Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তোমাকে আমি ছুঁতে পারিনি – সন্মাত্রানন্দ

    সন্মাত্রানন্দ এক পাতা গল্প173 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. সিদ্ধার্থ-জিজ্ঞাসা

    ৪. সিদ্ধার্থ-জিজ্ঞাসা

    রাজগৃহে বসবাস আমার আর নির্বিঘ্ন মনে হল না। আমি সিদ্ধার্থ; ব্যাধি-জরা- মরণ-সংকুল এই মানবজীবনের নিখিল দুঃখের আত্যন্তিক নিবারণ খুঁজতে সন্ন্যাসী হয়েছি, সেই উদ্দেশ্যেই রাজগৃহে গৃধ্রকূট শিখরে ধ্যান ধরে আছি, কিন্তু আজ আমার সমীপে মগধাধিপতি বিম্বিসার এসেছেন, আগামীকাল হয়তো তাঁর অমাত্যবর্গ আসবেন, পরশ্ব নগরীর প্রজাসাধারণ ভিড় জমাবে—এমতাবস্থায় আমার একাকী ধ্যাননিষ্ঠ জীবনের ব্যাঘাত হবে—তা তো আমি হতে দিতে পারি না। আমি চাই নির্জনে একাত্তবাস—জীবনের কঠিন সমস্যাগুলি নিয়ে ভাববার নির্জন অবসর। এই কথা ভেবে আমি পরের দিনই গৃধ্রকূট পরিত্যাগ করে নগরীর দক্ষিণে গভীর অরণ্যে প্রবেশ করলাম।

    তা ছাড়া এও আমার মনে হচ্ছে, আমার পূর্বে অন্যান্য চিন্তাবিদগণ এই জীবনসমস্যা নিয়ে কী প্রকারে চিন্তা করেছেন—সে-কথাও আমার জানা প্রয়োজন। শুনেছি, অরণ্যে সাধকগণ অবস্থান করেন। আমার মনোবেদনা যদি আমি তাঁদের নিকট জ্ঞাপন করি, নিশ্চয়ই তাঁরা এ বিষয়ে যা জানেন, আমাকে বলবেন। কিন্তু তাঁদের সন্ধান আমি কীভাবে পাব?

    অরণ্য জটিল, বহু শাখাপ্রশাখাসমন্বিত; দিবাভাগেও এত অন্ধকার যে পায়ে চলার পথ অন্বেষণ করা মধ্যে মধ্যে দুর্ঘট হয়ে পড়ে। এসব স্থানে ভিক্ষা মেলে না; বনের ফল আর নদীর জল ক্ষুধাতৃষ্ণানিবৃত্তির একমাত্র উপায়। রাত্রিকালে এ শ্বাপদসংকুল বনভূমিতে প্রথম প্রথম কোনো বৃহৎ বনস্পতির ডালে উত্তরীয়বস্ত্র দ্বারা নিজদেহ বন্ধন করে নিদ্রা যেতাম। কয়দিন পর বিবেকের নির্দেশ পেলাম। আমি সন্ন্যাসী; কেন আমার এই মৃত্যুভয়? তারপর থেকে বৃক্ষতলে বনস্পতিমূলে মাথা রেখেই বিশ্রাম করতাম, মনে হল, এতে যদি আমাকে কোনো বনের পশু আহার করে যায়; সে-ও ভালো। অন্তত, আমি সেই ক্ষুধার্ত পশুর বুভুক্ষা মেটাতে তার উদরবিবরে প্রবেশ করব, অকৃতার্থ জীবনের সার্থক পরিসমাপ্তি হবে।

    মাঝে মাঝে বনের শুষ্ক লতাপাতা সংগ্রহ করে অগ্নিমন্থ প্রস্তর ঘর্ষণ করে ধুনি জ্বালাতাম; সে প্রস্তর আমার কাছেই ছিল। সেই ধুনির সম্মুখে রাত্রির পর রাত্রি গভীর মনঃসংযোগ করে দুঃখের প্রকৃতি ও তার নিবারণ অনুসন্ধান করতাম। কিন্তু অস্তিত্বের সুগোপন প্রদেশ অবধি শুধু বেদনার কালো করাল ছায়া ব্যতীত আর কিছুই আমার প্রত্যক্ষ হচ্ছিল না। সুখ কি নাই? আছে। কিন্তু সেসব কিছুর পশ্চাতেই আমি দুঃখের নিষ্ঠুর দন্তুর হাস্য অবলোকন করছিলাম। সমস্ত জীবনটা যেন এক পুষ্পাচ্ছাদিত শবদেহ, আর সেই শবদেহ নিত্য পচনশীল। সেই পচনের দুর্গন্ধ তার উপরের পুষ্পাস্তরণ ভেদ করে যেন আমার নাসায় প্রবেশ করতে লাগল। যেখানেই একবিন্দু হাসি আছে, সেখানেই বুকফাটা ক্রন্দনের কারণও লুক্কায়িত। প্রতিটি মিলনই অন্তিমে বিচ্ছেদে রূপান্তরিত হয়। প্রতিটি আলিঙ্গন নিষ্পেষণে।

    একই সঙ্গে আমার মনের ভিতর হতেও একটা কণ্ঠস্বর সময়ে সময়ে উঠে আসে। সে আমারই অপর এক সত্তা। সে আমাকে ধ্যান ছেড়ে দিতে বলছে। রাজ্যে ফিরে যেতে বলছে। কখনও বন্ধুর মতো অনুনয়ের ভাষায়, কখনও প্ৰবল শত্রুর ন্যায় ভীতিপ্রদর্শন করছে। কখনও প্রলোভন দেখাচ্ছে। কখনও আমাকে ব্যঙ্গ করে চলেছে। ধ্যানের ভিতর উদ্ভট বিকৃত মূর্তির উদ্ভব ঘটিয়ে সংশয় তুলছে। কখনও আবার আমার অভীষ্ট লক্ষ্যে পদাঘাত হেনে, থুতু ছিটিয়ে, কালিমালিপ্ত করে আমার মনে বিক্ষেপ আনছে। এ কে? এ যে আমিই! আমিই আমাকে বাধা দিয়ে চলেছি জন্ম জন্ম ধরে। এত বীভৎস চিন্তা আমি করতে পারি? এর হাত থেকে কি আমার নিস্তার নেই?

    কখনো কখনো সে আমার ভিতর হতে ভয়ানক মূর্তি ধরে বাহিরে আসে। প্রহরের পর প্রহর তর্ক করে। বলে, সে মার! সে কামদেব। আমি তাকে এখনও চিনতে পারিনি। সে নাকি আমার বন্ধু! যদি সে বন্ধুই হত, তবে সে কেন আমার অন্বেষণে বাধা দেয়? আমি কিছুতেই এ প্রহেলিকার নিষ্পত্তি করতে পারছি না।

    একদিন বনপথ দিয়ে চলতে চলতে মধ্যাহ্নবেলায় সম্মুখে এক প্রান্তর পড়ল। প্রান্তর কীভাবে পার হব ভাবছি, এমন সময় এক শিংশপা বৃক্ষের তলদেশে এক ব্যক্তিকে আমি দর্শন করলাম। সম্মুখে উপনীত হয়ে দেখি, সে ব্যক্তি জীর্ণ এক বস্ত্রে আচ্ছাদিত হয়ে নিতান্ত নিশ্চেষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। আমি তারই নিকটে উপবেশন করলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ভদ্রমুখ! আপনি কে? এখানে নিশ্চেষ্ট অবস্থায় পড়ে আছেন কেন?’

    সে বলল, ‘আমার নাম পূরণ কাশ্যপ। কোনো কর্ম, কোনো চেষ্টার কোনো অর্থ নাই বলে, আমি এস্থলে এভাবে নিশ্চেষ্ট দশায় পড়ে আছি।’

    আমি বললাম, ‘কর্মের কোনো ফল নাই? সকল চেষ্টা নিরর্থক?’

    ‘আপনি ঠিকই শুনেছেন, ভিক্ষু!’

    ‘শুভকর্ম আর অশুভ কর্মের মধ্যে কোনো প্রভেদ নাই? তা কী করে হতে পারে? শুভকর্মে পুণ্যফল, অশুভকর্মে পাপফল—এ যে জগতের নিয়ম!’

    ‘কে এই নিয়ম স্থির করেছে? এ সকল ব্রাহ্মণদিগের মিথ্যাবাদ। কর্ম হতে পাপ বা পুণ্য কোনোরূপ ফল উৎপন্ন হয় না।’

    আমি তর্কে প্রবৃত্ত হলাম। বললাম, ‘কেউ যদি অন্যায় করে, তবে সে শাস্তি পাবে না?’

    ‘না, পাবে না। শুধু তাই নয়, মিথ্যাবাদ, পাপাচার, অন্যের ক্ষতিসাধন, অত্যাচার, চৌর্যবৃত্তি, ভ্রূণহত্যা, পরস্ত্রীগমন, হত্যা— কোনোকিছুতেই পাপ হয় না। জগতের সকল প্রাণীকুলকে তীক্ষ্ণধার চক্রে খণ্ডবিখণ্ডিত করে এ বিশ্বকে বীভৎস মাংসস্তূপে পরিণত করলেও কোনো পাপ হয় না।’

    ‘সে কী? তবে দান, সংযম, অহিংসা, সত্যবচন—এসবের অর্থ কী?’

    ‘কোনো অর্থ নাই। দান, সংযম, অহিংসা সত্যবচন প্রভৃতিতেও কোনো পুণ্যফল অর্জিত হয় না। সদাচরণ নিরর্থক। ওইগুলির অনুষ্ঠান পণ্ডশ্রম মাত্ৰ। কোনো কর্ম—সে সৎ-ই হোক, আর অসৎ-ই হোক—তার কোনো ফল নাই। এই কথা আমি সম্যক অনুধাবন করেছি। আর তা অনুধাবন করেছি বলেই আমি সৎ বা অসৎ কোনোরূপ কর্মে অংশগ্রহণ করি না। নিশ্চেষ্ট হয়ে পড়ে থাকি। এই নিশ্চেষ্টতাই জীবনের চরম আপ্তি।’

    আমি বললাম, ‘বেশ। অক্রিয়বাদে আপনার যখন এতই আসক্তি… আহার-বিহার, এমনকি শ্বাসনিষ্পত্তি—এগুলিও তো কর্ম। এগুলি বন্ধ করে দেখুন, প্রাণধারণ করতে পারেন কিনা!’

    আমার এই কথায় সেই পূরণ কাশ্যপ আমার দিকে এমন জ্বলন্ত দৃষ্টিক্ষেপ করতে লাগল যে, এখনই সে আমাকে ভস্ম করে ফেলবে। আমি মৃদুহাস্যে এ উন্মাদকে উপেক্ষা করে পুনরায় প্রান্তরের পথ ধরলাম।

    আর-এক দিন। হাঁটতে হাঁটতে দেখছি, মাথার ওপর অরণ্যের চন্দ্ৰাতপ লঘু হয়ে আসছে; এতদঞ্চলে বনভূমি তত নিবিড় নয়। কিছুক্ষণ চলবার পর অটবির প্রান্তদেশে সুপরিষ্কৃত এক আশ্রম দৃষ্টিগোচর হল। বনচ্ছায়ায় কতগুলি নিৰ্মল কুটির, তাদের মধ্য দিয়ে রক্তমৃত্তিকায় নির্মিত একটি পথ এঁকেবেঁকে কোথায় যেন চলে গেছে। এখানে-ওখানে আর্দ্র পরিধেয় শুষ্ক করার নিমিত্ত লম্বিত রয়েছে। আকাশের বর্ণ মসিকৃষ্ণ—এখনই বৃষ্টি নেমে আসবে।

    আর কিছুদূর অগ্রসর হতেই এক আশ্রমিক আমার পথরোধ করে আমার পরিচয় ও এখানে আসার উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা করলেন। আমি বললাম, ‘আমি এক জিজ্ঞাসু, নাম আমার সিদ্ধার্থ। এ আশ্রমের কুলপতি কে? তাঁরই আমি দর্শনের অভিলাষী।’

    আশ্রমিক বললেন, ‘আশ্রমের কুলপতির নাম মক্‌খলি গোশাল। আপনি আমার সঙ্গে আসুন।

    আমাকে তিনি আশ্রমের কুলপতির নিকট নিয়ে গেলেন। দেখলাম, মক্‌খলি গোশাল প্রৌঢ় ব্যক্তি। বংশনির্মিত একটি উচ্চাসনে আসীন। গাত্রে একটি গৈরিক বাস।

    পরিচয়বিনিময়ের পর তিনি আমার কী প্রশ্ন আছে, জিজ্ঞাসা করলেন। আমি বললাম, ‘মানবজীবন আজন্মমরণ দুঃখময়। জন্মান্তরেও এই দুঃখের পুনরাবৃত্তি। এর হাত থেকে নিস্তারের কী উপায় আছে, আপনি স্থির করেছেন?

    মক্‌খলি গোশাল আমাকে প্রতিপ্রশ্ন করলেন, ‘আপনি কি নিজ চেষ্টায় দুঃখের নিবৃত্তির উপায় অনুসন্ধান করছেন?’

    আমি বললাম, হাঁ, অবশ্যই।’

    তিনি বললেন, ‘তা তো হবার নয়। আপনি নিজে চেষ্টা করলেও দুঃখের অন্তে উপনীত হতে পারবেন না। দুঃখ আমাদের অদৃষ্ট। আমাদের নিয়তি। এই নিয়তি বা অদৃষ্ট আমাদের জীবনকে পরিচালিত করছে। মানুষ চেষ্টা করলেও নিয়তিনির্দিষ্ট পন্থা হতে একবিন্দু সরে দাঁড়াতে পারবে না।’

    ‘সে কীরূপ?’

    ‘যেমন স্রোতের মধ্যে পতিত তৃণখণ্ড নিজেকে একবিন্দুও নিয়ন্ত্রিত করতে পারে না। স্রোতই তাকে সম্মুখে বহন করে নিয়ে যায়; স্রোতই ঠিক করে দেয়, সে কোনপথে যাবে। আমরাও ওই স্রোতের ভিতর পতিত তৃণখণ্ডের ন্যায়।’

    ‘তাহলে দুঃখের কি কখনও নিবৃত্তি হয় না?’

    ‘হয়। কিন্তু সে লক্ষকোটি জন্মের পর। নিয়তিতাড়িত জীব এক জন্ম থেকে অন্য জন্মে, এইভাবে অগণ্য জন্ম পরে মুক্ত হয়। কিন্তু তাতে সেই জীবের কোনো হাত নেই। নিয়তি যেদিকে নিয়ে যাবে, সেইদিকেই যেতে হবে।’

    এসব কথা যখন মক্‌খলি গোশাল বলছিলেন, তখনই আমার ভিতর থেকে কে এক অসুন্দর কণ্ঠে বলে উঠল, ‘এ কথা আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম, সিদ্ধার্থ! তুমি নিজের চেষ্টায় কিছুই করতে পারবে না। তাই বলি, জীবন যেমন দেয়, সেরকমই ভোগ করো।’

    আহ্! এই এক জ্বালা! আমার ভিতরে এই সংশয়ী সত্তা ক্রমাগত আমাকে অত্যাচার করে চলে। আমি নিজের মনেই আত্মগত স্বরে বলে উঠলাম, ‘ওরে দুর্বৃত্ত মার! স্তব্ধ হও। আমাকে বিচার প্রয়োগ করে মক্‌খলি গোশালের এই তত্ত্বকে পরীক্ষা করতে দাও।’

    আমি মক্‌খলি গোশালের উদ্দেশে প্রশ্ন করলাম, ‘তাহলে আমাদের কর্তব্য কী?’

    তিনি বললেন, ‘অদৃষ্টকে মেনে নেওয়া। এই আমাদের কর্তব্য। নিজে কোনোরূপ চেষ্টা না করা। ভাগ্যের হাতে নিজেকে সমর্পণ করা। এ ছাড়া অন্য কর্তব্য নেই।’

    ‘আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তাহলে আপনি, মক্‌খলি গোশাল, গৃহস্থাশ্রম পরিত্যাগ করে সন্ন্যাসী হয়েছেন কেন? সে-ও তো আপনি নিজের চেষ্টাতেই হয়েছেন।!’

    তিনি উত্তর দিলেন, ‘সন্ন্যাসী হওয়া আমার নিয়তি ছিল, তাই সন্ন্যাসী হয়েছি। সবই নিয়তি, সবই অদৃষ্ট।’

    ‘ধ্যান, সংযম, তপস্যার অর্থ কী তাহলে?’

    ‘কিছুই না। ধ্যান-তপস্যা করা যার নিয়তি, সে ধ্যান-তপস্যা করে। পৃথকভাবে ওসবের আর কোনো মূল্য নেই। সবসময় নিয়তি বা অদৃষ্টের দিকে তাকিয়ে পড়ে থাকা ছাড়া আমাদের গত্যন্তর নেই।

    এ ব্যক্তি ‘নিয়তি’ আর ‘অদৃষ্ট—এই দুই কথা ছাড়া আর কিছু জানে বলে মনে হল না। অপ্রসন্ন মনে আমি কক্ষ হতে নিষ্ক্রান্ত হলাম।

    আশ্রমের পক্ষ হতে আমাকে চিপিটক ও তক্র ভিক্ষা দেওয়া হল। আশ্রমের বাহিরে এক বৃক্ষতলে বসে আহার করছিলাম। এমন সময় আশ্রমে প্রবেশকালে যে আশ্রমিককে দেখেছিলাম, তিনি আমার নিকটে এলেন।

    হাসিমুখে আমাকে প্রশ্ন করলেন, ‘কী? আপনার জিজ্ঞাসা তৃপ্ত হল?’

    আমি বললাম, ‘কই আর হল? শুনলাম, সবই নিয়তি বা অদৃষ্ট!’

    তিনি বললেন, ‘ওই এক কথা আমিও বিগত তিন বৎসর শুনে আসছি। শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেল।’

    আমি বললাম, ‘আপনি কী উদ্দেশ্যে এই আশ্রমে এসেছিলেন?’

    ‘পঞ্চদশ বর্ষপূর্বে জীবনজিজ্ঞাসায় মথিত হয়ে আমি গৃহত্যাগ করি। এ আশ্রমে প্রবেশ করার পূর্বে দুইটি আশ্রম—নিগন্থ নাথপুত্ত ও সঞ্জয় বেলঠিপুত্তের আশ্রমে ছিলাম। সেখানেও কোনো সমাধান পাইনি। ‘

    আমি বললাম, ‘তাঁরা আপনাকে কী বলেছিলেন, যদি অনুগ্রহপূর্বক বিশদে বলেন!’

    ‘নিগন্থ নাথপুত্ত আমাকে বললেন, সুখ ও দুঃখ পরস্পর সংযুক্ত। সুখটি আকাঙ্ক্ষা করলেই দুঃখও পেতে হবে। অতএব, দুঃখের হাত থেকে নিষ্কৃতির উপায় সুখ পরিহার করা।’

    ‘অর্থাৎ?’

    ‘অর্থাৎ সুখ-দুঃখ উভয় হতে দূরে অবস্থান করো। কঠোর সংযম অভ্যাস করো। লোকসমাজ পরিত্যাগ করে গিরিগুহাগহ্বরে বা কোনো নির্জন স্থানে চলে যাও। এমন স্থানে যাও, সেখানে পঞ্চেন্দ্রিয়ের বিষয় কিছুমাত্র না থাকে। যদি প্রয়োজন হয়, চক্ষু-কর্ণ উৎপাটিত করো। মনকে অসাড় করে দাও। একমাত্র এই উপায়েই দুঃখকে এড়ানো সম্ভব।’

    ‘বুঝলাম। হস্তে বিস্ফোটক হয়েছে বলে হস্ত-কর্তনের ব্যবস্থা। শিরঃপীড়া দূর করার জন্য শিরশ্ছেদের আয়োজন। আপনি এই মত অনুশীলন করেছিলেন?’

    ‘করেছিলাম। কিন্তু ফল হল ভয়াবহ। আমি যে খুব নৈতিক জীবনযাপন করছি, আমাতে তার তীব্র অহংকার উপস্থিত হল। ইন্দ্রিয়ের দ্বার রুদ্ধ করে রাখলেও অন্তরে বাসনা প্রবলতর হতে লাগল। অবশেষে… আপনি আন্তরিক জিজ্ঞাসু তাই আপনাকে বলছি… কিছুদিন পরেই আমার এক দারুণ নৈতিক পতন হয়। সে অবস্থায় আমি নিগন্থ নাথপুত্তের আশ্রম ছেড়ে সঞ্জয় বেলঠিপুত্তের আশ্রমে আসি।’

    ‘সঞ্জয় বেলঠিপুত্তের শিক্ষাই বা কীরূপ ছিল?’

    ‘তাঁর বক্তব্য ছিল নিগন্থ নাথপুত্তের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলতেন, যা আছে এই সুখদুঃখপূর্ণ জগৎটাই আমাদের সামনে আছে। এই ব্যাপারেই আমরা যা একটু নিশ্চিত হতে পারি। আর এই সুখদুঃপূর্ণ জগতের বাইরে যদি বা কিছু থাকেও, সে-কথা আমরা জানতে পারি না। আমি কোনো বস্তুকে এক প্রকারে জানি না। আমি অন্য প্রকারেও কিছু জানি না। আমি যে জানি না, তাও জানি না। কিংবা তাও নয়।

    ‘অর্থাৎ, সম্পূর্ণ অজ্ঞেয়বাদী?’

    সম্পূর্ণ অজ্ঞেয়বাদী। সেখানেও বছর কতক থাকলাম। কিছুই পেলাম না। অবশেষে এই মক্‌খলি গোশালের আশ্রমে এসে আছি। এখানেও কিছু নেই। মানুষ অদৃষ্টের উপর কতদিন নির্ভর করে পড়ে থাকতে পারে, মহাশয়? মাঝে মাঝে ভাবি, এমন কি কোনো পন্থা নেই, যা মানুষ সজ্ঞানে অনুসরণ করে দুঃখের অতিক্রম খুঁজে পেতে পারে?’

    আশ্রমিক ব্যক্তিটির কথা শুনতে শুনতে আমিও আকাশের দিকে তাকিয়ে একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলাম। কিন্তু মেঘমলিন আকাশে কোনো উত্তর নেই— শুধু একটা স্তম্ভিত জিজ্ঞাসা আকাশ জোড়া মেঘের মতো থমকে দাঁড়িয়ে আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপিঙ্গল আকাশ – শওকত আলী
    Next Article গাত্রহরিদ্রা – সমীরণ গুহ

    Related Articles

    সন্মাত্রানন্দ

    ছায়াচরাচর – সন্মাত্রানন্দ

    July 28, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }