যাহা হইবার তাহাই হল, কিন্তু সুজাতার কী হইয়াছে? সৌদাস মরিয়া গিয়াছে আর সুজাতা চিরজীবিনী হইয়া রহিয়াছে, তাহা তো আর হইতে পারে না। সুজাতাও হারাইয়া গিয়াছে। তাহার দেহের পূতাস্থিগুলি নৈরঞ্জনা নদী ভাসাইয়া লইয়া গিয়াছে সুদূর সমুদ্রে। কালের নিয়ম কে রোধিবে? কালের সেই স্রোতোপথ বাহিয়াই হয়তো সুজাতা পুনঃপুনঃ জাত হইয়াছে, পৃথিবীর এই খেলাঘরে বারংবার ফিরিয়া আসিয়াছে। হয়তো কোনো জন্মে পাখি হইয়াছে, আকাশের নিবিড় নীলিমার সহিত মিতালি পাতাইয়াছে। কখনও ইউফ্রেটিস নদীর ধারে কোনো ঘাস-মাতার সুস্বাদ অন্ধকারের ভিতর নামিয়া ঘাসফুল হইয়া জন্মিয়াছে, নদীর বাতাসে মাথা দুলাইয়া দুলাইয়া শ্রুতিপারের শব্দে গান গাহিয়াছে। হয়তো বনের হরিণী হইয়া জন্মিয়াছে, অরণ্যের শ্যামশোভার ভিতর দুরন্ত হলুদ আগুনের শিখার ন্যায় ছুটিয়া গিয়াছে। হয়তো কোনো জন্মে নির্জন কোনো প্রাসাদে রাজকন্যা হইয়াছে, বাতায়নপথে মুখ রাখিয়া তাহার স্বপ্নের রাজকুমারের জন্য দিন গণিয়া গণিয়া জরাগ্রস্তা হইয়াছে। হয়তো অপর কোনো জন্মে গৈরিক বাস পরিহিত শ্রমণ হইয়াছে, মধ্যদিনে ভিক্ষা লইয়া ফিরিয়া আসিয়া সোমপুরী বিহারের ক্ষুদ্র কক্ষে মাধ্যমিক-কারিকার পুথির ছিন্ন পৃষ্ঠার উপর আনতগ্রীব হইয়া বসিয়া রহিয়াছে।

    কিন্তু তাহার পরের পরের জন্মগুলিতে সুজাতা অন্য কাহাকেও আপন করিয়া পাইয়াছিল, ইহা আমার বিশ্বাস করিতে মন চাহে না। সে যে বলিয়াছিল, সে শুধু আমারই, অন্য কাহারও নহে। আমার বিশ্বাস, এই আড়াই হাজার বৎসরের অলাতচক্রে চংক্রমণ করিতে করিতে শত শত জন্মমৃত্যুর ভিতর দিয়া সে আমাকেই খুঁজিয়া ফিরিয়াছে, কিন্তু পায় নাই। আমি যেমন তাহাকে খুঁজিতেছি, সে-ও আমাকে খুঁজিয়া ফিরিতেছে। এখন সে কোথায়? এই পৃথিবীর পথের ধুলায় সে কই আছে? ঘাস, লতা, উদ্ভিদ, মানুষ, পাখি—লীলাবৈভব কোন সত্তার রূপে তাহার ইদানীং আত্মপ্রকাশ ঘটিয়াছে, আমি জানি না। আমি শুধু তাহাকে অন্বেষণ করিয়া ফিরিতেছি, দিনে-রাত্রে, আলোকে-অন্ধকারে।

    কিন্তু এইসব লইয়া ভাবিতে ভাবিতে বসিয়া থাকা তো চলে না। আমার বর্তমান জীবনের দাবিকে কী করিয়া অগ্রাহ্য করি? উঠিতে হইবে, স্কুলে যাইতে হইবে। প্রতিদিন ছুটি লওয়া চলে না। দিন ফুরাইয়া রাত্রি চলিয়া আসে, রাত্রি ঘুরিয়া ভোর। সকাল সকাল স্নান সারিয়া দুইটা আহার করিয়া ব্যাগের ভিতর ছাতাটা মুড়িয়া ঢুকাইয়া পথে বাহির হই। বৃষ্টি আজ একটু ধরিয়াছে। দোকানগুলির ঝাঁপ খুলিয়াছে। পথ হইতে জল নামিয়া গিয়াছে। রিকশা টিন টিন শব্দ করিতে করিতে চলিতেছে। আমিও মোড়ের মাথা হইতে একটা অটো ধরিয়া স্কুলে রওয়ানা হইয়া গেলাম। স্কুলের বড়ো গেটটার নিকট স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা কলকল শব্দে কথা কহিতেছে। ধীরে ধীরে টিচার্স রুমে আসিয়া বসিলাম। একটু পরেই প্রার্থনার ঘণ্টা বাজিবে। বয়স্ক ইতিহাসের শিক্ষক মোহিতদা আমাকে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘কাল স্কুলে আসোনি? কী হল?’

    উত্তর দিলাম, ‘শরীরটা বড়ো সুবিধের নয়। তাই কাল নিজেকেই নিজে ছুটি দিয়েছি।’

    মোহিত মৈত্র চক্ষু হইতে চশমা খুলিয়া রাখিয়া চিন্তিত স্বরে বলিলেন, ‘সে কী? ডাক্তার দেখিয়েছ? একা মানুষ, শরীরের যত্নটত্ন তেমন করো না।’

    আমি বলিলাম, ‘না, ডাক্তার দেখানোর মতন অবস্থা নয়, মোহিতদা! আসলে ওয়েদারটাই এমন যে…’

    ‘সে কথা আর বোলো না, ভাই! এ যা শুরু হয়েছে, যেন আকাশ ফুটো করে ঝরছে। আজ তবু একটু ধরেছে, তা না হলে এ-ক’দিন, ইস্কুল… বাজার… টিউশনি—একেবারে নাজেহাল অবস্থা।’

    একটু পরেই স্কুলের প্রার্থনাসভা হইয়া গেল। প্রথম পিরিয়ডের ঘণ্টা পড়িল। আমি ইলেভেন সায়েন্সের ক্লাসটিচার, গুটি গুটি পায়ে অ্যাটেন্ডন্স রেজিস্টার লইয়া ক্লাসে উপস্থিত হইলাম। ছাত্রদের হাজিরা লইয়া অঙ্কের বই খুলিয়া নূতন অধ্যায় আরম্ভ করিলাম। কোয়াড্রাটিক ইকুয়েশন অর্থাৎ দ্বিঘাত সমীকরণ।

    এইসব সমীকরণের দুইটি অজ্ঞাত বীজ। ওই দুইটি বীজের ভিতর প্রদত্ত সম্পর্ক হইতে অজ্ঞাত সমীকরণটিকে খুঁজিয়া বাহির করিতে হইবে। ইহা বুঝাইতে বেশি বেগ পাইতে হয় না। তাহার পর ইহারই একটু সামান্য রকমফের হইতে শুরু করিল। যদি কোনো প্রদত্ত দ্বিঘাত সমীকরণের বীজ দুইটি ‘ক’ ও ‘খ’ হয়, তবে সেই দ্বিঘাত সমীকরণটি বাহির করো, যাহার বীজদ্বয় হইবে ‘ক+১/খ’ এবং ‘খ+১’ ইত্যাদি।

    বোর্ডের উপর মার্কার পেন খসখস করিয়া চলিতে লাগিল। ছাত্রছাত্রীরা মাথা নীচু করিয়া যে যাহার খাতায় আঁক কষিতেছে। মাঝে মাঝে মুখ তুলিয়া বোর্ডে অঙ্কটি কোন পথে যাইতেছে, লক্ষ করিতেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে শেষ হইয়া গেল।

    এসব অঙ্ক সহজেই শেষ হইয়া যায়। কিন্তু জীবনের অঙ্ক সহজে মেলে না। সহসা মনে হইল, আমি আর সুজাতা যেন একটি দ্বিঘাত সমীকরণের দুইটি বীজ। একটি খুঁজিয়া বাহির করা হইয়াছে। সে আমি। ময়ূখ কিংবা সৌদাস। কিন্তু অপর বীজটি খুঁজিয়া পাই নাই। উহা অজ্ঞাতই থাকিয়া গিয়াছে।

    সারাটা দিন ক্লাসে-অবসরে কাটিয়া গেল। স্কুলের ছুটি হইলে ভাবিলাম, কলেজ স্ট্রিট যাইব। অনেক দিন যাওয়া হয় না। কবি সুভাষ স্টেশন হইতে মেট্রো ধরিলাম। সেন্ট্রালে নামিলাম। ফুটপাথ ধরিয়া পুরানো বইয়ের পসরার উপর চোখ রাখিয়া হাঁটিতেছি।

    সাময়িক পত্র ও অন্যান্য গ্রন্থাদির পুস্তক-বিপণি। এটা ওটা নাড়াচাড়া করিতেছি। দুই-একটা পত্রিকা ক্রয় করিলাম। অবসরে পড়া যাইবে। প্যারামাউন্টের শরবত দোকান হইতে শরবত পান করিলাম। আকাশ আবার ঘন হইয়া আসিতেছে। ভাবিলাম, সিগনেট প্রেসের দোকানে যাইব। একটা সিগারেট ধরাইলাম।

    মহাবোধি সোসাইটির নিকট আসিয়াছি, একটা ধুলাঝড় উঠিয়া থামিয়া গেল। শো-রুমের কাচের ডিসপ্লের ওইদিকে একটা বই আমার নয়ন আকর্ষণ করিতে লাগিল। জ্ঞানবজ্রের লেখা মিলারেপার জীবনী। ভাবিলাম, ইহা একবার উলটাইয়া পালটাইয়া দেখিতে হইবে। ভিতরে গেলাম। বইটি হাতে তুলিয়া পাতা উলটাইতেছি। মহাতাপসের সাধক-জীবন। বইটির সম্পর্কে বিশেষ আগ্রহ হইতেছে। কিনিলাম। ব্যাগের ভিতর রাখিয়া বাহির হইতেছি, দেখিলাম বৃষ্টি বেশ জোরে জোরে পড়িতেছে। কী করিব?

    মহাবোধির ধ্যানঘর এখন নিশ্চয়ই খুলিয়া গিয়াছে। খাতায় নাম সই করিয়া উপরে গেলাম। প্রার্থনাগৃহের দ্বার উন্মুক্ত। কিন্তু ভিতরে কেহ কোথাও নাই। বড়ো বড়ো বুদ্ধমূর্তি। সম্মুখে পূজার আবশ্যকীয় দ্রব্যাদি। হলের ভিতর ফরাস পাতা।

    বসিলাম। ধূপের ভারী একটা ঘ্রাণ ঘরময় ঘুরিতেছে। চোখ বুজিয়া আসিল। মন ধীরে ধীরে অন্তর্মুখ হইতেছে। বাহিরের শব্দ যেন অনেক দূরে সরিয়া গিয়াছে। মনের ভিতর কতগুলা ছবি উঠিতেছে। আড়াই হাজার বৎসর পূর্বের অস্পষ্ট ছবি সব।

    অস্পষ্ট ক্রমশ স্পষ্ট হইল। মনে হইল, সৌদাসের কথা লিখিয়াছি। তাহার চক্ষু দিয়া সিদ্ধার্থকে দেখিয়াছি। কিন্তু সুজাতার চক্ষু দিয়া তো দেখি নাই! সুজাতা কেমন করিয়া সৌদাসকে ভালোবাসিয়াছিল? কেমন করিয়া সিদ্ধার্থের দর্শন পাইয়া জীবনকে কৃতকৃতার্থ করিয়াছিল? সে-সকল কথা বাহির করিয়া আনিতে হইবে। সুজাতার চক্ষু দিয়া পুনরায় দেখিতে হইবে। ছবির পর ছবি আসিতেছে….

    সে ধীরে ধীরে ফুটিয়া উঠিতেছে। নদীতীরের প্রস্ফুট প্রসূন। তাহার সুরভি- সৌন্দর্যে আকাশ আলো হইতেছে। কোন এক কবিকে ভালোবাসিল। কিন্তু উহাই তো সব নহে। তাহার পরমান্নের পাত্র পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায় ভরিয়া উঠিবে যে! তাহাই তো নিবেদিত হইবে। ইতিহাসের এক অনুপম ক্ষণ রচিত হইবে। বুদ্ধজীবনীকারগণ সেই দৃশ্য কুড়াইয়া লইয়া কাব্য রচনা করিবেন। ইতিহাসের সহিত কবিতার মিলন হইবে।

    কিন্তু সে-সকল কথা অনেক পরে। তাহার পূর্বে সুজাতার ক্রমবিবর্তনের কথা বলিতে হইবে। সুজাতার বয়ানেই বলিতে হইবে। সুজাতা কী দেখিয়াছিল, কী নিবেদন করিয়াছিল, কী পাইয়াছিল, তাহারই মুখে ভাষা দিতে হইবে। তবেই তো মূক ইতিহাস কথা বলিয়া উঠিতে পারিবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী
    Next Article গাত্রহরিদ্রা – সমীরণ গুহ

    Related Articles

    সন্মাত্রানন্দ

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }